বিভিন্ন জেলায় বন্যায় বানভাসি মানুষের ত্রাণের জন্য হাহাকার!

0
270

‘নাওতে থাকি নাওতে খাই, কেউ হামার খোঁজ না নেয়’ * ১০ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, এ পর্যন্ত প্রাণহানি ৭১ * গোখাদ্যের অভাবে লোকসানে গরু বিক্রি * পানি নামছে ধীরগতিতে * এ মাসের শেষে ফের বন্যার আশঙ্কা উত্তরে

‘৮ দিন হইলো নদীত বাড়ি ভাঙ্গি গেইছে, নিরুপায় হয়া ব্যাটা, ব্যাটার বউ আর ছোট দুকনা ছাওয়া নিয়ে নাওতে থাকি নাওতে খাই। মেম্বর-চেয়ারম্যান কেউ হামার খোঁজ না নেয়।’ কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের খরখরিয়া এলাকার মৎস্যজীবী সুনীল চন্দ্রের স্ত্রী যাত্রী বালা।

এভাবেই সীমাহীন দুঃখ-কষ্টে দিন কাটছে বানভাসি মানুষের। বিভিন্ন স্থানে ত্রাণের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। ত্রাণের আশায় নৌকা দেখলেই ছুটে যান তারা। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিতে দাঁড়িয়ে থাকেন।

সরকারিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশ্রয় কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও বাঁধে বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়া কিংবা বন্যায় পানিতে আটকে পড়া মানুষ ত্রাণ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বলছেন তারা পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ পাচ্ছেন না। গবাদিপশু ও গোখাদ্য নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন বন্যার্তরা।

অনেকে কোরবানির ঈদের জন্য লালনপালন করা গরু লোকসানে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এদিকে প্রকৃতির ডাক এলেই চরম ভোগান্তিতে পড়েন বানভাসি নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। অনেকে পানিতেই সারছেন প্রাকৃতিক কাজ। ফলে ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগবালাই ছাড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে ছয় জেলায় আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বন্যায় ৭১ জনের প্রাণহানি হল। বিভিন্ন জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ পরিবার।

এদিকে পানি নামা অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন জেলায় বন্যার উন্নতি হচ্ছে। বন্যাপ্রবণ দুই অববাহিকা ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং মেঘনায় এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু এরপরও এখনও ২৫ জেলা কমবেশি বন্যাকবলিত। বিশেষ করে উত্তরের বিভিন্ন জেলায় এখনও বড় ধরনের বন্যা চলছে। নদীগুলোর নাব্য কমে যাওয়ায় বানের পানি নামার হার আগের তুলনায় কম।

ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে ধীরগতিতে। উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম নীলফামারীতে বন্যার পানি অনেকটাই নেমে যায়। কিন্তু দু’দিন ধরে ভারতের সিকিমে বৃষ্টি হওয়ায় তিস্তায় পানিপ্রবাহ বেড়ে গেছে। এতে ডালিয়া পয়েন্টে রোববার পানি আবার বিপদসীমার উপরে চলে গেছে। ফলে ওই জেলার নিুাঞ্চল নতুন করে আবারও বন্যার কবলে পড়েছে। অপরদিকে টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও মুন্সীগঞ্জসহ মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোয় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে।

আবহাওয়া ও বন্যা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন ভারতের মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরায় ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস নেই। ফলে উত্তরের জেলাগুলোয় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকবে। কিন্তু বানের সেই পানি নেমে আসছে মধ্যাঞ্চলে। এ কারণে এই অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে আরও এক সপ্তাহ উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বন্যার পানির নিচে থাকবে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম রোববার যুগান্তরকে বলেন, পলিমাটি জমে নদ-নদীর বিশেষ করে যমুনার তলদেশ অনেকটাই ভরাট হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে পানি নামার চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বানের পানি আশানুরূপ হারে নামছে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া বিভাগগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী ২৮-২৯ জুলাইয়ের দিকে নেপাল-বিহার থেকে শুরু করে ত্রিপুরা পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ ও রাজ্যে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর পরিমাণ ১০০ থেকে ২০০ মিলিমিটার। সাধারণত একদিনে ৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তা স্থানীয় বন্যায় পরিণত হয়। সেই হিসাবে চলমান বন্যার পানি না নামতেই যদি ফের ভারি বৃষ্টি হয়, তাহলে সেটা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবেই আবির্ভূত হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি নেমে আসায় ঢাকার চারপাশের নদনদীতে পানিপ্রবাহ বাড়ছে। তবে এগুলোয় এখনও পানি বিপদসীমার নিচে আছে।

রোববার পর্যন্ত বন্যায় আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে আছে- কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, নেত্রকোনা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার। এছাড়া চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, শেরপুর জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়। এফএফডব্লিউসির মতে, ২৪ ঘণ্টায় বগুড়া, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিলেট, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও মুন্সীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি একই অবস্থায় থাকতে পারে।

