পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরে অগ্রাধিকারে নেই তিস্তা ইস্যু

0
475

যোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী এবং দুই দেশের জনগনের মধ্যে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উপায়সহ সার্বিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রথম বিদেশ সফরে বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী দেশ হিসাবে ভারত যাওয়ার কথা জানান। এরপর এই সফরে তিস্তা ইস্যু প্রাধান্য পাবে কিনা – এই প্রশ্নের জবাবে একাধিকার বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনো ইস্যু নিয়ে তিনি ভারত যাচ্ছেন না। এ সফর হবে সৌহার্র্দ্য ও সম্প্রীতির।

ভারতের সিকিম রাজ্যে হিমালয় থেকে সৃষ্ট ৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তা নদীটি পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। বাংলাদেশ অববাহিকার ১২৫ কিলোমিটার অঞ্চলের জীবনধারা এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌশুমে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় বিশেষ করে রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধাসহ বিস্তৃর্ণ এলাকার কৃষকরা বিপাকে রয়েছেন। এ সব এলাকার চাষাবাদ মূলত তিস্তার পানি প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। পানির অভাবে কৃষির পাশাপাশি পরিবেশও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। নদীতে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে শুষ্ক মৌশুমে পাঁচ হাজার কিউসেক পানি থাকার কথা থাকলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০০ কিউসেক।

গজলডোবায় স্থপিত বাঁধের মাধ্যমে তিস্তার পানির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ভারত। এই বাঁধের মাধ্যমে শুষ্ক মৌশুমে নদী থেকে পানি পশ্চিমবঙ্গের চাষাবাদযোগ্য এলাকায় প্রবাহিত করা হয়, অর্থাৎ প্রত্যাহার করা হয়। আর বর্ষা মৌশুমে বাঁধের গেইটগুলো খুলে পানি ছেড়ে দেয়া হয়।

ইতোপূর্বে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকা ইস্যু তিস্তার পানি বন্টন চুক্তিটি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে পড়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যাণার্জির অনমনীয় মনোভাবের কারণে বছরের পর বছর ধরে অনিষ্পন্ন এই ইস্যুটি ঝুলে রয়েছে। এ কারণে তিস্তার ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশের বিস্তৃর্ণ অঞ্চলের মানুষকে খেসারত দিয়ে যেতে হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে এই দুর্ভোগ লাঘব হবে – এমন আশাও ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে।

সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা তিস্তার পানি বন্টনের ১৫ বছর মেয়াদি অন্তর্বর্তীকালিন চুক্তিতে ভারতের জন্য ৪২ দশমিক পাঁচ শতাংশ, বাংলাদেশের জন্য ৩৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং বাকী ২০ শতাংশ পানি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের জন্য রাখা হয়েছিল। ২০১১ সালে সেপ্টেম্বরে মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এই চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মমতা ব্যাণার্জি শেষ মুহুর্তে বেঁকে বসায় এই আয়োজন ভেস্তে যায়। পাল্টা হিসাবে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ভারতকে ব্যবহার করতে দেয়ার সম্মতিপত্র সই করা থেকে বিরত থাকে বাংলাদেশ।

ভারত তার ভূমিবেষ্ঠিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জন্য বাংলাদেশের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ট্রানজিট চেয়ে আসছে। তিস্তার পানি বন্টনে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ট্রানজিটকে ট্রাম্প কার্ড হিসাবে হাতে রেখেছিল বাংলাদেশ। ভারত বারবার বাংলাদেশকে বোঝাতে চেষ্টা করছে দুই দেশের সম্পর্ক কেবলমাত্র একটি ইস্যুতে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এখন অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করে ভারত ও বাংলাদেশ। এর এ জন্য তিস্তা ইস্যুতে নমনীয় হয়ে বাংলাদেশকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যান্য দিক নিয়ে অগ্রসর হতে হচ্ছে। গত অক্টোবরে দিল্লিতে নৌ পরিবহন সচিব পর্যায়ে বৈঠকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারে ভারতের সাথে চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের পর এর বিধি-বিধান (এসওপি) প্রণয়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

