ধানের দাম কম হওয়ায় ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দিলেন কৃষক

0
94

টাঙ্গাইলে ধানের দাম কম ও দিনমজুর না পাওয়ায় ধানক্ষেতে আগুন লাগিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন এক কৃষক। রোববার দুপুরে জেলার কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের আব্দুল মালেক সিকদার তার রোপণকৃত ধানে আগুন ধরিয়ে এমন প্রতিবাদ করেছেন।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদরসহ ১২টি উপজেলায় এবার বোরো ধানের আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে।

বাকি ৭০ শতাংশ কিন্তু ধান পেকে গেলেও কৃষক দিনমজুরের অভাবে ঘরে তুলতে পারছে না। দিন প্রতি একজন দিনমজুরকে দিতে হয় ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। আর বর্তমান বাজারে ধানের মূল্য ৫০০ টাকা মণ। এতে প্রায় দুই মণ ধান বিক্রি করে কৃষক একজন দিনমজুরকে (কামলা) মজুরি দিতে হচ্ছে। আবার অধিক মজুরি দিয়েও দিনমজুর পাচ্ছেন না কৃষকরা। ফলে জমিতে পড়েই নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান।

কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক সিকদার বলেন, মণ প্রতি ধান কিনতে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। ধান কাটতে দিনমজুরকে দিতে হচ্ছে প্রায় এক হাজার টাকা মণ প্রতি। এরপরও ধান ঘরে তুলতে আরও খরচ। অন্যদিকে বেশি মজুরি হলেও কামলা পাওয়া যায় না। ক্ষেতে ধান পাকলেও তা ঘরে তুলতে পারছি না। তাই এক দাগের ৫৬ শতাংশ ধানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছি।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই সময়ে ধানের বাজার কিছুটা কম থাকলেও কৃষক যদি ধান সংরক্ষণ করে রাখে তবে কয়েকদিন পরই অধিক মূল্য পাবে। তাপদাহসহ নানা কারণে কিছুটা শ্রমিক সংকট থাকলেও তা তীব্র নয়। জেলায় গত বছরের তুলনায় এবার ব্যাপক পরিমাণ বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০২ হেক্টরের ধানের প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। তবে শ্রমিকদের অধিক মজুরি দিতে হয় এটা সত্য।

উৎসঃ ‌‌jagonews24

আরও পড়ুনঃ ‌বেসরকারি হেলিকপ্টারে ইয়াবাসহ অবৈধ পণ্য পরিবহন!


ইয়াবাসহ অবৈধ পণ্য পাচারের নিরাপদ পরিবহন বেসরকারি হেলিকপ্টার। বেসরকারি হেলিকপ্টারগুলোর যাত্রী এবং ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় অবৈধ পণ্য পাচারের ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, কক্সবাজার থেকে হেলিকপ্টারে করে মাদক চোরাচালানের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য দিয়েছে। যেহেতু হেলিকপ্টারের যাত্রীদের তেমন কোনো নিরাপত্তাবলয়ের মাধ্যমে যেতে হয় না এবং পণ্য পরিবহনের সময় স্ক্যানিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা নেই, তাই এত দিন ব্যাপারটি কারও নজরে আসেনি।

গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এ তথ্যটি জানার পর গত ৩রা এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে ইয়াবাসহ অবৈধ পণ্য পাচার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। ওই সভায় বেসরকারি আটটি প্রতিষ্ঠানের হেলিকপ্টারের মালিক ও তাদের প্রতিনিধি, বিমান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাদক পরিবহন প্রতিরোধে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। একই সভায় বেসরকারি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য পরিবহন প্রতিরোধে সুপারিশমালা তৈরি করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়।

বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে মাদক পরিবহন হচ্ছে। স্ক্যানিংয়ের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় অনেক মাদক ব্যবসায়ী এ সুযোগ পাচ্ছে। এ জন্য হেলিকপ্টার মালিকদের ডেকেছিলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিতে আমরা একটি কমিটি করে দিয়েছি। এক মাসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকেও মাদক পরিবহন প্রতিরোধে হেলিকপ্টার ব্যবহারে সতর্কতা জারি করতে বলা হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য প্রতিরোধে সুপারিশ দিতে উচ্চ পর্যায়ের উপকমিটির বৈঠক গত ১৭ ই এপ্রিল ও ৯ ই মে অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ ই এপ্রিল অনুষ্ঠিত বৈঠকে র‌্যাবের প্রতিনিধি জানান, বেসরকারি হেলিকপ্টারগুলোর গন্তব্য, যাত্রী হিসেবে কারা যাতায়াত করছে এবং কি ধরনের পণ্য পরিবহন করছে এসব তথ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কোন ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি হেলিকপ্টারগুলো হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে গন্তব্যে যাওয়ার আগে পথে কোথাও অবতরণ করছে কিনা বা গন্তব্য স্থান থেকে পুনরায় ঢাকায় আগমনের সময় অন্য কোথাও অবতরণ করছে কিনা এ তথ্যও পর্যালোচনার ব্যবস্থা নেই।

এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেসরকারি হেলিকপ্টারে আগমনী যাত্রীদের ব্যাগেজগুলো তল্লাশীর কোন ব্যবস্থা নেই। এজন্য হেলিকপ্টারের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। এটি প্রতিহত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। হেলিকপ্টারে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে অনেক সময় রোগী পরিবর্তনের ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। বৈঠকে বেসরকারি হেলিকপ্টার সংস্থা মেঘনা এভিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হেলিকপ্টারে আরোহনকারি যাত্রীর তথ্য এবং ফ্লাইট রুট সংক্রান্ত তথ্য ফ্লাইট পরিচালনার আগেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে দিতে হয়। যাতায়াতকালীন সময়ে হেলিকপ্টারটি তৃতীয় কোন গন্তব্যে নেমেছে কিনা তা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেই।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) প্রতিনিধি ওই সভায় কিছু প্রস্তাব দিয়ে বলেন, হেলিকপ্টারগুলো তাদের ফ্লাইট পরিচালনার আগে ফ্লাইট প্ল্যান দাখিল করে। বর্তমানে এটি ম্যানুয়ালি করা হয়ে থাকে। ফ্লাইট প্ল্যান কার্যক্রম অটোমেশন করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহজেই ফ্লাইট ও যাত্রী সংক্রান্ত তথ্য পাবেন। এছাড়া বেসরকারি হেলিকপ্টারগুলোর যাত্রাপথ মনিটরিং করতে একটি সফটওয়্যার স্থাপন করা হচ্ছে। কমিটি’র সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, হেলিকপ্টারগুলো গন্তব্যস্থল ছাড়া অন্যত্র যাতে অবতরণ করতে না পারে সেজন্য সিএএবি এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করতে পারে। আরও কিছু বিষয়ে সরজমিনে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলা হয় ওই সভায়। বিমান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, হেলিকপ্টার উড়ার ছয় ঘণ্টা আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অনুমতি নেয়ার কথা থাকলেও বেশির ভাগই নেন না। তাই একটি সুপারিশ তৈরি করলে বেসরকারি হেলিকপ্টার ব্যবস্থাপনায় ভাল ফল দেবে।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌কে এই দালাল এনামুল হক অবৈধ পথে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন


সিলেটের সব যাত্রী অবৈধ পথে ইতালির উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন মো. এনামুল হক নামের এক দালালের হাত ধরে। নিরাপদে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করে চুক্তি হয়েছিল ৮ লাখ টাকার। যাত্রীদের কাছ থেকে এরই মধ্যে টাকাও হাতিয়ে নেয় দালাল।

গত বৃহস্পতিবার ট্রলার ডুবির ঘটনার পর এনামুল হক নামের ওই দালাল তার প্রতিষ্ঠানে তালা দিয়ে পালিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট নগরীর রাজা ম্যানশনের ৩য় তলার ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজ’র মালিক মো. এনামুল হকের বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার মেহেরপুর এলাকার পনাইরচক গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত মো. আবদুল খালিকের ছেলে এনাম। ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর মাসিক ৭ হাজার টাকা ভাড়া চুক্তিতে রাজা ম্যানশনের ৩য় তলার ১১৭ নম্বর দোকান ভাড়া নেন এনামুল হক। সেখানে সাইন বোর্ড টানান ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজ’-এর। ট্রাভেলস ব্যবসায়ের আড়ালে মূলত মানবপাচারই ছিল তার ব্যবসা। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লোভনীয় উপার্জনের স্বপ্ন দেখিয়ে সিলেটের বেকার যুবকদের উদ্ধুদ্ধ করত সে। এরপর দালালচক্রের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর চেষ্টা করত। ভূমধ্যসাগরে ট্রলার ডুবিতে এনামের পাঠানো যাত্রীদের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজা ম্যানশন মার্কেটে তার পরিচিতি ছিল একজন ভালো ট্রাভেলস ব্যবসায়ী হিসেবে। গত বৃহস্পতিবার নৌকা ডুবিতে প্রাণহানির ঘটনার পর ধীরে ধীরে বের হতে থাকে এনামের মানবপাচারের ঘটনা। এনাম যে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত তা গেল আড়াই বছরে ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি- দাবি ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাসুদ আহমদের। তবে ট্রাভেলসের আড়ালে গোপন ব্যবসার আলামত আগেই পেয়েছিল অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ (আটাব)। তাই তার ট্রাভেলসকে দেওয়া হয়নি আটাবের সদস্যপদ।

