ভোট কম পড়ায় নৌকায় সিল মারলেন দুই কর্মকর্তা

0
270

ভোটার উপস্থিতি কম থাকায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে এক পোলিং এজেন্টকে সঙ্গে নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারলেন দুই ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সুলতানগঞ্জ আল জামিয়াতুস সালাফিয়া আলিম মাদরাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত জাল ভোট দেয়ায় এ কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে দেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা অনয় কুমার।

এ ঘটনায় জড়িত দুই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নাজমুল হাসান ও মোহা আব্দুল মুকিত এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট মোহাম্মদ আলীকে আটক করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মশিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উপজেলার সুলতানগঞ্জ আল জামিয়াতুস সালাফিয়া আলিম মাদরাসা কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন দুই হাজার ৩৮৪ জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল অল্প।

কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি অল্প এবং কম ভোট পড়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বরত দুই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এক পোলিং এজেন্টকে সঙ্গে নিয়ে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দেন। বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে দেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মশিউর রহমান আরও বলেন, খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। তারা অভিযুক্তদের আটকের নির্দেশ দেন। তখনই তাদের আটক করে পুলিশ।

গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ওই তিনজনকে থানায় নেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোট চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মো. বদিউজ্জামান (আনারস), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স

পার্টির সাইদুর রহমান (হাতুড়ি) ও জাতীয় পার্টির সালাহউদ্দিন বিশ্বাস (লাঙল)।

দুই লাখ ৩৮ হাজার ৪৩ ভোটারের এই উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৯৮টি। তবে রোববারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ শুধু যে সিইসি বা নির্বাচন কমিশনাররা ফ্রুটিকা খেয়েছেন, তাই নয়, মহাজোটের সংসদ ও মন্ত্রীও…


প্রভাষ আমিন

বাংলাদেশে ১১টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে। একাধিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে, হ্যাঁ-না ভোট হয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে, সামরিক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়েছে। এসব নির্বাচন নানা ধরনের হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন, হোন্ডা-গুন্ডার নির্বাচন, সূক্ষ্ম কারচুপির নির্বাচন, স্থুল কারচুপির নির্বাচন, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের নির্বাচন, ভোটারবিহীন নির্বাচন, প্রার্থীবিহীন নির্বাচন। অভিযোগের কোনো শেষ নেই। ভালো বা মন্দ, নির্বাচন যেমনই হোক; পরাজিত দল নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছে।

তবে গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পর বিরোধী দল যে অভিযোগ এনেছে, তা অভিনব। আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখার অভিযোগ আগে কখনো শোনা যায়নি। অভিযোগ গুরুতর সন্দেহ নেই। কিন্তু বিরোধী দলের হাতে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ ছিলো না। তাই তাদের অভিযোগ জনগণের মনে একটা ধারণা তৈরি করে বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু সেই অভিযোগে ভিত্তি দিতে এগিয়ে এসেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আর কমিশনাররা। পিছিয়ে নেই, মন্ত্রিত্ববঞ্চিত মহাজোটের সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননরাও।

গত ৮ মার্চ শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘জেলা-উপজেলা সদর থেকে অনেক দূরে দূরে ভোটকেন্দ্র হয়। এ কারণে আগের দিন এসব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স পাঠাতে হয়। এখানে ভোটের দিন সকালে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়া যায় না। কিন্তু যদি ইভিএমে ভোটের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে আর ভোটের আগের দিন রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার সুযোগ থাকবে না’। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার তো আগে থেকেই নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ করে আসছিলেন।

এবার তার সাথে সুর মেলালেন সিইসি এবং আরেক কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরীও। গত ৬ মার্চ বুধবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সুনামগঞ্জে এক আইনশৃঙ্খলা সভায় শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই, নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরা কিংবা ভোটের দিন, ভোটের পর গণনার সময় কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।’ তার মানে প্রকারান্তরে নির্বাচন কমিশন আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার অভিযোগটি মেনে নিলো।

শুধু যে সিইসি বা নির্বাচন কমিশনাররা ফ্রুটিকা খেয়েছেন, তাই নয়; মহাজোটের সংসদ সদস্য ও সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গত বুধবার বরিশালে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দিনের বেলায় ভোট ডাকাতি হবে’। তার মানে আগে রাতে হয়েছে, এখন দিনে হয়। কিন্তু তাই যদি হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনকে সেটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিরোধী দলের মতো হাওয়াই অভিযোগ করলেই হবে না।আস

লেখক : প্রভাষ আমিন (হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ)

আরও পড়ুনঃ সিইসির ‘ভোটের আগের রাতে সিল মারা’র বক্তব্যে নড়েচড়ে বসেছে বিরোধী দলগুলো!

