বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়ছেঃ চিকিৎসকরা বলছেন ব্যতিক্রম ও উদ্বেগজনক!

0
166

আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়ছে। তবে এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তরা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটা ব্যতিক্রম। বেশিরভাগ আক্রান্তদের মস্তিষ্ককে আক্রান্ত করছে। এর ভয়াবহতাও বেশি। এ বছরের ডেঙ্গুর ধরণকে তাই চিকিৎসকরা উদ্বেজনক ও ব্যতিক্রমী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে জ্বর হলে গাফিলতি না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে মন্ত্রী, এমপি, সচিব থেকে শুরু করে কেউই বাঁচতে পারেননি এ বছর ডেঙ্গুর হাত থেকে। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ভুক্তভোগী খোদ দেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও ডেঙ্গুর ওষুধ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কাঙ্খিত নিজের প্রথম বাজেটই সংসদে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেট উপস্থাপন করে তাকে সহায়তা করেন। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ইনকিলাবকে বলেছেন, ডেঙ্গু মশার উৎপত্তি স্থল থাইল্যান্ড। সেখান থেকে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। তিনি বলেন, উৎপত্তিস্থলে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকলেও নিয়ন্ত্রিত। অথচ আমাদের দেশে প্রতিদিনই মৃত্যুর খবর শুনতে হয়। যেখানে এই ডেঙ্গুর উৎপত্তি সেখানে নিয়ন্ত্রিত হলেও আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিনা।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ডেঙ্গু মশার ওষুধ নিয়ে আমাদের দেশে কোন গবেষণা নেই। বিভিন্ন রকমফের রয়েছে। এটা নিয়ে গবেষণা হওয়ার দরকার বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশে গত ১৬ দিনে ৩০৮১ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অর্থাৎ দিনে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে প্রায় ১৯৩ জন বা প্রতি ঘন্টায় ৮ জনেরও বেশি। গত ২৪ ঘন্টায় ২১৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ মাসে ভর্তি রোগীর মধ্যে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিসংখ্যান মাত্র অর্ধশত হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের তথ্যের ভিত্তিতে। এর বাইরে রাজধানীসহ সারাদেশে ঠিক কতজন এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তার হিসেব নেই।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫০ শতাংশ সাধারণ ও মারাত্মক ধরনের ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বর্তমানে প্রতি বছর মারাত্মক ধরনের ডেঙ্গু জ্বরে কমপক্ষে ৫ লাখ মানুষ আক্রান্ত হন। প্রতি মিনিটেই বিশ্বের কোথাও না কোথাও কেউ না কেউ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাদের অধিকাংশই শিশু। আক্রান্তদের মধ্যে বছরে ২২ হাজার ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোতে এ রোগে আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুহার প্রতি বছর বেড়েই চলেছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে একদিকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরা, বরফ গলা ও সুনামীসহ ঝড় হচ্ছে। ফলে বহু মানুষ খোলামেলা স্থানে বসবাস করতে বাধ্য হয় এবং মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জলবায়ুর পরিবর্তন।

বাংলাদেশে গত দুই দশকে ডেঙ্গুবাহিত এডিস মশার কামড়ে ২৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু সরকারি হিসাবেই এডিস মশার কামড়ে আক্রান্ত হয়ে এ সময়কালে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শয্যাশায়ী হয়েছেন প্রায় ৫৫ হাজার।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় লাখ ছাড়িয়ে গেছে। অনেক সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও অনেকেই হাসপাতালে আসেন না, অনেকেই চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে যান বা ফার্মেসি থেকে পরামর্শ ও ওষুধ কিনে খান।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টা ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আকতার জানান, ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ডেঙ্গুতে মোট ৫৫ হাজার ১২৮ জন ভর্তি হন।

বছরওয়ারী প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা যথাক্রমে ৫ হাজার ৫৫১, ২ হাজার ৪৩০, ৬ হাজার ২৩২, ৪৮৬ জন, ৩ হাজার ৪৩৪, ১ হাজার ৪৮, ২ হাজার ২০০, ৪৬৬ জন, ১ হাজার ১৫৩, ৪৭৪ জন, ৪০৯, ১ হাজার ৩৫৯, ৬৭১ জন, ১ হাজার ৭৪৯, ৩৭৫ জন, ৩ হাজার ১৬২, ৬ হাজার ৬০, ২ হাজার ৭৬৯, ১০ হাজার ১৪৮ ও ৩ হাজার ৭২০ জন। এ সময়কালে (২০০০ থেকে ২০১৯ সাল) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৯৯ জনের মৃত্যু হয়। বছরওয়ারী পরিসংখ্যান অনুসারে যথাক্রমে ৯৩ জন, ৪৪, ৫৮, ১০, ১৩, ৪, ১১, ৬, একজন, দু’জন, ৬, ১৪, ৮, ২৬ ও তিনজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্সসহ প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে দ্রুত ডেঙ্গু শনাক্ত ও সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব না হলে আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ২০ জনের মৃত্যু ঝুঁকি থাকে। তবে দ্রুত শনাক্ত ও প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে চিকিৎসা করাতে পারলে মৃত্যু ঝুঁকি শতকরা ১ ভাগেরও নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) প্রফেসর ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে মশার প্রজনন দ্রুত হয়। মহিলা (ফিমেইল) মশার কার্য়কারিতা বাড়ে। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন পাত্রে জমিয়ে রাখার কারণে ডেঙ্গুবাহী এডিশ মশার প্রজনন বাড়ে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের কারণে জয়বায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। কখনও খরা, আবার কখনও বা অতিবৃষ্টির ফলে ডেঙ্গু মশার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে দেশে প্রচিলিত ও বহুল ব্যবহৃত কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে সব ধরনের মশা। ফলে রাজধানীসহ সারাদেশে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হলেও মশা মরছে না। সম্প্রতি এমন তথ্য উঠে এসছে আইসিডিডিআরবি’র এক গবেষণায়। সেখানে দেখা গেছে, প্রচলিত ওষুধে মশাগুলো শতভাগ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক যৌথ বৈঠকে এ গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল- সিডিসি’র অর্থায়নে রাজধানী ঢাকা শহরে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। সেপ্টেম্বর ২০১৭ এবং ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া জিবানুবাহী এডিস এবং কিউলিক্স মশা ইতিমধ্যে ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশান বলা হয়েছে, কীটনাশক ব্যবহারের পর একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মশার মৃত্যুর হার যদি ৯০ শতাংশের নিচে হয় তাহলে এটা নিশ্চিত যে মশা কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। অথচ আইসিডিডিআরবি’র গবেষণায় দেখা গেছে এডিস এবং কিউলিক্স মশার মৃত্যুহার শুণ্যের কোঠায়। এমনকি কীটনাশকের মাত্রা দ্বিগুণ হারে প্রয়োগ করলেও মশার মৃত্যু ঘটেনি বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির গবেষক ড. মোহাম্মদ শাফিউল আলম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রন) প্রফেসর ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, আইসিডিডিআরবি একটি গবেষণায় চালিয়েছে। সেখানে এডিস ও কিউলিক্স মশার কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার চিত্র পাওয়া গেছে। যেহেতু ওষুধ কেনা এবং প্রয়োগকরা সিটি কর্পোরেশনের কাজ তাই এ বিষয়টিতে তাদের গুরুত্ব দিতে হবে। প্রফেসর সানিয়া বলেন, কীটনাশক চাইলেই পরিবর্তন করা যায় না। নতুন কীটনাশক নিবন্ধন করতে হলে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের কারিগরি সহয়তা চাওয়া হলে আমরা সহযোগীতা করবো।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সম্প্রতি ডেঙ্গুর প্রকোপ সম্পর্কে বলেন, অভিজাত এলাকায়ই ডেঙ্গু বাহিত এডিস মশার প্রকোপ বেশি। তারা কেউ শখ করে বাগান তৈরি করেন; কেউবা বাড়িতে কৃত্রিম ঝরনা বসান। এছাড়া ঘরের এয়ারকন্ডিশনের জমে থাকা পানি পরিষ্কার করেন না। এ সব কারণে অভিজাত বাসাবাড়িতে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার বেশি। ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্ত হতে চাইলে সরকারের চেয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জনসচেতনাই বেশ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর টিটু মিয়া বলেন, এবার ডেঙ্গু রোগীরা অনেকটা ব্যতিক্রমী। রোগীদের মস্তিস্ককে আক্রান্ত করছে। যা উদ্বেজনক। প্রায়ই এই ধরনের ডেঙ্গু রোগী পাচ্ছি, এটা খুবই বিরল।

ডা. টিটু মিয়া বলেন, এখন এটা (ডেঙ্গু) মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, যকৃত ও কিডনির মতো নানা অঙ্গ আক্রান্ত করছে। খারাপ অবস্থায় হাসপাতালে আসা অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে দেখছি।

চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার পরেও অনেকে অসুস্থ পড়ছে বলে জানান প্রফেসর টিটু মিয়া। তিনি বলেন, এবার শুধু সংখ্যায়ই বেশি না। এবার প্রায় সবাই ডেঙ্গু হেমারজিক ফিভারে আক্রান্ত। এদের পঞ্চাশ ভাগেরই শক সিন্ড্রোম।

