তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে ৬৫ জনের মৃত্যু; বেশির ভাগই বাংলাদেশি

0
252

ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশী বোঝাই নৌকাডুবিতে প্রাণ গেছে অন্তত ৬৫ জনের। শুক্রবারের দুর্ঘটনায় নিহতদের বেশির ভাগই বাংলাদেশি। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রেডক্রস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৬ জনকে। যার ১৪জনই বাংলাদেশি।

অবৈধ পথে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে ডুবে যায় অভিবাসী বোঝাই একটি নৌকা। এতে প্রাণ হারায় অন্তত ৬৫ জন। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রেডক্রস বলছে, নিহতদের বেশির ভাগই বাংলাদেশি। এছাড়া মরক্কো, মিশর এবং আফ্রিকার রয়েছে বেশ কয়েক জন। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া ১৬ জনের মধ্যে ১৪জন বাংলাদেশি।

জাতিসংঘের অভিবাসী বিষয়ক সংস্থা-IMO বলছে, বৃহস্পতিবার লিবিয়া থেকে ইউরোপের পথে যাত্রা শুরু করে নৌযানটি। শুক্রবার তারা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়ে। একসময়, ঝড়ো হাওয়ার তোড়ে উল্টে যায় নৌকাটি। উদ্ধারে এগিয়ে আসে তিউনিসিয়ার নৌবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রেডক্রসসহ স্থানীয়রা। জীবিত উদ্ধারকৃতদের দেয়া হচ্ছে সব ধরণের সহায়তা।

জীবিত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে মরক্কের একজন রয়টার্সকে জানায়, “আমরা লিবিয়া থেকে রওনা দিয়েছিলাম। প্রথমে বড় নৌকা চাইলেও দালালরা ছোট নৌকায় করে আমাদের পাঠায়। আমাদের মধ্যে বাংলাদেশি সবচেয়ে বেশি ছিলো। ঝড়ের কারণেই দূর্ঘটার শিকার হই। কোন মতে প্রাণে বেঁচেছি।”

জীবিত ১৪ বাংলাদেশির মধ্যে আহমেদ বেলাল নামের এক জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। তার গ্রামের বাড়ি সিলেটে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান বলছে, গেলো বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার সমায় প্রাণ গেছে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের।

উৎসঃ ‌‌jamuna tv

আরও পড়ুনঃ ‌হুমায়ন আজাদের মৃত্যুর জন্য মাওলানা সাঈদী দায়ীঃ শাহরিয়ার কবির


একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, হুমায়ন আজাদের মৃত্যুর জন্য মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী দায়ী।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন শাহরিয়ার কবির।

তিনি বলেন, সাঈদীর কোন বিচার হল না। তার ওয়াজে সুস্পষ্ট ভাবে হুমায়ন আজাদের বিষয়ে কুৎসা করা হয়েছে। দুষ্কৃতিকারীরা তার ওয়াজ শুনে অনুপ্রাণিত হয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমি একটি কথা খোলামেলা ভাবেই বলতে চাই, আইএস, আলকায়দা, জামায়াতে ইসলাম সব একই সূত্রে গাঁথা ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। এরা জঙ্গিবাদের জন্য দায়ী।

শাহরিয়ার কবির বলেন, আমরা যদি চুনোপুঁটি না হতাম তবে আমাদেরকে যারা হত্যার হুমকি দিচ্ছে, তাদের অবশ্যই আইন শৃঙ্খলাবাহিনী গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করেই তিনি বলেন, আমরা কি দেখতে পাই শেখ হাসিনাকে কেউ কোন কটূক্তি করার সঙ্গে সঙ্গে অজপাড়া গ্রাম থেকেও গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হয়।

অথচ আমাদের মত চুনোপুঁটি মানুষদের হত্যার হুমকি দেওয়ার পর কার্যত কোন ব্যবস্থা না নেওয়া দুঃখজনক। এটা কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়। আমরাও তো মানুষ? সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছাড়ানোর অপচেষ্টায় এসব হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমার মত যারা মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক কথা বলে বিশেষ করে মামুন, জাফর ইকবাল, সুলতানা কামাল ছাড়াও এমন ১৫০ লোককে হত্যার হুমকি প্রতিনিয়তই দেওয়া হচ্ছে।

উৎসঃ ‌‌bangladeshtoday

আরও পড়ুনঃ ‌২০২০ সাল মুজিব বর্ষ, ‘২১ সাল ডিজিটাল বর্ষ এবং ‘২২ সাল হাসিনা বর্ষ: পলক


সিংড়ার মাটিতে আগামী ২০২০ সালে শেখ মুজিব বর্ষ, ২০২১ সালে ডিজিটাল বর্ষ এবং শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিবস উপলক্ষে আগামী ২০২২ সালে শেখ হাসিনা বর্ষ উদযাপনের ঘোষণা করলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাড জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি।