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার নির্বাচনে অনিয়ম বন্ধ করা নিয়ে দেওয়া এক বক্তব্যের পরে নড়েচড়ে বসেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। তারা বলেছেন, ক্ষমতাসীন জোটের বাইরে অন্যদলগুলো নির্বাচনের পর দিন থেকেই বলে আসছে এবার ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তিসহ নানা অনিয়ম হয়েছে। সিইসি তার বক্তব্যের মাধ্যমে স্বীকার করে নিলেন যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট কারচুপি হয়েছে। ফলে বিভিন্ন মহল থেকে উঠা পুনর্নির্বাচনের দাবিটিও যৌক্তিক। একইসঙ্গে বিদেশি বন্ধুদেরও বোঝাতে সহজ হবে যে এবারের সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি।

রাজনীতিকরা বলছেন, পুনর্নির্বাচনের দাবিতে সরকার বিরোধী দলগুলোর একসঙ্গে আন্দোলন গড়ে তোলার যে বিষয়টি এসেছিল, সিইসির এই বক্তব্যের পর এখন তা আবার সামনে আসবে। চেষ্টা থাকবে সিইসির বক্তব্যকে কাজে লাগিয়ে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলনও গড়ে তোলা।

গত ৮ মার্চ এক সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হলে ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার কোনও সুযোগ থাকবে না। তার এই বক্তব্যের পরে চারদিকে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।’

নূরুল হুদা আরও বলেন, ‘জেলা-উপজেলা সদর থেকে অনেক দূরে দূরে ভোটকেন্দ্র হয়। এ কারণে আগের দিন এসব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স পাঠাতে হয়। এখানে ভোটের দিন সকালে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়া যায় না। কিন্তু যদি ইভিএমে ভোটের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে আর ভোটের আগের দিন রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার সুযোগ থাকবে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের পর থেকে বলে আসছি ২৯ তারিখ রাতে ভোট ডাকাতি হয়ে গেছে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়নি। সিইসি তার বক্তব্যে এটা স্বীকার করে নিলেন। জ্ঞাত বা অজ্ঞাত যেভাবে হোক তিনি নিজের স্বীকার করছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে ভোট বাক্স ভর্তি হয়েছে। সুতরাং আমাদের পুনর্নির্বাচনের দাবি সঠিক আছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিইসির এই বক্তব্যের পরে দলে এই নিয়ে এখনও কোনও আলোচনা হয়নি।’

তবে বিএনপির একটি সূত্র জানায়, সিইসির বক্তব্যকে কীভাবে কাজে লাগিয়ে পুনর্নির্বাচনের দাবিটি আরও জোরালো করা যায় তা ঠিক করতে রবিবার (১০ মার্চ) দলের স্থায়ী কমিটি বৈঠকে বসবে। পুনর্নির্বাচনের দাবিতে কর্মসূচিতে কিভাবে ক্ষমতাসীন জোটের বাইরে অন্যদলগুলোকে যুক্ত করা যেতে পারে সে কৌশল নিয়েও আলোচনা হবে। এছাড়া নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ধানের শীষের প্রার্থীদের ট্রাইবুন্যালে করা মামলার শুনানিতে সিইসির এই বক্তব্য একটা রেফারেন্স হয়ে দাঁড়াবে।

বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি সূত্র জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির নেতারা। বৈঠকে ভোটের অনিয়মগুলো কীভাবে তুলে ধরা হবে তার প্রস্তুতিও চলছে। এখন সিইসির এই বক্তব্যের মাধ্যমে কূটনীতিকদের সহজে বোঝানো যাবে যে এবারের নির্বাচনের ভোটের কারচুপি হয়েছে আগের রাতেই। ফলে বিএনপির পুনর্নির্বাচনের দাবি যৌক্তিক।

সিইসির এই বক্তব্যের প্রসঙ্গে শনিবার (৯ মার্চ) বিকালে সাংবাদিকদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আপনারা যেভাবে বুঝেছেন আমিও সেভাবেই বুঝেছি। তিনি কায়দা করে বুঝাচ্ছেন যে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। দেশের মানুষ কিন্তু এখন সচেতন।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে গণশুনানি করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। শুনানিতে প্রার্থীরা অভিযোগ করেন যে- নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভর্তি রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এইকসঙ্গে বর্তমান সংসদ বাতিল করে পুনর্নির্বাচনে দাবি উঠেছিল শুনানি থেকে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দল বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘সিইসি নূরুল হুদার বক্তব্যে প্রমাণিত হয়, নির্বাচনে অনিময় হয়েছে। বিলম্ব হলেও তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন অনিয়মের কথা। তার এই বক্তব্য নিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে আমরা ২-১ দিনের মধ্যে জোটগতভাবে বসবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের অনিয়ম ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আমরা গণশুনানি করছি। কর্মসূচিও চলছে আমাদের। সিইসির এই বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে আমাদের পুনর্নির্বাচনের দাবি যৌক্তিক।’

