তাবলীগ সংঘাতঃ সাদ-এর অনুসারীরা কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গী ইজতেমা মাঠ ভাগাভাগির দাবি

0
148

তাবলীগ জামাতের একটি অংশ বলছে, ‘ঢাকার কাকরাইল মসজিদ এবং টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানকে ভাগ করে দেয়াটা’ তাবলীগ জামাতের দুটি অংশের মধ্যে বিরাজমান সংঘাতময় অবস্থা নিরসনের অন্যতম উপায় হতে পারে।

ভারতের মাওলানা সাদ কান্দালভি-এর অনুসারী অংশটি বলছে, তাবলীগ জামাতের উভয় অংশের মধ্যে দূরত্ব অনেক বেড়ে গেছে। খবর বিবিসির।

মাওলানা সাদ-এর অনুসারী অংশের অন্যতম নেতা রেজা আরিফ বলেন, ‘টঙ্গির মাঠটাকে ইজতেমার জন্য দেয়া হয়েছে এবং কাকরাইল মসজিদ তবলীগের জন্য দেয়া হয়েছে। তাহলে টঙ্গির মাঠের সুষ্ঠু বণ্টন হতে পারে। অর্ধেক-অর্ধেক হতে পারে, আবার হয়তো সরকারের হাতে থাকতে পারে টঙ্গির মাঠ। যাদের তবলীগের প্রয়োজন তখন তারা অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করতে পারে।’

তিনি বলেন, ইচ্ছে করলেই কাকরাইল মসজিদকে দুই ভাগ করে দেয়া সম্ভব।

‘দুটো আলাদা গেইট করা সম্ভব। দুটো আলাদা মসজিদ করাও সম্ভব। যে যার-যার মতো করে ব্যবহার করুক। যখন আমাদের কাকরাইলে থাকার কথা তখন আমরা কাকরাইলে থাকি আর ওরা টঙ্গিতে থাকে। আবার ওদের যখন কাকরাইলে থাকার কথা, তখনও ওরা টঙ্গিতে থাকে। এ অন্যায়গুলোর কারণে আমাদের চাওয়া হচ্ছে টঙ্গি এবং কাকরাইল সম-বণ্টন হয়ে যাক,’ বলছিলেন আরিফ।

তিনি মনে করেন, ‘ইসলামের স্বার্থেই’ এ দুটো জায়গা ভাগ করে দেয়া যুক্তিসংগত।

আরিফ যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘ইসলামকে নিয়ে মারামারি করা, লোক হাসানো, টঙ্গি ময়দান দখল করা- এগুলো যাতে না হয়। অনেক রকম প্রবলেম তৈরি করার চেয়ে দুইদল যদি নিজেদের মতো করে আরামসে করে তাহলে সেটা ভালো নয়?’

কিন্তু মাওলানা সাদ কান্দালভির বিরোধী অংশ বলছে, মসজিদ কিংবা ইজতেমা ময়দান ভাগ করার কোন প্রশ্নই উঠেনা।

মাওলানা সাদ বিরোধী অংশের একজন নেতা মাহফুজ হান্নান বলেন, ‘এটা তো মৃত ব্যক্তির সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করার মতো কোন বিষয় না। তাছাড়া তারা ( সাদ অনুসারী) তো এখন আর মূল তাবলীগ জামাতে নেই। সেজন্য ওনারা কিছুই পাবেন না।’

দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণ

বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের ভেতরে দুইটি গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছে বেশ কিছুদিন ধরে- যা সহিংস রূপ নিয়েছে শনিবারের সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে ।

এই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে আছেন তাবলীগ জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা ভারতীয় মোহাম্মদ সাদ কান্দালভি। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই ঢাকার টঙ্গীতে এবার বিশ্ব ইজতেমা হতে পারেনি।

তাবলীগ জামাতের একটি গ্রুপ ১১ই জানুয়ারি থেকে ইজতেমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান নভেম্বর মাসে তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপকে নিয়ে বৈঠক করেন- যেখানে ওই তারিখে ইজতেমা না করার সিদ্ধান্ত হয়।

