বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আওয়ামী লীগ!

0
152

দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি এখন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। বিএনপি যে শনির দশায় আক্রান্ত হয়েছে তা নিয়ে বিতর্ক করা অর্থহীন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে এবং বিএনপি ক্ষমতার বাইরে আছে। ক্ষমতায় থাকার সুখ ভোগ করছে আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতার বাইরে থাকার দুঃখে জর্জরিত বিএনপি। তবে বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনায় আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা এবং সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রীর রাতের ঘুম হারাম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কেউ বলছেন, বিএনপির পরিণতি হবে মুসলিম লীগের মতো আবার কেউ বলছেন, এমন দিন আসবে যে বিএনপি অফিসে বৈদ্যুতিক সুইচ টেপার লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না!

বিএনপির দুর্দিন নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদও। ১৯ মার্চ এক অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমেদ বলেছেন,‘বর্তমানে দুর্নীতির দায়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া জেলে, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় দ-প্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে পলাতক। এই অবস্থায় দিশেহারা বিএনপি নেতাকর্মীরা দলে দলে পদত্যাগ করছে। এমন একদিন আসবে যেদিন বিএনপিকে বাটি চালান দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না’। তোফায়েল আহমেদের বক্তব্য যতোটা মুখরোচক ততোটা বাস্তবসম্মত কিনা সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হালে পানি না পেলেও তাদের প্রতি জনসমর্থন আছে। নানা ভুলভ্রান্তির কারণে বিএনপি এখন কোণঠাঁসা অবস্থায় থাকলেও তাদের সুদিন আর আসবে না এমন ভবিষ্যৎবাণী করার সময় এখনো হয়নি। আমাদের দেশে বিরোধী দলের প্রতি জনসমর্থন বাড়া-কমাটা নানা ফেক্টরের ওপর নির্ভর করে। সরকারি দলের ব্যর্থতাও কখনো কখনো বিরোধী দলকে শক্তি জোগায়।

সত্যি যদি বিএনপি মুসলিম লীগের পরিণতি বরণ করে কিংবা বাটি চালান দিয়ে বিএনপিকে খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে তো আওয়ামী লীগের খুশি হওয়ারই কথা। তারা কী খুশি মনে বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্য করছেন, নাকি ভেতরে ভেতরে যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এসব কথায়? নিজের চরকায় তেল দেয়ার কথা আমাদের দেশে চালু আছে অথচ বাস্তবে দেখা যায়, অন্যের চরকায় তেল দিতেই অনেকের আগ্রহ বেশি। বিএনপি মনে করছে সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। আবার সরকার মনে করছে বিএনপি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই দুই দল যদি একে অপরের দিকে ঢিল ছোঁড়ার বদলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকট-সমস্যা দূর করতে মনোযোগী হতো তাহলে দুই দলের জন্যই ভালো হতো। কিন্তু তারা একে অপরের দোষ খুঁজবে আর নিজের ঘরের ময়লা-আবর্জনা কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখবে। যদিও ময়লা দীর্ঘদিন লুকিয়ে রাখা যায় না, দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে অন্যরা টের পায়।

উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রায় একতরফাভাবে। আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ। এ অবস্থাতেও নৌকামার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা একচেটিয়া জয় পাচ্ছেন না। স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগও বিজয়ী হচ্ছে। বলা হতে পারে, এটা দোষের কী? এখন হয়তো দোষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ মাঠ আওয়ামী লীগের দখলে। কিন্তু বিরোধীপক্ষ মাঠে দাঁড়িয়ে গেলে তখন ‘দলের ভিতর দল’ তৈরি হওয়ার বিপদ টের পাওয়া যাবে। এই যে দু’একদিন পরপরই দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মারা যাচ্ছেন তা থেকে কী মনে হয় যে, আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে খুব ভালো অবস্থায় আছে?

তাই বলার কথা এটাই যে, বিএনপিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের দুশ্চিন্তায় কাতর না হলেও চলবে। কারণ বিএনপি এখন খারাপ সময় অতিক্রম করলেও মুসলিম লীগের পরিণতি বরণ করার আশু কোনো সম্ভাবনা এই দলটির নেই। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগবিরোধী, ভারতবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন জনগোষ্ঠী যতোদিন থাকবে, ততোদিন বিএনপি দুর্বল হলেও অস্তিত্বহীন হবে না। বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আওয়ামী লীগই করে দেবে। অস্থিরতা না দেখিয়ে বিএনপি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে পারলে তারা সুদিনের দেখা পাবে। এখন কেউ কেউ দল ছাড়ছে ঠিকই, তবে আবার দলে যোগ দেয়ার হিড়িকও হয়তো পড়বে। রাজনীতিতে জোয়ার-ভাটার খেলা নতুন কোনো বিষয় নয়। তাছাড়া রাজনৈতিক দলে অতিথি পাখির আনাগোনা দেখেও আমরা অভ্যস্ত।

উৎসঃ লেখক :বিভুরঞ্জন সরকার গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

আরও পড়ুনঃ বিএনপি কি বেগম খালেদা জিয়াকে জীবিত অবস্থায় মুক্ত করতে পারবে?


