‘বদি পরিবার’ একটি ইয়াবা পরিবার! : গোলাম মোর্তোজার কলাম

0
276

গোলাম মোর্তোজা

গ্লাস অর্ধেক ভরা, না অর্ধেক খালি? যুক্তি-তর্কের জন্যে এটা খুব ভালো বিষয়। যেহেতু গ্লাসের অর্ধেক অংশে পানি আছে, সেহেতু প্রথমে ‘ভরা’ প্রসঙ্গে আসি। কথা বলছি ইয়াবা চোরাচালানিদের নিয়ে। এ প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় মাথায় ঘুরছে। সেটা হলো কোনো কোনো গণমাধ্যম লিখছে ‘ইয়াবা কারবারি’ বা ‘ইয়াবা ব্যবসায়ী’। ব্যকরণবিদ নই, সেই বিবেচনায় ভুল বা শুদ্ধ বিচার করছি না। সাধারণ ধারণার বিষয় নিয়ে কথা বলছি।

ইয়াবা একটি ভয়ঙ্কর মাদক। মিয়ানমার থেকে অবৈধ উপায়ে ইয়াবা বাংলাদেশে আনা হয়। সহজ বাংলায় চোরাচালানের মাধ্যমে ইয়াবা বাংলাদেশে আনা হয়। যারা আনে তারা চোরাচালানি। কোনো বৈধ পণ্য বৈধভাবে আমদানি বা কেনা-বেচা যারা করেন, তারা ব্যবসায়ী। চোরাচালানি আর ব্যবসায়ী এক বিষয় নয়। সুতরাং ইয়াবা কারবারি লিখলে, চোরাচালানিদের ব্যবসায়ী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দেওয়া হয়। যা প্রকৃত ব্যবসায়ীদের জন্যে অসম্মানজনক। ১০২ জন ইয়াবা চোরাচালানি বা চোরা কারবারি আত্মসমর্পণ করেছে, ইয়াবা কারবারি বা ব্যবসায়ী নয়।

এবার অর্ধেক ভরা গ্লাস প্রসঙ্গে ফিরে আসি।

তালিকাভুক্ত প্রায় দুই হাজারের মধ্যে ১০২ জন ইয়াবা চোরাকারবারি অন্তত আত্মসমর্পণ করেছে। দীর্ঘ বছর ধরে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। টেকনাফ-কক্সবাজারে অবাধে বিচরণ করেছে এসব চোরাকারবারি। শুধু মাদক বা ইয়াবা চোরাকারবারি নয়, এরা আরও নানারকমের সামাজিক অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। ১০২ জনের মধ্যে ১২ জন আছে একটি পরিবারের সদস্য। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় ইয়াবা চোরাকারবারিদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এক ও দুই নম্বরে নাম ছিল আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি ও তার আপন ভাই মৌলভি মজিবুর রহমানের। বাংলাদেশকে যে ইয়াবায় পরিপূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে, তার একক অবদান সাবেক এমপি বদির পরিবারের। সেই প্রধান পৃষ্ঠপোষকের পরিবারের ১২ জন ইয়াবা চোরাকারবারিকে আত্মসমর্পণ করাতে পারা, একটা বড় অগ্রগতি।

এবার আসি গ্লাসের অর্ধেক খালি প্রসঙ্গে।

সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি সব সময় বলেছে, তিনি বা তার পরিবার ইয়াবা চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত নয়। মাদকবিরোধী অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধে বদির এক বিয়াই নিহত হয়। সেই নিহত ব্যক্তি যে বিয়াই, বদি তাও স্বীকার করেনি।

সরকারের তালিকা অনুযায়ী বড় ইয়াবা চোরাকারবারি আছে ৭৩ জন। তাদের ৩০ জন আত্মসমর্পণ করেছে। এই ৩০ জনের মধ্যে আছে সাবেক এমপি বদির চার ভাই আবদুল শুক্কুর, আবদুল আমিন, মো. শফিক ও মো. ফয়সাল, বদির ফুফাতো ভাই কামরুল ইসলাম রাসেল, ভাগনে সাহেদুর রহমান নিপুসহ ১২ জন। যদিও কোনো কোনো সংবাদে এই সংখ্যা ১৪ বা ১৬ উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকার এক নম্বরে থাকা বদিকে ইয়াবা চোরাকারবারিদের আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার অঘোষিত সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বদি নিজে আত্মসমর্পণ করেনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকার দুই নম্বরে থাকা বদির আপন ভাই মৌলভি মজিবুর রহমানও আত্মসমর্পণ করেনি।

