ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘থলের বিড়াল’

0
148

শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি বেসরকারি এই বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদ ও প্রশাসনের যে সব অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে, সেখানকার কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবকের কথায়ও তার সায় মিলেছে।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের অনেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য দিলেও তাদের বেশিরভাগই নাম প্রকাশ করতে চাননি।

তবে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের প্রধান গোলাম আশরাফ তালুকদার দাবি করেছেন, তারা সব কাজ আইনের ভেতরে থেকেই করেছেন।

‘অপমানের শিকার’ হয়ে শিক্ষার্থী অরিত্রীর আত্মহননের দুদিন পর বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির উপাত্তের বরাতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন, ভিকারুননিসার যে চেহারা প্রকাশিত হয়েছে তা মানুষের দৃষ্টি খুলে দেবে।

“থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।… এর আসল চেহারাটা উন্মুক্ত হয়েছে। আমরা এই চেহারাটা খুলে দেব।”

১৯৫২ সালের ১৪ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ফিরোজ খান নূনের স্ত্রী ভিকারুননিসা নূনের উদ্যোগে ঢাকার বেইলি রোডে যাত্রা শুরু করে বিদ্যালয়টি।

বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ধারাবাহিকভাবে ঈর্ষণীয় ফলাফল দেখিয়ে আসা মেয়েদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ হাজারের বেশি; বেইলি রোড ছাড়িয়ে কয়েকটি স্থানে আলাদা ক্যাম্পাসও হয়েছে।

বেইলি রোডের প্রধান শাখার নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী গত সোমবার আত্মহত্যা করার পর একদল শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আন্দোলনে নামলে ভিকারুননিসার বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে মুখ খুলতে শুরু করেন অনেকে।

অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষার সময় অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়ার পর তার বাবা-মাকে ডেকে নিয়ে ‘অপমান করেছিলেন’ অধ্যক্ষ। সে কারণে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করেন।

তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, অরিত্রী রোববার বার্ষিক পরীক্ষায় মোবাইল ফোনে নকলসহ ধরা পড়েছিলেন।

অরিত্রী অধিকারী; তার আত্মহত্যার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভিকারুননিসা অরিত্রী অধিকারী; তার আত্মহত্যার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভিকারুননিসা

ওই ঘটনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার দুটি তদন্ত কমিটি করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার বুধবার সাংবাদিকদের সামনে আসেন শিক্ষামন্ত্রী।

ওই প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ওখানে বহুদিন ধরে অধ্যক্ষ নেই, একজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা বার বার তাগিদ দেওয়ার পরও তারা নিয়ম অনুসরণ করে অধ্যক্ষ নিয়োগের ব্যবস্থা নেয়নি, এটাও একটা বড় ধরনের অনিয়ম।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিকারুননিসায় ২০১১ সালের পর জুলাইয়ের পর থেকে তিনজন অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করলেও তাদের সবাই ছিলেন ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে।

ওই বছরের ১৩ জুলাই শিক্ষক পরিমল জয়ধর কর্তৃক ‘ধর্ষণের’ পর আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অধ্যক্ষের পদ ছাড়তে হয়েছিল হোসনে আরা বেগমকে।

তারপর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্বে এসে ভারপ্রাপ্ত অবস্থায়েই ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর অবসরে যান মঞ্জু আরা বেগম। এরপর পুনরায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের উপরই দায়িত্ব ভরসা রাখে স্কুলের পরিচালনা পর্ষদ।

সে বছরের ১২ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবেই ২০১৭ সালের ৩ জুলাই অবসরে যান শিক্ষক সুফিয়া খাতুন।

তারপর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান নাজনীন ফেরদৌস; যাকে অরিত্রীর মৃত্যুর পর আন্দোলনের মুখে বুধবার বরখাস্ত করে স্কুলের পরিচালনা পর্ষদ। তাকেসহ তিন শিক্ষককে আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছেন অরিত্রীর বাবা, সেই মামলায় এক শিক্ষক গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে রয়েছেন।

অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার ওই স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার ওই স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ

প্রতিষ্ঠানের উপর ‘খবরদারি’ করার স্বার্থে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ করা হয় না বলে অভিযোগ করেন ভিকারুননিসার একজন শিক্ষক।

নাম প্রকাশ না করে ওই শিক্ষক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখানে গভর্নিং বডিই সব। তাদের কথামতো চলার জন্য অধ্যক্ষকে ভারপ্রাপ্ত হিসাবেই দায়িত্ব রাখা হয়।”

ভিকারুননিসার পরিচালনা পর্ষদে অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের ব্যাপক অর্থ ছড়ানোর বিষয়টি বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে।

নাজনীন ফেরদৌস ১৯৯০ সাল থেকে ভিকারুননিসায় শিক্ষকতা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির পরিসংখ্যান বিভাগের এই প্রধানের বিরুদ্ধে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করার অভিযোগ উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে।

বিধিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদ অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এরপর সেটা অনুমোদন দেয় শিক্ষা বোর্ড। অধ্যক্ষ পদাধিকারবলে থাকেন গভর্নিং বডির সদস্য সচিব পদে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, “প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও শাখা প্রধান (শিফট ইনচার্জ) অভিভাবকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সদাচরণ করেন না।

শিক্ষামন্ত্রীকে পেয়ে অভিযোগ জানাচ্ছেন ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীকে পেয়ে অভিযোগ জানাচ্ছেন ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা

“হঠাৎ সাক্ষাতের সুযোগ হলেও তারা অভিভাবকদের সঙ্গে চরম অশোভন আচরণ করেন বলে তদন্তকালে অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো বিষয়ে কাউন্সেলিং বা মতবিনিময় না করে কথা কথায় টিসি দেওয়ার ভয় দেখান।”

এ প্রসঙ্গে অভিভাবক দিলারা চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নাজনীন ম্যাডামের দেখা পাওয়া যেত না একদমই। গভর্নিং বডির সঙ্গে মিলে তিনি যা ইচ্ছা তাই করতেন। তবে সুফিয়া খাতুন বেশ কো-অপারেটিভ ছিলেন।”

