‘জনগণকে ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দিন। তাদের বুকে গুলি চালাবেন না’: তারেক রহমান (ভিডিওসহ)

0
802

লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ভোটের দিন জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না দাঁড়ানোর জন্যে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

জনগণকে তাদের পরিবারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে দাঁড়াবেন না। প্রজাতন্ত্রের আইনকে উপেক্ষা করবেন না। জনগণের বুকে গুলি চালাবেন না।’

বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পাতায় পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। খবর বিবিসি বাংলার।

বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই বিরোধী দল বিএনপি তারেক রহমানের বক্তব্য প্রায়শই সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচারের চেষ্টা করে থাকে।

ভিডিওঃ ‘আপনারা গণতন্ত্রের বিপক্ষে দাঁড়াবেন না। জনগণের বুকে গুলি চালাবেন না।’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তারেক রহমান আরো বলেছেন, তার দল যদি সরকার গঠন করে তাহলে অন্যায়ভাবে বা রাজনৈতিক কারণে কোন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর চাকরি যাবে না।

ভোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের যাদেরকে অপকর্ম করতে বাধ্য করা হয়েছে বা এখনও বাধ্য করা হচ্ছে তাদের সামনে এখন একটি সুযোগ এসেছে।’

সোশাল মিডিয়াতে অপ্রচারের বিরুদ্ধে তিনি তার দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়েছেন। বলেছেন, মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক খবর দিয়ে প্রশাসনকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালানো হবে। এবিষয়ে যাতে সকলে সতর্ক থাকেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকার দেশে ভয়ের সংস্কৃতি চালু করেছে। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তার দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকার গঠন করলে দেশ থেকে এই ভয় দূর করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে।

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন]

‘যাতে মানুষ কথা বলতে পারে, দেশের যেকোনো জায়গায় বুকি ফুলিয়ে চলাফেরা করতে পারে।’

এজন্যে ভোটের দিন ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে তিনি দলে দলে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহবান জানান।

ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোট ডাকাতি রোধ এবং প্রত্যেকটি ব্যালট বক্সকে নিরাপদ রাখার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসীদের জন্যে এটা একটা সুযোগ। এবং অধিকার।’

তারেক রহমান বিএনপির নেত্রী এবং তার মা খালেদা জিয়াকে সকলের মা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি বলেই তিনি এই বয়সেও কারাগারে রয়েছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বলেছেন তিনি।

‘মায়ের মুক্তির জন্যে আপনারা কি পারবেন না সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে? ৩০শে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিজেদের ঐক্যকে হিমালয়ের মতো সুদৃঢ় রাখতে?’

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাকে আন্দোলনের কৌশল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, মনোনয়ন প্রত্যাশী চার হাজার নেতার সাথে তিনি কথা বলেছেন। কিন্তু এবার সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হবে না। কারণ ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে একজোট হয়ে এবার বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

সেকারণে তিনি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে সকল কিছুর বিনিময়ে বাস্তবায়ন করার জন্যে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন]

‘আমরা যদি একে অপরের সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকি তাহলে বর্তমান স্বৈরাচার সরকার আগামী দিনে যখনই সুযোগ পাবে আমাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে,’ বলেন তিনি।

উৎসঃ বিবিসি বাংলা, আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ প্রহশনের রায়ে নির্বাচন করতে পারছেন না খালেদা জিয়া, সেই ৩ আসনে বিকল্প প্রার্থী যারা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৩টি আসন থেকে নির্বাচন করবেন। তাকে দল থেকে তিনটি আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

সোমবার বিকেলে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে খালেদা জিয়াকে তিনটি মনোনয়ন চিঠি ইস্যু করা হয়।

প্রথমে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের কাছ থেকে বগুড়া-৬ আসনে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়ন চিঠি গ্রহণ করেন ভিপি সাইফুল ইসলাম।

এরপর বগুড়া-৭ আসনে তার জন্য আরেকটি মনোনয়ন চিঠি গ্রহণ করেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান লালু। পরে ফেনী-১ আসনেও তাকে মনোনয়ন চিঠি দেয়া হয়।

