ভোটডাকাতির বৈধতা নিতে বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আয়োজন?

0
243

রাজনীতিতে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসছে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি। পর্দার আড়ালে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সমঝোতার আলোচনা হচ্ছে, এমন খবর বেশ কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে বিএনপির নির্বাচিত ৬ জন এমপি শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়ার শর্তে সরকার খালেদা জিয়াকে প্যারোলে বা জামিনে মুক্তি দিতে পারে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে প্যারোলের বিষয়টিকে বার বার প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে সংসদে যাওয়ার শর্তে খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আর বিএনপির দাবি হলো-প্যারোলে নয়, খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দিতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত সংসদের মতো এবারও আওয়ামী লীগ একদলীয় সংসদ নিয়ে চরম বেকায়দায় আছে। জাতীয় পার্টিকে কাগজে-কলমে বিরোধী দলের আসনে বসানো হলেও মূলত: দলটি সরকারি জোটেরই অংশ বিশেষ। আর জাতীয় পার্টিও নিজেদের ইচ্ছায় বিরোধী দলের আসনে বসেনি। এক প্রকার সরকারের চাপের মুখে পড়েই তারা বিরোধীদলের আসনে বসতে বাধ্য হচ্ছে।

অপরদিকে, বিদেশিরা সরকারের সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিলেও সংসদে শক্তিশালী বিরোধীদল না থাকায় বিষয়টি খুব ভালভাবে নিচ্ছে না। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি সংসদের বাইরে থাকার বিষয়টিকেও বিদেশিরা খুব গুরুত্ব দিচ্ছে। আর প্রভাবশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রতো এখনো তাদের দাবিতে অবিচল যে, বাংলাদেশের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। এসব কারণে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ খুব অস্বস্তিতে আছে।

সরকার মনে করছে, বিএনপির আসন সংখ্যা যা-ই হোক দলটি যদি সংসদে আসে তাহলে নির্বাচন নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন উঠবে না। কেউ আর সংসদকে একদলীয় সংসদ বলতে পারবে না। তাই বিএনপির নির্বাচিত ৬ জনকে সংসদে আনতে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেই হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা বিএনপিকে টোপ দিয়েছে- যদি আপনারা সংসদে আসেন তাহলে দলীয় প্রধানকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হবে।

আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচিত এমপিরাও সংসদে যেতে রাজি। তারাও চান খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে সংসদে যেতে। আর এক্ষেত্রে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন জাতীয় ঐক্যের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। যদিও বিএনপি নেতারা এসব কথাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমের বক্তব্যেও এসবের কিছু আভাস পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলে সরকার তা বিবেচনা করবে। আর নাসিম বলেছেন, সংসদে এসে খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলুন, লাভ হতেও পারে।

নাসিমের বক্তব্যে বিষয়টি পরিষ্কার যে, কোনো আইনি জটিলতার কারণে খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ নয়। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সরকার চাচ্ছে না তাই খালেদা জিয়াও মুক্তি পাচ্ছেন না। সরকার মূলত চাচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে যে ভোট ডাকাতি হয়েছে সেটার বৈধতা আদায় করতে। এখন দেখার বিষয়- খালেদা জিয়া কি বাইরের আলো বাতাস দেখার জন্য ভোটা ডাকাতির বৈধতা দেবেন নাকি কারাগারেই থাকবেন। তবে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া এসব প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ এস এম হলের হামলাকারীরা ছাত্রলীগের, ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত!


এস এম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, হল সংসদের ভিপি মুজাহিদ কামাল ও জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সানাউল্লাহ সায়েম ও ছাত্রলীগ কর্মী মোবাশ্বের মারুফ (ওপরে বাঁ থেকে)। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে হল সংসদে প্রার্থী হওয়ায় উর্দু বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরিদ আহমেদকে নির্যাতন করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় হল প্রাধ্যক্ষের কাছে বিচার চাইতে গেলে অবরুদ্ধ করা হয় ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যদের। হামলা করা হয় ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, শামসুন্নাহার হলের ভিপি তাসনিম আফরোজ ইমিসহ বেশ কয়েকজনের ওপর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গঠন করা হয় একটি তদন্ত কমিটি।

গত মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত করা হয়েছে অভিযুক্তদের পরিচয়। এ ঘটনায় জড়িতদের অনেকেই ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আছেন যাদের গত বছরে বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

যদিও ছাত্রলীগ আগে থেকেই দাবি করেছে, তারা এ ঘটনায় জড়িত নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এর আগে বলেছেন, হামলার নাটক সাজিয়ে তাদের চরিত্রে দাগ লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ভুক্তভোগীরা ঘটনার সময় ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করেছেন। তারা নিশ্চিত হয়েছেন হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে।

হামলায় জড়িতরা

এ ঘটনার কয়েকদিন পর কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এক শিক্ষার্থী ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে বলেন, ঢাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজিরের শরীরে যে ছেলেটি দৌড়ে এসে লাথি মারেন তিনি লোক প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও এস এম হল শাখা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী মোবাশ্বের মারুফ। তিনি ছাত্রলীগ মনোনীত হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজারের সমর্থক।

অভিযোগের বিষয়ে মোবাশ্বের মারুফ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমি ঘটনার দিন দুপুরে ট্রেনে করে কক্সবাজার আসি। এসেই হোটেলে উঠি। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।’ তবে কক্সবাজারে কোনো ট্রেন লাইনই নেই। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গিয়ে তারপর বাসে করে কক্সবাজার যেতে হবে। মোবাশ্বেরের কাছে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রেনের টিকেট দেখতে চাইলে দেখাতে পারেননি। তবে তিনি কক্সবাজারের যে হোটেলে ওঠেন তার একটি রশিদ দেখান। সেখানে দেখা যায়, ঘটনার পরের দিন ৩ এপ্রিল তিনি ওই হোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। এ ছাড়া তিনি কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার একটি বাসের টিকিট দেখালেও তাতে কোনো নাম বা সময় উল্লেখ নেই।

হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, যারা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছিল তাদের মধ্যে রয়েছেন এস এম হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ, সহসাধারণ সম্পাদক নওশের আহমেদ, সহসভাপতি মিলন হোসাইন নিরব, সাংগঠনিক সম্পাদক সানাউল্লাহ সায়েম, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক জাহিদ হাসান, নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক নাবিল হায়দার এবং হল ছাত্র সংসদের ১ নম্বর সদস্য আবির রহমান সৈকত।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের নেতৃত্বে ছিলেন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, হল সংসদের ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা মুজাহিদ কামাল এবং জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার।

এদিকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও হল সংসদের ভিপি মুজাহিদ কামালকে এর আগে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সংগঠনটির গত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বহিষ্কারের বিষয়টি সেই সময় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। একাধিক গণমাধ্যমেও বহিষ্কারের বিষয়টি আসে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত কামালের বিরুদ্ধে বুয়েট মার্কেটের একটি হোটেলে খাওয়া শেষে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সে সময় তাঁর নেতৃত্বে ওই হোটেলে ভাঙচুর করা হয়। এতে একটি মামলাও করে হোটেল কর্তৃপক্ষ। এই মামলায় দুই নম্বর আসামি হন ২ এপ্রিলের হামলায় অভিযুক্ত ও হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সানাউল্লাহ সায়েম। সায়েমকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

ফরিদকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মারধরের ঘটনার অভিযোগ দিতে ২ এপ্রিল এস এম হলে যান ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন, শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন ও ফারুক হোসেন, ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, ডাকসুর ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খানসহ কয়েকজন। সে সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয় এবং অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, হল সংসদের ভিপি ছাত্রলীগ নেতা কামাল হোসেন, জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার, সাহিত্য সম্পাদক আকিব মোহাম্মদ ফুয়াদসহ অন্যদের হাতে লাঞ্ছিত হন সেমন্তি, ইমি ও বেনজিরসহ ছাত্রীরা। তাদের গায়ে ডিমও ছুঁড়ে মারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় তারা সারারাত সেখানে অবস্থান করেন। পরের দিন বুধবার সকালে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। তিনি হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। পরে সোমবারের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আলটিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

হামলার সময় দর্শকের ভূমিকায় প্রক্টর দল

ভিপি নুরসহ অন্য শিক্ষার্থীদের ওপর যখন হামলা করা হয়েছিল তখন আশপাশে কাউকে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। একটি পক্ষ ছিল হামলাকারী আর অন্যটি ছিল ভুক্তভোগী। তখন তৃতীয় একটি পক্ষকে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। তাদের গায়ে প্রক্টর টিমের পোশাক দেখা যায়। কিন্তু তারা ছিলেন দর্শকের ভূমিকায়। হামলাকারীদের কোনো বাধা দেননি তাঁরা।

ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানীকে ফোন করা হলে তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, সেখানে প্রক্টর টিমকে পাঠানো হয়েছে, তারা দেখবে। প্রক্টর দলের নীরব ভূমিকার কথা তাঁকে জানানো হলে তিনি বলেন, ওটা হলের অভ্যন্তরীণ বিষয় তো। হল প্রাধ্যক্ষ যাচ্ছেন, তিনি দেখবেন।

ডিম নিক্ষেপের শিকার হন হল প্রাধ্যক্ষও

ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যদের দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার পর ঘটনাস্থলে যান হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম জোয়ারদার। প্রাধ্যক্ষ ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসছিলেন, তখনও তাদের ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলায় বাদ যাননি হল প্রাধ্যক্ষও। যেটি তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন।

জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ বলেন, যখন নুরসহ অন্যদের বের করে আনি তখন ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল। এই ধাক্কা আমিও খেয়েছিলাম। আমার গায়েও ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছিল। অন্ধকারে কারা নিক্ষেপ করেছিল, জানি না। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে দেখবে।

তদন্তে অগ্রগতি নেই

হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেন এস এম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম জোয়ারদার। এ কমিটির প্রধান করা হয় হলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক শিক্ষক ড. সাব্বির আহমেদকে। তদন্তের চারদিন পার হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা ছুটির কারণে কোনো মিটিং বা কিছুই করতে পারিনি। তদন্ত শেষ করতে প্রায় ৪০ জনের মতো সাক্ষাৎকার নিতে হবে। এতে প্রায় এক মাসের মতো সময় লাগতে পারে।

ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন

ওই হামলায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। এ সময়ের মধ্যে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘উপাচার্য আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তারা বিচার করবেন। আমরা সোমবার পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছি। তারা যদি এর মধ্যে বিচার না করে তবে আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’

নুর বলেন, তদন্ত কমিটি চাইলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের খুঁজে বের করতে পারে। এই সময়ই যথেষ্ঠ। আমাদের কাছে সব তথ্য আছে। তারা চাইলে আমরা দিতে পারব।

উৎসঃ ‌এনটিভি

আরও পড়ুনঃ ফেসবুকে হাসির রিঅ্যাক্ট থেকে সূত্রপাত, ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে রণক্ষেত্র অবধি গড়ালো ঘটনা


ফেসবুকে হাসির রিঅ্যাক্টের মত তুচ্ছ ঘটনা থেকেই নতুন নতুন ঘটনার সূত্রপাত। গত ৩১ মার্চের পর থেকে চবি ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ, দেশীয় অস্ত্রের মহড়া, প্রশাসনের হল তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও অস্ত্রমামলার মত ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ শাখা ছাত্রলীগের একাংশের ধর্মঘটের ঘোষণা ও পুলিশ- ছাত্রলীগের মধ্যকার সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস। সবমিলিয়ে গত ৩১ মার্চ থেকে এই পর্যন্ত আহতের সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধিক।

ঘটনার শুরু :

চবির ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ও বিজয় গ্রুপের তনয় কান্তি দাস নামের এক কর্মি শিউলি (ছদ্মনাম) নামক এক ছাত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসির রিঅ্যাক্ট দিয়েছিল। এ ঘটনায় গত ৩১ মার্চ ঐ ছাত্রীর সহপাঠী সিএফসি গ্রুপের নেতা ক্যাম্পাসে তনয়কে পেয়ে কথা কাটাকাটির পর মারধর করে। এতে করে বিজয় এবং সিএফসি উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়।

বিবাদমান দুটি পক্ষ সিএফসি ও বিজয় একই নেতার অনুসারী উপ-শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এই ঘটনার জের ধরে ১ এপ্রিল উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়। এতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে একইদিন রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি আবাসিক হল এএফ রহমান, আলাওল, সোহওয়ার্দী, শাহ আমানত এবং আব্দুর রব হলে প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এতে এএফ রহমান হলের পিছনের পাহাড় থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি পাইপগান ও ১২৮ রাউন্ড গুলি, বাকী চার হল থেকে রামদাসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।

এদিকে পূর্বের একই ঘটনার জের ধরে শাখা ছাত্রলীগের ঐ দুটি পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে গত ৩ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের সামনে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত এবং ৬ জনকে আটক করে পুলিশ। পরদিন (৪ তারিখ) পুলিশ বাদী হয়ে আটককৃতদের নামে হাটহাজারী থানায় অস্ত্রমামলা দায়ের করে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারসহ চার দাবিতে চবি ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা ৭ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয়। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার সকালে নগরীর বটতলী স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনের হোস পাইপ কেটে দেয় তারা। এছাড়াও এক লোকমাস্টারকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করেছে রেলওয়ে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে অবস্থানরত সকল বাসের চাকা অকেজো করে দেওয়া হয় ও সকল অনুষদের প্রধান ফটকগুলোতে সুপার গ্লু দিয়ে বন্ধ করে দেয় তারা। পরে সকাল ৯ টার দিকে ধর্মঘট পালনকালে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট গেটে তালা দিয়ে অবস্থান করে। এছাড়াও সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে রিকশা, সিএনজিসহ সকল ধরণের গাড়ি চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সাড়ে এগারোটার দিকে পুলিশ জলকামান নিয়ে আসলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা স্থানত্যাগ না করলে ১১.৫০ মিনিটের দিকে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। একপর্যায়ে ঘটনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এদিকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। অন্যদিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে অন্তত পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া পথচারী সহ বিশ-পঁচিশজন ছাত্রলীগকর্মী গুলিবিদ্ধ ও লাঠিচার্জে আহত হয়। এসময় ডিবি পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুর করে সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় চবি ক্যাম্পাস। এদিন দু’জনকে আটক করে পুলিশ।

