কাশ্মির দখলে মোদিকে অভিনন্দন জানানোর পর মারা গেল সুষমা স্বরাজ

0
761

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) নয়াদিল্লির এআইআইএমএস হাসপাতালে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি।

৩ ঘণ্টা আগেও শেষ টুইটার পোস্টে কাশ্মীরে ৩৭০ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন স্বরাজ। এই দিনের জন্য সারা জীবন তিনি অপেক্ষা করেছিলেন বলে ওই পোস্টে জানান সুষমা।

সেই টুইটের বেশ কিছুক্ষন পর তাকে সঙ্কটজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বুকে ব্যথা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। ইতোমধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন ও নীতিন গদকড়ি। এবার লোকসভা নির্বাচনে ভোটে লড়েননি তিনি। নিজেই জানিয়েছিলেন সেই ইচ্ছার কথা।

তবে, বাংলাদেশে আওয়ামীলীগকে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসাতে উনি নির্লজ্জভাবে বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। একারণে উনি বাংলাদেশের দেশপ্রেমী মানুষের কাছে ঘৃণিত ব্যক্তি ছিলেন। গত পাঁচ বছরে ভারতের স্বরাজের কথিত সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসা পেয়েছে ভারতের হিন্দুবাদী মহলে। রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তান বিরোধী কড়া বার্তা মনে রাখার মতো। যখনই কোনো ভারতীয় বিশ্বের কোনো প্রান্তে বিপদে পড়েছেন, তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সুষমা। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে আটকে থাকা মুক ও বধির ভারতীয় মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন সুষমা।

তার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে কংগ্রেস।

সুষমা স্বরাজের জন্ম ১৪ ফেব্রুয়ারী, ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে। সে একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং সুপ্রিম কোর্টের সাবেক আইনজীবী ছিলেন। ভারতীয় জনতা পার্টির একজন সিনিয়র নেতা ও সাবেক সভাপতি, তিনি ২৬ মে ২০১৪ সাল থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন; ইন্দিরা গান্ধীর পর তিনি দ্বিতীয় নারী হিসাবে এই দফতরের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি সংসদ সদস্য (লোকসভা) হিসাবে সাতবার এবং আইন পরিষদের (বিধানসভা) সদস্য হিসাবে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন।

১৯৭৭ সালে ২৫ বছর বয়সে, তিনি উত্তর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যর মন্ত্রীসভার সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হয়েছিলেন। ১৩ অক্টোবর ১৯৯৮ সাল থেকে ৩ ডিসেম্বর ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি দিল্লীর ৫ম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সুষমা স্বরাজ (নীর শর্মা) ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে হরিয়ানার আম্বালা ক্যান্টনমেন্টে হারেদে শর্মা ও শ্রীমতী লক্ষ্মী দেবীর সন্তান হিসাবে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাষ্ট্রীয় স্বায়ত্ত্বক সংঘের সদস্য। তার বাবা-মা পাকিস্তানের লাহোর শহরের ধরামপুরা এলাকা থেকে এসেছিলেন। তিনি আম্বালা ক্যান্টনমেন্টের সনাতন ধর্ম কলেজে পড়াশোনা করেন এবং সংস্কৃত ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানে প্রধানের সাথে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অধ্যয়ন করেন। হরিয়ানার ভাষা বিভাগ দ্বারা অনুষ্ঠিত একটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় তাকে তিন বছরের জন্য সেরা হিন্দি বক্তার পুরস্কার জিতেছিল। গত নভেম্বরে সুষমা স্বরাজ সব ধরনের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

উৎসঃ সময় টিভি, বিবিসি, এনডিটিভি

আরও পড়ুনঃ ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে কঠিন বার্তা দিল পাকিস্তান


সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে দিয়ে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কঠিন বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, সোমবার ভারতীয় পার্লামেন্টের রাজ্যসভায় ৩৭০ ধারা বাতিল করায় পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূখপাত্রের বরাতে ডন জানায়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব সূহাইল মাহমুদ ভারতীয় রাষ্ট্রদূত অজয় বিসারিয়াকে ডেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

কাশ্মিরি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে ভারত জাতিসংঘের কাশ্মির বিষয়ক নীতিমালা ভঙ্গ করেছে বলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ সময় কাশ্মিরে যে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকার জন্য রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে ভারতকে সতর্ক করে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ভারতের বাড়াবাড়ির কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পাকিস্তান কঠিন পদক্ষেপ নেবে বলেও হুঁশিয়ারি করা হয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের লড়াইয়ে কাশ্মিরি জনগণকে রাজনৈতিক,কূটনৈতিকসহ সর্বপ্রকারের সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন।

এর আগে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের যে সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান।

