নাঈমের বীরত্ব ওজয়ের গোপন তথ্য ফাঁসঃ জয় নাঈমকে খালেদা জিয়া সম্পর্কে কটুক্তি শিখিয়েছিল।(ভিডিওসহ )

0
271

নাঈম ইসলাম এক বীরত্বগাঁথার নাম। গুলশান কড়াইল বস্তির ১০ বছর বয়সের এই শিশুর নামের সঙ্গে যোগ হয়েছে ‘শিশু স্পাইডারম্যান’, খুদে ‘হিরো’ ‘পাইপ বয়’ উপাধি। বনানী এফআর টাওয়ারে আগুন নেভানোর সময় দায়িত্ববোধ থেকেই ফায়ার সার্ভিসের ফুটো পাইপ চেপে ধরে রেখে নাঈম যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে; তাতে সে সবার চোখে হিরো। নাঈমের বীরত্বগাঁথার গল্প নিয়ে দেশ-বিদেশে চলছে উচ্ছ্বাস তর্ক-বিতর্ক হৈচৈ। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাসের আলোর ঝলকানিতে টিভি নাটকের ভিলেন শাহরিয়ার নাজিম জয় ‘বিষ্ঠা’ ছিঁটিয়ে জাতির অহংবোধের ওপর আঘাত করেন। ক্ষমতাসীনদের খুশি করে কিছু উচ্ছিষ্ঠ পাওয়ার প্রত্যাশায় সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক চিন্তা থেকে চাটুকার খলনায়ক জয়ের ইতরামী অবুঝ শিশু নাঈম ইসলামের অর্জন ভূলুণ্ঠিত। দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে নাঈমের মতো শিশুরা যখন দায়িত্ববোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বড়দের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে অনুসরণীয়-অনুকরণীয় হচ্ছেন; তখন এক সময়ের নাটকের তোতলা ভিলেন হালে টিভি উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়েরক কূকর্মে দেশের নাঈম ইসলামরা হতোদ্যম হয়ে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে চলছে তোলপাড়। এই শাহরিয়ার জয়েরা দেশীয় সংস্কৃতি ধ্বংস করে জাতির ওপর বিজাতীয় সংস্কৃতি চাপিয়ে দিচ্ছে। এখন হালুয়া-রুটির প্রত্যাশায় রাজনীতিকে কলুষিত করার চেষ্টা করছেন? নাঈম ইসলামের মহৎপ্রাণে অপরাজনীতি টেনে আনার কি রহস্য?

২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানি স্টেশনের পূর্বে ঝিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র শিহাব ও দ্বিতীয় শ্রেণীর লিটন উপস্থিত বুদ্ধিতে একটি ট্রেন দুর্ঘটনা ঠেকিয়েছিল। বিচ্ছিন্ন রেল সেতুর সামনে দাঁড়িয়ে দুই শিশুর লাল জামা ওঠানোয় ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৩১টি ওয়াগন দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পায়। দুই শিশুর ঠিকমতো গুছিয়ে কথা বলতে পারতো না। কিন্তু তাদের পুরস্কৃত করা হয়। দেশ বিদেশে শিহাব-লিটনকে নিয়ে বীরত্বের কাহিনী লেখা হয়। এর আগে কুমিল্লায় এক শিশু দুর্ঘটনা থেকে ট্রেনের হাজার যাত্রীকে রক্ষা করে পুরস্কৃতি হন। তেমনি বীরত্বের ঘটনায় ঘটিয়েছে ২৮ মার্চ বনানী এফআর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের সময় নাঈম। ব্র্যাক আনন্দ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র নাঈম বাবা-মা আর ছোট বোনের সঙ্গে করাইল বস্তিতে থাকেন। মা পরের বাড়িতে ঝি’য়ের কাজ করেন; বাবা বিক্রি করেন ডাব।

ভিডিওঃ  ‘গোপন তথ্য ফাঁসঃ ধরা খেল জয়। সে নাঈমকে খালেদা জিয়া সম্পর্কে কটুক্তি শিখিয়ে দিয়েছিল।(ভিডিওসহ ) ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

বনানীর ২৩ তলা এফআর টাওয়ারে আগুন লাগার পর সবাই যখন আগুনের লেলিহান শিখা দেখে হায়হায় করেন; অনেকেই ভিড় করে উদ্ধারকর্মীদের সমস্যার সৃষ্টি করেন; তখন নাঈম বীরত্বের পরিচয় দেন। ফায়ার সার্ভিসের আগুন নেভানোয় যুদ্ধে পাইপের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ছিল। তাৎক্ষণিক বুদ্ধিতে নাঈম ফুটা পাইপ চেপে ধরে পানি পড়া করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাইপ চেয়ে ধরে থাকেন। একটি শিশুর এই সাহসী ভূমিকায় সবাই উদ্বেলিত। চারিদিকে যখন মানবিকতার অধঃপতন, নীতি-নৈতিকতার উপেক্ষিত; তখন নাঈমের পাইপ চেয়ে ধরার কাজ ছোট্ট হলেও দেশের উদ্বিগ্ন মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। মিডিয়ায় এই খবর পড়ে আমেরিকা প্রবাসী ওমর ফারুক সামি ঘোষণা দেন তিনি বস্তির ছেলে নাঈমকে ৫ হাজার ডলার (৪ লাখ টাকা) অনুদান দেবেন এবং লেখাপড়ার দায়িত্ব নেবেন। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী ওমর ফারুক সামি বলেন, ‘আমি নাঈমের কাজে খুবই খুশি হয়েছি। নাঈম খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করছে, সে পুলিশ অফিসার হতে চায়। তার ইচ্ছেপূরণ করতে এখন থেকে তার পড়ালেখার দায়িত্ব নিলাম’। অতঃপর টিভি নাটকের স্কান্ডালবয় হালে এক টিভি উপস্থাপক শাহরিয়ার জয়ের একটি শো টিভিতে প্রচারের পরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। সেই প্রবাসী নাঈমকে ৫ হাজার ডলার দেয়ার সিদ্ধান্ত স্থাগিত করেন। কেন এমন হলো?