গভর্নিং বডি বা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিষয়ে অভিভাবকরা কথা বললেও নানা ধরনের হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেন অভিভাবক দিলারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান গোলাম আশরাফ বলেন, “যা করা হয়েছে, আইনের মধ্য থেকেই করা হয়েছে। আমরাও ভারপ্রাপ্তকে ভারমুক্ত করার চেষ্টা করেছি।”

“আমাদের আগেও তো ভারপ্রাপ্ত ছিল,” বলেন তিনি।

অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, বর্ধিত ফি

ভিকারুননিসার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিলে সেখানে যায় পুলিশ ভিকারুননিসার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিলে সেখানে যায় পুলিশ

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবছর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিতে আসন সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় লটারির বাইরেও শিক্ষার্থী ভর্তির অভিযোগ করে আসছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

“দেখা যাচ্ছে যা অনুমতি পায়, তার চেয়ে বেশি ভর্তি করে ফেলে। তার মানে অন্য কোনো পথে করে, হয়ে যায়,” মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

ভিকারুননিসায় অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ঢোকার পরিসংখ্যান পাওয়া যায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যে। সরকারি নীতিমালার বাস্তবায়ন না হওয়ার প্রমাণ যেখানে স্পষ্ট।

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিবন্ধন নীতিমালা-২০১১ অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্র ও শিক্ষকের অনুপাত হবে ৩০:১। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে একক শ্রেণি বা শাখায় শিক্ষার্থী সংখ্যা হবে ৫০ জন।

তবে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ এর অধিক হলে পরবর্তী ৪০ জনের জন্য দ্বিতীয় শাখা খোলা যাবে। তৃতীয় বা পরবর্তী প্রতি শাখার জন্য পূর্ববর্তী শাখায় ৫০জন পূর্ণ হতে হতে হবে। প্রতি শাখায় একজন করে হিসাব করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

এক অভিভাবক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ‘বি’ শাখায় ও সপ্তম শ্রেণির ‘এ’ শাখায় পড়ে তার দুই মেয়ে। চতুর্থ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭৮ জন আর সপ্তম শ্রেণিতে ৮৩ জন।

“৫০ জনের জায়গায় ৬০ জন হতে পারে। কিন্তু এখানে প্রতিটি ক্লাসেই এই রকম বেশি বেশি শিক্ষার্থী। এক ক্লাসে এত শিক্ষার্থী হলে তারা বুঝবেটা কী?”

বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র বাইরে ভর্তির শুরুতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করলেও পরে বিভিন্ন নামে সেটা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন অভিভাবক জানান, জানুয়ারি মাসে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির সময় সরকার নির্ধারিত ৮ হাজার টাকা এবং মাসের বেতন ১ হাজার ১০০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারি-মার্চের বেতনের ২ হাজার ২০০ টাকা বেতনের সঙ্গে উন্নয়ন ফিসহ বিভিন্ন নামে কমপক্ষে ২ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

কোচিং না করলে ফেল!

সহপাঠির আত্মহত্যায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল আরও নানা অভিযোগ সহপাঠির আত্মহত্যায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল আরও নানা অভিযোগ

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ভিকারুননিসায় শিক্ষকদের কাছে কোচিং করা অলিখিতভাবে বাধ্যতামূলক। প্রায় সব বিষয়েই কোচিং করানো হয় সেখানে। সে কারণে শুক্রবার ছুটির দিনেও পুরো ক্যাম্পাস থাকে সরগরম।

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই বিষয় একসঙ্গে করে কোচিং করানো হয় ১ হাজার ২০০ টাকা ফিতে। প্রতি ব্যাচে শিক্ষার্থী নেওয়া হয় ৪০জন করে।

কোচিংয়ে না গেলে ফেল করানোর অভিযোগ আছে ভিকারুননিসার কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানের এক শিক্ষকের নাম উল্লেখ করেই অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন কয়েকজন অভিভাবক।

নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা সাহানা বেগম বলেন, “ছেলে-মেয়েরা পরীক্ষা দিয়ে আসে আর দোয়া করে, আল্লাহ … স্যারের কাছে যেন খাতা না যায়। কোচিং যারা করে না, তাদেরকে ফেল করে করিয়ে দেওয়া হয়। সে কারণে সবাই কোচিং করতে বাধ্য হয়।”

অভিভাবক দিলারা চৌধুরী বলেন, “কোচিংয়েই যদি ৪০ জন করে ছাত্রী থাকে, তাহলে তারা শিখবে কীভাবে? ফলে কোচিং করালেও সিলেবাস সম্পূর্ণ না করে পরীক্ষায় বসিয়ে দেওয়া হয়।”

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌসের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মামলার আসামি হিসেবে তাকে খোঁজা হচ্ছে বলে পুলিশ ইতোমধ্যে জানিয়েছে।

এখন আর সেরা হয় না

অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার স্কুলের সামনে বিক্ষোভে সহপাঠীরা অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার স্কুলের সামনে বিক্ষোভে সহপাঠীরা

এক সময় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলে ধারাবাহিকভাবে প্রথম হলেও সেই অবস্থান গত কয়েকবছর ধরে রাখতে পারেনি ভিকারুননিসা।

২০১৪ সালের এসএসসিতে ঢাকা বোর্ডে ভিকারুননিসা তৃতীয় হয়েছিল। ২০১৫ সালে সেটা নামে চতুর্থ অবস্থানে। ২০১৪ সালে ঢাকা বোর্ডে এইচএসসিতে পঞ্চম অবস্থানে ছিল।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সেরা ১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ভিকারুননিসার কেউই ছিল না। যেখানে প্রথম হয়েছিল শ্যামপুরের এ কে স্কুলের এক শিক্ষার্থী। এইচএসসিতে সেরা ১০ এর মধ্যে কেবল সপ্তম স্থান ছিল ভিকারুননিসার এক শিক্ষার্থীর।

এক সময় দেশ সেরা হওয়া এই প্রতিষ্ঠানের মানে অবনমনের বিষয়ে বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি মুশতারি সুলতানাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

