এবার তালেবানদের সঙ্গে বৈঠক করল রাশিয়া

0
207

আফগানিস্তানের তালেবান নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরে রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়েছে তালেবানের একটি প্রতিনিধি দল। শনিবার মস্কোতে দলটির সঙ্গে রুশ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একথা জানায়।

রাষ্ট্রীয় নিউজ এজেন্সি আরআইএ নভোস্তির উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, আফগানিস্তান বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লামিদির পুতিনের বিশেষ প্রতিনিধি জামির কাবুলভ তালেবান প্রতিনিধি দলকে মস্কোতে আমন্ত্রণ জানান। তালেবানদের মুখপাত্র সোহেল শাহিন জানিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধি দলটি শুক্রবার মস্কো পৌঁছায়।

রোববার আনাদোলু এজেন্সিকে জামির কাবুলভ জানান, আলোচনায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তালেবানের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য তাদের আগ্রহের বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও আশা করা হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান চুক্তিতে পৌঁছাবে। এতে তালেবানের পক্ষে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প তালেবানের সঙ্গে তার আলোচনা বাতিল করেন এবং তালেবানের সঙ্গে আলোচনার ‘মৃত্যু’ ঘটেছে বলে ঘোষণা দেন।

এর আগে তালেবানের আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় তাদের সঙ্গে নির্ধারিত শান্তি আলোচনা বাতিল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবকাশ কেন্দ্র, ক্যাম্প ডেভিড কমপাউন্ডে তালেবানের মুখ্য নেতা ও আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তবে ৫ সেপ্টেম্বর কাবুলে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাসহ ১২ জন নিহত হন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শান্তি আলোচনা বাতিল করেন ট্রাম্প।

আফগানিস্তানে এখনও আমেরিকার ১৩ হাজারেরও বেশি সৈন্য রয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরে আমেরিকা আফগানিস্তানে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র ১৮ বছর ধরে স্থায়ী এ যুদ্ধের অবসান চায়। এ প্রেক্ষাপটে দেশটিতে ২৮ সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন সামনে রেখে দেশটিতে সহিংসতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২০০১ সালে তালেবানের পতনের পরে এটি হবে চতুর্থ নির্বাচন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ দুদকের অনুসন্ধানে আা‘লীগ সরকারের ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র


১.পর্দা কেলেংকারি
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পর্দা কেলেংকারি নিয়ে সারাদেশ এখন তোলপাড়। হাসপাতালটির ১১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬৫ টাকার মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনাকাটায় বিল দেখানো হয়েছে ৫২ কোটি ৬৬ লাখ ৭১ হাজার ২০০ টাকা। এই একটি কেনাকাটাতেই মেসার্স অনিক ট্রেডার্স বাড়তি বিল দেখিয়েছে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৭ টাকা।

আইসিইউতে ব্যবহৃত একটি পর্দার দাম ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড়াও একটি অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। একটি ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার, একটি বিএইইস মনিটরিং প্ল্যান্ট ২৩ লাখ ৭৫ হাজার, তিনটি ডিজিটাল ব্লাড প্রেসার মেশিন ৩০ লাখ ৭৫ হাজার, আর একটি হেডকার্ডিয়াক স্টেথোসকোপের দাম ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। এমন অবিশ্বাস্য দামে ১৬৬টি যন্ত্র ও সরঞ্জাম কিনেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

২.বই কেলেংকারি
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য বই কিনেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। এই বই কেনাতেও করা হয়েছে সাগর চুরি। জানা গেছে, যে বইয়ের দাম ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। সে বইয়ের কেনার বিল করা হয়েছে ৪৩ হাজার টাকা। যে বইয়ের দাম ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা। সে বই কেনা হয়েছে ২০ হাজার ৪৮০ টাকায়। যে বইয়ের দাম ৪ থেকে পাঁচ হাজার টাকা। সে বই কেনা হয়েছে ১৪ হাজার ১৭৫ টাকা করে। যে বইয়ের বাজার মূল্য ২৯ হাজার টাকা। সে বই কেনা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা করে। যে বইয়ের বাজার মূল্য ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা। সে বই কেনা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৫ টাকা করে।

৩.ঢেউ টিন কেলেংকারি
আরেক মহা কেলেংকারির ঘটনা ঘটেছে খাগড়াছড়ির এপিবিএন কার্যালয়ের ঢেউ টিন কেনায়। এখানে একটি টিন কেনা হয়েছে এক লাখ টাকায়। যা বর্তমান বাজার মূল্যের তুলনায় ১০০ গুণেরও বেশি। ওই মেরামতকাজে মাত্র দুই বান টিনের দাম দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। এছাড়াও কাজ শুরুর মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই বাজেটের ৭১ লাখ টাকা তুলে নেয়া হয়। অথচ মেরামত কমিটির সদস্য সচিবের দেয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থেকে জানা যায়, চার মাসে মাত্র ১৫ ভাগ কাজ হয়েছে।

