আবারও ক্ষমতায় ফিরছেন নরেন্দ্র মোদি এবার ভারতীয় মুসলিমদের কী হবে?

0
322

ভোট শেষ। গণনাও শেষের পথে। বুথফেরত সমীক্ষার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে ভোটের গণনাও।

তাই আবারও ক্ষমতায় ফিরছেন নরেন্দ্র মোদি। আর মোদি ফের ক্ষমতায় ফিরলেই গ্রাম ছাড়বেন উত্তরপ্রদেশের নয়াবাসের কয়েকশ’ পরিবার। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

গ্রামের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা জানিয়েছেন, আগের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ছবি আর গ্রামে নেই। আগে এখানে হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই হিসেবে একসঙ্গে বাস করতেন।

জন্ম হোক কিংবা মৃত্যু, বিয়ে হোক বা যেকোনো অনুষ্ঠান একে অন্যকে পাশে পেতেন সবাই। সর্বধর্ম সমন্বয়ের ঐতিহ্যকে আগলে বাঁচতেন এখানকার মানুষ। কিন্তু বর্তমানে সেই ছবি পুরোটাই বদলে গেছে।

এখন আর পথ চলতে দেখা হলেও কেউ কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেন না। বিপদে কেউ কারও পাশেও থাকেন না। ধর্মের বেড়াজালই যেন এখন মূল ইস্যু। আর তাই এহেন সিদ্ধান্ত।

গ্রামেরই এক বাসিন্দা চা দোকানের মালিক গুলফাম আলি বলেন, ‘এর আগে জীবনের দুঃসময় এবং সুসময়ে হিন্দু-মুসলমান সবাই একসঙ্গে থাকতাম। যেকোনো অনুষ্ঠানে একসঙ্গে আনন্দ করেছি। তেমনই দুঃখের দিনে একে অপরের পাশে থেকেছি।

কিন্তু বর্তমানে আমাদের জীবনধারা কেমন যেন বদলে গেছে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন যোগী আদিত্যনাথ। দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিভেদের অন্যতম ‘রূপকার’ও কিন্তু তারা দু’জনেই।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ তৈরি করাই মূল লক্ষ্য দুজনের। এভাবে এই এলাকায় বাস করা যায় না।’ কিন্তু বললেই তো আর বসতভিটে-ব্যবসা ছেড়ে চলে যাওয়া যায় না। তাই যেতে পারছেন না বলেও দাবি তার।

গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দার বক্তব্য, আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। রমজান পালন করছেন সবাই। অনেকেই আবার বলছেন, রোজা পালন করতেও নাকি বারবার বাধা পাচ্ছেন তারা।

মাদ্রাসায় মাইকের ব্যবহার বন্ধ করতে নাকি চাপ দেয়া হচ্ছে তাদের। শান্তির জন্য অনেক মাদ্রাসা বাধ্য হয়ে মাইকের ব্যবহারও বন্ধ করে দিয়েছে। আর তাই আবারও বিজেপি ক্ষমতায় এলে নয়াবাস ছাড়ার কথা ইতিমধ্যে ভেবে ফেলেছেন মুসলিম ধর্মাবলম্বী গ্রামবাসী।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে মুসলিমদের সেই ভয়।

লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের কয়েক দিন পরেই একদল দুর্বৃত্তের রোষানলে পড়েন আসামের মুসলিম ব্যবসায়ী শওকত আলী।

ওই ব্যবসায়ীকে ঘিরে ধরেন কয়েকজন। তাকে কাদামাটির মধ্যে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়। ভিড়ের ভেতর থেকেই একজন চিৎকার করে বলেন, তুমি কি বাংলাদেশি?

অন্য একজন তাকে ধাক্কা দিয়ে বলেন, এখানে গো-মাংস বিক্রি করছ কেন? আশপাশের লোকজন তাকে সাহায্য করার বদলে এ ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

ওই ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না শওকত আলী। বিছানায় শুয়ে ওই ভয়াবহ ঘটনা মনে করতেই চোখে পানি চলে আসে ৪৮ বছর বয়সী এ ব্যবসায়ীর।

তিনি বলেন, তারা লাঠি দিয়ে আমাকে পিটিয়েছে। আমার মুখে লাথি মেরেছে। তিনি এবং তার বাবা কয়েক দশক ধরেই আসামে একটি ছোট খাবারের দোকান চালান। সেখানে অন্য খাবারের সঙ্গে গো-মাংসও থাকে। কিন্তু আগে কখনওই তাকে এজন্য এমন সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি।