শুক্রবার বিকালে সিংড়া পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সাধারণ সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পরপর ৩টি বর্ষ উদযাপনের এই ঘোষণা দেন।

এ সময় তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড ওহিদুর রহমান শেখকে আহ্বায়ক করে তৃণমুল নেতা কর্মীদের নিয়ে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট মুজিব বর্ষ উদযাপন কমিটি গঠন করার আহবান জানান। প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ‘ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না। আর দেশ স্বাধীন না হলে আমরা চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী হয়ে এভাবে দেশ সেবার সুযোগ পেতাম না। তাই আমরা আগামী ২০২০ সালে সিংড়ার মাটিতে জাঁকজমকপুর্ণ ভাবে মুজিব বর্ষ উদযাপন করবো। পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে ডিজিটাল বর্ষ এবং তার পরের বছর মুজিক কন্যা শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্ম দিবস উপলক্ষে শেখ হাসিনা বর্ষ উদযাপন করবো।’

তিনি বলেন, ‘এই ৩ টি বর্ষ উদযাপনের জন্য আমাদের সবার প্রস্তুত থাকতে হবে ‘

সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কোন অনৈক্য নেই। সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী সংগঠন। আজকের এই রমজান মাসের প্রখর গরমে তৃনমুল নেতা কর্মীদের উপস্থিতিই তাই প্রমাণ করে। আমরা আগামী দিনেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার যে কোন নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালনের জন্য প্রস্তুত আছি ইনশাআল্লাহ।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড ওহিদুর রহমান শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আগে বক্তব্য রাখেন সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান, উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক, উপজেলা উলামা লীগের সভাপতি মাও আব্দুর শাকুর, মাও আব্দুর বারি রশিদী, মাওলানা সুমনসহ আরও অনেকে।

উৎসঃ ‌‌ইত্তেফাক

আরও পড়ুনঃ ‌ঢাবি হল সংসদের এজিএসকে ছাত্রলীগ নেতার মারধর


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদককে (এজিএস) মারধর করেছেন এক ছাত্রলীগ নেতা। জানা যায়, রুমের সিট দখল করতে গিয়ে এজিএসকে মারধর করা হয়। শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জহুরুল হক হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক সুরাপ মিয়া হলের ৩৪৭নম্বর রুমে থাকেন। একই কক্ষের অন্য একটি সিটে শরীফ নামের আরেক শিক্ষার্থী থাকতেন। সম্প্রতি তিনি সিট ছেড়ে চলে গিয়েছেন। সেই সিটে জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য মাহফুজুর রহমান ইমন তার অনুসারীকে তুলে দিতে যান।

এটা নিয়ে কক্ষে বসবাসরত এজিএসের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ইমনের সহযোগিতায় তার অনুসারী জাহিদ সুরাপ মিয়াকে ধাক্কা দেন ও মারধর করেন। এটা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা হয়।

পরে সেখানে হল এর একজন আবাসিক শিক্ষক এস এম রেজাউল করিম ও হল সংসদের ভিপি সাইফ উল্লাহ আব্বাসী অনন্ত ও জিএস তৌফিকুল ইসলাম উপস্থিত হন।

এ বিষয়ে হল সংসদের এজিএস সুড়াপ মিয়া বলেন, আমার কক্ষে লোক দিবে কিন্তু আমাকে জানানো হয়নি। ছাত্রদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হলেও আমাকে মারধর করা হয়েছে। তবে তিনি এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ করেননি।

এ বিষয়ে আবাসিক শিক্ষক এস এম রেজাউল করিম বলেন, ঘটনাটি শুনে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। তারা নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে ফেলেছে বলে আমাকে জানায়। যেহেতু শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সমস্যা তারা সমাধান করে ফেলেছে। তবে বিষয়টি তিনি হল প্রাধ্যক্ষকে অবহিত করেছেন বলেও জানান।

জানা যায়, এর আগে মারধরকারী ইমন জালিয়াতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।

উৎসঃ ‌‌thedailycampus

আরও পড়ুনঃ ‌‘বর্তমান পার্লামেন্ট জনগণের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’


বর্তমান পার্লামেন্ট জনগণের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় সুতরাং এই পার্লামেন্টে কে গেলো কে গেল না এটা বড় বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান।

তিনি বলেন, ‘দেশে দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র অনুপস্থিত। এই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য বুলেটের চেয়ে শক্তশালী ব্যালটের একটি সুযোগ হয়েছিল গত ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে। কিন্তু সেই সুযোগ আওয়ামী সন্ত্রাসীর পেশি শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছে। ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখে হয়েছে। সুতরাং এই পার্লামেন্টে কে গেলো কে গেল না এটা আমার কাছে বড় বিষয় নয়। এই সংসদ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বরং দেশে যে জাতীয় সমস্যা চলছে সেই সমস্যা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমেই সমাধান হবে।’