তিনি শুধু বলেন, “মেয়েদের মধ্যে আমাদের এখান থেকে প্রথম হয়েছে।”

কোচিংয়ের প্রতি শিক্ষকদের ঝোঁক এবং অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের কারণে এমন ‘অবনমন’ কি না- প্রশ্ন করা হলে মুশতারি সুলতানা বলেন, “এই অভিযোগ ঠিক না। আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে বড়জোর ২ থেকে ৫ শতাংশ কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত।”

যা বললেন পরিচালনা পর্ষদ প্রধান

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার।

ভিকারুননিসায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গভর্নিং বডির দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ।

শিক্ষামন্ত্রীর ওইসব বক্তব্যের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান অরিত্রীর মৃত্যুর পর স্কুল কর্তৃপক্ষের করা কমিটির প্রতিবেদনে আসবে বলে জানান স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড তদন্ত করেছে। তাদের তদন্ত নিশ্চয় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত। তারা বলবে আমরা সেটা মানব।”

স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদে স্থানীয় এমপির সভাপতি পদে মনোনীত হওয়ার পথ বন্ধ করে ২০১৬ সালে জুনে রায় আসে সর্বোচ্চ আদালত থেকে। ভিকারুননিসার কয়েকজন অভিভাবকের রিট আবেদনে ওই রায় আসে।

এরপর ২০১৭ সালের এপ্রিলে ভিকারুননিসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচিত হন গোলাম আশরাফ তালুকদার। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদক ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

দীর্ঘদিনের অনিয়মের যে মন্তব্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে এসেছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অনিয়মের প্রমাণ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আসনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে গোলাম আশরাফ বলেন, “সে বিষয়ে আমরা আমাদের তদন্ত রিপোর্টে বলব। তদন্ত কমিটি হয়েছে তাদের প্রতিবেদন দ্রুতই পাব।”

উৎসঃ বিডিনিউজ২৪

আরও পড়ুনঃ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বের কাছেই কি হাসিনার পতন আসন্ন?: আল জাজিরার প্রতিবেদন

শেখ হাসিনার মতই ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শে বিশ্বাসী একজন নেতা ড. কামাল হোসেন, যিনি বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করেছিলেন, তিনি আজ হাসিনাকে কর্তৃত্বপরায়ন এবং একনায়ক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার সরকারের পতন ঘটানোর জন্য বিরোধী সকল দলকে নিয়ে একটি জোট গঠন করেছেন- যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরনের সূচনা করেছে।

চলতি মাসের শেষেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে আর এই নির্বাচনে শেখ হাসিনার মুখোমুখি অবস্থানে অক্সফোর্ড ফেরত আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন- যাকে শেখ হাসিনা একটা সময় খুব আদর করে কাকা বলে ডাকতেন। ডা. কামাল এখন ৮২ বছরের এক প্রাজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং আরো দুই দলকে নিয়ে গত অক্টোবরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন।

বিএনপি আশা করছে যে নতুন এই জোটটি তার জনসমর্থন আরো বাড়াবে যার উপর ভিত্তি করে তারা চলমান সংকটগুলোকে মোকাবেলা করতে পারবে। বিশেষ করে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে সক্ষম হবে- যিনি গত ফেব্রুয়ারী থেকে কথিত দুর্নীতি মামলায় দন্ডিত হয়ে কারাগারে আটক আছেন।ড. কামাল ছিলেন শেখ হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। তাহলে তিনি কেন বিএনপির সাথে ঐক্য করতে গেলেন? ড. কামালের মতে তিনি বিএনপিকে নিয়ে ঐক্য করেছেন কেননা এছাড়া দেশে গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার বিকল্প আর কোন রাস্তা নেই।

শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে সকল বিরোধী দলের বয়কটের মুখে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মত ক্ষমতায় আসেন। সেই নির্বাচনে ১৫১টি আসনেই আওয়ামী সংসদ সদস্যরা বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ড. কামাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের দু:শাসন প্রসংগে বলেন, বিগত ৫ বছর ধরে দেশে একটি অনির্বাচিত সরকার আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কখনো এমনটি দেখা যায়নি। ড. কামাল আরো বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হলে তারা এটা নিশ্চিত করবেন যাতে একজন ব্যক্তি পর পর দুই মেয়াদের পর আর প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারে।

আওয়ামী লীগ মনে করছে, বিএনপি একা কিছু করতে পারছেনা বলে তারা কামাল হোসেনের উপর ভর করে আওয়ামী লীগকে নামাতে চাইছে, তবে এবারও তারা ব্যর্থই হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ বলেন, গন ফোরাম একটি ছোট দল। তারা আজ অবধি জাতীয় সংসদে একটি আসনেও জিততে পারেনি। ড. কামাল কোন গনসম্পৃক্ত নেতা নন। জনগন থেকে তিনি ও তার দল গনফোরাম পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

তবে ড. কামাল এরই মধ্যে বলে দিয়েছেন যে তিনি কোন পদ পদবীর জন্য এই লড়াই করছেন না। এমনকি ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচিত হলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ নেবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি।শেখ হাসিনা সম্প্রতি এমন আইন প্রনয়ন করেছেন যার মাধ্যমে যে কোন ভিন্নমতের বা বিরোধী মতের মিডিয়াকে তিনি দমন করতে পারেন। ড. কামাল মনে করছেন এর মাধ্যমে সরকার শুধু এক দলীয় রাষ্ট্র নয় বরং এক ব্যক্তির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

তিনি বলেন, কর্তৃত্বপরায়ন এই সরকার যদি ছলে বলে কৌশলে আগামীতেও ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে আমার মত অনেকেই আর দেশে থাকতে পারবেনা। কেননা সরকার তার কোন সমালোচককেই আর সহ্য করবেনা।