শওকত আলী বলেন, আমার আর বেঁচে থাকার কোনো মানেই নেই। তারা আমার ওপর নয়; বরং আমার ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর আক্রমণ করেছে।

এ ঘটনার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই শওকত আলীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তার মুখে সব শুনে অনেকেই কেঁদে ফেলেন। তাদের মধ্যে এখন একটাই আতঙ্ক বিরাজ করছে যে, সামনের দিনগুলোতে তাদেরও হয়তো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

আসামে নাগরিকপঞ্জির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। যারা ভারতের নাগরিক নন তাদের বের করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে দেখা যাচ্ছে, এখানেও বেছে বেছে মুসলিমদের ওপরই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বেশি।

ভারতে বর্তমানে ১৭ কোটি ২০ লাখ মুসলিম বাস করেন। বর্তমানে মোদির শাসনামলে গো-মাংস ক্রয়, বিক্রয়, সঙ্গে বহন করা বা খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহু মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ২০১৫ সালের মে থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের ১২ রাজ্যে অন্তত ৪৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ জনই মুসলিম।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বাইবেলই আমাকে ইসলামের পথ দেখিয়েছে: খ্রিষ্টান থেকে মুসলিম হওয়া মার্কিন নাগরিক


ইসলামের সৌন্দর্য আমাদের জন্য আল্লাহর এক মহান অনুগ্রহ। অথচ আমরা যথার্থভাবে ইসলাম পালনের মাধ্যমে তা তুলে ধরছি না। যারা ইসলাম সম্পর্কে মিথ্যা ও ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের কাছে এর সৌন্দর্য আর শান্তির অমিয় ফল্গুধারা পৌঁছে দিচ্ছি না। অথচ পৃথিবীতে আজো হাজার হাজার মানুষ এই আলো থেকে বঞ্চিত।

এমন এক মার্কিন নাগরিক ইউশা ইভান্স। বড় হয়েছেন সাউথ ক্যারোলিনার গ্রিনভিলে। তিনি এককট্টর মেথডিস্ট (খ্রিষ্টানদের একটি গোষ্ঠী) পরিবারে দাদা-দাদির সাথে থাকতেন।

কৈশোরের শুরুতেই তার বাড়ির কাছেই এক চার্চের কার্যক্রমের সাথে খুব বেশি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। তিনি শহরে ছোট্ট এক বাইবেল কলেজে ভর্তি হন; উদ্দেশ্য বিশ্বখ্যাত বাইবেল কলেজ ‘বব জোনস ইউনির্ভাসিটিতে ভর্তি হওয়া।

তিনি নিয়মিত চার্চে যেতেন এবং সব বক্তব্য খুব আগ্রহ নিয়ে শুনতেন। তার খুব ইচ্ছে ছিল বাইবেলের টেক্সুয়াল ক্রিটিকস (মূল পান্ডুলিপি নির্ধারণ) হওয়ার।

শেখা শুরু করলেন গ্রিক আর হিব্রু। উদ্যমের এই দিনগুলোতে তারই চার্চের একজন মিনিস্টারের সাথে পড়া শুরু করেন বাইবেল; শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।

এভাবে, ছয় থেকে সাতবার পড়লেন পুরো বাইবেল। এই পড়াই তার খিস্টধর্মের বিশ্বাসের ভীত নাড়িয়ে দিলো। বাইবেলের বিভিন্ন জায়গায় অসংগতি আর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেখতে পেলেন।

এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর পেলেন ‘এর কিছু মানবিক ত্রুটি আছে। কিন্তু যে এটা বিশ্বাস করে, সে আস্থা রাখে। বিশ্বাস হচ্ছে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়।’

তখন তিনি বুঝলেন বাইবেল সরাসরি স্রষ্টার বাণী নয়। এরপর তিনি খিস্টধর্ম ছেড়ে অন্যত্র স্রষ্টার সন্ধান শুরু করেন। সময়কাল ছিল ১৯৯৬ সালের গ্রীস্মকাল।

এরপর তিনি একে একে ইহুদিবাদ, বুদ্ধধর্ম, উইকা, বুশিডো, হিন্দুইজম,নাস্তিক্যবাদ, কনফুসিয়ানিসম থেকে ইসলাম সবকিছুই পড়েন। ইসলাম সম্পর্কে তিনি যে বইটি পড়েন সেটি ছিল সম্পুর্ণ ভুলে ভরা।

