ভুয়া কোম্পানি দেখিয়ে ৩৫০ কোটি টাকা লুটে লাপাত্তা মুজিবর রহমান শামিম

0
273

একই জমি একই ফ্ল্যাটের দলিল জামানত রেখে একাধিক ব্যাংক থেকে তুলেছেন ঋণ। ভুয়া কোম্পানি দেখিয়ে ঋণ নিতে জালিয়াতির অভিনব এ ঘটনা ঘটে সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকে।

একসময়ের ক্ষুদ্র স্টেশনারি সাপ্লাই ব্যবসায়ী এখন শত শত কোটি টাকার মালিক। বিত্ত-বৈভব গড়েছেন দেশ ও দেশের বাইরে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করে দিয়েছেন। কোম্পানি একই, শুধু নাম পাল্টিয়ে একই জমি, ফ্ল্যাট বন্ধক রেখে প্রায় সাড়ে তিন শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন লাপাত্তা মুজিবর রহমান শামিম নামে এক ব্যবসায়ী।

কখনো ট্রেডিং ব্যবসা, কখনো কারখানার নামে ব্যাংক ঋণ নিয়ে আর ফেরতও দিচ্ছেন না। সব ব্যাংকেই এখন খেলাপিতে পরিণত তার ঋণ। ঋণ নিতে তিনি নিজের একাধিক ঠিকানাও ব্যবহার করেছেন। এ ঠিকানায় রয়েছে ঢাকা ও খুলনায় অফিস ও নিজের স্থায়ী ঠিকানা। ব্যাংকগুলোর ঢাকা ও খুলনার শাখা থেকে এসব ঋণ নিয়েছেন সুবিধা অনুযায়ী।

নিজের নামের পাশাপাশি বেনামে ঋণ নেওয়ার পর এখন ব্যাংকগুলো তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। বিভিন্ন ব্যাংকসূত্রে জানা গেছে, মুজিবর রহমান শামিম সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছেন বেসরকারি একটি ব্যাংকের রাজধানীর নবাবপুর শাখা থেকে- প্রায় ১৯২ কোটি টাকা। চারটি কোম্পানির বিপরীতে এ ঋণ নিয়েছেন তিনি।

কোম্পানিগুলো হচ্ছে জয় পেট্রোলিয়াম, জয় এন্টারপ্রাইজ, জয় ফিড মিল, জয় জুট প্রসেসিং। প্রথম সারির ওই ব্যাংকটির ঋণগ্রহীতা জয় এন্টারপ্রাইজ জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়ে গেছে নিউ জয় এন্টারপ্রাইজ। এই নিউ জয় এন্টারপ্রাইজের বিপরীতে জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন ৪০ কোটি টাকা। ট্রাস্ট ব্যাংক খুলনা শাখায় রয়েছে দুটি কোম্পানির নামে ঋণ।

সাউথ হ্যাচারি ও এগ্রো এবং জয় শিপিং নামের কোম্পানির বিপরীতে ঋণ নিয়েছেন ২৩ কোটি টাকা। সাবেক ফারমার্স ব্যাংক বর্তমান পদ্মা ব্যাংক খুলনা শাখা থেকে ঋণ নিয়েছেন ২৫ কোটি টাকা। এর বাইরে বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংক থেকেও তিনি নামে-বেনামে ঋণ নিয়েছেন। ব্যাংকের কাগজপত্রে দেখা গেছে, মুজিবর রহমান শামিম ঋণ নিতে ব্যবহার করেছেন নিজের চারটি ঠিকানা। তিনটি অফিস ঠিকানা একটি রাজধানীর নিকেতন ডি ব্লকের ৪৬ নম্বর বাড়ি অ্যাপার্টমেন্ট বি-১, দ্বিতীয়টি ১৫ বড় মগবাজার পঞ্চম তলা, তৃতীয়টি খান টাওয়ার চতুর্থ তলা এ-৫০ মজিদ সরণি শিববাড়ী মোড় খুলনা এবং নিজের স্থায়ী ঠিকানা বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার উমাজুরি গ্রাম।

ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে যেসব বন্ধক দিয়েছেন ঘুরেফিরে তার সবই একই ফ্ল্যাট ও জমি। ট্রেডিং ব্যবসার নামে এই কোম্পানির বিপরীতে জনতা ব্যাংকের ৪০ কোটি টাকার ঋণের বন্ধক হিসেবে দিয়েছেন রাজধানীর নিকেতনে ১ হাজার ৪৪০ বর্গফুটের নজর অ্যালবাম হোল্ডিং-৩৬, রোড-১ একটি ফ্ল্যাট, মহাখালীতে সাড়ে ৮ ডেসিমেল জমি। এই একই স্থাপনা বন্ধক দিয়ে সিলভার ট্রেডিং কোম্পানির নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন সাবেক ফারমার্স ব্যাংক খুলনা শাখা থেকে। আরেক বেসরকারি ব্যাংকের রাজধানীর নবাবপুর শাখা থেকে কয়েকটি কোম্পানির বিপরীতে সর্বোচ্চ ঋণ নিয়েছেন প্রায় ১৯২ কোটি টাকা।

ওই ঋণের বিপরীতে বন্ধক হিসেবে রয়েছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ছোট কুমারখালী গ্রামের জমি, ইস্কাটনের ফ্ল্যাট ও কমার্শিয়াল স্পেস, খুলনার বটিয়াঘাটায় জমি। এ চার স্থানের জমি, ফ্ল্যাট ও কমার্শিয়াল স্পেস বন্ধক হিসেবে ব্যবহার করেছেন অন্য ব্যাংকের ঋণের ক্ষেত্রেও। জালিয়াতির নানা পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এসব ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে। ফারমার্স ব্যাংকের ঋণে সিলভার ট্রেডিং, নবাবপুর শাখার ওই ব্যাংকটির ঋণেও সিলভার ট্রেডিং এবং জনতা ব্যাংকে নিউ জয় এন্টারপ্রাইজ একই ট্রেডিং ব্যবসা। শুধু নাম পাল্টিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ তুলেছেন। এসব ঋণের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে একই বন্ধক।

এর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৪৪০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, রাজধানীর নিকেতন রোড-১ হোল্ডিং-৩৬ এবং মহাখালীতে গুলশান মৌজার সাড়ে ৮ ডেসিমেল জমি। সিলভার ট্রেডিংয়ে ঋণ নিতে ফারমার্স ব্যাংক ও নবাবপুরের ব্যাংক শাখাটিতে আরও বন্ধক রয়েছে; যা দুই ব্যাংকে একই। এগুলো হলো ১ হাজার ৬৪৯ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্ট, খিলগাঁও ৭, বি-২ সপ্তম তলা ও দশমিক ২৪ ডেসিমেল জমি। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রুস্তমপুর মৌজার ৯৪ ডেসিমেল জমি।

এ জমিটি বন্ধক হিসেবে রয়েছে জনতা, ফারমার্স ও নবাবপুর শাখার সেই ব্যাংকেও। খুলনার মহেশ্বরপাড়া এসএ ১০ দাগ ৬১০২, ৬১০৩, ৬১০৪ দাগের ২ দশমিক ৮৯ ডেসিমেল জমি নবাবপুরের ব্যাংক শাখাটিতে জয় এন্টারপাইজ ও জনতা ব্যাংকে নিউ জয় এন্টারপ্রাইজের বন্ধক। ব্যাংকগুলোতে মোট দেড় হাজার ডেসিমেল জমি বন্ধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

ট্রাস্ট ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক, আইসিবি ইইএফ ফান্ড ও আরও একটি প্রধান সারির ব্যাংক ঋণ নিতে একই জমি বন্ধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ছোট কুমারখালী মৌজার ২৪৫/১, ২৪৫/৭ খতিয়ানের ১ হাজার ৫০ ডেসিমেল জমি রয়েছে। খুলনার বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা মৌজার পিএস-৫৫ হাল এসএ ২৫১, ২৫২ খতিয়ানের ৫০০ ডেসিমেল জমি নবাবপুর শাখার ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও ফারমার্স ব্যাংকে সিলভার ট্রেডিংয়ের জন্য বন্ধক দেওয়া।

