শ্রমিকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০৪৪ কোটি টাকা পাচার

0
426

সুপারভাইজার পদে মিরর ডেভেলপমেন্ট নামে একটি ল্যান্ড ডেভেলপিং প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন খোরশেদ আলম। ২০ হাজার টাকা বেতনের বিপরীতে তার দায়িত্ব ছিল প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবন দেখভাল করা। সীমিত বেতনের টাকায় কোনোরকমে চলত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের এ স্থায়ী বাসিন্দার সংসার।

অথচ এ খোরশেদের নামেই এমন একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যে অ্যাকাউন্ট থেকে গত তিন বছরে এলসির মাধ্যমে আমদানি করা হয়েছে ১ হাজার ৪৪ কোটি টাকার পণ্য। এটি কাগুজে তথ্য। বাস্তবতা হচ্ছে, পণ্য আমদানির মোড়কে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কার্যত চীন, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশে পাচার হয়ে গেছে। অথচ যার অ্যাকাউন্ট থেকে এ কাজ করা হয়েছে সেই খোরশেদের ভাষ্য, তিনি এসবের কিছুই জানেন না।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন বিস্ময়কর অর্থপাচার কা-। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের তদন্ত শাখা সিআইডিও এ নিয়ে তদন্ত করছে।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের তদন্তকারী এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন কমিশন থেকে সংগ্রহ করা খোরশেদ আলমের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পূর্বগ্রামের ব্যাপারী বাড়ি। কিন্তু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এলসি

খোলাসহ পুরো আমদানি প্রক্রিয়ায় খোরশেদ আলমের জাতীয় পরিচয়পত্রের যে ফটোকপি ব্যবহৃত, তাতে ঘষামাজা করে বসানো হয়েছে অন্য একজন ব্যক্তির ছবি ও স্বাক্ষর।

তদন্তকারী সূত্র বলছে, একটি ব্যাংকের রাজধানীর নয়াপল্টন ও শান্তিনগরের দুটি শাখায় হিসাব খোলার পর ওই ব্যাংকের মাধ্যমেই এলসি করে কনটেইনার আমদানি হয় খোরশেদ আলমের নামে। তবে তাকে নজরদারিতে রেখে ওই ব্যাংকে জমা দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংকের পরিচিতিদানকারীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রমাণিত হয় ট্রেড লাইসেন্স ভুয়া, একইভাবে খোরশেদের জাতীয় পরিচয়পত্রে ঘষামাজা করে অন্যজনের ছবি যুক্ত করা হয়েছে। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পরিচিতিদানকারী ব্যক্তি মিরর ডেভেলপমেন্টের মালিক দিদারুল আলম টিটু ও তার বন্ধু শহীদুল আলম। আর খোরশেদের ভোটার আইডিতে ছবি বসানো ব্যক্তিটি দিদারুল আলমের আরেক বন্ধু আবদুল মোতালেব। রাজধানীর খিলক্ষেতে ডুমনি ইউনিয়নের পতিরা গ্রামের মো. নুরু মিয়ার ছেলে এই আবদুুল মোতালেব।

আবদুল মোতালেবের ছবি দেখে তার ভাই আবু তালেব নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ব্যবসার উদ্দেশ্যে চীন গেছেন আবদুল মোতালেব। তার মোবাইল নম্বর নেই।

তা হলে কীভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও এলসি খোলা হলো? এলসির সরেজমিন প্রতিবেদনে নয়াপল্টন শাখার ওই ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মেহেদি হোসেন বলেন, হেনান আনহুই এগ্রো এবং এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি প্রতিষ্ঠান দুটিতে সরেজমিনে গিয়ে চারদিকে দেয়াল বেষ্টিত একটি করে টিনশেড ঘর দেখতে পান। মালিক খোরশেদ আলম ফ্যাক্টরির ভেতরে ছিলেন। সেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা ছিল।

কিন্তু শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদি হোসেন বলেন, সরেজমিন প্রতিবেদন সবই মিথ্যা। প্ররোচনা করে ম্যানেজার তাকে দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করিয়ে স্বাক্ষর নিয়েছেন। আমি এখন রাজসাক্ষী হতে রাজি।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে উঠে আসে, খোরশেদ আলমের নামে ব্যাংক-এলসি অ্যাকাউন্ট খোলা ও এ সময়ে জাল দলিলাদি সরবরাহে দিদারুল আলম টিটু, তার দুই বন্ধু শহীদুল আলম এবং আবদুল মোতালেব প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জড়িত। তারাও কোনো না কোনোভাবে এ অপকর্মের সুবিধাভোগী। তবে আমাদের সময়ের পক্ষ থেকে মিরর ডেভেলপমেন্টের মালিক দিদারুল আলম টিটুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া বিদেশ থেকে জাহাজে করে পণ্যভর্তি কনটেইনার আমদানিতে চট্টগ্রাম বন্দরে যে কয়টি ধাপ পার করতে হয় জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তার সবকটিতেই অতিক্রম করে কথিত ‘হেনান আনহুই এগ্রো এবং এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি’। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারী-কর্মকর্তারাও জড়িত বলে মনে করছে তদন্তকারীরা।

পণ্যবাহী কনটেইনার খালাসে বন্দর কর্তৃপক্ষের স্ক্যানিং, এআইআর, গেট শাখা, নিরাপত্তা বিভাগ, ট্রাফিক বিভাগ, স্টাফ শাখায় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। কিন্তু হেনান ও এগ্রো বিডির ৯০টি কনটেইনার খালাসের ব্যাপারে গেট শাখা বলেছে, প্রতিটি পণ্যচালান অ্যাসেসমেন্ট নোটিশ ও আউটপাস গেটে রক্ষিত অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সঙ্গে মিলিয়ে এন্ট্রি নিশ্চিতের পর খালাস দেওয়া হয়। অন-চেসিস কনটেইনার ডেলিভারির আগে স্ক্যানিং গেটে কর্মরত কর্মকর্তার স্বাক্ষরকৃত প্রতিবেদনের হার্ডকপি, এসজিএসের পাঠানো মেইল যাচাই, এআইআরের ছাড়পত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এ পণ্য ছাড়ে স্ক্যানিং প্রতিবেদনসহ অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চের (এআইআর) অ্যাসেসমেন্ট নোটিশে ছাড়পত্র পেয়েই তারা পণ্য খালাসে অনুমতি দেয়।

তবে স্ক্যানিং শাখা বলছে, তারা কিছইু জানে না। আবার বেসরকারি স্ক্যানিং প্রতিষ্ঠান এসজিএস বাংলাদেশ লিমিটেড জানায়, কনটেইনারগুলো স্ক্যানে একবারের জন্যও তাদের কাছে কেউ আসেনি। তাদের নামে যে স্ক্যান কপি বা তাদের স্বাক্ষরসংবলিত যে ডকুমেন্টস পাঠানো হয়েছে, সেগুলোও জাল।

অন্যদিকে বিল অব এন্ট্রি, স্ক্যানিং রিপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখে ছাড়পত্র প্রদানকারী এআইআর শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সুমন আল মাসউদ অনুসন্ধানী কর্মকর্তাদের বলেন, কনটেইনারগুলো ছাড়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তাদের কাছে না আসায় তারা পণ্য ছাড়ের অনুমতিই দেননি। হয়তো সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি সুকৌশলে কোনো সুবিধাজনক মাধ্যমে (অন্য কোনো অফিসারকে দিয়ে) অথবা স্বাক্ষর জাল করেও নিতে পারে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগের ভাষ্য, কনটেইনার খালাস দেওয়ার আগে কাস্টমস এআইআর এবং গেট ডিভিশনের যাচাই নম্বর দেখে ছাড় দেওয়া হয়। তবে নিরাপত্তা বিভাগ এসব নোটিশ সংরক্ষণ করে না। আবার ট্রাফিক বিভাগ বলছে, কনটেইনার খালাসের জন্য সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের দাখিলকৃত যাবতীয় কাগজপত্র সঠিক ছিল। স্টাফ শাখার বক্তব্য, বিল অব এন্ট্রির কাগজপত্রে সন্দেহ হয়নি। বন্দরের এ কয়টি শাখা ছাড়াও শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স নিয়ে প্রতিটি জায়গায় পণ্য খালাসে দুই রকমের তথ্য।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. শহীদুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, এটি একটি ভয়াবহ জালিয়াত ও অর্থপাচার চক্র। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারীকে সামনে রেখে এ চক্র বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) লাইসেন্স, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপের নথিপত্র ও তথ্যাদি জালিয়াতি করে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। চক্রের বাইরে আর কে কে কীভাবে জড়িত, তাও আমরা খতিয়ে দেখছি। এ ক্ষেত্রে দুদক ও সিআইডির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