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, সিইসি বলেছেন ইভিএম ভোট হলে ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার কোনও সুযোগ থাকবে না। তার এই কথায় প্রমাণিত হয়, আমরা যে এবারের সংসদ নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ করেছি তা সঠিক। এই জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই আমি। একইসঙ্গে ওনাকে বলবো নির্বাচন সুষ্ঠু করতে না পারার ব্যর্থতা নিয়ে সরে দাঁড়ান। আর সরকারকে বলবো ভোট চুরির এই সংসদ বাতিল করে পুনর্নির্বাচন দিন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘সবাই নিজেদের মত করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে। এখন সব দলের মধ্যে মতের মিল থাকলে যেকোনও সময় যৌথভাবে রাজপথে এই দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। এতে আমরাও যেতে পারি।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন- সিইসি কে এম নূরুল হুদার বক্তব্যের পর এখন একাদশ নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনের দায়িত্ব হলো সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা। তারা যদি সেই কাজ করতে না পারে তাহলে তাদের দায়িত্বে থাকার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন সম্পাদক) বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি না শুধু, যতজনের কথা শুনছি এমনকি সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. সাখাওয়াত হোসেনও বলতেছে এটা তো একটা স্বীকারোক্তি। এটা তো ভয়ানক। এতদিন বিরোধী দল, বিদেশি মিডিয়া, টিআইবিসহ বিশিষ্টজনেরা বলে আসছে নির্বাচনের অনিয়মের কথা। এখন তো নির্বাচনের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।’

নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এটা সুস্পষ্ঠ বলে মনে করেন বদিউল আলম। তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনের দায়িত্ব হলো সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা। এখন নির্বাচন যদি সঠিক না হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন আসে নির্বাচন কমিশন কি করবে। তাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিইসির বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে যে- বিভিন্ন দল থেকে পুনর্নির্বাচনের যে দাবি উঠেছে তা সঠিক।’

উৎসঃ ‌বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ মুখ ফসকে মিডনাইট নির্বাচনের আসল সত্য বলে ফেলেছেন সিইসিঃ রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গত ৩০ ডিসেম্বর মিডনাইড ইলেকশনের কথা স্বীকার করার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা প্রমাণ হয়েছে। দেশবাসীর কাছে ইসির মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। এটা বিশ্ববাসীর কাছে অকাট্য দলিল হয়ে থাকবে। শনিবার দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রিজভী একথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, আগামীতে ইভিএমকে বৈধতা দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের জন্যই নির্বাচন কমিশন এখন কাজ করছে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ইভিএম নয়, ইসির সদিচ্ছা আর আন্তরিকতাই যথেষ্ঠ ছিল; কিন্তু ইসি ব্যর্থ হয়েছে।

‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ব্যবসা করছে’ এমন অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আসল ধারক ও বাহক হচ্ছে বিএনপি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রীকে জেলখানার নির্জন ঘরে আটকে রেখে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের এমপি, মন্ত্রী বানিয়েছে এই সরকার। স্বৈরশাসক এরশাদকে অনুগত বিরোধীদলের নেতা বানানো হয়েছে।

রিজভী বলেন, নির্বাচনের দুই মাসের মধ্যেই এখন প্যান্ডোরার বাক্স থেকে আসল ঘটনাগুলো বের হতে শুররু করেছে। থলের বিড়ালকে আর বেশিদিন আটকে রাখতে পারলেন না সিইসি কে এম নুরুল হুদা। আসলে সত্যকে ঢেকে রাখলেও তাতে লাভ হয় না। মিডনাইট নির্বাচনের আসল সত্যটি সিইসি মুখ ফসকেই বলে ফেলেছেন।

রিজভী বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দস্যুতার আচরণ করেছেন সিইসি। ইভিএম চালু হলে নাকি ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তির ঝুঁকি কমবে-এমন কথা বলেছেন সিইসি। জনগণের হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কমিশনে ইভিএম মেশিন প্রকল্প অপরিহার্যতা প্রতিপাদন করার জন্যই কি সিইসি ২৯ ডিসেম্বর রাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন?

