তিউনিসিয়ায় নৌকাডুবিতে ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

0
175

লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ার উপকূলে এ ঘটনা ঘটে। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসির।

তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মর্মান্তিক ওই নৌকাডুবির পর অভিবাসীদের উদ্ধারে একটি মাছ ধরার নৌযান নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিউনিসিয়ার নৌবাহিনী।

তারা ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার ও তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে। অন্যদের উদ্ধারেও তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ৭০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।

তবে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলছে, এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাডুবির শিকার যাত্রীরা আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।

জীবন-জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাহাজ বা নৌকায় চড়ে বসছেন অসংখ্য শরণার্থী। আর উত্তাল সাগরের বুকে একের পর নৌকাডুবিতে প্রাণ হারাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সেহরিতে ডাকতে যুদ্ধবিমান!


অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। সেহরির জন্য রোজাদারদের জাগাতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান। যুদ্ধবিমানের তুমুল শব্দে রোজাদারদের ঘুম ভাঙানো হবে সেহরি খাওয়ার জন্য।

এ রমজান থেকে এমনই একটি উদ্যোগ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনী। রোজাদারদের জাগ্রত করা এবং নিজেদের প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে দেশটির বিমানবাহিনী এ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। খবর দ্য জাকার্তা পোস্টের।

৩০০টিরও বেশি নৃগোষ্ঠীর দেশ ইন্দোনেশিয়ার অঞ্চলগুলোতে নিজস্ব পদ্ধতিতে ডাকা হয় সেহরির জন্য। মসজিদের মাইক বা টিনের ড্রাম বাজানোর পাশাপাশি এখন থেকে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানের আওয়াজেও ঘুম ভাঙবে দেশটির মুসলমানদের।

দেশটির বিমানবাহিনীর টুইটার অ্যাকাউন্টে জানানো হয়, সেহরির সময় জাভাদ্বীপের সুরাবায়া, সুরাকার্তা, ক্লাতেন, স্রাজেন ও ইয়োগইয়াকার্তায় বিমানবাহিনী পাইলটদের প্রশিক্ষণ পরিচালনা করবে।

বিমানবাহিনীর ওই পোস্টে লেখা হয়, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা সেহরির সময় রোজাদারদের ডেকে তুলতে যুদ্ধবিমান কাজে লাগাব।’

সম্প্রতি দেশটির বিমানবাহিনী জানায়, রমজান মাসে সেহরির সময় রোজাদারদের ডেকে তোলার যে রীতি দেশটিতে আছে, তাতে এবারে তারাও যোগ দিতে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিমানবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল সুস এম ইয়ুরিস জানান, শুধু সেহরির সময় মুসল্লিদের ডেকে তোলার জন্যই নয়, বরং রোজা অবস্থায় পাইলটদের যাতে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে না হয়, এর মাধ্যমে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের মতে, ভোরের সময়টুকু যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের জন্য যথার্থ সময়। অভুক্ত অবস্থায় সাধারণত সকাল ১০টার পরে প্রশিক্ষণকে নিরুৎসাহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, এ সময় থেকেই অভুক্তদের সুগার লেভেল নেমে যেতে থাকে।

তাই কর্নেল ইয়ুরিস বলেন, ‘ব্লাড সুগার লেভেল কম থাকাবস্থায় পাইলটদের যুদ্ধবিমান চালানোর ব্যাপারে বাধানিষেধ আছে।’

তাই এ উদ্যোগের মাধ্যমে পাইলটদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও সেহরির জন্য রোজাদারদের ডেকে তোলার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ প্রক্রিয়ায় আকাশের নিম্নস্তরে উড্ডয়নে সক্ষম যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। মানুষকে জাগিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট শব্দ তৈরি হয়, এমন বিশেষ যন্ত্রও ব্যবহার করা হবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌৩ বছর ধরে রোজা রাখতে পারছেন না উইঘুরের মুসলমানরা


পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই মুসলমানরা রোজা রাখছেন। নরওয়ে, আইসল্যান্ড হয়ে ফিজি সব দেশেই মুসলিমরা রমজানের ইবাদতে অংশ নিতে পারলেও চীনে মুসলিমদের এ সুযোগ কেড়ে নেয়া হয়েছে।

দেশটির কমিউনিস্ট সরকার রমজানে উইঘুরের মুসলিমদের রোজা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। খবর ডনের।