এফএফডব্লিউসির দেয়া বুলেটিনে বলা হয়, ১৪ নদ-নদীর পানি ২১ স্টেশনে বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হয়েছে। তবে বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত নদী ও স্টেশনের সংখ্যা আরও বেশি বলে যুগান্তর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ পরিবার : ভয়াবহ বন্যায় দেশের ১৩ জেলার ১০ লাখ পরিবার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বানের পানিতে ডুবে গেছে এসব জেলার ৯৭ হাজার ৯৯৯ হেক্টরের বেশি ফসলি জমি। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ কাঁচা-পাকা মিলে ৬ হাজার ১২ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যাকবলিত এসব জেলার ৩ হাজার ৪২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (এনডিআরসিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্র বলছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যাজনিত কারণে এ পর্যন্ত ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দ্রুত ত্রাণ পাঠানোর সুপারিশ : বন্যাকবলিত দেশের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর সুপারিশ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি এবি তাজুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, সোলায়মান হক জোয়ার্দার (ছেলুন), মো. আফতাব উদ্দিন সরকার, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জুয়েল আরেং, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং কাজী কানিজ সুলতানা বৈঠকে অংশ নেন।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কুড়িগ্রাম ও চিলমারী : বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও এখনও পানিতে ভাসছে গোটা চিলমারী। উপজেলার ৬ ইউনিয়নে প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি। বাড়িতে পানি ওঠায় বানভাসি মানুষ পরিবার-পরিজন ও গরু-ছাগল নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরেজমিন উপজেলার রমনা ইউনিয়নের খরখরিয়া ভরটত্মপাড়ায় দেখা যায়, নৌকায় রান্না করছেন মৎস্যজীবী সুনীল চন্দ্রের স্ত্রী যাত্রী বালা। তিনি বলেন, ‘৮ দিন হইলো নদীত বাড়ি ভাঙ্গি গেইছে, নিরুপায় হয়া ব্যাটা, ব্যাটার বউ আর ছোট দুকনা ছাওয়া নিয়ে নাওতে থাকি নাওতে খাই। মেম্বর-চেয়ারম্যান কেউ হামার খোঁজ না নেয়।’ একই এলাকার পাউবো বাঁধে আশ্রয় নেয়া লাল চরণ, পূর্ণিমা ও সুরবালাসহ অনেকে জানান, ৮ দিন ধরে পাউবো বাঁধে আশ্রয় নিয়ে থাকলেও তারা সরকারি কোনো ত্রাণ পাননি। একই কথা জানান সাতঘরিপাড়া এলাকায় পাউবো বাঁধে আশ্রয় নেয়া নছমান বেওয়া ও রফিয়াল হক।

রানীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, তার ইউনিয়নে পানিবন্দি রয়েছে ৭ হাজার পরিবার। অথচ তিনি ত্রাণ পেয়েছেন দুই দফায় মাত্র ১৮.৮ টন চাল, যা ১ হাজার ৮৮০টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করেছেন।

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) : বকশীগঞ্জে নৌকা দেখলেই ত্রাণের আশায় ছুটে আসেন বানভাসিরা। অনেক নারী-পুরুষ আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিতেই দাঁড়িয়ে থাকছেন ত্রাণের আশায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া ত্রাণ চাহিদার চেয়ে অনেক কম। বন্যায় উপজেলার প্রায় সোয়া লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বসতভিটা, ফসলি জমি, হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। দেড় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে কমপক্ষে ৭৫টি পরিবারের বসতবাড়ি। তারা এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। রাস্তাঘাট-ব্রিজ, কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় এবং বেশির ভাগ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

রোববার বেলা ২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সদর সূর্যনগর পূর্বপাড়া গ্রামের শাহীনের মেয়ে সুজনী আক্তার (১১) ও একই গ্রামের সোলায়মানের মেয়ে সাথী আক্তার (১০) বাড়ির পাশে ভেলা নিয়ে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। একই দিন সকালে উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের রবিয়ারচর গ্রামে বৃদ্ধ আবদুল শেখ (৭৫) পানির স্রোতে তলিয়ে গিয়ে মারা যান। এদিন সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কুতুবেরচর গ্রামে ইয়াসিন আলীর শিশু ছেলে স্বাধীন (৪) পানিতে ডুবে মারা গেছে। এছাড়া শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের কুশলনগর গ্রামের সামের আলীর ছেলে রাহাদ (৯) পানিতে ডুবে মারা যায়। একই দিনে সদর ইউনিয়নের ঝালরচর গ্রামে রাজা বাদশা (৫৫) নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ে মারা যান। এদিকে বানের পানিতে নিখোঁজ ব্যবসায়ী সুজন মিয়ার লাশ উদ্ধার হয়েছে।

