দ্বিতীয় দফায় দুধ পরীক্ষার ১০টি নমুনাতেই মিলল এন্টিবায়োটিক, তাহলে মানুষ কী খাবে?

0
146

বাজারে থাকা পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধের দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায়ও মানব চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিপজ্জনক অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে। এবার ১০টি নমুনার সবক’টিতে অ্যান্টিবায়োটিক পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন গবেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিচার্স সেন্টারের সদ্য সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। শুধু তাই নয়, আগে যেখানে এসব দুধে ৩টি এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায় সেখানে পাওয়া গেছে ৪টি এন্টিবায়োটিক। ১০টি নমুনার মধ্যে পাস্তুরিত দুধের ৭টি নমুনা হলো- প্রাণ, মিল্কভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, ইগলু, ইগলু চকোলেট এবং ইগলু ম্যাংগো। আর অপাস্তুরিত দুধের তিনটি নমুনা আগের মতোই রাজধানীর পলাশী, গাবতলী ও মোহাম্মদপুর বাজার থেকে সংগ্রহ করা। অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের প্রথম গবেষণার ফলাফল গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ব্যাপক সমলোচনা করে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধু তাই নয় নিজ বিভাগসহ ফার্মেসি অনুষদের চারটি বিভাগ পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষার সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে। চতুর্মুখী প্রতিবাদের মুখে পুনরায় পরীক্ষা চালান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ প্রবীণ অধ্যাপক।

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক আ ব ম ফারুক লেখেন, গত ২৫শে জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ফার্মেসি লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুধ ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য পরীক্ষার রিপোর্ট পেশকালে উপস্থিত গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলাম যে, পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধে মানবদেহের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি সনাক্তের প্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্য রক্ষার জরুরি প্রয়োজনে জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাসমূহ যেমন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচ) ইত্যাদি ল্যাবরেটরিগুলোতে যেন এখন থেকে নিয়মিতভাবেই দুধে এন্টিবায়োটিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। বিএসটিআইয়ের দেড় যুগের পুরনো দুধের স্ট্যান্ডার্ডে (বাংলাদেশ স্টান্ডার্ড, বিডিএস ১৭০২. ২০০২) বর্তমানের নয়টি পরীক্ষার সঙ্গে কমপক্ষে এন্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতি পরীক্ষার মতো দু’টি পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করে দুধের এই স্ট্যান্ডার্ডকে যুগোপযোগী করার জন্যও আমরা আহ্বান জানিয়েছিলাম।

এতে আমরা আরো জানিয়েছিলাম যে, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভব থেকেই আমাদের সীমিত সামর্থ্যে এই পরীক্ষাটি মাঝে মাঝে করার চেষ্টা করবো। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, গত সপ্তাহে আমরা এই পরীক্ষাটি পুনরায় সম্পন্ন করেছি। প্রথমবারের মতো এবারও পূর্বোক্ত ৫টি কোম্পানির ৭টি পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধের একই জায়গা থেকে সংগৃহীত নমুনা এবং একই জায়গা থেকে খোলা দুধের সংগৃহীত ৩টি নমুনা, অর্থাৎ সর্বমোট ১০টি নতুন নমুনায় এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি একই নিয়মে একই উন্নত ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এর ফলাফল আগের মতোই উদ্বেগজনক। এবারও সবগুলো নমুনাতেই এন্টিবায়োটিক সনাক্ত করা গেছে। এন্টিবায়োটিকের মোট সংখ্যা ছিল ৪টি (অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং লেভোফ্লক্সাসিন)। এর মধ্যে আগের বারে ছিল না এমন এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ২টি (অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও এনরোফ্লক্সাসিন)।

১০টি নমুনার মধ্যে ৩টিতে এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ৪টি, ৬টিতে এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ৩টি এবং ১টিতে এন্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে ২টি। এতে আরো বলা হয়, আমরা ভবিষ্যতেও এই পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষাগুলোর ফলাফল জনস্বার্থে প্রকাশ করার চেষ্টা করবো। আমরা আশা করি আমাদের প্রকাশিত এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট দুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে নিজেদের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা দূর করে পণ্যের গুণগত মান উন্নত করতে সাহায্য করবে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলো দুধে এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতির বিষয়টি হালকাভাবে না নিয়ে তা নিয়মিতভাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেবে এবং এভাবে দেশের দুধের মানের উন্নতি ঘটবে। উপরন্তু, জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগজনক এই সমস্যাটি সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার পরিবর্তে বিশেষ কোন সরকারি কর্মকর্তাকে আর বিদেশি চক্রান্ত খুঁজতে হবে না।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ সীমান্ত পেরিয়ে নানা কৌশলে ঢুকছে বাংলাদেশে অস্ত্র


সীমান্ত পেরিয়ে নানা কৌশলে ঢুকছে অস্ত্র। আর এ অস্ত্র বহন করতে এক শ্রেণির গরিব লোকজনকে ভাড়া করে অস্ত্র কারবারিরা। অল্প টাকার বিনিময়ে তারা সীমান্ত পার করে নির্দিষ্টস্থানে অস্ত্র পৌঁছে দেয়। ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র পৌঁছাতে সহযোগিতা করে ভারতের লোকজন। এসব অস্ত্র প্রস্তুতের জন্য ভারতে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট কারখানা। অল্প টাকাতেই এসব কারখানায় অস্ত্র তৈরি করা হয়। এই অস্ত্রের অন্যতম বাজার হচ্ছে বাংলাদেশ। দেশে ঢোকার পরপরই অস্ত্রগুলো চলে যায় অপরাধীদের হাতে।