বিএনপি কৌশলগত কারণে এবার প্রায় সব আসনেই একাধিক প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে রাখছে। কোনো কোনো আসনে তিনজনকেও মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে।

তেমনি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আসনেও একাধিক বিকল্প প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে। দল সূত্রে জানা গেছে, দুটি দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ায়, বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে বগুড়া-৬ (সদর উপজেলা ও পৌরসভা) আসনে কোনো কারণে খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে না পারলে বিকল্প হিসেবে পৌরসভার মেয়র একেএম মাহবুবর রহমান ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকেও মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে।

বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাজাহানপুর) আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। এবারও তাকে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

কিন্তু, কোনো কারণে খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে না পারলে তার বিকল্প হিসেবে এখানে গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদ মিলটন এবং গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুর ইসলাম তালুকদারকে মনোনয়ন দিয়ে রাখা হয়েছে।

এই আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ২ লাখ ৩২ হাজার ৭৬১ ভোট পেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তার নিকটতম মহাজোটের (জাতীয় পার্টি) প্রার্থী মোহাম্মদ আলতাফ আলী লাঙল প্রতীকে ৯২ হাজার ৮৩৩ ভোট পান।

একইভাবে ফেনী-১ (পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী উপজেলা) আসনেও বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে না পারলে এখানে ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

যদিও এখন পর্যন্ত তাকে এই আসনে দলীয় মনোনয়নের চিঠি ইস্যু করা হয়নি। তবে সোমবার প্রথম দিনে আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঁইয়া উপজেলা) আসনের মনোনয়ন চিঠি ইস্যু করা হয়।

এদিকে খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন নেতা যে এবার নির্বাচন করতে পারছেন না তা সোমবারের হাইকোর্টের একটি প্রহশনের রায়ে আরো স্পষ্ট হয়েছে।

এছাড়া কথিত দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আপিলে খালাস পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্তির পরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল এ মন্তব্য করেন।

এর আগে দুর্নীতির মামলায় সাজা স্থগিত চেয়ে বিএনপির পাঁচ নেতার করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির পাঁচ নেতা হলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউলাহ আমান, বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভূঁইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য ও ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ মো. মশিউর রহমান এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. আব্দুল ওহাব।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আপিল পেন্ডিং অবস্থায় সাজা স্থগিতের বিধান নেই। ফলে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

তফসিল অনুসারে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, ২ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারিত রয়েছে ৯ ডিসেম্বর।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ মাশরাফির রাজনীতি নিয়ে পিনাকী ভট্টাচার্যের ফেইসবুক স্ট্যাটাস আলোচনায়

বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তোজার রাজনীতিতে আগমনকে অনেকেই যেমন স্বাগত জানিয়েছেন, অনেকেই আবার নেতিবাচক মন্তব্যও করেছেন। ক্রিকেটের মাঠ ছেড়ে রাজনীতিতে ক্যারিয়ার শুরু করায় দেশের মানুষের কাছে মাশরাফির যে অকুণ্ঠ ভালোবাসা ছিল সেটিতে ভাটা পড়বে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

এ নিয়ে সোমবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন লেখক ও ফেসবুক অ্যাকটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য।

পাঠকের জন্য তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

মাশরাফি বিন মুর্তাজা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নিজেকে একজন সংবেদনহীন অরাজনৈতিক মানুষ হিসেবে প্রতিপন্ন করেছে।

মাশরাফির কাছে দেশে চলমান অব্যাহত লুটপাট গ্রহণযোগ্য, সুতীব্র মানবাধিকার লঙ্ঘন গ্রহণযোগ্য, স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী দুঃশাসন গ্রহণযোগ্য, বাক, ব্যক্তি ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ গ্রহণযোগ্য। মৌলিক ও মানবিক অধিকার পুরোপুরি ভূলুণ্ঠিত হওয়াতেও কোন সমস্যা নেই।

শাসক গোষ্ঠি কোন আইন মানছে না৷ তাদের গুণ্ডামী, জবরদস্তি ও মাত্রাহীন বলপ্রয়োগ করাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি হিসাবে গ্রহণ করেছে, সেটাতেও তার সমস্যা নেই।