যেখানে লেখা ছিল মুসলিমরা আরব, তারা চন্দ্র ঈশ্বরের উপাসনা করে, নারীদের নির্যাতন করে। তাদের সবচেয়ে বড় কাজ অমুসলিম হত্যা করা। এরপর ধর্ম নিয়ে তার উৎসাহ নষ্ট হয়ে গেল। তিনি ধীরে ধীরে পাশ্চাত্যের গতানুগতিক জীবনে জড়িয়ে পড়েন।

হিপ-হপ জীবনধারার পাশাপাশি অপরাধকর্মেও জড়িয়ে পড়েন। এরপর দুটি ঘটনা তাকে আবার ভাবিয়ে তুলল। এক. একবার মাতাল অবস্থায় তিনি আর তার বন্ধু গাড়িতে ফিরছিলেন আর মারাত্মক এক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বেঁচে গেলেন।

আর পুলিশ অফিসার অবাক হয়ে বললেন “সৃষ্টিকর্তার নিশ্চয়ই তোমাকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে। দুই. একবার এটিএম বুথে টাকা তুলতে গেলে এক সন্ত্রাসী তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ট্রিগার চাপলেন অথচ গুলি বের হলো না।

এই যাত্রায়ও প্রাণে বেচে গেলেন। এরপর হঠাৎ একদিন শহরের এক আফ্রো-আমেরিকান মুসলিমের সাথে তার ধর্ম নিয়ে কথা উঠল। তখন সে বলল, ইসলাম নিয়ে তার পড়া বইয়ের কথা। এতে সেই মুসলিম ক্ষিপ্ত হলো আর বলল, ‘আমি মুসলিম কিন্তু আমি তা সঠিকভাবে পালন করি না কিন্তু তুমি শুক্রবার খুতবায় এসো।’

তার কথা মতো ইউশা মসজিদে গেলেও আমন্ত্রিত ব্যক্তির দেখা না পেয়ে অবাক হলেন। কিন্তু মসজিদের এক মিসরীয় মুসলিম তাকে ভিতরে ডেকে নিয়ে যান। ভিতরে ঢুকে তিনি কিছুটা ভয় পেয়ে যান এবং মাথায় অনেক চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে।

ইমাম যখন মিম্বারে উঠে আরবিতে খুতবা দিতে শুরু করলেন, ইউশা ভাবল নিশ্চয়ই তাকে মারার কথাই বলছে। ইউশা মনে মনে পালানোর পথ খুঁজছিলেন।

পরক্ষণেই ইমাম যখন এই খুতবার ইংরেজি অনুবাদ পড়ে শোনালেন ইউশা হতভম্ব হয়ে যান। ভাবতে লাগলেন কতো বেশি উপেক্ষা আর তাচ্ছিল্যের সাথেই না এদের উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। খুতবার বিষয় ছিল- আল্লাহর ক্ষমা আর তাওবাহ নিয়ে।

তিনি আরো অবাক হন যখন সকলেই নামাজে সিজদার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করছিলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, এরা সত্যিই স্রষ্টার ইবাদত করছে। এভাবে ইবাদত করেছেন ইব্রাহিম, দাউদ আর ঈসা আলাইহিস সালাম।

জুমআ শেষে ইউশা কুরআনের একখানা কপি ইমামের কাছে চেয়ে নিলেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে কুরআন পড়া শেষ করলেন। অবশেষে ১৯৯৮ সালের এক শীতকালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

ইউশা এখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে দাওয়াহ ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র আর মিশরে বিভিন্ন শিক্ষকের অধীনে পড়াশোনা করেছেন। নিজে দুটি টিভি স্টেশনের ফাউন্ডার ও কো-ফাউন্ডার।

ওয়ান উম্মাহ তার একটি। তিনি শায়খ ওয়ালিদ আল-মেনেসীর অধীনে পড়াশুনা করছেন। কয়েকটি ডিসিপ্লিনে ব্ল্যাক বেল্টপ্রাপ্ত আর মিনেপোলিসে তিনি নিজেই মার্শাল আর্টস শেখান।

উৎসঃ ‌‌বার্তাবাহক

আরও পড়ুনঃ ‌কোরআন তরজমা করতে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন মার্কিন যাজক


পবিত্র কোরআন অনুবাদ করতে গিয়ে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেছেন এক মার্কিন খ্রিস্টান যাজক। তার নাম স্যামুয়েল আর্ল শ্রপশায়ার।

মঙ্গলবার সৌদি আরবের গণমাধ্যম সাবাককে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি একথা জানিয়েছেন।

দ্য নিউ আরবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাক্ষাতকারে স্যামুয়েল আর্ল শ্রপশায়ার জানান- সৌদিতে যাওয়ার পর সেখানকার মুসলমানদের বন্ধুত্বপূর্ণ আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

