জাবির ‘ইয়াবা’ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগের নেতা এনামুল হাসান নোলক

0
79

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ‘ইয়াবা ব্যবসা’র একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে শাখা বিরুদ্ধে। প্রশাসন এমন তথ্য জানার পর তার হলের কক্ষটি সিলগালা করে দিয়েছে। ছাত্রলীগ নেতার কক্ষটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আ ফ কামালউদ্দিন হলের ২১৩ নম্বর কক্ষ।

জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা নোলক ক্যাম্পাসে একটি ‘ইয়াবা’ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি একটি পার্সেল আনতে ৪২ ব্যাচের একজন শিক্ষার্থীকে ঢাকার উত্তরায় পাঠান। পার্সেলটিতে তার মায়ের ওষুধ আছে বলে ওই শিক্ষার্থীকে জানানো হয়। নোলকের দেয়া ঠিকানা থেকে পার্সেলটি গ্রহণ করে ফেরার পথে ওই শিক্ষার্থীকে তল্লাশি করে পুলিশ। তল্লাশিতে পুলিশ পার্সেলটিতে বেশ কিছু ইয়াবা জব্দ করে এবং ওই শিক্ষার্থীকে আটক করে। প্রায় দেড় মাস জেল খেটে সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন শিক্ষার্থী।

এই ব্যাপারটি জানতে পেরে হল প্রশাসন নোলকের কক্ষটি সিলগালা করে দেন। তবে এর প্রকৃত কারণ প্রকাশ করা হয়নি। এতদিন ধরে বিষয়টি ক্যাম্পাসেও জানাজানি হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হলটির প্রভোস্ট সিকদার মো. জুলকারনাইন জানিয়েছেন,‘নোলকের ছাত্রত্ব না থাকায় কক্ষটি সিলগালা করে রাখা হয়েছে।’ এদিকে ইয়াবার চালান আনতে গিয়ে শিক্ষার্থী আটকের বিষয়টি জানেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি শুনেছেন।

এই বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ভূঁইয়া মোহাম্মদ এনামুল হাসান নোলক ব্যবহৃত নম্বরটিতে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা জানান, ‘তিনি বিষয়টা জানেন না। তবে খোঁজ-খবর নিবেন।’

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ জজদের নিয়ে গঠিত ‘নির্বাচনী তদন্ত কমিটি’ অকেজোঃ সিইসির ক্ষোভ

আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত ‘ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’র (নির্বাচনী তদন্ত কমিটি) কার্যক্রমে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ তোলেন সিইসি। যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং সহকারী জজের ২৪৪ জন ওই ব্রিফিংয়ে অংশ নেন।

জজদের উদ্দেশে কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘আপনাদের ভিজিবল (দৃশ্যমান) হতে হবে। তার মানে, আপনারা এখন পর্যন্ত কিন্তু ভিজিবল হননি। বাস্তবতা হলো সেটা। ভিজিবল যখন হবেন, আপনাদের কাজের মাধ্যমে (মানুষ) যখন আস্থা রাখবে, আপনাদের যখন চিনবে, তখন থেকে আপনাদের ওপরে দায়িত্ব আসবে। তখন আর আমাদের ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে শত শত অভিযোগ আসবে না।’

‘আমরা প্রত্যেক দিন শত শত অভিযোগ পাই। কিন্তু অভিযোগগুলো আমাদের কাছে আসার কথা না। কারণ, আপনারা সেখানে (মাঠ পর্যায়ে) রয়েছেন। আমরা কী করব? অভিযোগগুলো আপনাদের কাছে পাঠিয়ে দেব। প্রয়োজন ছিল অভিযোগগুলো সরাসরি আপনাদের কাছে যাবে। তা যায় না। ২০০৮ সাল থেকে যে নতুন একটা দায়িত্ব আপনাদের ওপর অর্পিত হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের যারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাদের প্রত্যেকের ওপরে কোনো না কোনোভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। আপনাদের ওপরে আগে হয়নি। ২০০৮ সাল থেকে শুরু হয়েছে,’ বলেন সিইসি।