চীনের অন্যান্য প্রদেশে আইনটি কার্যকর হলেও জিনজিয়াংপ্রদেশে এর প্রবণতা বেশি। উপবাস বা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের প্রতি বিশেষ আগ্রহকে চরমপন্থার প্রতীক হিসেবে দেখে চীন সরকার।

রমজান উপলক্ষে জিনজিয়াংয়ের খাদ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, অন্যান্য সময়ের মতো রমজানেও খাবার জায়গাগুলো খোলা থাকবে। এ ছাড়া রমজানে রোজা, তারাবির জন্য রাত্রি জাগরণ ও অন্যান্য ধর্মীয় বিষয় পরিহার করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সি উইঘুর নামে একটি ওয়েসবাইটের তথ্যমতে, পৃথিবীতে চীনই একমাত্র দেশ, যেখানে মুসলমানদের রোজা রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষেধ করা হয়েছে। বিগত তিন বছর ধরে জিনজিয়াংয়ের উইঘুরের মুসলমানদের রোজা রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

অন্য সূত্রে জানা যায়, রমজান মাসে সরকারি দফতর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্কুলগুলোতে মুসলিমদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়।

গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিটি জানিয়েছিল, চীন সরকার দেশটির ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দিশিবিরে আটকে রেখেছে।

চীনের জাতিগত উইঘুর মুসলমানদের বেশিরভাগ সে দেশের জিনজিয়াংপ্রদেশে বসবাস করেন। প্রদেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী উইঘুর সম্প্রদায়ের।

জিনজিয়াংয়ের মুসলিম সংখ্যালঘুদের ব্যাপকহারে আটক করা হচ্ছে বলে গত কয়েক মাস ধরে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জাতিসংঘের ওই কমিটির কাছে নানা তথ্যচিত্র তুলে ধরে দাবি করেছে, চীনা মুসলমানদের বন্দিশিবিরে আটকে রেখে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

উইঘুর মুসলমানদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস বলেছে- বন্দিদের কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই আটকে রাখা হচ্ছে এবং সেখানে তাদের চীনা কমিউনিস্ট পার্টির স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বন্দিদের ঠিকমতো খেতে দেয়া হয় না এবং ব্যাপকভাবে নির্যাতন করা হয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ব্যাগের ভেতর গরুর গোশত দেখে, বাবা-ছেলেকে বেধড়ক পেটাল বিএসএফ


সদ্য বিয়ে করেছেন ছেলে। কাজেই তার শ্বশুর বাড়ি থেকে অতিথি আসবেন। তাই বাবা-ছেলে মিলে সওদা করতে বাজারে গিয়েছিলেন।

ফেরার পথে তাদের দেখা হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর(বিএসএফ) সঙ্গে। ব্যাগের ভেতর গরুর গোশত আছে সন্দেহে জওয়ানরা তাদের থামান।

এরপর তল্লাশি করে সত্যি সত্যি গরুর গোশত পাওয়া গেল তাদের ব্যাগে।

এরপর বাবা-ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হয় বিএসএফ ক্যাম্পে। ব্যাপক মারধরের পর ছাড়া পান তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছে ভুক্তভোগীদের।

রোববার ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। এ খবর দিয়েছে দেশটির বিকল্প ধারার সংবাদমাধ্যম ক্যারাভান।

পত্রিকাটি জানিয়েছে, ঘটনায় দায়ী বিএসএফ জওয়ানরা হলেন ব্যাটেলিয়ন ১৭১ ক্যাম্পের সদস্য। মারধরে আহত বাবা গিয়াসউদ্দিনের বয়স ৬২ বছর। ছেলের নাম আনোয়ারুল।

ক্যারাভান জানিয়েছে, স্থানীয় গোয়ালপুকুর থানায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতদিন ভারতে হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থীদের হাতে গরু বিক্রি বা জবাইয়ের কারণে অর্ধশতাধিক মুসলিম হত্যার শিকার হলেও কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আগে কখনও পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনা শিলিগুড়ির স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বুধবার স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করার কথা রয়েছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌৩ বছরে ৩১ মসজিদ ধ্বংস করেছে চীন সরকার


চীনের জিনজিয়াংপ্রদেশে গত তিন বছরে ৩১ মসজিদ ও দুটি ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।

স্যাটেলাইট ইমেজের সাহায্যে ওই অঞ্চলের ৯১টি ধর্মীয় স্থান পরীক্ষা করে দেখা যায়, গত তিন বছরে ৩১টি মসজিদ ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাজারের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। খবর টাইম ম্যাগাজিনের।