বদি, তার ভাই-ভাগ্নেসহ পরিবারের এসব সদস্য যে ইয়াবা চোরাকারবারি, তা সুনির্দিষ্ট করে বহুবার গণমাধ্যমে লেখা হয়েছে।

একথা অজানা নয় যে, টেকনাফের প্রশাসন চলে বদির নির্দেশনা অনুযায়ী। সেই প্রশাসনের করা ইয়াবা চোরাকারবারিদের তালিকায় বারবার উঠে এসেছে বদি, তার ভাই-ভাগ্নেসহ পরিবারের সদস্যদের নাম। সব সময়ই বদি সরকারের উচ্চ মহলের সহায়তা পেয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মাদকবিরোধী সপ্তাহ উদ্বোধন করেছেন বদিকে সঙ্গে নিয়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে তালিকা করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই তালিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আরও সতর্কভাবে তালিকা করার নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন ‘বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে প্রমাণ নেই’। প্রায় একই রকমের কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। টেকনাফ-কক্সবাজার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের একটা অংশ বারবার অভিযোগ করে বলেছেন, উচ্চমহলের পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগে বদি তো বটেই, বদির ভাই-ভাগ্নেসহ আত্মীয় স্বজনরা অবাধে ইয়াবা চোরাকারবারিদের নেতৃত্ব দিয়েছে। প্রকাশ্যে অবস্থান করেছে। প্রশাসন তাদের প্রতিপক্ষ হয়নি বা প্রশাসনের সহায়তায়ই চোরাকারবার চালিয়ে গেছে। এমপি বদির ক্ষমতায় তারা ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছে। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের মঞ্চেও সেই দাপটের প্রমাণ মিলেছে। বদির ফুফাতো ভাই কামরুল ইসলাম রাসেল গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকি দিয়ে বলেছে, ‘আত্মসমর্পণের পর তোদের মজা দেখাব। ইয়াবা ব্যবসায়ীর হাত অনেক লম্বা।’

একথা অনুষ্ঠানস্থলের সামনের দিকে থাকা সবাই শুনেছেন। মঞ্চে থাকা মন্ত্রী, প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তা না শোনার কথা নয়। একজন ইয়াবা চোরাকারবারির এমন দাম্ভিকতার বিষয়ে তারা সবাই চুপ থেকেছেন।

যেহেতু বদির পূর্বপুরুষ মিয়ানমার থেকে এসেছে, সেকারণে মিয়ানমারে বদির আত্মীয়-স্বজন আছে। বলা হয় তাদের পরিবারের ইয়াবা তৈরির কারখানা আছে মিয়ানমারে। মিয়ানমারে কোনো সমস্যা হলে, বদির ইয়াবা চোরাকারবারি স্বজনরা বাংলাদেশে চলে আসে। বাংলাদেশে সমস্যা হলে বদির স্বজনরা মিয়ানমারে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ইয়াবা চোরাকারবারে কখনো তাদের তেমন কোনো সমস্যা হয় না। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীও দুই দেশের সম্মিলিত ইয়াবা সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক। বাংলাদেশ থেকে বড় ইয়াবা চোরাকারবারিরা সহজেই মিয়ানমারে গিয়ে আশ্রয় নিতে পারে।

মাদক বিরোধী অভিযানের সময় বদি চলে গিয়েছিল ওমরাহ করতে সৌদি আরব। তার ইয়াবা চোরাকারবারি স্বজনরা আশ্রয় নিয়েছিল মিয়ানমারে। এতোদিনের যে অভিযোগ, তা প্রমাণ হলো আত্মসমর্পণের ঘটনায়। দৃশ্যমান হলো, একটি ইয়াবা চোরাকারবারি পরিবার। যে পরিবারের অধিকাংশ সদস্য প্রত্যক্ষভাবে ইয়াবা চোরাকারবারি। সেই পরিবারের প্রধান ব্যক্তি বা মুরব্বি সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি। যিনি আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার সমন্বয়কারী।

এখন প্রশ্ন দু’টি।

এক. তারা কেন আত্মসমর্পণ করল?

দুই. এর মধ্য দিয়ে ইয়াবা চোরাকারবার বন্ধ হবে কিনা?

