তানিয়ার পরিবারের পাশে আফরোজা আব্বাস : খালেদা ও তারেকের নির্দেশে এসেছি

0
242

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ শেষে হত্যার শিকার ইবনে সিনা হাসপাতালের নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। সোমবার সকালে তিনি ঢাকা থেকে কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে উপস্থিত হয়ে নিহত শাহিনুরের শোক সন্তপ্ত পরিবারের খোঁজ খবর নেন। এ সময় তার পিতা গিয়াস উদ্দিনকে শান্তনা দিয়ে আফরোজা আব্বাস বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের পাশে আছেন। ধৈর্য ধরুন, আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করবেন।

তিনি আরও বলেন, দেশে একের পর এক খুন, গুম, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। কিন্তু দেশে আজ গণতন্ত্র নেই বলে কোন অপরাধীদের সঠিক বিচার হচ্ছে না। অথচ রাজনৈতিক কারণে প্রহসনের বিচার দেখিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে। দেশ আজ এক চরম সংকটের মধ্যে আছে। বিনা ভোটের সরকার যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে। আমি সকল গুম, খুন, ধর্ষনের বিচার দাবি করি। দলের চেয়ারপারর্সন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে বলেছেন নিহত নার্স শাহিনুরের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তার পরিবারের খোঁজ খবর নেয়ার জন্য। আমি সেহরি ও ফজরের নামাজ শেষে ঢাকা থেকে রওনা দেই। তিনি শাহিনুরের পিতার হাতে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়ে বলেন, আমি আপনাদের খোঁজ খবর রাখবো। স্থানীয় নেতা কর্মীরা আছে, তারা আপনার খোঁজ খবর রাখবেন।

এ সময় আফরোজা আব্বাসের সাথে ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজাহারুল ইসলাম, সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খাঁন দিলীপ, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, জেলা বিএনপি সদস্য গোলাম ফারুক চাষী, বিএনপি নেতা মন্টু মিয়া, লোহাজুরী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি সাইফুল মতিন জুয়েল, পৌর বিএনপি নেতা আশরাফুল হক দাদন, জেলা যুব দলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফ, সেক্রেটারী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, যুবদল নেতা শাহীন, সাজ্জাদ হোসেন, জীবন চন্দ্র দাশ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ মিয়া, সেক্রেটারি নেভিন, উপজেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্র দলের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, গত ৬ মে সোমবার রাতে স্বর্ণলতা পরিবহনে ঢাকার এয়ারপোর্ট কাউন্টার থেকে কটিয়াদী হয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের বিলপাড় গজারিয়া নামক স্থানে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে নৃশংস ভাবেহত্যা করা হয়।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌‘সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ শেষ পর্যন্ত সত্যকে সত্য বলে গেছেন’


সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ ছিলেন একজন নির্ভিক সাংবাদিক। অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন অকৃপণভাবে। সকল ভয় ভীতির উর্ধে মাহফুজ উল্লাহ সব সময় সকলের ঐক্যের কথাই বলে গেছেন। তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্মের মধ্যে। তাঁর পছন্দের দল ছিল, মত ছিল কিন্তু তিনি অন্যের মতের ছিলেন শ্রদ্ধাশীল। আজ জাতীয় প্রেসকাবে বরেণ্য সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ স্মরণে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয় তলায় সকাল ১১টায় এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। নাগরিক এ শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান। এছাড়াও উপস্থিতি ছিলেন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা। মাহফুজ উল্লাহ গত ২৭ শে এপ্রিল থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, মাহফুজ উল্লাহর পরিচয় আমার অনেকদিনের। তার ভাইও আমার অনুজ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পরে আমি প্রথম যাকে খুঁজেছি তিনি হলেন মাহবুব উল্লাহ। তারা দুই ভাই ছিল এক বৃন্তে দুই ফুলের মত। কিছুদিন আগে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তিনি আজ থাকলে আমাদের সাহস দিতে পারতেন। আল্লাহ মাহফুজ উল্লাহর মত একজন গুনী মানুষকে দিয়েছেন এজন্য আমাদের শুকরিয়া করতে হবে। তার মূল অবধান হচ্ছে পরিবেশ সাংবাদিকতা। পারিবেশ সাংবাদিকতায় অনেকদিন অমর হয়ে থাকবেন। সেইসঙ্গে তিনি ছিলেন বিশিষ্ট লেখক। তার লেখায় অত্যন্ত বিচক্ষণ ছিলেন। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আমার সৌভাগ্য হয়েছিল মাহফুজ উল্লাহ ভাইকে টকশোতে আনার। তিনি যুক্তিতে কথা বলতেন। যারা তার সঙ্গে মতপার্থক্য ছিলেন তারাও আজ এখানে এসেছেন। তার সঙ্গে আমারও মতপার্থক্য ছিলো তবুও তার সঙ্গে ঝগড়া করা যেত তিনি তা খুব সহজে হাসি দিয়ে গ্রহণ করতেন।

বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মাহফুজ উল্লাহ এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন এটা ভাবতেও পারিনি, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যপার। চলে যাওয়ার কিছুদিন আগে একটা সভায় এসেছিলেন। সেখানে তিনি বিএনপির কঠিন সমালোচনা করেছিলেন। এটাই ছিল তার বড় গুন, তিনি সত্যকে সত্য বলতেন।

বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেন, মাহফুজ উল্লাহকে আমি জানি ছাত্র অবস্থা থেকে। তিনি অনেক লিখেছেন, এরমধ্যে একটি লেখায় তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তা হচ্ছে ছাত্র ইউনিয়নের ইতিহাস।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, মাহমুজ উল্লাহ আমাদের মাঝে চিরজীবী হয়ে থাকবেন। আমি মাহফুজ উল্লাহকে কাছ থেকে দেখেছি। এখানে আজ বিভিন্ন মতের মানুষ এসেছেন, এটা একটা ঐক্য। এটাই চেয়েছেন মাহমুজ উল্লাহ। সব মহলের লোক আজ এখানে এসেছেন, ওনাকে সম্মান জানাতে এসেছে কারণ তিনি ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেছেন। তাকে শ্রদ্ধা জানাতে আমি আসতে পেরে মনে করছি আমাদের নিরাশ হবার কোনো কারণ নেই। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবার ষাটের দশকের একত্র হই। বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের কোনো জায়গা নেই, যারা মনে করে তারা আহম্মকের স্বর্গে বাস করে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিকদল (জাসদ)’র সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, মাহফুজ উল্লাহর সঙ্গে আমার পরিচয় ষাটের দশক থেকে। আমার ঘণিষ্ট বন্ধু ছিলেন। এই এমুহূর্ত মাহফুজ উল্লাহকে দরকার ছিল তখন তিনি ছেড়ে গেলেন। কোনো হুমকি ভয়ভীতি মাহফুজ উল্লাহর কাছে পৌঁছাতে পারেনি। মৃত্যুর সময় আত্মতুষ্টি নিয়ে যেতে পারেননি। মাহফুজ উল্লাহ জনগণের ঐক্য ও আন্দোলনের কথাই বলে গেছেন ।

বিশিষ্ট সাংবাদিক নুরুল কবির বলেন, মাহফুজ উল্লাহ ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিলো। তার যে বৈশিষ্ট ছিল তা তিনি শেষদিন পর্যন্ত অক্ষুন্ন রেখে ছিলেন।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, আজ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। আমি জেলে যাওয়ার দুইদিন আগে কথা বলেছিলাম। তিনি বললেন, তাহলে একটা কনফারেন্স করব, আমি বললাম দরকার নেই। তিনি মুখে হাসি রেখেই অনেক সত্য কথা বলতেন। আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় সত্য কথা বলার সুযোগ নেই। মাহফুজ উল্লাহ সাহস করে অনেক কথা বলেছেন। জাতীয়তাবাদী স্বাধীন সত্তা ছিলেন, এক্ষেত্রে তিনি অনেকটাই কথা বলতে পেরেছেন।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, মাহফুজ উল্লাহ কোনো দলের অনুগত ছিলেন না। তার পছন্দের দল ছিল, মত ছিল। তিনি একটা ভারসাম্য রেখে কথা বলতেন। মাহফুজ উল্লাহ ছিলেন অন ম্যান আর্মি ।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মাহফুজ উল্লাহ পাবলিক কনফারেন্সে তিনি ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছেন। তিনি হেসে হেসে কথা বলে গেছেন। সত্যকে সত্য বলে গেছেন। বইয়ের মাধ্যমে সঠিক ইতিহাস লিখে গেছেন।

গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জাফর উল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশ একজন স্বীকৃত পেশাজীবীকে হারিয়েছে। তার শেষ বই দুইটা কি ধরণের গবেষণাধর্মী। সেখানে তিনি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি ওসমানীকে নিয়ে বই লিখতে শুরু করেছিলেন ।

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মাহফুজ উল্লাহ নিজের মতের সঙ্গে অন্যের মতকে সম্মান জানাতেন।

