ইউরোপে পাড়ি জমাতে ভূমধ্যসাগরেই সিলেটী তরুণদের স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ

0
417

স্বপ্নের দেশ ইউরোপে পাড়ি জমাতে ট্রানজিট রুট লিবিয়া-তুরস্কের পথ ধরেছে পূর্ব সিলেটের হাজারো যুবক ও তরুণ। কাজের সন্ধানে ও জীবিকার তাগিদে মৃত্যুর সমূহ ঝুঁকি নিয়ে কম শিক্ষিতরা ইউরোপে যাচ্ছেন। ইউরোপে গিয়ে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণ দেখিয়ে আশ্রয় চাওয়া লোকের সংখ্যাও কম নয়। জীবিকার তাগিদে জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে লিবিয়ার ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইতালিতে পাড়ি দিচ্ছেন তারা।

রাজধানী ঢাকা থেকে লিবিয়া, এরপর ইউরোপের দেশ ইতালি পৌঁছানোর প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ দিন থেকে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে সিলেটের একটি আদম পাচারকারী চক্র। গত এক বছর লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে সাগরে ট্রলার ডুবিতে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের দুই শতাধিক তরুণের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ গত ২৩ জানুয়ারি লিবিয়ার উপকূল ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ১২০ জন অভিবাসীর মধ্যে নিখোঁজ রয়েছে ১১৭ জন। নৌকাডুবির ঘটনায় গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও বড়লেখার একাধিক তরুণ, যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাদের পরিবারে চলছে এখন আহাজারি। লিবিয়া উপকূল থেকে ইউরোপের উদ্দেশে ভূমধ্যসাগরে ট্রলারে করে যাওয়ার পথে যারা মারা যান। তাদের মধ্যে কয়েকজন যুবক হলেন সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসা গ্রামের ইমরান হোসেন, ফতেহপুর গ্রামের হুমায়ুন রশিদ ইমন, চারখাইয়ের এক মাদরাসা ছাত্র, গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণের সাকের এবং মৌলভীবাজারের বড়লেখার চান্দগ্রামের ফারুক হোসেন।

ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার হওয়া শরণার্থীরা জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে লিবিয়া বা তুরস্ক যেতে একজনকে ১০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ দিতে হয়। একটি এজেন্সি’ তাদের লিবিয়া পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে দেয়। ওয়ার্কিং ভিসার জন্য এজেন্সিকে তিন থেকে চার হাজার ডলার দিতে হয় বলেও জানিয়েছেন তারা। অনেক বাংলাদেশী দীর্ঘ দিন লিবিয়াতে বাস করার পর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেন এবং সরাসরি ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

আইওএম-র তথ্যানুসারে, একজন বাংলাদেশী অভিবাসীকে লিবিয়া যেতে ১০ হাজার ডলার এবং ইউরোপে যেতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার জন্য নৌকা খরচ দিতে হয় ৭০০ ডলার। নির্যাতন, তিনবার দাস হিসেবে বিক্রি হওয়া, এবং নিজ আত্মীয়কে মরতে দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরেছেন খালিদ হোসেন। অথচ স্বপ্ন দেখেছিলেন, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের। মনে করেছিলেন, সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সূত্র জানায়, উঠতি বয়সী যুবক ও কলেজপড়–য়া তরুণদের টার্গেট করেই দালাল চক্রটি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রলোভন দেখানোর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের দেখানো হয় নানা লোভ-লালসা। মোটা অংকের টাকার চুক্তির মাধ্যমে প্রথমে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর শুরু হয় এসব যুবক ও তরুণদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন। তাদের কৌশলে অপহরণ করে পরে আদায় করা হয় মোটা অংকের টাকা।

খালেদ হোসেন দক্ষিণ এশিয়ার আরো অনেক তরুণের মতো লিবিয়া হয়ে ইউরোপে প্রবেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই তিনি একদিন হাজির হন লিবিয়ার সমুদ্র উপকূলে। সমুদ্র পাড় হলেই ইতালি। তাই আশায় বুক বাঁধেন তিনি, উঠে বসেন একটি নৌকায়। হোসেনের কথায়, ‘আমি উদ্দীপ্ত ছিলাম এটা ভেবে যে, কয়েক ঘণ্টা পরেই ইতালি পৌঁছাব। ভেবেছিলাম, আমার পরিবারের সব আর্থিক সমস্যা তখন মিটে যাবে। পঙ্গু বাবার কাছে প্রমাণ করব আমি ফেলনা নই।’ কিন্তু খালেদের স্বপ্ন দুঃসপ্নে পরিণত হতে বেশি সময় লাগেনি। ছোট্ট নৌকায় তার সাথে শতাধিক যাত্রী উঠেছিলেন। তাদের মধ্যে আফ্রিকার অনেক মানুষ ছিলেন, ছিলেন হোসেনের নিজের এলাকা বিয়ানীবাজারের বেশ কয়েকজনও। ৩০ ফুট লম্বা প্লাস্টিকের নৌকাটি ইতালির উদ্দেশে মাত্র ঘণ্টা তিনেক চলার পর ভেঙে যায়।

ইতালিতে আশ্রয় নেয়া যুবক নাহিদ এই যাত্রার একটি অংশের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে- ‘উত্তাল সমুদ্রে ভাসছে নৌকা। প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে নৌকায় পানি উঠতে শুরু করেছে। নৌকা ঘিরে চক্কর দিচ্ছে হাঙ্গর ও ডলফিন। নৌকা ডুবলেই মানুষগুলোকে গিলে খাবে হাঙ্গার! ভাগ্য বদলের আশায় লিবিয়ার জোয়ারা উপকূল থেকে সাগরে ভাসছেন বাংলাদেশের রবিউলসহ ৮০ জন। গন্তব্য ইউরোপ। কিন্তু ইউরোপ নয় মৃত্যু এখন তাদের খুব কাছে। ডুবছে নৌকা, সেই নৌকায় সোমালিয়া, ক্যামেরুনের কালো চামড়ার মানুষের ভিড়ে থাকা রবিউলদের কান্না কি কেউ শুনতে পায়? আব্দুছ ছামাদ জুনেদ নামে আরো একজন জানান, মুহূর্তের মধ্যে নৌকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ সাগরের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কেউ কেউ আবার নৌকার পাটাতনে থাকা পেট্রোলের প্লাস্টিকের ক্যানগুলো খালি করতে শুরু করেন। আশা সেগুলোতে ভেসে জীবন বাঁচাবেন।

এই হুড়াহুড়িতে চোখের সামনেই মারা যান এক বাংলাদেশী। খালেদ হোসেনের মতো এমন অবস্থা আরো অনেকের হয়েছে। যদিও দালালরা সেসব ঘটনা চেপে গিয়ে বরং দুয়েকটি সাফল্যের গল্প শুনিয়ে বাংলাদেশী তরুণদের এমন কঠিন যাত্রায় উদ্বুদ্ধ করে। শুধুমাত্র খালেদের এলাকা বিয়ানীবাজার থেকেই গত এক বছরে হাজারখানেক তরুণ এভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। আর গোটা বাংলাদেশের হিসেব করলে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি।

সার্বিক বিষয় নিয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জীবিকার জন্য কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোথাও পাড়ি না জমানোর আহ্বান জানিয়ে দৈনিক জালালাবাদকে বলেন, প্রশাসন মানবপাচার চক্রের ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক। কোনো তথ্য পেলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালায়।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ইয়াবাসহ যুবলীগ নেতাকে ধরে ছেড়ে দিলেন এসআই


গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় বৃহস্পতিবার রাতে ইয়াবাসহ পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তারসহ (৩৮) দুইজন আটক হলেও শনিবার সকালে ছেড়ে দিয়েছেন থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান।

একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার ইয়াবাসহ যুবলীগ নেতাকে আটকের বিষয়ে দেয়া বক্তব্য বদলে শনিবার নতুন বক্তব্য দিয়েছেন এসআই আব্দুর রহমান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের স্লুইসগেট এলাকায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই সোহেল মোল্লাসহ সঙ্গীয় ফোর্স মাদকবিরোধী অভিযান চালায়।

