ট্রেনিং ছাড়াই সার্টিফিকেট পাচ্ছেন বিদেশগামীরা!

0
95

বিদেশেগামী কর্মীদের তিন দিনের ট্রেনিং নেয়া বাধ্যতামূলক করা হলেও সারা দেশের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে (টিটিসি) সেইভাবে ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে না। কখনো কখনো টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের কতিপয় দুর্নীতিবাজকে ম্যানেজ করে মধ্যস্বত্বভোগীরা ইদানীং ট্রেনিং ছাড়াই অনলাইন সার্টিফিকেট বের করে কর্মীর কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অবশ্য এর আগে বিদেশে শ্রমবান্ধব বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের ক্লিয়ারেন্স না থাকার (অসত্যায়িত ভিসা) পরও দালালরা ঢাকায় বসে কম্পিউটারে ‘ট্রেনিং সার্টিফিকেট’ তৈরি করে জমা দিলেই বহির্গমন ছাড়পত্র সহজে পাওয়া যেত। এভাবে দেশ থেকে হাজার হাজার কর্মী সৌদি আরব, কাতার, আবুধাবি, মালয়েশিয়া, লেবানন, জর্ডান, ওমান, মালদ্বীপ, ব্রুনাইসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। যাদের বেশির ভাগই এখন বেতন-ভাতার সমস্যাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত।

ট্রেনিং সার্টিফিকেট ছাড়াই বিদেশে কর্মী গিয়ে বিপদে পড়ার খবর জানাজানি হওয়ার পর সম্প্রতি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো থেকে বহির্গমন ক্লিয়ারেন্স নেয়ার আগে অনলাইনে রেকর্ড ট্রেনিং সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা জারির পর থেকেই অনিয়ম জালিয়াতি কিছুটা কমলেও এখনো নানা কৌশলে দেশের বেশ কিছু টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার থেকে কর্মীদের ট্রেনিং না দিয়ে টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এই চক্রের সাথে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করতে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অথবা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তেমন একটা নজরদারি নেই বরং সরকারের পক্ষ থেকে যত কড়াকড়ি নিয়ম করা হয় টাকার ডিমান্ড তত বেড়ে যায় বলে জানিয়েছে ভূক্তভোগী ও দায়িত্বশীল সূত্রগুলো।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারা দেশে থাকা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মনিটরিং যথাযথভাবে না হওয়ার কারণে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ট্রেনিং না করিয়েও অনেক সময় সার্টিফিকেট দেয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যেসব ট্রেনিং সেন্টারে বিদেশ যাওয়ার আগে তিন দিনের ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে, ওই ট্রেনিং নিয়েও বিদেশগামীরা খুব একটা উপকার পাচ্ছেন না। তাদের মতে, ট্রেনিংয়ের সাথে যেসব অধ্যক্ষ, ইন্সট্রাকটর জড়িত রয়েছেন তাদের আরো গভীরভাবে এবং দায়িত্বশীলভাবে এ বিষয়টি মনিটরিং করতে হবে। না হলে বিদেশে গিয়ে এসব কর্মীর কপালে জুটবে শুধু বিপদ আর বিপদ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে সরেজমিন খোঁজ নিতে গেলে কয়েকজনের সাথে নানা কৌশলে কথা বলার পরও তারা স্পষ্টভাবে এ প্রতিবেদককে বলেন, আগে কি হতো না হতো জানি না, তবে এখন সার্টিফিকেট পেতে হলে অবশ্যই কর্মীদের পাসপোর্ট ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ভর্তি হতে হবে। এরপর পরপর তিন দিন ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে হবে।

যদি এক দিন বাদ যায় তাহলে ওই কর্মীর নামে সার্টিফিকেট ইস্যু হবে না। তবে এরপরও ট্রেনিং সেন্টারে গড়ে ওঠা আকাশ নামের এক ব্যক্তি ট্রেনিং সেন্টারের ভেতরে বসেই এ প্রতিবেদককে বলেছেন, ট্রেনিং ছাড়া সার্টিফিকেট দেয়া যাবে, তবে এর জন্য নগদ দুই হাজার টাকা দিতে হবে। কম দিলে কাজ হবে না। রাজি থাকলে এখনই পাসপোর্ট, ডকুমেন্ট, তিন কপি ছবি আর ২০০ টাকা কাউন্টারে জমা দিয়ে ভর্তি হয়ে যান। অবশ্য ওই টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার থেকে ওই দিন বিকেলে ট্রেনিং নিয়ে বের হওয়া সৌদিগামী দুই যুবক সিএনজিযোগে তাদের বাসায় ফেরার সময় এ প্রতিবেদকের কাছে হতাশার সুরে বলেন, ‘আমরা নিয়ম রক্ষার জন্য ট্রেনিং নিচ্ছি। কিন্তু তিন দিনতো ট্রেনিং করলাম। কিন্তু তাগো কাছ থেকে তেমন কিছুই শিখতে পারলাম না। গতানুগতিক আর কি বোঝেন তো? শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া টিটিসি নয়, দেশের বেশির ভাগ ট্রেনিং সেন্টারে এমন পরিবেশ বিরাজ করছে।

জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার একাধিক নেতা এ প্রতিবেদককে গতকাল বলেন, এমনিতেই অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠিয়ে আমাদের যত বদনাম। তবে তিন দিনের ট্রেনিং নিয়েও যদি টিটিসিগুলো কোনো ধরনের গাফিলতি করে থাকে তাহলে অবশ্যই বিষয়টি নজরদারির মধ্যে এনে জনশক্তি ব্যুরোর দায়িত্বশীলদের খতিয়ে দেখা দরকার।

গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মো: সেলিম রেজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেলিফোন রিসিভ করেননি। পরে টেকনিক্য্যাল ট্রেনিং সেন্টারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে ফোন দেয়া হলে তিনিও রিসিভ করেননি।

গত রাতে বিদেশগামী একজন কর্মীর জন্য তিন দিনের ট্রেনিং ছাড়াই অনলাইন সিস্টেমে সার্টিফিকেট দেয়া যাবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে রিক্রুটিং এজেন্সি ব্যবসার সাথে জড়িত একজন নাম না প্রকাশ করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, আগে কম্পিউটারে ভুয়া ট্রেনিং সার্টিফিকেট বানিয়ে দিলেই বহির্গমন ছাড়পত্র হয়ে যেত। কর্মীরাও যেতে পারতেন। এতে এজেন্সির মালিকরা তাদের লাইসেন্সের বিপরীতে নামমাত্র টাকা দিলেই হতো। কিন্তু এখন ট্রেনিং সার্টিফিকেট অনলাইন সিস্টেমের মধ্যে চলে আসায় একটু ঝামেলা হচ্ছে। তার মতে, কড়াকড়ি হলেও সমস্যা নেই। তবে এখন ঢাকায় এসব নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সংশ্লিষ্ট জেলার টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলো থেকে এই সার্টিফিকেট নিতে হচ্ছে। সেখানে কর্মীকে অফিসিয়ালি ভর্তি দেখানো হচ্ছে। তারপরও ওই টেকনিক্যাল সেন্টারের অধ্যক্ষ সই করলে সার্টিফিকেট ইস্যু হচ্ছে। সেটি অনলাইনেও দেখা যাচ্ছে। এতে অলিখিত ফিস লাগছে দুই হাজার ৫০০ টাকার মতো।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের কতিপয় ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে ট্রেনিং সার্টিফিকেট দিচ্ছেন এমন অভিযোগের বিষয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড ট্রেনিং) ড. নুরুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। যারা ট্রেনিং নিচ্ছেন তারাও কিছু শিখতে পারছেন না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি এই বিষয়েও প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলব।

উৎসঃ ‌nayadiganta

আরও পড়ুনঃ পুরাতন গাড়ি মেরামত না করে একটি গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে নতুন গাড়ি আমদানি করছে


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনকে (বিআরটিসি) কেন্দ্র করে ঠিকাদার, চালক, ডিপো ম্যানেজার ও কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি অসাধু চক্র গড়ে উঠেছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে নষ্টগাড়ি মেরামত না করা, রক্ষণা-বেক্ষণে অবহেলা, অর্থ কেলেঙ্কারী, মবিল ও পার্টস চুরিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এদিকে গত ১০ বছরে সরকারের কিনে দেয়া গাড়িগুলো রক্ষণা-বেক্ষণ ও অযত্ম-অবহেলার কারণে অর্ধেকের বেশি নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। যার কারণে বাস সঙ্কটে গত কয়েক বছরে ২০টিরও বেশি রুটে যাত্রী সেবা বন্ধ রয়েছে। এ সঙ্কট কাটাতে এ বছর সংস্থাটির বহরে ১১শ’ নতুন গাড়ি যোগ হওয়ার কথা রয়েছে। এতে মোট গাড়ির সংখ্যা ২১শ’র মতো হবে। ইতোমধ্যে কিছু গাড়ি ঢাকায় এসে পৌঁছেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ভারত থেকে আনা এসব নতুন গাড়ির মান অনেক নিম্নমানের। কয়েক বছররের মধ্যেই বেশিরভাগ গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। একটি গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে এসব গাড়ি আমদানি করছে। যদিও বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত কয়েকদিন মিরপুর, কমলাপুর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর ও গাবতলী ডিপো ঘুরে নানা অনিয়ম চোখে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে-ডিপোগুলোতে অনেক জরাজীর্ণ বাস পড়ে আছে। কিছু কিছু বাস মেরামত করা আবার রাস্তায় নামানো সম্ভব হলেও কিছু বাস পুরোপুরি মেরামতের অযোগ্য। ডিপো কয়েকজন কর্মচারী জানান, একটি চক্র এসব বাস মেরামতের নামে ভুয়া বিল করে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। এছাড়া চলাচলরত বাসের টাকা আত্মসাৎ, পুরনো মবিল দেখিয়ে নতুন মবিলের বিল, নিম্নমানের টায়ার-টিউব ও যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে অতিরিক্ত বিল আদায় করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজেও এসব অনিয়মের বিষয়ে হুশিয়ারি দিয়েছেন।