২ কোটি টাকার কথিত দুর্নীতির মামলায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত একটি জায়গায় বন্দি আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সরকার তাকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চলতি মাসের শেষের দিকে কিংবা আগামী মাসের প্রথম দিকে তাকে ওইখানে নেয়া হতে পারে।

বয়স এবং নির্জন পরিত্যক্ত একটি ভবনে একাকিত্ব জীবন যাপনের কারণে খালেদা জিয়া এখন একাধিক রোগে আক্রান্ত। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে, তিনি এখন হুইলচেয়ারেও বেশি সময় বসে থাকতে পারেন না। তার হাত, পা, চোখ এখন নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথে। গত এক বছর ধরে উন্নত চিকিৎসার দাবি করে আসলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। উন্নত চিকিৎসার অভাবে তিনি দিন দিন নিস্তেজ হয়ে পড়ছেন। বলা যায়, তার শরীরের সার্বিক অবস্থা এখন চরম অবনতির দিকে। তিনি যেকোনো সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষও মনে করছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা করছেন সবই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে। শেখ হাসিনার মূল উদ্দেশ্যই হলো খালেদা জিয়াকে রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়া। এজন্য তিনি অসুস্থ খালেদা জিয়ার জন্য উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন না।

এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে না এটা সবারই জানা। আর উচ্চ আদালত এখন আওয়ামী লীগের শাখা অফিস হিসেবেই পরিচিত। খালেদা জিয়াকে সব মামলায় জামিন দিয়ে মুক্তি দেয়ার ক্ষমতা সুপ্রিমকোর্টের নেই। কারণ, সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। প্রশ্ন হলো-খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তার দল কি করছে? বিএনপি নেতারা কি আসলেই খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়? বিএনপি নেতারা যে প্রক্রিয়ায় এগুচ্ছে খালেদা জিয়াকে কি তারা জীবিত অবস্থায় মুক্ত করতে পারবে? এসব প্রশ্ন এখন রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষের মনে।

আর এসব প্রশ্ন তোলার যুক্তিসংগত কারণও আছে। কথিত দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর পর বিএনপি নেতারা ঘোষণা দিলেন যে তারা সরকারের উসকানিতে পা দেবেন না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তারা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, খালেদা জিয়ার মুক্তিতো দূরের কথা উন্নত চিকিৎসার জন্যও তারা সরকারের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যেকোনো আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এমন কি সরকার পতনের আন্দোলনের জন্যও তারা প্রস্তুত। কিন্তু, দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা রহস্যজনক কারণে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কোনো কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা দিচ্ছে না। এখন দিন যত যাচ্ছে এনিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর ততই ক্ষুব্ধ হচ্ছে।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ মনে করছেন, বিএনপির বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে জীবিত অবস্থায় খালেদা জিয়ার মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সরকার যা চাচ্ছে তাই হবে। হয়তো একদিন শোনা যাবে, খালেদা জিয়া আর নাই। সেদিন মির্জা ফখরুলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা চোখের পানি ফেলতে ফেলতে খালেদা জিয়ার লাশ গ্রহণের জন্য কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে যাবেন। আর সাথে কিছু নেতাকর্মী থাকবে যারা স্লোগান দিবে যে, আমরা এর কঠিন প্রতিশোধ নেব। এর বেশি আর কিছু হবে না।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ গুমে জড়িত শেখ হাসিনার উপদেষ্টা, সংবাদের পর বাংলাদেশে বন্ধ আলজাজিরা


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও শেখ রেহানার দেবর মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে তিনজনকে গুম করার অভিযোগ উঠেছে। প্রচ্ছায়া লিমিটেডের ৩ কর্মচারীকে আইনের অপব্যবহার করে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। আল জাজিরা’র ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিটের এই প্রতিবেদন ইতিমধ্যে আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