খুলনার দৌলতপুর মৌজার ৬.৬০ ডেসিমেল জমি জনতা ব্যাংক ও আইসিসি ইইএফ ফান্ডের বন্ধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ঋণগ্রহীতার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল, টার্ম লোন, এলসি খুলতে এসব জমি বন্ধক হিসেবে রয়েছে। জনতা ব্যাংকের ঋণ নেওয়া হয় ২০১৬ সালে, নবাবপুর শাখার ব্যাংকটি থেকে নিয়েছেন ২০১৭ সালে, ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে নিয়েছেন ২০১৪ সালে, ফারমার্স ব্যাংক থেকে নিয়েছেন ২০১৬ সালে।

একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতা কারখানার যেসব ঠিকানা দিয়েছেন তার অনেকটি পুরোপুরি ভুয়া। জয় পেট্রোলিয়াম, সাউথ হ্যাচারি অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেড নামের কোম্পানির ঠিকানা পুুরোপুরি ভুয়া। শুধু কোম্পানির কাগজপত্র ব্যবহার করেই ঋণ তুলেছেন। ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় সাড়ে তিন শ কোটি টাকা হাতিয়ে এখন লাপাত্তা এই মুজিবর রহমান শামিম।

খেলাপিতে পরিণত হওয়া ঋণ আদায়ে ব্যাংকের কর্মকর্তারা খুঁজে পাচ্ছেন না তাকে। বেনামে ঋণ রয়েছে আরও একাধিক ব্যাংকে। আর বন্ধকের জমি দখল করতে গিয়ে ব্যাংকগুলো দেখছে আরও একাধিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা। এসব জটিলতায় এখন এই ঋণ আদায়ের সব সম্ভাবনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ঋণের প্রধান শর্ত সম্পত্তি বন্ধক। এ নিয়ে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। একই সম্পত্তি একাধিক ব্যাংকের ঋণের ক্ষেত্রে বন্ধক দেখানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ ছাড়া বন্ধক থাকা জমিতে ব্যাংকের সাইনবোর্ড থাকা জরুরি। অনেকে তা মানছেন না। এজন্য অনেকের যোগসাজশে এ রকম অনিয়ম ঘটে। যদি কেউ এমনটি করেন বুঝতে হবে এতে শুধু গ্রাহক নয়, ব্যাংকের কর্মকর্তারাও জড়িত। খেলাপি ঋণ বাড়ার একটি অন্যতম কারণ সঠিক বন্ধক আছে কিনা তার ওপর নির্ভর করে। ঋণের বিপরীতে বন্ধক দেখার দায়িত্ব ব্যাংক কর্মকর্তাদের।

আরেকটি ব্যাংকে বন্ধক রাখার পর আবার কেউ একই জমি বা সম্পদ দেখালে বুঝতে হবে সেটা সবার যোগসাজশে হয়েছে। এদের সবাইকে কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ঋণ জালিয়াতি অনিয়ম রোধে বন্ধক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষা করা উচিত। একই সম্পদ যখন একাধিক ব্যাংক ঋণে বন্ধক হিসেবে দেখানো হয় সেটা বড় ধরনের দুর্নীতি।

ঋণ নেওয়ার সময় জমির দলিল জমা রাখতে হয় ব্যাংকে। আরেক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সময় সেই দলিল দিতে হলে অবশ্যই ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। এসব দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধুু ব্যাংকিং বিষয় নয়, আমাদের সার্বিক আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে সব ধরনের ঋণ অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

উৎসঃ ‌বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ সওজের প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা ৬ প্রকল্পের পরিচালক তিনি একাই!


সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা; ছয়টি প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

সিলেট থেকে: একটি নয়, দুটি নয়। একাধারে গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব একই পালন করছেন সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার নির্দেশনা দিয়েছেন, একব্যক্তিকে যেনো একাধিক প্রকল্পের পরিচালক করা না হয়।

কিন্তু সে নির্দেশনা ও সব আইন অমান্য করে একাই ছয়টি প্রকল্পের পরিচালকের (পিডি) দায়িত্ব পালন করছেন তুষার কান্তি। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা।

এগুলো হচ্ছে- বানিয়াচং-আজমিরিগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প (ব্যয় ১১৬ কোটি টাকা), সিলেট বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কের জাতীয় মহাসড়ক উন্নতকরণ প্রকল্প (ব্যয় ৬২৭ কোটি), সিলেট জোনের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথ মান ও প্রশস্ত উন্নীতকরণ প্রকল্প (ব্যয় ৫৬০ কোটি), সিলেট শহর বাইপাস-গ্যারিসন লিংক টু শাহ পরাণ সেতু ঘাট সড়ক চারলেনে মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প (ব্যয় ২৩৫ কোটি)।

এছাড়া ঢাকা-সিলেট-তামাবিল-জাফলং জাতীয় মহাসড়কের জৈন্তা থেকে জাফলং পযর্ন্ত উন্নয়ন প্রকল্পেরও পিডি তুষার কান্তি। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৯০ কোটি টাকা। আর ৫৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সিলেট জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ত উন্নীতকরণ প্রকল্পেরও পরিচালক তিনি।

শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সিলেট সার্কিট হাউজে বিভাগের বাস্তবায়িত ৫৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্বয়ং পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানও।

এ সময় তুষার কান্তি সাহা একাই কীভাবে ছয়টি প্রকল্পের পরিচালক হলেন তা জানতে চান মন্ত্রী। তখন তুষার কান্তি বলেন, ‘স্যার, এভাবেই তো চলে আসছে। আমি প্রকল্পগুলোর দায়িত্ব পালন করছি। উপর থেকে আমাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘একব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। সেই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্প এলাকায় থাকতে হবে। সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই একব্যক্তি একের বেশি প্রকল্পের পরিচালক হতে পারবেন না! একব্যক্তি কীভাবে ছয় প্রকল্পের পরিচালক হতে পারেন?’

সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, প্রকল্পের গতি বাড়াতে হবে। প্রকল্প কাজে গতি বাড়াতে যথাসময়ে কাজ শেষ করতে হবে। অর্থের অপচয় কমাতে হবে।

সিলেট বিভাগে চলমান ৫৮ প্রকল্পের পরিচালকসহ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়েজউল্লাহ, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ ইয়াবাসহ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুশান্ত কুমার দাসকে আটক


ঝালকাঠির নলছিটিতে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুশান্ত কুমার দাস শান্তু (২৫) ও তার সহযোগী মাসুদ হাওলাদারকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা শহরের কলবাড়ি রোডের একটি বাসা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

সুশান্ত কুমার দাস শান্তু নলছিটি পৌর এলাকার কলবাড়ি রোডের ঝন্টু দাসের ছেলে এবং মাসুদ হাওলাদার উপজেলার দপদপিয়া গ্রামের বেলায়েত হাওলাদারের ছেলে।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই রাসেলসহ পুলিশের একটি টিম কলবাড়ি রোডের ঝন্টু দাসের বাসায় অভিযান চালায়। এসময় মাদক সেবনরত অবস্থায় সুশান্ত কুমার দাস শান্তু ও মাসুদ হাওলাদারকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেহ তল্লাশি করে ১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্ততি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উৎসঃ ‌পূর্বপশ্চিম

আরও পড়ুনঃ কক্সবাজার উপকূলে হঠাৎ করে বন ধ্বংসের উৎসব শুরু হয়েছে


কক্সবাজার উপকূলে হঠাৎ করে যেন উপকূলীয় বন ধ্বংসের উৎসব শুরু হয়েছে। উপকূলের প্রাকৃতিক বন কক্সবাজারের মূল ভূখন্ডকে ঝড়-জলোচ্ছাস থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে প্রাচীর হিসেবে ভূমিকা রেখে আসলেও ভূমিগ্রাসীরা প্রাকৃতিক এই প্রাচীর কেটে সাবাড় করছেন।