কখনও কখনও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা জব্দ করেন এসব অস্ত্র। অবৈধ এসব অস্ত্র সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও ডাকাতদের হাতে চলে যায়। তাছাড়াও বৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি প্রভাবশালীদের অনেকে সংগ্রহে রাখেন অবৈধ অস্ত্র।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে অবৈধ অস্ত্র সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। যশোরের দর্শনা, বেনাপোল, সাতক্ষীরার শাঁকারা, মেহেরপুর, চাপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লাসহ অন্তত ৩০টি রুট দিয়ে আমদানি করা হয় অবৈধ অস্ত্র। বিভিন্ন পণ্যের গাড়িতে করে এসব অস্ত্র আমদানি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্ত্রের বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদাভাবে আমদানি করা হয়। কারও কাছে স্প্রিং বা ট্রিগার, কারও কাছে শুধুই নল। এভাবেই নানা কৌশলে আমদানি করা হয় অবৈধ অস্ত্র। গত মাসে সীমান্ত এলাকায় ছয়টি বন্দুক, একটি পিস্তল, ৫৩টি ককটেল ও ৬২ রাউন্ড গুলি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। মে মাসে দুটি পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরণের ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়। একইভাবে এপ্রিল মাসে আটটি পিস্তল জব্দ করে বিজিবি।

বিজিবি’র কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কিছু অস্ত্র আটক হলেও গোয়েন্দাদের ধারণা বেশিরভাগ চালানই বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে অস্ত্র এনে ৩০ হাজার থেকে লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ সেন্টার বিডিপিসি’র গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, দেশে অবৈধ অস্ত্র আমদানির শতাধিক সিন্ডিকেট রয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের মালিকরা অস্ত্র ভাড়া দিচ্ছেন এক শ্রেণির সন্ত্রাসীদের কাছে। যশোর, খুলনা ছাড়াও চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙ্গামাটির পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে প্রায়ই। সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো আধিপত্য বিস্তারের জন্য এসব অস্ত্র ব্যবহার করছে। একইভাবে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করে সন্ত্রাসীরা।

অত্যাধুনিক অস্ত্র প্রবেশের বিষয় আলোচনায় আসে গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পরপরই। হলি আর্টিজানে হামলার জন্য চাঁপাই নবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আমের ঝুড়িতে করে আনা হয় অস্ত্র। এরমধ্যে পিস্তল ও পাঁচটি একে-২২ ছিল। একইভাবে যশোরের চৌগাছা সীমান্ত দিয়ে করা আনা হয় বোমা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে আসা বেশির ভাগ অস্ত্র তৈরি হয় ভারতে। ভারতের বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বের শহর মুঙ্গেরে তৈরি হয় এসব অস্ত্র। মুঙ্গের তৈরি অস্ত্র অবৈধ পথে আসে বাংলাদেশে। গত বছরের শেষের দিকে পাচারের সময় প্রায় অর্ধশত একে-৪৭ বন্দুক জব্দ করে ভারতের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। মুঙ্গেরের চুরওয়া, মস্তকপুর, বরহদ, নয়াগাঁও, তৌফির দিয়ারা, শাদিপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে কুটির শিল্পের মতো অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় অল্প খরচে অস্ত্র তৈরি করে বাংলাদেশের অবৈধ অস্ত্রের সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেখানে অর্ডার দিয়ে অস্ত্র তৈরি করে অপরাধী চক্র।

এসব বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের পিআরও মুহম্মদ মোহসিন রেজা বলেন, বিভিন্ন কৌশলে অস্ত্র, চোরাচালান আমদানি করে চোরাকারবারিরা। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিজিবি অত্যন্ত তৎপর। যে কারণেই অবৈধ অস্ত্র আটক হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ মক্কা-মদিনায় হাজিদের বাড়িভাড়া নিয়ে হজ অফিসের দুর্নীতির ফোনালাপ ফাঁস! (অডিও সহ)


পবিত্র মক্কা ও মদিনায় কমিশন ছাড়া কোনো দিনও বাড়িভাড়া নেয় না হজ অফিস। এমন অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ। এ বছরও কমিশন নিয়ে সিন্ডিকেট করে বাড়িভাড়া করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ।

জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি অডিও আলাপনে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আলাপনে শোনা যায়, রাষ্ট্রদূত মোবাইল/টেলিফোনে মূসার (সৌদি আরবে বাংলাদেশ কমিউনিটির একজন) কাছে এবার সৌদি আরবে হাজিদের বাড়িভাড়া কে করেছে, এবার ব্যবসাটা কে পেল- তা জানতে চাইছেন।

বিশেষ করে মদিনায় ‘আল আনসারির’ হোটেলের ব্যবসাটা কে পেল- তা তিনি জানতে চান মূসার কাছে। এ সময় মূসা বলেন, এবার হজ অফিস বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে। এ কথা শুনে গোলাম মসিহ বলেন, বাড়ি তো মালিকের কাছ থেকেই ভাড়া নেয়, জানতে চাচ্ছি মাঝখানের লোকগুলো কে, কারা।

ভিডিওঃ  ‘মক্কা-মদিনায় হাজিদের বাড়িভাড়া নিয়ে হজ অফিসের দুর্নীতির ফোনালাপ অডিও ফাঁস! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে মূসা বলেন, এবার মাঝখানে কেউ ছিল না।

এ কথা শুনে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, ‘শোন মূসা, এ কথা আমাকে বলো না, হজ অফিসাররা এত ফেরেশতা নয়, তোমরা এবার সিন্ডিকেট কইরা বাড়িভাড়া নিছ, আমি তো খবর পাইয়া যামু। কোন জমানায় ডাইরেক্ট ব্যবসা হইছে! তুমি আমারে কি শিখাইতাছ?’