২০১৫ সালের জুনে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকালে ভারতকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকসহ (এমওইউ) রেকর্ড সংখ্যক চুক্তি সই হয়। ২০১৭ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফরে যান। এ সময় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, ডিফেন্স লাইন অব ক্রেডিট এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মধ্যে এমওইউসহ ২২টি চুক্তি সই হয়। সফরকালে নরেন্দ্র মোদির সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের জানুয়ারিতে দু’দেশের সম্মতি অনুযায়ী তিস্তার পানি বন্টন নিয়ে একটি অন্তর্বতীকালীন চুক্তি করতে নয়াদিল্লির প্রতি অনুরোধ জানান। জবাবে মোদি বলেন, এ ব্যাপারে দ্রুত চুক্তি সম্পাদনে তার সরকার ভারতের সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর মমতার উপস্থিতিতে মোদি ঘোষণা দেন, দুই দেশের বর্তমান সরকারের ক্ষমতার মেয়াদেই তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি হবে। কিন্তু একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। ভারতের জাতীয় নির্বাচনও সামনে। কিন্তু তিস্তা চুক্তি হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ভারতের নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশও হয়ত এই ইস্যুতে দিল্লির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে না।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ আবারও বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের লাশ সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলল


দুজনকে গুলি করে হত্যার সাত দিন পর এবার ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় মো. বাবু (২১) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

সোমবার বিকালে এবার ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ও জগদল সীমান্তের ৩৭৩/ ২-এস পিলারের বিপরীতে এ ঘটনা ঘটে। তার লাশ কাঁটাতারে ঝুলছিল।

নিহত বাবু হরিপুর উপজেলার গেদুরা ইউপির মরাধার গ্রামের একরামুল হকের ছেলে।

এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাণীশংকৈল থানা ওসি আবদুল মান্নান।

এর আগে ফেলানীর লাশও কাটাতারে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানান, ভারতের পানিপথ এলাকার নারায়ণ চন্দ্রের ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করছিল বাবু। কাজ শেষে সোমবার বিকালে বাড়ি ফেরার পথে বাংলাদেশের ধর্মগড় ও জগদল সীমান্তের ৩৭৩/ ২-এস পিলারের বিপরীতে ভারতের শ্রীপুর বিএসএফের জওয়ানরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলে ওই যুবক মারা যান। তার লাশ সীমান্ত কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলছিল।

বিজিবির ঠাকুরগাঁও-৫০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, খবর জেনেছি। তবে এ বিষয়ে দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীদের মধ্যে পতাকা বৈঠক ডাকা হয়েছে।

এর আগে ১৮ জানুয়ারি জেলার রানীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় সীমান্তে জাহাঙ্গীর আলম (২১) বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। এর চার দিন পর হরিপুর উপজেলার মিনাপুর সীমান্তে মো. জেনারুল হক (২২) নামে আরেক বাংলাদেশি যুবক বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে তাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। ভারতের ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ জওয়ান অমীয় ঘোষের গুলিতে নিহত হন ফেলানী।

কাঁটাতারে ফেলানীর লাশ ঝুলে থাকার দৃশ্য দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে উঠে এলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দাবির মুখে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারের বিএসএফের বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার বিচারকাজ শুরু হয়। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমীয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। বিএসএফের বিশেষ আদালতে মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার না পেয়ে ২০১৫ সালে ভারতের উচ্চ আদালতে রিট করেন বাবা নুরুল ইসলাম। এখনও মামলাটি বিচারাধীন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন


প্রায় দুই মাস কারাভোগের পর জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে চাঁদপুর জেলা কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

মিলনের প্রধান আইনজীবী কামরুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলায় বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় গত বছরের ২৩ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয়। পরে এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন চাইলেও তা নাকচ হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টে দিন কয়েক আগে এ ১৮টি মামলা উপস্থাপিত হলে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাকে সবগুলো মামলাতেই জামিন দেয়।

ওই জামিননামা সোমবার চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সরওয়ার আলমের আদালতে উপস্থাপন করা হলে মিলনকে মুক্তি দিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

গত বছরের ২৩ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রামের চট্টেশ্বরী রোডে এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল।

