স্রষ্টার অনুসন্ধান আমাকে ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছেঃ মার্কিন সংগীতশিল্পী ক্রিস্টিন

0
283

নরডিক বংশোদ্ভূত মার্কিন র‌্যাপসংগীত শিল্পী ক্রিস্টিন নিকোলি রিচি ১৯৮৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন খ্যাতির শীর্ষদেশে। গর্ব করে নিজেকে ‘ফার্স্ট লেডি অব নরডিক’ বলতেন রিচি। একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় এই শিল্পী ২০১৪ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি আবিদাহ রিচি নাম ধারণ করেন এবং তাঁর জীবনযাপনে আসে আমূল পরিবর্তন। পেশাগত জীবনে স্টেজ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তিনি ছিলেন গেম সাকাসের সহযোগী পরিচালক। বর্তমানে তিনি একজন অনুবাদক হিসেবে কাজ করছেন। কোরআন তিলাওয়াত ও ইবাদত-বন্দেগিতেই তিনি সময় কাটাতে পছন্দ করেন। শেষ জীবনে সৌদি আরবে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। ইউটিউবে প্রচারিত একটি ভিডিওতে তিনি নিজের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে বলেন। এখানে তা তুলে ধরা হলো

দক্ষিণাঞ্চলীয় ব্যাপ্টিস্ট পরিবারে আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তবে পরবর্তী জীবনে আমি ছিলাম একজন ধর্মবিমুখ খ্রিস্টান। আমি বিধিবদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতাম। তবে এ কথা বলার সুযোগ নেই, ধর্মের সঙ্গে আমার শিথিল সম্পর্কের কারণে আমার জন্য ইসলাম গ্রহণ সহজ হয়েছে; বরং ভিন্ন একটি কারণে এই সৌভাগ্য হয়েছে আমার। তা হলো, আমি সারা জীবন মহান স্রষ্টা আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী ছিলাম। আমি খ্রিস্টধর্মে সেটা খুঁজে পাইনি। কারণ খ্রিস্টধর্মের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন যিশুখ্রিস্ট [ঈসা (আ.)]। স্রষ্টা সম্পর্কে সেখানে সামান্যই আলোচনা হয়ে থাকে। ফলে সব সময় আমার মধ্যে সংশয় কাজ করত এবং ধর্মের ব্যাপারে আমি কখনো অন্তরে আস্থা ও তৃপ্তি খুঁজে পেতাম না। আমি স্রষ্টার সন্ধান করতে লাগলাম, যা আমি খ্রিস্টধর্মে খুঁজে পাইনি। স্রষ্টার অনুপস্থিতির কারণেই আমি কখনো পুরোপুরি ধার্মিক হয়ে উঠতে পারিনি। ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর আমার চিন্তার আমূল পরিবর্তন হলো। আমি দেখলাম, ইসলামের সব কিছুর কেন্দ্রে রয়েছেন মহান স্রষ্টা আল্লাহ। স্রষ্টার আলোচনা ও বন্দনাই ইসলামের প্রাণসত্তা। তাঁকে আড়াল করার কোনো চেষ্টা ইসলামে নেই; বরং সব কিছুতে তিনি আবর্তিত। ইসলামে আমি স্রষ্টাকে খুঁজে পেলাম। ইসলাম গ্রহণ করে যেন আমি স্রষ্টার আশ্রয় পেলাম এবং আমার হৃদয় প্রশান্ত হলো।

আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম। আমার আরবি ভাষার একটি ক্লাস ছিল। একদিন আমি ক্যাফেতে বসে আরবি ক্লাসের জন্য হোমওয়ার্ক করছিলাম। একটি ছেলে তখন আমাকে বলল, এটা কি আরবি? আমি তাকে জানালাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টারে আমার আরবি কোর্স রয়েছে। সে আমাকে সাহায্যের প্রস্তাব দিল। আমি তা সাদরে গ্রহণ করলাম। সে আমার সঙ্গে বসল এবং আমাকে সাহায্য করল। সে শেখাল, কিভাবে আরবি বর্ণগুলো উচ্চারণ করতে হয়। বিশুদ্ধভাবে লেখা ও শোনার পদ্ধতিও শেখাল। একদিন সে আমাকে তার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব দিল।