আটকে রাখা হয়েছিল তার আবেদন।

এ ব্যাপারে আটাব সিলেটের সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল জানান, ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজ’র ব্যবসা নিয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল। তাই আবেদনের পরও তাকে আটাবের সদস্যপদ দেওয়া হয়নি। তার কার্যক্রম আমরা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। এর মধ্যেই তার মানবপাচারের বিষয়টি ধরা পড়ল। এরকম আরও যেসব অবৈধ ট্রাভেলস ব্যবসায়ী মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

এদিকে ট্রলার ডুবিতে মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজে তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে এনামুল হক। গতকাল রাজা ম্যানশনের তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা গেছে দোকানে তালা ঝুলছে। ট্রাভেলসের সাইন বোর্ডে লেখা দুটো ফোন নম্বরই বন্ধ ছিল। এনামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও ছিল বন্ধ।

উৎসঃ ‌‌বিডি-প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‌সাগরে স্বপ্নের সমাধি সিলেটে আহাজারি


মর্মান্তিক, হৃদয় বিদারক। স্বপ্নের ঠিকানা ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টায় ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি হলো ৩৭ বাংলাদেশির। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম, ইন্টান্যাশনাল রেডক্রিসেন্ট, লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব সূত্রই বলছে, শুক্রবার ভূমধ্যসাগরে ডুবে যাওয়া নৌকায় প্রায় ৭৫ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মধ্যে ৫১ বাংলাদেশী ছিলেন। তাদের মধ্যে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ১৬ জন, যার মধ্যে ১৪জন বাংলাদেশি। বাকী বাংলাদেশি ৩৭ জন নিখোঁজ। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশীদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বলছে, নিখোঁজ সবাই মারা গেছেন এবং এদের মাত্র ৩ জনের লাশ মিলেছে। বাকীদের সাগর বুকেই সমাধি হয়েছে। এদিকে এ খবরে সিলেটে বইছে শোকের মাতম।

সিলেটের ৬ যুবক এ ঘটনায় নিহত হয়েছে।

গতকাল দুপুরে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানান, দূতাবাসের একটি টিম ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। জীবিতদের মধ্যে যারা বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। যাদের সলিল সমাধি হয়েছে তাদের ব্যাপারে কিছু করার নেই। তবে বাংলাদেশি কারো মৃতদেহ পাওয়া গেলে তা-ও দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে। লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে তারা যে তথ্য পেয়েছেন তাতে ৭৫ জন অভিবাসী নিয়ে বৃহস্পতিবার ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করা নৌকাটি তিউনিশিয়া উপকূলে ডুবে যায়। জীবিত উদ্ধার করা অভিবাসীরা জানিয়েছে, ৭৫ জন অভিবাসীর সবাই ছিলেন পুরুষ। রেডক্রসের বরাতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া ১৪ বাংলাদেশি রেডক্রসের তত্বাবধানে রয়েছেন।

দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক কাউন্সেলর এএসএম আশরাফুল ইসলাম মিডিয়াকে জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া সবার পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তারা যে বাংলাদেশি এটি প্রায় নিশ্চিত। অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এ ঘটনাকে জানুয়ারির পর সবচেয়ে ভয়াবহ বলে আখ্যায়িত করেছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে মিডিয়ায় গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। তিউনিশিয়ার রেডক্রিসেন্ট বলছে, ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে ওই অভিবাসীরা লিবিয়ার জুয়ারা ছাড়েন একটি বড় বোটে করে। এ সময় তাতে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৭৫ জন অভিবাসী ছিলেন। পরে তাদের একটি ছোট্ট বোটে তোলা হয়। গাদাগাদি করে তাতে অবস্থান করছিলেন তারা। এর ১০ মিনিট পরেই ওই বোটটি প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে যায় বলে জানিয়েছেন তিউনিশিয়া রেডক্রসের কর্মকর্তা মঙ্গি স্লিম। আশপাশে থাকা তিউনিশিয়ার জেলেরা উদ্ধার করেন ১৬ জনকে। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় জারজিস উপকূলে।

এ সময় জীবিত উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা বলেছেন, তারা সমুদ্রের প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পানিতে পড়ে ছিলেন ৮ ঘণ্টা। তারপর তাদের দেখতে পান জেলেরা। তারাই তিউনিশিয়ার কোস্ট গার্ডদের এলার্ট করেন। জীবিত ওই সব অভিবাসী তিউনিশিয়ার রেডক্রিসেন্টকে বলেছেন, তাদের মধ্যে ৫১ জন বাংলাদেশি ছাড়াও তিনজন মিশরীয়, মরক্কোর বেশ কয়েকজন নাগরিক, কানাডিয়ান ও অন্যরা আফ্রিকার। রেডক্রিসেন্ট বলছে, যাদের উদ্ধার করা হয়েছে তার মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক। মঙ্গি স্লিম বলেন, যদি জেলেরা জীবিত অভিবাসীদের দেখতে না পেতেন তাদেরও সলিল সমাধি হতো। সেখানে যে নৌডুবি হয়েছে, এ কথা আমরা কখনো জানতেও পারতাম না।

ওদিকে ইতালিতে অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির উগ্র ডানপন্থি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তিও সালভিনি। তিনি আরোপ করেছেন ‘ক্লোজড পোর্টস’ পলিসি। এর অর্থ হলো, সমুদ্রে উদ্ধার হওয়া কোনো অভিবাসীকে তার দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনএইচসিআর ভূমধ্যসাগরে এমন ভবিষ্যৎ ট্রাজেডি এড়ানোর জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। ভূমধ্যসাগর বিষয়ক ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত ভিনসেন্ট কোচেটেল বলেছেন, ওই অঞ্চলে আমাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা জরুরি। যদি এখনই আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিই তাহলে কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে আরো এমন ট্র্যাজেডি দেখতে হবে আমাদের।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মোমেন যা বললেন- সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে আবদুল মোমেন গতকাল বলেন, অনেকদিন ধরেই দালালরা সাগরপথে লোকজনকে ইউরোপে পাচার করতে সক্রিয় রয়েছে। ত্রিপোলির অস্থিরতার কারণে দালালরা এই সুযোগ নিচ্ছে। তবে বাংলাদেশ এক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনভাবেই যেনো বাংলাদেশিরা লিবিয়াতে যেতে না পারে সে ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। তবে দালালরা নানা কৌশলে ও প্রলোভনে অনেককে ফাঁদে ফেলছে। মন্ত্রী জানান, ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় হতাহত বাংলাদেশিদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে এবং জীবিতদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিউনিসিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি পাঠানো হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি ওই নৌকায় ৫১ জন বাংলাদেশি ছিলেন। এরমধ্যে ১৪ জন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। সে হিসাবে ৩৭ জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার কথা জানতে পেরেছি। তবে এই সংখ্যার বিষয়ে আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। সরেজমিনে অবস্থা দেখতে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আমরা তিউনিসায় প্রতিনিধি পাঠাচ্ছি। রাষ্ট্রদূত একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছেন তিনিও ৩৭ জন নিহত হওয়ার আশঙ্কার কথা বলেছেন। তবে তার রিপোর্টে জীবিত উদ্ধারের কোন তথ্য ছিল না। মন্ত্রী আরও বলেন, সমপ্রতি পাঁচ বাংলাদেশি অবৈধভাবে ইরাকে গিয়ে আটকা পড়েছেন। তারা জেল-জরিমানার মুখোমুখি হয়েছেন। এখন তাদের ফেরানোর জন্য স্বজনরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছে, মিশন বার্তা পাঠিয়েছে। আমরা তাদের ফেরানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

আদম ব্যবসায়ীরা লিবিয়াতে মানুষ পাঠিয়ে তাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মানব পাচার রোধে অভিবাসন বিভাগকে আরও শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তিউনিসিয়াতে শরণার্থীদের আশ্রয় সংক্রান্ত কোনও আইন নেই। বেঁচে যাওয়া এসব শরণার্থীরা এখন বাড়ি ফিরবেন নাকি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করবেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে ৬০ দিন পাবেন তারা। এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ থেকে লিবিয়াতে লোক পাঠানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। সেকারণে অভিবাসন প্রত্যাশীরা বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে অন্য দেশ হয়ে লিবিয়াতে যায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিউনিসিয়ার স্থানীয় রেডক্রিসেন্ট আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। লিবিয়াতে আমাদের মাত্র একজন লেবার কাউন্সিলার কাজ করছেন এবং তার পক্ষে এতজন লোকের দেখভাল করাটা মুশকিলের বিষয়।

ইউরোপ যাত্রা এবং কিছু সর্বনাশা তথ্য: বিদেশে লাখ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। ২০১৭ সালে নতুন রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। ওই বছর ১০ লাখ আট হাজার ৫২৫ জন বাংলাদেশি চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছেন। আবার ওই বছরেরই ৫ই মে বৃটেনের প্রভাবশালী দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট একটি সংবাদ প্রকাশ করে। যার শিরোনাম ছিলো ‘বাংলাদেশ ইজ নাও দ্য সিঙ্গেল বিগেস্ট কান্ট্রি অফ অরিজিন ফর রিফিউজিস অন বোটস অ্যাজ নিউ রুট টু ইউরোপ এমারজেস।’ ওই সংবাদে লিবিয়া থেকে সমুদ্র পথ পাড়ি দেয়াসহ ইউরোপে কীভাবে অবৈধ বাংলাদেশিরা প্রবেশ করছে, তার ভয়ংকর তথ্য তুলে ধরা হয়। সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে বা অবৈধভাবে বাংলাদেশিরা যেমন ইউরোপে প্রবেশ করছেন, তেমনি দেশটিতে গিয়ে আশ্রয় চাওয়ার সংখ্যাও কম নয়।

ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য মতে, গত এক দশকে অন্তত এক লাখ বাংলাদেশি ইউরোপে আশ্রয় চেয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রায় ১৮ হাজার আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন ২০১৫ সালে। আগের বছরগুলো ধরলে এই সংখ্যা লাখ দেড়েক হয়ে যাবে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর পরিসংখ্যান বলছে, ভূমধ্যসাগর দিয়ে যতো মানুষ ইউরোপে প্রবেশ করেছেন, সেই তালিকার শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে বরাবরই বাংলাদেশও থাকছে। চলতি বছর ওই তালিকায় থাকা শীর্ষ দেশগুলো হলো: আফগানিস্তান, গায়েনা, মরক্কো, সিরিয়া, মালি, ইরাক, ফিলিস্তিন, আইভরি কোস্ট এবং সেনেগাল।

ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাট-এর পরিসংখ্যান মতে, ২০০৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি ইউরোপের দেশগুলোতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। এইতো বছর দুয়েক আগেও সাগরপথ দিয়ে হাজারো মানুষের মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ বিশ্বজুড়ে খবর হয়েছিলো। মালয়েশিয়ার সেই গণকবরগুলোর স্মৃতি আজ ভাস্মর। প্রশ্ন ওঠেছে, কেন এতো লোক এভাবে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে? বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়া, লিবিয়ায় না হয় যুদ্ধ চলছে, তাই সেখানকার নাগরিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুমদ্রপথ পাড়ি দিতে হয়ত বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু, বাংলাদেশিরা কেন জীবনের এতো ঝুঁকি নিচ্ছেন? শুধুই কি ভাগ্য অন্বেষণ, নাকি যে কোনোভাবে বিদেশে যাওয়ার নেশা? বিশ্লেষকরা নানা তথ্য টানছেন। তাদের বিশ্লেষণে অনেক কিছু বেরিয়ে এসেছে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সমপ্রতি তরুণদের নিয়ে যে জরিপ করেছে সেটাও রেফারেন্স হিসাবে আনছেন তারা। ওই জরিপ বলছে, আরও ভালো জীবনযাপন এবং পেশার উন্নতির জন্য বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৮২ শতাংশ তরুণই নিজের দেশ ছেড়ে চলে যেতে চান। এসব তরুণ মনে করেন না যে নিজের দেশে তাদের ভবিষ্যৎ আছে? তাছাড়া এমনিতেই বাংলাদেশিদের মধ্যে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ভয়াবহ। ইউরোপ ফেরত লোকজন নিয়ে কাজ করেন দীর্ঘ দিন সাংবাদিকতা করা ব্র্যাকের শরীফুল হাসান। তিনি এ নিয়ে গতকালই একটি নিবন্ধ লিখেছেন। সেখানে তিনি যে তথ্য দিয়েছেন তা হল- ঢাকা থেকে লিবিয়া বা তুরস্ক যেতে একজনকে দশ হাজার ডলারের বেশি অর্থ দিতে হয়। এরপর একটি চক্র ঢাকা থেকে তাদের দুবাই বা তুরস্কে নেয়। পরে বিমানে করে লিবিয়ায় পৌঁছান তারা। সেখান থেকে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এছাড়া লিবিয়ায় অনেকদিন ধরে আছেন এমন লোকজনও পরবর্তীতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছেন ইউরোপে যাওয়ার নেশায়। মূলত ইউরোপে গেলেই ভাগ্য ফিরবে, এমন আশাতেই লোকজন যাচ্ছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের কাজ করে ফ্রন্টেক্স নামের একটি সংগঠন। তারা বলছে, ইউরোপ অভিমুখে শরণার্থীদের যে স্রোত, তাতে অসংখ্য বাংলাদেশি রয়েছেন। বিশেষ করে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইতালি (সেন্ট্রাল মেডিটেরিয়ান রুট) যাচ্ছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। এভাবে যেতে গিয়ে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ট্রলার ডুবি হচ্ছে। ইউরোপের জেলে বন্দি রয়েছেন অনেকে। কেউবা গ্রেপ্তার হচ্ছেন তুরস্কে। ইউএনএইচসিআর বলছে, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ১২৬ জন ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়েছেন? এভাবে সাগরপথে আসতে গিয়ে অন্তত ১৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু, তবুও ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা থেমে নেই। নিশ্চিভাবে ওই মৃত্যুর মিছিলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন।

সিলেটের ৬ যুবকের মৃত্যু নিখোঁজদের ঘিরে উৎকণ্ঠা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে জানান, স্বপ্নের ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে তিউনিশিয়ার কাছাকাছি ভূমধ্যসাগরে তলিয়ে গেল অনেক সিলেটি যুবক। এদের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকেই। এ ঘটনায় সিলেটে কান্নার রোল পড়েছে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে নিখোঁজদের ঘিরে। স্বজনদের প্রত্যাশা- শেষ মুহূর্তে যেনো তাদের লাশ ফিরে পান।

গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া খবরে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ৪, গোলাপগঞ্জের ১ ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ১ যুবকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পরিবার। গতকাল সন্ধ্যায় ফেঞ্চুগঞ্জের নিখোঁজ দুই যুবককে খুঁজে পাওয়া গেছে। স্থানীয় জেলেরা তাদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছিলো।

সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া সিলেটের অপর যাত্রীরা টেলিফোনে দেশে থাকা স্বজনদের কাছে মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। মৃতরা হলেন- ফেঞ্চুগঞ্জের মুহিদপুর গ্রামের হারুন মিয়ার পুত্র আব্দুল আজিজ, মন্টু মিয়ার পুত্র আহমদ হোসেন এবং সিরাজ মিয়ার পুত্র লিটন। নিহতরা সবাই একে অন্যের আপন চাচাতো ভাই। এ ছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জের নিদনপুর গ্রামের আফজাল রহমান নামের আরো মপল যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর বাইরে কুলাউড়ার ভুকশিমইল এলাকার বাসিন্দা আহসান হাবিব শামীম ও সিলেটের গোলাপগঞ্জের কামরান আহমদ মারুফ নামের আরো দুই যুবক মারা গেছে। শামীম সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদের ছোট ভাই ও মারুফ হচ্ছে সামাদের শ্যালক।

স্বজনরা জানিয়েছেন, প্রায় ৬ মাস আগে ইউরোপের দেশ ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে সিলেটের কয়েকটি অনুমোদনহীন ট্র্যাভেল এজেন্সিতে পাসপোর্ট জমা দেন। এর মধ্যে বেশির ভাগ যাত্রীই যান সিলেটের জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানশনের ইয়াহিয়া ওভারসিজের মাধ্যমে। প্রতিজন ৮ লাখ টাকা চুক্তিতে তারা ইউরোপ যাওয়ার জন্য প্রায় ৫ মাস আগে ঘর থেকে বের হন। সেখান থেকে তাদের প্রথমে দুবাই এরপর আরো তিনটি দেশ ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম লিবিয়ায়। সেখানে একটি ঘরে তাদের বন্দি রাখা হয়। প্রায় ৭৫ জন অভিবাসীকে একটি কক্ষে বন্দিদশায় রাখা অবস্থায়ই তারা কাহিল হয়ে পড়েন। সেখানে তাদের এক বেলা খাবার দেয়া হতো। গত বৃহস্পতিবার তাদের ইউরোপ নিয়ে যেতে বের করা হয়। সেখান থেকে একটি ট্রলারে করে ভূমধ্যসাগরে যাত্রা শুরু করে। গভীর রাতে সেখান থেকে আরো কয়েক জনকে একটি ছোট ট্রলারে তুলে। আর ট্রলারে ওঠার ১০ মিনিটের মধ্যে ট্রলারটি ডুবে যায়।

প্রাণে ফিরে আসা যাত্রীরা সিলেটের স্বজনদের জানিয়েছেন, তারা দেখেছেন তাদের চোখের সামনেই স্বজনরা হারিয়ে গেছে ভূমধ্যসাগরের বুকে। শুক্রবার গোটা দিন সিলেটে এ সংক্রান্ত কোনো খবর আসেনি। তবে শনিবার বিকাল থেকে এ খবর সিলেটে পৌঁছতে থাকে। প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা টেলিফোনে দেশে থাকা স্বজনদের এ খবর জানালে সিলেটজুড়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের মুহিদপুর গ্রামের একই পরিবারে মারা যান তিন ভাই। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই। ওই ট্র্যাজেডি থেকে প্রাণে বেঁচে যান তিন জনের আরেক স্বজন ইতালি যাত্রী বেলাল আহমদ।

নিহত আব্দুল আজিজের ভাই মুফিজুর রহমান গতকাল দুপুরে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, শনিবার বেলা ৩টার দিকে তিউনিশিয়া থেকে তার আপন চাচা ইতালি যাত্রী বেলাল আহমদ টেলিফোন করেন। আর এই টেলিফোনে বেলাল আহমদ জানান, ‘আমি দীর্ঘ সময় সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিলাম। স্থানীয় জেলেরা এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করলেও আমার ভাগ্নে আহমদ এবং ভাতিজা আব্দুল আজিজ বেঁচে নেই। দীর্ঘ ৪ মাস বিভিন্ন দেশ ঘুরে লিবিয়ায় অবস্থান করছিলেন তারা। গত বৃহস্পতিবার সেখান থেকে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করে যাওয়ার পর তারা তিউনিশিয়া উপকূলে এসে তাদের ছোট একটি নৌকায় জোর করেই তোলা হয়। ওই নৌকায় ওঠার ১০ মিনিটের মধ্যেই নৌকাটি হিমশীতল সাগরে ডুবতে থাকে। তখন সাগরে হাবুডুবু খেয়ে মৃত্যু হয় বলে জানান বেলাল আহমদ।