৭০ বছর বয়সী সাবেক এ মার্কিন যাজক জানান, ২০১১ সালে প্রথমবার সৌদি আরবের জেদ্দায় কোরআনের অনুবাদ করতে যান। সেই সময় মার্কিন গণমাধ্যমে মুসলমানদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হত। কিন্তু আমি খুব দ্রুতই বুঝতে পারি যে, মার্কিন গণমাধ্যমে আমি যা দেখেছি ও শুনেছি, তার সঙ্গে এখানকার (সৌদি আরব) বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

তিনি বলেন, আমি এখানে (সৌদি) অনেক মহৎ মানুষ দেখতে পেয়েছি- যারা মুসলিম অথবা অমুসলিম-সেই বিবেচনা না করে শুধু মানুষ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সবার সঙ্গে নম্র ও ভালো আচরণ করেন। এতেই আমার ইসলামের প্রতি ভালোলাগা তৈরি হয়ে যায়।

‘এরপর আমি ইসলাম ও পবিত্র গ্রন্থ কোরআন সম্পর্কে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি,’ বললেন সাবেক মার্কিন যাজক স্যামুয়েল।

তিনি আরও বলেন, সৌদিরা একমাত্র আল্লাহর এবাদত করেন এবং তাদের নীতি-নৈতিকতা অত্যন্ত ভালো।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ইসলামে অনুপ্রাণিত হয়ে রক সংগীত ছাড়লেন মালয়েশিয়ার এই রকস্টার


মালয়েশিয়ার রক ব্যান্ড এক্সপিডিসি-এর প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী এবং রকস্টার মোহাম্মদ আলী ইসমাইল। সম্প্রতি তিনি দিল্লিতে এক ইফতার অনুষ্ঠানে গণমাধ্যম বারনামার সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তাঁর এই পরিবর্তনের নেপথ্যের কারণ কী ছিল-এমন প্রশ্নের জবাবে ৫০ বছর বয়সী এই সংগীতশিল্পী জানান, ইসলামের বার্তা প্রচারের মাধ্যমে তিনি তার জীবনের শান্তি ও মূল্যবোধ অর্জন করতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, আমার জীবন খুব সহজ। এই জীবনের একটি ‘ফোকাস’ আছে। আমি নিজে খুবই শান্তিতে আছি। ইসলামের পথে অন্যদেরকে আহ্বান করার মাধ্যমে আমার এই অনুভূতি হচ্ছে যে, আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি।

সে সময় তিনি জানান, তিনি রক সংগীত (রাজমাতাজ) গাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ,তিনি এমন একটি জীবনকে যাপন করতে চান যা তাকে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অর্থ বুঝতে সাহায্য করেছে।

এই বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী এখন আর রক সংগীত পরিবেশন করেন না । এর পরিবর্তে তিনি আলাদা ধরনের গান গাচ্ছেন যেগুলো ইসলামিক শিক্ষা-ভাবধারার প্রতিফলন ঘটায়।

নয়াদিল্লির ওই ইফতার পার্টিতে আলী বারনামাকে তার বদলে যাওয়া জীবনের গল্প তুলে ধরেন। তিনি জানান, তিনি এখন ডাকওয়া (ইসলাম প্রচারের কাজ) নিয়োজিত করেছেন নিজেকে।

তিনি সে সময় ইফতারে ১০০ জনেরও বেশি লোকের সাথে খাবার ভাগাভাগি করে গ্রহণ করেছেন।

এ ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেয়াদের বেশিরভাগই ছিলেন মালয়েশিয়ার নাগরিক। তিনি তাদের সঙ্গে রমজান প্রসঙ্গে কথা বলেন এবং ছবি তোলার জন্য পোজ দেন।

জনপ্রিয় সঙ্গীত তারকা হিসেবে কোনো আনন্দকে তিনি কী ‘মিস’ করছেন-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কিছু মনে করি না। একজন মুসলিম হিসেবে সমাজে শান্তি, ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে দেয়াই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

আমি ডাকওয়াহের মাধ্যমে এটি করছি। আল্লাহকে মান্য করা এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সাফল্য আসে।

তিনি বলেন, আমাদের কী প্রভাবশালী অবস্থা রয়েছে কিংবা কোন বড় পদে আমরা আসীন রয়েছি-সেটা কোনো বিষয় না। আমরা যদি আমাদের জীবন ইসলামিক শিক্ষায় অতিবাহিত না করি তবে তা মূল্যহীন।