প্রত্যেকটা গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। ভোটাধিকার নাই পুরো দেশবাসীর। তারা শুধু যে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন’-এ ভোট দেয়ার অধিকার হারিয়েছে তাই নয়, একই সাথে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন সহ কোন নির্বাচনেই তারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছে না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সমর্থকরাও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মাশরাফি বিন মুর্তাজা এসব মনে হয় দেখতে পায়নি।

এই দুর্বহ শাসনের অবসান চাইলে সে দেশের মানুষের কাছে একজন সত্যিকারের হিরোর মর্যাদা পেত।

তবে সে তো হিরো হতে চায়না, একজন সেলিব্রেটেড ক্রিকেটারও হতে চায়না। এমনকি ইমরান খানের মতো দল গড়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর দেশের ভাগ্য গড়ার দায়িত্ব ও নিতে চায়না; সে শর্টকাটে রাজনীতি নামের ক্ষমতা কাঠামোর নাটবল্টু হতে চায়। সে একজন আওয়ামী লীগের নেতা হতে চায়, যেই দল দীর্ঘ বর্ণময় ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে জনমানুষের আকাঙ্খার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।

জনগনের অকুন্ঠ ভালবাসার চাইতে একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের নাটবল্টু হওয়া যার কাছে অধিক আনন্দের তাকে আজ চিনে নিতে পারাটাও কম গুরুত্বপুর্ন নয়।

বিদায় প্রিয় ম্যাশ। বাংলাদেশের মানুষের অকুন্ঠ ভালোবাসার সাথে অনেকেই প্রতারণা করেছে অতীতে। আপনিই বা তার ব্যতিক্রম হবেন কেন আজ?

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ এ রায় বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে প্রতিহত করতেই, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়: ফখরুল

হাইকোর্টের আদেশের ফলে দণ্ডিতরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এ রায় বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে প্রতিহত করতে দেওয়া হয়েছে, জনগণের কাছে এ রায় গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সোমবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনীত প্রার্থীদের হাতে মনোনয়নের চিঠি তুলে দেয়ার সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি আন্দোলন সৃষ্টি করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার পাশাপাশি জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই।

তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠেছে। আমরা দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। এর মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তার প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে, ভোটের অধিকার ফেরত পাবে।

এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মির্জা ফখরুল। কথা বলা থামিয়ে চোখের পানি মুছতে দেখা যায় তাকে।

পরে তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই নির্বাচনে যেতে হচ্ছে। খালেদাকে মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি দিয়েছিলাম। এসব দাবি নিয়ে জনগণের কাছে গিয়েছি। সরকারের সঙ্গে সংলাপ করেছি, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে গিয়েছি। কিন্তু তারা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইসি সম্পূর্ণ পক্ষপাত দুষ্ট হয়ে কাজ করছে। বারবার বলেছি- যা কিছু করার তা করা প্রয়োজন। কিন্তু তারা করছে না।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, প্রশাসনেও রদবদলের প্রয়োজন। আমরা বললেও তা করা হয়নি। ইভিএম (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন) বন্ধ রাখেনি। পত্র-পত্রিকায় সিইসির (প্রধান নির্বাচন কমিশনরা) ভাগ্নে শাহাজাদা সাজু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। আমরা আগেও বলেছিলাম- তিনি (সিইসি) পক্ষপাত দুষ্ট। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ফখরুল বলেন, এতকিছুর পরও আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি এর মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিবর্তন সম্ভব এবং জনগণ তার অধিকার ফেরত পাবে।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ২১ লাখের বেশি ভোটারকে ইভিএমে বাধ্য করেছে নির্বাচন কমিশন!