সিইসি আরো বলেন, ‘যিনি আপনাদের কথা শুনবেন না, প্যানেল কোর্টের ১৯৩ ধারামতে তাদের সাত বছরের জেল হবে। যদি মিথ্যা তথ্য দেয় এবং আপনাদের আদেশ না মানে, প্যানেল কোর্টের ২২৮ ধারা অনুসারে তাদের বিচার হবে। তার মানে হলো কোড অব সিভিল প্রসিডিউরের ১৯০৮-এর সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে আপনারা মাঠে অবস্থান করবেন। এটা আপনাদের প্রকৃত শক্তি, যেটা আপনাদের চেম্বারে নয়, মাঠে। সমস্যার মুখোমুখি, প্রার্থীদের মুখোমুখি, আচরণবিধি যারা ভঙ্গ করবে তাদের মুখোমুখি, আপনাদের ওপরে অন্য রকম অভিজ্ঞতা। এটা অন্য রকম পরিবেশ বা অন্য রকম দায়িত্ব আপনাদের ওপরে অর্পিত হয়েছে। এটাকে আপনাদের ভালোভাবে দেখভাল করা দরকার।’

মানুষের কাছে সহজেই সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার জন্যই বিচারকদের এ কাজে সংযুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘তারা যেন তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে এখানে ওখানে ছোটাছুটি করার প্রয়োজন মনে না করেন। আপনাদের সামনে পেয়ে তাঁরা যেন অভিযোগ পেশ করতে পারেন। আপনাদের প্রো-অ্যাকটিভ হতে হবে, ভাইব্রান্ট হতে হবে এবং আপনাদের জানতে হবে যে, তাঁদের সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য আপনারা আছেন। ৩০০টি আসনের মধ্যে ১২২টি জায়গায় আপনারা তাদের কাছাকাছি আছেন। তারা যেন সমস্যার সমাধান পায়, এটা আপনাদের দেখতে হবে।’

নির্বাচনী তদন্ত কমিটির প্রতি আশাহত হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, ২৫ নভেম্বর যখন এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল, আমরা আশা করেছিলাম যে, প্রত্যেকটি কমিটি অন্তত ১২২টি অভিযোগ তদন্ত করার কথা ছিল। এটা আমাদের প্রত্যাশা ছিল। ১০০টা তদন্ত করার প্রত্যাশা ছিল। ১০০টা বাদ দিলাম, ২২টি তদন্ত করার প্রত্যাশা ছিল। তা হয়নি। কারণ সেটাই, এখন পর্যন্ত আপনারা প্রস্তুতি নিয়ে গুছিয়ে উঠতে পারেননি।’

‘আজকে থেকে, এখান থেকে, আপনাদের কী করণীয়, দায়িত্ব এবং কীভাবে এই কমিটি পরিচালিত হবে জেনেশুনে, ফিরে গিয়ে তদন্ত করবেন। মানুষের অভিযোগগুলো শুনবেন, আমলে নেবেন এবং তাদের রিলিফ দেবেন। যাতে তারা তাদের জায়গায় বসে, এলাকায় থেকে, ঢাকা পর্যন্ত না এসে আপনাদের কাছ থেকে, পাশে থেকে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারেন,’ নির্দেশ দেন সিইসি।

ইসি সচিবসহ চার নির্বাচন কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২৭ নভেম্বর আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দেশের ৬৪ জেলায় নির্বাচনকালীন অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১২২টি ‘নির্বাচনী তদন্ত কমিটি’ গঠন করেছিলো নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এসব কমিটিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একজন জজ এবং একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ বা সহকারী জজকে নিয়ে মোট দুজন বিচারক এই কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা।

