ভারতে মুসলিমদের পিটিয়ে মারা বন্ধের দাবি জানানো ৪৯ বুদ্ধিজীবীর নামে মামলা

0
1082

ভারতে জয় শ্রীরাম কিংবা জয় হনুমান স্লোগান না দেয়ার অজুহাতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের পিটিয়ে মারার ঘটনা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা, লেখক, সাহিত্যিক, সমাজসেবী, চিকিৎসক, পরিবেশবিদ, ভাস্কর, চিত্রকর, শিক্ষাবিদ, গায়কসহ বিভিন্ন পেশার ৪৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। খবর ভারতীয় দৈনিক এই সময়ের।

চিঠিতে স্বাক্ষর দেয়া ও প্রতিবাদ করার অপরাধে এবার উল্টো তাদের নামে বিহারের মুজাফফরপুর আদালতে মামলা করা হয়েছে।

ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘা* ও রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ কয়েকটি ধারায় যাতে এই ৪৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বুদ্ধিজীবীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার আর্জি রয়েছে পিটিশনে। এ পিটিশনে সাক্ষী করা হয়েছে কঙ্গনা রানাওয়াত, মধুর ভাণ্ডারকর, বিজয় অগ্নিহোত্রীদের।

ভারতের ১৭তম লোকসভার নির্বাচনে বিজেপির জয়লাভের পর দেশজুড়ে অসহিষ্ণুতার মুসলিমদের মারার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছিলেন ৪৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বুদ্ধিজীবী।

সে তালিকায় ছিলেন- আদুর গোপালকৃষ্ণন, গৌতম ঘোষ, শ্যাম বেনেগালের মতো খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালকের পাশাপাশি কলকাতার নামকরা অভিনয়শিল্পী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, কৌশিক সেনসহ চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্টজনরা।

বিহার আদালতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘা*, রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ কয়েকটি ধারার কথা উল্লেখ করে একটি পিটিশন দাখিল করেছেন এক আইনজীবী।

বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্টজনদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রুজু করা হয়। পিটিশনে সাক্ষী করা হয়েছে কঙ্গনা রানাওয়াত, মধুর ভাণ্ডারকর, বিজয় অগ্নিহোত্রীদের।

কেননা এদের মধ্যে ৬১ জন মিলে মোদির সমর্থনে পাল্টা চিঠি লিখেছিলেন তারা। অভিযোগে বলা হয়, ৪৯ জনের ওই চিঠিতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। নরেন্দ্র মোদির কাজকেও ছোট করা হয়েছে।

বিহারের আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলার শুনানির জন্য আগামী ৩ আগস্ট দিন ধার্য হয়েছে।

উল্লেখ্য, মোদিকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে গোমাংস খাওয়া নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে, জয় শ্রীরাম না বলায় পেটানো হচ্ছে। এমনকি মুসলিমদের পিটিয়ে মারা হচ্ছে। এটি বন্ধ হওয়া উচিত।

অপর্ণা সেন সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলেন, কেন অন্য ধর্মের মানুষকে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলানো হচ্ছে? আমি একজন হিন্দু। আমাকে যদি জোর করে এখন আল্লাহু আকবর বলতে বাধ্য করা হয়, তা হলে কি আমার ভালো লাগবে?

মোদিকে দেয়া চিঠিতে তারা আরও বলেন, ‘জয় শ্রীরাম এখন এক যুদ্ধের হুঙ্কা*। এ স্লোগান ঘিরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। সবচেয়ে আ*ঙ্কের বিষয় হলো- এই উন্মদনা হচ্ছে ধর্মের নামে। এটি তো মধ্যযুগ নয়। রামের নামে এই উন্মাদনা আপনি অবিলম্বে বন্ধ করুন।’

ওই চিঠিতে নিজেদের শান্তিকামী ও গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ উল্লেখ করে গণপি*নি ও ধর্মের নামে চলমান উন্মাদনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর অত্যা*র ও গণপি*নির জন্য তারা কেন্দ্র সরকারকে দায়ী করেছেন। চিঠির শুরুতেই এ বিশিষ্টজনরা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ষড়*ন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের পাশাপাশি দ্রুত ও নিশ্চিতভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি।

চিঠিতে তারা মোদিকে এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ‘ভারত ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমানাধিকার। সংবিধানই সেই অধিকার দিয়েছে।’

উৎসঃ jamuna tv news

আরও পড়ুনঃ ডেঙ্গু নিয়ে ব্যবসা : ৫ দিনের বিল ৫ লাখ টাকা!


দেশে ডেঙ্গুর ভয়া*হতার মধ্যেও চিকিৎসা নিয়ে ব্যবসার ফাঁদ পাতার অভিযোগ উঠেছে৷ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনিস্টক সেন্টার এবং ওষুধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে উঠেছে এই অভিযোগ৷ রোগ পরীক্ষার দাম ঠিক করে দেয়ার পরও তা মানা হচ্ছে না৷

ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে এক ডেঙ্গু রোগীর ২২ ঘন্টার চিকিৎসায় বিল ধরা হয়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার ৪৭৪ টাকা৷ এটা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন ছাপা হলেও চুপ আছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর৷ ওই রোগী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ কবীর স্বাধীন৷ ২৬ জুলাই রাতে মারা যান তিনি৷ আরো একটি হাসাপতালের বিলের কপি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল৷ সেখানে পাঁচ দিনের চিকিৎসা খরচ সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা৷ মুখ বন্ধ রেখেছে ওই হাসপাতালটিও৷

ডেঙ্গু পরীক্ষা ফি পাঁচ শ’ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও মানছে না ঢাকার বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ল্যাবএইড স্পেসালাইজড হাসপাতাল, পপুলার ডায়গনিস্টিক সেন্টার ও ইবনে সিনা হাসপাতাল৷ দ্বিগুনের বেশি অর্থ আদায়ের কারণে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর৷

২৮ জুলাই ডেঙ্গুর তিন ধরনের পরীক্ষার দাম বেঁধে দেয় সরকার৷ অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি পাঁচ শ’, সিবিসি চার শ’ টাকা৷ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘‘প্রাইভেট হাসপাতালের জন্য সরকার যেটা নির্ধারণ করে দিয়েছে তাও অনেক বেশি৷ অ্যান্টিজেন হলো ডেঙ্গু নির্ণয়ের টেস্ট৷ তিন দিনের মধ্যে করতে হয়৷ এর একটি কিটের দাম মাত্র এক শ’ ৪৫ টাকা৷ সিবিসি প্লাটিলেট কাউন্টের পরীক্ষার জন্য সর্বোচ্চ এক শ’ টাকার বেশি লাগে না৷ আর অ্যান্টিবডি টেস্ট করতে হয় ছয় দিন পর৷ এটার টেস্ট কিটও ১৪৫ টাকা৷”

তিনি আরো বলেন, ‘‘ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসায় হাসপাতালে সর্বোচ্চ পাঁচ দিনের বেশি থাকতে হয় না৷ বেসরকারি হাসপাতালে কেবিনে সব মিলিয়ে ২০-২৫ হাজার টাকার বেশি চিকিৎসা খরচ হওয়া উচিত না৷ সরকারি হাসপতালে সাধারণ বেডে চিকিৎসা ফ্রি৷ আর কেবিনে পাঁচ দিনে সর্বোচ্চ সাত-আট হাজার টাকা লাগে৷ ডেঙ্গু চিকিৎসায় তেমন কোনো ওষুধ লাগে না৷”

‘‘এখন প্রাইভেট হাসপাতালগুলো এই সুযোগে অতিরিক্ত মুনাফা করতে চাইছে৷ শুধু তাই নয় বাজারে স্যালাইন সংকট তৈরি হওয়ায় এটা নিয়েও ব্যবসা করা হচ্ছে৷”, জানালেন উত্তম কুমার বড়ুয়া৷

