ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যে আবারও উত্তপ্ত সংসদ (ভিডিও সহ)

0
1960

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক এবং সংসদের বৈধতা নিয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রশ্ন করায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠে সংসদ অধিবেশন।

রোববার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় এমন উত্তপ্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নির্ধারিত ১০ মিনিটের বক্তৃতায় তিন দফায় বাধার সম্মুখিন হন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এই সংসদের কেউ বলতে পারবেন জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটে নির্বাচিত? কেউ বলতে পারবেন না। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি দলের সদস্যরা হই হই করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার তার বক্তব্য থামিয়ে বলেন, আপনি বাজেটের বাইরে এমন কোনো কথা বলবেন না যাতে সংসদ উত্তপ্ত হয়।

ভিডিওঃ  ‘ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যে আবারও উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, এই সংসদে আসার আগে সংসদ নেতা বলেছিলেন আমাদের কথা বলতে দেবেন। কিন্তু আমার প্রথম বক্তৃতার দুই মিনিটের এক মিনিটও শান্তিমতো কথা বলতে পারিনি। একই ঘটনা আজকেও।

কথা শুরু করার ৩৬ সেকেন্ডের মাথায় তার বক্তৃতা থামিয়ে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, এমন কথা বলবেন না যাতে বিরোধী পক্ষ উত্তেজিত হয়।

পুনরায় বক্তব্য শুরু করে বলেন, আমরা কথা বলতে পারছি না। কোনো গণতন্ত্রের কথা বলছি। আমি আমার দলের কথা বলব, তারা তাদের দলের কথা বলবে।

প্রশ্ন রেখে বলেন, আমি দাঁড়াবার সঙ্গে সঙ্গে পুরো সংসদ যদি উত্তেজিত হয়ে যায়, তাহলে কীভাবে কথা বলব? পুরো ১০ মিনিটের বক্তৃতায় কয়েক সেকেন্ড শুধু সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা করেন।

তার সেই আলোচনায় বলেন, ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৭৬ শতাংশ। সরকারের সক্ষমতা দিন দিন কমছে।

নির্বাচন কমিশনে ব্যয় বাড়ানোয় সমালোচনা করে ব্যারিস্টার ফারহানা বলেন, নির্বাচন কমিশনের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। কি নির্বাচন তারা করেছে?

‘আমার একটা কথায় পুরো সংসদ উত্তপ্ত। কলামের পর কলাম লেখা হয়। এই সংসদে যারা আছেন, তারা আল্লাহকে হাজির নাজির করে বলুক তারা জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন? তারা নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুক সবাই উত্তর পেয়ে যাবেন।’

বক্তৃতার ৪ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডে আবারও বাঁধা প্রদান করা হয়। এভাবেই তার ১০ মিনিটের বক্তৃতা শেষ করেন।

পরে ডেপুটি স্পিকার তাকে উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি বাজেটের বাইরে ও সংসদীয় ভাষার বাইরে যে কথাগুলো বলেছেন তার সবকথা সংসদীয় প্রসিডিউর থেকে এক্সপাঞ্জ করা হল।

এই কথা বলার পর বিএনপির সবাই অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান। পরে অবশ্য আবার অধিবেশনে ফেরেন।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে খেলতে গিয়ে এবার বোল্ড আউট সামীম আফজাল!


জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে খেলতে গিয়ে এবার বোল্ড আউট হলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, মাজারপূজারী ও চরম ইসলাম বিদ্বেষী সামীম মো. আফজাল। এর আগে জামায়াতকে নিয়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড আউট হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, কথিত গণজাগরণের নায়ক খ্যাত ডা. ইমরান এইচ সরকার ওরফে শাহবাগী ইমরান ও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। জামায়াতকে নির্মূল করার জন্য যত প্রকার চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র আছে সবই তারা করেছিল। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তারা আর মাঠে থাকতে পারলেন না। যারা তাদেরকে মাঠে নামিয়েছিল সেই শেখ হাসিনাই মাঠ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন।

জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রোগাগান্ডা চালানো ও জামায়াত নেতাকর্মীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখলে নেয়ার জন্য শেখ হাসিনা বেছে নিয়েছিলেন সামীম মো. আফজালকে। আর সরকারি প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন জামায়াত ঘাটি হয়ে গেছে এমন অভিযোগ এনে সামীম আফজাল এটাকেও তার দখলে নিয়েছিলেন।