এদিকে গতকাল বুধবার এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশে আলজাজিরা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ থেকে এখন আর সাইটটিতে প্রবেশ করা যাচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গুমের এই অভিযোগ তুলেছেন তার এক সময়ের ব্যাবসায়-সহযোগী এবং প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা কর্নেল শহিদ উদ্দিন খান। তিনি জানান, তার (প্রচ্ছায়া লিমিটেড) প্রতিষ্ঠানের তিন জন কর্মচারীকে তুলে নিয়ে গেছে। বর্তমানে শহিদ উদ্দিন খান যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।

আবাসন কোম্পানি ‘প্রচ্ছায়া লিমিটেড’ ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে তারেক আহমেদের স্ত্রী শাহিনা সিদ্দিকী চেয়ারপারসন এবং শহিদ উদ্দিন খান চিফ এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে ছিলেন। এছাড়াও দুই পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও এই কোম্পানির সাথে জড়িত।

নির্বাচনের আগে এপ্রিল মাসে সরকার পরিবর্তন হতে পারে এমন ভয়ে শাহিনা সিদ্দিকী শহিদ উদ্দিনকে কোম্পানির সাথে তার জড়িত থাকার প্রমাণ নষ্ট করে কোম্পানি বন্ধ করার জন্য চাপ দেয়। শহিদ উদ্দিন পরবর্তীতে জানুয়ারি মাসে এসে কোম্পানি গুটিয়ে ফেলেন।

গত বছর এপ্রিলে শাহিনা সিদ্দিকীর লোকজন এসে অফিসের কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ ও সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে চলে যায়। এছাড়াও শহিদ উদ্দিনের অন্যান্য অর্থ সংক্রান্ত নথি নিয়ে চলে যায়।

এবং এপ্রিলের ওই ঘটনার সাক্ষ্য দিতে চাওয়ায় ডিরেক্টর জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স অফিসে জিজ্ঞাসাবাদের নাম করে কোম্পানির ৩জন কর্মীকে তুলে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন, সৈয়দ আকিদুল আলী, জহিরুল হক খন্দকার এভং খোরশেদ আলম পাটোয়ারি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় খোরশেদ আলম ও আকিদুল আলীকে তাদের স্ব-স্ব বাড়ি থেকে গত ১৩ জানুয়ারি তুলে নেয়া হয়। অন্যত্র থেকে জহিরুলকে তুলে নেয়া হয়।

অন্যদিকে আল জাজিরা, পরিবারগুলোর সাথে কথা বলে তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া আল জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিকী ও তার স্ত্রীর সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কোন সাড়া দেননি।

উল্লেখ্য, তারেক আহমেদ সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা হওয়ায় দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির উপর তার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগের একজন অন্যতম সহযোগী। তার ভাই প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানার স্বামী।

আলজাজিরার প্রতিবেদনটির লিংক: Exclusive: Bangladesh top security adviser accused of abductions

উৎসঃ ভাষান্তর করেছে জবান

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে যে কারণে আলজাজিরা বন্ধ করে দিয়েছে আওয়ামীলীগ সরকার


কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা বাংলাদেশে ব্লক রয়েছে। তবে কী কারণে ব্লক রয়েছে তা কোনো সূত্র নিশ্চিত করেনি।

বুধবার মধ্যরাত থেকে আলজাজিরার ওয়েবসাইটে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে ঢুকা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বেসরকারি কোম্পানির মোবাইল নেটের মাধ্যমে আলজাজিরার ওয়েবসাইটে ঢোকা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, এখন কোনো ওয়েবসাইট বন্ধ করার দরকার হলে সরকার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে না। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা নিজস্ব ডিভাইস ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট বাংলাদেশে ব্লক করে দেয়।

তবে এ বিষয়ে জানতে বিটিআরসির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে অপহরণে জড়িত স্বয়ং শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টাঃ আল-জাজিরা’র বিস্ফোরক প্রতিবেদন


সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী ব্যবহার করে বাংলাদেশে অপহরণ আর নির্যাতনের ঘটনা পরিচালনা করছেন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী। ব্যবসায় বনিবনা না হবার জেরে তিন ব্যবসায়ীকে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট এবং প্রভাবশালী এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে। আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উপর তারিক আহমদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, “শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয় জেনারেল সিদ্দিকীকে।তিনি (শেখ হাসিনার) খুব ঘনিষ্টজন। তার ভাইয়ের সঙ্গেই বিয়ে হয়েছে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার। তার ভাতিজি হলেন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকী।”

এতে বলা হয়, “জেনারেল সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অপহরণের এই অভিযোগ এনেছেন তারি এক সময়ের ব্যবসায়িক অংশীদার কর্ণেল শহীদ উদ্দীন খান। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে রয়েছেন।”