তারা সবাই ছিল সৌদি আরবের নাগরিক। আমি ভাবলাম, এরাই আমাকে প্রকৃতপক্ষে আরবি শিখতে সাহায্য করতে পারে। আরবি শেখা সত্যিই আমার জন্য কঠিন ছিল। এক বছর আমি তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলাম। এ সময় তাদের সঙ্গে ইসলাম বিষয়েও কথা হয়। আমি তাদের আচরণে মুগ্ধ হলাম। কারণ তারা ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে আমাকে জোর করেনি। আরব যুবকরা আমার মধ্যে ইসলাম ঢুকিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে আমার সামনে ইসলাম উপস্থাপন করে। এমনকি তারা কখনো বলেনি, ইসলাম গ্রহণ না করলে তুমি জাহান্নামে যাবে। তাদের সঙ্গে আমার খোলামেলা আলোচনা হয়। আমি তাদের প্রশ্ন করতাম এবং তারা উত্তর দিত। তারা আমাকে অনুরোধ করত, আমি যেন কোরআন নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করি। তাদের আলোচনা, কোরআনের ভাষ্য ও আমার অনুসন্ধান আলোর দুয়ার খুলে দেয়। আমি ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিই।

অনুবাদ : শেখ আবদুল্লাহ বিন মাসউদ

উৎসঃ ‌‌‌কালের কন্ঠ

আরও পড়ুনঃ ‌ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেও স্বপদে ডিআইজি মিজানুর, বিস্মিত টিআইবি


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বশির এবং পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের মধ্যে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে দুজনেরই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ডিআইজি মিনাজুর নিজের মুখে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করার পরও কী করে স্বপদে বহাল রয়েছেন তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

সংস্থাটি বলছে, তদন্ত কর্মকর্তার দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুদক কোনোভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না। ঘুষ লেনদেনে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি দুদকেরও দায় রয়েছে।

আজ এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, দুদক ও পুলিশ দুটি সংস্থার ওপর থেকেই মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে তারা জনগণের আস্থা ফিরে পেতে পারে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে আমরা জেনেছি যে ‘তথ্য পাচার, চাকরির শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অসদাচরণের অভিযোগে’ খন্দকার এনামুল বশিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দুদকের তদন্ত কমিটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সুপারিশ করেছে। দুদকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘকালের পুঞ্জীভূত সমস্যা, যার কথা সবাই জানে। দুদক কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে বর্তমান চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এ বিষয়ে এর আগেও একাধিকবার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। কিন্তু তা যে বাস্তবে কোনো কার্যকর ফল দেয়নি, তার প্রমাণ এই আলোচিত ঘটনা।”

তিনি আরও বলেন, দুদকের মধ্যে রীতিমত শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত করতে না পারলে সংস্থাটির ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হবে না। একইসাথে, দুর্নীতিরও আরও ব্যাপক বিস্তার ঘটবে। দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষায়িত কর্তৃপক্ষের ওপর দেশের মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তদন্ত শেষ করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”

ড. জামান বলছেন, “ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না- দুদকের এমন অবস্থান আমাদের শুধু হতাশই করেনি বরং আমরা বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে রীতিমতো শঙ্কিত বোধ করছি। একজন উচ্চপদস্থ তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণসহ দুর্নীতির অভিযোগ আসার পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল দুদক একে একটা প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবে এবং তাদের অন্য কোনো কর্মকর্তা যে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত নন তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান, বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। দুদক নিজেই যদি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে, তাহলে তাদের কার্যক্রমের ওপর জনগণের আস্থা থাকবে কি করে?”

পাশাপাশি ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ’ থেকে অব্যাহতি পেতে পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান রহমান ঘুষ দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করার পরও তার স্বপদে বহাল থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলছেন, “ঘুষ লেনদেনে জড়িত দুই পক্ষই সমানভাবে দায়ী। বিশেষ করে যখন কোনো ব্যক্তি দুর্নীতির অভিযোগ থেকে পার পেতে ঘুষ দেন, তখন তার অপরাধের মাত্রা আরও গুরুতর হয়। অথচ গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে আমরা জেনেছি যে, পুলিশ প্রশাসন এখনও কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। তারা তদন্ত করে দেখার কথা বললেও সেটা কবে শুরু বা শেষ হবে তা আমরা জানি না। আমরা এটাও জানিনা যে শেষ পর্যন্ত এই অভিযোগও ধামাচাপা পড়ে যাবে কি না। ‘নারী নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মত গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকার পরও যখন এই পুলিশ কর্মকর্তা স্বপদেই বহাল রয়েছেন, তখন এমন কিছু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পুলিশ প্রশাসন তাদের ওপর জনগণের আস্থা সম্পর্কে কোনো তোয়াক্কা করে কি না সেটাই এখন প্রশ্ন।”

