ভয়ঙ্কর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়া ও দালালদের লোভনীয় ফাঁদ

0
308

ভয়ঙ্কর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার প্রবণতা বেড়েই চলছে। নিশ্চিত বিপদ জেনেও দালালদের লোভনীয় প্রস্তাব আর স্বপ্ন পূরণে যুব সমাজ ওই পথেই পা বাড়াচ্ছে। ফলে স্বপ্ন পূরণ তো দূরের কথা, দালালদের খপ্পরে পড়ে সব খুইয়ে অনেকেই নিঃস্ব হচ্ছেন। আবার গভীর সাগরে ডুবে মরায় অনেক মায়ের কোল খালি হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল অগ্রানাইজেশন টু মাইগ্রেশন (আইওএম) মতে, অবৈধভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করতে গিয়ে গত আড়াই বছরে ভুমধ্যসাগরে ৫ হাজার ৮৮১ জন ব্যক্তির সলিল সমাধি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে ৩ হাজার ১৩৯ জন, ২০১৮ সালে ২ হাজার ২৯৯ জন ও ২০১৯ সালের ৮ই মে পর্যন্ত ৪৪৩ জনের প্রাণহানী হয়েছে। অভিবাসন বিশেজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলোতে শ্রমবাজার সংক্ষিপ্ত, মানব পাচার আইনের প্রয়োগ না থাকা ও বেকারত্ব সমস্যার কারণে উন্নত জীবনের আশায় জীবন ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ বছরে এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি অবৈধভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করেছেন।

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) বাংলাদেশ থেকে ইতালির অনিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়ার ওপর এক গবেষণায় উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ থেকে ভূমধ্যসাগর ব্যবহার করে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর তালিকায় ২০১৭ সালের প্রথম ভাগে অবস্থান করে। এছাড়া আইওএমের মতে, এ বছরের শুরু থেকে ৮ই মে পর্যন্ত ১৭ হাজারের বেশি অভিবাসন প্রত্যাশী সাগরপথে ইউরোপে ঢুকেছে। এসময়ের মধ্যে সাগরে নিখোঁজ হয়েছেন ৪৪৩জন। ইতালি অভিমুখী অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্য বাংলাদেশীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ইউএনএইচসিআর এর হিসাব মতে ভুমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে যারা ইতালি প্রবেশের চেষ্টা করেন তাদের মধ্যে রয়েছে, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া, ইরাক ও বাংলাদেশ। নৌপথে ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবেশের শীর্ষে বাংলাদেশীদের অবস্থান। এই সংস্থার দেয়া তথ্য মতে গত সাত বছরে সাগরপথে ইউরোপ যেতে গিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ৬ হাজার ৯০৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আর নিখোঁজ রয়েছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেশ কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানিতে কড়াকড়ি চলছে। আবার কিছু দেশে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক রপ্তানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব দেশ শ্রমিক নিচ্ছে সেসব দেশের ভিসা চওড়া দামে কিনতে হচ্ছে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যর প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে বাংলাদেশি শ্রমিকরা। পাশাপাশি বিভিন্ন ট্র্যাভেলস এজেন্সির মালিকদের ব্যবসা ঝিমিয়ে পড়েছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দালাল চক্র সক্রিয় হয়েছে। মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর জন্য দেশে বিদেশে অন্তত শতাধিক গডফাদার রয়েছে। মানবপাচারকারী, স্বর্ণ চোরাচালানকারী ও ট্র্যাভেলস এজেন্সির ব্যবসায়ীরা মিলে এই সিন্ডেকেট তৈরি করেছে। শুধু বাংলাদেশ নয় আশেপাশের অনেক দেশের মানুষই এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি পর্যন্ত সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য রয়েছে। তারা বেকার যুবক, বিদেশ ফেরৎ শ্রমিক ও কম খরচে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক মানুষদের টার্গেট করে। দালালরা ইউরোপ যাওয়ার জন্য আগ্রহীদের সঙ্গে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা চুক্তি করে। আর মধ্যপ্রাচ্য যেতে আগ্রহীদের কাছে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা নেয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় বেশিরভাগ সময় সমুদ্র পথ ব্যবহার করা হয়। আগ্রহীদের সুদান, মিশর, আলজেরিয়া, দুবাই, জর্ডান হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে রাখা হয়। লিবিয়া থেকে তাদের ভুমধ্যসাগর দিয়ে ছোট-বড় নৌকা দিয়ে ইউরোপের দেশ ইতালি পৌঁছানোর আশ্বাস দেয় দালালরা। আবার রুট পরিবর্তন করে তুরস্ক দিয়েও গ্রিস স্পেন পৌঁছানো হয়। আর যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশ করানোর জন্য পেরু, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, থেকে গুয়েতেমালা, বেলিজসহ ক্যারিবীয় বিভিন্ন দ্বীপ ব্যবহার করা হয়।

অভিবাসন বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্স ইউনিটের (রামরু) প্রধান নির্বাহী পরিচালক ড. সি আর আবরার মানবজমিনকে বলেন, মানবপাচার আইনটি যথেষ্ট শক্তিশালী। তবে কার্যকারীতার দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। সড়ক দুর্ঘটনা, ধর্ষণ, জঙ্গিবাদ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সচেষ্ট। কেন তাহলে মানবপাচার রোধে দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এই দিক থেকে অতিদ্রুত সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন। রামরুর চেয়ারম্যান ড. তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, আমাদের আইন আছে প্রয়োগ নেই। তাই নিশ্চিন্তে কাজ করে যাচ্ছে দালালরা। আর তাদের খপ্পরে পা দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। এটি রুখতে তিন ধরণের পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় আনতে হবে পরিবর্তন। কর্মমূখী শিক্ষার হার না বাড়লে বাড়তে থাকবে কর্মহীনতা। শুধু তাই নয় কর্মমূখী শিক্ষা বৃদ্ধি পেলে বৈধভাবেও তাদের বিদেশ যাওয়া সহায়ক হয়ে। কারণ বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দক্ষ শ্রমিকের। আর তৃতীয়ত আইন যতোদিন কার্যকর হবে না ততোদিন মানবপাচার রোধ করা কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।

অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত শতাধিক ব্যক্তির একটি তালিকা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখায়। স্বল্প খরচে ইউরোপের দেশে যাওয়ার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। তাদের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে শতশত মানুষ। এসব ব্যক্তিদের সঙ্গে দেশ-বিদেশের আলাদা আলাদা সিন্ডিকেটের যোগসূত্র রয়েছে। গতবছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা থেকে ১০৯ জনের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ)। পরে তাদের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে পাওয়া গেছে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য। একই ব্যক্তির নামে রয়েছে একাধিক ব্যাংক হিসাব। কোন কোন অ্যাকাউন্ট আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে করা হয়েছে। বাস্তবে এসব হিসাবে যে লেনদেন হয়েছে সেটা প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের সঙ্গে কোন মিল পাওয়া যায়নি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এসব ব্যক্তিদের নজরদারিতে রেখেছে। বিভিন্ন সময় তাদের সহযোগীরা গ্রেপ্তার হলেও তারা অধরাই থেকে যায়।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও মানব পাচারকারীদের নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। তারা বলছেন, মানবপাচারে জড়িত বড় ধরনের শতাধিক চক্র বেপরোয়া। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ঘরের বেকার মানুষেরা এসব চক্রের পাল্লায় পড়ে সর্বস্ব খোয়াচ্ছে। কম খরচে ইউরোপের মত দেশে গিয়ে বেশি আয়ের লোভ দেখানো হচ্ছে। আর এই লোভনীয় সুযোগ নিতে গিয়ে অনেকেই বিপদগামী হচ্ছে। কিন্তু ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার পর দালাল ও তাদের সহযোগীদের আসল চেহারা ফুটে উঠে। অমানবিক ও বর্বর নির্যাতন শুরু হয় ইউরোপগামীদের ওপর। চুক্তি ভিত্তিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার বাইরে আদায় করে নেয়া হয় আরো ৫ থেকে ৭ লাখ। টাকা পরিশোধ করেও অনেকে ইউরোপে গিয়ে পৌঁছাতে পারেন না। বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে তাদের নিয়ে রাখা হয় দালালদের নিজস্ব বন্দিশালায়। সেখানে নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে করা হয় টর্চার। আদায় করা বাড়তি টাকা।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দালালরা লিবিয়া নিয়ে তাদের আস্তানায় আটকে রেখে অনেকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। মারধর ও নির্যাতন করে চুক্তির টাকার চেয়ে বাড়তি টাকাও আদায় করে। যারা টাকা দিতে অপরাগতা দেখায় তাদের ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। টাকা না দেয়া পর্যন্ত তাদেরকে মাসের পর মাস আটকে রাখা হয় আর চলে নির্যাতন। অর্ধাহারে-অনাহারে এক সময় ইউরোপগামীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের কোন রকম চিকিৎসাও করানো হয় না। মারধর করে দেশে স্বজনদের কাছে ফোন করানো হয়। স্বজনরা যখন দালালদের চাহিদা মত টাকা পরিশোধ করে তখন মারধর কম করা হয়। আবার অনেককে গুলি করে মেরে ভুমধ্যসাগরে ফেলে দেয় দালালরা। দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন এমন লোকরা ভয়ংকর এসব তথ্য জানিয়েছেন। লিবিয়া থেকে ছোট নৌকা দিয়ে ইউরোপের দেশে রওয়ানা হওয়ার সময় অনেকের জীবনে নেমে আসে মৃত্যু। কেউ কেউ ভুমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউ দেখে ভয়ে হার্টঅ্যাটাক করে মারা যান। ছোট নৌকা দিয়ে ভুমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার সময় নৌকা ডুবে অনেকের মৃত্যু হয়। আবার অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমন অবস্থায় ঝামেলা এড়াতে দালালরা অসুস্থ ব্যক্তিদের সাগরের জলে ফেলে দেন। আবার অনেক সময় লিবিয়ার কোস্ট গার্ড অবৈধভাবে প্রবেশ করা এসব বাংলাদেশীদের আটক করেন।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের প্রধান শরিফুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ইউরোপে যাবার প্রবণতাটা লক্ষ্য করা যায় মূলত যাদের পরিবারের বা চেনা পরিচিত কেউ সেসব দেশে রয়েছেন। তারা ইউরোপের দেশগুলোতে যাবার ইচ্ছা পোষণ করে কিন্তু যেতে পারে না। তখনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দেয় ভূমধ্যসাগর। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ওপর যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে তার জন্যেও সাগর পাড়ি দেবার প্রবণতা কিছুটা রয়েছে।

অভিবাসন বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্স ইউনিট (রামরু) দেয়া তথ্যানুযায়ী ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশী বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। সেই বছর ১০ লাখ শ্রমিক বিভিন্ন উপায়ে পাড়ি দেয় বিভিন্ন দেশে। ২০০৭ সালে পাড়ি জমিয়েছিলো প্রায় সাড়ে ৮ লাখের বেশি শ্রমিক। এছাড়াও ২০০৭ ও ২০০৮ প্রায় ৮ লাখ। ২০০৯ ও ২০১০ সালে ৪ লাখ। ২০১১ ও ২০১২ সালে ৬ লাখ। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ৪ লাখ, ১৫ সালে প্রায় ৬ লাখ। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে প্রায় ৮ লাখ শ্রমিক। ২০১৮ পর্যন্ত বিদেশে পাড়ি দেয়া বাংলাদেশের জেলার মধ্যে কুমিল্লা রয়েছে সব থেকে এগিয়ে। এই জেলা থেকে সর্বাধিক ৮.৭০ শতাংশ মানুষ পাড়ি দিয়েছে বিদেশে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া ৫.৬০ শতাংশ।