খানের ভাষ্যমতে জানুয়ারি মাসে ঢাকায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মচারীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

নিখোঁজ হওয়া এই তিন জনের পরিবারের সদস্যরা আল-জাজিরাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন ১২ সপ্তাহ আগে যখন তাদের অপহরণ করা হয় তখন থেকে তাদের কোনো খোঁজ বা হদিস পাননি তারা। অপহরণের যে দাবি খান করেছেন তার তথ্য-প্রমাণাদি আল-জাজিরার হাতে রয়েছে। আর এসব প্রমাণ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করে।

খান জানান নয় মাস আগেও অপহরণ হওয়া এই তিনজনসহ আরেকজনকে ঢাকার অফিস থেকে তোলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ডিজিএফআই-এর এখানে গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়। শাহীন সিদ্দিকীর (নিরাপত্তা উপদেষ্টার স্ত্রী) সঙ্গে খানের যৌথ মালিকানার একটি কোম্পানিতে ব্যবসায়িক বিষয়ে বনিবনা না হওয়ার একদিন পরই এ ঘটনা ঘটে। শাহীন সিদ্দিকী প্রচ্ছায়া লিমিটেড নামের ঐ কোম্পানির চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

২০০৯ সালে চালু হওয়া এ কোম্পানিটি জমি-জমা সংক্রান্ত একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিলো। কোম্পানিটির রেজিস্ট্রেশন দেখা যায় শুধু জেনারেল সিদ্দিকীর স্ত্রী এটির পরিচালক ছিলেননা বরং তার ভাই জামাল শাফি (২০১২ পর্যন্ত) এবং মেয়ে নোরিন তাসমিয়া ও বুশরাও এর পরিচালক ছিলেন। খান ছিলেন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আর তার স্ত্রী এবং দুই সন্তান ছিলেন এর পরিচালক।

খান বলেন, “তিনি (শাহীন সিদ্দিকী) চাইতেন না আমার সঙ্গে ব্যবসা করার কোন প্রমাণ থাকুক।”

“তারা মনে করতেন এই সরকার (শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার) হয়তো পরিবর্তন হয়ে যাবে। আর যদি সরকার বদল হয় তাহলে আমি তাকে বিপদে ফেলবো।”

২০১৭ সালের জুন মাসে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করার জন্য যুক্তরাজ্যে উড়াল দেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা। সেখানে তিনি খানের সঙ্গে দেখা করেন এবং খুব দ্রুত কোম্পানিটি বন্ধ করে দেবার কথা বলেন।

খান বলেন সাক্ষাতকালে নিরাপত্তা উপদেষ্টা তাকে এই বলে তাকে সতর্ক করে দেন যে তাঁর স্ত্রী খুবই হিংস্র প্রকৃতির। তাই যত দ্রুত সম্ভব কোম্পানিটি যেন বন্ধ করে দেয়া হয়।

খান চাইছিলেন নিয়ম মেনেই কোম্পানিটি বন্ধ করতে কিন্তু এর পর যা ঘটে সেটা ছিলো আর ভয়াবহ কিছু। ২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রচ্ছায়া বন্ধ হবার পরদিন খানের তিন কর্মকর্তার কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করা হয়। সিদ্দিকীর স্ত্রী এই বলে সতর্ক করেন যে তিনি তাদের অফিসে গিয়ে দেখে আসবেন।

শাহীন সিদ্দিকী এরপর অফিসে যাননি। কিন্তু কর্মকর্তারা জানান, অবসরপ্রাপ্ত দুই জন সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে অফিসে ডজন খানেক লোক প্রবেশ করে। তারা প্রচ্ছায়া অফিসে হার্ডডিস্ক, অর্থনৈতিক কাগজ পত্রাদি এবং খানের ব্যবসায়িক অন্যান্য দলিলও সঙ্গে করে নিয়ে যায়।

প্রতিবদেনে বলা হয়, “কর্মকর্তাদের দেয়া ভাষ্য থেকেই বুঝা যায় কিভাবে ঐ দলটির দ্বারা অফিস তছনছ করা হয়, তারা ক্যাবিনেটের তালা ভাঙ্গে, ২৭ টি বক্সে করে মালামাল নিয়ে যায় এবং সিসি টিভি ক্যামেরাগুলো সরিয়ে দেয়।”

অপহৃত চারজনই জানান তাদরকে জেনারেল সিদ্দিকীর সরকারি বাস ভবনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই জব্দ করা মালামাল নামানো হয়।