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একটি প্রকল্পের যথার্থতা প্রমাণের জন্যই আপনি কি সারাদেশের ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নিলেন? আপনার ব্রেইন চাইল্ড প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের আমানতকে আপনি কেড়ে নিলেন?

রিজভী বলেন, সিইসি ৩০শে ডিসেম্বরের রাত থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের ঝুড়ি ঝুড়ি গালগল্প শুনিয়েছেন মানুষকে। মিডনাইট নির্বাচনের হোতা আপনি। আদর্শগত শুন্যতার কারণে আপনি এতবড় অন্যায়টি করেছেন জনগণের বিরুদ্ধে। এটি অবৈধ সরকারের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নীতি বাস্তবায়ন করতেই আপনি মহাভোট কেলেঙ্কারীর মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করলেন। আপনার এই বক্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকলো জাতির কাছে। তবে মনে রাখবেন-পাপ কখনও বাপকেও ছাড়ে না। আমজনতার কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতেই হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সাত দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন নজীরবিহীন। ব্যাপকভাবে জালভোট প্রদানের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রথম দফা ও দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে সাত দিনের ব্যবধান করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ আগের রাতে সিল মারা বন্ধ করতেই ইভিএম ব্যবহার হবেঃ সিইসি নুরুল হুদা

পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে * রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করতে ইসি কর্মকর্তাদের ভূমিকা আছে

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি বন্ধ করতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার শুরু করা হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে শুক্রবার পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (টিওটি) কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সিইসি বলেন, সমাজের মধ্যে একটার পর একটা অনিয়ম অনুপ্রবেশ করে, আবার সেটি প্রতিহত করতে একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। আমরা এখন চিন্তা করছি, এগুলোর দরকার নেই। ইভিএম শুরু করে দেব, তাহলে সেখানে আর রাতে বাক্স ভর্তি করার সুযোগ থাকবে না।

রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তির জন্য কারা দায়ী, সেটা বলার সুযোগ নির্বাচন কমিশনের নেই বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, কারা সেজন্য দায়ী, কাদের কী করা প্রয়োজন, সেই শিক্ষা দেয়ার ক্ষমতা, যোগ্যতা কমিশনের নেই। কী কারণে, কাদের কারণে এগুলো হচ্ছে, কারা দায়ী তা বলারও কোনো সুযোগ নেই। সবাই মিলে বিষয়টি দেখতে হবে। তাহলেই অবস্থার উন্নতি হবে।

কেএম নুরুল হুদা বলেন, নির্বাচনে গোপনীয় কাগজ নেই, গোপনীয় শলাপরামর্শ নেই, গোপনীয় কোনো বিষয় নেই। শুধু গোপনীয় একটি কক্ষ আছে, যেখানে ভোটাররা ভোট দেবেন। এছাড়া নির্বাচন পরিচালনার সবকিছু স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন। তথ্য-উপাত্ত, পরিবেশ-পরিস্থিতি সবকিছু ভোটার ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।

নির্বাচনে প্রক্রিয়ার ক্রমধারা তুলে ধরে সিইসি বলেন, সমাজে নানারকম অসাধু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জালিয়াতির চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের জালিয়াতি প্রক্রিয়া প্রতিহত করতে আবার একটি আইন বা নিয়ম তৈরি হয়। ভোট দিতে হতো আগে সামনে, তা না দিয়ে এখন ভোট দিতে হয় বাক্সে। তারপর হল- যিনি ভোটার না, ভোটার তালিকায় তার নাম দেয়া। এরপর এলো ছবিযুক্ত ভোটার, এখন তাতেও কাজ হয় না।

তিনি বলেন, পরিবেশ-পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং আইন আরও কঠোর হচ্ছে। এখন আমাদের আচরণবিধি তৈরি করতে হয়, নির্বাচনে আইন প্রণয়ন করতে হয়, কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়। তারপরও সামাল দেয়া যায় না। এ পরিস্থিতি ও অবস্থা থেকে উত্তরণ দরকার।

সিইসি প্রশ্ন রেখে বলেন, কোন দেশে আছে সেনাবাহিনী নির্বাচন পরিচালনার জন্য নিয়োজিত হন? আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শেষ পর্যায়ের ব্যবস্থা এটা। সেনাবাহিনীকে অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো বিষয়ে মোতায়েন করার কথা নয়। নির্বাচন করতে যাবে রাজনৈতিক দল, যারা দেশ পরিচালনা করবে। জনগণ দেশের মালিক, তারা ভোট দিতে যাবেন এবং আমরা যারা দায়িত্বে থাকব, আমরা নির্বাচন পরিচালনা করব। ভোটাররা ভোট দেবে, ভোট দিয়ে চলে যাবে, কোনো সমস্যা থাকবে না।