এ খবর শোনার পর ফেঞ্চুগঞ্জে কান্নার রোল পড়ে। রাতে আরো কয়েক বার যোগাযোগের পর তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়। এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের হাওরতলা গ্রামের মৃত রফিক মিয়ার পুত্র আফজাল রহমান নিখোঁজ ছিলেন। তিনি ফেঞ্চুগঞ্জের দিনপুর তার ফুফুর বাড়িতে থাকতেন। ট্রলারডুবিতে মারা যাওয়া ফেঞ্চুগঞ্জের যুবক লিটন আহমদ সিলেটের একটি অনলাইন পোর্টালে কাজ করতেন। ওই চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি স্বপ্নের ইউরোপে যেতে ৫ মাস আগে যাত্রা শুরু করেন। তার মৃত্যুর খবরে ফেঞ্চুগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে কান্নার রোল পড়েছে।

গতকাল সকালে বাড়িতে গিয়েও দেখা গেল মাতম চলছে। পিতা সিরাজ উদ্দিন ছেলের মৃত্যুর খবরে কাঁদছেনই। তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে ঘটনা ঘটলেও তারা জেনেছেন শনিবার সন্ধ্যার আগে। ওখানকার রেড ক্রিসেন্টের হেফাজতে থাকা স্বজনরা টেলিফোনে তাদের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। সিরাজ মিয়া জানান, আমরা ছেলেদের হারিয়েছি। একবার হলেও আমরা লাশের মুখ শেষবারের মতো দেখতে চাই। এ জন্য তিনি সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে ট্রলারডুবিতে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদের ছোট ভাই হাফিজ আহসান হাবিব শামীম প্রথমে নিখোঁজ ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় তার শ্যালক কামরান আহমদ মারুফও নিখোঁজ হন। তবে শেষ মুহূর্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা দুজনই মৃত্যুবরণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের দুজনের মৃত্যুর খবরে শোক অব্যাহত রয়েছে। এই দুজনের মৃত্যুতে কুলাউড়া ও গোলাপগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছেন। এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় নিখোঁজ আরো দুজনকে জীবিত উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। এরা হলেন- ফেঞ্চুগঞ্জের মহিদপুরের মাঝপাড়া গ্রামের হাজী তজম্মুল আলীর ছেলে বিলাল আহমদ ও দিনপুর গ্রামের চান মিয়ার ছেলে শিজুর মিয়া। তারা নিউনিশিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই দুজনের বাইরে আরো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌চালক নূরুর স্বীকারোক্তি, তানিয়ার শরীরে ১০ আঘাত


গণধর্ষণের পর কটিয়াদীর মেয়ে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে হত্যা করা হয়। তানিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর মধ্যে মাথার পিছনের আঘাত ছিল সবচেয়ে গুরুতর। ভারি কিছু দিয়ে আঘাতের ফলে তার মাথার পিছনের খুলি ফেটে যায়। মাথার খুলি দুই ভাগ হয়ে যাওয়া ছাড়াও মাথার পেছনের দিকে দু’টি হাড় ভেঙ্গে যায়। গণধর্ষণ শেষে এই আঘাতের কারণেই তানিয়ার মৃত্যু হয়েছে। তানিয়ার ময়নাতদন্ত রিপোর্টের বরাত দিয়ে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান এসব তথ্য জানান। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট রোববার পুলিশের হাতে জমা দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকা-ের ঘটনায় বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল-মামুন বাসচালক নূরুজ্জামান নূরুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে রাত ৮টার দিকে বাসচালক নূরুকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

বাসচালক নূরুজ্জামান নূরুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে, সে নিজেসহ তিনজনে মিলে পালাক্রমে তানিয়াকে ধর্ষণ করে। অন্য দুই ধর্ষক হলো, বাসের হেলপার লালন মিয়া এবং নূরুর খালাতো ভাই ও বাসটির অপর হেলপার বোরহান। তাদের মধ্যে লালন মিয়া গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে থাকলেও বোরহান এখনও পলাতক রয়েছে। বোরহানের বাড়িও গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায়। তাকে ধরতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। এদিকে চলন্তবাসে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় রোববার সরজমিনে ঘটনাস্থল বাজিতপুর উপজেলার বিলপাড় গজারিয়া এলাকা পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বিপিএম-পিপিএম।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌ভূমধ্যসাগরে নিহতদের সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী


লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি, সে সম্পর্কে সরকারের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

রেড ক্রিসেন্টের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তিউনিসিয়ার উপকূলের কাছে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে যায়। তিউনিসিয়ায় রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা মঙ্গি স্লিম বলেন, নৌকাটিতে প্রায় ৭৫ জন পুরুষ আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৫১ জনই বাংলাদেশি।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, তিউনিসিয়ার জেলেরা নৌকার আরোহীদের মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে ১ শিশুসহ ১৪ জন বাংলাদেশি।

অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ত্রিপোলির বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, এই নৌকাডুবিতে ৩৭ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি তিনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১৪ জনের সবাই বাংলাদেশি। যাদের এখনো পাওয়া যায়নি, তাদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। যেহেতু ৩৭ জনকে পাওয়া যাচ্ছে না, সে ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৩৫ জন মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনা জানার পর সেখানকার দূতাবাস থেকে এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে চলে গেছেন। যারা নিখোঁজ, তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়ার ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে।

আবদুল মোমেন বলেন, লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শনিবার যে বার্তা পাঠিয়েছেন, তাতে জানা যায়, ওই নৌকায় ৫১ জন বাংলাদেশি ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌নুসরাতের পর গত ১ মাসে ১০ মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতিত হয়েছে


ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পর আরও ১০ জন মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশব্যাপী নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে দেশের সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। কিন্ত থেমে নেই নির্যাতন।

শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই নিজ মাদ্রাসায় নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ভয় আর লজ্জায় নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ না করায় চাপা পড়ে যায় সেসব ঘটনা। যেসব ঘটনা সামনে আসে প্রভাবশালীদের কারণে তাও একসময় চাপা পড়ে। এতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানের হর্তাকর্তারা।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ১৫ বছরের মাদরাসাছাত্রীকে গত শুক্রবার রাতে ধর্ষণের পর হাত-পা ও মুখ বেঁধে নালায় ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। ১১ মে শনিবার সকালে মাঠে কাজ করতে যাওয়া স্থানীয় কৃষকরা তাকে উদ্ধার করে। কিশোরীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জেলার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

০৬ মে কুমিল্লার হোমনায় দিনের বেলায় নবম শ্রেণীর মাদ্রাসাছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে ৮ মামলার আসামি সুমন সরকার। ৩ মে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ভংগারচর গ্রামের রজ্জব আলী মাস্টারের বাগানে মেয়েটি ধর্ষিত হয়। সুমন সরকার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নের দ্বাড়িগাঁও গ্রামের রেজাউল করিম ওরফে রাজা মিয়ার ছেলে। মেয়েটির বাবা সুমনকে আসামি করে শনিবার রাতে হোমনা থানায় মামলা করেন।

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনা ধামাচাপা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন সেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মতিউর রহমান। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর যৌন হয়রানির শিকার সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া উপজেলার দিঘিরপাড় দাখিল মাদ্রাসাছাত্রীর পরিবার বিচার চাইতে গিয়ে এখন উল্টো অধ্যক্ষের রোষানলে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যৌন হয়রানির ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় এলাকার লোকজন ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। ছাত্রীর পরিবার জানায়, মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী বিল্লাল হোসেন একই মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া তাদের মেয়েকে ২৪ এপ্রিল বই দেয়ার কথা বলে লাইব্রেরি কক্ষে নিয়ে যৌন হয়রানি করে।

শার্শায় পঞ্চম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার ওই ছাত্রীর বাবা এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ডাক্তার নূরুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

শ্রীবরদীতে অটোরিকশা চালকের বিরুদ্ধে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের নাম উজ্জ্বল মিয়া (৪০)। তিনি উপজেলার শংকরঘোষ গ্রামের বাসিন্দা। ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটি উপজেলার একটি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। ১ মে বুধবার দুপুরে শ্রীবরদী উপজেলার শংকরঘোষ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

২৮ এপ্রিল শনিবার মারজানা বেগম নামে পঞ্চম শ্রেণীর এক মাদ্রাসাছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সে কেওলাকান্দি গ্রামের মো. লিয়াকত আলীর মেয়ে। মারজানার মা সেলিনা বেগম জানান, মারজানা গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে যে রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে, সেই রশি ছিড়ে মেঝেতে পড়ে যায়।