ড. কামালের পিতা একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে জেলে ছিলেন দীর্ঘদিন। বঙ্গবন্ধুর অধীনে তিনি আইনমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি জাতিসংঘের বেশ কিছু প্রকল্পে কাজ করেছেন। তার ব্যপারে সুশীল সমাজে ব্যপক গ্রহনযোগ্যতাও আছে। তবে তার মত ব্যক্তি বাংলাদেশের এই নোংরা রাজনীতির জন্য কতটুকু ফিট তা নিয়ে অবশ্য অনেকের মনেই সন্দেহ আছে।

সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি ড. শাহদীন মালিক ড. কামাল প্রসংগে বলেন, তিনি খুব বিদ্রোহী মানসিকতার নেতা নন। তিনি একজন চমৎকার সংবিধান বিশ্লেষক ও আইনজীবি। তিনি একজন পুস্তকপ্রেমী মানুষ। তত্ব দিয়ে অনেক কিছু বিবেচনা করেন যা আমাদের প্রচলিত রাজনীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ন নয়।

অন্যদিকে শিক্ষাবীদ ও কলামিস্ট আফসান চৌধুরী মনে করছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কতক্ষন নিজেদের ঐক্য ধরে রাখবে তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তবে ঐক্যফ্রন্ট করায় বিএনপির ভাবমুর্তি অনেকটাই বেড়েছে। আর খালেদা জিয়া অন্তরীন হওয়ার পর বিএনপি যে অভিভাবকশূন্যতায় পড়ে গিয়েছিল সেক্ষেত্রেও দলটি যেন কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে পৌছেছে।

উৎসঃ আল জাজিরা

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন কমিশনে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের দশম তলায় স্থাপিত এজলাসে আপিল শুনানি চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের নবাব মো. শামছুল হুদার আপিল শুনানি দিয়ে শুরু হয়। আপিলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এরপর দুই নম্বরেই ছিল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বগুড়া-৭ আসনে দলের মনোনীত বিকল্প প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের আপিলের শুনানি। শুনানি শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ সময় ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিনও প্রার্থিতা ফিরে পান।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও পটুয়াখালী-৩ আসনে মো. গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য রনি সদ্যই আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়নপত্র নেন। ঝিনাইদহ-২ আসনে মো. আবদুল মজিদ ও ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে জামালপুর-৪ আসনে মো. ফরিদুল কবির তালুকদার (শামীম) ও পটুয়াখালী-৩ আসনে মোহাম্মদ শাহজাহানের। প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন পটুয়াখালী-১ আসনের মো. সুমন সন্যামতও।

মাদারীপুর-১ আসনের জহিরুল ইসলাম মিন্টু এবং সিলেট-৩ আসনের আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীও আপিল করে ভোটের ময়দানে লড়াইয়ের যোগ্য হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের পুনঃতফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এরপর গত রবিবার মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। এদিন নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জমা দেওয়া তিন হাজার ৬৫ মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭৮৬টি বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যাদের মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন।

গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। তিন দিনে ৫৪৩ জন আপিল করেছেন। প্রথম দিনে ৮৪, দ্বিতীয় দিনে ২৩৭ ও তৃতীয় দিনে ২২২টি আবেদন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা পড়ে।

আজ ১ থেকে ১৬০ পর্যন্ত ক্রমিক নম্বরের আবেদন শুনানি হবে। শুক্রবার ১৬১ থেকে ৩১০ পর্যন্ত এবং শনিবার ৩১১ ক্রমিক নম্বর থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত আবেদনের আপিল শুনানি গ্রহণ করবে কমিশন।

প্রতিটি আবেদনের আপিল শুনানি শেষে সঙ্গে সঙ্গেই রায় জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি উচ্চ আদালতে কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, তাহলে তাকে রায়ের নকল কপি দিয়ে দেওয়া হবে।

একনজরে যাদের মনোনয়ন বৈধ : বিএনপি প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি (পটুয়াখালী-৩), খন্দকার আবু আশফাক (ঢাকা-১), তমিজ উদ্দিন (ঢাকা-২০), মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান (কিশোরগঞ্জ-২), বগুড়া-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন, সুমন সন্যামত (পটুয়াখালী-১), মোহাম্মদ শাহজাহান (পটুয়াখালী-৩), ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম (জামালপুর-৪), আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী (সিলেট-৩); মনোনয়ন বাতিল : গোলাম রব্বানী (২০ দলীয় জোট, রংপুর-৫), জহিরুল মিন্টু (মাদারীপুর-১), পারভেজ (দিনাজপুর-১), মিজানুর রহমান (ফেনী-১), মিজানুল হক (কিশোরগঞ্জ), মো. আইয়ুব খান (ঢাকা-১) মো. এমদাদুল হক (ময়মনসিংহ-২) আবু সাইদ মহিউদ্দিন (ময়মনসিংহ-৪), এস এম এরশাদুজ্জামান (খুলনা-২), মো. ফজলুর রহমান (জয়পুরহাট-১), মো. আবিদুর রহমান খান (মানিকগঞ্জ-২), মো. জয়নাল আবেদিন (গাজীপুর-২), জেসমিন নূর বেবী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), এস এম শফিকুল আলম (খুলনা-৬), মো. আবদুল মজিদ (ঝিনাইদহ-২) মোস্তফা সেলিম (রংপুর-৪)।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে লড়তে ৩৭ দিন ছুটি নিলেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালকঃ ডা. আব্দুল আজিজ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী হিসেবে লড়তে ৩৭ দিন ছুটি পেয়েছেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি নির্বাচনে লড়ছেন।

সম্প্রতি ঢাকা শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক শাহলা খাতুন ডা. আব্দুল আজিজকে দেওয়া ছুটির আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

আদেশে বলা হয়েছে, ডা. আব্দুল আজিজকে ব্যক্তিগত কারণে আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৭ দিন ছুটি মঞ্জুর করা হলো। এ সময়ে অধ্যাপক শফি আহমেদ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন এবং শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এ আর খান প্যাডিয়েট্রিক ইউরোলজি বিভাগের রোগী দেখাশোনা করবেন।

জানা যায়, শিশু হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও সাধারণ আচরণ অনুযায়ী, এ প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন না। যদিও এ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে।

