গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় দক্ষিণ এশিয়ায় তলানিতে বাংলাদেশ

0
161

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশ চার ধাপ পিছিয়েছে। গণমাধ্যম পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তৈরি সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। এর আগে ২০১৮ সালে ছিল ১৪৬তম।

ফ্রান্সের প্যারিসভিত্তিক সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের (আরএসএফ) ওয়েবসাইটে বুধবার এ সূচক প্রকাশ করা হয়।

২০১৯ সালের ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ বলছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকারের প্রশ্নে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই সবচেয়ে তলানিতে রয়েছে।

সাতটি মাপকাঠিতে বিচার করে একটি দেশের সংবাদমাধ্যম কতটা স্বাধীনতা ভোগ করছে তা বোঝার চেষ্টা করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স।

এই সাতটি মাপকাঠি হলো- সংবাদমাধ্যমে বহুমতের প্রকাশ, সংবাদমাধ্যমে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ, স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ, আইনি কাঠামো, সংবাদমাধ্যমের কাজে স্বচ্ছতা, অবকাঠামো, সংবাদকর্মীদের ওপর নিপীড়ন।

সব মাপকাঠির স্কোরের গড় করে তৈরি করা হয়েছে একটি দেশের গ্লোবাল স্কোর। ১০০ পয়েন্টের এই সূচকে যে দেশের স্কোর যত কম, সে দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা তত বেশি।

এ বছরের সূচকে ১৫০তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের স্কোর দেখানো হয়েছে ১০০-এর মধ্যে ৫০.৭৪। গত বছর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪৮.৬২, আর বিশ্বে অবস্থান ছিল ১৪৬ নম্বরে।

গত ছয় বছরের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪ থেকে ১৪৬-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। এবার তা এক ধাক্কায় চার ধাপ নেমে এলো।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বিচারে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সবচেয়ে কম, এমনকি মিয়ানমারও এই সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে।

বিশ্বে গণমাধ্যমের পরিস্থিতি সম্পর্কে এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদকর্মীরা সম্পূর্ণ নিরাপদে কাজ করতে পারেন- এমন দেশের সংখ্যা গত এক বছরে কমে গেছে। পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো গণমাধ্যমের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের সেক্রেটারি জেনারেল ক্রিস্টোফ ডেলোয়ের বলেন, গোপন অথবা প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধ যদি এভাবে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে থাকে, যেখানে সাংবাদিকরা পরিণত হন বলির পাঁঠায়, তা হলে বুঝতে হবে, গণতন্ত্র মহাঝুঁকির মধ্যে আছে।

সূচকের সঙ্গে প্রতিটি দেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতির ওপর একটি সারসংক্ষেপ দেয়া হয়েছে। ‘কঠিনতর রাজনীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার আরও বেশি লঙ্ঘন’ শিরোনামে বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে- ২০১৮ সালের শেষে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়ে যায়।

এ সময় মাঠপর্যায়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মীদের সহিংসতার শিকার হন সাংবাদিকরা। অযৌক্তিকভাবে বেশ কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয় এবং কয়েকজন সাংবাদিককেও গ্রেফতার করা হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত চিত্রসাংবাদিক শহিদুল আলমের ১০০ দিন জেল খাটার ঘটনা উল্লেখ করে বাংলাদেশ অংশে আরও বলা হয়েছে, কেউ সরকারের বিরক্তির কারণ হলে তাকে থামাতে কীভাবে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হয়, এটি তার দৃষ্টান্ত।

এ ছাড়া গত বছরের অক্টোবরে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ১৪ বছর শাস্তির বিধান রাখা হয়। অন্যদিকে অসাম্প্রদায়িক সমাজের জন্য কথা বলা বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও ব্লগার ইসলামপন্থী জঙ্গিদের হাতে খুন ও হামলার শিকার হন।

সূচকে ১৮০ দেশকে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে গণমাধ্যমের জন্য ভালো পরিবেশ থাকা ক্যাটাগরিতে রয়েছে মাত্র ১৫ দেশের নাম। সন্তোষজনক পরিস্থিতি রয়েছে ২৮ দেশে। সাংবাদিকতার জন্য সমস্যাপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে ৬৬ দেশে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি।

মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশের দিক দিয়ে এবারের প্রতিবেদনের শীর্ষ ১০ দেশ হলো- নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, জ্যামাইকা, বেলজিয়াম ও কোস্টারিকা।

এ তালিকায় তলানিতে অর্থাৎ ১৮০ নম্বরে থাকা দেশটি তুর্কমেনিস্তান। উত্তর কোরিয়া ও চীনের অবস্থান যথাক্রমে ১৭৯ ও ১৭৭ নম্বরে।

শিল্পোন্নত পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য সাত ধাপ এগিয়ে ৩৩তম অবস্থানে উঠে এলেও যুক্তরাষ্ট্র তিন ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছে তালিকার ৫৮তম অবস্থানে।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ আশুলিয়ায় ইয়াবাসহ সিআইডি কনস্টেবল ও তাঁর সহযোগী মফিজকে আটক


ঢাকার আশুলিয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়াবাসহ তাইজুদ্দীন নামে এক সিআইডি সদস্য ও তাঁর সহযোগী মফিজকে আটক করে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশ।

ঢাকার আশুলিয়ায় প্রায় এক হাজার পিস ইয়াবাসহ ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টে (সিআইডি) কর্মরত এক পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাঁর এক সহযোগীকেও আটক করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়ার চাঁনগাও থেকে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ তাইজুদ্দীন (কং-১০৯) নামের ওই সিআইডি পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন উত্তর সালনা গ্রামে। ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাঁর সহযোগীর নাম মফিজ।

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, গতকাল রাতে মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে ইয়াবার চালান তুলে দিতে সাভারে যান তাইজুদ্দীন। সে সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি অটোরিকশা তাঁকে আটক করা হয়। আমরা প্রাথমিকভাবে তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী মনে করলেও পরে তিনি নিজেকে সিআইডি পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দেন।

‘পরবর্তীতে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্যে সিআইডি ঢাকা উত্তরা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জহির উদ্দিনকে বিষয়টি জানানো হয়। তখন তিনি আটক তাইজুউদ্দীনকে (২৯) সিআইডির কনস্টেবল হিসেবে শনাক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে নজরদারি করে তাঁর সহযোগী মফিজকেও আটক করা হয়।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই তাইজুদ্দীন পুলিশি পেশার অন্তরালে ইয়াবার মতো মাদক ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন বলে জানায় গোয়েন্দা বিভাগ। ডিবি উত্তর ঢাকা জেলার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গণি মিয়া বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় তাঁর নামে একটি মামলা করেছেন।

এদিকে তাইজুদ্দীনের মোবাইল ফোন জব্দ করে কললিস্ট খতিয়ে দেখার মধ্য দিয়ে ইয়াবার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানান ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের (ডিবি) ওসি।

মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, ‘মাদকের বিষয়ে আমাদের নীতি জিরো টলারেন্স। মাদকের সঙ্গে যে জড়িত থাকবে সে যেই হোক না কেন কোনো ছাড় নেই। আজকের ঘটনা তার বড় প্রমাণ।’

‘মাদক ব্যবসায়ী সমাজ ও দেশের শত্রু। পোশাকি পরিচয় পুলিশ হলেও আইনের চোখে সে অপরাধী। এ ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’, বলেন শাফিউর রহমান।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ বগুড়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসী স্বর্গ ‘গোলাগুলিতে’ নিহত


কথিত গোলাগুলিতে বগুড়া শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী রাফিদ আনাম স্বর্গ (২৫) নিহত হয়েছেন।

পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শহরের ধরমপুর এলাকায় ধুন্দল সেতুর দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে সুবিল খালের পাড়ে দুদল সন্ত্রাসীর ‘গোলাগুলিতে’ তিনি নিহত হয়েছেন।

স্বর্গের বাবা বগুড়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী লিয়াকত আলীও ২০০৬ সালে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে বগুড়া শহরের ধরমপুর ধুন্দল সেতুর দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে সুবিল খাল পাড়ে সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলি চলছিল। শব্দ পেয়ে পুলিশের টহল দল সেখানে যায়।

এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। সেখানে গুরুতর অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই এক রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি ৭.৬২ ক্যালিবারের পিস্তল ও একটি বার্মিজ চাকু পড়েছিল।

পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বর্গের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর থানায় হত্যা, অস্ত্র আইন, চাঁদাবাজিসহ সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানান সনাতন চক্রবর্তী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, স্বর্গের বাবা শীর্ষ সন্ত্রাসী লিয়াকত আলী ২০০৬ সালে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। তার ছেলে স্বর্গ ছোটবেলা থেকেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

অভিযোগ রয়েছে, বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় প্রোগ্রেস কোচিং সেন্টারের মালিকানা নিয়ে বিরোধে ২০১১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মোস্তাফিজুর রহমানের ভাগনে শরিকুল ইসলামকে হত্যা করেন স্বর্গ।

২০১২ সালের ১২ জুন এলাকায় একটি চিত্ত বিনোদন অনুষ্ঠানে স্বর্গের চাচা সন্ত্রাসী আশরাফ আলীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় খুন হন সরকারি শাহ সুলতান কলেজের ছাত্র নিরঞ্জন চক্রবর্তী দীপু। এ মামলারও আসামি ছিলেন স্বর্গ।

স্বর্গ প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে জেল থেকে জামিনে ছাড়া পান। প্রভাবশালীরা তাকে হত্যার কাজে ব্যবহার করার জন্য জামিনে সহযোগিতা করে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে।

সর্বশেষ ১৪ এপ্রিল নববর্ষের রাতে বগুড়ার নিশিন্দারা উপশহরে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম শাহীন খুন হন।

অভিযোগ রয়েছে, স্বর্গ ভাড়াটিয়া খুনি হিসেবে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ রাজশাহী কারাগারে কারারক্ষীর মাধ্যমেই ইয়াবা ঢুকত


রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কারারক্ষীকে ১০০টি ইয়াবা বড়িসহ আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁর সঙ্গীর কাছ থেকে আরও ১০০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নগরের রাজপাড়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার পর গতকাল বিকেলে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার কারারক্ষী মাসুদ রানার (৩০) বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মেরামতপুর গ্রামে। আইডি নম্বর ১০৭৫। মাসুদের সঙ্গে আটক হওয়া আফজাল হোসেনের বাড়ি (৩৯) চারঘাটের রাউথা গ্রামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার দিবাগত রাত তিনটায় নগরের মেডিকেল কলেজের বন্ধগেট এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজপাড়া থানার উপপরিদর্শক আশরাফ আলী জানান, আফজালের নামে চারঘাট থানায় মাদক, অস্ত্রসহ ১৫টি মামলা রয়েছে। আসামি হিসেবে রাজশাহী কারাগারে থাকার সময় মাসুদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। কারাগারে বসেই মাদক ব্যবসার পরিকল্পনা করেন। আফজাল ছাড়া পাওয়ার পর মাসুদ রানার কাছে ইয়াবা সরবরাহ শুরু করেন। মাসুদ কারাগারের ভেতরের বন্দী মাদকাসক্তদের কাছে চড়া দামে তা বিক্রি করেন।

এ ব্যাপারে কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক হালিমা খাতুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন না ধরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বলেন, তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন। জরুরি বিষয় থাকলে খুদে বার্তা পাঠাতে বলেন। খুদে বার্তায় বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, কারারক্ষীরাই বন্দীদের তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকান। তাঁরাই যদি ইয়াবা বহন করেন, তাহলে আর কে তল্লাশি করবে! এই সুযোগে তাঁরা ভেতরে ইয়াবা নিয়ে যান।

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ শিশুদের সঙ্গে আজকাল যা ঘটছে! কী করবেন?