আলী বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস পৃথিবী অস্থায়ী। আখেরাত চিরকালের জন্য। আলী এই নিজেকে ভক্তিমূলক গানে সমর্পিত করেছেন। এ বিষয়ে তাঁর পুরোনো ভক্তরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি গানের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের বার্তা ভক্তদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। মালয়েশিয়ার রক ব্যান্ড এক্সপিডিসি থেকে আরও চারজন সদস্য তাঁর সঙ্গে ইসলাম প্রচারের কাজে নেমেছেন। এক্সপিডিসি ব্যান্ড দলটি ১৯৯০-এর দশকে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

এর আগে আলী টেরা রোসা নামক আরেকটি রক ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আলী জানান, তিনি সে সময় কি করছেন সে বিষয়ে লোকজনের কাছে ‘লেকচার’ দেওয়ার কিছু নেই। বরং নিজের জানা বিষয়গুলো অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা এবং অন্যদের অর্জিত জ্ঞান থেকে শেখাই আসল বিষয়।

তিনি জানান, এই ‘স্পিরিট’ই তাকে ভারতে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন মানুষের সাথে সাক্ষাত করে ইসলাম সম্পর্কে আরো জানতে আগ্রহী হয়েছেন তিনি।

আলী বলেন, আমরা যে কাজই করি না কেন, আমাদের নিজেদেরকে মনে করিয়ে দিতে হবে যে, পার্থিব জীবন অস্থায়ী। আমাদের ইসলামের বার্তা অনুসরণ করতে হবে। আর এটা করতে হবে অন্যদেরকে ভালো কাজের দিকে আহবান করে এবং নবী মুহাম্মদের (সা.) সুন্নাহর শিক্ষার মাধ্যমে।

সুত্র: বারনামা

উৎসঃ ‌‌বারনামা

আরও পড়ুনঃ ‌মার্কিন কংগ্রেসে ইফতার মাহফিল করলেন ৩ মুসলমান সদস্য


মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ইলহান ওমর রমজানে সারা দিন না খেয়ে থেকেও কখনো কখনো নিজের দায়িত্বের কারণে ঠিকমতো রোজা ভাঙতে পারেন না। সূর্য ডুবে যাওয়ার সঙ্গে তাড়াহুড়ো করে কয়েক লোকমা খেয়ে হাউসে ভোট কিংবা কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে হয়।

কিন্তু সোমবার এমনটি ঘটেনি। মাসজুড়ে রমজানের মাঝপথে এদিন রাতে টেবিলে বসে নিজের খাবার উপভোগ করলেন তিনিসহ আরও দুই মুসলমান কংগ্রেস সদস্য।

এদিন দেশটির কংগ্রেসের তিন মুসলমান সদস্য তার সহকর্মীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেছেন। এতে ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব ও অ্যান্ড্রে কারসন নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা সহকর্মীদের কাছে ব্যাখ্যা করেন।-খবর ওয়াশিংটন পোস্ট ও গার্ডিয়ানের

ব্যাপক রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নান ও কাবাব দিয়ে রোজা ভাঙেন তারা। সিনেটর রিচার্ড ডি ডুরবিন বলেন, ধর্ম মানুষকে মূল্যবোধ ও অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা এই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ, শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ বন্ধ করে দেব। কারণ এটা খুবই বিদ্বেষপূর্ণ, বিভাজনকারী ও প্রাণঘাতী।

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর গত বছর মিনেসোটা থেকে প্রাইমারিতে জয় লাভ করে একজন মুসলমান নারী হিসেবে দেশটির ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন। এরপর ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছিল।

প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘুদের নেতা ছিলেন পেলোসি। তখন তিনি আভাস দেন, নির্ভরযোগ্য ডেমোক্রেটিক আসনটি থেকে সহজ জয় পেতে পারেন ইলহান ওমর।

তবে ইলহানকে এমন একটি বিষয়ের নাম জিজ্ঞেস করেন পেলোসি, যেটা তাকে হতাশ করেছে। সোমালি শরণার্থী থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইলহান জবাবে বলেন, এটা হিজাব।

সোমবার প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের ইফতারে পেলোসির সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা স্মরণ করলেন ইলহান ওমর। এতে অন্তত ১০০ মার্কিন মুসলমান অংশ নেন। কংগ্রেসের ইতিহাসে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে কংগ্রেসের অফিসের ভেতর প্রথম মুসলমান নারী হিসেবে শপথ নিতে তাকে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হবে বলে পেলোসি ওই বৈঠকে তা পরোক্ষভাবে উল্লেখ করেছিলেন।