ডা. টিটু মিয়া বলেন, এবার ডেঙ্গুর প্যাটার্নটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এদের সবার প্ল্যাটিলেট কমে যাচ্ছে, সবাই শকে চলে যাচ্ছে। আগে সামান্য ডেঙ্গু হয়েই ভালো হয়ে যেত। এবার সবারই রক্ত লাগছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বর হলে গাফিলতি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জ্বর সেরে যাওয়ার পরও কিছু দিন চিকিৎসকের ফলো আপে থাকুন।

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান প্রফেসর এল ই ফাতমীও এবার ডেঙ্গু আগের চেয়ে মারাত্মক চেহারা নিয়ে আসার কথা উল্লেখ করেছেন।

উৎসঃ ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে আড়াই কোটি মানুষ ভালোভাবে খেতে পায় নাঃ জাতিসংঘের প্রতিবেদন


তাদের ভাগ্যে জুটছে না পর্যাপ্ত খাদ্য, এজন্য বাংলাদেশে প্রতি ছয়জন মানুষের মধ্যে একজন অপুষ্টিতে ভুগছে। সংখ্যায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ এই সমস্যা অতিবাহিত করছে।

জাতিসংঘ প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। সংস্থাটির খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও), শিশু তহবিল ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উদ্যোগে ‘বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বাস্তবতা ২০১৯’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালের পর দেশ খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশংসণীয় উন্নতি ঘটিয়েছে। অথচ, গত এক দশকে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা অন্তত ১০ লাখ বেড়েছে। ২০০৪ সালে যেখানে এর সংখ্যা ছিলো ২ কোটি ৩০ লাখ সেখানে ২০১৮ সালে তা এসে দাঁড়ায় ২ কোটি ৪০ লাখে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে সারা বিশ্বে ৮২ কোটির বেশি মানুষ তথা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তাদের মধ্যে এশিয়াতে রয়েছে ৫১ কোটির বেশি এবং আফ্রিকায় ২৫ কোটির বেশি মানুষ।

২০১২ সালে বয়সের তুলনায় কম উচ্চতার সমস্যায় আক্রান্ত ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা যেখানে ৬৫ লাখ ছিল, ২০১৮ সালে এসে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের স্থূলতা ও নারীদের রক্তশূন্যতা হওয়ার হার পূর্বের তুলনায় বেড়েছে। ২০১২ সালে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতার শিকার মানুষের সংখ্যা ছিল ২৫ লাখ। ১১ লাখ বেড়ে ২০১৬ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৩৬ লাখে। একইভাবে ২০১২ সালে রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত নারীর সংখ্যা যেখানে ১ কোটি ৭৪ লাখ ছিল, ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখে।

বিশেষজ্ঞদের মত হলো: খাদ্যের সহজলভ্যতার মানে এই নয় যে সবাই খাবার পাচ্ছেন। একই সময়ে খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও জলবায়ু পরিবর্তন ও নগরায়নসহ বিভিন্ন রকমের ঝুঁকি রয়েছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “হ্যাঁ, এটি ঠিক যে ধান উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু, আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টির কী হবে? আমরা ধান উৎপাদন নিয়ে কথা বলছি অথচ অন্যান্য খাবার নিয়ে কিছু বলছি না। তাই, খাদ্য উৎপাদন ও এর সহজলভ্যতার মধ্যে যে ফারাক রয়েছে তা কমানোর জন্যে যথাযথ ও টেকসই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ পৌরসভা প্রকল্পে হরিলুটঃ এক কম্পিউটারে দেড় লাখ, নলকূপে ২৫ লাখ টাকা ব্যয়!


নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটারি সুবিধা দিতে পৌরসভার সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এবং রুপকল্প ২০২১ অর্জনে অবদান রাখার জন্য ৪০টি পৌরসভায় এই প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালের ১ জুন একনেক সভায় এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

একনেকের ওই সভায় জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন সেবা প্রাপ্তি সহজতর করার লক্ষ্যে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৩০ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে এই প্রকল্প কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাড়ে তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রকল্পের বাস্তবিক অগ্রগতি মোটেও সন্তোষজনক নয়। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের ৯৪% অতিবাহিত হলেও এখনো ৭০% কাজ বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রকল্পের মালামাল কেনার নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, এই প্রকল্পের প্রতিটি কাজেই অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে, প্রকল্পটি মূল ব্যয় ২৩০ কোটি টাকা ধরা হলেও এতে কাজের ক্ষেত্রে পরামর্শদাতার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা অধিক। শুধু পরামর্শকই নয় প্রকল্পের হিসাবরক্ষণ নথিপত্র ও কাজের অগ্রগতির ডাটা সংগ্রহের জন্য ৮টি কম্পিউটার ক্রয় করা হয়েছে, যেটার হিসাব দেখানো হয়েছে ২৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। তাতে প্রতিটি কম্পিউটারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা।

৪০ পৌরসভার ১৭ হাজার ২৩০টি বসতবাড়িতে পানির সংযোগ বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ১০ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এতে প্রতিটি ঘরে পানির সংযোগ দিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকা। অপরদিকে পৌরসভাতে ৭৮টি ডিপ টিউবওয়েল (উৎপাদক নলকুপ) স্থাপন বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ১৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, এতে প্রতিটি নলকুপ স্থাপন করতে খরচ হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা করে। ১৬১টি পানির পাম্প ও পাবলিক টয়লেট বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ খরচ করা হয়েছে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা, এতে হিসাব করে দেখ যায় প্রতিটি টয়লেটে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগেই খরচ করা হয়েছে ৮০ হাজার টাকার উপরে।

উক্ত প্রকল্পে শুধুমাত্র পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ খরা করা হয়েছে ৪০ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে এই প্রকল্প শুরু করার আগে ১০০টি নলকুপ পরীক্ষা করার জন্য স্থাপন করা হয়েছে সেটার প্রতিটির খরচ ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এই প্রকল্পে অধীনে ৪০টি পৌরসভার ৬২০ কি.মি. পাইপলাইন স্থাপন করতে ৭৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। এতে প্রতি কি.মি. পাইপলাইন স্থাপনে খরচ হয়েছে গড়ে ১২ লক্ষ টাকা করে। ৬টি পানির ট্যাংক নির্মাণের খরচ দেখানো হয়েছে ৯ কোটি টাকা, এতে প্রতিটি প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। ৮৬টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা, এতে প্রতিটির মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লক্ষাধিক টাকার ওপরে। প্রকল্পের নির্ধারিত ৪০টি পৌরসভায় পাকা ও আধাপাকা মোট ১১১টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। এতে প্রতিটি টয়লেট নির্মাণে খরচ হয়েছে ৮ লক্ষ টাকার ওপরে। কিছু কিছু পৌরসভায় টয়লেট নির্মাণ না করেও বরাদ্দের অর্থ তুলে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের কর্মকর্তাদের চলাচলের জন্য ৫টি রানার মোটর সাইকেল কেনার জন্য খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকা। এমনকি ১টি জিপগাড়ি কেনা হয়েছে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা খরচ করে। উক্ত প্রকল্পটি দেখাশুনা করার জন্য কর্মী বাবদ খরচ হয়েছে ৭ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের পানির পাম্পে ইলেকট্রিক বোর্ড স্থাপন করতে খরচ ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা, এত প্রতি বোর্ড স্থাপনেই খরচ হয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা।

এই প্রকল্পের নির্ধারিত ৪০ টি পৌরসভা হলো – মেহন্দিগঞ্জ, বোরহানউদ্দিন, স্বরুপকাঠি, শানারাশ, ছেঙ্গারচর, দাউদকান্দি, চকরিয়া, কবিরহাট, সাভার, ভাঙ্গা, কটিয়াদি, হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া, মিরকাদিম, ত্রিশাল, পলাশ, ঘোড়াশাল, মনোহরদী, শিবপুর, নড়িয়া, ডামুডা, জাজিরা, ভেদোরগঞ্জ, নালিতাবাড়ি, নোয়াপাড়া, ঝিকরগাছি, কালিয়া, গুরুদাসপুর, সিংড়া, বেড়া, সাঁথিয়া, শাহজাদপুর, রতনপুর, ফুলবাড়ি, শেতাবগঞ্জ, বিরামপু, গাবতলি, শান্তাহার, মাধবপুর ও কালিগঞ্জ।

