জামায়াত নয়, বেঈমানির জন্য জাফরুল্লাহর ক্ষমা চাওয়া উচিত

0
312

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা, কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও বিএনপির পরামর্শক হিসেবে পরিচিত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে নিয়ে এর আগে অ্যানালাইসিস বিডিতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। জাফরুল্লাহ চৌধুরী যে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর বাংলাদেশি এজেন্ট এটাও তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি থেকে জামায়াতকে আলাদা করার জন্য জাফরুল্লাহ চৌধুরী দুই বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে, জাফরুল্লাহ চৌধুরী একাধিকবার খালেদা জিয়াকে বলেছেন-জোট থেকে জামায়াতকে বের করে দেয়ার জন্য। কিন্তু খালেদা জিয়াকে তিনি কোনোভাবেই ম্যানেজ করতে পারেন নি।

এরপর কথিত দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তিনি তার মুক্তির জন্য রাস্তা-ঘাটে মায়া কান্না করছেন। তলে তলে ড. কামালকে নিয়ে কথিত ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য গণআন্দোলনের কথা বলে জাফরুল্লাহ বিএনপিকে এই কথিত ঐক্যফ্রন্টে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে কোনো দাবি আদায় না করেই নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। শুধু নির্বাচনে নয়, এক পর্যায়ে তারা ভোট ডাকাতির অবৈধ সংসদেও যেতে বিএনপিকে বাধ্য করে। এই জাফরুল্লাহকে দিয়েই ভারত ও আওয়ামী লীগ তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।

তবে, ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত থেকে জাফরুল্লাহরা এখনো বিরত থাকেনি। আওয়ামী লীগের মতো জাফরুল্লাহও কথিত যুদ্ধাপরাধের ইস্যুতে জামায়াতকে কোনঠাসা করার চেষ্টায় লিপ্ত আছেন। বুধবার এলডিবির একটি অনুষ্ঠানে জাফরুল্লাহ বলেছেন- জামায়াত যদি সত্যিকার অর্থে খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় তাহলে জাতির কাছে তাদেরকে ক্ষমা চাইতে হবে।

এখন প্রশ্ন হলো- খালেদা জিয়ার মুক্তির সঙ্গে জামায়াতের ক্ষমা চাওয়ার সম্পর্ক কি? খালেদা জিয়া কারাবন্দি হয়েছেন মাত্র এক বছর হলো। আর জামায়াতের সঙ্গে জোট করে একসঙ্গে আন্দোলন করছেন প্রায় ২০ বছর ধরে।

দেখা গেছে, বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই ২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার জন্য সরকার শুধু জামায়াতের ওপরই জুলুম-নির্যাতন করেনি।শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ নেতারা জামায়াত ছাড়ার জন্য খালেদা জিয়াকেও সভা-সমাবেশে অশালীন ভাষায় গালি দিচ্ছে। নিজেরা ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে সরকার আন্তর্জাতিক মহলকে দিয়েও জামায়াত ছাড়ার জন্য খালেদা জিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

কিন্তু খালেদা জিয়া কারো চাপের মুখেই তিনি জামায়াতকে জোট্ থেকে বাদ দেয়ার চিন্তা করেনি নি। দেখা গেছে, জোট ভাঙ্গার জন্য সরকার যত বেশি চাপ দিয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিএনপির অন্যান্য নেতারা বিষয়টি না বুঝলেও খালেদা জিয়া ঠিকই বুঝতেন যে, কথিত যুদ্ধাপরাদের অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে জোট থেকে বের করতে চাচ্ছে। কারণ, ৯৬ সালের নির্বাচনের আগে যখন আওয়ামীলীগ-জামায়াত জোট হয়ে আন্দোলন করেছে তখন জামায়াত যুদ্ধাপরাধী ছিল না। এখন বিএনপির সঙ্গে জোট করার কারণেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধী হয়ে গেছে। এজন্য দেশি-বিদেশি চাপ থাকার পরও খালেদা জিয়া জামায়াতকে ছাড়েননি।

আর বিগত ২০ বছরে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে খালেদা জিয়া এমন কিছু পায়নি যা বিশ্বাসঘাতকতার পর্যায়ে পড়ে। এমনকি কোনো কোনো সময় দলের নেতাকর্মীদের চেয়ে খালেদা জিয়া জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর বেশি আস্থা রাখতেন। এসবের যথেষ্ট প্রমাণও আছে। ২০১৩ সালে একটি হরতাল সফল করতে ছাত্রদলকে বাদ দিয়ে শিবিরের সভাপতি-সেক্রেটারি সঙ্গে রাতে খালেদা জিয়া গোপনে একটি বৈঠক করেছিল এমন তথ্যও আছে। বিগত দিনগুলোতে খালেদা জিয়া একদিনও জামায়াতকে ক্ষমা চাইতে বলেননি।

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ মনে করেন, জাতির কাছে ক্ষমা যদি চাইতে হয় তাহলে বেইমানির জন্য জাফরুল্লাহকে চাইতে হবে। কারণ, জাফরুল্লাহ গোটা জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে। কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামে জাফরুল্লাহ সরকারের এজেন্ট হয়ে কাজ করেছে। কথা ছিল-খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৭ দফা দাবি না মানলে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু, দাবি মানা ছাড়াই জাফরুল্লাহরা কৌশলে বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়েছে। এরপর অবৈধ সংসদকে বৈধতা দিতে তারা বিএনপিকে সংসদেও নিয়েছে।

জাফরুল্লাহ এখানেই থেমে থাকেনি। এখন তিনি বিএনপি থেকে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকেও বাদ দেয়ার চেষ্টা করছেন। এনিয়ে তিনি বিভিন্ন টকশোতে একাধিকবার প্রকাশ্যে বক্তব্যও দিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ভাঙ্গন ধরানোর জন্য যে জাফরুল্লাহ সরকারের এজেন্ট হয়ে কাজ করছেন এটা এখন প্রমাণিত। সুতরাং, জামায়াত নয়, বেইমানির জন্য জাফরুল্লাহকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌চাল আত্মসাতে আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত


যশোরের অভয়নগরে ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া বাবুল আক্তার উপজেলার ৬নং বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপজেলার বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে ভিজিডি উপকারভোগী ২৬০ জনের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ডিসেম্বর-২০১৮ মাসের সর্বমোট ৭.৮০০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। গত ১৬ জানুয়ারি আদালত মামলাটি আমলে নেয়।