দেখা গেছে, ইসলামী ব্যাংককে সরকার দখলে নেয়ার পরই ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব দেয়া হয় সামীম আফজালকে। তিনি এসেই জামায়াত কানেকশান অজুহাত তুলে ব্যাংকটির অনেক মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তাকে ছাটাই করে। সহজভাবে বলায় সামীম আফজাল এসেই ইসলামী ব্যাংককে অস্থির করে তুলে। একটি পর্যায়ে মালিক পক্ষের সঙ্গেও তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে ব্যাংকের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এরপর শুরু করেন ইসলামী ব্যাংক পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে। এখানে এসে প্রথমেই সেন্ট্রাল হাসপাতালের পরিচালক ডা. হাফিজুর রহমানসহ গুরুত্বপূর্ণ ডাক্তার ও কর্মকর্তাদেরকে অপমান করে সরিয়ে দেয়। পুরো হাসপাতালই তিনি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। ঠিক ব্যাংকের মতো হাসপাতালটিকেও অস্থির করে তুলেন। এক পর্যায়ে ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সবাই তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। নালিশ যায় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও। এরপর অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে এখান থেকেও তিনি বিদায় নেন।

এরমধ্যে তিনি ব্যাংক ফাউন্ডেশন থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হওয়ার পর এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তিনি করেন নি। এখানে তার বড় অপকর্ম ছিল নিয়োগ দুর্নীতি। বিগত কয়েক বছরে যত লোক নিয়োগ দিয়েছেন সবই ছিল টাকার বিনিময়ে। আর প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছেন।

এছাড়া, সামীম আফজালের সবচেয়ে বড় মিশন ছিল জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানো। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে গিয়ে তিনি বলতেন, জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জামায়াত জড়িত। এসব কাজে জামায়াতকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা হাসপাতাল ও ব্যাংক হাসপাতাল। তিনি সব সময় সরকারকে বলতেন এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য।

সর্বশেষ দেখা গেল, যেই শেখ হাসিনার জন্য সামীম আফজাল এতদিন ধরে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন, সর্বশেষ সেই হাসিনাই এখন তাকে ছোড়ে ফেলে দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সামীম আফজালের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তারাই তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রতিদিন অভিযোগ পাঠাচ্ছেন। এসব অভিযোগের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে ইফার ডিজি পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তাকে সরিয়ে দেয়ার খবর পাওয়ার পরই শনিবার ছুটির দিনে ফউন্ডেশনের অফিসে গিয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি সরানোর জন্য। কিন্তু, সেটা করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইজ্জত রক্ষায় তিনি এখন নিজ থেকেই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌সংলাপের আহ্বান বিএনপি’র সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের


সংসদের বৈধতা নিয়ে আবারো প্রশ্ন তুলে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেছেন, আমাদের ৬ জনের আসার মধ্য দিয়ে এই সংসদের বৈধতা দেয়া হয় না। আমাদের সংসদে প্রবেশের অন্যতম কারণ সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক স্পেসগুলো অনুপস্থিত। তাই সংসদে এসে কথা বলছি। আমি সংসদ নেতাকে আহ্বান জানাচ্ছি, আশা করছি দেশে সুশাসন ফিরে আনার জন্য সংসদ নেতা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। তিনি জাতীয় নেতৃবৃন্দকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে দেশে একটি আবহাওয়া তৈরি করবেন সুবাতাস বয়ে আনবেন।

রোববার বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০১৮-১৯ অর্থবৎসরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এরআগে বিকেল ৩ টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়।

বক্তৃতার শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডকে জাতীয় ট্রাজেডি আখ্যায়িত করে বিএনপি’র এই দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, সংসদ নেতা আপনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে বেদনার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনীতির ইতিহাসে জাতীয় ট্রাজেডি। আর ইন্ডিমনিটি অধ্যাদেশ বিএনপি দেয়নি। দিয়েছে আওয়ামী লীগের একটি অংশ। খন্দকার মোশতাক ক্ষমতায় থাকাকালে ইন্ডিমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে।