এসব পৌরসভায় পানি ও স্যানিটেশনের জন্য বড় আকারের বরাদ্দ হলেও বাস্তবে বেশ কিছু পৌরসভায় এসব প্রকল্পের কোনও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। আবার যেখানে প্রকল্প খুঁজে পাওয়া গেছে সেখানে পাওয়া যায়নি একনেক থেকে অনুমোদিত প্যাকেজসমূহের কাজ। অর্থ বরাদ্দে প্রতিটি পৌরসভায় উৎপাদক নলকুপ, ওভারহেড ট্যাংক, পাইপলাইন, পানি শোধনাগার, পাবলিক টয়লেট, ঘরবাড়িতে পানির সংযোগের কথা উল্লেখ থাকলেও কিছু পৌরসভায় শুধু টিউবওয়েল ও পাবলিক টয়লেট স্থাপন করেই শতভাগ কাজ দেখানো হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য পুরণের লক্ষ্যে প্রকল্পের রাজস্ব ও মূলধন মোট ৩০ টি ক্যাটাগরি রেখে প্রকল্প ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। এসব প্রকল্পের প্রজেক্টের মধ্যে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার ৮টি, ওভারহেড ট্যাংক -৬টি, উৎপাদক নলকুপ-৭৪টি, পাইপ লাইন-৬২০ কি. মি, পানির গৃহসংযোগ-১৭২৩০টি, টিউবওয়েল-২১৬৫টি, পাবলিক টয়লেট-১১১টি। এই প্রকল্পের মূল বাস্তবায়নকাল ছিল জুন ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস ‌পর্যন্ত মোট ৩ বছর ৬ মাস হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। পরে দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পে সময় ১ বছর ৩ মাস বাড়ানো হলেও এখনো শেষ করতে পারেনি প্রকল্পের ৫০% কাজ। এই প্রকল্পের ব্যয় ১৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ২৩০ কোটি করা হয়।

পানি সরবরাহ ব্যাবস্থা এবং স্যানিটেশন সুবিধা মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসাবে এখানে পানি ও স্যানিটেশনের চাহিদাটাও একটু বেশি। সরকারের অন্যতম লক্ষ্য পৌরসভার পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সেই লক্ষ্যে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্পটির বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।

এই প্রকল্প বাস্তবিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কমকর্তা জানান, আসলে আমাদের পৌরসভায় এই প্রকল্পের কাজ করার বরাদ্দ এবং নিদের্শনা আসার পরে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তবে কি কি কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেটা আমার জানা নেই। তবে শুনেছি পানির লাইন, পাবলিক টয়লেট, গৃহসংযোগ, টিউবওয়েল নির্মাণ করার কথা রয়েছে কিন্তু ৪ বছরে শুধুমাত্র ২ পাবলিক টয়লেট আর বড়বড় নেতাদের বাসাবাড়িতে পানির সংযোগ ছাড়া তেমন কোন কাজ করা হয়নি।

পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এই আওতাধীন বরাদ্দকৃত পৌরসভা সাভার’র পৌর মেয়র হাজী মো. আবদুল গনি জানান, আমার পৌরসভায় পানির লাইনের কাজ ৭০% শেষ হয়েছে এবং বসতবাড়িতে পানির সংযোগও কিছুটা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ৫০ টি টিউবওয়েলের বরাদ্দ হয়েছে কিন্তু এখনো সেটার বাস্তবিক কোন কাজ শরু করা হয়নি। আশা করি দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ডিপিএইচ’র নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব বশির আহম্মেদ জানান, আমরা জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের বিধিবিধান মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করেছি ।এখানে উন্মুক্ত দরপত্র দিয়ে মালামাল কেনাসহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই করা হয়েছে।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ডেঙ্গু নিয়ে দুই মেয়রের বক্তব্য বিস্ময়কর! বাজেটের টাকা কোথায় যায়?: হাইকোর্ট


‘সরকার দুই সিটি করপোরেশনের বাজেট বৃদ্ধি করেছে। সেই বাজেটের টাকা কোথায় যায়? ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করতে আর দেরি নেই, তারপরও দুই সিটির মেয়র কীভাবে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, এটা বিস্ময়কর!’

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানিকালে আজ বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিস্ময় প্রকাশ করেন।

আদালত বলেন, ‘এর আগে এ মামলার শুনানিতে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের বলেছিলাম যে, সামনে বর্ষা মৌসুম। মশা নিধনে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করুন। যাতে এটা মহামারির আকার ধারণ না করতে পারে। কিন্তু এখন প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে দেখছি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েইে চলেছে। সরকার অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে কিন্তু সেটার যথাযথ বাস্তবায়নের দায়িত্ব কার, অবশ্যই সিটি করপোরেশনের।’

এরপর ৩০ আগস্টের মধ্যে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে মশা নিধনে অকার্যকর ওষুধ আমদানি ও সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।

এ ছাড়া মশা নিধনে কার্যককর ওষুধ আনা এবং তা ছিটানোর জন্য অতিদ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রয়োজনে সরকারের সহায়তা নিতে হবে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নুরুন্নাহার নূপুর। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

আদেশের পরে মনজিল মোরসেদ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণে যে ব্যবস্থা নিচ্ছে সেটা অকার্যকর। মিডিয়ায় রিপোর্ট এসেছে এই যে ওষুধগুলো দেওয়া হচ্ছে, সে ওষুধগুলোর মধ্যে কার্যকারিতা নেই। তারপরও ওই ওষুধগুলো তারা দিচ্ছে। এখানে ২০/২২ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে। এগুলো চলেই যাচ্ছে। এগুলো দুর্নীতির মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে। যারা এ কাজগুলো করছে তাদের বিরুদ্ধে সিটি করপোরশেন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আরেকটা রিপোর্টে সিটি করপোরেশন বলছে-নতুন ওষুধ এনে কার্যকরী করতে ছয় মাস লাগবে। আমি বলেছি জনগণের প্রয়োজনে টেন্ডার এবং আইন কানুনের গিয়ে বাইরে গিয়ে দ্রুত ওষুধগুলো এনে ব্যবহার করে জনগণের জীবন রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।’

মনজিল মোরসেদ আরো বলেন, ‘এরপর আদালত দুটি নির্দেশনা দিয়েছেন। এক. ওই অকার্যকর ওষুধ যারা এনেছেন, যারা সরবরাহ করেছেন এর সঙ্গে যারা জড়িত এটি একটি দুর্নীতি। সিটি করপোরেশন এ দুর্নীতি কমিটি গঠন করে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে। এ নির্দেশনা কার্যকর করে ২০ আগস্টের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে হবে।

দুই. সিটি করপোরেশন যেটা চিন্তা করছে ভালো ওষুধ আনবে-সে ব্যাপারে বলেছেন এটা অতিদ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, সরকারের সহায়তা নিয়ে কার্যকর ওষুধ এনে তা ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’

এর আগে গত ২ জুলাই এ সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মশা নিধনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে এফিডেভিট আকারে অবহিত করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। এরপর দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আজ বুধবার দুটি প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

গত এপ্রিলে বায়ু দূষণ রোধে সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে হাইকোর্টে রিট করেন মনজিল মোরসেদ। ওই রিট আবেদনের রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় আদালতে সম্পূরক আবেদন দেন তিনি। ওই আবেদনে বলা হয়, ঢাকা মহানগরে মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে। বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। সিটি করপোরেশন এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যদি কার্যকর পদক্ষেপ নিত তাহলে মশার উপদ্রব কমানো সম্ভব হতো।

উৎসঃ এনটিভি

আরও পড়ুনঃ সিইসির অসাংবিধানিক হজ মিশনঃ নির্বাচন বহির্ভূত বিষয়ে এভাবে যুক্ত হওয়া নজিরবিহীন


একজন সাংবিধানিক পদধারী হয়ে নির্বাচন বহির্ভূত বিষয়ে এভাবে যুক্ত হওয়া নজিরবিহীন।

‘যার কর্ম তারে সাজে অন্য লোকে লাঠি বাজে’ বলে বাংলায় একটি প্রবচন আছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার হজ মিশনে বেরিয়ে পড়ার খবর আমাদের সেই প্রবচনটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের বাইরে এমন একটি ব্যবস্থাপনার কাজে তিনি নিজে কীভাবে যুক্ত হলেন? সরকারি হজ্ব মিশনের ব্যবস্থাপনায় নিযুক্ত ১০ সদস্যের একজন তিনি। যারা তাঁকে যুক্ত করল, তারা কী বিবেচনায় এটা মাথায় নিলেন, সেটাও কম বড় প্রশ্ন নয়। কারণ, বছরের পর বছর নানা অদ্ভুত ঘটনা জাতীয় প্রশাসনে ঘটেছে। কিন্তু একজন সাংবিধানিক পদধারী হয়ে নির্বাচনবহির্ভূত বিষয়ে এভাবে যুক্ত হওয়া এর আগে কেউ কল্পনা করতে পেরেছেন, তা ভাবনায় আনতে পারি না।

হজব্রত পালন এবং হজের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হওয়া দুটি আলাদা বিষয়। সরকারি খরচে হজব্রত পালন মানেই জনগণের টাকায় হজ করা। শত ভাগ ভোট পড়াকে সিইসি যেমন যথার্থই ‘অস্বাভাবিক’ বলেছেন। তেমনি সরকারিভাবে তাঁর দ্বারা হজের তত্ত্বাবধান অস্বাভাবিক। নির্বাচন অস্বাভাবিক হলে তা বাতিল করার এখতিয়ার ইসির থাকে। কিন্তু অনেকেই তার কঠিন সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনা নেবেন। কিন্তু হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হওয়া যদি আইন ও রীতিনীতি সমর্থন না করে, তাহলে সিইসি তাঁর সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারেন। এটা তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তবে এটা জানার কৌতূহল সংবরণ করা কঠিন যে কার মাথা থেকে কীভাবে এমন চিন্তা বেরলো যে, দেশের সিইসিকে হজ ব্যবস্থাপনায় আনা যায়। কেউ ভাবতে পারেন, সিইসি স্বয়ং এ রকম একটি ধারণা অন্যদের মধ্যে না ছড়িয়ে দিলে অন্য কারও পক্ষেই এমন একটি আবিষ্কার করা অসম্ভব।