এ অবস্থায় বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে। ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাবুল আক্তারকে তার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, প্রজ্ঞাপনটি চেয়ারম্যানকে অবহিত করার পর ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য শেখ গোলাম হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ঢাকার যে লাকা৫৯ এয় ওয়াসার পানি বেশি দূষিত


‘শতভাগ বিশুদ্ধ’ ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যে এবার নতুন করে এ নিয়ে আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে।

রাজধানীর ৫৯টি এলাকার ওয়াসার পানি বেশি দূষিত বলে আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

এর আগে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান রাষ্ট্রপক্ষের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন। তাতে বলা হয়, গত তিন মাসে ঢাকার ২৯২টি অভিযোগের ভিত্তিতে ৫৯টি এলাকার ১০টি জোনের পানি বেশি দূষিত।

ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ওয়াসার দেয়া প্রতিবেদন আজ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ঢাকার ১০টি জোনে ৫৯ এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি দূষিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জোনগুলো হলো-

১ নম্বর জোন : যাত্রাবাড়ী, বাসাবো, মুগদা, রাজারবাগ, কুসুমবাগ, জুরাইন, মানিকনগর, মান্ডা, ধোলাইরপার ও মাতুয়াইল।

২ নম্বর জোন : বাঘলপুর, লালবাগ, বকশিবাজার ও শহীদনগর।

৩ নম্বর জোন: জিগাতলা, ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, কলাবাগান, ভূতেরগলি ও মোহাম্মদপুর।

৪ নম্বর জোন : শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, মনিপুর, পাইকপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর।

৫ নম্বর জোন : মহাখালী ও তেজগাঁও।

৬ নম্বর জোন : সিদ্ধেশ্বরী, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, মগবাজার, নয়াটোলা, রামপুরা, মালিবাগ ও পরিবাগ।

৭ নম্বর জোন : কদমতলী, দনিয়া, শ্যামপুর, রসুলবাগ মেরাজনগর, পাটেরবাগ, শনির আখড়া, কোনাপাড়া ও মুসলিমনগর

৮ নম্বর জোন : বাড্ডা, আফতাবনগর, বসুন্ধরা ও ভাটারা।

৯ নম্বর জোন : উত্তরা, খিলক্ষেত, সায়েদাবাদ, মোল্লারটেক ও রানাগোলা।

১০ নম্বর জোন : কাফরুল, কাজীপাড়া, মিরপুর, কচুক্ষেত ও পল্লবী।

বুধবার (১৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজধানীর ওয়াসার পানির ১০৬৫টি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করতে ৭৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা দরকার। প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু হাইকোর্টে দাখিল করবেন বলে জানানো হয়।

এর আগে গত সোমবার (১৩ মে) ঢাকা ওয়াসার কোন কোন এলাকার পানি বেশি অনিরাপদ, তা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিল না করায় হাইকোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

একইসঙ্গে, ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষায় যে অর্থ খরচ হবে, তা নির্ধারণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে বুধবারের (১৫ মে) মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন আদালত।

এর আগে গত ১৭ এপ্রিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পক্ষ থেকে ‘ঢাকা ওয়াসা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে ওয়াসায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি উল্লেখ করে টিআইবি।

এতে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার পানির নিম্নমানের কারণে ৯৩ শতাংশ গ্রাহক বিভিন্ন পদ্ধতিতে পানি পানের উপযোগী করেন। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকই পানি ফুটিয়ে বা সিদ্ধ করে পান করেন। গৃহস্থালি পর্যায়ে পানি ফুটিয়ে পানের উপযোগী করতে প্রতিবছর আনুমানিক ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাসের অপচয় হচ্ছে।

এ প্রতিবেদনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেন, ‘ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয় ও বিশুদ্ধ। একে ফুটিয়ে খাওয়ার প্রয়োজন হয় না।’ এছাড়া টিআইবির এই প্রতিবেদনকে তিনি নিম্নমানের বলে উল্লেখ করেন।

তাকসিম এ খানের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান পুরান ঢাকার বাসিন্দারা। তারা নিরাপদ পানির দাবি করে আসছেন। এরই অংশ হিসেবে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানকে ‘শতভাগ বিশুদ্ধ’ পানি দিয়ে শরবত বানিয়ে খাওয়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন জুরাইন নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান। কিন্তু ওয়াসাতে গিয়ে সাক্ষাৎ না পেয়ে হতাশ হন মিজানুর।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মন্ত্রীরা উল্টোপাল্টা বলে জনগণকে বিনোদন দিচ্ছেন: আলাল


সরকারের মন্ত্রী ও সাবেক মন্ত্রীদের সমালোচনা করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, এই সরকারের মন্ত্রীরা সবসময় উল্টোপাল্টা বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিনোদন দেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আপনি আওয়ামী লীগের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। আপনি বলছেন, টাকা হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেনা যায়। আইন-আদালত সব কেনা যায়। তা হলে আমার প্রশ্ন- আপনারা সরকারে আছেন কেন? ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান।

রানা প্লাজা ধসেপড়ার পর এই সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (মহীউদ্দীন খান আলমগীর) বলেছিলেন- বিএনপির নেতাকর্মীরা রানা প্লাজার পিলার ধরে ধাক্কা দেয়ায় রানা প্লাজা ধসে পড়েছে। এখন নাসিম সাহেব বলছেন- টাকায় সব কেনা যায়।

দেশের গণতন্ত্র মাইনকার চিপায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমাদের দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান যে অবস্থা, তাতে ঢাকার ভাষায় বলতে হয়, গণতন্ত্র এখন মাইনকার চিপায় পড়ছে। আমরা এই মাইনকা চিপা থেকে বের হতে পারছি না।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ। ব্যাংকিংব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আমি আশঙ্কা করছি, এবার ঈদে ব্যাংকে গিয়ে গ্রাহক বড় ধরনের কোনো চেক জমা দিলে টাকা পাবেন না। তাদের দু-তিন দিন অপেক্ষা করতে বলা হবে। আর সেই দু-তিন দিনে হয়তো ঈদও পার হয়ে যাবে। শুনতে খারাপ লাগলেও আমাদের ব্যাংকিংব্যবস্থা এখন এই স্থানে গিয়ে পৌঁছেছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌দেশপ্রেমিক সরকার না হওয়ায় তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ণ হয়নি


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশপ্রেমিক নয়, তারা আজ্ঞাবহ। আর সে কারণেই ১০ বছর যাবত তিস্তা চুক্তির হাল হয়নি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল-এর উদ্যোগে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপল‌ক্ষে এক আলোচনা সভায় তি‌নি এ মন্তব্য করেন।

