ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ শরীয়তপুরের ৩ যুবক

0
126

ইতালিতে সোনার হরিণ ধরতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হয়েছেন শরীয়তপুরের তিন যুবক। তারা হলেন- উত্তম কুমার দাস শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার চাকধ গ্রামের গৌতম দাসের ছেলে। একই জেলার জুম্মন হাওলাদার ও সুমন।

জানা যায়, স্বপ্নের দেশ ইউরোপে পাড়ি জমাতে যাওয়ার পথে নৌকাডুবে একে একে ৫১ বাংলাদেশি ভূমধ্যসাগরে ডুবে নিখোঁজ হন। কেউ জানে না বেঁচে আছেন না মারা গেছেন। ইউরোপে আসার রঙিন স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে নিরুদ্দেশ হন তারা।

এ ব্যাপারে নিখোঁজ উত্তম দাসের চাচাতো ভাই ইতালি প্রবাসী কমল দাস বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে লিবিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দেন উত্তম কুমার দাস। তিউনিসিয়া এসে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন উত্তমসহ অন্যান্য অভিবাসী।

কমল আরও বলেন, বর্তমান তার পরিচিত তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের নাম যথাক্রমে উত্তম কুমার দাস শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার চাকধ গ্রামের গৌতম দাসের ছেলে। একই জেলার জুম্মন হাওলাদার ও সুমন।

এদিকে উত্তমের পরিবার এখনও আশা করছেন তিনি জীবিত পরিবারের কাছে ফিরে আসবেন। তার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে পরিবার-পরিজন।

উল্লেখ্য, লিবিয়া থেকে ৫১ বাংলাদেশি ইউরোপ যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হন। এর মধ্যে ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বাকিরা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ভূমধ্যসাগরে তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে ৩৭ বাংলাদেশির মৃত্যু (ভিডিওসহ )


ভূমধ্যসাগরে তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে ৩৭ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। লিবিয়ার ত্রিপলির বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রোববার ত্রিপলিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমবিষয়ক উপদেষ্টা এএসএম আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি। ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ৫১ বাংলাদেশি ছিলেন। বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে পাঁচজনকে তিউনিসিয়ায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

জীবিত উদ্ধারকৃত বাকিদের তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্ট ও আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা যৌথভাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ৫১ বাংলাদেশিসহ ৭৫ অভিবাসী বহনকারী নৌকাটি ডুবে যায়।

নৌকাডুবির কয়েক ঘণ্টা পর ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জনই বাংলাদেশি। তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ভিডিওঃ  ‘ভূমধ্যসাগরে তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে ৩৭ বাংলাদেশির মৃত্যু (ভিডিওসহ ) ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ার উপকূলে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের শনিবার সকালে তিউনিসিয়ার জারযিজ শহরের তীরে আনা হয়।

ত্রিপলিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ সিকান্দার আলী জানান, তারা দুর্ঘটনার কথা শুনেছেন এবং তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব তারা জারযিজে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সড়কপথে তিউনিসিয়া যাওয়া সম্ভব নয় বলে তাদের আকাশপথে যেতে হবে।

বেঁচে ফেরা অভিবাসীরা জানান, নৌকাটিতে ৫১ বাংলাদেশি ছিলেন। এ ছাড়া মিসর, মরক্কো, শাদসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিক ছিলেন।

তারা আরও জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ৭৫ অভিবাসী নিয়ে একটি বড় নৌকা লিবিয়ার উপকূল থেকে ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়। এর পর গভীর সাগরে নৌকাটি থেকে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি নৌকায় যাত্রীদের তোলা হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়।

তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা মঙ্গি স্লিম জানান, রাবারের তৈরি ‘ইনফ্লেটেবেল’ নৌকাটি ১০ মিনিটের মধ্যে ডুবে যায়। তিউনিসিয়ার জেলেরা ১৬ জনকে উদ্ধার করে জারযিজ শহরের তীরে নিয়ে আসেন।

জারযিজের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে অভিবাসীদের রাখা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি। উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা জানান, ঠাণ্ডা সাগরের পানিতে তারা প্রায় আট ঘণ্টা ভেসে ছিলেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কর্মকর্তারা জানান, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের পক্ষ থেকে এ দুর্ঘটনায় ৬৫ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধারের কথাও তারা জানান।

তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টিএপির খবর অনুযায়ী, ডুবে যাওয়া নৌকায় ৭০ জনেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। সি ফ্যাক্স উপকূলের ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে এটি ডুবে যায়। তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিস থেকে ওই স্থানের দূরত্ব প্রায় ২৭০ কিলোমিটার।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মর্মান্তিক ওই নৌকাডুবির পর অভিবাসীদের উদ্ধারে একটি মাছ ধরার নৌযান নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তিউনিস নৌবাহিনী। তারা জীবিতদের পাশাপাশি তিনজনের মরদেহ উদ্ধারে সমর্থ হয়।

এ বছরের প্রথম চার মাসে লিবিয়া থেকে ইউরোপ পাড়ি দেয়ার সময় নৌকা ডুবে কমপক্ষে ১৬৪ জন মারা গেছেন বলে জাতিসংঘ বলছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌প্রাণের তিন পণ্যসহ ৫২ ভেজাল পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে আদালত