তদন্ত সূত্র জানায়, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মেসার্স এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি এবং মেসার্স হেনান আনহুই এগ্রো এলসি নামে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে ১৭টি চালানে ৯০টি কনটেইনার আসে খোরশেদ আলমের নামে। আমদানির কাগজপত্রে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা রাজধানীর কেরানীগঞ্জ আবদুুল্লাহপুরের চরজাগালিয়া ও খিলক্ষেতের ডুমনিতে। আর আমদানিকৃত পণ্যের হিসাবে নতুন উৎপাদনশীল কারখানার মেশিনারিজের কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে ঠিকানাগুলোয় ওই দুই নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই নেই। এমনকি গত তিন বছরে ১৫টি এলসির মাধ্যমে ৭৮টি কনটেইনার ভরে মিথ্যা ঘোষণায় বৈধ/অবৈধ কী ধরনের পণ্য এসেছে, তা কোথায় পাঠানো হয়েছেÑ সেই হিসাবও নেই কারও কাছে।

বিনা বাধায় এতগুলো চালান খালাসের পর ২০১৭ সালের ৫ ও ৬ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে খোরশেদের নামে আমদানি করা দুটি এলসিতে ১২টি কনটেইনার সন্দেহজনকভাবে আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। ধরা পড়ে মেশিনারিজের চেয়ে কম দামি নি¤œমানের মদ, সিগারেট, টেলিভিশন আমদানির চিত্র। ইনভেন্টি করে প্রতিটি কনটেইনারের আড়ালে ১১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা পাচারের হিসাব ধরে শুল্ক গোয়েন্দা। সে হিসাবে ওই ১২টি কনটেইনার আমদানির নামে ১৩৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়। এর পর এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি এবং হেনান আনহুই এগ্রো নামক প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা পরিদর্শন, মালিক খোরশেদ আলমের নাম খুঁজতে গিয়ে অর্থপাচারের এ কৌশল সম্পর্কিত সূত্র হাতে আসে অনুসন্ধানী কর্মকর্তাদের। সুপারভাইজার খোরশেদ আলমের নামে মেসার্স এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপির বিপরীতে ২০১৬ ও ১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে ৯টি এলসিতে ৪৬টি কনটেইনারে পণ্য আমদানির আড়ালে অর্থপাচার হয় ৫৩৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আর হেনান আনহুই এগ্রোর নামে ২০১৬ ও ১৭ সালে ৬টি এলসির মাধ্যমে ৩২টি কনটেইনারের আড়ালে পাচার হয় ৩৭১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আর মোট ৯০টি কনটেইনারের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। কিন্তু যার নামে এতগুলো কনটেইনার আমদানি ও অর্থপাচারের অভিযোগ, তিনি শুনে রীতিমতো অবাক।

নিজেকে নির্দোষ দাবিদার খোরশেদ আলমের ভাষ্য, ১৯৮৫-২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি ডেমরা জুটমিলে কাজ করেছেন। ২০০৩-২০১৪ সাল পর্যন্ত বাবার সঙ্গে এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। এর পর ২০০৪-২০১৬ সাল পর্যন্ত মিরর ডেভেলপমেন্টে ভবন দেখভালের কর্মচারী বা সুপারভাইজার পদে চাকরি করেছেন। আর চাকরির আবেদনে মিরর ডেভেলপমেন্টের মালিক দিদারুল আলম টিটুর কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি জমা দেন তিনি। হয়তো তার নাম ব্যবহার করেই দিদারুল আলম টিটু জালিয়াতি করে কাগজপত্র তৈরিসহ তার নামে বিদেশে অর্থপাচার করেছেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়ার কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন খোরশেদ।

উৎসঃ আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে শেখ হাসিনা জোর করে জিততে চান না, ভোট ডাকাতি করে!


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনা জোর করে নির্বাচনে জিততে চান না। জনগণকে খুশি করেই নির্বাচনে জিতেন। রাজধানীতে এক সমাবেশে দলের নেতাকর্মীদেরকে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দিয়ে এসব কথা বলেন।

কিন্তু, বিগত দিনের সিটি নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যায়-শেখ হাসিনা শুধু জোর করেননি, নজিরবিহীন ভোটডাকাতির মাধ্যমে সিটি নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে দলের প্রার্থীদেরকে বিজয়ী করেছেন।

২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন হানিফের ছেলে সাঈদ খোকন এবং উত্তর সিটিতে প্রার্থী ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক। আর বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দক্ষিণে মির্জা আব্বাস ও উত্তরে তাবিথ আওয়াল।

সেই নির্বাচনের ভোটের দৃশ্যটা কেমন ছিল? এদেশের জনগণ নিশ্চয় সেদিনের ভয়াবহ ভোট ডাকাতির কথা ভুলে যাননি। সেদিন দলীয় প্রার্থীদেরকে জেতানোর জন্য শেখ হাসিনার গুন্ডা-পান্ডারা শুধু ভোট কেন্দ্রই দখল করেনি, বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের এজেন্টদেরকেও কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ ভোটাররাতো সেদিন ভোট কেন্দ্রের কাছেই যেতে পারেনি।

ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই, সাংবাদিকসহ বিএনপি-জামায়াতের এজেন্টদেরকে মারধর করাসহ এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল যে, বেলা ১১ টার পরই বিএনপির দুই প্রার্থী ভোট বর্জন করতে বাধ্য হন। এরপরও ওবায়দুল কাদের বললেন-তার নেত্রী শেখ হাসিনা নাকি নির্বাচনে জোর করে জিততে চান না। এর চেয়ে নির্লজ্জতা আর কী হতে পারে?

এরপর অনুষ্ঠিত হলো বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, গাজীপুর, রংপুর ও সিলেট সিটি নির্বাচন। এসব নির্বাচনে শেখ হাসিনার গুন্ডা-পান্ডারা প্রায় সব কেন্দ্রই দখল করে নিয়েছিল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে শুধু বিএনপি নয়, মেয়র পদের প্রায় সব প্রার্থীই ভোট বর্জন করতে বাধ্য হয়েছিল।

এসব ভোট ডাকাতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিদেশিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। আর ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের কথাতো না বললেই চলে।

তাই ওবাইদুল কাদেরের এমন উক্তিতে সচেতন মহল বলছেন, ওবায়দুল কাদের নির্লজ্জের মতো অবলিলায় বলে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা নাকি জনগণকে খুশি করে নির্বাচনে জিতে। ওই যে কথায় বলে-চুরের মায়ের বড় গলা। ভোট চুরি করে এখন তারা বড় গলায় কথা বলছেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ মির্জা ফখরুলসহ ১৬ জনকে আত্মসমর্পণ করতে হবে


উসকানিমূলক বক্তব্য এবং পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৬ জনকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এমন আদেশ দিয়ে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায় বুধবার বিচারিক আদালতে পৌঁছেছে। সে হিসেবে বুধবার থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

বিএনপি নেতাদের আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রায়টি পৌঁছায়।

আত্মসমর্পণের আদেশ পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মঞ্জুর মোরশেদ, বরকতউল্লাহ বুলু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. শাহজাহান, অ্যাডভোকটে শাখাওয়াত হোসেন, হাজী সালাহউদ্দিন ও মো. আমিনুর রহমান।

এর আগে ১৮ এপ্রিল এই মামলায় আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, রায় বিচারিক আদালতে পৌঁছানোর দুই সপ্তাহের মধ্যে এই ১৬ জনকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। আত্মসমর্পণের পর তারা জামিনের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট আদালতকে বিবেচনা করার জন্যও বলেন আপিল বিভাগ।

উল্লেখ্য, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, রাজধানীর মগবাজার রেলগেট এলাকায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশের কাজে বাধা, পুলিশকে আক্রমণ, যানবাহন ভাংচুর ও ক্ষতিসাধন করেছেন।

জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে বাঁশের লাঠি, পেট্রোলবোমা, বিস্ফোরিত ককটেলের অংশ, কাচের টুকরা ও ইটের টুকরা উদ্ধার করা হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আগস্টেই পানিশূন্য তিস্তা,বর্ষা শেষ না হতেই বাংলাদেশ অংশে মরুভূমিতে পরিণত!