বাংলাদেশে মাত্র গত ১৫ দিনেই কমপক্ষে ৪৭ টি শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণ চেষ্টা ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ টিই ছিল ধর্ষণের ঘটনা। উন্নয়ন সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এই তথ্য দিচ্ছে। শিশুদের প্রতি এমন নির্যাতনের সংখ্যা হঠাৎ করে বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।

যারা এসব ঘটনার শিকার, অর্থাৎ সেই শিশুদের যৌন নির্যাতন কাকে বলে, আর তাদের নিজের প্রতি তা ঘটছে কিনা, সেটি শিশুরা কীভাবে চিহ্নিত করবে? এমন স্পর্শকাতর বিষয় অভিভাবকেরা ছোট শিশুদের কীভাবে শেখাতে পারেন? বিষয়টা জানানো দরকার কিন্তু তা কতটা মুশকিল?

কয়েকজনের মায়ের কথা

কর্মজীবী এক মা। অফিসে থাকলেও মাথার মধ্যে সারাদিন ঘুরতে থাকে তার সাত আর দশ বছর বয়সী দুটি কন্যা শিশুর কথা। কি করছে তারা সারাদিন? বলছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মা। সেই উদ্বেগের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলছিলেন, ‘‘চারপাশে আজকাল যা ঘটে তা খুবই ভীতিকর। যেমন কিছুদিন আগে ডেমরায় দুটো বাচ্চা খেলা করছিলো। ওদের লিপস্টিক কিনে দেবার কথা বলে নিয়ে গিয়েছে। তারপর রেপ করে মেরে ফেলেছে। এই খবরটা যখন দেখলাম তখন সাথে সাথেই আমার নিজের বাচ্চা দুটোর চেহারা ভেসে উঠলো। এইগুলোর কারণেই আমি সবসময় একটা টেনশনে থাকি।’’

এই মা বলছেন সন্তানকে তিনি সেভাবেই প্রস্তুত করছেন। তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন।কিন্তু যৌন নির্যাতন কাকে বলে, সেটি শিশুরা কীভাবে চিহ্নিত করবে, সাত ও দশ বছর বয়সী ছোট শিশুদের এমন জটিল বিষয় তিনি কীভাবে জানাচ্ছেন?

তিনি বলছেন, ‘‘আমি ওদের শিখিয়েছি কোন স্পর্শটা ভালো আর কোনটা খারাপ। আমি আমার বাচ্চাদের সাথে একটা ওপেন রিলেশনশিপ তৈরি করার চেষ্টা করেছি। যাতে ওরা আমাকে সব কিছু বলতে পারে। তারা নিজেরাই নিচে খেলতে যায়। তাদের শিখিয়েছি কেউ যদি তোমাকে বলে আমার সাথে আসো, তোমাকে খেতে দেবো, তোমার মা বলেছে। তুমি কখনোই যাবে না।’’

ছেলে বাচ্চাকে নিয়েও ভাবা দরকার

নানা উদ্বেগের কারণে সাত বছর বয়সী ছেলের দেখভালের জন্য মাহিন চৌধুরী তার চাকরিটাই ছেড়ে দিয়েছেন। বলছিলেন তাকে চোখের আড়াল হতে দেন না প্রায় কখনোই।কিন্তু ছেলে সন্তান বলে তার প্রতি যৌন নির্যাতনের কোন ঘটনা যে ঘটতে পারে তিনি সেটা ঠিক ভাবেন না। তিনি বলছেন, ‘‘সত্যি কথা বলতে কি আমার যদি মেয়ে বাচ্চা হতো তাহলে অনেক বেশি এ ব্যাপারে চিন্তিত হতাম। কিন্তু যেহেতু আমার ছেলে বাচ্চা, তুলনামূলকভাবে কিন্তু ওই চিন্তাটা একটু কমই আসে। টেনশনটা কম হয়। কিন্তু তারপরও বাচ্চার কথা চিন্তা করেই আমি চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছি।’’

কিন্তু তিনিও তার বাচ্চাকে এই বিষয়টি বোঝাতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু একটি শিশুর মাথায়, যৌন নির্যাতনের ধারণাটা অনুপস্থিত।

আপত্তিকর বিষয়টিও সে বোঝে না। তার কাছে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা কঠিন বলে জানালেন মাহিন চৌধুরী। তিনি বলছেন, ‘‘একটি ছোট বাচ্চাকে বিষয়টি বোঝানো খুব কঠিন। আর সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ তো আমাদের নেই। দেশের বাইরে দেখি মা বা অভিভাবকদের ট্রেইন করা হয়। সচেতনতামূলক অনেক বার্তা থাকে। আমি ছেলেকে ভালো আদর, খারাপ আদর বিষয়টির পার্থক্যটা বোঝানোর চেষ্টা করেছি।’’

বাবাদের জন্য বিষয়টি কি বেশি কঠিন?

তামিম হাসানের স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন দুই বছর আগে। এই ঘটনার কারণে তিনি একজন ‘‘সিঙ্গেল প্যারেন্ট’’। তবে এরপর থেকে সাড়ে তিন বছরের সন্তানকে বড় করতে তিনি তার পরিবারের সহায়তা পাচ্ছেন।

মায়ের উপরে তিনি অনেকটাই নির্ভরশীল। কিন্তু শিশুটির প্রতি তিনি বাড়তি মনোযোগ দেন, কারণ তার মা নেই। তাই ছেলের ব্যাপারে তার উদ্বেগ আরও বেশি। তবে তার মতে বাবাদের জন্য শিশুদের এই বিষয়ে শেখানো বেশ কঠিন, কারণ বাংলাদেশের সমাজে বাবাদের সেভাবে তৈরি করা হয় না। সন্তানের সাথে তার ঘনিষ্ঠতার ধরন ভিন্ন।

তিনি বলছেন, ‘‘একজন মা যেভাবে বাচ্চাদের সাথে মিশতে পারে, একজন বাবা সেভাবে পারেন না। বাবাদের সাথে ছেলেমেয়েদের একটু দূরত্ব থাকে। বাবারা অফিসের কাজে বাইরে থাকেন বেশি। তাই ততটা সময় দিতে পারেন না। আর সিঙ্গল মায়ের থেকে সিঙ্গল বাবাদের জন্য বিষয়টাতো আরও কঠিন।’’

একজন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীর দেয়া টিপস্

শিশুদের এরকম একটি বিষয়ে কীভাবে জানানো যায় সে প্রসঙ্গে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী ডাঃ ইশরাত শারমিন রহমান বলছেন, একটি শিশু এমন প্রসঙ্গ বোঝার ক্ষমতা রাখে না।

কিন্তু তবুও তাকে জানাতে হবে। আর তার জন্য কি করা যেতে পারে সে ব্যাপারে তিনি কয়েকটি টিপস দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, ‘‘একটি শিশুকে তার শরীরের তিনটি জায়গা সম্পর্কে জানাতে হবে। তার ঠোঁট, গোপনাঙ্গ ও পায়ুপথ। তাকে জানাতে হবে এই তিনটা তার বিশেষ জায়গা। এখানে বাবা মা গোসল করানো বা পরিষ্কার করার সময় ছাড়া অন্য কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। কেউ সেটি করলে সে কি করবে সেটিও তাকে জানানো। সেটা বাবা মাকে যে জানাবে সেটি শেখাতে হবে। এতে বাচ্চারা সচেতন থাকবে।’’

শিশুদের কি ভয় বাড়িয়ে দেয়া হবে?

ডাঃ ইশরাত শারমিন বলছেন, বিষয়টি জানানোর কাজ সঠিকভাবে করার জন্য অভিভাবকদের আগে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। জিনিসটা করতে হবে একটু খেলার ছলে, ছবি এঁকে অথবা গল্প করে ধীরে ধীরে ধারণাটা তার মাথায় দিয়ে দিতে হবে। বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে মুখে বলা যেতে পারে। কিন্তু শিশুরা সবকিছু ভুলে যায়। তাদের মধ্যে সন্দেহ কম, তাই তাদের বিষয়টি মনে করিয়ে দিতে হবে।

তিনি বলছেন, ‘‘শিশুর আচরণ পরিবর্তন খেয়াল করতে হবে। বাচ্চার আচরণ থেকেও অনেক সময় অনেক কিছু বোঝা যায়। সে যদি কাউকে দেখে ভয় পায়, কারো কোলে যেতে না চায়, তাকে জোর করা উচিৎ নয়। যে বাচ্চা বিছানা ভেজানো বন্ধ করে দিয়েছে, সে যদি হঠাৎ আবার তা করে। সে যদি ভয় পেয়ে চমকে ওঠে বা রাতে দু:স্বপ্ন দেখছে, এমন পরিবর্তন খেয়াল করতে হবে।’’ শিশুর কথা শুনতে হবে ও তাকে বিশ্বাস করতে হবে। বাংলাদেশে শিশুদের কথা না শোনার একটি প্রবণতা রয়েছে।

ডাঃ ইশরাত শারমিন বলছেন, ‘‘বাচ্চারা যদি এই বিষয়ক কিছু কখনো বলে সেটিকে সিরিয়াসলি নিতে হবে, বাবা-মাকে বিশ্বাস করতে হবে। কারণ বাচ্চারা যতরকম গল্প বানিয়ে বলুক না কেন এই বিষয়ে বানিয়ে কথা বলার ক্ষমতা তার থাকার কথা নয়।’’

তিনি বলছেন, ‘‘আমার ক্লায়েন্টদের দেখে বলছি, অনেক বাবা মা বিষয়টি বিশ্বাস করতে চান না, মানতে চান না। অনেক সময় বলেন তুমি বানিয়ে বলছ। এরকম হলে শিশুরা তার বলার জায়গাটি হারিয়ে ফেলে। এতে নির্যাতক ব্যক্তি আরও সুযোগ পায়।’’

সামাজিক সম্পর্কের কথা কতটা ভাববেন?