আর তৃতীয় অবস্থানে টাঙ্গাইল ৫.৫৬ শতাংশ মানুষ। রামরু প্রবাসীদের কাছ থেকে আসা রেমিটেন্সের ওপর গবেষণা করেছে। এতে দেখা যায় ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের মোট রেমিটেন্স ছিলো ২৩.৭১ মিলিয়ন ডলার যা ২০১৮ সালে এসে দাঁড়ায় ১৫.৫৪ বিলিয়ন ডলারে। ২০১৮ সালের এক হিসেবে উঠে আসে মোট রেমিটেন্সের ১৮.১৪ শতাংশ এসেছে সৌদি আরব থেকে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৫.৬৪ শতাংশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২.২৩ শাতংশ। রামরু ২০১৭ সালে সাগর পথে দালালের সহযোগীতায় বিদেশে পাড়ি জমানো চেষ্টা করা ২ হাজার ১৫৫ জনকে নিয়ে এক গবেষণা দাঁড় করায়। তাতে দেখা যায়, এদের সাগর পথে সৌদি আরবে ৬৫৮ জন, মালশিয়ায় ৪৩৩ জন আর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪০৪ জন যাবার চেষ্টা করেন। এছাড়াও বাকীরা পাড়ি জমায় ইরাক, কাতার, কুয়েত, লিবিয়া, সিঙ্গাপুর মালদ্বীপ, ওমান, জর্ডান, বাহরাইন, লেবানন, ব্রুনাই, মিশর, লাউস ও থাইল্যান্ডে। এর মধ্যে ৪৯ শতাংশ অর্থ্যাৎ ১ হাজার ৫৬ জন প্রতারণার শিকার হননি। ৬৯০ জন প্রতারণার শিকার হয়েছে কিন্তু তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। আর বাকী ৪০৯জন টাকা দিয়েও যেতে পারেননি গন্তব্যে।

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) চেয়ারম্যান সাকিরুল কবির মানবজমিনকে বলেন, আমাদের সুন্দর একটি আইন আছে। তবে এটি বাস্তবায়নে প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। আর প্রশাসনের পদক্ষেপের অভাবেই এই অন্যায়টা করে যাচ্ছে একটি ভয়ংকর চক্র। আর সাধারণ মানুষদের ফেলছে মহা বিপদের মাঝে।

ওয়ারররি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক মানবজমিনকে বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে কারণ দেশে তার কর্মসংস্থান নাই। আর দেশে কর্মসংস্থান না থাকায় উন্নত জীবনের বাজি রাখছে জীবন। এটি বন্ধে সোচ্চার হতে হবে সরকারকে। দেশে ব্যবস্থা করতে হবে কর্মসংস্থানের।

উৎসঃ ‌‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! (ভিডিও সহ)


পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হল আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের মুসলমানরা শত শত বছর ধরে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামিক কালচার অনুযায়ী জীবন যাপন করে আসছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এদেশের মুসলমানরা ইসলামি পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করেন। তারপরও পাশ্চাত্যের গোলাম হিসেবে পরিচিত কিছু নামধারী মুসলমান এদেশের মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্যের নোংরা সংস্কৃতি ঢোকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। নেকাব ও হিজাবধারী স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারীদেরকে তারা ধর্মান্ধ বলে গালি দিয়ে থাকে। নেকাব ও হিজাব পরার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রীদেরকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আধুনিকতার নামে উলঙ্গ সংস্কৃতির অনুসারীরা প্রায় সময়ই নেকাব ও হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে থাকে। টেলিভিশনের টকশোতে তারা হিজারধারী নারীদেরকে নিয়ে নানা রকম বাজে মন্তব্য করে থাকে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো- এখন রাষ্ট্রের অভিভাবক শেখ হাসিনা নিজেও নেকাবধারী নারীদেরকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে পায়ে মোজা পরা ও নেকাব দিয়ে চোখ-মুখ ঢেকে রাখা নারীদেরকে কটাক্ষ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে এসএ টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজা প্রশ্ন করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আমাদের নারীদের বিরুদ্ধে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে, ধর্মীয় সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। এদের ব্যাপারে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন এবং রাষ্ট্র কি ব্যবস্থা নিতে পারে?

জবাবে শেখ হাসিনা অনেক বয়ান করেছেন। হযরত খাদিজা ও আয়েশার জীবন কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তারা নারী হয়েও যুদ্ধ করেছেন। ওই সময় নারীরা অনেক ক্ষমতাধর ছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের বয়ান করলেন। বললেন- আমরা নারীদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন পাইলট আছে আমার নারী, আর্মি অফিসার আছে আমার নারী, মেজর আছে আমার নারী। আমি নারীদেরকে সবখানে তুলে নিয়ে আসছি। এটাই তাদের জবাব।

এরপর কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দাঁড়ালেন প্রশ্ন করতে। ওই সময় শেখ হাসিনা নারীদের প্রসঙ্গে আবার বললেন, হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢাইক্কা এটা কি? জীবন্ত tent (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটারতো কোনো মানে হয় না।

সচেতন মানুষও মনে করছেন, শেখ হাসিনা এখানে সরাসরি নেকাব ও হিজাবধারী নারীদেরকে অপমান করেছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার অধিকার একজন মুসলিম নারীর আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা একটি মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাত মোজা, পা মোজা ও নেকাব পরিধান করে নাক-চোখ ঢেকে রাখাকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশের মুসলিম নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌আওয়ামী লীগ নেতা ও পুলিশের সঙ্গে রফা দফায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিজিএফের চাল হয়ে গেল সাধারণ ব্যবসায়ীর!


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ট্রাকভর্তি ১৪৯ বস্তা (সাড়ে পাঁচ টন) চালসহ তিন ব্যক্তিকে শুক্রবার (৭ জুন) রাতে আটকের ২৪ ঘণ্টা পর পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর বাজার থেকে দুস্থ মানুষদের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের সন্দেহে এসব চাল আটক করা হয়েছিল। পরে তা সাধারণ ব্যবসায়ীর চাল বলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে নাসিরনগর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এই চালের সঙ্গে জড়িত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, আটকের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার শনিবার রাতে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়। পরে ট্রাকটি থানা থেকে রাত ১০টার পর ছাড়পত্র পায়। এ প্রসঙ্গে জানতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হাকিম রাজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ার বিষয়ে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আকাশে অনেক কথা ওড়ে। সব কথা সত্য নয়। খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ভিজিএফের চাল নয় বলে নিশ্চিত হওয়ার পরপরই চালভর্তি ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়।’