গত ২২ জানুয়ারি মতিঝিলে বিআরটিসি কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিআরটিসির মধ্যে খুব একটা সুনামের বিষয় নেই। এখানে অনিয়ম দুর্নীতির জঞ্জাল দীর্ঘদিন ধরে বাসা বেঁধে আছে। তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, এখানে কার কত ইনকাম আমি ভালো করে জানি। কীভাবে ইনকাম হয় তাও জানি। এ সময় মন্ত্রী হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, নতুন গাড়ি আসছে। আশা করছি মানুষ স্বস্তি পাবে। কিন্তু গাড়িগুলো কতদিন টিকবে সে বিষয়ে তিনি নিজেও সন্দেহ প্রকাশ করেন।

বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটি টানা কয়েক বছরের লোকসানের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২১টি ডিপোর ২০টিতেই চালক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলেন, কয়েক বছর যাবত বহরে নতুন গাড়ি যোগ হচ্ছে না। এর মধ্যে অনেক পুরনো গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে। এতে গাড়ির সংখ্যা কমে গেছে। যার কারণে স্টাফদের ব্যায় মেটানোর জন্য যে পরিমাণ আয় দরকার তা হচ্ছে না। প্রতি বছরই ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এদিকে, গত বছর ডিসেম্বর সামে খিলক্ষেতের জোহার সাহারায় ডিপোসহ বেশ কয়েকটি ডিপোর শ্রমিকরা বকেয়া বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ ও আন্দোলন করে।

বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সচল বাসের সংখ্যা এখন ৯২০টি। এর মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করে ৪৫০টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আর বিভিন্ন সরকারি অফিসের স্টাফ পরিবহনে লিজ দেওয়া হয়েছে ২৭২টি বাস। অচল ৩০০ বাসের মধ্যে ৫০টির মতো বাস মেরামত করে রাস্তায় চালানো হচ্ছে। এছাড়া ট্রাক রয়েছে ৮৫টি। নতুন ১১শ’ বাস-ট্রাক আসলে বিআরটিসির বহর গাড়ির সংখ্যা ২১শ’ ছাড়িয়ে যাবে। এদিকে, ২০০২ থেকে ২০১২ সালে ৫০৭টি চায়না, ডায়ো ও ভলবো বাস কেনার পরে চার বছরের মধ্যে সেগুলো বিকল হয়ে গেছে। বাসগুলো এখন বিআরটিসির ডিপোতে বাগাড়ের মত পড়ে আছে।

জানা গেছে, জানুয়ারিতে বিআরটিসির বহরে ১০০টি নতুন বাস যুক্ত হওয়ার কথা ছিল। যার মধ্যে কিছু বাস এসেছে। বাসগুলো বর্তমানে গাজীপুরের বিআরটিসি বাস ডিপোতে রাখা হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে আরও ২০০টি এসি বাস ও ৫০০টি ট্রাক এই বহরে যোগ হওয়ার কথা। এপ্রিলের শেষ নাগাদ আসবে ৩০০ ডাবল ডেকার বাস।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, প্রথম লটে ৪২টি নন এসি বাস, ৫টি এসি, এবং ২৫টি ট্রাক বেনাপোল হয়ে ঢাকায় এসেছে। ৩০০ ডাবল ডেকার ছাড়া সব বাস-ট্রাক মার্চের মধ্যে চলে আসার কথা রয়েছে। বাসগুলোতে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকায় যাত্রী পরিবহনের কথা রয়েছে। জানা গেছে, ৩০০টি ডাবল ডেকার ঢাকা সিটির জন্য। আর ২০০টি নন এসি ও ১০০টি নন এসির কিছু বাস ঢাকা ও কিছু আন্তঃজেলা রুটে চলাচল করবে।

এদিকে, নতুন আনা বাসের মান নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। বাসগুলো নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেছে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। যদিও বিআরটিসি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অভিযোগ উঠেছে- ভারত থেকে আনা নতুন বাসগুলো অনেক নিম্নমানের। এর স্থায়ীত্ব অনেক কম। এছাড়া বাসগুলোতে ল্যাগেজ ক্যারিয়ার নেই এবং স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মান ঠিক রাখা হয়নি।

কয়েকজন পরিবহন মালিক নাম প্রকাশ না করে বলেন, জাপান, চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের গাড়ির মানের তুলনায় ভারত থেকে আনা গাড়ি নিম্ন মানের। এর আগেও ভারত থেকে আনা গাড়ি নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবহন মালিকদের ভাষ্য, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ভারত থেকে নিম্নমানের গাড়ি আনা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিআরটিসি চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূইয়া বলেন, ভারতের রুটে যেসব বাস চলে ওই রকম বাসের মধ্যে সর্বোচ্চ কোয়ালিটির বাস আনা হচ্ছে। একেকটি বাসের দাম ৫০ থেকে ৫৫ লাখ টাকা পড়েছে। তিনি আরও বলেন, স্পেসিফিকেশন যা চাওয়া হয়েছে সেভাবেই বাস আসছে। যার কারণে বাস আনতে তিন বছর সময় লেগে গেছে।

