তাৎক্ষনিক তামিমের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশ দলের খবর নিয়েছিলেন শহীদ আফ্রিদি

0
259
তামিম ইকবালের জন্য শহীদ আফ্রিদি (ফাইল ছবি)

একটু এদিক-ওদিক হলেই বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্রিকেট দল নিঃশেষ হয়ে যেত সন্ত্রাসীদের গুলিতে। শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে যে মসজিদে যাচ্ছিলেন তামিম-মুশফিকেরা, তাঁরা পৌঁছানোর আগেই সন্ত্রাসী হামলায় মারা যান একাধিক মানুষ। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নিন্দার ঝড়। সে তালিকায় নাম লিখিয়েছেন সাবেক ও বর্তমান অনেক ক্রিকেটার। পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদিও আছেন এঁদের মাঝে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে কিছুক্ষণ আগে একটা বার্তা দিয়েছেন আফ্রিদি। সেখানে নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলায় বিস্ময় লুকাননি এই ক্রিকেটার। সে সঙ্গে বাংলাদেশ দলের যে কোনো ক্ষতি হয়নি, এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বিশ্বব্যাপী ধর্ম নিয়ে ঘৃণার রাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন আফ্রিদি। তবে অন্যদের মতো টুইট করে ক্ষোভ ঝেড়ে নিজের দায়িত্ব সম্পন্ন করেননি। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিজে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছেন তাঁরা নিরাপদেই আছেন, ‘ক্রাইস্টচার্চে ভয়ংকর শোকাবহ ঘটনা ঘটেছে। আমি সব সময় নিউজিল্যান্ডকে সবচেয়ে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে জানি। ওখানকার মানুষ খুবই বন্ধুত্বসুলভ। তামিমের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বাংলাদেশ দল ও কোচিং স্টাফরা সবাই নিরাপদে আছে জেনে স্বস্তি পাচ্ছি। এসব থামাতে বিশ্বকে একত্র হতে হবে! এভাবে ঘৃণা করা থামান! সন্ত্রাসবাদের কোনো ধর্ম নেই। শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য প্রার্থনা। আল্লাহ নিহতদের শান্তি দান করুন।’

সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে আফ্রিদির টুইট। ছবি: টুইটার

এদিকে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার জেরে বাতিল করা হয়েছে কাল থেকে হ্যাগলি ওভালে শুরু হতে যাওয়া ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট। এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কিছু না জানালেও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (এনজেডসি) এরই মধ্যে টুইট করে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট শেষেই নিউজিল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। টেস্ট বাতিল হয়ে যাওয়ায় এখন দ্রুতই ফিরে আসবে বাংলাদেশ দল।

উৎসঃ ‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ ৫ বছর আগে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান কুড়িগ্রামের নিহত অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় অর্ধশত মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি রয়েছে। এর মধ্যে একজন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ।

তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মধুরহাইল্লা গ্রামে বলে জানা গেছে। এ হামলায় ড. সামাদের স্ত্রীও নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জহির উদ্দিন বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ছিলেন। তার তিন ছেলে রয়েছে। তিনি নিউজিল্যান্ডে সিটিজেনশিপ নিয়ে দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। আরেক ছেলে বাংলাদেশেই থাকেন।

নিহত অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদের সহকর্মী কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ পাঁচ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরি ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান। ক্রাইস্টচার্চের হামলার ঘটনায় ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

আবদুস সামাদের পরিবার ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, সামাদ নাগেশ্বরী পৌরসভার মধুর হাইল্যা গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে। ২০১৩ সাল থেকে সপরিবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের হ্যাগলি পার্ক এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। আবদুস সামাদ তিন সন্তানের জনক। একসময় তিনি ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েরও শিক্ষক ছিলেন।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ২৪, প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে খুন হলেন সিলেটের হুসনে আরা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশিও রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন সিলেটের হুসনে আরা পারভীন (৪২)। ঘটনার সময় তিনি মসজিদে জুমার নামাজে যাওয়া স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদের খোঁজে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

নিহত হুসনে আরা পারভীন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের জাঙ্গালহাটা গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের মেয়ে। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত হুসনে আরা পারভীনের চাচাতো ভাই সিলেট মহানগর কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ আর শাকিল জানান, স্বামী, একমাত্র মেয়ে ও দুই ভাইবোনের সঙ্গে ক্রাইস্টচার্চে থাকতেন হুসনে আরা পারভীন। তার স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামে। তিনি প্যারালাইজড হওয়ায় হুইল চেয়ারে চলাচল করেন।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ার জন্য স্বামীকে নিয়ে ক্রাইস্টচার্চে একটি মসজিদে যান হুসনে আরা । সেখানে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথকভাবে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা আছে। স্বামীকে পুরুষদের মসজিদে দিয়ে নারীদের জন্য পৃথক জায়গায় নামাজ আদায়ে যান তিনি। কিছু সময় পর গোলাগুলির শব্দ শুনে পুরুষদের মসজিদে স্বামীকে খুঁজতে যান হুসনে আরা। ওই সময় বন্দুকধারী সন্ত্রাসী তাকে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

এদিকে স্ত্রী পারভীন নিহত হলেও অন্যান্য মুসল্লিরা তার স্বামী ফরিদ উদ্দিনকে মসজিদ থেকে বের করে নেয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে ফরিদ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে হুসনে আরা পারভীনের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর তারা নিউজিল্যান্ডে যান। সর্বশেষ ২০০৯ সালে দেশে তারা এসেছিলেন।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ২৪

আরও পড়ুনঃ ‘মসজিদে চাবি, জুতা ফেলেই জান বাঁচাতে দৌড় দেই’: কিশোরগঞ্জের মেয়ে আফসানা আক্তার

আফসানা আক্তার রিতু বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের মেয়ে। এক বছর আগে তার বিয়ে হয় নিউজিল্যান্ড-প্রবাসী এক বাংলাদেশীর সঙ্গে।

‘মসজিদে চাবি, জুতা ফেলেই জান বাঁচাতে দৌড় দেই’: কিশোরগঞ্জের মেয়ে আফসানা আক্তার

আল নুর মসজিদে যখন হামলা হয়, তখন আফসানা আক্তার রিতু ছিলেন মসজিদের ভেতরেই।

আফসানার বাড়ি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে। এক বছর আগে তার বিয়ে হয় নিউজিল্যান্ড-প্রবাসী এক বাংলাদেশীর সঙ্গে। নয় মাস আগে তিনি দেশ ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে যান।

আল নুর মসজিদ থেকে তাদের বাসা মাত্র এক মিনিটের পথ।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আফসানা আক্তার রিতু সেই ভয়াবহ হামলার বিবরণ দিয়েছেন।

বাসার কাছেই যেহেতু মসজিদ, আফসানা তাই প্রতিদিন সেখানে নামাজ পড়তে যেতেন। ঘটনার সময় তারা তিনজন বাংলাদেশী নারী একসঙ্গে ছিলেন।

‘আমরা মসজিদের ভেতরে ছিলাম। হঠাৎ করে একটা শব্দ পাই। আমরা শব্দ শুনে দৌড়াদৌড়ি করে বাইরে আসি।’

‘যারা গুলি করছিল, ওরা প্রথম মহিলাদের রুমে আসেনি, ওরা প্রথম গিয়েছিল পুরুষদের রুমে। আমরা তিনজন বাংলাদেশী এক সঙ্গে ছিলাম। তিনজনই একসঙ্গে দৌড় দেই।’

‘আমাদের বাসা একদম মসজিদের পাশে। বাসায় আসতে এক মিনিট লাগে। গোলাগুলির শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে বাসার দিকে আসি। কিন্তু বাসার চাবি, জুতা এইগুলা মসজিদে রেখে আসছি। জান বাঁচানোর জন্য পালিয়ে আসি।’

মানুষের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
তারা যে তিনজন একসঙ্গে ছিলেন, তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্স এসে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আফসানা জানান, যে ব্যক্তি গুলি করছিল, তাকে দেখেননি তিনি। “আমরা ভয়ে পেছনে তাকাইনি।”

এই ঘটনার পর আফসানা এখন রীতিমত আতংকে আছেন। অথচ নিউজিল্যান্ডে তার গত নয় মাসের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারই অন্যরকম।

‘বাংলাদেশে থাকতেই আমি জানতাম, নিউজিল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। অনেক নিরাপদ। এ পর্যন্ত কোনদিন কোন সমস্যা হয়নি।’

কিন্তু শুক্রবারের এই ঘটনা তাকে ভীষণ আতংকগ্রস্ত করে তুলেছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘মুসলমান! আজ তোদের সবাইকে খুন করব’: অস্ত্রধারী খুনি ব্রেনটন ট্যারেন্ট

হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া নাগরিক ব্রেনটন ট্যারেন্ট

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদে হামলার সময় সেখানকার ছোট অজুখানায় ছিলেন আনোয়ার আল সালেহ। হাত ধোয়ার সময় হঠাৎ করেই গুলির আওয়াজ শোনেন তিনি। বাইরে প্রচণ্ড চিৎকার। আতঙ্কে ছোটাছুটি করছে মানুষ। এর মধ্যে শুনতে পান হামলাকারী আক্রোশে বলছে, ‘আজ তোদের সবাইকে খুন করব।’

ক্রাইস্টচার্চের স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য প্রেস ও নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ভয়ংকর দুপুরটির চিত্র।

১৯৯৬ সালে ফিলিস্তিন থেকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে এসে বাস করতে শুরু করেন আনোয়ার। শান্ত ছবির মতো এই শহরটিতে কখনো কোনো গন্ডগোলের খবর পাননি তিনি। শান্তিতেই বাস করছিলেন। তবে আজ দুপুরে হঠাৎ গুলির শব্দ যেন তার জগৎকে লন্ডভন্ড করে দেয়। নিজের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানায় এখান থেকে বের হওয়া যাবে না। অজুর ঘরে বসেই জরুরি সেবায় ফোন করেন তিনি। কয়েকবার পুলিশকে ফোন দেন। তবে কাউকেই ফোনে পাননি। শেষে অ্যাম্বুলেন্স–সেবায় ফোন দিয়ে বিপদের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘এখানে ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড চলছে। দয়া করে সাহায্য করুন। পুলিশ পাঠান, তারা গুলি করেই যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বন্দুকধারী বলছে, মুসলমান তোদের আজ আমরা খুনই করে ফেলব।’