মাদকবিরোধী অভিযানে ছোট ইয়াবা চোরাকারবারিরা নিহত হওয়ার ঘটনায় কিছুটা ভীত হয়ে পড়ে বড় চোরাকারবারিরা। প্রশাসনের একটা অংশ যেমন তাদের পক্ষে, বিপক্ষেও একটি অংশ আছে। অভিযানের মুখে যে যেখানে পারে পালিয়ে যায়। ইয়াবা চোরাকারবার করে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছে, বিশাল বিশাল বাড়ি তৈরি করেছে টেকনাফে। কিন্তু, সেই বাড়িতে নিশ্চিন্তে থাকতে পারছে না। সম্পদ হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আত্মসমর্পণ করলে সম্পদ রক্ষা করা যাবে, এটা একটা কারণ হতে পারে। আত্মসমর্পণ করলেও গোপনে ইয়াবা চোরাকারবার চালিয়ে যাওয়া যাবে তেমন কোনো সমস্যা হবে না, তাও হয়ত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রধান পৃষ্ঠপোষকের পরামর্শও হয়ত এক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে। আবার মানুষ জানবে, তারা এখন আর ইয়াবা চোরাকারবারি নয়। ভালো হয়ে গেছে।

বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছে বদির পরিবার। কিন্তু এমপি হওয়ার পরও পরিচিতি ‘ইয়াবা চোরাকারবারি পরিবার’। এবার নিজে মনোনয়নও পায়নি, স্ত্রী এমপি হয়েছে। সামনে সম্ভবত আরও অনেক প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে তাকে ও তার পরিবার নিয়ে গণমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করা যাবে না। ইয়াবা চোরাকারবারি পরিচয় ঘোচানোর জন্যে অন্যদেরসহ নিজের পরিবারের সদস্যের আত্মসমর্পণ করানোর উদ্যোগ নিয়েছে বদি। তবে, সতর্কতার সঙ্গে নিজে এবং আপন ভাই আত্মসমর্পণের বাইরে থেকেছে। এখন হয়ত বলতে পারবে, আমি বা আমার আপন ভাই ইয়াবা চোরাকারবারি নই।

ইয়াবা চোরাকারবারের সঙ্গে শত বা হাজার কোটি টাকার হিসাব। এর অংশীজন সীমান্ত পাহারা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ কক্সবাজার-টেকনাফ প্রশাসনের বড় একটি অংশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের ইয়াবা চোরাকারবারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার সংবাদও জানা গেছে বিভিন্ন সময়। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের একটা অংশই শুধু নয়, বিএনপি-জামায়াতের অনেকে ইয়াবা চোরাকারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সারাদেশে রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও, ইয়াবা চোরাচালনের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক।

প্রশাসনের সম্পৃক্তদের সনাক্ত বা ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তালিকার প্রধান দুইজন বদি ও তার আপন ভাই আত্মসমর্পণ করেনি। তালিকাভুক্ত আরও প্রায় দের হাজার ইয়াবা চোরাকারবারি রয়ে গেছে। এর বাইরেও আরও অনেক ইয়াবা চোরাকারবারি আছে। মিয়ানমারে অবস্থানরত সিন্ডিকেট তো আছেই। আজকেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, ইয়াবা আসছেই। ফলে আর যাই হোক একথা বলা যাচ্ছে না যে, আংশিক আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ইয়াবা চোরাকারবারের অবসান ঘটছে বা ঘটবে।

উৎসঃ ‌The Daily Star

আরও পড়ুনঃ ‘আপনাকে মামলায় ঢুকায়া দেব, চেনেন আমারে?’ -চিকিৎসককে ওসির হুমকি


শিশু ধর্ষণের রিপোর্ট দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসককে মামলায় ঢুকিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন ওই থানার ওসি। হুমকির দেয়ার ওই অডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদের সঙ্গে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখের মঙ্গলবার বিকালের ওই কথোপকথনের রেকর্ড তার ব্যাচের চিকিৎসকরা ফেসবুকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা এ বিষয়ে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

ওসির হুমকি দেয়া আলোচিত ওই অডিও ক্লিপটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়েছে।

এদিকে দুপুরের দিকে বাগাতিপাড়া থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম মোবাইল ফোনে মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লাহ মোহাম্মদের কাছে জানতে চান তারা কি রিপোর্ট দিয়েছেন, ধর্ষণ নাকি ধর্ষণ চেষ্টা? ওই সময় মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাকে জানান তিনি এই মুহূর্তে দায়িত্বে নেই।