মৌলভীবাজার : প্রতিবারের মতো এবারও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণের প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। গরুর খাবারের জন্য অনেকেই জমিতে ঘাস চাষ করেন। কিন্তু বন্যায় তাদের সব ঘাস প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। খাদ্য সংকটের কারণে লোকসান দিয়ে অনেকেই এখন গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন। সদর উপজেলার শেরপুর, আখাইলকুড়া, চাঁদনীঘাট ও কমলগঞ্জ উপজেলার একাধিক খামারি বলেন, কোরবানিতে গরু বিক্রি করে পুরো বছরের লোকসান পুষিয়ে ওঠার একটা সুযোগ থাকে। কিন্তু এবার সম্ভব হচ্ছে না। বন্যায় সম্পূর্ণ ঘাস নষ্ট হয়ে গেছে। বিকল্প কোনো খাদ্যও নেই। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় বন্যায় ১৪৬ একর ঘাসের জমি ও ৩৫.৫ টন গোখাদ্য বিনষ্ট হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৩ হাজার ৭৭৩টি গরু, ১৩৪টি মহিষ, ১৯১টি ছাগল, ১৩৮টি ভেড়া, ২১ হাজার ৯৩৮টি মোরগ ও ২৬ হাজার ৭৩টি হাঁস।

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) : ‘গলাপানি ভাঙ্গি আইছি তাও কোনডা পাইলাম না, কয়ডা চাইল আছিল তাও ইন্দুরে খাইছে। এখন কি খাইয়ে থাকুম।’ কথাগুলো বলছিলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ ছলিমা বেওয়া। তার বাড়ি চুকাইবাড়ী দক্ষিণ বালুগ্রামে। বৃদ্ধা আরও বলেন, ‘চারবার বাড়ি নদী ভাঙছে, সন্তানরা ভাত দেয় না। এ বাড়ি ও বাড়ি চেয়ে চিমটে দিন চলে। বাঁধের উপর থাকা ঘরত পানি ওঠায় ভাঙাচুরা রেল বগিতে উঠছি।’ এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অপর বৃদ্ধ হাছিনা। তার বাড়ি দেওয়ানগঞ্জ ইউনিয়নের খড়মা মধ্যপাড়া গ্রামে। হাছিনা বলেন, ‘ঘরে বানের পানি ওঠায় রাস্তাত সন্তানদের নিয়ে আছি। মেম্বারদের হাতপা ধরছি, তাও কোনোকিছু পাই নাই।’ আজ কী খেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগের দিন রাতত মুড়ির গুঁড়া খাইছি, রোববার দুপুর পর্যন্ত কোনোটাই খাই নাই। রোববার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বাহাদুরাবাদ, চিকাজানী, দেওয়ানগঞ্জ ও চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের বানভাসি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে গবাদিপশু নিয়ে সড়ক, বাঁধ, রেলস্টেশন ও ব্রিজসহ বিভিন্ন উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার, রান্না খাবার বিতরণ করা হলেও বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়া বানভাসি কিংবা বন্যায় পানিতে আটকে পড়া মানুষ ত্রাণ পাচ্ছেন না।

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) : বন্যার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও পানিবন্দি উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ২০-২৫টি গ্রামের মানুষ। তাদের অনেকের ঘরে হাঁটুপানি। এসব এলাকার কর্মজীবী লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের হাতে কাজ নেই, ঘরে চাল নেই, পকেটে নেই টাকাও। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে দিনযাপন করছেন অর্ধাহারে-অনাহারে।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) : বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবাহিত রোগব্যাধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিউদ্দিন জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় ৮টি টিম করে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।

শেরপুর : ব্রহ্মপুত্রের শাখা মৃগী নদীর পানির প্রবল চাপে সদর উপজেলার বেতমারি-ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের বেতমারি বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে বেতমারি, চরখারচর, ঘুঘুরাকান্দিসহ আশপাশের ৫ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রোববার বিকালে শ্রীবরদী উপজেলার ঝগড়ার চর এলাকায় বন্যার পানিতে কলার ভেলা নিয়ে খেলা করার সময় পানিতে ডুবে কবিতা নামে ৯ বছরের এক শিশু মারা গেছে।

গাইবান্ধা : রোববার বিকালে উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের আনালেরতাড়ী গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে রিপন মিয়া কলাগাছের ভেলায় চড়ে রাস্তায় আসছিল। এ সময় বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে রিপন আহত হয়। পরে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কালকিনি (মাদারীপুর) : বন্যার পানিতে ডুবে জিসান চাপরাসী (১) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। সে উপজেলার শিকারমঙ্গল এলাকার কামাল চাপরাসীর ছেলে।

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) : উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ছমির বেপারী ডাঙ্গী গ্রামের কামাল খানের মেয়ে তাকিয়া আক্তার (২) বসতবাড়ির আঙিনায় পানিতে ডুবে মারা গেছে।

সরিষাবাড়ী : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বন্যার পানিতে ডুবে ইরান নামে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় পৌর কামরাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সে কামরাবাদ গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে।

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) : কলমাকান্দায় বন্যার পানিতে ডুবে জুবায়ের মিয়া (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে বাড়ির সামনে বন্যার পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। শিশুটি উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের রানীগাঁও গ্রামের মজিবুর মিয়ার ছেলে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই অপপ্রচার: সত্য হলো বাংলা স্ট্যাটাসের প্রতিবেদন