আইনজীবী কামরুল জানান, মিলন জেলে থাকার কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের একজন প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক দু’বারের এমপি। এবারও তিনি জেলে থাকা অবস্থায়ই বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং জমা দেন। কিন্তু দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, মিলনকে ২০১০ সালের ১৪ মার্চ মান্নান মাস্টার হত্যা মামলা, ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা দেখিয়ে আটক করলে তিনি ১৪ মাস ২৬ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন। পরে তিনি চিকিৎসা এবং ওমরা হজ করতে মালয়েশিয়াসহ বিদেশে অবস্থান করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছু দিন আগে মিলন বাংলাদেশে আসলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ কলঙ্কজনক পথেই আওয়ামী লী‌গের বিজয়: বাম জোট


আওয়ামী লীগের অতি বিজয় ঘৃণ্য ও কলঙ্কজনক পথে অর্জিত হয়েছে ব‌লে মন্তব্য ক‌রে‌ছেন বাম গণতান্ত্রিক জো‌টের নেতৃবৃন্দ।

সোমবার (২৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হো‌সেন মা‌নিক মিয়া হ‌লে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ‘নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির নির্বাচন: গণশুনানীর অভিজ্ঞতা নাগরিক সমাজের ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফলশ্রুতিতে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছি। পৃথিবীর দুইশোটি দেশের মধ্যে পঞ্চাশটি দেশে গণতন্ত্র আছে। বাকিগুলোতে স্বৈরতন্ত্র চলছে। বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মিছিলে ঢুকে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি অবস্থায় নিহত হন। কেউ বলতে পারবে না কোন নির্বাচনে তিনি রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ভয় এবং লোভ ব্যবহার করে নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গদের দুর্নীতিগ্রস্থ করেছে। তিনি এ ধরণের দুর্নীতিগ্রস্থ নির্বাচন ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুর জন্য সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অতি বিজয় অর্জিত হয়েছে ঘৃণ্য ও কলঙ্কজনক পন্থায়। বাংলাদেশ অন্ধকার পথে প্রবেশ করেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে আমাদের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটাতে হবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে পূর্ব পরিকল্পিত পদ্ধতিতে নির্বাচনে অতি বিজয় অর্জন করেছে। ব্যাংক মালিক আর পোশাক কারখানা মালিকদের সমিতির প্রত্যক্ষ মদদে, আন্তর্জাতিক শক্তিসমূহের সহযোগিতায় জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে আওয়ামী লীগের এ বিজয়।’

তিনি বলেন, ‘ভোট ডাকাতির নির্বাচনে বিজয়ী সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে শেয়ারবাজার লুটেরাকে বেসরকারি খাত উপদেষ্টা করেছে। বিদেশিদের সাথে মিলে জ্বালানি খাতে লুটপাটকারীকে করা হয়েছে জ্বালানি উপদেষ্টা। এ দিয়েই বোঝা যায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম কেমন হবে।’

তিনি বাম জোটের নেতা-কর্মীদের ভোট ডাকাত সরকার এবং তাদের জাতীয় সম্পদ লুটপাটের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন সহিংসতা অপেক্ষাকৃত কম হয়েছে। কিন্তু সহিংসতা চলেছে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই। এ হচ্ছে প্রলম্বিত সহিংসতা। ভয় ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করে নির্বাচিত হওয়ার ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা করেছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।’

সুজনের সমন্বয়কারী দিলীপ সরকার নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার দাবি করে জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালুর পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে বাম জোটের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)’র আহ্বায়ক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন প্রমুখ।

মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ। গত সংসদ নির্বাচনে বাম জোটের উপস্থিত প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, জোনায়েদ সাকি, জলি তালুকদার, শম্পা বসু প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রে‌কিং‌নিউজ

আরও পড়ুনঃ কুমিল্লায় ৩কেজি গাজার টাকা নিয়ে ১কেজি দেয়ায় ৯৯৯ এ ফোন দিলো নারী ব্যবসায়ী!


কুমিল্লায় ৩কেজি গাজার টাকা নিয়ে ১কেজি দেয়ায় ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পরে এক নারী মাদক ব্যবসায়ী। আজ ভোর ৬টা কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার এস আই মোঃ জাকির হোসেনের কাছে ফোন আসে জরুরি পুলিশ সেবা ৯৯৯ থেকে।

জানানো হয় ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে এক নারী গাঁজা ব্যাবসায়ী রয়েছে। সারারাত ডিউটি শেষে থানায় ফিরেছেন মাত্র। রেস্ট নেয়ার সময় হলোনা তার। ফোর্স সহ ছুটে গেলেন আসামী ধরতে। তবে ঘটনাটা যে এমন হতে পারে তা ঘুনাক্ষরেও আন্দেজ করতে পারেন নি তিনি। পুলিশ আসার আগেই স্থানীয় পাইকারি মাদক কারবারি পালিয়ে যায়।

