বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে না খেললে নির্বাসিত হবে ভারত!

0
363

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়ছেই। ‘পাকিস্তানের’ কাশ্মীর হামলায় ফুঁসে উঠেছেন ভারতীয়রা। পাকবিরোধী প্রতিবাদে সোচ্চার তারা। এর প্রভাব পড়ছে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কেও। আসন্ন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের দাবি তুলেছেন প্রতিবাদীরা।

তবে এতে ঘটতে পারে হিতেবিপরীত। এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে না খেললে ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হতে পারে ভারত!

আসছে ৩০ মে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে গড়াবে আইসিসি-২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ১৬ জুন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে হওয়ার কথা পাক-ভারত মহারণ। এর আগে পুলওয়ামা কাণ্ড ম্যাচটি গড়ানো নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

এ নিয়ে শুক্রবার বৈঠকে বসছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)৷ গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন কর্তারা। শেষ পর্যন্ত যদি পাকিস্তানের বিপক্ষে না খেলার সিদ্ধান্ত হয়, তা হলে বিপাকে পড়বে ভারত।

আশঙ্কা, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ম্যাচ বয়কট করলে নির্বাসনের খাঁড়া ঝুলতে পারে টিম ইন্ডিয়ার ওপর৷ তাদের নির্বাসনে পাঠাতে পারে আইসিসি৷ আপাতত ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করছে বিসিসিআই। সরকারেরও নাকি তাতে সমর্থন আছে।

এক বিবৃতিতে সরকারের বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে- পাকিস্তানকে বয়কট করে আমরা যেন নির্বাসিত না হই৷ এও মাথায় রাখতে হবে, ম্যাচ বয়কট করার অর্থ পাকদের ওয়াকওভার দিয়ে দেয়া৷ সুতরাং আমাদের ভেবেচিন্তে পা ফেলা উচিত৷

সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় তথাকথিত পাকিস্তানের ‘জঙ্গি’ হামলায় ভারতের ৪৪ জন সিআরপিএফ সদস্য মারা গেছেন। এর পর থেকেই রাগে-ক্ষোভে ফুঁসছে ভারত। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে দুই চিরশত্রু দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ব্যতিক্রম নন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ক্রিকেটাররাও।

উৎসঃ ‌jugantor

আরও পড়ুনঃ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান: টাইমস অব ইন্ডিয়া


কাশ্মিরে স্বাধীনতাকামীদের গেরিলা হামলাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে ভারত নিয়ন্ত্রিত রাজ্যটিতে। পালওয়ামা হামলার ঘটনার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলছে হুমকি পাল্টা হুমকি, তাদের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। এমন উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান।

ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের স্থানীয় প্রশাসনকে একটি নোটিশ পাঠিয়েছে দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ওই চিঠিতে যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। বেলুচিস্তানের মিলিটারি বেসকেও প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট স্থিত পাক সেনার বেস হেডকোয়ার্টাস কোটা লজিস্টিকস এরিয়ার (HQLA) পক্ষ থেকে গত বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জিলানি হাসপাতালে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে চিকিৎসা সংক্রান্ত বন্দোবস্তের কথা বলা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের পরিস্থিতিতে সিন্ধু এবং পাঞ্জাবের সিভিল বা মিলিটারি হাসপাতালে আহত সেনাদের নিয়ে আসা হতে পারে। এজন্য ২৫ শতাংশ বেড খালি করে তা সংরক্ষিত রাখা ও জরুরি সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইমরানের নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হয়। সেখানে দেশের সামরিক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে দু’বার যুদ্ধ হয়েছে। এখন উভয়েই পারমাণবিক শক্তিধর দেশে পরিণত হয়েছে এবং পুলওয়ামার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও তারা যুদ্ধংদেহি অবস্থানে।

উৎসঃ ‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে না খেললে নিষিদ্ধ হবে ভারত!


কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার জেরে ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে তুমুল দ্বন্দ্ব চলছে। এর প্রভাবে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ বয়কটের আহবান জানিয়েছেন হরভজন সিং ও মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের মতো সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটাররা। কিন্তু এমনটা ঘটলে যে আখেরে ক্ষতি ভারতেরই হবে তা মনে করিয়ে দিলেন আরেক সাবেক ক্রিকেটার ও উত্তর প্রদেশের মন্ত্রী চেতন চৌহান।

চলতি বছরের জুনে অনুষ্ঠেয় ম্যাচটি বর্জনের আগে কিছু বিষয় ভাবতে বলছেন চৌহান। তার মতে, এমনটা করলে ভারতের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তছাড়া আইসিসি’র আইনও এটা সমর্থন করেনা। এক্ষেত্রে ভারতকে হয় পয়েন্ট ভাগ করা ছাড়াই ম্যাচ ছাড়তে হবে কিংবা জরিমানার মুখে পড়তে হবে। যদিও হরভজনের মতো আগ্রাসী জবাব দিতে অনেক ভারতীয়ই মরিয়া।

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চৌহান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচে অংশ না নেওয়া এত সহজ নয়। কারণ, প্রতিটি টুর্নামেন্টের নিজস্ব কিছু নিয়ম আর অনেক অংশগ্রহণকারী দল আছে। আমরা যদি নিজেদের সরিয়ে নেই, তাহলে এর ফলাফলও ভাবতে হবে। শাস্তি হিসেবে জরিমানা এমনকি নিষিদ্ধ করা হতে পারে। আমি আশা করি সরকার এবং বিসিসিআই বিষয়টা ভেবে দেখবে।’

তবে বিশ্বকাপ থেকেই যদি পাকিস্তানকে বাদ দেওয়া যায় তাহলে তো ভারতের আর চিন্তার কিছু থাকবে না। চৌহানও তাই বললেন, ‘বিশ্বকাপ কিংবা অলিম্পিক অনেক আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলি না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি বিশ্বকাপ থেকেই পাকিস্তানকে বাদ দেওয়া যায়। পাকিস্তানে বেড়ে চলা সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ে সারা বিশ্ব চিন্তিত। আইসিসিকে চাপ দিয়ে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকে ছুড়ে ফেলার জন্য আমাদের চাপ দিতে হবে।’

‘পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে না খেলে তাতে তেমন কিছু যায় আসবে না। কিন্তু ভারত যদি না খেলে, আইসিসি ক্ষতির মুখে পড়বে। আইসিসির মোট স্পন্সরশিপের ৬৫-৭০ ভাগ আসে ভারতের কল্যাণে।’

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাসী হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভারতীয়রা ক্রিকেটে পাকিস্তানকে বয়কটের আহবান জানিয়েছেন। তাদের অনেকেই বলেছেন, ক্রিকেট ম্যাচ কিছুতেই দেশের চেয়ে বড় নয়।

গত মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় এক টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক ভারতীয় স্পিনার হরভজন সিং বলেন, ‘বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ভারতের বয়কট করা উচিত। পাকিস্তানের সঙ্গে না খেললেও বিশ্বকাপ জেতার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী ভারত। সরকারের উচিত শক্ত জবাব দেওয়া। আর ক্রিকেট নিয়ে যদি বলি, তারা যতদিন আমাদের এভাবে দেখবে ততদিন তাদের সঙ্গে কোনোরকম সম্পর্ক রাখা উচিত নয়।’

হরভজনের সঙ্গে একমত সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনও। দেশটির ইউনিয়ন মন্ত্রী রবী শঙ্কর প্রসাদ তো পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি এমনকি সরকারের প্রতি খোলা আহবান জানিয়ে বলেছেন, বিসিসিআই’র উচিত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইসিসিকে চাপ দেওয়া।

এদিকে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে না খেলার বিষয়ে ‘ফাইনাল কল’ আসুক ভারতের সরকারের পক্ষ থেকেই।

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here