নতুন বাসগুলো আগের একতলা বিআরটিসি বাসের মতো অনেকটা দেখতে হবে বলে বিআরটিসি সূত্র জানিয়েছে। তবে বর্তমানে আনা বাসগুলো অনেক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন। নতুন বাসগুলোতে টেলিভিশন, সিসি ক্যামেরা, ওয়াফাই সুবিধাসহ আরামদায়ক আসন ও প্রশস্ত জানালা রয়েছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি থাকবে ১০৫ কিলোমিটার। এছাড়া বড় করে লাল রঙ্গের ওপরে সাদা অক্ষরে ‘বিআরটিসি’ লেখা আর দরজার পাশে ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ লেখা রয়েছে। বিআরটিসির চেয়ারম্যান বলেন, নতুন বাসগুলো দিয়ে উন্নতমানের যাত্রী সেবা দেয়া সম্ভব হবে।

জানা গেছে, ভারতের ২০০ কোটি ডলার ঋণের আওতায় দেশটি থেকে ৬০০ বাস ও ৫০০টি ট্রাক আমদানি করা হচ্ছে। এসব বাসের মধ্যে ৩০০টি দ্বিতল, ১০০টি একতলা সাধারণ বাস এবং ২০০টি এসি বাস আসার কথা রয়েছে। দ্বিতল ও একতলা এসি বাসগুলো তৈরি করছে ভারতের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অশোক লিল্যান্ড। গত ১৫ জানুয়ারি ডাবল ডেকার বাস তৈরির কারখানা পরিদর্শনে বিআরটিসির একটি টিম ভারতে গিয়েছে।

বর্তমানে ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটে (এলওসি) আনা বাসগুলো একই রকম হতে পারে এমন অভিযোগের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, নতুন আনা বাসগুলো আগের বিআরটিসি বাসের মত হবে না। কারণ নতুন আনা বাসের সঙ্গে ১০ ভাগ স্পেয়ার যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে। আর বাসের কলাকৌশল নিয়ে দেশীয় কিছু জনবলকে প্রশিক্ষণও দেবে বাস কোম্পানি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিসির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বিআরটিসিকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র আছে। বিভিন্ন পরিবহন মালিকদের চাপের মুখে হোক বা তাদের থেকে কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের বিনিময়ে বিআরটিসিকে সামনে এগুতে দিচ্ছে না। যার কারণে ধীরে ধীরে সংস্থাটি ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস! (ভিডিও সহ)


অবশেষে ধরা খেলেন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকদের নেতা ও দখল করে নেয়া একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। আব্দুস সালামকে জেলে ভরে একুশে টিভি দখলে নেয়ার পরই পুরনো সাংবাদিকদেরকে বের করে দিয়ে বুলবুল তার পছন্দের লোকদের নিয়োগ দেয় এখানে। কয়েকজন নারীকর্মীকে প্রথম থেকেই যৌন নির্যাতন করে আসছেন বুলবুল। চাকরি এবং মান সম্মানের কারণে বুলবুলের এসব যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খুলেননি কেউ। কিন্তু একটি পর্যায়ে এসে বুলবুলের এসব অপকর্ম আর চাপা পড়ে থাকেনি। একে একে মুখ খুলতে শুরু করেছেন টেলিভিশনটির নারীকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুলবুলের ডাকা সাড়া না দিলেই নারীকর্মীদের ওপর শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। তার নির্যাতন সইতে না পেরে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

ইতিমধ্যে বুলবুলের এসব অপকর্ম নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন চ্যানেলটির ‘একুশের চোখ’ অনুষ্ঠানের সাবেক সাংবাদিক ইলিয়াছ হোসাইন।

ভিডিওঃ  ‘সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুলের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ভিডিওটিতে দেখা গেছে, নাম প্রকাশ না করে একজন উপস্থাপিকা বলছেন, আমরা কি এখানে দেহ বিক্রি করতে এসেছি? আমরা যারা এখানে কাজ করি প্রত্যেকে আওয়ামীলীগ সরকারকে সাপোর্ট করি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলবো- আপনি নারী সমাজের জন্য অনেক কিছু করেছেন। এই বুলবুলের হাত থেকে একুশে টিভির নারীকর্মীদেরকে রক্ষা করুন।

মিনালা দিবা নামে আরেকজন নারীকর্মী বলছেন-এখানে নিউজ এডিটর মঞ্জু এবং জাহিদও এসব করে। আর এগুলো শুধু একহাতে হ্যান্ডেল হয় না। বুলবুলসহ সবাই জড়িত।

গত ৫ জানুয়ারি চ্যানেলটির বর্তমান পরিচালক ও আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সুবহান গোলাপ এখানে আসলে সাংবাদিকরা অভিযোগ জানাতে তার সঙ্গে দেখা করতে চায়। কিন্তু তাদেরকে বাধা দেয় বুলবুলের সমর্থকরা। বুলবুলের ধারণা দেখা করতে পারলে তারা বুলবুলের সব অপকর্ম বলে দেবে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। বেকায়দা দেখে বুলবুল এসময় এখান থেকে সটকে পড়ে।

You-tube ভিডিওঃ  ‘সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুলের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ সেই প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকের হাত-পা বাধা অবস্থায় ডোবা থেকে লাশ উদ্ধার!