তবে পুলিশে সাহায্য চেয়ে ৯৯৯ এ ফোন দেয়া খুচরা ব্যাবসায়ী নারী সালমা বেগম (৪০) কে আটক করে পুলিশ।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, গাঁজা ব্যাবসায়ী সালমা বেগম থাকেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। স্বামীর নাম জসিম উদ্দিন। আসল বাড়ি বরিশালের মুলাদীতে। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার সীমান্ত এলাকার মাদক ব্যাবসায়ী আব্দুল রহিমের কাছ থেকে গাঁজা কিনে নিয়ে বিক্রি করেন তিনি ও তার স্বামী। ঘটনার দিন গতকাল শনিবার সকালে ৩কেজি গাঁজার জন্য রিহিম টাকা দেয় সালমা।

তিন কেজির টাকা নিয়ে তাকে গাঁজা দেয় এক কেজি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাকবিতণ্ডা হয় রহিমের সাথে। এক পর্যায়ে জরুরি পুলিশ সেবা ৯৯৯এ ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানায় সালমা । তাৎক্ষণিক ব্রাহ্মণপাড়া থানায় জানানো হয় ৯৯৯ থেকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কৌশলে সটকে পরে পাইকারি ব্যাবসায়ী রহিম মিয়া। এক কেজি গাঁজা সহ আটক করা হয় সালমা বেগম কে।

এবিষয়ে এস আই জাকির হোসেন জানান, ধৃত আসামী সালমা ও পলাতক মাদক কারবারি শশিদল এলাকার আবুল হোসেনের পুত্র আব্দুল রহিম কে আসামী করে ব্রাহ্নণপাড়া থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ৯৭১।

উৎসঃ ‌বাংলাদেশ টুডে

আরও পড়ুনঃ ‘৩কেজি গাজার টাকা নিয়ে ১কেজি দেয়ায় পুলিশকে ফোন দিয়ে নিজেই ধরা খেল নারী ব্যবসায়ী!’

ভোর ৬টা কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার এস আই মোঃ জাকির হোসেনের কাছে ফোন আসে জরুরি পুলিশ সেবা ৯৯৯ থেকে। জানানো হয় ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে এক নারী গাঁজা ব্যাবসায়ী রয়েছে। সারারাত ডিউটি শেষে থানায় ফিরেছেন মাত্র। রেস্ট নেয়ার সময় হলোনা তার। ফোর্স সহ ছুটে গেলেন আসামী ধরতে। তবে ঘটনাটা যে এমন হতে পারে তা ঘুনাক্ষরেও আন্দাজ করতে পারেন নি তিনি। পুলিশ আসার আগেই স্থানীয় পাইকারি মাদক কারবারি পালিয়ে যায়। তবে পুলিশে সাহায্য চেয়ে ৯৯৯ এ ফোন দেয় খুচরা ব্যাবসায়ী নারী । সালমা বেগম (৪০) কে আটক করে পুলিশ।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, গাঁজা ব্যাবসায়ী সালমা বেগম থাকেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। স্বামীর নাম জসিম উদ্দিন। আসল বাড়ি বরিশালের মুলাদীতে। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার সীমান্ত এলাকার মাদক ব্যাবসায়ী আব্দুল রহিমের কাছ থেকে গাঁজা কিনে নিয়ে বিক্রি করেন তিনি ও তার স্বামী। ঘটনার দিন গতকাল শনিবার সকালে ৩কেজি গাঁজার জন্য রহিমকে টাকা দেয় সালমা। তিন কেজির টাকা নিয়ে তাকে গাঁজা দেয় এক কেজি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাকবিতণ্ডা হয় রহিমের সাথে। এক পর্যায়ে জরুরি পুলিশ সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানায় সালমা । তাৎক্ষণিক ব্রাহ্মণপাড়া থানায় জানানো হয় ৯৯৯ থেকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কৌশলে সটকে পরে পাইকারি ব্যাবসায়ী রহিম মিয়া। এক কেজি গাঁজা সহ আটক করা হয় সালমা বেগম কে।

উৎসঃ ‌কুমিল্লা নিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here