আলাপনে গোলাম মসিহ আরও বলেন, ‘গতবার পর্যন্ত খালি কমপ্লেইন করছ, আমাকে বাড়িভাড়া নেয় না। এবার তোমরা কেউ বাড়ির ব্যবসা কর নাই? সবাই ফেরেশতা হইয়া গেলা। কোন জমানায় ডাইরেক্ট হইছে? আওয়ামী লীগের নাম ভাঙাইয়া সবাই ধান্ধাবাজি করে।’ এ কথা বলে তিনি লাইন কেটে দেন।

এরপর মূসা কলব্যাক করে আবার তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন যে, বাড়িভাড়ার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এ সময় গোলাম মসিহ বলেন, ‘তুমি বুঝবা না কেন? ২৮ বছর মদিনায় আছ। কোনো দিন কমিশন ছাড়া বাড়িভাড়া নেয় হজ অফিস, আমারে বলো? কোনো দিন কমিশন ছাড়া নিছে। আজকা তোমরা সবাই ফেরেশতা হইয়া গেছ।’

তিনি আবার বলেন, ‘আমার কাছে রিপোর্ট আছে, সিন্ডিকেট কইরা বাড়িভাড়া নেয়া হইছে। না হলে আল আনসারির বাড়ি এমনিতেই ভাড়া অইয়া গেছে। তুমি কি মনে করো খবর পামু না? হজ অফিসারের গলা টিইপ্যা বাইর কইরা ফালামু।’ এভাবে চলতে থাকে তাদের কথোপকথন।

হজের বাড়িভাড়া নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি-না, এ ফোনালাপের সূত্র ধরে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘হজের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। একটা কমিটি হয়। তারা বাড়িভাড়ার বিষয়গুলো ঠিক করে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি জিজ্ঞেস করতে পারি, কে বাড়িভাড়া নিল বা কে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে? আমি সেটাই জানতে চেয়েছি। তবে যার কাছে জানতে চেয়েছি তিনি নিজেও কিছু জানেন না।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির সদস্য বা বাড়িভাড়ার সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, তারা বিষয়টি বলতে পারবেন- যোগ করেন তিনি।

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের বিএনপির নির্দেশ


বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। আজ শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অতিসম্প্রতি বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে ছেড়ে দেওয়া পানির ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে সেই বিষয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে বন্যাপীড়িত দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের সর্বস্তরেরে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

‘দলের কেন্দ্রীয় ত্রাণ যে কমিটি আছে তাকে সক্রিয় করে দুর্গত এলাকায় ত্রান সমাগ্রি পাঠানোর কার্য্ক্রম শুরু করাও সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে’, যোগ করেন ফখরুল।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার ব্যর্থ

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুটি দেশের অর্থনীতি, দেশের স্বাধীনতার ওপরে বড় রকমের চাপ সৃষ্টি করেছে। এক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে এই সমস্যা সমাধানে উপনীত হয়ে একটা প্রক্রিয়া শুরু করতে। আমরা দেখতে পারছি যে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার কোনো কার্য্করী উদ্যোগ নিতে পারছে না। তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম চীনে প্রধানমন্ত্রী গেলে যেখান থেকে একটা পজেটিভ কোনো এনসার পাবো সেটাও আমরা দেখতে পারছি না। আমরা বরঞ্চ দেখলাম যে, চীন তার একই অবস্থানেই আছে এবং সেখানে কোনো কনক্রিট কিছু আমাদের জন্য উপযোগী কোনো কথা চীনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা পাইনি। এ বিষয়ে আমরা কূটনীতিকদের ব্রিফিং করব এবং তার আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাবো।’

ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার ভেঙে পড়া প্রসঙ্গে

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি যে, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং সিস্টেমটা একেবারে ভেঙে পড়েছে। আপনারা দেখেছেন যে, তিনদিন আগে পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স কোম্পানিটিকে আমানতকারীদের ২৩৬ কোটি টাকা ফেরত না দিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে অবসান করেছে। সেটা নজিরবিহীন ঘটনা। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারি ও আমানতকারীরা চরম অনিশ্চয়তা মধ্যে পড়েছে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ বিষয়টি গোটা ব্যাংকিংয়ের যে সিস্টেমের একটা প্রতিকী ঘটনা। এইভাবে গোটা ব্যাংকিং সিস্টেম ভেঙে পড়েছে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এককভাবে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা না করে এবং ওই প্রতিষ্ঠানটি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্য্করী ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে পুঁজিবাজারের আমানতকারীসহ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার বিষয়ে ভবিষ্যতে দলীয় কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

স্থায়ী কমিটির সদস্যদের জন্য বৈঠকে ফোল্ডার

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। দলের স্থায়ী সদস্যদের কাছে বৈঠকের একদিন আগে বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্বলিত কাগজপত্রসহ একটি ফোল্ডার বিশেষ বার্তা প্রেরকের মাধ্যমে পাঠানো হয়। দলীয় মনোগ্রাম সম্বলিত একটি বড় ফোল্ডারের ভেতরে এসব কাগজপত্র থাকে। শনিবারের বৈঠকে সব সদস্যই ফোল্ডার হাতে নিয়ে বৈঠকস্থলে ঢুকেন।

বৈঠকে মহাসচিব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান প্রমুখ।

উৎসঃ বআমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ তৃতীয় বর্ষে ফেল করেও চতুর্থ বর্ষে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম!