ছুটি প্রসঙ্গে হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বাংলানিউজকে বলেন, নির্বাচনে হেরে গেলে তিনি আবার পরিচালকের পদে অধিষ্ট হতে পারবেন। সংসদ সদস্য পদে জয়ী হলে তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন।

অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ শিশু হাসপাতালের পরিচালকের পাশাপাশি শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এসব পদে বহাল থেকেই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিধান সম্পর্কে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এ উল্লেখ রয়েছে, প্রজাতন্ত্রের বা কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, ‘লাভজনক পদ’ অর্থ প্রজাতন্ত্র কিংবা সরকারি সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকারের ৫০% এর অধিক অংশীদারিত্ব সম্পন্ন কোম্পানিতে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত কোন পদ বা অবস্থান। এছাড়া, প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের কোন চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসর গমন করেছেন এবং উক্ত পদত্যাগ বা অবসর গমনের ৩ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে তাহলে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

এদিকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটি ১৯৭৫ সালে জারি করা একটি অধ্যাদেশ দিয়ে গঠিত। এ হাসপাতালের বেতন-ভাতা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দিয়ে থাকে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ-সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বাৎসরিক অনুদানের প্রথম কিস্তি ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা গত ১৭ সেপ্টম্বর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই টাকা হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হিসাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ হাসপাতালের বেতন খাতে চলতি অর্থবছরের মোট ৩০ কোটি টাকা বাজেট রয়েছে।

আরও জানা গেছে, নির্বাচনে দেওয়া ডা. আব্দুল আজিজ তার হলফনামায় বেতনভাতা থেকে আয় দেখিয়েছেন। হলফনামায় চাকুরি থেকে বাৎসরিক ১২ লাখ ৩০ হাজার ৭৪২ টাকা আয় হয় বলে উল্লেখ করেন।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সূত্রে আরো জানা যায়, যেহেতু রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ঢাকা শিশু হাসপাতাল সরকারি সাহায্যপুষ্ট হলেও এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। তাই এটি পরিচালনায় একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যবস্থাপনা বোর্ড গঠন করা হয়। বর্তমানে যে ব্যবস্থাপনা বোর্ড দ্বারা হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে সেই বোর্ডটি আইনত বৈধ নয়। কারণ এ বোর্ডটি বাতিল একটি অধ্যাদেশ দিয়ে গঠন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চিকিৎসক বাংলানিউজকে জানান, ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার হাসপাতাল পরিচালনায় একটি অধ্যাদেশ জারি করে। যদিও পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকার সেই অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাতিল করে দেয়। ২০১৬ সালে গঠিত হাসপাতালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা বোর্ড ওই বাতিলকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী গঠন করা হয়েছে।

সর্বোপরি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিধান অনুসারে তিনি (অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজীজ) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অযোগ্য প্রার্থী। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। বর্তমানে নির্বাচনী গণসংযোগের কাজেরায়গঞ্জ-তাড়াশ ও সলঙ্গা এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উৎসঃ banglanews24

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন কমিশনে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের দশম তলায় স্থাপিত এজলাসে আপিল শুনানি চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের নবাব মো. শামছুল হুদার আপিল শুনানি দিয়ে শুরু হয়। আপিলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এরপর দুই নম্বরেই ছিল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বগুড়া-৭ আসনে দলের মনোনীত বিকল্প প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের আপিলের শুনানি। শুনানি শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ সময় ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিনও প্রার্থিতা ফিরে পান।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান রঞ্জন ও পটুয়াখালী-৩ আসনে মো. গোলাম মাওলা রনির মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য রনি সদ্যই আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়নপত্র নেন। ঝিনাইদহ-২ আসনে মো. আবদুল মজিদ ও ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে জামালপুর-৪ আসনে মো. ফরিদুল কবির তালুকদার (শামীম) ও পটুয়াখালী-৩ আসনে মোহাম্মদ শাহজাহানের। প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন পটুয়াখালী-১ আসনের মো. সুমন সন্যামতও।

মাদারীপুর-১ আসনের জহিরুল ইসলাম মিন্টু এবং সিলেট-৩ আসনের আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীও আপিল করে ভোটের ময়দানে লড়াইয়ের যোগ্য হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের পুনঃতফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৯ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এরপর গত রবিবার মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। এদিন নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জমা দেওয়া তিন হাজার ৬৫ মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৭৮৬টি বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যাদের মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন।

গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। তিন দিনে ৫৪৩ জন আপিল করেছেন। প্রথম দিনে ৮৪, দ্বিতীয় দিনে ২৩৭ ও তৃতীয় দিনে ২২২টি আবেদন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা পড়ে।

আজ ১ থেকে ১৬০ পর্যন্ত ক্রমিক নম্বরের আবেদন শুনানি হবে। শুক্রবার ১৬১ থেকে ৩১০ পর্যন্ত এবং শনিবার ৩১১ ক্রমিক নম্বর থেকে ৫৪৩ পর্যন্ত আবেদনের আপিল শুনানি গ্রহণ করবে কমিশন।

প্রতিটি আবেদনের আপিল শুনানি শেষে সঙ্গে সঙ্গেই রায় জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যদি উচ্চ আদালতে কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, তাহলে তাকে রায়ের নকল কপি দিয়ে দেওয়া হবে।