ডাঃ ইশরাত শারমিন বলছেন, শিশুকে কার কাছে দিচ্ছেন, বাবা মায়েদের সেদিকে নজর রাখা উচিত।

কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়, প্রতিবেশী অথবা ঘনিষ্ঠদের দ্বারাই যৌন নির্যাতনের ঘটনা বেশি ঘটে। কিন্তু হঠাৎ করে বাচ্চাদের সচেতন করতে গিয়ে নিজের পরিবারের সদস্য অথবা আত্মীয়দের সন্দেহ করা শুরু করবেন কিনা সে ব্যাপারেও ভাবেন অনেকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক সামিনা লুৎফা বলছেন, ‘‘সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করার ভয়ে অনেক সময় এগুলো নিয়ে সবাই চুপ করে থাকে। কিন্তু এগুলোকে নিয়ে পরিবারের সবাইকে একসাথে বসে কথা বলতে হবে যে আমাদের শিশুরা কারো কাছে নিরাপদ নয়।’’

তিনি বলছেন, ‘‘আপনি কেন ভাবতে যাবেন আপনার ভাইকে বা বাবাকেও আপনার সন্দেহ করা প্রয়োজন। প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই আলোচনাটা যদি পরিবারে খাবার টেবিলে হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু সকলেই এই বিষয়টা সম্পর্কে সচেতন থাকে।’’

উৎসঃ ‌বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুনঃ কিশোরগঞ্জের আ’লীগ নেতার ছেলে ফখরুল আলম ৪৭০ পিস ইয়াবাসহ আটক


কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থেকে মো. ফখরুল আলম মুক্তার (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে ৪৭০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে র‌্যাব-১৪। তিনি উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক ভূঞার ছোট ছেলে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার তালজাঙ্গা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-১৪ সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ কোম্পানি অধিনায়ক লে. কমান্ডার (বিএন) এম শোভন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মাদককে নির্মূলে কিশোরগঞ্জ র‌্যাব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা এলাকায় কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে ৪৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ফখরুল আলম মুক্তারকে হাতেনাতে আটক করে।

শোভন খান আরও জানান, মুক্তার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত মুক্তার মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল থানায় মামলা দায়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে নাম না প্রকাশ শর্তে এলাকার বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, ফখরুল আলম মুক্তার দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জসহ তাড়াইল উপজেলাজুড়ে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে বলে এলাকার কেউ এনিয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ বেরিয়ে এসেছে চমকানো তথ্যঃ চুড়িহাট্টায় লাশ অদল-বদল


চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রায় দুই মাস পর স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরের ত্রুটি নিয়ে বেরিয়ে এসেছে পিলে চমকানো তথ্য। অনুসদ্ধানে দেখা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর নিহত এক নারীর লাশ নিয়ে গেছে পুরুষ লাশের স্বজনরা। এক শিশুর লাশ নিয়ে গেছে অন্য লাশের আত্মীয়।

স্বজনদের কাছে আগুনে পোড়া লাশ হস্তান্তরের এসব ত্রুটি ধরা পড়ার পর পুলিশ প্রশাসন, সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ আর প্রিয়জনহারা স্বজনদের মধ্যেও আরেক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার ঘটনা যতটা না বেদনার ছিল, তার চেয়ে আরো বেশি আতঙ্কের আর লোমহর্ষক তথ্য বের হয়ে এসেছে নয়া দিগন্তের অনুসন্ধানে।

‘কার লাশ কে নিয়েছে’? এই অভিযোগ নিয়ে স্বজনরা এখনো থানায় মর্গে আর মালিবাগের পুলিশের (সিআইডি) ফরেনসিক বিভাগে নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ করছেন। নয়া দিগন্তের পক্ষ থেকে গত কয়েক দিনের অনুসন্ধানে এ বিষয়ে বের হয়ে এসেছে চমকে উঠার মতো আরো অনেক নতুন তথ্য।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আগুনে পুড়ে নিহত এক নারীর লাশ গ্রহণ করেছেন পুরুষ লাশের স্বজনরা। বাবার লাশ মনে করেই এই নারীকে নোয়াখালির সোনাইমুড়ির মির্জানগরে দাফন করেছেন নিহত জাফর আহাম্মদের সন্তানরা। ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢামেক’র মর্গ থেকে এই লাশটি গ্রহণ করেন নিহত জাফর আহম্মদের ছেলে রাকিব হোসেন রাজু। একইভাবে ছোট্ট শিশু আত-তাহীর লাশও নিয়ে গেছেন অন্য এক নিহত ব্যক্তির আত্মীয়।

এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের লাশ হস্তান্তরের তালিকায় দেখা গেছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি চুড়িহাট্টার আগুনের ঘটনার পরে ২১ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বেশির ভাগ লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের পরে সেগুলো চলে গেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়, ধর্মীয় বিধানমতে দাফন প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। কিন্তু ঘটনার প্রায় দুই মাস পর লাশ হস্তান্তরের সেই প্রক্রিয়া যে সঠিক ছিল না তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

অনুসদ্ধানে দেখা গেছে, চুড়িহাট্টায় ২০ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় আগুনে পুড়ে নিহত হয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী জহিরুল হক সুমনের স্ত্রী, দুই কন্যা সন্তানের মা বিবি হালিমা ওরফে শিল্পী। ঘটনার পর থেকে চকবাজার থানা, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গ আর মগবাজারের বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির অফিসে দিনের পর দিন লাশের সন্ধানে খুঁজে বেড়িয়েছেন স্বামী সুমন। কিন্তু কোথাও তিনি স্ত্রীর লাশ পাননি। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাদের ফরেনসিক রিপোর্টে যে তথ্য দিয়েছে তাতে পুরো আকাশ যেন সুমনের মাথার ওপর ভেঙে পড়েছে।

সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা গেছে, ২৩ ফেব্রুয়ারি নিহত মো: জাফর আহম্মদ নামে যে লাশ (লাশ ব্যাগ নং- ৬১) স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল সেই লাশটি ছিল আসলে বিবি হালিমা ওরফে শিল্পীর লাশ। অর্থাৎ শিল্পীর (মহিলা) লাশ মো: জাফর আহম্মদ (পুরুষ) হিসেবে হস্তান্তর করা হয়ে গেছে। যদিও ঘটনার পরের দিন স্ত্রীর লাশের সন্ধান চেয়ে চকবাজার থানায় জিডিও করেছিলেন সুমন। জিডি নং ৯৯৪ তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। ২৩ ফেব্রুয়ারি নিহত জাফর আহম্মদের লাশ গ্রহণকারী তার ছেলে রাকিব হোসেন রাজুর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে (চকবাজার থানায় পুলিশের তালিকায় যে মোবাইল নাম্বার উল্লেখ করা আছে) তার মোবাইল নম্বরটি অব্যবহৃত জানানো হয়।

চুড়িহাট্টার আগুনের ঘটনায় লাশ হস্তান্তরের এই ত্রুটির বিষয়ে জানতে এবং এভাবে আরো কয়েকটি লাশ অদল-বদলের তথ্য নিয়ে মালিবাগস্থ সিআইডি অফিসের ফরেনসিক ল্যাবলেটরিতে গিয়েও এর সত্যতা মিলেছে। চুড়িহাট্টার ঘটনার পর নিহত ব্যক্তি ও স্বজনদের ডিএনএ নমুনা নিয়ে শুরু থেকে কাজ করেছেন সিআইডির সাব ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার ডিএনএ ল্যাব সহকারী (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা শুরু থেকে যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম শেষ পর্যন্ত তা-ই সত্যি হলো। স্বজনদের বেশি তাড়াহুড়া আর জেলা প্রশাসকের নির্দেশ মতো লাশগুলো হন্তান্তর করা হয়েছে। এ কারণে কিছু লাশের ক্ষেত্রে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শিশুসহ কয়েকটি লাশ অদল-বদল হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এখন জেলা প্রশাসক ইচ্ছা করলে স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ আসা লাশগুলোর আবার ডিএনএ টেস্ট করার ব্যবস্থা করতে পারেন। এই কর্মকর্তা আরো জানান, নিহত শিল্পীর লাশ পুরুষ লাশ হিসেবে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির মির্জানগরে দাফন হয়েছে। শিল্পীর স্বামী আমাদের সাথে যোগাযোগও করেছেন। কিন্তু আমাদের তো এখন আর কিছুই করার নেই। বিষয়টি এখন মানবিক। কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে পুনরায় হস্তান্তর করার বিষয়টি আদালত কিংবা জেলা প্রশাসকের এখতিয়ারের মধ্যে।

ওই দিন চুড়িহাট্টায় আগুনে পুড়ে মারা যান চকবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন সুমনের মামা সালেহ আহমেদ (লাশ ব্যাগ নং- ১০) এবং মামী নাসরিন জাহান (লাশ ব্যাগ নং- ৩০)। তাদের সাথে ছিল পাঁচ বছরের শিশুসন্তান আত-তাহী। তাহীর লাশও খুঁজে পাননি জাকির হোসেন সুমন। তিনি জানান, তাহীর লাশ আমরা পাইনি। ধারণা করছি তাহীর লাশও হয়তো অন্য কেউ নিয়ে গেছে। থানায় জিডি করতে চেয়েছিলাম। পুলিশ বলেছে, জিডি করার দরকার নেই। আমরা এখনো লাশের খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা করছি।

এদিকে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর আত্মীয়দের কাছে লাশ হস্তান্তরের তিনটি আলাদা তালিকা তৈরি করে পৃথক তিনটি সংস্থা। ঢাকা জেলা প্রশাসন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের চকবাজার থানা এবং রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি এই তালিকা তিনটি প্রস্তুত করেছে। তিনটি তালিকাতেই দেখা গেছে বেশ কয়েকটি লাশের খোঁজ এখনো মিলছে না। যদিও চকবাজার থানায় গিয়ে তাদের তালিকা অনুযায়ী তিনটি লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রয়েছে এমন তথ্য মিলেছে। তবে থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ মোরাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরবর্তীতে দুটি লাশের ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করেছে।

লাশ অদল-বদলের বিষয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে গিয়েও মিলেছে একই তথ্য। তারাও বলছেন, আমাদের অদক্ষতার কারণেই কিছু লাশ অদল-বদল হয়েছে। অনেকে লাশ পাননি। তারা নিয়মিত লাশের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। কিছু লাশ হয়তো অন্যদের সাথে অদল-বদল হয়েছে। আর কিছু লাশ পুড়ে কয়লা হয়েছে। সে কারণেই কিছু লাশের খোঁজ এখনো মিলছে না।