তিনি হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সরকারি নাম্বারে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু ওসি ফোন না কেটে বরং ওই চিকিৎসকের সঙ্গেই উচ্চবাচ্য করতে থাকেন। এক পর্যায়ে উত্তেজিত ওসি ওই চিকিৎসককে মামলায় ঢুকিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এ ফোনালাপটি সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ওসির আচরণে ভার্চুয়ালবাসীরা সোচ্চার হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে চিকিৎসক মহল এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

চিকিৎসকদের দাবি, একজন বিসিএস কর্মকর্তার সঙ্গে নন ক্যাডারের কোনো কর্মকর্তা কখনও এমন অশোভন আচরণ করতে পারেন না। এটা সম্পূর্ণ সরকারি আচরণবিধির লংঘন।

তাদের মতে, কথোপকথন জুড়ে ওসির অভিব্যক্তি ছিলো ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অশোভনীয় এবং ভদ্রতা বিবর্জিত। দাগী অপরাধীর সঙ্গেও এই সুরে কোন পুলিশ সদস্য কথা বলতে পারেন না।

চিকিৎসকরা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তারা প্রজাতন্ত্রের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। অপরদিকে, নন ক্যাডার কর্মকর্তা ওসি, ২য় শ্রেণি থেকে ক্রমান্বয়ে পদোন্নতি পেয়ে ১ম শ্রেণিতে উন্নীত হন। তাই ওসির পক্ষ থেকে এমন আচরণ সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা, ১৯৮৫ এর সুস্পষ্ট লংঘন।

ফেসবুকে তারা আরও মন্তব্য করেছেন, আপাতদৃষ্টিতে এ ঘটনাটি ছোট মনে হলেও এ রকম ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই সারা দেশে ঘটছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু শাহাদাৎ মাহফুজের সঙ্গেও থানার এসআই এবং ওসি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।

এ ব্যাপারে বিসিএস ৩৫তম ব্যাচের চিকিৎসক ডা. নাজিরুম মুবিন বলেন, প্রতিটা সার্ভিসেই এরকম গুটিকয়েক অভদ্র থাকে। এদের জন্যই পুরো সার্ভিসের বদনাম হয়। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী এদেরকে শাস্তির আওতায় না আনলে অভদ্রদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তেই থাকবে।

অভিযুক্ত ওসির বক্তব্য

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম পিপিএম বলেন, ‘ডাক্তার সাহেবের সঙ্গে আমার একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমিই একটু ভুল বুঝেছিলাম। তাই একটু রাগারাগি হয়েছিল। পরে আমরা দুই ভাই বসে সব ঠিক করে নিয়েছি’।

ভুক্তভোগী চিকিৎসকের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভুক্তভোগী ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ যুগান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি আর এখন আমাদের দুইজনের মধ্যে নেই। এখন এ ঘটনা আমাদের কমিউনিটির বিষয় হয়ে গেছে। উনি উপজেলার সব কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দের সামনে বসে একজন ডাক্তারকে বিনা দোষে অপমান করবেন, হুমকি দেবেন আর গোপনে মীমাংসা হয়ে যাবে এটা ঠিক না। এ ধরনের ঘটনাকে দেশের সব ডাক্তারকেই অপমান করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ নাছরিন বানু যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনাটি আমি শুনেছি। ঘটনার সময় আমরা একটা বেডমিন্টন টুর্নামেন্টে ছিলাম। তখন কার সঙ্গে (ওসি) কথা বলছেন তা বুঝতে পারিনি। পরে শুনলাম ডাক্তার সাহেবের সঙ্গে তিনি (ওসি) এসব কথা বলছেন। এ ঘটনাটি দুঃখজনক। একজন বিসিএস কর্মকর্তার সঙ্গে (ওসির) এ রকম আচরণ কখনই কাঙ্ক্ষিত নয়। তবে চিকিৎসকরা এ বিষয়ে তার কাছে কোনো অভিযোগ দেননি বলে জানান এ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

চিকিৎসকের সঙ্গে ওসি আলোচিত সেই কথোপকথন

ওসি: আসসালামু আলাইকুম

চিকিৎসক: ওয়ালাইকুমুস সালাম

ওসি: ডক্টর আবদুল্লাহ সাহেব বলছেন?

চিকিৎসক: জ্বী বলছি, বলুন?
ওসি: আমি থানা থেকে ওসি বলছি চিকিৎসক: জ্বী, আপনার নাম্বার সেভ আছে।

ওসি: আচ্ছা, শুনেন, রেপ না অ্যাটেম্প টু রেপ? এটা কী বুঝবো? কী লেখছেন আপনি? চিকিৎসক: না, আমি তো কিছু লিখি নাই!