দুপুরে খাদ্য বিভাগ ছাড়পত্র দেওয়ার পর গভীর রাতে কেন ট্রাকটি ছাড়া হলো? এ প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে পারেননি ওসি।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শামীম আহমেদ বলেন, ‘ভিজিএফের চাল ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যানদের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব। চাল বিতরণে অনিয়ম হলে সেটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।’

ইউএনও সাইফুল কবিরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘চাল বিতরণে অনিয়ম হয়েছে কিনা এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। সবই গুজব।’

তাহলে একজন সাধারণ ব্যবসায়ীর চাল কেন ২৪ ঘণ্টা পর ছাড়া হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, ‘এ ব্যাপারে ওসি সাহেবকে জিজ্ঞাসা করুন। কোথাও চাল নিয়ে অনিয়ম হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর সড়ক বাজার থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভিজিএফের সন্দেহে ট্রাকভর্তি চাল আটক করে পুলিশ। এ সময় গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছোয়াব আহমেদের চাচাতো ভাই নূরপুর গ্রামের বজলু মিয়ার ছেলে মো. আলাউদ্দিন (৪৫), একই গ্রামের বাসিন্দা ট্রাকচালকের সহযোগী মাসুক মিয়া (২২) এবং একই ইউনিয়নের পাঠানিশা গ্রামের ট্রাকচালক মিজান মিয়াকে (৩৮) আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন নাসিরনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পঙ্কজ দেবনাথ।

এ সময় আটককৃত চালের মালিক মো. আলাউদ্দিন ও মাসুক মিয়া জানান, তারা খোলা বাজার থেকে চালগুলো কিনেছেন। ভিজিএফের চাল কিনা সেটা তারা জানেন না। চালগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছে– এ নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সঠিক কোনও তথ্য উদ্ঘাটন করতে পারেননি পুলিশ। পরে এ সম্পর্কে জানতে নাসিরনগর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামিউল আলিমকে ডাকা হয়। শনিবার দুপুরে থানায় এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর এসব চাল ভিজিএফের নয় বলে পুলিশকে নিশ্চিত করেন তিনি। এ সময় পুলিশ সামিউল আলিমের কাছ থেকে স্বাক্ষরযুক্ত ক্লিয়ারেন্স কপি রেখে দেয়।

উৎসঃ ‌‌‌বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রদলের কাউন্সিল উপলক্ষে তিন কমিটি গঠন


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের কাউন্সিল উপলক্ষে ৩টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো হলো নির্বাচন পরিচালনা, বাছাই ও আপিল কমিটি।

রোববার রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনকে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, এবিএম মোশাররফ হোসেন, শফিউল বারী বাবু, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, রাজিব আহসান।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনকে বাছাই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আবদুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশিদ হাবিব ও আকরামুল হাসান।

আর আপিল কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিএনপির ভাইসচেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, ড. আসাদুজ্জমান রিপন, আমান উল্লাহ আমান।

ঈদের আগে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে দ্রুত কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌পুলিশের উপর ছাত্রলীগের হামলা, ক্যাম্প ইনচার্জসহ আহত ৫


নরসিংদীর পলাশে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সভাপতি শেখ মোহাম্মদ রাজনসহ ৬ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় রোববার বিকালে উপজেলার চরসিন্দুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই প্রদীপ কুমার দাস বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করলে তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন পলাশ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ রাজন (৩২), লাল মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (২৫),আবু সাইদ ভূইয়ার ছেলে শফিকুল ভূইয়া (২৪), মোবারক মোল্লার ছেলে জাহির (১৯), কাজল মিয়ার ছেলে শুভ মিয়া (২০) ও রাজন (২৭)। তারা সবাই চরসিন্দুর ইউনিয়ের বাসিন্দা।

পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় পলাশের চরসিন্দুর-মোক্তারপুর সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাইয়ুম মিয়াসহ কয়েকজন ঘুরতে যায়। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন পলাশের ছাত্রলীগের সঙ্গে গাজীপুরের কাপাসিয়া ছাত্রলীগ নেতা কাইয়ুমের কথা কাটাকাটি হয়।

এ ঘটনায় কাপাসিয়া ছাত্রলীগের সভাপতি পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগের দারস্থ হন। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় পলাশ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ মো. রাজন উভয় পক্ষকে নিয়ে মীমাংসা করতে বসেন। বৈঠকের এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ সভাপতি রাজন স্থানীয় হৃদয় নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে শাসন করেন।

এ সময় চরসিন্দুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই প্রদীপ কুমার দাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছাত্রলীগের সভাপতিকে মারধরে বাধা দেয়। এছাড়া উপস্থিত নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করেন।

এতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে ধাওয়া করে। এ ঘটনায় পুলিশ রাতে সভাপতি শেখ মোহাম্মদ রাজন, ছাত্রলীগ নেতা সুমন, শফিকুল, রাহিম, শুভ ও রাজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পরে রোববার দুপুরে এসআই প্রদীপ কুমার দাস বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামি করে পলাশ থানায় একটি মামলা দায়ের করে আটককৃতদের গ্রেফতার দেখান। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাদের নরসিংদী জজ আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। পরে আদালত গ্রেফতারকৃতদের কারাগারে পাঠায়।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ শাহীন বলেন, পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কিন্তু পুলিশ ছোট ঘটনাটিকে বড় করে উপস্থাপন করে মামলা দিয়েছে।

পলাশ থানার ওসি মকবুল হোসেন মোল্লা যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রলীগের সভাপতি এক ছেলেকে ধরে মারধোর করছিল। সেখানে চরসিন্দুর পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা বাধা দিলে ছাত্রলীগের সভাপতি রাজনের প্ররোচণায় তার অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করেছে। এ ঘটনায় এসআই প্রদীপ কুমার দাস বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌দূরত্ব ঘুচিয়ে ও ‘ভুল বোঝাবুঝি’ নিরসন করে ফের রাজপথে সক্রিয় হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট


দূরত্ব ঘুচিয়ে ও ‘ভুল বোঝাবুঝি’ নিরসন করে ফের রাজপথে সক্রিয় হচ্ছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বৈঠকে বসছেন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। আগামীকাল সোমবার জেএসসি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় মিলিত হবেন তারা। আড়মোড়া ভেঙে পুনর্নির্বাচন দাবিতে রাজপথ কাঁপানোর কর্মসূটি নেয়া হতে পারে নেতাদের এ বৈঠক থেকে।

এর আগে আজ রোববার সন্ধ্যায় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের মতিঝিল কার্যালয়ে জোটের শরিক দলের নেতারা একদফা বসবেন। তবে এটিকে ‘অনানুষ্ঠানিক বৈঠক’ বলে দাবি করছে জোট।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এ বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোটের শরিকদের মধ্যে নানা ইস্যুতে সৃষ্ট সংকট, দূরত্ব এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করা হবে। জোট ত্যাগে আলটিমেটাম দেয়া কাদের সিদ্দিকীকে নিবৃত করার চেষ্টা করা হবে। আলোচনা হতে পারে নতুন কর্মসূচি নিয়েও।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন এবং সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা জোটটি নির্বাচনে মাত্র আটটি আসনে জয়লাভ করে।

নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল বর্জনের পাশাপাশি শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু একপর্যায়ে গণফোরামের দুই এমপি শপথ নিয়ে নেন। নানা নাটকীয়তার পর বিএনপি মহাসচিব ছাড়া দলটির বাকি ৫ সংসদ সদস্যও শপথ নিয়ে নেন। জোটের শরিকদের না জানিয়ে বিএনপি ও গণফোরাম এককভাবে সিদ্ধান্ত বদল করায় সৃষ্টি হয়েছে দূরত্ব। এ নিয়ে ফ্রন্টের শরিকদের অনেক নেতা প্রকাশ্যে সমালোচনাও করেন। এসব কারণে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত আর মাঠে দেখা যায়নি ঐক্যফ্রন্টকে।

জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মসূচি না থাকা এবং বিএনপি ও গণফোরামের সদস্যদের সংসদে যোগদান নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভেতরে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পাশাপাশি বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ এবং জোটের আরেক শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর জোট ছাড়ার আলটিমেটামের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে। ফলে কার্যত থমকে দাঁড়ায় জোটের যাবতীয় কর্মকাণ্ড।

জানা গেছে, এ অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দীর্ঘদিন পর বৈঠকে বসছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। এর আগে তারা ঘরোয়াভাবে কয়েক দফা বসেছেন, কথাও বলেছেন নিজেদের মধ্যে। প্রথমে ১২ জুন বৈঠক ডাকা হলেও পরে তা এগিয়ে ১০ জুন নির্ধারণ করা হয়।

ঈদের পর দিন এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন জানান, ঐক্যফ্রন্ট ভাঙছে না, জোটের পরিধি আরও বাড়বে। পাশাপাশি রাজপথে সক্রিয় হওয়ার ঘোষণা দেন ড. কামাল হোসেন।

সেই প্রস্তুতি হিসেবে সোমবারের বৈঠক বলে জানিয়েছেন জোট সংশ্লিষ্ট নেতাদের। এতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিগত দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বাকি চার দলের একটি বিশেষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক গণফোরামের একাধিক নেতা জানান, জোটের শরিকদের মধ্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর আলটিমেটামকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ৯ মে কাদের সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ৮ জুন পর্যন্ত আলটিমেটাম দেন। এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের এমপিরা কেন শপথ নিলেন এ বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব না পেলে তিনি জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করবেন বলেও জানান।

যদিও এই আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই গত সোমবার রাতে ড. কামাল হোসেনের আহ্বানে তার বেইলি রোডের বাসায় যান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। ওই বৈঠকের পর ড. কামাল হোসেন তার দলের কয়েকজন নেতাকে জানিয়েছেন, কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে, এতে তিনি সন্তুষ্ট। জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও দুদিন সময় নিয়েছেন কাদের সিদ্দিকী।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে গণফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুর বারী হামীম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, আলোচনা সন্তোষজনক।’

এ বিষয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপির সংসদে যোগদান, বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ, গণফোরামের মোকাব্বির খানকে তাদের বিশেষ কাউন্সিলে অংশ নিতে দেয়ার সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে আমরা প্রশ্ন রেখেছি। আমরা জানি না এসব সিদ্ধান্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নাকি বিএনপির।’

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য ধরে রাখতে বিএনপির আন্তরিকতার কমতি নেই। এ বিষয়ে ড. কামাল হোসেনও ইতিবাচক। ঈদের পর দিন দলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে আগামী দিনের আন্দোলন সংগঠিত করার আহ্বান জানান। ডিসেম্বরের মধ্যে ফল আনতেও তাগাদা দেন ড. কামাল হোসেন। এর অংশ হিসেবেই অভ্যন্তরীণ সংকট দূর করে নিজেদের ঐক্য সুসংহত করার পাশাপাশি নয়া উদ্যমে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গৃহবিবাদ দূর করতে কাজ করছেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। তিনি বলেন, সমস্যা তো কিছু আছে। এগুলো বৈঠকেই ঠিক হয়ে যাবে আশা করি।

ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম সদস্য ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, সোমবার আমাদের মিটিং আছে। সবকিছু মিটমাট হয়ে যাবে আশা করি।

বিএনপির দায়িত্বশীলরা বলছেন, বিএনপি যেকোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য টিকিয়ে রাখার পক্ষে। দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য অটুট রাখার পক্ষে। তিনি নির্বাচনের আগে যেমন ঐক্যের পক্ষে সম্মতি দিয়েছিলেন, সে পথ থেকে তিনি সরে যাননি। বৈঠক হলেই ঐক্যফ্রন্টের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করছে দলটি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। প্রশ্ন উঠলে তিনি উত্তর দেবেন— এ প্রস্তুতি তার রয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ঐক্যফ্রন্ট কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, বিষয়টি ঐক্যফ্রন্টের বড় দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছে বিএনপির ওপর। পাঁচ মাস নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকলাম, সে নিষ্ক্রিয়তা ভাঙতে পারে বিএনপি। তারা কোনো কারণেই হোক উদ্যোগ নিচ্ছে না। আশা করি, বিএনপি দ্রুত এগিয়ে আসবে।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী আশা প্রকাশ করছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট চাঙ্গা হবেই। তিনি বলেন, একটি বৃহৎ ঐক্যের জন্য অপেক্ষা করছি। আশা করি, সেই ঐক্য আপনারা শিগগিরই দেখতে পাবেন।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পক্ষে কথা বলতে সংসদে যাচ্ছি: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা


দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পক্ষে কথা বলার জন্য সংসদে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনে সদ্য শপথ নেয়া বিএনপির এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

তিনি বলেছেন, এই সংসদ অবৈধ।নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পক্ষে কথা বলতেই সংসদে যোগ দিয়েছে বিএনপি। আমি তাদের পক্ষে জাতির সামনে কথা বলব। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করব।

এর আগে একাদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিএনপির ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। রোববার দুপুর ১২টায় রুমিনকে জাতীয় সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

একাদশ সংসদে আনুপাতিক হারে বিএনপি একটি মাত্র সংরক্ষিত আসন পেয়েছে। সেই আসনে বিএনপি রুমিনকে মনোনয়ন দিয়েছে। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির সহআন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক।

টেলিভিশন টকশোর পরিচিত মুখ ব্যারিস্টার রুমিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে আলোচনায় আসেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে মনোনয়ন চান।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উকিল আবদুস সাত্তারকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। নিজ এলাকার মানুষের কাছে তেমন পরিচিতি না থাকলেও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে রুমিন ফারহানার পরিচিতি রয়েছে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন, ভাষাসংগ্রামী অলি আহমদের মেয়ে ব্যারিস্টার রুমিন সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। তিনি দলীয় বক্তব্য জাতিকে জানাতে পারবেন।

৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সাতটি আসনে জয়লাভ করে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বাকি সবাই শপথ নিয়ে সংসদে গেছেন।

এ ক্ষেত্রে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন আইন অনুযায়ী, দলটিকে একটি আসন বণ্টন করে দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আ’লীগ নেতারা মিথ্যাচার দিয়ে ষড়যন্ত্র ঢাকতে পারদর্শী: রিজভী


আওয়ামী নেতারা চরম মিথ্যাচার দিয়ে নিজেদের ষড়যন্ত্র ঢাকতে পারঙ্গম বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, চরম মিথ্যাচার আওয়ামী লীগ ও সরকারে পদোন্নতির একমাত্র মাপকাঠি। আওয়ামী লীগে ব্যক্তির যোগ্যতা ও মেধার ইন্টিগ্রেটির কোনো বালাই নেই।

‘আওয়ামী লীগের নেতাদের মনস্তত্ব বিশ্লেষণে যেটি পাওয়া যায় তা হলো ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড, চরম মিথ্যাচার, অপরাধ করেও অনুশোচনাহীন, অগভীরতা, পরজীবীর মতো আচরণ এবং ব্যর্থতার দায়িত্ব নিতে অপারগতা।’

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, একবার তিনি মন্ত্রিত্ব খুইয়ে এবারের মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন শুধু অবান্তর, অবিরল ও মিথ্যাচারের প্রতিভা প্রমাণ করে।

তিনি আরও বলেন, বিএসএমএমইউ (পিজি) একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ওই এলাকায় তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গোয়েন্দাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকার কথা। যেখানে সরকারি অনুমোদন ছাড়া কাকপক্ষিও ঢুকতে পারে না; সেই বিএসএমএমইউতে বোমাসদৃশ্য বোতল উদ্ধারের ঘটনায় তথ্যমন্ত্রী এখন বিএনপির যোগসূত্র খুঁজছেন।

‘এ জন্যই বলেছি যে, আওয়ামী নেতারা চরম মিথ্যাচার দিয়ে নিজেদের ষড়যন্ত্র ঢাকতে পারঙ্গম। তথ্যমন্ত্রীর তো ভুলে যাওয়ার কথা নয়, শেরাটনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে বিএনপির আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে সারা দেশে গাড়িতে পেট্রল বোমা হামলা কারা করেছিল, বিহঙ্গ গাড়িতে পেট্রল হামলা কারা করেছিল, যা পরবর্তী সময় আওয়ামী নেতারাই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ স্বীকারোক্তির কথাটি তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করলেন না কেন?’

রিজভী বলেন, নরসিংদী রোডের বিআরটিসি বাস আজিমপুরে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করেছিল কারা? এসব করেছিল যারা, তারা সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ও রাষ্ট্রযন্ত্র, যা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। নারায়ণগঞ্জে পেট্রল বোমা হামলায় যুবলীগ নেতারা কীভাবে আটক হয়েছিলেন, রাবিতে ছাত্রলীগ কীভাবে বোমা হামলার স্বীকারোক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করেছিল।

‘সুতরাং পেট্রল বোমা কালচার আওয়ামী লীগের আবিষ্কৃত, সেটি তথ্যমন্ত্রী এড়িয়ে গেলেও দেশবাসী ঠিকই জানেন,’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, বিএসএমএমইউতে পেট্রল বোমাসদৃশ্য বোতলও ক্ষমতাসীন মহলের ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এটি কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, এটিও দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিব-উন নবী সোহেলের মেয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস


গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গ্রেফতার হন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিব-উন নবী সোহেল।

তখন থেকেই বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এই সভাপতি কারাগারে বন্দী আছেন।

এবারের ঈদ আনন্দ অনেকটাই ম্লান সোহেলের দুই কন্যা সূচনা ও মাটির কাছে। প্রাণ প্রিয় বাবা ছাড়া ঈদ উদযাপন মানতেই পারেনি তারা।

তাই ঈদের দিনই (বুধবার) বাবাকে একনজর দেখতে মাকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে গিয়েছিল সূচনা ও মাটি।

তবে তাতে মন ভরেনি তাদের। নিজের অনুভুটির কথা জানাতে ফেসবুককে বেছে নিলেন সূচনা।

কারাগার থেকে বেরিয়ে বাবাকে নিয়ে আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন সোহেলের কন্যা জান্নাতুল এলমি সূচনা।