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬টি সংসদীয় আসনে ইলেকট্রোনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে। এসব আসনে ২১ লাখ ২৪ হাজার ৪১১ জন ভোটার প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোট দেবেন।

৬টি আসনের ৮০০টি কেন্দ্রের ৪ হাজার ২৬৭টি ভোট কক্ষে ইভিএম থাকবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি কক্ষে একটি করে ইভিএম থাকবে। কোনো ধরনের ত্রুটি দেখা গেলে ‘স্ট্যান্ডবাই’ থাকবে তিনটি করে ইভিএম। সাধারণত প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ৫টি ভোটকক্ষ থাকে, আর প্রতিটি ভোট কক্ষে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জন ভোটারের জন্য একটি ইভিএম ব্যবহার করা হবে। সে হিসাবে ৬টি আসনে সাড়ে চার হাজার ইভিএম লাগবে। তবে ইভিএমে কোনো ক্রটি দেখা দিলে তা মোকাবিলায় বিকল্প হিসাবে চাহিদার দ্বিগুণ পরিমাণ ইভিএম প্রস্তুত রাখা হবে।

যে ৬ আসনে ইভিএম ব্যবহার হবে তা হলো- ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩, চট্টগ্রাম-৯, রংপুর-৩, খুলনা-২ এবং সাতক্ষীরা-২। এই ৬টি আসনের ৩টিতে বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও বাকি ৩টিতে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রয়েছেন। ভোটের অন্তত ২৫ দিন আগে এসব কেন্দ্রের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

এর আগে সোমবার বিকালে ইসির সম্মেলন কক্ষ দৈবচয়নের মাধ্যমে সারাদেশের ৪৮টি আসন থেকে ৬টি আসন চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৭টি আসন থেকে ১টি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭টি আসন থেকে ১টি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ১টি, বাকি ১০ সিটি করপোরেশন থেকে ২টি এবং ২১টি জেলা সদর থেকে ১টি আসন দৈবচয়নের মাধ্যমে ইভিএম ব্যবহার করার জন্য বেছে নেয়া হয়।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী ইভিএম পেয়ে যাব। সেনাবাহিনীর টেকনিক্যাল কোরের সদস্যরা এবং নির্বাচন কমিশনের দক্ষ লোকজন ইভিএম পরিচালনা করবেন।’

ইসি সূত্রে জানা যায়, ইভিএম এলাকার ৬টি সংসদীয় আসনে এবার ৮০০ কেন্দ্রের বিপরীতে ৪ হাজার ২৬৭ ভোটকক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-৬ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৬৯ হাজার ২৭৬ জন, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৯৮ টি, ভোটকক্ষ ৫৩৩টি।

ঢাকা-১৩ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৬৯ জন, ভোটকেন্দ্র ১৩৪ টি, ভোটকক্ষ ৭০১ টি। চট্টগ্রাম-৯ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার ৩৬৩ জন, ভোটকেন্দ্র ১৪৪, ভোটকক্ষ ৭৪৩টি।

এছাড়া রংপুর-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৭৩ জন, ভোটকেন্দ্র ১৩০টি, ভোটকক্ষ ৯১০টি। খুলনা-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ৬২ জন, ভোটকেন্দ্র ১৫৭টি, ভোটকক্ষ ৬৮২টি। সাতক্ষীরা-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৮ জন। ভোটকেন্দ্র ১৩৭টি ভোটকক্ষ ৬৯৮টি।

৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। পুনর্নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর; মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর ও ভোটের দিন ৩০ ডিসেম্বর।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের মাঠে দেড় হাজার জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

আসন্ন জাতীয় সংসদের নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি, সংঘটিত অপরাধের বিচার, অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোটের মাঠে থাকছেন দেড় হাজার জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

ইতিমধ্যেই আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা তা দেখতে ৬ শতাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছে। ভোটের আগের দিন থেকে ভোটের পরের দুই দিন পর্যন্ত মাঠে থাকবেন ৬৪০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

এছাড়া নির্বাচনপূর্ব অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ২৪৪ জন জুডিশিয়াল কর্মকর্তাকে নিয়ে ১২২টি ‘নির্বাচনী তদন্ত কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। ইসি পৃথক আদেশে এসব নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী, তার সমর্থক বা অন্য কেউ আইন ও বিধি লঙ্ঘন করলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তাদেরকে সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে সাজা দেবেন ম্যাজিস্ট্রেটরা। তারা লেভেল প্লেইং ফিল্ড গঠনেও কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