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে হারুনুর রশীদ বলেন, জিয়াউর রহমান দেশে যে প্রক্রিয়াতেই ক্ষমতায় আসুক না কেনো ক্ষমতায় আসার পর উনি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এনেছিলেন। এখন সেই গণতন্ত্র অনুপস্থিত।

কৃষক ধানের নায্যমূল্য পাচ্ছে না বলে ধান লাগানো বন্ধ করে দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পর্ণ হয়নি। গত অর্থবছরে কত লাখ টন ধান, কত লাখ টন গম ও চাল আমদানি করা হয়েছে? চাইলে পরিসংখ্যান দিয়ে বলতে পারি।

বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে বেশি খরচ করায় নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপি দলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, এবার জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। হ্যাঁ নির্বাচন করেছেন স্বাভাবিকভাবেই খরচ বাড়তে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচন করতে যেয়ে কোনো নির্বাচনের বৈধতা অর্জন করতে পেরেছেন? এই নির্বাচন কমিশন অযোগ্য ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছেন? কাজেই তারা যে টাকা খরচ করেছে সেটা সম্পূর্ণ অপচয় করা হয়েছে। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলব এই টাকা অপচয় করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌বেগম খালেদা জিয়ার বন্দিজীবন সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন ব্রিটিশ এমপি


বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দী দুর্বিষহ জীবন নিয়ে এবং তার দ্রুত মুক্তি দাবি করে ব্রিটিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য স্টেফেন টিমসের কাছে চিঠি দিয়েছেন লন্ডন লেবার পার্টির সদস্য ও বিএনপি নেতা মো: গিয়াস উদ্দিন। আর খালেদা জিয়ার কারাজীবন নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মূল্যায়ন জানতে চেয়েছেন বিট্রিশ হাউজ অব কমন্সের এমপি স্টেফেন টিম।

সম্প্রতি এই দুই শীর্ষ ব্যক্তির কাছে লেখা চিঠিতে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাকে ভিত্তিহীন মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে একটি পুরনো ও জরাজীর্ণ কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে। যেখানে ইঁদুর ও তেলাপোকা বিচরণ করে। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াকে কারাগারে কোনো সুযোগ সুবিধা দেয়া হয় না।

চিঠিতে বলা হয়- বেগম খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেননি। অথচ তার বিরুদ্ধে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেমনÑ র‌্যাব, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতারা গত ১১ বছরে ৬৮টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমি খালেদা জিয়ার জন্য ন্যায়বিচার, দ্রুত মুক্তি, গুম-খুন বন্ধ এবং মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

চিঠিতে বিনা অপরাধে খালেদা জিয়াকে জেলে দেয়া ও তাকে মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দেয়া, দেশে মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মুক্ত সংবাদিকতার সুযোগ, কথা বলার অধিকার, রাজনীতির সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা ও সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থার ওপর তাগিদ, তারেক রহমানের নামে যে মামলা হয়েছে তা তুলে নেয়া, দুর্নীতি বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, ফটোসংবাদিক সহিদুল আলম, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা, মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে জ্বালিয়ে মারাসহ সব অপরাধের সুষ্ঠু বিচারের জন্য ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন চাওয়া হয়। এ ছাড়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক লাখ ত্রিশ হাজার এবং খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৬৮টি মামলার প্রতিবাদ জানানো হয়।

এ দিকে ব্রিটিশ সেক্রেটারি স্টেট ফর ফরেন অ্যান্ড গভর্মেন্ট অ্যাফেয়ার্সের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চেয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন ব্রিটিশ হাউজ অব কমন্সের সদস্য স্টেফেন্স টিম। চিঠিতে নেতা বলেছেন, বাংলাদেশের কারাগারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বন্দিদশা সম্পর্কে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন যে বর্ণনা দিয়েছেন তা যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে সে ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকারের মূল্যায়ন কী?

