শিক্ষার্থী-অবিভাবকদের বিক্ষোভে উত্তাল ভিকারুননিসা

0
76

সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্রীদের বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানীর ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রিন্সিপাল, ভাইস প্রিন্সিপাল ও গভর্নিং বডির সদস্যদের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থী ও অবিভাবকরা।

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। আজকের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলের মূল ফটকে অবস্থান করছে।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অধ্যক্ষ ও গভর্নিংবডির পদত্যাগ দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এটি একটি হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। অধ্যক্ষের ভর্তি-বাণিজ্যের কারণে তার শাস্তিও দাবি করেন।

শিক্ষার্থীরদের হাতে ‘principal এর পদত্যাগ চাই’, ‘No student deserve to be insulted’, ‘প্রত্যেকটি আত্মহত্যায় কি একটি হত্যা নয়?’, Cheating এর Punishment মৃত্যু কবে থেকে?’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায়।

প্রসঙ্গত, নকলের অভিযোগ তুলে বাবা-মাকে ডেকে তাদের সামনে অপমান ও টিসি দেয়ার কথা বলায় রাজধানীর শান্তিনগরে নবম শ্রেণীর ছাত্রী অরিত্রি আত্মহত্যা করেন। সোমবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর শান্তিনগর এলাকার বাসা থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অরিত্রির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে যাবে, আমি আর থামাবো না’/strong>

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের গভর্নিং বডির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ডক্টর মো. ইউনুছ আলী আকন্দ বলেছেন, ‘২০১২ সালে চৈতি নামের একটি মেয়ের ইচ্ছায় তাকে সাইন্স নিতে দেয়া হয়নি। মেয়েটি এক বছর নষ্ট করে পুনরায় পরীক্ষা দিলেও তাকে সাইন্স দেয়া হয়নি। পরে মেয়েটি আত্মহত্যা করে। যদি চৈতির আত্মহত্যার বিচার হতো তাহলে অরিত্রি অধিকারীকে মরতে হতো না।’

বুধবার ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বেইলি রোডের মূল শাখার বাইরে জড়ো হওয়া সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি গতকাল গভর্নিং বডিকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের বরখাস্ত করতে, তবে তারা তা করেনি। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তার এখন পুলিশ কাস্টডিতে অথবা সাসপেন্ডেড অথবা জামিনে থাকা উচিত ছিল। কিন্তু কিছুই হয়নি।

ইউনুছ আলী আকন্দ আরও বলেন, ‘২০১২ তে আমি একবার আদালতে রিট করে আদেশ নিয়ে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামিয়েছিলাম। এবার আর তা করবো না। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে যাবে।’

এর আহে গত সোমবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় ‘আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী’ হিসেবে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন অরিত্রির বাবা। মামলার আসামিরা হলেন- অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনা।

এ ছাড়া ওই ঘটনায় ভিকারুননিসার শিক্ষক আতাউর রহমান, খুরশিদ জাহান এবং গভর্নিং বডির সদস্য ফেরদৌসী বেগমকে নিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে মাউশির (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর) ঢাকা আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক অধ্যাপক মো. ইউসুফকে প্রধান করে তিন সদস্যের পৃথক কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উভয় কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদান করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক প্রীতিশ কুমার সরকারকে নিয়ে এক সদস্য বিশিষ্ট পৃথক একটি কমিটি গঠন করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে অরিত্রি অধিকারী কেন আত্মহত্যা করেছে এর কারণ খুঁজতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কমিটিতে একজন অতিরিক্ত শিক্ষা সচিব, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী এবং বিচারক থাকবেন। তারা অরিত্রি আত্মহত্যার ঘটনা এবং সারাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এ রকম ঘটনা তদন্ত করে কারা দায়ী এগুলো খুঁজে বের করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেবেন।

অরিত্রির আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে তারা বাবা দিলীপ অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, অরিত্রির স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। গত রোববার সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এ জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকে পাঠায়। সোমবার স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, অরিত্রি মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের (টিসি দেয়ার) সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়ের সামনে আমাকে অনেক অপমান করে। এ অপমান এবং পরীক্ষা আর দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

উৎসঃ jagonews24

আরও পড়ুনঃ আবেদন নিয়ে ইসিতে খালেদার জিয়ার প্রতিনিধি/strong>

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের যাচাই-বাছাইয়ে যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) তাদের আপিল করার শেষ দিন আজ। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩১৬ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে আবেদন করেছেন।

আজ শেষ দিনে বিএনপি চেয়ারপারস খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল আবেদন জমা দিতে ইসিতে গেছেন তার প্রতিনিধি।

বুধবার দুপুরে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নেতৃত্বে একটি দল খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন জমা দিতে ইসিতে যান।

দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দী আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ফেনী থেকে একটি এবং বগুড়া থেকে দুটি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি।

কিন্তু গত ২ ডিসেম্বর আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্রই অবৈধ ঘোষণা করা হয়। তার বিরুদ্ধে আজ ইসিতে আপিল করতে গেছেন তার প্রতিনিধি।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মোট ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। গত ২ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাইয়ের পর নানা কারণে ৭৮৬টি বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে অনেকেই প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেছেন। আজ বুধবার এই আপিল গ্রহণের শেষ দিন।

এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে আপিলের শুনানি শুরু হবে। শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) অন্যান্য কমিশনার, ইসির সচিব ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত থাকবেন। ইতোমধ্যে নির্বাচন ভবনের ১১ তলায় শুনানির জন্য ট্রায়াল রুম তৈরি করেছে ইসি।

গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিল করেন ২৩৪ জন। প্রথম দিন সোমবার ৮২ জন আপিল করেছিলেন। সব মিলিয়ে দুই দিনে আপিলকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৬।

মঙ্গলবার আপিলকারী ২৩৪ জনের মধ্যে রংপুর বিভাগের ২৭, রাজশাহীর ২২, ঢাকার ৬৮, বরিশালের ১২, সিলেট ১৫, ময়মনসিংহের ১৬, খুলনার ১৮ ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৬টি আপিল দাখিল করেছে।

উল্লেখ্য, আগামী ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। আর ভোট গ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উৎসঃ jagonews24

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here