এ সময় ওই এলাকা থেকে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ভাদার্ত্তী গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার ও একই গ্রামের আশ্রাব আলীর ছেলে শরীফ হোসেন (৩৫) ইয়াবাসহ আটক হয়।

বিষয়টি জানার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এসআই আব্দুর রহমানকে ফোন দিলে তিনি বলেন, ৪ পিস ইয়াবাসহ পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার ও একই গ্রামের আশ্রাব আলীর ছেলে শরীফ হোসেনকে আটক হয়। এ ঘটনায় মামলা হবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কিন্তু শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যুবলীগ নেতা সাত্তার এবং দুপুরে শরীফকে ছেড়ে দেয়া হয়। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে থাকা এসআই সোহেল মোল্লাকে শনিবার সকালে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না। আব্দুর রহমান স্যার এ বিষয়ে বলতে পারবেন। আপনি তাকে ফোন দেন।

বিষয়টি জানতে এসআই আব্দুর রহমানকে ফোন দিলে আগের দিনের বক্তব্য পাল্টে বলেন, ভাই কোনো কিছু পাইনি। ওপর থেকে তদবির ছিল, তাই ছেড়ে দিয়েছি।

শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের বলেছেন, ৪ পিস ইয়াবা পেয়েছেন, আজ বলছেন কিছুই পাননি, আসলে কোনটা সত্য? এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই আব্দুর রহমান বলেন, থানায় এসে কথা বলে যান, বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এসআই আব্দুর রহমান ও সোহেল মোল্লার বক্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মো. আবুবকর মিয়া বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। বিস্তারিত জেনে আমি আপনাকে জানাতে পারব।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক রাখা হচ্ছে না। দলীয় প্রতীকে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের চার বছর পার না হতেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়া নিয়ে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা দেখা দেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। এটি পরিবর্তন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত। তবে আমরা অফিসিয়ালি এখন বলতে পারবো না। এ বিষয়ে আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উন্মুক্তভাবে হওয়ার ধারা ভেঙে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় প্রতীকে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য ২০১৫ সালে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন-সংক্রান্ত পাঁচটি আইন সংশোধন করা হয়। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের শুরুটা হয়েছে সিটি ও পৌরসভার মেয়র নির্বাচন দিয়ে। সর্বশেষ এটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োগ করা হয়। তবে এ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আইনগুলো সংশোধন করে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে সংশোধনের পর কার্যকর করা হবে।

এদিকে সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে যাওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করে আমাদের তৃণমূল পর্যন্ত মারামারি পৌঁছে গেছে। এর ফলে মনোনয়ন বাণিজ্য এমন পর্যায়ে গেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনেও এমন কোনও ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না যে অর্থ ছাড়া ভোট দিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি কলুষিত হয়ে গেছে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।’

আইনটি যখন পরিবর্তন করা হয়েছে তখন কি এসব বিষয় সরকার বিবেচনা করেনি কিংবা কোনও বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হয়নি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বহুবার বলেছি। আমাদের কোনও মতামতই সরকার আমনে নেয়নি। হয় আবেগ কিংবা একটা চিন্তা করেই হুট করে সরকার এই আইন পরিবর্তন করেছে।’

উৎসঃ ‌justnewsbd

আরও পড়ুনঃ সরকার হুড়মুড় করে পরে যাবে : রিজভী আহমেদ


বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।

শনিবার বেলা দেড়টার দিকে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারো বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কাছে এসে শেষ হয়।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে রিজভী বলেন, আজ আইন-আদালত-প্রশাসন-নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একদলীয় বাকশালী ব্যবস্থার অধীন। বাকশালী চেতনাধারীরা এখন গণতন্ত্রকে সাদা কাফনে পেঁচিয়ে ফেলে গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতীক বিএনপি চেয়ারপার্সন ও চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রাণপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী করে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছেন।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ওপর অমানবিক ও নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে বিনা চিকিৎসায় তাকে তিল তিল করে মৃত্যুপথযাত্রী করছেন। কয়েকদিন আগে বিএসএমএমইউ-এর কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গণমাধ্যমকে বলেছেন ‘বেগম খালেদা জিয়ার যে শারীরিক অবস্থা তাতে যেকোন সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তার স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ এবং খুবই উদ্বেগজনক।’ তারা সকলেই বেগম জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার সুপারিশও করেছেন।

রিজভী আরো বলেন, সরকার দেশনেত্রীর জীবন নিয়ে তামাশা শুরু করেছেন। এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও সরকারের সুরে তাল মেলাচ্ছেন। স্বৈরাচারদের বন্দীদশা থেকে যিনি বারবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আপোষহীন লড়াই চালিয়েছেন তাকে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পৃথিবী থেকে বিদায় করতেই যাবতীয় আয়োজন করা হচ্ছে বলে জনমনে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। আমরা আবারও দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই-এই মূহুর্তে ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকারহারা মানুষ বর্তমান ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এখন আরো বেশী ঐক্যবদ্ধ, যেকোনো মূহুর্তে জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাবে এবং মুলোৎপাট ঘটাবে বর্তমান দুঃশাসনের। আমি আবারো অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার পছন্দের হাসপাতালে সুচিকিৎসার সুযোগসহ নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

মিছিলে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।

মিছিলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইয়াসিন আলী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, কেন্দ্রীয় নেতা সাদরাজ জামান, এস এম জিলানী, ফখরুল ইসলাম রবিন, নজরুল ইসলাম, রফিক হাওলাদার, কাজী রেজওয়ান হোসেন রিয়াজ, হারুন অর রশীদ, আনু মোঃ শামীম, সাইদুর রহমান সাইদুল, ফরিদ উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম মাসুম, আওলাদ হোসেন উজ্জল, এ কে এম আবুল কালাম আজাদ, এম জি মাসুম রাসেল, এ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন লোবান, ফরহাদ উদ্দিন, মকবুল হোসেন, ইকবাল আনসারী টিপু, অমিত হাসান হাফিজ, মাহমুদুল বারী, তোফাজ্জল হোসেন, এ বি এম মুকুল, আলাউদ্দিন জুয়েল, জসিম উদ্দিন, এইচ এম জাফর আলী খান, জেড আই কামাল, ইঞ্জিঃ আতিক, বাবুল সারেং, আনোয়ার হোসেন, ডাঃ মোঃ জাহেদুল কবির জাহিদ, হাজী নুরুল্লাহ, সরদার নুরুজ্জামান, মোঃ মোর্শেদ আলম ও শাহে আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

উৎসঃ ‌justnewsbd

আরও পড়ুনঃ সরকারের প্রস্তাব, বিএনপি আলোচনা করবে


কারাবন্দি খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আবেদন পেলে বিবেচনা করবে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে বিএনপির প্রতি সরকারের তরফে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। যদিও এতদিন দলটির নেতারা চেয়ারপারসনের মুক্তি চেয়েছেন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জামিনে। তবে সরকারের তরফে এমন বক্তব্য আসার পর এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল সন্ধ্যায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন কথা বলিনি। আমরা যেটা বলেছি- সেটা হচ্ছে যে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাওয়ার যোগ্য। আমরা জামিন পাওয়ার যোগ্য। কারণ যে মামলায় সাজা দিয়েছে সেখানে আমরা আইনগতভাবে জামিন পেতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘প্যারোলের ব্যাপারটা তো আমরা বলিনি।

এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমরা সেটা দেখবো; আমাদের মধ্যে আলোচনা করবো।

তবে আমরা এখনও কোন সিদ্ধান্ত নিইনি।’ এদিকে প্রথম থেকেই বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দাবি করে আসছে বিএনপি। আর সরকারের তরফে সে দাবি অগ্রাহ্য করা হয়েছে বারবার। কারাগারে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়লে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ মেনে কয়েকদিন আগে তাকে ভর্তি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন। কিন্তু বিএনপির তরফে এ হাসপাতালে তার চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বারবার। গতকাল রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে কমরেড মনি সিং মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চতুর্থ জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি বলেন- ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএসএমএমইউ সরকার নিয়ন্ত্রিত হাসপাতাল। সরকার যেভাবে চাইবে সেভাবেই হাসপাতালকে কাজ করতে হবে।