২০১৬ সাল থেকে ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি ইসলামী ধর্মীয় স্থাপনাকে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

মুসলিম সংখ্যালঘু উইঘুর অধ্যুষিত ওই অঞ্চলের ৯১টি ধর্মীয় স্থাপনার মধ্যে ৩৩টি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে, আর অন্যগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- গেট হাউস, গম্বুজ ও মিনার।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, ধর্মীয় স্থাপনার স্বাভাবিক স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য না থাকলেও মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া ৯টি ভবনও ধ্বংস করা হয়েছে।

চীনের জিনজিয়াংপ্রদেশে তুর্কি উইঘুরসহ অনেক সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বসবাস করে। উইঘুরদের সঙ্গে অন্য মুসলিম গোষ্ঠীগুলোও অত্যাচারের শিকার হচ্ছে বলেও টাইমসের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০১৬ সাল খেকে ২০১৮ সালের মধ্যে চীনের ওই মসজিদগুলো ধ্বংস করা হয় চীনে। চীনে প্রায় ২ কোটি মুসলমানের বসবাস। দেশটিতে প্রায় ৩৫ হাজার মসজিদ রয়েছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌পৃথিবীর সব নারীকে হিজাব পরা উচিৎ : অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট


পৃথিবীর সব নারীকেই বছরে অন্তত একদিন হিজাব পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভেন ডার ব্যালেন। দ্যা রাইটার।

তিনি বলেন, ‘মুসলিম নারীদের সহমর্মীতা জানাতে সব নারীকেই বছরে একদিন হিজাব পড়া উচিৎ।’

অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, একজন নারী কিভাবে নিজেকে সজ্জিত করবে তা কেবল ওই নারীরই ব্যপার। আর এ ব্যপারে হস্তক্ষেপ করা মোটেও উচিৎ নয়।

তিনি মুসলিম নারীদের হিজাব পড়াকে একান্তই নিজস্ব বলে মনে করেন। তিনি বলেন, এখানে নাক গলাবার অধিকার কারোরই নেই।

গত ডিসেম্বরের নির্বাচনে অস্ট্রিয়ান নাগরিকেরা বামপন্থী আলেক্সান্ডার ভেন ডার বেলেন’কে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে। দেশটিতে ডানপন্থী ফ্রিডমপার্টির উত্থান মোকাবিলার প্রচেষ্টা হিসেবে গত জানুয়ারীতে মুসলিম নারীদের সারা মুখ ঢেকে রাখে এমন হিজাব ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। তবে, অস্ট্রিয়া সহ পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিমদের প্রতি যে ভীতি তৈরী হয়েছে তা আসলে অবান্তর মনে করেন আলেক্সান্ডার। মূলত একাত্মতা জানানোর মধ্য দিয়েই এই ভীতি দূর করা সম্ভব।

এদিকে, রাজধানী ভিয়েনায় ইউরোপিয় ইউনিয়নের হাউসে বক্তব্য দেওয়ার সময় আলেক্সান্ডার বলেন, ‘এটা নারীদের অধিকার। নিজেকে কেমন করে তারা সাজাবে এটা একান্তই তাদের ব্যপার।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন দিন হয়তো আসবে যে, আমরা সব নারীকেই হিজাব পড়তে বলবো।’

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌রোজা পালনে বাধা দিচ্ছে চীন সরকার


সারাবিশ্বের মুসলিমরা পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম পালন করছে। আর এরই মধ্যে চীনের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর রোজা ও ধর্মীয় আচার পালনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রোজা ও ধর্মীয় আচার পালনের কারণে তাদের ওপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অধিকারকর্মীদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জিনজিয়াং প্রদেশে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এখানে মুসলিম পরিবারগুলোর ঘরবাড়িতে নিয়মিত অবস্থান করে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দিচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

গত সপ্তাহে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিবেদনে জানায়, রমজানে রোযা রাখা, দাড়ি রাখা, মুসলিমদের মাথায় টুপি পড়া, নিয়মিত নামাজ পড়া এবং এলকোহল পরিহারসহ অন্যান্য ধর্মীয় বিষয়গুলোকে ‘চরমপন্থার চিহ্ন’ বলে মনে করে চীনা কর্তৃপক্ষ।