চিকিৎসা শেষে সুন্থ হওয়া কয়েকজন ডেঙ্গু রোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে মধ্যম মানের বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচ দিন ভর্তি থাকলে ৩৫-৪০ হাজার টাকা খরচ হয়৷ তবে প্রতিবেদনে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম আছে সেখানে ৬০-৭০ হাজার টাকা নেয়া হয়৷

এদিকে, পরীক্ষা না করেও রিপোর্ট দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে৷ এই অপরাধে উত্তরার একটি হাসপাতালকে ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে৷ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মাসুম আরেফিন বলেন, ‘‘আমরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেউ বেশি দাম নিচ্ছে কিনা তা দেখছি৷ অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালাচ্ছি৷ আবার নিজেরা উদ্যোগী হয়েও অভিযান চালাচ্ছি৷ টেস্টের দাম বেশি নেয়ায় বুধবার পুরান ঢাকার দুটি ক্লিনিককে জরিমানা করা হয়েছে৷”

এদিকে বেসরকারি হাসপাতালের বেড, কেবিন ভাড়া ও চিকিৎসক ফি’র ব্যাপারে কোনো নীতিমালা নেই৷ ফলে এখানে কোনো আইন প্রয়োগ করা যাচ্ছেনা৷ কোনো কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে রোগীকে চিকিৎসকের ভিজিটিং দিতে হয় তিন হাজার টাকা৷ বিষয়টি নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি৷

উৎসঃ ডয়েছ ভেলে

আরও পড়ুনঃ চিন্তায় গরু ব্যবসায়ীরা, ঢাকা থেকে লাভ নাকি ডেঙ্গু নিয়ে ফিরতে হবে?


প্রতিবছর কোরবানির ঈদের আগে রাজধানী ঢাকায় গরু আনেন ফারুক হোসেন। কুষ্টিয়ায় নিজের বাড়ি থেকে ফারুকের সঙ্গে তাঁর ভাই, ভগ্নিপতিরাও ট্রাকে করে গরু নিয়ে আসেন। এবার ফারুক ১৩টি গরু নিয়ে যাবেন পুরান ঢাকার নয়াবাজার পশুর হাটে। ঢাকায় এসব গরুর প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে বেশ চিন্তায় আছেন। আর গরু বিক্রির পর সুস্থ শরীরে কুষ্টিয়ার ফিরে যেতে পারবেন কি না, সেই ভাবনায় কপালে ভাঁজ পড়েছে তাঁর। কারণ রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বড় আইলচাড়া ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের গৃহস্থ ফারুক হোসেন বলেন, ‘এবারের মতো পরিস্থিতি আগে কখনো কোরবানির ঈদের আগে হয়নি। জানুয়ারি মাস থেকে ৫৫ কেজি ভুসির বস্তা ১৩০০ টাকা বেড়ে এখন হয়েছে ২০০০ টাকা। গরুর খাবারের টাকায় গাভির দুধ বিক্রি করে আসত। অ্যান্টিবায়োটিক আ*ঙ্কে এক মাস ধরে দুধ বিক্রি কমে গেছে। গরু লালনপালনের খরচও বেড়েছে। এখন ঢাকায় ডেঙ্গুর কথা শোনা যাচ্ছে। তাই গরুর দাম পাওয়া নিয়ে চিন্তায় আর ডেঙ্গু জ্বরের আ*ঙ্কে আছি।’

উত্তরাঞ্চলের গৃহস্থরা বন্যার কারণে গরুর দাম নিয়ে আশা-নিরাশায় রয়েছেন। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার গৃহস্থদের বাড়িঘর কয়েক বছর ধরে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠত। এই উপজেলার ধানগড়া, ঘুড়কা, নলকা, চান্দাইকোনা ইউনিয়নের গ্রামগুলো গৃহস্থের এলাকা হিসেবে পরিচিত। কারণ এখানে প্রচুর ধান হয়, আবার চাষাবাদের জন্য প্রতিটি বাড়িতেই কমপক্ষে দু-তিনটি গরু পালন করা হয়। অনেকে আবার কোরবানি ঈদের জন্য বাছুর কিনে বড় করেন। এই এলাকার বাসিন্দারা গরু রাজধানী ঢাকা বা অন্যান্য অঞ্চলে খুব একটা নিয়ে যান না। তাঁরা ব্যাপারীদের কাছে গরু বিক্রি করে থাকেন। কিন্তু এবার তাঁদের এলাকায় গরুর ব্যাপারীদের আনাগোনা নেই বললেই চলে।

ধানগড়া ইউনিয়নের লাহোর গ্রামের গৃহস্থ আজহার আলী ও আবদুস সালাম ভাবনায় রয়েছেন। ৩০ জুলাই আজহার আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত বছর কোরবানির ঈদের পরে তিনটি বাছুর কিনেছিলাম। প্রায় এক বছর ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে এগুলারে ভুসি খাইয়ে বড় করছি। এ ছাড়া আরও অনেক খরচ হইসে গরুগুলারে পালতে। এ বছর এখনো হাট জমেনি। কিন্তু হাটে প্রচুর গরুর আমদানি হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত যে কী হবেক!’

ধানগড়া ইউনিয়নের নলছিয়া, জয়ানপুর গ্রামের আরও ১০ জন গৃহস্থ বললেন একই কথা। তাঁরা বলেন, কোরবানির ঈদ ঘিরে এ সময় বাড়িতে বাড়িতে গরু ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়ে যেত। কিন্তু এবার এখনো সে রকম হচ্ছে না।

চান্দাইকোনা হাটের গরু ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর সিরাজগঞ্জ জেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাটে প্রচুর গরু আসছে। বন্যাকবলিত এলাকার গৃহস্থরা তুলনামূলকভাবে একটু কম দামেই গরু বিক্রি করছেন। ফলে স্থানীয় গৃহস্থদের গরু বিক্রি এখনো তেমন হচ্ছে না।

গরু ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষাকালে এবার হবে কোরবানির ঈদ। ঈদের আগে বৃষ্টি বেশি হলে হাটে গরু উঠবে কম। এর সঙ্গে যদি ভারতীয় গরু সীমান্ত দিয়ে ঢুকতে থাকে, তাহলে আরও সর্বনাশ।

তবে দেশি গবাদিপশুতে কোরবানি ঈদের চাহিদা মিটবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ঈদে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মোট সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ। এর মধ্যে কোরবানি হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ। এবার এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ। এগুলোর মধ্যে ৪৫ লাখ ৮২ হাজার গরু ও মহিষ, ৭২ লাখ ছাগল-ভেড়া এবং ৬ হাজার ৫৬৩টি অন্যান্য গবাদি রয়েছে। এর মধ্যে ঈদুল আজহায় ১ কোটি ১৮ লাখ গবাদিপশুর মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ পশুর কোরবানি হতে পারে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় আট লাখ গবাদিপশু বেশি রয়েছে।

তাই গবাদিপশুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কোরবানি ঈদের আগপর্যন্ত দেশের বাইরের গরু প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। গত ১৬ জুলাই এক আন্তমন্ত্রণালয় সভা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান জানান, ঈদুল আজহার পশুর সংখ্যা নিরূপণ, কোরবানির হাটবাজারে স্বাস্থ্যসম্মত পশুর কেনাবেচা ও স্বাস্থ্যসেবা, বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, পশুর গাড়ি ছিনতাই রোধ এবং দেশের পশুবিক্রেতাদের স্বার্থে ঈদুল আজহা পর্যন্ত সীমান্ত পথে বৈধ-অবৈধ সব ধরনের গবাদির অনুপ্রবেশ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়, দেশ মাংস উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জনের পর থেকে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। আগে প্রতিবছর ২৪-২৫ লাখ ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ঘটলেও ২০১৮ সালে মাত্র ৯২ হাজার গরু দেশে ঢুকেছে।