প্রাণের তিন পণ্যসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি মানহীন ও ভেজাল পণ্য আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে এসব পণ্যের উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি মানহীন ও ভেজাল পণ্য নিয়ে শুনানিতে রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত এসব ভেজাল পণ্য অপসারণের পাশাপাশি সেগুলো ধ্বংস করার নির্দেশও দেন। আদালত বলেছেন, এগুলো ধ্বংস করে ফেলতে হবে যেন তৃতীয় কারও হাতে না যায়।

৫২টি পণ্য হলো- প্রাণের হলুদ গুঁড়া, ফ্রেশের হলুদ গুঁড়া, মোল্লা সল্টের আয়োডিন যুক্ত লবণ, প্রাণের কারি পাউডার, ড্যানিশের কারি পাউডার, সিটি ওয়েলের সরিষার তেল, গ্রিন ব্লিচিংয়ের সরিষার তেল, শমনমের সরিষার তেল, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েলের সরিষার তেল, কাশেম ফুডের চিপস, আরা ফুডের ড্রিংকিং ওয়াটার, আল সাফির ড্রিংকিং ওয়াটার, মিজানের ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ণ ডিউয়ের ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি নুডলস, শান্ত ফুডের সফট ড্রিংক পাউডার, জাহাঙ্গীর ফুড সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশের হলুদের গুঁড়া, এসিআইয়ের ধনিয়ার গুঁড়া, বনলতার ঘি, পিওর হাটহাজারী মরিচ গুঁড়া, মিস্টিমেলার লাচ্ছা সেমাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মিঠাইয়ের লাচ্ছা সেমাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, এসিআইয়ের আয়োডিনযুক্ত লবণ, কিংয়ের ময়দা, রূপসার দই, মক্কার চানাচুর, মেহেদীর বিস্কুট, বাঘাবাড়ীর স্পেশাল ঘি, নিশিতা ফুডসের সুজি, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মঞ্জিলের হলুদ গুঁড়া, মধুমতির আয়োডিনযুক্ত লবণ, সান ফুডের হলুদ গুঁড়া, গ্রিন লেনের মধু, কিরণের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিনের মরিচের গুঁড়া, ডলফিনের হলুদের গুঁড়া, সূর্যের মরিচের গুঁড়া, জেদ্দার লাচ্ছা সেমাই, অমৃতের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপারের আয়োডিনযুক্ত লবণ, মদিনার আয়োডিনযু্ক্ত লবণ ও নুরের আয়োডিনযুক্ত লবণ ডানকানের ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, আরার ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, দীঘির ড্রিংকিং ওয়াটার।

এর আগে রোববার সকালে এসব মানহীন পণ্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দুই কর্মকর্তা হাইকোর্টে আসেন। দুই কর্মকর্তা হলেন- বিএসটিআইয়ের পরিচালক প্রকৌশলী এসএম ইসহাক আলী ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক ড. সহদেব চন্দ্র সাহা।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এমআর হাসান আর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিতে রিটটি করেন কনসাস কনজুমার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ।

পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ মে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় প্রমাণিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমাণের পণ্য জব্দ এবং এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার ও উৎপাদন বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বিএসটিআই ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য অধিদফতরের দুই কর্মকর্তাকে তলব করেন হাইকোর্ট।

এ ব্যাপারে কনসাস কনজুমার সোসাইটির (সিসিএসের) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রাণের মতো নামি প্রতিষ্ঠান আমাদের ভেজাল খাওয়ায়- এটা খুবই দুঃখজনক। মানুষ আসলে কাদের ওপর আস্থা রাখবে? এভাবে ১৬ কোটি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা মেনে নেয়া যায় না। এজন্য আমরা আদালতে গিয়েছি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার হচ্ছে কিনা সেটি এখন তদারকির বিষয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ধানের দাম কম হওয়ায় ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দিলেন কৃষক


টাঙ্গাইলে ধানের দাম কম ও দিনমজুর না পাওয়ায় ধানক্ষেতে আগুন লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন এক কৃষক। রোববার দুপুরে জেলার কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের আব্দুল মালেক সিকদার তার রোপণকৃত ধানে আগুন ধরিয়ে এমন প্রতিবাদ করেছেন।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদরসহ ১২টি উপজেলায় এবার বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে।

বাকি ৭০ শতাংশ কিন্তু ধান পেকে গেলেও কৃষক দিনমজুরের অভাবে ঘরে তুলতে পারছে না। দিন প্রতি একজন দিনমজুরকে দিতে হয় ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। আর বর্তমান বাজারে ধানের মূল্য ৫০০ টাকা মণ। এতে প্রায় দুই মণ ধান বিক্রি করে কৃষক একজন দিনমজুরকে (কামলা) মজুরি দিতে হচ্ছে। আবার অধিক মজুরি দিয়েও দিনমজুর পাচ্ছেন না কৃষকরা। ফলে জমিতে পড়েই নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান।

কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক সিকদার বলেন, মণ প্রতি ধান কিনতে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। ধান কাটতে দিনমজুরকে দিতে হচ্ছে প্রায় এক হাজার টাকা মণ প্রতি। এরপরও ধান ঘরে তুলতে আরও খরচ। অন্যদিকে বেশি মজুরি হলেও কামলা পাওয়া যায় না। ক্ষেতে ধান পাকলেও তা ঘরে তুলতে পারছি না। তাই এক দাগের ৫৬ শতাংশ ধানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছি।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই সময়ে ধানের বাজার কিছুটা কম থাকলেও কৃষক যদি ধান সংরক্ষণ করে রাখে তবে কয়েকদিন পরই অধিক মূল্য পাবে। তাপদাহসহ নানা কারণে কিছুটা শ্রমিক সংকট থাকলেও তা তীব্র নয়। জেলায় গত বছরের তুলনায় এবার ব্যাপক পরিমাণ বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০২ হেক্টরের ধানের প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। তবে শ্রমিকদের অধিক মজুরি দিতে হয় এটা সত্য।

উৎসঃ ‌‌jagonews24

আরও পড়ুনঃ ‌কে এই দালাল এনামুল হক অবৈধ পথে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন


সিলেটের সব যাত্রী অবৈধ পথে ইতালির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন মো. এনামুল হক নামের এক দালালের হাত ধরে। নিরাপদে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করে চুক্তি হয়েছিল ৮ লাখ টাকার। যাত্রীদের কাছ থেকে এরই মধ্যে টাকাও হাতিয়ে নেয় দালাল।

গত বৃহস্পতিবার ট্রলার ডুবির ঘটনার পর এনামুল হক নামের ওই দালাল তার প্রতিষ্ঠানে তালা দিয়ে পালিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট নগরীর রাজা ম্যানশনের ৩য় তলার ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজ’র মালিক মো. এনামুল হকের বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার মেহেরপুর এলাকার পনাইরচক গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত মো. আবদুল খালিকের ছেলে এনাম। ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর মাসিক ৭ হাজার টাকা ভাড়া চুক্তিতে রাজা ম্যানশনের ৩য় তলার ১১৭ নম্বর দোকান ভাড়া নেন এনামুল হক। সেখানে সাইন বোর্ড টানান ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজ’-এর। ট্রাভেলস ব্যবসায়ের আড়ালে মূলত মানবপাচারই ছিল তার ব্যবসা। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লোভনীয় উপার্জনের স্বপ্ন দেখিয়ে সিলেটের বেকার যুবকদের উদ্ধুদ্ধ করত সে। এরপর দালালচক্রের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর চেষ্টা করত। ভূমধ্যসাগরে ট্রলার ডুবিতে এনামের পাঠানো যাত্রীদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজা ম্যানশন মার্কেটে তার পরিচিতি ছিল একজন ভালো ট্রাভেলস ব্যবসায়ী হিসেবে। গত বৃহস্পতিবার নৌকা ডুবিতে প্রাণহানির ঘটনার পর ধীরে ধীরে বের হতে থাকে এনামের মানবপাচারের ঘটনা। এনাম যে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত তা গেল আড়াই বছরে ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি- দাবি ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাসুদ আহমদের। তবে ট্রাভেলসের আড়ালে গোপন ব্যবসার আলামত আগেই পেয়েছিল অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ (আটাব)। তাই তার ট্রাভেলসকে দেওয়া হয়নি আটাবের সদস্যপদ।

আটকে রাখা হয়েছিল তার আবেদন।

এ ব্যাপারে আটাব সিলেটের সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল জানান, ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজ’র ব্যবসা নিয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল। তাই আবেদনের পরও তাকে আটাবের সদস্যপদ দেওয়া হয়নি। তার কার্যক্রম আমরা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। এর মধ্যেই তার মানবপাচারের বিষয়টি ধরা পড়ল। এরকম আরও যেসব অবৈধ ট্রাভেলস ব্যবসায়ী মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

এদিকে ট্রলার ডুবিতে মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজে তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে এনামুল হক। গতকাল রাজা ম্যানশনের তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা গেছে দোকানে তালা ঝুলছে। ট্রাভেলসের সাইন বোর্ডে লেখা দুটো ফোন নম্বরই বন্ধ ছিল। এনামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও ছিল বন্ধ।

উৎসঃ ‌‌বিডি-প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‌শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ বসবাসের জন্য অনিরাপদ!


শেখ হাসিনা এবং তার দলের নেতাদের দাবি অনুযায়ী আর অল্প কিছু দিন পরই বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উঠে যাবে বাংলাদেশের নাম। মানুষের এমন কোনো অধিকার নেই যা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিষ্ঠিত করেনি। শেখ হাসিনার দাবি-তিনি এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন যেখানে নাগরিকরা তাদের মায়ের গর্ভের মতো নিরাপদে বসবাস করছে। যদিও বাস্তবতার সঙ্গে তাদের বক্তব্যের কোনো মিল খোঁজে পাওয়া যায়নি।