সিইসিকে যুক্ত করা প্রস্তাবিত উচ্চপর্যায়ের হজ মিশন কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। সরকারি খরচে হজ পালনকে আমাদের মতো দেশে একটা রক্ষণশীল বিষয় হিসেবে দেখা হয়। আমাদের জিডিপির উন্নতি ঘটেছে বলে সরকারি খরচে অবস্থাপন্নদের হজে পাঠানো অগ্রহণযোগ্য। সিইসির উচিত হবে ব্যক্তিগত খরচে হজ পালন করা। তিনি তা না করলে একটি নীতিমালা তৈরি করে নিতে হবে। কারণ, সিইসি হিসেবে তাঁর হজের খরচ সরকার বহন করলে অন্যান্য কমিশনারের কী হবে! আরও প্রশ্ন আছে। দেশে সাংবিধানিক পদধারীদের মোট সংখ্যা এবং তাঁরা কী নিয়মে, কবে কীভাবে সরকারি হজ মিশনে যাবেন, সেই প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক।

যদি একজন সাংবিধানিক পদধারী হজ ব্যবস্থাপনায় নিজেকে যুক্ত করতে পারেন, তাহলে অন্যান্য সাংবিধানিক পদধারীও তা করতে পারেন। এটা শোভন কি না। এটা নৈতিক কি না। একটা হতে পারে বিষয়টি সিইসির ক্ষেত্রে ওয়ান টাইম এক্সসেপশন বা একমাত্রবারের জন্য ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে। অন্যরা কখনো একে নজির হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে সিইসির বিষয়ে আমাদের একটা নিশ্চয়তা পেতে হবে। জনগণকে জানতে হবে যে তিনি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার গ্যারান্টি না দিতে পারলেও হজ ব্যবস্থাপনায় নিয়মশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার গ্যারান্টি দিচ্ছেন। বিমান ও পাটকলের মতোই একটা লোকাসানি কিংবা মলিন ভাবমূর্তি আমরা যেন কিছুতেই হজ ব্যবস্থাপনা থেকে মুছে ফেলতে পারি না।

সরকারি খরচে হজের বিষয়ে একটা সতর্কতা দেখলাম। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রত্যেকে ভ্রমণসঙ্গী হিসেবে স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানসহ সর্বোচ্চ তিনজনকে সঙ্গে নিতে পারবেন। সফরসঙ্গীদের বিমানের টিকিট নিজ উদ্যোগে গ্রহণ করতে হবে এবং মক্কা ও মদিনার আবাসন, যাতায়াত, মিনা–আরাফাহর তাঁবু ভাড়ার ব্যয় বাবদ জনপ্রতি এক লাখ টাকা যাত্রার আগে পরিশোধ করতে হবে। অনুমান করি, সদস্যদের প্রত্যেকের খরচ তাহলে আমজনতার পকেট থেকে যাবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও দুই সদস্য, ধর্মসচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক–৩ ওই প্রতিনিধিদলের সদস্য। কেউ আমাদের বলুক, ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের বিশেষ করে রাজনীতিকেরা নিজেদের খরচেই যাবেন এবং সম্ভবত সেটা তাদের নির্বাচনী ব্যয় এবং সম্পদের বিবরণীর সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ হবে না।

আরও একটি প্রশ্ন, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে হজের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা হলে আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হবে। তাদের সেই উদ্বেগ কোথায়? দলটিতে কি যোগ্যতম লোকের এতটাই আকাল পড়েছে যে হজ ব্যবস্থাপনায় এখন সিইসিকে হায়ার করে আনতে হচ্ছে। কী ঘটছে দলটিতে?

তবে আমাদের মূল উদ্বেগ সিইসিকে নিয়েই। তিনি ভুল পরামর্শ পেয়ে থাকতে পারেন। সংবিধান বলেছে, সিইসির নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন নির্বাচন তত্ত্বাবধান করবেন। তাহলে এখন তিনি হজ তত্ত্বাবধান করলে তা অসাংবিধানিক হবে। সংবিধান বা রুলস অব বিজনেস সংশোধন ছাড়া সরকারি প্রজ্ঞাপনে তো তাঁকে হজ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দেওয়ার কথা কেউ লিখতে পারবেন না। তা আইনগতভাবে সিদ্ধ হবে না। ভোট তত্ত্বাবধায়ক থেকে ‘হজ তত্ত্বাবধায়ক’ বনে যাওয়ায় রুলস অব বিজনেস লঙ্ঘিত হবে। তাঁর সফরের খরচের টাকা মহাহিসাব নিরীক্ষক হয়তো আটকে দিতে পারেন। দেবেন কি না, সেটাই প্রশ্ন।

একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স, রুলস অব বিজনেস, আচরণবিধি, স্বার্থের সংঘাত, নৈতিকতা এবং সর্বোপরি প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক রীতিনীতি বলে কিছু বিষয় রয়েছে। এটা থাকতেই হবে এবং তা মেনে চলতে হবে। অন্যথায় জনপ্রশাসনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে কিংবা তেমনটা দেখা দিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হবে।

সিইসি একজন দক্ষ আমলা হিসেবেই সিভিল সার্ভিসে সদর্পে বিচরণ করেছেন। সুতরাং রাষ্ট্রীয় আচারের দিকটি সাংবিধানিক পদধারী অন্য অনেকের চেয়ে তাঁর ভালো জানার কথা। এই লেখাটি শেষ করার পরেও মনে হয়েছে, খবরটি কি ঠিক? সত্যিই তিনি হজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন? স্বতঃপ্রণোদিতভাবে নাকি কেউ চাপিয়ে দিয়েছে?

প্রতিমন্ত্রী হজবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের হজ মিশনের নেতৃত্ব দেবেন, সেটা প্রকারন্তরে আরেকটি পরিহাস। কারণ, সাংবিধানিক পদধারীদের মধ্যে সিইসির অবস্থান অনেক ওপরে। সিইসি ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান, সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতি রয়েছেন। সুতরাং সিইসি যদি ‘বিশেষ অতিথি’ হিসেবে একটি বিশেষ হজ মিশনে যাবেনই, তাহলে তিনি নেতৃত্বের পুরোভাগে থাকবেন না কেন? ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ব্যত্যয় ঘটাতে হবে কেন?

মিজানুর রহমান খান:প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক

উৎসঃ প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ ইসকন সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজনঃ ইসকন কি? কে চালায়? বাংলাদেশে তারা কি চায়?


📒 প্রথমে বলতে হয়- ইসকন কিন্তু হিন্দুদের কোন সংগঠন নয়, হিন্দুবেশধারী ইহুদীদের একটি সংগঠন। আবু রুশদের লেখা—“বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা- বাংলাদেশে ‘র’ বইয়ে লেখা আছে- “‘ইসকন নামে একটি সংগঠন বাংলাদেশে কাজ করছে। এর সদর দফতর নদীয়া জেলার পাশে মায়াপুরে। মূলতঃ এটা ইহুদীদের একটি সংগঠন বলে জানা গেছে। এই সংগঠনের প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে উস্কানিমূলক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি।”. (বই- বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা- বাংলাদেশে ‘র’ পৃষ্ঠা:১৭১)

📕 আপনাদের জেনে রাখা দরকার, ইসকনের সৃষ্টি কিন্তু ভারতে নয় আমেরিকার নিউইয়র্কে। মাত্র ৫০ বছর আগে, ১৯৬৬ সালে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতার নাম ‘অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ’। অবাক হওয়ার বিষয়, এ ব্যক্তি ভারতে কোন হিন্দু শিক্ষালয়ে লেখাপড়া করেনি, লেখাপড়া করেছে খ্রিস্টানদের চার্চে। পেশায় সে ছিলো ফার্মাসিউটিকাল ব্যবসায়ী, কিন্তু হঠাৎ তার মাথায় কেন হিন্দু ধর্মের নতুন সংস্করণের ভুত চাপলো, কিংবা কোন শিক্ষাবলে চাপলো তা সত্যিই চিন্তার বিষয়। স্বামী প্রভুপাদ নতুন ধরনের হিন্দু সংগঠন চালু করতেই প্রথমেই তাতে বাধা দিয়েছিলো মূল ধারার সনাতন হিন্দুরা।

ভিডিওঃ  ‘স্কুলে খাবার দেওয়ার নামে এসব কি করছে ইসকন? ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

📗 অধিকাংশ হিন্দুই তার বিরুদ্ধচারণ শুরু করে। কিন্তু সেই সময় স্বামী প্রভুপাদের পাশে এসে দাড়ায় জে. স্টিলসন জুডা, হারভে কক্স, ল্যারি শিন ও টমাস হপকিন্স-এর মত চিহ্নিত ইহুদী-খ্রিস্টান এজেন্টরা। (https://goo.gl/vf9wyi)। ইসকন একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন। সংগঠনটির বেসিক কনসেপ্ট মধ্যযুগের চৈতন্য’র থেকে আগত। চৈতন্য’র অনতম থিউরী হচ্ছে- “নির্যবন করো আজি সকল ভুবন”। যার অর্থ- সারা পৃথিবীকে যবন মানে মুসলমান মুক্ত করো।