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগে টানা সাত বছর পড়ছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন। তৃতীয় বর্ষের সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। ফলাফলের তালিকায় নেই তার নাম। তবু তিনি এখন চতুর্থ বর্ষের ছাত্র অংশগ্রহণ করেছেন চতুর্থ বর্ষের প্রথম পর্বের পরীক্ষায়ও। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী, সাধারণত কোনো শিক্ষার্থী সেমিস্টার বা বাৎসরিক পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হলে ফলাফলের খাতায় নাম আসে না। তবে যারা একটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হন তাদের নাম ফলাফলের তালিকায় থাকেন এবং তারা পরবর্তী সেমিস্টার বা বর্ষে ভর্তি হতে পারেন। ফলাফলের তালিকায় যাদের নাম আসে না তাদেরকে আগের সেমিস্টার বা বর্ষে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়।

এদিকে, সাদ্দাম কয়েকটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হওয়ায় ফলাফলের খাতায় তার নাম না আসলেও তিনি পরবর্তী বর্ষে পদোন্নতি পেয়েছেন বলে জানা যায়। কয়েকটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী বর্ষে পদোন্নতি পাওয়ার নজির নেই আইন বিভাগে। সাদ্দামের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ বর্ষের প্রথম পর্বের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন সাদ্দাম। এরমধ্যে দুইটি পরীক্ষা শেষও হয়েছে। এই পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য তার ক্লাসে উপস্থিতি রয়েছে ২০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। যদিও ২০ শতাংশ উপস্থিতি থাকার শর্তে এর আগে কারও পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি।

এদিকে, চতুর্থ বর্ষের ‘পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল (৪০৪)’ কোর্সেও ১৮টি ক্লাসের মধ্যে তার উপস্থিতি দেখানো হয়েছে ১২টিতে। তবে চতুর্থ বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ‘তিনি কোনো কোর্সেই নিয়মিত ক্লাস করেন না। তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দেয়ার জন্যই তার উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে বিভাগটির চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. নাইমা হকের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, গত ২৭ মে আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। তাতে দেখা যায়, ১২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ১২১ জন পরীক্ষায় পাস করেন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অনুত্তীর্ণ তিনজনের একজন হলেন সাদ্দাম হোসেন।

ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ২০১১-১২ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষ পার হতে তিনি ৩ বছর সময় নেন। ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন। চতুর্থবারের প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালে তিনি প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

এরপর ২০১৬ সালের দ্বিতীয় বর্ষের সমাপনী পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি সাদ্দাম হোসেন। ২০১৭ সালের ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৮ সালে তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করেন। সেই তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি শুরু হয়। সেই পরীক্ষায়ও অকৃতকার্য হয়েছেন সাদ্দাম। সর্বোপরি এই ছাত্রনেতা গত সাত বছরে পাঁচবার ফাইনাল পরীক্ষায় ফেল করেন।

এ বিষয়ে আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ বলেন, ‘এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলুন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামানের সাথেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কিভাবে তৃতীয় বর্ষে পাশ না করেও চতুর্থ বর্ষে পড়াশুনার সুযোগ পেয়েছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘তৃতীয় বর্ষে আমার এক বিষয়ে ফেল আছে, কথা সত্যি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম আছে এক বিষয়ে অকৃতকার্যরা পরের বছর ওই বিষয়ে রেফার্ড এক্সাম দিতে পারবে। এ নিয়ম মেনে তৃতীয় বর্ষে এক বিষয়ে অকৃতকার্য একাধিক শিক্ষার্থীর মতো আমিও চতুর্থ বর্ষে কন্টিনিউ করার সুযোগ পেয়েছি।’

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ধর্ষণ মামলায় ছাত্রলীগের ধর্ষক নেতাকে ধরতে গিয়ে মার খেলেন ২ এসআই


ধর্ষণ মামলার আসামি এক ছাত্রলীগ নেতাকে ধরতে গিয়ে মাগুরা সদর থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) মারধরের শিকার হয়েছেন। আজ শনিবার দুপুরে মাগুরা শহরের আদর্শ কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ধরতে যাওয়া ওই আসামির নাম রুবেল হোসেন (২২)। তিনি মাগুরা আদর্শ কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় কারিকর পাড়ার বাসিন্দা।

মারধরের শিকার মাগুরা সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পারভেজ আহমেদ জানান, সদর থানার একটি ধর্ষণ মামলার আসামি রুবেল আদর্শ কলেজের পাশে চক্ষু হাসপাতালের সামনে চায়ের দোকানে অবস্থান করছে এমন খবরে ভিত্তিতে তিনি ও তার সহকর্মী অপর এসআই মাসুম গ্রেপ্তার করতে যান। সেখানে পৌঁছে এসআই মাসুম প্রথমে তাকে ডেকে কথা বলতে গেলে রুবেল তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ সময় এসআই মাসুম তাকে গ্রেপ্তার করতে এগিয়ে গেলে রুবেল পাশের ধানক্ষেতে কাদার মধ্যে দৌঁড় দেন। মাসুম তাকে ধাওয়া করে ওই ক্ষেতের মধ্যে গেলে রুবেল তাকে মারধর করেন।

পারভেজ আরও জানান, এ সময় তিনি নিজে ধানক্ষেতে নেমে রুবেলকে প্রতিহত করতে যান। এ সময় রুবেল একইভাবে তাকেও একের পর এক কিল, ঘুষি, লাথি মেরে আহত করেন। এ পর্যায়ে খবর পেয়ে সদর থানার একাধিক পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত হয়ে রুবেলকে হাতকড়া পরিয়ে সদর থানায় নিয়ে আসে। অন্যদিকে তারা দুজন মাগুরা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘ধর্ষণ মামলার আসামি রুবেলের হামলায় আহত পুলিশের দুই এসআই মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। গ্রেপ্তার রুবেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উৎসঃ আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‘জালিমদের পরিনতি ইতিহাসে যেমন হয়েছে, আপনার পরিণতিও তেমন হবে’: হাসিনাকে এমাজউদ্দিন