শনিবার (১১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত মজুলম জননেতা মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই মন্তব্য করে নোমান বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য আজও আমরা লড়াই করছি। উন্নয়নের নামে লুটপাট করছে ক্ষমতাসীনরা। ব্যাংকগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। সরকারের উন্নয়নের রাজনীতি অসার হয়ে গেছে। বরাদ্দের নামে এমপিরা লুটপাট করছে। প্রবৃদ্ধিকেও আওয়ামীকরণ করা হয়েছে।’

গণতন্ত্রবিহীন উন্নয়ন কখনও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করে তিনি। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে বিএনপি সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আমাদের রাজনীতির বিরাট একটি অর্জন। রাজনীতিতে এত অল্প সময়ে গড়ে ওঠা এই ইতিবাচক প্লাটফমটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।জাতীর প্রয়োজনে এটি গঠিত হয়েছে। অন্য দলগুলোকে আরও যোগ করে ঐক্যফ্রন্টকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করতে হবে।’

মওলানা ভাসানীর স্মৃতিস্মারণ করে নোমান আরও বলেন, ‘মওলানা ভাসানী আজীবন শ্রমজীবী ও কৃষিজীবী মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ যাত্রা এটা আমরা প্রথমে মওলানা ভাসানীর কাছেই শিখেছি। তার আদর্শে আনুপ্রাণিত ছিলাম আমরা। এখনও আছি।’

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সংগঠনের নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক জসিম উদ্দীন আহমেদ, মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য নঈম জাহাঙ্গীর, জহির উদ্দীন স্বপন, কৃষকদলের সদস্য লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উৎসঃ ‌‌jagonews24

আরও পড়ুনঃ ‌ঈদের আগেই বেগম জিয়াকে মুক্তি দিন: সরকারকে জাফরুল্লাহ


সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্র‌তিষ্ঠাতা ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ব‌লে‌ছেন, ‘আগামী ঈদুল ফিতরের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করছি। তাঁকে দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে জামিন দেয়া দরকার। খালেদাকে মুক্তি দিলে দেশে গণতন্ত্র ফি‌রে আস‌বে, দে‌শে শা‌ন্তি ফি‌রে আস‌বে।’

শনিবার (১১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত মজুলম জননেতা মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপ‌তির বক্তব্য তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে যেখানে খুন, গুম হত্যা, ধর্ষণ অহরহ চলছে। স্কুলের ছাত্রীরা এমনকি মাদরাসাছাত্রীরাও রাস্তাঘাটে চলতে পারছে না। শুধু তাই নয়, নার্সরা পর্যন্ত নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিরাপদে নির্ভয়ে রাস্তায় চলাচল করতে পারি না। গাড়ি এসে চাপা দিয়ে যায়। এর থে‌কে দে‌শের জনগণ মু‌ক্তি চায়। একটু শা‌ন্তি‌তে নিরাপ‌দে রাস্তায় চল‌তে চায় মানুষ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আপনি এখন বড় বিপদে আছেন। আপনি দেশের সবচেয়ে বড় ঋণ খেলাপিদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ফলে দেশে আজ সুশাসন নেই, ব্যাংকগুলো খেলাপি হচ্ছে, শেয়ারবাজারে ধস নামছে।’

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারে ২০২০ সালে স্ট্যাচু অব লিবার্টি আদলে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন করা হবে। এটা করা হলে বঙ্গবন্ধু হাসবেন না কাঁদবেন সেটা ভেবে পাই না। কারণ বঙ্গবন্ধুর গুরু মওলানা ভাসানীকে বাদ দিয়ে এটা করা কি ঠিক হবে? ভাসানী বেঁচে থাকলে বলতেন দেশের জনসাধারণ নিয়ে ভাবো।’

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী ব‌লেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছেন, আপনি বিদেশে চিকিৎসা নেবেন না। দেশে চিকিৎসা নেবেন এবং ১০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছি‌লেন। কিন্তু চোখের অপারেশনের জন্য বিদেশে গেলেন। আশা করি আপনার চোখ ভাল হয়ে যাবে। তবে বিদেশে যে অপারেশন করলেন সে অপারেশন বাংলাদেশেও করানো যেত। আসলে কেউ কথা দিয়ে কথা রাখে না।’