অবশেষে সেই প্রিজাইডিং অফিসার নিহত হয়েছেন। তাকে গুম করে হত্যা করে হাত-পা বাধা অবস্থায় ধামইরহাটের একটি ডোবায় ফেলে রাখা হয়। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভোট ডাকাতি বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়ে ঐ শিক্ষক বিবেকের তাড়নায় ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়ার জন্য কাউকে তথ্য সরবরাহ করেন। কোনো এক মাধ্যমে সেই পোস্টটি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সায়েদুল ইসলাম মন্টু নামে এক ব্তাযক্তির নিকট আসে এবং তিনি গত ১লা জানুয়ারি সে শিক্ষকের লেখাটি তার ফেসবুকে পোস্ট করেন।

এর প্রায় একমাস পর তাকে গুম করে হতায় করা হয়। এই খবরটি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সায়েদুল ইসলাম মন্টু (Sayedul Islam Montu) নামের সেই ব্যক্তিই আবার তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন। তিনি তার ফেসবুক আইডিতে গত ৩১ জানুয়ারিতে ফেসবুকে লাশের ছবিসহ স্ট্যাটাস দিয়েছে। তার স্ট্যাটাসটি পাঠকের জন্য নিচে হুবহু তুলে ধরা হলঃ 

“আমি কয়েকদিন আগে আমার একটি স্ট্যাটাসে একজন শিক্ষকের কথা লিখেছিলাম যিনি ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে নির্বাচনের আগের দিন ২৯শে ডিসেম্বরে রাতের আঁধারে ক্ষমতাসীন সরকার তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বিডিআর, র‍্যাব, আনসার এবং সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডারদের মাধ্যমে সম্মিলিত ভাবে সারা দেশের ৪০১৩৩টি ভোট কেন্দ্রে স্মরণকালের ঘৃণ্যতম, ন্যাক্কারজনক, নিকৃস্ট ভোট ডাকাতির যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে তা প্রত্যক্ষ করেছেন। ঐ ঘটনাকে প্রতিহত করতে না পেরে তিনি বিবেকের তাড়নায় সেই দিনের একটি বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছিলেন।

আমি তার নিরাপত্তার স্বার্থে আমার ঐ স্ট্যাটাসে তার নাম পরিচয় তখন প্রকাশ করিনি। কিন্তু কোন না কোন ভাবে হয়তো তার নামটি প্রকাশ হয়ে গিয়েছিলো। তাইতো গত ২৪শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ধামইরহাটের একটি ডোবা থেকে হাত পা বাধা অবস্থায় ঐ শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। (কিন্তু কিছু পত্রিকার খবরে দেখা যাচ্ছে, ১৭ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার উপজেলার ঘুকশী নদীর ব্রিজের নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।)

এমএ জামাল উদ্দিন (৪৫) নামের ঐ শিক্ষক যিনি নওগাঁর ধামইরহাটের জাহানপুর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের মৃত কায়েম উদ্দিনের ছেলে এবং জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজে বিএম শাখার বাংলা বিভাগের প্রভাষক।

ঘটনাটি শুনে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। বাংলাদেশ এখন যেনো একটি মৃত্যুপুরী।

আমি আমার সেই পুরনো ঐ স্ট্যাটাসটি আবারও সকলের জন্য নিচে সংযুক্ত করলামঃ

একজন শিক্ষক যিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালিন করেছিলেন।

সেই শিক্ষকের লেখাটিতে ভোট জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র ওঠে এসেছেঃ

এক প্রিজাইডিং অফিসারের আত্মগ্লানি, চরম একটি জঘন্য অভিজ্ঞতা; একা একা কেঁদেছি নিজের অক্ষমতায়। নিজের দেশ, জাতি ও জনগণের বিরুদ্ধে সীমাহীন এ অপকর্মের অনন্যোপায় সঙ্গী হয়ে! আমি একজন প্রিজাইডিং অফিসার ছিলাম। আমার কিছুই করার ছিলো না। আমার কেন্দ্রে ভোটার ছিল ২৩৮৭ টা। ওরা রাতেই ১৫০০ ব্যালটে সীল মেরেছে। দিনে জোর করে আরো ৪০০ ব্যালট নিয়ে ও নিজেদের লোক দিয়ে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়েছে।

শুধু এভাবেই ওরা ভোট নিয়ে নেয় ১৯০০; এই কেন্দ্রে ধানের শীষ পেয়েছে মাত্র ২৭ ভোট, তাতেই তাদের মাথা গরম।
এই ২৭ জন কারা, এটাও তাদের মাথা ব্যথার কারণ হয়েছে! বলছি আসল কথা; এসপি, ডিসি, নৌকার প্রার্থী এরা সকলে বসে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো, এভাবেই ভোট হবে।
এতে কোন লুকোছাপা ছিলো না। ছিলো না কোন গোপনীয়তার ব্যাপারও।

ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রশাসন ও উচ্চপর্যায়ের পুলিশ অফিসারদের প্রশ্রয়ে ও সম্মতিতে খুব নিরাপদে, উৎসাহ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ২৯শে ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ভোট ডাকাতি করেছে, কিছুই করার ছিলো না অন্য কারো! তাদের সামনে আমরা সকলে ছিলাম নিস্তেজ ও অসহায়। বলা হয়েছিলো, স্থানীয় নেতারা যেভাবে বলে ঠিক সেভাবেই সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের এখানে সব কেন্দ্রে একই ঘটনা ঘটেছে।