সেলিমা রহমান বলেন, তিস্তা চুক্তিসহ ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য দেশে দেশপ্রেমিক সরকার দরকার। কারণ দেশপ্রেমিক সরকার ছাড়া জনকল্যাণ হয় না। এক্ষেত্রে আমাদের একমাত্র সহায়ক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

সুশাসন ও গণতন্ত্রের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাকে যদি আমরা মুক্ত করে না আনতে পারি, তাহলে বাংলাদেশে সুশাসন আসবে না, গণতন্ত্র আসবে না। তাই আসুন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা তাকে মুক্ত করি।

সরকারের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ এনে বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবসের মতো বিশেষ দিবস পালনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রকৃত তথ্য জানাতে হবে।

জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিনের পরিচালনায় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নাজমুল হক নান্নু, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন জসিম, নাজিম উদ্দিন মাস্টার প্রমুখ বক্তৃতা দেন‌। সভাটির সঞ্চালনা করেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সদস্য এস কে সাদী।

উৎসঃ ‌‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‌মেয়েটা আমার বান্ধবী: ছাত্রলীগ সভাপতি


সদ্য ঘোষিত ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর চলছে নানা তর্ক-বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক বেরিয়ে আসছে বিতর্কিতদের নানান অজানা কাহিনী। এর থেকে বাদ যায়নি সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন নিজেও। কয়েকদিন যাবৎ শোভনের সঙ্গে একটি মেয়ের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ছাত্রলীগের অনেকেই ওই মেয়েকে শোভনের বউ হিসেবে দাবি করছেন। তাদের যুক্তি, বিবাহিত শোভন কিভাবে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে থাকে?

তবে বিষয়টি নিয়ে প্রথম বারের মতো মুখ খুললেন শোভন। বুধবার রাত ১২টার দিকে ধানমন্ডির বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নে জবাবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেছেন, আমার কি কোন বান্ধবী থাকতে পারে না? ওই মেয়েটা আমার বান্ধবী। তবে এর বেশি কিছু আমি বলবো না।

বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সভাপতি হওয়ার আগেও এই বিষয়টি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে একদিন এই প্রশ্নের জবাাব দিব। আজ এতটুক বলবো, উনি আমার বান্ধবী।

এসময় শোভন বলেন,আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সদ্য ঘোষিত ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিতর্কিতদের বাদ দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে পদবঞ্চিতদের কমিটিতে পদায়ন করা হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি বহাল থাকবে। এসময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস

আরও পড়ুনঃ ‌রোজা ভেঙে হিন্দু ধর্মের রোগীদের রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচাল ভারতের মুসলমানরা!


পৃথিবী জুড়েই ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা পালন করছেন রমজান মাস। এরই মাঝে আসামের একটি ঘটনা নজর কাড়ল বিশ্ববাসীর। ভারতে আসামের হাইলাকান্দি জেলায় কদিন আগেই সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়েছে। কিন্তু ওই রাজ্যেরই অন্য কয়েকটি জায়গায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির এক অন্য ছবি উঠে এসেছে।

রোজা ভেঙে অন্তত দুইজন ইসলাম ধর্মাবলম্বী স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন দুই হিন্দু ধর্মাবলম্বী রোগীর। যে দেশে ভিন্ন ধর্মের কাউকে ভালোবাসলে অনর কিলিং-এর মত ঘটনা ঘটে, ‘নিচু’ জাতের ছায়া মাড়ালে ‘জাত যায়’, সেই দেশের এমন খবর শিরোনামে আসার যোগ্য।

আসামের বিশ্বনাথ চরিয়ালির বাসিন্দা অনিল বোরা তাঁর ৮২ বছর বয়সী মা, রেবতী বোরাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন গত সপ্তাহে। কিছু পরীক্ষার পরে জানা যায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দিতে হবে। বোরার রক্তের গ্রুপ বি নেগেটিভ। সেই রক্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফেসবুকের মাধ্যমে একটি স্বেচ্ছায় রক্তদান সংগঠনের সাথে অনিল বোরার যোগাযোগ হয় শোনিতপুরের বাসিন্দা মুন্না আনসারির সাথে। পরে গত রবিবার আনসারি রোজা ভেঙে রক্ত দিয়েছেন রেবতী বোরাকে।

মুন্না আনসারি বলেন, তারা আমাকে বলেন ভেবে দেখ, রোজা ভাঙতে হবে কিন্তু। আমি বলেছিলাম রোজা ভাঙতে হলে হবে। তবে যদি রাতে রক্ত দিলে কাজ হয়, তাহলে রোজার শেষেই হাসপাতালে যাব, আর না হলে রোজা ভেঙে দেব।

অন্যদিকে গোলাঘাট জেলার বাসিন্দা ইয়াসিন আলী রোজার শেষে বাবার সাথে হাসপাতালে গিয়েছিলেন ওজন মাপতে। সেখানে গিয়ে হঠাৎই এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হয়, যিনি আড়াই বছরের শিশুকন্যার জন্য রক্ত খুঁজছিলেন।

সাথে সাথেই রক্ত দিতে রাজী হয়ে যান আলী। তিনি বলেন, যদিও আমাকে রোজা ভাঙতে হয়নি সেদিন রক্ত দেওয়ার জন্য। তবে প্রয়োজন হলে ভাঙতেও দ্বিধা করতাম না।

গুয়াহাটির একটি হাসপাতালের কর্মী পান্নাউল্লা আহমেদ। তিনিও রোজা ভেঙে রক্ত দিয়েছেন আর একজন ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে। তিনি বলেন, আমি চাইছিলাম রক্ত দিতে, তার জন্য যদি রোজা ভাঙতে হয় তো হবে। একজন মানুষের প্রাণ তো বাঁচাতে পারব। তবুও আমি বাড়ির অনুমতি নিয়ে নিই। তাঁরা রক্ত দিতে বলে। তাই আমি রক্ত দিয়ে দেই। রক্ত দেওয়ার পর একটি হোটেলে গিয়ে ভালো করে ভাত খেয়ে নেই।

তাঁদের রক্ত দেওয়ার ঘটনা ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনজনই বলছেন যে তাঁরা একজন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে যা করা উচিত বলে মনে হয়েছে, সেটাই করেছেন।

উৎসঃ ‌‌কালের কন্ঠ

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগ সভাপতি জুন্নুনের নেতৃত্বে শিক্ষকের পিঠে লাথি ঘুষি ও থাপ্পড়!