তারা জানান তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় ডিজিএফআই এর সদরদপ্তরে। তখন তাদের চোখ বাঁধা ছিলো এবং খানের ব্যবসা সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।দুই জন জানান তাদের মৃত্যুর ভয় দেখানো হয়। ধরে নেবার ৪৮ ঘন্টা পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

গত এপ্রিল মাসে অপহৃত জহিরুল হক খন্দকার, খোরশেদ আলম পাটওয়ারি এবং সৈয়দ আকিদুল আলীকে আবারো গুম করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আল-জাজিরাকে জানান, ১৩ জানুয়ারি খোরশেদ এবং আকিদুলকে আকিদুলের বাড়ি থেকে ২০ জনের একটি দল এসে তোলে নিয়ে যায়। এসময় তাদের সঙ্গে অস্ত্র ছিলো এবং তারা ছিলো কালাে পোশাকধারী, যেমনটা র‍্যাব পরিধান করে থাকে। অপহরণকারিদের আরেকটি গাড়িতেই জহিরুলকে দেখা গিয়েছিলো।

অপহৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের সন্ধান জানার চেষ্টা করা হলেও কোনো লাভ হয়নি। উল্টো তারা এখন নিজেদের জীবন নিয়ে শংকায় পড়েছে। খান বলছেন তার পরিবারের সদস্য এবং কর্মচারী এখন হয়রানি এবং ভীতির মুখোমুখি।

দ্বিতীয়বার অপহরণের কয়েকদিন পরই খানের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ এবং তার বিরুদ্ধে সরকার এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনে। খান, তার পরিবার এবং গুম হওয়া তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে মামলাও করা হয়েছে।এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন খান।

খানের পক্ষে তার এক বৃটিশ আইনজীবি এক অভিযোগের মাধ্যমে জেনারেল সিদ্দিকী, তার স্ত্রী এবং গোয়েন্দা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইন ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেবার কয়েক সপ্তাহ পরই এসব অভিযানের ঘটনা ঘটলো।

আল-জাজিরার কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে ডিজিএফআই খানের বক্তব্য এবং এসব ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততার বিষয় দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।

ডিজিএফআই অভিযোগ করে বলেছে, সাবেক এই কর্ণেল তার কর্মকর্তাদের লুকিয়ে যাবার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে করে তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের কিছু জিজ্ঞাসা না করতে পারে।

সংস্থাটি আরো অভিযোগ করে বলেছে, খান বিতর্কিত কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেটি সেনাবাহিনীর পরিবেশ নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। এর মধ্যে সম্পত্তি আত্মসাতের বিষয়টিও রয়েছে।

এর সবগুলো অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন খান।

আল-জাজিরার তদন্ত শাখার পক্ষ থেকে জেনারেল সিদ্দিকী এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কোনো সাড়া দেননি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “বেআইনী এবং গোপন বন্দিশালায় আটকের বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার বাংলাদেশকে তাগিদ দিয়ে আসছে, আর তাতে ব্যর্থ হওয়ার নিন্দা জানাচ্ছে সংস্থাগুলো। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব ঘটনার শিকার হচ্ছে বিরোধীদলের সদস্যরা। যাদের অনেকেরই গুম হবার পর আর দেখা মেলেনা।”

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে ২০১৬ সালে ৯০ জন লোককে অপহরণ করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। গুম হওয়াদের মধ্য থেকে পরে ২১ জনের লাশ পাওয়া যায়। মানবাধিকার গবেষকরা গুমের জন্য যে কয়টি রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে দায়ী করছেন তার মধ্যে ডিজিএফআইও রয়েছে।

শেখ হাসিনার সমালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় অপহরণের এসব ঘটনায় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আহবানকে নাকোচ করে দিয়ে আসছেন। কিন্তু জেনারেল সিদ্দিকী সঙ্গে তার ঠিকই ঘনিষ্টতা বজায় রয়েছে। অথচ তিনিই রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দাসংস্থাগুলোকে কল-কাঠি নাড়ছেন।”

উৎসঃ জাস্ট নিউজ

আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গোপন কারাগারে আটক ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ


এক বছর তিন মাস নিখোঁজ থাকার পর সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গোপন কারাগারে আটক ছিলেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছিলো তারা কিছুই জানেনা এ বিষয়ে কিন্তু প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র তাকে গোপনে আটকে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

বাংলাদেশে পলিটিকো’তে প্রকাশিত এক কলামে এ কথা বলা হয়। কলামটি লিখেছেন বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান।

জাস্ট নিউজ পাঠকদের জন্য কলামটি তোলে ধরা হলো:

দিনটি ছিলো ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর। ধানমন্ডির নিজের বাসা থেকে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আসার জন্য গাড়ি নিয়ে একাই বিমানবন্দর যাওয়ার উদ্দেশে বের হন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান।কিন্তু তাকে পথিমধ্যে । উঠিয়ে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর লোকেরা।

মারুফ রাষ্ট্রদূত হিসেবে ২০০৮ সাল থেকে ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভিয়েতনামে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি কাতারে রাষ্ট্রদূত ও যুক্তরাজ্যে কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি অবসর নেন।

গুম হবার দিনই রাত ৭.৪৫ মিনিটে অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে বাসায় ল্যান্ড ফোনে কথা বলেন মারুফ। বাসার কাজের লোককে তিনি জানিয়ে দেন অপরিচিত কিছু লোক তার কম্পিউটার নিতে আসবে, তাদের যেন সহযোগিতা করা হয়। ফোন দেবার ২০ মিনিট পরই পরিপাটি পোশাক পরিহিত ৩ জন মানুষ এসে পৌঁছায় সাবেক এই রাষ্ট্রদূতের বাসায় এবং তারা সেখান থেকে ল্যাপটপ, কম্পিউটার এবং মোবাইল ফোন সেট সঙ্গে করে নিয়ে যায়।

যারা বাসায় এসেছিলো তাদের মাথায় ছিলো টুপি আর মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক। উদ্দেশ্য ছিলো বাসার সিসি টিভির থেকে যেন নিজেদের আড়াল রাখা যায়। মারুফের গুম হবার ঘটনা নিয়ে এটাই ছিলো তার পরিবারের দেয়া ভাষ্য।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকতা অবৈধভাবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক মারুফ জামানকে আটকে রাখার বিষয়টি নিশ্চত করেছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এই সূত্রের বক্তব্য- মারুফ জামান নির্দোষ নন, সরকার বিরোধী একটি ওয়েবসাইটের সঙ্গে তার যোগসূত্র ছিলো। বিচারবর্হিভূত আইন, গুম বা অপহরণ যে ঘটনাই ঘটুক বাংলাদেশে এখন এভাবেই সবকিছু সরকার বিরোধী বলে বৈধতা দেয়া হয়।

১৫ মাস ধরে গােপন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিলো মারুফকে, এসময়ে একবারের জন্যও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি তাকে। খুব সম্ভবত সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই তাকে আটক রেখেছিলো। শুক্রবার তাকে মুক্তি দিলো আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

বিষয়টি উল্লেখ করে মারুফ জামানের মেয়ে শবনম জামান ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন:তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাবা সাড়ে ১৫ মাস বা ৪৬৭ দিন পর ফিরে এসেছেন। আমি ও আমার বোন কৃতজ্ঞ তাদের কাছে, যারা এই সময় আমাদের সহযোগিতা করেছেন।এ ক্ষত কাটিয়ে উঠতে আমরা এখন গোপনীয়তা বজায় রাখতে চাই। এ বিষয়ে আর কিছু না জানতে চাইতে সবাইকে অনুরোধ করছি।’

যেমনটা বলছিলাম- আসলে মারুফের কি ঘটেছিলো সেটা হয়তোবা আর জানার সুযোগ মিলবেনা। যখনি গোপন বন্দিদশা থেকে কাউকে মুক্তি দেয়া হয় তখন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা তাকে এমনভাবে ভীত করে হুমকি দেয় যে তার কি ঘটেছিলো সেটা নিয়ে আর ভয়ে মুখ খুলেনা।

ভিন্নমত দমন আর তাদের নিয়ন্ত্রণে নানান কৌশল অবলম্বন করে সরকার। তারি একটা কৌশল হলো জোরপূর্বক গুম করা এবং গোপন কারাগারে আটকে রাখা। রাজনীতির বিরোধী মতের যারা তাদের মধ্যে বিষয়টি ভয় আর যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণ এখন যেটা দেখতে পাচ্ছে সেটা হলো- যে কাউকে উঠিয়ে নেয়া হতে পারে, গুম করা হতে পারে, তাতে কার্যত কারোরি করার কিছু নেই। আর গুমের এমন সব রুটিনতর ঘটনায় আদালতের নজরদারিতে একরকম অনীহা দেখা যাচ্ছে।

২০০৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তখন গুমের ঘটনা ঘটেছিলো ৩টি। ২০১৭ সালে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৯০ তে। যে তথ্যটা দেয়া হলো সেটা শুধু গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে।এছাড়াও আরো অনেক গুমের ঘটনা আছে যেগুলো শুধু ভুক্তভোগী পরিবার জানে।