আমাকে জোরাজুরি করায় প্রথমে ৬০০ ব্যালট (৬ বান্ডিল) দেই। সীল শেষে আবার চাইতে আসে ব্যালট, আমি নিষেধ করায় ফোনের পর ফোন। পরে আরো ৬ বান্ডিল দেই। সেগুলো সীল মারার পর আবার আসে। এবারো দিতে চাই নাই বলে স্থানীয় আওয়ামী নেতা হুমকি দেয়। তারপর আরো ৩ বান্ডিল দেই, মোট ১৫০০ (পনের শ’)।

এই সকল কর্মীদের নাকি এসপি, ডিসি বলে দিয়েছে, যে কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে, সে কেন্দ্রের দায়িত্বশীল গ্রুপ পুরস্কার পাবে। ওই নেতা রেগেমেগে চিৎকার করে বলে, আপনি আমাকে পুরস্কার থেকে বঞ্চিত করতে চান?

আমাদের এক নারী সহকর্মীকে নৌকা প্রার্থী কেউ একজন ধমক দিয়েছিলো। ঘটনাটি ডিসি’কে জানিয়ে প্রতিকার চাইলে তিনি বলেছেন, কোন হেল্প পাবেন না, বিপদ তৈরী করছেন কেনো? প্রশাসন ও পুলিশের জুনিয়র কর্মকর্তারা আমাদের প্রতি সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকালেও তারাও ছিলো অসহায়।

আমার সাথে থাকা পুলিশ সদস্যকে এসপি ও ওসি যে অর্ডার দিয়েছিলো, তাতে সে হতবাক হয়েছিলো! তার চোখের কোণে আমি দু’এক ফোঁটা জলও দেখেছি। প্রশাসনে আমাদের মতো ছাপোষা মানুষদের উপরের পর্যায়ে কি ঘটেছে, শুনলে আৎকে উঠবেন। বিভিন্ন জেলায় এসপি, ডিসি সাহেব, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশের অফিসাররা একসাথে বসে, সবাই মিলে মিটিং করে প্ল্যান করেছেন। নিশ্ছিদ্র প্ল্যান করতে জেলায়, জেলায় ডিসিরা ডিনারের দাওয়াত দিয়ে ২/৩ বার মিটিং করেছে। জেলা পর্যায়ের সব অফিসারদের একই অর্ডার দেয়া হয়েছে।

তারপর সব প্রিজাইডিং অফিসারদের ডাকা হয়েছে, তাদেরকে ব্যালট দিয়ে দিতে বলা হয়েছে আগের রাতেই। তারপরেও ভোটারের চাপ সৃষ্টি হলে নৌকার কর্মীরা নিজেদের মধ্যে মিছেমিছি মারামারি করবে, সে কারণে বিজিবি ডাকা হবে, বিজিবি আসার পর এক/দেড় ঘন্টা ভোট স্থগিত রাখতে হবে। সবশেষে ভোট গুনে নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করে চলে আসতে হবে!

প্রিজাইডিং অফিসাররা যেনো বিপদে না পরে তাই ডিসি বলে দিয়েছে, আপনি যদি আমার কথা শুনেন আমি রক্ত দিয়ে আপনাকে রক্ষা করবো, আর যদি আমার কথা না শুনেন তাহলে রক্ত নিতেও দ্বিধা করবো না।

লেখক: প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক

[এই খবরের পুরো স্ট্যাটাসটি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সায়েদুল ইসলাম মন্টু (Sayedul Islam Montu) নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে সংগ্রহীত]

আরও পড়ুনঃ ফ্রি স্টাইলে লুটপাটের মাঝে গণতন্ত্র চলতে পারে না : ড. কামাল


ফ্রি স্টাইলে লুটপাটের মাঝে গণতন্ত্র চলতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। রোববার গণফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিক-এর স্মরণসভায় তিনি বলেন, গণতন্ত্র চলতে পারে না যদি ফ্রি স্টাইলে লুটপাট চলতে থাকে।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় পুলিশেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে সংবিধান প্রণেতা বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবশ্যই পুলিশের ভূমিকা আছে। সবাই চায় পুলিশ তার শপথ মেনে দায়িত্ব পালন করুক। দেশের জনগণকে শ্রদ্ধা করুক, কারণ জনগণ ক্ষমতার মালিক।

ড. কামাল হোসেন আরো বলেন, সরকার যদি নিজেকে জনগণের সরকার মনে করেন অবশ্যই বৈষম্য হ্রাস করবেন।কেউ দরিদ্র থাকবে আর কেউ সম্পদের পাহাড় গড়বে এটা স্বাধীন দেশে কাম্য নয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হলে আমরা সফল হব।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনে গলদ থাকলে সেখানে অবশ্যই বির্তক থাকে। জনগণ আশা করে, যে সরকারে আছে সে সংবিধানে ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবে। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক।