২০১৭ সালে বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধান ও সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বাস্তবিক অর্থে রাষ্ট্রে আসলে কি হচ্ছে তার একটা বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশের মধ্যে যা ঘটেছে সব কিছুরই তিনি একটা সামারি টেনেছেন। রাষ্ট্রের এমন কোনো অসঙ্গতি বাকী নেই যা তার পর্যবেক্ষণে আসেনি।

বিগত ১০ বছর ধরে শুধু ক্ষমতার জন্য আওয়ামী লীগ কিভাবে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে, লুটপাট, দুর্নীতি, খুন, হত্যা, গুম-অপহরণ, বিচারবিভাগ ও সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে কিভাবে বিরোধী দল সমূহের বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে তার একটা চিত্র তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। সবশেষে তিনি মন্তব্য করেছেন-আমরা এখন এমন একটা সমাজে বসবাস করছি যেখানে কোনো ভাল মানুষ কোনো ভাল স্বপ্ন দেখেনা।

সরকারের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্যের কারণে অবশ্য তাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখতে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির আর কোথাও দেখা যায়নি।

এদিকে, প্রায় দুই বছর শেখ হাসিনার উন্নয়নশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ নিয়ে আরেকটি মন্তব্য এসেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে। রোববার হাইকোর্ট বলেছেন-এ দেশে এখন বসবাস করা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

আর আদালত এই চরম ক্ষোভটা প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনার খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে। দেশের সুপরিচিত ৫২ খাবারে মারাত্মক ভেজাল ধরা পড়েছে। আর ৯৬ শতাংশ দুধের ৯৩ শতাংশেই রয়েছে মারাত্মক ক্ষতির রাসায়নিক দ্রব্য। আর ওয়াশার কথিত সুপেয় পানির মধ্যে পাওয়া গেছে বিষ। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ও খাবারের কারণে এদেশে বাস করাটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই তাদের তো এদেশেই থাকতে হবে।

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ এখন মনে করছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সন্ত্রাস, খুন, হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, গুম, অপহরণ, দুর্নীতি-লুটপাট, ছিনতাই, হামলা, মামলা, গ্রেফতার-নির্যাতন ও জীবন রক্ষার খাবারে অতিমাত্রায় ভেজালে দেশের মানুষ এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শুধু ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো নেতাকর্মীরা এদেশে এখন আর বসবাস করা কারো জন্যই নিরাপদ নয়। দেশ ছেড়ে যাওয়ার মতো যাদের সামর্থ নেই তাদেরকে জীবন হুমকি নিয়ে এদেশেই থাকতে হবে। যেটা হাইকোর্টের আদেশের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। তারা বলছেন, শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ এখন বসবাসের অনুপযোগী।

বিএসটিআই কর্তৃক ৫২টি স্বীকৃত ভেজাল পণ্যের তালিকা-

সিটি ওয়েলের সরিষার তেল, গ্রীণ ব্লিচিং এর সরিষার তেল, শমনমের সরিষার তেল, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েলের সরিষার তেল, কাশেম ফুডের চিপস, আরা ফুডের ড্রিংকিং ওয়াটার, আল সাফির ড্রিংকিং ওয়াটার, মিজান ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ণ ডিউয়ের ড্রিংকিং ওয়াটার, ডানকান ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, আরার ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, দিঘী ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি নুডলস, শান্ত ফুডের সফট ড্রিংক পাউডার, জাহাঙ্গীর ফুড সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশের হলুদের গুড়া, প্রাণের হলুদ গুড়া, ফ্রেশের হলুদ গুড়া, এসিআইর ধনিয়ার গুড়া, প্রাণের কারি পাউডার, ড্যানিশের কারী পাউডার, বনলতার ঘি, পিওর হাটহাজারী মরিচ গুড়া, মিস্টিমেলা লাচ্ছা সেমাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মিঠাইর লাচ্ছা সেমাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, এসিআইর আয়োডিন যুক্ত লবন, মোল্লা সল্টের আয়োডিন যুক্ত লবন, কিং’য়ের ময়দা, রুপসার দই, মক্কার চানাচুর, মেহেদীর বিস্কুট, বাঘাবাড়ীর স্পেশাল ঘি, নিশিতা ফুডস এর সুজি, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মঞ্জিলের হলুদ গুড়া, মধুমতির আয়োডিন যুক্ত লবন, সান ফুডের হলুদ গুড়া, গ্রীন লেনের মধু, কিরনের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিনের মরিচের গুড়া, ডলফিনের হলুদের গুড়া, সূর্যের মরিচের গুড়া, জেদ্দার লাচ্ছা সেমাই, অমৃতের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপারের আয়োডিন যুক্ত লবন, মদীনার আয়োডিন য্ক্তু লবন এবং নুরের আয়োডিন যুক্ত লবন।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌আওয়ামী লীগ এখন মাফিয়াদের দলে পরিণত হয়েছে : রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নষ্ট প্রতীকে পরিণত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এদেশে যতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে-ততদিন ভোট ডাকাতি ও সমাজে অবিচার-অনাচারের বাড়বাড়ন্ত থাকবেই।