খরস্রোত তিস্তা মধ্য আগস্টেই পানির অভাবে শুকিয়ে হাঁটুজলে পরিণত হয়েছে। ভারতের একতরফা পানি নিয়ন্ত্রণ করায় বাংলাদেশ অংশে তিস্তা এখন ছোট খালে পরিণত হয়েছে। ফলে তিস্তা অববাহিকায় জীববৈচিত্য হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর নীলফামারীর কালীগঞ্জ সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ঐতিহাসিক এ তিস্তা নদী। যা লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী বন্দর হয়ে ব্রক্ষপুত্র নদে মিশে যায়। তিস্তা নদী দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার হলেও বাংলাদেশ অংশে রয়েছে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার।

তিস্তার পানি প্রবাহ এককভাবে ব্যবহার করতে প্রতিবেশী দেশ ভারত গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পরেই বাংলাদেশে পানি দেয় ভারত। প্রয়োজন ছাড়াই বর্ষাকালে বন্যার অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে বন্যার সৃষ্টি করে। পক্ষান্তরে শুষ্ক মৌসুমে পানির ব্যাপক প্রয়োজন দেখা দিলেও মিলে না এক কিউসেক পানি। এভাবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার পানির কাঙ্ক্ষিত ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত। তিস্তার পানির নিয়ে দীর্ঘদিনের ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিটি এখনও পূরণ হয়নি তিস্তাপাড়ে।

ফলে বর্ষা শেষ না হতেই বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীর ১২৫ কিলোমিটার তিস্তার অববাহিকায় জীবনযাত্রা, জীববৈচিত্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারেজ অকার্যকর হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিস্তা নদীতে দিনভর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলে ও খেয়াঘাটের মাঝিরা বর্তমানে কর্মহীন হতে বসেছে। সবমিলে চিরচেনা হিংস্রো তিস্তা এখন পানির ন্যায্য হিস্যা বঞ্চিত হয়ে ঢেউহীন শান্ত কবিতার ছোট নদীতে পরিণত হয়েছে। পানির অভাবে তিস্তা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত তিস্তা রেলসেতু, তিস্তা সড়ক সেতু ও গংগাচওড়া শেখ হাসিনা সেতুটি যেন প্রহসনমূলকভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধু-ধু বালুচরের তিস্তার ওপর। ব্রিজ থাকলেও পায়ে হেঁটেই পাড় হচ্ছে অনেকেই। ঢেউহীন তিস্তায় রয়েছে শুধু বালু কনা। তিস্তার বুকে জেগে উঠা চরের বালু কনায় ভুট্টা, আলুসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদের প্রস্তুতি নিলেও শরৎকালেই পানিশূন্য তিস্তায় সেচ নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা।

তিস্তাপাড়ের কৃষক তাহাজুল ইসলাম, আবুল মিয়া ও খালেক জানান, বর্ষাকালে প্রচুর পানি ছেড়ে দেওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় ফসলহানীসহ ঘরবাড়ি হারা হয় এ অঞ্চলের মানুষ। আবার শুষ্ক মৌসুমে ফসল রক্ষায় পানির প্রয়োজন হলেও তিস্তায় পানি দেয় না ভারত। এবার মধ্য আগস্টেই পানিশূন্য তিস্তাপাড়ের চরাঞ্চলে চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদী শাসন ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা না থাকায় তিস্তা নদী কৃষকের জন্য অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বেশ কিছুদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আগস্টেই কমেছে তিস্তার পানি। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল ধরা হয়। সেই অনুযায়ী এ অঞ্চলে বা ভারতের সিকিমে বৃষ্টিপাত হলে তিস্তায় পানি বাড়তে পারে। তবে বৃষ্টিপাত না হলে সেচ প্রকল্প সচল রাখা সমস্যা হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ মন্ত্রী-মেয়রের বক্তৃতার সময়টা ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলেন সচিব হেলালুদ্দীন


সারাদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সরকার, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনেকটা দৌড়ের ওপর রয়েছেন। সমস্যা সমাধানে চলছে নানা কর্মসূচি ও সভা সেমিনার। এমনই এক সভায় বক্তৃতা রাখছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ও ঢাকা উত্তরের মেয়র। আর পাশে বসেই ঘুমোচ্ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

ভিডিওঃ  ‘মন্ত্রী-মেয়রের বক্তৃতার সময়টা ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলেন সচিব ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে মশক নিধন এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পর্যালোচনা সভার শুরু থেকে তিনি দফায় দফায় ঘুম দিচ্ছেন। কখনও ঘুমে দুলুনি খাচ্ছেন, কখনও আবার হঠাৎ চমকে উঠছেন। কোনো কোনো সময় মুখ হা করে বিরাট হাই তুলছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাইসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা।

মন্ত্রীর কারণে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয় আরও দেরিতে। এরপর মন্ত্রীর ডান পাশের চেয়ারে বসেন সচিব হেলালুদ্দীন আর বাম পাশে বসেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সভার শুরুতে মেয়র কথা বলার পর বক্তব্য শুরু করেন মন্ত্রী। তার বক্তৃতার পুরো সময় সচিব কখনো হাই তুলেছেন, আবার কখনো দুই হাত বুকের ওপর রেখে ভঙ্গিতে ঘুম দিয়েছেন। মাঝে মাঝে দুই চোখ খুললেও আবার চোখ বন্ধ করে ফেলেন। মন্ত্রী যখন বক্তৃতা করছিলেন তখন মাঝে মাঝেই সচিব চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন।

চলতি মৌসুমে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। আগে থেকেই যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া নানান কথা শুনতে হচ্ছে সরকার, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের। এর মধ্যে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে সরকারের একজন আমলার এভাবে ঘুমানোকে বেমানান বলছেন সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা।

উৎসঃ পূর্বপশ্চিমবিডি

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার সেই ‘স্কুটি সঙ্গী’ ডালিয়া রহমান ছাত্রদলের সম্পাদক হতে চান


জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রথম নারী সাধারণ সম্পাদক হতে চান ডালিয়া রহমান। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কোথাও গেলে তার গাড়িবহরের সঙ্গে স্কুটি নিয়ে থাকতেন ডালিয়া। তিনি খালেদা জিয়ার ‘স্কুটি সঙ্গী’ হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত।

১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন ডালিয়া রহমান। মঙ্গলবার তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। কাউন্সিলররা ভোট দিলে ছাত্রদলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সংগঠনটির সম্পাদক হবেন।

ডালিয়া রহমানের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে জানা গেছে, তিনি ছাত্রদলের সবশেষ কমিটির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক সহসম্পাদক পদে ছিলেন। এরও আগে তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বেসরকারি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি ও এলএলএম করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আওতায় তিনি এলএলবি অনার্স করছেন।

ডালিয়া রহমানের ফেসবুকের ইন্ট্রুতে লেখা- আমি গর্বিত একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে। জানা গেছে, ডালিয়া রহমানের বাবা একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা ও কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

ডালিয়ার ফেসবুকে দলীয় কর্মসূচিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের বেশ কিছু ছবিও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি ছবিতে দেখা গেছে, চোখে রোদচশমা, গায়ে লাল টি-শার্ট ও জিন্সপ্যান্ট পরে স্কুটি চালাচ্ছেন রাজপথে। দেখে বোঝা যাচ্ছে দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে প্রটোকল দিচ্ছেন।