আনোয়ার জানান, গুলি খেয়ে আহত মানুষগুলো বন্দুকধারীর কাছেই বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন। তবে তাঁদের আবারও গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে বন্দুকধারী। তিনি বলেন, ঘটনার ২০ মিনিট পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। মাথার পেছনে হাত বেঁধে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। দেখতে পান অসংখ্য নারী-পুরুষের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। তিনি বলেন, ‘এদের সন্ত্রাসী বললে কম বলা হয়, এরা ঠান্ডা মাথার ভয়ংকর খুনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি জানান, সাত বছর আগে জর্ডান থেকে এখানে আসেন তিনি। শান্তিতে পরিবার নিয়ে বাস করার লক্ষ্যেই এখানে আসা। গোলাগুলির শব্দ শুনে প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, কোথাও বাজি ফুটছে। কারণ শান্ত এই শহরে কখনো এমন হয়নি। ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করে পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে পাঁচিল টপকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছান তিনি। দেখেন পান, সবাই প্রাণভয়ে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। পড়ে আছে নিথর দেহ।

তিনি জানান, নিহত কয়েকজনকে তিনি খুব ভালো করে চেনেন। তাঁদের একজন সিরিয়ান শরণার্থী আছেন, যিনি ছয় মাস আগে পরিবার নিয়ে এখানে এসেছেন। স্ত্রী আর তিনটে ফুটফুটে সন্তান আছে ওই সিরীয় ব্যক্তির। একজন ক্যান্টারবেরি মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক আছেন। জর্ডান থেকে আসা ওই ব্যক্তি সব সময় মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন, সৎ পরামর্শ দিতেন। সাত বছর বয়সী একটা ছেলে আছে তাঁর।

ভয়ংকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সবার জন্যই বেদনাদায়ক দিন। মানুষ মেঝেতে আহত হয়ে পড়ে আছেন। চারদিকে রক্ত। চিৎকার করে কাঁদছেন সাহায্যের আশায়। কিন্তু পুলিশ আমাদের ওখানে যেতে দিচ্ছে না। জায়গাটা এখনো নিরাপদ নয়। আমরা আমাদের ভাইদের জন্য কিছুই করতে পারিনি।’

১৪ বছরের এক কিশোর জানায়, তার চাচাকে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করে বন্দুকধারী। সে বলে, ‘আমরা মাত্র নামাজ আদায় শুরু করেছি, হঠাৎ করেই গুলির শব্দ। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, কোথাও নির্মাণের কাজ হচ্ছে। তখনই দেখলাম মানুষ চিৎকার করে দৌড়াচ্ছে।’

হিরমরটন হাইস্কুলের এই ছাত্র জানায়, তার চাচাসহ পরিচিত ছয়জন নিহত হয়েছেন। কীভাবে সেখান থেকে বের হতে পেরেছ? এমন প্রশ্নে সে বলে, ‘আমি কেবল দৌড়েছি, যত জোরে সম্ভব। কোথাও তাকাইনি। হ্যাগলি পার্কের বেড়া পার হয়ে তবেই থেমেছি।’

আজ স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে মসজিদে নামাজ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে একজন বন্দুকধারী সিজদায় থাকা মুসল্লিদের ওপর গুলি ছোড়ে। হামলাকারীর হাতে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ছিল। হামলা চালিয়ে বন্দুকধারী জানালার কাচ ভেঙে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জন নিহত হয়েছে বলে নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়। গুরুতর আহত হয়েছেন ২০ জন।

উৎসঃ ‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে দুই মসজিদে হামলার ঘটনায় সব মসজিদ একদিন বন্ধ রাখার নির্দেশ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, হামলাকারী কট্টর ডানপন্থী। তাঁর নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলিমদের ওপর হামলা চালান ওই বন্দুকধারী। পরে কাছাকাছি শহরতলি লিনউডের মসজিদে হামলা চালানো হয়। তবে দ্বিতীয় মসজিদে হামলাকারী একই ব্যক্তি কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী কারও কারও মতে, হামলাকারী একাধিক ছিলেন। হামলায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ চারজনকে পুলিশ আটক করেছে। একটি গাড়িতে স্থাপন করা বিস্ফোরক উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কট মরিসন বলেন, ক্রাইস্টচার্চে একজন উগ্র মনোভাবের অধিকারী ডানপন্থী উন্মত্ত জঙ্গি হামলা চালিয়েছেন। হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া নাগরিক। তবে তিনি বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন, হামলাকারী নিরাপত্তা নজরদারির তালিকায় ছিল না।

এদিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর পর একটি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। এতে দেখা গেছে, ভিডিও গেমের মতো একজন বন্দুকধারী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি করছে। হামলার ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বন্দুকধারী হামলার আগে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। হয়তো তাঁর মাথায় ভিডিও ক্যামেরা বসানো ছিল। একটি ওয়েবসাইট জানায়, হামলাকারী হামলাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেছেন।

ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারী স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে মসজিদের দিকে যাচ্ছেন। মসজিদের প্রবেশ কক্ষ থেকেই মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে শুরু করেন। মসজিদের ভেতর ছুটোছুটিরত মুসল্লিদের প্রতি টানা গুলি করতে থাকেন। এরপর মসজিদের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ঘুরে ঘুরে গুলি করতে থাকেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে যাঁরা মসজিদের মেঝেতে পড়েছিলেন, তাঁদের দিকে ফিরে ফিরে গুলি করছিলেন তিনি।

এক্সপ্রেস নামের একটি স্থানীয় গণমাধ্যমের অনলাইনে বলা হয়েছে, হামলাকারীকে শনাক্ত করা গেছে। ২৮ বছর বয়সী একজন শ্বেতাঙ্গ। তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছেন। দুই বছর ধরে তিনি এ হামলার পরিকল্পনা করছেন। হামলাকারী জানিয়েছেন, ইউরোপের দেশগুলোতে বিদেশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তিনি এ হামলার পরিকল্পনা করেন।

ভিডিওটি ভয়াবহ উল্লেখ করে তা অনলাইনে না ছড়াতে লোকজনকে নির্দেশ দিয়েছে নিউজিল্যান্ড পুলিশ।

উৎসঃ ‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে দুই মসজিদে হামলার ঘটনায় সব মসজিদ একদিন বন্ধ রাখার নির্দেশ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর ভয়াবহ হামলার পর দেশটিতে একদিনের জন্য মসজিদ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খবর নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের।

খবরে বলা হয় পরবর্তী নোটিশ না দেয়া পর্যন্ত সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের হতে এবং রাস্তায় নামতে নিষেধ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত স্কুলও বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

সামাজিকমাধ্যমে মসজিদের ভেতর থেকে গোলাগুলির লাইভ ভিডিও সম্প্রচার করা হয়। দেশটির সাউথ আইল্যান্ডে আল নূর মসজিদে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে অন্তত ৫০টি গুলি করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে যখন এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তখন শুক্রবারের জুমার নামাজের প্রস্তুতি চলছিল। পার্শ্ববর্তী লিনউড মসজিদেও হামলায় নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একটি আধা স্বয়ংক্রীয় শর্টগান ও রাইফেল দিয়ে সাউথ আইল্যান্ডে আল নূর মসজিদে অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়েন ২৮ বছর বয়সী ব্রেনটন ট্যারেন্ট। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে এসেছেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী তরুণ বলেন, আমি গুলির শব্দ শুনে যতটা সম্ভব দৌড়ে পালিয়েছি। এ সময় আমি অনবরত শুধু গুলির শব্দ শুনেছি।

হামলায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ চার ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। আটকের সময় তাদের একজন সুইসাইড ভেস্ট পরা অবস্থায় ছিলেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটনার আগে টুইটারে ৮৭ পাতার ইশতেহার আপলোড করেছেন হামলাকারী। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার আভাস আগেই তিনি দিয়েছিলেন।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডান এ হামলাকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে অন্ধকার দিন বলে উল্লেখ করেছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা ইসলামবিদ্ধেষের নজিরঃ রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, আল্লাহ নিশ্চয়ই নিহতদের ক্ষমা করে দেন। আহতদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার সহায়তা প্রয়োজন।-খবর গার্ডিয়ান

তিনি বলেন, এ হামলার ঘটনায় মুসলিম বিশ্বের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের হতাহত নাগরিকদের প্রতি আমি শোক জানাচ্ছি।

ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদ বৃদ্ধির সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে এ ঘটনাকে দাঁড় করিয়েছেন মুসলিম বিশ্বের এ নেতা।

এর আগে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ কখনো ধর্ম হতে পারে না। নিহত ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি তিনি সমবেদন জানিয়েছেন।

এদিকে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডান বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চে যা ঘটেছে, সেটা সন্ত্রাসী হামলা। এখন পর্যন্ত আমরা যা জেনেছি, তাতে এটা পরিষ্কার যে, এ হামলা ছিল সুপরিকল্পিত।

তিনি বলেন, হামলাকারীর গাড়িতে দুটি বিস্ফোরক ডিভাইস যুক্ত করা ছিল। তাদের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে নেয়া হয়েছে।

ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ৫০ মুসল্লিকে হত্যা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এক শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসী। এতে আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। -খবর এএফপির

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একটি আধা স্বয়ংক্রীয় শর্টগান ও রাইফেল দিয়ে সাউথ আইল্যান্ডে আল নুর মসজিদে অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়েন ২৮ বছর বয়সী এই যুবক।

ক্ষুদেব্লগ টুইটারে হামলাকারী নিজের পরিচয় দিয়েছেন ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামে। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে এসেছেন।

এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ার সময় মসজিদের ভেতর থেকে সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন এই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসী।

শুক্রবার জুমার নামাজ চলার সময় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ চার ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

আটকের সময় তাদের একজন সুইসাইড ভেস্ট পরা অবস্থায় ছিলেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটনার আগে টুইটারে ৮৭ পাতার ইশতেহার আপলোড করেছেন হামলাকারী। এরমাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার আভাস আগেই তিনি দিয়েছিলেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার ঘটনায় যা বলছেন বিশ্বনেতারা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীর ৪৯জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৭ জন।