ঘটনা পরবর্তী চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী এক জরুরী সভায় সাংবাদিকদের জানান, তাদের নামে যে অস্ত্রমামলা হয়েছে সেটা দেশীয় অস্ত্রের মামলা, আগ্নেয়াস্ত্র নয়। তারা বরং আগ্নেয়াস্ত্র মামলা হয়েছে বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই মামলায় তাদের ছাত্রত্ব হুমকির মুখে পড়বে না। পুলিশ বাদী হয়ে যে মামলা করেছে সেটা তাদের জন্যই করেছে। তাদের দাবি অবশ্যই যৌক্তিক। তারা আমাদের কাছে এসে আলোচনা করতে পারতো। তারা সেটা করেনি। এ ধরণের পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কিভাবে নির্বিকার থাকবে। তারা অহিংস আন্দোলন করবে বললেও বিভিন্ন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড করেছে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা রেজা বলেন, আমরা তাদের সমস্ত দাবিদাওয়া মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলাম। নেতাদের সাথে কথাও হয়েছিল। কিন্তু তারা আন্দোলন অহিংস রাখেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্রের উস্কানিতে এ ঘটনা ঘটেছে। তারা পুলিশের সাথে হাতাহাতি করে ঝামেলা বাঁধায়। আমাদের কয়েকজন সহকর্মী এতে আহতও হয়েছে।

এ বিষয়ে বিজয় গ্রুপের নেতা ফজলে রাব্বি সুজন বলেন, আমরা আমাদের চার দফা দাবিতে আন্দোলনে সফল। আমাদের মধ্যে গাপটি মেরে থাকা কিছু অনুপ্রবেশকারী জামায়াত শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পুলিশের সাথে হাতাহাতিতে জড়ায়। এ ঘটনার সাথে ছাত্রলীগ জড়িত না। যে বা যারা এর সঙ্গে জড়িত আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

উৎসঃ ‌দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস

আরও পড়ুনঃ ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু শিগগির, ব্যয় ৮২ দশমিক ৫ কোটি টাকা


সংসদ নির্বাচনের কারণে স্থগিত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিগগিরই হালনাগাদের লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনাও করেছে সংস্থাটি।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবারের কার্যক্রম জেলাভিত্তিক সম্পন্ন করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। ১ জানুয়ারি ২০০২ সালের আগে যারা জন্মগ্রহণ করেছেন তাদেরকেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া তালিকা থেকে কাটা হবে মৃত ভোটারের নামও।

হালনাগাদের সময় যারা আবাসস্থল পরিবর্তন করেছেন বা যাদের ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে, তারাও সুযোগ পাবেন সংশোধনের।

নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম চূড়ান্ত করার জন্য সোমবার (০৮ এপ্রিল) কমিশন বৈঠকে বসছে। এদিন বিকেল সাড়ে তিনটায় নির্বাচন ভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এখান থেকেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে কবে থেকে শুরু করা হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ।

কমিশন বৈঠকে কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইসির নিয়োগ করা তথ্য সংগ্রহকারীরা তথ্য নেওয়ার তিন সপ্তাহ পর নির্দিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি ও দশ আঙুলের ছাপ দিতে হবে। আর নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে প্রতিটি ওয়ার্ডে।

প্রতি দুই হাজার নাগরিকের বিপরীতে একজন করে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে। পাঁচজন তথ্য সংগ্রহকারীর জন্য থাকবেন একজন সুপারভাইজার। প্রতি ৭০ জন নাগরিকের জন্য একজন করে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করা হবে। যারা ভোটারদের তথ্য সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করবেন।

আর বিশাল এ কর্মযজ্ঞের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮২ দশমিক ৫ কোটি টাকা। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের তৈরি করা কর্মপরিকল্পনাটি বৈঠকে অনুমোদন পেলে শিগগিরই শুরু হবে হালানাগাদের কাজ। হালানগাদের পর দ্রুততার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহের কথাও রয়েছে।

এ বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, সোমবার বৈঠক আছে। সেখানেই হয়তো ঠিক হবে কবে থেকে কী পন্থায় এবারের হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন করা হবে। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে স্থগিত হালনাগাদ কার্যক্রমের জন্য বেশি সময় হয়তো নেওয়া হবে না।

বর্তমানে দেশে ভোটার রয়েছেন ১০ কোটি ৪১ লাখ ৩৮১ জন।

প্রসঙ্গ রোহিঙ্গা ও ভারতীয় নাগরিক

প্রতি বছরই ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়ছে মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা। ১০ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ায় শঙ্কা আরও বেড়েছে। এছাড়া ভারতীয়দের নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ।

কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গারা এখন বৃহত্তর চট্টগ্রাম ছেড়ে সমতলেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্নভাবে ভারতের নাগরিকরাও ভোটার হচ্ছেন। তাই ‘বিশেষ এলাকা’ আরও বিস্তৃত করার কথাও ভাবছে কমিশন। মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারী বা অন্য দেশের নাগরিকরা যাতে ভোটার না হতে পারেন সেজন্য বিশেষ কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিশেষ ফরমের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে।

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ ডিসেম্বরের নির্বাচন গণতন্ত্রের মানদন্ড পূরণে ব্যর্থ: বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


বাংলাদেশের কাছের বন্ধু হিসেবে বৃটেন স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান থাকা এক প্রত্যয়ী বাংলাদেশ দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন সফররত দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড। রোববার রাজধানীর এক হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত সেমিনারে তিনি বলেন, আমরা প্রাণবন্ত বিতর্ক, উদ্দীপনাময় সুশীল সমাজ এবং প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন দেখতে চাই। বৃটিশ মন্ত্রী তার দীর্ঘ বক্তৃতায় বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জানান, ২০২১ সালে বাংলাদেশ যে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আয়োজনে বৃটেনও অংশীদার হতে চায়। এ সময় মার্ক ফিল্ড বলেন, বন্ধু হিসাবে আমি দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আবারও বলছি, এখানে ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হয়েছে তা গণতন্ত্রের মানদন্ড পুরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ওই নির্বাচনের যত অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে তার পূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বানও পূণর্ব্যক্ত করেন তিনি। বৃটিশ মন্ত্রী আরও বলেন, তার দেশ দেখতে চায় যে উদীয়মান গণতান্ত্রিক ভূমি বাংলাদেশ অবাধ ও স্পন্দনশীল গণমাধ্যমের দ্বারা জবাবদিহির আওতায় থাকবে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় অর্ধশতকের জন্য তা হবে এক চমৎকার রূপকল্প এবং সেই সাথে এটি হবে দেশটির অবিসংবাদিত সম্ভাবনা বাস্তবায়নের সবচেয়ে ভালো উপায়। বৃটিশ মন্ত্রী জানান, যে কোনো উপায়ে এ সম্ভাবনা অর্জনে বাংলাদেশের পাশে থাকতে তার দেশ প্রস্তুত।

দুই দেশের মধ্যকার ইতিহাস ও আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্ককে শক্তিশালী ও গভীর করেছে মন্তব্য করে মার্ক ফিল্ড বলেন, বাংলাদেশ গত অর্ধশতকে যে বিশাল অগ্রগতি অর্জন করেছে দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে বৃটেন তাকে স্বাগত জানায় এবং আগামীতে এ দেশের আরও অনেক কিছু অর্জনের সম্ভাবনাকে তারা উপলব্ধি করছেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম প্রধান অতিথি ও ড. মশিউর রহমান গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন পিআরআই’র ড. আহসান মনসুর। উল্লেখ্য, বৃটেনের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ কার্যালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সফর করছেন এবং সোমবার তিনি লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ইভিএমের ‘কাজ দেখাতে’ কেনা ৪৬ কোটির টাকার ট্যাবও ব্যর্থ!