দেশে কথিত সংখ্যালঘু নির্যা*ন ও এসব নিয়ে বিদেশে অপপ্রচারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখোশ খুলে দিলেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেত্রী প্রিয়া সাহা। আর এসব নিয়ে রোববার বাংলা স্ট্যাটাসের প্রকাশিত প্রতিবেদনটিও শতভাগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

আজকে প্রিয়া সাহা বলেছেন, ‘আমার কথাগুলো মাননীয় শেখ হাসিনার কথা। মাননীয় শেখ হাসিনা ২০০১ সালে যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও ওপর নির্বাচনোত্তর নির্যা*ন চলছিল ৯৪ দিন ধরে। আজকের শেখ হাসিনা তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী। তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার জন্য সারা পৃথিবীতে ঘুরেছেন। সমস্ত জায়গায় বক্তব্য দিয়েছেন। আমি তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে, তার অনুসরণ করে এসব কথা বলেছি। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেকোনো জায়গায় বলা যায়, এটা আমি তার কাছে শিখেছি।

ভিডিওঃ  ‘শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিখেই আমি এসব বলেছিঃ প্রিয়া সাহা’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

শেখ হাসিনার দেশবিরোধী চক্রান্তের ধারাবাহিকতা রক্ষ করছে প্রিয়া সাহা শিরোনামে গতকাল বাংলা স্ট্যাটাসের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে, ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির পর বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কথিত সংখ্যালঘু নির্যা*নের ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন শেখ হাসিনা তার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এটাতে হয়েছে, কথিত সংখ্যালঘু নির্যা*ন নিয়ে ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলোতেই শুধু অভিযোগ দেননি তিনি। বিদেশে গিয়েই শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন যে, বাংলাদেশ এখন তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে খালেদা জিয়া দেশকে আফগানিস্তান বানানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের বাড়িঘরে হা*লা-ভাঙচুর চালাচ্ছে। তাদের জমি দখল করে নিচ্ছে। তারা এখন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রচারের কাজে শেখ হাসিনা তখন আওয়ামী পন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত শাহরিয়ার কবিরসহ হিন্দু পরিষদের নেতাদেরও ব্যবহার করেছেন।

আর সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় ছিল-বিদেশিদের কাছে করা এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে শেখ হাসিনা তার সোনার ছেলে ছাত্রলীগ-যুবলীগ দিয়ে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর করিয়েছে। নারীদের ওপর নির্যা*ন করিয়েছে। আগুন দিয়ে হিন্দুতের বাড়িঘর পুড়ে এগুলোর ফুটেজ ও ছবি বিদেশিদের হাতে দিয়েছে।

প্রিয়া সাহা এখন সংখ্যালঘু নির্যা*ন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে যে অভিযোগ করেছেন এটা শেখ হাসিনার সেই চক্রান্তের ধারাবাহিকতা মাত্র।

সেই প্রতিবেদনঃ শেখ হাসিনার দেশবিরোধী চক্রান্তের ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে প্রিয়া সাহা!


হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেত্রী প্রিয়া সাহা গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে তথা ইসলামী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর ও জমিদখলের অভিযোগ করেছেন। প্রিয়া সাহার অভিযোগ-ইসলামী মৌলবাদীরা দেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দুকে বের করে দিয়েছে। তাদের জায়গা জমি দখল করে নিয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, তার অভিযোগ শুনে প্রেসিডেন্ট খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। আর এমন অভিযোগ শুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষুব্ধ হওয়ারই কথা।

প্রিয়া সাহার এই বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশের পরই এনিয়ে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়ে গেছে। নড়েচড়ে বসেছে সরকারও। একথায় সবাই প্রিয়া সাহার দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে। রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই দিন ধরে শুধু প্রিয়া সাহাকে নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। প্রিয়া সাহা এই দুঃসাহস কোথায় থেকে পেল এমন প্রশ্নই ঘুরেফিরে তুলছেন সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।

এদিকে, সরকারের মন্ত্রীরাও প্রিয়া সাহার এই অভিযোগকে দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন। প্রিয়ার বক্তব্যকে দেশদ্রোহী বলেও মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আর অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে তথা মুসলিম সম্প্রদায়ের অভিযোগ করে প্রিয়া সাহা যে গর্হিত অপরাধ করেছেন তাতে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। তার এই বক্তব্যে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। এমনকি এটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তথা এদেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্রও বটে।

এখন প্রশ্ন হলো-প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অপপ্রচার করার সাহসটা কোথায় পেল? বিদেশে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার কি শুধু প্রিয়া সাহাই করেছেন নাকি আগেও এমন হয়েছে? বিগত দিনের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এমন অপপ্রচারের সঙ্গে এক সময় শেখ হাসিনা এবং তার দলের নেতারাও জড়িত ছিলেন।