তিনি বলেন, পরিবেশ-পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে। এজন্য আইন-আচরণবিধি করতে হচ্ছে, কঠোর অবস্থায় যেতে হচ্ছে। তবুও সামাল দেয়া যায় না। তিনি বলেন, ভোটাধিকার রক্ষায় যে অবস্থায় আমরা রয়েছি, হাল ছেড়ে দিলে হবে না, যে যেখানে রয়েছে সেখান থেকেই প্রচেষ্টা নিতে হবে। আমরা সবাই মিলে দেখব, একদিন উন্নতি হবে, অন্যান্য দেশে যেভাবে হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করার ব্যাপারে ইসি কর্মকর্তাদের ভূমিকা আছে মন্তব্য করে সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করার ব্যাপারে আপনাদের ভূমিকা আছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করার ভূমিকাও আপনাদের রয়েছে। আপনাদের আচারে, আচরণে, ব্যবহারে, কার্যক্রমে যখন একটা অবস্থান সৃষ্টি হবে, তখন নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি ভালো হয়ে যাবে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন, তাদের কোনো পক্ষ নেই। তাদের পক্ষ হল- নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। কে কোন দল করে, কার প্রভাব বেশি, কার রাজনৈতিক পরিচয় কী- এসব মোটেও বিবেচ্য বিষয় নয়। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করতে হবে।

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। যে হেরে যাবে, তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আর যে জিতে যাবে, তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই হেরে যাওয়া আর জিতে যাওয়ার মাঝে আপনাদের দুর্বল থাকা চলবে না।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আওয়ামীলীগের আমলে এসব কি হচ্ছে? নির্বাচন, নাকি নির্বাসন?

২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম- কনগ্রেচুলেশনস! কিন্তু পরদিন শুক্রবার যুগান্তর শিরোনাম করেছে- ‘নিরুত্তাপ ভোটে মেয়র হলেন আতিকুল’।

অপরদিকে প্রথম আলো লিখেছে, ‘অনাগ্রহের ভোট, আতিক এগিয়ে’। নিন্দুকরা বলছে, পত্রিকা দুটি খুবই বেরসিক, সবকিছুতেই খুঁত না ধরলে পেটের ভাত হজম হয় না। আমরা সাধারণ মানুষ তা মনে করি না। আমরা মনে-প্রাণেই বিশ্বাস করি, আমেজ-উদ্দীপনা-অংশগ্রহণ-স্বতঃস্ফূর্ততার বিচারে নির্বাচনকে নির্বাসন দেয়া হয়েছে। এতে আপাত লাভালাভির বিষয় হয়তো থাকতে পারে; তবে ভবিষ্যৎ বিচারে তা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। সমালোচনাকে উড়িয়ে দিতে সরকারি তরফ থেকে অনেকেই ‘নাথিং হ্যাপেন্ড’ বলতে পারেন; কিন্তু তা হবে দায়সারা মন্তব্য।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৩১ লাখ ২ হাজার। তার মধ্যে ভোট পড়েছে ৯ লাখ ২৩ হাজার ২৬, যা শতাংশের হিসাবে ৩১.৫। ছোটবেলায় শুনেছি ক্লাসের পরীক্ষায় পাস মার্কস ৩৩%। ৩১% পেলে স্যার দয়া করে ২ মার্কস দিয়ে দিতেন- সেটাকে বলতাম ‘গ্রেস মাকর্স’। সিইসির দয়া আছে; কিন্তু গ্রেস মার্কস দেয়ার ক্ষমতা নেই। অতএব ফেল মার্কসই সই।

এই ৩১-কেও অনেকে বিশ্বাস করতে চান না, তাদের মতে, এ হার ২৮ শতাংশের বেশি নয়। তবে এ তর্কে না গিয়েও বলা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল সর্বনিু। সাম্প্রতিক সময়ে আরও চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়ে গেছে। রাজশাহীতে ভোট পড়েছিল ৭৮ শতাংশ, গাজীপুরে ৫৭ শতাংশ, খুলনায় ৬২ শতাংশ এবং সিলেটে ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ সব কটিতেই ৫০ শতাংশের বেশি অংশগ্রহণ ছিল। আগামী দিনগুলোতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও কমে যাবে বলে সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

ভোটারদের এ অনাগ্রহের কারণ কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান ২ মার্চ প্রথম আলোকে বলেন, ‘একদিকে এ নির্বাচনে কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না।

অন্যদিকে গত সাধারণ নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় জনগণের মনে হয়েছে, তারা ভোট দিল কী দিল না, তাতে ফলাফলের কিছু যাবে আসবে না। ক্ষমতাসীনরা যে ফল চায়, তা তারা কোনো না কোনোভাবে তৈরি করবে। তাই জনগণ নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’