📘 উল্লেখ্য- এ সংগঠনটি হিন্দুদের অধিকাংশ বেসিক কনসেপ্ট স্বীকার করে না। তারা হিন্দুদের উপর সম্পূর্ণ নিজস্ব কনসেপ্ট চাপিয়ে দেয়। এদের চেনার সহজ উপায়- এরা সব সময় ইউরোপীয় সাদা চামড়াদের সামনে নিয়ে আসে। সংগঠনটি মুলত এনজিও টাইপ। এরা নিম্নবর্ণের হিন্দুদের দলে ভিড়িয়ে দল ভারি করে। এ কারণে তাদের আস্তানাগুলো হয় নিম্নবর্ণের হিন্দুদের আস্তানার পাশে। যেমন ঢাকা শহরে স্বামীবাগ মন্দিরের পাশে ইসকন মন্দির হওয়ার কারণ, স্বামীবাগে রয়েছে বিশাল মেথর পট্টি। এই মেথর পট্টির নিচুবর্ণের হিন্দুদের নিয়ে তারা দল ভারি করে। সিলেটেও ইসকনদের প্রভাব বেশি। কারণ চা শ্রমিকদের একটি বিরাট অংশ নিচু বর্ণের হিন্দু। এদেরকে দলে নিয়ে সহজে কাজ করে তারা।

📒 বর্তমানে ইসকন চালায় ডাইরেক্ট ইহুদীরা। ইসকনের মূল নীতিনির্ধারকদের প্রায় অর্ধেক হচ্ছে ইহুদী। এটি আমার কোন দাবি নয়, এক ইসকন নেতারই দাবি।
(http://goo.gl/xS3sfH)
বাংলাদেশে ইসকন কি চায় ও কি করে ?? স্বাভাবিকভাবে ইসকনের কর্মকাণ্ড শুধু নাচ মনে হলেও আদৌ তা নয়। ইসকনের কয়েকটি কাজ নিম্নরূপ-

📕 ১) বাংলাদেশে সনাতন মন্দিরগুলো দখল করা এবং সনাতনদের মেরে পিটিয়ে তাড়িয়ে দেয়া। যেমন স্বামীবাগের মন্দিরটি আগে সনাতনদের ছিলো, পরে ইসকনরা কেড়ে আগেরদের ভাগিয়ে দেয়। এছাড়া পঞ্চগড়েও সনাতনদের পিটিয়ে এলাকাছাড়া করে ইসকনরা। ঠাকুরগাও-এ সনাতন হিন্দুকে হত্যা করে মন্দির দখল করে ইসকন। এছাড়া অতিসম্প্রতি সিলেটের জগন্নাথপুরে সনাতনদের রথযাত্রায় হামলা চালিয়েছে ইসকন নেতা মিণ্টু ধর। (খবরের সূত্র-http://goo.gl/XwkLvm,http://goo.gl/7hegYE)

📕 ২) বাংলাদেশের মসজিদগুলোতে সাম্প্রদায়িক হামলা করা। কিছুদিন আগে ঢাকাস্থ স্বামীবাগে মসজিদের তারাবীর নামাজ বন্ধ করে দিয়েছিলো ইসকন। নামজের সময় ইসকনের গান-বাজনা বন্ধ রাখতে বলায় তারা পুলিশ ডেকে এনে তারাবীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে বিষয়টি নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এবার হলো সিলেটে।

ভিডিওঃ  ‘স্কুলে খাবার দেওয়ার নামে এসব কি করছে ইসকন? ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

📕 ৩) বাংলাদেশে বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সংগঠন তৈরী করে, উগ্রহিন্দুত্ববাদের বিস্তৃতি ঘটানো। যেমন- জাতীয় হিন্দু মহাজোট, জাগো হিন্দু, বেদান্ত, ইত্যাদি। বর্তমান অনলাইন জগতে যে ধর্ম অবমাননা তার ৯০% করে ইসকন সদস্যরা।

📕 ৪) বাংলাদেশে সম্প্রতিক সময়ে চাকুরীতে প্রচুর হিন্দু প্রবেশের অন্যতম কারণ-ইসকন হিন্দুদের প্রবেশ করানোর জন্য প্রচুর ইনভেস্ট করে।

📕 ৫) সিলেটে রাগীব রাবেয়া মেডিকলে কলেজের ইস্যুর পেছনে রয়েছে ইসকন। ইসকন আড়াল থেকে পুরো ঘটনা পরিচালনা করে এবং পঙ্কজগুপ্তকে ফের লেলিয়ে দেয়। এখন পঙ্কজগুপ্ত জমি পাওয়ার পর সেই জমি নিজেদের দখলে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিচারবিভাগে ইসকনের প্রভাব মারাত্মক বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ খোদ প্রধানবিচারপতিও একজন ইসকন সদস্য। (http://goo.gl/g3w0KK)
(তথ্যসূত্র ইন্টারনেট)

📒 বাংলাদেশে যদি এখনই ইসকনকে নিষিদ্ধ না করা হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের বিপদ অপেক্ষা করছে, যেই বিপদে বাংলাদেশের স্বাধীনতা হারালেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তাছাড়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামা দিনদিন ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র। এর কারণ হিসেবে বলতে পারি ইসকনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড খুবই উদ্বেগজনক। অনেকেই সোস্যাল মিডিয়া মারফত জেনেছেন চট্টগ্রাম চকবাজার বাকলিয়া স্কুল সহ আরো ১০ টি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মাঝে রথযাত্রা উপলক্ষে গতকাল ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির এর ফুড ফর লাইফ এর উদ্যোগে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে।

📗 যেই অবুঝ বাচ্চাদেরকে এই প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে এবং হরে কৃষ্ণ হরে রাম ও জয় শ্রীরাম শ্লোগান দেওয়া হয়েছে এদের মধ্যে কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাত্রছাত্রী ছিল কিনা নিশ্চিত হতে না পারলেও এদের বেশিরভাগ মুসলিম পরিবারের সন্তান সেব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। যাদের ইশারায় এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। আজকে তারা আমাদের সন্তানদের প্রসাদের বিনিময়ে জয় শ্রীরাম বলিয়েছে কাল ভারতের মতো জোরপূর্বক জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করবে না এর নিশ্চয়তা কী? এটা মোটেও ছোটখাটো কোনো বিষয় নয়। আমরা চাই না এদেশে ভারতের মতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টি হোক। এদেশে সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

📕 এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সকল স্কুল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি যেসব ইসকনের দায়িত্বশীল এই কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যদি এখনি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে এদেশের ভবিষ্যৎ ভয়াবহ হবে। ইসকন নামক এই উগ্র সংগঠনটি ইতোমধ্যে দেশের অনেক জায়গায় ধর্মীয় উস্কানী সহ নানাভাবে উত্তেজনা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। যা মোটেও কারো জন্য কল্যাণকর নয়। এখনি সময় এই উগ্র জঙ্গি হিন্দু সংগঠনের ব্যাপারে সচেতন হওয়ার।

[এই লেখাটির তথ্য বিভিন্ন বিশ্বস্ত সুত্র থেকে সংগ্রহীত]

উৎসঃ একুশে জার্নাল

আরও পড়ুনঃ মুসলিম শিশু-কিশোরদের মাঝে ইসকনের কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণ চরম ধৃষ্টতার শামিল: আল্লামা বাবুনগরী


আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনা মৃত সংঘ তথা ‘ইসকন’ তাদের ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচীর আওতায় হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রা উপলক্ষে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে মুসলিম শিশু-কিশোরদের মাঝে হিন্দুত্ববাদের স্লোগান দিয়ে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণের কঠোর সমালোচনা করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজত ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আজ (১৭ জুলাই) বুধবার সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন,হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রা অনুষ্ঠানে মুসলিম শিশুদের মাঝে কৃষ্ণ প্রসাদ বিতরণ করে চরম দৃষ্টতা দেখিয়েছে উগ্রবাদী সংগঠন ইসকন। ‘হরে কৃষ্ণ, হরে রাম’ শ্লোগান দিয়ে এ প্রসাদ বিতরণ করে মুসলিম ধর্মীয় চেতনাবোধেও মারাত্মক আঘাত করেছে। মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদার জায়গা থেকে এসব কুফরী শব্দ মুখে আনতে পারে না।

তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পুণ্যের ভাবনা থেকে তাদের দেবতার নামে উৎসর্গকৃত খাবারের অবশেষ এসব প্রসাদ আহার করে থাকে। এই প্রসাদ আহার করা মুসলমানদের জন্য হারাম।

ভিডিওঃ  ‘স্কুলে খাবার দেওয়ার নামে এসব কি করছে ইসকন? ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

হেফাজত মহাসবিচব বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন। তবে নিজেদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান অন্য ধর্মের কারো উপর চাপিয়ে দেয়া ধর্মীয় অধিকার ও অনুভূতিতে হস্তক্ষেপের শামিল। এটা সংবিধান পরিপন্থী।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত দেশে অবুঝ মুসলিম শিশু-কিশোরদেরকে এভাবে “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে, মাতাজি প্রসাদ কি জয়” শ্লোগান দেয়ানো চরম ধৃষ্টতার শামিল। মুসলিম শিশুদের পবিত্র মুখে এসব কুফুরী শব্দ উচ্চারণ করিয়ে কৌশলে ঈমান হরণের অপচেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, আজ তারা আমাদের কোমলমতি শিশুদেরকে প্রসাদের লোভে ফেলে ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ বলিয়েছে, কাল ভারতের মতো জোরপূর্বক ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করবে না এর কি নিশ্চয়তা আছে?