চাহিদার তুলনায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু বেশি থাকায় কৃষকেরা প্রত্যাশিত দাম পাবেন কি না জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজি হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক প্রথম আলোকে বলেন, দাম নিয়ে সরকারের কিছু করার নেই। গবাদিপশুর দাম নিয়ন্ত্রণ হয় মার্কেটে। তবে বন্যার প্রভাব যেন গবাদিপশুর ওপর না পড়ে, সে জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় সর্বাত্মক সহায়তা করা হয়েছে। গবাদিপশু যেন টেকে, সে জন্য এবারই প্রথম বিনা মূল্যে সরকারি ও বেসরকারিভাবে খামারিসহ কৃষকদের গোখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবাও দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু জ্বরের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আ*ন্ত রোগী সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে আশা করছি ঈদের আগে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসবে। তবে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য শাখার সঙ্গে সার্বক্ষণিক লিয়াজোঁ রয়েছে। হাটগুলোতে কোরবানির পশু ওঠার আগে মশা মারার ওষুধ ছিটাতে সিটি করপোরেশনগুলোকে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হাটগুলোতে ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হবে।

তবে খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা জানান, পথে পথে চাঁদাবাজির কারণে পশু বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হন। অনেক সময় মহাসড়ক ও সড়কে গরুবোঝাই ট্রাকগুলোকে জোর করে ইজারাদারের লোকজন তাদের হাটে নিয়ে যায়। এর প্রভাব কোরবানির বাজারে পড়ে।

ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ ইমরান বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা ভালো এবং চাঁদাবাজি বন্ধ হলে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই উপকৃত হবেন। তবে এবার ডেঙ্গুর জন্য পশুর হাটগুলোতে ধূপের ধোঁয়া দিয়ে, কয়েল জ্বালিয়ে করে মশা তাড়াতে হবে। হাটের পাশে ডোবা-নালায় প্রতিদিন কমপক্ষে তিনবার মশা মারার ওষুধ ছিটাতে হবে। এর জোগানও সিটি করপোরেশন, পৌরসভার পক্ষ থেকে সরবরাহ করা উচিত। হাট ইজারাদারদের এ জন্য পদক্ষেপ এখনই নিতে হবে।

উৎসঃ prothomalo

আরও পড়ুনঃ ইয়াবার কারবার ঘিরে আওয়ামী লীগের এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম

সাগর ঘেঁষা অনুন্নত বরগুনা জেলা শহর দেশের মাদক তথা ইয়াবা চোরাচালান বাণিজ্যের প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। রীতিমতো মাদকে সয়লাব বরগুনা শহর। মাদকের কারবার লাভজনক হওয়ায় কেবল এ ব্যবসা করেই গাড়ি-বাড়ির মালিক হওয়ার উদাহরণও অনেক।

আর এ মাদক ‘বাণিজ্যের’ সঙ্গেও জড়িয়ে আছে বরগুনা সদর আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের নাম।

জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুনাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, আমার এমপি পিতার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই একটি মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।

২০১৫ সালের একটি ঘটনাই মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে বোঝার জন্য যথেষ্ট। বরগুনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আহম্মেদ হঠাৎ একদিন স্কুল চলার সময় বন্ধ করে দিলেন প্রধান গেট।

সীমানা দেয়াল ঘেরা স্কুলের মহিলা শিক্ষকরা ছাত্রীদের দেহ তল্লাশি করে ১৪ জনের কাছ থেকে উদ্ধার করেন ইয়াবা-গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদক দ্রব্য। ওই ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কথা হয় ওই স্কুলের একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে।

তারা যুগান্তরকে বলেন, ‘বাচ্চাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তখন আমরা বাড়াবাড়ি করিনি। তবে ছাত্রীদের সাবধান করার পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরও জানিয়েছি।’

শহরের সংবাদকর্মী এবং আইনজীবী সোহেল হাফিজ বলেন, শান্ত বরগুনার ভেতরটা দারুণভাবে ক্ষয়ে গেছে মাদকের ভয়াবহতায়। তরুণদের বড় অংশই এখন মাদকসেবী।রিফাত ঘটনার নেপথ্যেও মাদকের অভিযোগ। ওই মামলার ১২ আসামির মধ্যে ৭ জনের বিরুদ্ধেই মাদকের অভিযোগ।

নিহত রিফাত একবার গ্রেফতার হয়েছিল মাদকসহ। নিহত নয়ন বন্ডও ছিল কুখ্যা* মাদক ব্যবসায়ী। ‘শর্টকাট’ অর্থ উপার্জনের সহজ উপায় হয়ে উঠেছে মাদক। আর এই মাদকের বলি হচ্ছে কিশোর-কিশোরীরা।

বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি চিত্তরঞ্জন বলেন, ‘তাকালেই দেখা যায় মাদকের ভয়া*হতা। রিফাত ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা এবং প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসানোয় সম্প্রতি মাদকের ভয়াবহতা কিছুটা কমলেও গত ১০-১১ বছরে যে ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে।’

ইয়াবা চালানের নতুন রুট : নাফ নদী দিয়ে দেশে ঢুকছিল ইয়াবার বড় বড় চালান। নানান কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় বিকল্প হিসেবে এখন বেছে নেয়া হয়েছে শান্ত বরগুনা শহরকে। শহরের কাছেই সাগরপাড়ের দুই উপজেলা তালতলী এবং পাথরঘাটা।

তালতলীর সমুদ্র সৈকত শুভসন্ধ্যা সংলগ্ন অগভীর সমুদ্রে ‘দ্বীপচর’, ‘টেংরাগীরি সৈকত’ এবং পাথরঘাটার ‘বলেশ্বর মোহনা’ হয়ে ঢুকছে ইয়াবার চালান। এই পথে যারা ইয়াবা আনছে তাদের নামও সবার মুখে মুখে। তালতলীর মালেক কোম্পানির নাম সবার জানা।

উপজেলার নির্বাচিত এক জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘পথের লোক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক এই মালেক এখন আওয়ামী লীগ নেতা। বাড়ি-গাড়ির পাশাপাশি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রও আছে তার। মাছের কারবারি হলেও মালেকের আয়ের প্রধান উৎস সবার জানা।’

কথা বলার জন্য মালেক কোম্পানিকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও ধরেননি। পাথরঘাটায় মাদক কারবারি হিসেবে যার নাম আলোচনায় তিনি হলেন সেখানকার পৌর কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল। পাথরঘাটার মুকুটবিহীন সম্রাটও বলা হয় তাকে।

পৌরশহরে তার অফিসে ঢুকতে হলে একাধিক গেট পেরুতে হয়। রয়েছে সিসি ক্যামেরাও। সোহেলের বিরুদ্ধে রয়েছে ধর্ষণ ও মাদকের মামলা।

পাথরঘাটার একাধিক জেলে যুগান্তরকে বলেন, ‘কক্সবাজারের কিছু রহস্যজনক ট্রলার প্রায়ই আসে বরগুনা উপকূলে। নদীর মোহনা সংলগ্ন এলাকায় এসব ট্রলারের কাছে ভেড়ে স্থানীয় ট্রলার। মাছের এসব ট্রলারেই আসা ইয়াবার চালানের কিছু অংশ বরগুনায় বাকিটা যায় সড়ক ও নৌপথে সারা দেশে।’