সারা দেশে তিনশ নির্বাচনী এলাকায় অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে এসব কমিটি করা হয়েছে। আয়তন ও ভোটার বিবেচনায় নিয়ে একই জেলায় একাধিক কমিটিও করা হয়েছে। যেমন পঞ্চগড় জেলায় একটি, আবার দিনাজপুর জেলায় কাজ করবে পৃথক তিনটি কমিটি।

কিন্তু সপ্তাহখানেক পার হয়ে গেলেও এই কমিটির কার্যক্রমে কোন অগ্রগতি নেই বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হতাশা প্রকাশ করেন।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র গ্রহণে হাইকোর্টের আদেশ বহাল চেম্বারেও

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত।

একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। বুধবার চেম্বার আদালতের বিচারক হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এই আদেশ দেন।

পাশাপাশি বিএনপির এই নেতার মনোনয়নপত্র জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়ার আদেশও বহাল রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে মির্জা আব্বাসের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন জয়নুল আবেদীন ও এ কে এম এহসানুর রহমান।

এহসানুর রহমান জানান, ২৮ নভেম্বর মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে সময় অতিবাহিত হয়েছে বলে তার মনোনয়নপত্র জমা নেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এহসানুর আরো বলেন, ‘পরে ১ ডিসেম্বর আমরা সিইসির কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আসি। কিন্তু ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়নি। সে অবস্থায় আমরা হাইকোর্টে রিট করি।’

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ হলফনামায় মামলার তথ্য গায়েব সত্বেও রাঙ্গাঁর মনোনয়ন বৈধ!

‘ঋণ খেলাপি’ রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাওয়ার পর জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়া পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাঁর হলফনামাতেও তথ্যের গরমিল পাওয়া গেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা তিনি জমা দিয়েছেন, তাতে পুরনো একটি মামলার তথ্য পুরো গায়েব করে দেওয়া হলেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রংপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব।

রংপুর জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি রাঙ্গাঁ এবারও রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গলের প্রার্থী। জোটসঙ্গী আওয়ামী লীগ এ আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় রাঙ্গা জানিয়েছিলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে কোতোয়ালি থানায় ২০০৯ সালের ২১ জানুয়ারি দায়ের করা একটি মামলায় তিনি অভিযুক্ত। ওই মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ হয়েছে এবং তার কপি তিনি যুক্ত করে দিয়েছেন।

আর এবারের হলফনামায় তিনি বলেছেন, বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলায় তিনি অভিযুক্ত নন। অতীতেও তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয় নাই। অতীতের মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের ঘরে তিনি লিখেছেন ‘প্রযোজ্য নহে’।

রাঙ্গাঁর মনোনয়নপত্রে তথ্যের এই গরমিল নিয়ে কথা বলতে চাননি নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

ইসি সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, মনোনয়নপত্র নিয়ে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বুধবার পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তাই আপাতত তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না। কারও আপত্তি থাকলে তিনি আপিল করতে পারেন।

নির্বাচন কমিশনের আরেকজন কর্মকর্তা হলফনামার তথ্য বাছাই ও মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিষয়ে গত নভেম্বরে ইসির জারি করা একটি পরিপত্রের কথা বলেছেন।

সেখানে বলা হয়েছে, অতীতে প্রার্থীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোনো ফৌজদারি মামলার রেকর্ড আছে কি না, থাকলে তার রায় কি ছিল- এ বিষয়ে প্রার্থী সকল তথ্য দেবেন এটাই প্রত্যাশিত। তবে অতীতের মামলা সংক্রান্ত, বিশেষ করে অনেক পুরনো মামলা হলে, বিশদ তথ্য প্রার্থীর কাছে সঙ্গত কারণে নাও থাকতে পারে।

“তাই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়ে গেছে বা খালাস পেয়েছেন এমন ক্ষেত্রে বিশদ তথ্য না দিতে পারার কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে না। তবে দণ্ডিত হয়ে থাকলে এবং তা উল্লেখ না করার বিষয় প্রমাণিত হলে মনোনয়নপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।”