খাগড়াছড়ির রামগড়ে মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থী (১১) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। শুক্রবার ২৬ এপ্রিল রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ধর্ষক যুবককে আটক করেছে। পুলিশ ও ভিকটিমের পরিবার জানায়, রামগড় পৌরসভার দারোগাপাড়ার বাসিন্দা ১১ বছরের ঐ শিশু কন্যা তাদের এক প্রতিবেশীর সঙ্গে শুক্রবার রাতে পার্শ্ববর্তী ফেনী নদীতে মাছ ধরতে যায়। এ সময় (রাত ৮টার দিকে) বাবলু (৩১) নামে এক যুবক ঐ মেয়েটিকে মহামুনি এলাকায় নদীর চরে ধর্ষণ করে।

বাগেরহাটের রামপালে এগারো বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের মামলায় অধ্যক্ষ ওলিয়ার রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে উপজেলার শরাফপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এনিয়ে পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেফতার করলো। গ্রেফতার ওলিয়ার রহমান স্থানীয় শরাফপুর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং ফেরদৌস শেখ রামপাল উপজেলার শরাফপুর গ্রামের লুত্ফর শেখের ছেলে। ২১ এপ্রিল শনিবার এ ঘটনা ঘটে।

বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে (৯) ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে তার পরিবার। এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা। ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে উপজেলা সদর ইউনিয়নের রনবাঘা কৈগাড়ী গ্রামের কাওছার আলী (১৯) ও হাসু মিয়া (২২) নামে দুইজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

বরিশালে ছাত্রী নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসা অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ১৪ এপ্রিল শনিবার মাদ্রাসাছাত্রী আয়শা ছিদ্দিকাকে (১৪) নির্যাতন করা হয়েছে বলে তার অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন। সে নগরীর রূপাতলী এলাকায় আশরাফুন্নেছা বালিকা হাফিজি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্রী। নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর মা নিলুফা বেগম রোববার রাতে মামলা করার পর তাদের গ্রেফতার করা হয়।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ বসবাসের জন্য অনিরাপদ!


শেখ হাসিনা এবং তার দলের নেতাদের দাবি অনুযায়ী আর অল্প কিছু দিন পরই বর্তমান বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উঠে যাবে বাংলাদেশের নাম। মানুষের এমন কোনো অধিকার নেই যা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিষ্ঠিত করেনি। শেখ হাসিনার দাবি-তিনি এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন যেখানে নাগরিকরা তাদের মায়ের গর্ভের মতো নিরাপদে বসবাস করছে। যদিও বাস্তবতার সঙ্গে তাদের বক্তব্যের কোনো মিল খোঁজে পাওয়া যায়নি।

২০১৭ সালে বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধান ও সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বাস্তবিক অর্থে রাষ্ট্রে আসলে কি হচ্ছে তার একটা বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশের মধ্যে যা ঘটেছে সব কিছুরই তিনি একটা সামারি টেনেছেন। রাষ্ট্রের এমন কোনো অসঙ্গতি বাকী নেই যা তার পর্যবেক্ষণে আসেনি।

বিগত ১০ বছর ধরে শুধু ক্ষমতার জন্য আওয়ামী লীগ কিভাবে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে, লুটপাট, দুর্নীতি, খুন, হত্যা, গুম-অপহরণ, বিচারবিভাগ ও সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে কিভাবে বিরোধী দল সমূহের বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে তার একটা চিত্র তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন। সবশেষে তিনি মন্তব্য করেছেন-আমরা এখন এমন একটা সমাজে বসবাস করছি যেখানে কোনো ভাল মানুষ কোনো ভাল স্বপ্ন দেখেনা।

সরকারের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্যের কারণে অবশ্য তাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখতে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির আর কোথাও দেখা যায়নি।

এদিকে, প্রায় দুই বছর শেখ হাসিনার উন্নয়নশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ নিয়ে আরেকটি মন্তব্য এসেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে। রোববার হাইকোর্ট বলেছেন-এ দেশে এখন বসবাস করা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

আর আদালত এই চরম ক্ষোভটা প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনার খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে। দেশের সুপরিচিত ৫২ খাবারে মারাত্মক ভেজাল ধরা পড়েছে। আর ৯৬ শতাংশ দুধের ৯৩ শতাংশেই রয়েছে মারাত্মক ক্ষতির রাসায়নিক দ্রব্য। আর ওয়াশার কথিত সুপেয় পানির মধ্যে পাওয়া গেছে বিষ। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ও খাবারের কারণে এদেশে বাস করাটা অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই তাদের তো এদেশেই থাকতে হবে।

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ এখন মনে করছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সন্ত্রাস, খুন, হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, গুম, অপহরণ, দুর্নীতি-লুটপাট, ছিনতাই, হামলা, মামলা, গ্রেফতার-নির্যাতন ও জীবন রক্ষার খাবারে অতিমাত্রায় ভেজালে দেশের মানুষ এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শুধু ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো নেতাকর্মীরা এদেশে এখন আর বসবাস করা কারো জন্যই নিরাপদ নয়। দেশ ছেড়ে যাওয়ার মতো যাদের সামর্থ নেই তাদেরকে জীবন হুমকি নিয়ে এদেশেই থাকতে হবে। যেটা হাইকোর্টের আদেশের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। তারা বলছেন, শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ এখন বসবাসের অনুপযোগী।

বিএসটিআই কর্তৃক ৫২টি স্বীকৃত ভেজাল পণ্যের তালিকা-

সিটি ওয়েলের সরিষার তেল, গ্রীণ ব্লিচিং এর সরিষার তেল, শমনমের সরিষার তেল, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েলের সরিষার তেল, কাশেম ফুডের চিপস, আরা ফুডের ড্রিংকিং ওয়াটার, আল সাফির ড্রিংকিং ওয়াটার, মিজান ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ণ ডিউয়ের ড্রিংকিং ওয়াটার, ডানকান ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, আরার ডিউ ড্রিংকিং ওয়াটার, দিঘী ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি নুডলস, শান্ত ফুডের সফট ড্রিংক পাউডার, জাহাঙ্গীর ফুড সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশের হলুদের গুড়া, প্রাণের হলুদ গুড়া, ফ্রেশের হলুদ গুড়া, এসিআইর ধনিয়ার গুড়া, প্রাণের কারি পাউডার, ড্যানিশের কারী পাউডার, বনলতার ঘি, পিওর হাটহাজারী মরিচ গুড়া, মিস্টিমেলা লাচ্ছা সেমাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মিঠাইর লাচ্ছা সেমাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, এসিআইর আয়োডিন যুক্ত লবন, মোল্লা সল্টের আয়োডিন যুক্ত লবন, কিং’য়ের ময়দা, রুপসার দই, মক্কার চানাচুর, মেহেদীর বিস্কুট, বাঘাবাড়ীর স্পেশাল ঘি, নিশিতা ফুডস এর সুজি, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মঞ্জিলের হলুদ গুড়া, মধুমতির আয়োডিন যুক্ত লবন, সান ফুডের হলুদ গুড়া, গ্রীন লেনের মধু, কিরনের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিনের মরিচের গুড়া, ডলফিনের হলুদের গুড়া, সূর্যের মরিচের গুড়া, জেদ্দার লাচ্ছা সেমাই, অমৃতের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপারের আয়োডিন যুক্ত লবন, মদীনার আয়োডিন য্ক্তু লবন এবং নুরের আয়োডিন যুক্ত লবন।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌আওয়ামী লীগ এখন মাফিয়াদের দলে পরিণত হয়েছে : রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নষ্ট প্রতীকে পরিণত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এদেশে যতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে-ততদিন ভোট ডাকাতি ও সমাজে অবিচার-অনাচারের বাড়বাড়ন্ত থাকবেই।

রোববার (১২ মে) রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশজুড়ে উন্নতির অন্তরালে আর্তনাদ চলছে। এরকম দুরাবস্থা বাংলাদেশে আর কখনো দেখা যায়নি। মানুষের চোখের পানিতে বাংলাদেশের মাটি কর্দমাক্ত, সেই কাদামাটিতে শেখ হাসিনার উন্নয়নের রথ আটকে গেছে। আওয়ামী উন্নয়নের জিকিরে জনমনকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। কারণ আওয়ামী উন্নয়নের আড়ালে যে রক্ত উৎসব চলছে তাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত।

তিনি বলেন, জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নেয়া রাজনৈতিক দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ। গুম-খুন-অপহরণই হচ্ছে এদের বানিজ্য। কারণ এরা সুষ্ঠু নির্বাচন ও চিরন্তন গণতন্ত্রের ধারণা নিজেদের মতো জনগণের মন থেকেও মুছে দিতে চায়। আর এজন্য নির্বাচনের দিনের আগের রাতের ভোটকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। ৩০ ডিসেম্বরের পর নির্বাচন কমিশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, আওয়ামী এমপি-মন্ত্রীরাও মিড নাইট ভোটের গুণকীর্তন করছেন

সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিতাকে ঘৃনা করে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এই কারণেই নুসরাত, শাহীনুর, তনু, মিতুর মতো অসংখ্য নারী-কিশোরী প্রতিনিয়ত হত্যার বলি হচ্ছে। এত হত্যা, নারী নির্যাতন-শিশু নির্যাতনের খবরে সংবাদপত্রের পাতা ভরে থাকে। এই ম্যান্ডেটহীন সরকারের কারণেই অসংখ্য মানুষের কান্না ও দীর্ঘশ্বাসে বাংলাদেশের বাতাস ভারী হয়ে আছে।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবস্থান কানাডার সমানঃ আ হ ম মুস্তফা কামাল


অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কানাডার সমান বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