ডালিয়া রহমান একা স্কুটি নিয়ে খালেদার গাড়িবহরে সঙ্গী হয়ে দৃষ্টি কেড়েছিলেন দলীয় নেতাকর্মীদের। খালেদা আদালতে যাওয়ার পথে তার ‘মোটরসাইকেল প্রটোকল রাইড’ দৃষ্টি কাড়ত সবার। গাড়িবহরের ঠিক সামনে একাই থাকতেন ডালিয়া। লুকিং গ্লাসে পেছনে দেখতেন তার প্রিয় নেত্রীকে।

খালেদা জিয়া যতবার আদালতের পথে গুলশানের বাসা থেকে রওনা দিয়েছেন, ততবার তার গাড়ির সামনে স্কুটি নিয়ে যুক্ত হয়েছেন বহরের একমাত্র নারী বাইকার ডালিয়া।

এ বিষয়ে ডালিয়া রহমান জানান, যতবার খালেদা জিয়া আদালতের পথে বের হয়েছেন, ততবার তিনি সঙ্গী। কিন্তু এখন দুঃখ লাগে, কারাগারে থাকায় খালেদার সঙ্গী হতে পারেন না তিনি। এ বেদনা তাকে প্রতিদিন পীড়িত করে। আর এ জন্যই খালেদার মুক্তির জন্য তিনি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হতে চান। সারা দেশের ছাত্রসমাজকে নিয়ে রাজপথের আন্দোলন চান।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বের হয়ে গণমাধ্যমকে ডালিয়া বলেন, ‘আমার সাহস আছে। আছে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। দুঃসময় পাড়ি দিতে নেতৃত্বে আসতে চাই। তৃণমূলের ভোটাররা আমাকে সমর্থন দিচ্ছেন।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়, এবার দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে বড় ধরনের চমক থাকবে। বিশেষ করে দলের নেতৃত্বে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকবে। সেই ধরনের তারুণ্য খুঁজছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ডালিয়া রহমান সাধারণ সম্পাদক হবেন কিনা তা ঠিক হবে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের ভোটে।

প্রসঙ্গত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শীর্ষ দুই নেতা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যাতে সারা দেশের ছাত্রদলের ১১৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের ৫৮০ কাউন্সিলর ভোট দেবেন। ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে শীর্ষ দুই পদের জন্য ৭৬ প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ২৭ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৪৯ জন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘ভারত জানে আ.লীগ যে কোন ভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারলেই খুশি’


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ভারত জানে আওয়ামীলীগ যে কোন ভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারলেই খুশি। দেশের মানুষ কি পেলো তা নিয়ে কিছু আসে যায় না বর্তমান সরকারের।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে আজ সন্ধ্যায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি লিখেছেন, গত দশটা বছর ভারতের চাহিদা মতো সবকিছু দিয়েছে ক্ষমতাসীন সরকার। এতবছর ধরে তিস্তার বিষয়ে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে ভারত। তাতেই সরকার খুশি।

তিনি আরও লিখেছেন, দেশের মানুষ কি পেলো তা নিয়ে কিছু আসে যায় না বর্তমান সরকারের। নেপাল, শ্রীলংকা মালদ্বীপ থেকে কিছু শিখে না কেন তারা?

সংবাদের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

গত দশটা বছর ভারতের চাহিদা মতো সবকিছু দিয়েছে সরকার, সবকিছু করেছেও। তারপরও এতবছর ধরে তিস্তার বিষয়ে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে ভারত। এবারও শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়েছে ভারত। তাতেই সরকার খুশি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী উৎফুল্ল!

এদেরকে বাড়তি কিছু আর দেয়ার দরকার কি তাহলে ভারতের? ভারত জানে এরা আসলে যে কোন ভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারলেই খুশী। বাংলাদেশ বা দেশের মানুষ কি পেলো তা নিয়ে কিছু আসে যায় না বর্তমান সরকারের।

ভারত এ সুযোগটা নিচ্ছে অনেক বছর ধরে। তবে আমি এটা বুঝি না, পরাশক্তি হতে চাওয়া একটা দেশ কেন ভাবে না বাংলাদেশের সাধারন মানুষের মনোভাবের কথা? নেপাল, শ্রীলংকা মালদ্বীপ থেকে কিছু শিখে না কেন তারা?

নাকি তারা নিশ্চিত যে কোনদিন এদেশের মানুষ পাবেনা নিজেদের ভোটের নিজেদের সরকার? কোনদিন পাবে না ভারতের প্রতি তাদের ক্ষোভ দেখানোর স্বাধীনতা?

উৎসঃ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে

আরও পড়ুনঃ গরিবের চামড়ায়ও কামড় দিলেন সেই দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান!


কুরবানির পশুর চামড়ার ব্যাপক দরপতন নিয়ে সারাদেশে এখনো তোলপাড় চলছে। মুসলমানরা তাদের কুরবানির পশুর চামড়া গরিব, মিসকিন ও এতিমদের মধ্যে বিতরণ করে দিয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এটা আল্লাহ ও তার নবীর নির্দেশ। প্রতিবছর কুরবানির পশুর চামড়ার টাকা গরিব, মিসকিন ও এতিমদের আয়ের একটি উৎস। আর দেশের হাজার হাজার এতিমখানার আয়ের প্রধান উৎস হলো কুরবানির পশুর এই চামড়ার টাকা।

এ বছর চামড়ার সঠিক দাম না পাওয়ায় দেশের বহু মাদরাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চামড়া নিয়ে এবার যা হয়েছে তা নজিরবিহীন। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এবার শুধু কম দামই নয়, অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে গর্ত করে মাটির নিচে চামড়া চাপা দিয়েছে। কেউ কেউ চামড়া কিনে বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে তোলপাড়। গণমাধ্যমগুলোতেও চামড়া পানিতে ফেলে দেয়ার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

চামড়ার এই তুঘলকি কাণ্ড নিয়ে সবাই বলছে এর পেছনে একটি সিন্ডিকেট জড়িত। কিন্তু এই সিন্ডিকেটে কারা জড়িত? গরিবের চামড়ায় কারা কামড় দিয়েছে? এ প্রশ্নের জবাব আসছে না। আর বিএনপি বলছে আওয়ামী লীগের এক বড় নেতা এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্ত, কে এই ব্যক্তি তার নাম বলেনি বিএনপি।

তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে গরিবের চামড়ার পেছনে সেই সেন্ডিকেটের পরিচয়। অনুসন্ধান বলছে, এই সেন্ডিকেটের মুল হোতা শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান। যিনি এর আগে দেশের শেয়ারবাজারসহ আরও বিভিন্ন খাতে কালো থাবা দিয়েছেন। যার কালো থাবায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে শেয়ারবাজারের হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর স্বপ্ন। সহায় সম্বল সব হারিয়ে যারা এখন পথে পথে ঘুরছেন। সেই দরবেশই আবারও উঠেপড়ে লেগেছে দেশের গরিব, মিসকিন ও এতিমদের চামড়া ছিনতাইয়ের কাজে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন একাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ট্যানারী ব্যবসায়ী বলেছেন, দরবেশই হলেন নাটেরগুরু। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর শক্তিশালী উপদেষ্টা হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্টরা মুখে তার নাম উচ্চারণ করতে পারছেন না। এদিকে গরমের কারণে ১০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে সালমান এফ রহমানের এমন মন্তব্যে হাস্যকর বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‘বিমানবন্দরের জন্য ভারতকে জমি দেওয়ার ব্যাপারে পর্যালোচনা চলছে’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