আগের হলফনামায় যে মামলার তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল হয়েছিল কি না বা তিনি খালাস পেয়েছিলেন কি না সে তথ্য না দিয়ে রাঙ্গাঁ এবার সরাসরি দাবি করেছেন, অতীতে কোনো ফৌজদারি মামলা তার বিরুদ্ধে হয়নি।

এর কারণ জানতে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, “দুদকের একাট মামলা হয়েছিল, ওটা তো ওয়ান ইলেভেনের সময়ের মামলা। এটা অব্যাহতি হয়ে গেছে, তাই এটার তথ্য না দিলেও চলবে। এই জন্য আমি দিইনি।”

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‘জামিন না দিতে জজদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ে গোপন বৈঠক’

বিএনপি নেতাকর্মীদের জামিন না দিতে আইন মন্ত্রণালয়ে জেলা দায়রা জজদের নিয়ে একটি গোপন বৈঠক হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছি, জেলা দায়রা জজদের নিয়ে একটি সভা হয়েছে, আইন মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ‘অত্যন্ত স্বনামধন্য’ সচিব নির্দেশ দিয়েছেন যে নির্বাচনের পূর্বে তারা যেনো জামিন না দেন। এই কথাগুলো অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।’

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন ক্রমেই প্রহসনে পরিণত হতে চলছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আবার ক্ষমতায় যেতে চায়। সেজন্য বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার নির্যাতন-নিপীড়ন এবং যতো রকম কৌশল আছে সরকার প্রয়োগ করছে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকে গ্রেফতারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। গতকাল পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছি যে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে, লেবেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করার। কিন্তু লেবেল প্লেইং ফিল্ড দূরে থাকুক, এখন চেষ্টা করা হচ্ছে কিভাবে আরও খারাপ করা যায়। খান-খন্দ খোড়া চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে নির্বাচন কমিশন। পরিপত্র জারি করছে। যেগুলো নির্বাচনের সহায়ক নয়।

সরকারি দল প্রতিদিন সভা সমাবেশ করছে কিন্তু ইসি কিছুই করছে না দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনারা যদি দায়িত্ব পালন না করতে পারেন তাহলে দেশবাসীকে বলুন যে স্বাধীন ভাবে আমরা দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। দায়িত্ব পালন না করতে পারলে পদত্যাগ করা উচিত। অন্যথায় সংবিধান আপনাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে সেই দায়িত্ব নিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। আপনারা দায়িত্ব পালন করলে আমরা সাহায্য করবো। দেশের মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন চায়।’

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করলেন খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন।

বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে আইনজীবীরা তিনটি আসনের জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিলের আবেদন জমা দেন। এর মধ্যে ফেনী-১ আসনে কায়সার কামাল, বগুড়া-৬ আসনে নওশাদ জমির ও বগুড়া-৭ আসনে মাসুদ আহমেদ তালুকদার এসব আবেদন জমা দেন।

আপিল আবেদন জমা দিয়ে আইনজীবী কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তা আইনবহির্ভূতভাবে, অন্যায়ভাবে বিএনপির চেয়ারপারসনের তিনটি মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। এটা সরকারের ষড়যন্ত্রেরই অংশ। আমাদের কাছে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তিনটি আসনে প্রার্থীর পক্ষে আপিল দায়ের করলাম।’

কায়সার কামাল বলেন, আইন নিজস্ব গতিতে চললে খালেদা জিয়া প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ফেয়ারলি ডিসিশন নিলে ইসি থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে রায় পাব, আশা করি। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য জাতি অপেক্ষা করছে। খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন হলে তা প্রহসনের নির্বাচন হবে। দেশ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য খালেদা জিয়ার সুবিচার চাই আমরা।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাতিল করলেও আপিলে তা ফিরে পাবেন বলে আশা করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে আমাদের। খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র যে গ্রাউন্ডে বাতিল হয়েছে, তা এখানে প্রযোজ্য নয়। ইসি সংবিধান ও আইন অনুসরণ করলে এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্বাসযোগ্য সিদ্ধান্ত নিলে খালেদা জিয়া প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।’