‌তি‌নি ব‌লেন, ‘আপনার চোখের যে অপারেশনটা করিয়েছেন ওটা আমিও করিয়েছি। দে‌শে আমার সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আপনার কত খরচ হ‌য়ে‌ছে এটা দেশে এসে কি হিসাবটা দেবেন?’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সংগঠনের নির্বাহী চেয়ারম্যান অধ্যাপক জসিম উদ্দীন আহমেদ, মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য নঈম জাহাঙ্গীর, জহির উদ্দীন স্বপন, কৃষকদলের সদস্য লায়ন মিয়া মো:আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌ফনির ভাঙনের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই: বরকত উল্লাহ বুলু


‘ঘূর্ণিঝড় ফনির ভাঙন ও ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সঙ্গে বিএনপির ভাঙন একই সূত্রে গাঁথা’ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, যেখানে ঘূর্ণিঝড়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য রাখা ঠিক হয়নি। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাদের এ ধরনের বক্তব্য না করার আহবান জানান।

শনিবার দুপুরে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ঘূর্ণিঝড় ফনিতে ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকারে এসব কথা বলেন তিনি।

কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতিনিধি দল প্রথম দফায় ৩৬০জনকে ও দ্বিতীয় দফায় আরও ৪০০ ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।

কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, লক্ষ্মীপুর সদরের সাবেক সাংসদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যনি, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌অবরুদ্ধ খালেদা জিয়াকে যেভাবে নিরাপত্তা দিয়েছিল জামায়াত!


শিরোনামটা দেখে আপনার কাছে নিশ্চয় অদ্ভুত মনে হচ্ছে। আর বিষয়টি অদ্ভুত মনে হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, খালেদা জিয়া এদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সবচেয়ে বড় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। শেখ হাসিনা প্রতিদিন তাকে দুর্নীতিবাজ, অশিক্ষিত ও খুনি বলে গালি দিলেও আসলে খালেদা জিয়াই এদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। সরকারের বাইরে থেকেও তিনি যথেষ্ট নিরাপত্তা পেয়েছেন। পুলিশ ছাড়াও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীও রয়েছে। এছাড়া দলীয় লোকজনতো আছেনই। এরমধ্যে আবার জামায়াতকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা দিতে হবে কেন? আর খালেদা জিয়াও জামায়াতের নিরাপত্তা নেবে কেন? এমন প্রশ্ন সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক।

বিষয়টা একটু খোলাসা করলেই সব প্রশ্নের জবাব পাঠকরা পেয়ে যাবেন। খালেদা জিয়ার একটা বিশেষ ক্রাইসিস মুহূর্তে পর্দার আড়াল থেকে নিরাপত্তার দিকটাসহ সার্বিক খোঁজ খবর রাখতেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। সময়টা ছিল ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত টানা ৩ মাস অবরোধের সময়। ওই সময় খালেদা জিয়া তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় টানা অবরোধের ঘোষণা দেয়ার পর ওই দিন প্রেসক্লাবে ঢুকে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরের দিন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতারা তাকে প্রেসক্লাব ছাড়তে বাধ্য করেন। প্রেসক্লাবের গেট থেকে মির্জা ফখরুলকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর ক্রমান্বয়ে বিএনপির আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে আটক করে পুলিশ। আর বাকীরা চলে যায় আত্মগোপনে। তবে, খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে অবরোধ সফল করতে মাঠে নেমে আসে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর মাঠে নামার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। তারা শুধু খালেদা জিয়ার ঘোষণার অপেক্ষা করছিল।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে যখন সারাদেশ উত্তাল, তখন গুলশানের কার্যালয়ে আটকা পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতাকর্মীরা তখন গুলশানের কার্যালয়ে প্রবেশ করাতো দূরের কথা গুলশানের কোনো রাস্তায় তারা নামতে পারেনি। তখন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্য কেউ গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেনি।

ওই সময় দেখা গেছে, অবরোধের তৃতীয় দিন সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের উত্তর পাশের সড়কের পূর্ব মাথায় স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে অন্য আরেকটি গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ওই গ্রপটির পরিচয় জানা না গেলেও পরে জানা গেছে তারা জামায়াত-শিবিরের লোক ছিল।

যেভাবে নিরাপত্তায় ছিল জামায়াত

টানা অবরোধের সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপির নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘেরাওয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার অফিসে কয়েক দফা হামলাও চালানো হয়েছে। এমনকি একজন মুক্তিযোদ্ধা অস্ত্র হাতে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের গেটের সামনে গিয়ে খালেদা জিয়াকে গালাগালি করেছেন। র‌্যাব-পুলিশসহ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে। এমন আরও বহু ঘটনা তখন ঘটেছে।