মগবাজারস্থ বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রোগ্রাম অফিসার সৈয়দা আবিদা ফারহীন নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা যেসব উদ্ধারকর্মী দুর্ঘটনাস্থলে পাঠাই তাদের একটি প্রশিক্ষণ থাকে। বিশেষ করে বড় অগ্নিকাণ্ডের পর লাশ শনাক্তকরণের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। চুড়িহাট্টায় যে কাজটি হয়েছে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ছাড়া আর কারো কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না। লাশ শনাক্তের বিষয়ে তো একেবারেই নয়। তাই এই বিপত্তিটি ঘটেছে। আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া কিছু লাশ চিহ্নিত করারই কোনো উপায় ছিল না। সে কারণেই হস্তান্তরের সময়ে কিছু লাশ অদল-বদল হওয়ার আশঙ্কা তো থাকেই।

এদিকে চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের পর লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে চকবাজার থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রথম দিনে অর্থাৎ ঘটনার পরের দিন ২১ ফেব্রুয়ারি ৪৫টি লাশ, ২২ ফেব্রুয়ারি একটি লাশ, ২৩ ফেব্রুয়ারি দুটি লাশ হস্তান্তর করা হয়। এরপরে পর্যায়ক্রমে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২টি, পয়লা মার্চ একটি, ২ মার্চ একটি, ৬ মার্চ ৮টি, ৭ মার্চ ৩টি, ১২ মার্চ ৪টি পোড়া লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চকবাজার থানা পুলিশের তালিকায় দেখা গেছে, লাশ ব্যাগ নং- ২৪, ৫২ এবং ৫৪ এই তিনটি লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখার কথা বলা হয়েছে। পরে অবশ্য চকবাজার থানা থেকে জানানো হয়েছে এই লাশ তিনটিও সিআইডি কর্র্তৃক ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অর্থাৎ পুলিশের রিপোর্টে ঘটনার পরে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৯ দফায় মোট ৬৭টি লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বেড়েই চলেছে ধর্ষণ, গত ৩৬ ঘণ্টায় ঘটেছে ১০টি ধর্ষণের ঘটনা


আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দেশে ধর্ষণ বাড়ছে, বাড়ছে ধর্ষণের পর হত্যা। প্রায় প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ধর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্কুলছাত্রী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী, গৃহবধূ থেকে প্রতিবন্ধী নারী, এমনকি শিশু- কেউই রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষণের কবল থেকে। এক এলাকায় ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গণমাধ্যম কেঁপে ওঠছে নতুন আরেক ধর্ষণের খবরে।

গত ৩৬ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণের ১০টি ঘটনা ঘটেছে। আর এসব ঘটনায় ১০টি মামলা দায়ের হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

নোয়াখালীর সেনবাগে ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। এ ছাড়া নরসিংদীর বেলাবতে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করেছেন মধ্য বয়সী এক ব্যক্তি। রংপুরেও এক শিশু ধর্ষিত হয়েছে। রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় ৫ম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করা হয়। ফেনীর সোনাগাজীর চর দরবেশ ইউনিয়নের আর্দশ গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ করেছে স্থানীয় বখাটেরা। বান্দরবানের লামা উপজেলায় মদ খাইয়ে এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। সিলেটের বিমানবন্দর থানাধীন বনকলাপাড়ার নূরানী আবাসিক এলাকার একটি কলোনিতে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী বড়াবাড়ি এমএইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বরখাস্ত হয়েছেন। যশোরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে প্রকাশ ব্যানার্জি (৫৪) নামে পুরোহিতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাবনার চাটমোহর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বোলিয়া গ্রামে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে মুখোশপরা ধর্ষকরা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১৫ দিনে দেশে ৩৯ জন বালিকা ধর্ষিত হয়েছে। ধর্ষণ সহ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৪৭ জন। এসব ঘটনা ঘটেছে ২ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৩ হাজার ৫৮৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৭৮ জনকে। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই শিশু ও কিশোরী। ধর্ষণের সংখ্যা ও ব্যাপ্তি বাড়ছে দিন দিন্। ২০১৪ সালে ৭০৭, ২০১৫ সালে ৮৪৬, ২০১৬ সালে ৭২৪, ২০১৭ সালে ৯২২ ও সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৮৩৫টি আর চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ধর্ষণের ঘটনা ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।

নারীর ক্ষমতায়নসহ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নে বাংলাদেশের নারীসমাজ বিশ্বে ঈর্ষণীয় পর্যায়ে এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে আছে এদিক থেকে। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ইত্যাদি প্রতিরোধে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্নসহ দেশে যথেষ্ট ভালো আইন রয়েছে। ধর্ষকদের ক্রসফায়ারে দেয়ার দাবিও উঠেছে। তবে দুঃখের সঙ্গে স্বীকার করতে হয়, বিস্তৃত পরিসরে এর প্রয়োগ প্রায় নেই বললেই চলে।

বেসরকারি সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন রয়েছে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দেড় লক্ষাধিক মামলা। প্রত্যেক বছরে গড়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ মামলা আর সাজা পাচ্ছে হাজারে সাড়ে ৪ জন আসামি। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ১০ বছরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫ হাজার ১১৭টি। এর মধ্যে রায় ঘোষণা হয়েছে ৮২১টির, শাস্তি হয়েছে ১০১ জনের। মামলার অনুপাতে রায় ঘোষণার হার ৩.৬৬ শতাংশ ও সাজার হার দশমিক ৪৫ শতাংশ।

সারা দেশে বিচারের জন্য ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দেড় লক্ষাধিক মামলা ঝুলে আছে। এসব মামলার বিচার চলছে ঢিলেঢালাভাবে। বছরে নিষ্পত্তি হচ্ছে মাত্র ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ মামলা। আর সাজা পাচ্ছে হাজারে মাত্র চারজন আসামি।

ধর্ষণের বিচার করার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের দুর্বলতা ও দীর্ঘসূত্রতার ফলে সমস্যাটি অত্যন্ত জটিল হয়েছে। আইন প্রয়োগকারীদের একটি অংশ ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি বিরূপ ধারণা প্রকাশ করেন, তাঁরা নারীটির ব্যক্তিগত ‘চরিত্র’ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেন। ফলে ধর্ষণের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে—এটা আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করার জন্য যতটা আন্তরিক তাগিদের সঙ্গে আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন, বাস্তবে তার অভাব রয়েছে। শুধু আইন প্রয়োগকারীদের মধ্যে নয়, আমাদের সাধারণ মানুষেরও একটি অংশের ভেতরে ধর্ষণের শিকার নারীর প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা হয়। ফলে অত্যন্ত কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে।

উৎসঃ ‌পূর্বপশ্চিম

আরও পড়ুনঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৪ শীর্ষ নেতার জামিন বহাল


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৪ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের নিষ্পত্তি করেছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ কিছু অবজারভেশনসহ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দেন। এ বিষয়ে পরে লিখিত আদেশ দেবেন বলে আপিল বিভাগ জানিয়েছেন।

এই আদেশের ফলে হাইকোর্ট বিএনপি নেতাদের যে আগাম জামিন দিয়েছেন তা নাকচ হয়নি এবং তাদের আগাম জামিন বহাল রয়েছে। এছাড়া আপিল বিভাগ তার লিখিত আদেশে আগাম জামিনের বিষয়ে গাইড লাইন দেবেন বলে খন্দকার মাহবুব হোসেন জানিয়েছেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বিএনপির অন্য নেতারা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন ও বরকত উল্লাহ বুলু, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বানিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ, ড্যাব নেতা এ জেড এমন জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া একই মামলায় আসামি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

আদালতে বিএনপি নেতাদের পক্ষে শুনানি করে প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মাসুদ রানা। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আপিল বিভাগের আদেশের পর খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আপিল বিভাগের আদেশে বিএনপি নেতাদের আগাম জামিনের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষের আপিল নাকচ করে আদালত আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন আরো বলেন, আগাম জামিনের ব্যাপারে এ আপিল বিভাগের একটি সিদ্ধান্ত রয়েছে। যে সিদ্ধান্ত রয়েছে তা পরিবর্তন চেয়ে আমরা একটি নীতি নির্ধারণ করে দিতে বলেছি। আমরা পরিবর্তন চেয়ে একটি পলিসি নির্ধারণ করে দিতে বলেছি। কারণ সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তাতে হাইকোর্টের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। হাইকোর্টের ক্ষমতা খর্ব না করে জনস্বার্থে ওই সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হওয়া দরকার। এ বিষয়ে আপিল বিভাগের একটি গাইডলাইন প্রয়োজন। তিনি বলেন, আগের গাইডলাইনের কারণে আগাম জামিন সীমিত হয়ে গেছে। আপিল বিভাগের লিখিত আদেশ পেলে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কি না তা বোঝা যাবে।

৬৬ ডিএলআর-এর যে সিদ্ধান্ত চার সপ্তাহের বেশি জামিন দেয়া যাবে না। সেখানে উক্ত আসামিদের চার সপ্তাহের বেশি জামিন দেয়া হয়। তিনি বলেন, তখন নির্বাচনকালীন সময় অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঢালাওভাবে পুলিশ মামলা দেয়। এতে মৃত ব্যক্তি বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়। সে ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে চার সপ্তাহের বেশি জামিন দিতে পারেন। তিনি আরো বলেন, ৬৬ ডিএলআরের এই সিদ্ধান্ত ৫১ ডিএলআরের ওয়াহাব শাহের মামলার পরিপন্থী।

গত অক্টোবর মাসে রাজধানীর হাতিরঝিল ও খিলগাঁও থানায় করা নাশকতার দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন পান বিএনপি নেতারা। গত ১ অক্টোবর হাতিরঝিল থানায় মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে পুলিশ। এছাড় খিলগাঁও থানায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অপর একটি নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন মারাত্মকভাবে বেড়েছে, সূচকে পিছিয়েছে ৪ ধাপ বাংলাদেশ


সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক বৈশ্বিক সূচকে চার ধাপ নিচে নেমে গেছে বাংলাদেশ।সূচকে থাকা ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। প্যারিসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার বৃহস্পতিবার বার্ষিক এই সূচক প্রকাশ করেছে।

বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক ২০১৯ (ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স ২০১৯) –এ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে নরওয়ে। শীর্ষ পাঁচ দেশের সবগুলোই ইউরোপের। তালিকার সর্বশেষ দেশ ভিয়েতনাম।

এই সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন মারাত্মকভাবে বেড়েছে। মাঠ পর্যায়ে সংবাদকর্মীদের ওপর রাজনৈতিক কর্মীদের হামলা, নিউজ ওয়েবসাইট বন্ধ এবং সাংবাদিক গ্রেফতারের ঘটনা বেড়েছে বলে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার-এর বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে ওই সূচকে বলা হয়েছে, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত কড়া নীতির যৌথ শিকার বাংলাদেশি সাংবাদিকরা’।

ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে নির্বাহীরা। এই আইনে নেতিবাচক প্রচারণার শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড। যেসব সাংবাদিক এবং ব্লগাররা সমাজে অতিরিক্ত ধর্মনিরপেক্ষ মত প্রকাশের সুরক্ষা চান তারা উগ্রবাদী ইসলামপন্থীদের হয়রানি আর হত্যার শিকার হচ্ছে’।

প্যারিসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ) সারাবিশ্বের সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন ও হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ করে তা প্রতিরোধে কাজ করে। সংস্থাটির ২০১৯ সালের সূচকে দেখা গেছে সাংবাদিকদের ওপর ঘৃণা সহিংসতায় পরিণত হচ্ছে। আর এর ফলে সারাবিশ্বে ভয়ের পরিবেশ বাড়ছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলমের গ্রেফতারের ঘটনাকে সামনে এনেছে রিপোর্টাস উইদাউট বর্ডার। বলা হয়েছে সরকার বিরোধীদের দমন করতে বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহারের নজির এই ঘটনা। গত বছর গ্রেফতার হয়ে একশো দিনেরও বেশি কারাগারে কাটিয়েছেন এই ফটো সাংবাদিক।

আরএসএফ-এর সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান স্বভাবতই নিচের দিকে। দুই ধাপ নিচে নেমে ভারতের অবস্থান ১৪০ আর তিন ধাপ নিচে নেমে পাকিস্তানের অবস্থান ১৪২।

আরএসএফ এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করতে পারা দেশের সংখ্যা কমে যাচ্ছে আর স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরালো করা অব্যাহত রেখেছে।

পরপর তিন বছর ধরে এই সূচকে প্রথম স্থান অর্জন করলো নরওয়ে। ২০১৯ সালে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড। সাইবার নিপীড়ন বাড়ায় একধাপ নিচে নেমে সুইডেনের অবস্থান তিনে। আর চতুর্থ অবস্থানে নেদারল্যান্ডস। আর পঞ্চম অবস্থানে ডেনমার্ক। প্রধম পাঁচটি দেশের সবগুলোই ইউরোপের।

তালিকার নিচের দিকে সর্বশেষ অবস্থানে তুর্কমেনিস্তান। এর পর ধারাবাহিকভাবে ওপরের দিকে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, ইরিত্রিয়া, চীন, ভিয়েতনাম।

উৎসঃ ‌justnewsbd

আরও পড়ুনঃ ‘আওয়ামী লীগ-হাসিনার কড়া নীতির যৌথ শিকার বাংলাদেশি সাংবাদিকরা’


সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক বৈশ্বিক সূচকে অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের।সূচকে থাকা ১৮০টি দেশের মধ্যে চার ধাপ অবনতি ঘটে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। প্যারিসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার বৃহস্পতিবার বার্ষিক এই সূচক প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে ওই সূচকে বলা হয়েছে, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত কড়া নীতির যৌথ শিকার বাংলাদেশি সাংবাদিকরা’।

এই সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন মারাত্মকভাবে বেড়েছে। মাঠ পর্যায়ে সংবাদকর্মীদের ওপর রাজনৈতিক কর্মীদের হামলা, নিউজ ওয়েবসাইট বন্ধ এবং সাংবাদিক গ্রেফতারের ঘটনা বেড়েছে বলে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার-এর বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক ২০১৯ (ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স ২০১৯) –এ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে নরওয়ে। শীর্ষ পাঁচ দেশের সবগুলোই ইউরোপের। তালিকার সর্বশেষ দেশ ভিয়েতনাম।

ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘২০১৮ সালের অক্টোবরে প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে সর্বশেষ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে নির্বাহীরা। এই আইনে নেতিবাচক প্রচারণার শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড।’

প্যারিসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ) সারাবিশ্বের সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন ও হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ করে তা প্রতিরোধে কাজ করে। সংস্থাটির ২০১৯ সালের সূচকে দেখা গেছে সাংবাদিকদের ওপর ঘৃণা সহিংসতায় পরিণত হচ্ছে। আর এর ফলে সারাবিশ্বে ভয়ের পরিবেশ বাড়ছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলমের গ্রেফতারের ঘটনাকে সামনে এনেছে রিপোর্টাস উইদাউট বর্ডার। বলা হয়েছে সরকার বিরোধীদের দমন করতে বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহারের নজির এই ঘটনা। গত বছর গ্রেফতার হয়ে একশো দিনেরও বেশি কারাগারে কাটিয়েছেন এই ফটো সাংবাদিক।

আরএসএফ-এর সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান স্বভাবতই নিচের দিকে। দুই ধাপ নিচে নেমে ভারতের অবস্থান ১৪০ আর তিন ধাপ নিচে নেমে পাকিস্তানের অবস্থান ১৪২।

আরএসএফ এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করতে পারা দেশের সংখ্যা কমে যাচ্ছে আর স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরালো করা অব্যাহত রেখেছে।

পরপর তিন বছর ধরে এই সূচকে প্রথম স্থান অর্জন করলো নরওয়ে। ২০১৯ সালে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড। সাইবার নিপীড়ন বাড়ায় একধাপ নিচে নেমে সুইডেনের অবস্থান তিনে। আর চতুর্থ অবস্থানে নেদারল্যান্ডস। আর পঞ্চম অবস্থানে ডেনমার্ক। প্রধম পাঁচটি দেশের সবগুলোই ইউরোপের।

তালিকার নিচের দিকে সর্বশেষ অবস্থানে তুর্কমেনিস্তান। এর পর ধারাবাহিকভাবে ওপরের দিকে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, ইরিত্রিয়া, চীন, ভিয়েতনাম।

উৎসঃ ‌justnewsbd

আরও পড়ুনঃ বগুড়ায় বিএনপি নেতা মাহবুব আলম শাহীন হত্যা মামলায় : ৯ জনের নাম প্রকাশ


বগুড়ার সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, পরিবহন ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন হত্যা মামলায় গ্রেফতার পায়েল শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিল্লাহ হুসাইনের কাছে এ স্বীকারোক্তি দেন। সে হত্যায় সম্পৃক্ত ৯ জনের নাম প্রকাশ করেছে।

একই আদালত অপর সন্ধিগ্ধ আসামি রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, অ্যাডভোকেট শাহীন হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী আকতারা জাহান শিল্পী ৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেছেন। বুধবার ভোরে শহরের নিশিন্দারার বাড়ি থেকে রাসেলকে গ্রেফতার ও হত্যায় ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, রাসেলের দেয়া তথ্যে গাবতলী উপজেলার কাগইল ইউনিয়নের আমলিচুকাই গ্রামে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে পায়েল শেখকে গ্রেফতার করা হয়। পায়েলের বিরুদ্ধে সদর থানায় বিভিন্ন ধারায় ৯টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে পায়েল ও রাসেলকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পায়েল ম্যাজিস্ট্রেট বিল্লাল হুসাইনের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ ছাড়া রাসেলকে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত ৫ দিনের মঞ্জুর করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপশহর ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আম্বার হোসেন জানান, স্বীকারোক্তিতে পায়েল হত্যায় জড়িত ৯ জনের নাম প্রকাশ করেছে। তবে স্বীকারোক্তিতে আর কী প্রকাশ করেছে তা এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

এর আগে সে পুলিশের কাছে স্বীকার করে বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃত্বের কোন্দলে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনকে উপশহর এলাকায় কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত ও দায়ের কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। সব দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা চলে যান। পথচারীরা তাকে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে শাহীনের লাশ শহরের ধরমপুর স্কুলপাড়ার বাড়িতে নেয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের দ্বন্দ্ব ও নেতাদের দায়ী করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ৩৫০ কোটি টাকা নিয়ে পালাতে গিয়ে আ.লীগ নেতা বিমানবন্দরে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান শামীম বিভিন্ন ব্যাংকের ৩৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে পলাতক ছিলেন।

সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক থেকে একই জমি একই ফ্লাটের জমি জামানত রেখে অভিনব কায়দায় ৩৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে ব্যাংকের দৃষ্টিতে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন মুজিবর। তিনি দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন এতদিন। বৃহস্পতিবার অস্ত্র ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল থেকে তাকে আটক করে এভিয়েশন সিকিউরিটি গ্রুপের (এভসেক) সদস্যরা।

মুজিবর রহমান শামীম বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ দলীয় নির্বাচিত চেয়ারম্যান। শাসকদলের আশ্রয়ে থেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এই নেতা চিতলমারী-বাগেরহাটসহ পাশের পিরোজপুর জেলাতে দাপিয়ে বেড়ালেও ব্যাংকের দৃষ্টিতে পলাতক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্যাংকের টাকা মেরে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া শামীম প্রথমে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ২০১১ সালে চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

চিতলমারীর উমাজুড়ি গ্রামের মৃত গফুর মোল্লার ছেলে শামীম আওয়ামী লীগ দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ। উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে তার শূন্য আসনে ২০১৪ সালের অক্টোবরে স্ত্রী বিউটি আক্তারকে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে আনেন।

ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা মেরে দিয়ে দু’হাত ভরে টাকা উড়িয়ে ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান, স্ত্রীকে ইউপি চেয়ারম্যান বানিয়ে থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। ব্যাংকের খাতায় পলাতক মুজিবর রহমান শামীম চিতলমারীর পাশের জেলা পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কালিগঞ্জ এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিশাল এক ইটের ভাটা। এ কাজে তিনি কৃষকসহ সরকারের খাস জমি দখল করেছেন। নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরিপাগলা গ্রামে প্রায় ৫০ একর জমির ওপরে গড়ে তুলেছেন রিসোর্ট, মাছ ও গরুর খামার। রিসোর্টে আলিশান তিনটি ভবন গড়ে তুলেছেন তিনি।

হরিপাগলা গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জানা যায়, শামীমের রিসোর্টে প্রভাবশালী নেতা ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রায় নিয়মিত আসর বসাতেন। সেখানে চলে নানা অপকর্ম।

ব্যাংকের টাকা মেরে নিজ এলাকা চিতলমারী ছেড়ে পিরোজপুরে সেজেছেন দানবীর। বাগেরহাট জেলা মানবাধিকার কাউন্সিলের সভাপতি, বাগেরহাটের সাংস্কৃতিক সংগঠন দলছুটের সভাপতির পদও বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। অর্থের জোরে চিতলমারী থেকে প্রকাশিত চিতলমারীর অন্তরালে ও পিরোজপুর থেকে প্রকাশিত তথ্য দর্পন নামের দুটি পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতিও হয়েছেন। চিতলমারী ও নাজিরপুর-পিরোজপুরের এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তিদের সঙ্গে শামীমের সখ্যতা রয়েছে।

ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে এতদিন নিজের অপকর্ম চাপা দিয়ে রাখলেও সম্প্রতি তা ফাঁস হয়ে যায়। স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশ হয় তার নানা অপকর্ম নিয়ে সংবাদ। দানবীর সাজা শামীমের আসল রূপ প্রকাশিত হয়ে পড়ায় চিতলমারীসহ বাগেরহাট ও পিরোজপুরে তেলপাড় সৃষ্টি হয়।

উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম সম্প্রতি তারই উপজেলার ইউএনও মো. আবু সাঈদের বিরুদ্ধে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করে আলোচনায় আসেন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক তপন কুমারের নির্দেশে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জহিরুল আলম ১১ ফেব্রুয়ারি ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এরই মধ্যে গা ঢাকা দেন শামীম।

তবে চিতলমারীর লোকজন জানিয়েছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম নিজের দুর্নীতি ঢাকতে ইউএনওর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ভুয়া অভিযোগ তুলেছেন। শামীম বড় ধরনের প্রতারক।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ বিএনপি নেতা মাহবুব আলম শাহীন হত্যার আগমুহূর্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে


বগুড়া জেলা বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন হত্যাকান্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পাশাপাশি এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলো- বগুড়া শহরের নিশিন্দারা মধ্যপাড়ার মৃত কালুর ছেলে এজাহার নামীয় আসামী পায়েল শেখ (৩৮) ও সন্দেহভাজন আসামী নিশিন্দারা মন্ডল পাড়ার আবু তাহেরের ছেলে রাসেল (২৮)।

বৃহস্পতিবার বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূইয়া এ তথ্য জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল রোববার বাংলা নববর্ষের রাতে বগুড়া উপশহর এলাকায় শাহীনকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের স্ত্রী আক্তার জাহান শিল্পী বাদী হয়ে জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বগুড়া পুলিশ সুপার বলেন, জেলা মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃত্ব নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এই দ্বন্দের জের ধরেই হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা বলেন- গত ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যার পর মোটর মালিক গ্রুপের এক নেতার অফিসে গোপন বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বিএনপি নেতা ও আইনজীবি অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০ জনের একটি দল মোটরসাইকেল নিয়ে উপশহর কাঁচা বাজার এলাকায় এই হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করে।

বৃহস্পতিবার ভোরে হত্যাকান্ডে জড়িত আসামী রাসেলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর সেখান থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তার দেয়া তথ্য মতে আরেক আসামী পায়েল শেখকে তার মেয়ের শ্বশুরবাড়ী গাবতলী উপজেলার কাগইল ইউনিযনের আমলিচুকাই গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের নিকট থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানা গেছে। গ্রেফতারকৃত দুজনের মধ্যে পায়েল ৯টি মামলার এজাহারনামীয় আসামী।

পুলিশ সুপার আরো জানান, অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আসামীদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ যুবলীগ নেতা আলী হোসেন ৪ বছর আমার দেহকে নিয়ে খেলেছে, এখন আমার মেয়েকে চায়


স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকেই মোবাইল ফোনে সব সময় বিরক্ত করতো যুবলীগ নেতা আলী হোসেন উজ্জল। এভাবে আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে একদিন ওর বাড়িতে ডেকে নেয়। তখন বাড়িতে উজ্জল ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। ওর ঘরে নিয়ে আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে সে ধর্ষণ করে। ঘরের ভেতর আগে থেকেই মোবাইল ফোনের ভিডিও সেট করা ছিল তা আমি জানতাম না। এরপর থেকে সেই ভিডিও আমার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়। তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক না করলে আমার স্বামীর কাছে ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়ে দেবে এবং ইন্টারনেটে তা ছড়িয়ে দেবে বলে ভয়ভীতি দেখায়। যার কারণে চারটি বছর ধরে আমাকে যখন যেভাবে খুশি সে ব্যবহার করে যাচ্ছিল। সে শুধু একাই আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেনি, তার বন্ধুদের দিয়েও প্রতি নিয়ত আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে।

আমার ইজ্জত, মান সম্মান সব কিছু কেড়ে নেয়ার পর ওই পিচাশের কু দৃষ্টি পড়ে আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের দিকে। তাই মেয়ের ইজ্জত বাঁচাতে বাধ্য হয়ে থানায় মামলা করতে হয়েছে।

এমন লোমহর্ষক ঘটনাটি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের হেলাচিয়া গ্রামে। ওই ইউনিয়নের প্রভাবশালী ইউপি সদস্য দরবেশ বেপারীর পুত্র ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন উজ্জল।

লোমহর্ষক এই ঘটনার কাহিনী বলতে গিয়ে বার বারই কেঁদে ফেলেন ওই নারী। তার মুখ থেকে বেড়িয়ে আসে তার ওপর নির্যাতনের আরো ভয়াবহ কথা। বলেন, চার বছর ধরে আলী হোসেন উজ্জল আমার জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে। আমার দেহ ভোগ করেই সে ক্ষান্ত হয়নি। আমাকে দিয়ে বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণ উঠিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ভয়ভীতি, প্রতারণা আর আমার সাথে যৌন সম্পর্কের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে টানা চার বছর ওর ডাকে আমি সাড়া দিয়ে আসছিলাম। যখন খুশি আমাকে ওর বাড়িতে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতো। এই ঘটনা আমার স্বামীকে বলে দেবে কিংবা ইন্টারনেটে সব ছেড়ে দেবে এই বলে সব সময় আমাকে ব্লাকমেইল করতো এবং ওর কাছে যেতে বাধ্য করতো।

এভাবে দিনের পর দিন মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও ওর রোষানল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারিনি। সব কিছুই ওকে উজার করে দিয়েছি। এছাড়া ওর ব্যবসার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আশা অফিস, জাগরনিসহ বিভিন্ন এনজিও থেকে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা আমাকে দিয়ে সে তুলে নেয়। প্রথম প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করলেও পরে আর করতো না। গেল এক বছর ধরে সে আর তার বাড়িতে আমাকে ডাকতো না। নিয়ে যেতো মানিকগঞ্জের উত্তর সেওতা এলাকার মনিরা বেগম মনোয়ারার ৪ তলা বিশিষ্ট বাসার চিলাকোঠার একটি কক্ষে।

এখানে সপ্তাহে ২-৩ দিন আমাকে নিয়ে আসতো। যৌন উত্তেজক ঔষুধ সেবন করে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক চালানোর পর আবার বাড়ি দিয়ে আসতো। বাড়ির মালিক মনোয়ারা বিনিময়ে ১ হাজার করে টাকা নিতো উজ্জলের কাছ থেকে। শুধু উজ্জলই নয় তার বন্ধুদেরও নিয়ে আসতো সেখানে। একেক দিন একেক বন্ধুদের সাথে আমাকে শারীরিক সম্পর্ক করাতে বাধ্য করতো উজ্জল। এমনকি ওর স-মিলের কর্মচারীদের দিয়েও আমাকে শারীরিক সম্পর্ক করাতো। সেই সম্পর্কের ভিডিও করতো সে। এভাবে এক বছর ধরে মানিকগঞ্জের ওই বাসায় ওর কথা মতো আসতাম।

তিনি আরো বলেন, উজ্জল শুধু আমার সাথে সম্পর্ক করে ক্ষুধা মিটতো না। ওর কু-নজর পড়ে আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়ের দিকে । মেয়েকে না এনে দিলে কিস্তির টাকা না দেয়ার হুমকি, ইন্টারনেটে ভিডিও ছেড়ে দেয়া এবং স্বামীর কাছে সব কিছু বলে দেবে এমন ভয় দেখাতে থাকে।

আমি ওকে বলতাম আমি নিজে মরে যাবো তার পরও আমার মেয়েকে তুলে দিতো পারবো না। তারপরও সে পিছু ছাড়ছিল না। একদিকে কিস্তির টাকার জন্য পাওনাদাররা বাড়ি এসে যা না তাই বলে যাচ্ছে, অন্য দিকে ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে আর সব কিছু তার স্বামীকে জানিয়ে দেবে এমন নানা জটিলতার জালে আটকে পড়ে যাই।

কোন উপায়ন্ত না পেয়ে বাধ্য হয়ে গত মঙ্গলবার মনোয়ারার বাসায় মেয়েকে নিয়ে যাই। প্রথমে মেয়েকে নিচে রেখে আমি ৪তলা বাসার চিলাকোঠার একটি কক্ষে যাই । যৌন উত্তেজক ঔষুধ সেবন করে প্রথমে উজ্জল আমার সাথে বেশ কিছুক্ষণ শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এরপর মেয়েকে চিলকোঠায় নিয়ে আসতে বলে। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেলে উজ্জল তার মোবাইল ফোনটি ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। মেয়ের সম্মান বাঁচাতে বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার রাতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করি।

বুধবার মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্য সরকারি হাসপাতালের আমার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। ওই পশুর উপযুক্ত শাস্তি না হলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ওই নারী।

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ রকিবুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে মো. আলী হোসেন উজ্জল এবং তার এই অপকর্মে সহায়তা করার জন্য ওই বাড়ির মালিক মনিরা বেগম মনোয়ারার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া আসামিদের ধরার চেষ্টাও চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা হচ্ছে।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন নিয়ে বই লিখেছেন অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ


সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন ও কর্ম নিয়ে বই লিখেছেন বিএনপি ঘরানার ‍বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সাবেক সভাপতি আবদুল হাই শিকদার।

‘খালেদা জিয়া-তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শিরোনামে বইটি শিগগিরই বাজারে আসছে। বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান হবে আগামীকাল শুক্রবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে।

গত শতকের আশির দশকের শুরুতে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরই গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে আসেন খালেদা জিয়া। নেতাকর্মীদের চাপে দলের হাল ধরেন সেই সময়। সেনাশাসক জিয়াউর রহমান দল গঠন করলেও বিএনপির জনভিত্তি তৈরি হয় খালেদা জিয়ার হাত ধরেই।

খালেদা জিয়া রাজনীতির শত ঘাতপ্রতিঘাত ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নিজেকে আপসহীন নেত্রীতে পরিণত করেন। রাজপথে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। এর পর শতপ্রতিকূলতার পরও জাতীয়তাবাদী চেতনার রাজনীতির আইকন হয়ে ওঠেন তিনি। সেই সঙ্গে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির নিউক্লিয়াসে পরিণত হন। এ পর্যন্ত আসতে তাকে বহু আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জেল খাটাসহ তার অসামান্য অবদান উঠে এসেছে খালেদা জিয়া-তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর বইটিতে।