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ভালোভাবে কাজ করেনি। উপজেলা নির্বাচনে এই যন্ত্রটির সক্ষমতা বাড়াতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রায় ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২ হাজার ২০০ ট্যাব কিনেছে। কিন্তু ট্যাবও কাজ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ছয়টি আসনে ভোট নেওয়া হয়। কিন্তু সে সময় এই যন্ত্র নিয়ে নানা সমস্যা সামনে আসে। অল্প সময়ের মধ্যে ভোটের ফলাফল জানা যাবে বলা হলেও সেটিও সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি চারটি ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে দুটি উপজেলার ইভিএমে নেওয়া ভোটের তথ্য দ্রুত পাঠানোর জন্য সেখানে দায়িত্ব পালনরত নির্বাচন কর্মকর্তাদের ট্যাব দেওয়া হয়। কিন্তু প্রত্যাশাকে ভুল প্রমাণ করে সেই ট্যাব ইসির কাছে ভোটের ভুল তথ্য পাঠিয়েছে। ট্যাবের ভুতুড়ে এই আচরণ থেকে রক্ষা পেতে শেষ পর্যন্ত উপজেলার চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে এই যন্ত্রটি আর ব্যবহার করা হয়নি। ভবিষ্যতে এই যন্ত্রটি আর কোনো নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ আছে। যে কারণে খোদ ইসিতে এখন আলোচনা, ৪৬ কোটি টাকা অপচয় করে কেন এই যন্ত্র কেনা হয়েছে। তবে যন্ত্রটি কেনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা আশাবাদী, ভবিষ্যতে ট্যাবগুলো কাজে লাগবে।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ইসি দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য ৩ হাজার ৮২১ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে। সরকারের কাছ থেকে টাকা না পাওয়ায় তারা এখন পর্যন্ত সব ইভিএম কিনতে পারেনি। তবে ইসি সংসদ নির্বাচনের আগেই অনেকটা তড়িঘড়ি করে কিছু ইভিএম কিনে নেয়। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি এসব ইভিএম সরবরাহ করে। বিএনপিসহ সব বিরোধী দল সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে তেমন কোনো আগ্রহ দেখানো হয়নি। শেষ পর্যন্ত সব দিকের রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করেই ইসি ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩, চট্টগ্রাম-৯, খুলনা-২, রংপুর-৩ ও সাতক্ষীরা-২ আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়।

ইভিএমের গুণাবলি সম্পর্কে ইসি থেকে বারবার বলা হয়েছে, এই যন্ত্র ব্যবহার করা হলে জাল ভোট হবে না এবং ভোটের ফল বদলানো সম্ভব হবে না। এ ছাড়া নির্বাচনের ফল দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাওয়া যাবে। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ শেষে রাতে দেখা যায়, ইভিএমের ফল সবার পরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ফলও ঘোষণা করা হয়েছে প্রায় সবার শেষে। জানা যায়, যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ায় অনেক জায়গায় ভোট গ্রহণ শুরু করা হয় দুপুরের পর। অনেক জায়গায় যথাসময়ে ভোট গ্রহণ শুরু করা হলেও যন্ত্রটি মাঝপথে বিগড়ে যায়।

এই সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়েই ইসি ৪২ হাজার ২০০ ট্যাব কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি কম্পিউটার সার্ভিসেস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব ট্যাব কেনার চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ট্যাব ইসিতে সরবরাহ করেছে। সিদ্ধান্ত হয়, যেসব এলাকায় ইভিএম ব্যবহার হবে সেখানে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা এই ট্যাব ব্যবহার করবেন এবং কেন্দ্রের ফল দ্রুত সন্নিবেশ করে তা ট্যাবের মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ইসি সচিবালয়ে পাঠাবেন।

কিন্তু ইসি কোনো ধরনের পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণ না করেই ২৪ মার্চ উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে গোপালগঞ্জ সদর ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ইভিএমের সঙ্গে ট্যাব সরবরাহ করে। ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনের ফল সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখেন, ট্যাবের মাধ্যমে পাঠানো ফল ভুল। শেষ পর্যন্ত ট্যাবের মাধ্যমে পাঠানো তথ্য বাতিল করে পুরোনো পদ্ধতিতে ফল সংগ্রহ করা হয়। যে কারণে এই দুটি উপজেলার ফল ঘোষণা করতে বিলম্ব হয়।

এই ঘটনার পর ইসি ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে ট্যাবের ব্যবহার বাতিল করে। ২৮ মার্চ ইসি সচিবালয়ের এক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনকে জানানো হয়। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই ধাপে ময়মনসিংহ সদর, পটুয়াখালী সদর, বাগেরহাট সদর, কক্সবাজার সদর, ফেনী সদর ও মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় ইভিএমের সঙ্গে ট্যাব ব্যবহার করার কথা ছিল।

ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের কারও কারও মতে, ট্যাব ব্যবহারের আগে পরীক্ষামূলক প্রকল্প গ্রহণ করার প্রয়োজন ছিল। প্রয়োজন ছিল সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণেরও। কিন্তু ইসি থেকে এসবের কিছুই না করে অপরিকল্পিতভাবে ট্যাব কেনা হয়েছে। ইভিএমের বিষয়ে উৎসাহী কিছু কর্মকর্তা যন্ত্রটির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য রাতারাতি ট্যাব কিনে তা মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ করে।

কর্মকর্তাদের আরেকটি অংশের মতে, সব ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা ভুল করতে পারেন না। ট্যাবের মধ্যেও সমস্যা আছে। ট্যাবটি দুই অঙ্কের হিসাব সঠিকভাবে সরবরাহ করে, তিন অঙ্কের হলেই হিসাব ভুলভাবে আসতে থাকে।

জানতে চাইলে কম্পিউটার সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামলুক সাবির আহমেদ এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ট্যাব ব্যবহারের আগে যাঁরা এটি চালাবেন, তাঁদের প্রশিক্ষণের দরকার আছে। সেটা যথাযথভাবে করা হয়নি বলেই ফল পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে অবশ্যই এটি ব্যবহার করা যাবে।

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ ‘ইয়াবার গডফাদারকে’ বাদ দিয়ে পুলিশের চার্জশিট!


গত বছর নগরের হালিশহরে ১৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর আসামিদের জবানবন্দিতে প্রথমবারের মতো জানা যায় ‘ইয়াবার গডফাদার’ রেদোয়ান প্রকাশ মো. রেজওয়ান প্রকাশ প্রকাশ জুবায়েরের নাম।

ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা ‘গডফাদার’ রেদোয়ানের নাম ফের আসে নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশের হাতে ৭ হাজার ৭৫০ পিস ইয়াবাসহ মো. আবদুল গফুর নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেফতার হওয়ার পর। অথচ রেদোয়ানকে বাদ দিয়েই ওই মামলার চার্জশিট দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

গত বছরের ৬ অক্টোবর বায়েজিদ বোস্তামি থানার কুয়াইশ-অক্সিজেন রোডে অনন্যা আবাসিকের চৌরাস্তার মোড় থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আবদুল গফুর।

গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে রেদোয়ানসহ আরও তিনজনের নাম প্রকাশ করেন মো. আবদুল গফুর। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামির মোবাইল ফোনের সিডিআর বিশ্লেষণে রেদোয়ানের সঙ্গে আসামি গফুরের কথোপকথন হয়নি এমন অযুহাতে ‘গডফাদার’ রেদোয়ানসহ অন্যদের বাদ দিয়ে মামলার চার্জশিট দিয়েছেন।

চার্জশিটে শুধু মো. আবদুল গফুরকে একমাত্র অভিযুক্ত করা হয়েছে। আবদুল গফুর (৫৮) কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার পালংখালী বালুখালীছড়া এলাকার আলী হোসেনের ছেলে।

রেদোয়ান প্রকাশ মো. রেজওয়ান প্রকাশ প্রকাশ জুবায়ের (৫৫) চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার মোজাফফর নগর এলাকার মো. ছিদ্দিকের ছেলে।