চীনা কর্তৃপক্ষ সংগঠিত ধর্মকে দলীয় আনুগত্যের জন্য হুমকি বলে মনে করে। এ কারণে সকল ধর্মীয় গোষ্ঠীর উপর কঠোর শাসন আরোপ করেছে তারা। জিনজিয়াং অঞ্চলের সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন চলছে।

চীনে কয়েক দশক ধরে স্কুল ও সরকারী অফিসগুলোতে রমজানের রোযা রাখার বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা রয়েছে। এদিকে, চীনে মুসলিমদের রোজা ও ধর্মীয় আচার পালনে বিধিনিষেধ ও দমনপীড়নের প্রতিবাদে দেশটির পণ্য বর্জনের আহবান জানিয়েছে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রীলঙ্কায় মুসলিমদের বাড়িঘর দোকানপাটে খ্রিষ্টানদের হামলা, কারফিউ জারি


শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উত্তরাঞ্চলের নেগোম্বো শহরে গতকালস সোমবার মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও যানবাহনে হামলা করেছে দেশটির উগ্রপন্থী খ্রিষ্টানরা। ওই হামলার পর শহরটিতে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

মুসলিমদের ওপর এই হামলার পর দেশটির রোমান ক্যাথলিক চার্চের যাজক উভয় সম্প্রদায়কে শান্ত থাকার ও মদ নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের সকালে নেগোম্বো শহরেও আত্মঘাতী হামলা হয়। ওই হামলার পর অনেক মুসলিম তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছেন। এর মাঝেই সোমবার মুসলিমদের দোকানপাট, বাড়িঘর ও যানবাহনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মুসলিমদের কয়েক ডজন বাড়িঘর, দোকান ও যানবাহন আক্রান্ত হওয়ার কারফিউ কার্যকর করার জন্য শহরটিতে নিরাপত্তাবাহিনীর শত শত সদস্য প্রবেশ করেছেন।

গত ২১ এপ্রিল দেশটির যে তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে আত্মঘাতী হামলা হয়েছিল; রাজধানী কলম্বো থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরাঞ্চলের সেন্ট সেবাস্তিয়ান গির্জাও সেগুলোর একটি। ইস্টার সানডের ওই হামলায় অন্তত ২৫৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

কলম্বোর আর্চবিশপ কার্ডিনাল ম্যালকম রণজিৎ বলেছেন, ‘একজন মুসলিমকেও যেন আঘাত করা না হয়, আমি সব ক্যাথলিক ও খ্রিষ্টান ভাইবোনদের সেই আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ তারা আমাদের ভাই, তারা আমাদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ।’

এক ভিডিও বার্তায় কলম্বোর এই আর্চবিশপ বলেন, ‘এমন অবস্থায় দয়া করে তাদের আঘাত করা থেকে বিরত থাকুন এবং শ্রীলঙ্কার সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভালো সম্পর্ক এবং বোঝাপড়া তৈরির চেষ্টা করুন।’ ইস্টার সানডের হামলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে নেগোম্বো শহরে। নেগোম্বোর সেন্ট সেবাস্তিয়ান গির্জায় আইএসের আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক শ’ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।

দেশটির পুলিশের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেছেন, সোমবারের সংঘর্ষের পর নেগোম্বো থেকে অন্তত দু’জনকে গ্রেফতার এবং আরো কয়েকজন সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ভিডিওফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। ইস্টার সানডের পর দেশটির পার্লামেন্টে পাস হওয়া জরুরি আইনে এই হামলাকারীদের বিচার হবে বেলে জানিয়েছেন তিনি।

লঙ্কান এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, খ্রিষ্টান-মুসলিমদের সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। যদিও আমরা এ মুহূর্তে মাত্র দু’জনকে গ্রেফতার করেছি। আরো বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে; শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা হবে।

সোমবার রাতের হামলায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওফুটেজে দেখা যায়, উত্তেজিত খ্রিষ্টানরা নেগোম্বোর মুসলিমদের দোকানপাটে হামলা, তাদের বাড়িঘরের আসবাবপত্র ও জানালা ভাঙচুর এবং যানবাহন উল্টে দিয়েছেন। তবে এই ভিডিওফুটেজের সত্যতা নিশ্চিত হতে পারেনি এএফপি।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌২০০ আলেমসহ ৬০০ বিদেশিকে শ্রীলংকা ছাড়ার নির্দেশ