গত এপ্রিলে বরগুনা-ঢাকা রুটের লঞ্চ এমভি সপ্তবর্ণা-১ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ৮ লাখ ইয়াবাসহ তুহিন, সবুজ এবং শাহজাহান নামে তিনজনকে আটক করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে তারা কিছুদিন পরপরই এভাবে ইয়াবার বড় বড় চালান বরগুনা থেকে ঢাকায় পাঠানোর কথা স্বীকার করে।

এ নিয়ে পৌর কাউন্সিলর সোহেল বলেন, ‘এসবই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ। এগুলো অপপ্রচার।’

সুনামকে ঘিরে ইয়াবা বাণিজ্য : বরগুনা শহরে কান পাতলেই ভেসে আসে মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথের নাম। অনেক মাদক কারবারির সঙ্গেই সুনামের ওঠা-বসার চিত্র পাওয়া যায়। রিফাত ঘটনার মূল আসামি নিহত নয়ন বন্ডও ছিল সুনামের লোক। সুনামের চাচাতো শ্যালক অভিজিত তালুকদারের সঙ্গেও নয়নের যাতায়াত ছিল সুনামের অফিস-বাসায়।

২০১৭ সালের শেষদিকে বিপুল মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় নয়ন। ওই একই রাতে পুলিশ অভিযান চালায় কলেজ রোডে সুনাম দেবনাথের প্রতিষ্ঠান সুনাম দেবনাথ ব্লাড ফাউন্ডেশনের অফিসে। পুলিশ যখন ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল তখন পেছন দিয়ে পালিয়ে যায় দুই-তিনজন।

বলাবলি হচ্ছে- ‘ওই অফিসে যদি অপরাধ কর্মকাণ্ড নাই-ই ঘটবে তাহলে কেন তাদের পালিয়ে যেতে হল?’ তারপর বন্ধ হয়ে যায় সুনাম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম। জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘রিফাত ঘটনার পর সুনামই গণমাধ্যমে বলেছেন, রিফাত তাদের কর্মী ছিল।’

রিফাতকে অনেক ভালোবাসত। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই রিফাতও মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিল। রিফাত ঘটনার পর আলোচনায় আসে নয়ন বন্ডের ‘০০৭ গ্রুপ’ ও ‘টিম সিক্সটি’ নামের দুটি গ্রুপ। টিম সিক্সটির প্রধান হচ্ছে মঞ্জুরুল আলম জন। জনের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদকের পাইকারি বাণিজ্যের অভিযোগ।

জনের বাবা রইসুল আলম রিপন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এই নয়ন ও জনের সঙ্গে সুনামের অনেক ঘনিষ্ঠ ছবি রয়েছে। এভাবে দুয়ে-দুয়ে চার মেলালেও মেলে মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে সুনামের যোগসাজশ।

সুনামের চাচাতো শ্যালক শাওনের বিরুদ্ধেও রয়েছে মাদক নিয়ে বিস্তর অভিযোগ। তবে কোনো মামলা না থাকায় শাওনকে ক্লিন ইমেজের মাদক ব্যবসায়ীও বলেন অনেকে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ছাড়া শাওনের আয়ের উৎস সম্পর্কে আর কিছু জানা না থাকলেও শাওন অনেক বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। বলাবলি হচ্ছে- শাওন তালুকদারই সুনামের হয়ে দেখভাল করে মাদকের কারবার।

তবে মাদকের মামলা আছে শাওনের চাচাতো ভাই অভি এবং ফুফাতো ভাই তুষারের নামে। তুষার জেলও খেটেছে। বরগুনায় একটি কথা চালু আছে- শাওনের শরীরে কাদা লাগতে দেননি সুনামই। বরগুনার মাদক রাজত্বে আরেক জনের নাম আলোচনা রয়েছে।

তিনি হচ্ছেন সুনামের আপন খালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের ভাইয়ের ছেলে সুমন। ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ে জেলও খেটেছেন। সুনামের আরেক ঘনিষ্ঠ অভিজিৎ তালুকদারের বিরুদ্ধেও রয়েছে মাদকের একাধিক মামলা।

বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আদনান হোসেন অনিক বলেন, ‘সুনামের মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে গত বছর সংবাদ সম্মেলন করেছি আমরা কিন্তু তারপরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থাকা মানুষটি যখন অপরাধে যুক্ত হয় তখন পুলিশের চুপ করে দেখা ছাড়া আর কিছুই করা থাকে না।’

ওরা আমার রাজনীতি ধ্বংস করতে চায়-সুনাম : সুনাম দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, রাজনীতি করি, বহু মানুষের সঙ্গেই ছবি আছে। তার মানে কি এই যে, তারা চোর হলে আমিও চোর? খবরের কাগজগুলোতে আমার সম্পর্কে যেসব লেখা হচ্ছে তা দেখছি প্রতিদিন। আমার বিষয়ে লেখা হচ্ছে- ‘জানা গেছে’, ‘শোনা গেছে’, ‘একটি সূত্র বলেছে’ এসব। আরে ভাই সূত্রটা কে, তা লিখুন। সাংবাদিকতা তো এখন অনেকদূর এগিয়েছে।

তাহলে জানা গেছে, শোনা গেছে কেন? আমার কোন ভবনে পুলিশি তল্লাশি হয়নি। অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ লিখুন। সঠিক প্রমাণ দিতে পারলে আমি নিজেই পুলিশের কাছে ধরা দেব। সবাই জানে যে আমার বাবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আছে। তারা আমাদের রাজনীতি ধ্বংস করতে চায়। তারাই এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। বারবার বলা হচ্ছে কতিপয় ছাত্রলীগ নেতার সংবাদ সম্মেলনের কথা।

ওই সম্মেলনেও কি এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কেউ দিতে পেরেছে যে, আমি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত? সংবাদপত্রের মতো একটি মহান প্রতিষ্ঠান সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করবে বলে আমি আশা করি।

মাদকের অভিযোগ নিয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হাসান বলেন, ‘যেভাবে মাদকের বিস্তারের কথা বলা হচ্ছে পরিস্থিতি আসলে ততটা ভয়াবহ নয়। তাছাড়া আমরাও প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি। ২০১৮ সালে ৬৯৪টি মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৮২৫ জন। ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ১১ হাজারের বেশি। মাদক প্রতিরোধে প্রতিনিয়তই কাজ করছি আমরা। আর এক্ষেত্রে কোনো মহলের তদবির বা পুলিশের ওপর প্রভাব বিস্তারেরও কোনো ঘটনা নেই।’

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ একমাসে ডেঙ্গু রোগী ১৫ হাজার, অতিরিক্ত রোগীতে কাহিল ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা


চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছেন ডেঙ্গু রোগী। ১৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বুধবার তোলা

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে। অন্যান্য রোগীর পাশাপাশি ডেঙ্গু আ*ন্তদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এতই বেশি যে, রোগীদের সুস্থ করতে মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম করায় অনেক চিকিৎসক, নার্স ইতিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু আ*ন্তদের চাপ এভাবে আরও এক মাস চলমান থাকলে বিদ্যমান লোকবল দিয়ে রোগীদের সেবা দেয়া এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে, এমনকি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলেও বিশেষজ্ঞদের।

মঙ্গলবার ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যুর পর বুধবারও ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আ*ন্তদের মধ্যে পুলিশের এক এসআই রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী ইতিমধ্যে দেশের ৬৩ জেলাতেই ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৭৭ জন। এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে জুলাই মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ৯৯৬ জন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ায় এবং দেশের বেশিরভাগ এলাকা বন্যাকবলিত হওয়ায় জেলা-উপজেলা পর্যায় থেকে চিকিৎসক আনা এ সময়ে সম্ভব নয়। আসন্ন ঈদুল আজহায় দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে ব্যাপক ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের মূল সময় এখনও প্রায় এক মাস বাকি। যতবারই বাংলাদেশে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে ততবারই তা ছিল আগস্ট থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