তবে, প্রতিদিন কারা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে যেতো, সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা গুলশান কার্যালয় ঘেরাও করতে গিয়ে কখন কোন সড়কের কোথায় অবস্থান নিতো সব খবরই রাখতেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন লোক পালা বদল করে সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত গুলশান কার্যালয়ে সামনে অবস্থান করতেন। জামায়াতের একটি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক ওই এলাকায় অবস্থান করতো।

বিষয়টিকে সরাসরি তদারকি করতেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল। আর স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করতেন বাড্ডা, গুলশান ও বনানী এলাকার জামায়াতের ৬ জন দায়িত্বশীল। বিশেষ কারণে- এখানে ওই ছয়জনের নাম উল্লেখ করা গেল না।

দেখা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান যেদিন দল বল নিয়ে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করার জন্য গিয়েছিলেন সেদিন গুলশানের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মীকে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। কথা বললে একজন জানিয়েছিলেন, তারা উপরের নির্দেশে এসেছেন। কেউ যদি খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা করে তাহলে তারাও প্রতিরোধ করবেন। এভাবে তারা পুরো তিন মাস নিজেদের লোক দিয়ে গুলশান এলাকার সব খবর নিতেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্যও প্রস্তুত থাকতেন।

পরবর্তীতে স্থানীয় একজন সমন্বয়কের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান- খালেদা জিয়া তাদের জোটের শীর্ষনেতা। তিনি শুধু গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার আদায়ের জন্যই আজ সরকারের রোষানলের শিকার। জোটের অন্যতম শরিক হিসেবে তার বিষয়টি দেখাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তার প্রতি ভালবাসা, বিশ্বাস এবং আস্থা থেকেই আমরা এ ব্যবস্থা নিয়েছিলাম।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌হত্যা গুম খুনের রোল মডেল বাংলাদেশ: আ স ম রব


জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, সরকার সবকিছুতেই রোল মডেলের কথা বলতে বলতে বাংলাদেশ এখন হত্যা-গুম-খুন-ধর্ষণ ও ভোট ডাকাতির রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

নুসরাত, তানিয়াসহ সারাদেশে নারী-শিশু হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতনের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শনিবার জেএসডি আয়োজিত সমাবেশ ও মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রব এসব কথা বলেন।

জেএসডি সহসভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, সিরাজ মিয়া, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, অ্যাড. সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, মোশারফ হোসেন, আবদুর রাজ্জাক রাজা, অ্যাড. সৈয়দা ফাতেমা হেনা, এস এম সামসুল আলম নিক্সন, নুরুল আবছার, শফিকুল ইসলাম, তৌফিক উজ জামান পীরাচা প্রমুখ।

আ স ম রব বলেন, সরকার নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করতে গিয়ে শিক্ষক সমাজের নৈতিকতাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে শিক্ষকদের কাছে আজ ছাত্রীরা নিরপদ নয়। নুসরাতকে শিক্ষক ও সহপাঠিরা মিলে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে, তানিয়াকে ধর্ষণের পর নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিদিন ২-৪ বছরের শিশু থেকে শুরু করে নার্স গৃহবধূ, ছাত্রী-শিক্ষকসহ সর্বস্তরের নারী-শিশু ধর্ষিত, নির্যাতিত ও হত্যার শিকার হচ্ছে। ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি করে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদকে বিদায় করতে হবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌নারী নির্যাতনকারীরা ক্ষমতাসীন দলের বলেই পার পেয়ে যাচ্ছে: রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সারা দেশে পাইকারি হারে নারী নির্যাতন চলছে। যারা এ কাজগুলো করছে, তারা অধিকাংশ ক্ষমতাসীন দলের লোক। আর ক্ষমতাসীন দলের লোক বলেই তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, তারা (নির্যাতনকারীরা) সরকারের আনুকূল্য পাচ্ছে। আর আনুকূল্য পাচ্ছে বলেই এ সামাজিক অপরাধ সরকার ঠেকাতে পারছে না।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধনে এ অভিযোগ করেন রিজভী।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে চলন্ত বাসে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে গণধর্ষণ ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির এ নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার নারী। অথচ কী দুর্ভাগ্যের বিষয়- পাইকারি হারে নারী নির্যাতন চলছে। যখন থেকে তারা ক্ষমতায় এসেছেন তখন থেকে তারা এটা করছে। আর নারী নির্যাতন নির্মূল করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু নির্মূল করা তো দূরে থাক, আমরা অনেক সময় উসকানি দিতে দেখেছি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ সালাউদ্দিন আহমেদের গুম দিবস। আজকে তিনি ভারতে কেন? কারণ তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পরে তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন এবং কয়েকবার এমপিও ছিলেন।
‘কিন্তু এক অন্ধকারের মৃত্যুকূপের মধ্যে তাকে ফেলে রাখা হয়েছে। আজ সেখানে তিনি এক মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এখন তার নামই হয়ে গেছে গুম সালাউদ্দিন।’