কংগ্রেস সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক আক্রমণের শিকার হয়েছেন এই দুই মুসলমান নারী।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ইরানবিরোধী কট্টরপন্থীদের অনুষ্ঠানে মার্কিন নারীর প্রতিবাদ (ভিডিও সহ)


ইরানবিরোধী যুক্তরাষ্ট্রে রক্ষণশীলদের একটি অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ব্রিয়ান হুককে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভাইরাল হয়েছেন মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক মেডেনা বেঞ্জামিন।

ওয়াশিংটনের উগ্র ডানপন্থী থিংকট্যাংক হাডসন ইনস্টিটিউশন এই আলোচনার আয়োজন করেছিল। এতে বক্তব্য দেন ব্রিয়ান হুক।

মঞ্চে উঠে হুক বলেন, ধ্বংসাত্মক আচরণের দায়ে নতুন ধরনের জবাবদিহিতার জন্য ইরানের লাগাম ধরতে বিশ্বের সব দেশকে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময় হয়েছে। দেশটি বেআইনিভাবে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে।

বক্তব্য শেষ হয়ে নিজের আসনে গিয়ে তিনি বসলে মেডেনা বেঞ্জামিন এসে তাকে চ্যালেঞ্জ জানান। যদিও এসময় মেডেনাকে টেনেহিঁচরে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভিডিওঃ  ‘ইরানবিরোধী কট্টরপন্থীদের অনুষ্ঠানে মার্কিন নারীর প্রতিবাদ (ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

পিস গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও কলাম লেখক মেডেনা বেঞ্জামিন বলেন, আমাদের মিত্র জার্মান, ফ্রান্স ও ব্রিটেনসহ বিশ্ব সম্প্রদায় ইরানের পরমাণু চুক্তি রক্ষা করতে চাচ্ছে। কাজেই এখন সৌদি আরব নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে। তারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা ইরান সরকার নাকি দেশটির জনগণকে আঘাত হানছে? এই নিষেধাজ্ঞা ইরানের সাধারণ মানুষকে আঘাত হানছে।

‌‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধাতে ঘটনা বানানো হচ্ছে। ইরাক যুদ্ধ কীভাবে সংঘটিত হয়েছিল? ইরাকের ক্ষেত্রে যেভাবে ঘটনা সাজানো হয়েছিল, ইরানের বেলায়ও তেমনটি ঘটছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌রমজানের পরই প্রখ্যাত তিন আলেমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে সৌদি সরকার


সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক বিশিষ্ট তিন আলেমের মৃত্যুদণ্ড শিগগিরই কার্যকর করবে সৌদি আরব।

পবিত্র রমজান মাসের পরই এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। সরকারি কয়েকটি সূত্র ও আটক এক আলেমের পরিবারের বরাত দিয়ে বুধবার এ বিষয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি।

এ তিনজন আলেম হলেন- শায়েখ সালমান আল-আওদাহ, লেখক আওয়াদ আল-কারনি এবং জনপ্রিয় প্রচারক আলী আল-ওমারি। এদের মধ্যে শায়েখ সালমান আল-আওদাহ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। সৌদি আরবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রচার চালানোর জন্য ১৯৯৪-৯৯ পর্যন্ত কারাবন্দিও ছিলেন তিনি।

২০১৭ সালে সৌদি আরব কাতারের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়লে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে এ নিয়ে একটি টুইট করেন শায়েখ সালমান আল-আওদাহ। কাতারের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলোর বিরোধ মিটে যেতে পারে- এমন একটি প্রতিবেদনকে টুইটারে নিজের পোস্টে স্বাগত জানিয়েছিলেন তিনি।

কাতার বিষয়ে এ টুইটটি করার পরই প্রভাবশালী এ ধর্মীয় নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।

একই সময়ে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আওয়াদ আল-কারনি এবং জনপ্রিয় প্রচারক আলী আল-ওমারিকে গ্রেফতার করা হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ বিশিষ্ট এ তিন আলেমকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি আখ্যায়িত করে রমজান ও ঈদুল ফিতরের পরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে চায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে শায়েখ সালমান আল-আওদাহর ছেলে, যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আব্দুল্লাহ আল-আওদাহ ‘মৃত্যুদণ্ডের সামনে আমার পিতা; সৌদিতে এটাই ইনসাফ’ শিরোনামে নিউইয়র্ক টাইমসে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এই গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রবন্ধে আব্দুল্লাহ আল-আওদাহ বলেছেন, যে কণ্ঠ ইনসাফের ভিত্তিতে হক ও সত্য কথা বলে সৌদি সরকার সে কণ্ঠকে রুদ্ধ করে দেয়।