এ সময়ে ডেঙ্গু আ*ন্ত এবং মৃত্যু দুই-ই বাড়ে। সামগ্রিক বিবেচনায় রাজধানীসহ সারা দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর বেসিক সায়েন্স বিভাগের শিক্ষকদের চিকিৎসায় যুক্ত করার প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিকিৎসা ব্যবস্থাপকরা।

পাশাপাশি যেখানে রোগীর চাপ বেশি সেখানে ইন্টার্ন চিকিৎসক (শিক্ষানবিশ) অনারারি (প্রশিক্ষণার্থী) চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানোর পরামর্শ তাদের।

এদিকে রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের বারান্দায়ও রোগীদের ঠাঁই মিলছে না। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নেই কোনো ফাঁকা শয্যা।

সরেজমিন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রথম ও ২য় তলায় ১, ৩, ৪ ও ৭নং ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হলেও ক্রমাগত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় এখন ৬নং ও ১১নং ওয়ার্ডেও এসব রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এসব ওয়ার্ডের মেঝেতে এমনকি বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। সেখানে নেই পর্যাপ্ত আলো-বাতাস। গরমে টিকে থাকা দায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবস্থা আরও ভয়া*হ। সেখানে লিফটের সামনে, সিঁড়ির উপরে ও নিচেও রোগীদের গাদাগাদি।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জোহায়ের যুগান্তরকে জানান, রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে গিয়ে জ্বর নিয়ে তাকে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। রিপোর্ট আনতে গিয়েও একই অবস্থা।

এটি বর্তমানে একটি বা দুটি হাসপাতালের চিত্র নয়। ঢাকার সব সরকারি হাসপাতালের একই চিত্র। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর অত্যধিক চাপ বিদ্যমান। রোগীর চাপ সামলাতে ইতিমধ্যে অনেক চিকিৎসক এবং নার্স অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের মহাসচিব ইকবাল হোসেন সবুজ যুগান্তরকে জানান, অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে ইতিমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধিকাংশ নার্স ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। মুগদার ২০ জন নার্সকে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। অন্যান্য হাসপাতালেও একই অবস্থা। এভাবে বিরামহীন কাজ করতে হলে কয়েক দিনের মধ্যেই নার্সদের অনেকের পক্ষে রোগীর সেবা দেয়া সম্ভব হবে না। তিনি রাজধানীর ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় আরও বেশি সংখ্যক নার্স সংযুক্তির দাবি জানান।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, অধিক পরিশ্রম করায় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা ইতিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, দিনরাত ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে অনেক চিকিৎসক এখন অসুস্থ। এমনকি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিক রাখতে তাকেও দিনরাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম বাকি এখনও প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস। এভাবে ক্লান্তিহীন চিকিৎসা দিলে হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। তাই আগামী দিনগুলোতে রোগীদের সেবা নিশ্চিতে তিনি মেডিকেল কলেজের বেসিক সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক, অনারারি চিকিৎসক এবং ইন্টার্নদের কাজে লাগানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এমনকি ইতিমধ্যে তিনি কলেজের অধ্যক্ষকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন বলেও জানান।

পুরো মৌসুমে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আমিনুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে নানা ধরনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। দ্রুতই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে রি-এজেন্টের অভাবে সোমবার ডেঙ্গু শনাক্তকরণে এনএস-১ টেস্ট বন্ধ ছিল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত বৃহস্পতিবারে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালেও এ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

হাসপাতালগুলোতে বিনা মূল্যে পরীক্ষার সুযোগে অনেকে কৌতূহলী হয়ে রক্ত পরীক্ষা করছেন। ফলে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে রি-এজেন্টের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই আ*ন্ত মানুষ ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে গিয়ে ফিরে আসছেন।

অথবা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন। একসঙ্গে অনেক বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি ও পরীক্ষার কারণে রি-এজেন্টের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমরা বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, কিট এবং রি-এজেন্টের ঘাটতি মেটানো হয়েছে। তবে স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি স্যালাইন ক্রয়ের অনুমতি দেয়ায় দ্রুত এ সং*ট মেটানো সম্ভব হবে।

কিটের অভাবের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, এ সমস্যা ইতিমধ্যে বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে এক লাখ এনএসওয়ান (ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা) কিট কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

চারজনের মৃত্যু : বুধবার ডেঙ্গুতে আ*ন্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) কোহিনুর আক্তার মারা গেছেন।

বুধবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশলাইনস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ সদর দফতরের একটি সূত্র এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার ২০ মাস বয়সী একটি সন্তান আছে। ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে বুধবার দুপুরে এক ডেঙ্গু রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আবদুর রহমান খান জানান, রবিউল ইসলাম রাব্বি নামের ২২ বছর বয়সী ওই যুবকের বাসা মিরপুর শেওড়া পাড়ায়। এ ছাড়া গৌরনদীতে ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে আলেয়া বেগম (৫৫), শরীয়তপুরের জাজিরার বর্ষা আক্তার (২৬) নামের এক স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক আয়েশা আক্তার জানান, গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ১৮৩ জন ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে জুলাই মাসেই ১৪ হাজার ৯৯৬ জন। এ সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২ হাজার ২৬৬ জন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪ হাজার ৯০৩ জন। ঢাকার বাইরে আরও ৬৩ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে।

এসব জেলায় ১৪২৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫০ ছাড়িয়ে গেছে। রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্যানুযায়ী চলতি বছর ডেঙ্গুজ্বরে আ*ন্ত নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে ১৫-২৫ বছর বয়সী রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নারীদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ৫-১৫ বছর বয়সীরা। আর পুরুষের ক্ষেত্রে ২৫-৩৫ বছর বয়সীরা।

বিনা মূল্যে প্লাটিলেট সংগ্রহ : ঢাকার চারটি বিশেষায়িত হাসপাতাল ডেঙ্গুজ্বরে আ*ন্তদের জন্য বিনা মূল্যে রক্ত থেকে প্লাটিলেট সংগ্রহ করে দেবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা এ তথ্য জানান। সারা দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা জানাতে বুধবার সকালে অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

এগুলো হল : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট। অধ্যাপক সানিয়া জানান, রোগীরা নিজেরা বা সন্ধানীর মতো রক্ত পরিসঞ্চালনে সহায়তায় ডোনার নিয়ে এসব হাসপাতালে গেলে তারা বিনা মূল্যে রক্তের প্লাটিলেট আলাদা করে দেবে। রক্ত থেকে প্লাটিলেট আলাদা করতে যেন একটা নির্ধারিত মূল্য ধরা হয় সে বিষয়েও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষায় যেন কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে এক লাখ এনএসওয়ান (ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা) কিট কিনবে সরকার। আজ রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, তাদের হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের ডেথ রিভিউ কমিটির ডেঙ্গু রোগে মৃত্যুবরণকারীদের সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করতে কিছুটা সময় লাগে। মৃতের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করতে দেরি হয়।

এদিকে স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসছেন। বুধবার রাতে তিনি দেশে ফিরছেন। বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আজ বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) : কালীগঞ্জে ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে আবদুর রহমান নামে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার রেনেসাঁ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। নিহত আবদুর রহমান কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইস গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মো. আরিফ হোসেনের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার শিশু আবদুর রহমান জ্বরে আ*ন্ত হলে চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোববার চিকিৎসক তাকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে পাঠান। ওই দিনই তাকে সেখান থেকে ঢাকা রেনেসাঁ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এ হাসপাতালে দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সে মারা যায়।