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌চলতি সপ্তাহেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন : ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ


চলতি সপ্তাহেই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, হাইকোর্টে এখন বেগম জিয়ার দুটি মামলা আছে। একটি হলো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, আরেকটি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা। এই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে এ দুটি মামলায় জামিন চাওয়া হবে। আমরা আশা করি, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বেগম জিয়ার জামিন হবে। যদি জামিন না হয় তাহলে অবশ্যই আমরা আপিল বিভাগে যাব।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি’ শীর্ষক এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মওদুদ বলেন, সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আজ প্রায় এক বছর চার মাস যাবত বেগম জিয়া কারাগারে আছেন।আইনি প্রক্রিয়ায় তার জামিনের জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব। কিন্তু তার সত্যিকারের মুক্তি আসবে আন্দোলনের মাধ্যমে। রাজপথেই বেগম জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত হতে পারে। এ জন্য আমাদের সংগঠিত হতে হবে এবং কর্মসূচি দিতে হবে। আমাদেরকে এমন কর্মসূচি দিতে হবে, যাতে সরকার বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

মওদুদ আহমদ বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সারা বাংলাদেশের মানুষ উৎকণ্ঠিত। তারা সকলেই চায়, বেগম জিয়া যাতে আর কারাগারে না থাকেন। এটা দেশের ১৬ কোটি মানুষের ইচ্ছা। কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। সম্ভব হচ্ছে না কারণ, সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আমরা শত চেষ্টা করেও জামিনের সুরাহা করতে পারছি না।

প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের সুবিধাভোগীদের জন্য এ বাজেট। এ বাজেট জনসাধারণের জন্য না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ কোটি ৮৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে গেছে। এটা বর্তমান সরকারের বাজেটের চেয়েও বেশি টাকা। যে হারে টাকা পাচার হচ্ছে! এ পাচার কারা করছে? এ সরকারের মদদ নিয়ে যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করে টাকা করেছে, সেটা দেশে বিনিয়োগ না করে বিদেশে পাচার করেছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য সুদিন আসছে। এই সুদিন এখন সময়ের ব্যাপার। এই সুদিন সেই দিন আসবে, যেদিন গণতন্ত্র আসবে, বেগম জিয়া মুক্ত হবেন, আইনের শাসন এবং বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ফিরে আসবে। সেই দিনের অপেক্ষায় আপনাদের থাকতে হবে।

আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বিএনপির এমপিদের সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের


জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দলীয় সংসদ সদস্যদের জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এ নির্দেশ দেন। দলীয় এমপিদের নির্দেশনা দিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান করে একটি ‘ছায়া সংসদীয় কমিটি’ও গঠন করেছে বিএনপি।

বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির ছয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে স্কাইপের মাধ্যমে যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠকে সংসদ সদস্যদের পরামর্শ দিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান করে একটি ‘ছায়া সংসদীয় কমিটি’ গঠন করেছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল ছাড়াও কমিটিতে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপি সংসদে থাকবে। সংসদীয় রীতিনীতি মেনে বক্তব্য রাখবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রতিবাদও জানাবে। কিন্তু এমন কিছু করবে না যাতে সংসদের পরিবেশ নষ্ট হয়।

নির্দেশনা মতে, জাতীয় সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন মঙ্গলবারই সংসদে যোগ দেয় বিএনপি। এদিন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যে অনেক দিন পর সংসদে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়েছিল।

জানতে চাইলে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশনে আমাদের করণীয় সম্পর্কে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ বৈঠক হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আমরা সরব থাকব।

তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতির মহাতাণ্ডব চলছে। বালিশ নিয়ে মানুষ আন্দোলন করছে। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বরাদ্দের টাকা লুটপাট হচ্ছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে। জনগণের পক্ষে এসব বিষয় সংসদে তুলে ধরব। তবে কতটা পারব জানি না। এ ক্ষেত্রে স্পিকার আমাদের কতটা সহযোগিতা করে সেটি দেখতে হবে।

হারুন বলেন, ‘চলতি অধিবেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা বাজেট অধিবেশন। বাজেটে জনস্বার্থবিরোধী কিছু থাকলে তা জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে। বাজেট যাতে জনস্বার্থে হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।’