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যায়ভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছেন অভিযোগ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, যারা ক্ষমতাকে অন্যায়ভাবে আঁকড়ে ধরেন, তাদের পরিণতি ইতিহাসের বিভিন্ন জায়গায় যেমন হয়েছে, আপনার পরিণতিও তেমন হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের মানুষ যতটুকু অর্জন করেছে, তা থেকে একটুও আগায়নি বরং পিছিয়েছে। এবারের নির্বাচনকে ৩০ ডিসেম্বর না বলে ২৯ ডিসেম্বর বলাই ভালো। কারণ নির্বাচনের নামে মস্ত বড় প্রহসন ঘটেছিল, জাতি তা দেখেছে। সেদিন এক দুঃস্বপ্ন জাতি দেখেছে।

শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে’ আয়োজিত আইনজীবীদের অনশন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. এমাজউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি অনেক চালাক। আপনার যতটুকু বুদ্ধিমত্তা আছে তা দিয়ে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা করুন। আপনার ন্যায়নীতি যতটুকু আছে, তা দিয়ে সাধারণ মানুষের চাওয়ার দিকে অগ্রসর হন।

খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখি, দুই কোটি টাকাকে কেন্দ্র করে বেগম জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছে। ওই দুই কোটি টাকার একটি টাকাও অপচয় হয়নি। বরং ওই টাকা বেড়ে সাত কোটি হয়েছে। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা যারা মেরেছে তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চলছেন। এ ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে জাতিকে মুক্তি দিন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দেশে ন্যায়বিচার আজ ভূলুণ্ঠিত। মিথ্যা মামলা দিয়ে জুলুম, নির্যাতন করা হচ্ছে। আইনের শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আইনজীবীদের দায়িত্ব রয়েছে। খালেদা জিয়ার নামে যে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, তা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তি দিন। অন্যত্থায় দেশে একটা বড় গণবিস্ফোরণ হবে। সেই বিস্ফোরণে সরকারের পতন হবে। তিনি বলেন, আজকের অনশন সারা বাংলার মানুষের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। আমি দাবি জানাই, তার (খালেদা জিয়া) সকল মামলা স্থগিত করা হোক এবং তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন এর সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিকল্প ধারার মহাসচিব শাহ আহমেদ বাদল, অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দীন আহমেদ, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রমূখ। পরে পানি পান করিয়ে অনশনকারী আইনজীবীদের অনশন ভঙ্গ করেন ড. এমাজউদ্দিন আহমদ।

উৎসঃ ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ সাগরে বাংলাদেশী জেলেদের ইলিশ ধরা বন্ধ, দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারতীয় জেলেরা (ভিডিও সহ)

বঙ্গোপসাগরে দেশীয় জেলেরা মাছ ধরতে না পারলেও ভারতীয় জেলেরা ট্রলিং ট্রলার নিয়ে সাগরের বয়া এলাকা থেকে পূর্বে কুয়াকাটা উপকুল পর্যন্ত দাপিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। গত ৭ জুলাই বঙ্গোপসাগরে কোষ্টগার্ডের অভিযানে ৩২ ফিসিং বোট সহ ৫ শতাধিক ভারতীয় জেলে আটক হয়েছে।

শরণখোলা ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, আমাদের ছোট ছোট ইঞ্জিন চালিত নৌকা ট্রলারের জেলেরা সুন্দরবনের দুবলারচর এলাকায় মাছ ধরার সময় গত কয়েকদিনে সাগরের বয়া এলাকায় অসংখ্য ভারতীয় ফিসিং ট্রলারের জেলেদের মাছ ধরতে দেখেছেন। আবহাওয়া খারাপ হলে ভারতীয় জেলেরা হিরণপয়েন্টের অদুরে ছোট খালে আশ্রয় নিয়ে থাকে বলে আবুল হোসেন জানান।

ভিডিওঃ  ‘বাংলাদেশী জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ হলেও বাংলাদেশের সীমানায় ভারতের ইলিশ উৎসব!’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

বাংলাদেশ ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী জানান, সাগরে বাংলাদেশ জলসীমায় অবৈধভাবে মাছ শিকার করা ভারতীয় জেলেদের নিত্যদিনের ঘটনা। ৬৫ দিনের অবরোধে আমাদের দেশীয় জেলেরা মাছ ধরতে না পারলেও ভারতীয়রা ঠিকই ধরে নিয়ে যাচ্ছে । যার জলজ্যান্ত প্রমাণ গত ৭ জুলাই পায়রা সমুদ্র বন্দরের অদুরে সাগরে মাছ ধরার সময় কোষ্টগার্ড ৩২ ফিসিং বোট সহ ৫ শতাধিক ভারতীয় জেলে আটকের ঘটনা। ঝড়ের কবলে পড়ে তারা এসেছে ভারতীয় জেলেদের এ দাবী তিনি নাকচ করে বলেন, তাই যদি হয় তা হলে তাদের নিদেন পক্ষে হিরণপয়েন্ট দুবলারচর আলোরকোল পর্যন্ত আসার কথা।

ফিসিংবোট এফবি খাইরুল ইসলামের মিস্ত্রি শরণখোলা উপজেলার পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের মোঃ রফিক জানান, বরাবরের মত ভারতীয় ট্রলিং ট্রলার বঙ্গোপসাগরের বয়া এলাকা থেকে পূর্বে কুয়াকাটা উপকুল, সোনারচর, ঢালচর পর্যন্ত সাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা অবাধে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় মাছ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তিনি গত ২২ জুন সাগরের সোনারচর এলাকায় শতাধিক ভারতীয় ফিসিং বোটকে মাছ ধরতে দেখেছেন। ওই সময় তিনি তার বোটের মবিল ফুরিয়ে যাওয়ায় ভারতীয় একটি বোট থেকে কয়েক লিটার মবিল চেয়ে নেন বলে রফিক মিস্ত্রি জানান।