নাঈম ইসলামের সাহসিকতা নিয়ে সারাদেশে হৈচৈ পড়ে যাওয়ায় টিভি উপস্থাপক ও অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় বিস্ময়বালক নাঈমের একান্ত সাক্ষাৎকার নেন। এ সময় নাঈমের সঙ্গে তার বাবা-মা ছিলেন। মূলত ধান্ধা থেকেই তিনি এই কাজ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি জানতে চান নাঈম পুরস্কারের ৫ হাজার ডলার নেবে কিনা? আর নিলেও সেই টাকা কিসে খরচ করবে? উপস্থাপকের এমন প্রশ্নে জবাবে নাঈম ইসলাম জানায়, সেই টাকাগুলো সে এতিমখানার অনাথ শিশুদের জন্য দান করে দিতে চায়। ছেলের এ জবাবে সায় দেন তার মা-বাবা। এতিমখানায় কেন টাকা দিতে চায় এমন প্রশ্নের উত্তরে নাঈম জানায়, কয়েক বছর আগে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লুট করে খেয়েছেন। তাই এই টাকা সে এতিমদের দিতে চায়। এই অনুষ্ঠান দেখেই সর্বত্রই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এখানে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে টেনে আনা হচ্ছে কেন? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় বøগ, ফেসবুক, টুইটারে তীব্র প্রতিবাদ হয়। এটা দেখে আমেরিকা প্রবাসী সেই ওমর ফারুক সামি ঘোষণা দেন, ‘এই ছেলে (নাঈম) তো রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে। আমার কষ্টার্জিত টাকায় নোংরা রাজনীতি কেনো? আমি বলেছিলাম, পড়াশোনার জন্য টাকা দেব। রাজনৈতিক নোংরামি করতে হলে নিজের টাকায় করুক। এতিমখানায়ই যদি টাকা দিতে হয় তাহলে তো আমি নিজেই তা দিতে পারি’।

ভিডিওঃ  ‘গোপন তথ্য ফাঁসঃ ধরা খেল জয়। সে নাঈমকে খালেদা জিয়া সম্পর্কে কটুক্তি শিখিয়ে দিয়েছিল।(ভিডিওসহ )’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

শিশু নাঈম ইসলাম ও শাহরিয়ার নাজিম জয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়; তখন প্রকৃত ঘটনা খুলে বলেন শিশু নাঈম। সে জানায়, উপস্থাপক তাকে শিখিয়ে দেয়ায় খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন এ জন্য এতিমখানায় টাকা দিতে চান বলেছেন। নিজের থেকে বলেননি। আমিরুল মোমিনিন মানিক নামের এক সাংবাদিক শিশু নাঈমের সাক্ষাৎকার নেন। সেই সাক্ষাৎকারটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। নাঈম ইসলামকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘তোমার মা কষ্ট করে সংসার চালাচ্ছেন, তোমার পড়াশোনার খরচ বহন করছেন, তোমার নিজের টাকা দরকার, তাহলে তুমি কেন সে টাকা নিজে না রেখে এতিমদের দিয়ে দিতে চাও? এটা কী তোমার মনের কথা?’ শিশু নাঈমের সোজাসাপ্টা জবাব, ‘না, এটা বলতে তারা শিখিয়ে দিয়েছিল।’ এরপর প্রশ্নকর্তা বলেন, ‘যিনি তোমাকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন তিনি এখন বলেছেন আর টাকা দেবেন না। তুমি কী টাকাটা চাও?’ নাঈমের জবাব, ‘আমি ওই কথা না বুঝে বলেছি, আমি টাকা চাই, আমার পড়াশোনার জন্য টাকা চাই।’ একই প্রশ্ন করা হয় নাঈমের মাকে। তিনি বলেন, ‘নাঈম ছোট মানুষ, তাই না বুঝে এসব বলেছে। আমি গরীব মানুষ, টাকা আমারই দরকার। টাকা অন্যদের দিয়ে দিলে আমার নাঈমকে আমি কীভাবে মানুষ করব!’ প্রশ্ন হলো ছোট্ট একটি শিশুকে নিয়ে কেন এই অপকর্ম?

দেশে রাজনৈতিক বিভাজন ও অপরাজনীতির কারণে সমাজে ভালো কাজ প্রায় উঠে গেছে। ভোটের অধিকার হারানো মানুষ পোকামাকড়ের মতোই বসবাস করছে। চোখের সামনে কেউ বিপদে পড়লে ‘পাছে কোন বিপদ আসে’ ভয়ে মানুষ সহায়তার বদলে এড়িয়ে যায়। সেখানে রাজশাহীর শিহাব, লিটন ও কড়াইল বস্তির নাঈম ইসলামের মতো অবুঝ শিশুরা কিছু কাজ করে মানুষের হৃদয়ে দাগ কাটেন; সমাজের বিবেকহীন দলবাজ বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষিতদের বিবেকে নাড়া দেন। সেটা নিয়েও দলবাজী! ধান্দা!! খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিনেতা এই শাহরিয়ার নাজিম জয় তোতলানোয় নাটকে কেউ নেয় না। এজন্য এক সময় বিভিন্ন টিভি নায়িকার সঙ্গে নিজের স্কান্ডল ছড়িয়ে বিনোদন সাংবাদিকদের দিয়ে নিউজ করে আলোচনায় থাকতেন। কিছুদিন আগেও টিভিকে এক লাইভ অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমীকে প্রশ্ন করেন ‘আপনার স্বামীর মৃত্যু হলে আমাকে বিয়ে করবেন কিনা; আগাম কথা দ্যান?’ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যান ঢাকাই সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় ওই নায়িকা। পরে অবশ্য প্রকাশ্যেই উপস্থাপন ক্ষমা চান। কিছুদিন পর ওই অনুষ্ঠানে বাংলা সাহিত্যের বরপুত্র মরহুম হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী শাওনকে অনুষ্ঠানে এনে একই ধরনের প্রশ্ন করে অতিথিকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেন। যথারীতি ক্ষমা চেয়ে নেন।

এদিকে শাহরিয়ার নাজিম জয়ে মুখোশ খুলে দিয়েছেন নাঈমের মা নাজমা বেগম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের সাক্ষাৎকারে নাঈমের দেয়া এ বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাচ্ছি। কথাটি শিশু নাঈমকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল। যখন শাহরিয়ার নাজিম জয় নাঈমকে বাসা থেকে তার স্টুডিওতে নিয়ে যায়, তখন আমি ছিলাম না। নাঈমকে একাই নিয়ে গিয়েছিল। আমি এর দেড় ঘণ্টা পরে সেখানে গিয়েছি। ওই দিন ইন্টারভিউয়ের সময় শাহরিয়ার নাজিম জয় আমার ছেলের হাতে একটা খাম দিয়েছিল। আমি পরে বাসায় এসে খুলে দেখি ২ হাজার টাকা। দয়া করে খালেদা জিয়ার ব্যাপারটার জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি। ওই নেত্রীর (খালেদা জিয়া) কাছে আমি, আমার ছেলের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। আমার স্বামী আমাদের সাথে থাকেন না। আমি আমার ছেলে ও ছোট একটা মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন চালাই। আমি বাসা বাড়িতে কাজ করে খাই। আমি চাই না, আমার ছেলে কোনো বিপদে পড়ুক’।

শাহরিয়ার নাজিম জয় দাবি করেছেন, তিনি নাঈমকে কোনো কথা শিখিয়ে দেননি। সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্বাস করুন, আমি নাঈমকে কোনো কথা শিখিয়ে দেইনি। এমন কি আমার ইউনিটের কেউই তাকে, কোন ধরনের কথা শিখিয়ে দেয়নি। এতটুকু বাচ্চাকে আমার শিখিয়ে দেয়ার কিছু নেই। সে নিজে কোথাও থেকে শিখে এসেছে কি-না আমি বলতে পারব না। এ ঘটনার পর দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন নম্বরের মাধ্যমে আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এরইমধ্যে আমার ফেসবুক আইডিও হ্যাক করা হয়েছে। তাই জিডি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অবশ্য নাঈমকে ২ হাজার টাকা দেয়ার ব্যাপারে কিছুই বলেননি।

প্রশ্ন হলো শাহরিয়ার নাজিম জয়ের মতো নাটকের তথাকথিত নায়ককের ভিলেনি আচরণে বস্তির নাঈম ইসলাম কি প্রাপ্য পুরস্কার থেকে বঞ্ছিত হতে হবে?