শ্রীলংকান সরকার ২০০ আলেমসহ ৬০০ বিদেশিকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে। রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াজিরা আবেওয়ার্ধেনা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এসব ধর্মীয় ব্যক্তিরা বৈধভাবে শ্রীলংকায় এসেছিলেন। কিন্তু ভয়াবহ এ হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে দেখা গেছে অনেক আগেই তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে। এজন্য তাদের জরিমানা করে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ওয়াজিরা আবেওয়ার্ধেনা বলেন, যাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে ২০০ ইসলাম ধর্মের প্রচারক রয়েছেন।

ওই আত্মঘাতী হামলায় স্থানীয় উগ্রগোষ্ঠী জড়িত জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হামলার পর থেকে সন্দেহভাজন এসব ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শ্রীলংকার ভিসা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইস্টার সানডে হামলার প্রেক্ষাপটে আমরা ভিসা পদ্ধতি পুনঃমূল্যায়ন করছি। এখন থেকে ধর্মীয় ব্যক্তিদের শ্রীলংকায় আসার ক্ষেত্রে ভিসায় কড়াকড়ি থাকবে।

এদিকে শ্রীলংকায় ঘটে যাওয়া স্মরণকালের বর্বরোচিত হামলার সঙ্গে জড়িতরা প্রশিক্ষণ গ্রহণের উদ্দেশে ভারতের কাশ্মীর, বেঙ্গালুরু ও কেরালা গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন লংকান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহেশ সেনানায়েকে।

শনিবার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে লংকান সেনাপ্রধান এসব কথা জানান।

মহেশ সেনানায়েকে বলেন, হামলাকারীদের সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য আছে যে হামলাকারীরা ভারতের কাশ্মীর, বেঙ্গালুরু ও কেরালায় গিয়েছিলেন। তাদের সেখানে যাওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানা যায়নি। সম্ভবত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে তারা ভারত সফর করেছিল।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌নাইজেরিয়ায় গভর্নরের স্ত্রী খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন


নাইজেরিয়ার ওগান রাজ্যের গভর্নর ইবিখুনলের স্ত্রী ফার্স্ট লেডি ওলুফানসো আমুসোন খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন।

সিনেটর আমুসোন ২০১১ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হন। পরে একই বছরের মে মাসে রাজ্যের চতুর্থ নির্বাচিত গভর্নর হিসেবে শপথ নেন। নাইজেরিয়ার ‘অ্যাকশন কংগ্রেসের’ হয়ে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ওলুফানসো বলেন, ‘প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আমি আমার মাকে এ সিদ্ধান্ত জানাই। তাকে বলি, ‘আমি একজন মুসলিমকে বিয়ে করতে চাই’। এটা শুনে প্রথমেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তারপর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন,

কেন তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন: এ সম্পর্কে সম্প্রতি নাইজেরিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যানগার্ড’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারে গভর্নর-পত্নী স্পষ্ট করেছেন কেন একজন একনিষ্ঠ খ্রিস্টান থেকেও তিনি একজন মুসলিমকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।

‘আমি বিষয়টি আমার বাবাকে বলেছি কিনা’ এবং আমি তাকে বললাম ‘না’ এবং এতে আমি তার মাঝে ‘দুষ্ট হাসি’ দেখতে পাই।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু আজকে আমার মা এবং আমার স্বামী আমাকে তাদের ভাল বন্ধুর চেয়েও বেশি পছন্দ করেন।’

ওলুফানসো আরো বলেন, ‘যখন আমি আমার বাবাকে এ বিষয়ে বলেছিলাম, তখন তিনি বললেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে, আমাদের শুধু এই সম্পর্কে প্রার্থনা করতে হবে। কিন্তু যেকোনো ভাবেই হোক, পরে তারা আমাকে খুব আঘাত করে। আমার স্বামী আল্লাহকে বিশ্বাস করেন। আমি বলব, আমার স্বামী আমার চেয়েও বেশি ধার্মিক।’

‘তিনি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর একজন মুমিন বান্দা। আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাসের বলেই তিনি মনে করেন ‘সবকিছুই সম্ভব’ এবং যখন আপনি কাউকে অধিক প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে দেখবেন তখন আপনাকে তার বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে এটা দেখতে হবে; আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করে নয়।

আল্লাহকে বলতে হবে, ‘আমি তোমার উপর ঈমান এনেছি’ এবং তাকে (আল্লাহ) স্পষ্ট বুঝার জন্য আপনাকে বার বার চেষ্টা করতে হবে।’ তিনি বলছিলেন।