তিনি আরো বলেন, এদেশে সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবী। মূলত: এ সব কর্মকান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশেও ভারতের মতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ইসকন নামের যে সংগঠন বাংলাদেশে কাজ করছে, এর সদর দফতর নদীয়া জেলার পাশে মায়াপুরে। অনুসন্ধানে জানা গেছে ইসকন মূলতঃ ইহুদী পরিচালিত একটি সংগঠন। ইসকন নামক এই উগ্র সংগঠনটি ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় উস্কানী সহ নানাভাবে উত্তেজনা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। এ সংগঠন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসকনকে নিষিদ্ধ করে তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

আল্লামা বাবুনগরী হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, অনতি বিলম্বে এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সকল স্কুল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট অনুমতিদাতাদেরকে বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ইসকনের যারা এই কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় মুলমানদের ঈমান আকিদা রক্ষার পাশাপাশি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে এসব উগ্রবাদি সংগঠনের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তৌহিদী জনতা দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

উৎসঃ একুশে জার্নাল

আরও পড়ুনঃ ফেল করেও পদন্নতি, ঢাবি প্রশাসন কি ‘ছাত্রলীগ কোটা’ চালু করেছে?


গত দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছিলেন, বিসিএসে ছাত্রলীগকে পরীক্ষায় পাস করার দরকার নেই। শরীরের ক্ষত চিহ্নই তাদের জন্য যথেষ্ট। তারা শুধু পরীক্ষায় অংশ নিলেই চলবে। আর এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. নাইমা হক বললেন, তৃতীয় বর্ষে ফেল করা ছাত্রলীগ সেক্রেটারিকে মানবিক বিবেচনায় চতুর্থ বর্ষে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাহলে এখন থেকে ছাত্রলীগ নেতাদেরকে আর পড়ালেখা করতে হবে না। ফেল করলেও মানবিক বিবেচনা নামের বিশেষ কোটায় তাদেরকে পরের বর্ষে পড়ার সুযোগ দেয়া হবে।

জানা গেছে, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন ২০১১-১২ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষ পার হতে তিনি তিন বছর সময় নেন। ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন। পরে চতুর্থবারের প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালে তিনি প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সেটাও নকল করে পাস করেছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

এরপর ২০১৬ সালের দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা পাস করতে পারেননি সাদ্দাম হোসেন। পরে ২০১৭ সালের ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৮ সালে তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করেন। সেই তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি শুরু হয়। সেই পরীক্ষায়ও অকৃতকার্য হয়েছেন সাদ্দাম। সর্বোপরি এই ছাত্রনেতা গত সাত বছরে পাঁচবার ফাইনাল পরীক্ষায় ফেল করেন।

কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো-তৃতীয় বর্ষে ফেল করেও তাকে চতুর্থ বর্ষে পড়ালেখার সুযোগ দিয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী, সাধারণত কোনো শিক্ষার্থী সেমিস্টার বা বার্ষিক পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হলে ফলাফলের খাতায় নাম আসে না। তবে যারা একটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হন তাদের নাম ফলাফলের তালিকায় থাকে। এবং তারা পরবর্তী সেমিস্টার বা বর্ষে ভর্তি হতে পারেন। তবে ফলাফলের তালিকায় যাদের নাম আসে না তাদের আগের সেমিস্টার বা বর্ষে পুনরায় পড়াশোনা করে উত্তীর্ণ হতে হয়।

এদিকে সাদ্দাম কয়েকটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হওয়ায় ফলাফলের খাতায় তাঁর নাম না এলেও তিনি পরবর্তী বর্ষে পদোন্নতি পেয়েছেন। কয়েকটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী বর্ষে পদোন্নতি পাওয়ার নজির নেই আইন বিভাগে। কিন্তু কোনো নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে শুধু ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার কারণে সাদ্দামকে অন্যায়ভাবে চতুর্থ বর্ষে পড়ার সুযোগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এরপর শুধু এখানেই শেষ হয়, ছাত্রলীগের এই নেতাকে সুবিধা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো আইনও পরিবর্তন করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পদোন্নতি পাওয়ার পর চতুর্থ বর্ষের প্রথম পর্বের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে দুটি পরীক্ষা শেষও হয়েছে। এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া জন্য তাঁর ক্লাসে উপস্থিতি রয়েছে ২০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। যদিও কারো ২০ শতাংশ উপস্থিতি থাকার শর্তে এর আগে কাউকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। তাই এবার নিয়ম করা হয়েছে, যাদের ২০ শতাংশের বেশি উপস্থিতি আছে তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এর কম উপস্থিতি আছে এমন অনেকের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একমাত্র সাদ্দামের জন্যই নিয়ম পরিবর্তন করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক সুবিধা নিচ্ছেন তিনি।

এদিকে চতুর্থ বর্ষের পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল (৪০৪) কোর্সেও ১৮টি ক্লাসের মধ্যে তাঁর উপস্থিতি দেখানো হয়েছে ১২টি। যদিও চতুর্থ বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সাদ্দাম কোনো কোর্সেই নিয়মিত ক্লাস করে না। তাঁকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্যই তাঁর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের এমন কর্মকাণ্ডে প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করছে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, ঢাবি কর্তৃপক্ষ এখন ফেল করা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জন্য বিশেষ কোটা সৃষ্টি করেছে। ছাত্রলীগ নেতাদের এখন আর পড়ালেখা করতে হবে না। দলীয় কোটাতেই তারা পার পেয়ে যাবেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে নৈতিক অবক্ষয়ঃ তবে কি কন্যাশিশুকে কবর দিতে হবে?


আমীর হামযা
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে উন্নয়নের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নৈতিক অবক্ষয়। সামাজে অপরাধপ্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। খুন, গুম, চুরি, অপহরণ ছাড়াও অতি সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ধর্ষণ। একটি সমাজে কতটা নৈতিক অবক্ষয় ঘটলে প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ে একাধিক নারী অথবা শিশুকে ধর্ষণের খবর, তা সহজেই অনুমেয়। সারা দেশে ধর্ষণপ্রবণতা মহামারী হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। চরিত্রের অবক্ষয় কেমন হলে ছোট ছোট মেয়েশিশু পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হতে পারে; ভাবলেই গা শিউরে ওঠে। দাঁড়িয়ে যায় শরীরের প্রতিটি লোম।

চার পাশের ‘সমাজ’ নামের আকাশটি অন্যায় অপরাধের কালো মেঘে ঢাকা পড়ছে। একের পর এক ধর্ষণের শিকার সব বয়সী নারী। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের অবস্থা বড়ই করুণ। দুর্বল ও অসহায় হওয়ায় বিকারগ্রস্তদের সহজ নিশানা তারা। এমনিতেই পুরুষতান্ত্রিক প্রচলিত সমাজে নারীর অবস্থা শোচনীয়। রাষ্ট্রে-সমাজে হীনবল হওয়ায় তাদের প্রতি যখন তখন নেমে আসে নিষ্ঠুর নির্যাতন। এ নিয়ে অনেকের অভিযোগ তুড়ি মেরে উঠিয়ে দেয়া যায় না। এ কথা ঠিক, দেশে নারী নির্যাতন কোন মাত্রায় বর্তমান; তা অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে। নির্যাতনের চিত্র ঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছি আমরা। এটি মোটা দাগে কথিত নারীবাদীদের দুর্বলতা।

এ দেশে ‘নারীবাদ’ এক ধরনের রোমান্টিকতায় মোড়ানো; মুগ্ধতার চাদরে ঢাকা। কেউবা পশ্চিমা অনুদান পেতে গৎবাঁধা স্লোগানে মুখর। এ অভিযোগ ষোলআনা ঠিক না হলেও অনেক বিষয়ে বাংলাদেশে নারীবাদী কর্মকাণ্ড কৃত্রিমতায় ভরা। ফলে দেশে নারীর স্বার্থে প্রকৃত সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠেনি। তাই লোক দেখানো এবং পাশ্চাত্যের অন্ধ আর উগ্র অনুকরণের দোষে দুষ্ট ‘নারীবাদী’ আন্দোলন। দেশে-সমাজে-রাষ্ট্রে নারীসমাজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে অপারগ তারা। এটি নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অন্তরায়। প্রমাণস্বরূপ বলা যায়, ধর্ষণের মতো জঘন্যতম অপরাধের বিরুদ্ধেও নারীসংগঠনগুলোর দায়সারা প্রতিবাদ জনমনে প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছে। অথচ বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। এটি সবার মনোযোগ ও সমর্থন পাওয়ার দাবি রাখে। এমনকি মিডিয়াও এ ইস্যুতে যথার্থ ভূমিকা রাখতে পারছে বলে মনে হয় না। এ ক্ষেত্রে সোস্যাল মিডিয়ার কথা আলাদা।