তিনি বলেন, সংবিধানে যে বলা আছে। যারা আমাদের দেশ শাসন করবে তাদের নির্বাচিত হতে হবে। তাদেরই দেশের মালিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সবাইকে নাগরিক হিসেবে সঠিক দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তি হবে। এই সময়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ধারণ করে েএগোতে হবে।

স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল আরো বলেন, আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার করে। অনেক মূল্য দিয়েছি। নাগরিকদের সর্তক ভাবে দায়িত্ব করতে হবে। যে সরকার বা যারাই এখানে দাযিত্ব নেবে তারা সংবিধানে ভিত্তিতে দায়িত্ব নিক। সংবিধানে আছে দেশে কার্যকারন গণতন্ত্র থাকবে। নামকাওয়াস্তে গণতন্ত্র না। তিনি বলেন, জগণের শাসক হিসাবে তিনি অবশ্যই চাইবেন সুশাসন হোক। আইনের শাসন হোক।

স্মরণ সভায় স্মরণসভায় গণফোরাম অন্যান্য নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, আ.ও.ম শফিক উল্লাহ, সাইদুর রহমান সাইদ,মোশতাক আহমদ, খান সিদ্দিকুর রহমান, সাইদুর রহমান সাইদ ,রফিকুল ইসলাম পথিক, মিজানুর রহমান মিজান অ্যডভোকেট মোঃ জানে আলম, মুহম্মদ রওশন ইয়াজদানী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এর আগে সকাল ৮টায় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিকের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানায় গণফোরাম নেতৃবৃন্দ।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ মাদক পাচারে জন্য সাত দেশের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে বাংলাদেশকে


একাধিক পাসপোর্ট সংগ্রহ করে একই দেশে বার বার ভ্রমন করেন মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িতরা। শুধু একাধিক পাসপোর্ট নয়, পরিচয় গোপন করেও পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের বাংলাদেশী নাগরিকরা। বাংলাদেশকে ট্্রানজিট রোড হিসেবে ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাকারবারি চক্র। মূলত আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা, দুবাই ও মালয়েশিয়া কেন্দ্রীয় গড়ে উঠা ওই চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে ২৫ থেকে ৩০জন বাংলাদেশী। এরই মধ্যে চীনে ২ জন, শ্রীলংকায় ৩০২ কেজি হেরোইন ও ৫ কেজি ২৯৮ গ্রাম কোকেনসহ ৩জন এবং দেশে ৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আফগানিস্তান থেকে নৌপথে করাচি হয়ে শ্রীলংকায় যায় ওই হেরোইন ও কোকেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল শ্রীলংকায় গিয়ে গ্রেফতারকৃত তিন বাংলাদেশিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দেশে ফিরেছেন। তদন্তে তারা আন্তর্জাতিক হেরোইন ও কোকেন পাচারের সঙ্গে জড়িত ও রুট সম্পর্কে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। ওই সূত্র ধরে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, সিআইডি ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা মাঠে নেমেছে। দায়িত্বশীল সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিনিধি দলের কর্মকর্তারা শ্রীলংকা কারাগারে তিন বাংলাদেশীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। শ্রীলংকার পুলিশ প্রধান ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বৈঠকও করেন।

তদন্তের সাথে জড়িত ও শ্রীলংকা থেকে ফিরে আসা কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৬ সালে শ্রীলাংকায় ৯৬২ কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়। ওই হেরোইন পাচারের সাথে ভারতীয় মাদক ব্যবসায়ীরা জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পায় শ্রীলংকার তদন্তকারী দল। এছাড়া ২০১৮ সালে চীনের গুয়াংজু এলাকায় মাদকসহ দু’জন বাংলাদেশী নারী গ্রেফতার করে আইন-শৃংখলা বাহিনী। ওই দু’জন নারী হলেন-শাহিনা আক্তার ও শারমিন আক্তার। এছাড়া সর্বশেষ গত ৩১ ডিসেম্বর শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোর উপকণ্ঠ মাউন্ট লাভিয়ানা এলাকায় গ্রেফতার হয় জামাল উদ্দিন ও দেওয়ান রফিউল ইসলাম নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিক। এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ২৭২ কেজি হেরোইন ও ৫ কেজি কোকেন। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর কলম্বোর উপকণ্ঠের একই এলাকা থেকে প্রায় ৩২ কেজি হেরোইনসহ গ্রেফতার হয় সূর্যমণি।