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ঢাকায় ডাকাতি


ঢাকা মহানগর পুলিশের পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডাকাতি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা এখন কারাগারে আছেন। তেজগাঁও থানা-পুলিশ ঢাকার আদালতকে জানিয়েছে, ডাকাতি মামলার এক নম্বর আসামি হলেন হুমায়ুন কবির (৩৭)। তিনি কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একজন পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ডাকাতির মামলায় কাউন্টার টেররিজমের পরিদর্শক হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের আদেশ তিনি কারাগারে আছেন।

তবে পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের আইনজীবী লিখিতভাবে আদালতের কাছে দাবি করেছেন, ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে হুমায়ুন কবির জড়িত নন। তাঁকে ষড়যন্ত্র করে এ মামলায় জড়িত করা হয়েছে। হুমায়ুন কবীর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ডাকাতির কবল পড়েন বাংলাদেশ ফিল্ম প্রডাকশনের সহকারী ব্যবস্থাপক শাহজাহান সরকার। ডাকাত দলের সদস্যরা শাহজাহানকে মারধর করে তাঁর মোটরসাইকেল কেড়ে নেয়। একই সঙ্গে এটিএম কার্ডের গোপন পিন নম্বর এবং বিকাশের গোপন পিন নম্বর জেনে নেয় ডাকাতরা। এ ঘটনায় শাহজাহান সরকার বাদী হয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

মামলায় শাহজাহান সরকার অভিযোগ করেন, সেদিন রাত ১২ টা ১০ মিনিটে নিজের মোটরসাইকেলে করে পুলিশ প্লাজা থেকে মহাখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ১২ টা ১৫ মিনিটে লিংক রোডের শান্তা ওয়েস্টার্ন টাওয়ারের সামনে আসলে এক লোক তাঁকে থামার জন্য নির্দেশ দেন। তাঁর বয়স ছিল ৩০ কিংবা ৩৫ বছর। শাহজাহান তখন দাঁড়ান। সেখান থেকে পাঁচ গজ দূরে দাঁড়ানো সাদা রঙের প্রাইভেটকার থেকে তিনজন লোক নেমে আসেন। এর মধ্যে একজনের বয়স ৩৫ কিংবা ৩৬ বছর। তাঁর গায়ের রং শ্যামলা। মাথার চুল ছোট। কোমরে ওয়ারলেস সেট ছিল। একটা কার্ড দেখিয়ে বলেন, তিনি পুলিশের লোক। ক্রাইমের স্পেশাল অফিসার। তখন ওই লোকটি তাঁর দুই সহযোগীকে নির্দেশ দেন, শাহজাহানের দেহ তল্লাশি করার জন্য।

মামলায় আরও বলা হয়, শাহজাহানের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংকের এটিএম কার্ড, নগদ সাড়ে আট হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। তখন শাহজাহানকে প্রাইভেট কারে তোলার চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী শাহজাহান বাধা দেন। তখন ডাকাত দলের সদস্যরা মারধর করে তাঁকে প্রাইভেট কারে তোলে। পরে শাহজাহানের কাছে এটিএম কার্ডের গোপন নম্বর চায়। না দিতে চাইলে লাঠি দিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে এটিএম কার্ডের পিন নম্বর বলে দেন শাহজাহান। পরে ডাকাতরা মহাখালীর ডাচ বাংলার এটিএম বুথে যায়। ডাকাত দলের একজন সদস্য সেখানে ঢুকে আবার গাড়ির কাছে আসে। শাহজাহানকে বলে, কার্ড বুথে আটকে গেছে। তখন ডাকাত দলের সদস্যরা মারধর করে শাহজাহানের বিকাশ নম্বরের গোপন পিন নম্বর নিয়ে নেয়। তখন প্রাইভেটকারটি হাতিরঝিলে আসে। বিকাশ নম্বর থেকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে নেয়।

হাতিরঝিলে গাড়ি থেকে নামিয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা শাহজাহানকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘সোজামতো বাড়ি যাবি। কোথাও কোনো সাউন্ড করবি না। সাউন্ড করলে তোকে শেষ করে দেব। রাত বাজে তখন ২টা ৩০ মিনিট।’

শাহজাহান সরকার বলেন, ডাকাত দলের সদস্যরা মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়। পুলিশ পরিচয় দিয়ে ডাকাতি করে। ডাকাত দলের সদস্যদের বয়স ২৫ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হুমায়ুন কবির ও মহরম নামের দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আদালতে হাজির করে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান। আদালতকে পুলিশ প্রতিবেদন দিয়ে বলেছে, মামলার এক নম্বর আসামি হুমায়ুন কবির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক বলে জানা যায়। এক নম্বর আসামি হুমায়ুন কবিরের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল বিকাশ নম্বর-এ ট্রানজেকশন (স্থানান্তর) করা। বিকাশের মোবাইল সেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স হুমায়ুন কবিরের কাছ থেকে জব্দ করা হয়। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের ঘটনার কথা স্বীকার করলেও বাদীর লুণ্ঠিত মালামাল ও সহযোগী অপরাপর আসামিদের কথা এড়িয়ে যায়। আদালত সেদিন হুমায়ুন কবির ও মহরমকে এক দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেন।

ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কাউছার ও মনিরুজ্জামান আরও দুজনকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে গত ১ মার্চ ঢাকার আদালতে হাজির করে পুলিশ। সেদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান আদালতকে এক প্রতিবেদন দিয়ে জানান, আসামি মহরমের তথ্য ও দেখানো মতে বাদী শাহজাহানের লুণ্ঠন করা মোটরসাইকেল কাউছারের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়। মনিরুজ্জামানের কাছে বাদীর মুঠোফোন জব্দ করা হয়। আদালত সেদিন কাউছার ও মনিরুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ৩ মার্চ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঢাকার আদালতে জবানবন্দি দেন আসামি কাউছার ও মনিরুজ্জামান।

তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ডাকাতির মামলায় হুমায়ুন কবিরসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা এখন কারাগারে আছেন।

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে দেখতে হাসপাতালে মির্জা ফখরুল


সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি আছেন। মঙ্গলবার (০২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান রাত ৯টায় বাংলানিউজকে জানান, মঙ্গলবার দুপুরে বুকে ব্যথা অনুভব করায় সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি হার্ট ও ডায়াবেটিসের সমস্যায় ভুগছেন।

শায়রুল কবির বলেন, সন্ধ্যায় মাহফুজ উল্লাহকে দেখতে স্কয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মাহফুজউল্লাহর চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ মোকাব্বিরকে বেঈমান বললেন ইলিয়াসপত্নী লুনা


সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের জন্য মোকাব্বির খানকে বেঈমান বলেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসীনা রুশদীর লুনা।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দুপুরে ব্রেকিংনিউজবিডিকে তাহসীনা রুশদীদ লুনা বলেন, ‘মোকাব্বির বেঈমান। তাকে কেউ চিনতো না। তার কোনও ভোট নেই। সে আমার বাসায় এসে, আমার কাছে বলেছিল সে ইমানদার।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মোকাব্বির এর মিটিং এ ১০ জন লোকও হতো না। আমাদের সমর্থন নিয়েই সে এমপি হয়েছে। তার যোগ্যতা থাকলে সে যেনো আবার প্রার্থী হয়।’

তাহসীনা রুশদীর লুনা সিলেট-২ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন। আইনি জটিলতায় তার মনোনয়ন বাতিল হলে মোকাব্বির খানকে সমর্থন দেয় ঐক্যফ্রন্ট। স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান আর নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে পরাজিত করে বড় জয় পান মোকাব্বির।

অনেক নাটকীয়তা শেষে মঙ্গলবার দুপুরে শপথ নিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে উদীয়মান সূর্য প্রতীকে নির্বাচিত সাংসদ মোকাব্বির খান।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ওসিরা এত সাহস পায় কোথায়, দেশটা কি চোরের দেশ হয়ে গেছেঃ হাইকোর্টের প্রশ্ন


সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার ওসির কর্মকাণ্ডে থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন হাইকোর্ট। এক বিচারক বলেছেন, ওসিরা এত সাহস কোথায় পায়?

মামলা না নেয়ায় শ্যামনগরের ওসি হাবিল হোসেনের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির রিট আবেদনের শুনানিতে মঙ্গলবার বিচারপতি নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ থেকে এ মন্তব্য আসে।

জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি একদল দুর্বৃত্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার সোরা গ্রামের ফজলুল করিমকে মারধর করে এবং বেশকিছু মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানালে তিনি বিষয়টি গুরুত্বই দেননি। ফজলুল করিম এ বিষয়ে মামলা করতে চাইলে মামলাও নেননি। ওসি বরং চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে বিষয়টি মীমাংসা করার পরামর্শ দেন। এ কারণে মামলা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন ফজলুল করিম।

রিটের শুনানির শুরুতেই আদালত জানতে চাইলে ঘটনাটি আংশিক সত্য বলে উল্লেখ করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।

এ সময় আদালত বলেন, ‘ওসি মামলা নিলেন না কেন? আমরা রুল দিয়ে দেখি, কেন তিনি মামলা নিলেন না। ওসি সাহেবরা সব জায়গায় কোর্ট বসিয়ে দেন। তারা কি সালিশ করতে বসেছেন যে সুবিধামতো হলে মামলা নেবেন। অথচ টাকা ছাড়া থানায় একটা জিডিও হয় না। ওসিরা যেখানে-সেখানে কোর্ট বসায়, রাতে কোর্ট বসায়। এত সাহস তারা কোথায় পায়?’

আদালত আরও বলেন, ‘১৩ হাজার পুলিশ যারা থানায় বসেন, তাদের জন্য গোটা পুলিশের বদনাম হতে পারে না। অনেক পুলিশ খুব কষ্ট করে জীবন-যাপন করেন। অথচ অনেকের দেখি ৪-৫টা করে বাড়ি। দেশটা কি চোরের?’

আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শামসুল হক কাঞ্চন।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম যুগান্তরকে বলেন, আদালত শুনানিতে থানা পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ স্বর্ণালংকার লুট, হামলা, দরজা ভাঙার কোনো প্রমাণ পায়নি। কিন্তু পাঁচিল ভাঙার প্রমাণ পেয়েছে। কোর্টকে এটা জানানোর পর কোর্ট বলল, যেহেতু পাঁচিল ভাঙা পেয়েছে আংশিক সত্যতা তো পাওয়া গেছে। তাহলে পুলিশ কেন মামলা নেবে না?’

মামলাটি এক সপ্তাহের জন্য ‘স্ট্যান্ডওভার’ রেখে আদালত শ্যামনগর পুলিশকে এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়ায় বিএনপিতে ফাটল ধরেছে: বরকতুল্লাহ বুলু


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলু বলেছেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি ছিল। সত্যিকার অর্থে আজ সে ঘাঁটি ম্রিয়মাণ, তাতে ফাটল ধরেছে। আস্তে আস্তে আওয়ামী লীগ এখানে জায়গা করে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, বগুড়ায় বিএনপিকে আগের অবস্থায় ফিরে আনতে ও সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া শহরের টিএমএসএস মহিলা মার্কেট অডিটোরিয়ামে জেলা বিএনপি আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরকতুল্লাহ বুলু এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হলেও সেসব দুদক ও সরকার দেখে না। অথচ মাত্র দুই কোটি টাকা আত্মসাতের মিথ্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে আটক রাখা হয়েছে।

গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে দ্রুততম সময়ে রাজপথে আন্দোলনে নামার জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলু।

প্রধান বক্তা হিসেবে রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, মিথ্যা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে সাজা দেয়া হয়েছে। তারেক রহমানকে দেশে আসতে দেয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে নেতাকর্মীদের আন্দোলন করতে হবে। আর এ আন্দোলন বগুড়া থেকেই শুরু হবে। দুলু বর্তমান সরকারের নির্যাতনের শিকার শত শত মামলা মাথায় নিয়ে ফেরারি ত্যাগী নেতাকর্মীদের আগামীতে মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি রাজশাহী বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, কেন্দ্রীয় সদস্য ওবায়দুর রহমান চন্দন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, আলী আজগর তালুকদার হেনা, এমআর ইসলাম স্বাধীন, তাহাউদ্দিন নাহিন, সহিদ-উন-নবী সালাম, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী লাভলী রহমান, মাহফুজা লাকী, খাদেমুল ইসলাম, মাসুদ রানা, শাহ মেহেদী হাসান হিমু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এদিকে সভার শুরুতে সভাস্থলে জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রবেশ ও আন্দোলনের দাবিতে স্লোগান দেয়াকে ঘিরে উত্তেজনা, বাগ্বিতণ্ডা হয়।