একনজরে যাদের মনোনয়ন বৈধ : বিএনপি প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি (পটুয়াখালী-৩), খন্দকার আবু আশফাক (ঢাকা-১), তমিজ উদ্দিন (ঢাকা-২০), মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান (কিশোরগঞ্জ-২), বগুড়া-৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন, সুমন সন্যামত (পটুয়াখালী-১), মোহাম্মদ শাহজাহান (পটুয়াখালী-৩), ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম (জামালপুর-৪), আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী (সিলেট-৩); মনোনয়ন বাতিল : গোলাম রব্বানী (২০ দলীয় জোট, রংপুর-৫), জহিরুল মিন্টু (মাদারীপুর-১), পারভেজ (দিনাজপুর-১), মিজানুর রহমান (ফেনী-১), মিজানুল হক (কিশোরগঞ্জ), মো. আইয়ুব খান (ঢাকা-১) মো. এমদাদুল হক (ময়মনসিংহ-২) আবু সাইদ মহিউদ্দিন (ময়মনসিংহ-৪), এস এম এরশাদুজ্জামান (খুলনা-২), মো. ফজলুর রহমান (জয়পুরহাট-১), মো. আবিদুর রহমান খান (মানিকগঞ্জ-২), মো. জয়নাল আবেদিন (গাজীপুর-২), জেসমিন নূর বেবী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), এস এম শফিকুল আলম (খুলনা-৬), মো. আবদুল মজিদ (ঝিনাইদহ-২) মোস্তফা সেলিম (রংপুর-৪)।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে লড়তে ৩৭ দিন ছুটি নিলেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালকঃ ডা. আব্দুল আজিজ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী হিসেবে লড়তে ৩৭ দিন ছুটি পেয়েছেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি নির্বাচনে লড়ছেন।

সম্প্রতি ঢাকা শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক শাহলা খাতুন ডা. আব্দুল আজিজকে দেওয়া ছুটির আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

আদেশে বলা হয়েছে, ডা. আব্দুল আজিজকে ব্যক্তিগত কারণে আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৭ দিন ছুটি মঞ্জুর করা হলো। এ সময়ে অধ্যাপক শফি আহমেদ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করবেন এবং শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এ আর খান প্যাডিয়েট্রিক ইউরোলজি বিভাগের রোগী দেখাশোনা করবেন।

জানা যায়, শিশু হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও সাধারণ আচরণ অনুযায়ী, এ প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেন না। যদিও এ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে।

ছুটি প্রসঙ্গে হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বাংলানিউজকে বলেন, নির্বাচনে হেরে গেলে তিনি আবার পরিচালকের পদে অধিষ্ট হতে পারবেন। সংসদ সদস্য পদে জয়ী হলে তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন।

অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ শিশু হাসপাতালের পরিচালকের পাশাপাশি শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এসব পদে বহাল থেকেই তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। যদিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিধান সম্পর্কে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এ উল্লেখ রয়েছে, প্রজাতন্ত্রের বা কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, ‘লাভজনক পদ’ অর্থ প্রজাতন্ত্র কিংবা সরকারি সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকারের ৫০% এর অধিক অংশীদারিত্ব সম্পন্ন কোম্পানিতে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত কোন পদ বা অবস্থান। এছাড়া, প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের কোন চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসর গমন করেছেন এবং উক্ত পদত্যাগ বা অবসর গমনের ৩ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে তাহলে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

এদিকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালটি ১৯৭৫ সালে জারি করা একটি অধ্যাদেশ দিয়ে গঠিত। এ হাসপাতালের বেতন-ভাতা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দিয়ে থাকে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ-সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বাৎসরিক অনুদানের প্রথম কিস্তি ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা গত ১৭ সেপ্টম্বর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই টাকা হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হিসাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ হাসপাতালের বেতন খাতে চলতি অর্থবছরের মোট ৩০ কোটি টাকা বাজেট রয়েছে।

আরও জানা গেছে, নির্বাচনে দেওয়া ডা. আব্দুল আজিজ তার হলফনামায় বেতনভাতা থেকে আয় দেখিয়েছেন। হলফনামায় চাকুরি থেকে বাৎসরিক ১২ লাখ ৩০ হাজার ৭৪২ টাকা আয় হয় বলে উল্লেখ করেন।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সূত্রে আরো জানা যায়, যেহেতু রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ঢাকা শিশু হাসপাতাল সরকারি সাহায্যপুষ্ট হলেও এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। তাই এটি পরিচালনায় একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যবস্থাপনা বোর্ড গঠন করা হয়। বর্তমানে যে ব্যবস্থাপনা বোর্ড দ্বারা হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে সেই বোর্ডটি আইনত বৈধ নয়। কারণ এ বোর্ডটি বাতিল একটি অধ্যাদেশ দিয়ে গঠন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চিকিৎসক বাংলানিউজকে জানান, ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার হাসপাতাল পরিচালনায় একটি অধ্যাদেশ জারি করে। যদিও পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকার সেই অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাতিল করে দেয়। ২০১৬ সালে গঠিত হাসপাতালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা বোর্ড ওই বাতিলকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী গঠন করা হয়েছে।

সর্বোপরি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিধান অনুসারে তিনি (অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজীজ) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অযোগ্য প্রার্থী। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন নিয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। বর্তমানে নির্বাচনী গণসংযোগের কাজেরায়গঞ্জ-তাড়াশ ও সলঙ্গা এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উৎসঃ banglanews24

আরও পড়ুনঃ সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাবীব!

রংপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাবীব

মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় হট্টগোলের ভিডিওধারণ করার সময় সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে আবারো বির্তকের জন্ম দিয়েছে রংপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাবীব।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের বিএনপি সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম রব্বানীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কালে এ ঘটনা ঘটে। পরে সাংবাদিক নেতাদের হস্তক্ষেপে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় জামায়াত নেতা গোলাম রব্বানীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শুরু হলে মিঠাপুকুরের বর্তমান এমপি এইচ এন আশিকুর রহমানের পক্ষে উপস্থিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সাথে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।

এসময় গোলাম রব্বানীর আইনজীবীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং অশালীন ভাষায় গালাগালের পরিবেশ উত্তপ্ত হলে মোবাইল ফোনে এটি ভিডিও ধারণ করেন একুশে টিভির সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাদল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভিডিও ধারণ করা মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন রিটার্নিং কর্তকর্তা এনামুল হাবীব।

এ ঘটনা জানা জানি হলে সাংবাদিকরা ছুটে যান রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। পওে উপস্থিত সাংবাদিক নেতাদের হস্তক্ষেপে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল হাবীব।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ কারচুপি ছাড়া সমর্থকশূন্য আওয়ামীলীগের নির্বাচনে বিজয়ের অন্য কোনো উপায় নেই!