রোববার (১২ মে) রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশজুড়ে উন্নতির অন্তরালে আর্তনাদ চলছে। এরকম দুরাবস্থা বাংলাদেশে আর কখনো দেখা যায়নি। মানুষের চোখের পানিতে বাংলাদেশের মাটি কর্দমাক্ত, সেই কাদামাটিতে শেখ হাসিনার উন্নয়নের রথ আটকে গেছে। আওয়ামী উন্নয়নের জিকিরে জনমনকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। কারণ আওয়ামী উন্নয়নের আড়ালে যে রক্ত উৎসব চলছে তাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত।

তিনি বলেন, জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নেয়া রাজনৈতিক দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ। গুম-খুন-অপহরণই হচ্ছে এদের বানিজ্য। কারণ এরা সুষ্ঠু নির্বাচন ও চিরন্তন গণতন্ত্রের ধারণা নিজেদের মতো জনগণের মন থেকেও মুছে দিতে চায়। আর এজন্য নির্বাচনের দিনের আগের রাতের ভোটকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। ৩০ ডিসেম্বরের পর নির্বাচন কমিশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, আওয়ামী এমপি-মন্ত্রীরাও মিড নাইট ভোটের গুণকীর্তন করছেন

সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতাকে ঘৃনা করে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এই কারণেই নুসরাত, শাহীনুর, তনু, মিতুর মতো অসংখ্য নারী-কিশোরী প্রতিনিয়ত হত্যার বলি হচ্ছে। এত হত্যা, নারী নির্যাতন-শিশু নির্যাতনের খবরে সংবাদপত্রের পাতা ভরে থাকে। এই ম্যান্ডেটহীন সরকারের কারণেই অসংখ্য মানুষের কান্না ও দীর্ঘশ্বাসে বাংলাদেশের বাতাস ভারী হয়ে আছে।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবস্থান কানাডার সমানঃ আ হ ম মুস্তফা কামাল


অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কানাডার সমান বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

শনিবার রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অংশীদার হবে এমন প্রভাবশালী ২০টি দেশের মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ। গত ৬মে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুকে আইএমএফ ২০২৪ সাল পর‌্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে প্র্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ করেছে তাঁর আলোকে ব্লুমবার্গ-এর করা বিশ্লেষণে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ওই বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগামী অর্থবছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর সেই প্রবৃদ্ধিতে দশমিক ৯ শতাংশ অবদান রাখবে বাংলাদেশের অর্থনীতি। কানাডা অবদান রাখবে ১ শতাংশ। থাইল্যান্ড-স্পেনও ১ শতাংশ করে অবদান রাখবে।

আগামী ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের এই অবদান অব্যাহত থাকবে বলে ব্লুমবার্গ-এর গবেষণার বরাত দিয়ে তথ্য দেন মুস্তফা কামাল।

‘সে তথ্যের ভিত্তিতেই আমি বলছি, প্রবৃদ্ধিতে আমরা কানাডার সমান। স্পেন-থাইল্যান্ডের সমান। আর এটা আমার কথা নয়; আইএমফের কথা। বিশ্ব ব্যাংকের কথা।’

‘শুধু তাই নয়, কয়েক দিন আগে ফিজিতে এডিবির বার্ষিক সম্মেলনেও বলা হয়েছে, চমকপ্রদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ।’

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হওয়ার যে আভাস সরকার দিচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেম।

সরকারের কথার সঙ্গে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিগুলোর তথ্য-উপাত্ত মেলে না দাবি করে সংস্থাটি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সরবরাহ করা তথ্য-উপাত্তগুলো পুনঃপর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডিও সরকারের প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল।

গত জানুয়ারিতে টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়া আওয়ামী লীগ সরকার চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হবে বলে আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) তথ্য হিসাব করে আভাস দিয়েছে।

সরকারের এই প্রাক্কলনের কাছাকাছি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের আভাস দিয়েছে এডিবি; তারা বলছে এই অঙ্ক ৮ শতাংশ হতে পারে। তবে বিশ্ব ব্যাংক বলছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর এ সব সমালোচনার জবাবে মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘তাদের কাজ তারা করবে; আমার কাজ আমি করবো। তবে তাদের হোমওয়ার্ক করে তথ্য দেয়া উচিৎ। আমি তথ্য নিয়ে কথা বলি। আমি মানে বাংলাদেশ…। আমি সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই কথা বলি।’

‘আমি কারো নাম বলছি, তবে অনেকেই অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলেন। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করে বলছি…। আসেন, গোলটেবিল আলোচনায় বসি…। আমি বা বিবিএস যে তথ্য দিচ্ছে সেটা যে সঠিক তা প্রমাণ করে চাড়ব।’

‘দুঃখ একটাই, বিশ্ব ব্যাংক-আ্ইএমএফ-এডিবি আমাদের প্রশংসা করছে। আর আমাদের এখানকার কয়েকজন সেটা মেনে নিচ্ছে না বা মেনে নিতে পারছে না।’

‘এ সব সংগঠনের কাজই সরকারের সমালোচনা করা। তারা বছরে কিছু প্রোগ্রাম করে আর সরকারের সমালোচনা করে। এটা তাদের বাৎসরিক রুটিন হয়ে গেছে।’

ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত

তবে বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কমেছে বলে যে তথ্য বেসরকারি সংস্থাগুলো দিচ্ছে তা ঠিক আছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘জিডিপির তুলনায় আমাদের ট্যাক্স অনেক কম। ১০ থেকে এখন ৯ এ নেমে এসেছে। এটা অবশ্যই বাড়ানো দরকার। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কম হলেই যে প্রবৃদ্ধি কমবে এটা ঠিক নয়।’

‘আমাদের অর্থনীতির প্রায় ৮০ শতাংশই ইনফরমাল ইকনোমি। এই ইনফরমাল ইকনোমি জিডিপিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে।’

‘তবে ট্যাক্স বেশ ভালোই বেড়েছে’ তথ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছরে কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সেটার লক্ষ্য ধরা আছে ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। হয়তো লক্ষ্যের পুরোটা আদায় হবে না। কিন্তু কাছাকাছি তো হবে।

‘হিসাব করলে দেখা যাবে, এই কয় বছরে কর আদায়ের পরিমাণ চার গুণ বেড়েছে।’

নতুন ভ্যাট আইন ১ জুলাই থেকেই

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মুস্তফা কামাল বলেন, আগামী অর্থবছর থেকেই নতুন ভ্যাট আইন কার‌্যকর করা হবে।

“এ বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজস্ব বোর্ডের প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। ভ্যাট আইনের যেসব ধারায় ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানিয়েছেন তা নিয়ে এনবিআরকে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসে সমাধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের কোনো দুর্বলতা মেনে নেওয়া হবে না।”

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌আমরা রাতের আধারে ভোটের বাক্স ভরেছি! বিএনপি কেনো ভরতে পারল না?: মোশাররফ


স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, অনেকে বলেন আমরা নাকি ভোটের আগের রাতের আধারে ভোট কেটে বাক্স ভরে জিতেছি! আমরা যদি সত্যি সত্যিই ভোট কেটে বাক্স ভরেই জিতে থাকি তাহলে বিএনপি কেনো রাতের আধারে ভোটের বাক্স ভরতে পারলো না? আমরা কি তাদের বাঁধা দিয়েছিলাম? আমরা না হয় বাক্স ভরলাম, তোমাদের বাক্স খালি কেনো? তোমাদের ভোট গেলো কোথায়?

শনিবার দুপুরে ফরিদপুর শহরের বদরপুরে অবস্থিত আফসানা মঞ্জিলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত ফরিদপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় দ্বারা বাস্তবায়িত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বয়স্ক, বিধবা ও অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধি ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ভোট পেতে হলে জনগণের পাশে থাকতে হয়। বিএনপি জনগণের পাশে ছিলো না বলেই তারা ভোট পায়নি। অপরদিকে, শেখ হাসিনা একজন জনদরদি নেত্রী বলেই তাকে জনগণ ভোট দিয়েছে। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শুরু করেছে। এর আওতায় অবহেলিত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে প্রতিমাসে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেশের মাথাপিছু আয় ছিলো ৫৩৬ ডলার। এখন সেটি বেড়ে ২১শ’ ডলারে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাই বিশ্বে একমাত্র নেত্রী যিনি নির্দিষ্ট দিনতারিখ ঠিক করে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করছেন। শুধু শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই এটি সম্ভব।

বিএনপি নেত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং এবং একটি দলের সভানেত্রী। অথচ তিনি দুর্নীতির দায়ে আজ জেল খাটছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, যাদের আসলে পরিবারে বোঝা মনে হতো কিন্তু তারা যে মোটেও পরিবারের বোঝা নন বরং সমাজেরই অংশ; এটি বোঝানোর জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বয়স্ক, বিধবা ও অসুস্থ প্রতিবন্ধী ভাতা উপহার স্বরূপ আপনাদের দিয়েছেন।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এসএম আলী আহসান, উপ সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা, বিধবা ভাতাভোগী রাশেদা বেগম ও বয়স্ক ভাতাভোগী শেখ আব্দুল হক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফরিদপুর সদর উপজেলায় ১ হাজার ৮৭১ জন ভাতাভোগীর মাঝে ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৮শ’ টাকা ভাতা বাবদ প্রদান করা হয়। এরমধ্যে বয়স্ক ও বিধবা ভাতাপ্রাপ্তগণ প্রতি মাসে ৫শ’ টাকা করে এবং অসুস্থ শারীরিক প্রতিবন্ধীরা প্রতিমাসে ৭শ’ টাকা করে ভাতা পান। বর্তমানে ফরিদপুর সদর উপজেলায় ১১ হাজার ৮শ’ ৬৯ জন বয়স্ক ভাতা, ২ হাজার ১শ’ ৮৫ জন বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা এবং ২ হাজার ৬শ’ ৭৮ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। এ বাবদ তাদের মাঝে এ বছর ৮ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার ৬শ’ টাকা প্রদান করা হবে।

উৎসঃ ‌‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন!


দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন! কি! অবাক হচ্ছেন?