এ সময় উত্তেজিত নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে ধাক্কা দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মুকাব্বির বেঈমান ও প্রতারকঃ মির্জা ফখরুল ইসলাম


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী গণফোরামের মোকাব্বির খান জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংসদ সদস্যের শপথ নেয়ায় তাকে ‘বেঈমান ও প্রতারক’ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীকে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খান । এর আগে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী গণফোরামের সুলতান মনসুর গত ৭ মার্চ একইভাবে দল ও জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেন।

সে সময় সুলতান মনসুরকেও প্রতারক ও বেইমান বলেছিলেন মির্জা ফখরুল। আজ মোকাব্বির শপথ নেয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এরা বেইমান। জনগণের সঙ্গে বেইমানি করেছে, প্রতারণা করেছে। এটা নিজের দলের সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে এবং ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রতারণা।’

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগে পুনর্নির্বাচন দাবি করছে এবং তাদের বিজয়ী আট সাংসদ শপথ নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়। গণফোরামের মোকাব্বির ও সুলতান মনসুর প্রথম দিকে এই সিদ্ধান্ত মেনে চলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে দুনোমনো চলতে থাকে। অবশেষে শপথই নিলেন তারা। দুজনেরই দাবি, তাদের শপথে দলের সায় রয়েছে।

আজ শপথ নেওয়ার পর মুকাব্বির জানান, তিনি দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ নিয়েছেন। তবে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলছেন, তিনি (মোকাব্বির) ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে শপথ নিয়েছেন। দলীয় প্যাড ‘চুরি’ করে তিনি স্পিকারকে দলের সিদ্ধান্তে শপথ নিচ্ছেন বলে চিঠি দেন।

গত ৭ মার্চ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর দল থেকে তাকে বহিষ্কার করে গণফোরাম। মুকাব্বিরকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে শোনা গেছে।

উৎসঃ ‌ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তি: আইন কী বলে


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার মধ্যেই তার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বও পাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তির ব্যবস্থা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশে পাঠানো হতে পারে। এ নিয়ে রাজনৈতিক মাঠে চলছে নানা তৎপরতা। পর্দার আড়ালে চলছে সরকার ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলেই বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব চূড়ান্ত হবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

যদিও এ ব্যাপারে দুপক্ষের কেউ নাম প্রকাশ করে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। মুক্তি পেলে সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা নিতে পারেন খালেদা জিয়া। এর আগেও কয়েক দফা দেশ দুটিতে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।

তবে অন্যবারের চেয়ে এবার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি ভিন্ন। এবার খালেদা জিয়া কারাগারে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আগে যতবারই তিনি চিকিৎসা নিতে বিদেশে গিয়েছিলেন, ততবারই ছিলেন মুক্ত পরিবেশে।

এ ছাড়া খালেদা জিয়ার কারাবরণ এবারই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার রাজনৈতিক কারণে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে ১/১১ সরকারের সময়ে তাকে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। তখন তিনি একবার প্যারোলে মুক্তি নিয়েছিলেন। মা তৈয়বা মজুমদার মারা গেলে তাকে দেখতে প্যারোলে মুক্তি নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। এও শোনা যায় পরবর্তী সময় খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়া হলেও তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

সেই সময় খালেদা জিয়া রাজি হননি বলে এবার যে রাজি হবেন না সেটি বলা যায় না। কারণ এবার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর। আবার এটিও ঠিক যে, ১/১১ সময়কালে খালেদা জিয়া মাকে শেষ দেখা দেখতে প্যারোলে বের হওয়ার সুযোগ পেলেও এবার সেই সুযোগ পাবেন কিনা সেটি নিয়েও রয়েছে নানা মত। কারণ তখন কোনো মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়নি। কিন্তু দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। এমতাবস্থায় তিনি প্যারোলে মুক্ত হতে পারবেন কিনা, সেটি নিয়েও সংশয় রয়েছে। এ বিষয়ে আইন কী বলে?

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সোমবার রাতে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সরকার প্রথম থেকেই ইতিবাচক। অসুস্থ হওয়ার আগে গত বছর ৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বিএনপি চাইলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল যুগান্তরকে বলেন, এটি সিদ্ধান্তের ব্যাপার। যখন প্রয়োজন হবে, তখন দেখব। এখন আদালত থেকে যে সিদ্ধান্ত রয়েছে, সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চাইলে সরকার বিবেচনা করবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে এখনও কিছু হয়নি।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের মূল দাবি হচ্ছে চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসা। তার চিকিৎসার ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। এ জন্য যা যা করা প্রয়োজন আমরা তাই চাচ্ছি। তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির দাবি জানিয়েছে। তার জন্য বোর্ড গঠন করা হয়েছে, দেখি তারা কী বলে।

তিনি বলেন, প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া নির্ভর করে রোগীর ওপর। অর্থাৎ আমাদের চেয়ারপারসনের ওপর। তিনি প্যারোলে মুক্তি চাইবেন কি চাইবেন না- সেটি একান্ত তার নিজস্ব ব্যাপার। আমরা আগ বাড়িয়ে এটি বলতে পারি না। তবে চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসার জন্য যা যা করা প্রয়োজন আমরা তাই করব। আশা করি সরকারও সেই উদ্যোগ নেবে।

সাজাপ্রাপ্ত আসামির প্যারোলে মুক্তি সম্ভব কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিশেষ ক্ষেত্রে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, কয়েদি ও হাজতিকে সরকার প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে। সেটি হতে পারে চিকিৎসার জন্য বা জানাজায় অংশ নিতে। সাজাপ্রাপ্ত হলে প্যারোলে মুক্তি হবে না- এ বক্তব্য সঠিক নয়। তিনি বলেন, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্ত হবেন কিনা সেটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

সরকারকেও প্যারোলে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মুক্তি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে সময় একটা বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু পরে প্রয়োজনে তা বৃদ্ধি করা যায়। তিনি বলেন, আমি একসময় ম্যাডাম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির কথাটা বলেছিলাম। তখন বিএনপি হাইকমান্ড এটিকে সহজভাবে নেয়নি। তারা মনে করেছিলেন এটি বিএনপির রাজনীতিতে পরাজয় হবে।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক সোমবার যুগান্তরকে বলেন, জেলকোড অনুযায়ী- কোনো আসামিকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিধান নেই। প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। সরকার ইচ্ছা করলে কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে। এর আগে সেনাসমর্থিত সরকারের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়েছিল।

বর্তমান সরকার চাইলে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে। তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি নির্ভর করে দুপক্ষের সমঝোতার ওপর। বিএনপি খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিশ্চিত করতে চাইলে তাদেরও কিছু ছাড় দিতে হবে।