বর্বর এই হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। পাশাপাশি হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তারা।

হামলার এই ঘটনায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেছেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা অলসভাবে দেখছে বিশ্ব। এই মুসলমানদের যে ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি করা হত, ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সীমান্ত ছাড়িয়ে তা গণহত্যায় রূপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, এখনই যদি পদক্ষেপ নেয়া নয় হয়, তবে আমাদের আরেকটি বিপর্যয়ের খবর শুনতে হবে।

মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ নিশ্চয়ই নিহতদের ক্ষমা করে দেবেন। আহতদের দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য সহায়তা প্রয়োজন। খবর এএফপির।

এদিকে মসজিদে নামাজের জন্য জড়ো হওয়া শান্তিপূর্ণ মানুষকে এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যার ঘটনাকে বেদনাদায়ক ও নৃশংস বলে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডানকে দেয়া এক বার্তায় হামলাকে নৈরাশ্যবাদী উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি আশা করি, এ হামলায় জড়িতদের মারাত্মক শাস্তি দেয়া হবে।

সন্ত্রাসী এ হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, সন্ত্রাসবাদ কখনো ধর্ম হতে পারে না।

তিনি নিহত ও তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। খবর গার্ডিয়ানের।

এদিকে হামলাকারীকে একজন ডানপন্থী সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

তিনি বলেন, একজন সহিংস ডানপন্থীর এ হামলার ঘটনায় আমরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, এই হামলার সঙ্গে তাদের দেশের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী তা তদন্ত করে দেখছে। খবর এএফপির।

হামলার এ ঘটনায় গভীর শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেন।

হামলার ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডান বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চে যা ঘটেছে, সেটা সন্ত্রাসী হামলা। এখন পর্যন্ত আমরা যা জেনেছি, তাতে এটা পরিষ্কার যে, এ হামলা ছিল সুপরিকল্পিত।

তিনি এ হামলাকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে অন্ধকার দিন বলে উল্লেখ করেছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলা সম্পর্কে সর্বশেষ কী জানা যাচ্ছে?

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্ট-চার্চের অন্তত দুটি মসজিদে গোলাগুলি হয়েছে। নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ঐ সময় মসজিদে গিয়েছিল এবং ঠিক যখন হামলার ঘটনাটি ঘটে তারা মসজিদের ভেতর প্রবেশ করতে যাচ্ছিল। তবে ক্রিকেটাররা সবাই সুস্থ আছেন বলে জানানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
গোলাগুলির ঘটনায় বেঁচে ফিরে আসা একজন বলেন গুলি শুরু হওয়ার পর আল নূর মসজিদের জানালা ভেঙে মানুষ পালাতে থাকে।

‘সে (হামলাকারী) সবাইকে গুলি করতে থাকে। যাকেই তার মনে হয়েছে যে সে বেঁচে আছে, তাকে লক্ষ করে সে আবার গুলি চালায়’, রেডিও নিউজিল্যঅন্ডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি।

আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন অন্তত ২০ মিনিট ধরে গোলাগুলি চলে।

তিনি বলেন, “আমি আসলে শুধু একটা প্রার্থনাই করছিলাম। তার (হামলাকারীর) গুলি যেন শেষ হয়ে যায়।”

সার সংক্ষেপ:
নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানিয়েছেন হামলায় ৪৯ জন মারা গেছে। ২০ জনেরও বেশি গুরুতর আহত।
নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩ জন বাংলাদেশী নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা।
এছাড়াও অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে।।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডেন বলেছেন এই ঘটনা তাঁর দেশের ইতিহাসের ‘অন্ধকারতম অধ্যায়’গুলোর একটি।
পুলিশ বলছে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ অন্তত চারজন তাদের জিম্মায় রয়েছে পরবর্তী ঘোষণা আসা না পর্যন্ত ঐ এলাকার সব মসজিদ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা নিরাপদ আছেন। বাতিল করা হয়েছে ১৬ই মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টেস্ট

লিনউড মসজিদে হামলা সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
আল নূর মসজিদে প্রথম হামলা হওয়ার কিছুক্ষণ পর লিনউড মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে বলে এখন পর্যন্ত জানা যাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলের হেলমেট পরিহিত একজন বন্দুকধারী মসজিদের ভেতরে প্রার্থনারত প্রায় ১০০ জনের দিকে গুলি চালানো শুরু করেন।

সাইয়েদ আহমেদ নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী নিউজিল্যান্ডের একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে বন্দুকধারী গুলি চালানোর সময় ‘চিৎকার করে কিছু একটা বলছিলেন।’

আহমেদ বলেন, তিনি অন্তত আটজনকে মারা যেতে দেখেছেন, যাদের মধ্যে দু’জন তার বন্ধু ছিলেন।

ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ফ্রান্স
ফ্রান্সের মন্ত্রী ক্রিস্টফ কাস্টানার ঘোষণা করেছেন যে ‘সতর্কতা’ অবলম্বন করতে ফ্রান্সের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যানেজারের বর্ণনা
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা ঐ মসজিদের দিকেই যাচ্ছিলেন যখন তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা পাশের একটি পার্কে ঢুকে পরেন।

এবিষয়ে দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলটের বক্তব্য।

বাংলাদেশ দলের প্রতি শহীদ আফ্রিদি ও বিরাট কোহলির বার্তা
ক্রাইস্টচার্চ হামলাকে কাপুরুষচিত বলে নিন্দা করেছে পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটের শহীদ আফ্রিদি ও ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। আফ্রিদি বাংলাদেশে ওপেনার তামিম ইকবালের সাথে ফোনে কথা বলেছেন।

তাঁর টুইটে কোহলি বাংলাদেশ দলের প্রতিও সহমর্মিতা জানিয়েছেন।

হামলার ভিডিও সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
হামলাকারী আক্রমণের ভিডিও লাইভ স্ট্রিমিং করায় সেটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে যায়।

ভিডিওর শুরুতে দেখা যায় যে হামলাকারী একটি গাড়ি চালিয়ে মসজিদের সামনে নামেন। এরপর গাড়ি থেকে স্বয়ংক্রিয় একটি বন্দুক নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন। গাড়িতে আরো কয়েকটি অস্ত্রের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

এরপর স্বয়ংক্রিয় বন্দুক দিয়ে মসজিদের ভেতরে গুলি চালাতে চালাতে প্রবেশ করেন এবং সেখানে উপস্থিত মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকেন।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে এই ভিডিওটি তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নিয়েছে।

নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ বারবার অনুরোধ করেছে যেন এই ভিডিওটি ইন্টারনেটে বা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার না করা হয়।

‘অত্যন্ত পরিকল্পিত আক্রমণ’
নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার বলেছেন এটি ‘অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি আক্রমণ।’

দুটি গাড়িতে বিস্ফোরক লাগানো ছিল।

অকল্যান্ডে একটি স্টেশনে দু’টি সন্দেহজনক ব্যাগ পাওয়া যায় যেগুলো নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ। তবে ক্রাইস্টচার্চ হামলার সাথে সেটির কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে মনে করেন পুলিশ কমিশনার মি. বুশ।

লন্ডনে সব মসজিদে অতিরিক্ত নিরাপত্তা
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেছেন শুক্রবারে মুসলিমদের অধিকাংশই নামায আদায় করতে যাবেন বিধায় শহরের সব মসজিদে ‘অতিরিক্ত মাত্রায় পুলিশ’ মোতায়েন করা হবে, যাদের মধ্যে সশস্ত্র পুলিশও থাকবে।

ক্রাইটস্টচার্চে হামলা, বিশ্বনেতাদের নিন্দা ও শোক
নিউজিল্যান্ডের বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলো ক্রাইটস্টচার্চ হামলার পর তাদের শোক এবং নিন্দা জানিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা এই ঘটনায় তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

মালয়েশিয়া বলেছে তাদের দু’জন নাগরিক আহত হয়েছে। ফিজি’র অন্তত একজন নাগরিক নিহতদের মধ্যে ছিলেন বলে অসমর্থিত সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে। খবর বিবিসির

নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে, নিহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন।

ক্রাইস্টচার্চে গোলাগুলির ঘটনায় শোক ও নিন্দা জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা বার্তা প্রকাশ করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়েপ এরদোগান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন।

নিউজিল্যান্ডের আগ্নেয়াস্ত্র মালিকানা আইন
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই নিউজিল্যান্ডের আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা সংক্রান্ত আইন আবারো আলোচনায় আসবে। বহুবছর ধরেই এই বিতর্ক চলছে।

২০১৭ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের বেসামরিক ব্যক্তিদের হাতে মোট ১২ লাখের বেশী সংখ্যক অস্ত্রের মালিকানা রয়েছে।

অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের জন্য ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি ১০০ জনে এই সংখ্যা ১৪.৫ আর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ৪.৬।

আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১০০ জনের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১২০টি।

হামলায় আহত বাংলাদেশীদের খবর
ক্রাইস্টচার্চে বসবাসরত ৩২বছর বয়সী বাংলাদেশী জাকারিয়া আহমেদ ঐ মসজিদে নামায পড়তে গিয়েছিলেন। এখনো পর্যন্ত তার খোঁজ পাননি তার রুমমেটরা।

তার রুমমেট তৌহিদুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ‘অসুস্থ থাকায় আজকে জাকারিয়া ভাই কাজে যান নাই। দুপুরে নামায পড়তে গেছেন, কিন্তু এখনো আমরা তার কোন খবর পাই নাই।’

‘হাসপাতালে জরুরী বিভাগে ফোন করে জেনেছি উনি হাসপাতালে আছে। কিন্তু ভাই হাসপাতালে আহত অবস্থায় আছে না মারা গেছে জানতে পারি নাই এখনো।’

পার্কের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদরে ফিরে যাওয়ার মুহুর্ত
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা ঐ মসজিদের দিকেই যাচ্ছিলেন যখন তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা পাশের একটি পার্কে ঢুকে পরেন।

সংবাদ সম্মেলন বিলম্বিত হওয়াতেই বেঁচে গেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা
আল নূর মসজিদের কাছেই অনুশীলন করতে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা ঐ মসজিদের দিকেই যাচ্ছিলেন যখন তাদেরকে সতর্ক করা হয় এবং তারা পাশের একটি পার্কে ঢুকে পরেন।