গৌরনদী : বরিশালের গৌরনদীতে ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে আলেয়া বেগম (৫৫) নামের এক গৃহিণীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গৌরনদী পৌরসভার আশোকাঠি এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের বরাত দিয়ে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহাবুব আলম মির্জা জানান, পৌরসভার আশোকাঠি এলাকার আ. মন্নান ফকিরের স্ত্রী আলেয়া বেগম ঢাকায় বেড়াতে গিয়ে ডেঙ্গু জীবাণু তার শরীরে বহন করে বৃহস্পতিবার নিজবাড়িতে ফিরে আসেন। ওইদিন রাতে প্রচন্ত জ্বর অনুভাব করলে শুক্রবার সকালে তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন।

সকালে গৌরনদী বন্দরে এক ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে যান। তখন ওই ডাক্তার আলেয়াকে রক্ত পরীক্ষা করতে বলেন। এতে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তাকে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন ওই ডাক্তার। অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়।

চাঁদপুর : ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীদের চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে হাসপাতাল চত্বরে থাকা ফার্মেসি থেকে। স্যালাইন হাসপাতালে আছে কি না, তা কেউ জানতে চাইলে দায়িত্বরত নার্সরা বলছেন সরবরাহ নেই।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেল, ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। পুরুষ ওয়ার্ড, মহিলা ওয়ার্ড, কেবিন ছাড়িয়ে ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের বারান্দা এবং ওয়ার্ডের ফ্লোরে। চাঁদপুর সদরের বহরিয়া থেকে আসা রোগী নাহিদ বলেন, পাঁচ দিন হল আমি সদর হাসপাতালে ভর্তি। এই ক’দিনে ৫টি স্যালাইন বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনেছি।

হাসপাতাল থেকে শুধু দেয়া হয়েছে প্যারাসিটামল আর গ্যাস্ট্রিকের টেবলেট। এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুল আজিম বলেন, স্যালাইনের সাপ্লাই নেই, এটি ভুল।

ডেঙ্গু আ*ন্তদের জন্য স্যালাইন ছিল না, তবে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে এটি রোগীদের সরবরাহ করছি। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে জুলাইয়ে ৯০ জন ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগী চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন।

নরসিংদী : দুই দিনে শুধু সরকারি হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন ২০ জন ডেঙ্গু রাগী। তবে সরকারি সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, নেই রক্তের সেল কাউন্টার মেশিন। তাই রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোয় ছুটতে হচ্ছে।

নরসিংদী সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সৈয়দ আমিরুল হক শামীম বলেন, আমাদের হাসপাতালে রক্তের সেল কাউন্টার মেশিন নেই। আমরা দরিদ্র রোগীদের মাইক্রোস্কোপ দিয়ে সেল কাউন্টার করে দিচ্ছি।

নওগাঁ : ১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আটজন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি তিনজনের অবস্থা আশ*জনক হওয়ায় তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নওগাঁর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রওশন আরা খানম বলেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কোনো যন্ত্র ছিল না। ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এরই মধ্যে ‘এনএস-১ ডিভাইস’ হাসপাতালে আনা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ : বুধবার সকাল থেকে দুপুর নাগাদ আরও ৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সবমিলিয়ে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৩৫ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এর আগে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। জেলা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল আওয়াল বলেন, আগে থেকে হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কোনো প্যাথলজিক্যাল কিট ও রিএজেন্ট ছিল না। ডেঙ্গু রোগী আসা শুরু করলে প্রথম পর্যায়ে জেলা গ্রশাসকের বিশেষ অনুদানে কিছু কিট ও রিএজেন্ট কেনা হয়। এক সপ্তাহের পরীক্ষায় সেগুলো শেষ হয়ে গেছে। চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। এখনও প্রয়োজনীয় কিট ও রিএজেন্ট আসেনি। তবে খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে।

রংপুর : রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কোনো যন্ত্রপাতি রিএজেন্ট নেই। চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে অনুমাননির্ভর। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগী।

২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৮ জন রমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক চিকিৎসক দেবেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ডেঙ্গু শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

নওগাঁ ও নিয়ামতপুর : নওগাঁ সদর হাসপাতালে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আটজন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। বাঁকি তিনজনের অবস্থা আশ*জনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে হাসপাতলে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিডস না থাকায় আত*র মধ্যে আছেন জেলাবাসী। দ্রুত ডেঙ্গু চিকিৎসার সরঞ্জাম হাসপাতালে আনার দাবি সচেতনদের।

গাজীপুর : ডেঙ্গুর পর এবার ডায়রিয়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আ*ন্ত ১৬০ জন রোগী এবং গত দুই দিনে ৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিছানা সংকট দেখা দিয়েছে। তাই অনেক রোগী মেঝেতে, বারান্দায় বিছানা পেতে অবস্থান নিয়েছেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকরাও হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলমের একান্ত সচিব ও জনসংযোগ কর্মকর্তা (প্রেষণে) ড. সেলিম শেখ ডেঙ্গু রোগে আ*ন্ত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম ও হাটহাজারী : গায়ে জ্বর জ্বর ভাব হওয়ায় দেরি না করে রক্ত পরীক্ষা করান ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ মেহরাজ আক্তার (২২)। বুধবার সকালে রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে জানা যায়, তিনি ডেঙ্গু আ*ন্ত। দেরি না করে দ্রুত চমেক হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

বুধবার দুপুরে নগরীর আকবরশাহ থানাধীন বিশ্বকলোনির বাসিন্দা মেহরাজকে তার অভিভাবকরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভর্তি দেয়া হয় মেডিসিন বিভাগের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডেঙ্গু কর্ণারে।

বর্তমানে তিনি ওই ওয়ার্ডের ৫৫ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। গর্ভবতী মেহরাজসহ ডেঙ্গু কর্নারে রয়েছেন আরও ২২ জন রোগী। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলা থেকে আশা রোগীরাও চিকিৎসাধীন।

চমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বুধবার চমেক হাসপাতালে নতুন ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এসব রোগী ভর্তি হয়।

বগুড়া : কয়েকদিনে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ১০২ ডেঙ্গু আ*ন্ত চিকিৎসা নেন। তাদের অধিকাংশই ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জীবাণু বহন করে আনেন। বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ৬ নারীসহ ৪৮ জন ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ৪৮ জন বাড়ি ফিরে গেছেন। ৬ জন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা গেছেন।

এদিকে বুধবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু ডেঙ্গু বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : ডেঙ্গুতে আ*ন্ত হয়েছেন জেলা (গ) সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আফসার উদ্দিন। তিনি ধানমণ্ডির গ্রিনরোড সেন্ট্রাল হাসপাতালে ৭ দিন চিকিৎসা নেন। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকরা তাকে রিলিজ দিয়েছেন।

বাগেরহাট : বুধবার সকাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আ*ন্ত হয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ৮ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে ১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৭ জনের মধ্যে ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়।

অন্য ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আ*ন্তরা সবাই ঢাকাফেরত বলে স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করেছে।

বরিশাল : বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আ*ন্ত ৫০ জন রোগী চিকিৎসাধীন। যার মধ্যে ৩ জন শিশু, ৩৪ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। বুধবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৪ ঘণ্টায় শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী। হাসপাতালে এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ১০১ জন রোগী। যাদের মধ্যে বাড়ি ফিরে গেছেন ৫১ জন।

খাগড়াছড়ি : ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৭ জন। এর মধ্যে ৪ জন নারী, ৩ জন পুরুষ। এ নিয়ে জেলায় ডেঙ্গু আ*ন্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১১ জনে। তবে আক্রান্তদের সবাই ঢাকায় বসবাস করতেন।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আরও তিনজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮ জনে। এরা সবাই ঢাকায় আক্রান্ত হয়ে কুড়িগ্রামে এসে ভর্তি হন।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নিজামুল হাসান জানান, মঙ্গলবার একজন এবং বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত চার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। তারা প্রত্যেকেই দু-একদিনের মধ্যে ঢাকা থেকে নেত্রকোনায় এসেছেন।