কখনও নির্বাচনে পরাজিত না হওয়া এই সংগ্রামী নেত্রী গত এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে তিনি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টিও বইয়ে উঠে এসেছে।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখা বইটির দাম ধরা হয়েছে দুই হাজার টাকা। তবে অনুষ্ঠানস্থলে এই বই পাওয়া যাবে মাত্র এক হাজার টাকায়।

এর আগে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও নানা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ‘বেগম খালেদা জিয়া : হার লাইফ, হার স্টোরি’ শীর্ষক বই লিখেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ। ৭১৮ পৃষ্ঠার ওই বইতে গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদে কারাবাস, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রীর জীবনের এসব ঘটনার অনেক অজানা কথা তুলে ধরেন লেখক, যা জাতীয়তাবাদী চেতনার লোকজনের চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ প্যারোলে মুক্তি ও এমপিদের শপথ গ্রহণ : যা ভাবছেন খালেদা জিয়া ও বিএনপি


বিএনপির ছয়জন সংসদ সদস্য (এমপি) শপথের বিনিময়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হবে এমন গুঞ্জন বেশ জোরালো হচ্ছে। এমনকি খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে মর্মে গুঞ্জন আরো বাড়ছে। যদিও বিএনপি এ ধরনের গুঞ্জন শুরু থেকেই নাকচ করে আসছে। তবে গুঞ্জন যতই থাকুক দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না বিএনপির এমপিদের কেউই। তারা বলছেন, আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হোক। তারপর শপথ নেয়া বা সংসদে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কারণ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তিতে কোনো বাধা নেই। এ ক্ষেত্রে সরকারই একমাত্র বাধা। জামিন পেলেও নানা অজুহাতে খালেদা জিয়াকে বন্দী রাখা হচ্ছে। আর খালেদা জিয়াও প্যারোলে মুক্তিতে রাজি নন। এমনই পরিস্থিতিতে বিএনপির এমপিদের শপথ নেয়া বা না নেয়ার বিষয়টি বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত এমপিদের শপথ নেয়ার যে বিধান আছে এখন তা ঘনিয়ে এসেছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বিএনপির ছয় এমপিকে শপথ নিতে হবে। অন্যথায় তাদের সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ৮ জন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ছয়জন। তারা হলেন- ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মো: জাহিদুর রহমান, বগুড়া-৪ আসনে মো: মোশাররফ হোসেন, বগুড়া-৬ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মো: আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো: হারুনুর রশিদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উকিল আব্দুস সাত্তার। এর মধ্যে মৌলভীবাজার-২ আসনে ঐক্যফ্রন্টের এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং সিলেট-২ আসনের মোকাব্বির খান সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ গ্রহণের কারণে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও মোকাব্বির খানকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করেছে গণফোরাম।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, সরকার চায় বিএনপির এমপিরা শপথ নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করুক; কিন্তু বিএনপির এমপি এবং দলের সিনিয়র নেতারা বলছেন- গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনে যেভাবে মহা ভোট ডাকাতি ও আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরা হয়েছে তা শুধু দেশবাসী নয় বিশ্ববাসীও দেখেছেন। মাত্র ছয়জন এমপি পাওয়ার মতো দল বিএনপি নয়।

এহেন পরিস্থিতিতে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সংসদে যাওয়া আর খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে যারা ভাবছেন তারা ভুলে আছেন। শপথের বিনিময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়েই মতানৈক্য রয়েছে। সম্প্রতি কয়েকজন নেতার কথাবার্তায় উঠে এসেছে যে সমঝোতার মাধ্যমে হলেও তারা খালেদা জিয়ার বন্দিদশা ঘুচাতে চান। এর পেছনে সরকারের কোনো মহলের যোগসূত্রও থাকতে পারে। অন্য দিকে বিএনপির তৃণমূল এমনকি শীর্ষপর্যায়ের বিশাল একটি পক্ষের মতে কোনো অবস্থাতেই শপথের বিনিময়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা ঠিক হবে না। কারণ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া এখন পর্যন্ত প্যারোলে বা কোনো ধরনের সমঝোতায় মুক্তির ব্যাপারে আগ্রহী নন। তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মুক্ত হতে চান। সুতরাং ছয়জন এমপির শপথ না নেয়ার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, গত রোববার পয়লা বৈশাখের দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলেন। প্যারোলে মুক্তি এবং বিএনপির এমপিরা সংসদে যোগ দেয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তবে খালেদা জিয়া এসব ব্যাপারে ইতিবাচক কোনো ইঙ্গিত দেননি; বরং ভিন্নমত পোষণ করেছেন। দলের চেয়ারপারসনের সাথে দেখা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্যারোলে মুক্তির কথা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, চিকিৎসার জন্য প্যারোলের সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়া দেননি। এ নিয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি।

বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কিছু বিষয়ে খুবই কঠোর। যে কারণে তিনি আপসহীন উপাধি পেয়েছেন। তিনি কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন না। দেশ ও জনগণের কল্যাণে সবসময় লড়াই সংগ্রাম করেছেন। অতীতে তিনি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। এখনো গণতন্ত্রের জন্য, দেশের মানুষের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য সংগ্রাম করতে গিয়েই তিনি মিথ্যা মামলায় জেলে বন্দী। ছেলে হারিয়েছেন, বাড়ি হারিয়েছেন। এখন জীবনের বর্তমান ধাপে এসে তিনি অন্যায়ের কাছে মাথানত করবেন বলে বিশ্বাস হয় না।

বিএনপির এমপিরা কী বলছেন : সংসদে শপথ নেয়ার গুঞ্জনকে নাকচ করে দিয়ে বিএনপি এমপিরা বলছেন- দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তারা যাবেন না। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএনপির এমপি মো: জাহিদুর রহমান গতকাল বুধবার নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি চারবার সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবারই বিজয়ী হয়েছি। অনেক খরচও হয়েছে। এ জন্য আমার প্রতি এলাকার জনগণের সহানুভূতি একটু বেশি। তাদের দাবি- আমি সংসদে গিয়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব করি। কিন্তু দলের হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই আমরা মেনে নেবো। কেননা আমি মনে করি শপথের বিনিময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নয়, তার নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। তারপর শপথের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিএনপির এমপি হয়েছেন মো: হারুন অর রশিদ। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, শপথ নিয়ে সংসদে যোগদানের ব্যাপারে দল কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। আমরা চাই আগে ৭৪ বছর বয়সী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হোক। কারণ তাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে। তাকে মুক্তি দিলেই আমরা শপথের বিষয়ে বিবেচনা করতে পারি। দেশনেত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা কিছুই করব না।

বগুড়া-৪ আসন থেকে বিএনপির এমপি মো: মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে সংগ্রাম করতে গিয়ে বাড়ি হারিয়েছেন, ছেলে হারিয়েছেন। আজকে তাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কারাগারে মিথ্যা মামলায় আটক রাখা হয়েছে। সবার আগে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। পরে শপথের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কারণ যে খালেদা জিয়ার কারণে, যে বিএনপির কারণে আমরা আজকে এমপি সেই দল ও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা কিছু করতে পারি না। আগামী প্রজন্মকে টেকসই গণতন্ত্র উপহার দিতে হলে খালেদা জিয়ার মুক্তি অত্যন্ত জরুরি। তারপর অন্য কিছু। আমি ব্যক্তিগতভাবে শপথ নেয়ার বিপক্ষে।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ অবস্থান সুস্পষ্ট করলেন খালেদা জিয়া , কণ্ঠ-মনোবলে ৯০ দশকের দৃঢ়তা

১৯৯১ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া এদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী। তিন যুগ আগে গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে হাল ধরেছিলেন বিএনপির; পেয়েছেন দেশনেত্রী খেতাব। ‘স্বৈরশাসক এরশাদ হটাও’ আন্দোলনে রাজপথে আপোষহীন নেতৃত্ব তাকে নিয়ে গেছে রাজনীতির সুউচ্চ শিখরে। নেতৃত্বের গুণেই বাংলাদেশের শহর-বন্দর, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। তাঁর রোগমুক্তি কামনায় এখনো মসজিদে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। গৃহবধূরা মানত করেন। তাঁর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনসহ নানান কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক জীবনে দৃঢ় মনোবলের খালেদা জিয়া প্রায় ১৫ মাস ধরে কারাগারে। ডাক্তারদের মতে নানান রোগে আক্রান্ত বেগম জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। মুক্তির দাবির পাশাপাশি বিএনপিসহ সর্বমহল থেকে দাবি উঠেছে বিদেশে নিয়ে গিয়ে তার চিকিৎসা করার। এরই মধ্যে খবর বাতাসেও ভাসছে খালেদা জিয়ার প্যারোলের খবর। এমনকি সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরাও বলেছেন, বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু দেশনেত্রীর আপোষহীন মনোভাব। প্যারোলে মুক্তি নিয়ে তিনি বিদেশ যেতে রাজী নন। এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। বিএনপির নেতারা জানান, নিজে কারাগারে অসুস্থ; তারপরও কেউ দেখা করতে গেলে দেশের মানুষের খোঁজ খবর নেন। দুঃখ করে বলেন, আমার দেশের মানুষ ভাল নেই।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা করাতে যাবেন এমন গুঞ্জন বেশ কয়েকদিন ধরে বাতাসে ভাসছে। সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রী-নেতারাও এবিষয়ে কথা বলেছেন। দলীয় প্রধানের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সুষ্পষ্টভাবে কিছুই বলতে পারছিলেন না বিএনপি নেতারা। অন্যদিকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির ৬ এমপির শপথ নিয়েও দল এবং দলের বাইরে চলছে নানা গুঞ্জন। দলীয় প্রধানের নির্দেশনা না পাওয়ায় এ বিষয়েও আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি দলটি। তবে বেগম জিয়ার সাথে নেতাদের এক সাক্ষাতে সব কিছু সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। প্যারোল ও এমপিদের শপথ গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছেন প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যের অবনতি স্বত্তে¡ও প্যারোলে মুক্তির আবেদন তিনি করবেন না। মুক্তি নিতে হলে আইনি প্রক্রিয়াতেই তিনি মুক্ত হবেন। আর যে সংসদ নির্বাচন দল প্রত্যাখ্যান করেছে সেই সংসদে শপথ না নেয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন তিনি।