নিউজিল্যান্ড থেকে পাওয়া খবর থেকে জানা যাচ্ছে যে, একটি সংবাদ সম্মেলন দেরী করে শুরু হওয়ায় তারা কিছুটা দেরীতে মসজিদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। অন্যথায় তারা হয়তো হামলার সময় মসজিদের ভেতরেই থাকতেন।

পুলিশের জিম্মায় থাকা চারজন কারা?
কর্তৃপক্ষ বলছে পুলিশের জিম্মায় এমুহুর্তে চারজন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া খবর থেকে জানা যাচ্ছিল যে তাদের মধ্যে একজন নারী ও তিনজন পুরুষ।

প্রথানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডের্ন তাঁর সবশেষ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন ‘আক্রমণের সাথে জড়িত’ তিনজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক এবং একজন ‘চরমপন্থী, সহিংস জঙ্গী’।’

আরেকজনকে পরে আটক করা হলেও তার কারণ জানানো হয়নি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদের বক্তব্য
মসজিদে হামলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা ঐ মসজিদে প্রবেশ করার কথা ছিল।

হামলা সম্পর্কে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, ‘সবাই দেখেছে দুর্ঘটনাটি, এটা আমরা কখনোই চাই না, আমরা খুবই ভাগ্যবান, আমরা ১৭ জন ছিলাম, আমরা খুবই কাছে ছিলাম, ৫০ গজের মতো দূরে ছিলাম, আর তিন-চার মিনিট আগে মসজিদে গেলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতো।’

অস্ট্রেলিয়ার পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডে জঙ্গীবাদের কোনো জায়গা নেই।

শোকের বহি:প্রকাশ হিসেবে তিনি জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলন করবেন পুলিশ কমিশনার
নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ ক্রাইস্টচার্চের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় এবং বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় হামলার বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানাবেন।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় ৩ বাংলাদেশিসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯

নিহত ও আহত স্বজনদের খোঁজে উদ্‌গ্রীব লোকজন। ছবি: রয়টার্স

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে হ্যাগিল পার্ক এলাকায় দুই মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ৪৯ নামাজ আদায়কারী নিহত হয়েছেন বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে তিন বাংলাদেশি রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। তাদের পরিচয়ও জানা গেছে।

নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শুরু হওয়ার কিছু পরেই কালো কাপড় ও হেলমেট পরা এক বন্দুকধারী আল নুর মসজিদে ঢুকে হামলা চালায়। তারপর জানা যায়, শহরের আরো একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এ ঘটনার বিস্তারিত কিছু উল্লেখ না করে বলেন, ‘এটি দেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়।’ পরে তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই চরমতম সহিংস ঘটনায় ৪৯ ব্যক্তি জীবন হারিয়েছেন। ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এটা পরিষ্কার যে এই ঘটনাকে এখন সন্ত্রাসী আক্রমণ বলে অভিহিত করা যায়।’

নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমার ভুইয়া বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, তিন বাংলাদেশি নিহতের খবর আসলেও দু’জন বাংলাদেশির পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, নিহতদের একজন ড. আবদুস সামাদ, যিনি স্থানীয় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সামাদ বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন বলে তিনি জানান।

নিহত আরেক বাংলাদেশির নাম মিসেস হোসনে আরা, তিনি গৃহবধূ ছিলেন।

অনারারি কনসাল শফিকুর আরো বলেছেন, এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। আরো দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন নিহত ড. সামাদের স্ত্রী।

এ দিকে আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেটের শাহ আমানত বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ নিয়ে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস না থাকায় সরাসরি কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে আমাদের কোনো মিশন নেই। অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশি দূতাবাসের হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাছে থাকা তথ্যমতে, একজন বাংলাদেশি নারী সম্ভবত নিহত হয়েছেন। এখনো পুরো তথ্য জানা যায়নি।’

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক নারী ও তিন পুরুষসহ চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ।

নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও বর্তমানে হামলাস্থল ক্রাইস্টচার্চ শহরে রয়েছে। দুপুরে হ্যাগলি ওভাল মাঠে অনুশীলন শেষে তাঁদের আল নুর মসজিদেই নামাজ আদায় করতে যাওয়ার কথা ছিল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলের খুব কাছেই ছিলেন। তবে তাঁরা সবাই নিরাপদে রয়েছেন।

আগামীকাল শনিবার হ্যাগলি ওভাল মাঠে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এ হামলার ঘটনায় তা বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ দলের ব্যবস্থাপক খালেদ মাসুদ পাইলটও ক্রিকেটারদের নিরাপদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দলের সদস্যদের সবাই হোটেলে ফিরে এসেছেন। তাঁদের হোটেল থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চের শহরতলি লিনউডের মসজিদেও সশস্ত্র পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। হ্যাগলি পার্ক এলাকা ও আশপাশের লোকজনকে বাড়ি থেকে বের হতে মানা করা হয়েছে। এই পার্কের সামনের ডিয়েন এভিনিউয়ে আল নুর মসজিদটি অবস্থিত।

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সেখানকার স্কুল ও চার্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোটা এলাকা পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আকাশে হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, তাঁরা সেখানে কয়েকটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন। কিছু লোকজনকে আহত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে হতাহতের বিষয়টি এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে পুলিশ বা শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মোহন ইব্রাহিম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী নিউজিল্যান্ড হ্যারাল্ডকে বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম বৈদ্যুতিক কোনো বিভ্রাটের কারণে বোধ হয় এ রকম শব্দ হচ্ছে। কিন্তু পরক্ষণেই দেখলাম, লোকজন দৌড়াতে শুরু করেছে। সেখানে আমার এক বন্ধুও ছিল। তাঁকে ডাকলেও কোনো সাড়া পাইনি। আমি তাঁর জন্য চিন্তিত।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বন্দুকধারীকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন তাঁরা।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ নিশ্চয়ই তারা সবাই জান্নাতে যাবেনঃ শোকাহত রাগবি তারকার আবেগঘন ভিডিও

নিউজিল্যান্ডের শোকাহত রাগবি তারকা স্টোনি বিল উইলিয়ামস বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহতরা জান্নাতে যাবেন।

শুক্রবার নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি আবেগঘন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি।

মাথায় ক্যাপ পরা এই ধর্মপ্রাণ মুসলমান একটি গাড়ির ভেতর বসে যখন এই ভিডিও দিচ্ছিলেন তখন তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। হাত দিয়ে কয়েকবার তাকে চোখ মুছতে দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ, আজ যারা নিহত হয়েছেন, তারা জান্নাতে যাবেন। নিউজিল্যান্ডে এ ঘটনা ঘটায় আমি প্রচণ্ড মর্মাহত হয়েছি।

ভিডিওঃ ‘নিশ্চয়ই তারা সবাই জান্নাতে যাবেন’: শোকাহত রাগবি তারকা স্টোনি বিল উইলিয়ামস

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এদিকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ৩০ মুসল্লিকে হত্যার ঘটনায় মার্কিন মুসলমানদের মানবাধিকার সংস্থা মুসলিম অ্যাডভোকেটস শোক জানিয়েছে বিবৃতি দিয়েছে।

এই বিভৎস হামলার ঘটনায় শোক জানিয়ে নিউজিল্যান্ডের মুসলমানদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে সেখানে হামলার উপদ্রব বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটছে।

বিবৃতি জানায়, মার্কিন মুসলমান সম্প্রদায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাণঘাতী হামলার শিকার হচ্ছে। কিন্তু আজ নিউজিল্যান্ডে যে মর্মান্তিক হামলা হয়েছে, তাকে একেবারেই বিরল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একটি আধা স্বয়ংক্রীয় শর্টগান ও রাইফেল দিয়ে সাউথ আইল্যান্ডে আল নুর মসজিদে অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়েন ২৮ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গা শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসী।-খবর মেইল অনলাইনের।

ক্ষুদেব্লগ টুইটারে হামলাকারী নিজের পরিচয় দিয়েছেন ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামে। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে এসেছেন।

এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ার সময় মসজিদের ভেতর থেকে সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন এই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী।

শুক্রবার জমার নামাজ চলার সময় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ চার ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

আটকের সময় তাদের একজন সুইসাইড ভেস্ট পরা অবস্থায় ছিলেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটনার আগে টুইটারে ৮৭ পাতার ইশতেহার আপলোড করেছেন হামলাকারী। এরমাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার আভাস আগেই তিনি দিয়েছিলেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ’

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় দুপুর পৌঁনে ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লেন পেনেহা নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী ফরাসি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, আমি দেখলাম কালো কাপড় পরিহিত একজন ব্যক্তি মসজিদের ভেতর প্রবেশ করল। এর পরই অনবরত গুলির শব্দ। মসজিদের ভেতরের সবাই তখন পালাতে লাগল।

পেনেহা ওই মসজিদটির পাশের বাড়িতেই বাস করতেন। তিনি বলেন, বন্দুকধারী এ সময় মসজিদের বাইরে বের হয়ে আসেন এবং পালিয়ে যান।

পেনেহা বলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ পর আমি মসজিদের ভেতরে আহতদের সাহায্য করার জন্য গিয়েছিলাম।

আমি গিয়ে দেখলাম, চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। মসজিদে ঢোকার প্রধান রাস্তায়, প্রধান দরজায় এবং মসজিদের ভেতরে শুধু লাশ পড়ে আছে।

তিনি বলেন, এটি অবিশ্বাস্য উন্মত্ততা। আমি ভাবতেও পারি না; একজন মানুষ কিভাবে কারও সঙ্গে এ ধরনের কাজ করতে পারে। এটি পুরো অসহনীয়।

তিনি বলেন, আমি প্রায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে বাড়ি যাওয়ার জন্য সাহায্য করেছি। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

তিনি বলেন, আমি এখানে প্রায় পাঁচ বছর বাস করছি। এখানকার মানুষ খুবই ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ। আমি বুঝতে পারছি না কীভাবে এটি ঘটল।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে জুমার নামাজে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ৩০, অল্পে রক্ষা পেল টাইগাররা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। মসজিদের ভেতরে ঢুকে বন্দুকধারীদের এলোপাথাড়ি গুলিতে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন তামিম ইকবাল, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামসহ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়।