৪.রেলওয়েতে হরিলুট
রেলওয়ের কারিগরি প্রকল্পে একজন ক্লিনারের বেতন মাসে চার লাখ বিশ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। অবাক হলেও এমনই অবিশ্বাস্য বেতন ধরা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অফিস সহায়কের বেতন ধরা হয়েছে ৮৪ হাজার টাকা। রেল মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রকল্প প্রস্তাবনায় এমন বেতনের কথা বলা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্রে দেখা যায়, প্রকল্পে ক্লিনারের বেতন ধরা হয় মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর অফিস সহায়কের বেতন প্রতি মাসে ৮৩ হাজার ৯৫০ টাকা। বিদেশী পরামর্শকদের বেতন মাসে গড়ে ১৬ থেকে ২৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

৫.নদীর তীর সংরক্ষণের নামে লুটপাট
নদী একটা, এলাকাও একটাই, কিন্তু তার তীর সংরক্ষণ ব্যয় তিন ধরনের। আর এই ব্যয় ব্যবধান ৯ থেকে ১৫ কোটি টাকা প্রতি কিলোমিটারে। প্রতিটি সাইনবোর্ড বানাতে ব্যয় সাড়ে ৫ লাখ টাকা। স্ট্যাম্প ও সিল বাবদ খরচ ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর এই খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সন্দ্বীপ চ্যানেলের ভাঙনরোধে ৪.৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি ১১৮ কোটি ৩০ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে তীর সংরক্ষণের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পটি হলো নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সন্দ্বীপ চ্যানেলের ভাঙন থেকে মুসাপুর ক্লোজার, রেগুলেটর এবং সংলগ্ন এলাকা রক্ষার জন্য মুসাপুর রেগুলেটরের ডাইভারশন চ্যানেল ও সন্দ্বীপ চ্যানেলের বাম তীর প্রতিরক্ষা। এখানে ৪.৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি ৮৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ১.৩ কিলোমিটার রোড নির্মাণ ও কার্পেটিং খরচ ৩ কোটি ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা। প্রকল্পের পাঁচটি সাইনবোর্ড তৈরিতে ব্যয় হবে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা। সিল ও স্ট্যাম্প খাতে ব্যয় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

দেখা যায়, গড়ে প্রতি কিলোমিটার তীর সংরক্ষণে ব্যয় হবে ২২ কোটি ৯৩ লাখ ২ হাজার টাকা। একই নদীর একই এলাকায় তীর সংরক্ষণে ব্যয় হচ্ছে তিন ধরনের। মুসাপুর রেগুলেটরের ডাইভারশন চ্যানেলের ভাটিতে ১.৩ কিলোমিটারের জন্য ব্যয় ২২ কোটি ৮১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এখানে কিলোমিটারে ব্যয় হবে ১৭ কোটি ৫৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। আর একই চ্যানেলের উজান তীরে ৬০০ মিটার বা আধা কিলোমিটারের একটু বেশির জন্য ব্যয় ১১ কোটি ২২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। অন্য দিকে চ্যানেলের ভাটির বাম তীরে আড়াই কিলোমিটারের জন্য খরচ ৬৬ কোটি ৮৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা। এখানে কিলোমিটারে ব্যয় হবে ২৬ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।

৬.বালিশ কাণ্ড
আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তুলতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনে ওয়াশিং মেশিনসহ অন্তত ৫০টি পণ্য ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ক্রয়মূল্যের প্রায় অর্ধেক, কোনো কোনোটিতে ৭৫ শতাংশ। আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হলো- এক কেজির মতো ওজনের একটি বৈদ্যুতিক কেটলি নিচ থেকে ফ্ল্যাটে তুলতে খরচ হয়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। জামা-কাপড় ইস্ত্রি করার কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ওপরে তুলতেও খরচ হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ টাকা।

প্রায় আট হাজার টাকা করে কেনা প্রতিটি বৈদ্যুতিক চুলা ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিতে খরচ দেখানো হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকার বেশি। প্রতিটি শোবার বালিশ ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় এক হাজার টাকা করে। আর একেকটি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি। কেবল ভবনে ওঠানোর ক্ষেত্রেই নয়, আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। ২০ তলা ওই ভবনটির প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা করে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা করে কেনা প্রতিটি রেফ্রিজারেটর ওপরে ওঠাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি ওয়াশিং মেশিন কেনা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দরে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা করে। একেকটি ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ২১ হাজার ২১৫ টাকায়, আর ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৯১০ টাকা করে। এছাড়া রুম পরিষ্কার করার মেশিন কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ১৮ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা।

