সুস্থ হবার সম্ভাবনা যতদিন এরশাদ লাইফ সাপোর্ট ততদিন : জিএম কাদের

0
79

সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত আছে জানিয়ে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি (জিএম কাদের) বলেছেন, যতদিন এরশাদের সুস্থ হবার সম্ভবনা থাকবে- ততদিনই তাকে লাইফ সাপোর্টে রেখে চিকিৎসা দেয়া হবে। তার শারীরিক অবস্থা কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে, আবার কোন কোন ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে এরশাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা তিনি গণমাধ্যমকে জানান। এসময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, এস.এম. ফয়সল চিশতী, মো. আজম খান, আলমগীর সিকদার লোটন, উপদেষ্টা ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জিএম কাদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলেন, এরশাদের পালস্ ও রক্তের চাপ স্বাভাবিক রয়েছে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রয়েছে অক্সিজেন সাপোর্টে। আর ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে পল্লীবন্ধুর রক্তের বর্জ্য বের করা হয়েছে। কিডনী, লিভারসহ অন্যান্য অর্গানগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করলে লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হবে। তিনি বলেন, এরশাদের হজম প্রক্রিয়ায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তার মলের সাথে এখন আর রক্তক্ষরণ হচ্ছে না। রক্তে প্লাটিলেট দেয়া হচ্ছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের বলেন, এরশাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার শতভাগ প্রস্তুতি আছে। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে বিদেশে নেয়া হয়নি। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসায় সন্তোষ প্রকাশ তিনি বলেন, দেশী-বিদেশী চিকিৎসকদের পরামর্শে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে বিশ্বমানের চিকিৎসা হচ্ছে।

মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মন্ত্রীর পদমর্যাদায়, তাই সরকারিভাবেই তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হবে। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের শেষ রক্ত বিন্দু থাকতে পল্লীবন্ধুর উন্নত চিকিৎসায় কোন সমস্যা হবেনা। এরশাদের শারীরিক অবস্থার আরো উন্নতি হলেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া হবে।

এর আগে জাতীয় পার্টি মহানগর উত্তরের আয়োজনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রোগমুক্তি এবং সুস্থতা কামনায় দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় পার্টি মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম ফয়সল চিশতীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী। মহানগর উত্তরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা দোয়া মাহফিলে যোগ দেন।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ জনগণকে ধীরে ধীরে রাস্তায় আনার চেষ্টা চলছেঃ মির্জা ফখরুল ইসলাম


একাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক বিপর্যয়ের পর হতাশায় ন্যুব্জ হয়ে পড়া বিএনপি ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। গত দুই মেয়াদে সরকারের ‘নিপীড়নমূলক আচরণ’ বিবেচনায় এনে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন রোডম্যাপে পথ চলতে চায় দলটি। এই পথ দীর্ঘ হলেও মাথা ঠাণ্ডাই রাখতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের চিন্তা অনুযায়ী- আগামীতে আন্দোলনের ধরনে পরিবর্তন আসবে। দলের নেতৃত্বকেও শক্তিশালী কাঠামো দেয়া হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়া দিগন্তকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আন্দোলনের আগে দেখতে হবে তাদের সংগঠন ঠিক আছে কি না। পরিস্থিতি অনুকূল কি না। কারণ বিএনপির ২৬ লাখ নেতাকর্মী আসামি। ১ লাখ মামলা। ১ হাজারের ওপরে নেতাকর্মী জেলে আছেন। এই পরিস্থিতিতে হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নিলে চলবে না। অনেকে নব্বইয়ের আন্দোলনের কথা বলেন। কিন্তু ১৯৯০ আর ২০১৯ এক না, এটা মাথায় রাখতে হবে। সে সময় এমন ভয়াবহ সরকার ছিল না। চরম নির্যাতনকারী সরকার ছিল না। তখন নির্বিচারে গুম, খুন, গুলি হতো না।

হতাশা কাটিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে বিএনপি নানামুখী পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। দেশজুড়ে সমাবেশের কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব দিয়ে পুনর্গঠন করা হচ্ছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি। দীর্ঘ দিন ধরে মামলা-হামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে এখন প্রাণের সঞ্চার করতে চায় হাইকমান্ড।

পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে দলের জাতীয় কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি। তবে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঠিক হয়নি। কাউন্সিলের আগে তাদের মূল কাজ হচ্ছে জেলা কমিটিগুলো হালনাগাদ করা। এগুলো প্রায় শেষের দিকে। পুরোপুরি সম্পন্ন হলেই কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু হবে। এগুলো শেষ হলে কাউন্সিলের প্রস্তুতি এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে।

জানা গেছে, ৮১টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এরই মধ্যে ৩৩টির বেশি জেলার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ৪৮টি জেলার কাজ দ্রুত সময়ে শেষ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। বেশ কয়েকটি জেলার নতুন কমিটি গঠনের কাজ প্রায় শেষ। শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে। জেলা কমিটিগুলোকে দ্রুত উপজেলা ও পৌর কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ দিকে চলতি মাস থেকেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাঠের কর্মসূচি বেগবান করতে চায় বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ধারাবাহিকভাবে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ হবে। বিগত সময়ে হরতাল অবরোধের কর্মসূচি দিয়ে বিপর্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবার ওই ধরনের কোনো কর্মসূচি না দিয়েই সফলতা পেতে চায় দলটি। আন্দোলনের সাথে যাতে সরাসরি জনগণ সম্পৃক্ত হয় সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী ছক সাজানো হচ্ছে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, ঢাকাসহ সারা দেশে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুর আন্দোলনে রাজপথ উত্তপ্ত করা সাধারণ মানুষের সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করে গণ-অভ্যুত্থান ঘটানোই দলটির পরবর্তী পরিকল্পনা। এ লক্ষ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। আর আন্দোলনের ধরনের পরিবর্তন আনার বিষযটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দলের সিনিয়র নেতাদের মতে, একসময় সরকারকে চাপে ফেলার আন্দোলন হিসেবে শুধু হরতাল অবরোধকেই ভাবা হতো। কিন্তু সময় পরিবর্তন হয়েছে। সাধারণ মানুষ আর ধ্বংসাত্মক কোনো কর্মসূচি চায় না। তবে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে চায়। কিন্তু পরিকল্পিত কোনো কর্মসূচি, কার্যকরী দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বের ঘাটতির কারণে আন্দোলন সফল হচ্ছে না। তাই জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জনগণ যাতে সম্পৃক্ত হয় তেমন নতুন ধরনের কর্মসূচি দেবে বিএনপি।

জানা গেছে, সম্প্রতি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির দুর্বল কর্মসূচি দলের অনেক নেতাকর্মীই ভালোভাবে নেননি। মধ্যসারির কয়েকজন নেতা সিনিয়র নেতাদের সরাসরি বলেছে, এই ইস্যুতে বিএনপির কঠোর কর্মসূচি দেয়া উচিত ছিল। বিএনপির কর্মসূচির সাথে সাধারণ মানুষ সম্পৃক্ত হতো। জবাবে সিনিয়র নেতারা তাদের জানিয়েছেন এ ব্যাপারে বড় ধরনের কর্মসূচি দেয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন দলের হাইকমান্ডও। কিন্তু আন্দোলনের জন্য সংগঠন গুছিয়ে আনার একেবারে শেষ পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কর্মসূচিতে যাওয়া ঠিক হবে না বিবেচনায় দুর্বল কর্মসূচির মাধ্যমে দলের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে এই ইস্যুতে কার্যকরী বড় ধরনের কর্মসূচি দেয়ার কথা এখনো ভাবা হচ্ছে।

আসন্ন কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির সাথে জনসম্পৃক্ত ইস্যুগুলোকে সামনে রেখেই আন্দোলন শুরু হবে। এর মধ্যে নিরাপদ সড়ক, গুম-খুন-ধর্ষণ নির্মূলে ব্যবস্থা নেয়ার দাবির পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম, নগরীতে যানজট, জলজটের বিষয়গুলো আসবে।

বিএনপির ভবিষ্যৎ আন্দোলন সম্পর্কে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আন্দোলন ছাড়া অবস্থার পরিবর্তন হবে না। তবে যেই আন্দোলনে ফল পাওয়া যাবে না তেমন কর্মসূচিতে বিএনপি যেতে চায় না। আন্দোলনে সফল হতে হলে মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ জন্য দীর্ঘ ক্ষোভ বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষকে রাস্তায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ গ্যাসের দাম আরো বাড়ানো প্রয়োজন ছিল, মানুষের কথা চিন্তা করে বাড়াইনিঃ শেখ হাসিনা


শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্যাসের দাম যেটা বৃদ্ধি করার প্রয়োজন ছিল সেটা করা হয়নি।৭৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির দরকার ছিল সেখানে মাত্র ৩২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিরাট অংকের ভর্তুকি দিয়ে আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরববরাহ করছি। যারা এখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন তারা প্রকৃত অবস্থা চিন্তা করছেন না। তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি আমাদের এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে এখন মিশ্রিত গ্যাসের জন্য যে খরচ পড়ছে তার পুরোটা জনগণের কাছ থেকে নেয়া উচিত সেটাতো আমরা নিচ্ছি না। তিনি গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা প্রি-পেইড মিটারের চিন্তা করছি, যাতে অপচয় রোধ করা যায়।

জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন।

গত ১১ জুন শুরু হওয়া অধিবেশনটি ২১ কার্যদিবসে বৃহস্পতিবার শেষ হয়। এতে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট পেশ ও পাস হয়। এছাড়াও ৭টি বিল পাস হয়্ বাজেটের ওপর ২৬৯ জন সদসপ্রায় ৫৫ ঘন্টা ৩৬ মিনিট বক্তব্য রাখেন।

শেখ হাসিনা তার সমাপনী বক্তব্যে বাজেট আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদকে প্রাণবন্ত করেছেন। শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করা হয়েছিল উল্লেখ করে বলেন, পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পুণতা অর্জনসহ নানা ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করে।এরপর আবার কলো অধ্যায়ের সূচনা হয় এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গত এক দশকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহীসোপানে যাত্রা শুরু করেছে। এখন বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেলে পরিণত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট দেয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমরা এখন ৯৯ ভাগ আমাদের নিজেদের অর্থায়নে করতে পারি। এবার আমর ৯৪ ভাগ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। আমরা নিজেদের স্বাবলম্বী করতে চাই, কারো কাছে হাত পেতে নয়। সেটা আমরা আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছি। তিনি দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ডলারে উন্নীত করতে পারবো। তিনি দেশের মানুষের গড় আয়ু পুরুষের ৭২.৮বছর এবং নারীর ৭৩ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে বলেন, খাদ্যে ভেজালের কথাও শুনতে হচ্ছে। তারপরও গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে সরকারের সার্বিক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, আর্থসামাজিকভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, গ্যাসের দাম নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। ভারতে গ্যাসের দাম নাকি কমানো হয়েছে। দাম বাড়ানোর প্রয়োজন কেনো হলো তা ব্যখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, গ্যাসের চাহিদার কারণে আমাদের প্রাকৃতি গ্যাসের পাশাপাশি এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। এ কারণে যেখানে ৭৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির দরকার ছিল সেখানে মাত্র ৩২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ঘনলিটার গ্যাসের দাম নেয়া হচ্ছে ৯.৮০ টাকা। অথচ এই গ্যাস খাতে প্রতিবছর সরকারকে ৩০ হাজার কোটি টাকা দেয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই হিসেবে দাম যেটা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ছিল সেটা করা হয়নি। আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। প্রতি ঘনলিটার গ্যাসের দাম যেখানে পড়ে ৬১.১২ টাকা সেখানে নেয়া হচ্ছে ৯.৮১ টাকা অথ্যাৎ ৫১.৩২ টাকা সরকার আর্থিক সহায়তা করছে। এই হিসেবে এখনো বছরে ১৯ হাজার ১০ কোটি টাকা ভর্তূকি দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন পেট্রোবাংলা ১০২ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিল। দামতো আরো বাড়ানো যেতো, কিন্তু আমরা বাড়াইনি মানুষের কথা চিন্তা করে। তিনি বলেন, আমাদের প্রাকৃতি গ্যাস অপ্রতুল । ফলে এলএনজির সংমিশ্রন করে গ্যাস দিতে হয়। এতে খরচের ব্যাপার আছে।

গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ না নেয়ার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা গ্যাস অনুসন্ধ্যান অব্যাহত রেখেছি। ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন গ্যাস রপ্তানীর প্রস্তাব দিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আমি তখন বলেছিলাম আমাদের ৫০ বছরের গ্যাস মজুদ রাখার পর যদি থাকে তাহলে চিন্তা করা যেতে পারে। কিন্তু তার আগে আমাকে জানতে হবে আমার কত গ্যাস আছে। এরপর তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আবারো মুচলেকা নিতে চেয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সম্পদ অন্যের হাতে তুলে দিয়ে ক্ষমতায় আনতে হবে সেই রাজনীতি করি না। আমি মুচলেকা দেইনি, খালেদা জিয়া দিয়েছিল। সেজন্য সেবার আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সংসদ নেতা আবারো বলেন, এখানে আমাদের আমাদে খরচটাতো বিবেচনায় নিতে হবে। আমাদের এনার্জি ছাড়াতো চলবে না। খরচের পুরোটাইতো জনগণের কাছ থেকে নেয়া উচিত, সেটাতো আমরা নিচ্ছি না। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে গ্যাসের দামের তুলনামূলক একটি চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদেরতো ভারতের তুলনায় দাম অনেক কম। শুধুমাত্র সিএনপি আমাদের ৪৩ টাকা আর ভারতে ৪৪ রুপিজ তাহলে ভারতে দাম কমলো কিভাবে? তারাও কিন্তু গ্যাসে ভর্তুকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের গ্যাস ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। আগে শিল্প মালিকরা বলেছেন, আমাদের আগে গ্যাস দেন, যত টাকা লাগে দেবো। এখন গ্যাস দেয়ার পর যারা আন্দোলন করছেন তারা প্রকৃত অবস্থা চিন্তা করছেন না। তিনি বলেন, বিদ্যুতেও আমাদের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সেটার পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকা। সেটাতো আমরা মানুষের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি না। এভাবে বিরাট অংকের ভতূর্কি দিয়ে আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। ফলে গ্যাসের ব্যবহারে আমাদের সচেতন হতে হবে। আমরা প্রিপ্রেইট মিটারের চিন্তা করছি যাতে অপচয় রোধ করা যায়।

শেখ হাসিনা চাকুরির বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি প্রসঙ্গে বলেন, এখন যে শিক্ষা ব্যবস্থা তাতে ২৩ বছরে একজন শিক্ষাজীবন শেষ করে বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারে। এরপর ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিবার পরীক্ষা দিতে পারে। পৃথিবীর কোন দেশে এতো বার পরীক্ষা দিতে পারে না। তিনি শিক্ষাখাতে সরকারি ভতুর্কির কথা উল্লেখ করে বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে শিক্ষাখাতে এতো ভর্তুিক দেয় না। তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাথাপিছু শিক্ষার্থীদের ভতুকি প্রদানের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে এক সময় অস্ত্রের ঝনঝনানি ছাড়া কিছু ছিল না। এখন সেটা হয় না। আস্তে আস্তে এই পরিবেশ আমরা আরো উন্নত করতে পারবো। তিনি কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, ভিসির বাসায় যে আগুন দেয়ার মতো ঘটনা এর আগে দেখিনি। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বিচার করা দরকার যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে সাহস না করে। তিনি বলেন, শিক্ষাখাতে যত টাকা লাগে আমরা দিয়ে যাচ্ছি।

সামাজিক অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, শিশুদের ওপর অত্যাচার হচ্চে। কথায় কথায় মানুষ খুন করা হচ্ছে। এগুলো মিডিয়ায় আসে। পত্রিকায় খবর আসার পর এসব অপরাধ আরো বৃদ্ধি পায়। আমি আশা করবো যারা এসব অপরাধ করে তাদের ছবি যেন দেখানো ও প্রকাশ করা হয় বার বার যাতে অন্যরাও এই ধরণের অপরাধ করতে সাহস না পায়। আর আইনটা আরো কঠোর করার দরকার। পুরুষরা এইসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাই এ ব্যাপারে পুরুষদেরও সোচ্চার হতে হবে।