রিজভী বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস জীবন দিয়েছিলেন। আর আড়াই হাজার বছর পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য কারাগারে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন পার করছেন। এরপরও তার মাথাকে নত করা যায়নি।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির নেত্রী জেবা খান, হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌‘ বাংলাদেশে এর চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীতে ছিল বলে জানা নেই’


বলা হচ্ছে দেশ উন্নতি হচ্ছে, কিন্তু এই উন্নতির অন্তরালে মানুষ আর্তনাদ করছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের কোনো মানুষ নিরাপদে নেই। এমন অনিরাপদ অবস্থা আমরা ৭১ সালেই দেখেছিলাম। এর বড় উদাহরণ হচ্ছে ধর্ষণ। এসব অন্যায় রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির আয়োজনে ‘শ্রমিক আন্দোলনের একাল সেকাল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

দৃশ্যমান দুর্ভিক্ষ না থাকলেও দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে দাবি করে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আজকে দেশে যে রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে, তার চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীত ইতিহাসে ছিল কি না আমার জানা নেই। আমরা দুর্ভিক্ষ দেখেছি যে দুর্ভিক্ষে অনেক মানুষ মারা গেছে। কিন্তু আজকে বাংলাদেশে দৃশ্যমান কোনো দুর্ভিক্ষ না থাকলেও নীরব দুর্ভিক্ষ আছে।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই শিক্ষাবিদ। বলেন, ‘আমরা দেখেছি, নুসরাত জাহানের ঘটনার সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা জড়িত ছিল এবং সবাই মিলে প্রমাণ করতে চাইল যে নুসরাত আত্মহত্যা করতে চেয়েছে। ইতিমধ্যে একজন নার্সকে বাসের মধ্যে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো।’

তিনি কথা বলেন দেশের আাইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্নীতি নিয়েও। বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন মুক্তিযুদ্ধের ভুয়া সনদে পদোন্নতি নিতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন। অথচ যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে তারাই যদি দুর্নীতি করে তাহলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা কী তা সহজে অনুধাবন করা যাচ্ছে। আমরা পুঁজিবাদের অধীনে দাস হয়ে রয়েছি। এ ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে রাষ্ট্রের মালিক শ্রেণির সঙ্গে শ্রমিক শ্রেণির যে শোষণের সম্পর্ক তা ভেঙে দিতে হবে। বিপ্লবের মাধ্যমে পুরনো রাষ্ট্রকে ভেঙে এমন রাষ্ট্র করতে হবে, যে রাষ্ট্র মানবিক হবে, যেখানে নারী ধর্ষিত হবে না, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের নামে প্রতারণা করবে না কেউ।’

আলোচনা সভায় শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী এবং শাহ আতিউল ইসলামকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ ‌২০ দলীয় জোট রক্ষায় কত জীবন ও রক্ত দিয়েছে জামায়াত?


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্যই ১৯৯৯ সালের ৩০ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট। এই জোট গঠনে মূলত মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির অধ্যাপক গোলাম আযম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে তখন গঠিত হয়েছিল ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলসহ আরও কয়েকটি সংগঠন নিয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য।

চারদলীয় জোট আর সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের আন্দোলনের মুখে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। তখন থেকেই মূলত আওয়ামী লীগ ও ভারত আস্তে আস্তে জামায়াতের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ২০০১-৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে ব্যাপক অপপ্রচার চালায় আওয়ামী লীগ। এছাড়া, বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধার কারণে জামায়াতের ওপর একটা চরম প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগের অপেক্ষায় থাকে আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙ্গার কাজে হাত দেয় আওয়ামী লীগ। এজন্য প্রথমেই তারা ২০১০ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আর ভারতের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এদেশে সবার আগে মাঠে নামে জামায়াত। সেজন্য ভারতের পক্ষ থেকেও জামায়াতকে দুর্বল করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

এদিকে, জামায়াত যখন বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে না আসার সিদ্ধান্তে অটল থাকে তখনই সরকার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথিত মামলায় জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে আটক করে।

ওই সময় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কথিত মামলায় গ্রেফতারের পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদেরকে বলা হয়েছে যে, বিএনপি থেকে আপনারা বেরিয়ে আসলে আপনাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। অন্যথায় যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হবে। কিন্তু, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখন সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি। দল এবং তাদের জীবন ঝুকির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কার পরও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন।