ডয়েচে ভেলে’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য ভারতের জমি চেয়ে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের কাছ থেকে অফিসিয়াল প্রস্তাব পাওয়ার পর সিভিল এভিয়শনকে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে, তারা কাজও শুরু করেছে, এদের প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তবে বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে এ বিষয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে দুইজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, ভারতের ওই বিমানবন্দরে যদি উভয় দেশের ইমিগ্রেশন চালু হয় তবে প্রস্তাবটি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করতে ভারত বাংলাদেশের পরারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জমি চেয়ে মৌখিক প্রস্তাব রেখেছে বলে উভয় দেশের গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সমালোচনাও করেন কেউ কেউ।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলের ওই এয়ারপোর্টে (আগরতলা বিমানবন্দর) নিরাপদে প্লেন অবতরণে ক্যাট আই লাইট স্থাপেনর জন্য (জমি চেয়ে) তারা অনুরোধপত্র দিয়েছে, আমরা সিভিল এভিয়শনকে বিষয়টি পর্যালোচনা করার জন্য বলেছি এবং তাদের কারিগরি কমিটি এ নিয়ে কাজ করছে। সিভিল এভিয়েশন বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর আবার আলোচনা করব, এরপর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, যদি বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশ ওই বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে, তবে ভারতের প্রস্তাবটি বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। আসলে দেখা দরকার বিষয়টি আসলে কী? এটা হতে পারে দুটি দেশ মিলে একই এয়ারপোর্ট ব্যবহার করছে, এটা সেটা কিনা। বিশ্বে এ ধরনের এয়ারপোর্ট আছে… কিন্তু সমস্যা হয়ে গেছে বিদেশের উদাহরণ এখানে দেয়া ঠিক না। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার ইমিগ্রেশন পদ্ধতি বা কারেন্সি এক না।’

বাংলাদেশে এভিয়েশন নিয়ে কাজ করছে ট্রিউন প্রাইভেট লিমিলেট। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘কিসের ভিত্তিতে ভারত জমি চায়? লিজ, সত্বত্যাগ করে, নাকি যৌথ মালিকানায়- তা আমরা এখনও জানি না।’

তিনি বলেন, ‘লিজ হলে এক রকম, স্বত্বত্যাগ করে হলে আরেক রকম, তবে যৌথ মালিকানাধীনে হলে সেটা হতে পারে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কনসিডার করা যেতে পারে। তবে স্বার্বভৌমত্বটা নিশ্চিত করতে হবে। লিজ হলে সেটার একটা নীতি থাকবে, বাংলাদেশও বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবে। এসব যতক্ষণ না জানা যাচ্ছে, ততক্ষণ সুস্পষ্ট মতামতটা দেয়া যাচ্ছে না।

উৎসঃ সময়ের কন্ঠস্বর

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ এখন পাগলের কারখানাঃ অধিকাংশ মন্ত্রী, এমপি, নেতারা মানসিকভাবে অসুস্থ

রাজনৈতিক মহলে একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে ‘আওয়ামী লীগে কোনো বিবেক সম্পন্ন ও সুস্থ মানুষ নেই’। অথবা, ‘যারা বিবেক সম্পন্ন ও মানসিকভাবে সুস্থ তারা আওয়ামী লীগ করে না’। বিভিন্ন সময় অওয়ামী লীগ নেতাদের অহেতুক কর্মকাণ্ডে প্রচলিত এ প্রবাদের সত্যতা আংশিক খুঁজে পেলেও এখন শতভাগ সত্যতা দেখা যাচ্ছে।

বিবেকবান, বোধশক্তি সম্পন্ন ও সুস্থ মানসিকতার লোক এখন আওয়ামী লীগে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। দেখা যাচ্ছে, দিন যত যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগে এখন মেন্টাল তথা পাগলের সংখ্যা ততই বাড়ছে। তাই অনেকেই হাস্যরস করে বলছেন এ যেন এক পাগলের কারখানা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রাজধানীতে ডেঙ্গু মশার উৎপাত শুরু হয়। দুই সিটিতে মশা নিধনের ওষুধ না ছিটানোর কারণে এ মশা দিন দিন বাড়তে থাকে। দুই মেয়রের দুর্নীতি, আত্মসাত, খামখেয়ালি আর নাগরিকদের প্রতি চরম অবহেলার কারণে ডেঙ্গু এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন ২ হাজারেরও বেশি নারী-পুরুষ ও শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আর এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে মারা গেছে। যদিও সরকার এসব মৃত্যুর সংখ্যা অস্বীকার করছে।

আর সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো-ডেঙ্গু মহামারি নিয়ে দেশের মানুষ যখন আতঙ্কিত ও উৎকণ্ঠিত তখন সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা এ নিয়ে জনগণের সঙ্গে চরম তামাশা ও মশকরা করে যাচ্ছে। গত জুলাই মাসের ২৫ তারিখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালিক বলেছিলেন-রোহিঙ্গাদের মতো এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা বেশি। রোহিঙ্গারা যেমন বেশি বাচ্চা জন্ম দিচ্ছে তেমনি এডিস মশাও বেশি জন্ম দিচ্ছে। তাই এই মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। একই দিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, ডেঙ্গু একটা গুজব। গণমাধ্যমগুলো ডেঙ্গু নিয়ে যা প্রচার করছে বাস্তবে এমন ধরণের কিছু নেই।

এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও খোকনের বক্তব্য নিয়ে সারাদেশে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে সর্বস্তরের মানুষ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লন্ডন থেকে শেখ হাসিনা তাদেরকে কথা কম বলার পরামর্শ দেন। ওবায়দুল কাদেরও সংবাদ সম্মেলন ডেকে মন্ত্রী ও মেয়রকে সতর্ক করে দেন।

কিন্তু, মানুষের সেই ক্ষোভের রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার আওয়ামী এমপি কণ্ঠশিল্পি মমতাজ পুনরায় বললেন-ডেঙ্গু একটা গুজব। ডেঙ্গুতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। মমতাজের এই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এনিয়ে আবার বইছে সমালোচনার ঝড়।

এরপর দুই দিন পর বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু নিয়ে মন্তব্য করে আগের তিনজনকেই ছাপিয়ে গেলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। এই ডেঙ্গু মহামারিকে তিনি উন্নয়নের অংশ বলেই দাবি করছেন।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় এক সেমিনারে তিনি বলেছেন, দেশ যত উন্নত হবে মানুষের সমস্যা তত বাড়বে। যে দেশ যত উন্নত হচ্ছে সে দেশে তত রোগের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গু এলিট শ্রেণির একটি মশা। এ মশা সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, কলকাতা শহরে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন উন্নত দেশ হতে যাচ্ছে। তাই এখন দেশে ডেঙ্গু এসেছে। মানুষের যত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে তত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুনে দেশের সাধারন মানুষ নির্বাক হয়ে গেছে। উন্নয়ন হলে দেশে রোগবালাই বাড়ে! দেশ উন্নত হওয়ার কারণেই ডেঙ্গু মশা আসছে! সরকারের এমন গুরুত্বপূর্ণ একজন মুখ থেকে এসব কথা কিভাবে আসতে পারে? তাহলে সরকার কি জনসংখ্যা কমানোর জন্য দেশ উন্নত করছে?

সচেতন মহল বলছেন, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধস নিয়ে জামায়াত শিবিরকে জড়িয়ে হাইস্যকর মন্তব্য করে পাগলের সূচনা করেছিলেন মহিউদ্দিন খান আলমগীর। এরপর থেকে যেন সেই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গুকে একজন রোঙ্গিহাদের সাথে তুলনা করছেন, আর দুইজন বলছেন গুজব। এবং সর্বশেষ একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বললেন এটা উন্নয়নের অংশ। এতে বুঝাে যাচ্ছে-আওয়ামী লীগে দিন দিন পাগলের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ডেঙ্গু মূলত ইহুদীবাদীদের প্রয়োগকৃত একটি ভয়াবহ জীবানু অস্ত্র! – অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

কিছুদিন আগে একজন প্রাজ্ঞ অ্যানালিষ্ট একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন সচেতন বোদ্ধা মহলের দিকে। এবং তা হলো শুধুমাত্র আমেরিকার সাথে বৈরী সম্পর্কযুক্ত অর্থচ রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্কসম্পন্ন দেশগুলিতেই ডেঙ্গু ভাই*রাস মহা*মারী আকারে ছড়ায় কেন?