সূত্র জানায়, এখনই জামিনে মুক্তি পেতে হলে খালেদা জিয়াকে অন্তত চারটি মামলায় জামিন নিতে হবে। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ছাড়া বাকি মামলা দুটি ধর্মীয় উসকানি ও মানহানির। এ দুই মামলায় সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ধর্মীয় উসকানির মামলায় ওয়ারেন্টসহ জামিন শুনানির জন্য ২৪ এপ্রিল দিন ধার্য রয়েছে। আর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির মামলায় ৩০ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছর সাজা দিয়েছিলেন। তবে হাইকোর্টে এসে সাজা বেড়ে হয়েছে ১০ বছর। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ মামলায় আপিলের সঙ্গে জামিন আবেদনও করেছেন। চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত সাত বছরের সাজা দিয়েছেন খালেদা জিয়াকে। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জামিন চাওয়া হয়েছে এ মামলায়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে মামলা রয়েছে ৩৬টি।

তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামির প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার নজির এ দেশে নতুন নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন। প্যারোলে মুক্তি নিয়ে তিনি ছেলের জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে সেটি কয়েক ঘণ্টার জন্য।

কিন্তু খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চাইলে তাকে বহুদিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি নিতে হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন সেটি সম্ভব একমাত্র দুপক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা হলেই।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার ‍অসুস্থতাকে সামনে রেখে সরকার এবং বিএনপির অভ্যন্তরে ভেতরে ভেতরে এক ধরনের ছাড় দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে একাদশ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের পরও বড় কোনো কর্মসূচি দেয়নি বিএনপি। ‘ধীরে চলো নীতি’ অবলম্বন করছেন দলটির নেতারা। এ কারণে কোনো কঠোর রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও সক্রিয় নেই বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একইভাবে রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবেই কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার নিয়ে যাওয়া হয়েছে খালেদা জিয়াকে। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে উন্নত চিকিৎসার।

সূত্র জানায়, সমঝোতার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় চেয়ারপারসনের মুক্তিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। তারা মনে করেন, খালেদা জিয়ার মামলাগুলো জামিনযোগ্য। এ ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়ে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব না হলে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আপত্তি করবে না দলটি।

এ ক্ষেত্রে অন্তত সরকারের নির্বাহী আদেশে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো অথবা তার বাসভবনকে সাবজেল হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে তাকে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। তবে বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার নিজের সিদ্ধান্তের ওপর।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির নীতিনির্ধারকদের কাছে এখন এক নম্বর এজেন্ডা হচ্ছে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরাও চান এটি।

দলটির নেতারা মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়ায় চেয়ারপারসনের মুক্তি আরও বিলম্ব হতে পারে। তা ছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আইনি প্রক্রিয়ায় কিংবা রাজপথের কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চাপে ফেলে চেয়ারপারসনকে মুক্ত করা কঠিন।

এতে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই যেকোনো মূল্যে চেয়ারপারসনের সুচিকিৎসার উদ্যোগ নিচ্ছেন তারা। এর অংশ হিসেবে নেপথ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির দুই নেতা। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টার সঙ্গে। সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তারা।

এসব বৈঠকে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তি ও চিকিৎসার ব্যাপারে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপ রয়েছে নীতিনির্ধারকদের ওপর। নেতাকর্মীদের চাপে সিনিয়র নেতারা বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসার দাবি জানান তারা। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যাপারে তিনি তাদের আশ্বস্ত করেন।

এর পর চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে চেয়ারপারসনের মতামত জানতে ১৫ মার্চ জুমার নামাজের পরপরই কারাগারে দেখা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা আলোচনা করেন। এ আলোচনার বড় একটি অংশ তার চিকিৎসা ও মুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে ছিল বলে সূত্র জানায়।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুগান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসনের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। কারণ খালেদা জিয়া তার জীবনে প্রথমবারের মতো তার কষ্টের কথা স্বীকার করেছেন, যা মিডিয়ায় এসেছে। তিনি স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত কষ্টসহিঞ্চু। তিনি যখন তার শারীরিক কষ্টের কথা স্বীকার করেছেন, তখন তিনি যে প্রচণ্ড অসুস্থ তা আমরা ধারণা করতে পারি। আলাল বলেন, সব কিছুর ঊর্ধ্বে মানবতা। সরকার যেন মানবাধিকার ও একজন সিনিয়র সিটিজেনের অধিকারগুলোর প্রতি সম্মান দেখায়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত


চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের মাসুদপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

সোমবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার মাসুদপুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর মড়লপাড়ার মো. কালু উদ্দিনের ছেলে মিলন (২২) এবং একই ইউনিয়নের ঠুটাপাড়ার আফসার হোসেনের ছেলে সোনারুল ইসলাম (২৫)।

মনাকষা ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য সোমির উদ্দিন ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, সোমবার রাত ৩টার দিকে মাসুদপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে গরু আনতে যাওয়ার সময় সীমান্ত অতিক্রম করেন মিলন ও সোনারুল ইসলামসহ কয়েক যুবক।

এ সময় ভারতের শোভাপুর ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে সীমান্তেই মিলন নিহত হন এবং গুলিবিদ্ধ হন সোনারুল।

পরে ওই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে বাংলাদেশের ভেতরে আসার পর প্রথমে মারা যান মিলন। এরপর আহতাবস্থায় সোনারুল ইসলামকে রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার পথে তিনিও মারা যান।

সোনারুলের মৃতদেহ খাসেরহাটে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাখা হয়েছে বলে সোমির উদ্দিন মেম্বার জানান।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাজ্জাদ সারওয়ার সীমান্তে রাখাল নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহতরা কাদের গুলিতে মারা গেছেন বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি, রাজনীতির মাঠে চলছে নানা তৎপরতা


মুক্তি পেলেই বিদেশে চিকিৎসা, শপথ নিতে পারেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা * প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি সিদ্ধান্তের ব্যাপার। যখন প্রয়োজন হবে, তখন দেখব -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * উন্নত চিকিৎসার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তাই করব -ড. খন্দকার মোশাররফ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেয়া হচ্ছে। ছবি-যুগান্তর
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক মাঠে চলছে নানা তৎপরতা। এ নিয়ে পর্দার আড়ালে সরকার ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলেই বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব চূড়ান্ত হবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

যদিও এ ব্যাপারে দু’পক্ষের কেউ নাম প্রকাশ করে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। মুক্তি পেলে সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা নিতে পারেন খালেদা জিয়া। এর আগেও কয়েক দফা দেশ দুটিতে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।

এদিকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য দলীয় চেয়ারপাসনের মুক্তি মিললে শপথ নিতে পারেন বিএনপির ছয় সংসদ সদস্য। এরকমই একটি সমঝোতার পথে হাঁটছে সরকার ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। তবে সবকিছু স্পষ্ট হতে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির নীতিনির্ধারকদের কাছে এখন এক নম্বর এজেন্ডা হচ্ছে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরাও চান এটি।

দলটির নেতারা মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়ায় চেয়ারপারসনের মুক্তি আরও বিলম্ব হতে পারে। তাছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আইনি প্রক্রিয়ায় কিংবা রাজপথের কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চাপে ফেলে চেয়ারপারসনকে মুক্ত করা কঠিন।

এতে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই যে কোনো মূল্যে চেয়ারপারসনের সুচিকিৎসার উদ্যোগ নিচ্ছেন তারা। এর অংশ হিসেবে নেপথ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির দুই নেতা। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার সঙ্গে। সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তারা।

এসব বৈঠকে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানা গেছে। এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার বিষয়ে দলের করণীয় চূড়ান্তে সোমবার রাতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

সূত্র জানায়, সমঝোতার বিষয়টি সামনে রেখে কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এর পূর্ব শর্ত হচ্ছে বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদে যেতে হবে। তবে এ ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদে যাওয়াসহ সমঝোতার পুরো বিষয়টি চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সরকার প্রথম থেকেই ইতিবাচক। অসুস্থ হওয়ার আগে গত বছর ৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বিএনপি চাইলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সোমবার রাতে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান যুগান্তরকে বলেন, এটা সিদ্ধান্তের ব্যাপার। যখন প্রয়োজন হবে, তখন দেখব। এখন আদালত থেকে যে সিদ্ধান্ত রয়েছে সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চাইলে সরকার বিবেচনা করবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে এখনও কিছু হয়নি।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের মূল দাবি হচ্ছে চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসা। তার চিকিৎসার ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। এজন্য যা যা করা প্রয়োজন আমরা তাই চাচ্ছি। তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির দাবি জানিয়েছে। তার জন্য বোর্ড গঠন করা হয়েছে, দেখি তারা কি বলে।

তিনি বলেন, প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া নির্ভর করে রোগীর ওপর। অর্থাৎ আমাদের চেয়ারপারসনের ওপর। তিনি প্যারোল চাইবেন কি চাইবেন না- সেটা একান্ত তার নিজস্ব ব্যাপার। আমরা আগ বাড়িয়ে এটা বলতে পারি না। তবে চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসার জন্য যা যা করা প্রয়োজন আমরা তাই করব। আশা করি সরকারও সেই উদ্যোগ নেবে।

সূত্র জানায়, সরকার এবং বিএনপির অভ্যন্তরে ভেতরে ভেতরে এক ধরনের ছাড় দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একদিকে খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পাবেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন। অন্যদিকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। যদিও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ৭ মার্চ শপথ নেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। ওই দিনই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি তার সদস্যপদ বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার এবং সিইসিকে চিঠি দেয়ার কথা গণফোরামের। কিন্তু ‘দেই, দেব করে এ চিঠি এখনও দেয়া হয়নি। উপরন্তু ঐক্যফ্রন্টের আরেক সদস্য মোকাব্বির খান আজ শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন বলেই এ চিঠি দেয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ‘ধীরে চলো নীতি’ অবলম্বন করছেন তারা। এ কারণে কোনো কঠোর রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও সক্রিয় নেই বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একইভাবে রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবেই কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার নিয়ে যাওয়া হয়েছে খালেদা জিয়াকে। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে উন্নত চিকিৎসার।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিশেষ ক্ষেত্রে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, কয়েদি ও হাজতিকে সরকার প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে। সেটা হতে পারে চিকিৎসার জন্য বা জানাজায় অংশ নিতে। সাজাপ্রাপ্ত হলে প্যারোল হবে না- এ বক্তব্য সঠিক নয়। তিনি বলেন, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্ত হবেন কিনা সেটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

সরকারকেও প্যারোলে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মুক্তি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে সময় একটা বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু পরে প্রয়োজনে তা বৃদ্ধি করা যায়। তিনি বলেন, আমি এক সময় ম্যাডাম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির কথাটা বলেছিলাম। তখন বিএনপি হাইকমান্ড এটাকে সহজভাবে নেয়নি। তারা মনে করেছিলেন এটা বিএনপির রাজনীতিতে পরাজয় হবে।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক সোমবার যুগান্তরকে বলেন, জেল কোড অনুযায়ী কোনো আসামিকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিধান নেই। প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। সরকার ইচ্ছা করলে কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে। এর আগে সেনাসমর্থিত সরকারের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়েছিল।

বর্তমান সরকার চাইলে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে। তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি নির্ভর করে দু’পক্ষের সমঝোতার ওপর। বিএনপি খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিশ্চিত করতে চাইলে তাদেরও কিছু ছাড় দিতে হবে।

সূত্র জানায়, এখনই জামিনে মুক্তি পেতে হলে খালেদা জিয়াকে অন্তত চারটি মামলায় জামিন নিতে হবে। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ছাড়া বাকি মামলা দুটি ধর্মীয় উসকানি ও মানহানির। এ দুই মামলায় সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ধর্মীয় উসকানির মামলায় ওয়ারেন্টসহ জামিন শুনানির জন্য ২৪ এপ্রিল দিন ধার্য রয়েছে। আর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির মামলায় ৩০ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছর সাজা দিয়েছিলেন। তবে হাইকোর্টে এসে সাজা বেড়ে হয়েছে ১০ বছর। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ মামলায় আপিলের সঙ্গে জামিন আবেদনও করেছেন। চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত ৭ বছরের সাজা দিয়েছেন খালেদা জিয়াকে। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জামিন চাওয়া হয়েছে এ মামলায়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে মামলা রয়েছে ৩৬টি।

সূত্র জানায়, সমঝোতার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় চেয়ারপারসনের মুক্তিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। তারা মনে করেন, খালেদা জিয়ার মামলাগুলো জামিনযোগ্য। এক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়ে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব না হলে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে আপত্তি করবে না দলটি।

এক্ষেত্রে অন্তত সরকারের নির্বাহী আদেশে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো অথবা তার বাসভবনকে সাব-জেল হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে তাকে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। তবে বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার নিজের সিদ্ধান্তের ওপর।

এদিকে দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তি ও চিকিৎসার ব্যাপারে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপ রয়েছে নীতিনির্ধারকদের ওপর। নেতাকর্মীদের চাপে সিনিয়র নেতারা বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসার দাবি জানান তারা। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যাপারে তিনি তাদের আশ্বস্ত করেন।