আবদুল গফুর প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে প্রকাশ করেছিলেন মো. মীর কাশেম (৪১) ও মো. শরীফ (৪০) এর নাম। মীর কাশেম কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার দক্ষিণ খুনিয়াপালং এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে এবং শরীফ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং জিনাপাড়ার লাল মিয়ার ছেলে।

তিনজনকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বায়েজিদ বোস্তামি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) উৎফল চক্রবর্তী চার্জশিটে আসামির মোবাইল ফোনের সিডিআর বিশ্লেষণে রেদোয়ানসহ অন্যদের সঙ্গে আসামি গফুরের কথোপকথন হয়নি এমনটা উল্লেখ করেন এবং তাদের অপরাধের সত্যতা পাওয়া না যাওয়ায় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদনও জানান।

জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উৎফল চক্রবর্তী বাংলানিউজকে বলেন, ‘তদন্তে গফুর ছাড়া অন্য আসামিদের জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি তাই তাদের বাদ দিয়ে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।’

প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে প্রধান আসামি গফুর ওই ইয়াবার সঙ্গে রেদোয়ান, মীর কাশেম ও শরীফ জড়িত বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে সেরকম কিছু বলেননি বলে দাবি করেন এসআই উৎফল চক্রবর্তী।

রেদোয়ানকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেও তার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি তদন্ত কর্মকর্তার।

রেদোয়ান, মীর কাশেম ও শরীফের মাধ্যমে ইয়াবা আনার তথ্য ভুল হলে তবে কার কাছ থেকে বা কাদের মাধ্যমে ওইসব ইয়াবা আনা হয়েছিল তদন্তে তা পাওয়া গেছে কী না জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা।

বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার বাংলানিউজকে বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা যাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাননি তাদের বাদ দিয়েছেন হয়তো। পুলিশের কাছে গ্রেফতার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে মিথ্যা তথ্য দেন। হয়তো আবদুল গফুরও গ্রেফতার হওয়ার পর মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন।’

গত বছরের ৭ নভেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে মালয়েশিয়া পালিয়ে যাওয়ার সময় রেদোয়ান প্রকাশ মো. রেজওয়ান প্রকাশ প্রকাশ জুবায়েরকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন। পরে বায়েজিদ বোস্তামি থানার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

গত ২৬ অক্টোবর মীর কাশেমকে এবং ৩ নভেম্বর শরীফকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে মীর কাশেম জামিনে আছেন বলে জানা গেছে। তাদের গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো ফরোয়ার্ডিংয়ে তারা জড়িত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উৎফল চক্রবর্তী।

জানতে চাইলে মামলার বাদি বায়েজিদ বোস্তামি থানার তৎকালীন এসআই ফরিদ আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘কুয়াইশ-অক্সিজেন রোডে অনন্যা আবাসিকের চৌরাস্তার মোড় থেকে ৭ হাজার ৭৫০ পিস ইয়াবাসহ মো. আবদুল গফুরকে গ্রেফতার করেছিলাম। গ্রেফতারের পর গফুর রেদোয়ান, মীর কাশেম ও শরীফসহ মিলে টেকনাফ থেকে ইয়াবা নিয়ে এসে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতেন বলে জানিয়েছিলেন।’

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে রাজনীতিকরা কে কী বলছেন?


সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি ইস্যুটি। এ নিয়ে রাজনীতিকদের মধ্যে রয়েছে মতপার্থক্য। এ-ও শোনা যাচ্ছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকার ও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে। তবে তার মুক্তি নিয়ে দুপক্ষই শর্ত আরোপ করছে।

একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্রে বলা হচ্ছে, সরকার বলছে- প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশ চলে যেতে হবে। সেখানে তিনি শারীরিক চিকিৎসা করাতে পারবেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিষয়ে কোনও কথাবার্তা বলতে পারবেন না। সেইসঙ্গে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সংসদেও যেতে হবে।

অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। সরকার তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাঁর বর্তমান শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত অবস্থা বিবেচনায় বেগম জিয়াকে জামিনে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। এবং মুক্তি পেয়ে তিনি যেখানে খুশি চিকিৎসা নিতে পারবেন। সুস্থ হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হতে পারবেন।

বিএনপি নেতারা দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবি করলেও প্যারোল চাওয়ার বিষয়ে কিছুই বলছেন না। প্যারোলে মুক্তি চাওয়ার আবেদন একান্তই বেগম জিয়ার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলেও দলটির শীর্ষস্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন।

এনিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ রাজনীতিকদের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও বক্তব্যগুলো তুলে ধরা হলো:

খালেদা প্যারোল ইস্যুতে রবিবার (৭ এপ্রিল) ধানমণ্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘উনার প্যারোল পাওয়ার মতো কোনও পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি।সাধারণত দণ্ডপ্রাপ্ত কারও আত্মীয়স্বজন মারা গেলে তাকে শেষ দেখা, শেষকৃত্যের জন্য ও কিংবা অসুস্থ হলে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি আসে। তবে আমার জানা মতে, বেগম জিয়ার তেমন কোনও পরিস্থতি হয়নি।’

সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা প্যারোলের কথা বলিনি। আমরা জামিনে মুক্তির কথা বলেছি। সরকার দেশনেত্রীকে আটক করে রেখেছে, কারণ তারা ভয় পায়। দেশকে বাঁচাতে হলে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়, ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনি।’

খালেদার সুচিকিৎসার জন্য বিএনপি তাঁর মুক্তি দাবি করে আসছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দুদিন আগেও আমি বলেছিলাম খালেদার মুক্তির বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের ওপর নির্ভর করে। এটি রাজনৈতিক বিষয় নয়।’

হানিফের বক্তব্যের ঠিক বিপরীত কথাটাই জানিয়েছেন বেগম জিয়ার অন্যতম আইনজীবী খোন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে সরকার খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে। প্যারোলের বিষয়টি রাজনৈতিক বিষয়। এখানে তিনি (খালেদা) প্যারোলে যাবেন কি না এবং সরকার প্যারোল দিবেন কি না, এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমরা আইনজীবী হিসেবে বলতে পারি চিকিৎসার জন্য প্যারোল পাওয়া যায়।’

এ বিষয়ে দুদিন আগেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা তাঁর উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তির আবেদন করবেন কি-না সেটি একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার, এটি তার শারীরিক ও স্বাস্থ্যগত বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে চিকিৎসার যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সম্প্রতি ওবায়দুল কাদেরকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠাতে হয়েছে। বেগম জিয়াও বহুবার সৌদি আরব কিংবা লন্ডনে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন কি-না, সেই সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।’

বিএনপির যদি আবেদন করে তবে খালেদা জিয়ার প্যারোল পাওয়ার বিষয়টি সরকার যাচাই-বাছাই করে দেখবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একই কথা বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখপাত্র হাছান মাহমুদ।

তবে আইনি পথে বেগম জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয় বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, ‘আদালতে সরকারের প্রভাব থাকায় দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আইনজীবী হিসেবে আপনাদের বলবো, আইনি প্রক্রিয়ায় দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না। আপনারা যদি চান, একমাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁকে মুক্ত করা সম্ভব।’