এরপরই শুরু হয় একের পর এক শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাদের মামলা। সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয় শীর্ষনেতাদেরকে। চরম মিথ্যাচার ও বানোয়াট সাক্ষীর মাধ্যমে তারা প্রথমেই অন্যায়ভাবে বিচারের নামে হত্যা করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মোল্লাকে। জানা গেছে, আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার আগেও সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপি জোট ছাড়ার জন্য জামায়াতকে বলা হয়েছে। কিন্তু জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখনো কোনো আপোস করেননি।

এরপর একে একে হত্যা করা হয়েছে জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে। সকলকে ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেও যখন বিএনপি থেকে জামায়াতকে আলাদা করতে পারেনি তখন সরকার জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি, নিবন্ধন বাতিলের আগেও সরকার জামায়াতকে বলেছিল বিএনপি ছাড়ার জন্য।

আর জোটে থাকার কারণেই যে সরকার জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়েছে সেটা বিএনপিও বুঝতে পেরেছে। খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে বিএনপির একাধিক শীর্ষনেতা ওই সময় প্রায় প্রতিদিনই বলতেন যে, শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণেই জামায়াত এখন যুদ্ধাপরাধী। বিএনপি জোট থেকে জামায়াত চলে গেলেই সরকার তাদের ওপর আর নির্যাতন করবে না। কাউকে ফাসিতেও ঝুলাবে না। বিএনপি নেতা হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খন্দকার মোশাররফ হোসেন একাধিক বার বলেছেন যে, ৯৬ সালের নির্বাচনের আগে যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াত বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল তখন তারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আর এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোট বাঁধার কারণেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধীর দল হয়ে গেছে।

অপরদিকে, বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণে জামায়াত শুধু তাদের শীর্ষনেতা এবং নিবন্ধনই হারায়নি। বিগত ১১ বছর ধরে সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে দলটির সারাদেশের নেতাকর্মীরা। জামায়াত-শিবিরের সহ¯্রাধিক মেধাবী নেতাকর্মীকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রিমান্ডের নামে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। বলা যায়-শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণে সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এখন ঘর ছাড়া। কেউ বাসায় থাকতে পারেনি। বিগত ১১ বছরে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মীর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরিচ্যুত হয়েছেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এত নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও নিজেদের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি জামায়াত।

এখনো জামায়াতের প্রত্যাশা, ২০ দলীয় জোট টিকে থাকবে এবং এই জোটের আন্দোলনের মাধ্যমে একদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে। মুক্ত হবে গণতন্ত্র, মানুষ ফিরে পাবে তাদের মৌলিক অধিকার। অবসান ঘটবে দুঃশাসনের।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌মদ খেয়ে মাতলামি: ক্ষমা চাইলেন আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান


ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির একটি অনুষ্ঠানে হুইস্কি খেয়ে নারীকে জড়িয়ে ধরার জন্য অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন টকশো ব্যক্তিত্ব,আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান। এক নারীকে জড়িয়ে ধরার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এর ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের ফেসবুকে ক্ষমা চান তিনি। জানান, প্রায় ৫ বছর পর হুইস্কি খাওয়ায় তিনি অজান্তে এই মাতলামি করে ফেলেন। এজন্য তিনি ক্ষমা চান।

নাঈমুল ইসলামের ফেসবুক পোষ্টটি নতুন দিগন্তের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

“নাসিমা খান মন্টির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টির কাছে আমি নাঈমুল ইসলাম খান নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। গত ২ মে বৃহস্পতিবার ওয়েস্টিন হোটেলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমি অত্যন্ত অনভিপ্রেত, অন্যায় করেছি।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ উপর্যুপরি অনুরোধ করলে আমি ঈষৎ গরম পানি দিয়ে ২ পেগ হুইস্কি পান করি। ৫ বছরেরও বেশি সময় পর প্রায় অনভ্যস্ততার পর্যায়ে ২ পেগ হুইস্কি সম্ভবত আমাকে বেসামাল করে ফেলে। এমন ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘরের আলো আধারি মোহনীয় পরিবেশে আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টিকে কখন যে আমি জড়িয়ে ধরে আমার কাছে টেনে নিয়েছি তখন বুঝতে পারিনি।

কিন্তু উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরদিন শুক্রবার দিন শেষে ঘূর্ণিঝড় ফণী যেভাবে বাংলাদেশে ঝড়বৃষ্টি নিয়ে এসেছে, প্রায় তেমনিই আমার এই অসদাচরণের ছবি ঝড়ো হাওয়া ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অনেক ছবির মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে আমি নাসিমা খান মন্টিকে জড়িয়ে অনেকখানি আমার দিকে কাত করে ফেলেছি। কয়েকটি ছবি বিশ্লেষণে এটা পরিস্কার যে, নাসিমা খান মন্টিকে আমি সম্ভবত নিশানা করে বার বার জড়িয়ে ধরেছি, বিরক্ত করেছি। মন্টির বিনা অনুমোদন এবং বিনা আগ্রহে আমার এই আচরণ খুবই অনুচিত হয়েছে সেটা এখন আমি উপলব্ধি করি।