একাদশ সংসদ নির্বাচন আসন্ন। ৩০ ডিসেম্বর এ নির্বাচনের দিন চূড়ান্তভাবে ধার্য করা হয়েছে। এ নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল দেশের দুই প্রধান দলের অন্যতম বিএনপির বয়কটের মধ্যদিয়ে। দেশের দুই প্রধান দলের অন্যতম বিএনপি কর্তৃক বর্জিত হওয়ায় সে নির্বাচন তার সকল গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছিল। বিরোধী দল তো দূরের কথা, শাসক দলের বহু নেতা কর্মীও সে নির্বাচনে ভোট দানের উদ্দেশ্যে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার গরজ অনুভব করেননি। কারণ তারা জানতেন, তারা ভোট দানের উদ্দেশ্য ভোট কেন্দ্রে না গেলেও তাদের ভোট দানের ব্যবস্থা ঠিকই করা হবে দলের পক্ষ থেকে।

বাস্তবে হয়ও সেটাই। বিরোধী দলের ভোট বর্জনের কারণে ভোট কেন্দ্রে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতির সুযোগে শাসক দলের অল্পসংখ্যক নেতা কর্মী তাদের ইচ্ছামত সরকারী দলের প্রার্থীদের ব্যালটপত্রে সীলম শাসক দলের প্রার্থীদের বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়া নিশ্চিত করতে সক্ষম হন। এর ফলে দশম জাতীয় সংসদে বিএনপির কোন প্রতিনিধি ছিল না। দেশের দুই প্রধান দলের অন্যতম বিএনপির পরিবর্তে দশম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টী। আর সংসদে বিরোধী দলের নেত্রীর ভূমিকা পালন করেন জেনারেল এরশাদের স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদ, যিনি জাতীয় সংসদে তাঁর প্রথম ভাষণেই সরকারী দলের সকল কাজে সমর্থন দানের প্রতিশ্রæতি দান করে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে এক কলংকজনক অধ্যায় সংযোজন করেন। দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন বর্জনের কারণে দেশের প্রকৃত বিরোধী দল বিএনপির পক্ষে বিরোধী দলের নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

সেসব সুযোগ সুবিধা পাওয়ার আশায় একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের স্বপক্ষে বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে জনমত প্রচল হয়ে উঠতে থাকে। এছাড়া শাসক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের একাংশের মধ্যেও একাদশ সংসদ নির্বাচন যাতে বিএনপিসহ সকল দলের অংশগ্রহণে ধন্য হয় তার পক্ষে দলীয় সমর্থকদের মধ্যে জনমত জোরদার হয়ে উঠতে থাকে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের অনেকেই আশা প্রকাশ করেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনকে যে কোন মূল্যে অর্থবহ করার চেষ্টা করা হবে। এসব আশা ও আশ্বাসে বিএনপির অনেকের মধ্যেই এ বিশ্বাস জোরদার হয়ে উঠতে থাকে যে, একাদশ সংসদ নির্বাচন দশম সংসদ নির্বাচনের মত একতরফা ও প্রশ্নবিদ্ধ হবে না।

কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বের একাংশের মধ্যকার এ আশা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের পক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মোহ বর্জন করে দেশকে একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভবপর হচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে তাদের বাস্তব ক্রিয়াকর্মে। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের এ ব্যর্থতার লক্ষণ প্রধান বিরোধী দল বিএনপি তো বটেই, দেশবাসীর কাছেও সুস্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাখিল করা যে তিনটি আসনের মনোনয়ন পত্রই বাতিল ঘোষণা করেছে সরকারের নিয়োগকৃত নির্বাচন কমিশন।

আওয়ামী লীগের নেতা জনাব ওবায়দুল কাদের যদিও দাবী করেছেন, বিএনপির কোন নেতা নেত্রীর মনোনয়নপত্র বাতিলে সরকারের কোন হাত ছিল না, এটা ছিল সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে, তাঁর এই বক্তব্য কেউ বিশ্বাস করছে না। কারণ বেগম খালেদা জিয়া এবং অন্যান্য বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা ইসি (নির্বাচন কমিশন) করলেও খোদ নির্বাচন কমিশনই গঠিত হয়েছিল আওয়ামী সরকার কর্তৃক। আর আওয়ামী লীগের তো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করার সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে।

সংবাদপত্র পাঠকদের স্মরণ থাকার কথা, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আমলেই সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা একটি মাত্র সরকারী দল রেখে দেশে একদলীয় বাকশালী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে কিছু দু:খজনক ঘটনার মধ্যদিয়ে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থার স্থানে বহু দলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুন:প্রতিষ্ঠিত হলেও এক পর্যায়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে সামরিক ক্যুর মাধ্যমে উৎখাত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে বসেন তদানীন্তন সেনা প্রধান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সে সময় সারা দুনিয়াকে অবাক করে দিয়ে ঐ সামরিক ক্যুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বসেন দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। এই অকল্পনীয় ঘটনা সম্ভবপর হয়েছিল হয়তো এই বিবেচনায় যে, সামরিক ক্যুর মাধ্যমে উৎখাত হওয়া ঐ নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে ছিল নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি। এর অর্থ এই যে, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সামরিক ক্যুর প্রতি সমর্থন দিতেও আওয়ামী নেতৃত্বের বিবেকে বাধেনি।

সংবাদপত্রের পাঠকদের স্মরণ থাকার কথা, এরপর শুরু হয় জেনালের এরশাদের দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পালা। পাশাপাশি চলতে থাকে বিএনপির ও অন্যান্য দলের এরশাদ বিরোধী আন্দোলন। আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা প্রথম দিকে অনেক দিন এসব স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলন থেকে দূরে সরে থাকলেও পরবর্তীকালে এক পর্যায়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। কিন্তু ততদিনে রাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত নবাগতা বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে একটানা নেতৃত্ব দিয়ে আপোষহীন নেত্রী হিসাবে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন, যার প্রমাণ পাওয়া যায় পরবর্তী নির্বাচনে। এ দিকে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যোগদানের পর দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রশ্নে একমত হয় এবং এই নির্বাচন যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সে লক্ষ্যে দুই প্রধান নেত্রী এ প্রশ্নেও একমত হন যে, ঐ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দেশের সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে।