দুই বছরের বেশি দণ্ডের পর নির্বাচনে অযোগ্যতার বিষয়ে নির্বাচনী আইনের বাধ্যবাধকতা ও ভোটে অযোগ্যতায় আদালতের আদেশের পরও কীভাবে আপিলে খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন আপনারা—এমন প্রশ্নে কায়সার কামাল বলেন, ‘একেকটা কেস একেক রকম। খালেদা জিয়ার কেসটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা আশা করি, ইসি আইন ও সংবিধান অনুসরণ করবেন। ইসি নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। দেশনেত্রীর বিষয়ে বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে, পক্ষপাতিত্ব না করে খালেদা জিয়া যেভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করবেন ইসি।’

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ঋণখেলাপিতে এগিয়ে আ’লীগ মনোনয়ন বাতিলে বিএনপি!

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রাথীর্রা ঋণখেলাপিতে এগিয়ে থাকলেও তাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দায়মুক্তি সনদ নিয়ে তাদের মনোনয়নের বৈধতা পেয়েছেন। অথচ বিরোধী জোটের ঋণখেলাপীরা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও কোনো ধরনের ছাড় না পাওয়ায় তাদের মনোনয়ন বাতিলের পাল্লা স্বাভাবিকভাবেই ভারি হয়েছে। ফলে এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে জোরালো সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বা নিবার্চন কমিশনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, তফসিল ঘোষণার পর বাংলাদেশ ব্যাংকে কয়েকশ’ প্রাথীর্ খেলাপিমুক্তি চেয়ে আবেদন করেন। যার মধ্যে ২২০ জনকে ঋণখেলাপি মুক্তির সনদ প্রদান করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু আটকে যায় ৪১ জনের খেলাপি মুক্তির আবেদন।

বিরোধী বিএনপি দাবি করেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বেছে বেছে তাদের প্রাথীের্দর মধ্যে যাদের নামে ঋণ আছে তাদের খেলাপিমুক্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু এর বিপরীতে সরকারি দলের অধিকাংশেরই ঋণখেলাপিমুক্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।

রোববার দুপুর পর দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার নিবার্চনী অফিস থেকে যাদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছে তার তথ্য আসতে শুরু করলে দেখা যায় বিরোধী বিএনপি এবং তার জোটের যারা ঋণখেলাপিমুক্তির আবেদন করেছিল তাদের প্রায় সবাই মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন। এর কারণ হিসেবেও ঋণখেলাপিকে দায়ী করা হয়েছে। তবে এর বিপরীতে সরকারি দলের যারা খেলাপিমুক্তির আবেদন করেন তাদের বেশিরভাগ মনোনয়ন টিকে গেছেন।

বিগত কয়েক বছর ধরে দেশের গণমাধ্যমে ঘুরেফিরে যে সব ঋণখেলাপির খবর এসেছে তাদের প্রায় সবাই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে জড়িত বলে বিরোধীদের অভিযোগ। ব্যাংক বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, তাদের জানামতে বিগত কয়েক বছরে বিরোধীদের কেউ ঋণখেলাপির দায়ে আলোচনায় এসেছেন এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের জানা নেই। বিরোধী বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারি দলের এমন অনেক প্রাথীর্ আছেন যারা একজনেই একটি ব্যাংক শেষ করে দিয়েছেন। এমন প্রাথীের্কও বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপিমুক্তির সনদ দিয়েছে। কিন্তু তাদের প্রাথীর্র মাত্র লাখ টাকা বা এক দেড় কোটি টাকার দায়ে খেলাপিমুক্তি দেয়া হয়নি।