কারাগারে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত ১ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) খালেদা জিয়াকে ভর্তি করা হয়। সেখানে কেবিন বøকের ৬২১ নম্বর কক্ষে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে বিএসএমএমইউতে আনার পর থেকেই প্যারোলে মুক্তি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। সরকারের মন্ত্রী-এমপি-নেতারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলে খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চাইলে বিবেচনা করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও আইন মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসে সবাই। তবে বিএনপি প্রধান প্যারোলে মুক্তি নিবেন কিনা সেবিষয়টি তার সাথে কথা না বলে কিছুই জানাতে পারেনি দলটির সিনিয়র নেতারা। অবশেষে গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিনে বিএসএমএমইউতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন। সেখানে তারা এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় তার স্বাস্থ্যের সার্বিক বিষয়ে জানতে চান। তবে আলোচনার সময় সরাসরি প্যারোলের বিষয়টি কেউ তোলার সাহস না পেলেও আকারে-ইঙ্গিতে বোঝানো হয়। তবে খালেদা জিয়া দৃঢ়তার সঙ্গে প্যারোলের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি নেতাদের বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই মিথ্যা। আদালতে সুবিচার পেলে তিনি এতদিনে সব মামলা থেকে রেহাই পেতেন। সরকার সেটা করতে দিচ্ছে না। এখন তাকে প্যারোলে মুক্তির নামে আরেক দফা নির্যাতন করতে চাইছে। বিএনপির এক নেতা জানান, খালেদা জিয়া প্যারোলের বিষয়ে ইঙ্গিত করা হচ্ছে বুঝতে পেরে নেতাদের জানিয়ে দেন তিনি কোন আবেদন করবেন না। যদি মুক্তি পেতে হয়ে তাহলে আইনি প্রক্রিয়াতেই তিনি মুক্ত হবেন। অন্য কোনভাবে নয়। শারীরিক অবস্থা প্রতিনিয়ত অবনতি হলেও তিনি সরকারের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। তিনি তার যে কোনো অবস্থার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্যারোলে মুক্তি নেয়ার বিষয়ে খালেদা জিয়া কোন সিদ্ধান্ত নেননি। এ বিষয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে বা গণমাধ্যমে ছাপানো হচ্ছে তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমরা দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি বেশ অসুস্থ, এখনও খেতে পারছেন না। পা বাকা করতে পারেন না। তার বাম হাত ঠিকমতো কাজ করছে না। এ অবস্থার মধ্যে তিনি আছেন। এক কথায় ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যথেষ্ট অসুস্থ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্তি চাই। তবে তিনি এখন খুবই অসুস্থ। ওনার বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন। আমরা সেই দাবিই জানাচ্ছি।

অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, বিএনপি প্রধানের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ার কারণে সরকারের একটি পক্ষ বিএসএমএমইউতে তার কাছে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রস্তাব দেয়। তাদেরকেও খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি প্যারোলে মুক্তি নিবেন না। এধরণের কোন আবেদনও করবেন না। হয় আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত হবেন, নাহলে যে কোন অবস্থার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। সূত্রটি আরও জানায়, খালেদা জিয়া প্যারোলে রাজি না হওয়ায় একই প্রস্তাব তার পরিবারের কাছে দেয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়ার বক্তব্যকেই তাদের বক্তব্য বলে উল্লেখ করে।

এদিকে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন ৬জন এমপি। এদের কেউ কেউ এবারই প্রথম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আবার কেউ কেউ এর আগে এমপি-মন্ত্রী ছিলেন। যদিও দলটি নির্বাচনের দিনই আগের রাতে ভোট ডাকাতি হয়েছে অভিযোগ করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। পুনঃনির্বাচনের দাবিতে একাধিক কর্মসূচিও পালন করা হয় দলটির পক্ষ থেকে। ফলাফল প্রত্যাখ্যান করায় এখন পর্যন্ত শপথ নেয়নি বিএনপির প্রার্থীরা। তবে শপথ গ্রহণের সময়সীমা শেষ দিকে এসে গত কয়েকদিন ধরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা শপথ গ্রহণ করবেন। এমপিদের দু’একজন এলাকার মানুষের চাপের কথা উল্লেখ করে শপথের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাবও ব্যক্ত করেছেন গণমাধ্যমে। এতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই বিষয়েও খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করার পর দলের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলটির নেতারা খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের সময় শপথের বিষয়টি তোলা হয়। তখন খালেদা জিয়া এই বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। তিনি নেতাদের বলেন, এ সংসদে গিয়ে লাভটা কি হবে। সংসদের বাইরেও অনেক ভূমিকা পালন করা যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন নেতা জানান, শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ হলেও মানসিকভাবে এখনো তিনি অনেক দৃঢ় রয়েছেন।

খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতে তার অবস্থান জানার পর গত সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ৫ এমপিকে ডেকে বৈঠক করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া হয় এবং বেগম জিয়া ও বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচিত এমপি হারুনুর রশীদ ইনকিলাবকে বলেন, আমাদের ডেকেছিলেন মহাসচিব। কিছুদিন ধরে পত্রপত্রিকায় আমাদের শপথ গ্রহণ নিয়ে নানা খবর প্রকাশ ও প্রচার করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সবাইকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। যাতে আমাদের কেউ বিভ্রান্ত না হন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে না যান। তিনি বলেন, আমাদের কয়েকজন আগে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন আবার কয়েকজন এবারই প্রথম নির্বাচিত হয়েছেন। যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ওপর এলাকার মানুষের চাপ আছে এটা সত্য। কেউ কেউ তাদের বক্তব্যে সেটা তুলে ধরেছেন। কিন্তু আমরা নির্বাচিত হয়েছি দলীয় প্রতীকে, দলের সমর্থনে। এখানে দলের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান। আমরা এখন পর্যন্ত একমত যে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন সিদ্ধান্ত নেব না।

শপথ নেয়ার পক্ষে নিজের ওপর চাপ আছে বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত প্রার্থী জাহিদুর রহমান। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি ইনকিলাববে বলেন, আমার এলাকার ৯৯ভাগ মানুষ শপথ নেয়ার পক্ষে। আমরাও জানি সংসদে গিয়ে কিছু হবে না। কিন্তু প্রেসক্লাবের সামনে কথা বলা আর জাতীয় সংসদে কথা বলা দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে। সংসদে কথা বললে ১৬ কোটি মানুষ শুনবে। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে এখন পর্যন্ত তিনি সেটি মেনে নেয়ার পক্ষে আছেন জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে বিএনপির অনেক ক্ষতি হয়েছে। গতবার নির্বাচনে যায়নি। এবার যদি শপথ না নেয়, তাহলে নির্বাচনে গিয়ে ভুল করেছে? তবে তার এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে এ ধরণের কোন চাপ নেই। এমনকি দলের নেতাকর্মীরাও এ বিষয়ে তেমন উৎসাহ বোধ করেন না। কিন্তু জাহিদুল ইসলাম প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হওয়ায় সংসদে যেতে তার নিজেরই আগ্রহ বেশি। এলাকার মানুষের চাপের কথা বলে তিনি তার এই আগ্রহকে বৈধতা দিতে চান। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ গ্রহণ করলে এলাকায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলেও অনেকে জানান।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা তো এ সংসদকেই নির্বাচিত বলছি না, আমরা ওই কথিত নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি। তাই শপথ গ্রহণের বিষয়টি আসে না। #

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ আপনার ‘নিজের ও দলের স্বার্থে’ ইলিয়াস আলীকে ফেরত দেন: শেখ হাসিনাকে দুদু


দীর্ঘ ৭ বছর ধরে নিখোঁজ বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলীর সন্ধ্যান চেয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দ‌লের আহবায়ক শামসুজ্জাম‌ান দুদু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেছেন, ‘ইলিয়াস আলীকে পাঠিয়ে দেন আমরা কিছু মনে করব না। কারণ তার পরিবার তো তাকে পাবে। আমরা সহকর্মী পাবো। আর যদি না দেন, আপনাকে হুমকি দিচ্ছি না। পরিস্থিতি সবসময় এরকম থাকবে না। ইসলাম য‌দি পৃথিবীর শান্তি প্রিয় ধর্ম হয়ে থাকে, পৃথিবীর মুক্তির সনদ হয়ে থাকে, তাহলে অন্যায়কারী হিসেবে, নির্যাতনকারী হিসাবে, গুমকারী হিসেবে পতন আপনার হবেই। তখন ইলিয়াস আলী জীবিত না মৃত অবস্থায় আমাদের কাছে আসবে সেটা বড় কথা না। আমাদের কাছে বড় কথা হলো আপনার কৈফিয়ত দিতে হবে। সেজন্য বলি আমাদের বা ইলিয়াস আলীর সন্তানদের জন্য না, আপনার নিজের স্বার্থে আপনার দলের স্বার্থে আপনার সহকর্মীদের স্বার্থে ইলিয়াস আলীকে ফেরত দেন। তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।’

বুধবার (১৭ এ‌প্রিল) ঢাকা রি‌পোর্টার্স ইউ‌নি‌টির সাগর-রুনি মিলনায়ত‌নে এম. ই‌লিয়াস আলী মু‌ক্তি ছাত্র সংগ্রাম প‌রিষ‌দের উ‌দ্যোগে বেগম খা‌লেদা জিয়ার নিঃশর্ত মু‌ক্তি ও দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নি‌খোঁজ এম. ই‌লিয়াস আলীর সন্ধা‌নের দা‌বি‌তে এক প্র‌তিবাদ সভায় তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি সব সময় দাবিও করি, তাঁর সমালোচনাও করি। আজ কোনো দাবিও করব না আর তার কোনো সমালোচনা করবো না। শুধু একটি অনুরোধ করবো। আপনিতো ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের সদস্য। আপনিতো হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারেন যে, পরিবারে একটি সদস্য না থাকলে বা মৃত্যু হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের কত কষ্ট এবং বেদনা হয়।’

‘এটা আর কেউ না জানুক আপনি জানেন। ইলিয়াসকে ফিরে পাবার আশায় তার স্ত্রী-সন্তানরা আপনার কাছে ছুটে গিয়েছিল। তাদের এই যাওয়াটা দেশবাসীর অনেকেই ভালো মনে করেনি। কারণ দেশবাসীর সবাই জানে কোথা থেকে কি হয়েছিল। তারপরেও তারা আপনার কাছে গিয়েছিল এবং আপনি মমতাময়ী মায়ের মতো বলেছিলেন ইলিয়াস আলী শিগগিরই বাসায় ফিরে যাবে। কিন্তু ৭ বছর হয়ে গেল ইলিয়াস আলী ফিরে আসলো না। আপনি কথা দিয়ে কথা রাখলেন না।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। ছাত্ররা ছাত্রদের জায়গা থেকে কাজ করছে। যুবকরা যুবকদের জায়গা থেকে কাজ করছে। কৃষক দল, জাতীয়তাবাদী দল যে যার জায়গা থেকে কাজ করছে। কখন যে কোন জায়গা থেকে গণজাগরণ উঠবে তা বলা মুশকিল। গণজাগরণ উঠ‌লেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে এবং তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।’

‌প্র‌তিবাদ সভায় আরও উপস্থিত ছি‌লেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনে আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূইয়া, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here