এ দিকে ধর্ষণের বীভৎস সব খবর পড়ে সংবেদনশীল ও বিবেকবান সবাই বিমূঢ়। তারা ভুগছেন তীব্র মানসিক যন্ত্রণায়। কিন্তু করার কিছু নেই, চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া। অপর দিকে, এ অপরাধ দমন করা যাদের দায়িত্ব; তারা সাধারণত নির্বিকার। রাষ্ট্রে যখন একটু একটু করে মানবিকতার রশি আলগা হতে থাকে, তখন অপরাধীরা হাত ফসকে বেরিয়ে যায়, অপরাধ যায় অবিশ্বাস্য গতিতে বেড়ে। তা ছাড়া, রাজনৈতিক বিবেচনায় অপরাধী শনাক্ত করার প্রবণতা ভয়ঙ্কর। আখেরে তা সবার ক্ষতির কারণ হলেও ক্ষমতাবান মতলববাজেরা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থে অবলীলায় অপরাধীদের মদদ দেয় বাছবিচারহীন ভাবে। ফলে দেশের সামগ্রিক জীবন হয়ে উঠছে দুর্বিষহ। অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও এখন বাস্তবতা তা-ই। অপছন্দ হলেও বাধ্য হয়ে এরই মাঝে আমাদের বসবাস।

একটি শান্তিময় সমাজে কন্যাসন্তানের জন্মের পর প্রত্যেক মা-বাবা স্বপ্ন দেখেন, মেয়ে একদিন সমাজ নামক আকাশে প্রজাপতি হয়ে পাখা মেলবে। উড়ে বেড়াবে সেই আকাশে। থাকবে তার বাধাহীন বিচরণ। কিন্তু ওড়ার আকাশটা যখন কালো মেঘে ঢেকে যায়, তখন? আদরের ছোট্ট প্রজাপতিকে কি আকাশে ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে? মেঘের সাথে টক্করে যদি তার পাখা ভেঙে যায়? মুখ থুবড়ে পড়ে মাটিতে? তবে কি প্রজাপতি ঘরেই বন্দী থাকবে? তাহলে তো সে আর উড়তে শিখবে না। ‘শুঁয়োপোকা’ হয়েই জীবন পার করে দিতে হবে। উপায় কী? এ প্রশ্নগুলো এখন গগনবিদারী আওয়াজে প্রতিধ্বনিত সর্বত্র। সব বয়সী নারী যেখানে অনিরাপদ, তখন এ বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে শুধু রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে থাকাই কি যথেষ্ট? নাকি নিজেদেরও ভাবতে হবে বিপদ উত্তরণের পথ?

কারণ, দেশে ধর্ষণের পরিসংখ্যান দেখে স্বাভাবিক থাকা অসম্ভব। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নিয়মিত মানবাধিকার প্রতিবেদনে শিশু ধর্ষণের যে হিসাব পাওয়া গেছে, তা রীতিমতো ভয়ঙ্কর। তাদের হিসাবে, ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশে মোট ধর্ষণের ঘটনা ছিল ৬৩০টি। এগুলোর অর্ধেকের মতো ঘটনার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর বয়স বলা আছে। দেখা যায়, তাদের বেশির ভাগের বয়স ১৮ বছর বা তার নিচে। আর ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার কারণে শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে ২১টি। তদুপরি ধর্ষণের শিকার সবচেয়ে বেশি হয়েছে ৭-১২ বছর বয়সী শিশুরা।

দেশের ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী বছরওয়ারি হিসাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত দুই হাজার ৮৩ জন নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে। গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১৩ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৬ জনকে। এ ছাড়া, ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় ১২৩ জনকে।

শুধু মাঠেঘাটে নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ঘটছে বীভৎস সব অপরাধ। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ই কেবল নয়, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদরাসাতেও ধর্ষণের মতো ধর্মপরিপন্থী জঘন্য অপরাধ ঘটতে দেখে মানুষজন হতভম্ব। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। এখানে নৈতিকতার বাঁধন প্রবল ও মজবুত থাকার কথা। এই প্রত্যাশা ও বিশ্বাস এখন অকার্যকর।

সবার একটাই প্রশ্ন, কেন সমাজে অপরাধপ্রবণতা এভাবে জেঁকে বসেছে? মানবিক সমাজ গড়তে এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দায় সবার। দায়িত্বে অবহেলা কিংবা গাফিলতির অবকাশ নেই। এড়িয়ে যাওয়ারও জো নেই। তাহলে পস্তাতে হবে সামাজিকভাবে। এতে সমাজ হয়ে উঠবে মানুষের বসবাসের অযোগ্য। যেমন উপযোগিতা হারিয়ে ছিল প্রাক-ইসলামী যুগে আরব সমাজে, যা ‘আইয়ামে জাহিলিয়াত’ (অন্ধকার যুগ) নামে অভিহিত। তৎকালীন আরবে দুর্বলরা ছিল ভয়াবহভাবে অসহায়। ওই সমাজে নারী ছিল নিছক ভোগ্যপণ্য। আর দুর্বল পুরুষেরা ছিল সেবাদাস। ইতিহাস পাঠে জানা যায়, তখন মেয়েশিশুর নিরাপত্তা দিতে না পেরে অসহায় বাবা-মা শিশুকন্যাকে জীবন্ত কবর দিতেন। দেশে ধর্ষণপ্রবণতা যেভাবে বাড়ছে; তাতে প্রশ্ন জাগে, আমাদেরও কি নিরাপত্তাহীনতার কারণে মেয়েশিশুকে জীবন্ত কবর দিতে হবে? এটি তো সমাধান নয়, আরেক ধরনের পৈশাচিকতা মাত্র।

এখন কোনো বাবা-মা কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দিতে চাইলে কন্যাভ্রূণ হত্যাই যথেষ্ট। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বদৌলতে মাতৃগর্ভে মেয়ে না ছেলেভ্রূণ, তা জানা এ যুগে মামুলি ব্যাপার। এর ব্যাপক চর্চা দেখতে পাই পড়শি দেশ ভারতে। সেখানে জাতপাতের যাঁতাকলে পিষ্ট অনেক দম্পতি সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই জেনে নেন, ছেলে না মেয়ে জন্ম নেবে। মেয়েভ্রƒণ হলে কন্যাশিশুর অনাগত ভবিষ্যৎ চিন্তায় যারপরনাই বিচলিত হয়ে বাবা-মা তাকে দুনিয়ার মুখই দেখতে দিতে নারাজ। অর্থাৎ ভ্রূণেই হত্যার শিকার হচ্ছে অগণন কন্যাশিশু। অনুকরণপ্রিয় আমাদের দেশে মেয়েভ্রূণ হত্যার অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ করা অবাঞ্ছিত হলেও অস্বাভাবিক নয়। মেয়েভ্রূণ হত্যা স্বাভাবিক, এমন একটি সমাজের কথা চিন্তা করলে চিত্রটি কী দাঁড়ায়? দেশের বর্তমান জনমিতির বিবর্তনে আগামী দিনের কাল্পনিক সমাজ হতে পারে এমন- যেখানে ছেলে-মেয়ের অনুপাত ১:১০। সে সমাজে ১০ পুরুষের ৯ জনকেই থাকতে হবে বিয়ে ছাড়া। এটা তো হতে দেয়া যায় না।

সমাজে অনাচার বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ভোগবাদী সংস্কৃতি। বিশ্বায়নের ফলে দেশে দেশে দ্রুত বস্তুসর্বস্ব ভোগবাদী অপসংস্কৃতির বিস্তার ঘটছে; তাতে আমরাও আক্রান্ত। প্রযুক্তির উৎকর্ষে এ যুগে দেশের তরুণ সমাজে সহজে অনুপ্রবেশ ঘটেছে ইন্টারনেট কালচার। এতে অনেকের নৈতিকতা-অনৈতিকতার ভেদরেখা মুছে গেছে। ঐতিহ্যবাহী পুরনো মূল্যবোধের বাঁধন আলগা হতে শুরু করেছে। দেখা দিয়েছে ক্রমবর্ধমান সামাজিক অস্থিরতা। এর জের ধরে সমাজে বেড়েছে পশুপ্রবৃত্তি। অন্য দিকে ভোগবাদের প্রাবল্যে ব্যক্তি কেবল ‘সুখের লাগি’ যেনতেনভাবে অর্থ উপার্জনে ব্যতিব্যস্ত। উপার্জিত অর্থে বিলাসিতায় মত্ত। এর প্রতিক্রিয়ায় পারিবারিক বন্ধনে ধরেছে চির। পারস্পরিক সম্পর্ক হয়ে পড়েছে ভঙ্গুর। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ‘সামাজিক ফাটল’। চার পাশে নিষ্ঠুরতা বেড়ে যাওয়ার জন্য এটিও দায়ী।