আত্মপক্ষ সমর্থনে আমার কিছুই বলার নেই। একটি সুন্দর অনুষ্ঠানকে এভাবে অনেকের জন্য অস্বস্তিকর করে তোলায় আমি যারপরনাই লজ্জিত। এমন ঘটনার পুনরাবৃতি যেন না হয় সে জন্য আমি সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

আপনাদের পক্ষে সদয় বিবেচনা করে আমাকে ক্ষমা করা যেন সহজ হয় তার সুবিধার্থে সেই রাতের, সেই ঘটনার কিছু দালিলিক ছবি এখানে যুক্ত করা হচ্ছে।”

উৎসঃ ‌‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সাহসী কোনো বিচারপতি এখন বাংলাদেশে নেই!


রাষ্ট্রের চারটি অঙ্গের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো বিচার বিভাগ। আর বাংলাদেশে নির্বাহী বিভাগের পরই বিচার বিভাগের স্থান। বিচার বিভাগ একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। বিচার বিভাগের এই স্বাধীনতা নিয়ে এখন শুধু রাজনৈতিক অঙ্গন বা বিশিষ্টজনদের মধ্যেই প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে না, দেশের সাধারণ নাগরিকও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আর এই প্রশ্ন তোলার পেছনেও যৌক্তিক কারণ রয়েছে।

দেখা গেছে, বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিগত ১০ বছরের শাসনামলে দেশের নি¤œ আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত চলছে সরকারের নিয়ন্ত্রণে। একটি মামলা পরিচালনা থেকে শুরু করে রায় প্রদান, জামিন ও কারামুক্তি সবই হচ্ছে সরকারের ইশারায়। বিশেষ করে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে কার মামলার রায় কি হবে? সাজা হবে কত বছরের? কারাগারে পাঠানোর পর জামিন পাবে কিনা? জামিন পাইলেও মুক্তি পাবে কিনা সবই হচ্ছে সরকারের নির্দেশে।

আর উচ্চ আদালতের কোনো রায় যদি সরকারের বিপক্ষে চলে যায় তাহলে বিচারপতিদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়া হয়। যেমন, সংসদ কর্তৃক বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত ধারা বাতিলের রায়ের পর যা ঘটেছে তা ছিল নজিরবিহীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সরকারের এমন কোনো মন্ত্রী-এমপি বাদ ছিল না যারা সংসদে দাঁড়িয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে গালি দেয়নি। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এক পর্যায়ে তারা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে।

এরপর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে উচ্চ আদালতে যা ঘটছে তাও নজিরবিহীন। সরকারি দলের সন্ত্রাসী, খুনী, দুর্নীতিবাজরা জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসলেও কথিত দুর্নীতি মামলায় আটক খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন না। এই হলো বর্তমান স্বাধীন বিচার বিভাগের খন্ড চিত্র মাত্র।

কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, এই আদালতের বিচারপতিরাই স্বাধীনভাবে মামলা পরিচালনা করেছেন। রায়ও প্রদান করেছেন স্বাধীনভাবে। এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রায় দিতেও তারা কোনো প্রকার কোণ্ঠাবোধ করেন নি।

যেমন, ২০০০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সংবাদ সম্মেলনে আদালতের রায় নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। পরে অন্য একটি মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে সুপ্রিমকোর্টের ফুল বেঞ্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘রং হেডেড ওম্যান’ অর্থাৎ মাথা খারাপ মহিলা বলে মন্তব্য করেছিলেন।

সেই রায়গুলো আজ মানুষের কাছে স্বপ্ন। কারণ, এখন দেশের বিচার বিভাগ আর আগের মতো স্বাধীন নয়। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা প্রায় প্রতিদিনই বিচারপতিদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করছেন। কিন্তু তাদেরকে যে আদালতে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাস করবে সেই সাহস বর্তমানে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের নেই।

গত সপ্তাহে খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফোনে যা বলেছেন তা স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য অপমানজনক। খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে কি পাবে না সেটা দেখার দায়িত্ব বিচারপতিদের। কিন্তু শেখ হাসিনা রায় দিয়ে দিলেন খালেদা জিয়া আজীবন মুক্তি পাবেন না।

আইনজ্ঞরা বলছেন- শেখ হাসিনার এই বক্তব্য চরম আদালত অবমাননা। কিন্তু, আদালত অবমাননা হলেই বা আর কি। এখন আর সেই বিচারপতি নেই যারা প্রধানমন্ত্রীকে রং হেডেড বলে আখ্যা দেবেন।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here