বেশ কিছুদিন ধরেই সাদ কান্দালভি তাবলীগ জামাতে এমন কিছু সংস্কারের কথা বলছেন- যা এই আন্দোলনে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে।

সাদ কান্দালভি বলেন, ‘ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রচারণা অর্থের বিনিময়ে করা উচিত নয়’- যার মধ্যে মিলাদ বা ওয়াজ মাহফিলের মতো কর্মকাণ্ড পড়ে বলে মনে করা হয়।

কিন্তু তার বিরোধীরা বলছেন, সাদ কান্দালভি যা বলছেন- তা তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের নির্দেশিত পন্থার বিরোধী

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ইজতেমায় অংশ নেবার জন্য সাদ কান্দালভি ঢাকায় আসলেও ইজতেমায় অংশ নিতে পারেননি। তিনি কাকরাইল মসজিদে অবরুদ্ধ ছিলেন।

সাদ কান্দলভির অনুসারীরা বলছেন, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতারা সাদ কান্দালভির বিরুদ্ধে সক্রিয়। কিন্তু হেফাজতের নেতারা এ অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করেন না।

হেফাজতে ইসলামের একজন ঊর্ধ্বতন নেতা মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ বলেছেন, এখানে হেফাজত বা অন্য কোন রাজনৈতিক দলের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‘সাদপন্থীরা প্রশাসনকে প্রভাবিত করে টঙ্গীর ইজতিমা ময়দান ও তাবলিগকে কলঙ্কিত করেছে

আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে টঙ্গীর ইজতিমার ময়দানে কর্মরত তাবলিগি সাথী, উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসা ছাত্রদের উপর ভ্রান্ত মতবাদে বিশ্বাসী ভারতের নিজামু্দ্দিনের মাওলানা সাদের অনুসারীরা প্রশাসনকে প্রভাবিত করে নৃশংস হামলা ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কাকরাইলস্থ তাবলীগের মুরব্বীরা।

রোববার টঙ্গীর ইজতিমা ময়দানে তাবলীগের স্বঘোষিত আমীর ভারতের মাওলানা সাদ ও বাংলাদেশী ওয়াসিফের অনুসারীদের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাবলীগের মুরব্বী মুফতি আমানুল হক তার লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, সাদপন্থী গোমরাহীরা অন্যায়ভাবে বর্বর হামলা করে বিশ্ব ইজতিমার শান্তিপূর্ণ প্রস্তুতি-কাজকে যেমন নষ্ট করে দিয়েছে, তেমনি যুগ যুগ ধরে উপমহাদেশের মুসলমানদের এই মিলনস্থলকে অপমানিত ও অসম্মানিত করেছে। তাদের গোমরাহীর কারণে আজ ইসলামের মহান খেদমতে নিয়োজিত তাবলিগ জামাত সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে।

মুফতি আমানুল বলেন, সাদপন্থীরা যে গোমরাহী মতাদর্শে বিশ্বাস করে নিরস্ত্র মুসল্লী-মুসলিম ভাইদের উপর তাদের এই সশস্ত্র ও সন্ত্রাসী হামলা তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, নানান কারণে আসন্ন টঙ্গী ইজতেমার মাঠের কাজ এই বছর বিলম্বিত হয়। তাই ঢাকার সাথী ও মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা ৩ দিনের জামাতবদ্ধ হয়ে টঙ্গীর মাঠের কাজ আঞ্জাম দিচ্ছিলেন। কিন্তু তাদের উপর দিল্লির নিজামুদ্দিনের মাওলানা সাদ-এর অনুসারী ওয়াসিফুল ইসলাম ও নাসিম গংরা নিরীহ-নিরস্ত্র সাথী, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের উপর লাঠি-সোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে এ সময় পুলিশের ভূমিকা ছিলো নীরব ও রহস্যজনক। পুলিশ এ সময় দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাঠে প্রবেশ করতেও সহযোগিতা করে তারা। কিন্তু প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলেছিলো আপনারা ভেতরে থাকেন। আমরা বাইরে দেখছি। বাহির থেকে কেউ ভেতরে যেতে পারবে না।’