সোমবার ভারতীয় পার্লামেন্টের রাজ্যসভায় ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্বাক্ষরের পর পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তা প্রত্যাখ্যান করে।

৩৭০ ধারা বাতিলের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কাশ্মির একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা। যা আন্তর্জাতিকভাবে একটি স্বীকৃত বিষয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মির বিষয়ে ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত ওই রাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা বাতিল করতে পারে না। কাশ্মিরি জনগণ ভারতের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ কাশ্মিরের উপর অধিকার হারিয়েছে ভারত: আজাদ কাশ্মিরের প্রধানমন্ত্রী


জম্মু-কাশ্মিরের উপর ভারত পাকাপাকিভাবেই তার অধিকার হারালো।

সোমবার ভারতীয় রাজ্যসভায় ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ ও কাশ্মিরকে কাশ্মিরকে দুইভাগ করে সেখানে কেন্দ্রের শাসন প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত বিল পাশ হবার পর ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু-কাশ্মিরের প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার।

প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক বলেন, ভারত এর মাধ্যমে কাশ্মিরের উপর তার অধিকার হারালো। এ পরিস্থিতিতে আজাদ কাশ্মিরের আইনসভায় একটি বিশেষ অধিবেশনও ডাকা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা কখনোই ভারতের অংশ ছিলাম না কিন্তু ভারত আজ লাদাখ ও জম্মু ভ্যালিও হারালো।

এসময় তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক কাশ্মিরে গণহত্যা চালানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।

রাজা হায়দার বলেন, সরকার শুধু মাত্র ভারতীয় প্রোপাগান্ডার জবাবই দেবেনা বরং কাশ্মির নিয়ে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিও বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবে। ভারত এমন পরিস্থিতি তৈরি করে পাকিস্তানের সাথে একটি জটিল সম্পর্ক সৃষ্টি করছে।

আজাদ কাশ্মির প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি এবং কাশ্মিরে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের ভ্রমণের প্রস্তাব রেখেছি। আমাদের কিছুই লুকানোর নেই সেখানে যা চলছে তা অবশ্যই দেখা উচিত। ভারতের উপর চাপ প্রয়োগ করে হলেও সেখানে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের ভ্রমণ করা উচিত।

হায়দার বলেন, সরকারের খুব দ্রুতই বিশ্বনেতৃবৃন্দের সাথে কাশ্মির সমস্যা নিয়ে সমাধানে বসা উচিত।

এসময় তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, পাকিস্তানী বাহিনী নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর শক্ত অবস্থানে আছে তারা ভারতের যে কোন পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেবে। আজাদ জম্মু-কাশ্মিরের সকল জনগণ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাশে থাকবে।

হায়দার কাশ্মির ইস্যুতে সরব থাকার জন্য পাকিস্তানী রাজনীতিবীদদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ ভারতের সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙ্গে গেল : ক্যাপ্টেন অমরিন্দর

কোন ধরনের আলোচনা ছাড়াই আর্টিকেল ৩৭০ বাতিল করা হলো, এটি কোন ভাল ফল বয়ে আনবেনা। এটি ভারতের ইতিহাসে একটি কালোদিন হিসেবেই গণ্য হবে।

এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের মূখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অব. অমরিন্দর সিং। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

তিনি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে গণতান্ত্রিক ও আইনী নিয়মের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে এ সিদ্ধান্ত জম্মু-কাশ্মিরের উপর চাপিয়ে দেয়া হলো তাতে ভারতের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেছে।

ক্যাপ্টেন অমরিন্দর বলেন, “ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য এটি একটি অন্ধকার দিন,” এর ফলে ভারতে একটি খারাপ নজির স্থাপন করা হলো। ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে অন্যান্য রাজ্যগুলোর স্বাধীকার লঙ্ঘন করারও পথ তৈরি হলো। অথচ এটি একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা যেতো।

একইসাথে অমরিন্দর পাঞ্জাবে আর্টিকেল ৩৭০ বাতিল উপলক্ষ্যে সকল ধরনের উদযাপন নিষিদ্ধ করে পাঞ্জাবে অবস্থানরত ৮ হাজার কাশ্মিরী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে পাকিস্তান সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর নিয়ে ইমরান খানকে মাহাথিরের ফোন


ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা (স্বায়ত্বশাসন) বাতিল করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম ডন।

খবরে বলা হয়, সোমবার ভারতের রাজ্যসভার অধিবেশনে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল সংক্রান্ত প্রস্তাব পাসের পরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করেন মাহাথির। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে টেলিফোন করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ। কাশ্মীর ইস্যুতে তিনি পাক প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের মন্তব্য প্রকাশ করেন।

এ সময় ইমরান খানও তার অবস্থান তুলে ধরে বলেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত ভারতের ঘোষণা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার পরিষ্কার লঙ্ঘন।