তিনি বলেন, আচরণ বিধিমালা নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ শুরু করেছেন। প্রশিক্ষণের সময় তাদের বলা হয়েছে, কারও প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ নয়, সব দলের সব প্রার্থীকে সমান চোখে দেখতে হবে।

জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬৪০ জন, ১২২টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে ২৪৪ জন ও ছয় শতাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সব মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন নির্বাচনে। এর মধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এর ধারা ৮৯-এ উল্লিখিত ধারা ৭৩, ৭৪, ৭৮, ৭৯, ৮০, ৮১ ও ৮২-এ অধীন নির্বাচনী অপরাধ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য মাঠে থাকবেন ৬৪০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

৩০০ আসনের প্রতিটিতে ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আগামী ২৯ ডিসেম্বর মাঠে নামবেন। একাধিক উপজেলা বা উপজেলার অংশ নিয়ে গঠিত নির্বাচনী এলাকার ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা বা উপজেলার অংশবিশেষের জন্য ১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হবে। নির্বাচনপূর্ব অনিয়ম প্রতিরোধ, প্রার্থীদের আচরণবিধি ভঙ্গ তদারকি এবং ক্ষমতার অপ্রব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নির্বাচনী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এসব কমিটি নির্বাচনপূর্ব অনিয়ম আমলে নিয়ে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে শান্তি ও জরিমানা করবে। প্রথম পর্যায়ে ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য ১২২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার এসব কমিটি গঠনের চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি উপজেলায় ১ জন, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি অবস্থিত প্রতি ৩-৪টি ওয়ার্ডেও জন্য ১ জন করে, সিটির বাইরে জেলা সদরে প্রতি পৌর এলাকায় ১-২ জন এবং পার্বত্য এলাকায় ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি অবস্থিত ৩-৪ উপজেলার জন্য ১ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিতে জেলা প্রশাসকদের বলা হয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবে ইসি। একই সঙ্গে ওই দিন থেকে প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু হয়ে যাবে। আর তখনই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, তির্যক বাক্য-বিনিময় এবং একে অন্যকে ঘায়েল করার প্রবণতা বাড়বে। এই শঙ্কা থেকেই ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণে দেয়া হচ্ছে নানা নির্দেশনা।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ বিএনপির যেসব আসনে কৌশলগত কারণে একাধিক প্রার্থী থাকছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় দেড়শ আসনে ডাবল প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের আশঙ্কায় এমনটি করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে বিকাল থেকে প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেয়া শুরু হয়। যদিও আগে থেকেই চূড়ান্ত করা ছিল বিএনপির প্রার্থী তালিকা।

মনোনয়ন দেয়া অনেক আসনে একাধিক প্রার্থী রাখা হয়েছে। তবে দলের প্রয়োজনে শেষ পর্যন্ত একজন প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। অবশ্য মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ফরমেও প্রার্থীদের স্বাক্ষর রাখা হচ্ছে।

বিএনপির মনোনয়ন ফরমে সই করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সেই সময় বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলের প্রয়োজনে শেষ পর্যন্ত একজন প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

যেসব আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকছে তা নিম্নে আলোচনা করা হল-

পটুয়াখালী
পটুয়াখালী-১: আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-২: সুরাইয়া আখতার চৌধুরী/শহীদুল আলম তালুকদার/সালমা আলম, পটুয়াখালী-৩ গোলাম মাওলা রনি/হাসান মামুন/মো. শাহজাহান, পটুয়াখালী-৪: এবিএম মোশাররফ হোসেন, মনিরুজ্জামান মুনির।

রংপুর
রংপুর-২ ওয়াহিদুজ্জামান মামুন/মোহাম্মদ আলী, রংপুর-৩ মোজাফফর আহমদ/রিটা রহমান, রংপুর-৫ সোলায়মান আলম/ডা. মমতাজ।