মারুফের মতো অন্যরাও ফিরে আসুক এ আশা করি এবং প্রত্যাশা করি গোপন কারাগার নামে যেনাে আর কিছু না থাকে।

উৎসঃ জাস্ট নিউজ

আরও পড়ুনঃ সুখী দেশের তালিকায় ১০ ধাপ পেছাল বাংলাদেশ


বিশ্বে সুখী দেশের তালিকায় ১০ ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর তালিকায় ১১৫ তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ এবার ১২৫তম অবস্থানে নেমে এসেছে।

বুধবার জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) ‘বিশ্ব সুখী প্রতিবেদন-২০১৯’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন, সামাজিক সমর্থন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, সামাজিক স্বাধীনতা, ভদ্রতা ও দুর্নীতির অনুপস্থিতি বিবেচনায় এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

বরাবরের মতো এ বছরও তালিকায় ভালো অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। এর মধ্যে স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলো রয়েছে সবার ওপরে।

তালিকার প্রথম চারটি দেশই স্ক্যান্ডিনেভীয়। আর নিচের দিকে রয়েছে আফ্রিকার দেশগুলো। তালিকায় সবার ওপরে ফিনল্যান্ড ও নিচে সাউথ সুদানের অবস্থান।

আগের দুই বছরের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল যথাক্রমে ১১০ ও ১১৫তম। এ বছর তালিকায় বাংলাদেশের পরেই আছে ইরাক।

তালিকা অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সুখী দেশ পাকিস্তান আর অসুখী দেশ আফগানিস্তান। তালিকায় দেশ দুটির অবস্থান যথাক্রমে ৬৭তম ও ১৫৪তম।

দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের পরেই আছে ভুটান। তাদের অবস্থান ৯৫তম। ১০০তম অবস্থানে আছে নেপাল। এ ছাড়া শ্রীলংকা ১৩০তম ও ভারত ১৪০তম অবস্থানে রয়েছে।

এবারের তালিকায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান ১৫তম, আর যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ১৯তম স্থানে। জার্মানির অবস্থান ১৭তম।

এশিয়ায় শীর্ষে থাকা ইসরায়েল ১৩তম স্থানে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর মধ্যে আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন ও ইরানের অবস্থান যথাক্রমে ২১, ২৮, ২৯, ৩৭ ও ১১৭তম।

এ ছাড়া জাপান ৫৮, রাশিয়া ৬৮ ও চীন ৯৩তম স্থানে রয়েছে। আর রোহিঙ্গা সংকটে জর্জরিত মিয়ানমার রয়েছে ১৩১তম স্থানে।

তালিকায় শীর্ষে থাকা ১০ দেশ হলো- ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, আইসল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও অস্ট্রিয়া।

তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে অসুখী ১০ দেশ হলো- দক্ষিণ সুদান, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, আফগানিস্তান, তানজানিয়া, রুয়ান্ডা, ইয়েমেন, মালাবি, সিরিয়া, বতসোয়ানা ও হাইতি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে গুম: ফিরে আসা ব্যক্তিদের থেকে কিছু জানা যায়না কেন?


প্রায় ১৫ মাস নিখোঁজ থাকার পর গতকাল নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। তবে তিনি কোথায় কি অবস্থায় ছিলেন এবং ফিরলেন কিভাবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১টার দিকে মারুফ জামান একা একাই তার ধানমন্ডির বাসায় ফিরে আসেন। বাড়ির ম্যানেজার তাকে দেখতে পেয়ে ওপরে নিয়ে যান। এ সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে।

মিস্টার জামানের মেয়ে গতকাল তার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বাবার ফিরে আসার খবরটি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে আর কিছু জানতে না চাওয়ার অনুরোধ করেন। এমনকি পুলিশের সঙ্গেও এখন কথা বলছেন না তারা।

পুলিশ কি বলছে?

ধানমন্ডি থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন,”মারুফ জামানের মেয়ে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে তার বাবা ফিরে এসেছেন। তাদের ভবনের ম্যানেজার তাকে দেখতে পেয়ে বাসার ভেতরে নিয়ে আসেন।”

মিস্টার মারুফের মেয়ে তার বাবার সঙ্গে কাউকেই এখন পর্যন্ত দেখা করতে দেননি। তাই তিনি কিভাবে ফিরেছেন, কোথা থেকে এসেছেন, কে দিয়ে গেছেন- কোন কিছুই জানা সম্ভব হয়নি।

ওসি আব্দুল লতিফ বলেন,”মারুফ জামানের খোঁজ নিতে আমার দুইজন লোক ওনার বাসায় গেলে তার মেয়ে বলেছেন যে উনি অসুস্থ। কোন কথা বলবেন না। একটু সুস্থ হওয়ার পর কথা বলবেন।”