ভারতের এ ঘোষণার ফলে এ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত হবে উল্লেখ করে টেলিফোনে পাক প্রধানমন্ত্রী মাহাথিরকে বলেন, প্রতিবেশি দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির বলেন, তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা করছেন। এ অধিবেশনের ফাঁকে তিনি ইমরান খানের সঙ্গে একটি বৈঠকে মিলিত হয়ে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। সোমবার সকালের দিকে ভারতের রাজ্যসভায় কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত সংবিধানের ৩৫-এ ধারা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান। অধিকৃত কাশ্মীরে নয়াদিল্লির ‘অনৈতিক পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে তা ঠেকাতে সম্ভাব্য সব ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয় ইসলামাবাদ।

‘ভারত সরকারের একতরফা কোনো পদক্ষেপই বিতর্কিত অঞ্চলের স্ট্যাটাসকে পরিবর্তন করতে পারে না। কারণ এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ভারত অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের জনগণ মেনে নেবে না।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক এ বিবাদের একটি পক্ষ হিসেবে ভারতের নেয়া অবৈধ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পাকিস্তান।’

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ ভারতের ভাঙন শুরু হয়ে গেল: সাবেক মন্ত্রী চিদম্বরম


যত বড় পদক্ষেপ, ঠিক ততটাই চড়া স্বরে শুরু হয়ে গেল বিরোধিতা। এখন থেকেই শুরু হয়ে গেল ভারতের ভাঙন— রাজ্যসভা থেকে বেরিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরম। আর রাজ্যসভার মধ্যে বিরোধী দলনেতা গোলাম নবি আজাদের মন্তব্য— হত্যা করা হল সংবিধানকে। জম্মু-কাশ্মীরের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আবদুল্লা গৃহবন্দি থাকায় আসতে পারেননি মিডিয়ার সামনে। কিন্তু টুইটারে তাঁরা দু’জনেই তীব্র আক্রমণে বিঁধলেন মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে।

জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের কথা এ দিন অমিত শাহ রাজ্যসভায় ঘোষণা করা মাত্রই তুমুল হট্টগোল শুরু করে দেন বিরোধী দলগুলির সাংসদরা। কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদ, তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, ডিএমকে-র তিরুচি শিবা, এমডিএমকে-র ভাইকোদের নেতৃত্বে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। বিরোধী সাংসদরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। জম্মু-কাশ্মীরের দল পিডিপির দুই সাংসদ সংবিধানের প্রতিলিপি সংসদের মধ্যেই ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগেই রুলিং দিয়েছিলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডু। কিন্তু তাতেও হট্টগোল আটকানো যায়নি। পিডিপি সাংসদদের আচরণে প্রবল অসন্তুষ্ট হন বেঙ্কাইয়া, মার্শাল ডেকে বার করে দেওয়ার নির্দেশ দেন তাঁদের। হট্টগোলের মধ্যেই অমিত শাহ কাশ্মীর সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র এবং বিল পড়ে শোনাতে থাকেন।

চেয়ারম্যানের বিশেষাধিকার প্রয়োগের সুবাদে অমিত শাহ তাঁর কাজ সেরে ফেলেন ঠিকই। কিন্তু তাতে রাজ্যসভার উত্তাপ কমানো যায়নি। কেন্দ্রীয় সরকারকে তথা বিজেপি-কে তীব্র আক্রমণ শুরু করে বিভিন্ন বিরোধী দল। সংসদের ভিতরে শুধু নয়, বাইরেও শুরু হয় ক্ষোভ উগরে দেওয়া।

নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে এবং তার নীতিকে এ দিন সবচেয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন পি চিদম্বরম। গুলাম নবি আজাদ, ডেরেক ও’ব্রায়েনদের পাশে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘সাংবিধানিক ইতিহাসে আজ কালো দিন। সরকার যা করেছে, তা অভূতপূর্ব।’’

চিদম্বরম গোটা দেশকে সতর্ক করে দেওয়া ঢঙে বলেন, ‘‘এটা যদি জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে করা যায়, তা হলে দেশের অন্য রাজ্যগুলোর প্রত্যেকটার সঙ্গেই করা যেতে পারে।’’ প্রবীণ কংগ্রেস নেতার ব্যাখ্যা, ‘‘প্রথমে রাজ্যের নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেওয়া হবে, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হবে, বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হবে, বিধানসভার ক্ষমতা সংসদের হাতে যাবে, সরকার সংসদে একটা প্রস্তাব আনবে, সেটাতে সংসদ অনুমোদন দেবে এবং রাজ্যটা আর থাকবে না।’’ চিদম্বরম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন— প্রত্যেকটা রাজ্যকে এই ভাবে ভেঙে দেওয়া যাবে, দুটো অথবা তিনটে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা যাবে।