জেলার চকরিয়া এলাকায় গত এক মাসে লক্ষাধিক বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে তৈরি করা হয়েছে একাধিক চিংড়ি ঘের। ভূমি গ্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্জকর পদক্ষেপ না থাকায় এভাবে চলে যাচ্ছে শত শত একর সারকারী ভূমি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় চিংড়ি ঘের তৈরির জমির পরিমান ১২ হাজার ১১০ একর। এরমধ্যে তিন হাজার ১০১ একর জমিতে অবৈধ এসব চিংড়িঘের তৈরি করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, উপকূলীয় এলাকার বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে এসব চিংড়ি ঘের তৈরি করা হয়েছে। বন বিভাগের দ্বায়িত্ব অবহেলা এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনের অনেকটা সহযোগিতায় এসব কাজ চলছে বলে অনেকের অভিযোগ। এই সুযোগে দখলবাজ প্রভাবশালীদের দাপটে ওই এলাকায় সরকারের হাত ছাড়া হয়েছে সাড়ে তিন হাজার একর প্যারাবন। কক্সবাজার শহর থেকে সমুদ্রপথে ৬০ কিলোমিটার দূরে চকরিয়ার চরণদ্বীপ মৌজার গোলচর ও চিলখালীর চর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েক হাজার একর প্যারাবনের লক্ষাধিক বাইন ও কেওড়াগাছ কেটে সেখানে বিশাল আকৃতির কয়েকটি চিংড়ি ঘের তৈরি করা হয়েছে। ঘের পাহারার জন্য তিন দিকে ১২টি ঘর তৈরি করে পাহারা বসানো হয়েছে।

পাহারাদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছ, গত এক মাস ধরে তিন শতাধিক মানুষ প্যারাবনে ঢুকে অন্তত দেড় লাখ বাইন ও কেওড়াগাছ কেটে চকরিয়ার বিভিন্ন ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করা হয়। স্থানীয় চকরিয়া ও কক্সবাজারের কয়েকজন প্রভাবশালী এই প্যারাবন নিধন করে চিংড়ি ঘের তৈরি করছে বলে জানা গেছে। ১০-১৫ বছর বয়সী বড় বড় গাছ কাটা হয় করাত দিয়ে। আর ছোট গাচ গুলোতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হয়। স্থানীয় জে এম ঘাট এলকার অনেকেই বলেন, রাতের বেলায় পরিকল্পিতভাবে পেট্রোল ঢেলে এই প্যারাবন ধ্বংস করা হয়েছে। আগে প্যারাবনে হরিণ, বানর, বাদুড়, সাপ, বকসহ নানা পশু-পাখির বিচরণ দেখা যেত। প্যারাবনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত এলাকায় কয়েক হাজার পরিবার।

স্থানীয় তরুণ কামাল আহমেদ (২৪) বলেন, কয়েক হাজার একরের প্যারাবনের লক্ষাধিক বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে নিলেও বন বিভাগ নীরব ভূমিকা পালন করে। তারা একটি গাছও উদ্ধার করতে পারেননি।

উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা গোলাম মর্তুজার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে হলে তিনি প্রভাবশালীদের ভয়ে এ প্রসঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার বলেন, ওই সব এলাকায় বাস্তবে কোন গাছ নেই বললে চলে। তাই জমিগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখতে, বেকার লোকজনের কর্মসংস্থানের সুবিধার্থে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষে নতুন করে কিছু জমি চিংড়ি ঘেরের জন্য ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি অবৈধ দখলে থাকা জমিগুলো উদ্ধারের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন। জেলা প্রশাসনের এ কর্মকর্তা বলেন, ইতিপূর্বে ১০ একরের অধিক জমি লীজ নেয়া জমিগুলো যাচাই-বাছাই করে অতিরিক্তি জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা চিংড়ি সম্পদ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা কমিটি।

পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রণমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, চকরিয়া চরণদ্বীপ মৌজায দেড় হাজার একরের বেশি এই প্যারাবনে পাঁচ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি বাইন ও কেওড়াগাছ ছিল। ইতিমধ্যে তিন লাখের বেশি গাছ কেটে চিংড়িঘের করায় উপকূলের ১০ লাখ মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অথচ বন বিভাগের কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এছাড়াও কক্সবাজার উপকূলে চিংড়ি চাষের জন্য জমি লীজ না দিতে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনাও রয়েছে।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here