প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, এমন নির্ভিক সত্যকে সত্য বলার সাংবাদিক খুব কম। তিনি মেরুদণ্ড সোজা করে হাঁটতেন। তার মত সাংবাদিক পাওয়া দুষ্কর। তিনি মানুষ হিসেবেও ছিলেন অনন্য একজন ভালো মানুষ। তিনি মানুষকে ভালোবাসতেন, ভালোবাসা জানাতেন। তিনি চিন্তা চেতানায় অনেক অগ্রগামী ছিলেন।

পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. সাদাত হোসেন বলেন, মাহবুব উল্লাহর ছোট ভাই হিসেবে আমাদের কাছে আসতো। ওই সময় থেকে আমাদের ছেড়ে কথা বলতো না। তিনি সাংবাদিকতায় এসেও যুক্তির নিরিখে কথা বলে গেছেন। টকশোতে মাহফুজ উল্লাহ কোনো ভয়ে কথা বলতো না। মাহফুজ উল্লাহর কথায় আমি মুগ্ধ হয়ে থাকতাম, তার কাছ থেকে আমি শিখেছি। মাহফুজ উল্লাহ অনন্য সাধারণ ব্যক্তি ছিলেন।

অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, মাহফুজ উল্লাহকে আমি ছোটভাই হিসেবে জানতাম। তিনি এত দ্রুত চলে যাবেন ভাবতেও পারিনি । তিনি ছিলেন অত্যান্ত সবচ্ছতার অধিকারী, তাকে এই মুহূর্তে খুব দরকার ছিল।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, যে দেশে মুক্তচিন্তা নেই সেখানেও তিনি যুক্তি দিয়ে সত্যকে বলার চেষ্টা করছেন। যে সমাজে কথা বলা ছিলো কঠিন তিনি সেখানেও যুক্তি দিয়ে কথা বলেছেন। এ দেশে তিনি কথা বলার জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অত্যন্ত সজ্জন একজন ব্যক্তি ছিলেন। আমরা একই রাজনীতি করেছি। মাহফুজ উল্লাহর টকশোর কথায় আমি ছিলাম মুগ্ধ। তার বইগুলো এত সুন্দর ছিলো যা প্রশংসনীয়।

সিপিডি ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাহফুজ উল্লাহ ভাই ছিলেন একজন গবেষক। তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিলো নিবিড়। তিনি যুক্তির নিরিখে কথা বলতেন । তার সঙ্গে মতপার্থক্য কখনো হলেও অনেক সম্মান দেখাতেন।

আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য নুহ-উল-আলম লেলিন বলেন, আমি আর মাহফুজ উল্লাহ ছিলাম একই ব্যাচের। তিনি ঢাকা কলেজের এবং আমি জগন্নাথ কলেজের। রাজনৈতিকভাবে আমরা ছিলাম দুই মেরুর। তবে আমরা দুজনের ছিলো ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ।

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, আজকে আমাদের জাতীর জীবনে যেরকম অন্ধকার নেমে এসেছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে ওইটা মৃত্যু সমাজ। এক্ষেত্রে মাহফুজ উল্লাহ ছিলেন ব্যতিক্রম। মাহমুজ উল্লাহ ছিলেন সত্য প্রকাশে আপসহীন। আমরা প্রায় একইসঙ্গে টকশোতে বসতাম, এক এলাকায় থাকতাম। ওর আমার ভিতর কোনো বিভেদ ছিলো না। তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌শোভন-রাব্বানীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করল ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরা


ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১৩ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ ঝাঁড়ছেন ছাত্রলীগের অনেকে। এ তালিকায় বাদ যাচ্ছেন না নারী নেত্রীরাও। বর্তমান সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

এক নেত্রী লিখেছেন, সাজুগুজু করে প্রোগ্রামে যেতে পারেননি বলে শোভন তাকে পদ দেননি। আরেকজন লিখেছেন, ‘নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।’

কমিটি ঘোষণার কিছুক্ষণ পর জেরিন দিয়া নামে কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক এক সদস্য ফেসবুকে লেখেন, ‘রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানী ভাই আপনাদের মধুভর্তি মেয়ে লাগে। বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কী রে চেহারা সুন্দর আছে; তো সেজেগুজে আসতে পারো না!
আমি সেজেগুজে আসতে পারি নাই দেখে আমাকে কমিটিতে রাখলেন না??
আপনারা যেসব মেয়েকে কমিটিতে রেখেছেন তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে! আপা কি জানেন?? আর নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন!!!
আর গোলাম রাব্বানী ভাই আমাকে সবার সামনে বলছিলেন দুইদিনের মেয়ে কেমনে পোস্ট পাইছো বুঝি নাই! কয়জনের বেডে গেছো এনএসআই রিপোর্ট করলেই জানা যাবে। মনে আছে গোলাম রাব্বানী ভাই?????? আমি তখন আপনার যোগ্য কথার জবাব দিয়েছিলাম। আজ তার শোধ নিলেন?????
অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্য।
এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না; মানবো না…
আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।’

শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক জেয়াসমিন শান্তা লেখেন, ‘নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।
অভিনন্দন গোলাম রাব্বানী ভাই ও শোভন ভাই, হিসাব আছে, অনেক হিসাব, চলেন মিলাই।’


উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌এবার ছাত্রলীগের হামলার শিকার হল সেই শ্রাবনী শায়লা!


অযোগ্য, অছাত্র, বিবাহিত, বহিষ্কৃত, অগ্নিসন্ত্রাসে যুক্ত, সংগঠনে নিষ্ক্রিয় বিভিন্ন মামলার আসমীদের ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদায়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগের একাংশ। সেই মিছিলে হামলার অভিযোগ উঠেছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ হামলায় ছাত্রলীগের নেত্রী তিলোত্তমা শিকদার, বিএম লিপি এবং শ্রাবনী শায়লা আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর থেকে পদবঞ্চিত ছাত্রনেতারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

বিক্ষোভকারীরা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অছাত্র, ছাত্রদল, বিবাহিত, বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া এবং ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মীদের বঞ্চিত করায় এই প্রতিবাদ।

ছাত্রলীগের গত কমিটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন, জসিম উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান, সাবেক সদস্য তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ এতে নেতৃত্ব দেন।

জানা গেছে, মিছিলটি মধুর ক্যান্টিনের সামনে গেলে নতুন কমিটিতে পদপ্রাপ্তরা বাধা দেন। হাতাহাতির এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের গায়েও হাত তোলেন কিছু নেতাকর্মী।

শামসনু নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ছাত্রলীগ করেছি। কিন্তু আমাদের কোনো পদ দেওয়া হয়নি। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিক্ষোভ করছিলাম। কিন্তু আমাদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে।

নতুন কমিটির সাদিক খান, অর্থ সম্পাদক রাকিব হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল ভূইয়া , সহসভাপতি কামাল খান, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক বায়জিদ কোতোয়াল হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন পদবঞ্চিতরা।

‘নিপীড়ন বিরোধী’ শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কার্যালয় ঘেরাওয়ের সময় তৎকালীন ঢাবির বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবনী শায়লার মারমুখী ছবি ফেইসবুকে ভাইরাল হয়।

পদবঞ্চিত ছাত্রনেতা তিলোত্তমা শিকদার বলেন, আমি গত কমিটিতে উপ-অর্থ সম্পাদক ছিলাম। এবারও উপ-সম্পাদক রাখা হয়েছে। একটি হলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আমাদের রীতিমতো অপমান করা হয়েছে।

এ সময় পদবঞ্চিত সাবেক প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু বলেন, তারা (শোভন-রাব্বানী) একটি বিতর্কিত কমিটি ঘোষণা করেছেন। আপনারা জানেন, এই কমিটিতে বহিষ্কৃত, অগ্নিসন্ত্রাসে যুক্ত, সংগঠনে নিষ্ক্রিয়দের স্থান দেয়া হয়েছে। যারা ক্যাম্পাসে বিগত ১০ বছরে ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিং করেছে, ডাকসু নির্বাচনসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা করেছে তাদের এই কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, গত কমিটির ২৩ জনের মধ্যে ১৯ জনকে কোনো পদ-পদবি দেয়া হয়নি। আমরা শেখ হাসিনা কাছে একটি দাবি জানাতে চাই, এই বিতর্কিত কমিটিতে যারা বিতর্কিত তাদের বাদ দিয়ে যারা প্রকৃত ছাত্রলীগ তাদের যেন স্থান দেয়া হয়।

ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বলেন, আপনারা জানেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা সংগঠনের গঠনতন্ত্রের নিয়ম মানে না, তাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। আমরা যখন এর বিরুদ্ধে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করি তখন ছাত্রলীগের কিছু গুন্ডা ও অছাত্র আমাদের ডাকসু সদস্য তিলোত্তমা শিকদার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তারের ওপর হামলা করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেনসহ অনেকে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে অধিভুক্ত কলেজ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রীদের নিপীড়নকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কার, প্রক্টরের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের নামে দেয়া মামলা প্রত্যাহার এবং তদন্ত কমিটিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি রাখার দাবিতে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কার্যালয় ঘেরাও করে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে প্রবেশ করে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক মারধর করে। এসময় তৎকালীন ঢাবির বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবনী শায়লার মারমুখী ছবি ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। এনিয়ে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে।

উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌‘সেজে গুজে আসিনি বলে ছাত্রলীগের কমিটিতে রাখলেন না?’: সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভনের সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া

সেজে গুজে আসেনি বলে কমিটিতে রাখেননি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া। নতুন কমিটিতে পদ না পেয়ে অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই নেত্রী।

তিনি লিখেছেন, রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রব্বানী ভাই আপনাদের মধু ভর্তি মেয়ে লাগে । বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কি রে চেহারা সুন্দর আছে ; তো সেজে গুজে আসতে পারো না!

সংবাদ প্রকাশের কিছুক্ষন আগে তার এই পোস্টটি সরানো হয়েছে

নতুন কমিটিতে স্থান না পেয়ে আজ সন্ধ্যায় তার নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেয় জেরিন দিয়া। সংবাদের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রব্বানী ভাই আপনাদের মধু ভর্তি মেয়ে লাগে । বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কি রে চেহারা সুন্দর আছে ; তো সেজে গুজে আসতে পারো না!

আমি সেজে গুজে আসতে পারি নাই দেখে আমাকে কমিটি তে রাখলেন না?

আপনারা যেসব মেয়েদের কমিটিতে রেখেছেন তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে! আপা কি জানেন? আর নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন!

আর গোলাম রাব্বানি ভাই আমাকে সবার সামনে বলছিলেন দুইদিনের মেয়ে কেমনে পোস্ট পাইছো বুঝি নাই! কয়জনের বেডে গেছো NSI রিপোর্ট করলেই জানা যাবে। মনে আছে গোলাম রাব্বানী ভাই ??? আমি তখন আপনার যোগ্য কথার জবাব দিয়েছিলাম। আজ তার শোধ নিলেন???

অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্যে ।

এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না ; মানবো ন…

আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।

আরও পড়ুনঃ ‌হত্যা ও মাদক মামলার আসামিসহ বিবাহিত অছাত্ররাও ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে!

ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন হত্যাচেষ্টা ও মাদকসহ বিভিন্ন মামলার কয়েকজন আসামি। রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত, অগ্নিসন্ত্রাসে যুক্ত, সংগঠনে নিষ্ক্রিয়, বিবাহিত ও অছাত্ররাও।

দুই বছর মেয়াদি কমিটির ৯ মাস পার হওয়ার পর আজ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এই কমিটির অনুমোদন দেন।

এর আগে দুপুরের দিকে তালিকা নিয়ে গণভবনে যান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দুই নেতা। তাঁরা ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্যদের সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন।

গত বছরের ১১ মে ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের পর কমিটি ঘোষণার নিয়ম থাকলেও শীর্ষ পদের নেতৃত্ব বাছাইয়ে সময় নেন শেখ হাসিনা। সম্মেলনের আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতার নাম প্রকাশ করা হয়।

কেন্দ্রীয় কমিটির ২ নম্বর সহসভাপতি তানজিল ভূঁইয়া তানভীর, সহসভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ ও সোহেল রানার বয়স ৩০ বছরের বেশি। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের সদস্য পদই থাকার কথা নয়।

৫ নম্বর সহসভাপতি আরেফিন সিদ্দিকী সুজনকে এক সময় ইয়াবা সেবন ও মাদক রাখার অভিযোগে মাস্টারদা সূর্যসেন হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

৬ নম্বর সহসভাপতি আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ও ইয়াবা সেবন এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মল চত্বরে পয়লা বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে।

৭ নম্বর সহসভাপতির পদ পেয়েছেন বরকত হোসেন হাওলাদার। শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়।

১৩ নম্বর সহসভাপতি শাহরিয়ার কবির বিদ্যুতের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রয়েছে।

আরেক সহসভাপতি মাহমুদুল হাসানের পরিবার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গোপালগঞ্জে একটি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি।

আরেক সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান তুষার এক সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধেও পয়লা বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আছে।

ছাত্রলীগের ২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়া প্রদীপ চৌধুরী ২০১৪-১৫ সেশনে পরীক্ষায় নকলের দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার হয়েছিলেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে পহেলা বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ।

দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব সাবেক চাকরিজীবী এবং তাঁর বিরুদ্ধেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. রাকিনুল হক চৌধুরী কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের আপন ছোট ভাই। তিনি ছাত্রলীগে নিষ্ক্রিয় বলে জানা গেছে।