এর পরেই আসে চিদম্বরমের সবচেয়ে কঠোর মন্তব্যটি। তিনি বলেন, ‘‘এই সরকার যদি এই পথেই এগোতে থাকে, তা হলে এখন থেকেই ভারতের ভাঙন শুরু হয়ে গেল।’’

জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যসভায় বর্তমানে কংগ্রেসের দলনেতা গুলাম নবি আজাদ বলেন, সংবিধানকে হত্যা করা হল। ভারতের মানচিত্র থেকে একটা রাজ্য আজ মুছে গেল— এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি,আনন্দবাজার

আরও পড়ুনঃ বিশ্ব মিডিয়া যেভাবে দেখছে কাশ্মির পরিস্থিতি


কাশ্মিরে ভারত সরকারের নতুন পদক্ষেপকে অঞ্চলটিতে সঙ্ঘা* উস্কে দিতে পারে বলে আ*ঙ্কা করছেন বিশ্বের জনপ্রিয় গণমাধ্যমগুলো। বিজেপি সরকার কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বা স্বায়ত্বশাসন তুলে নেয়ার পর বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সব গণমাধ্যম। এই ঘটনা উপমহাদেশের রাজনীতিতে নতুন সঙ্ক* তৈরি করবে বলে আ*ঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, কাশ্মিরের মর্যাদার বিষয়ে ভারতের যে কোন সরকারের সবচেয়ে বৈষ*মূলক সিদ্ধান্ত। রিপোর্টে কাশ্মিরকে ভেঙে দুই ভাগ করার ঘটনাকে ‘নাটকীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, এতে পাকিস্তানের সাথে উত্তেজনা বাড়বে এবং জম্মু ও কাশ্মিরীদের কাছ থেকে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়বে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

আল জাজিরা অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, ভারত রাষ্ট্রপতির এক ডিক্রির মাধ্যমে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে। গত সাত দশকেরর মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটির জন্য এটি সবচেয়ে বিতর্কীত সিদ্ধান্ত। আল জাজিরা আরো লিখেছে, এই পদক্ষেপের সমালোচকরা বলছেন, সরকার আশা করছেন আর্টিকেল-৩৭০ বাতিলের মাধ্যমে হিন্দুদের কাশ্মিরে জমি কিনে বসবাসের ধারা তৈরি করে তারা মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মিরের জনসংখ্যার চিত্র পাল্টে দিতে পারবেন।

বিবিসি ওয়ার্ল্ডের খবরে ভারত সরকারের পদক্ষেপকে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ হিসেবে দেখা হয়েছে। এর ফলে কাশ্মিরে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আ*ঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তে*না চ*মে উঠেছে বলেও জানিয়েছে বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম সিএনএন লিখেছে, কাশ্মিরের শাসন পদ্ধিতিকে বিতর্কীত এক পরিবর্তন এনেছে মোদি সরকার। সিএনএন অনলাইন তাদের রিপোর্টে লিখেছে, কাশ্মির কার্যত স্তব্ধ এখন। একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এই পদক্ষেপকে কাশ্মিরবাসীর জন্য ‘মানসিক আঘা*’ হিসেবে বর্ণনা করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

আরেক মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, মোদি সরকারের এই পদক্ষেপ সেখানে নতুন করে সঙ্ঘা*র ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে। এতে বলা হয়েছে, নয়া দিল্লির সাথে জম্মু ও কাশ্মির সম্পর্ক আরো খারাপ হয়েছে এর ফলে।

পাকিস্তানের দ্য ডন নিউজ বলেছে, কাশ্মিরকে মুসলিম প্রধান এলাকা থেকে হিন্দুপ্রধান এলাকা করে তোলার আ*ঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারত বিপজ্জনক খেলা খেলছে : পাকিস্তান
এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ভারতের নেয়া এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে ভারত সরকারের নেয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়েছে, অধিকৃত কাশ্মির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিতর্কিত অঞ্চল। ভারত সরকারের একতরফা কোনো পদক্ষেপই বিতর্কিত অঞ্চলের স্ট্যাটাসকে পরিবর্তন করতে পারে না। কারণ এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ভারত অধিকৃত কাশ্মির ও পাকিস্তানের জনগণ মেনে নেবে না।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক এই বিবাদের একটি পক্ষ হিসেবে ভারতের নেয়া অবৈধ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পাকিস্তান।’ কাশ্মীরি জনগণের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনের কথা ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেছেন, ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যদি মনে করে যে, তাদের সিদ্ধান্ত ফলপ্রসূ, তাহলে তারা প্রেসিডেন্টের আদেশের মাধ্যমে গভর্নর শাসিত আইন জারি কিংবা এটি নিয়ে রাজনীতি করতো না।