স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে দুটি এজেন্ডা নিয়েই মাঠ গরম করতে দেখা যায়। তারা সরকারে থাকলে বিরোধী দলকে আর বিরোধী দলে থাকলে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি বিষয়ে বেশি প্রচারণা চালিয়ে থাকে। এটি হলো হলো সংখ্যালঘু নির্যাতন। দলটি অতিমাত্রায় ভারতঘেঁষা হওয়ার কারণে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনও তাদের একটু বেশি ভালবাসে। আর এ সুযোগটাকেই আওয়ামী লীগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তারা নিজেরাই সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ও আগুন দিয়ে মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জা পুড়িয়ে দিয়ে পরে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চালায়। বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গায় বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা-ভাংচুর ও আগুন দেয়ার যে ঘটনা ঘটেছে তদন্তের পর দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের লোকেরাই জড়িত ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে গিয়ে তাদের জন্য হিতে-বিপরীত হয়েছে।

বিশেষ করে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির পর বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের ইস্যু নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন শেখ হাসিনা। ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলোতেই শুধু অভিযোগ দেননি। বিদেশে গিয়েই শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন যে, বাংলাদেশ এখন তালেবানি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে খালেদা জিয়া দেশকে আফগানিস্তান বানানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর চালাচ্ছে। তাদের জমি দখল করে নিচ্ছে। তারা এখন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এসব প্রচারের কাজে শেখ হাসিনা তখন আওয়ামী পন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত শাহরিয়ার কবিরসহ অন্যদেরকেও ব্যবহার করেছেন।

আর সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় ছিল-বিদেশিদের কাছে করা এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে শেখ হাসিনা তার সোনার ছেলে ছাত্রলীগ-যুবলীগ দিয়ে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর করিয়েছে। নারীদের ওপর নির্যাতন করিয়েছে। আগুন দিয়ে হিন্দুতের বাড়িঘর পুড়ে এগুলোর ফুটেজ ও ছবি বিদেশিদের হাতে দিয়েছে।

এখানে পাঠকদের জন্য সেই সময়কার অল্প কিছু ঘটনা তুলে ধরছি- ১৪ অক্টোবর ২০০১ তারিখে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের নিশিপাড়ায় কালিমন্দির ভাঙ্গা হয়। আওয়ামী লীগের লোকজন এর দায় চাপায় বিএনপি-জামায়াতের ওপর। পরে পুলিশ রিপোর্টে বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরাই এর সাথে জড়িত ছিল। এ রিপোর্ট প্রকাশের পর পুরো এলাকায় হৈচৈ পড়ে যায়। গা-ঢাকা দেয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। আবার অনেকে আপস করার জন্য ধরনা দেয় পুলিশের কাছে।

৮ অক্টোবর ২০০১ তারিখে খুলনার পাইকগাছা থানার কাশিমনগর গ্রামের আলোপাড়া পূজামণ্ডপ ভাংচুরের কারণে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়।

১২ অক্টোবর ২০০১ তারিখে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে হিন্দু-বদ্ধ-খৃস্টান ঐক্যপরিষদের উদ্যোগে মাইনোরিটিস সংখ্যালঘু নির্যাতন: কারণ ও প্রতিকার শীর্ষক এক সেমিনারে সংখ্যালঘু নেতারাই অভিযোগ করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এরা সংখ্যালঘুদের উস্কানি দিয়ে তাদের বিপাকে ফেলে তা থেকে ফায়দা লুটতে চান।

আর সংখ্যালঘু নির্যাতনের কল্পিত কাহিনী তৈরির মূলহোতা ছিল ঘাদানিক নেতা শাহরিয়ার কবির। শাহরিয়ার কবির ১১ নবেম্বর ২০০১ তারিখে ভারতে গিয়ে কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের নামে হিন্দুদের দিয়ে প্রামাণ্য চিত্র তৈরি করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল এগুলোকে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া। ২৪ নভেম্বর ২০০১ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে আপত্তিকর ক্যাসেটসহ শাহরিয়ার কবির আটক হয়। শাহরিয়ার কবিরের কাছ থেকে জব্ধ করা ক্যাসেটের দৃশ্য দেখে গোয়েন্দারাও হতবাক হয়ে পড়েছিল। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এর পরই মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যায় আওয়ামী লীগের। কথিত সংখ্যালঘু নির্যাতনের ধোঁয়া তুলে জোট সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আওয়ামী লীগ যে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করেছিল তা ফাঁস হয়ে পড়ে।

এছাড়া সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় ছিল-বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় অফিসে লঙ্গরখানা খুলে সারা দেশের সংখ্যালঘুদের এখানে এসে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তাদের এই লঙ্গরখানায় যারা আশ্রয় নিয়েছিল তারা কেউ নির্যাতিত ছিল না। বস্তির বাসিন্দা, ফুটপাত ও পার্কে অবস্থানকারীরা খাওয়ার জন্য তাদের এই কথিত লঙ্গরখানায় আশ্রয় নিয়েছিল। মজার ব্যাপার হলো আওয়ামী লীগের এই লঙ্গরখানায় অবস্থানকারীদের অর্ধেকই ছিল মুসলমান ভিক্ষুক। ঢাকার বাইরে থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নির্যাতিত কোন লোক না আসায় অবস্থা বেগতিক দেখে এক পর্যায়ে তারা লঙ্গরখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে অভিযোগ তারা তুলছিল তা ছিল সম্পুর্ণ মিথ্যা।