কে না জানে, ভোগবাদী সমাজ সব সময় যৌনতায় মোড়ানো। লাগামহীন লালসা পরিণত হয় অভ্যাসে। তা চরিতার্থ করতে লালায়িত দুর্বৃত্ত মন; যা বহুগুণে ব্যভিচার দেয় বাড়িয়ে। সমাজ অনাচারে যায় ছেয়ে। বৈশ্বিক অভিঘাতে আমরা সেই দিকে ধাবমান। আলামত স্পষ্ট। এর ধারাবাহিকতায় বাড়ছে ধর্ষণপ্রবণতা। এর মোকাবেলার উপায় কি কিছু নেই? হ্যাঁ, আছে। তবে উত্তরটি শুনলে ‘প্রগতিশীল’দের কপালে ভাঁজ পড়তে পারে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, কেবল আইন দিয়ে এ থেকে কোনো দিন মুক্তি মিলবে না। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ পশ্চিমা দুনিয়া। সেখানে আইনের কড়া শাসন বলবৎ থাকার পরও কোনো শহরে রাতে কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎ না থাকলে কত নারী যে ধর্ষণের শিকার হয়, তা বলা দুষ্কর। এ দুষ্টক্ষত থেকে বাঁচার টেকসই উপায় হলো, ইহজাগতিকতার বিপরীতে ঘুরে দাঁড়ানো। ঐশী বাণীর নিবিড় অনুসরণ। এতেই নিহিত রয়েছে চতুর্মাত্রিক পৃথিবীর বাইরে টেকসই জীবনের মূলমন্ত্র, যা অপ্রাপ্তিকে ভরে দেয় পূর্ণতায়। জীবন হয়ে ওঠে সফল ও পরিতৃপ্ত। তখনই কেবল আশা করা যায় অনাচার আর দুর্বৃত্তায়নের নিয়ন্ত্রণ।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ দেশের বিচার ব্যাবস্থা ধ্বংস করে এখন নিজেই ন্যায়বিচার খুঁজছেন সেই সিনহা!


সরকারের নির্দেশে নীতি নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে, সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াই সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বিচারের নামে প্রহসনন করে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। সেই বিচারপতি সিনহা নিজেই এখন ন্যায়বিচার চেয়ে আকুতি-মিনতি করছেন।

সম্প্রতি ফার্মার্স ব্যাংকের ৪ কোটি পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এ মামলা দায়েরের পরই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বেনার নিউজকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিচারপতি সিনহা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সিনহা বলেছেন, প্রধান বিচারপতি থাকতেই ন্যায় বিচার পাইনি। এখন কিভাবে আশা করি! তিনি এও বলেছেন, বাংলাদেশে ন্যায় বিচার আশা করা যায় না!

এখন প্রশ্ন হলো-প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নিজে কয়টি ন্যায়বিচার করেছিলেন? কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ নেতা ও বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে দেয়া ফাঁসির আদেশগুলো কি সঠিক ছিল? এসকে সিনহা কি তখন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এসব রায় বহাল রেখেছিলেন? মোটেও না। বরং তিনি নিজেই ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন কয়টা ফাঁসির রায় দিয়ে দেন।

সরকারের কথিত ট্রাইব্যুনালের সবচেয়ে বড় কেলেংকারি ছিল স্কাইপির কথোপকথন ফাঁস। স্কাইপে সিনহা বাবু সেদিন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিজামুল হক নাসিমকে বলেছিলেন, ৩টা রায় দিয়া লন। আপনাকে এখানে (আপিল বিভাগে) নিয়া আসি!

সিনহা বাবু আজ ন্যায়বিচার খুঁজছেন। সেদিন ৩টা ফাঁসির রায় দেয়ার নির্দেশ দেয়া কি ন্যায়বিচার ছিল?

দেখা গেছে, আবদুল কাদের মোল্লার মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী হিসাবে সরকার হাজির করেছিল কথিত মোমেনা বেগমকে। এই মোমেনা বেগম ৩ জায়গায় একই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ৩ রকমে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে বলেছেন, ঘটনার সময় তিনি শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন। পরবর্তীতে মানুষের কাছে শুনেছেন। এরপর তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে। এখানে তিনি বলেছেন, তাঁর বয়ষ ১২-১৩ ছিল। ঘটনার সময় ছোটবোনকে নিয়ে খাটের নিচে ট্রাঙ্কের পেছনে লুকিয়ে ছিলেন। তবে আবদুল কাদের মোল্লাকে দেখেছেন এমন কথা বলেননি। বলেছেন মানুষের কাছে শুনেছেন তিনি। তৃতীয়বার তাঁকে দিয়ে বলানো হয়েছে ট্রাইব্যুনলের ক্যামেরা ট্রায়ালে। প্রশ্ন হচ্ছে, খাটের নিচে ট্রাঙ্কের পেছনে লুকিয়ে থাকা ১২-১৩ বছরের একজন কিশোরী ৪০ বছর আগে দেখা চেহারা কিভাবে চিহ্নিত করলেন? ট্রাঙ্কের পেছনে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তি কিভাবে দেখলেন! এর মধ্যে তার কোন বক্তব্যটি সত্য? মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরকে দেয়া বক্তব্য? তদন্ত কর্মকর্তাকে দেয়া বক্তব্য ? নাকি ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষ্য দেয়ার সময় দেয়া বক্তব্য? এক ব্যক্তির একই ঘটনায় ৩টি বক্তব্য থেকে একটাকে সত্য হিসাবে ধরে নেয়ার বিচারের মাপকাঠি কি ছিল? এই মোমেনার বিতর্কিত বক্তব্যের স্বাক্ষ্য থেকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসির নামে হত্যার রায় দিয়েছিলেন সিনহা বাবু! এটা কি ন্যায় বিচার হয়েছিল?

এসকে সিনহা মীর কাসেম আলীর আপিলের রায়ের আগে বলেছিলেন, ফাঁসি দেয়ার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থিত করতে পারেনি। তারপরও আপনি মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় বহাল রেখে ছিলেন। এটা কি ন্যায়বিচার ছিল?

ঠিক একইভাবে জামায়াতের অন্যান্য শীর্ষনেতাদের ক্ষেত্রে সিনহা বাবু সরকারের নির্দেশে ফরমায়েশি রায় দিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সিনহা বলেছেন, বাংলাদেশে এখন ন্যায়চিবচার আশা করা যায় না।

সিনহার এমন মন্তব্যে সাধারন মানুষ বলছেন, এদেশে একদিন ন্যায়বিচার ছিল। আপনি যেদিন থেকে প্রধান বিচারপতির চেয়ারে বসেছিলেন, সেদিন থেকেই বাংলাদেশের ন্যায়বিচারের পরিসমাপ্তি ঘটে। সেদিন থেকেই এদেশের বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস হতে শুরু হয়। আর বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আপনি নিজেই। আর আজ বলছেন, বাংলাদেশে ন্যায়বিচার আশা করা যায় না।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-লুটপাটের কথা স্বীকার করলেন শেখ হাসিনা!


বিগত ১০ বছর ধরে কথিত বায়ুবীয় উন্নয়নের নামে সারাদেশে শত শত প্রকল্প উদ্বোধন করে যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তারা লুটপাট করতেছে এনিয়ে প্রায় দিনই গণমাধ্যমগুলোতে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। শুধু বড় বড় প্রকল্পই নয়, টিআর-কাবিখা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দেয়া গরীবের ত্রাণের টাকাও লুটে নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এক সময় আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী ঠিক মতো তিন বেলা খেতো পেত না ১০ বছরের ব্যবধানে তারা এখন শত কোটি টাকার মালিক। বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে।

যুবলীগের একনেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট, নুর নবী চৌধুরী শাওন, আ.লীগ নেতা শাহে আলম মুরাদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাসিম, মোফাজ্জল চৌধুরী মায়া, এ কে এম রহমতুল্লাহ, মো. নাসিমসহ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা এখন সবাই শত থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক।

তারপর সুইচ ব্যাংকের দেয়া তথ্য মতে, প্রতিবছরই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচারের পরিমাণ বাড়ছে। অনুসন্ধান বলছে, এসব টাকা পাচারের সাথে যারা জড়িত তারা অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও ব্যবসায়ী। এমনকি, দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত দুর্নীতি, লুটপাট ও টাকা পাচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারপরেও শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় দুর্নীতি-লুটপাটের দায় বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে থাকেন।

তবে, দেশের কথিত উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি-লুটপাট এখন এমন একপর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যার কারনে শেখ হাসিনা নিজেও এখন বিরক্ত। এমনকি, এতদিন দুর্নীতির কথা অস্বীকার করলেও শেখ হাসিনা এখন নিজেও স্বীকার করেছেন যে দুর্নীতি হচ্ছে।

শনিবার গণভবনে বিভিন্ন মন্ত্রণায়গুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যেই বলেছেন-দুর্নীতি যেন উন্নয়নগুলোকে খেয়ে না ফেলে। দুর্নীতির কারণে যে উন্নয়ন কাজগুলো ব্যাহত না হয়। দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হলেও সেটা হবে দুঃখজনক।

তাই সচেতন মহল বলছে, শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, কথিত উন্নয়নের নামে চালু করা প্রকল্পগুলোতে ব্যাপকভাবে দুর্নীতি লুটপাট হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এসব দুর্নীতি লুটপাট কারা করছে? প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব তো আর বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতে নয়। সবগুলোর প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা। সুতরাং দুর্নীতি-লুটপাট তারাই করছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here