শনিবার রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অংশীদার হবে এমন প্রভাবশালী ২০টি দেশের মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ। গত ৬মে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক আউটলুকে আইএমএফ ২০২৪ সাল পর‌্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে প্র্রবৃদ্ধির যে প্রক্ষেপণ করেছে তাঁর আলোকে ব্লুমবার্গ-এর করা বিশ্লেষণে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ওই বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগামী অর্থবছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর সেই প্রবৃদ্ধিতে দশমিক ৯ শতাংশ অবদান রাখবে বাংলাদেশের অর্থনীতি। কানাডা অবদান রাখবে ১ শতাংশ। থাইল্যান্ড-স্পেনও ১ শতাংশ করে অবদান রাখবে।

আগামী ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশের এই অবদান অব্যাহত থাকবে বলে ব্লুমবার্গ-এর গবেষণার বরাত দিয়ে তথ্য দেন মুস্তফা কামাল।

‘সে তথ্যের ভিত্তিতেই আমি বলছি, প্রবৃদ্ধিতে আমরা কানাডার সমান। স্পেন-থাইল্যান্ডের সমান। আর এটা আমার কথা নয়; আইএমফের কথা। বিশ্ব ব্যাংকের কথা।’

‘শুধু তাই নয়, কয়েক দিন আগে ফিজিতে এডিবির বার্ষিক সম্মেলনেও বলা হয়েছে, চমকপ্রদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ।’

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হওয়ার যে আভাস সরকার দিচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সানেম।

সরকারের কথার সঙ্গে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিগুলোর তথ্য-উপাত্ত মেলে না দাবি করে সংস্থাটি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সরবরাহ করা তথ্য-উপাত্তগুলো পুনঃপর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডিও সরকারের প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল।

গত জানুয়ারিতে টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়া আওয়ামী লীগ সরকার চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হবে বলে আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) তথ্য হিসাব করে আভাস দিয়েছে।

সরকারের এই প্রাক্কলনের কাছাকাছি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের আভাস দিয়েছে এডিবি; তারা বলছে এই অঙ্ক ৮ শতাংশ হতে পারে। তবে বিশ্ব ব্যাংক বলছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর এ সব সমালোচনার জবাবে মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘তাদের কাজ তারা করবে; আমার কাজ আমি করবো। তবে তাদের হোমওয়ার্ক করে তথ্য দেয়া উচিৎ। আমি তথ্য নিয়ে কথা বলি। আমি মানে বাংলাদেশ…। আমি সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই কথা বলি।’

‘আমি কারো নাম বলছি, তবে অনেকেই অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলেন। আমি তাদের চ্যালেঞ্জ করে বলছি…। আসেন, গোলটেবিল আলোচনায় বসি…। আমি বা বিবিএস যে তথ্য দিচ্ছে সেটা যে সঠিক তা প্রমাণ করে চাড়ব।’

‘দুঃখ একটাই, বিশ্ব ব্যাংক-আ্ইএমএফ-এডিবি আমাদের প্রশংসা করছে। আর আমাদের এখানকার কয়েকজন সেটা মেনে নিচ্ছে না বা মেনে নিতে পারছে না।’

‘এ সব সংগঠনের কাজই সরকারের সমালোচনা করা। তারা বছরে কিছু প্রোগ্রাম করে আর সরকারের সমালোচনা করে। এটা তাদের বাৎসরিক রুটিন হয়ে গেছে।’

ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত

তবে বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কমেছে বলে যে তথ্য বেসরকারি সংস্থাগুলো দিচ্ছে তা ঠিক আছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘জিডিপির তুলনায় আমাদের ট্যাক্স অনেক কম। ১০ থেকে এখন ৯ এ নেমে এসেছে। এটা অবশ্যই বাড়ানো দরকার। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কম হলেই যে প্রবৃদ্ধি কমবে এটা ঠিক নয়।’

‘আমাদের অর্থনীতির প্রায় ৮০ শতাংশই ইনফরমাল ইকনোমি। এই ইনফরমাল ইকনোমি জিডিপিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে।’

‘তবে ট্যাক্স বেশ ভালোই বেড়েছে’ তথ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছরে কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সেটার লক্ষ্য ধরা আছে ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। হয়তো লক্ষ্যের পুরোটা আদায় হবে না। কিন্তু কাছাকাছি তো হবে।

‘হিসাব করলে দেখা যাবে, এই কয় বছরে কর আদায়ের পরিমাণ চার গুণ বেড়েছে।’

নতুন ভ্যাট আইন ১ জুলাই থেকেই

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মুস্তফা কামাল বলেন, আগামী অর্থবছর থেকেই নতুন ভ্যাট আইন কার‌্যকর করা হবে।

“এ বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজস্ব বোর্ডের প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। ভ্যাট আইনের যেসব ধারায় ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানিয়েছেন তা নিয়ে এনবিআরকে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসে সমাধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের কোনো দুর্বলতা মেনে নেওয়া হবে না।”

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌আমরা রাতের আধারে ভোটের বাক্স ভরেছি! বিএনপি কেনো ভরতে পারল না?: মোশাররফ


স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, অনেকে বলেন আমরা নাকি ভোটের আগের রাতের আধারে ভোট কেটে বাক্স ভরে জিতেছি! আমরা যদি সত্যি সত্যিই ভোট কেটে বাক্স ভরেই জিতে থাকি তাহলে বিএনপি কেনো রাতের আধারে ভোটের বাক্স ভরতে পারলো না? আমরা কি তাদের বাঁধা দিয়েছিলাম? আমরা না হয় বাক্স ভরলাম, তোমাদের বাক্স খালি কেনো? তোমাদের ভোট গেলো কোথায়?

শনিবার দুপুরে ফরিদপুর শহরের বদরপুরে অবস্থিত আফসানা মঞ্জিলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত ফরিদপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় দ্বারা বাস্তবায়িত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বয়স্ক, বিধবা ও অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধি ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ভোট পেতে হলে জনগণের পাশে থাকতে হয়। বিএনপি জনগণের পাশে ছিলো না বলেই তারা ভোট পায়নি। অপরদিকে, শেখ হাসিনা একজন জনদরদি নেত্রী বলেই তাকে জনগণ ভোট দিয়েছে। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শুরু করেছে। এর আওতায় অবহেলিত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে প্রতিমাসে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেশের মাথাপিছু আয় ছিলো ৫৩৬ ডলার। এখন সেটি বেড়ে ২১শ’ ডলারে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাই বিশ্বে একমাত্র নেত্রী যিনি নির্দিষ্ট দিনতারিখ ঠিক করে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করছেন। শুধু শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই এটি সম্ভব।

বিএনপি নেত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং এবং একটি দলের সভানেত্রী। অথচ তিনি দুর্নীতির দায়ে আজ জেল খাটছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, যাদের আসলে পরিবারে বোঝা মনে হতো কিন্তু তারা যে মোটেও পরিবারের বোঝা নন বরং সমাজেরই অংশ; এটি বোঝানোর জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বয়স্ক, বিধবা ও অসুস্থ প্রতিবন্ধী ভাতা উপহার স্বরূপ আপনাদের দিয়েছেন।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এসএম আলী আহসান, উপ সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা, বিধবা ভাতাভোগী রাশেদা বেগম ও বয়স্ক ভাতাভোগী শেখ আব্দুল হক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফরিদপুর সদর উপজেলায় ১ হাজার ৮৭১ জন ভাতাভোগীর মাঝে ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৮শ’ টাকা ভাতা বাবদ প্রদান করা হয়। এরমধ্যে বয়স্ক ও বিধবা ভাতাপ্রাপ্তগণ প্রতি মাসে ৫শ’ টাকা করে এবং অসুস্থ শারীরিক প্রতিবন্ধীরা প্রতিমাসে ৭শ’ টাকা করে ভাতা পান। বর্তমানে ফরিদপুর সদর উপজেলায় ১১ হাজার ৮শ’ ৬৯ জন বয়স্ক ভাতা, ২ হাজার ১শ’ ৮৫ জন বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা এবং ২ হাজার ৬শ’ ৭৮ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। এ বাবদ তাদের মাঝে এ বছর ৮ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার ৬শ’ টাকা প্রদান করা হবে।

উৎসঃ ‌‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন!


দাড়ি রাখা, টাকনুর উপর কাপড় পড়া, ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশোনা ও ধর্মচর্চা করা জঙ্গির লক্ষন! কি! অবাক হচ্ছেন?