আজ অধিকাংশ জাতীয় পত্রিকায় ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি সদস্য সনাক্তকরণের (রেডিক্যাল ইন্ডিকেটর) নিয়ামকসমূহ’ নামে একটি পোষ্টার ছাপানো হয়েছে। সেখানে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের জন্য কিছু লক্ষণের কথা বলা হয়েছে। যে লক্ষণগুলো দেখলে তাকে জঙ্গি হিসেবে সন্দেহ করা যাবে। সেই সন্দেহের মধ্যে ইসলামের আবশ্যক পালনীয় দাড়ি রাখা, টাখনুর উপর কাপড় পড়াসহ বেশ কিছু লক্ষণকে জঙ্গি লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পোষ্টারে উল্লিখিত জঙ্গি লক্ষণের মধ্যে রয়েছে- ধর্ম চর্চার প্রতি ঝোঁক; গায়ে হলুদ, জন্মদিন পালন, গান বাজনা ইত্যাদি থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখা; মিলাদ, শবেবরাত, শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনা করা ইত্যাদি।

পূর্বে এ ধরণের পোষ্টার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক প্রচারিত হলেও আজকের পোষ্টারটির নিচে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের নামে প্রকাশ করা হয়েছে। জানা যায়, ধর্মনিরপেক্ষতার স্লোগানকে ধারণ করে গত বছরের জুলাই মাসে এই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ হলো একটি কথিত অসাম্প্রদায়িক সংগঠন। এর আহবায়ক হলো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দোপধ্যায়। সংগঠনটির সাথে আছেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এছাড়াও আছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, আবেদ খান, শামীম মো. আফজাল প্রমুখ। 😡

জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার ৪টি ধাপের কথা বলা হয়েছে পোষ্টারে। তার প্রথম ধাপেই রয়েছে- তাওহীদ, শিরক, বেদাত, ঈমান, আকীদা, সালাত, ইসলামের মূলনীতি, দাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা।

এদিকে ইসলামের মৌলিক রীতি নীতিকে জঙ্গিবাদের লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ধর্মীয় আলেম ও ওলামারা। তারা এসব বিষয় জঙ্গিবাদের লক্ষণ থেকে অপসারণের দাবি জানান।

তবে ইসলামের মৌলিক কিছু বিষয়কে জঙ্গি লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরে বিতর্কিত কাজ করলেও সত্যিকারের কিছু জঙ্গি লক্ষণও তুলে ধরা হয়েছে পোষ্টারে। যেমন- ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকৃত নামে রেজিষ্ট্রেশন না করা; কুরআন হাদিসের অরিজিনাল কপি না পড়ে অনলাইন থেকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া; টার্গেট কিলিং, জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করা, অস্ত্র গোলাবারুদ সংগ্রহ ও ব্যবহার করা ইত্যাদি।

এইরকম ইসলামোফোবিক প্রকাশনা কোন অমুসলিম দেশেও সম্ভব না। সম্ভব হলো কেবল একমাত্র দিল্লীর সরকারের মদদপুষ্ট ও সমর্থিত আওয়ামীলীগ সরকারের দেশে।

উৎসঃ ‌‌নতুন দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌২০ দলীয় জোট রক্ষায় কত জীবন ও রক্ত দিয়েছে জামায়াত?


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্যই ১৯৯৯ সালের ৩০ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট। এই জোট গঠনে মূলত মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির অধ্যাপক গোলাম আযম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে তখন গঠিত হয়েছিল ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলসহ আরও কয়েকটি সংগঠন নিয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য।

চারদলীয় জোট আর সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের আন্দোলনের মুখে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। তখন থেকেই মূলত আওয়ামী লীগ ও ভারত আস্তে আস্তে জামায়াতের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ২০০১-৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে ব্যাপক অপপ্রচার চালায় আওয়ামী লীগ। এছাড়া, বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধার কারণে জামায়াতের ওপর একটা চরম প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগের অপেক্ষায় থাকে আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙ্গার কাজে হাত দেয় আওয়ামী লীগ। এজন্য প্রথমেই তারা ২০১০ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আর ভারতের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এদেশে সবার আগে মাঠে নামে জামায়াত। সেজন্য ভারতের পক্ষ থেকেও জামায়াতকে দুর্বল করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

এদিকে, জামায়াত যখন বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে না আসার সিদ্ধান্তে অটল থাকে তখনই সরকার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথিত মামলায় জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে আটক করে।

ওই সময় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কথিত মামলায় গ্রেফতারের পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদেরকে বলা হয়েছে যে, বিএনপি থেকে আপনারা বেরিয়ে আসলে আপনাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। অন্যথায় যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হবে। কিন্তু, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখন সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি। দল এবং তাদের জীবন ঝুকির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কার পরও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন।

এরপরই শুরু হয় একের পর এক শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাদের মামলা। সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয় শীর্ষনেতাদেরকে। চরম মিথ্যাচার ও বানোয়াট সাক্ষীর মাধ্যমে তারা প্রথমেই অন্যায়ভাবে বিচারের নামে হত্যা করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মোল্লাকে। জানা গেছে, আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার আগেও সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপি জোট ছাড়ার জন্য জামায়াতকে বলা হয়েছে। কিন্তু জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখনো কোনো আপোস করেননি।