এই কমিটির বিষয়ে কথা বলতে সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে ফোন দিলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন। পরে আর কথা বলেননি।

সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে তিনবার ফোন দিলেও তিনি কথা বলেননি।

উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের মারধর করল নতুন কমিটির সদস্যরা

মধুর ক্যান্টিনে মুখোমুখি অবস্থান নেন ছাত্রলীগের দু’পক্ষ

সম্মেলনের এক বছর পর ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই কমিটিকে বিতর্কিত ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন পদবঞ্চিতরা।

একপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে সেখানে হামলা চালিয়েছে সদ্য পদপ্রাপ্তরা। এতে ছাত্রলীগের হল কমিটির সাবেক নেতাসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের এক বছর পর গতকাল বিকেলে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় নেতা–কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। কমিটি ঘোষণার পর যাঁরা প্রত্যাশিত পদ পাননি এবং কমিটিতে জায়গা পাননি, তাঁদের অনেকের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এল এ ঘটনার মধ্য দিয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকেলে ৬০ থেকে ৭০ জন পদবঞ্চিত নেতা–কর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। সন্ধ্যায় তাঁরা মিছিল নিয়ে মধুর ক্যানটিনে যান সংবাদ সম্মেলন করতে। তাঁদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অছাত্র, ছাত্রদল, বিবাহিত ও বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া ও রাজপথের কর্মীদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে’ সংবাদ সম্মেলন। আয়োজক ছাত্রলীগের রাজপথের কর্মীবৃন্দ। তাঁরা যে টেবিলে সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নেন, তার পাশের টেবিলে অবস্থান নেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারী নেতা–কর্মীরা। সেখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

পদবঞ্চিতরা সংবাদ সম্মেলন শুরু করার একপর্যায়ে একজন গিয়ে তাঁদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। ডাকসুর কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক লিপি আকতার এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁকে চেয়ার ছুড়ে মারা হয়। কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা এগিয়ে গেলে তাঁকেও লাঞ্চিত করা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলন করতে আসা নেতা–কর্মীদের ওপর অন্য পক্ষের নেতা–কর্মীরা হামলা চালান। গত কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা রাকিব হোসেন, সাইফ বাবুসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। হামলার ঘটনায় লিপি আক্তার, তিলোত্তমা শিকদার (নতুন কমিটির উপসংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক), ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমদসহ ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।

পদবঞ্চিতদের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রলীগের বিগত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু বলেন, ‘ছাত্রলীগের জন্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করেছি৷ কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমাদের বাদ দিয়ে অছাত্র, বিবাহিত ও বিতর্কিতদের নিয়ে “পকেট কমিটি” করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের দাবি, এই বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত করে প্রকৃত ছাত্রলীগকর্মীদের যেন পদায়ন করা হয়৷’

নতুন কমিটিতে প্রত্যাশিত পদ পাওয়া নেতা–কর্মীদের দাবি, একটি ‘বিশেষ সিন্ডিকেটের’ নেতা–কর্মীরা কমিটি ঘোষণার পর বিক্ষোভ করছে। এ বিষয়ে সাইফ বাবু বলেন, ‘রাজনীতি যখন যেভাবে চলেছে, সেভাবেই আমরা করেছি। সিন্ডিকেট বলতে কিছু নেই। আমরা ছাত্রলীগ করি।’

শ্রাবণী শায়লা বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলাম। সেখানে এ ধরনের হামলা ন্যক্কারজনক। আমরা হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই।’

পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ঘোষিত কমিটির সহসভাপতি সাদিক খান, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, মাহবুব খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। তাঁরা কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী।

হামলার পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে মধুর ক্যানটিনে আসতে থাকেন বর্তমান কমিটির অনুসারী নেতা–কর্মীরা। ‘প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত চূড়ান্ত’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।

গত বছরের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রায় আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরীকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য পদগুলো ছিল ফাঁকা।

গতকাল বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের গত কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন পদে থাকা বেশ কয়েকজন এবার কমিটিতে জায়গা পাননি। আবার অনেকে পদ পেলেও তা তাঁদের মনঃপূত হয়নি।

উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ৩ হাজার কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, এক বছরে আসেনি ১ টাকাও!

বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ এর সফল উৎক্ষেপণের এক বছর পূর্ণ হয়েছে ১২ মে। গত বছরের এদিনে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হলেও একবছরে এখনও আয়ের মুখ দেখেনি স্যাটালাইটটি।

বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর দেশব্যাপী ই-এডুকেশন, ই-লার্নিং, টেলি-মেডিসিনসহ আরও নানা সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পৌনে তিন হাজার কোটি টাকার এই স্যাটেলাইট এক বছরে কতটা প্রতিশ্রুতি পুরণ করতে পেরেছে?