যেমনটা আশা করা গিয়েছিল, নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। নির্বাচন চলাকালে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতাকালে এক পর্যায়ে বলেন, আমি সকল জেলার খবর নিয়েছি। নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু হয়েছে। আপনারা লক্ষ্য রাখবেন, ভোটে হেরে গিয়ে কেউ যেন এর মধ্যে আবার কারচুপি আবিষ্কার না করে। ভোট গণনা শেষে যখন জানা গেল, আওয়ামী লীগ নয়, নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি, শেখ হাসিনা অবলীলাক্রমে বলে ফেললেন, নির্বাচনে সু² কারচুপি হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কেউ তাঁর এ স্ববিরোধী অবাস্তব বক্তব্যে গুরুত্ব না দেয়ায় স্বাভাবিক নিয়ম মোতাবেক বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলো এবং সংসদে বিরোধী দলের নেত্রী হলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। বেগম খালেদা জিয়ার প্রধান নেতৃত্বের মেয়াদ শেষে নতুন নির্বাচনের প্রশ্ন উঠলে প্রধানত: বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার দাবীর মুখে দেশের সকল জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে এই মর্মে সংবিধানে সংশোধন করে প্রস্তাব গৃহীত হয়।

বাংলাদেশের বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটাই যে ছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সব চাইতে উপযোগী, তা বাস্তবে প্রমাণিত হয়। এ ব্যবস্থাধীনে দেশে বেশ কয়েকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে দেশের দুই প্রধান দল পালাক্রমে পর পর নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার সুযোগ লাভ করে। কিন্তু এই সুন্দর ব্যবস্থাও এক শ্রেণীর রাজনীতিকের অতিরিক্ত ক্ষমতাক্ষুধা পচিয়ে ফেলে। ফলে এক পর্যায়ে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বের আমলে নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবর্তে নির্বাচিত দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের পরিবর্তে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিলে দুই প্রধান দলের মধ্যকার অতীত সমঝোতার সুস্পষ্ট লংঘনের অভিযোগ এনে বিএনপি সে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়। দেশের দুই প্রধান দলের একটি (বিএনপি) নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলে সে নির্বাচন বাস্তবে হয়ে পড়ে নির্বাচনী প্রহসনে। জনগণও সে নির্বাচনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বিরোধী দল তো দূরের কথা, শাসক দলের অনেক নেতাকর্মীও সে নির্বাচনে ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার গরজ হারিয়ে ফেলেন। কারণ তারা জানতেন, তারা ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে না গেলেও তাদের ভোট দানের ব্যবস্থা ঠিকই করা হবে দলের পক্ষ থেকে।

বাস্তবে হয়ও সেটাই। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বয়কটজনিত অনুপস্থিতির সুযোগে শাসক দলের অল্পসংখ্যক নেতাকর্মীই ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের ইচ্ছামত সরকারী দলের প্রার্থীদের ব্যালটপত্রে সীলমেরে তাদের বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়া নিশ্চিত করেন, যদিও ভোটদানের নির্ধারিত সময়ে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র ছিল ফাঁকা, জনশূণ্য। এভাবে ভোটারদের অনুপস্থিতিতে “বিপুল ভোটে শাসকদলের” বিজয়ের কারণে জনগণ এ নির্বাচনের নাম দেয় ভোটারবিহীন নির্বাচন। বর্তমানে যে সরকার দেশ শাসন করছে সে সরকার এই ভোটারবিহীন নির্বাচনেরই ফসল।

একটি ভোটারবিহীন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতা কব্জা করতে পারায় আওয়ামী লীগের যেন তেন প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়ার লোভ যেন বেড়ে গেছে একটি বেশি মাত্রায়ই। তিন তিনটি অবাধ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া বেগম খালেদা জিয়ার সকল মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষিত হওয়া ছাড়াও অসংখ্য বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ইতোমধ্যেই বাতিল ঘোষিত হয়েছে। এতসব মনোনয়নপত্র বাতিলে আওয়ামী লীগে সরকারের কোন হাত ছিল না বলে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের দাবী করলেও এবং এসব মনোনয়নপত্র বাতিলের জন্য দায়ী ইসি তথা নির্বাচন কমিশন এটা বলা হলেও এ কমিশন যে আওয়ামী সরকারের ইচ্ছাতেই গঠিত হয় এ সত্য অস্বীকার করা আর বাস্তবকে অস্বীকার করা একই কথা। কারণ এ ধরনের ইচ্ছামত নির্বাচন কর্তৃপক্ষ (ইসি) গঠনের আশায়ই তারা নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবর্তন নির্বাচিত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছেন ইচ্ছাকৃত ও সুপরিকল্পিতভাবে।

অতীতে দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপির সাথে নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে সকল জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে বলে বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগ যে সমঝোতায় পৌঁছেছিল, সে সমঝোতা থেকে সরে গিয়ে নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে সকল জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবর্তে যেদিন আওয়ামী লীগ নির্বাচিত দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেয় সেই দিনই সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল কোন অবাধ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ বিশ্বাস ও আশা হারিয়ে ফেলেছে। তাই অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবর্তেন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে যে কোন মূল্যে নির্বাচনে জয়ী হয়ে পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া জনসমর্থনশূণ্য আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফিরে যাওয়ার আর কোন ভরসা নেই। তাই বিরোধী দলের মনোনয়ন পত্র অবৈধ অন্যায় পন্থায় ব্যাপকভাবে বাতিল করে পুনরায় ক্ষমতায় যেতে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে ভোটারবিহীন নির্বাচনে বিজয়ী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এর ফলে এমন এক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতে চায়, যে নির্বাচনে বিজয়ী হতে অবৈধ অন্যায় পন্থায় ছাড়া বিজয়ী হওয়ার অন্য কোন উপায় নেই।

উৎসঃ ইনকিলাবের সম্পাদকীয় থেকে নেওয়া

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here