গতকালের যাচাই-বাছাইয়ের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, বিরোধী জোটের হেভিওয়েট বিপুলসংখ্যক প্রাথীর্র মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন। এর বিপরিতে ক্ষমতাসীনদের মাত্র হাতেগোনা কয়েকজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বিরোধীদের মধ্যে যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তাদের বড় অংশের বিরুদ্ধেই অভিযোগ ঋণখেলাপির। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, বিরোধী জোটের প্রাথীর্ বঙ্গবীর কাদের সিদ্দীকি, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অথর্মন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া, বিএনপির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. নাছির উদ্দিন ও তার ছেলে মীর মো. হেলাল উদ্দিন, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, ঢাকা-৯ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রাথীর্ আফরোজা আব্বাসসহ বিরোধী জোটের বিরাট সংখ্যক নেতাকমীর্ ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়ন হারিয়েছেন। রিটানির্ং কমর্কতাের্দর তরফ থেকেও এদের ঋণখেলাপি বলে জানানো হয়েছে।

জোটে যাদের নামে ঋণখেলাপির অভিযোগ আছে তাদের বিষয়ে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ঋণখেলাপিদের অধিকাংশ ক্ষমতাসীনদের দলের। তাদের দলের অনেককেই খেলাপিমুক্ত করা হলো। আর আমাদের খেলাপি না হলেও জোর করে খেলাপি বানানো হয়েছে। এখানে আইন একেক জনের জন্য একেক রকম।’

উৎসঃ যায়যায় দিন

আরও পড়ুনঃ রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় চ্যালেঞ্জের মুখে নির্বাচন কমিশন

রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় নির্বাচন কমিশনে আপিলের স্তূপ জমেছে। দুইদিনে ৩১৯ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। আজও আপিল আবেদন গ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন। কাল থেকে তিনদিন চলবে আপিল শুনানি। কমিশন সূত্র বলছে, রেকর্ড আবেদন পড়তে পারে শেষদিন পর্যন্ত। তিনদিনে এসব আবেদন নিষ্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হবে ইসিকে। আপিল নিষ্পত্তির জন্য এজলাস স্থাপন করা হয়েছে। একক এজলাসে চলবে শুনানি।

ইসি সূত্র বলছে, আপিল নিষ্পত্তি করতে প্রার্থী প্রতি খুব বেশি সময় মিলবে না। এ নিয়ে প্রার্থীরাও রয়েছেন শঙ্কায়। তারা বলছেন, কিছু বিষয়ে আইনি যুক্তিতর্কের প্রয়োজন রয়েছে। আপিলে নির্বাচন কমিশনকে সে সুযোগ দিতে হবে।

প্রার্থিতা ফিরে পেতে গতকালও ২৩৪ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। এ ছাড়া মনোনয়ন গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন একজন সংক্ষুব্ধ প্রার্থী। আপিল আবেদনের প্রথম দিন সোমবার ৮৪টি আবেদন জমা পড়ে। আবেদন করাদের মধ্যে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। গতকাল আটটি বিভাগে মোট আপিল আবেদন জমা পড়ে ২৩৫টি। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬৮টি আপিল আবেদন হয়েছে। বিভাগওয়ারি হিসেবে আপিল আবেদনের সংখ্যায় এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। সেখানে মোট ৫৬ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে ১৫, রাজশাহী বিভাগে ২২, রংপুর বিভাগে ২৮, বরিশাল বিভাগে ১২, খুলনা বিভাগে ১৮ ও ময়মনসিংহ বিভাগে মোট ১৬টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। সকাল থেকেই আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে অস্থায়ী বুথে আপিল আবেদন জমা দিতে আসেন প্রার্থীরা। সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত আপিল আবেদন জমা নেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