তাহলে দেখা যাচ্ছে, বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতা না হলেও অহিংসতার ভেতর দিয়ে এমন কিছু ঘটেছে যা ভোটারদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অভিযোগ করেছিল যে, নির্বাচনের আগের মধ্যরাতে ৬০ শতাংশ ভোট সরকারি দল ‘সিল’ মেরে নিয়েছে; ভোটের দিন ভোটারদের গোপনে ভোট দেয়ার পরিবর্তে নৌকার এজেন্টদের সামনে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে; বিরোধী দলের প্রচার কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দমনমূলক আচরণ করেছে; আগের রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দেয়া হয়েছে ইত্যাদি।

সরকারি দল এসব অভিযোগ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন কমিশন কোনো আমলেই নেয়নি; কিন্তু ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে ‘ডাল মে বহুত কালা হায়’।

এ বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘ভোট কেন্দ্রে ভোটার না আসার দায় নির্বাচন কমিশনের নয়। এ দায় রাজনৈতিক দলগুলোর এবং প্রার্থীদের’ (যুগান্তর, ০১.০৩.১৯)। দায় কার সে কথায় আমরা নাইবা গেলাম। কিন্তু ‘না আসার’ যে একটা দায় কারও না কারও আছে সেটা সিইসির মন্তব্যে বেরিয়ে এসেছে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনের মাঠে তো এখন নির্বাচন কমিশন আর আওয়ামী লীগ- অন্য কোনো প্রাণী তো ডিসেম্বরেই ক্ষান্ত!

তাহলে দায়টা হয় নির্বাচন কমিশনের, না হয় সরকারি দলের, উভয়ের বাইরে তো যাওয়ার সুযোগ নেই। সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেনকে আওয়ামী ঘরানার না বলতে পারেন; কিন্তু আওয়ামীবিদ্বেষী নিশ্চয়ই বলা যাবে না।

এ নির্বাচনে ভোটারদের অনাগ্রহ সম্বন্ধে তিনি বলেন, ‘মানুষ ভোট দিতে যায়নি। কারণ, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মানুষ নির্বাচনী ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে’ (প্রথম আলো, ০১.০৩.১৯)। যে কোনো দল চাইবে যে কোনোভাবেই হোক ভোট অনুকূলে আনতে। সে জন্য যা যা করা দরকার (তা যত অনাকাক্সিক্ষতই হোক) তাই করতে চেষ্টা করবে।

কিন্তু নির্বাচন কমিশনকে তার বাহিনী মেধা, সততা আর দক্ষতা দিয়ে তা প্রতিহত করতে হবে। যদি সেটা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সারা নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা হারিয়ে যাবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যাহত হবে।

‘নির্বাচন আসে, এবং মনে করা হয় যে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরিণামে যা পাওয়া যায় তা মোটেই গণতন্ত্র নয়, সেটা হচ্ছে নির্বাচিত স্বৈরাচার। আর সাধারণ অভিজ্ঞতা এটাই যে স্বৈরাচার যদি নির্বাচিত হয়, অর্থাৎ নিজেকে বৈধ করে নেয় তবে তা অবৈধ স্বৈরাচারের চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে।

কেননা বৈধ স্বৈরাচার নিজেকে বৈধ মনে করে, ভাবে সে জনগণের রায় নিয়ে এসেছে, তাই যা ইচ্ছা তা করতে পারবে, যতটা সম্ভব আইন চালাবে, পাঁচ বছর পর দেখা যাবে জনগণ তাদের কাজ পছন্দ করেছে কী করেনি’ (সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ‘গণতন্ত্রের অভিমুখে’, পৃষ্ঠা : ১১০)।

গত দশ বছরে আওয়ামী লীগ আশাব্যঞ্জক উন্নয়ন করেছে- এ কথা কেউ বললে আমি তার সঙ্গে নিশ্চয়ই দ্বিমত করব না। আবার কেউ যদি বলেন, গত দশ বছরে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির আশঙ্কাজনক অবনমন হয়েছে তাতেও দ্বিমত করার সুযোগ থাকবে না। অনেকেই বলতে পারেন, গত চার দশকের কথা বিবেচনায় নিলে চীনের তুলনায় ভারতে অধিকতর গণতন্ত্রের চর্চা হয়েছে; কিন্তু ভারতের তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে চীন এগিয়েছে চোখ-টাটানোর মতো।