এদিকে রবিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএন‌পির উদ্যো‌গে “গণতন্ত্রের মা বেগম খা‌লেদা জিয়ার সু‌চি‌কিৎসা ও নিঃশর্ত মু‌ক্তির দা‌বি‌তে” আ‌য়ো‌জিত গণঅনশ‌নে দেয়া বক্তব্যে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেমন প্যারোলে লাহোরে যাননি তেমনি বেগম জিয়াও আজ প্যারোলে মুক্তি না নিলে সেটা হবে দ্বিতীয় নজিরবিহীন। প্যারোলে মুক্তি মানে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু, গণতন্ত্রের মৃত্যু।’

একবছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি রয়েছেন। তার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি খুবই উদ্বেগে রয়েছে। তবে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার জন্য সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী প্যারোলে মুক্তি চাইবেন কি-না তা নিশ্চিত নয়। দলটির হাইকমান্ড বেগম জিয়ার জামিনে মুক্তি প্রত্যাশা করছেন।

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির একটি মামলায় কারাবন্দি হন। ইতোমধ্যে তাঁর কারাভোগের একবছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়া এখন বিএনপির না দেশের নেতা, তাকে হারাতে চাই না : আ স ম রব


জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা আ স ম আব্দুর বর বলেছেন, ঘরে বসে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইতে রাজি নই। তিনি বলেন, এখানে হলরুমে বসে এক হাজার লোক জীবন দিলেও খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এখন আর বিএনপির নেত্রী না, তিনি এখন দেশনেত্রী। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু হারাতে চাই না কিন্তু দেশনেত্রীর মুক্তি চাই, এটা কিভাবে সম্ভব?

রোববার ০৭ এপ্রিল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনিস্টিউটে বিএনপি আয়োজিত গনঅনশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা বলেন, মন্টু, কাদের সিদ্দিকী, আমরা জীবন দিতে ৭১ এ যুদ্ধে গিয়েছিলাম। এখানে বসে স্লোগান দিয়ে বেগম জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব না। তিনি বলেন, আন্দোলন বুঝতে হবে। জাতীয় নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। রব বলেন, ১ লাখ বিরোধী নেতাকর্মী কারাগারে আছেন। ৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা আছে। আরো ৫০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হলেও খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, বাংলাদেশের মানচিত্রটাও আজ বিক্রি হয়ে গেছে। যে শিশুটি আজ জন্ম নিবে তার মাথায় ৫০ হাজার টাকার ঋণের বোঝা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি গনতন্ত্রের মুক্তি। আমি এখন আপনাদের সাথে রাজপথে নামতে রাজি আছি। আপনারা রাজি আছেন? রাজি থাকলে আপনাদের নেতাদের বলুন। মনে রাখবেন রাজপথে আন্দোলন ছাড়া কোনভাবে এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন সম্ভব না, খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব না।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ গণঅনশ‌নে কিছু হ‌বে না, রাস্তায় নামুন: বিএনপিকে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী


বিএন‌পির উদ্দেশ্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘আমি জানি, এ গণঅনশনে কী হবে। যদি পারেন এক হয়ে রাস্তায় নামেন। রাস্তায় নামলে দু-চারটা মামলা হবে। তাতে কী যায় আসে। দেশটাই তো একটি কারাগারে পরিণত করেছে।’

তি‌নি ব‌লেন, ‘যদি রাস্তায় নাম‌তে পা‌রেন তাহ‌লে শেখ হা‌সিনা এক সময় বল‌বে ছেড়ে দে মা, আমি গেলাম, আমাকে মাফ করো।’

র‌বিবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএন‌পির উদ্যো‌গে “গণতন্ত্রের মা বেগম খা‌লেদা জিয়ার সু‌চি‌কিৎসা ও নিঃশর্ত মু‌ক্তির দা‌বি‌তে” আ‌য়ো‌জিত গণঅনশ‌নে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনারা হলের ভেতর গণঅনশন, আমরণ অনশন করে শেখ হাসিনাকে নাড়াতে পারবেন না। শেখ হাসিনাকে নাড়াতে হলে শেখ হাসিনা যা করেছে তা-ই করতে হবে। হা‌সিনা ভোটের কথা বলেছেন ৩০ তারিখে আর ২৯ তারিখে সব ভোট চুরি করেছেন। আর চোরকে সোজা করতে হলে আর একটু শক্ত হতে হবে।’

বিএনপি আন্দোলন না করলেও বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই অবৈধ সরকারের কাছে কোনও দাবি আপনারা (বিএন‌পি) করতে পারেন না। যদি এই অবৈধ সরকারের কাছে আপনারা কোনও দাবি করেন তাহলে আপনাদের পতন হবে। এই দাবির মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনাকে স্বীকৃতি দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকার অবৈধ, সংসদ অবৈধ, এটা আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে।’

এসময় তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘অনেকেই বলেছেন নির্বাচনের পরের দিন কেন হরতাল ডাকা হলো না। রাস্তা অবরোধ করা হলো না। আমি মনে করি আপনারা রাস্তা অবরোধ না করে ভালোই করেছেন। এখন ধীরে ধীরে অবরোধ শুরু করেন।’

শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একটি গণভোটে যদি আসেন তাহলে ৫ পার্সেন্ট ভোটও পাবেন না।’

বর্তমা‌নে দে‌শের যে অবস্থা এরকম অবস্থা হ‌বে জান‌লে কাদের সি‌দ্দিকী-রব আপনারা কি মু‌ক্তি‌যোদ্ধ কর‌তেন? বিএন‌পির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু’র এমন প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবীর ব‌লেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি এর ১০০ ভাগের এক ভাগ হবে- এটা জানলেও আমি মুক্তিযুদ্ধ করতাম না।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেমন প্যারোলে লাহোরে যাননি তেমনি বেগম জিয়াও আজ প্যারোলে মুক্তি নিলে সেটা হবে দ্বিতীয় নজিরবিহীন। প্যারোলে মুক্তি মানে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু, গণতন্ত্রের মৃত্যু।’

‘আজ গণতন্ত্র আর খালেদা জিয়া এক কথা’- এমন মন্তব্য ক‌রে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘যে আদালতে যে বিচারক বেগম খালেদা জিয়ার শাস্তি দিয়েছেন সেই বিচারকের জনগণের আদালতে শাস্তি হবে।’

অনশনে আরও উপস্থিত আছেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, গোলাম আকবর খন্দকার, যুগ্ম-মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মাইনুল ইসলাম প্রমুখ।

ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত আছেন- আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, মোস্তফা মহসিন মন্টু প্রমুখ।

২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত আছেন- খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদের, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ডিএল’র মহাসচিব সাইফুদ্দিন মুনির, মুসলিম লীগের মহাসচিব জুলফিকার বুলবুল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ কাল রাস্তায় নামলে পরশু সরকারের পতন হবে: শামসুজ্জামান দুদু


আগামীকাল রাস্তায় নামলে পরশু দিনই এই অবৈধ সরকারের পতন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আসুন আন্দোলনের জন্য শপথ নেই। আজ যদি আমরা শপথ নেই, কালকে যদি রাস্তায় নামি পরশুদিন দেখবেন এই অবৈধ সরকারের পতন হবে, তারা থাকবে না। জাস্ট ঘর থেকে বের হউন, রাস্তায় নামুন তাহলে দেখবেন হিটলার-ফেরাউন যেভাবে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়েছে এই শেখ হাসিনাও সেভাবে পালাবেন। এটাই শেষ কথা।’