দেশটির স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভাল মাঠের খুব কাছে অবস্থিত আল নূর মসজিদে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

লিটন দাস ও নাইম হাসান ছাড়া বাংলাদেশ দলের সবাই মাঠে অনুশীলনে ছিলেন। অনুশীলন শেষে তারা ওই মসজিদটিতে জুম্মার নামাজ পড়তে যান। তাদের সঙ্গ দিতে সৌম্য সরকার, দলের স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং কোচ মারিও ভিল্লাভারায়ন, দলের ডাটা অ্যানালিস্ট শ্রিনিবাসসহ বেশ কয়েকজন তাদের সঙ্গেই ছিলেন।

জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের জন্য ৩০০ জনের মতো মুসল্লি মসজিদটিতে যান। অনুশীলন শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়রাও মসজিদটিতে যাচ্ছিলেন। বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা মসজিদে প্রবেশ করতে গেলে স্থানীয় একজন তাদের মসজিদে ঢুকতে নিষেধ করেন। বলেন, এখানে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। আতঙ্কিত খেলোয়াড়েরা তখন দৌড়ে হ্যাগলি ওভালে ফেরত যান। যাওয়ার সময় তারা স্থানীয় জনগণকেও মসজিদটির আশপাশে যেতে নিষেধ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজন জানান, একজন বন্দুকধারী মসজিদটিতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকেন। শব্দ শুনে সেখানে থাকা মুসল্লিরা দ্বিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। হামলার পর ওই বন্দুকধারী জানালার কাঁচ ভেঙে হামলাকারী পালিয়ে যায়। হামলাকারীর হাতে অটোমেটিক রাইফেল ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, মসজিদটি ছাড়াও এছাড়া আশপাশের বেশ কয়েকটি স্কুলেও গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এসব ঘটনায় কতজন হতাহত হয়েছেন তা বলতে পারেননি কেউ। দেশটির শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা স্টাফ ইঞ্জিন আহতের সংখ্যা অর্ধশত পেরিয়ে যেতে পারে বলে খবর দিয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আবার বেশ কয়েকটি অনলাইনে নিহতের সংখ্যা ছয় বলে জানানো হচ্ছে। মসজিদটির আশপাশের এলাকা কর্ডন করে রেখেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে।

হামলার পর আশপাশের স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের ক্যাথিড্রাল স্কয়ারে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে একটি র‍্যালিতে অংশ নিতে কয়েক হাজার শিশু জড়ো হওয়ার পর ওই জায়গাটি খালি করে ফেলা হয়েছে।

হামলার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের হোটেলে ফিরে নেওয়া হয়েছে। তাদের সবার চোখে মুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ।

তামিম ইকবাল নিজের টুইটার একাউন্টে লিখেছেন, ‘পুরো দল গোলাগুলির হাত থেকে বেঁচে গেলো। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ডাটা অ্যানালিস্ট শ্রিনিবাস তার টুইটার একাউন্টে লিখেছেন, ‘মাত্রই এক বন্দুকধারীর হাত থেকে রক্ষা পেলাম। এখনো শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হচ্ছে না। ভয় কাজ করছে সর্বত্র।’

উল্লেখ্য, ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভাল মাঠে আগামীকাল বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যেকার তৃতীয় টেস্ট হওয়ার কথা। হামলার এই ঘটনার পর শনিবারের এই খেলা হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উৎসঃ ঢাকা টাইমস

আরও পড়ুনঃ ইসরাইলের প্রতিটি আঘাতের পাল্টা জবাব দেয়া হবেঃ রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের প্রতিটি আঘাতের পাল্টা জবাব দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। পাশাপাশি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ‘চোর’ ও ‘ফিলিস্তিনি শিশুদের হত্যাকারী’ বলেও আখ্যায়িত করেন তিনি।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বুধবার এক গণসমাবেশে বক্তৃতাকালে ফিলিস্তিনে নির্যাতনের জন্য ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। খবর ডেইলি সাবাহ আরবি।
ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো আগ্রাসন বন্ধ করতে ইসরাইলের প্রতি কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে এরদোগান বলেন, ‘নেতানিয়াহু, আপনি নিবৃত্ত হোন। আপনি ওই জালেম, যার হাত ফিলিস্তিনিদের রক্তে রঞ্জিত। সাত বছরের শিশুরাও আপনার হাত থেকে নিরাপদ নয়।’

নেতানিয়াহুর পুরো পরিবার দুর্নীতিগ্রস্ত অভিযোগ করে এরদোগান বলেন, ‘স্ত্রীসহ আপনি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। কোন মুখে আপনি দেশ পরিচালনা করছেন।’

আল আকসার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না জানিয়ে মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী এ নেতা বলেন, ‘কুদসের অধিকার কেউ আমাদের ভুলিয়ে দিতে পারবে না। আল্লাহর সাহায্যে মুসলিম উম্মাহ এ দাবি থেকে কখনো সরবে না।
আল আকসায় আর কোনো হামলা সহ্য করা হবে না জানিয়ে এরদোগান বলেন, ‘আমাদের পবিত্র মসজিদের ওপর যে কোনো হামলায় আমরা রুখে দাঁড়াবো। এখন থেকে প্রতিটি আঘাতের পাল্টা জবাব দেয়া হবে।

আল আকসার বিষয়ে সবাই নীরব থাকলেও আমরা নীরব থাকব না।’

ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আল আকসা মসজিদ অবরুদ্ধ থাকার পরই ইসরাইলকে এ বিষয়ে কঠিন হুশিয়ারি দিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।

মঙ্গলবার সকাল থেকে ইসরাইলি পুলিশ মসজিদটির নিয়ন্ত্রণ নিলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ফিলিস্তিরা।
এর প্রতিবাদে মসজিদের বিভিন্ন ফটকে দিনভর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে বুধবার সকালে আল আকসার ফটক খুলে দেয় ইসরাইল। বুধবার সকালে মসজিদে ঢুকে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি ফজরের নামাজ আদায় করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ প্রতিবাদের মুখে আল আকসা থেকে সরে গেল ইসরাইল


ফিলিস্তিনিদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে আল আকসা থেকে সরে গিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। মঙ্গলবার সকাল থেকে ইসরাইলি পুলিশ মসজিদটির নিয়ন্ত্রণ নিলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ফিলিস্তিরা। প্রতিবাদে মসজিদের বিভিন্ন ফটকে দিনভর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে বুধবার সকালে আল আকসার ফটক খুলে দেয় ইসরাইল। বুধবার সকালে মসজিদে ঢুকে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি ফজরের নামাজ আদায় করেন। মুসলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসাকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে ফিলিস্তিনে।

ফিলিস্তিনের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল ওয়াতান জানিয়েছে, আল আকসা সংলগ্ন ইসরাইলি পুলিশ চৌকিতে মঙ্গলবার সকালে একজন দুর্বৃত্ত একটি বিস্ফোরকদ্রব্য ছুড়ে মারে। এতে এক ইসরাইলি পুলিশ আহত হয়। এর জের ধরে আল আকসার নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরাইলি পুলিশ। মসজিদের মূল ফটকসহ পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখে মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। এমনকি জানাজার জন্য আনা মৃতদের খাটিয়াও প্রবেশ করানো যায়নি আল আকসা প্রাঙ্গণে।

প্রতিবাদে ফিলিস্তিনি মুসলমানরা বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের ওপর চড়াও হয় ইসরাইলি পুলিশ। এ সময় মুসল্লিদের বেধড়ক লাটিচার্জ করা হয়। আহত হয় শতাধিক। গ্রেফতার করা হয় কয়েকজনকে। এ নিয়ে মঙ্গলবার দিনভরই উত্তেজনা চলে ফিলিস্তিনে। বিক্ষুদ্ধ মুসল্লিরা মসজিদ চত্বরে ঢুকতে না পেরে ফটকের সামনেই আসর, মাগরিব ও ইশার নামাজ আদায় করেন।

স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনিদের অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে বুধবার সকালে আল আকসার ফটক খুলে দেয় ইসরাইল। এ সময় হাজার হাজার মুসল্লি আল আকসায় ফজরের নামাজ আদায়। হামাস নেতা নাসির কওসের বরাতে আল ওয়াতান জানায়, অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে বুধবার ফজরের আগেই ফটকের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়েছে ইসরাইল।

এ দিকে বুধবার সকালে আল আকসার খতিব ও ফিলিস্তিনের গ্রান্ড মুফতি শাইখ মোহাম্মদ হুসাইন শাইখ বলেছেন, ইসরাইলি পুলিশকে আল আকসায় আর সহ্য করা হবে না। মঙ্গলবার দিনব্যাপী আল আকসা অবরোধের জন্য ইসরাইলকে কঠিন হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আল আকসা বিষয়ে আর কোনও ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া হবে না।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ চীনা ভেটোতে হতাশ ভারত


পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের নাম কালো তালিকায় রাখতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে চীন ভেটো দেয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছে প্রতিবেশী ভারত।-খবর এএফপির

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়্ন্ত্রীত কাশ্মীরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় একটি আধাসামরিক বাহিনীর ৪৪ জওয়ান নিহত হওযার দায় স্বীকার করেছে জইশ। এর পর থেকে পরমাণুশক্তিধর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

এক বিবৃতিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনা ভেটোতে তারা হতাশ।

ভারত জানায়, আমাদের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য হামলায় জড়িত সন্ত্রাসী নেতাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে সব উপায়ে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।

মাসুদ আজহারের ওপর অস্ত্র, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং তার সম্পদ জব্দ করতে নিরাপত্তা পরিষদের ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদা নিষেধাজ্ঞা কমিটিকে অনুরোধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। ঐকমত্যের ভিত্তিতে ১৫ সদস্যের ওই কমিটি পরিচালিত হয়।

কিন্তু তিন পরাশক্তির প্রস্তাবে বাধা দিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশ চীন। মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে সমর্থনে দেশটি কোনো কারণ খুঁজে পায়নি বলে জানিয়েছে।

২০১৬ ও ২০১৭ সালেও এই জইশ নেতার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাইলে তাতে বাধা দিয়েছিল চীন।

বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং সহায়তা সংস্থাগুলোর নীতি ও প্রক্রিয়া অনুসারে আলোচনা চালাতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক কর্মকর্তা বলেন, আজহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় চীন যদি অব্যাহতভাবে ভেটো দিয়ে যায়, তবে নিরাপত্তা পরিষদের অন্য সদস্যরা ভিন্ন পদক্ষেপের দিকে এগোবে।

ওই কূটনীতিক বলেন, জইশকে আল কায়েদাসংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। কাজেই মাসুদ আজহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া অপরিহার্য।

জইশ-ই-মোহাম্মদ প্রথমে ভারতবিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হলেও পরে আল কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ২০০১ সালে এ বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান ১৬ দিনের আলোচনায়ও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি

কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ দিনের দীর্ঘ আলোচনা শেষ হয়েছে। ছবি: জি নিউজ

১৬ দিনের আলোচনায়ও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান। কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ দিনের দীর্ঘ আলোচনা শেষ হয়েছে। বড় ধরনের কোনও ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলেও দুপক্ষের আলোচনায় শান্তি প্রক্রিয়ার কাজ এগিয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার দুপক্ষই আলাদাভাবে জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর নিরাপত্তাসংক্রান্ত ইস্যুতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের আফগানবিষয়ক দূত জালমই খলিলজাদ জানান, দোহায় তালেবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা উভয়পক্ষই একমত হয়েছি যে, আফগান যুদ্ধ বন্ধ হওয়া উচিত।

অন্যদিকে তালেবানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, উভয়পক্ষই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সামনের বৈঠকগুলোর আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ করবে।আফগানিস্তান থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের ইস্যুতে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর দেশটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়েছে।

তবে ১৬ দিন ধরে চলা শান্তি আলোচনায় লিখিত কোনো চুক্তি হইনি বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এক টুইটবার্তায় খলিলজাদ বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় চার ইস্যুতে চুক্তির প্রয়োজন: সন্ত্রাস দমনের নিশ্চয়তা, সেনা প্রত্যাহার, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংলাপ এবং বিস্তৃত একটি যুদ্ধবিরতি। জানুয়ারির আলোচনায় আমরা এই চারটি মৌলিক ইস্যুতে একমত হয়েছিলাম। এখন আমরা প্রথম দুটির খসড়ার বিষয়ে একমত হয়েছি।

টানা ১৭ বছরের আফগান যুদ্ধের ইতি টানতে দোহায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আফগানিস্তানে টেকসই শান্তির লক্ষ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের সঙ্গে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথমবার আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান প্রতিনিধিরা। গত মাসে দোহায় শুরু হয় দ্বিতীয় দফার আলোচনা

২০০১ সালে মার্কিন দখলদারিত্বের আগ পর্যন্ত আফগানিস্তানে ৫ বছরের (১৯৯৬-২০০১) মতো ক্ষমতায় ছিল তালেবান। এরপর ক্ষমতাচ্যুত হলেও তালেবান যোদ্ধারা লড়াই চালিয়ে আসছিল। আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে তালেবান। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক দখলের পর থেকে তারা এখন দেশটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ জাতিসংঘে মাসুদ আজহারকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্তিতে ভেটো দিল চীন


পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের নাম জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে দেয়নি চীন।

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় একটি আধাসামরিক বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে জইশ। এতে ৪৪ জওয়ান নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের বৈরিতা আকাশযুদ্ধ পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

মাসুদ আজহারের ওপর অস্ত্র, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং তার সম্পদ জব্দ করতে নিরাপত্তা পরিষদের ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদা নিষেধাজ্ঞা কমিটিকে অনুরোধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। ঐকমত্যের ভিত্তিতে ১৫ সদস্যের ওই কমিটি পরিচালিত হয়।

কিন্তু তিন পরাশক্তির প্রস্তাবে বাধা দিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশ চীন। মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে সমর্থনে দেশটি কোনো কারণ খুঁজে পায়নি বলে জানিয়েছে।

২০১৬ ও ২০১৭ সালেও এই জইশ নেতার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাইলে তাতে বাধা দিয়েছিল চীন।

বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং সহায়তা সংস্থাগুলোর নীতি ও প্রক্রিয়া অনুসারে আলোচনা চালাতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক কর্মকর্তা বলেন, আজহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় চীন যদি অব্যাহতভাবে ভেটো দিয়ে যায়, তবে নিরাপত্তা পরিষদের অন্য সদস্যরা ভিন্ন পদক্ষেপের দিকে এগোবে।

ওই কূটনীতিক বলেন, জইশকে আল কায়েদাসংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। কাজেই মাসুদ আজহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া অপরিহার্য।

জইশ-ই-মোহাম্মদ প্রথমে ভারতবিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হলেও পরে আল কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ২০০১ সালে এ বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরিদের জন্য অনিরাপদ কাশ্মীর


কাশ্মীরের শ্রীনগরে তার বাড়ির ওপর দিয়ে প্রথম যখন যুদ্ধবিমান উড়ে যাচ্ছিল, তার কিছুক্ষণ পর ৫০ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফ জানতে পারেন, খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে।

নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে ১০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের একটি স্কুলে গণিত পড়ান মোহাম্মদ ইউসুফ। মাথার ওপরে যুদ্ধবিমানের গর্জন এর আগে কখনও তিনি শুনেননি বলে জানিয়েছেন।-খবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট অনলাইনের

রাজ্যটির গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে গত সপ্তাহের আগে যুদ্ধবিমানের এমন গোঙানি নিকটাতীতে শোনা যায়নি।

ছবির মতো দেখতে শ্রীনগরের কাছেই সীমান্ত দিয়ে চিরবৈরী দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নিয়মিত গোলাবিনিময়ের ঘটনা ঘটছে। এতে ভারত-পাকিস্তানের নাগরিকরা হতাহত হচ্ছেন অহরহ।

যুদ্ধবিমানের গর্জন যখন ইউসুফের কানে আসে, তখন রাত সোয়া ৩টার বেশি বাজে। তখনও কেউ জানতেন না যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভারত-পাকিস্তান পরস্পরের ভূমিতে বিমান হামলা চালাতে যাচ্ছে।

ইউসুফ বলেন, বিমানের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে আতঙ্কিত হয়ে সবাই ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসি।

স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে মোহাম্মদ ইউসুফের সংসার। তিনি বলেন, কী ঘটছে, তা দেখতে সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। গভীর রাত, অন্ধকারে কিছুই দেখতে পাইনি। তবে বিমানের বিকট গর্জন এসে কানে লাগছিল।

এই গণিত শিক্ষক বলেন, আমি কখনেই এমন শব্দ শুনিনি। কিন্তু এটি কীসের শব্দ তা জানতাম। আমরা ভেবেছিলাম, সীমান্তে কিছু একটা ঘটছে। যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।

কেবল মোহাম্মদ ইউসুফই নন, শ্রীনগরের অন্য বাসিন্দারাও নিজেদের সন্তানদের আতঙ্ক থেকে বাঁচাতে মিথ্যা বুঝ দিয়েছেন। যাতে খারাপ কিছু ঘটছে বলে তাদের কাছে মনে না হয়। শিশুরা যাতে স্বাভাবিক থাকতে পারে।

তিনি তার ১০ বছর বয়সী ছোট ছেলে আজহারকে বলেন, সব কিছু ঠিক আছে। এটি বিমানের স্বাভাবিক চলাচল।

এটিই হচ্ছে শ্রীনগরের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন। পরমাণু শক্তিধর ভারত-পাকিস্তানের বৈরিতার মাঝখানে তাদের অবস্থান। দুই দেশই কাশ্মীরকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করছে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সেনা অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর একটি হচ্ছে কাশ্মীর। পাহাড়েঘেরা এই ছোট্ট উপত্যকাটিতে প্রায় সাত লাখ ভারতীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

সশস্ত্র পুলিশের বিপুল অবস্থান সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য হচ্ছে কাশ্মীর। ডাল লেকের চোখ জুড়ানো দৃশ্য ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে সেখানে।

৪০০ বছরের পুরনো মোগল আমলের পরীমহল দেখতে পর্যটকরা ছুটে যান কাশ্মীরে। কিন্তু পরীর নিবাসখ্যাত এই গার্ডেনেও ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর একটি ছোট্ট ক্যাম্প বসানো রয়েছে।

১৪ ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় হামলার পর কাশ্মীরে উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। ঝিলাম নদে যাত্রী পারাপার করেন আবদুল কারিম কালু। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় সর্বশেষ শ্রীনগরে যুদ্ধবিমানের ঘুরপাক দেখেছেন তিনি।

কালু বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিমান দেখার পর সেই সময়ের কথা আমার মনে পড়ে গেছে। এখানে ব্যবসায়ী সমিতি নিয়মিত ধর্মঘট ডাকে। কাজেই শহরজুড়ে সবসময় উত্তেজনা থাকে।

আর এসব কারণে কালুর উপার্জনেও ধাক্কা লাগে। তিনি বলেন, বাস্তবিকভাবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। সংঘাতের কারণে কাশ্মীরের লোকজনের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক কাজ করছে।

কালু সবসময় নিজের দুই নাতনির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। তিনি বলেন, যারা সকালে রুটি-রুজির সন্ধানে ঘর থেকে বের হন, সন্ধ্যায় তারা জীবিত ফিরতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কাশ্মীরের রাস্তায় একসময় বহু হকার দেখা যেত। তারা হস্তশিল্প ও কাশ্মীরি কাপড়চোপড় বিক্রি করতেন। পর্যটকরা তা সংগ্রহ করছেন। কিন্তু পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সড়ক থেকে তারা উধাও হয়ে গেছেন।

কাশ্মীরের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এক দোকানির সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি বিচলিত বোধ করেন।

কীভাবে পাক-ভারত সংঘাত তার ব্যবসা ধ্বংস করে দিয়েছে, সে কথা জানালেন ২৫ বছর বয়সী যুবক আবিদ খাপড়া।

কথা বলার সময় তার ভেতর খুবই আবেগ দেখা গেছে। বেদনার সঙ্গে তিনি বলেন, দিনে দিনে আমরা হতাশ হয়ে পড়ছি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমাদের শিশুরা শিক্ষাবঞ্চিত হচ্ছে। এভাবেই খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের।

মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে দাঙ্গা পুলিশ। ১৪ ফেব্রুয়ারির হামলার পর থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় অভিযান চলছে। কাজেই পুলিশের বাধায় নিজের দোকানে যেতে পারেন না আবিদ খাপড়া। এতে তার আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে।

ক্ষুব্ধ হয়ে সে কথাই বলছিলেন এ কাশ্মীরি যুবক। তিনি বলেন, যখনই আমি বাইরে বের হই, দেখি দাঙ্গা পুলিশ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। আমি হয়রানির শিকার হই। দোকানে যেতে পারি না।

আবিদ বলেন, ভারতের কোথাও গেলে সেনাবাহিনী আপনাকে সহায়তা করবে। কিন্তু এখানে একজন সেনার কাছে অপরিচিত জায়গার ঠিকানা জিজ্ঞাসা করতেও সাহস পাবেন না। সেনাসদস্যরা যদি খারাপ কিছুও করে, তবে সে জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হয় না।

একটি ক্যাফেতে খেতে গিয়ে পছন্দের খাবার পাননি ২২ বছর বয়সী চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী আবরু জান। তিনি বলেন, পুলওয়ামায় হামলার পর ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর আচরণে পরিবর্তন চলে এসেছে। সেনাসদস্যরা আমাদের তাদের শত্রু মনে করছে।

আবরু জান বলেন, একজন কাশ্মীরি হিসেবে স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যদের বেদনা আমি বুঝতে পারি। আমরা সবাই কাউকে না কাউকে হারিয়েছি। আমাদের গ্রামে অনেক প্রাণহানি ঘটেছে। বন্দুকের গুলিতে তরুণদের আহত হতে দেখেছি।

বাইরে বের হলেই সশস্ত্র পুলিশের মুখোমুখি হতে হয় বলেও জানান এ মেডিকেলছাত্রী। বললেন, এখানে অনেক বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। এখানে বহু সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতির এতই অবনতি ঘটেছে যে, কাশ্মীরিদের জন্য কাশ্মীর কোনো নিরাপদ বাসস্থান নয়।

‘পুলওয়ামার আগে মনে হয়েছিল, পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটছে। স্বাভাবিক না হলেও চলাফেরা করা যেত। কিন্তু বর্তমানে পাকিস্তান ও ভারত সংঘাতের দিকে চলে গেছে। আর সেই সংঘাতের মাঝে রয়েছে কাশ্মীর।’

ঘাসে ঢাকা নদীর তীরে বসে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছিলেন ২১ বছর বয়সী কম্পিউটার প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবরার। তার একটি ভালো চাকরি আছে। কাজেই তিনি কিছুটা আশাবাদী মানুষ।

তার পরও তিনি বলেন, আতঙ্কে শহরে সপ্তাহখানেক রাতে ঘুমাতে পারিনি। শ্রীনগরের রাস্তায় এই প্রথমবারের মতো আমি উত্তেজনা টের পেলাম।

‘গত সপ্তাহে যখন মাথার ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান ঘুরপাক খাচ্ছিল, তখন এটিকে হলিউডের যুদ্ধ চলচ্চিত্রের দৃশ্য বলে মনে হয়েছিল। আমরা খুবই হতাশ। বাড়িতে নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারছি না।’

পাকিস্তান শান্তির নিদর্শন হিসেবে পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে ভারতের কাছে ফেরত দেয়ার পর উত্তেজনা কিছুটা কমতির দিকে গেছে। কিন্তু এতে এমন কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি, যাতে কাশ্মীরের লোকজন আশাবাদী হতে পারেন।

এই কম্পিউটার প্রকৌশলী বলেন, এখানে কারও ভবিষ্যৎ নেই। কোনো শিশু, নারী-পুরুষ কিংবা বৃদ্ধ। কেউ নিরাপদ নয়; এমনকি এখানকার কোনো বাড়িতেও কারও নিরাপত্তা নেই।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ চীনের দমনপীড়নে দিশেহারা মুসলিমরা, রেহাই পাচ্ছেন না কাজাখরাওঃ ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন


প্রায় সময় রাতের মধ্য ভাগে চীনা নাগরিক যাহারকেনবেক ওটান তার স্ত্রী শেইনার কেলেশেভার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। কাজাখস্তানের বাসিন্দা শেইনার কেলেশেভা জানান, তার স্বামী স্মৃতিভ্রম হয়েছে এবং মাঝে মধ্যে তিনি কাজাখস্তানের সবচেয়ে বড় শহর আলমাটির রাজপথে দৌড়ে বেরিয়ে যান।

যখন যাহারকেনবেক ওটানের পরিবার তাকে খুঁজে পায়, তখন তিনি তাদের কাউকে চিনতে পারেন নি এবং নিজ গৃহে ফেরত আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

যাহারকেনবেক ওটান নামের ৩১ বছর বয়সী এই রন্ধনশিল্পী কাজাখস্তানের পার্শ্ববর্তী দেশ চীনের জিয়ানজিয়াং প্রদেশে তথাকথিত রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে অন্তত দু’বছর আটক ছিলেন।

আর যখন ২০১৮ সালে যাহারকেনবেক ওটান মুক্তি পেয়ে তার স্ত্রীর সাথে সীমান্ত পার হচ্ছিলেন তখনই তার স্ত্রী বুঝতে পারেন যে, তার স্বামী আর পূর্বের মানুষটি নেই।

আর চীন নামক দেশটিতে যাহারকেনবেক ওটানের মত অনেকেই এরকম নির্যাতনের শিকার। বেইজিং দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘুদের উপর নির্মম অত্যাচার চালানোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকেই এরকমটি ঘটে চলেছে।

কিন্তু সম্প্রতি পরিস্থিতি আরো বেশী বদলে গিয়েছে। এর পূর্বে চীন এবং কাজাখস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষজন দুদেশে যাতায়াত করতেন এবং এর ফলে তাদের অনেকেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।

বর্তমানে হাজার হাজার কাজাখ চীনা কর্তৃপক্ষ দ্বারা আটকের শিকার হয়েছেন এবং এদের মধ্যে অনেকেই ওটানের মত করে কাজাখস্তানের অনেক নারীকে বিয়ে করে দেশটিতে বৈধ বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছিলেন।

২০১৬ সালে ওটান তার দেশ চীনে গিয়েছিলেন কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে যাতে করে তিনি কাজাখস্তানের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিন্তু চীনা কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে এবং তার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে এবং তাকে ২০১৭ সালে রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে প্রেরণ করে।

এসব দীক্ষা দান কেন্দ্রে আটক সবাই ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং সেখানে তাদেরকে জোর পূর্বক ইসলাম ধর্মের রীতিনীতি চর্চা থেকে বিরত থাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। চীন এর পূর্বে নিজ দেশের মুসলিমদের এখানে আটক করে রাখত আর বর্তমানে এখানে অনেক কাজাখ নাগরিককেও আটক রাখা হয়েছে এবং তা কাজাখস্তানের স্বাধীনতার প্রতি মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ঠিক কতজন মুসলিম জিয়ানজিয়াং এর আটক কেন্দ্রে আটক রয়েছেন তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয় কিন্তু কিছু বেসরকারি হিসেবে মতে সেখানে আট লাখ থেকে ২মিলিয়ন মুসলিম আটক রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জিনজিয়াং বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিয়ান থুম বলেন, চীনের আটক কেন্দ্রে উইঘুর মুসলিমদের সাথে কাজাখ মুসলিমদের আটকাবস্থা দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। কারণ ইতোপূর্বে চীন কাজাখ মুসলিমদের তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচনা করতো না এবং দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির নিকট কাজাখ মুসলিমদের গ্রহণযোগ্যতা ছিল।

চীনের জিয়ানজিয়াং প্রদেশে অন্তত ১.৫ মিলিয়ন কাজাখ বাস করে যারা সেখানকার উইঘুর জনগোষ্ঠীর পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠী। থুম বলেন, কাজাখদের উপর বর্তমানের দমন পীড়ন উইঘুরদের উপর দমন পীড়নের মতই এবং তা ‘ইসলাম-ভীতি দ্বারা’ প্রভাবিত।

জিনজিয়াং এ আটক ছিলেন এমন ৬০ জন বন্দীর সাক্ষাৎকার নিয়ে সেখানকার ভয়ানক পরিস্থিতির কিছুটা আঁচ করা যায়।

একই সময়ে উগ্র জাতীয়তাবাদের ধারণা চীনাদেরকে আরো বেশি আগ্রাসী করে তুলেছে। এর ফলে দেশটির সংখ্যালঘুদের সংস্কৃতির উপর দমন পীড়ন চালানো হচ্ছে বিশেষত ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের উপর।

এসব রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে আটক মুসলিমদের জোর পূর্বক ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানো হয়, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গীত শেখানো হয় এবং তাদেরকে শূকরের মাংস খেতে বাধ্য করা হয়।

চীনে ধর্ম বিশেষত ইসলাম ধর্মকে তাদের জাতীয় পরিচয়ের সাথে বৈরী বলে মনে করা হয় এবং দেশটির কর্মকর্তাগণ অনেক খোলাখুলিই ইসলাম ধর্মকে চীনের স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে এক করার ঘোষণা দেন। একই সাথে তারা ইসলাম ধর্মকে সমাজতন্ত্রের সাথে এক করার পক্ষে মত দেন।

গুলজারিয়া অউয়েলখানকেইজ নামের চীনা নাগরিক যিনি তার স্বামীর সাথে কাজাখস্তানে বসবাস করেন তিনি রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে ১৫ মাস আটক ছিলেন। তিনি বলেন- ‘তারা বলেছিলো যে, আমি একজন বিশ্বাসঘাতক কারণ আমি কাজাখস্তানে বসবাস করি।’

গুলজারিয়া অউয়েলখানকেইজ এখনো দীক্ষা দান কেন্দ্রে আটক থাকার স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন- ‘সেখানে আটক অনেকেরই আমার মত সন্তান রয়েছে। কিন্তু আমরা আটক থাকা অবস্থায় আমাদের সন্তানদের দেখতে পারতাম না এবং তাদের কে খেয়াল রাখবে এমন চিন্তা করে অস্থির থাকতাম।’

তিনি আরো বলেন- ‘জিনজিয়াং একটি এতিমদের শহরে পরিণত হয়েছে।’