‘যদি তারা ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির ও লাদাখকে পৃথক দুটি অঞ্চল করে, তাহলে এতে প্রমাণিত হয় যে, তারা আশা হারিয়েছে… আজ ভারত আবারও আন্তর্জাতিক বিশ্বের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত একটি বিতর্কিত ইস্যুকে পুনরুজ্জীবিত করলো। এতে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং উত্তে*না বাড়বে। তারা এটিকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। সময়ই বলবে, ভারত এটি নিয়ে কী ধরনের বিপজ্জ*ক খেলা খেললো।’

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ জনমিতিক যুদ্ধ: কাশ্মীরে যা ঘটবে


বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফের-মোশরেকদের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হলো জনমিতি পাল্টে দেয়া। যেখানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ও প্রভাবশালী সেখানে তাদের সংখ্যালঘু ও দুর্বল করাই হলো এই যুদ্ধের রণনীতি।

এটি ইসরাইলি জায়োনিস্টদের প্রকল্প। মূলত কোনো জমিনের আদিবাসী মুসলমানদের গণ*ত্যা ও নিপী*ন চালিয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। সেখান থেকে মুসলমানরা উৎখা* হয়ে যাওয়ার পর ফাঁকা জায়গায় অন্য জায়গা থেকে অমুসলিমদের এনে বসতি স্থাপন করা হয়।

এর মধ্যদিয়ে এমনভাবে জনমিতি পুনর্গঠন করা হয় যে, ওই অঞ্চলে মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও প্রভাব স্থায়ীভাবে মুছে যায়।

ক্রুসেডার ব্রিটিশদের সহায়তায় জায়োনিস্টরা ফিলিস্তিনে এই প্রকল্প করে সফল হয়েছে। সেখান থেকে গণ*ত্যা ও নিপীড়ন চালিয়ে মুসলমানদের উৎখা* করা হয়েছে। তারা শরণার্থী হয়ে জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, মিসরসহ নানা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে ফাঁকা জায়গায় সারা বিশ্ব থেকে ইহুদিদের এনে জড়ো করা হয়েছে। আজ মূল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে শুধু ইহুদি কর্তৃত্ব বিরাজ করছে। আমরা ফিলিস্তিন বলে যে দুটি ভূমি তথা গাজা ও পশ্চিম তীরের কথা শুনি তা মূলত দুটি শরণার্থী শিবির।

জনমিতিক এই যুদ্ধ ফিলিস্তিনে বাস্তবায়ন করেই জায়োনিস্টরা বসে থাকেনি। তারা ক্রুসেডার, হিন্দুত্ববাদী ও বৌদ্ধ মৌলবাদীদের দিয়ে বিশ্বজুড়ে মুসলিম জনপদে ছড়িয়ে দিয়েছে।

বিগত ও এ শতাব্দীর সব যুদ্ধ পর্যালোচনা করলে দেখবেন কিভাবে মুসলমানদের জনমিতিকে বদলে দেয়া হচ্ছে। যার প্রতিটিতে রয়েছে ইহুদিবাদী কানেকশন।

এই যে যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে মিথ্যা ওয়ান অন টের* করে দেশে মুসলমানকে গণ*ত্যা করা হচ্ছে, তাদের শরণার্থী করা হচ্ছে এর মধ্য দিয়ে জনমিতি পাল্টে দেয়া হচ্ছে।

এই ওয়্যার অন টের*কে সামনে রেখেই মুসলিম দেশ আরাকানের জনমিতি স্থায়ীভাবে বদলে দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ওপর গণ*ত্যা চালিয়ে তাদের মাতৃভূমি ছাড়া করা হয়েছে। কখনও যদি তারা সেখানে ফিরতেও পারে তাতেও তারা সংখ্যালঘুই থাকবে।

খোঁজ নিলে জানবেন, রোহিঙ্গা মুসলিমবিরোধী জনমিতিক যুদ্ধ ঘটল যেই মিয়ানমার সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে, তিনি ইসরাইলি সেনাপ্রধানের কোর্সমেট ও বন্ধু, আর মিয়ানমার সেনারা গণ*ত্যার কাজে যে অস্ত্র ব্যবহার করেছে তা ছিল ইসরাইলি অস্ত্র।

কাশ্মীরে জনমিতিক যুদ্ধ

মুসলিম দেশ কাশ্মীরকে ৭২ বছর ধরে দখল করে রেখেছে ভারত। সেখানে পাঁচ লাখেরও বেশি ভারতীয় সেনা মোতায়েন আছে। তার পরও কাশ্মীরের জনগণকে বশ্যতা মানাতে পারেনি ভারত। এর কারণ হলো জনমিতি। কাশ্মীরের মুসলমানরা সংখ্যাগুরু।