ভিডিওঃ  ‘বাংলাদেশী জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ হলেও বাংলাদেশের সীমানায় ভারতের ইলিশ উৎসব!’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাগরে সকল ধরনের মাছ ধরা বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করায় শরণখোলাসহ উপকুলীয় এলাকার জেলে পল্লীগুলিতে হতাশার পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

অপরদিকে শরণখোলা, পাথরঘাটাসহ অন্যান্য এলাকার অনেক ফিসিংবোট বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মাছ শিকার করে শরণখোলা ও পাথরঘাটা মৎস্যঘাটে ফিরে এসে রাতের মধ্যেই মাছ ট্রাক বোঝাই করে খুলনা ও বরিশালের মোকামে চালান করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে চলেছেন। বিশেষ করে শরণখোলার মজিবর তালুকদার, বেলায়েত খান, ও আবুল হোসেনের ফিসিং বোট নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চোরাইভাবে সাগরে মাছ ধরছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে গত ৬ জুলাই রাঙ্গাবালীর কাছে সাগরে ৫/৬ টি ফিসিং বোট ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে গেছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার খবর তার জানা নেই খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘সরকারের পছন্দমতো রায় না লেখায় আমাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল’: এস কে সিনহা


জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করতেই ক্ষমতাসীন সরকার দুর্নীতির মামলা দায়ের করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

ঢাকায় সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হওয়ার একদিন পর ওই মামলা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ভিত্তিক মুক্ত গণমাধ্যম বেনারকে তিনি এই কথা বলেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম- রুল অব ল, হিউমেন রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’র সূত্র ধরে তিনি তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া অবিচারের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, “আমাকে ১৫ দিন গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল।”

আত্মজীবনীতে সরকারের পছন্দমতো রায় লিখতে রাজি না হওয়ায় শেখ হাসিনা ও তাঁর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা এবং চাপ দিয়ে দেশত্যাগ ও পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন এস কে সিনহা।

বর্তমান সরকারের অধীনে ন্যায়বিচার আশা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি । “এটি অনৈতিক, অন্যায়। তারা আমাকে জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করতে চায়,” বেনারকে বলেন বিচারপতি সিনহা।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে সরকারের সাথে মতবিরোধ সৃষ্টি হয় এস কে সিনহার। এরই জের ধরে ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর প্রথমে ছুটি নিয়ে বিদেশ যান তিনি। পরে সেখান থেকেই রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত বিচারপতি সিনহা গত কয়েক দিন ধরে নিজের ছোট মেয়েকে দেখতে স্ত্রীসহ কানাডায় রয়েছেন। সেখান থেকে টেলিফোনে বেনারের সাথে কথা বলেন তিনি।

দুর্নীতি মামলা হওয়ার সংবাদটি তাঁর স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে তাঁকে বলেছেন জানিয়ে বিচারপতি সিনহা বলেন, “আমি হাসব না কাঁদব, সেটাই ভাবছি!”

ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে এই মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার সংস্থাটির জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১ এ সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

বাংলাদেশে সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা এটাই প্রথম।

“আপনার কি মনে হয় আপনি এই মামলায় ন্যায়বিচার পাবেন?” বেনারের এমন প্রশ্নে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, “যখন আমি কর্মরত প্রধান বিচারপতি ছিলাম, তখনই ন্যায়বিচার পাইনি। তাহলে এখন কীভাবে আশা করব?”

তাঁকে চাপ ও হুমকি দেওয়ার জন্য সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও (ডিজিএফআই) আত্মজীবনীতে অভিযুক্ত করেন তিনি।

“শেষ পর্যন্ত, আমার পরিবারের ওপর সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর চাপ ও হুমকির মুখে আমি দেশের বাইরে থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেই,” আত্মজীবনীর ভূমিকায় জানিয়েছেন বিচারপতি সিনহা।

তবে তাঁর অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ওপর কোনো ধরনের নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেছে সরকার।

আত্মজীবনী প্রকাশের প্রায় এক বছরের মাথায় তাঁর বিরুদ্ধে বুধবার দুর্নীতির দায়ে মামলা দায়ের করল দুদক। যদিও মামলাটি এখনো প্রাথমিক স্তরে রয়েছে বলে বেনারকে জানান দুদকের আইনজীবী খুরশেদ আলম খান।

“এটা একটা মানি লন্ডারিং মামলা। এটা তথ্য উপাত্তের ওপর ভিত্তি করেই হয়েছে। এটা খুব ইনিশিয়াল স্টেজে আছে। এখন তদন্ত হবে, তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এটা সময়ের ব্যাপার,” বেনারকে বলেন খুরশেদ আলম।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বেনারকে বলেন, “আমরা আশা করব সাবেক প্রধান বিচারপতি ন্যায় বিচার পাবেন। ন্যায় বিচারে মাধ্যমেই তিনি দোষী কিংবা নির্দোষ সাব্যস্ত হবেন।”

দুর্নীতি মামলা

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে এ অনুসন্ধান শুরু হয়। ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে। পরে দায়িত্ব পেয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থার পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত দল। এর পরে দুদকের অনুমতিতে এই মামলাটি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

“দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন সাবেক বিচারপতি দুর্নীতি মামলার মুখোমুখি হলেন, এটা ভালো লক্ষণ নয় এবং বিচারব্যবস্থার জন্য এটা হুমকি,” বেনারকে বলেন সুপ্রীম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, এসকে সিনহা নিজেই বলেছেন যে, তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়েননি। তাই এই মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