এসব ঘটনা থেকে নিশ্চয় প্রমাণিত হয় যে, বিদেশ গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সূচনা মূলত করেছিলেন শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতারা। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মূলত শেখ হাসিনাই শুরু করেছিলেন। এদেশের ইসলামী দলগুলোকে নির্মূল করার জন্য তাদেরকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হিসেবে প্রমাণ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যত লবিং করার দরকার ছিল শেখ হাসিনা ও তার ছেলে জয় সবই করেছেন। এখন প্রিয়া সাহা শুধু তাদের সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করছেন মাত্র।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‘এতদিন দুধ কলা দিয়ে যাকে পুষলেন আজ তারই ছোঁবল খেলেন’: হাসিনাকে ড. তুহিন মালিক

এতদিন দুধ কলা দিয়ে যাকে পুষলেন আজ তারই ছোঁবল খেলেন!

প্রথমে তারা আপনাকে মসজিদ, মাদরাসা, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক বিরোধী আন্দোলনে নামালো।

এরপর যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ইসলামকে গালাগালি শুরু করালো।

জাতিকে পরিস্কার দুই ভাগে বিভাজন করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ধর্মীয় বিদ্বেষ, জাতিগত ও ধর্মীয় ঘৃণার প্রসার-প্রচারনা শুরু করালো।

বিভক্ত জাতির গণতন্ত্রের হত্যার জন্য আপনাকে চিরস্থায়ী ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে ৫ই জানুয়ারির একদলীয় নির্বাচন করালো।

যুদ্ধাপরাধী ও মৌলবাদী ইস্যুর পর নতুন এক জঙ্গি ইস্যু তৈরি করে দেশ-বিদেশে রাষ্ট্রকে উগ্র মুসলিম জঙ্গি রাষ্ট্রের তকমা দেয়া হলো।

বিনিময়ে মিডনাইট ভোটের সরকার উপহার দিলো।

প্রতিদান রক্ষা করতে গিয়ে আপনি ট্রানজিট, বানিজ্য, রেমিটেন্স, বন্দর থেকে শুরু করে সবকিছু এমনিভাবেই উজাড় করে দিলেন যে, শেষ পর্যন্ত আপনাকেই বলতে হলো- ‘ভারতকে যা দিয়েছি আজীবন মনে রাখবে।’

রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টর থেকে শুরু করে আপনার নিরাপত্তার ভার পর্যন্ত তাদের হাতে তুলে দিয়ে আপনার আনুগত্য প্রদর্শনে কোন কমতিই করলেন না।

গণহারে গুম, মামলা চালালেন আপনার সমালোচকদের বিরুদ্ধে।

আপনার ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত গোটা জাতি নিরবে সহ্য করেছে তাদের সর্বময় দাপট।

দুধ কলা দিয়ে পুষে আপনার রাজনৈতিক বিরোধী ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে তাদেরকে ব্যবহার করেছেন। তার জন্য তাদেরকে যেমন দিয়েছেন সর্বময় ক্ষমতা, তেমনি দিয়েছেন সর্বময় দায়মুক্তি।

পীযূষরা যখন দাড়ি টুপি ও টাখনুর উপরে কাপড় পড়াকে জঙ্গি বলে একযোগে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছে। আপনি তখন নিশ্চুপ!

ইকসন যখন তাদের ধর্মীয় বাণী পড়িয়ে স্কুলের মুসলিম বাচ্চাদের প্রসাদ খাওয়ালো। আপনি তখন নিশ্চুপ!

যখনই তারা কোন অপরাধ করেছে আপনার সাজানো প্রশাসন ও মিডিয়া দিয়ে সেটাকে মিথ্যা প্রমান করে উল্টা সেই দায়ভার সংখ্যাগরিষ্ঠের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠের সেন্টিমেন্টকে ধরে রাখতে আপনাকে মদিনা সনদে দেশ চালানো, ওলী-আউলিয়া, কওমী জননী, তাহাজ্জুদ, সকালে কোরআন না পড়ে কাজ শুরু না করা, আপনার দোয়ায় খেলায় জয়ী হওয়া… ইত্যকার নাটক করতে হয়েছে।

দিনশেষে আপনি শুধু ম্যানেজারই রয়ে গেলেন, মালিকানা পেলেন না! কারন, মালিককে দেয়ার মত আর কিছুই যখন অবশিষ্ট থাকে না, ম্যানেজারের তখন আজকের মত এই অবস্থাতেই পড়তে হয়।

পুনশ্চ- হ্যাঁ, আপনার অন্ধ লোকদেখানো গুণগ্রাহীরা আমার এই বক্তব্য দেখে আমাকে আবারও রাজাকার, রাষ্ট্রদ্রোহী বলবে। আপনারা তো পারেন শুধু শহীদুল আলম, মাহমুদুর রহমান, মাহফুজ আনাম, মাহমুদুর রহমান মান্না, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আর তুহিন মালিকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা করতে!