রবিবার (৭ এপ্রিল) বিএনপি আয়োজিত অনশন কর্মসূচিতে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘ছাত্র, যুব, কৃষক, মেহনতী মানুষ আপনাদের উদ্দেশ্যে আমি একটা কথাই বলবো। বিএনপি, ২০ দল বা জাতীয় ঐক্যের সমালোচনা না করে নিজের সমালোচনা করুন। যতটুকু কর্মসূচি আমরা দেই, আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নামি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেশ একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ৪৭ ও ৭১-তেও এ রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘অনশন কর্মসূচিতে উপস্থিত আছেন মুক্তিযুদ্ধের বীর উত্তম কাদের সিদ্দিকী ও এক সময়ের ডাকসুর ভিপি দেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আ স ম আব্দুর রব, আছেন আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দ, তাদের কাছে আমি প্রশ্ন করি জীবনটা উৎসর্গ করেছিলেন দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য, বর্তমানের এই বাংলাদেশের জন্য কি? যে দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। এরকম জানলে কি বাংলাদেশ বানাতেন আপনারা?ভোটের তারিখ ঘোষণা হয় ৩০, আর ভোট হয় ২৯ তারিখে, এটা শুনলে লজ্জা লাগে।’

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘বেগম জিয়া মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, স্বামীকে ছেড়ে ছিলেন। এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার জন্য জেল খেটেছিলেন। গণতন্ত্রের জন্য ৯ বছর লড়াই করেছেন। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। নারীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠা করেছেন। আর তাকেই কারাগারে বন্দি করে রেখেছেন। হায়রে বাংলাদেশ!’

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনশনে উপস্থিত আছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, গোলাম আকবর খন্দকার, যুগ্ম-মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মাইনুল ইসলাম প্রমুখ।

ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত আছেন আ স ম আব্দুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, মাহমুদুর রহমান মান্না, হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, মোস্তফা মহসিন মন্টু প্রমুখ।

২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত আছেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদের, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ডিএল’র মহাসচিব সাইফুদ্দিন মুনির, মুসলিম লীগের মহাসচিব জুলফিকার বুলবুল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ২২ বছর পর হঠাৎ ভারি অস্ত্র নিয়ে সেন্টমার্টিনে বিজিবি!


দীর্ঘ ২২ বছর পর হঠাৎ সেন্টমার্টিন দ্বীপে নতুন করে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার বিজিবির এক প্লাটুন সদস্য সেন্টমার্টিনে মোতায়েন করা হয়। ১৯৯৭ সালের পর ২২ বছর পর সেন্টমার্টিন দ্বীপ এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হলো।

সেন্টমার্টিনে মোতায়েন বিজিবি-১ কোম্পানির প্রায় শতাধিক সদস্য বর্তমানে আবহাওয়া অফিসে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রোববার থেকে ভারি অস্ত্রসহ সেন্টমার্টিনে পুনরায় বিজিবি সদস্যরা টহল দেয়া শুরু করেছে।

বিজিবি সদর দফতরের বরাতে তিনি জানান, ‘সরকারি নির্দেশ মোতাবেক আজ (রোববার) থেকে দেশের সর্ব দক্ষিণ সীমান্ত সেন্টমার্টিনে ভারি অস্ত্রসহ পুনরায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।’

বিজিবি অধিনায়ক আরও জানান, ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ওই এলাকায় বিজিবি মোতায়েন ছিল। সরকার ফের চাইছে সেখানে অন্যান্য বাহিনীর মতো বিজিবিও নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাক। সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার থেকে সেন্টমার্টিন এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বেশকিছু বিষয় নিয়ে প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। মিয়ানমার বেশ কয়েকবার তাদের মানচিত্রে সেন্টমার্টিনকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে। পরে অবশ্য বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেই দাবি থেকে তারা সরে আসতে বাধ্য হয়।

এদিকে সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, সেন্টমার্টিনে বিজিবি মোতায়েন হওয়ায় দ্বীপবাসী খুশি হয়েছে। মিয়ানমার বারবার সেন্টমার্টিনকে তাদের অংশ দাবি করার প্রেক্ষিতে বিজিবি মোতায়েন হওয়ায় সেন্টমার্টিনবাসী নিজেদের নিরাপদ মনে করছে।

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ প্যারোল নয়, জামিন পাওয়া খালেদা জিয়ার অধিকার: ফখরুল


প্যারোল নয়, জামিন পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে গণঅনশন কর্মসূচিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গণঅনশন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

এতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে কোনো মূল্যে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আমরা তার প্যারোলে মুক্তি চাই না।

গণঅনশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজ উদ্দীন আহমেদ বীরবিক্রম, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম, সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসানসহ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এছাড়াও বিএনপির অনশনে একাত্মতা প্রকাশ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারাও যোগ দেন ওই কর্মসূচিতে।

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে একসঙ্গে লড়ব: মাহমুদুর রহমান মান্না


কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে একসঙ্গে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আমরা একসঙ্গে লড়ব। ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, মোস্তফা মোহসিন মন্টুসহ আমরা সবাই এক আছি। ভুল বোঝাবুঝির কোনো কারণ নেই। ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার প্রথম দাবি হলো- বেগম জিয়ার মুক্তি।

রোববার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি আয়োজিত গণঅনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্ট বিএনপির পাশে থাকবে জানিয়ে মান্না বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি দিলে ক্ষমতাসীনরা বাইরে থাকতে পারবে না। তাই সহজে বেগম জিয়াকে মুক্তি দেবে না। কাজেই রাজপথের কর্মসূচি দিতে হবে। এতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পাশে থাকবে।

সরকার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে মন্তব্য করে ডাকসুর সাবেক এ ভিপি বলেন, সরকার আমাদের ঐক্য ভেঙে দিতে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আপনারা মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত হবেন না। আমাদের ঐক্য অটুট আছে।

ঐক্যফ্রন্টের এ নেতা বলেন, একটি কুচক্রী মহল গুজব ছড়াচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় না, ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যু নেই। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট যে সাত দফার ভিত্তিতে ঐক্য গড়েছে, তার প্রথম দফাই হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি। তাই আমি বলব, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে অনশন কর্মসূচিকে যুগোপযোগী আখ্যা দিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, ‘যেদিন খালেদা জিয়া জেল থেকে বের হবেন, ঢাকা মহানগরীতে মানুষের ঢল নামবে। সব মানুষ একসঙ্গে হবে। খালেদা জিয়া তখন মানুষের মুক্তির কথা বলবেন, গণতন্ত্রের মুক্তির কথা বলবেন। তাই লড়াইটা খুব সহজ নয়।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই, আজকে যে কর্মসূচি দিয়েছেন, একটা যথাযথ কর্মসূচি দিয়েছেন। আমি আশা করব, এ কর্মসূচি আরও বাড়বে। আমি আশা করব, এ কর্মসূচি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন থেকে রাজপথে যাবে। আপনাদের সেই আন্দোলনের সঙ্গে আমরা আছি।

গণঅনশনে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজ উদ্দীন আহমেদ বীরবিক্রম, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম, সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসানসহ জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়: খন্দকার মাহবুব


এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

রোববার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হত্যা মামলায় দায়ের হওয়া মামলায় খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন আপিল বিভাগেও বহালের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি- প্যারোলের বিষয়টি রাজনৈতিক বিষয়। এখানে ম্যাডাম প্যারোল চাইবেন কিনা এবং সরকার প্যারোল দেবে কিনা- এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা আইনজীবী হিসেবে এটুকু বলতে পারি যে, চিকিৎসার জন্য প্যারোল চাওয়া যায়। রাষ্ট্রও প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে।’

বিভিন্ন দেশে প্যারোলে রাজবন্দিদের মুক্তির বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে খালেদা জিয়ার এ আইনজীবী বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতে ও পাকিস্তানে প্যারোলে মুক্তির বহু নজির আছে। রাজবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। আমরা চাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আইনগতভাবে মুক্তি দেয়া হোক।’