মেহেরপুর : ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল ও গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার দুইজন এবং বাকিরা বুধবার সকালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা ও সচেতনতায় জরুরি মতবিনিময় সভা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিলেট : সিলেটে ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীর সংখ্যা ৯২ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২০ জন। বাকিরা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নুরে আলম শামীম।

মৌলভীবাজার : বুধবার বিকাল পর্যন্ত মৌলভীবাজারে ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে। তারা ঢাকা থেকে এ রোগে আ*ন্ত হয়ে এসেছেন। তবে একজন স্থানীয়ভাবে আ*ন্ত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা।

রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নতুন করে আরও ১৯ জন ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তারা ভর্তি হন। এ নিয়ে হাসপাতালে এখন ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীর সংখ্যা ৩৭ জন।

শরীয়তপুর : ১ সপ্তাহে জেলায় ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ১ জন, জাজিরা উপজেলায় ৩ জন, নড়িয়া উপজেলায় ১ জন, ডামুড্যা উপজেলায় ১ জন ও গোসাইরহাট উপজেলায় ৪ জন রয়েছেন। তবে এদের বেশির ভাগই ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর ঢাকায় চিকিৎসা নিতে চলে গেছেন। আবার দু-একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) : গত দুই দিনে ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়েছেন তিনজন। তারা হলেন উপজেলার সবুজনগর এলাকার নুরুন্নবী (২৫), দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামের আরাফাত (১৮) ও ডৌয়াতলা গ্রামের গোলাম রাব্বি (১৮)।

ফরিদপুর : বুধবার দুপুর পর্যন্ত ১০ দিনে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালসহ শহরের ৪টি হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ৮৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৭ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া ২ জন উন্নত চিকিৎসা নেয়ার জন্য ঢাকায় গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭০ জন।

খুলনা : ডেঙ্গু ও গুজব প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে খুলনা স্কাউটস ও রোভার স্কাউটসের সহযোগিতায় এবং খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার সকালে খুলনা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যশোর : ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। বুধবার জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শহরে লিফলেট বিতরণ ও পরিচ্ছনতা অভিযান উদ্বোধন করা হয়।

এছাড়া শেরপুরে ২১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আড়াইহাজারে ৬ জন, ভৈরবে ৫ জন, সরিষাবাড়ীতে ৩ জন, আগৈলঝাড়ায় ৭ জন, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১ জন, চরফ্যাশনে ৮ জন ডেঙ্গুতে আ*ন্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের অর্জিত আকাশসীমায় ফ্লাইট, রাজস্ব নিচ্ছে ভারত


বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অর্জিত জলসীমার ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল করলেও অবকাঠামো সমস্যার কারণে সেই রাজস্ব আদায় করা যাচ্ছে না। ওই আকাশপথ এখনো ভারতের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে রয়েছে এবং এসব ফ্লাইটের কাছ থেকে রাজস্বও আদায় করছে ভারত।

জানা গেছে, মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে বিশাল সমুদ্রসীমা জয়লাভের পর বাংলাদেশের অর্জিত জলসীমার ওপর দিয়ে বিমান চলাচলের জন্য পাঁচটি আন্তর্জাতিক রুটের খোঁজ পাওয়া গেছে। এয়ার ট্রাফিক সার্ভিস প্রদানের জন্য এ রুটগুলোর ট্রাফিক কন্ট্রোল বাংলাদেশ বুঝে নিতে পারলে রাজস্বপ্রাপ্তির খাতায় বছরে যোগ হবে প্রায় ২৫৫ কোটি টাকা।

সূত্রগুলো জানায়, বর্ধিত জলসীমায় পাঁচটি রুটের মধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক রুট চিহ্নিত করা গেলেও সেগুলো বাংলাদেশের রাডার ব্যবস্থার কাভারেজের বাইরে অবস্থিত। এ তিনটির মধ্যে ‘পি ৬৪৬’ নামে একটি রুটের সন্ধান পাওয়া গেছে যে রুট দিয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৫টি এয়ারক্রাফট যাতায়াত করে। সম্প্রতি কারওয়ান বাজারের পেট্রোসেন্টারে ‘ব্লু ইকোনমি’-সংক্রান্ত এক সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকের প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশের অ্যারোনটিক্যাল চার্জ অনুযায়ী ‘পি৬৪৬’ রুটে চলাচলকারী মাঝারি টাইপের এয়ারক্রাফটের চার্জ হিসাব করলে দৈনিক গড় রাজস্ব দাঁড়ায় (৫৫ গুণক ৩০০ মার্কিন ডলার) ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। দেখা যাচ্ছে এই একটি রুট থেকে বার্ষিক সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ ৬০ লাখ ২২ হাজার ৫০০ ডলার।

সূত্র জানান, বাংলাদেশের অর্জিত আকাশসীমায় আরও দুটি আন্তর্জাতিক রুট চিহ্নিত করা গেছে ‘এন ৮৯৫’ ও ‘এম ৭৭০’ নামে। তবে রাডার এরিয়ার বাইরে থাকায় ওই দুটি রুটে চলাচলরত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের হিসাব সংগ্রহ করতে পারেনি বেবিচক। বেবিচকের তথ্যানুযায়ী অর্জিত জলসীমায় একটি আন্তর্জাতিক রুট থেকে যদি বছরে ৬০ লাখ ২২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার আয় হয়, তবে পাঁচটি রুটে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্জিত জলসীমার ওপর বাংলাদেশের যে আকাশসীমা রয়েছে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় সেখান থেকে বছরে ওই পরিমাণ রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে জানতে বেবিচকের ডিরেক্টর (এটিএস অ্যান্ড অ্যারোড্রোমস) আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ ফ্লাইট ওভারফ্লাইং করে। প্রতিটি বড় আকারের এয়ারবাস থেকে আমরা ৪০০ মার্কিন ডলার রাজস্ব পাই। এ রাজস্ব কোনোভাবেই মিসিং হওয়ার সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, কলকাতা থেকে “লিমা ৫০৭” একটি রুট বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে কিছুটা আকাশসীমা ব্যবহার করে আবার ভারতের আকাশসীমায় পড়েছে। ওই রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটের যে কথোপকথন (বিএইচ) তা আমরা ঠিকভাবে শুনতে পাই না। আমাদের অনুরোধে কলকাতা পোর্ট কর্তৃপক্ষ সেই কথোপকথন পরিচালনা করছে, কিন্তু চার্জ আমরা আদায় করছি।’ তবে তিনি বঙ্গোপসাগরে অর্জিত জলসীমার ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্জিত জলসীমার ওপর দিয়ে যে আকাশসীমা রয়েছে তা পাশের দেশ ভারতের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বঙ্গোপসাগরে অর্জিত ওই বিশাল এলাকার ওপর যেহেতু বাংলাদেশের আগে একচ্ছত্র অধিকার ছিল না, সেহেতু ওই আকাশসীমায় ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিওন গড়ে তোলার কোনো সুযোগ ছিল না। তবে এখন সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এফআইআর বর্ধিত করতে হলে চট্টগ্রামে অবস্থিত রাডারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধাও গড়ে তুলতে হবে।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‘বাংলাদেশে এখন নমরুদের শাসন চলছ’


পৃথিবীর ইতিহাসে নমরুদ ছিল এক মহাপ্রতাপশালী জালেম-অত্যাচারী বাদশাহ। তার মিথ্যা খোদায়িত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আসল খোদার সাথে আকাশে ওঠার চেষ্টা করে পাগলামি-উন্মাদনার এক অভিনব রেকর্ড সৃষ্টি করছিল। নমরুদকে খোদা বলে স্বীকার না করার কারণে হযরত ইব্রাহীম (আ) কে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিলো। নমরুদের হুকুম যারা মানতো না এমন কোনো জুলুম-নিপি*ন নেই যা তাদরে ওপর আসতো না।