বিবিসি প্রতিবেদন বলছে, উৎক্ষেপণের এক বছরেও এই স্যাটেলাইট থেকে এখন পর্যন্ত কোন ধরণের আয় করা সম্ভব হয়নি। সেইসঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় শহরের মতো সুবিধা দিতে ই-এডুকেশন, ই-লার্নিং, টেলি-মেডিসিন অর্থাৎ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা বলা হলেও সেগুলো এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

সম্ভব হয়নি ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) সুবিধা বাণিজ্যিকভাবে চালু করাও। যার আওতায় সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যাল নিয়ে গ্রাহকদের ১২৫টি চ্যানেল সম্প্রচারের কথা ছিল।

এ অবস্থায় স্যাটেলাইটটি থেকে যেমন সুবিধা ও মুনাফা পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল সেগুলো কবে নাগাদ পাওয়া যাবে সেটাও পরিষ্কার না। তাহলে একবছরে কি অর্জন করতে পেরেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১?

স্যাটেলাইটটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড বিসিএসসিএল বলছে, এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর অর্জন হলো গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবল গেমসের পরীক্ষামূলক সম্প্রচার এবং স্যাটেলাইটটির ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে বিটিভিসহ কয়েকটি বেসরকারি চ্যানেলের কিছু অনুষ্ঠানের পরীক্ষামূলক সম্প্রচার।

তাহলে কি প্রত্যশা পুরণ করে আদৌ উপার্জন করতে পারবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট?

বিসিএসসিএল এর চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলছেন, স্যাটেলাইটটি তৈরির সময় এর যে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছিল সেখানে বলা হয়েছিল, এই স্যাটেলাইট প্রথম কয়েক বছরের মাথায় খরচ উঠিয়ে মুনাফা করবে। তবে তখন বাজারে স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথের যে দাম ও সরবরাহ ছিল, সেটা এখন একদমই বদলে গেছে।

তিনি বলেন, এখন অনেক দেশ স্যাটেলাইট তুলেছে, সরবরাহ অনেক বেড়ে গেছে। যার জন্য শুরুতে ব্যান্ডউইথের যে দাম ছিল সেটা আর এখন নেই। তাই প্রথমে আমরা যেটা ভেবেছিলাম যে ৫/৭ বছরে খরচটা তুলে আনতে পারব, সেটা আর সম্ভব না।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন!


দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন! কি! অবাক হচ্ছেন?

আজ অধিকাংশ জাতীয় পত্রিকায় ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি সদস্য সনাক্তকরণের (রেডিক্যাল ইন্ডিকেটর) নিয়ামকসমূহ’ নামে একটি পোষ্টার ছাপানো হয়েছে। সেখানে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের জন্য কিছু লক্ষণের কথা বলা হয়েছে। যে লক্ষণগুলো দেখলে তাকে জঙ্গি হিসেবে সন্দেহ করা যাবে। সেই সন্দেহের মধ্যে ইসলামের আবশ্যক পালনীয় দাড়ি রাখা, টাখনুর উপর কাপড় পড়াসহ বেশ কিছু লক্ষণকে জঙ্গি লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পোষ্টারে উল্লিখিত জঙ্গি লক্ষণের মধ্যে রয়েছে- ধর্ম চর্চার প্রতি ঝোঁক; গায়ে হলুদ, জন্মদিন পালন, গান বাজনা ইত্যাদি থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখা; মিলাদ, শবেবরাত, শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনা করা ইত্যাদি।

পূর্বে এ ধরণের পোষ্টার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক প্রচারিত হলেও আজকের পোষ্টারটির নিচে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের নামে প্রকাশ করা হয়েছে। জানা যায়, ধর্মনিরপেক্ষতার স্লোগানকে ধারণ করে গত বছরের জুলাই মাসে এই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ হলো একটি কথিত অসাম্প্রদায়িক সংগঠন। এর আহবায়ক হলো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দোপধ্যায়। সংগঠনটির সাথে আছেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এছাড়াও আছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, আবেদ খান, শামীম মো. আফজাল প্রমুখ।

জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার ৪টি ধাপের কথা বলা হয়েছে পোষ্টারে। তার প্রথম ধাপেই রয়েছে- তাওহীদ, শিরক, বেদাত, ঈমান, আকীদা, সালাত, ইসলামের মূলনীতি, দাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা।