উৎসঃ ড. তুহিন মালিকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিখে তার কথা অনুসরন করেই এসব বলেছিঃ প্রিয়া সাহা (ভিডিও)


মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে নালিশ করে সমালোচিত বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা তার অবস্থান ব্যক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন।

নিজের পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘শার’ এর ইউটিউব চ্যানেলে ৩৫ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় প্রিয়া সাহা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

প্রিয়া সাহা জানান, তিনি ভালো নেই, তার পরিবার হু*কিতে আছেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাননি বলে জানান তিনি।

ট্রাম্পকে বলা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জনসংখ্যা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি তার পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন। ভিডিওতে ওপাশ থেকে লাইভে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভিডিওঃ  ‘শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিখেই আমি এসব বলেছিঃ প্রিয়া সাহা’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ভিডিও বার্তায় প্রিয়া সাহা জানান, গত মাসের ১৪ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ইমেইল করা হয়। সেই ইমেইল পেয়ে তিনি ১৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে যান।

কেমন আছেন সেই প্রশ্নে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘আমি ভালো নেই। আপনারা দেশে আছেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন পরিস্থিতি কোথায় যাচ্ছে। আমার পরিবার ভীষণ সমস্যায় আছে। গতকাল আমার বাসার তালা ভাঙতে চেষ্টা করা হয়েছে। বাসার সামনে মিছিল করা হয়েছে। হু*কি দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো আমার পরিবারের ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। কথা বলেছি আমি, তারা আমার ছবি ছাপাতে পারতো। এর মাধ্যমে পরিবারের সবার জীবনকে বিপন্ন করা হয়েছে। আমার পরিবারের কেউ আমার কাজের সাথে কোনোভাবেই যুক্ত নয়।’

ভিডিও বার্তায় তিনি নির্বাচনপরবর্তী সহিং*তায় সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর নির্যা*ন করা হয় তা উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পকে আপনি কেন এমন অভিযোগ দিলেন সেই প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া বলেন, ‘এই কথাগুলো মাননীয় শেখ হাসিনার কথা। মাননীয় শেখ হাসিনা ২০০১ সালে যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও ওপর নির্বাচনোত্তর চরম নির্যা*ন চলছিল ৯৪ দিন ধরে। আজকের শেখ হাসিনা তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী। তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার জন্য সারা পৃথিবীতে ঘুরেছেন। সমস্ত জায়গায় বক্তব্য দিয়েছেন। আমি তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে, তার অনুসরণ করে এসব কথা বলেছি। যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেকোনো জায়গায় বলা যায়, এটা আমি তার কাছে শিখেছি।’

ট্রাম্পকে বলা তার ৩৭ মিলিয়ন গুম হয়ে যাওয়া পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিক।

এ বিষয়ে প্রিয়া যে ব্যাখ্যা দেন, ‘২০০১ সালের পরিসংখ্যান বইয়ের সংখ্যালঘু যে চাপ্টার রয়েছে সেখানে এ বিষয়গুলো লেখা রয়েছে। প্রতি বছর সরকার যে আদমশুমারি বের করে সেই রিপোর্ট অনুসারে দেশভাগের সময় জনসংখ্যা (সংখ্যালঘু) ছিল ২৯ দশমিক ৭ ভাগ। আর এখনকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা হচ্ছে ৯ দশমিক ৭ ভাগ। এখন দেশের মোট জনসংখ্যা ১৮০ মিলিয়নের মতো। তো সেক্ষেত্রে জনসংখ্যা একইভাবে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে আমি ক্রমাগতভাবে হারিয়ে গেছে বলে যে সংখ্যা বলেছি সেটা মিলে যায়।’

ভিডিওঃ  ‘শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিখেই আমি এসব বলেছিঃ প্রিয়া সাহা’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সরকারের প্রকাশিত পরিসংখ্যান বইয়ের ওপর ভিত্তি করে অধ্যাপক আবুল বারকাত গবেষণা করেছেন। সেই গবেষণায় উনি দেখিয়েছেন, প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে ৬৩২ জন লোক হারিয়ে যাচ্ছে। আমি ২০১১ সালে স্যারের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছিলাম এ কারণে এ বিষয়ে অবহিত।’

তিনি উদাহরণ দেন, ‘আমার নিজের গ্রামের কথা বলেছি। সেখানে ২০০৪ সালে ৪০টি পরিবার ছিল। এখন ১৩টি পরিবার আছে। এই মানুষগুলো কোথায় গেল, কোথায় আছে সেটা রাষ্ট্রের দেখার কথা।’

তিনি বলেন, আমি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দিতে চাইনি। পিরোজপুরের আমার গ্রামে গেলে হারিয়ে যাওয়া পরিবারের বসতভিটা দেখতে পাবেন।