আব্দুল্লাহ আল-আওদাহ বলেন, ‘তার বাবাকে আটক করার অনেক কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, সরকারপক্ষ যেভাবে রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করে-তিনি সবসময় এর সমালোচনা করতেন এবং জনগণকে সত্যের পক্ষ অবলম্বনে উদ্বুদ্ধ করতেন।

সৌদি-কাতার সংকটে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ ও সৌদি সরকারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক না থাকাটাই তার মূল অপরাধ।’

উৎসঃ ‌‌নিউইয়র্ক টাইমসে

আরও পড়ুনঃ ‌লন্ডনের একটি স্কুলে জায়গা না দেয়ায় গাড়ি পার্কিংয়ে শিক্ষার্থীদের নামাজ আদায়


লন্ডনের একটি স্কুলের মুসলমান শিক্ষার্থীরা বাইরের গাড়ি পার্কিংয়ে নামাজ পড়ছেন, এমন একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।-খবর মেট্রো নিউজের

অভিযোগে বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান মাসে মুসলমান শিক্ষার্থীদের জোহরের সময় জায়গা না দেয়ায় বাইরে গাড়ি পার্কিংয়ে গিয়ে তারা নামাজ আদায় করেন।

পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডে লক্সফোর্ড স্কুলে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। যাদের মধ্যে বড় একটা অংশ মুসলমান। বর্তমানে জুমার সময় কেবল তাদের ভেতরে নামাজ পড়তে সুযোগ দেয়া হয়।

কিন্তু সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার তারা ভেতরে জোহর নামাজ আদায় করতে পারেন না। শিক্ষার্থীরা গাড়ি পার্কিংয়ে গিয়ে নামাজ পড়তে বাধ্য হওয়ায় প্রধান শিক্ষক অনিতা জনশন সমালোচনার মুখে পড়েন।

কিন্তু স্কুলটি বলছে, তারা শিক্ষার্থীদের বাইরে নামাজ পড়তে নির্দেশনা দেয়নি। এদিকে স্কুলটির এই অগ্রহণযোগ্য নীতির পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে একটি পিটিশনে ১৪ হাজার মানুষ সই করেছেন।

কারও কারও অভিযোগ, স্কুলটি শিশুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিজস্ব পরিবেশে নামাজ পড়ার অধিকার অস্বীকার করেছে।

লক্সফোর্ড মুসলিম সোসাইটির চেয়ারম্যান আলিমুল আল রাজ বলেন, আমি দুপুরে নিকটস্থ মসজিদে গিয়ে শিশুদের নামাজ আদায় করতে দেখেছি। দুপুরের সময় নামাজ পড়তে কিছু কিছু শিক্ষার্থীদের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতেও দেখেছি।

এক বিবৃতিতে লক্সফোর্ড স্কুল জানিয়েছে, তারা স্থানীয় মসজিদে শিক্ষার্থীদের নামাজ আদায় অনুমোদন করে না। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার মুসলমান শিক্ষার্থীদের নামাজ আদায়ের নতুন একটি আয়োজনের কথা তারা বিবেচনায় রেখেছে।

স্কুলটির একজন মুখপাত্র বলেন, ২০০৭ সালে বর্তমান প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব গ্রহণের পর লক্সফোর্ড স্কুল নামাজের সুবিধা দিয়েছে। শুক্রবার জুমা আদায়ের জন্য স্কুলের ভেতর বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুলকর্মীরাও এই প্রার্থনাকে সমর্থন জানান।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌হিজাব পরে অস্ট্রিয়ার অমুসলিম নারী সাংসদের অভিনব প্রতিবাদ (ভিডিও সহ)


প্রাথমিক স্কুলে মুসলমান মেয়েদের হিজাব বা মাথায় যে কোনো ধরনের কাপড় পরা নিষিদ্ধ করে গত ১৫ মে আইন পাস করেছে অস্ট্রিয়া সরকার।

বিরোধী দলের অধিকাংশ সংসদ সদস্য এ আইনের বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকারি জোটের উগ্র ডানপন্থী একটি দলের আগ্রহেই নিষেধাজ্ঞা বিলটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মুসলিম মেয়েদের টার্গেট করে পাস হওয়া হিজাববিরোধী এই আইনের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার এক নারী সাংসদ। মার্তা বসম্যান নামের ওই অমুসলিম সংসদ সদস্য মাথায় হিজাব জড়িয়েই সংসদে আসেন এবং তার বক্তৃতায় অবিলম্বে বিলটি বাতিল করার আহ্বান জানান।

ভিডিওঃ  ‘মুসলিম মেয়েদের টার্গেট করে পাস হওয়া হিজাববিরোধী এই আইনের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার এক নারী সাংসদ (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মার্তা বসম্যান নিজের হিজাবের দিকে ইশারা করে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন ছোড়েন, হিজাবের কারণে কি কিছুর পরিবর্তন হয়েছে, আমি কি এখন এমপি নেই, অস্ট্রিয়ান থেকে বের হয়ে গিয়েছি?

মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে সংসদ অধিবেশনে বক্তৃতা শুরু করে মার্তা বসম্যান বলেন,নিষেধাজ্ঞা বিল পাশের ফলশ্রুতিতে হিজাব পরিহিতা মুসলিম মেয়েরা ঘৃণ্য কটূক্তির শিকার হন এবং নেকাব পরার কারণে রাস্তাঘাটে সংকীর্ণ মন নিয়ে চলতে বাধ্য হন তারা।

তিনি মনে করেন, হিজাব মুসলিম নারীর পরিচয় ও তাদের সংস্কৃতি এবং মুসলিমদের জীবনের অংশ। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে হিজাবকে মুসলিম বিরোধীদের প্রতীক হিসেবে চিত্রায়ণ করা হয়েছে।

অমুসলিম এই নারী সাংসদ আরও বলেন, আমরা মুসলমানদের কাছ থেকে সহনশীলতা, ক্ষমা ও একাত্মতার মূল্যবোধ শিখতে পারি। হিজাব সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে না; কিন্তু কতক দল হিজাবের বিরোধিতা করে মিডিয়ায় প্রোপাগান্ডা চালায়, তাদের উদ্দেশ্য আর কিছু নয়; ভোটারদের মন জয় করে ভোট অর্জন করা।

তিনি বলেন, হিজাব নিষিদ্ধতার আইনটি এমন স্পর্শকাতর বিষয়, যা খুব শিগগির পুরোপুরি বাতিল করতে হবে।

উল্লেখ্য, অস্ট্রিয়ার জনসংখ্যার মোট ৮ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। ২০১৭ সালের আদমশুমারির তথ্যানুযায়ী, দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা ৭ লক্ষাধিক, যার পরিমাণ এখন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

উৎসঃ ‌‌আল আরাবিয়্যাহ

আরও পড়ুনঃ ‌রমজানের দ্বিতীয় জুমায় মসজিদুল আকসায় ২ লাখ মুসল্লির নামাজ আদায়

মাসজিদুল আকসায় লাখো মুসল্লির জুমা আদায়

ইসরাইলি পুলিশের ব্যাপক তল্লাশির মধ্যেও রমজানের দ্বিতীয় জুমায় ফিলিস্তিনের আল আকসা মসজিদে দুই লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন।

আল আকসার ওয়াকফ কাউন্সিলের পরিচালক আজ্জাম আল খতিব আনাদলুকে জানান, রমজানের দ্বিতীয় জুমায় আল আকসার ভেতর ও বাইর মিলে দুই লাখেরও বেশি মুসল্লি জুমার নামাজে অংশ নিয়েছেন।

তিনি জানান, ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিরা সব সময় রমজান মাসে আল আকসা মসজিদে শুক্রবার নামাজ আদায় করতে আসেন।

দখলদার ইসরাইলি বাহিনী কেবল মাত্র চল্লিশ বছরের বেশি ও ১২ বছরের কম বয়সী পুরুষদের মসজিদে প্রবেশে অনুমতি দিয়েছিল।

আনাদলুর স্থানীয় সংবাদদাতা জেরুজালেমের ওল্ড সিটির প্রবেশদ্বার এবং আল-আকসা মসজিদের প্রবেশপথগুলোয় ইসরাইলি পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন।

মুসল্লিদের প্রবেশের সময় তল্লাশি করছে ইসরাইলি বাহিনী

ইসরাইলি বাধা উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আল আকসায় জুমা আদায় করতে আসায় বিষয়টির প্রশংসা করেন মসজিদের খতিব শেখ ইসমাঈল নুহদাহ।

জুমার খুতবায় তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসলমানদের আল আকসায় ছুটে আসার বিষয়টি প্রশংসনীয়।

শেখ নুহদা বলেন, এভাবে লাখো মুসল্লির আগমন তাদের মসজিদটিকে আটকে রাখার ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here