উৎসঃ ‌‌‌thedailysta

আরও পড়ুনঃ ‌স্বাস্থ্য খাতে ৮০ লাখ টাকার সরঞ্জাম ৭ কোটিতেঃ বালিশ দুর্নীতিকেও হার মানিয়েছে!


রূপপুরের বালিশ কাহিনিকে হার মানিয়েছে, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ১৪ তলা ভবনই হয়নি অথচ যন্ত্রপাতি আনতে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল জার্মানি যাচ্ছে, আগের কেনা যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে আবার ক্রয়, ৮০ লাখ টাকার সরঞ্জাম কেনা হয় ৭ কোটিতে।

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ১৪ তলা ভবনেরই খবর নেই অথচ এই হাসপাতাল ভবনের জন্য যে যন্ত্রপাতি কেনা হবে তা দেখতে ও যাচাই-বাছাই করতে জার্মানি যাচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তারা জার্মানির লুবেক শহরে অবস্থিত ড্রাগারওয়ের্ক কোম্পানির কারখানা পরিদর্শন করবেন। যেসব মেশিন আনা হবে সেগুলো কীভাবে স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে সে বিষয়ে ধারণা অর্জনের উদ্দেশ্যে কর্মকর্তাদের এই সফর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

রূপপুরের বালিশ কাহিনিকেও হার মানিয়েছে সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল। এই হাসপাতালের ১৪ তলা ভবন নির্মাণ তো দূরের কথা, এখনো অনুমোদনই পায়নি। অথচ সরকারি অর্থের অপচয় করে দেদারসে মেডিকেল যন্ত্রপাতি কিনছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, যা রীতিমতো তুঘলকি কারবার। হাসপাতাল ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার আগেই এর মেডিকেল যন্ত্রপাতি কিনতে শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ! ইতিমধ্যে অনেকগুলো যন্ত্রপাতি কেনাও হয়েছে। এমনকি ৮০ লাখ টাকার যন্ত্র কেনা হয়েছে ৭ কোটি টাকায়, যেগুলো কোনো কাজেই আসছে না! উল্টো এগুলো অব্যবহৃত থাকতে থাকতে অকেজো হয়ে পড়েছে। কোনো কোনোটি একেবারেই নষ্ট হয়ে পড়েছে। আবার কোনো কোনো যন্ত্রপাতিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন করে আবার সেগুলো কেনা হচ্ছে, যাতে শুধু সরকারের অর্থেরই অপচয় হচ্ছে।

সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত সরকারি কর্মচারী হাসাপাতালের জন্য একটি ১৪ তলা ভবন নির্মাণ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতিমধ্যে এই হাসপাতাল ভবনটি চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে। বাকি ১০ তলা কবে নির্মাণ হবে কিংবা ১৪ তলা পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। যদিও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, কর্মচারী হাসপাতালের জন্য ১৪ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি ইতিমধ্যে একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন সেটির জিও জারির অপেক্ষায় রয়েছে। অথচ এই ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হলেও হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে দরপত্র আহ্বান করে সেগুলো কেনাকাটাও শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে এই হাসপাতালের জন্য যে সিটিস্ক্যান মেশিন কেনা হয়েছিল, সেটিও গত এক বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। কোনো কাজে আসেনি। একইভাবে একটি এমআরআই মেশিন কেনা হয়েছে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে। সেটিও কোনো কাজে আসছে না। পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়।

সূত্র জানায়, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের জন্য একটি এসটিইএম সেল থেরাপি মেশিন কেনা হয়েছিল ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে। অথচ এ রকম মেশিনের বাজারমূল্য ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। কিন্তু ৭ কোটি টাকা দিয়ে এই মেশিনটি কেনা হলেও সেটি রোগীদের কোনো কাজে আসছে না। কারণ এই থেরাপি দিতে হলে আরও ৮০ হাজার টাকা মূল্যের পৃথক আরেকটি মেশিন প্রয়োজন হয়। কিন্তু রোগীদের এ নিয়ে আগ্রহ নেই।