আজ অধিকাংশ জাতীয় পত্রিকায় ‘সন্দেহভাজন জঙ্গি সদস্য সনাক্তকরণের (রেডিক্যাল ইন্ডিকেটর) নিয়ামকসমূহ’ নামে একটি পোষ্টার ছাপানো হয়েছে। সেখানে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের জন্য কিছু লক্ষণের কথা বলা হয়েছে। যে লক্ষণগুলো দেখলে তাকে জঙ্গি হিসেবে সন্দেহ করা যাবে। সেই সন্দেহের মধ্যে ইসলামের আবশ্যক পালনীয় দাড়ি রাখা, টাখনুর উপর কাপড় পড়াসহ বেশ কিছু লক্ষণকে জঙ্গি লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পোষ্টারে উল্লিখিত জঙ্গি লক্ষণের মধ্যে রয়েছে- ধর্ম চর্চার প্রতি ঝোঁক; গায়ে হলুদ, জন্মদিন পালন, গান বাজনা ইত্যাদি থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখা; মিলাদ, শবেবরাত, শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচনা করা ইত্যাদি।

পূর্বে এ ধরণের পোষ্টার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক প্রচারিত হলেও আজকের পোষ্টারটির নিচে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের নামে প্রকাশ করা হয়েছে। জানা যায়, ধর্মনিরপেক্ষতার স্লোগানকে ধারণ করে গত বছরের জুলাই মাসে এই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ হলো একটি কথিত অসাম্প্রদায়িক সংগঠন। এর আহবায়ক হলো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দোপধ্যায়। সংগঠনটির সাথে আছেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এছাড়াও আছেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, আবেদ খান, শামীম মো. আফজাল প্রমুখ। 😡

জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার ৪টি ধাপের কথা বলা হয়েছে পোষ্টারে। তার প্রথম ধাপেই রয়েছে- তাওহীদ, শিরক, বেদাত, ঈমান, আকীদা, সালাত, ইসলামের মূলনীতি, দাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা।

এদিকে ইসলামের মৌলিক রীতি নীতিকে জঙ্গিবাদের লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ধর্মীয় আলেম ও ওলামারা। তারা এসব বিষয় জঙ্গিবাদের লক্ষণ থেকে অপসারণের দাবি জানান।

তবে ইসলামের মৌলিক কিছু বিষয়কে জঙ্গি লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরে বিতর্কিত কাজ করলেও সত্যিকারের কিছু জঙ্গি লক্ষণও তুলে ধরা হয়েছে পোষ্টারে। যেমন- ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকৃত নামে রেজিষ্ট্রেশন না করা; কুরআন হাদিসের অরিজিনাল কপি না পড়ে অনলাইন থেকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া; টার্গেট কিলিং, জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করা, অস্ত্র গোলাবারুদ সংগ্রহ ও ব্যবহার করা ইত্যাদি।

এইরকম ইসলামোফোবিক প্রকাশনা কোন অমুসলিম দেশেও সম্ভব না। সম্ভব হলো কেবল একমাত্র দিল্লীর সরকারের মদদপুষ্ট ও সমর্থিত আওয়ামীলীগ সরকারের দেশে।

উৎসঃ ‌‌নতুন দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌হুমায়ন আজাদের মৃত্যুর জন্য মাওলানা সাঈদী দায়ীঃ শাহরিয়ার কবির


একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, হুমায়ন আজাদের মৃত্যুর জন্য মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী দায়ী।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন শাহরিয়ার কবির।

তিনি বলেন, সাঈদীর কোন বিচার হল না। তার ওয়াজে সুস্পষ্ট ভাবে হুমায়ন আজাদের বিষয়ে কুৎসা করা হয়েছে। দুষ্কৃতিকারীরা তার ওয়াজ শুনে অনুপ্রাণিত হয়েই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমি একটি কথা খোলামেলা ভাবেই বলতে চাই, আইএস, আলকায়দা, জামায়াতে ইসলাম সব একই সূত্রে গাঁথা ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। এরা জঙ্গিবাদের জন্য দায়ী।

শাহরিয়ার কবির বলেন, আমরা যদি চুনোপুঁটি না হতাম তবে আমাদেরকে যারা হত্যার হুমকি দিচ্ছে, তাদের অবশ্যই আইন শৃঙ্খলাবাহিনী গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করেই তিনি বলেন, আমরা কি দেখতে পাই শেখ হাসিনাকে কেউ কোন কটূক্তি করার সঙ্গে সঙ্গে অজপাড়া গ্রাম থেকেও গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হয়।

অথচ আমাদের মত চুনোপুঁটি মানুষদের হত্যার হুমকি দেওয়ার পর কার্যত কোন ব্যবস্থা না নেওয়া দুঃখজনক। এটা কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়। আমরাও তো মানুষ? সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছাড়ানোর অপচেষ্টায় এসব হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমার মত যারা মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক কথা বলে বিশেষ করে মামুন, জাফর ইকবাল, সুলতানা কামাল ছাড়াও এমন ১৫০ লোককে হত্যার হুমকি প্রতিনিয়তই দেওয়া হচ্ছে।

উৎসঃ ‌‌bangladeshtoday

আরও পড়ুনঃ ‌২০২০ সাল মুজিব বর্ষ, ‘২১ সাল ডিজিটাল বর্ষ এবং ‘২২ সাল হাসিনা বর্ষ: পলক


সিংড়ার মাটিতে আগামী ২০২০ সালে শেখ মুজিব বর্ষ, ২০২১ সালে ডিজিটাল বর্ষ এবং শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিবস উপলক্ষে আগামী ২০২২ সালে শেখ হাসিনা বর্ষ উদযাপনের ঘোষণা করলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাড জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি।

শুক্রবার বিকালে সিংড়া পৌর কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সাধারণ সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পরপর ৩টি বর্ষ উদযাপনের এই ঘোষণা দেন।

এ সময় তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড ওহিদুর রহমান শেখকে আহ্বায়ক করে তৃণমুল নেতা কর্মীদের নিয়ে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট মুজিব বর্ষ উদযাপন কমিটি গঠন করার আহবান জানান। প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ‘ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না। আর দেশ স্বাধীন না হলে আমরা চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী হয়ে এভাবে দেশ সেবার সুযোগ পেতাম না। তাই আমরা আগামী ২০২০ সালে সিংড়ার মাটিতে জাঁকজমকপুর্ণ ভাবে মুজিব বর্ষ উদযাপন করবো। পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে ডিজিটাল বর্ষ এবং তার পরের বছর মুজিক কন্যা শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্ম দিবস উপলক্ষে শেখ হাসিনা বর্ষ উদযাপন করবো।’

তিনি বলেন, ‘এই ৩ টি বর্ষ উদযাপনের জন্য আমাদের সবার প্রস্তুত থাকতে হবে ‘

সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কোন অনৈক্য নেই। সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী সংগঠন। আজকের এই রমজান মাসের প্রখর গরমে তৃনমুল নেতা কর্মীদের উপস্থিতিই তাই প্রমাণ করে। আমরা আগামী দিনেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার যে কোন নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালনের জন্য প্রস্তুত আছি ইনশাআল্লাহ।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড ওহিদুর রহমান শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আগে বক্তব্য রাখেন সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান, উপজেলা আ’লীগের সহ সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক, উপজেলা উলামা লীগের সভাপতি মাও আব্দুর শাকুর, মাও আব্দুর বারি রশিদী, মাওলানা সুমনসহ আরও অনেকে।

উৎসঃ ‌‌ইত্তেফাক

আরও পড়ুনঃ ‌অবরুদ্ধ খালেদা জিয়াকে যেভাবে নিরাপত্তা দিয়েছিল জামায়াত!


শিরোনামটা দেখে আপনার কাছে নিশ্চয় অদ্ভুত মনে হচ্ছে। আর বিষয়টি অদ্ভুত মনে হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, খালেদা জিয়া এদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সবচেয়ে বড় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। শেখ হাসিনা প্রতিদিন তাকে দুর্নীতিবাজ, অশিক্ষিত ও খুনি বলে গালি দিলেও আসলে খালেদা জিয়াই এদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। সরকারের বাইরে থেকেও তিনি যথেষ্ট নিরাপত্তা পেয়েছেন। পুলিশ ছাড়াও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীও রয়েছে। এছাড়া দলীয় লোকজনতো আছেনই। এরমধ্যে আবার জামায়াতকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা দিতে হবে কেন? আর খালেদা জিয়াও জামায়াতের নিরাপত্তা নেবে কেন? এমন প্রশ্ন সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক।

বিষয়টা একটু খোলাসা করলেই সব প্রশ্নের জবাব পাঠকরা পেয়ে যাবেন। খালেদা জিয়ার একটা বিশেষ ক্রাইসিস মুহূর্তে পর্দার আড়াল থেকে নিরাপত্তার দিকটাসহ সার্বিক খোঁজ খবর রাখতেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। সময়টা ছিল ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত টানা ৩ মাস অবরোধের সময়। ওই সময় খালেদা জিয়া তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় টানা অবরোধের ঘোষণা দেয়ার পর ওই দিন প্রেসক্লাবে ঢুকে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরের দিন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতারা তাকে প্রেসক্লাব ছাড়তে বাধ্য করেন। প্রেসক্লাবের গেট থেকে মির্জা ফখরুলকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর ক্রমান্বয়ে বিএনপির আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে আটক করে পুলিশ। আর বাকীরা চলে যায় আত্মগোপনে। তবে, খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে অবরোধ সফল করতে মাঠে নেমে আসে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর মাঠে নামার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। তারা শুধু খালেদা জিয়ার ঘোষণার অপেক্ষা করছিল।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে যখন সারাদেশ উত্তাল, তখন গুলশানের কার্যালয়ে আটকা পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতাকর্মীরা তখন গুলশানের কার্যালয়ে প্রবেশ করাতো দূরের কথা গুলশানের কোনো রাস্তায় তারা নামতে পারেনি। তখন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্য কেউ গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেনি।

ওই সময় দেখা গেছে, অবরোধের তৃতীয় দিন সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের উত্তর পাশের সড়কের পূর্ব মাথায় স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে অন্য আরেকটি গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ওই গ্রপটির পরিচয় জানা না গেলেও পরে জানা গেছে তারা জামায়াত-শিবিরের লোক ছিল।