এদিকে ইসলামের মৌলিক রীতি নীতিকে জঙ্গিবাদের লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ধর্মীয় আলেম ও ওলামারা। তারা এসব বিষয় জঙ্গিবাদের লক্ষণ থেকে অপসারণের দাবি জানান।

তবে ইসলামের মৌলিক কিছু বিষয়কে জঙ্গি লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরে বিতর্কিত কাজ করলেও সত্যিকারের কিছু জঙ্গি লক্ষণও তুলে ধরা হয়েছে পোষ্টারে। যেমন- ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকৃত নামে রেজিষ্ট্রেশন না করা; কুরআন হাদিসের অরিজিনাল কপি না পড়ে অনলাইন থেকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া; টার্গেট কিলিং, জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করা, অস্ত্র গোলাবারুদ সংগ্রহ ও ব্যবহার করা ইত্যাদি।

এইরকম ইসলামোফোবিক প্রকাশনা কোন অমুসলিম দেশেও সম্ভব না। সম্ভব হলো কেবল একমাত্র দিল্লীর সরকারের মদদপুষ্ট ও সমর্থিত আওয়ামীলীগ সরকারের দেশে।

উৎসঃ ‌‌নতুন দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ বসবাসের জন্য অনিরাপদ!


শেখ হাসিনা এবং তার দলের নেতাদের দাবি অনুযায়ী আর অল্প কিছু দিন পরই বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উঠে যাবে বাংলাদেশের নাম। মানুষের এমন কোনো অধিকার নেই যা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিষ্ঠিত করেনি। শেখ হাসিনার দাবি-তিনি এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন যেখানে নাগরিকরা তাদের মায়ের গর্ভের মতো নিরাপদে বসবাস করছে। যদিও বাস্তবতার সঙ্গে তাদের বক্তব্যের কোনো মিল খোঁজে পাওয়া যায়নি।

২০১৭ সালে বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধান ও সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বাস্তবিক অর্থে রাষ্ট্রে আসলে কি হচ্ছে তার একটা বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশের মধ্যে যা ঘটেছে সব কিছুরই তিনি একটা সামারি টেনেছেন। রাষ্ট্রের এমন কোনো অসঙ্গতি বাকী নেই যা তার পর্যবেক্ষণে আসেনি।

বিগত ১০ বছর ধরে শুধু ক্ষমতার জন্য আওয়ামী লীগ কিভাবে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে, লুটপাট, দুর্নীতি, খুন, হত্যা, গুম-অপহরণ, বিচারবিভাগ ও সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে কিভাবে বিরোধী দল সমূহের বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে তার একটা চিত্র তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। সবশেষে তিনি মন্তব্য করেছেন-আমরা এখন এমন একটা সমাজে বসবাস করছি যেখানে কোনো ভাল মানুষ কোনো ভাল স্বপ্ন দেখেনা।

সরকারের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্যের কারণে অবশ্য তাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখতে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির আর কোথাও দেখা যায়নি।

এদিকে, প্রায় দুই বছর শেখ হাসিনার উন্নয়নশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ নিয়ে আরেকটি মন্তব্য এসেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে। রোববার হাইকোর্ট বলেছেন-এ দেশে এখন বসবাস করা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

আর আদালত এই চরম ক্ষোভটা প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনার খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে। দেশের সুপরিচিত ৫২ খাবারে মারাত্মক ভেজাল ধরা পড়েছে। আর ৯৬ শতাংশ দুধের ৯৩ শতাংশেই রয়েছে মারাত্মক ক্ষতির রাসায়নিক দ্রব্য। আর ওয়াশার কথিত সুপেয় পানির মধ্যে পাওয়া গেছে বিষ। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ও খাবারের কারণে এদেশে বাস করাটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই তাদের তো এদেশেই থাকতে হবে।

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ এখন মনে করছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সন্ত্রাস, খুন, হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, গুম, অপহরণ, দুর্নীতি-লুটপাট, ছিনতাই, হামলা, মামলা, গ্রেফতার-নির্যাতন ও জীবন রক্ষার খাবারে অতিমাত্রায় ভেজালে দেশের মানুষ এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শুধু ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো নেতাকর্মীরা এদেশে এখন আর বসবাস করা কারো জন্যই নিরাপদ নয়। দেশ ছেড়ে যাওয়ার মতো যাদের সামর্থ নেই তাদেরকে জীবন হুমকি নিয়ে এদেশেই থাকতে হবে। যেটা হাইকোর্টের আদেশের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। তারা বলছেন, শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ এখন বসবাসের অনুপযোগী।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here