সূচনার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো- ‘ডেপুটি জেলারের রুদ্ধ কক্ষে মিষ্টি একটা হাসি নিয়ে বাবা ঢুকলেন … পরনে শুভ্র পাঞ্জাবি … চুল ব্যাকব্রাশ … মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন – মা , ঈদ মোবারক , এবার তোমাদের কিছুই দেয়া হলো না, পাওনা রইলো সব কেমন ? … মার দিকে তাকিয়ে কি যেন একটা হাতে গুজে দিলেন … অবাক ব্যাপার! একটা সুন্দর লাল পাড়ের জামদানি! জেলের ভেতর অর্ডার দিয়েছে মাকে ঈদে দিবে বলে … মার চোখের কোণে কি যেন ছলছল করছে … এমন একটা মানুষকে একদিন ভালবেসে নাকি হাজার বছর অপেক্ষা করা যায় …। আজ আমাদের রুদ্ধ ঈদ … তিনজন এপাড়ে, আত্মা ওপাড়ে …। সকাল থেকে এখানেই আছি … নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার … আকাশটাও অঝর ধারায় কেঁদে চলছে … আমরা তাকিয়ে আছি সেদিকে …। বৃষ্টির ফোঁটায় চোখের পানি আড়াল হয়ে যাচ্ছে তিনজনের … খারাপ না ব্যাপারটা …সবাইকে একগুচ্ছ বিপ্লবী ঈদের শুভেচ্ছা।

প্রসঙ্গত ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেলের বিরুদ্ধে ১৪৩টি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

গত বছর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়কে ঘিরে আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্রিয় ছিলেন সোহেল।

তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, যেসব বিএনপি নেতা আন্দোলনে মাঠে নামবেন না তাদের তিনি চুড়ি পরিয়ে দেবেন।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌নৌকা ভ্রমণেও যদি কৃষিমন্ত্রীর সোফার প্রয়োজন হয়, তাহলে কৃষকের সুখ-দুঃখ কীভাবে অনুভব করবেন!


গত বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের একটি ছবি।

লাখো ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর টাইমলাইনে ছবিটি শেয়ার করতে দেখা গেছে।

ছবিটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন নেটিজেন।

শেয়ার করা পোস্টে ইতিবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্যে করছেন অনেকে। তবে এসব মন্তব্যের মাঝে নেতিবাচকই বেশি দেখা গেছে।

কৃষিমন্ত্রীর ভাইরাল সেই ছবিতে দেখা গেছে, খোলা একটি নৌকার পাটাতনে মুখোমুখি দুটি সোফা পাতা রয়েছে। আর একটি সোফায় হাস্যোজ্জ্বল মুখে বসে আছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তার সঙ্গে নৌকায় নারী-শিশুসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।

নৌকাটি ঘন জঙ্গলের পাশ কেটে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। বেশ খোশ মেজাজে রয়েছেন মন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রীর এই ছবিকে ঘিরে নানা রকম মন্তব্য করা হয়েছে।

অনেকে লিখেছেন, ‘আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য এ নৌকা ভ্রমণেও যদি কৃষিমন্ত্রীর সোফার প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি কৃষকের সুখ-দুঃখ কীভাবে অনুভব করবেন।’

সমীরণ দেবনাথ নামে একজন লিখেছেন, ‘কৃষিমন্ত্রী হবেন মাটির মানুষ। যার মাটির সঙ্গে সখ্য থাকবে। অথচ ইনি দেখছি এর উল্টো।’

সৈয়দা তাজমিরা আখতার নামে একজন কমেন্ট করেছেন, ‘এইসব কর্মকাণ্ড দেখে হতাশ হয়ে যাচ্ছি। এরা নিজেদের জনগণের সেবক মনে করেন না।’

শামীম আহমেদ লিখেছেন, ‘এখনতো মন্ত্রী, তাই হয়তো একটু বাড়তিই উঠলেন এই আর কী…..’

ফুয়াদ লিখেছেন, ‘নৌকায় উঠে এমন রাজকীয় ভঙ্গিতে এর আগে কাউকে বসতে দেখিনি। হয়তো এর মাধ্যমে ড. রাজ্জাক জানালেন, তিনি আমাদের মতো সাধারণ নাগরিক নন, তিনি মন্ত্রী, তিনি ভিআইপি।’

কেউ কেউ ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর অমিল খুঁজে পেয়েছেন।

প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে (সাবেক কৃষিমন্ত্রী) সবকিছুতে ইনি উল্টো ডিগ্রির। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে ইনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি ভুল চয়েস।’

একজন ব্যাঙ্গ করে লিখেছেন, মন্ত্রীর এই প্রমোদতরী ভ্রমণের সময় ওই আশপাশের খালগুলোর নৌকা আটকে রাখা হয়েছিল কিনা। নাকি তিনি উল্টো পথ দিয়ে যাচ্ছেন?

একটি ফেসবুক গ্রুপে লেখা হয়েছে, ‘দেশে যখন ধান কাটতে টাকা না থাকায় কৃষক জমিতে আগুন দিচ্ছে, ধানের দাম না থাকায় কৃষকরা ঈদ করতে পারছে না, আত্মহত্যাও করতে চেয়েছেন কয়েকজন কৃষক, তখন মাননীয় মন্ত্রী নৌকাতে সোফা বিছিয়ে ভ্রমণে বেরিয়েছেন!

কৃষকদের এই অবস্থায় কৃষিমন্ত্রীর এমন নৌকা ভ্রমন কতটা কাঙ্খিত দেশের মানুষের কাছে?’