বরগুনা
বরগুনা-১: মতিউর রহমান তালুকদার/নজরুল ইসলাম মোল্লা।

ঝালকাঠি
ঝালকাঠি-২: রফিকুল ইসলাম জামাল, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো/জেবা খান, পিরোজপুর-৩: রুহুল আমিন দুলাল, শাহজাহান মিয়া

বরিশাল
বরিশাল ১: জহিরউদ্দিন স্বপন/আবদুস সোবহান, বরিশাল-২ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু/শহিদুল হক জামাল, বরিশাল-৩: জয়নুল আবদিন/সেলিমা রহমান, বরিশাল-৪: মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ/রাজীব আহসান, বরিশাল-৫: মজিবর রহমান সারোয়ার/এমাদুল হক চাঁন, বরিশাল-৬: আবুল হোসেন খান/রশিদ খান

কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম-৩: তাজভীরুল ইসলাম/আবদুল খালেক, কুড়িগ্রাম-৪: আজিজুর রহমান/মোখলেছুর রহমান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১: মো. শাহজাহান মিয়া/বেলাল বাকী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২: আনোয়ারুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩: আবদুল ওয়াহেদ/হারুনুর রশীদ।

নওগাঁ
নওগাঁ-১: সালেক চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান/মাসুদ রানা, নওগাঁ-২: শামসুজ্জামান খান/খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী, নওগাঁ-৩: রবিউল আলম বুলেট/পারভেজ আরেফীন সিদ্দিকী জনি, নওগাঁ-৪: শামসুল আলম প্রামানিক/একরামুল বারী টিটো, নওগাঁ-৫: জাহিদুল ইসলাম/নজমুল হক সনি, নওগাঁ-৬: আলমগীর কবির/শেখ রেজাউল ইসলাম।

রাজশাহী
রাজশাহী-২: মিজানুর রহমান মিনু/সাঈদ হাসান, রাজশাহী-৩: শফিকুল হক মিলন/মতিউর রহমান মন্টু, রাজশাহী-৪: আবু হেনা/মো. আবদুল গফুর, রাজশাহী-৫: নাদিম মোস্তফা/নজরুল মন্ডল, রাজশাহী-৬: আবু সাঈদ চাঁন/নুরুজ্জামান খান মানিক।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ সংসদ নির্বাচনে আ.লীগ ও বিএনপি কোন কোন বিষয় বিবেচনায় প্রার্থী বাছাই করেছে

বিএনপি সোমবার তাদের দলের মনোনীত প্রার্থীদের চিঠি দিতে শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রবিবার তাদের প্রার্থীদের চিঠি দিয়েছে। দুই দলই দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা এবং প্রতিপক্ষের কৌশলের ওপর অনেক বেশি জোর দিচ্ছে।

তবে দল দু’টি তাদের নিজ নিজ জোটের সাথে বণ্টন করা আসনের বিষয়ে এখনও কিছু প্রকাশ করেনি। খবর বিবিসির।

প্রার্থী বাছাই-এ বিএনপির বিবেচনা

এবারই প্রথম বিএনপি তাদের দলের শীর্ষ নেত্রী খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন করছে। তিনি কথিত দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে রয়েছেন।

তার নির্বাচনে অংশ নিতে পারার বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত। সেটি বিবেচনায় থাকলেও বিএনপি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে খালেদা জিয়াকে তিনটি আসনে প্রার্থী করেছে। বিকল্প প্রার্থীর চিন্তাও দলটি করে রেখেছে বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়াকে তার পুরনো ফেনী-১ এবং বগুড়া ৬ ও ৭ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে।

বিএনপি নেত্রীর দলীয় মনোনয়ন সম্পর্কিত চিঠি তার প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তরের মধ্য দিয়েই দলটি তাদের প্রার্থীদের চিঠি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। সে সময় সাংবাদিকদের সামনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য দিতে গিয়ে কেঁদেছেন।

দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, এবার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে তারা বড় ধরনের ঝুঁকি নেননি।

বিএনপি তাদের সিনিয়র কিছু নেতার আসন ছাড়া বেশির ভাগ আসনে মূল প্রার্থীর পাশাপাশি বিকল্প প্রার্থীও রেখেছে। দলটির নেতারা বলেছেন, মামলা এবং ঋণ খেলাপির প্রশ্নসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় রেখে দু’জন করে প্রার্থী রেখেছেন, যাতে একজন বাদ পড়লে আরেক প্রার্থী বহাল থাকে।