পরীক্ষায় নকল করতে না দেওয়ায় পাবনার শহীদ বুলবুল সরকারী কলেজের এক শিক্ষকের পিঠে লাথি মারার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শামসুদ্দীন জুন্নুনের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কলেজ গেট থেকে মোটরসাইকেলে করে বের হওয়ার সময় কয়েকজন যুবক এসে অতর্কিত হামলা চালায় শিক্ষক মাসুদুর রাহমানের উপর। তাকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি ও থাপ্পড় মারা হয়। ফেলে দেয়া হয় মাথার পাগড়িও। একপর্যায়ে তিনি বেরিয়ে যেতে চাইলে পেছন থেকে এসে তাকে লাথি মারে এক যুবক।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী মাসুদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ‘আমি এইচএসসি পরীক্ষার ডিউটি শেষ করে কেন্দ্র থেকে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলাম। তখন হঠাৎ পেছন থেকে আমাকে বলা হয়— ‘এই দাঁড়া’। আমি দাঁড়ালে কয়েকজন মিলে আমাকে মারতে শুরু করে। সেসময় আমাকে বলা হয়— ‘তুই আর কলেজে আসবি না; কলেজে আসলে তোর হাত কেটে নেব। বাংলা বিভাগে আগুন ধরিয়ে দেব।’

তিনি আরও জানান, ‘এরপর আমার সিনিয়র শিক্ষকরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং আমাকে বাড়ি চলে যেতে বলেন। এরপর থেকে আমার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমাকে কিছুদিনের জন্য কলেজে যেতে মানা করেছেন শিক্ষকরা।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সাথে জুন্নুন (লাল গোল)

বিষয়টি তদন্তে সহযোগী অধ্যাপক ড. কৃষ্ণেন্দু কুমার পালকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ড. ইসমত আরা ও সহকারি অধ্যাপক হারুনুর রশিদসহ কলেজের কর্মচারি ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ মোট সাতজন। কমিটির তদন্তে ওই ছাত্রদের অপরাধ উঠে এসেছে।

কমিটির প্রধান কৃষ্ণেন্দু কুমার পাল বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তের পর আমরা প্রাথমিকভাবে সমঝোতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক নেতা ও কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বিষয়টা যেহেতু এভাবে সমাধান করা যচ্ছে না। উপরন্তু পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে সেহেতু আমরা এখন এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেবো। টিচারদের নিরাপত্তার জন্য সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করেই আমরা এটি করবো।’

জানা যায়, ঘটনার শুরু ৬ মে। এইচএসসি পরীক্ষার ডিউটি করছিলেন প্রভাষক মাসুদুর রহমান। সেসময় দেখতে পান তার কক্ষের দু’জন পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করছে। তিনি তাদের খাতা কেড়ে নেন এবং নিয়মানুযায়ী যতটুকু দায়িত্ব পালন করা দরকার তা করেন। এতেই বাধে বিপত্তি। ঘটনার পর ৫ দিন চুপ করে থাকলেও গত ১২ মে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হবার পথে হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

প্রসঙ্গত, প্রভাষক মাসুদুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর ৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে যোগ দেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে। ধর্মপরায়ণ ও ভালো শিক্ষকতার কারণে সবার মাঝে জনপ্রিয় তিনি।

উৎসঃ ‌‌দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস

আরও পড়ুনঃ ‌শোভনের গার্লফ্রেন্ডের বন্ধু ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি!


ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের গার্লফ্রেন্ডের বন্ধু সহেল রানাকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ আছে, নিষ্ক্রীয় হয়েও ছাত্রলীগ সভাপতির একান্ত বান্ধুবী তাসনিমা শারমিন বিথির সাথে ভালো সম্পর্ক থাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিশোর্ধ্ব শিক্ষার্থী সোহেল রানাকে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, কোনো ধরণের সক্রিয়তা না থাকা সত্বেও সোহেল রানার এই পদ সত্যি লজ্জাকর।

এই নেতা বলেন, সহেল জগন্নাথ হলের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদে ছিলেন বলে মিথ্যাচার করেছেন। অথচও ছাত্রলীগের কোনো পদে তার নাম নাই। এই পদকে ব্যবহার করে এবং ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনের স্ত্রীর (বিথি) সাথে তার গভীর বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক ছিল। আর সেখান থেকেই তার এ প্রাপ্তি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর অনেক কাছের সহেল। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন টেন্ডারের অংশী হতে এবং মন্ত্রীকে হাতে রাখতেই এই পদ দেওয়া হয় সহেল রানাকে। অথচও পদ পাওয়ার তার কোনো যোগ্যতাই নাই।

এদিকে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে সহেল রানা অকপটে বলেন,আমার সঙ্গে বান্ধুবী হিসেবে শোভন ভাইর গার্লফ্রেন্ড বিথির সঙ্গে বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক ছিল। সে জগন্নাথে চান্স পেয়েছে কিন্তু পরে প্রাইভেটে পড়াশোনা করে। এটা অনেক আগের ঘটনা। সম্পর্কতো থাকতেই পারে। শোভনের ছোট ভাই ছোটনের সাথেও আমার সম্পর্ক ছিল। সে আমার ফ্রেন্ড ছিল।

নৌ পরিবহন মন্ত্রীর সাথে ভালো সম্পর্ক আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন কাজের জন্য এবং দল করার কারণে যেতে হয়। সেই সুবাদে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী জনাব খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে আমার ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ব্যক্তিগত অনেকের সাথে অনেক সম্পর্ক গড়ে উঠে। কেউ এটাকে ভিন্ন খাতে নিতে চাইলে এটা দুঃখজনক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার কোনো পদ ছিল?