এ ধরণের একটি হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুষ্ঠু ও সঠিক চিকিৎসা হতে পারে বলে আমরা মনে করি না।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অনুরোধ করলেও সরকার সেটা অগ্রাহ্য করেছে। তারা তাদের পছন্দমতো বিএসএমএমইউ হাসপাতালেই খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য নিয়েছেন। বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসা না দিয়ে মানবাধিকার বিবর্জিত কাজ করছে সরকার।’ দলীয় চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এমন পর্যায়ে গেছে যে, এখন তিনি হাঁটতে পারেন না, কোনো কিছু খেতে পারছেন না।’ ওদিকে জামালপুরে বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ থানার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন- ‘প্যারোল পেতে হলে তাকে একটি সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শিয়ে আমাদের কাছে আবেদন করতে হবে। তিনি আবেদন করলে আমরা তখন চিন্তা করব।’ এ সময় খালেদার জিয়ার জন্য প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন এখন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পায়নি বলেও জানান তিনি। এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের পর ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

পরে সে মামলায় সাজার পরিমান বাড়িয়েছে উচ্চ আদালত। ইতিমধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায়েও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষনা করেছে নিম্ন আদালত। এছাড়া অন্য ৩৪টি মামলার মধ্যে তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলছে দুই মামলায়। দলটির নীতিনির্ধারক ফোরামের কয়েকজন সদস্য বেশ কিছুদিন ধরে প্রকাশ্য সভা-সমাবেশে বলে আসছেন আইনি লড়াই চালিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির আশা নেই। রাজনৈতিকভাবেই তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তির আগ্রহ প্রকাশ করেননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলটির তরফেও এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কেউ কোন কথা বলেনি। তবে আইনী প্রক্রিয়ায় তার জামিনে মুক্তির অনিশ্চয়তা ও তার শারীরিক অবস্থার অব্যাহত অবনতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে ভাবতে পারে বিএনপি। এমন গুঞ্জন চলছে রাজনৈতিক মহলে। সার্বিক পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যকে সরাসরি অস্বীকার করেননি বিএনপি নেতারা।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ যুক্তরাষ্ট্র কেন সতর্ক বার্তা দিল তা বুঝতে পারলাম না: শেখ হাসিনা


আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ঝড়ঝাপটা ও নানা দুর্যোগের মধ্য দিয়েও বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন হঠাৎ করেই যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সতর্ক বার্তা জানিয়েছে, কিন্তু কেন তারা এ ধরনের সতর্ক বার্তা দিল তা বুঝতে পারলাম না। এ ধরনের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি যদি থেকেই থাকে তাহলে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করলেই পারত।

শুক্রবার বিকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভার শুরুতে তিনি একথা বলেন। বৈঠকের শুরুতেই অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি শোক প্রস্তাব আনা হয়। প্রস্তাব পেশ করেন আওয়ামী লীগ দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর থেকে বাংলাদেশে তাদের নাগরিকদের চলাচলের ওপর নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। বলা হয়, গত ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে হামলার ‘প্রতিশোধের আহ্বানের আলোকে’ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আইএস ও আল-কায়েদার মতো আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিদ্যমান হুমকির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

‘বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, তাদের সহযোগী এবং এসব সংগঠনের দ্বারা উদ্বুদ্ধরা বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নাগরিকদের ওপর হামলা করতে চায়।’ উগ্রপন্থীরা অনলাইনে অপপ্রচার চালানোর পাশাপাশি পশ্চিমা স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর মতো প্রতিষ্ঠানে হামলার আহ্বান রাখছে বলে দাবি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতায়।

শেখ হাসিনা বলেন, কিন্তু হঠাৎ করে আগুন লাগার কারণেই কি এই সতর্কবার্তা?

আমেরিকাতে একটা সার কারখানা থেকে শুরু করে হাসপাতাল সবই পুড়ে শেষ হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, ‘কতজন মারা গেছে সেই খবর কেউ জানেও না। এ রকম বহু ঘটনা ঘটেছে। লন্ডনে আগুন লেগে ৭০ জন মারা গেল। আরও যে কত লোক মারা গেছে সেটার হিসাবও নেই। সেখানে হিসাবও হয় না। উদ্ধার কাজও আমাদের মতো এতদিন কেউ চালায় না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন জরিপ বলেছিল, আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসছে। আমাদেরও বিশ্বাস ছিল জনগণ আমাদের চায়। সে বিশ্বাস আমরা বাস্তবে দেখেছি। নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।’ হাসিনা বলেন, ‘জেল থেকে বেগম খালেদা জিয়া একজনকে নির্বাচনে নমিনেশন দিলেও লন্ডনে থেকে আরেকজনকে নির্বাচন করতে বলা হয়। ফলে নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে।’

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের বিকাশের স্বার্থেই অবাধ গণমাধ্যম জরুরি : ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড


বাংলাদেশের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশের স্বার্থেই অবাধ গণমাধ্যম নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতোই আইনের শাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কার্যকর গণতন্ত্রের ভিত্তিই হচ্ছে এসব উপাদান।

বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে শনিবার দুপুরে প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শনে এসে মার্ক ফিল্ড এই মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, একটি কার্যকর গণতন্ত্র অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি আনতে পারে এবং সমৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে দেয়।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে প্রথম আলো কার্যালয়ে স্বাগত জানান সম্পাদক মতিউর রহমান। ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসনসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের শুরুতে মার্ক ফিল্ড বলেন, তাঁর এবারের সফরের আলোচ্যসূচির ওপরের দিকেই আছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি। এ বছরের ১০ ও ১১ জুলাই কানাডাকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকার লন্ডনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক সম্মেলন করবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন চালু এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গ টানেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোনো উপদেশদাতা হিসেবে নয়, বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেই বলছি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সত্যিকার অর্থেই আমাদের উদ্বেগ আছে।’

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে মার্ক ফিল্ড বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পূর্ণ অঙ্গীকার রয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর সারা বিশ্বে প্রায় ৮০ জন গণমাধ্যমকর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে, যা ছিল সবচেয়ে বাজে বছর। একই সময়ে দৈনন্দিন কাজ করতে গিয়ে কয়েক শ সাংবাদিককে কারাবরণ, অপহরণ কিংবা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা অন্য দেশকে নির্দেশ করছি এমনটা ভাবার কারণ নেই। কারণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আমাদের নিজের দেশেও অনেক বিতর্কের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড। কারওয়ান বাজার, ঢাকা, ০৬ এপ্রিল। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড। কারওয়ান বাজার, ঢাকা, ০৬ এপ্রিল। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

বিচারবহির্ভূত হত্যা আর গুমের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্ক ফিল্ড বলেন, ‘এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সব সময় উচ্চকণ্ঠ আছি। যেকোনো দেশেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আমাদের উদ্বেগ রয়েছে।’

ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ্যের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্রেক্সিট নিয়ে পুরো পরিস্থিতি এখনো যথেষ্ট ঘোলাটে। তবে ব্রেক্সিট নিয়ে তাঁর নিজের অনুতাপ রয়েছে। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের সরকারকে অনেক বেশি সময় দিতে হচ্ছে। ব্রেক্সিট থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে লোকজনের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুক্তরাজ্যকে সবার ওপরে তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেওয়ার নীতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। ইউরোপ থেকেও যুক্তরাজ্য মুখ ফিরিয়ে নিতে চায় না। এর কারণ, ইউরোপ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক আর নিরাপত্তা অংশীদার।

একাত্তরে স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক বেশ নিবিড় বলে মন্তব্য করেন মার্ক ফিল্ড। তিনি বলেন, এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কটা কয়েক শতকের না হলেও কয়েক দশকের তো বটেই। এটা লোকজনও বোঝেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য হাইকমিশনের রাজনৈতিক শাখার প্রধান আবু জাকি, গণমাধ্যম শাখার প্রধান নিসার হুসেন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ ‘মুজিববর্ষ’ কি লুটপাটের আরেক প্রজেক্ট?


আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী পালনের ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২০২০ সালকে সরকার মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। গত ১৭ মার্চ শেখ মুজিবের জন্মবার্ষিকীতে শেখ হাসিনা এ ঘোষণা দিয়েছেন। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের পাড়ায় মহল্লায় যাতে মুজিববর্ষ পালন করা হয় সেই লক্ষ্যে একাধিক কমিটিও গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে কয়েকটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিবের ভুমিকা নিয়ে অবশ্যই বিতর্ক আছে। তিনি স্বাধীনতা চেয়েছেন বা স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানী সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এমন কোনো প্রমাণ আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দেখাতে পারেনি। শেখ মুজিব মূলত ক্ষমতা চেয়েছিলেন। ৭ মার্চের ভাষণে শেখ মুজিব মূলত কেন্দ্রীয় সরকারকে ৪টি শর্ত দিয়েছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তন যদি তার দেয়া শর্তগুলো পূরণ করতো তাহলে নিশ্চয় পূর্ব পাকিস্তান আর আলাদা হতো না। মুক্তিযুদ্ধেরও প্রয়োজন হতো না।

এরপর মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে ৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পূর্ব পর্যন্ত দেশ পরিচালনায় শেখ মুজিবের ব্যর্থতার পাল্লাই বেশি ভারী ছিল। শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবকে মহামানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে শেখ মুজিবের স্বপ্নের যে ফিরিস্তি প্রতিদিন মানুষের সামনে তুলে ধরছেন তা সবই অতিরঞ্জিত ও বিকৃত। কারণ, শেখ মুজিবের পুরো আমলটাই ছিল দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-হত্যা, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, বিরোধী পক্ষের ওপর দমন-পীড়ন, নির্যাতনে ভরপুর। মানুষের বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও শেখ মুজিব দেশের সব রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে দেশে সেই পাকিস্তানি শাসন জারি করেছিল। এদেশের সকল শ্রেনি-পেশার মানুষ শেখ মুজিব ও তার পরিবারের ওপর এতই ক্ষুব্ধ ছিল যে, ১৫ আগস্ট তারই ঘনিষ্ঠদের হাতে স্বপরিবারে জীবন দিতে হলো শেখ মুজিবকে।

তারপরও এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবের অবদানকে একেবারে অস্বীকার করে না। মুক্তিযুদ্ধের আগে দেশের মানুষকে অধিকার আদায়ে সংগঠিত করেছিলেন শেখ মুজিব। পূর্ব বাংলার পক্ষ থেকে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বলিষ্টভাষায় প্রতিবাদ করেছিলেন। এসব সত্য। দেশের মানুষ এসব স্বীকারও করে।

কিন্তু, শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে যা করছেন তা সবই অতিরঞ্জিত। দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে করা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে সেগুলোতে শেখ মুজিবের নাম দেয়া হয়েছে। আবার শেখ মুজিবকে প্রতিষ্ঠিত করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় করে তার নামে বিনোদন পার্ক করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ সরকার মুজিববর্ষ পালনের যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সেজন্য আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ আওয়ামীপন্থী ব্যক্তিদের নিয়ে দেশে যত সংগঠন ও সংস্থা আছে সবগুলোতে একটি করে কমিটি গঠন করা হবে। সেই হিসেবে কয়েকশ কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি কমিটির জন্যই সরকারের পক্ষ থেকে থাকবে মোটা অংকের বাজেট।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ পালনের জন্য সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টর থেকে এক হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেছে। এসব খাতের মধ্যে ব্যাংক-বিমাসহ আর্থিক খাতকে তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংক-বিমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেতো আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সংগঠনগুলো চাঁদাবাজি করবেই। মোটকথা মুজিববর্ষ পালনের নামে সরকার লুটপাটের আরেক বৃহৎ প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ভিপি নুরকে না জানিয়েই ডাকসুর কর্মচারী নিয়োগ দিচ্ছে ছাত্রলীগ!


ভিপি নুরুল হক নুরকে না জানিয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের কর্মচারী নিয়োগের আবেদন করেছেন ছাত্রলীগ মনোনীত ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন।

ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ বরাবর করা এই আবেদনের বিষয়ে নূরকে না জানানোয় তিনি ক্ষুব্ধ। নূর বলেছেন, এই চিঠির যুক্তিযুক্ততা নেই। এটি অবৈধ।

এর আগেও আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের জুনিয়র সব কোর্সের আবেদন ফি কমানোর দাবিতে করা আবেদনেও নুরকে জানানো হয়নি।

জানা গেছে, ডাকসুতে বর্তমানে চারজন কর্মরত আছেন। এ ছাড়া একজন সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক, কমনরুম বেয়ারার দুজন, অফিস সহায়ক দুজন, অ্যাথলেটিক্স বেয়ারার একজন, গার্ড দুজন এবং পরিচ্ছন্নকর্মী একজন নিয়োগের আবেদন জানানো হয়। ওই আবেদনপত্রে ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী ও এজিএস সাদ্দাম হোসেমের স্বাক্ষর রয়েছে।

এ বিষয়ে নুরুল হক নূর শনিবার সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, এর আগে আইএমএলে চিঠি, ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসন বরাবর একাধিক চিঠি তারা দিয়েছেন। কিন্তু আমি নির্বাচিত ভিপি হলেও এ বিষয়ে তারা আমাকে কিছুই জানায়নি। ডাকসুর স্টাফ নিয়োগে আমাকে না জানিয়ে চিঠি দেওয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত? এর বৈধতাই বা কী?

এর আগে শুক্রবার রাতে এ বিষয়ে সামজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন নুর।

সেখানে তিনি লিখেন, ‘ডাকসুতে বিভিন্ন পদে চারজন লোক কর্মরত রয়েছে। আমার জিএস, এজিএস সাহেব আরো নয়জনের চাহিদাপত্র দিয়েছেন। অথচ জানলাম না আমি! অবশ্য এসব বিষয়ে বাম হাত/ডানহাত থাকে তো, চুপেচাপে করাই ভালো! কারণ অনিয়ম হলে বাধাটা এই ভিপিই দিবে। সুতরাং হামলা-টামলা, নাটক-ফাটক, ফন্দি-ফিকির করে ভিপিকে সরানো জরুরি হয়ে পড়বে!’

তবে ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর দাবি, ডাকসুর কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি নুর জানেন। তিনি কেন এমন বলেছেন, তা তার কাছে জানতে চাইব।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ এবার আরেক দফা সুপ্রভাত পরিবহনের বাসগুলোর রঙ বদলে নতুন নাম দেয়া হয়েছে আকাশ এন্টারপ্রাইজ


রাজধানীর প্রগতি সরণিতে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহতের এক দিন পরই এ পরিবহনের বাস রঙ বদলে ‘সম্রাট’ নাম নিয়ে চলেছে গাজীপুরে।

দৈনিক যুগান্তরে এ সংক্রান্ত একটি সচিত্র প্রতিবেদন ছাপার পর তাদের ওই প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়।
এবার আরেক দফা সুপ্রভাত পরিবহনের বাসগুলোর রঙ বদলে নতুন নাম দেয়া হয়েছে আকাশ এন্টারপ্রাইজ। এটি চলাচল করছে গাজীপুরা থেকে ঢাকার সদরঘাট পর্যন্ত। ঢাকা ডেমরার আমুলিয়া মডেল টাউনে শুক্রবার সরেজমিন সুপ্রভাত পরিবহনের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি দেখা যায়।

মডেল টাউনের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ৫০ গজ দূরে হাতের বামে অন্তত ৭০টি বাস পার্কিং করে রাখা ছিল। সেখানে কিছু বাসের পুরনো রঙ তুলে ফেলার কাজ চলছিল এবং বাসের নতুন নাম আকাশ এন্টারপ্রাইজ লেখা হচ্ছিল। গত দুই সপ্তাহ ধরে এখানে বাসগুলোর রঙের কাজ চলছে।