‘প্রশাসনের কাছে জাতির প্রশ্ন সারা দেশ থেকে হাজার হাজার সাদপন্থী টঙ্গীতে একত্র হলো কীভাবে?’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মিডিয়ায় যে সমস্ত ছোট ছোট মাদরাসার ছাত্র দেখানো হয়েছে তারা মূলত টঙ্গী মাঠের ভেতরে অবস্থিত মাদরাসার ছাত্র। এই মাদরাসাটি কাকরাইলে অবস্থিত মাদরাসার শিশু বিভাগ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভিডিও ফুটেজে যেসব শিশুদের দেখানো হয়েছে তারা সেই মাদরাসারই ছাত্র। তাদের সেখানে নেয়া হয়নি; বরং তারা সেখানে থেকেই লেখাপড়া করে।’

পরবর্তীতে তিনি মাওলানা সাদ সবার সিদ্ধান্তের বাইরে কীভাবে নিজেকে আমির হিসাবে দাবি করলেন এবং তাকে কেন মান্য করা সম্ভব নয় সংক্ষেপে তা তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরও দেন মাওলানা আমানুল হক।

‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনের আগে দুই পক্ষের কেউ জমায়েত হবে না’ এমন প্রশ্নের উত্তরে মুফতি আমানুল হক বলেন, ‘টঙ্গীর ইজতেমার প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য প্রায় ছয় মাস সেখানে থেকে কাজ করতে হয়। শেষের দিকে প্রতিদিন ৫-৬ হাজার সাথী কাজ করেন এবং শুক্রবার ৩০ হাজার সাথী কাজ করেন। এটাকে আমরা জমায়েত বলি না। এটা কাজের জন্য যাওয়া।’

একই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, প্রশাসন ইজতেমা স্থগিত করেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচন যথা সময়ে হলে ইজতেমাও যথা সময়ে হবে। যদি ইজতেমা যথা সময়ে হয় তাহলে তার প্রস্তুতি তো এক সপ্তাহে শেষ করা যাবে না। তাই ইজতেমার প্রস্তুতির কাজ চলছিলো। আমাদের প্রশ্ন নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তারা সেখানে কীভাবে পৌঁছালো? আমাদের প্রশাসন কি এতোই দুর্বল?’

‘আহতদের তালিকায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বেশি দেখা গেছে এবং সাধারণ সাথীরা কি আপনাদের প্রতি আস্থাহীন?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে মুফতি আমানুল হক বলেন, দাওয়াতের কাজ কোনো নির্ধারিত শ্রেণির জন্য নয়। তাহলে মাদরাসার ছাত্ররা কেন অংশ নিতে পারবে না? মাদরাসার ছাত্ররা আগেও শুক্রবার এসে কাজ করেছে। সমস্যা না হওয়ায় তা চোখে পড়েনি। সাধারণ সাথীরাও ছিলো শুক্রবার হওয়ায় মাদরাসা ছাত্ররা অন্যদিনের তুলনায় বেশি ছিলো।

মামলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘টঙ্গীর ঘটনার জন্য মামলার বিষয়টি আহত ব্যক্তি, তাদের অভিভাবক ও আমাদের মুরব্বিদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবো।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি আমানুল হক জানান, ‘মাদরাসা থেকে কাউকে জোরপূর্বক আনা হয় না। তাদের উৎসাহমূলক কথা বলে আনা হয়েছে। ছাত্রদের বক্তব্য বিষয়ক যে ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে তা বানোয়াট।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের আটক করে মারধার করার পর তাদেরকে এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে।’

তিনি টঙ্গী ইজতেমার মাঠে সাদপন্থীদের হামলা যে পরিকল্পিত ছিলো তার প্রমাণ পেশ করে বলেন, ‘তারা হাতে ফিতা ব্যবহার করা হয়েছে সবুজ ও লাল। যা পরিকল্পনার প্রতি ইঙ্গিত বহন করেন।’