ঋণ খেলাপি, ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়ন, ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়া, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, লাভজনক পদে থাকা, আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা, সমর্থকদের স্বাক্ষর ও তালিকায় গরমিল এবং সরকারি সেবা সংস্থার বিল পরিশোধ না করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আপিল আবেদন করেন প্রার্থীরা। তবে ঋণখেলাপি, আয়কর রিটার্ন না দেয়া, স্বাক্ষরে গরমিল ও ফৌজদারি মামলায় সাজার কারণে সবচেয়ে বেশি আপিল জমা পড়ে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ও তালিকায় গরমিল থাকায় আপিল আবেদন করেন অধিকাংশ প্রার্থী। তবে আপিল আবেদন জমা নেয়ার দ্বিতীয় দিন প্রথম দিনের তুলনায় অনেকটা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। মূলত কমিশন ভবনের সামনে প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা বুথ তৈরি করে দেয়ায় প্রথম দিনের তুলনায় অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্যে আপিল আবেদন জমা দেন প্রার্থীরা। মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা হওয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনে আপিল আবেদন করা প্রার্থীদের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীও ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে আপিল আবেদন করেন, নাটোর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল করা হয় এই বিএনপি প্রার্থীর। পটুয়াখালী-১ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় আপিল করেন জাতীয় পার্টির সদ্য পদচ্যুত মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। তার পক্ষে আইনজীবী নজরুল ইসলাম দুপুরে আপিল আবেদন জমা দেন।

তিনি জানান, মিথ্যা অভিযোগে রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল। এ ছাড়া হবিগঞ্জ-১ আসনে ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক নবায়ন ফি জমা না দেয়ার কারণে মনোনয়ন বাদ পড়া গণফোরামের প্রার্থী ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়ার পক্ষে তার প্রতিনিধি শাহরিয়ার শুভ আপিল করেন। এ ছাড়া, বিকালে আপিল আবেদন জমা দেন যশোর-২ (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা) আসন থেকে মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা হওয়া বিএনপির প্রার্থী ও উপজেলা চেয়ারম্যান সাবরিনা সুলতানা। দুদকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা। উচ্চ আদালতের স্টে অর্ডারের কপি সংযুক্ত করে শুনানির জন্য আপিল আবেদন করেন বিএনপির এই প্রার্থী। এ ছাড়া ঢাকা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমান উল্লাহ আমানের পক্ষে আপিল করেন তার ছেলে ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি।

ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। সাজার কারণে বাতিল হওয়া ময়মনসিংহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান চিকিৎসক নেতা এজেডএম জাহিদ হোসেন তার প্রার্থিতা ফিরে পেতে সকালে আপিল জমা দেন। এ ছাড়া, ৪১৪৭ টাকার পল্লী বিদ্যুতের বিল অপরিশোধিত থাকায় বরিশাল-২ আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া মহাজোটের প্রার্থী, চিত্রনায়ক ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী পারভেজ সোহেল রানা, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের দুই প্রার্থী মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে আপিল করেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জাকির হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান এইচ সরকার। চট্টগ্রাম-৫ আসনে আপিল আবেদন করেন বিএনপি নেতা মীর নাসিরউদ্দিনের ছেলে ও বিএনপি প্রার্থী মীর হেলাল।

এদিকে মঙ্গলবার প্রার্থীদের আপিল গ্রহণ করা আট বিভাগের ডেস্কগুলো পরিদর্শন করেন ইসি কমিশনার মাহবুব তালুকদার। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপিলকারীদের প্রতি পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করা হবে না। গত ২রা ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন। যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ-অবৈধ হয়েছে, তাদের আপিলের শুনানি আগামী ৬ই ডিসেম্বর থেকে ৮ই ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে আদালতের মতোই শুনানি করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন একটি আধাবিচারিক সংস্থা। নির্বাচন কমিশনারদের মর্যাদাও হাইকোর্টের বিচারপতিদের সমান। শুনানিতে আপিলকারীরা তাদের আইনজীবী নিয়ে আসতে পারবেন।