ডেঙ্গুজ্বর প্রসঙ্গে বলেন, এসব মশা ভদ্র জায়গায় থাকে। স্বচ্ছ পানিতে এগুলো জম্মায় বাড়ির আঙ্গিনা, টব, এসির পানি সব পরিস্কার রাখতে হবে যাতে পানি না জমায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে দেশকে আরো সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবো আমরা। বাংলাদেশকে ২০৪১ সালে মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সব থেকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করবো।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ বিচারপতিদের মনে ভীতি সঞ্চয়ের জন্য সিনহার বিরুদ্ধে মামলা: ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন


বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ,এম,মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে সরকার দুদকের ওপর প্রভাব বিস্তার করে স্বাধীন বিচার বিভাগের গায়ে কালিমা লেপন করেছে। গতকাল সুপ্রিম কোটের এনেক্সে ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর মামলাগুলোর রায় সরকারের পক্ষে রাখার জন্য এবং বিচারপতিরা যেন স্বাধীনভাবে রায় প্রদান করতে না পারে সেলক্ষ্যে বিচারপতিদের মনে ভীতি সঞ্চর সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সরকার/রাষ্ট্রযন্ত্র প্রভাব খাটিয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক মামলা দায়েরের বিষয়ে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নেয়ার আপিলের রায় নিয়ে মূলত সরকারের সঙ্গে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দূরত্বের সূত্রপাত হয়। এছাড়া, ২০১৭ সালের ১লা আগস্ট আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কিছু পর্যবেক্ষণকে ভালোভাবে নেয়নি সরকার। সরকারি দল ও জোটের নেতা এবং সংসদ ও মন্ত্রীরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান জাতীয় সংসদ ও এর বাইরে সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহাকে উদ্দেশ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেয়া হয়। সরকারি দলের অনেক নেতা তখন সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হবে বলে হুমকি দেন।

এছাড়া, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করতে চাওয়ায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হন।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার দুই কর্মকর্তার পকেটেই মাসে ৬০ লাখ টাকা


বন্দি আর দর্শনার্থী যেন টাকা বানানোর মেশিন! তাদের পিষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের কর্মকর্তারা পকেটে ভরেছেন প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা। দুই শীর্ষ কর্মকর্তার কামাই কমপক্ষে ৬০ লাখ টাকা। পদে পদে বাণিজ্যে তাদের এই রোজগার। বন্দি দেখতে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে মসজিদের নামে যে ১০ টাকা করে রাখা হয় তাও নিজের পকেটে ঢুকানোর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক তদন্তে এই কারাগারে রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র ওঠে আসে। বাণিজ্যের খাত থেকে কারা কর্মকর্তারা কত টাকা নিচ্ছেন মানবজমিনের অনুসন্ধানে মিলেছে সেই তথ্য। তিতাস, যমুনা, মেঘনা ও পদ্মা নামের ৪টি কারা ভবনে ওয়ার্ড রয়েছে ১৮টি। প্রত্যেক ওয়ার্ড একজন পুরনো বন্দির নিয়ন্ত্রণে থাকে।

এই নিয়ন্ত্রকরা প্রত্যেকে ১৫ হাজার টাকা করে দেন কারা কর্মকর্তাদের। পরে তারা বন্দিদের নানাভাবে নির্যাতন করে টাকা আদায় করেন। ১৫ হাজার টাকার বাইরে যত টাকা আদায় হবে সবই নেবে নিয়ন্ত্রকরা। কারা ভবন তিতাসে ৪ জন, যমুনায় ৬ জন, মেঘনায় ৪ জন এবং পদ্মায় ৪ জন নিয়ন্ত্রক রয়েছে। নতুন বন্দি এলে কেইস টেবিল থেকে একেকজনকে ৫শ’ টাকা করে কিনে নেন নিয়ন্ত্রকরা। ওয়ার্ডে এক হাত জায়গা পেতে দিতে হয় ৩ হাজার টাকা। আর একটি কম্বল পেতে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় বলে উল্লেখ রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে।