তিনি বলেন, ‘স্বামীর বিশ্বাস থেকেই আমার বিশ্বাস শুরু হয়েছে। তার ইসলামের বিশ্বাসের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে এবং তার বিশ্বাসের প্রতি আমার বিশ্বাস স্থাপন সহজ করে দিয়েছে যে জিনিসিটি সেটি হচ্ছে আল্লাহর প্রতি একাগ্রতা।

তার এই দৃঢ় একাগ্রতার কল্যাণে মহান আল্লাহ তাকে কখনো ব্যর্থ করেনি এবং আমি জানি যে, আমার স্বামী আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুতে বিশ্বাস করে না।’ যা হোক, তার স্বামীর পক্ষ থেকে তাকে ইসলামে ধর্মান্তরের ব্যাপারে ইচ্ছাকৃত কোনো প্রয়াস ছিল না বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মুসলিম রীতিতে প্রার্থনা করি কারণ আমাদের মধ্যে বন্ধনটা অত্যন্ত দৃঢ়। আমি আমার সন্তানদের যখন বলব, ‘প্রার্থনা করার সময় হয়েছে’। ওই সময় আমি যদি ভিন্ন উপায়ে প্রার্থনা করি তখন বাচ্চারা বলবে, ‘মা আপনি আমাদের সঙ্গে প্রার্থনা করেন না কেন? তাহলে বাবার প্রভু কি ভাল প্রভু নন?’

উৎসঃ ‌‌ইনসাফ

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রীলংকায় বোরকা নিষিদ্ধের বিষয়টি মেনে নিতে বলল সৌদি


শ্রীলংকায় মুসলিম নারীদের বোরকাপরায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে সম্মান জানাতে দেশটিতে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।

কলম্বোর সৌদি দূতাবাস এক সতর্কবার্তায় দেশটিতে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের শ্রীলংকায় জরুরি অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে।

ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, বন্ধুপ্রতীম দেশ শ্রীলংকায় সম্প্রতি যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে আমরা আমাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। সিরিজ বোমা হামলার কারণে ২৯ এপ্রিল শ্রীলংকান সরকার বোরকা, নিকাবসহ নারীদের মুখ ঢেকে রাখে এমন সব পোশাক পরা নিষিদ্ধ করেছে।

এ প্রেক্ষিতে শ্রীলংকায় অবস্থানরত সৌদি নাগরিক ও ভ্রমণকারীদের স্থানীয় আইন মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, নিরাপত্তার জন্য লংকান প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা রোববার বিশেষ ক্ষমতা বলে বোরকা, নিকাবসহ নারীদের মুখ ঢেকে রাখা এমন সব পোশাক পরা নিষিদ্ধ করেছেন। নতুন এ নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির মুসলিম নারীরা এখন থেকে আর বোরকা, নিকাব বা মুখ ঢেকে রাখার পোশাক পরে বাইরে বেরোতে পারবেন না।

তবে মাথায় ওড়না বা হিজাব পরতে পারবেন। সোমবার থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে জরুরি আইনের মধ্যেই নারীদের বোরকাপরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করায় মুসলমানরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশীয় পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন,অপরাধীদের খুঁজে বের করাই সরকারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। তাদেরই বিচার করা উচিত। কিন্তু সামগ্রিকভাবে মুসলিম নারীদের শাস্তির মুখে ফেলে দেয়া উচিত হবে না। যদি কেউ তাদের ধর্মচর্চা কিংবা বোরকা পরতে চান, তবে এ ঘটনায় তাদের নিজেদের ঘরের ভেতর আটকে রাখতে হবে।

জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাগ্রসর আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোশুয়া টি হোয়াইট বলেন, বোরকা নিষিদ্ধের এই বার্তা এটাই বলছে- লংকান মুসলমানরা নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এতে মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সংশয় তলানিতে চলে যাবে।

উৎসঃ ‌‌আল-আরাবিয়্যাহ

আরও পড়ুনঃ ‌ইমান,ইজ্জত সবকিছু খুইয়ে ছাড়া পাচ্ছেন উইঘুর মুসলিম নারীরা


বছর তিনেক আগে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান এক উইঘুর নারী। পরে জানা গেছে, ইসলামী উগ্রপন্থার মোকাবেলায় চীনা ধরপাকড় অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছে। অনেক ধকল ও খেসারতের পর এবার তিনি ছাড়া পেয়েছেন।