শুধু সিটিস্ক্যান মেশিন, থেরাপি যন্ত্র বা এমআরআই মেশিন নয়, বিকল হয়ে পড়ে আছে মেমোগ্রাফি মেশিনও। তিন বছর ধরে এটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। দাঁতের এক্স-রে করার জন্য ওপিজি মেশিন কেনা হলেও সেটিও আজ পর্যন্ত চালু হয়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই হাসপাতালে আজ পর্যন্ত ফিজিওথেরাপি বিভাগ চালু না হলেও সরকারি অর্থ ব্যয় করে মেশিন কেনা হয়েছে, যা কোনো কাজেই আসছে না। আরও মজার তথ্য হচ্ছে, এই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের চারটি টেবিল কেনা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো ব্যবহার না করে উপরন্তু সেগুলোকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে আরও চারটি অপারেশন টেবিল কেনা হয়েছে, যা রীতিমতো হরিলুট!

এখন এই হাসপাতালের জন্য অ্যানেসথেশিয়া ও ভেন্টিলেশন মেশিন কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই মেডিকেল যন্ত্রপাতিগুলো সরবরাহ করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। দরপত্রের শর্তানুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানির লুবেক শহরে অবস্থিত ড্রাগারওয়ের্ক এজি অ্যান্ড কাগা কোম্পানি থেকে ওই যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য, অর্থাৎ সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সত্যি সত্যি জার্মানি থেকে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে, নাকি চীনের যন্ত্রপাতি দিয়ে সেটিকে জার্মানি বলে চালিয়ে দিচ্ছে তা যাচাই করতেই সরকারের এক অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল জার্মানি যাচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রতিনিধি দলটির ৮ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত জার্মানির লুবেক শহরে ওই কোম্পানি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী জিও জারি হয়েছিল। কিন্তু কিছু জটিলতার জন্য নির্ধারিত সময়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে প্রতিনিধি দলের সদস্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আলি কদর গত রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, হাসপাতালের জন্য যে অ্যানেসথেশিয়া ও ভেন্টিলেশন মেশিন কেনা হচ্ছে, তা যাচাই-বাছাই করতে গত মাসেই তাদের জার্মানি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেশিন সরবরাহকারী ওই কোম্পানি থেকে অফার লেটার না আসায় তারা মে মাসে যেতে পারেননি। এখন অফার লেটার এসেছে। তারা ইতিমধ্যে ভিসার জন্য জার্মান দূতাবাসে আবেদন করেছেন। ভিসা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা জার্মানি যাবেন। কত দিনের সফরে যাচ্ছেন জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে সাত দিনের একটা শিডিউল ছিল। কিন্তু জার্মান কোম্পানি যে অফার লেটার পাঠিয়েছে তাতে পাঁচ দিনের কথা উল্লেখ করেছে। এ হিসেবে আমরা এখন পাঁচ দিনের জন্য যাব।’

হাসপাতালের ভবন এখনো নির্মাণ হয়নি অথচ যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে আগেই- এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের এই যুগ্ম সচিব বলেন, ‘আমার মনে হয় বর্তমান যে হাসপাতাল রয়েছে, এর জন্যই এগুলো কেনা হচ্ছে।’ আর ১৪ তলা ভবনের বিষয়ে ইতিমধ্যে একনেকের অনুমোদন পাওয়া গেছেও বলে জানান তিনি।

উৎসঃ ‌‌‌বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‌প্রথম দিনেই সংসদে উত্তাপ ছড়ালেন বিএনপির ২ এমপি হারুন অর রশিদ ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা


ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রাট ও বর্তমান সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় এমন মন্তব্য নিয়ে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সংসদ অধিবেশন।

মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে সংসদে উত্তাপ ছড়ায়।

বিএনপির হারুন অর রশিদ ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রাটের সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হচ্ছে ইসলাম। ঈদের চাঁদ দেখা কমিটি রয়েছে। চাঁদ দেখা যায় সন্ধ্যার সময়।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী প্রথমে ঘোষণা দিলেন, কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ হবে না। আবার রাত ১১টার দিকে হঠাৎ করেই আবার বলা হলো, চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ।