সোমবারের বৈঠকের বিষয়ে বাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার গণমাধ্যমকে বলেন, সংসদ অধিবেশন নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। যেন আমরা সবাই ঠিক থাকি, সবকিছুর ঠিকঠাক জবাব দিতে পারি, নিয়মিত অধিবেশনে যোগ দিই—এসব ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়েছে দল থেকে। পাশাপাশি সংসদে যোগদানের সুযোগের কীভাবে সদ্ব্যবহার করা যায়, সে বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে দলের সদস্যদের বক্তব্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি প্রাধান্য দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।সেই মোতাবেক বাজেট অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিএনপির নারী সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বক্তব্য রাখেন। তিনি ফ্লোর নিয়ে বলে ওঠেন, একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এ সময় সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। বিএনপির এ এমপি প্রায় আড়াই মিনিট বক্তব্য রাখলেও সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের চিৎকার, চেঁচামেচি ও প্রতিবাদের কারণে সংসদ কক্ষে কেউ রুমিনের বক্তব্য ভালোভাবে শুনতে পাননি।

ফ্লোর নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। টিআইবিসহ সবাই বলেছে- এ সংসদ জনগণের ভোটে হয়নি। তাই খুশি হব এই সংসদের মেয়াদ যেন একদিনও না বাড়ে।

রুমিনের পুরো বক্তব্য

ভিডিওঃ  ‘ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে আছি, যেই সংসদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষের, গণমানুষের নেত্রী, যিনি জীবনে কোনো দিন, কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি- সেই বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদে নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে, একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় আজকে কারাগারে ১৬ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই- বেগম খালেদা জিয়ার মামলার যে ম্যারিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার যে বয়স, সবকিছু বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।’

তারেক রহমানের প্রতি সরকার অন্যায় করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন না। আমাদের শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একেকজনের নামে শত শত মামলা। মাননীয় স্পিকার তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।’

জানা গেছে, সোমবারের ওই বৈঠকে বাজেট অধিবেশনের বিষয় অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতে সরকারের অনিয়মের বিষয়টিও তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি। সরকারের অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সংসদ সদস্যদের সাহায্য করবেন কেন্দ্রীয় কমিটির স্ব স্ব বিষয়ক সম্পাদকমণ্ডলীর নেতারা।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান আগেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিষয়কভিত্তিক সম্পাদকদের সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে পৃথক পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। যেমন, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করবেন। সেই প্রতিবেদন সংসদ সদস্যরা সংসদে তুলে ধরবেন। এ রকম সব সম্পাদককে ছায়ামন্ত্রীর মতো প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দেয়া আছে।

সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন—উকিল আব্দুস সাত্তার, মো. হারুনুর রশীদ, মো. জাহিদুর রহমান, মো. আমিনুল ইমলাম, মোশারফ হোসেন ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌হিজাব নিয়ে শেখ হাসিনার মন্তব্যে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছেঃ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী


সম্প্রতি গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ‘হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢেকে এটা কি? জীবন্ত টেন্ট (তাঁবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো, এটার তো কোনো মানে হয় না’- নারীদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার দেয়া এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী।

শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে নারীদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের জবাবে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, একজন নারীর জন্য পরপুরুষের সামনে দুই হাত, দুই পা খোলা রাখার অবকাশ নেই। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সম্পূর্ণ শরীরে পর্দা করা শরয়ি হিজাবের মূল উদ্দেশ্য।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তবে হিজাব সম্পর্কে শেখ হাসিনার ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন মুসলমান ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কোনোভাবেই শরিয়তের বিধান নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করতে পারে না।

শরিয়তের অন্যতম বিধান পর্দা সম্পর্কে দেয়া এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে তাওবা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন হেফাজত মহাসচিব।

হিজাব (পর্দা) ইসলামের অন্যতম একটি ফরজ বিধান উল্লেখ জুনায়েদ বাবুনগরী বিবৃতিতে আরও বলেন, একজন নারীর ইজ্জত আবরু রক্ষায় শরয়ি পর্দার বিকল্প নেই। একজন নারী শরয়ি পর্দা মতো চললে সমাজে ইভটিজিং, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ইত্যাদির ন্যায় অপরাধ ও অনৈকিতা থাকবে না। সমাজ হবে শান্ত ও সুশৃঙ্খল।