প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা দরে ১১০টি খাট কিনতে খরচ হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ টাকা। খাটগুলোর প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটে নিতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা করে। একেকটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা দরে কেনা সেন্টার টেবিলের প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে লেগেছে ২ হাজার ৪৮৯ টাকা।

ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের একেকটি সেট কেনা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়, ভবনে তুলতে লেগেছে ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা করে। ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা দরে ওয়ারড্রব কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকা করে। ৩৬ হাজার ৫৭ টাকা দরে ৩৩০টি মেট্রেস ও তোশক কেনা হয়েছে মোট এক কোটি ১৯ লাখ টাকায়, যার প্রতিটি ভবনে ওঠাতে খরচ করা হয়েছে সাত হাজার ৭৫২ টাকা করে।

আরও জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় একজন গাড়িচালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের বেতনের সমান। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে রাঁধুনি আর মালির বেতন ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে সর্বসাকুল্যে ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। যা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানীর ছয়গুণেরও বেশি। প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালকের মাসিক বেতন মোট ৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। যা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানীর প্রায় পাঁচগুণ।

৭.দুর্নীতির কারখানা তিতাস
সম্প্রতি দুদকের অনুসন্ধানে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে এসেছে তিতাসে। এখানে পদে পদে দুর্নীতি অনিয়ম হচ্ছে। আর খেসারত দিচ্ছে গ্রাহকরা। যেমন-অবৈধ সংযোগ, নতুন সংযোগে অনীহা এবং অবৈধ সংযোগ বৈধ না করা, অবৈধ লাইন পুনঃ সংযোগ, অবৈধ সংযোগ বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া, অদৃশ্য হস্তক্ষেপে অবৈধ সংযোগ, গ্যাস সংযোগে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ না করা, বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহককে শিল্প শ্রেণির গ্রাহক হিসেবে সংযোগ প্রদান, মিটার টেম্পারিং, অনুমোদনের অতিরিক্ত বয়লার ও জেনারেটর এ গ্যাস সংযোগ, মিটার বাইপাস করে সংযোগ প্রদান সংক্রান্ত দুর্নীতি, এস্টিমেশন অপেক্ষা গ্যাস সরবরাহ কম করেও সিস্টেম লস দেখানো, ইচ্ছাকৃতভাবে ইভিসি-ইলেকট্রনিক ভলিয়ম কারেক্টর না বসানো।

৮.দুর্নীতির শিকার ওয়াশার গ্রাহকরা
ঢাকা ওয়াসার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সম্প্রতি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে টিআইবি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৬২ শতাংশ গ্রাহক ওয়াশা কর্মকর্তাদের দুর্নীতি অনিয়মের শিকার। এসব অনিয়মের মধ্যে- পানির সংযোগের জন্য ২০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। পয়:লাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ৩০০-৪৫০০ টাকা, গাড়িতে জরুরি পানি সরবরাহের জন্য ২০০থেকে ১৫০০ টাকা, মিটার ক্রয়/পরিবর্তনের জন্য এক হাজার-১৫ হাজার, মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত কাজের জন্য ৫০ থেকে তিন হাজার এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে এক থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়।

৯.দুর্নীতির কারণে ধসে পড়েছে বিমান খাত
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ১৯ খাতে দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিমানের ৮ এবং বেবিচকের ১১ খাতে দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত হয়েছে।

বিমানের ৮ খাতের মধ্যে এয়ারক্রাফট কেনা ও লিজ নেয়া, রক্ষণাবেক্ষণ-ওভারহোলিং, গ্রাউন্ড সার্ভিস, কার্গো আমদানি-রফতানি, ট্রানজিট যাত্রী ও লে-ওভার যাত্রী, অতিরিক্ত ব্যাগেজের চার্জ আত্মসাৎ, টিকিট বিক্রি, ক্যাটারিং খাতের দুর্নীতি চিহ্নিত হয়েছে।

আর বেবিচকের ১১ খাতের মধ্যে আছে টাওয়ার বোর্ডিং ব্রিজসহ বড় বড় কেনাকাটা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, বিমানবন্দরের দোকান বিলবোর্ড ভাড়া, পরামর্শক নিয়োগ, কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণ, মন্ট্রিল কনভেনশন বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলট ফ্লাইং ইঞ্জিনিয়ার ও এয়ারক্রাফটের লাইসেন্স, ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্স ও সিডিউল অনুমোদন ও অপারেশনাল কাজে দুর্বলতা।

১০.দুর্নীতির মহোৎসব স্বাস্থ্যখাতে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১টি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্রয়, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসা দেওয়া, চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইকুইপমেন্ট ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসব খাতের দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা জড়িত। এসব দুর্নীতি ও লুটপাটের টাকা সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকদের পকেটেও যাচ্ছে। যার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

উৎসঃ বিডি টুডে

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here