এরপর একে একে হত্যা করা হয়েছে জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে। সকলকে ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেও যখন বিএনপি থেকে জামায়াতকে আলাদা করতে পারেনি তখন সরকার জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি, নিবন্ধন বাতিলের আগেও সরকার জামায়াতকে বলেছিল বিএনপি ছাড়ার জন্য।

আর জোটে থাকার কারণেই যে সরকার জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়েছে সেটা বিএনপিও বুঝতে পেরেছে। খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে বিএনপির একাধিক শীর্ষনেতা ওই সময় প্রায় প্রতিদিনই বলতেন যে, শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণেই জামায়াত এখন যুদ্ধাপরাধী। বিএনপি জোট থেকে জামায়াত চলে গেলেই সরকার তাদের ওপর আর নির্যাতন করবে না। কাউকে ফাসিতেও ঝুলাবে না। বিএনপি নেতা হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খন্দকার মোশাররফ হোসেন একাধিক বার বলেছেন যে, ৯৬ সালের নির্বাচনের আগে যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াত বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল তখন তারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আর এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোট বাঁধার কারণেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধীর দল হয়ে গেছে।

অপরদিকে, বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণে জামায়াত শুধু তাদের শীর্ষনেতা এবং নিবন্ধনই হারায়নি। বিগত ১১ বছর ধরে সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে দলটির সারাদেশের নেতাকর্মীরা। জামায়াত-শিবিরের সহ¯্রাধিক মেধাবী নেতাকর্মীকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রিমান্ডের নামে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। বলা যায়-শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণে সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এখন ঘর ছাড়া। কেউ বাসায় থাকতে পারেনি। বিগত ১১ বছরে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মীর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরিচ্যুত হয়েছেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এত নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও নিজেদের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি জামায়াত।

এখনো জামায়াতের প্রত্যাশা, ২০ দলীয় জোট টিকে থাকবে এবং এই জোটের আন্দোলনের মাধ্যমে একদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে। মুক্ত হবে গণতন্ত্র, মানুষ ফিরে পাবে তাদের মৌলিক অধিকার। অবসান ঘটবে দুঃশাসনের।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌মদ খেয়ে মাতলামি: ক্ষমা চাইলেন আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান


ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির একটি অনুষ্ঠানে হুইস্কি খেয়ে নারীকে জড়িয়ে ধরার জন্য অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন টকশো ব্যক্তিত্ব,আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান। এক নারীকে জড়িয়ে ধরার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এর ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের ফেসবুকে ক্ষমা চান তিনি। জানান, প্রায় ৫ বছর পর হুইস্কি খাওয়ায় তিনি অজান্তে এই মাতলামি করে ফেলেন। এজন্য তিনি ক্ষমা চান।

নাঈমুল ইসলামের ফেসবুক পোষ্টটি নতুন দিগন্তের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

“নাসিমা খান মন্টির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টির কাছে আমি নাঈমুল ইসলাম খান নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। গত ২ মে বৃহস্পতিবার ওয়েস্টিন হোটেলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমি অত্যন্ত অনভিপ্রেত, অন্যায় করেছি।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ উপর্যুপরি অনুরোধ করলে আমি ঈষৎ গরম পানি দিয়ে ২ পেগ হুইস্কি পান করি। ৫ বছরেরও বেশি সময় পর প্রায় অনভ্যস্ততার পর্যায়ে ২ পেগ হুইস্কি সম্ভবত আমাকে বেসামাল করে ফেলে। এমন ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘরের আলো আধারি মোহনীয় পরিবেশে আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টিকে কখন যে আমি জড়িয়ে ধরে আমার কাছে টেনে নিয়েছি তখন বুঝতে পারিনি।

কিন্তু উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরদিন শুক্রবার দিন শেষে ঘূর্ণিঝড় ফণী যেভাবে বাংলাদেশে ঝড়বৃষ্টি নিয়ে এসেছে, প্রায় তেমনিই আমার এই অসদাচরণের ছবি ঝড়ো হাওয়া ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অনেক ছবির মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে আমি নাসিমা খান মন্টিকে জড়িয়ে অনেকখানি আমার দিকে কাত করে ফেলেছি। কয়েকটি ছবি বিশ্লেষণে এটা পরিস্কার যে, নাসিমা খান মন্টিকে আমি সম্ভবত নিশানা করে বার বার জড়িয়ে ধরেছি, বিরক্ত করেছি। মন্টির বিনা অনুমোদন এবং বিনা আগ্রহে আমার এই আচরণ খুবই অনুচিত হয়েছে সেটা এখন আমি উপলব্ধি করি।

আত্মপক্ষ সমর্থনে আমার কিছুই বলার নেই। একটি সুন্দর অনুষ্ঠানকে এভাবে অনেকের জন্য অস্বস্তিকর করে তোলায় আমি যারপরনাই লজ্জিত। এমন ঘটনার পুনরাবৃতি যেন না হয় সে জন্য আমি সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

আপনাদের পক্ষে সদয় বিবেচনা করে আমাকে ক্ষমা করা যেন সহজ হয় তার সুবিধার্থে সেই রাতের, সেই ঘটনার কিছু দালিলিক ছবি এখানে যুক্ত করা হচ্ছে।”

উৎসঃ ‌‌দেশ রুপান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here