এই সমস্যার সমাধান এবং উভয় পক্ষের বোঝাপড়া সম্ভব কী না? এমন প্রশ্নের উত্তরে মাওলানা মুহাম্মদ যোবায়ের বলেন, ‘আমি একই প্রশ্নের উত্তর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে দিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, ‘আমরা কুরআন ও হাদিসের উপর চলছি এবং তারা কুরআন-হাদিস বিকৃত করা একটি ভ্রান্ত মতবাদের উপর চলছে। এখন আমরা কুরআন-হাদিস ছেড়ে তাদের সাথে মিলবো নাকি তারা আমাদের সাথে মিলবে?

‘আমার এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি যদি কুরআন-হাদিসের হয় তাহলে আমি আপোষ করাতে আসিনি। তা আমি জানি না। এই দেশ মুসলমানের দেশ। মুসলমান কখনো কুরআন-হাদিসের ব্যাপারে আপোষ করতে পারে না’, যোগ করেন মাওলানা যুবায়ের।

নির্বাচনের আগে ইজতিমা বন্ধের নির্দেশ সম্বলিত ইসির এক আদেশের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টঙ্গীর মাঠে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশে সাদপন্থি তাবলিগি মুরব্বি সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের নির্বাচন কমিশন বরাবর ২৪ নভেম্বর দাখিলকৃত একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে সংসদ নির্বাচনের আগে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা স্থলে সব ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ঐ আবেদনে টঙ্গীর মাঠে তাবলিগ জামাতের কোনো অনুষ্ঠান হলে ময়দানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা জারি করে চিঠি ইস্যু করে।

আর এভাবেই সাদপন্থী গোমরাহিরা প্রশাসনকে প্রভাবিত করে টঙ্গীর ইজতিমা ময়দান ও তাবলিগকে কলঙ্কিত করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।

এদিকে, তাবলিগ জামায়াতের বিভক্তিকে ইসলাম বিদ্বেষীদের চক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে তাবলিগের কাজ স্ব-মহিমায় চলে আসছে। তাবলিগ জামায়াতে কোনো দ্বিধা-বিভক্তি ছিল না। বর্তমানে তাবলিগ জামায়াতে বিভক্তি ও হতাহতের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ইসলাম বিদ্বেষীদের চক্রান্ত বলে আমি মনে করি।

টঙ্গীর ইজতেমার মাঠ দখল করতে উলামায়ে কেরাম, তাবলিগের সাধারণ সাথী এবং মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর নগ্ন হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী এসব কথা বলেন।

তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে ইজতেমার মাঠ দখল নিয়ে অপ্রীতিকর ও নির্মম ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

তিনি বলেন, ‘ইজতেমা ময়দান নিয়ে এরকম নির্মম লড়াই কেউ কামনা করে না। ইসলাম কখনোই এ ধরনের লাঠালাঠি, মারমুখি তাবলিগের কাজ সমর্থন করে না। এটা কখনো তাবলিগের কাজই হতে পারে না।’

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ টঙ্গীর তাবলীগ ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের বর্বর হামলাঃ সংঘর্ষে নিহত ১

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে তাবলীগ জামাতের সাদপন্থীদের বর্বর হামলার পর দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ২ শতাধিক মুসল্লি আহত হয়েছেন।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

জানা গেছে, সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত একজন মারা গেছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মাঠের বাটা গেট ও টিনশেট মসজিদসহ মাঠের প্রবেশ পথগুলোতে পাহারা বসিয়েছে তারা। মাঠে সাধারণ সাথী বা অন্য কারো প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। মাঠের ভেতরে থেকে সাথীদেরও খুঁজে খুঁজে বের করে দেয়া হচ্ছে সেখান থেকে।

মাঠের ভেতরে অনেক আহত সাথী আটকা পড়ে আছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আকস্মিক হামলায় কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন অনেকে।