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, গতকমিটিতে ছিলাম না। তবে এর আগে আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলাম। এটা মৌখিক কমিটি ছিল।

অভিযোগ উঠে পদ পাওয়ার পর তাকে জগন্নাথ হলের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করে অনেকে ফেসবুকে অভিনন্দন জানায় কিন্তু বাস্তবে তার কোনো পদ ছিলনা। দাখিল রেজিস্টার কার্ডের বয়স দেখিয়ে এক নেতা ফেসবুকে পোস্ট করেন, তার জম্ম ১৭.৯ ১৯৮৮ সালে। এখন বয়স ৩০ বছর ৮ মাস। গঠনতন্ত্রের নিয়মের বাহিরে তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। কার পৃষ্ঠপোষকতায় সেটা ছবিই বলে দিচ্ছে।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে: জুনাইদ বাবুনগরী


দাড়ি রাখা, টাখনুর ওপর কাপড় পরা ‘জঙ্গি লক্ষণ’ বলে প্রচারিত ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামক সংগঠনের বিজ্ঞাপনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী।

গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ দেশের কোটি কোটি মানুষ টাখনুর ওপরে পোশাক পরেন এবং সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক মানুষ আল্লাহর রাসুলকে ভালোবেসে তার সুন্নাতের অনুসরণ করে মুখে দাড়ি রাখেন।

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামের একটি ভুঁইফোড় সংগঠনের ব্যানারে কয়েকজন দুর্বৃত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অসৎ উদ্দেশ্যে রাসুল (সা.)-এর সুন্নত ও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান দাড়ি রাখা ও টাখনুর ওপর কাপড় পরিধান করাকে জঙ্গিপনার লক্ষণ বলে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে।

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী আরও বলেন, কথিত জঙ্গি ইন্ডিকেটর বিষয়ে তাদের হিংসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি, আক্রমণাত্মক বয়ান ও বিস্তৃত কর্মকাণ্ডের ধরন দেখে সহজেই বোঝা যায় রাসুলের সুন্নত দাড়ি ও ইসলামের বিধান টাখনুর ওপর কাপড় পরিধানকে তারা জেনে-বুঝেই আক্রমণ করেছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে যত সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, যত রকমের কথিত জঙ্গি গ্রেফতার বা নিহত হয়েছে, তারা সবাই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া। সুন্নতে রাসুলের পরিপূর্ণ অনুসারী কোনো আলেম বা ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। পীযূষরা বাংলাদেশের সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে নাস্তিকবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে। সম্প্রীতি বাংলাদেশ নামক সংগঠনের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিজ্ঞাপন প্রচার করে ইসলাম ও মুসলমানের হৃদয়ে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

আল্লামা বাবুনগরী অবিলম্বে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার কারণে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনায় হুইপের স্ট্যাটাস ভাইরাল


টাঙ্গাইলে নিজের ধানি জমিতে কৃষকের আগুন দেয়ার ঘটনার বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ।

তার ওই স্ট্যাটাস ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। গতকাল দুপুরে দেয়া স্ট্যটাসটি শেয়ার হয়েছে অনেক।

টাঙ্গাইলে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ টাকায়। আর একজন শ্রমিকের দিন মজুরি ৮৫০ টাকা। এতে প্রতি মণ ধানে কৃষককে গুনতে হচ্ছে লোকসান।

গত রোববার (১২ মে) ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া গ্রামের আবদুল মালেক সিকদার নামের এক কৃষক নিজের পাকা ধানে আগুন দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান।

পরে বুধবার (১৫ মে) এক অনুষ্ঠানে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত মন্তব্য করে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ঘটনাটি এমনই পরিকল্পিত যে সকাল থেকে সেখানে সাংবাদিকেরা গিয়ে বসে ছিলেন। ধানের দাম কম, এ জন্য একজন কৃষক হিসেবে সেই দুঃখ আমারও আছে। কিন্তু তাই বলে কৃষক তার উৎপাদিত ধানে আগুন দেবেন, এটা হতে পারে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রীর এমস বক্তব্যের সমালোচনা করে জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ তার ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘আপনি কৃষকের সঙ্গে মশকরা করতে পারেন না। একজন অসহায় কৃষকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকেও সহ্য করতে পারবেন না? আপনি তো সামরিক স্বৈরাচারের মন্ত্রী নন। আপনাকে স্মরণ রাখতে হবে, আপনি আমলা বা ব্যবসায়ী কোটার মন্ত্রী নন। তৃণমূল থেকে কাদামাটি গায়ে মাখা রাজনীতিবিদ। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে ধাপে ধাপে ধান আবাদি মানুষের সহযোগিতা–সমর্থনে আজকের পর্যায়ে এসেছেন। অন্তত আপনি কৃষকের সঙ্গে মশকরা করতে পারেন না।’

তিনি আরও লেখেন, আপনি, আমি কৃষকের ভোটে, কৃষকের দয়ায় সংসদে এসেছি। কৃষককে ধানের মূল্য দিতে পারবেন না, বিনয়ের সঙ্গে সম্মানিত কৃষকদের সীমাবদ্ধতার কথা অবহিত করুন। সমস্যা কোথায়? অসীম সমস্যার এই দেশে সবকিছু রাতারাতি ঠিক হবে না, এ কথা বিনয়ের সঙ্গে বললে মানুষ গ্রহণ করবে।’

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌রংপুরে সড়কে ধান ছিটিয়ে কৃষকের প্রতিবাদ


ধানের ন্যায্যমূল্য দাবিতে এবার রংপুরে মহাসড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করেছেন কৃষকরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রংপুর নগরের মাহীগঞ্জ সাতমাথা এলাকায় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।এসময় তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সরকারি উদ্যোগে হাটে হাটে ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে নেয়ার দাবি জানান। কৃষক সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি সংগঠন এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করে।
এ সময় কৃষকরা মহাসড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশে আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার সভাপতিত্ব করেন।

কৃষকরা দু:খ করে বলেন, এক বিঘা ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। আর ধানের দাম করে যাওয়া বিঘাপ্রতি উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬-৭ হাজার টাকা। এতে করে প্রতি বিঘায় ধান উৎপাদনে লোকসান প্রায় তিন হাজার টাকা। এতে করে কৃষকদের দুর্ষিসহ অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, এক মণ ধানের দামে ধান কাটার একজন শ্রমিককে কাজে নিতে হয়। শ্রমিকের চড়া মজুরির কারণে জমি থেকে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষক। ধার-দেনা করে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলতে হচ্ছে।

এর আগে ব্যুরো ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় ধানক্ষেতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানান কৃষকরা। টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই প্রতিবাদ জানান চাষীরা।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌গণতন্ত্র এখন মাইনকার চিপায়: মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল


দেশের গণতন্ত্র মাইনকার চিপায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেছেন, আমাদের দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান যে অবস্থা, তাতে ঢাকার ভাষায় বলতে হয়, গণতন্ত্র এখন মাইনকার চিপায় পড়ছে। আমরা এই মাইনকা চিপা থেকে বের হতে পারছি না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ। ব্যাংকিংব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আমি আশঙ্কা করছি, এবার ঈদে ব্যাংকে গিয়ে গ্রাহক বড় ধরনের কোনো চেক জমা দিলে টাকা পাবেন না। তাদের দু-তিন দিন অপেক্ষা করতে বলা হবে। আর সেই দু-তিন দিনে হয়তো ঈদও পার হয়ে যাবে। শুনতে খারাপ লাগলেও আমাদের ব্যাংকিংব্যবস্থা এখন এই স্থানে গিয়ে পৌঁছেছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আপনি আওয়ামী লীগের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। আপনি বলছেন, টাকা হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেনা যায়। আইন-আদালত সব কেনা যায়। তা হলে আমার প্রশ্ন- আপনারা সরকারে আছেন কেন? ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান।

মন্ত্রী ও সাবেক মন্ত্রীদের সমালোচনা করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এই সরকারের মন্ত্রীরা সবসময় উল্টোপাল্টা বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিনোদন দেন। রানা প্লাজা ধসেপড়ার পর এই সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (মহীউদ্দীন খান আলমগীর) বলেছিলেন- বিএনপির নেতাকর্মীরা রানা প্লাজার পিলার ধরে ধাক্কা দেয়ায় রানা প্লাজা ধসে পড়েছে। এখন নাসিম সাহেব বলছেন- টাকায় সব কেনা যায়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মন্ত্রীদের উদ্ভট-কাণ্ডজ্ঞানহীন কথাবার্তায় মানুষ হাসাহাসি করে: রিজভী


ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রীদের উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, চাপাবাজি দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পারবেন না। আপনাদের উদ্ভট-অবাস্তব ও কাণ্ডজ্ঞানহীন কথাবার্তায় মানুষ হাসাহাসি করে, আমোদিত হয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, দেশে কর্মসংস্থানের অভাবে চাকরির জন্য জীবনবাজি রেখে ইতালি পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন আমাদের ৩৭ হতভাগ্য ভাই। এর আগেও মালেয়শিয়াসহ ইউরোপীয় দেশগুলোতে অবৈধ পন্থায় প্রবেশ করতে গিয়ে প্রাণহানি ঘটেছে অনেক বাংলাদেশি যুবকের।

তিনি বলেন, মিডনাইট সরকারের বিনাভোটের মন্ত্রীরা কেউ বাংলাদেশকে কানাডা-স্পেনের সঙ্গে তুলনা করছেন, কেউ প্যারিস-লসঅ্যাঞ্জেলেস-সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা বলছেন।

‘আবার নির্লজ্জের মতো এই সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, সুইজারল্যান্ডের মন্ত্রী নাকি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক টুকরো বাংলাদেশ চায়, আবার বেলজিয়াম নাকি বাংলাদেশ মডেলে চলতে চায়!’

বিএনপির এ নেতা বলেন, জনগণের ভোট ছাড়াই জোর করে জনগণের ঘাড়ে চড়ে বসা এই মিডনাইট ভোটের সরকার দেশকে লুটপাট করে অর্থনীতিকে ফাঁপাফোকলা করে দিচ্ছে। বাড়ছে বেকারত্ব।

ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার, অনুগত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের জুলুম ও অব্যবস্থাপনায় দিনকে দিন বাংলাদেশ বসবাসের অযোগ্য হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

তিনি বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবেই ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার কর্মক্ষম মানুষ বেকার। যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো বাস্তবসম্মত সরকারি পদক্ষেপ নেই। যুবশক্তি আজ পথহারা। তাই হতাশায় নিমজ্জিত তরুণদের মধ্যে মাদকাশক্তির প্রবণতা বাড়ছে। নিরাপত্তা আর কাজের অভাবে দেশ ছেড়ে গিয়ে সাগরে সলিল সমাধি ঘটছে টগবগে তরুণদের।

রিজভী আরও বলেন, দেশ ছাড়তে গিয়ে সাগরে মৃত্যুর খবর প্রায়ই আসছে, কিন্তু সরকার নির্বিকার। মিথ্যা প্রপাগান্ডার জোয়ারে ভাসছে এ অন্ধকারের সরকার।

তিনি বলেন, এক দশক আগে আওয়ামী লীগ সরকার বলেছিল, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। ১০ টাকা সের চাল খাওয়াবে। কিন্তু চাকরি না হোক, মানুষ তো চায় কাজ। সরকার দেশে কর্মসংস্থান করতে পারে না, কিন্তু বেসামাল মন্ত্রীরা উন্নয়নের কল্পিত গল্প শোনায়, কৃত্রিম জিডিপি ও প্রবৃদ্ধির গল্প বানায়।

‘তাদের তথাকথিত উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরল হতভাগ্য ৩৭ বাংলাদেশি। তাদের স্বজনদের শোকের মাতম কে দেখবে?’ প্রশ্ন রাখেন রিজভী।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগ সভাপতির বাবার আম বাগানের ভেতরে গাঁজার চাষ


দিনাজপুরের বিরামপুরে ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের বাবা বিরামপুর উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ওরফে টিটুর ইজারা নেয়া জমিতে শতাধিক গাঁজার গাছসহ কেয়ারটেকার মংলুকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে পৌর শহরের মিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

বিরামপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা জানান, পৌর শহরের মিরপুর মহল্লায় একটি আম বাগানে গাঁজা চাষের খবর পান অফিসার্স ইনচার্জ মনিরুজ্জামান। পরে পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা অফিসার্স ইনচার্জের নির্দেশে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে ওই বাগানে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান আম বাগানের ভেতরে গাঁজা চাষ করা হচ্ছে। সেখানে ১৫ দিন থেকে ১ বছরের অধিক বয়সের শতাধিক গাঁজার গাছ জব্দ করা হয়। বাগান থেকে কেয়ারটেকার মংলু আটক করা হয়েছে।

মংলু পুলিশকে জানিয়েছে যে, গত ছয়মাস থেকে ওই বাগানে কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। টিটু মেটালের স্বত্ত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন তাকে কাজে লাগায়।

পুলিশ জানায়, আনোয়ার হোসেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আঃ রাজ্জাকের বাবা।

ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাগানটি জনৈক আফাজ উদ্দিনের। আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন থেকে ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করছেন। গাঁজা চাষের ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিঃ ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে সহসম্পাদক পদ!


দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সদ্যই ঘোষণা করা হয়েছে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ৬১ জন সহসভাপতি, ১১ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন ৩০১ জন। তবে ঘোষণার পরপরই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একাংশ বিক্ষোভ করেছেন এই কমিটির বিরোধিতা করে। তারা বলছেন, কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেকেই যোগ্যতা অনুযায়ী পদ পাননি। আর পদবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকেই। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই কমিটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য, অর্থাৎ প্রায় একশ জনই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।

সোমবার (১৩ মে) বিকেলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানির সই করা পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশিত হয়।

এর পরপরই বিক্ষোভে নামেন ছাত্রলীগের একাংশ। সেখানেই নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া একাধিক ছাত্রলীগ নেতা জানান, তারা এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করবেন। কেউ কেউ এরই মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছেন। সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেই তারা পদত্যাগের ঘোষণা দিতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন। তবে মধুর ক্যান্টিনে মারধরের শিকার হওয়ায় তারা আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ মে) সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের গত কমিটির সভাপতি বি এম লিপি আক্তার বলেন, কাউকে অভিনন্দন জানানোর অধিকার যেমন আমার আছে, ঠিক একইভাবে অযোগ্য কাউকে কমিটিতে স্থান দিলে সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর অধিকারও আছে। অথচ সেই অধিকার আদায় করতে গিয়েই আমাদের ওপরে হামলা করা হলো।

লিপি বলেন, ঘোষিত কমিটিতে অযোগ্যদের স্থান করে দেওয়াতে এই কমিটির প্রায় একশ নেতা প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। অনেকের সঙ্গেই আমার কথা হয়েছে। তাদের মধ্যে আজকেই ৪০ জন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

নিজের অবস্থান জানিয়ে লিপি বলেন, আমি পদত্যাগ করার ঘোষণা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের অভিভাবক। আমি তার কাছে আকুল আবেদন জানাই, যেন তদন্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। আমরা এই কমিটি মানি না। আমি রোকেয়া হলের প্রথম সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। এরপর আমি রোকেয়া হলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করি। আমি ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটারিয়া বিষয়ক সম্পাদক। অথচ আমাকে দেওয়া হয়েছে উপসম্পাদকের পদ। এটা একটা বড় প্রশ্ন আমার কাছে। শুধু আমিই না, আমাদের সঙ্গে যারা আজ হাকিম চত্বর ও মধুর ক্যান্টিনের প্রতিবাদে ছিলেন, তাদের অবস্থাও আমার মতো। তাদেরও আমার পদের মতো পদ দিয়ে নিগৃহীত করা হয়েছে। কাউকে কাউকে তো যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কমিটিতে জায়গাই দেওয়া হয়নি।

সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তিলোত্তমা শিকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত। অথচ আমাদের বঞ্চিত করে যারা আগে কোনো কমিটিতে ছিল না, তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আমরা মিছিল করেছি। মিছিলের সময়ই আমার ও লিপির ওপর হামলা করা হয়। এরপর আমরা সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করি। সেই সংবাদ সম্মেলনে আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়। আমি পদত্যাগ করতে চাচ্ছি। শুধু আমি না, অযোগ্যদের এভাবে কমিটিতে ঠাঁই দেওয়ার প্রতিবাদে আমাদের অনেকেই পদত্যাগ করতে চাচ্ছে।

বর্তমান কমিটিতে উপসম্পাদকের পদ পেয়েছেন বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলের সভাপতি ফরিদা পারভীনও। তিনি বলেন, আমরা আজ অযোগ্যদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের ওপর হামলা করে সেটা বানচাল করা হয়েছে। আমরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) আবার সংবাদ সম্মেলন ডাকব। সেখানে আমরা পদত্যাগ করার ঘোষণা দেবো।

এদিকে, ছাত্রলীগের এই কমিটিতে পদ দিতে টাকার লেনদেনের অভিযোগও করছেন বিক্ষোভকারীরা। লিপি বলেন, আমাদের কাছে এমন মেসেজও রয়েছে যে কক্সবাজারের একজনকে সহসম্পাদক দেওয়া হয়েছে ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে। এছাড়াও বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত অনেককেই এই কমিটিতে স্থান করে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের আদর্শিক ও সাংগঠনিক অবস্থার সঙ্গে যায় না— এমন অনেক ব্যক্তিকেও কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

লিপি আরও বলেন, আমরা যখন হাকিম চত্বর থেকে মধুর ক্যান্টিনে যাই, তখন সাদিক খান, রাকিব, ফাহিম, আল ইমরান, জহুরুল হক হলের সোহানরা সেখানে ছিল। বিভিন্ন হলের পদপ্রত্যাশী অনেকেই আমাদের ওপর হামলায় জড়িত ছিল। তারা ‘ভাই’দের তুষ্ট করতে এই হামলা চালায়। তারা আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং চেয়ার উঠিয়ে আমাদের মারধর করে। ন্যায্য অধিকারে দাবি চাইতে গিয়ে আজ আমাদের ওপর হামলা করা হলো।

দক্ষ ও যোগ্য কমিটির দাবি জানিয়ে লিপি বলেন, নির্দিষ্ট কারও বিপক্ষে আমাদের কোনো অবস্থান নেই। আমরা চাই একটা দক্ষ ও যোগ্য কমিটি। যতক্ষণ সেটা না হবে, ততক্ষণ আমরা আন্দোলন চালাতে থাকব। মধুর ক্যান্টিনে অবস্থান নেবো। আমরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) গণভবনে যাব আপার (প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা) সঙ্গে দেখা করতে। তিনি আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল, আমাদের ভরসা। তিনি নিশ্চয় আমাদের দাবি শুনবেন।

নতুন কমিটির সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ সংগঠন। এখানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সবাই রাজনীতি করেন। রাজনীতি করলে অনেকেই পদ-পদবী নিয়ে ভাবেন, এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো— সবাইকে তো আর পদ দিয়ে খুশি রাখা যাবে না। অনেকেই নিজের পছন্দের পদ পাবেন না, এটাও স্বাভাবিক। আর সেক্ষেত্রে যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই— আশা করি তারা খুব দ্রুতই বুঝবেন যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভরসার স্থান হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার অনুমোদিত কমিটি আজ (সোমবার) ঘোষণা করা হয়েছে। আশা করি, সবাই তার প্রতি সম্মান রেখেই দ্রুত নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন। যদি কমিটিতে কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে সেটা নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করবেন।’

বিক্ষোভকারীদের মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে নাহিয়ান বলেন, ‘যেহেতু আমি সেখানে ছিলাম না, তাই এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাইছি না।’