সারাদিন সুপ্রভাত পরিবহনের বাসগুলো মডেল টাউনের ভিতরে পার্কিং করা থাকে। প্রথমদিকে অন্তত ২০০ বাস ভেতরে নিতে দেখা গেছে। রঙ করে নিয়ে যাওয়াতে এখন হয়তো কমে গেছে।

মডেল টাউনের ভিতরেই রাতভর চলে রঙের কাজ। সকালে আবার কিছু বাস বের করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। বাস মালিকদেরও এ কাজে অংশ নিতে দেখা গেছে।

বাস মালিকরা ছাত্রদের ভাঙচুরের হাত থেকে বাঁচতে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার জন্য এ কৌশল অবলম্বন করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসচালক ও তাদের সহকারীরা জানান, সুপ্রভাত বাস সার্ভিসটি সদরঘাট থেকে উত্তরা পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি ছিল। পরিবহন শ্রমিক নেতারা প্রভাব খাটিয়ে গাজীপুর মহানগরের গাজীপুরা পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করাচ্ছিলেন।

এ পরিবহনের অর্ধশত বাসের অনুমতি থাকলেও প্রায় সাড়ে তিনশ’ বাস প্রতিদিন ঢাকা থেকে গাজীপুরা চলাচল করেছে।

আকাশ এন্টারপ্রাইজের বৈধ কাগজপত্র থাকায় বাসগুলোর নাম আকাশ লেখা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। পুলিশের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ এখনো এমপি হবার স্বপ্ন দেখছে ভোট ডাকাতির নির্বাচনে আ.লীগের সেই পরাজিতরা


একাদশ জাতীয় ভোট ডাকাতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় পেলেও পরাজিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রার্থী। কিন্তু পরাজিত হয়েও এমপি হবার আশা ছাড়ছেন না দলের সেই ৬ প্রার্থী। তাদের সামনেও মিটিমিটি করে জ্বলছে এমপি হবার আশার আলো। বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলের বিজয়ী এমপিরা শপথ না নিলে আবারও নির্বাচনের সুযোগ পাবেন আওয়ামী লীগের সেই প্রার্থীরা। তাতে হতে পারেন এমপি। তাই বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দিন গুনছেন তারা।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এমপিরা শপথ না নিলে তার সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। গত নির্বাচনে বিএনপির ৬ জন এবং গণফোরামের ২ জন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭ মার্চ মৌলভীবাজার-২ আসনে ধানের শীষে জয়ী হওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মনসুর শপথ নিয়েছেন। আর গতকাল বিএনপি সমর্থিত ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীকে সিলেট-২ আসনের এমপি গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান শপথ নিয়েছেন। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে ৩০ জানুয়ারি। এ হিসেবে ইতোমধ্যে ৬৬ দিন পার হয়েছে। ৯০ দিন হতে বাকি ২৪ দিন। এখনো শপথ নেননি বিএনপির ৬ এমপি। বিএনপির শপথ না নেয়া এমপিরা হলেন, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুর রহমান, বগুড়া-৪ আসনে মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৬ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে হারুনুর রশিদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আব্দুস সাত্তার ভূঞা। নির্বাচনের পরপরই বিএনপি জানিয়েছে, তাদের জয়ী হওয়া দলের এমপিরা শপথ নেবেন না। কিন্তু তাদের নির্বাচনী জোট জাতীয় এক্যফ্রন্টের ২ জন এমপি শপথ নিয়েছেন।

সংসদ সচিবালয় আরো জানায়, নির্বাচন কমিশনের গেজেটে যাদের নাম থাকে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিন পর্যন্ত তাদের ‘স্ট্যাটাস’ এমপি। তবে এমপিরা যখন শপথ নেবেন, তখন থেকে এটি কার্যকর হবে। এর আগে তারা বেতন-ভাতাও পাবেন না।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানের ৬৭ (১) অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে, যদি (ক) তার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন।

এদিকে সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানের শপথ গ্রহণে আওয়ামী লীগের পরাজিত দুই প্রার্থী আশাহত হলেও এখনো সুযোগ রয়েছে পরাজিত ছয় প্রার্থীর। এমপি হবার আশার আলো এখনো জ্বলছে মিটিমিটি করে। বিএনপির জয়ী এমপিরা শপথ না নিলে আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করার সুযোগ পাবেন সেই প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগের আশাহত না হওয়া পরাজিত প্রার্থীরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মু. জিয়াউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো. আব্দুল ওদুদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মহাজোটের প্রার্থী ওয়ার্কার্স পার্টির ইয়াসিন আলী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইমদাদুল হক, বগুড়া-৪ আসনে জাসদ (ইনু)-এর রেজাউল করিম তানসেন, বগুড়া-৬ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমর।

সূত্র জানায়, এসব প্রার্থী তাদের আশপাশের নেতাকর্মীদের নতুন করে প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলছেন। এ বিষয়ে উক্ত সকল প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। শুধুমাত্র একজন প্রার্থী ইনকিলাবকে বলেছেন, ‘দেখা যাক কী হয়, দোয়া করবেন।’

এদিকে আওয়ামী সূত্র জানায়, কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেলে বা কোনো কারণে নির্বাচন পেছানো হলে দলের মনোনয়ন বোর্ড নতুন করে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। এক্ষেত্রে পুরনো মনোনয়ন পেয়েছেন এমন প্রার্থীই পেতে পারেন বা নতুন প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পর্যায়ের একজন নেতা ইনকিলাবকে বলেন, যদি বিএনপি সংসদে না আসে এবং নতুন করে নির্বাচন হয় তাহলে মহাজোটের যারা গতবার মনোনয়ন পেয়েছিলেন তাদের এবার মনোনয়ন না দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠাতে সরকার নমনীয়


কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠাতে সরকারের নমনীয় অবস্থানের আভাষ পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের শনিবার একটি বক্তব্যে অন্তত সেটি ফুটে উঠেছে। তিনি বলেছেন, ‘বেগম জিয়া সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে।’ একবছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি রয়েছেন। তার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি খুবই উদ্বেগে রয়েছে। তবে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার জন্য সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী প্যারোলে মুক্তি চাইবেন কি-না তা নিশ্চিত নয়। দলটির হাইকমান্ড বেগম জিয়ার জামিনে মুক্তি প্রত্যাশা করছেন।

প্যারোলো মুক্তি চাওয়ার বিষয়টি একান্তই বেগম জিয়ার ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে বলে একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন। বিএনপির কোন নেতাই এখন পর্যন্ত বেগম জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর দাবি জানাননি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশশাররফ হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেছেন, বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা তার উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তির আবেদন করবেন কি-না সেটি একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার, এটি তার শারীরীক ও স্বাস্থ্যগত বিষয়।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার নয়াদিগন্তকে বলেন, প্যারোলো মুক্তি চাওয়ার বিষয়টি একান্তই বেগম জিয়ার সিদ্ধান্ত। এটি বিএনপির বিষয় নয়। তবে এই মূহুর্তে বিএনপি চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। বিদেশে তার চিকিৎসা নেয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণও রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসার যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সম্প্রতি ওবায়দুল কাদেরকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠাতে হয়েছে। বেগম জিয়াও বহুবার সৌদী আরব কিংবা লন্ডনে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন কি-না, সেই সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে নানা আলোচনা চাওর আছে। বলা হচ্ছে- পর্দার অন্তরালে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকার ও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে দেনদরবার চলছে। তার মুক্তি নিয়ে দুই পক্ষই শর্তারোপ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্যারোলো মুক্তি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিদেশ চলে যেতে হবে। সেখানে তিনি শারীরিক চিকিৎসা করাতে পারবেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো কথাবার্তা বলতে পারবেন না। পাশাপাশি বিএনপির জনপ্রতিনিধিদের সংসদেও যেতে হবে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে বেগম জিয়াকে জামিনে মুক্তি দিতে হবে। মুক্তি পেয়ে তিনি যেখানে খুশি সেখানে চিকিৎসা নিতে পারবেন। তিনি সুস্থ হয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ডেও যুক্ত হতে পারবেন। বেগম জিয়া প্যারোলো মুক্তিতে রাজি আছেন এমন আলোচনাও আছে। তবে এসব আলোচনার কোন নিশ্চিত ভিত্তি খুজে পাওয়া যায়নি।

বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের প্রভাবশালী কমপক্ষে ৫ জন নেতা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। কেউ কেউ এসব অপপ্রচার, গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত বিষয় দেখভাল করেন এমন একজন জানিয়েছেন, প্যারোলে মুক্তি চাওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

চলমান এমন নানা গুঞ্জনের মধ্যে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাবেন কি-না। দলের সিনিয়র এক নেতা বলেছেন, বিএনপি বেগম জিয়ার জামিনে মুক্তির জন্য আইনীভাবে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে যাচ্ছে। সরকার বাধা না দিলে তিনি অনেক আগেই জামিনে মুক্তি পেতেন। ওই নেতা আরো বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় বেগম জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে পারলে সরকারের জন্য সুবিধাজনক অবস্থারই সৃষ্টি হয়।

খালেদা জিয়া গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির একটি মামলায় কারাবন্দি হন। ইতোমধ্যে তার কারাবন্দির একবছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘ আইনী মারপ্যাচের কারণে বিএনপির নেতারা প্রায়ই বলে আসছেন, আইনী উপায়ে বেগম জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়, এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। একইসাথে দলটির নেতারা রাজপথে তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলারও হুমকী-ধামকি দিচ্ছেন।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার প্যারল ও সংসদ নিয়ে যা ভাবছে বিএনপি


প্যারোলে নয়, জামিনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় বিএনপি। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদেও দলটির যাওয়ার কোনো আগ্রহ নেই। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন। এ নিয়ে পর্দার অন্তরালে এক ধরনের সমঝোতাও চলছে। যে সমঝোতার অংশ হিসেবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ১ এপ্রিল তাকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন ধরেই অসুস্থ। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী- তার পুরো শরীর ব্যথায় আক্রান্ত। অন্যের সাহায্য ছাড়া তিনি নড়াচড়া করতে পারেন না। পাশাপাশি ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন ৭৭ বছর বয়স্ক সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, অসুস্থতা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিতে রাজি ছিলেন না। তার আগ্রহ ছিল বিশেষায়িত হাসপাতাল ইউনাইটেডে চিকিৎসা নেয়ার। তার এই অনীহার কারণে মার্চের মাঝামাঝিতে কারা কর্তৃপক্ষ একবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েও সফল হয়নি। অন্য দিকে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিএনপিতেও উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এরিই একপর্যায়ে দলের সিনিয়র দু’জন নেতা কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তারা খালেদা জিয়াকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, যেখানেই হোক এই মুহূর্তে তার চিকিৎসা খুবই প্রয়োজন। নেতাদের এই সাক্ষাতের পরই বিএসএমএমইউতে আসতে রাজি হন তিনি।

বিএনপির নেতারা বলেছেন, তারা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে চাইছেন। তার চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড রয়েছে। সেই মেডিক্যাল বোর্ড যেভাবে সুপারিশ করবেন, সেভাবেই তার চিকিৎসা হবে। তারা যদি মনে করেন, বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্ভব নয়, প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিতে হবে, তাহলে সেটি বিএনপির চাওয়া অনুযায়ী হবে না, তাদের পরামর্শের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের এক নেতা বলেছেন, খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চান না। এমনকি কোনো নেতাও তার সামনে এ বিষয়টি উত্থাপন করেননি। খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয় নিয়ে দলের কোনো পর্যায়ে এখনো আলোচনা হয়নি বলে নিশ্চিত করে জানান ওই নেতা।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হচ্ছে এ ধরনের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। তবে আমরা তার জামিনের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বাত্মক লড়াই চালিয়ে যাবো। আশা করি, তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পাবেন।

এ দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে সংসদে যাওয়ার আলোচনাকেও নিছক গুজব বলছে বিএনপি। গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি ও তাদের নিয়ে গঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একই সাথে তারা পুনর্নির্বাচনের দাবিতেও নানামুখী কর্মসূচি পালন করে চলছে।

ওই নির্বাচনে বিএনপি থেকে ছয়জন এবং গণফোরাম থেকে দু’জন নির্বাচিত হন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দু’জন সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন। শপথ নেয়ার কারণে সুলতান মনসুরকে গণফেরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, ২ এপ্রিল শপথ নেয়ার পর গত পরশু মোকাব্বির খান ড. কামালের সাথে তার মতিঝিলের চেম্বারে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ড. কামাল তাকে বলতে গেলে অপমানজনকভাবে বের করে দেন।

জানা গেছে, যে নির্বাচন বিএনপি প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই সংসদে বিএনপির শপথ নেয়ার কোনো ইচ্ছাই নেই। বিএনপির নির্বাচিতরাও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কিছু করবেন না বলে স্পষ্টভাবে কেন্দ্রকে জানিয়ে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপির সংসদে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। যেসব আলোচনা হচ্ছে, এগুলো উড়ো খবর। ভোটারবিহীন এ সংসদে বিএনপি যাবে না।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. মঈন খান বলেন, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, এই সংসদ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পক্ষে কোনো কাজ করতে পারে না। যারা মনে করেন, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলবেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেছেন, আমরা প্রতিদিনই মনে করব, একটা বেআইনি দখলদারি সরকার বসে আছে। তাকে মেনে নেয়ার কোনো কারণই নেই। আমরা সরকারকে বলেছি এই নির্বাচন বাতিল করে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ বেশী খেইলেন না,না’গঞ্জে আগুন জ্বলবো, এসপি হারুনকে ইঙ্গিত করে শামীম ওসমান


নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘বেশী খেইলেন না, নারায়ণগঞ্জে আগুন জ¦লবো’। তার ভাষায় ‘আমার কোনো নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানি করা হয় তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো টেনশনের দরকার নাই। এরপরও যদি কেউ খেলতে চায় তাহলে খেলা হবে। আগ্নি দেখেছেন অগ্নির স্ফুলিঙ্গ কিন্তু দেখেন নাই। এরপরও যদি খেলা হয় তাহলে ২৪ ঘণ্টা না ৬ ঘণ্টার নোটিশ দেব। তবে, চিন্তা কইরেন না। খেলাখেলির দরকার নাই। খেলার আগেই খেলা শেষ হবে ইনশাল্লাহ ’।

শামীম ওসমান যখন এ বক্তব্য দিচ্ছেন তখন তার কর্মীরা নারায়ণগঞ্জের এসপি হারুন অর রশিদের প্রত্যাহার দাবী করে শ্লোগান দিতে থাকে। তাদের শ্লোগনের ভাষা ছিল, ‘ঘুষ খোর এসপির প্রত্যাহার চাই। মুক্তিযোদ্ধাদের নারায়ণগঞ্জ গাজীপুর হতে দিবো না’।

শনিবার বিকেল ৪টায় ফতুল্লা ইসদাইরে অবস্থিত বাংলা ভবন কমিউমিটি সেন্টারে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত এক জরুরী কর্মীসভায় তিনি এ কথা বলেন। মাদক মামলায় শামীম ওসমানের আপন শ্যালক তানভীন আহমেদ টিটুকে জড়ানো, অন্যতম সহচর শাহ নিজামের বিরুদ্ধে পুলিশের জিডি , আরেক সহচর নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে অপহরন মামলাসহ সম্প্রতি কয়েকট ঘটনায় পুলিশের শামীম ওসমানের দুরত্ব তৈরী হওয়ার মধ্যে জরুরী কর্মী সভার ডাক দেন তিনি।

শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি নাকি অনেক জটিল। আবার নেতাকর্মীরাও দেখলাম খুব উত্তেজিত। আল্লাহর রহমত, আমি ২০১১ এর শামীম নই, থাকলে আমিও উত্তেজিত হইতাম। হওয়াটাই স্বাভাবিক। বয়সের সাথে সাথে সব কিছুর পরিবর্তন হয়।

নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন,‘আপনার কি ভাবছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জ সম্পর্কে জানেন না? অবশ্যই জানেন। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে টের পাবেন। কারো পদত্যাগ করতে হবে না, দরকার হলে আমি একা করবো।’

শামীম ওসমান বলেন,‘পর্দার আড়ালেও খেলা থাকে। হুট কইরা কাউরে ভুল বুইঝেন না। বাইরে থেইকা আইসা কেউ হয়তো এই খেলায় পা দিয়া ফেলছে। পর্দার আড়ালে অনেক খেলা হচ্ছে। আমি কারো নাম বলবো না। আমি এগুলারে গুণায় ধরি না। জামায়াতের সাথে তার (আইভীর)কানেকশন ফাঁস হইলো। তদন্ত হইলো। এরপরই শুরু হইলো এই খেলা।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে আরেকজন আছে মহিলা। যার সাথে জামায়াতের সম্পর্ক জড়িত। সেই কথা প্রকাশ হয়েছে। সেই তিনি হুমকি দেন মামলা করবেন। তয় করেন না ক্যান? ও সাংবাদিক ভাইয়েরা তারে গিয়া বলেন না, মামলা করতে। দেখি না কতটুকু সৎ সাহস থাকে তাহলে যেন মামলা করে।

তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করে কাউকে ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জের শান্তিপূর্ণ অবস্থা নষ্ট করবেন, তা হবে না। এখানে যারা ব্যবসা করে তারা তো বিদেশী না। এখানকার স্থানীয়। আমাদেরই ভাইব্রাদার। এখন তাদেরকে কেউ ফোন করে বলবেন, দেখা করেন। আমি বলবো, দেখা করার সময় শেষ এটা হচ্ছে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।

শামীম ওসমান বলেন, শাহ নিজামের বিরুদ্ধে জিডি হইসে, টিটুর নামে মামলা হইসে, সজলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন? কর্মীরা ভয়ে থরথর করে কাঁপছে, আমরা ভীত? না। যুবলীগ, ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। কাউকে ভয় পায় না। কেউ যদি খেলতে চান, ডোন্ট প্লে, নারায়ণগঞ্জে খেইলেন না। সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করবে তাকে জুয়ার মামলার আসামী বানায়ে দিবেন। আমার আত্মীয় স্বজনকে মদের সাপ্লায়ার বানায়ে আমারে কাবু করতে চাইবেন, কইরেন না। আমারে কাবু করা যাবে না। অপেক্ষা করেন, আগামী ১০/১২দিনের মধ্যে টের পাবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, সহ সভাপতি চন্দন শীল, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, সাফায়েত আলম সানি প্রমুখ।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘লাগবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, লাগবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’?


বর্তমান সরকার ১ম দফায় কিছু ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে, ২য় দফায় ভোট বিহীন ক্ষমতায় এসেছে এবং সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন, বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আরো বলেন, ৭১ সালে পাকিস্তানীদের পাহাড়ায় যারা পরিবারকে এদেশে রেখে গেছেন তারা এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফেরি করে বেড়াচ্ছে ‘লাগবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, লাগবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’?

আজ শনিবার রাজধানীর মনি সিংহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ কল্যান পার্টির ৪র্থ কাউন্সিল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান প্রমুখ।

দেশে চোরের রাজত্ব চলছে মন্তব্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, কিছুদিন পরে আওয়ামী লীগকে মানুষ চোর বলে ডাকবে।

তিনি বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার এমনভাবে হরণ করেছে, এখন আর মানুষ ভোট কেন্দ্রে যায় না। মসজিদের মাইকে ভোটারদের ডাকা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করে আলাল বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখন কবিতা পড়ে, ‘ভোটার ভোটার ডাক পারি। ভোটার গেছে কার বাড়ি? আয়রে ভোটার ফিরে আয়! ভোটের বাক্স খালি যায়’।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে তিনি বলেন, যারা বলেন আমাদের মধ্যে ঐক্য নেই, তারা এখানে এসে দেখে যান আমাদের ২০ দলের মধ্যে ঐক্য কতটা শক্তিশালী।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ডুবল ড. কামালের উদীয়মান সূর্য


আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ড. কামাল দেশ-বিদেশে নির্লোভ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে সমাদৃত। বিশ্বের দেশে দেশে ছড়িয়ে রয়েছে তার সুনাম যশ খ্যাতি। কিন্তু এমপির সুযোগ-সুবিধার ‘লোভ’ সংবরণ করতে না পেরে দলের দুইজন নেতা শপথ গ্রহণ করায় মূলত তার পরিচ্ছন্ন ইমেজে টান ধরে। বিএনপির প্রবীণ নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রশ্ন তুলেছেন ‘কেন শহীদ জিয়ার আদর্শের বাইরের এই সুবিধাবাদীদের’ নেতা মানা হচ্ছে? ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব:) অলি আহমদ ঐক্যফ্রন্টে সরকারের এজেন্ট রয়েছে অভিযোগ তুলে বলেছেন, ‘ড. কামালের সঙ্গে যারা আছেন তাদের অনেকে সরকারের কাছ থেকে পয়সা নিয়েছেন। কোন বাসায় পয়সা নিয়েছেন, কে নিগোসিয়েট করেছেন এ তথ্যগুলো আমার কাছে আছে।’ জাঁদরেল এই দুই নেতার বক্তব্য বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের চিন্তার রেখায় ভাঁজ টেনে দিয়েছে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় ড. কামাল হোসেন এখন কোন পথে হাঁটবেন?

বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১০৭২ সালের ১০ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন ড. কামাল হোসেন। জাতিসংঘের হয়ে বিশ্বের দেশে দেশে নানা দায়িত্ব পালন করায় দেশের আমজনতার কাছে তার মর্যাদা অন্য রকম। বিশেষ করে লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চর্চার কারণে তিনি বরেণ্য। কিন্তু সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানের লোভে ডুবতে বসেছে গণফোরামের উদীয়মান সূর্য। সংবিধান প্রণেতা কামাল হোসেনের সামনে এখন একমাত্র পথ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ। তিনি কি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেয়া দুই নেতার বিরুদ্ধে সেটা ব্যবহার করে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল বিএনপি এবং দেশের মানুষের কাছে নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে পারবেন? ডুবন্ত সূর্যকে জাগিয়ে তুলতে পারবেন? অবশ্য শপথ নেয়ার পর মোকাব্বির খান এমপি গতকাল বৃহস্পতিবার মতিঝিলের চেম্বারে এলে কামাল হোসেন রাগে-ক্ষোভে তার মুখ দর্শন না করে কর্মীদের দিয়ে বের করে দেন। প্রশ্ন হলো যারা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা-মোনাফেক-বেঈমানী করতে পারেন; তাদের তিনি প্রার্থী করার প্রেসক্রিপশন দিলেন কেন? যিনি মানুষ চিনতে পারেন না তিনি কেমন নেতা?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের প্রেসক্রিপশনে ঐক্যফ্রন্টের নমিনেশন দেয়া হয় সুলতান মোহাম্মদ মনসুর মৌলভীবাজার-২ (ধানের শীষ) ও মোকাব্বির খান সিলেট-২ (উদীয়মান সূর্য)। নির্বাচিত হওয়ার পর এমপির সুবিধার লোভ সংবরণ করতে না পেরে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তারা শপথ নেন। শীর্ষ নেতা হিসেবে কামাল হোসেন পড়ে যান বিব্রতকর অবস্থায়। বিএনপি এবং গণফোরামের নেতারা শপথ নেয়া দুই নেতাকে ‘বেঈমান’ ‘মোনাফেক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমনকি একজনের বিরুদ্ধে দলীয় প্যাড চুরির অভিযোগও তোলা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে এমপি হিসেবে শপথ নেয়াই মূলত শীর্ষ নেতা ড. কামালকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের কোনো দল নেই। ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারেই ড. কামালের কথায় বিএনপি তাকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী করে। আর উদীয়মান সূর্য নিয়ে প্রার্থী হন লন্ডন প্রবাসী মোকাব্বির খান। মনোনয়ন দাখিল করে মোকাব্বির খান লন্ডন চলে যান। সিলেট-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রার্থিতা হাইকোর্টে বাতিল করলে ড. কামাল হোসেন ফোন করে লন্ডন থেকে মোকাব্বিরকে দেশে ফিরিয়ে আনেন। এমপি হওয়ার পর তারা দু’জনই দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেন। বর্তমান অবস্থায় একজন এমপি বিপুল সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। প্লট-ফ্ল্যাট-ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি পান। অন্যদিকে সব মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৮ লাখ টাকা সম্মানী পান। সেই টাকার লোভ সংবরণ করতে না পারায় মূলত দুইজন ড. কামাল হোসেনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতি ধুলায় মিশিয়ে দেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ দলের নেতারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারী দুই এমপিকে বিশ্বাসঘাতক, মোনাফেক, বেঈমান হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ধানের শীষ নিয়ে এমপি হওয়া সুলতান মনসুর শপথ নেয়ার আগে গণফোরামের নেতাদের বলেন, ‘আমি কমিটেড’ শপথ নিতেই হচ্ছে। কার কাছে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি হওয়া সুলতান মনসুর ‘কমিটেড’ তা কি ড. কামাল জানতে চেয়েছেন? মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধে দলীয় প্যাড চুরির অভিযোগ তুলেছেন দলের নির্বাহী সভাপতি সব্রত চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু। দলের প্যাড যে চুরি করতে পারেন তাকে ড. কামালের মতো বিজ্ঞজন নমিনেশন দিলেন কেন?