যেভাবে নিরাপত্তায় ছিল জামায়াত

টানা অবরোধের সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপির নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘেরাওয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার অফিসে কয়েক দফা হামলাও চালানো হয়েছে। এমনকি একজন মুক্তিযোদ্ধা অস্ত্র হাতে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের গেটের সামনে গিয়ে খালেদা জিয়াকে গালাগালি করেছেন। র‌্যাব-পুলিশসহ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে। এমন আরও বহু ঘটনা তখন ঘটেছে।

তবে, প্রতিদিন কারা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে যেতো, সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা গুলশান কার্যালয় ঘেরাও করতে গিয়ে কখন কোন সড়কের কোথায় অবস্থান নিতো সব খবরই রাখতেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন লোক পালা বদল করে সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত গুলশান কার্যালয়ে সামনে অবস্থান করতেন। জামায়াতের একটি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক ওই এলাকায় অবস্থান করতো।

বিষয়টিকে সরাসরি তদারকি করতেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল। আর স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করতেন বাড্ডা, গুলশান ও বনানী এলাকার জামায়াতের ৬ জন দায়িত্বশীল। বিশেষ কারণে- এখানে ওই ছয়জনের নাম উল্লেখ করা গেল না।

দেখা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান যেদিন দল বল নিয়ে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করার জন্য গিয়েছিলেন সেদিন গুলশানের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মীকে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। কথা বললে একজন জানিয়েছিলেন, তারা উপরের নির্দেশে এসেছেন। কেউ যদি খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা করে তাহলে তারাও প্রতিরোধ করবেন। এভাবে তারা পুরো তিন মাস নিজেদের লোক দিয়ে গুলশান এলাকার সব খবর নিতেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্যও প্রস্তুত থাকতেন।

পরবর্তীতে স্থানীয় একজন সমন্বয়কের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান- খালেদা জিয়া তাদের জোটের শীর্ষনেতা। তিনি শুধু গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার আদায়ের জন্যই আজ সরকারের রোষানলের শিকার। জোটের অন্যতম শরিক হিসেবে তার বিষয়টি দেখাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তার প্রতি ভালবাসা, বিশ্বাস এবং আস্থা থেকেই আমরা এ ব্যবস্থা নিয়েছিলাম।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌২০ দলীয় জোট রক্ষায় কত জীবন ও রক্ত দিয়েছে জামায়াত?


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্যই ১৯৯৯ সালের ৩০ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট। এই জোট গঠনে মূলত মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির অধ্যাপক গোলাম আযম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে তখন গঠিত হয়েছিল ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলসহ আরও কয়েকটি সংগঠন নিয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য।

চারদলীয় জোট আর সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের আন্দোলনের মুখে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। তখন থেকেই মূলত আওয়ামী লীগ ও ভারত আস্তে আস্তে জামায়াতের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ২০০১-৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে ব্যাপক অপপ্রচার চালায় আওয়ামী লীগ। এছাড়া, বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধার কারণে জামায়াতের ওপর একটা চরম প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগের অপেক্ষায় থাকে আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙ্গার কাজে হাত দেয় আওয়ামী লীগ। এজন্য প্রথমেই তারা ২০১০ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আর ভারতের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এদেশে সবার আগে মাঠে নামে জামায়াত। সেজন্য ভারতের পক্ষ থেকেও জামায়াতকে দুর্বল করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

এদিকে, জামায়াত যখন বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে না আসার সিদ্ধান্তে অটল থাকে তখনই সরকার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথিত মামলায় জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে আটক করে।

ওই সময় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কথিত মামলায় গ্রেফতারের পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদেরকে বলা হয়েছে যে, বিএনপি থেকে আপনারা বেরিয়ে আসলে আপনাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। অন্যথায় যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হবে। কিন্তু, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখন সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি। দল এবং তাদের জীবন ঝুকির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কার পরও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন।

এরপরই শুরু হয় একের পর এক শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাদের মামলা। সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয় শীর্ষনেতাদেরকে। চরম মিথ্যাচার ও বানোয়াট সাক্ষীর মাধ্যমে তারা প্রথমেই অন্যায়ভাবে বিচারের নামে হত্যা করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মোল্লাকে। জানা গেছে, আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার আগেও সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপি জোট ছাড়ার জন্য জামায়াতকে বলা হয়েছে। কিন্তু জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখনো কোনো আপোস করেননি।

এরপর একে একে হত্যা করা হয়েছে জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে। সকলকে ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেও যখন বিএনপি থেকে জামায়াতকে আলাদা করতে পারেনি তখন সরকার জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি, নিবন্ধন বাতিলের আগেও সরকার জামায়াতকে বলেছিল বিএনপি ছাড়ার জন্য।

আর জোটে থাকার কারণেই যে সরকার জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়েছে সেটা বিএনপিও বুঝতে পেরেছে। খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে বিএনপির একাধিক শীর্ষনেতা ওই সময় প্রায় প্রতিদিনই বলতেন যে, শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণেই জামায়াত এখন যুদ্ধাপরাধী। বিএনপি জোট থেকে জামায়াত চলে গেলেই সরকার তাদের ওপর আর নির্যাতন করবে না। কাউকে ফাসিতেও ঝুলাবে না। বিএনপি নেতা হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খন্দকার মোশাররফ হোসেন একাধিক বার বলেছেন যে, ৯৬ সালের নির্বাচনের আগে যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াত বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল তখন তারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আর এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোট বাঁধার কারণেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধীর দল হয়ে গেছে।

অপরদিকে, বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণে জামায়াত শুধু তাদের শীর্ষনেতা এবং নিবন্ধনই হারায়নি। বিগত ১১ বছর ধরে সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে দলটির সারাদেশের নেতাকর্মীরা। জামায়াত-শিবিরের সহ¯্রাধিক মেধাবী নেতাকর্মীকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রিমান্ডের নামে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। বলা যায়-শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণে সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এখন ঘর ছাড়া। কেউ বাসায় থাকতে পারেনি। বিগত ১১ বছরে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মীর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরিচ্যুত হয়েছেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এত নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও নিজেদের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি জামায়াত।

এখনো জামায়াতের প্রত্যাশা, ২০ দলীয় জোট টিকে থাকবে এবং এই জোটের আন্দোলনের মাধ্যমে একদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে। মুক্ত হবে গণতন্ত্র, মানুষ ফিরে পাবে তাদের মৌলিক অধিকার। অবসান ঘটবে দুঃশাসনের।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌মদ খেয়ে মাতলামি: ক্ষমা চাইলেন আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান


ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির একটি অনুষ্ঠানে হুইস্কি খেয়ে নারীকে জড়িয়ে ধরার জন্য অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন টকশো ব্যক্তিত্ব,আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান। এক নারীকে জড়িয়ে ধরার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এর ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের ফেসবুকে ক্ষমা চান তিনি। জানান, প্রায় ৫ বছর পর হুইস্কি খাওয়ায় তিনি অজান্তে এই মাতলামি করে ফেলেন। এজন্য তিনি ক্ষমা চান।

নাঈমুল ইসলামের ফেসবুক পোষ্টটি নতুন দিগন্তের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

“নাসিমা খান মন্টির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টির কাছে আমি নাঈমুল ইসলাম খান নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। গত ২ মে বৃহস্পতিবার ওয়েস্টিন হোটেলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমি অত্যন্ত অনভিপ্রেত, অন্যায় করেছি।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ উপর্যুপরি অনুরোধ করলে আমি ঈষৎ গরম পানি দিয়ে ২ পেগ হুইস্কি পান করি। ৫ বছরেরও বেশি সময় পর প্রায় অনভ্যস্ততার পর্যায়ে ২ পেগ হুইস্কি সম্ভবত আমাকে বেসামাল করে ফেলে। এমন ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘরের আলো আধারি মোহনীয় পরিবেশে আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টিকে কখন যে আমি জড়িয়ে ধরে আমার কাছে টেনে নিয়েছি তখন বুঝতে পারিনি।

কিন্তু উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরদিন শুক্রবার দিন শেষে ঘূর্ণিঝড় ফণী যেভাবে বাংলাদেশে ঝড়বৃষ্টি নিয়ে এসেছে, প্রায় তেমনিই আমার এই অসদাচরণের ছবি ঝড়ো হাওয়া ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অনেক ছবির মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে আমি নাসিমা খান মন্টিকে জড়িয়ে অনেকখানি আমার দিকে কাত করে ফেলেছি। কয়েকটি ছবি বিশ্লেষণে এটা পরিস্কার যে, নাসিমা খান মন্টিকে আমি সম্ভবত নিশানা করে বার বার জড়িয়ে ধরেছি, বিরক্ত করেছি। মন্টির বিনা অনুমোদন এবং বিনা আগ্রহে আমার এই আচরণ খুবই অনুচিত হয়েছে সেটা এখন আমি উপলব্ধি করি।

আত্মপক্ষ সমর্থনে আমার কিছুই বলার নেই। একটি সুন্দর অনুষ্ঠানকে এভাবে অনেকের জন্য অস্বস্তিকর করে তোলায় আমি যারপরনাই লজ্জিত। এমন ঘটনার পুনরাবৃতি যেন না হয় সে জন্য আমি সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

আপনাদের পক্ষে সদয় বিবেচনা করে আমাকে ক্ষমা করা যেন সহজ হয় তার সুবিধার্থে সেই রাতের, সেই ঘটনার কিছু দালিলিক ছবি এখানে যুক্ত করা হচ্ছে।”

উৎসঃ ‌‌দেশ রুপান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here