চীনে বসবাসরত কাজাখ গণ এর পূর্বে চীন এবং কাজাখস্তানের মধ্যে আসা যাওয়া করত। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এবং ১৯৯১ সালে কাজাখস্তানের স্বাধীনতার পর অন্তত ১৮ মিলিয়ন চীনা নাগরিক দেশটির স্বাধীনতা লাভ করে।

কিন্তু চীনে তাদের আত্মীয়দের কাছে যাওয়ার জন্য সীমান্তে আসা যাওয়ার কারণে তাদের এখন বৈষম্যের চোখে দেখা হয়। Human Rights Watch এর মতে, জিনজিয়াং এর মুসলিম অধিবাসীদের সাথে বিদেশীদের সাথে যোগাযোগ রাখাকে এখন শাস্তি যোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখা হয়।

গেনে বুনিন নামের রাশিয়ান-আমেরিকান লেখক এবং অনুবাদক যিনি ‘Xinjiang Victims Database’ নামের একটি সংগঠন পরিচালনা করেন তিনি বলেন, জিনজিয়াং কর্তৃপক্ষ ২৬টি বিদেশী রাষ্ট্রের একটি তালিকা করেছে আর এর মধ্যে কাজখাস্তান অন্যতম।

হাজার হাজার কাজাখ বংশোদ্ভূত চীনা নাগরিক এমনকি কাজাখস্তানের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রাপ্ত অনেক চীনা নাগরিক তথাকথিত এসব রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে আটক রয়েছে এবং তাদের ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। অন্যদিকে গুলজারিয়া অউয়েলখানকেইজ এবং যাহারকেনবেক ওটানের মত কিছু সংখ্যক বন্দীর মুক্তি পাওয়া কিছুটা ব্যতিক্রমী ব্যাপার।

ওরাল জাহানবিল নামের একজন বলেন, তার পিতা তুরান মুখামেতকেন একজন চীনা নাগরিক যিনি কাজাখস্তানে বসবাস করেন এবং তিনি ২০১৭ সালে জিনজিয়াং এ তার পেনশনের অর্থ উত্তোলন করতে গেলে চীনা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আটক হন।

জাহানবিল এখনো তার পিতার আটক হওয়ার কারণ জানেন না তবে আটক থাকার এক বছর পর মুখামেতকেন মুক্তি পান কিন্তু তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয় এবং তিনি এখনো চীন থেকে কাজাখস্তানে ফেরত আসতে পারেন নি।

আসকার আজাতবেক যিনি জিনজিয়াং প্রদেশের সাবেক একজন কর্মকর্তা ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি কাজাখস্তানের নাগরিক। তাকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে কাজাখস্তানের চীনা সীমান্তবর্তী একটি মুক্ত বাণিজ্য কেন্দ্র থেকে আটক করা হয়।

সেসময় আজাতবেক তার একজন বন্ধুর সাথে ছিলেন এবং চীন সীমান্ত থেকে দুটো গাড়ি এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। যদিও আজাতবেকের বন্ধু মুক্তি পেয়েছেন কিন্তু তিনি এখনো বন্দি অবস্থায় রয়েছেন আর তার পরিবার এখনো তার কোনো খোজ খবর জানে না।

তবে এতকিছু স্বত্বেও কাজাখস্তানের সরকার তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। চীন কাজাখস্তানের অন্যতম বিনিয়োগকারী এবং একই সাথে ‘ওয়ান বেল্ট এন্ড রোডের’ অন্যতম কৌশলগত মিত্র।

যদিও কূটনীতিকরা চীনের জিনজিয়াং এ আটক কাজাখ নাগরিকদের পরিবার সমূহকে তাদের আটক স্বজনদের সাথে দেখা করিয়ে দেয়ার জন্য উৎসাহ দেন কিন্তু কাজাখ কর্তৃপক্ষ চীনে আটক তাদের নাগরিকদের মুক্তির ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে একেবারে বল শূন্য বলে মনে হচ্ছে।

কাজাখস্তানের সরকার এ বিষয়টি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা চীনা কর্তৃপক্ষ জিনজিয়াং এর মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের মুসলিম পরিচয় মুছে দেয়ার যে পদক্ষেপ নিয়েছে সে পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না।

কিন্তু যেসব রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্র কাজাখস্তানের পাশের দরজায় স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে কাজাখ নাগরিক, উইঘুর মুসলিমদের আটক করে রাখা হয়েছে তাতে করে সত্যিটা হচ্ছে যে, জিনজিয়াং হয়ত ভবিষ্যতে আরো বড় কোনো সমস্যার তৈরী করবে যাকে এখন উপেক্ষা করা হচ্ছে।

উৎসঃ ‌ওয়াশিংটনপোস্ট ডট কম।

আরও পড়ুনঃ ট্রাম্পের আমেরিকায় বসবাস করা খুবই ভয়ের: ধর্মান্তিত নারী স্টেসি নাভারেত


স্টেসি নাভারেত নামের ২৩ বছর বয়সী নারী যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তখন তার পরিবারের লোকজন এবং তার বন্ধুরা ভেবেছিল যে, তিনি তার মুসলিম স্বামীর মন পাওয়ার জন্য এমনটি করেছেন।

মেক্সিকো এবং পুয়ের্তো রিকান বংশোদ্ভূত নাভারেত বলেন, ‘আমার বন্ধু এবং আমার পরিবারের লোকজন ভেবেছিল আমি মগজ ধোলাইয়ের শিকার হয়েছি, কিন্তু আসলে এরকম কোনো কিছুই ঘটে নি। প্রথমে আমার পিতামাতা এ বিষয়টি বুঝতে পারে নি, কিন্তু আমি শুধুমাত্র মজা তথা আনন্দ করার জন্য ইসলাম গ্রহণ করিনি এমনটি জানতে পেরে তারা এখন এ বিষয়টি গ্রহণ করে নিয়েছেন।’

স্টেসি নাভারেত নামের এই নারী যুক্তরাষ্ট্রের ৩.৩ মিলিয়ন মুসলিমের মত দেশটিতে বেড়ে উঠেছেন এবং সেখানকার সেন্ট লুইস নামক শহরে বসবাস করেন। তিনি একই সাথে দেশটির ৬ শতাংশ লাতিনো মুসলিমের একজন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে Pew গবেষণা কেন্দ্রের করা এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট মুসলিমের ২০ শতাংশ হচ্ছেন ধর্মান্তরিত মুসলিম। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো জানিয়েছে যে, গত শতাব্দীতে একমাত্র ইসলাম ধর্মই ছিল সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হওয়া একটি ধর্ম।

স্টেসি নাভারেত বলেন, ‘ট্রাম্পের আমেরিকায় বসবাস করা খুবই ভয়ের। আমি সাধারণত হিজাব পরিধান করি না যাতে করে লোকজন আমার পরিচয় সম্পর্কে জানতে না পারে। কিন্তু যখন আমি আমার স্বামী এবং সন্তানের সাথে থাকি তখন আমি এই ভয়ে থাকি যে, লোকজন হয়ত আমাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করবে।’

স্টেসি নাভারেত জানান, তিনি ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তার স্বামীর সাথে বাংলাদেশ ভ্রমণে আসেন। তিনি আরো বলেন, তার স্বামী চাইছিল ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার পূর্বেই যাতে তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারেন।

তিনি বলেন, তার ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরিধান করা খুবই চ্যালেঞ্জের বিষয়। ইসলামে পুরুষ এবং নারীদেরকে শালীন পোশাক পরিধান করার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআন অনুযায়ী, নারীদেরকে তাদের চুল এবং বক্ষদেশ ঢেকে রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে নারীদের প্রতি আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্টেসি নাভারেত নামের ২৩ বছর বয়সী নারী যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তখন তার পরিবারের লোকজন এবং তার বন্ধুরা ভেবেছিল যে, তিনি তার মুসলিম স্বামীর মন পাওয়ার জন্য এমনটি করেছেন।

মেক্সিকো এবং পুয়ের্তো রিকান বংশোদ্ভূত নাভারেত বলেন, ‘আমার বন্ধু এবং আমার পরিবারের লোকজন ভেবেছিল আমি মগজ ধোলাইয়ের শিকার হয়েছি, কিন্তু আসলে এরকম কোনো কিছুই ঘটে নি। প্রথমে আমার পিতামাতা এ বিষয়টি বুঝতে পারে নি, কিন্তু আমি শুধুমাত্র মজা তথা আনন্দ করার জন্য ইসলাম গ্রহণ করিনি এমনটি জানতে পেরে তারা এখন এ বিষয়টি গ্রহণ করে নিয়েছেন।’

স্টেসি নাভারেত নামের এই নারী যুক্তরাষ্ট্রের ৩.৩ মিলিয়ন মুসলিমের মত দেশটিতে বেড়ে উঠেছেন এবং সেখানকার সেন্ট লুইস নামক শহরে বসবাস করেন। তিনি একই সাথে দেশটির ৬ শতাংশ লাতিনো মুসলিমের একজন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে Pew গবেষণা কেন্দ্রের করা এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট মুসলিমের ২০ শতাংশ হচ্ছেন ধর্মান্তরিত মুসলিম। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো জানিয়েছে যে, গত শতাব্দীতে একমাত্র ইসলাম ধর্মই ছিল সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হওয়া একটি ধর্ম।

স্টেসি নাভারেত বলেন, ‘ট্রাম্পের আমেরিকায় বসবাস করা খুবই ভয়ের। আমি সাধারণত হিজাব পরিধান করি না যাতে করে লোকজন আমার পরিচয় সম্পর্কে জানতে না পারে। কিন্তু যখন আমি আমার স্বামী এবং সন্তানের সাথে থাকি তখন আমি এই ভয়ে থাকি যে, লোকজন হয়ত আমাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করবে।’

স্টেসি নাভারেত জানান, তিনি ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তার স্বামীর সাথে বাংলাদেশ ভ্রমণে আসেন। তিনি আরো বলেন, তার স্বামী চাইছিল ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার পূর্বেই যাতে তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারেন।

তিনি বলেন, তার ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরিধান করা খুবই চ্যালেঞ্জের বিষয়। ইসলামে পুরুষ এবং নারীদেরকে শালীন পোশাক পরিধান করার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআন অনুযায়ী, নারীদেরকে তাদের চুল এবং বক্ষদেশ ঢেকে রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে নারীদের প্রতি আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here