সাক্ষাৎকালে সচ্ছল বন্দির মহিলা আত্মীয়দের ফোন নম্বর রেখে দেন কারারক্ষীরা। পরবর্তীতে বন্দির মাধ্যমে টেলিফোন করে নির্যাতন করার কথা বলে বাড়ি থেকে অতিরিক্ত টাকা আনতে বাধ্য করা হয়। কারা হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ ৫ জনের হাতে। হাসপাতালে শয্যা রয়েছে ২১টি। হাসপাতাল নিয়ন্ত্রকদের প্রত্যেকে ১৫/২০ হাজার টাকা দেন কারা কর্মকর্তাদের। এই হাসপাতালের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় মাসিক ১০-২০ হাজার টাকার বিনিময়ে আর্থিকভাবে সচ্ছল ও প্রভাবশালী বন্দিরা হাসপাতালে অবস্থান করে হাসপাতালটিকে তাদের নিজস্ব বাসাবাড়িতে পরিণত করেছে। ক্যান্টিন রাইটারের দায়িত্বে থাকা ১০ জনের প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে দিতে হয় কারা কর্মকর্তাদের।

ক্যান্টিন মেডের দায়িত্বে থাকেন একজন। তাকে দিতে হয় ২০ হাজার টাকা। বাগানের মেড হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীকে দিতে হয় ২০ হাজার টাকা। সাক্ষাৎ রুমের সিআইডিকে প্রতি সপ্তাহে দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। কারাগারের ভেতর ও বাইরের ক্যান্টিনে প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকা বেচাবিক্রি হয় বলে জানা যায়। এর মধ্যে লাভই হয় ৩০ লাখ টাকা। ক্যান্টিন পরিচালনাতে হিসেবের দুটি খাতা রাখা হয়। এর একটিতে থাকে প্রকৃত মূল্যে বেচাবিক্রির হিসেব, অন্যটিতে থাকে দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রির হিসেব। কারাগারের ভেতরের ক্যান্টিন এবং বাইরের ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব পেতে একজন কারারক্ষীকে ৩ মাসের জন্য ৪ লাখ টাকা দিতে হয় কারা কর্মকর্তাদের। কারা ক্যান্টিনে দ্বিগুণের বেশি মূল্যে পণ্য সামগ্রী বিক্রির প্রমাণ পান তদন্ত কর্মকর্তারা।

ক্যান্টিনে এক কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয় এক হাজার টাকা। আর মুরগির মাংসের কেজি ৭শ’ টাকা। এক কেজি পুঁটি মাছের দাম ১৬শ’ টাকা। মাম দেড় লিটার ও ফ্রেস ২ লিটার পানি ৩০ টাকার স্থলে বিক্রি করা হচ্ছে ১৪০ টাকা। এভাবে ৩৩টি পণ্য সামগ্রীর সবক’টি দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় কারা নীতিমালা অনুযায়ী ক্যান্টিন থেকে লভ্যাংশের অর্থ কারারক্ষী এবং বন্দিদের কল্যাণে খরচ করার কথা। কিন্তু এখানে তা করা হয়নি। প্রতি মাসেই খরচের ক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষ আর্থিক বিধি বিধান ও পিপিআর ২০১৮ অনুসরণ করেনি। জেলার এবং জেল সুপার ইচ্ছেমাফিক কারা ক্যান্টিনের লভ্যাংশ অর্থ খরচ করে থাকেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়।

বন্দিদের খাবার কমিয়ে দিয়ে মাসে ১০ লাখ টাকা পকেটে ভরেন কারা কর্মকর্তারা। কারাগারের ভেতর ও বাইরে উৎপাদিত সবজি ঠিকাদারের মাধ্যমে সরবরাহ করে এর দাম বাবদ কয়েক লাখ টাকা নিজেদের পকেটে নেন তারা। প্রত্যেক বন্দির প্রাপ্য খাবারের অর্ধেকও দেয়া হয় না। তাছাড়া মোট বন্দির দু-আড়াইশো ক্যান্টিন থেকে খাবার কিনে খাচ্ছে। কিন্তু সকল বন্দির খাবার সরবরাহের হিসেব কাগজপত্র দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছেন তারা। সূত্র জানায়-বন্দিদের জন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ অনেকটাই কাগজপত্রে।

সরবরাহ সামান্য করে পুরো সরবরাহের অর্থ লুপাট করা হয়। এদিকে কারাগার থেকে সরবরাহকৃত খাবার অত্যধিক নিম্নমানের বলে উল্লেখ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। এতে তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন ‘বন্দিদের সরবরাহকৃত রুটি পরীক্ষা করে দেখা গেছে প্রতিটি রুটি খাবার অযোগ্য। সিদ্ধ করা আটার রুটি কোনোভাবে গরম করে বন্দিদের দেয়া হয়ে থাকে। দর্শনার্থীকক্ষ হতে বন্দি সাক্ষাৎপ্রার্থীদের কাছ থেকে মসজিদের নামে ১০ টাকা করে রাখা হয়। এখান থেকে প্রতি মাসে আসে ৫০/৬০ হাজার টাকা। কিন্তু গত ৪ বছরে এই টাকার কোনো হিসাব মেলানো হয়নি।