সেখানে আদালতের বেঞ্চ’র মতো করেই তারা মুভ করবেন। সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনই আপিল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা পালন করে। সংক্ষুব্ধরা ইসির সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে আদালতেও যেতে পারবেন। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের ১১ তলায় শুনানি হবে। ২৮শে নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে ৩০৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা পড়ে মোট ২ হাজার ৫৬৭টি ও স্বতন্ত্র ৪৯৮টি। ২রা ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র বাছাই। ওইদিন ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এগুলোর মধ্যে বিএনপির ১৪১টি, আওয়ামী লীগের ৩টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৮টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৩৮৪টি। আগামী ৯ই ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ১০ই ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ এবং ৩০শে ডিসেম্বর ভোট হবে।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ তুচ্ছ কারণে মনোনয়ন বাতিল ইসির পক্ষপাতমূলক আচরণঃ বিশিষ্টজনের বিস্ময়!

তুচ্ছ কারণে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্টজন। সমকালের সঙ্গে আলাপে তারা বলেছেন, এত তুচ্ছ কারণে মনোনয়ন বাতিলের ঘটনা এর আগের কোনো নির্বাচনেই দেখা যায়নি। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন নিজেই নিজেকে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ তৈরি করেছে। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দিয়ে তারা বলেন, তুচ্ছ কারণে কারও মনোনয়ন যেন বাতিল না থাকে। তবে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ সমকালকে বলেন, আইন ও বিধি অনুযায়ী যাদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কথা, তাদেরটা রিটার্নিং অফিসার বাতিল করবেন, এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। রিটার্নিং অফিসার মনোনয়ন বাতিল করলেও এর বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে। ফলে এখনই এ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার কিছু নেই।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় এবার ৭৮৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই সরকার বিরোধী জোটের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট জমা পড়া মনোনয়নের প্রায় ২৬ শতাংশ এবার বাতিল করা হয়। এর আগের নির্বাচনগুলোতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশের বেশি মনোনয়ন বাতিল হয়নি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের ম্যানুয়ালেই বলা আছে, ছোটখাটো ভুল-ত্রুটির জন্য মনোনয়ন বাতিল না করা; কিন্তু দেখা গেছে, সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার ক্রেডিট কার্ডের বিল বাকি থাকার জন্যও একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, সুস্থ বিবেচনায় এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আবার দলের মহাসচিবের স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহের কথা তুলে ঢালাওভাবে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, এটাও প্রশ্নের সৃষ্টি করে। তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারবিরোধী জোটের মনোনয়ন বাতিলের ক্ষেত্রেই ছোটখাটো বিষয়গুলো আমলে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সরকারি দলের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন নিজেদের আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ নিজেরাই তৈরি করে দিল। সুজন সম্পাদক বলেন, ঋণখেলাপির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ঋণখেলাপি হিসেবে বহুল পরিচিত রাঘব-বোয়ালের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি শুধু ছোট ঋণখেলাপিদের ওপরই খÿ চালানো হয়েছে, আর বড় খেলাপিদের ছাড় দেওয়া হয়েছে? নির্বাচন কমিশনের এখন উচিত এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক নিরসন করা।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিশেষজ্ঞ শারমিন মুর্শিদ বলেন, এবারের নির্বাচনে যেভাবে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। প্রায় ১৮ বছর ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছি, এ বছরের মতো এত তুচ্ছ কারণে মনোনয়ন বাতিল করার চিত্র আগে আর কোনো নির্বাচনেই দেখিনি। তুচ্ছ কারণ শুধু নয়, মনোনয়ন বাতিলে এক ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হয়েছে বলেও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এমনিতেই নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের আস্থার জায়গা পুরোপুরি তৈরি করতে পারেনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নেই আস্থাহীনতার বিষয়টিকেই আরও প্রকট করছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের অবশ্যই এ ব্যাপারে কৈফিয়ত দেওয়া উচিত। জাতিকে জানানো উচিত।

উৎসঃ সমকাল

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here