এমন সব নেতিবাচক ও ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্যের ভিড়ে ইতিবাচক মতামতও জানিয়েছেন কেউ কেউ।

বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন।

কেউ কেউ মন্ত্রীর সমর্থনে বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি না করতে অনুরোধ করেছেন।

সুব্রত নন্দী নামে একজন লিখেছেন, ‘ভাই উনি সহজ-সরল মানুষ। চাটুকাররা হয়তো নৌকায় সোফা বসিয়ে ওনাকে বসতে বলেছেন। উনি অতো কিছু না ভেবে বসে পড়েছেন।’

একজন লিখেছেন, ‘এটা দৃষ্টিকটু হতে যাবে কেন? ড. আব্দুর রাজ্জাক একজন খাঁটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। তবু যদি কারও কাছে বিষয়টি খারাপ লেগে থাকে তাহলে তার ভুল ভেবে মাফ করে দিয়েন।’

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ঈদের ছুটিতে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত রাতারগুল ভ্রমণে গিয়েছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ভ্রমণের আয়োজন করেন কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি সারওয়ার আহমেদ।

এ বিষয়ে সারওয়ার আহমেদ বলেন, ‘কৃষিমন্ত্রী স্বপরিবারে বৃহস্পতিবার সিলেট পৌঁছান। সেখান থেকে সেদিনই তিনি রাতারগুল ভ্রমণে যান। তবে নৌকার ওপর সোফা তুলে কৃষিমন্ত্রীর ভ্রমণের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।’

নৌকায় সোফা তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সোফা ও নৌকার আয়োজন করে। মন্ত্রী এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রণালয়কে দায়ী করে বেশ ফুঁসে রয়েছেন সাধারণ জনতা। গত ১৩ মে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া গ্রামের আবদুল মালেক সিকদার নামের এক কৃষক নিজের পাকা ধানে আগুন দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে এলে দেশব্যাপী তোলপাড় হয়। কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেশবাসী।

তুমুল সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে ফেসবুকে।

এ ঘটনার পর সমস্যা নিরসনে চাল আমদানি বন্ধ করে চলতি বছর ১০ থেকে ১৫ লাখ টন চাল রফতানির সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

তবুও অনেকে সমালোচনা করেই যাচ্ছেন। কৃষিমন্ত্রীর এবার এম ছবিটি যেন সেই সমালোচনার নৌকার পালে আবার হাওয়া দিল।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ওবায়দুল কাদেরের ‘স্বস্তির ঈদে’ সড়কে ৫৪ মৃত্যু!


ঈদুল ফিতরের এক সপ্তাহ আগ থেকেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দাবি করে আসছেন যে এবারের ঈদ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদ। ঈদে ঘরমুখো মানুষ নিরাপদে বাড়ি যাবেন এবং যাত্রায় কোনো প্রকার যানজট হবে না বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।

কিন্তু ঈদ যাত্রার বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। শেষদিকে এসে রাস্তায় যানজটের পাশাপাশি এবারের ঈদ যাত্রায় ৫ দিনে সারাদেশে কমপক্ষে ৫৪ জন নারী-পুরুষ ও শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ঈদের দুই দিন আগ থেকেই মানুষ বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে। সোমবার কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের গাড়ি চাপায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ৩ জন নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। একই দিন সাভারের ধামরাইয়ে দুইটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছে আরও ৪ জন। ওই দিন মোট নিহত হয়েছে ৭ জন।

এরপর, ঈদের আগের দিন মঙ্গলবারে নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জে, নাটোর ও সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে ৪৬ জন।

এরপর, ঈদের দিন বুধবার ফরিদপুর, লালমনিরহাট, সাভার ও ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৩০ জন।

তারপর, ঈদের পরের দিন বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নওগাঁ, কুমিল্লা, ভোলা ও লালমনিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ২৫ জন।

এছাড়া, ঈদের তৃতীয় দিন শুক্রবার মাগুরা, নড়াইল, কক্সবাজার, বগুড়া, পিরোজপুর, কুষ্টিয়া ও কুয়াকাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

অপরদিকে, ওবায়দুল কাদের স্বস্তির গান গাইলেও বাস্তবে রাস্তায় যানজট ছিল প্রচণ্ড। দেখা গেছে, যানজটে আটকা পড়ে টাঙ্গাইলে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা ডিসি ও ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। যানজটের কারণে এটাই মনে হয় ইতিহাসের প্রথম গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা।

তারপর, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতুতে যানজট ছিল প্রচণ্ড। দেখা গেছে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে সড়কের অপর পাশে ক্রিকেট খেলেছে।

আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় ছিল, যানজটে আটকা পড়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্ত্বরে একজন নারী রাস্তায় সন্তান প্রসব করেছেন। এমন ঘটনা বাংলাদেশে আগে কখনো ঘটেনি। এছাড়া অতি যানজটের কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় আগুন দিয়ে বিক্ষোভ পর্যন্ত করেছে।

কিন্তু, এরপরও ওবায়দুল কাদের তার দপ্তরে বসে বসে দাবি করছেন যে, এবার তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা উপহার দিয়েছেন।

এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে যে, ঈদ যাত্রায় ৫৪ জন নারী-পুরুষ ও শিশু সড়কে প্রাণ হারানোর পরও যদি এবারের ঈদ স্বস্তিদায়ক হয়, তাহলে কত মানুষ মরলে ওবায়দুল কাদের এটাকে অস্বস্তিকর বলবেন? সড়কে এতগুলো মানুষ মারা গেল। এরপরও কি ওবায়দুল কাদের তার ব্যর্থতা স্বীকার করবেন না?

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশঃ ফ্রিডম হাউস-এর প্রতিবেদন


বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় আঘাত বাড়ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউস। সংস্থাটি তাদের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার এ তালিকায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। সংবাদমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতিবাচক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

বিজনেস ইনসাইডার জানায়, গণতন্ত্রের জন্য নেতৃত্বদানকারী দেশগুলোতেও গণমাধ্যম তার মতপ্রকাশে বাধার মুখে পড়ছে।

‘কোনো সমালোচনা দেখা দিলে তাকে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে’।

ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে থাকার কথা, তারা উল্টো নিজেদের বিরুদ্ধে কিছু প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন এবং নিজেদের পক্ষে খবর প্রকাশে সুবিধা দিচ্ছেন।

চীন, রাশিয়া, সৌদি আরবকে রাখা হয়েছে গণমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে খারাপ দেশের তালিকায়। ভারত, পাকিস্তানের অবস্থান বাংলাদেশের তুলনায় ভালো বলে দেখানো হয়।

বাংলাদেশের তালিকায় আরো রয়েছে, কঙ্গো, কিউবা, মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ।

উৎসঃ ‌‌‌ফ্রিডম হাউস-এর প্রতিবেদন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here