টাকা কিভাবে খরচ করা হয়েছে তার কোনো হদিস নেই। অথচ প্রত্যেক কারারক্ষীর কাছ থেকে মসজিদের ইমামের বেতনের জন্যে ১শ’ টাকাসহ মোট ১২০ টাকা কেটে রাখা হয় প্রতি মাসে। বিশেষ ব্যবস্থায় বন্দি দর্শন বা অফিস কলের জন্য একজন দর্শনার্থীর কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৫শ’ টাকা করে নেয়া হয়। কখনো কখনো এক হাজার টাকাও নেয়া হয়। কারা অভ্যন্তর থেকে জানালা দিয়ে কথা বলার জন্য বন্দিকে ১০০ টাকা প্রদান করতে হয়। এ ছাড়া কোর্টে হাজিরা দিয়ে বন্দিগণ কারাগারে ফেরত আসার সময় তাদের সঙ্গে কোনো মালামাল থাকলে তা টাকার বিনিময়ে কারা অভ্যন্তরে নিতে দেয়া হয়।

বন্দির পরিধেয় জামা কাপড় কারা অভ্যন্তরে নিতেও দিতে হয় টাকা। প্রতিটি জামা-লুঙ্গি নিতে ৩০ টাকা করে প্রদান করতে হয়। সূত্র জানায়- জামিন থেকে ৫ লাখ টাকা আসে মাসে। এই আয়ের টাকা ভোগ করেন ডেপুটি জেলার। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব বন্দি আদালত থেকে জামিন প্রাপ্ত হয়ে থাকে তাদের মুক্ত হতে অনেক বেগ পেতে হয়। অর্থ প্রদান না করলে জামিননামা আটকে রেখে বন্দিদের মুক্তি বিলম্বিত করা হয়। জামিননামার মাধ্যমে বন্দিদেরকে মুক্তি পেতে হলে সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা দিতে হয়।

তদন্ত রিপোর্টের সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়িত: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কারারক্ষীদের সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছিল তদন্ত কমিটি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কারারক্ষী ছাড়া কর্মকর্তাদের কারো বিরুদ্ধেই নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। ৬ই এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর ২৬ কারারক্ষীকে কম গুরুত্বপূর্ণ কারাগারে বদলিপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।

কারা মহাপরিদর্শকের পক্ষে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক মো. বজলুর রশিদ ২৮শে এপ্রিল চট্টগ্রামের কারা উপ-মহাপরিদর্শকের কাছে এই নির্দেশ পাঠান। তাতে ২৭শে মে’র মধ্যে অভিযুক্ত কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে কারা অধিদপ্তরকে অবহিত করতে বলা হয়। কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট পেশের ৩ মাস পরও দায়ী কারা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। তদন্তে কারাগারে সংগঠিত সব অপকর্মের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় জেল সুপার নূরন্নবী ভূঁইয়া, জেলার এজি মাহমুদ, ডেপুটি জেলার হুমায়ুন কবির, হিসাবরক্ষক মো. নাজিম উদ্দিনকে। এ ছাড়া কারা হাসপাতালের সহকারী সার্জন মো. হুমায়ুন কবির রেজা ও ডিপ্লোমা নার্স মো. নাজিরুল ইসলামকে দায়ী করা হয় হাসপাতালকেন্দ্রিক অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত থাকার জন্য। তাদের বিরুদ্ধেও নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা।

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর সর্ব প্রধান কারারক্ষী আবদুল ওয়াহেদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের কারা উপ-মহাপরিদর্শক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন- তদন্তের প্রেক্ষিতে অ্যাকশন হয়েছে। নিচের লেবেলের যেটা আমার করার কথা ছিল সেটা আমি করে ফেলেছি। ওইটা আমার অংশ না। ওপরের ব্যাপার। সেখান থেকে হয়তো ব্যবস্থা হচ্ছে।

উৎসঃ মানবজমিন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here