স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরি মুসলমানের এই জনমিতিক সুবিধা সংবিধানের বিশেষ ধারার কারণে বাতিলও করতে পারছিল না ভারত।

কারণ সংবিধান অনুযায়ী কাশ্মীরের বাইরের লোকেরা জমি কিনতে পারে না, ভোটার হতে পারে না। ফলে ভারত নানা জায়গা থেকে হিন্দুদের জড়ো করে মুসলমানদের জমি দখল করতে পারছিল না, জনমিতি পাল্টাতে পারছিল না।

কিন্তু আপনারা জানেন, গুজরাটের কসাই মোদি ২০১৫ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের সঙ্গে জায়োনিস্ট ইসরাইলের গোপন আঁতাত প্রকাশ্যে চলে আসে।

মূলত জায়োনিস্টরা অর্থ ও বুদ্ধি দিয়ে আরএসএসসহ ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংস্থাগুলোকে বিপুল প্রভাবশালী করেছে।

ভারতীয় রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ ইসরাইল সমর্থিত হিন্দুত্ববাদীদের প্রভাব তৈরি হয়েছে। এরা সবাই মিলে হুট করে গুজরাট থেকে উড়িয়ে এনে নরেন্দ্র মোদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী করেছে।

এরপর ভারতবর্ষজুড়ে মুসলমানদের বি*দ্ধে জনমিতিক যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এই যে গরুর গোশত খাওয়ায় মুসলমান *ত্যা, এটি মূলত ১৯৪৮ সালের আগে ফিলিস্তিনে জায়োনিস্ট গু* বাহিনী ‌‌‌‌‌‌হাগানাহ’-এর নিপী*নেরই নয়া সংস্করণ মাত্র।

এই নিপীড়* চলার মাঝেই, ভারতীয় আদালতের মুসলিমবিদ্বে* হিন্দুত্ববাদী বিচারপতিদের দিয়ে মোদি সরকার আসামের মুসলিম জনমিতি বদলে দিতে নাগরিক পঞ্জি প্রণয়ন শুরু করে।

এবার ইভিএম মেশিন দিয়ে ভোট জালিয়াতি করে মোদি আবারও ক্ষমতাসীন হয়ে কাশ্মীরের জনমিতি বদল শুরু করেছে।

এর অংশহিসেবে আজ মোদি সরকার দখলীকৃত কাশ্মীর সংক্রান্ত বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করেছে। এর ফলে কাশ্মীরের জমি-জিরাত লুটে নিতে পারবে হিন্দুত্ববাদীরা। একদিকে চলবে নিপী*ন, আরেকদিকে লুটপা*। এভাবে এক সময় কাশ্মীরিরা ফিলিস্তিনি ও রোহিঙ্গাদের মতো জনমিতিকভাবে উধাও হয়ে যাবে।

কাশ্মীরের পরিস্থিতি কতটা কঠিন হবে তা বুঝতে সবাইকে খেয়াল করতে বলি, কাশ্মীরে মোতায়েনকৃত ভারতীয় সেনা কমান্ড ইসরাইলে প্রশিক্ষিত, যুদ্ধাস্ত্রগুলোও ইসরাইল থেকে কেনা।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ বিজেপি সংবিধানকে ধর্ষণ করেছে, আরেকটি ফিলিস্তিন বানাচ্ছে: রাজ্যসভা এমপি


কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই-এম) এমপি টিকে রঙ্গরাজন বলেছেন, ‘আজকের দিনটি কালো দিবস। বিজেপি ভারতের সংবিধানকে ধর্ষণ করেছে। আপনারা জম্মু-কাশ্মির-লাদাখের মানুষের সাথে এ নিয়ে পরামর্শ করেননি। আইনসভা (জম্মু কাশ্মিরের) বিলোপ করেছেন। কোনো নির্বাচন আয়োজন করেননি। ওখানে নতুন করে ৩৫ হাজার সৈন্য পাঠিয়েছেন। আপনারা আরেকটি ফিলিস্তিন বানাচ্ছেন।’

রাজ্যসভায় আজ সকালে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জম্মু-কাশ্মিরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা (৩৭০ ধারা) বাতিলের প্রস্তাব পেশ করার পর এমপি রঙ্গরাজন এসব কথা বলেন।

অবশ্য একই সময় শিবসেনার এক এমপি জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা ও রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি কেড়ে নেয়ার ঘটনাকে অখণ্ড ভারত গঠনের পথে একধাপ অগ্রগতি হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