ওসি: এই যে বাচ্চা মেয়ে গেল না? (রাগতস্বরে) চিকিৎসক: কোনটার কথা বলতেছেন আপনি?

ওসি: এই যে একটু আগে (গিয়েছিল) চিকিৎসক: আমি তো ডিউটিতেই নাই। আপনি আমাকে এভাবে বলতেছেন কেন?

ওসি: তাহলে আপনাকে কোনভাবে বলবো?

চিকিৎসক: আপনি অফিসিয়াল (হাসপাতালের) নাম্বারে ফোন দেন।

ওসি: আপনাকে কোনভাবে বলবো? আপনি এখন দায়িত্বে আছেন না?

চিকিৎসক: না। এখন আমি দায়িত্বে আছি না। আপনাকে বলছি, অফিসিয়াল একটা নাম্বার আছে, হাসপাতালের নাম্বার। ওই নাম্বারে ফোন দেন।

ওসি: ঠিক আছে। আপনি গরম হইয়া কথা বইলেন না। বুঝতে পারছেন?

চিকিৎসক: না না। আপনিই তো গরম হয়ে কথা বলছেন।

ওসি: আপনারা যদি কোনো কিছু গোপন রাখেন, কোনো কিছু করেন তাহলে আপনাকে সুদ্ধা (সহ) মামলায় ঢুকায়া দেবো। চেনেন আমারে?

চিকিৎসক: নো.. নো…

ওসি: চেনেন আমারে…

চিকিৎসক: আপনি এভাবে কথা বলতেছেন কেন?

ওসি: আপনি চেনেন আমাকে? কে আমি?

চিকিৎসক: আপনি কেন এভাবে কথা বলতেছেন?

ওসি: (অস্পষ্ট)
যে ধর্ষণ ঘটনা নিয়ে ওসির হুমকি

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে শিশুটিকে বাড়ির পাশের একটি গম ক্ষেতে নিয়ে ওই দুই বখাটে যুবক সিমন ও ফাহিম পালাক্রমে ধর্ষণ করে। অভিযোগের পর চিকিৎসক ডাক্তারি পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলমত পেয়েছেন ।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির চাচা জানান, এ বছর শিশুটিকে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে পড়ছে। মঙ্গলবার ছুটির কারণে শিশুটি বাড়িতে ছিল। তার বাবা বাড়িতে ছিলেন না। মা বাড়ির কাজে ব্যস্ত থাকার সুযোগে মঙ্গলবার দুপুরে শিশুটিকে দুই বখাটে বাড়ির পাশের গম ক্ষেতে টেনে নিয়ে যায়। বখাটে সিমন ও ফাহিম সেখানে ওই শিশুটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে আহতাবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার রাসেল বলেন, পরিবারের লোকজন শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পরে তাকে পরীক্ষা করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাটোর জেলা সদরের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নবাবগঞ্জের ওসির দুর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশের জেরঃ যুগান্তরের ৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা


নবাবগঞ্জের ওসি মোস্তফা কামালের আলিশান বাড়ি। ছবি-যুগান্তর

ঢাকার নবাবগঞ্জের ওসি মোস্তফা কামালের অবৈধ সম্পদ অর্জন নিয়ে দৈনিক যুগান্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদনের জেরে দৈনিকটির পাঁচ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দোহার থানায় মামলাটি করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. পলাশ মিয়া।

মামলায় দৈনিক যুগান্তরের নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি আজহারুল হক, কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফর, আশুলিয়া প্রতিনিধি মো. মেহেদী হাসান মিঠু, ধামরাই প্রতিনিধি শামীম খান এবং গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি এসএম হুমায়ুন কবীরকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে দোহার থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আবু সাঈদ যুগান্তরকে বলেন, ‘মামলার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

এদিকে মামলার পর যুগান্তরের কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি থানা প্রাঙ্গণে রয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

আবু জাফরের স্ত্রী ফাতিমা আক্তার পপি যুগান্তরকে জানান, মঙ্গলবার বিকাল থেকে তার স্বামীর কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। তার মুঠোফোনটি বন্ধ রয়েছে। পরে তিনি থানায় জিডি করতে যান। কিন্তু পুলিশ জিডি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর বেরিয়ে আসার সময় থানা প্রাঙ্গণে দেখেন স্বামীর মোটরসাইকেলটি রাখা আছে।

পরে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত হন পপি।

এ বিষয়ে জানতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি শাহ জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে যুগান্তরের পরিচয় পেয়ে তিনি সংযোগটি কেটে দেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here