সাদপন্থীদের শনিবারের হামলায় শতাধিক সাধারণ সাথী ও মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদেরকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় রক্তাক্ত হয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে অনেককে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ফজরের পর থেকে ইজতেমা মাঠের গেটগুলো জড়ো হতে থাকে সাদপন্থীরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাদের ভীড় বাড়তে থাকে।

বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে তারা বাটা গেট ও টিনশেট মসজিদ গেঠ ভাঙ্গতে শুরু করে একই সময় একযোগে সবগুলো গেটে হামলা করে সাদপন্থীরা।

এ সময় পুলিশ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করে। সকাল থেকে পুলিশ পাহারা থাকলেও তারা গেট ভাঙ্গতে বা মাঠে প্রবেশ করতে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিস্থিতি সংঘর্ষের দিকে যাচ্ছে দেখেও পুলিশ কেন তাদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দিলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অনেকেই।

এখন অবশ্য পুলিশ প্রশাসন উভয় পক্ষকে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন। শনিবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক আহবান করা হয়েছে।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ইসি সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়ন করে চলছেঃ মির্জা ফখরুল ইসলাম

ফাইল ছবি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। তারা সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়ন করেই চলছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এই অবস্থায় কতটুকু নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব? গতকাল বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ফখরুল বলেন, উনার কথার প্রতিক্রিয়া আমি দিতে চাই না কখনো। কারণ উনি অধিকাংশ অবান্তর কথা বলেন। ফখরুল বলেন, নির্বাচনটা দিন না সুষ্ঠুভাবে। দেখেন কে কতটা আসন পান। আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি। ৩০টার বেশি আসন পাবেন না।

তিনি বলেন, এত দুশ্চিন্তা কেন? এর আগে বলেছেন আমরা নাকি নির্বাচনে প্রার্থী খুঁজে পাব না। পরে দেখা গেল প্রতিটা আসনে দুইজন তিনজন করে প্রার্থী দিয়েছি। এখন বলছেন নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবো কিনা সন্দেহ আছে। ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবো বলেই নির্বাচনে এসেছি। এত লড়াই সংগ্রাম করছি। তিনি বলেন, সারা দেশে আমাদের যারা প্রার্থী হয়েছেন প্রত্যেকের নামে একাধিক মামলা আছে। আমার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় মামলার বিবরণ দিতে ৪ পৃষ্ঠা লেগেছে। ফখরুল বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে কিনা তা নির্ভর করবে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর।

আমরা বিগত ৭ বছর সংবিধান সংশোধনসহ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা আলোচনা করেছি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও। কিন্তু কিছুই করেনি। সরকার এসবে কোনো কর্ণপাত না করে একতরফা নির্বাচন করতে ও তাদের নিলনকশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। আমরা বারবার অভিযোগ করার পরও আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করেই চলেছে। কোনো ধরনের লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়নি। বর্তমানে যে অবস্থা তাতে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। ফখরুল বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ করেছিলাম। সেখানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তফসিলের পর কোনো গ্রেপ্তার হবে না। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সরকারের নির্দেশে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেই চলেছে।

এভাবে নির্বাচনের মাঠে খারাপ পরিবেশ তৈরি হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, ৮ তারিখে তফসিল ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জে ২৫ জন, ঢাকা মহানগরে ৩৯৪ সহ, মানিকগঞ্জ ও বগুড়ায় ৫৩৭ জন। ২৬ তারিখে ৩ জনসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে এখনও বলছি এসব বন্ধ করতে হবে। তা না হলে নির্বাচনের পরিবেশ কি হবে তা আমরা বলতে পারছি না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিচার বিভাগকে সরকার পুরোপুরিভাবে করায়ত্ত করে ফেলেছে। বৃহস্পতিবারও আমাদের সিনিয়র নেতা খায়রুল কবির খোকনকে আদালত জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন। আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অন্যদিকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। এই সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। পুরো জাতিকে তারা সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাই কোনো ধরনের সংঘাত হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটা জিনিসকেই ভয় পান।