মিস্টার জামান কিছু জানালে যদি কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকে তাহলে পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানান ওসি আব্দুল লতিফ।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেক পরিবারের অভিযোগ তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সহযোগিতা পাননা।

আশার আলো দেখছেন নিখোঁজদের পরিবার:

২০১৭ সালের চৌঠা ডিসেম্বর মারুফ জামান নিজ বাড়ি থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন।

তারও চার বছর আগে জাতীয় নির্বাচনের সময় আরো কয়েকজনের সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছিলেন সাজেদুল ইসলাম নামে বিএনপির এক সংগঠক।

গত ছয় বছর ধরে প্রিয়জনের খোঁজ না পেলেও মিস্টার জামানের ফিরে আসা নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে সাজেদুলের পরিবারে।

তবে হাইকোর্টের রুল জারি সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত ভাইয়ের সন্ধানে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ জানান নিখোঁজের বোন সানজিদা ইসলাম।

“এটা আমাদের জন্য আশা যে ১৫ মাস পরে যদি মারুফ জামান ফিরে আসেন, তাহলে নিখোঁজ অন্যরাও ফিরতে পারেন।”

“আমরাও ভাইয়ের সন্ধানের দাবিতে অনেক সংবাদ সম্মেলন করেছি। মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে তারা দেখবেন। কিন্তু তারা কোন তদন্ত করেনি।”

কেন তারা নীরব?

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৩১০জন গুমের শিকার হয়েছেন৷ তাদের মধ্যে ৩৩ জন ফেরত এসেছেন৷

তবে যারা ফিরে এসেছেন তাদের সঙ্গে কি ঘটেছিলো সে ব্যাপারে প্রায় কেউই মুখ খোলেননি।

রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনি কাঠামোর ওপর আস্থাহীনতা এই নীরবতার বড় কারণ বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মী এবং গুম পরিস্থিতির গবেষক নূর খান।

“রাষ্ট্র বা আইনশৃঙ্খলা-বাহিনীর পক্ষ থেকে এমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়না, যার কারণে তারা ছাড়া পাচ্ছেন এবং যারা তাদের আটক করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।”

এছাড়া এতো দীর্ঘ সময় কাউকে আটক রাখা কোন দুষ্কৃতিকারী দলের পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব যারা অনেক শক্তিশালী এবং নির্দেশিত পন্থায় কাজ করে।”

এ পর্যন্ত যারা ফিরে এসেছেন তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন নূর খান।

তিনি জানান প্রত্যেকের বক্তব্যে এটাই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে তাদেরকে এমন জায়গায় রাখা হতো যেখানে সাধারণ মানুষের চলাচলের সুযোগ নেই এবং আটককারীরা প্রশিক্ষিত গ্রুপের সদস্য।

তবে তারা এই কথাগুলো প্রকাশ্যে আনতে চান না, আরেকটি বিপর্যয় ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায়।গুম ঠেকাতে কি প্রয়োজন?

তবে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ফিরে আসা প্রত্যেকের অভিজ্ঞতাগুলো সামনে আনা জরুরি বলে মনে করেন মানবাধিকার-কর্মী সুলতানা কামাল।

যেসব আশঙ্কা ও হুমকির কারণে এই মানুষগুলো মুখ খুলতে ভয় পান সেই ভয় দূর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর আরও জোরালো ভূমিকা নেয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

সুলতানা কামাল বলেন, “এর আগে যারা হারিয়ে গিয়েছিলেন, পরে ফিরে এসেছেন, তাদের কাছে আমরা প্রশ্ন রেখেছিলাম, তার মধ্যে একটি উত্তর এমন ছিল যে, ছেলেমেয়ের ওপর যখন হুমকি আসে তখন মুখ খোলা কঠিন। তার মানে নিশ্চয়ই তাদেরকে এমনই কোন শর্ত দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। যার জন্য তারা মুখ খুলতে ভয় পান।”

“কিন্তু এটা আমি মনে করি তাদেরও একটা দায়িত্ব জানানো যে কি হয়েছিল না হয়েছিল। তাহলে আমরাও হয়তো এটা সুরাহা করার একটা পথ পেতাম। তাছাড়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তারাই বা এটার সুরাহা করেননা কেন?”

নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনের অভিযোগ, তারা প্রিয়জনের খোঁজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলেও এখনও কোনটির তদন্ত শুরু করা হয়নি।

এমন অবস্থায় প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।

উৎসঃ বিবিসি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here