তাই আওয়ামী লীগ শুধু উন্নয়নের গানটাই বেশি গাইতে পছন্দ করে। অন্যদিকে বিএনপি আওয়ামী লীগের উন্নয়নকে আমলেই নিতে চায় না, শুধুই রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নটি সামনে আনছে।

অথচ গণতন্ত্র এবং উন্নয়ন একই সঙ্গে চলতে কোনো বাধা নেই বরং চলাই উচিত। এ বিষয়ে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেন, ‘উন্নয়নকে যদি বৃহত্তর অর্থে দেখি, তাহলে তার কেন্দ্র হচ্ছে মানুষের জীবন। এভাবে দেখলে এটা পরিষ্কার হয় যে, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের মধ্যে সম্পর্কটাকে শুধু তাদের বাহ্যিক সম্পর্কের দিক থেকে দেখলে চলবে না, বরং দুটোর অন্তর্নিহিত ঐক্যকেও দেখতে হবে।

রাজনৈতিক স্বাধীনতা ‘উন্নয়নের জন্য অনুকূল’ কিনা- কখনও কখনও এ প্রশ্নও তোলা হয়। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হচ্ছে উন্নয়নের ‘অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ’ (‘নীতি ও ন্যায্যতা’; পৃষ্ঠা: ৩৮৫-৮৬)। সুতরাং একটাকে আরেকটার প্রতিপক্ষ ভাবার কোনো কারণ নেই।

অনেকেই হেঁয়ালি করে বলেন, সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ। এটা কোনো গৌরবের কথা নয়। একজন মানুষ সম্পর্কে যদি মূল্যায়ন করা হয়, তার দ্বারা একটি নিষ্পাপ শিশুকে আদর করাও সম্ভব আবার ঠাণ্ডা মাথায় শিশুটিকে খুন করাও সম্ভব- এ চরিত্রের মানুষ আমাদের কাম্য নয়। অবশ্যই আপনার একটা পজেটিভ আইডেন্টিটি থাকতে হবে। কথায় বলে, বসার জায়গা চষতে হয় না।

আপনাকে কোনো না কোনো বিষয়ে আস্থার জায়গা তৈরি করতে হবে। মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদ এর আগে ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২২ বছর দেশ শাসন করেছেন। অনেকে তাকে স্বৈরাচারের তকমাও দিয়েছেন। তবে সাধারণভাবে বলা হতো, মালয়েশিয়ায় মাহাথিরের কথাই শেষ কথা। ১৯৯০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী মিচেল রকার্ড মালয়েশিয়ায় মাদক চোরাচালানের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ফ্রান্সের নাগরিক মিস বেট্রিসে সাওবিনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মোহাম্মদকে একটি অনুরোধপত্র পাঠান।

জবাবে অপারগতা প্রকাশ করে মাহাথির লেখেন, ‘…আর তাছাড়া পরবর্তী সময়ে (সাওবিন) আবার ক্ষমার আবেদন করা হলে পেনাং রাজ্যের পার্ডনস বোর্ড (Pardon’s Board) আবেদন নাকচ করে দেয়। খুবই দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, মিস সাওবিনের ব্যাপারে কোনোরকম সাহায্য করতে পারছি না। বিচার বিভাগীয় কাজে হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার আমার নেই’ (ডা. মাহাথির’স সিলেক্টেড লেটার্স টু ওয়ার্ল্ড লিডার্স; পৃষ্ঠা: ৪৩)। তার মানে হল ডা. মাহাথির যা খুশি তাই করতে পারেননি; কিন্তু আমরা মনে হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘যা খুশি তা করে’ ফেলেছি। এটা কেউ স্বীকার করুন বা না করুন।

আমি দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করি, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিএনপির তুলনায় অনেক বেশি সংহত। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী একটি দলের অস্তিত্ব ধরে রাখতে জবরদস্তির প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। নিজেদের দুর্বলতাগুলো আস্তে আস্তে কাটিয়ে তুলে মানুষের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। বাস্তব উপলব্ধির দ্বারা নির্বাচনবিমুখ আমজনতাকে নির্বাচনমুখী করার সব দায়িত্ব এখন সরকারকেই নিতে হবে। সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

লেখকঃ মুঈদ রহমান : অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আগের রাতে সিল মারা বন্ধ করতেই ইভিএম ব্যবহার হবেঃ সিইসি নুরুল হুদা

পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে * রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করতে ইসি কর্মকর্তাদের ভূমিকা আছে

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি বন্ধ করতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার শুরু করা হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে শুক্রবার পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ (টিওটি) কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সিইসি বলেন, সমাজের মধ্যে একটার পর একটা অনিয়ম অনুপ্রবেশ করে, আবার সেটি প্রতিহত করতে একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। আমরা এখন চিন্তা করছি, এগুলোর দরকার নেই। ইভিএম শুরু করে দেব, তাহলে সেখানে আর রাতে বাক্স ভর্তি করার সুযোগ থাকবে না।

রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তির জন্য কারা দায়ী, সেটা বলার সুযোগ নির্বাচন কমিশনের নেই বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, কারা সেজন্য দায়ী, কাদের কী করা প্রয়োজন, সেই শিক্ষা দেয়ার ক্ষমতা, যোগ্যতা কমিশনের নেই। কী কারণে, কাদের কারণে এগুলো হচ্ছে, কারা দায়ী তা বলারও কোনো সুযোগ নেই। সবাই মিলে বিষয়টি দেখতে হবে। তাহলেই অবস্থার উন্নতি হবে।

কেএম নুরুল হুদা বলেন, নির্বাচনে গোপনীয় কাগজ নেই, গোপনীয় শলাপরামর্শ নেই, গোপনীয় কোনো বিষয় নেই। শুধু গোপনীয় একটি কক্ষ আছে, যেখানে ভোটাররা ভোট দেবেন। এছাড়া নির্বাচন পরিচালনার সবকিছু স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন। তথ্য-উপাত্ত, পরিবেশ-পরিস্থিতি সবকিছু ভোটার ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।

নির্বাচনে প্রক্রিয়ার ক্রমধারা তুলে ধরে সিইসি বলেন, সমাজে নানারকম অসাধু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জালিয়াতির চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের জালিয়াতি প্রক্রিয়া প্রতিহত করতে আবার একটি আইন বা নিয়ম তৈরি হয়। ভোট দিতে হতো আগে সামনে, তা না দিয়ে এখন ভোট দিতে হয় বাক্সে। তারপর হল- যিনি ভোটার না, ভোটার তালিকায় তার নাম দেয়া। এরপর এলো ছবিযুক্ত ভোটার, এখন তাতেও কাজ হয় না।

তিনি বলেন, পরিবেশ-পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং আইন আরও কঠোর হচ্ছে। এখন আমাদের আচরণবিধি তৈরি করতে হয়, নির্বাচনে আইন প্রণয়ন করতে হয়, কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়। তারপরও সামাল দেয়া যায় না। এ পরিস্থিতি ও অবস্থা থেকে উত্তরণ দরকার।

সিইসি প্রশ্ন রেখে বলেন, কোন দেশে আছে সেনাবাহিনী নির্বাচন পরিচালনার জন্য নিয়োজিত হন? আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শেষ পর্যায়ের ব্যবস্থা এটা। সেনাবাহিনীকে অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো বিষয়ে মোতায়েন করার কথা নয়। নির্বাচন করতে যাবে রাজনৈতিক দল, যারা দেশ পরিচালনা করবে। জনগণ দেশের মালিক, তারা ভোট দিতে যাবেন এবং আমরা যারা দায়িত্বে থাকব, আমরা নির্বাচন পরিচালনা করব। ভোটাররা ভোট দেবে, ভোট দিয়ে চলে যাবে, কোনো সমস্যা থাকবে না।

তিনি বলেন, পরিবেশ-পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে। এজন্য আইন-আচরণবিধি করতে হচ্ছে, কঠোর অবস্থায় যেতে হচ্ছে। তবুও সামাল দেয়া যায় না। তিনি বলেন, ভোটাধিকার রক্ষায় যে অবস্থায় আমরা রয়েছি, হাল ছেড়ে দিলে হবে না, যে যেখানে রয়েছে সেখান থেকেই প্রচেষ্টা নিতে হবে। আমরা সবাই মিলে দেখব, একদিন উন্নতি হবে, অন্যান্য দেশে যেভাবে হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করার ব্যাপারে ইসি কর্মকর্তাদের ভূমিকা আছে মন্তব্য করে সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করার ব্যাপারে আপনাদের ভূমিকা আছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করার ভূমিকাও আপনাদের রয়েছে। আপনাদের আচারে, আচরণে, ব্যবহারে, কার্যক্রমে যখন একটা অবস্থান সৃষ্টি হবে, তখন নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি ভালো হয়ে যাবে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন, তাদের কোনো পক্ষ নেই। তাদের পক্ষ হল- নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। কে কোন দল করে, কার প্রভাব বেশি, কার রাজনৈতিক পরিচয় কী- এসব মোটেও বিবেচ্য বিষয় নয়। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করতে হবে।

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। যে হেরে যাবে, তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আর যে জিতে যাবে, তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই হেরে যাওয়া আর জিতে যাওয়ার মাঝে আপনাদের দুর্বল থাকা চলবে না।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here