সেটি হলো সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনকে তিনি ভয় পান বলেই নিলনকশা বাস্তবায়নে সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। আর বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এগুলো করছে। এ সময় তিনি বলেন, শনিবার বা রোববার আমরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিতে যাব। ইতিপূর্বে আমরা বহু চিঠি দিয়েছি। তাতে কোনো কাজ হয়নি। তারপরও আমরা যাব। জামায়াতকে কত আসন ছাড়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ জামায়াত নেই। এখন সব ধানের শীষ। জামায়াতের কোনো প্রার্থী নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী কোন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় শোডাউন বা মিছিল করতে পারবেন না। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে পারবেন না। কিন্তু আমার আসনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় শোডাউন করেছেন। মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন। এ সময় বেশ কয়েকটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ওবায়দুল কাদের শোডাউন করেছেন, সমাবেশ করেছেন। সেখানে বক্তব্য দিয়েছেন। এসবের ছবিসহ ভিডিও আছে আমার কাছে।

তিনি বলেন, এই আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে আমি নির্বাচন কমিশনে একটি চিঠি দিয়েছিলাম ২০ তারিখে। কিন্তু তার কোনো প্রতিকার পাইনি। পরে ২৮ তারিখ আমি মোবাইলে সিইসির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, বিষয়টা আমি দেখি না। আমাকে এখনো এই ধরনের কিছু জানানো হয়নি। তারপরও আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। কিন্তু কোনো ধরনের পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত তিনি নেননি। এ সময় মওদুদ আহমদ বলেন, এই নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু ইসি মূলত বর্তমান সরকারের তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করছে। তাদের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, আমি ৫ বার নির্বাচিত হয়েছি। প্রায় ৬০-৭০ ভাগ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। ২০০৮ সালের পরিকল্পিত নির্বাচনে ওবায়দুল কাদের মাত্র ১৩ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন। অথচ আমি এর আগে ৮৬ হাজার ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। যাক এসব নিয়ে কথা বলতে চাই না। গত ৫ বছরে আমার ২১ হাজার নেতাকর্মীকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

ঘরবাড়ি, দোকানপাট লুট করে নেয়া হয়েছে। গত রমজানের ঈদে আমার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ৭ দিন ঘর থেকে বের হতে দেয়া হয়নি। পুলিশ পিকআপ বাড়ির রাস্তার মাঝখানে এলোপাথাড়ি করে রাখা হয়েছিল। কোরবানির ঈদেও আমাদের ঘর থেকে বের হতে দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, আশা করেছিলাম তফসিল ঘোষণার পর থেকে এসব বন্ধ হবে। কিন্তু হয়নি। আমার নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। বিনা দ্বিধায় বলতে পারি সুষ্ঠু ভোট হলে ধানের শীষ বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ সংসদ নির্বাচনের আগে প্রশাসনে রদবদলে আগ্রহী নয় নির্বাচন কমিশনঃ রফিকুল ইসলাম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রশাসনে রদবদলে আগ্রহী নয় নির্বাচন কমিশন। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে মাঠ পর্যায়ের এসব কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের ওপর নজর রাখবে কমিশন। গতকাল শুক্রবার নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রশাসনে রদবদলের আপাতত কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমরা কর্মকর্তাদের পেশাদারির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। প্রশাসনের কোন পদে কে কাজ করলো, সে বিষয়টিকে আমরা বড় করে দেখছি না। ব্যক্তি আমাদের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নন। যেকোনো ব্যক্তিই যদি পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করেন, তাহলে কোন লোকটা কাজ করলেন, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যিনি আছেন, নাম যা-ই হোক, ব্যক্তি যে-ই হোক না কেন উনার পেশাদারি যদি ঠিক রাখেন, তাহলে নির্বাচনে তার ওপর প্রভাবটা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। যার যার জায়গা থেকে পেশাদারিত্ব নিয়েই কাজ করবেন- সেটাই আমরা দেখবো, আমরা ওই পেশাদারির পেশাদারিত্বের জায়গাটাকে ঠিক করতে চাই। পুরো প্রশাসনকে উলট-পালট করে পেশাদারিত্ব ঠিক করা যাবে না বলেও মনে করেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় বাজেট, সময় ও অন্যান্য বিষয় মাথায় রেখেই নির্বাচনের আগে ব্যাপক রদবদলে গুরুত্ব দিচ্ছে না কমিশন। তবে কোনো কর্মকর্তা পেশাদারির পরিচয় দিতে ব্যর্থ হলে ব্যক্তিগতভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কমিশন। কোনো প্রার্থী বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে কমিশন সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দলের অভিযোগ রয়েছে। তাই বলে কি প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে কমিশনের দৌড়াতে হবে? ‘যেমন দাবি আছে সব ওসিকে পরিবর্তন করা, ইউএনও, ডিসিকে পরিবর্তন করা। এদের পরিবর্তন করতে যে বিশাল বাজেট লাগবে, সরকারের অন্যান্য কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়ে যাবে। আমরা কী এত সব কিছু করতে পারি! আমরা সরকার নই, নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকালে হোক আর যা-ই হোক, একটা সরকার বলবৎ আছে। সংবিধান অনুযায়ী সে সরকারের কাছে নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত আছে। উনাদের দায়িত্ব তো আমাদের পালন করার কথা নয়। তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যদি কেউ প্রভাব বিস্তার করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। সে যদি সেক্রেটারিও হয়, আমরা ব্যবস্থা নেব, আইজিপি হলেও ব্যবস্থা নেব। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে, এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলেই কেবল কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