তিনি বলেন, মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছে। তার সব মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মুক্তির পথ খুঁজতে হবে।

জামিন বহালের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের আবেদন ডিসমিসড করে জামিন বহাল রেখেছেন। সরকারের বাধার কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন কঠিন হবে। এখনও তার দুটি মামলা পেন্ডিং আছে। তবে এর মধ্যে আর কোনো মামলা না দিলে ওই দুটি (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট) মামলায় জামিন পেলে তিনি জেল থেকে বের হবেন।

খালেদা জিয়ার শারীরিক দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকার তাকে শিগগিরই মুক্তি দেবে এমন আশা ব্যক্ত করেন বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা।

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ পরীক্ষা কেন্দ্রে গায়ে আগুন, পোড়া শরীরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ফেনীর সেই ছাত্রী


ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া সেই ছাত্রী (১৮) জীবন শঙ্কায় রয়েছে। ৭৫ শতাংশ পোড়া শরীর নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে তাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা অপরিবর্তিত। তার সুস্থ হয়ে ওঠাটা কঠিন।

রোববার সকালে তার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল যুগান্তরকে বলেন, তার অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। শরীরের তিন-চতুর্থাংশ পুড়ে গেছে। শ্বাসনালিও পুড়ে গেছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সকালে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, ‘মেয়েটির শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার ব্যাপারে চিকিৎসকরা এখনও কিছু বলতে পারছে না। মেয়েটির চিকিৎসা চলছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।’

ঢামেকে বোনের বাঁচা মরার চিন্তায় শঙ্কিত তার ভাই বলেন, ‘আজ সকালে বোনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তখন তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক দেয়া ছিল। সে পানি খেতে চেয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকের নিষেধ থাকায় পানি দেয়া যায়নি। তার অবস্থা গতকালের মতোই আছে।’

ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার মা, বড় ভাই ও মেজ ভাই বার্ন ইউনিটে রয়েছেন। তার মা মেয়ের জন্য হাসপাতালের মেঝেতে বসে বিলাপ করলে স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেন।

তার চাচাতো ভাই বলেন, ‘চিকিৎসকরা আমাদের কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। তারা আল্লাহকে ডাকতে বলছেন। আমরা সবাই অসহায়।

মোবাইল ফোনে এক স্বজনকে ছাত্রীর অবস্থা সম্পর্কে জানান তার চাচাতো ভাই। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার বাঁচার আশা ক্ষীণ।

প্রসঙ্গত ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর (১৮) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়ার ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকা পরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এদিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই শিক্ষার্থীর শরীরের ৭৫ শতাংশই পুড়ে যাওয়ায় তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এ ধরনের রোগীর চিকিৎসা করতে খুবই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ।পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন অধ্যক্ষ। সেই মামলা তুলে না নেয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন ওই ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়েছে।

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ হত্যা মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আপিলে বহাল


কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষ এ জামিন বাতিল চেয়ে আপিল আবেদন করেছিল।

আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী। তাদের সহায়তা করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় মওদুদ আহমেদসহ অনেক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে গত ৩১ মার্চ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন ৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করে শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেয়া হয়। চেম্বার বিচারপতি মো: নুরুজ্জামানের আদালত এ আদেশ দেন।

গত ১৯ মার্চ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৬ মার্চ এ মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মুজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে দুষ্কৃতকারীদের ছোড়া পেট্রলবোমায় আইকন পরিবহনের একটি বাসের কয়েকজন যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন আরো ২০ জন।

এ ঘটনায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে এ মামলায় খালেদা জিয়াকে আসামি দেখানো হয়।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘মুজিববর্ষ’ কি লুটপাটের আরেক প্রজেক্ট?


আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী পালনের ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২০২০ সালকে সরকার মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। গত ১৭ মার্চ শেখ মুজিবের জন্মবার্ষিকীতে শেখ হাসিনা এ ঘোষণা দিয়েছেন। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের পাড়ায় মহল্লায় যাতে মুজিববর্ষ পালন করা হয় সেই লক্ষ্যে একাধিক কমিটিও গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে কয়েকটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিবের ভুমিকা নিয়ে অবশ্যই বিতর্ক আছে। তিনি স্বাধীনতা চেয়েছেন বা স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানী সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এমন কোনো প্রমাণ আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দেখাতে পারেনি। শেখ মুজিব মূলত ক্ষমতা চেয়েছিলেন। ৭ মার্চের ভাষণে শেখ মুজিব মূলত কেন্দ্রীয় সরকারকে ৪টি শর্ত দিয়েছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তন যদি তার দেয়া শর্তগুলো পূরণ করতো তাহলে নিশ্চয় পূর্ব পাকিস্তান আর আলাদা হতো না। মুক্তিযুদ্ধেরও প্রয়োজন হতো না।

এরপর মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে ৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পূর্ব পর্যন্ত দেশ পরিচালনায় শেখ মুজিবের ব্যর্থতার পাল্লাই বেশি ভারী ছিল। শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবকে মহামানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে শেখ মুজিবের স্বপ্নের যে ফিরিস্তি প্রতিদিন মানুষের সামনে তুলে ধরছেন তা সবই অতিরঞ্জিত ও বিকৃত। কারণ, শেখ মুজিবের পুরো আমলটাই ছিল দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-হত্যা, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, বিরোধী পক্ষের ওপর দমন-পীড়ন, নির্যাতনে ভরপুর। মানুষের বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও শেখ মুজিব দেশের সব রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে দেশে সেই পাকিস্তানি শাসন জারি করেছিল। এদেশের সকল শ্রেনি-পেশার মানুষ শেখ মুজিব ও তার পরিবারের ওপর এতই ক্ষুব্ধ ছিল যে, ১৫ আগস্ট তারই ঘনিষ্ঠদের হাতে স্বপরিবারে জীবন দিতে হলো শেখ মুজিবকে।

তারপরও এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবের অবদানকে একেবারে অস্বীকার করে না। মুক্তিযুদ্ধের আগে দেশের মানুষকে অধিকার আদায়ে সংগঠিত করেছিলেন শেখ মুজিব। পূর্ব বাংলার পক্ষ থেকে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বলিষ্টভাষায় প্রতিবাদ করেছিলেন। এসব সত্য। দেশের মানুষ এসব স্বীকারও করে।

কিন্তু, শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে যা করছেন তা সবই অতিরঞ্জিত। দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে করা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে সেগুলোতে শেখ মুজিবের নাম দেয়া হয়েছে। আবার শেখ মুজিবকে প্রতিষ্ঠিত করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় করে তার নামে বিনোদন পার্ক করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ সরকার মুজিববর্ষ পালনের যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সেজন্য আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ আওয়ামীপন্থী ব্যক্তিদের নিয়ে দেশে যত সংগঠন ও সংস্থা আছে সবগুলোতে একটি করে কমিটি গঠন করা হবে। সেই হিসেবে কয়েকশ কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি কমিটির জন্যই সরকারের পক্ষ থেকে থাকবে মোটা অংকের বাজেট।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ পালনের জন্য সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টর থেকে এক হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেছে। এসব খাতের মধ্যে ব্যাংক-বিমাসহ আর্থিক খাতকে তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংক-বিমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেতো আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সংগঠনগুলো চাঁদাবাজি করবেই। মোটকথা মুজিববর্ষ পালনের নামে সরকার লুটপাটের আরেক বৃহৎ প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here