এরপরেও যুগে যুগে নমরুদরা এসেছে। ওই নমরুদের সাথে পররর্তী যুগের নমরুদদের পার্থক্য ছিল শুধু তারা নিজেকে খোদা দাবি করেনি কিন্তু তাদরে কর্মকাণ্ড ছিল সেই নমরুদদের মতোই। নিজেদের একক ক্ষমতা প্রতষ্ঠিত করার জন্য জনগণের ওপর তারাও চালয়িছেে জুলুম নির্যা*নের স্টিম রোলার। এখনো বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই নমরুদদের শাসন চলছ।

এর মধ্যে জ্বলন্ত উদাহরণ হলো বর্তমান বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার বিগত ১১ বছরের শাসন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সেই নমরুদের চেয়ে তিনিও কোনো দিক থেকে পিছিয়ে নেই। ক্ষমতাকে ধরে রাখতে এবং জনগণের ওপর তার একক আধিপত্য বিস্তারের জন্য নমরুদের মতোই অত্যাচার নির্যা*ন চালিয়ে যাচ্ছেন।

হাসিনা তার বিগত ১১ বছরের শাসনামলে সবচয়েে বেশী অত্যাচার নির্যা*ন চালাচ্ছে এদেশের সবচয়েে বড় ইসলামী শক্তি জামায়াতে ইসলামীর ওপর। শুধু মাত্র আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করার কারণে কথতি যুদ্ধাপরাধরে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভযিোগ তুলে জামায়াতের র্শীষ ৬ নেতাকে ফাঁসতিে ঝুলিয়ে নির্ম*ভাবে মারা হয়।

এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশবিরিকে নির্মূল করার লক্ষ্যে দুইটি সংগঠনরে সহস্রাধকি নেতার্কমীকে গুম-অপহ*ণ ও কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে করেছে। তার অবধৈ র্কতৃত্বকে মেনে না নেওয়ার কারণে প্রতদিনই নেতাকর্মীদেরকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে নির্যা*ন করছে।

শুধু জামায়াত-শিবির নয়, হাসিনার বিরোধী যত দল মতের লোক আছে সবার ওপরই চালিয়ে যাচ্ছে নির্মম নির্যা*ন। বিএনপির শত শত নেতাকর্মীও নির্মমভাবে হত্যা করছেে তিনি।

এছাড়া দেশে এখন অপরাধের মহোৎসব চলছে। এমন কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ড নেই যা এখনও দেশে ঘটেনি। খু*-র্ধষণ দেশে এক মহামারি আকার ধারণ করছে। সহজভাবে বললে দেশে এখন পাপাচারে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

দেশে যে নমরুদের শাসন চলছে এবং অনাচার-পাপাচারে যে দেশে ভরে গেছে সেটা এখন হাসিনার দলের লোকজনই টের পাচ্ছে। শেখ হাসিনার ডান হস্ত হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান বর্তমান অবস্থাকে নমরুদের শাসন বলে তুলনা করছেন। যদিও তিনি এখানে শেখ হাসিনার নাম মুখে উচ্চারণ করেননি।

মঙ্গলবার একটি সভায় শামীম ওসমান বলছেনে, ‘এডিস মশা বিনা কারণে আসে না। এই মশার উদ্ভব হয়ছেে নমরুদের সময়। নমরুদ যখন অনাচার করছলিো দুনিয়াতে। একটা মশা এসে তার নাক দিয়ে ঢুকে গিয়েছিলো। ওই মশার নাম কি ছিল আমি জানিনা। মশার অত্যা*রে সে তার মাথায় বাড়ি দিতে বলেছিল। মশা দিয় আল্লাহ তাকে শিক্ষা দিয়েছলেন। যখন কোনো দেশে পাপাচার হয়, এটা ন্যাচারাল গজব।

এখানে শামীম ওসমান মুখে হাসিনার নাম উচ্চারণ না করলেও সচতেন মানুষরে আর বুঝার বাকী নেই যে তিনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন।

এমনকি সাধারণ মানুষ মনে করছেন বিরোধী দল সহ সাধারণ মানুষের ওপর শেখ হাসিনার অত্যাচার নির্যা*নের মাত্রা এখন মা*ত্মক পর্যায়ে চলে গেছে। অপরাধীরা অবাধে অপরাধ কর্মকাণ্ড করলেও সরকার নিরব ভূমিকা পালন করছে। এমনকি হাসেনার সোনার ছেলেরা হাজার অপরাধ করেও থাকছে ধরা ছোয়ার বাইরে। শেখ হাসিনার পেটুয়া বাহিনী ও সোনার ছেলেদের হামলা-মামলার ভয়ে মানুষ মুখ খুলতে পারছে না। যার কারণে বাংলাদশেে এখন বিভিন্ন সময় আল্লাহর পক্ষ থকেে প্রাকৃতকি গজব নাযলি হচ্ছ।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ মানুষ কষ্ট পেলেও সরকারের খবর নেই : বগুড়ায় ত্রাণ বিতরণকালে ইকবাল হাসান টুকু


বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের ত্রাণ কমিটির আহ্বায়ক ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে দাঁড়ায়। কারণ জনগণই আমাদের শক্তি, কোন কোর্ট কাচারী নয়। কিন্তু আওয়ামীলীগ তা করে না। কারণ তাদের জনগণের প্রয়োজন নেই। জনগণের ভোট নয়, রাতের ভোট নিয়ে আজ তারা ক্ষমতা দখল করে আছে। মানুষ বন্যায় কষ্ট পেলেও সরকারের খবর নেই।

বুধবার দুপুরে বগুড়ার সারিয়াকান্দির মথুরাপাড়ায় বন্যা দূর্গত এলাকায় জেলা বিএনপির ত্রাণ কমিটির উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন টুকু।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জেলে ও তারেক রহমান দেশের বাইরে। তাই আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পারছেন না। তাদের নির্দেশেই আমরা ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে এসেছি। তিনি আরো বলেন, দেশে আজ বিচার নেই, বিচার থাকলে খালেদা জিয়া জেলে থাকতে পারে না। বন্যা ও ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বগুড়া সদরের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মানষের পাশে দাড়ান। কেউ ঐক্যে ফাটল ধরালে দল বহিস্কার করবে।

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু বলেন, বিএনপির সাথে আওয়ামীলীগের পার্থক্য হলো দূর্গত মানুষের পাশে থাকে বিএনপি। জনগণকে নিয়েই আমাদের রাজনীতি।

ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন-জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, কাহালু নন্দিগ্রাম এলাকার সংসদ সদস্য আলহাজ মোশারফ হোসেন, বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন চাঁন, এমআর ইসলাম স্বাধীন, কেএম ,খায়রুল বাশার, সহিদ উন নবী সালাম, শেখ তাহা উদ্দিন নাহিন, মোশারফ হোসেন চৌধুরী, মাজেদুর রহমান জুয়েল, খাদেমুল ইসলাম, কাজী এরফানুর রহমান রেন্টু , আলী হায়দার তোতা, জাহাঙ্গীর আলম, আবু হাসান , নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান, আলী হাসান নারুন প্রমুখ।

এরপর বিএনপি নেতা টুকু সোনাতলা উপজেলার পাকুল্যা ইউনিয়নের চাড়ালকান্দি এলাকায় বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন চৌধুরীর সৌজন্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। বিকেলে শহরের মালতিনগরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ ও সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু । বৃহস্পতিবার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি রয়েছে জেলা বিএনপির।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here