“দুদকের মানি লন্ডারিং মামলাগুলো সাধারণত তথ্য এবং রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে হয়। তাই এই মামলার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, এটা বলার সুযোগ নেই,” বেনারকে বলেন দুদক আইনজীবী খুরশেদ আলম।

উৎসঃ justnewsbd

আরও পড়ুনঃ ‘বিচারকদের আতঙ্কে রাখতেই সিনহার বিরুদ্ধে মামলা’


বিচারকদের আতঙ্কে রেখে স্বাধীনভাবে বিচারকাজ পরিচালনা করতে না দেয়ার উদ্দেশ্যেই সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করা হয়েছে। এটা একটি থ্রেট বা হুমকি, যাতে সরকারের বাইরে বিচার বিভাগ যেতে না পারে এমনটি মনে করেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক দু’জন সভাপতি ও বর্তমান সম্পাদক। তারা সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদকের এ মামলার তীব্র নিন্দা জানান। সেইসাথে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত করতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিচারপতি এস কে সিনহা একটি দেশের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তাকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়। সেটা অনেক দিন আগের ঘটনা। এখন তার বিরুদ্ধে যা করা হচ্ছে তা মানুষ বিশ্বাস করছে না। তারা মনে করছে এটা প্রতিহিংসার কারণে করা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, এটা একটি থ্রেট বা হুমকি, যাতে সরকারের বাইরে বিচার বিভাগ যেতে না পারে। অতীতে একজন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এত দিন তার বিরুদ্ধে কী দুর্নীতি পেল তা প্রকাশ করা হয়নি। এর কিছুই আমরা জানি না।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় সরকারের পক্ষে রাখার জন্য এবং বিচারপতিরা যাতে স্বাধীনভাবে রায় দিতে না পারে তাদের মনে ভীতি সঞ্চার করার জন্যই সরকার প্রভাব খাটিয়ে এ মামলা করেছে। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদকের এ মামলার তীব্র নিন্দা জানান। সেইসাথে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু তদন্ত করতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিলের রায় নিয়ে মূলত সরকারের সাথে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে তার কিছু পর্যবেক্ষণও ভালোভাবে নেয়নি সরকার। সরকারি দল ও জোটের নেতারা সংসদে এস কে সিনহাকে উদ্দেশ করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। পরে রাষ্ট্রযন্ত্র জোরপূর্বক গৃহবন্দী করে তাকে অসুস্থ বলে দেশ ত্যাগে বাধ্য করে।

উল্লেখ্য, ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এস কে সিনহা) ১১ জনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই বুধবার দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।

বিচারপতি এস কে সিনহা ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো: শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

ফারমার্স ব্যাংকের দু’টি অ্যাকাউন্ট থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির ‘প্রমাণ’ পাওয়ার কথা গত বছর অক্টোবরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। পরে বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বলে ওই সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ঋণ জালিয়াতির টাকা বিদেশে পাচার


বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট, দুর্নীতি দমন কমিশন ও এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর তদন্ত করছে * টাকা পাচার বন্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ব্যাংকগুলোর প্রতি অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ * অর্থ ফেরানোর সুযোগ আছে, উদ্যোগ নেই

ব্যাংকিং খাতে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা টাকার বড় অংশই বিদেশে পাচার হয়েছে। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় এসব অর্থ পাচার করেছেন।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে হলমার্ক গ্রুপ ৪৬ কোটি টাকা, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, ক্রিসেন্ট গ্রুপ ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, প্যাসিফিক গ্রুপ ৭৩০ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংক থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান ১৭৫ কোটি টাকা, ইমাম গ্রুপ ৮৮ কোটি টাকা পাচার করেছে।

এছাড়া আমদানির পণ্য দেশে না এনে, আমদানি পণ্যের মূল্য বেশি দেখিয়ে, রফতানির মূল্য দেশে না এনে, শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানির নামে এসব অর্থ পাচার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, টাকা পাচারের ঘটনাগুলো প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে। বর্তমানে এগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর আলাদাভাবে তদন্ত করছে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো সংস্থার তদন্তে অর্থ পাচারের ঘটনা ধরা পড়লে তা আরও সুনির্দিষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও মাঠে নামে।

পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তদন্ত প্রতিবেদনগুলো বিএফআইইউ ও দুদকে পাঠাতে হয়। তারা সেগুলো আরও বিশদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়। এছাড়া শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর থেকেও ব্যবস্থা নেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, টাকা পাচারকারীরা নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যাংকিং খাতকে বেছে নিয়েছে। আমদানি-রফতানি দুইভাবেই টাকা পাচার হচ্ছে। এর মানে, এসবের সঙ্গে জড়িত ব্যাংক, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে কাজ করছে না। যে কারণে টাকা পাচার হচ্ছে। এগুলো বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় অর্থনীতি রক্তশূন্য হয়ে যাবে।

বিএফআইইউ’র এক কর্মকর্তা বলেন, তারা কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। গত ছয় মাসে টাকা পাচারের প্রায় অর্ধশতাধিক ঘটনা তদন্ত হয়েছে। আরও তদন্ত চলছে।

সূত্র জানায়, হলমার্ক গ্রুপ সোনালী ব্যাংকসহ ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। এর মধ্যে তারা যুক্তরাজ্যে সোনালী ব্যাংকের মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেড থেকে ৬৫ কোটি টাকার একটি এলসির দেনা শোধের নামে পাচার করেছে।

সোনালী ব্যাংকের গ্যারান্টিতে পণ্য আমদানির এলসি খোলা হয়েছিল যুক্তরাজ্যের একটি ব্যাংকে। পণ্য দেশে না আসায় দেনা শোধ করছিল না সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক দায়, সে কারণে ব্যাংকের ইমেজের স্বার্থে পরিশোধ করতেই হবে। এ কারণে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ওই সময়ে সোনালী ব্যাংক ইউকে’কে দেনা পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়। এই নির্দেশ মোতাবেক ওই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ূন কবির এ নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি দুদক তদন্ত করছে।