সম্প্রতি গণভবনে সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠান আয়োজন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে রফিকুল ইসলাম বলেন, এতে আচরণবিধির লঙ্ঘন হয়েছে বলে আমি মনে করি না। কারণ, তিনি এখনো দেশের প্রধানমন্ত্রী। গণভবন উনার বাসভবন, নিজের বাসভবনে বসে তিনি যে কারো সঙ্গে দেখা করতেই পারেন। তবে, সরকারি বাসভবনে দলের নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহার করলে কমিশন তা দেখবে বলেও জানান রফিকুল ইসলাম।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিশন কোনো চাপে নেই উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসনের শেষ স্তর পর্যন্ত সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করাই এখন কমিশনের মূল চ্যালেঞ্জ। এমনকি এই ব্যবস্থাপনায় ভোটার, প্রার্থী ও পোলিং এজেন্টরাও রয়েছেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে এত বিশাল জনগোষ্ঠী জড়িত, পুরো জনবলকে এক জায়গায় এনে একই সুরে, একইভাবে কাজ করানোটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় নয় বরং প্রতিটি ছোটখাট বিষয়কেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে কমিশন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগের বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, উনারা যে চিঠিপত্র দিয়েছেন, আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করেছি। যেগুলোতে আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি, সেগুলো আমলে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছি। হুট করে আমাকে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বলা হলো ব্যবস্থা নিতে, প্রক্রিয়া ছাড়া তো এটা করা সম্ভব নয়।

দুজন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা না নেয়ার বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই প্রার্থীদের সঙ্গে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয়ে থাকে আইন অনুযায়ী কমিশনের হস্তক্ষেপে তারা প্রয়োজনে নির্বাচনের আগের দিনও প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন। কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে বলেও জানান রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী এক শতাংশ ভোটার ভেরিফিকেশনের বিষয়টি আমলে নিয়েই তাদের মনোনয়ন জমা নেয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেয়ার সুবিধায়, আগ্রহী ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যবস্থায় ব্যালট পাঠানো হবে বলেও জানান রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রক্রিয়াটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ। তবে ভবিষ্যতে প্রবাসীদের ভোট দেয়ার প্রক্রিয়া আরো সহজ ও দ্রুততর করতে কমিশন কাজ করবে।

উৎসঃ মানবজমিন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here