একটু মাথা ঠান্ডা করে চিন্তা করুন। উত্তরটা বেরিয়ে আসবে। জীবানু অস্ত্রের সাহায্যে আবালবৃদ্ধাবণিতাকে হ*ত্যা করা এমন নিষ্ঠু*র অমানবিক নির্দয় আচরণ শুধুমাত্র ইহুদীবাদিদের পক্ষেই সম্ভব। আর সবাই জানে যে আমেরিকা চালায় ইহুদীরা।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের সুত্র সহ বিস্তারিত বর্ণনা করা হলঃ

এবার আসুন তো আরেকটু ভিতরে ঢুকি। গত শতকের আশির দশকে ব্যাপক ডেঙ্গু ভাই*রাস এর আক্র*মনে আক্রা*ন্ত হয়েছিলো কিউবা। যা ছিলো আমেরিকার পক্ষ থেকে ঘৃণিত এক জীবাণু অস্ত্রের আক্র*মণ। শুধুমাত্র একজন মানুষকে গদিচ্যুত করার জন্য সেদিন হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে বাধেনি বিশ্ব সন্ত্রা*সী ইহুদীবাদী আমেরিকার। সেদিন ফিদেল ক্যাস্ট্রোর কি বক্তব্য ছিলো তা খতিয়ে দেখা যাক।

“We share the people’s convictions and strongly suspect that the plagues that have been punishing our country, especially the hemorrhagic dengue, could have been introduced into Cuba, into our country, by the C.I.A.”

ক্যাস্ত্রো নিশ্চয়ই চব্বিশ ঘন্টা জেগে জেগে উন্নয়নের দিবা স্বপ্ন দেখতেন না। এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বালখিল্য মিথ্যা বলার প্রশ্নই আসে না। কাজেই আমেরিকা যে রুশ ব্লকের দেশগুলোতে প্রতিহিংসা বশত ডেঙ্গু ভাই*রাস ছড়িয়ে দিয়ে থাকে তা একেবারে প্রমাণিত সত্য।

ফিলিপাইন থেকে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, মায়ানমার হয়ে বাংলাদশে এসে পৌছেছে ভ*য়ঙ্কর মাত্রার ডেঙ্গু

এ জীবানু অস্ত্রের প্রয়োগ মানবাধিকারের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও, অদ্যবধি এই ডেঙ্গু ভাই*রাস আমেরিকা রাশিয়ার মিত্র দেশগুলোর উপর প্রয়োগ করে থাকে। আজকে থেকে দুই বছর আগে যখন চিকনগুনিয়া ভাই*রাস মহা*মারী আকারে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল তখনো কিন্তু গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা গিয়েছিল যে চিকুনগুনিয়া আমেরিকার বায়োলজিক্যাল অস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসুত্রঃ How Chikungunya got its name, and was a potential biological weapon – The News Minute

আমার কাছে কেন জানো শুরু থেকেই অথর্ব মেয়র সাঈদ খোকনের কথাগুলি সন্দেহজনক মনে হয়েছিল। সাঈদ খোকন বলেছে যে, এই ডেঙ্গু মহা*মারী নাকি গুজব। বর্তমানে সচেতন নেটিজেন সূত্রে জানা যায় যে, এই সাঈদ খোকন আজকের থেকে ৪ বছর আগে ঢাকা শহরকে পরোক্ষভাবে বিশ্বব্যাংকের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে।

অর্থাৎ, সে বিশ্বব্যাংকের কাছে নতজানু সাম্রাজ্যবাদী গোলাম। অতএব ডেঙ্গু মহা*মারী আকারে ছড়িয়ে পড়লেও শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত সাঈদ খোকনের অপচেষ্টা খুবই সন্দেহজনক, বরং এরূপ হলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নাই যে প্রথম দিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে সারাদেশে তা ছড়িয়ে দেওয়া তার প্লানেরই একটি অংশ।

ভালোভাবে ইনভেস্টিগেশন করলে বের হয়ে আসবে বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে প্রয়োগকৃত আমেরিকান বায়োলজিক্যাল ওয়ার ফেয়ার এর এই দেশীয় ক্রীড়ানক হলেন মেয়র সাঈদ খোকন মশা।

সরকারের উচিৎ সিআইএপন্থী এই মেয়রকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা, এতে অনেক গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে আমি শিউর।

৫০ এর দশকে ফোর্ট ডেরিক সিআইএ’র প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মাল্টি মিলিয়ন ডলার রিসার্চ প্রোগ্রাম চালু করেন। না মানব সম্পদ রক্ষার মত মহৎ উদ্যোগে তার এই গবেষণাকর্ম পরিচালিত হয় নি। বরং কিভাবে নিরীহ নারী-পুরুষ-শিশু আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা কে ডেঙ্গু ভাই*রাস এবং আরও ভয়া*বহ মরণ*ঘাতী রোগ অসুখ-বিসুখ এর ধারা তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মারা যায়, হত্যা করা যায়, তার রাগমোচন উপভোগ করার জন্য মানবতার ধ্বজাধারীরা এই প্রজেক্ট চালু করেছিল। এমনকি ফ্লোরিডা, কী ওয়েস্ট, পানামা সিটি, এভন পার্ক অঞ্চলগুলিতে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর এবং অন্যান্য জীবাণু অস্ত্র সমূহের এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়েছিল। আমেরিকার স্বল্পআয়ের আফ্রো আমেরিকান নাগরিকদের উপর এই বায়োলজিক্যাল উইপন এর প্রয়োগ ঘটিয়েছিল ইহুদি কিংপিনরা।

সিআইএ’র ডকুমেন্ট থেকে জানা যায় টপ সিক্রেট প্রজেক্ট এমকে/নাওমী নামে পরিচালিত এই অপারেশনে বিশেষভাবে সজ্জিত বিমান থেকে ডেঙ্গুর জীবাণু বাহী ৬ লক্ষ মশা একেক দফায় ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

এই অপারেশন গুলির ব্যায়ভার কে বহন করেছিল জানেন? সেই বিশ্বকুখ্যাত রকফেলার পরিবার যারা সারা বিশ্বে ইহুদি সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের জন্য মূল ভূমিকা পালন করছে। শুধুমাত্র তাই নয় ১৯৮২ সালের মিডিয়ার রিপোর্ট আরো বের হয়ে আসে যে সিআইএ পাকিস্তান মারফত আফগানিস্তানেও ডেঙ্গু মহা*মারীর জীবাণু অস্ত্র পাঠিয়েছিল। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৬ সালে নিকারাগুয়ার কতৃপক্ষ অভিযোগ তুলেছিল জেসিআই ডেঙ্গু ভাই*রাস জীবাণু অস্ত্র তাদের দেশেও প্রয়োগ করেছে।

ভাগ্যের পরিহাস এটাই ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট নিক্সন জীবাণু অস্ত্র নিরোধ চুক্তিতে সই করে এবং জীবাণু অস্ত্রকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

এই আগলি আমেরিকানরা ১৯৬০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মানুষ তো বটেই শস্য সামগ্রির উপরেও জীবাণু অস্ত্র প্রয়োগ করেছিল কিউবাতে।

বর্তমানে চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রতিরোধ করার জন্য আমেরিকা বিজেপি সরকারকে নিয়ে বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রাথমিক সূচনা পর্ব হলো এই জীবাণু অস্ত্র ডেঙ্গুর মহা*মারী।

সামনে বিস্তারিত তালিকা নিয়ে আসব আমেরিকা আজ পর্যন্ত কোথায় কোথায় আশরাফুল মাখলুকাত কে বানিয়েছে তাদের এক্সপেরিমেন্টের বিষয়বস্তু। ইনশাআল্লাহ।

তথ্যসূত্রঃ

(১) Dengue Mosquitoes are being used as a biological weapon!

(২) EPIDEMIC IN CUBA SETS OFF DISPUTE WITH U.S.