এরপর চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে চেয়ারপারসনের মতামত জানতে ১৫ মার্চ শুক্রবার জুুমার নামাজের পরপরই কারাগারে দেখা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা আলোচনা করেন। এ আলোচনার বড় একটা অংশ তার চিকিৎসা ও মুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে ছিল বলে সূত্র জানায়।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুগান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসনের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। কারণ খালেদা জিয়া তার জীবনে প্রথমবারের মতো তার কষ্টের কথা স্বীকার করেছেন। যা মিডিয়ায় এসেছে। তিনি স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত কষ্টসহিঞ্চু। তিনি যখন তার শারীরিক কষ্টের কথা স্বীকার করেছেন তখন তিনি যে প্রচণ্ড অসুস্থ তা আমরা ধারণা করতে পারি। আলাল বলেন, সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবতা। সরকার যেন মানবাধিকার ও একজন সিনিয়র সিটিজেনের অধিকারগুলোর প্রতি সম্মান দেখায়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জাতীয় নির্বাচনে দেখা যায়নি কেন’


নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ‘অনেকের মতে, উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন জাগে কতদূর যাওয়ার পর এই ঘুরে দাঁড়াবার বোধদয় ঘটল? উপজেলা নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্র বন্ধ করা এবং অনিয়মের জন্য পুলিশ ও অন্যান্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের সময় এহেন তৎপরতা দেখা যায়নি কেন?’

এই জিজ্ঞাসার জবাব খুঁজলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রকৃত রূপ উদঘাটিত হবে বলেও মন্তব্য করেন এই কমিশনার।

আজ (শনিবার) পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপের ভোট শেষে নিজ কার্যালয়ে এসব কথা বলেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

এ সময় তিনি বলেন, ‘জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন সর্বতভাবে নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত করা প্রয়োজন। রিমোট কন্ট্রোলে নির্বাচনকে কন্ট্রোল করা হলে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় বিপর্যের মধ্যে পড়বে, যা গণতন্ত্রের জন্য অনভিপ্রেত। এ জন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত একান্ত অপরিহার্য। সবার জন্য সমান সুযোগ রেখে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার সংস্কার ও বাস্তবায়ন করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন হলে রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের অনীহা অবশ্যই দূর হবে।’

সংসদ সদস্যদের আওতা থেকে উপজেলা পরিষদকে মুক্ত করা না হলে উপজেলা নির্বাচন কোনোক্রমেই সুষ্ঠু, স্বাভাবিক ও ত্রুটিমুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। তবে এটি নিতান্তই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন মাহবুব তালুকদার।

নির্বাচনের বিষয়ে অনাস্থা থেকেই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘যেসব কারণে আমরা ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছি, সেসব কারণ খুঁজে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত আবশ্যক।’

এ অবস্থায় ভোটারদের ওপর এর দায় চাপানো ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘বিগত ২ বছরে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। ওইসব নির্বাচনে যে সব ভুলভ্রান্তি হয়েছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি রোধ করা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন বা ভোট প্রদানে জনগণের যে অনীহা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা এক গভীর খাদের দিকে অগ্রসরমান। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই নির্বাচন। নির্বাচনবিমুখতা গণতন্ত্রের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নেয়ার নামান্তর। আমরা গণতন্ত্রের শোকযাত্রায় সামিল হতে চাই না। রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভেবে দেখা প্রয়োজন।’

উৎসঃ ‌jagonews24

আরও পড়ুনঃ দুদক চেয়ারম্যানের লজ্জা হবে কবে?


লজ্জা শরমের সবটুকুই যেন খেয়ে ফেলেছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। সর্বোচ্চ আদালত থেকে বার বার ভৎর্সনা করার পরও তার বোধোদয় ফিরে আসছে না। রাষ্ট্রের যেসব সেক্টর থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে সেসব সেক্টরের দিকে দুদক চেয়ারম্যানের কোনো নজর নেই। অথচ যেখানে তার যাওয়ার প্রয়োজন নেই সেখানে গিয়ে তিনি নাক গলাচ্ছেন।

কিছু দিন আগে তিনি চট্টগ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাসে উপস্থিতি তদন্ত করতে গিয়েছিলেন। এনিয়ে পরে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাকে চরমভাবে ভৎর্সনা করেছেন। আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, রাষ্ট্রের হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে সেদিকে তার কোনো নজর নেই, দুদক ব্যস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হাজিরা নিয়ে।

এরপর দেখা গেছে, দেশের সবচেয়ে আলোচিত দুর্নীতিবাজ স্বাস্থ্যখাতের আবজাল দম্পতি দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। অথচ দুদকের কাছে কোনো খবর নেই।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ রোববার ঘোষণা দিয়েছেন- বনানীর এফআর টাওয়ারের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে তিনি তদন্ত করবেন। এটার অনিয়ম দুর্নীতি তদন্ত করার জন্যতো সরকার কয়েকটি কমিটি গঠন করেছে। এখানে দুদকের যাওয়ার কি দরকার আছে?

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির আখড়া হলো পেট্রোবাংলা ও তিতাস গ্যাস। এখান থেকে রাষ্ট্রের লাখো কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। আর এই টাকার পুরোটাই যাচ্ছে ক্ষমতাসীনদের পকেটে। তাদের লুটপাটের কারণে যখনই প্রতিষ্ঠান দুইটিতে সংকট দেখা দেয় তখনই আবার বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে। তাদের দুর্নীতির দায় বহন করতে হয় জনগণকে। এইভাবেই চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত রোববার বলেছেন, পেট্রোবাংলা ও তিতাসের দুর্নীতির ৫০ ভাগও যদি কমানো যায় তাহলে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না। আদালতের এই মন্তব্য থেকেই বুঝা যায় যে, এই দুইটি প্রতিষ্ঠানে কি পারিমাণ দুর্নীতি হচ্ছে।

অথচ দুর্নীতি দমন কমিশনের এদিকে কোনো খবরই নেই। তারা যেন এসব দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। তারা দুর্বল নির্দোষ জাহালমকে জেলে ভরতে সক্ষম। কিন্তু পেট্রোবাংলা ও তিতাসের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেই দুর্বল হয়ে পড়ে। পেট্রোবাংলা ও তিতাসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্টও। রোববার আদালত বলেছেন, দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আইনে তাদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার। অথচ তারা পেট্রোবাংলা ও তিতাসের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে প্রতিষ্ঠান দু’টির কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে। এই চিঠি চালাচালি কেন? দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে সেখানকার কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করা উচিত।

আদালতের এমন মন্তব্যের পর অনেকেই বলছেন, দুদক চেয়ারম্যানের আসলে লজ্জা শরম বলতে আর কিছু নেই। আদালত বার বার ভৎর্সনা করার পরও তিনি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এখানে তার ভূমিকা রহস্যজনক। রাষ্ট্রের যেসব দুর্নীতির সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা সরাসরি জড়িত সেখান থেকে তিনি দূরে থাকছেন।

উৎসঃ ‌analysisbd

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here