অমিত শাহ রাজ্যসভায় কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদ রদ করার প্রস্তাব এবং জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখকে আলাদা আলাদাভাবে কেন্দ্রের শাসনের অধীনের বিল সংসদে পেশ করার পর শিবসেনা এমপি সঞ্জয় রাউত বলেন, “আজ আমরা জম্মু কাশ্মির পেলাম। কাল বেলুচিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মির নিয়ে নেবো। আমি নিশ্চিম প্রধানমন্ত্রী মোদি অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন সত্যি করবেন।”

এর আগে ভারত অধিকৃত কাশ্মিরকে দুইভাগে ভাগ করার প্রস্তাব পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ সকালে সংসদে ‘জম্মু ও কাশ্মির রিঅর্গানাইজেশন বিল ২০১৯’ নামের এই বিলটি উপস্থান করা হয়। এতে লাদাখ ও জম্মু কাশ্মিরকে আলাদা আলাদা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। উভয় অঞ্চলই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা শাসিত হবে। তবে জম্মু ও কাশ্মিরের নিজস্ব একটি আইনসভা থাকবে আর লাদাখের আইনসভা থাকবে না।

রাজ্য ও বিধানসভায় উভয় জায়গায়ই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাশ হবে এসব প্রস্তাব ও বিল।

এদিকে প্রস্তাব পেশের পর বিশেষ মর্যাদা রদ করার প্রজ্ঞাপনে ভারতের রাষ্ট্রপতি রাজনাথ কোবিন্দ স্বাক্ষর করেছেন।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কাশ্মিরের ‘স্পেশাল স্ট্যাটাস’; যা ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ পরিচ্ছেদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে তা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাব রাখার সাথে সাথে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। তাদের শোরগোলের মধ্যে অমিত শাহের বক্তব্য শোনা যাচ্ছিল না।

স্পেশাল স্টেটাস এর অধীনে জম্মু কাশ্মির রাজ্যের নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ন্ত্রণ করা সহ, স্থাপবর সম্পত্তির মালিকানা, মৌলিক অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রাখতো, যা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের ছিলো না।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ বিজেপি সংবিধানকে হত্যা করলো: গোলাম নবী আজাদ


কাশ্মিরের স্পেশাল স্ট্যাটাস প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়ে এবং রাজ্যটিকে দিখণ্ডিত করার মাধ্যমে বিজেপি ভারতের সংবিধানকে হত্যা করেছে বলে অভিহিত করেছেন রাজ্যসভায় বিরোধী দলীয় নেতা গোলাম নবী আজাদ।

কাশ্মিরের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা কোনো সাধারণ দিন নয়। ঐতিহাসিক কিছু ঘটে গেল। যা করা হয়েছে তার কঠোর নিন্দা জানাই। আমরা ভারতের সংবিধানের পক্ষে লড়াই করবো। আজ বিজেপি সংবিধানকে হত্যা করলো।”

এর আগে ভারত অধিকৃত কাশ্মিরকে দুইভাগে ভাগ করার প্রস্তাব পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ সকালে সংসদে ‘জম্মু ও কাশ্মির রিঅর্গানাইজেশন বিল ২০১৯’ নামের এই বিলটি উপস্থান করা হয়। এতে লাদাখ ও জম্মু কাশ্মিরকে আলাদা আলাদা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। উভয় অঞ্চলই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা শাসিত হবে। তবে জম্মু ও কাশ্মিরের নিজস্ব একটি আইনসভা থাকবে আর লাদাখের আইনসভা থাকবে না।

রাজ্য ও বিধানসভায় উভয় জায়গায়ই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাশ হবে এসব প্রস্তাব ও বিল।

এদিকে প্রস্তাব পেশের পর বিশেষ মর্যাদা রদ করার প্রজ্ঞাপনে ভারতের রাষ্ট্রপতি রাজনাথ কোবিন্দ স্বাক্ষর করেছেন।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কাশ্মিরের ‘স্পেশাল স্ট্যাটাস’; যা ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ পরিচ্ছেদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে তা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাব রাখার সাথে সাথে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। তাদের শোরগোলের মধ্যে অমিত শাহের বক্তব্য শোনা যাচ্ছিল না।

স্পেশাল স্টেটাস এর অধীনে জম্মু কাশ্মির রাজ্যের নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ন্ত্রণ করা সহ, স্থাপবর সম্পত্তির মালিকানা, মৌলিক অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রাখতো, যা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের ছিলো না।

এদিকে রাজ্যসভায় ভাষণ শেষে লোকসভায় ভাষণ দেবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরি জনগণকে সর্বাত্মক সহায়তার ঘোষণা পাকিস্তানের


কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের যে সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান।

সোমবার ভারতীয় পার্লামেন্টের রাজ্যসভায় ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্বাক্ষরের পর পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তা প্রত্যাখ্যান করে। খবর ডন ও জিয়ো নিউজ উর্দুর।