(৩) Florida Dengue Fever Outbreak Leads Back to CIA and Army Experiments

(৪) Bio-War against Cuba – AfroCubaWeb

যাইহোক, নিচের এই ছবি দেখে কেউ চীনের ‘স্ট্রিং অব পালর্স’ বা মুক্তার মালা ভেবে ভুল করবেন না। এটা এ বছর যে সব দেশে ডেঙ্গু জ্বর মহা*মারি আকারে ছড়িয়েছে তাদের চিহ্নিত করণ। এবার আপনারাই হিসাব মেলান চীন, অ্যামেরিকা, রাশিয়া ও মোড়ল ইহিদীবাদী ইসরাঈলের কার্যক্রমে কোথায় কে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে এবং কাকে কাকে টাইট দেওয়া হচ্ছে।

যে সব দেশে ডেঙ্গু জ্বর মহা*মারি আকারে ছড়িয়েছে তাদের চিহ্নিতকরণ ছবি

আসুন, এইবার ডেঙ্গুর একমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাক্সিন এবং প্রস্তুতকারক কোম্পানির মালিককে নিয়ে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য জানি।

১) নিচের ছবিতে যাকে দেখতে পাচ্ছেন, তার নাম সার্জ ওয়েইনবার্গ। সে ফেঞ্চ ইহুদী ব্যবসায়ী। তার অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। তবে সে বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি সানোফি (SANOFI)’র চেয়ারম্যান। বাংলাদেশেও সানোফি’র শাখা আছে। ডেঙ্গুর একমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাক্সিন ডেঙ্গভ্যাকসিয়া (Dengvaxia) এই কোম্পানির ঔষধ।

সার্জ ওয়েইনবার্গ: ফেঞ্চ ইহুদী ব্যবসায়ী। বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি সানোফি (SANOFI)’র চেয়ারম্যান।

২) ২০১৬ সালে ১১টি দেশ সানোফি’র ডেঙ্গভ্যাকসিয়াকে অনুমোদন দেয় বলে খবর বের হয়। দেশগুলো হলো- মেক্সিকো, ফিলিপাইন, ব্রাজিল, এল সালভাদোর, কোস্টারিকা, প্যারাগুয়ে, গুয়াতেমালা, পেরু, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুর।
তথ্যসূত্রঃ ১১ দেশে সানোফির ডেঙ্গুর টিকার অনুমোদন – জাগো নিউজ ২৪

৩) সমস্যা বাধে ২০১৭ সালে। ডেংভেক্সিয়া নিয়ে তোলপাড় ঘটে যায় ফিলিপাইনে। ৮ লাখেরও বেশি স্কুল শিশুকে দেয়া হয় এই ভ্যাকসিন। কিন্তু রোগ প্রতিরোধের বদলে, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেকে। এরইমধ্যে মারা যায় ১৬ জন। এ ঘটনায় ভ্যাকসিনটির উৎপাদক, ফরাসি কোম্পানি- সানোফিকে জরিমানা করে ফিলিপাইন সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয় ডেংভেক্সিয়ার কার্যক্রমও।

সানোফি কর্তৃপক্ষ জানায়, যাদের ডেঙ্গু নেই তাদের শরীরে ডেংভ্যাক্সিয়া দেয়া হলে, গুরুতর অসুস্থ হতে পারে, ঐ ব্যাক্তি। এরপরই তোলপাড় শুরু হয়, ফিলিপাইনজুড়ে। টিকা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। টিকা দেয়ার পর দেশটিতে মারা যাওয়া ১৪ শিশুর মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়, ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটিও। শেষমেষ ঐ কমিটি জানায়, এই ওষুধ প্রয়োগে রোগ প্রতিরোধের বদলে, উল্টো গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেক শিশু। পন্যের নিবন্ধন ও বিপননজনিত কারনে, ফরাসি কোম্পানি সানোফিকে, ২ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করে, ফিলিপাইন সরকার।
তথ্যসূত্রঃ ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়ে তোলপাড়, ফিলিপাইনে ১৬ শিশুর মৃত্যু – চ্যানেল ২৪

ডেঙ্গুর একমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ভ্যাক্সিন ডেঙ্গভ্যাকসিয়া (Dengvaxia)

৪) তবে ২০১৯ সালে ফিলিপাইনে যখন আবার ডেঙ্গু মহা*মারি আকার ধারণ করে প্রায় ৪৫০ জন মারা যায়, তখন সানোফি’র ডেংভ্যাক্সিয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে তার ফের ব্যবহার করার অনুমতি দেয় দেশটির সরকার। সানোফি’র বক্তব্য- ফিলিপাইন সরকারের উচিত হু’ এর নির্দেশনা মেনে চলা।
তথ্যসূত্রঃ বিতর্কিত ডেঙ্গু টিকা পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা ফিলিপাইনের – বাংলা ট্রিবিউন

৫) সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা দিয়েছে তারা সানোফির ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন ‘ডেঙ্গভ্যাকসিয়া’ আমদানি করার কথা ভাবছে। তারা ইতিমধ্যে সানোফির পরিচালকদের সাথে মিটিং করেছে। ওষুধটির দাম পড়বে জনপ্রতি ৫-৬ হাজার টাকা। তবে ওষুধটি তাদের উপর প্রয়োগ করা যাবে, যাদের দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হয়েছে। প্রথম বার ডেঙ্গু হয়েছে, এমন লোকের উপর প্রয়োগ করলে ঐ ওষুধ রিয়্যাকশন তৈরী করে তাকে অসুস্থ করে দিতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ Bangladesh Govt mulls import of dengue vaccine – Daily Sun

আমি এসকোল খবর পড়ে আমি এতটুকু বুঝেছি-এবার ডেঙ্গুর পর বাংলাদেশে সানোফির ব্যয়বহুল ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন ‘ডেঙ্গভ্যাকসিয়া’ আসতেছে।

বাংলাদেশের অনেক ডাক্তার ও মিডিয়া বলতেছে: এবার নতুন ধরনের ডেঙ্গু আসছে এবং এই ডেঙ্গুটিতে আগে থেকে ভয়*ঙ্কর।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, কেউ বলতেছে না, এই নতুন ডেঙ্গু জন্ম নিলো কিভাবে ? কিংবা এই নতুন ডেঙ্গু জন্ম নেয়ার পেছনে কে দায়ী ?

অথচ এই বিষয়টি আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস, এবিএস-সিবিএন সহ অনেক আন্তর্জাতিক পত্রিকায় এসেছে।

খবর বলছে, ২০১৭ সালের শেষ দিকে ফিলিপাইনে ৮ লক্ষ শিশুর উপর পরীক্ষামূলকভাবে ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন ‘ডেংভেক্সিয়া’ প্রয়োগ করে ফ্রেঞ্চ বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানি স্যানোফি।

স্যানোফির ডেঙ্গু ভ্যাক্সিন টেস্টের বিরুদ্ধ ফিলিপাইনে গণমানুষের বিক্ষোভ

২০১৭ সালের ১৭ই ডিসেম্বরের নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, “If people who never had dengue are vaccinated and later become infected, the vaccine may provoke a much more severe form of the illness.”
অর্থাৎ যাদের আগে ডেঙ্গু হয় নাই, তাদের শরীরের যখন ডেংভেক্সিয়া’ ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করা হয়, তখন সেই ভ্যাক্সিন উৎসাহিত করে আরো কঠিন মাত্রার অসুস্থতা।
তথ্যসূত্রঃ Drug Company Under Fire After Revealing Dengue Vaccine May Harm Some -NY Times

২০১৮ সালের ১০ই জানুয়ারীর এবিএস সিবিএন নিউজ বলছে-
The Philippines late last year halted the vaccination of public school students with the vaccine Dengvaxia after French drug maker Sanofi disclosed that it might increase the risk of severe dengue in recipients not previously infected by the mosquito-borne virus.
অর্থাৎ যাদের শরীরে ডেঙ্গু আগে হয় নাই, এ ডেঙ্গু ভ্যাক্নিন দেয়ার ফলে আরো মারাত্মক ধরনের ডেঙ্গু আক্রা*ন্ত হওয়ার সম্ভবনা দেখা দেয়।

আরো বলা হচ্ছে:
Dr. Antonio Dans, an epidemiologist from the University of the Philippines, earlier warned that Dengvaxia could act like a primary infection for those who had never had dengue.
If they were bitten by a mosquito carrying the virus after the vaccination, it could allegedly be akin to getting dengue a second time, which often leads to far more severe symptoms and potentially death if bad cases are not treated quickly, he said.
অর্থাৎ Dr. Antonio Dans (epidemiologist) বলছে- যাদের শরীরে ডেঙ্গু হয় নাই তাদের জন্য এই ভ্যাক্সিনটি প্রাইমারী ইনফেকশন হিসেবে কাজ করবে। এরপর যদি তাকে ডেঙ্গু জীবানু বাহিত মশা কামড় দেয়, তখন তার মধ্যে মারা*ত্মক ধরনের ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমনকি দ্রুত চিকিৎসা না করালে মৃত্যু হতে পারে।