তার পাকিস্তান স্বামী বলেন, মুক্তি পেয়েছে, তবে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে আমাদের।

পশ্চিমাঞ্চলীয় চীনা প্রদেশ জিনজিয়াংয়ের ৪০ উইঘুর নারী, যারা প্রতিবেশী পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের বিয়ে করেছেন, দেশটিতে অন্তরীণ ক্যাম্পে তাদেরও আটক করে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময় ছাড়া পেয়েছেন।-খবর এএফপির

যদিও এই অন্তরীণ ক্যাম্পকে চীন সরকার বৃত্তিমূলক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। ইসলামে নিষিদ্ধ এমন কার্যক্রম করতে ক্যাম্পের ভেতর তাদের বাধ্য করা হয়েছে বলে খবরে জানা গেছে।

সম্প্রতি জিনজিয়াংয়ে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি ব্যবসায়ী বলেন, ক্যাম্পে তাদের শূকরের মাংস ও অ্যালকোহল খেতে বাধ্য করা হচ্ছে। কাজেই তার স্ত্রী এখন সেই নিষিদ্ধ বস্তু খাচ্ছেন।

তিনি বলেন, তার স্ত্রী তাকে জানিয়েছেন- সে যদি কর্তৃপক্ষকে খুশি করতে পারে যে তার ভেতরে কোনো উগ্রপন্থী চেতনা নেই, তবে তিনি বাড়িতে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন।

‘ক্যাম্পে তাকে কোরআন ও নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে; তার বদলে ঘরে বিভিন্ন চীনা বই রাখতে হচ্ছে,’ বললেন এই পাকিস্তানি ব্যবসায়ী।

কিছু কিছু ব্যবসায়ী কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাস তাদের স্ত্রীকে জিনজিয়াংয়ে রেখে নিজ দেশে ব্যবসায়িক কাজে যান। কেবল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায়ও তাদের আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে আটক হওয়া কয়েকজন বলেন, বোরকাপরা ও দাড়ি রাখার মতো ইসলামী ঐতিহ্য মেনে চলার কারণে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

কিন্তু নৃতাত্ত্বিক উইঘুরসহ মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিরাপত্তা ধরপাকড়ে তাদের আটক করা হলেও আন্তর্জাতিক নিন্দা ও পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার স্বার্থে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

গত দুই মাস ধরে ধীরগতিতে তারা একে একে ছাড়া পাচ্ছেন।

জিনজিয়াং সীমান্তের পাকিস্তানি ভূখণ্ড গিলজিত-বালতিস্তান সরকারের মুখপাত্র ফাইজ উল্লাহ ফারাক বলেন, আটক পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের উইঘুর স্ত্রীদের অনেকেই ছাড়া পেয়েছেন।

তবে কয়েক নারীর স্বামী অভিযোগ করেছেন, তাদের ছেড়ে দেয়া হলেও তিন মাসের জন্য জিনজিয়াং থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। এ সময় তাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এক রত্নপাথর ব্যবসায়ী বলেন, চীনা সমাজের সঙ্গে তারা কতটা খাপ খেতে পেরেছেন, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কর্তৃপক্ষের মনে হয়, সমাজের সঙ্গে তারা এখনও মিলে যেতে পারেননি, তবে ফের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে।

এই শর্তেই তারা ছাড়া পেয়েছেন বলে তিনি জানান। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার প্রাথমিক আনন্দ খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তিনি বলেন, ক্যাম্প থেকে ফিরে আসার পর তাদের প্রাণপ্রিয় স্ত্রী ও মায়েদের দেখতে একেবারে অদ্ভুত লাগছে।

তিনি বলেন, আমার স্ত্রী জানিয়েছেন- ক্যাম্পের ভেতর খোলামেলা পোশাক পরে তাকে নাচতে বাধ্য করা হয়েছে। শূকরের মাংস ও মদ খাওয়ানো হয়েছে।

এর পর তার হাতে একটি নির্দেশনাপত্র ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। ছবি আকারে ছাপানো ওই নির্দেশনাপত্রে মসজিদে লাল ক্রসচিহ্ন দিয়ে চীনা পতাকায় সবুজ চিহ্ন দেয়া হয়েছে।

‘সে একসময় নিয়মিত নামাজ পড়ত, কিন্তু এখন সেই অভ্যাস নেই। মাঝে মাঝে রেস্তোরাঁয় গিয়ে সে মদ খাচ্ছে।’