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড থেকে আইন শাস্ত্রের সব ডিগ্রি নেয়া ড. কামাল হোসেন ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ছিলেন কর্মী। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ১৯৭১ সালে ৩০ মার্চ পাকিস্তান বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেশে ফিরে হন আইনমন্ত্রী। দেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করায় তিনি ‘সংবিধান প্রণেতা’ হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ে ভূমিকা রাখা কামাল হোসেন ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন। ১৯৮৩ সালে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে কারাবরণ করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের পর শেখ হাসিনা নির্বাচনে ‘সূ² কারচুপির’ অভিযোগ তুললে ড. কামাল দ্বিমত পোষণ করেন। ১৯৯২ সালের মার্চ মাসে ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় বিতর্কের মুখে পড়েও নিজের অবস্থান অটুক রাখেন। তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বাদ দেয়া হলে তিনি নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করে অরাজনৈতিক সংগঠন ‘গণতান্ত্রিক ফোরাম’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ‘তান্ত্রিক’ শব্দটি বাদ দিয়ে গঠন করেন গণফোরাম। ড. কামাল দীর্ঘদিন থেকে দুর্নীতিমুক্ত পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ক্যাম্পেইন করছেন। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠন করেন। অতঃপর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ৭ দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য ঘোষণা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন। পরবর্তী ঘটনা সবার জানা। বিএনপির নেতারা বলছেন, সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানের এলাকায় যা অবস্থা তাতে এমপি দূরের কথা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার পদে প্রার্থী হয়েও বিজয়ী হতে পারবেন না। মৌলভীবাজার-২ ও সিলেট-২ আসনের অন্য নেতাদের বঞ্চিত করে এমন দু’জন সুবিধাবাদীকে প্রার্থী করায় তারা নির্বাচিত হয়ে ড. কামাল, মির্জা ফখরুলদের মুখে কালি লেপন করেছেন। বিতর্কিত দুই নেতার কারণে বর্তমানে জিয়ার আদর্শের বাইরে যারা ঐক্যফ্রন্টে রয়েছেন তাদের নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পরিচ্ছন্ন রাজনীতির ক্যাম্পেইনার ড. কামাল হোসেন সংবিধান প্রণেতা। তার প্রণীত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে : ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি- (ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে’। প্রশ্ন হলোÑ ড. কামাল হোসেন এখন কি করবেন? নিজের প্রণীত সংবিধান ব্যবহার করে কি তিনি দুই লোভাতুর এমপির আসন শূন্য করার আইনি লড়াইয়ে নামবেন? নাকি নীরব থাকবেন? সারা দেশের বিএনপি, গণফোরাম, ২০ দলীয় জোট এবং ঐক্যফ্রন্টের শরিক সব দলের লাখ লাখ নেতাকর্মী সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির হোসেনের শপথ নেয়াকে ঐক্যফ্রন্টের পিঠে ছুরি মারার নামান্তর বলছেন। বিক্ষুব্ধ কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় দুই এমপিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। ড. কামাল হোসেন কি ঐক্যফ্রন্টের ইমেজ রক্ষায় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারী দুই এমপির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কর্ম করতে না পারে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেয়া দুই এমপির সদস্যপদ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী থাকবে কি থাকবে না সে প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন ভিন্ন মত দিচ্ছেন। ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ মনে করেন, দুই কারণে সংসদ সদস্যপদ বাতিল হতে পারে। ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য যদি ফ্লোর ক্রসিং করেন; অথবা ৯০ দিনের মধ্যে যদি শপথ না নেন তাহলে সদস্য পদ যাবে। তবে দল বহিষ্কার করলেও সদস্যপদ থাকবে। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সরকারি দলের এমপিরা কোনো ইস্যুতে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তখন ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হয়ে যাবে। তাদের সদস্যপদ থাকবে না। কিন্তু দল থেকে বহিষ্কার হলে তাদের সদস্যপদ যাবে না।

ড. শাহদীন মালিক বলেন, গণফোরামের দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দুই এমপি শপথ নেয়ায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ তাদের আটকাবে। গণফোরাম এনডোর্স না করলে তাদের সংসদ সদস্যপদ থাকবে না। এমপি হিসেবে শপথ নেয়ার প্রশ্নে দেশে এ ধরনের সঙ্কট আগে কখনো হয়নি। এটির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। ৭০ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য হলো এমপিরা যাতে দলবদল করতে না পারেন। সেদিক থেকে দুইজনের সদস্যপদ আটকে যাওয়ার কথা। তবে স্পিকার যদি মনে করেন ৭০ অনুচ্ছেদ ভঙ্গ হয়েছে তখন তিনি বিষয়টি শুনানির জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাবেন। কমিশনের শুনানিতে সন্তুষ্ট না হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উচ্চ আদালতে যেতে পারেন।

এর আগে দলের বিরুদ্ধে যাওয়ায় বিভিন্ন সময়ে সংবিধানের ৭০ অনুসারে অনেক এমপির সদস্যপদ গেছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বহিষ্কারের সূত্র ধরে সদস্যপদ হারান আওয়ামী লীগের এমপি আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ২০০২ সালে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করায় অষ্টম সংসদে বিএনপির মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান সদস্যপদ হারান। সপ্তম সংসদে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় যোগদান করায় রাজশাহীর ডা. মো. আলাউদ্দিন ও সিরাজগঞ্জের হাসিবুর রহমান স্বপনের সদস্যপদ চলে যায়। তারও আগে জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগদানের কারণে মেজর জেনারেল (অব:) মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন সদস্যপদ হারান। আবার জাতীয় পার্টি দ্বিখÐিত হওয়ায় কয়েকজন এমপির সদস্যপদ নিয়ে আদালতে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলে। এখন কামাল হোসেন ডুবন্ত সূর্য রক্ষায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে লড়াই করবেন; নাকি নীরব থাকবেন সেটা দেখতেই মুখিয়ে আছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ একতরফা বিচারে খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে: মির্জা ফখরুল


একতরফা বিচার করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মুক্তিভবনে ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির চতুর্থ কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো মামলা মিথ্যা নয়- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ হাজার গায়েবি মামলা করা হয়েছে। একাদশ নির্বাচনের আগে প্রধানন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে গায়েবি মামলার তালিকাও দেয়া হয়েছিল।

নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করেই নির্বাচনে জয়লাভ করেছে আওয়ামী লীগ। দেশের মানুষ জানে মামলাগুলো সত্যি নাকি মিথ্যা।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশকে রাজনীতিহীন করার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সব অর্জন ধ্বংস করা হয়েছে।

কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ ইবরাহিমের সভাপতিত্বে কাউন্সিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here