এরপর ভ্যাকসিন দেয়ার পরবর্তী কি ঘটছে, সেখানে বলা হচ্ছে:
Dr. Erwin Erfe, head of the PAO Forensic Laboratory, said the 4 children they examined contracted dengue 6 months after receiving the vaccine.
The fatalities had internal bleeding, enlarged organs and petechial rashes. One of them died within 24 hours after experiencing dengue symptoms, he told radio DZMM.
ভ্যাক্সিন দেয়ার ৬ মাস ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া ৪ জন শিশুকে Dr. Erwin Erfeপরীক্ষা করেছে। মৃত্যুর কারণ অভ্যন্তরীণ রক্তপাত, অর্গানগুলো বড় হয়ে যাচ্ছে এবং লাল বর্ণের র‌্যাশ হচ্ছে।
তথ্যসূত্রঃ Did Sanofi, WHO ignore warning signals on dengue vaccine?-ABC CBN News

আমার ধারণা- নতুন ধরনের ডেঙ্গু তৈরী হওয়ার কারণ।ফিলিপাইনে ৮ লক্ষ বাচ্চার উপর স্যানোফি’র ভ্যাক্সিন টেস্ট, যার দরুণ এক বছরের মাথায় দেশটিতে ভয়ঙ্কর রকমের ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে, সরকারী হিসেবে আক্রা*ন্ত হয় ১ লক্ষ এবং মারা গেছে প্রায় ৫শ’।

স্যানোফি’র ভ্যাক্সিনেশনের ফলে নতুন মাত্রায় জন্ম নেয়া ডেঙ্গুটি ভিয়েতনাম, কলোম্বিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড, মায়ানমার হয়ে খুব কম সময়ের মধ্যে (এক থেকে দেড় বছর) বাংলাদেশে এসে পৌছেছে। খুব শিঘ্রই এটি বাংলাদেশকে অতিক্রম করে আরো পশ্চিমে যাবে।

A worker shows used anti-dengue vaccine Dengvaxia inside a vaccine storage room

এদিকে, ফিলিপাইনে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে ৬২২ জন মানুষ মারা যাওয়ার পর গতকাল এটিকে ‘জাতীয় মহামারী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত অন্তত এক লাখ ৪৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রা*ন্ত হয়েছেন। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় যা ৯৮ শতাংশ বেশি। আর এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৬২২ জন।

তথ্যসূত্রঃ ডেঙ্গুকে মহামারী ঘোষণা ফিলিপাইনে – যুগান্তর

আমার কথা হলো, এই নতুন মাত্রার ডেঙ্গুটি যে এসেছে বা আসছে তা তো আজ থেকে দেড় বছর আগেই বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশ হয় এবং সেই নতুন জ্বরের লক্ষণগুলো কি হবে তাও প্রকাশ হয়ে যায়। এবং এই ঘটনার সাথে যে ফ্রেঞ্চ বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানি স্যানোফি জড়িত সেটাও তো মোটামুটি প্রকাশ্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিষয়টি বাংলাদেশে কোন ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট বা সরকার-বিরোধীদল প্রকাশ করতেছে না কেন ?

আমি একটা জিনিস দেখেছি, কোন অপকর্মে যদি কোন বহুজাতিক কোম্পানি বা ইহুদীরা জড়িত থাকে (স্যানোফির প্রধান এক ইহুদী), তখন কেন যেন সবাই সেটা এড়িয়ে যায়, প্রকাশ করতে চায় না। আজ থেকে দেড় বছর আগেই যদি আমরা জানতাম, বহুজাতিক ওষধ কোম্পানি স্যানোফি টেস্টের ফলে এক নতুন ধরনের ডেঙ্গু জন্ম নিয়েছে এবং সেই ডেঙ্গুতে রোগির মধ্যে বিশেষ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে, তবে কি বাংলাদেশের মানুষ আগে থেকেই সচেতন হতে পারতো না?

সুতরাং, পরিশেষে বলা যায় যে, ডেঙ্গু মূলত ইহুদীবাদীদের প্রয়োগকৃত একটি ভয়া*বহ জীবানু অস্ত্র। মোসাদ তাদের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র আমেরিকার সাথে বৈরী সম্পর্কযুক্ত অথচ, রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্ক সম্পন্ন দেশগুলিতেই ডেঙ্গু ভাই*রাস মহা*মারী আকারে ছড়াচ্ছে।

উৎসঃ নয়ন চ্যাটার্জির (Noyon Chatterjee)’র অনুসন্ধানী একাধিক ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংকলিত

নয়ন চ্যাটার্জির ফেসবুক পেইজ

আরও পড়ুনঃ ​‘শেখ হাসিনা মিথ্যা বলেছেন, বিরোধী মতাবলম্বীদের ওপর বেশি নির্যাতন হচ্ছে’

বিরোধী মত, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পুলিশের হেফাজতে ‍নির্যাতন-মৃত্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় তো বটেই, এটা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়ে বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা তো আমার কাছে পরিস্কার যে, এখানে প্রধানমন্ত্রী সত্য কথা বলেননি। আমাদের পত্র-পত্রিকাগুলোতে মানবাধিকারের যে গ্রুপগুলো রয়েছে তাদের যে রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। এমনকি অ্যামিনেস্টি ইন্টান্যাশনাল, হিউম্যান রাইট ওয়াচ’র রিপোর্টে আমরা দেখেছি- প্রতিবছরে এখানে জুডিশিয়াল কাস্টিডিওতে মৃত্যু হয়েছে ৪শ’ থেকে ৭শ’। গতবছর বিশেষ করে ৪শ’ উপরে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে জডিশিয়াল কাস্টিডিও হত্যা হয়েছে।’

‘আর পুলিশ হেফাজতে যে টর্চার-এটা তো কমন ব্যাপার। পত্র-পত্রিকায় ছবিতে এসেছে- ফ্যান সিলিংয়ের সাথে ঝু্লিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের অনেক নেত-কর্মী আছেন যাদের পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। এটা ছবিতে চলে এসেছে। এগুলোতে আপনারা সবাই জানেন, পত্র-পত্রিকায় এসেছে। সুতরাং উনি (প্রধানমন্ত্রী) অবলীলায় অস্বীকার করলেন- এটা( হেফাজতে মৃত্যু) হয় না। আমরা মনে হয় এটা সঠিক নয় তো বটেই, এটা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রকৃত যে চিত্র নির্যাতন বাংলাদেশে নির্যাতন সরকারিভাবেই চলছে এবং সরকার বিরোধী মত ও যারা ভিন্নমত পোষন করে তাদের উপরে অত্যাচার-নির্যাতন আরও বেশি করে চালাচ্ছে। আপনারা দেখেছেন যে, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলোকচিত্রী শিল্পী শহিদুল আলমকে গ্রেফতার করে অত্যাচার করা হয়েছে এবং কাস্টিডিওতে নেয়ার পরে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সাথে নির্মম আচরণ করা হয়েছে।’

সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার মতো বিএনপি চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না- এরকম প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার যখন মনে করে চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া তারা কোনো ন্যায়ের কাজ করবে না। তখন তো ওইটা ডিফিকাল্ট হয়ে যায়। ইট ইজ এ রেসপনসিবিলিটিজ দ্যা গর্ভমেন্ট, তাকে ডেঙ্গুর কাজ করতে হবে, বন্যা পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে, কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি করতে হবে। আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

সর্বক্ষেত্রে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, তাহলে আপনার সরকারই উস্কানি দিচ্ছে ভিন্নপথে যাওয়ার। যেটা আমরা মনে করি একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য কখনোই ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

সরকারি দল বলছে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মতো আন্দোলন বিএনপি পারছে না- এরকম প্রশ্নের মহাসচিব বলেন, ‘বিষয়গুলো আপেক্ষিক না। ফ্যাসিস্ট সরকার যখন থাকে তখন সেই মুক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন কী জ্বালাও-পোঁড়াও করে সব পুঁড়িয়ে দিতে হবে নাকি? এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা আওয়ামী লীগের মধ্যে আছে যা এটা তারা চাচ্ছে।’

আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিয়মের মধ্য দিয়ে চেষ্টা করছি। জনগণ যদি মনে করে যে, তারা অন্যভাবে দেখবেন- সেটা জনগণের ব্যাপার বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here