তিনি বলেন, চীনা কর্তৃপক্ষ নারীদের কাছ থেকে এমন আচরণই প্রত্যাশা করছে।

অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জেইমস লেইবোল্ড বলেন, জিনজিয়াংয়ে চীনা সরকার নজরদারি জোরদার করেছে। নিজেদের সক্ষমতায় তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।

ক্যাম্প থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কোনো নারী মানসিক বৈকল্যে ভুগছেন। কেউ তাদের আচরণ নিয়ে সরকারকে রিপোর্ট করতে পারে আশঙ্কায় ভুগছেন তারা।

ওই ব্যবসায়ী বলেন, সবচেয়ে খারাপ দিকটি হচ্ছে, তার নীরবতা। সে সবাইকে সন্দেহ করছে। তারা বাবা-মা, পরিবার এবং আমাকেও।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌উইকিলিক্সের গোপন নথিঃ আইএস(IS) মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ(CIA)’র তৈরি!


মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস পরাজিত হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের বর্বরোচিত হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি শ্রীলংকায় তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাবহুল হোটেলে প্রাণঘাতী হামলায় ২৫৩ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

উইলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, আইএস গঠনের পথ তৈরি করার জন্য মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ দায়ী। ২০১৬ সালে পাঁচ লাখেরও বেশি মার্কিন গোপনীয় কূটনৈতিক নথি প্রকাশের সময় তিনি এ তথ্য দিয়েছেন। তখন ব্রিটেনের দ্য ডেইলি এক্সপ্রেস পত্রিকায় এ খবরটি ছেপেছে।

২০১০ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো স্পর্শকাতর মার্কিন গোপন নথি প্রকাশ করে উইকিলিকস। পরবর্তীতে ছয় বছর পরে আরেক দফা নথি ফাঁস করে প্রতিষ্ঠানটি, যাতে ১৯৭৯ সাল থেকে মার্কিন গোপনীয় কূটনৈতিক নথি ছিল।

তখন নথি প্রকাশের পাশাপাশি এক বিবৃতিতে অ্যাসাঞ্জ ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে ১৯৭৯ সাল থেকে শুরু হওয়া একটা ঘটনা প্রবাহের ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে আইএস তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, যদি আধুনিক সময়ের কোনো একটি বছরকে ‘শূন্য বছর’ বলে আখ্যায়িত করতে হয়, তবে সেটি হচ্ছে ১৯৭৯ সাল।

অ্যাসাঞ্জ বলেন, শোভিয়েত ইউনিয়নের মোকাবেলায় সৌদি আরবকে সঙ্গে নিয়ে সিআইএ আফগান মুজাহিদিন যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহে শত শত কোটি ডলার ঢেলেছিল। যার পরবর্তী ফল ছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদা গঠন হওয়া।

‌‘যার রেশ ধরে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা, আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন এবং আইএস গঠন।’

১৯৭৯ সালটি কীভাবে চলমান বৈশ্বিক ঘটনাবলীর জন্ম দিয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লব, সৌদি ইসলামিক বিদ্রোহ, মিসর-ইসরাইল ক্যাম্প ডেভিড চুক্তিতে কেবল বর্তমান আঞ্চলিক ক্ষমতাশক্তিই তৈরি করেনি, বরং তেল, উগ্র ইসলাম এবং বিশ্বের নেতৃত্বকেও বদলে দিয়েছে।

‌‌‘মক্কায় বিদ্রোহ সৌদি আরবকে স্থায়ীভাবে ওহাবি আন্দোলনের দিকে নিয়ে গেছে। যেটা ইসলামি মৌলবাদের আন্তঃদেশীয় প্রচারে দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং আফগানিস্তানে মার্কিন-সৌদি অস্থিতিশীলতা তো রয়েছেই।’

তিনি বলেন, ঠিক এই জায়গায় এসে ওসামা বিন লাদেন তার দেশ সৌদি আরব ছেড়ে পাকিস্তানে পাড়ি জমান আফগান মুজাহিদিনকে সহায়তা করতে।

‘ইউএসএসআরের আফগান আগ্রাসনের সময়ে অপারেশন সাইক্লোনের নামে মুজাহিদিন যোদ্ধাদের কোটি কোটি ডলার ঢেলেছে সৌদি আরব ও সিআইএ। এতে আল-কায়েদার উত্থানের ইন্ধন যোগান হয়েছে আবার সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়েছে।’

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here