এদিকে, পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিরোধিতাকারীরা সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মধুর ক্যান্টিন এলাকায় গেলে মারধরের শিকার হন। আহত অবস্থায় তাদের কমপক্ষে সাত জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে শ্রাবণী দিশা চোখে আঘাত পেয়েছেন, মাথার পেছনে আঘাত পেয়েছেন তানজির শাকিল। এছাড়া লিপি আক্তার, ফরিদা পারভীন, তিলোত্তমা শিকদার, জেরিন জিয়া ও শ্রাবণী শায়লা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন বলে জানান ঢামেক জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

উৎসঃ ‌‌সারাবাংলা

আরও পড়ুনঃ ‌বিবাহিত হয়েও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন তারা

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর গ ধারা অনুযায়ী বিবাহিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাবেন না।

এর পরেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বেশ কয়েকজন বিবাহিত নেতাকর্মী যে কারণে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পদবঞ্চিতদের অভিযোগ, বিবাহিত হয়েও অনেককে পদ দিয়েছেন শোভন-রাব্বানী।

এজন্য পদ পাওয়া ওইসব নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।

প্রমাণ হিসাবে পদবঞ্চিত যাদের নাম জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহসভাপতি পদ পাওয়া সোহানী তিথি, সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপসম্পাদক পদ পাওয়া আফরিন সুলতানা লাবণী, উপসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদ পাওয়া রুশী চৌধুরী, সহসম্পাদক পদ পাওয়া আনজুমান আরা আনু ও সামিহা সরকার সুইটি।

এরা সবাই বিবাহিত বলে জানান তারা।

এছাড়াও সহসভাপতি ইশাত কাসফিয়া ইরাও বিবাহিত বলে অভিযোগ করছেন কেউ কেউ।

গঠনতন্ত্রের ৫-এর গ ধারাকে লঙ্ঘন করে এসব নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিবাদ করেছেন পদবঞ্চিতরা।

এ বিষয়ে শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক জেয়াসমিন শান্তা ফেসবুকে লেখেছেন, নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।

সোমবার বিকালে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহসভাপতি হয়েছেন ৬১ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১১ জন, সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন ১১ জন। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক সব সম্পাদক এবং সহ সম্পাদক ও উপসম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়।

এর আগে, ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগ ২৯ তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিজেরা কমিটি করতে ব্যর্থ হলে ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক অর্পিত ক্ষমতাবলে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন।

তবে কমিটির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় দু দফায় দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ডাকসুর তিন নেতাসহ অন্তত ৮জন আহত হয়েছেন।

হামলায় আহতরা হলেন- ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সদস্য ও ডাকসুর বর্তমান সদস্য তানভীর হাসান সৈকত, কবি সুফিয়া কামাল হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ডাকসুর আরেক সদস্য ফরিদা পারভীন, ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বি এম লিপি আক্তারসহ কয়েকজন।

উৎসঃ ‌‌যুগাতর

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শোভন-রাব্বানীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করল ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরা


ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১৩ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ ঝাঁড়ছেন ছাত্রলীগের অনেকে। এ তালিকায় বাদ যাচ্ছেন না নারী নেত্রীরাও। বর্তমান সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

এক নেত্রী লিখেছেন, সাজুগুজু করে প্রোগ্রামে যেতে পারেননি বলে শোভন তাকে পদ দেননি। আরেকজন লিখেছেন, ‘নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।’

কমিটি ঘোষণার কিছুক্ষণ পর জেরিন দিয়া নামে কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক এক সদস্য ফেসবুকে লেখেন, ‘রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানী ভাই আপনাদের মধুভর্তি মেয়ে লাগে। বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কী রে চেহারা সুন্দর আছে; তো সেজেগুজে আসতে পারো না!
আমি সেজেগুজে আসতে পারি নাই দেখে আমাকে কমিটিতে রাখলেন না??
আপনারা যেসব মেয়েকে কমিটিতে রেখেছেন তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে! আপা কি জানেন?? আর নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন!!!
আর গোলাম রাব্বানী ভাই আমাকে সবার সামনে বলছিলেন দুইদিনের মেয়ে কেমনে পোস্ট পাইছো বুঝি নাই! কয়জনের বেডে গেছো এনএসআই রিপোর্ট করলেই জানা যাবে। মনে আছে গোলাম রাব্বানী ভাই?????? আমি তখন আপনার যোগ্য কথার জবাব দিয়েছিলাম। আজ তার শোধ নিলেন?????
অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্য।
এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না; মানবো না…
আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।’

শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক জেয়াসমিন শান্তা লেখেন, ‘নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।
অভিনন্দন গোলাম রাব্বানী ভাই ও শোভন ভাই, হিসাব আছে, অনেক হিসাব, চলেন মিলাই।’


উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌‘সেজে গুজে আসিনি বলে ছাত্রলীগের কমিটিতে রাখলেন না?’: সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভনের সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া

সেজে গুজে আসেনি বলে কমিটিতে রাখেননি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া। নতুন কমিটিতে পদ না পেয়ে অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই নেত্রী।

তিনি লিখেছেন, রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রব্বানী ভাই আপনাদের মধু ভর্তি মেয়ে লাগে । বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কি রে চেহারা সুন্দর আছে ; তো সেজে গুজে আসতে পারো না!

সংবাদ প্রকাশের কিছুক্ষন আগে তার এই পোস্টটি সরানো হয়েছে

নতুন কমিটিতে স্থান না পেয়ে আজ সন্ধ্যায় তার নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেয় জেরিন দিয়া। সংবাদের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রব্বানী ভাই আপনাদের মধু ভর্তি মেয়ে লাগে । বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কি রে চেহারা সুন্দর আছে ; তো সেজে গুজে আসতে পারো না!

আমি সেজে গুজে আসতে পারি নাই দেখে আমাকে কমিটি তে রাখলেন না?

আপনারা যেসব মেয়েদের কমিটিতে রেখেছেন তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে! আপা কি জানেন? আর নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন!

আর গোলাম রাব্বানি ভাই আমাকে সবার সামনে বলছিলেন দুইদিনের মেয়ে কেমনে পোস্ট পাইছো বুঝি নাই! কয়জনের বেডে গেছো NSI রিপোর্ট করলেই জানা যাবে। মনে আছে গোলাম রাব্বানী ভাই ??? আমি তখন আপনার যোগ্য কথার জবাব দিয়েছিলাম। আজ তার শোধ নিলেন???

অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্যে ।

এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না ; মানবো ন…

আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here