এছাড়াও কোন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত মাঠে টিকে থাকতে পারবেন সেবিষয়টিকেও বিবেচনা করেছে বিএনপি। কারণ তারা ধরেই নিয়েছেন যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা প্রশাসনের কাছ থেকে সহযোগিতা পাবেন না।

দীর্ঘ ১০ বছর পর নির্বাচন করছে বিএনপি। এই সময়ে দলের কঠিন সময়েও যারা মাঠে সক্রিয় ছিল তাদেরকে প্রার্থী করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়েছে দলটি।

সেই বিবেচনায় বিএনপির ভেতরে প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত বড় রকমের কোন চমক চোখে পড়েনি।

আওয়ামী লীগের কৌশল

অন্যদিকে আওয়ামী লীগে বর্তমান সংসদের তাদের দলীয় ৩৮ জনের মতো সংসদ সদস্য বাদ পড়েছে এবং নতুন মুখ এসেছে ৪৬ জনের মতো।

ক্রিকেটার মাশরাফির প্রার্থী হওয়ার চমক এসেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বড় কোন ঝুঁকি নেয়নি।

২০১৪ সালে একতরফা যে নির্বাচন হয়েছিল তাতেও আওয়ামী লীগের আগের সংসদের ৪৮ জন সদস্য বাদ পড়েছিলেন।

কক্সবাজারের আব্দুর রহমান বদিসহ বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে দু’একজনকে বাদ দেওয়া হলেও, তাদের পরিবার থেকেই অন্য সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

কোন মন্ত্রী বা এমপি বাদ পড়লে তারা দুর্নীতির কারণে বাদ পড়েছেন- এমন আলোচনার আশঙ্কাতেও আওয়ামী লীগ সেই ঝুঁকি নেয়নি।

এছাড়াও টানা দশ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে যেসব জায়গায় মাঠ পর্যায়ে কোন্দল বেড়েছে সেটি সামাল দেওয়ার ব্যাপারও মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ বিবেচনা রেখেছে।

যারা জিতবেন বলে দলটি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে তাদেরকেই তারা অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো- চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বলেছেন, এবার নির্বাচনে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তারা দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন।

জোটের হিসাব নিকাশ

তবে এই প্রধান দুই দলই এখনও তাদের স্ব স্ব জোটের সাথে আসন ভাগাভাগির বিষয়কে প্রকাশ করেনি। বিএনপির পুরনো ২০ দলীয় জোটে তাদের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী থেকে আসনের চাহিদা কিছুটা বেশি।

বাকি দলগুলোর জন্য বেশি আসন ছাড়তে হবে না বলে বিএনপির নেতারা বলেছেন।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোকেও বেশি সংখ্যক আসন তাদেরকে ছাড়তে হচ্ছে না।

দলটির নেতারা বলছেন, তারা দুই দলের শরিকদের জন্য ৫০টির মতো আসন ছেড়ে দিতে পারেন। মওদুদ আহমদ বলছিলেন, শরিকদের সাথে আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সোমবার তাদের জোটের শরিকদের সাথে আসন বণ্টনের হিসাব নিকাশ প্রকাশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত তারা তা করেনি।

১৪দলীয় জোট, জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবং নতুন শরিক অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সাথে ভাগাভাগিতে সব মিলেয়ে ৭০টির মতো আসন ছাড়তে চায় আওয়ামী লীগ। এইচ টি ইমাম বলছিলেন, শরিকদের সাথে আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও প্রার্থীর জনপ্রিয়তাকে বড় যোগ্যতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, বড় দুই দলই শরিকদের সাথে আসন ভাগাভাগিতে সিদ্ধান্তে এসেছে। তবে কৌশলগত কারণে তারা এখনই সেটা প্রকাশ করতে চাইছে না।

অবশ্য বুধবারই মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন।

উৎসঃ বিবিসি বাংলা, আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here