৫টি ব্যাংক থেকে বিসমিল্লাহ গ্রুপ জালিয়াতি করে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর পুরোটাই তারা বিদেশে পাচার করেছে। ওই টাকায় দুবাইয়ে তারা হোটেল ব্যবসা করছে বলে তথ্য পেয়েছে বিএফআইইউ।

ক্রিসেন্ট গ্রুপ জনতা ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। এর মধ্যে তারা ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে তথ্য পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। তারা আরও তদন্ত করছে। এ পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এদিকে তাদের পাচার করা অর্থের ব্যাপারে বিএফআইইউ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশের কাছে পাচার করা অর্থ সম্পর্কে তথ্য চাইতে হলে বিএফআইইউর তদন্তে তা প্রমাণিত হতে হয়। এর ভিত্তিতে বিএফআইইউ বিভিন্ন দেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে পারে। কিন্তু বিএফআইইউ থেকে সে রকম জোরালো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

প্যাসিফিক গ্রুপ কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে এবি ব্যাংকের গ্যারান্টিতে বেসরকারি খাতের ১২টি ব্যাংক থেকে সিটিসেল ঋণ নিয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। প্যাসিফিক মোটরস নিয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থের মধ্যে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বেসিক ব্যাংক জালিয়াতি করে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বেসিক ব্যাংকের দুটি শাখা থেকে আমদানি ও রফতানির মাধ্যমে ১৬টি প্রতিষ্ঠান ১৭৫ কোটি টাকা পাচার করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাচার করা হয়েছে ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে। শান্তিনগর শাখা থেকে তুলনামূলকভাবে কম পাচার হয়েছে। ছোট ছোট এলসির মাধ্যমে এই টাকা পাচার হয়।

সূত্র জানায়, ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার গ্রাহক রিয়াজুল ইসলাম দুবাইভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী। তার ব্যবসায়িক অংশীদার হচ্ছেন শাহরিয়ার খান জয়।

তিনি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর ছোট ভাই পান্নার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এ কারণে বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হলে ফাইল তৈরির কাজ পড়ত জয়ের ওপর।

যেসব ফাইল জয়ের প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি ওইগুলোর ঋণ দ্রুত পর্ষদে পাস হয়ে যেত। এমনই একটি প্রকল্পের বন্ধকি জমির প্রকৃত মূল্য আড়াই কোটি টাকা।
ব্যাংকে এর মূল্য দেখানো হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণ দেয়া হয়েছে ২৯ কোটি টাকা। ঋণের পুরো টাকাই বিদেশে পাচার করে দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের একই শাখা থেকে ফিয়াজ এন্টারপ্রাইজ ভোগ্যপণ্য আমদানির জন্য লোন এগেনস্ট ট্রাস্ট রিসিপ্টি (এলটিআর) সুবিধা নেয়। কথা ছিল ওই অর্থে আমদানি করা ভোগ্যপণ্য বিক্রি করে ব্যাংকের দেনা শোধ করবেন।

ওই অর্থে তিনি ভোগ্যপণ্য আমদানি করেছেন এমন কোনো তথ্য পায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এদিকে তিনি ওইসব ঋণও পরিশোধ করেননি। এ খাতে তার বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। ফলে ওই অর্থও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এ বিষয়গুলোএখন দুদক থেকে সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত হচ্ছে।

সোনালী ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখা থেকে কয়েকটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর মধ্যে পাচার হয়েছে ২২২ কোটি টাকা।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সোনালী ব্যাংকের একজন ডিজিএম দেশ ছেড়ে কানাডা চলে গেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ডিজিএমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এই প্রথম সোনালী ব্যাংক নিজে বাদী হয়ে তার কোনো ডিজিএমের বিরুদ্ধে মামলা করল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, চট্টগ্রামকেন্দ্রিক ৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য চট্টগ্রামের চারটি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় এলসি খোলে। এসব এলসির বিপরীতে ১৭৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করা হয়েছে।

কিন্তু দেশে কোনো শিল্পের কাঁচামাল আসেনি। যেসব কনটেইনারে এসব এলসির বিপরীতে পণ্য এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে শিল্পের কাঁচামালের পরিবর্তে পাওয়া গেছে ইটের গুঁড়া, আবর্জনাময় বালি, বিভিন্ন পণ্যের পোড়া অংশের ছাই, গুঁড়া পাথর ও সিমেন্টের ব্লক।

চট্টগ্রামের এবি অ্যান্ড ডি কর্পোরেশন, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম, এসআর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, এসএল স্টিল, এলএসআই, ইয়াছির এন্টারপ্রাইজ ও সেবা এন্টারপ্রাইজের নামে এলসিগুলো খোলা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, যেহেতু ব্যাংকের মাধ্যমে দেনা শোধ করা হয়েছে, কিন্তু পণ্য আসেনি- এর মানে হচ্ছে ওই সব টাকা পাচার করা হয়েছে। এ ঘটনাটি এখন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর থেকে তদন্ত হচ্ছে।

ইমাম গ্রুপের ঋণের পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা। যার পুরোটাই খেলাপি। এর মধ্যে একটি ব্যাংকের চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ইমাম ট্রেডার্সকে ১৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়। এর ১০০ কোটি টাকা এলসির বিপরীতে এবং ৭৫ কোটি টাকা এলটিআর। এসব ঋণের টাকায় পণ্য আমদানি করার কথা। বাস্তবে বেশির ভাগ পণ্যই দেশে আসেনি। এসব অর্থও বিদেশে পাচার হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here