৩৭০ ধারা বাতিলের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কাশ্মীর একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা। যা আন্তর্জাতিকভাবে একটি স্বীকৃত বিষয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত ওই রাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা বাতিল করতে পারে না। কাশ্মীরি জনগণ ভারতের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।

ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের লড়াইয়ে কাশ্মীরি জনগণকে রাজনৈতিক,কূটনৈতিকসহ সর্বপ্রকারের সহায়তা দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তান।

এর আগে রোববার দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ভারত যদি কোনো অপরিণামদর্শী অঘটন কিংবা আগ্রাসন চালায়, তবে পাকিস্তান উপযুক্ত জবাব দেবে।

নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে বেসামরিক লোকজনকে নিশানা করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুচ্ছ গোলা নিক্ষেপের পর ইমরান এই বৈঠকের ডাক দেন।

এতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারভেজ খাত্তাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরাইশি, সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া ও অন্যান্য সামরিক এবং বেসামরিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আজাদ কাশ্মীরে অস্থিতিশীলতা বাড়াতে ভারতীয় চেষ্টার নিন্দা জানানো হয়েছে বৈঠকে। বিবৃতিতে বলা হয়, আফগান সংঘাত নিরসনের দিকে যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পাকিস্তান আলোকপাত করছে, তখন এই অস্থিতিশীলতার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বৈঠকে বলা হয়, ভারতীয় আগ্রাসনে সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যাবে এবং তা অস্থিতিশীলতার অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

প্রসঙ্গত, ভারতের সংবিধানের ৩৫-ক ধারা ও ৩৭০ অনুচ্ছেদ কাশ্মীরকে যে মর্যাদা দিয়েছে তা বাতিল করেছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।

সোমবার সকালে ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রস্তাব করেন। সংসদের অনুমোদনের পরই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন।

রাষ্ট্রপতির সইয়ের সঙ্গে সঙ্গেই কাশ্মীরকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেয়া ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হল। সেই সঙ্গে একটি স্বায়ত্বশাসিত রাজ্যের মর্যাদাও হারাল কাশ্মীর।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৫-ক ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরের বাসিন্দা নয়—এমন ভারতীয়দের সম্পদের মালিক হওয়া এবং চাকরি পাওয়ায় বাধা ছিল।

৩৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরের এমন এক স্বায়ত্তশাসন রয়েছে যা ১৯৪৭ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশের রাজ্য পায়নি।

অনুচ্ছেদ ৩৭০ ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান এবং একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দিয়েছে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়াদি, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দিয়েছে।

সংসদে ক্ষমতাসীন জোট সোমবার ধারা দুটি বাতিলের যে বিল উত্থাপন করে তা পাস হওয়ায় কাশ্মীরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দশা এখন ফিলিস্তিন কিংবা মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের মতো হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আন্দোলন দমনে কাশ্মীরে পাঠানো হচ্ছে আরও ৮ হাজার সেনা


ভারতের মন্ত্রিসভায় সোমবার এক জরুরি সভায় কাশ্মীরকে দেয়া বিশেষ সুবিধা বাতিলের বিল পাস করার পরই বিক্ষোভ দমনে সেখানে আরও আট হাজার আধাসামরিক সেনা পাঠানো হচ্ছে।

বিমানবাহিনীর সামরিক পরিবহন বিমানে করে সোমবার জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে আট হাজার সেনা পাঠানো হয়। খবর এনডিটিভির।

এ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার সেনা মোতায়েন করা হলো।

সোমবার সকালে ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় কাশ্মীরকে দেয়া বিশেষ সুবিধা বাতিলের বিল পাসের ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।

আর ওই ঘোষণার পর বিক্ষোভ দমনে আরও আট হাজার আধাসামরিক সেনা পাঠানো হচ্ছে বলে জানানো হয়।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার বিলোপ করার ঘোষণা দেয়ার পর পরিস্থিতি মোকাবেলায় গত কিছু দিন ধরে কাশ্মীরে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো শুরু করে মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। উল্লেখ্য, কাশ্মীরে প্রতি ১০ জন মানুষের জন্য একজন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

সোমবার রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতেই সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে দেয়ার ঘোষণা দেন অমিত শাহ।

সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীরা তুমুল হট্টগোল জুড়ে দেন। কয়েক মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হয়। পুনরায় অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির নির্দেশনামা পড়ে শোনান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৫-ক ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরের বাসিন্দা নয়—এমন ভারতীয়দের সম্পদের মালিক হওয়া এবং চাকরি পাওয়ায় বাধা আছে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরের এমন এক স্বায়ত্তশাসন রয়েছে, যা ১৯৪৭ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশের রাজ্য পায়নি।

অনুচ্ছেদ ৩৭০ ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান ও একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পররাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়াদি, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও এতে দেয়া হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here