পর্দাহীনতার কারণেই আজ নারী নির্যাতন চরম আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশু থেকে শুরু করে সত্তর বছরের বৃদ্ধাও আজ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শুধু নির্যাতন নয়; নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যাও করা হচ্ছে। এর মূল কারণ হলো- বেপর্দা, নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা।

বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী আরও বলেন, পবিত্র কোরআন শরিফের সাতটি আয়াত এবং প্রায় ৭০টির মতো হাদিস দিয়ে পর্দার বিধান প্রমাণিত। এসব আয়াত ও হাদিস দিয়ে পর্দার বিধান প্রমাণিত হওয়ার পাশাপাশি সর্বপ্রকারের বেপর্দা হারাম হওয়াও সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

‘সুতরাং শরয়ি পর্দা নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত শেখ হাসিনার মুখে এমন আপত্তিকর মন্তব্য দুঃখজনক। প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে পর্দা সম্পর্কে দেয়া এমন বক্তব্যে কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, শরয়ি পর্দা নারীর ভূষণ, ইজ্জত আবরু রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু নারী সমাজ আজ পশ্চিমাদের তালে তাল মিলিয়ে চলাফেরা করে নিজের ইজ্জত আবরু বিনষ্ট করছেন। মানবরূপী নরপশু লম্পটদের ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

পর্দা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য নয়; বরং শালীন পোশাক পরিধান, শরয়ি পর্দা ও ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে ইভটিজিং, ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনমুক্ত সমাজ গড়তে সবার প্রতি আহ্বান জানান হেফাজত মহাসচিব।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! (ভিডিও সহ)


পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হল আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের মুসলমানরা শত শত বছর ধরে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামিক কালচার অনুযায়ী জীবন যাপন করে আসছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এদেশের মুসলমানরা ইসলামি পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করেন। তারপরও পাশ্চাত্যের গোলাম হিসেবে পরিচিত কিছু নামধারী মুসলমান এদেশের মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্যের নোংরা সংস্কৃতি ঢোকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। নেকাব ও হিজাবধারী স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারীদেরকে তারা ধর্মান্ধ বলে গালি দিয়ে থাকে। নেকাব ও হিজাব পরার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রীদেরকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আধুনিকতার নামে উলঙ্গ সংস্কৃতির অনুসারীরা প্রায় সময়ই নেকাব ও হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে থাকে। টেলিভিশনের টকশোতে তারা হিজারধারী নারীদেরকে নিয়ে নানা রকম বাজে মন্তব্য করে থাকে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো- এখন রাষ্ট্রের অভিভাবক শেখ হাসিনা নিজেও নেকাবধারী নারীদেরকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে পায়ে মোজা পরা ও নেকাব দিয়ে চোখ-মুখ ঢেকে রাখা নারীদেরকে কটাক্ষ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে এসএ টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজা প্রশ্ন করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আমাদের নারীদের বিরুদ্ধে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে, ধর্মীয় সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। এদের ব্যাপারে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন এবং রাষ্ট্র কি ব্যবস্থা নিতে পারে?

জবাবে শেখ হাসিনা অনেক বয়ান করেছেন। হযরত খাদিজা ও আয়েশার জীবন কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তারা নারী হয়েও যুদ্ধ করেছেন। ওই সময় নারীরা অনেক ক্ষমতাধর ছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের বয়ান করলেন। বললেন- আমরা নারীদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন পাইলট আছে আমার নারী, আর্মি অফিসার আছে আমার নারী, মেজর আছে আমার নারী। আমি নারীদেরকে সবখানে তুলে নিয়ে আসছি। এটাই তাদের জবাব।

এরপর কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দাঁড়ালেন প্রশ্ন করতে। ওই সময় শেখ হাসিনা নারীদের প্রসঙ্গে আবার বললেন, হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢাইক্কা এটা কি? জীবন্ত tent (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটারতো কোনো মানে হয় না।

সচেতন মানুষও মনে করছেন, শেখ হাসিনা এখানে সরাসরি নেকাব ও হিজাবধারী নারীদেরকে অপমান করেছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার অধিকার একজন মুসলিম নারীর আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা একটি মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাত মোজা, পা মোজা ও নেকাব পরিধান করে নাক-চোখ ঢেকে রাখাকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশের মুসলিম নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here