ওই সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতরা আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের সদস্য। মূলত আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা, দুবাই ও মালয়েশিয়া কেন্দ্রীয় গড়ে উঠা ওই চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে ২৫ থেকে ৩০জন বাংলাদেশী। যাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ১০জনের অধিক। সূর্যমনি এর আগে ৬বার শ্রীলংকা ও ২বার মালয়েশিয়ায় ভ্রমন করেন। এ সময় তিনি মাদক বহন করে নিয়ে যান।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এই চক্রের অন্যতম শেখ মোহাম্মদ আরিফ উদ্দিন ও শেখ আহমেদ হোসেন সুমন। ওই দু’জনেরই একাধিক পাসপোর্ট রয়েছে। আরিফের বাড়ি বগুড়ায় এবং সুমনের বাড়ি নীলফামারী জেলায়। কিন্তু সুমনের পাসপোর্টে যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে তা ভূয়া। এ ধরনের ৪জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। যাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তাছাড়া বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীরা কিভাবে একাধিক পাসপোর্ট সংগ্রহ করলো তাও তদন্ত করা হচ্ছে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এক সময় শেখ সুমন হেরোইন ও কোকেনের বড় কারবারি হয়ে ওঠেন। দীর্ঘদিন তিনি টঙ্গীতে বসবাস করেছেন। সেখানে ২০১৫ সালে আনিছা নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। বর্তমানে তার পরিবার লন্ডনে রয়েছে। শ্রীলংকায় হেরোইন ও কোকেন জব্দের বিষয়টি জানাজানি হলে দেশ থেকে দুুবাই পালিয়ে যান সুমন ও আরিফ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম সিকদার দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, তদন্তে উঠে এসেছে শ্রীলংকায় জব্দ হেরোইন নৌপথে এসেছিল আফগানিস্তান থেকে। করাচি বন্দর থেকে মাছ ধরার নৌযানে তা পাচার হয়। আর উত্তর আমেরিকা থেকে এসেছিল কোকেন। গ্রেফতার বাংলাদেশের তিন নাগরিক বলেছেন, তিন-চার বছর ধরে তারা হেরোইন ও কোকেন বহনের সঙ্গে যুক্ত। এদের মধ্যে সূর্যমনি খুব অভিজ্ঞ। তিনি তামিল ভাষাও কিছু বলতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, শ্রীলংকা ও চীনে মাদকসহ গ্রেফতারকৃদের সাথে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িতদের যোগাযোগ কতটুকু তা তদন্ত করা হচ্ছে। দেশের ভেতর মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িতদের এবং অর্থলঘ্নিকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শ্রীলংকার যে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে তার বাজার মূল্য ৩শ’ কোটি টাকার উপরে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িতদের শনাক্ত, অর্থলগ্নিকারী এবং কোন পথ দিয়ে কিভাবে মাদক পাচার হয় তা নিয়ে কাজ করছি। মাদক নিয়ন্ত্রণে এ বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দায়িত্বশীল একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, শ্রীলংকায় গ্রেফতারকৃত তিন বাংলাদেশিকে সহসায় দেশে আনার তেমন কোনো সুযোগ নেই। কারণ দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে এ ঘটনার সূত্র ধরে এখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শেখ মোহাম্মদ আরিফ উদ্দিন ও শেখ আহমেদ হোসেন সুমনসহ বেশ কয়েকজনকে খুঁজছে। শ্রীলংকার ঘটনার সূত্র ধরে এরই মধ্যে সিআইডি চয়েজ রহমান নামে একজনকে গ্রেফতার করে। র‌্যাব পৃথকভাবে ৫জনকে গ্রেফতার করে। এরা হলেন- ফাতেমা ইমাম তানিয়া (২৬), আফসানা মিমি (২৩), সালমা সুলতানা (২৬), শেখ মোহাম্মদ বাঁধন ওরফে পারভেজ (২৮) ও রুহুল আমিন ওরফে সায়মন (২৯)। এ পাঁচজনের মধ্যে চারজন একাধিকবার বিদেশে মাদক পাচারে জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে তানিয়া দু›বার ভারতে, তিনবার চীনে, ৮-১০ বার মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকায় যাতায়াত করেছেন। মিমি অন্তত চারবার ঢাকা-শ্রীলংকা-মালয়েশিয়া এবং সালমা চীন, শ্রীলংকা ও ভারতে যাতায়াত করেছেন। পারভেজ দীর্ঘদিন শ্রীলংকায় অবস্থান করেছেন।

হেরোইন কারবারের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের করিমপুরের সূর্যমণি, জয়পুরহাটের রামনগরের দেওয়ান রাফিউল ইসলাম হিরো, বগুড়া সদরের সূত্রাপুরের জামাল উদ্দিন, জয়পুরহাটের দলহারার চয়েজ রহমান, বগুড়ার সূত্রাপুরের শেখ মোহাম্মদ আরিফ উদ্দিন, নীলফামারীর গোলাহাটের শেখ আহমেদ হোসেন সুমন, রাজধানীর উত্তরখানের শাহিনা আক্তার ও রেহানা আক্তার লাকীর।

সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে আলবেনিয়া থেকে দেশে ফিরে আসেন চয়েজ রহমান। এরপর ২০০৭ সালে শুরু করেন বায়িং হাউসের ব্যবসা। ২০১৪ সালের দিকে তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সূর্যমণি ও রাফিউল ইসলামকে পাসপোর্ট তৈরি করেন দেন তিনি। চয়েজ রহমানের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন আরিফও। ওই সময় চয়েজের সঙ্গে শেখ সুমনের পরিচয় করিয়ে দেন আরিফ। ২০১৫ সালে হঠাৎ আরিফ চয়েজ রহমানের তুলনায় একটি দামি প্রাইভেটকার কেনেন। তখন চয়েজ ভাবতে থাকেন, তার প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী তার চেয়ে দামি গাড়ি কীভাবে ব্যবহার করেন। এ নিয়ে আরিফের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here