এমন জবাবে সাংবাদিক বলেন, বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘুরা হারিয়ে যাচ্ছে এমন সংবাদ তো কোনো মিডিয়ায় প্রচার করতে দেখিনি। কোনো পত্রিকাতে এসেছে কিনা আমরা জানি না।

জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, এমন সংবাদ আপনারা নিয়মিত প্রচার করেছেন। গত মাসেও সাতক্ষীরা থেকে কয়েকটি পরিবার চলে গেছে সে সংক্রান্ত খবর অনেক পত্রপত্রিকায় এসেছে। দেশ থেকে কোনো পরিবার উচ্ছেদ গলে গণমাধ্যম নিয়মিতই সে খবর প্রকাশ করছে।

কেন ট্রাম্পের কাছে এসব পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৌলবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সেক্ষেত্রে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৃথিবীর মধ্যে সফলতা দেখিয়েছে। আমি চেয়েছি বা যে জন্য বলেছি, বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনও কাজ করে যাতে কোনোভাবেই মৌলবাদের উত্থান না ঘটে। তাই আমি বলেছি। সরকারের কাজটি শক্তিশালী করার জন্য এই কথাগুলো বলেছি।’

সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সরকার যখন প্রকৃত সত্য জানতে পারবেন তখন আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে না বরং আমার পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে সঙ্গে নিয়ে এই মৌলবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।’

তিনি বলেন, মুসলমান হিন্দুদের শত্রু না, মুসলমান সম্প্রদায়ের ৯৯.৯৯ শতাংশ মানুষই অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে একসঙ্গে থাকে কিন্তু কিছু দুষ্টু লোক আছে যারা এই ঘটনা ঘটায়।’

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘এই মন্তব্য আমেরিকায় বাংলাদেশের মুসলমানদের আরো নিরাপত্তাহীনতায় ফেলতে পারে’


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান গুমের অভিযোগের বিষয়ে প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তিনি বাংলাদেশের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মচারী বলেও জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রিয়া সাহার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলায় চরবানিরীর মাটিভাঙ্গাতে। তার স্বামীর নাম মলয় সাহা। পরিবার নিয়ে থাকেন ঢাকায়। দুই মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনার সুবাদে প্রিয়া সাহা প্রায়ই সেদেশে যাতায়াত করেন।

প্রিয়া সাহার এই মিথ্যা অভিযোগটি আমেরিকায় থাকা বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমানদের আরো নিরাপত্তাহীনতার আশংকায় ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

এনিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল নিজের ফেসবুক পাতায় লেখেন, ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে একজন ভদ্রমহিলা (কেউ কেউ বলেছেন তার নাম প্রিয়া সাহা) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ ধর্মীয় সংখ্যালঘু ‘ডিসএপিয়ার’ (অদৃশ্য/দেশত্যাগে বাধ্য?) হয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন মুসলিম মৌলবাদীরা এটা করেছে এবং তারা সবসময় রাজনৈতিক শেল্টার পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রিয়া সাহার অভিযোগ অবিশ্বাস্য। এটি যদি সত্যি না হয় তাহলে তা দুঃখজনক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি উস্কানিমূলক। সরকারের বিষয়টি সিরিয়াসলি নেয়া উচিত। কারন এতে দেশের ইমেজ ক্ষুন্ন হতে পারে। এ বক্তব্য এমনকি ট্রাম্পের দেশে বাংলাদেশের সাধারন মুসলমানদের আরো নিরাপত্তাহীনতার আশংকায় ফেলতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বিভিন্ন ধর্মের ২৭ জনকে মানুষকে ডেকেছিলেন তাদের বৈষম্যের বিভিন্ন কথা শোনার জন্য। সেখানে মায়ানমার, নিউজিল্যান্ড, ইয়েমেন, চায়না, কিউবা, ইরিত্রিয়া, নাইজেরিয়া, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, সুদান, আফগানিস্তান, নর্থ কোড়িয়া, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান জার্মানি, বাংলাদেশ সহ আরো কয়েকটি দেশের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তাদের প্রত্যেকেই ট্রাম্পকে তাদের নিজ দেশের বৈষম্যের কথা বলছিলেন। সেখানেই বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রণ পান বাংলাদেশ হিন্দু- বৌদ্ধ- খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা। তার বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরে। তিনি ট্রাম্পকে বলেন, তার জমি জমা কেড়ে নিয়েছে বাংলাদেশি মুসলিমরা, তার ঘরবাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তাই তিনি ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন।

ওভাল অফিসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি ট্রাম্পকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। সেখানে ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টানকে গুম করা হয়েছে। এখনো সেখানে ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু জনগণ রয়েছে। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশ ত্যাগ করতে চাই না। আমি আমার ঘর হারিয়েছি, আমার জমি নিয়ে নিয়েছে, আমার ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে কিন্তু সেসবের কোনো বিচার নেই।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প জিজ্ঞেস করেন কারা এসব করছে? বাংলাদেশি ওই নারী বলেন, ‘সবসময় উগ্রবাদী মুসলিমরা এই কাজ করছে। সবসময় তারা রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে এই কাজ করে।’

উৎসঃ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here