এ নিয়ে জনমনে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। আর ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- এ কথা যারা বলেন তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে।

তিনি চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রাটের জন্য ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

ফ্লোর নিয়ে বর্তমান সংসদকে অবৈধ বলায় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

ফ্লোর নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। টিআইবিসহ সবাই বলেছে এ সংসদ জনগণের ভোটে হয়নি। তাই খুশি হব এই সংসদের মেয়াদ যেন একদিনও না বাড়ে।

তিনি বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। তাঁকে রাজনৈতিক কারণে জামিন দেয়া হচ্ছে না। সরকারের মিথ্যা মামলার কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না।

তার এমন বক্তব্যের বিরুদ্ধে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে ব্যারিস্টার ফারহানার বক্তব্য প্রত্যাহার ও এক্সপাঞ্জের দাবি জানান।

পরে স্পিকার আর কাউকে ফ্লোর না দিয়ে দিনের পরবর্তী কার্যসূচিতে প্রবেশ করলে উত্তেজনার প্রশমন ঘটে।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌দুদককে ঘুষ দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন মূল হোতারা, ভূগছে দুর্বলরা


সারা দেশের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারীর এমপিওভুক্তিতে জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় চার্জশিট দেওয়ার আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আব্দুস সাত্তার সরকার ও তাঁর সহকারী এনামুল হক শিক্ষা অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তার কাছে মোট এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের টাকা না পেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা শিক্ষা অধিদপ্তরের কম্পিউটার সিস্টেম (ইএমআইএস) বিভাগের ওই পাঁচজনের মধ্যে চারজনকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই কর্মকর্তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, তাঁদের কাছে জনপ্রতি ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। সেটা না পেয়ে তাঁদের ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দুদক কর্মকর্তার ঘুষ চাওয়ার দুটি অডিও রেকর্ড সংগ্রহে করেছে ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’। সেসব অডিও ও কালের কন্ঠের প্রদিবেদক হায়দার আলীর প্রদিবেদনে উঠে এসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। উঠে এসেছে দুদককে ঘুষ দিয়ে কিভাবে পার পেয়ে যান মূল হোতারা?

ভিডিওঃ  ‘ওই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দুদক কর্মকর্তার ঘুষ চাওয়ার দুটি অডিও রেকর্ড ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

অভিযোগ ওঠা দুদকের উপপরিচালক আব্দুস সাত্তার সরকার সম্প্রতি অবসরে গেছেন। তাঁর সহকর্মী এনামুল হক সহকারী উপপরিদর্শক পদে চাকরিতে আছেন। অভিযোগ করা শিক্ষা অধিদপ্তরের চার কর্মকর্তা হলেন সিস্টেম অ্যানালিস্ট আবুল ফজল মো. বেলাল, প্রগ্রামার জিয়াউর রহমান, সহকারী প্রগ্রামার মো. রফিকুল ইসলাম ও নজিব উদ দৌলা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৩ সালের মে মাসে জালিয়াতি করে সারা দেশের ২৬৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করে সরকারের ৪২ লাখ ১৬ হাজার ৮৭৫ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিস্টেম অ্যানালিস্ট আবুল ফজল মো. বেলালসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন আব্দুস সাত্তার। তিনিই মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান।

অভিযোগ রয়েছে, এমপিওভুক্তিতে জালিয়াতিতে যাঁরা সরাসরি জড়িত—অফিস সহকারী, সহকারী প্রধান, সহকারী পরিচালক ও উপপরিচালকদের কাছ থেকে আব্দুস সাত্তার মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাঁদের মামলার আসামি করা থেকে বাঁচিয়ে দেন। জালিয়াতির মাধ্যমে যাঁরা এমপিওভুক্ত হয়েছেন সেই ২৬৫ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা কিংবা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁরা নিয়মিত বেতন পেয়ে যাচ্ছেন। যাঁদের স্বাক্ষরে ওই শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হন, তাঁরা হলেন শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী প্রধান, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, সহকারী পরিচালক ও উপপরিচালক। তাঁদের বিরুদ্ধে দুদক কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থাই নেননি। কিন্তু শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে যাঁদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, কোনো স্বাক্ষরই নেই—এমন পাঁচ কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, জালিয়াতির মূল হোতা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাধন কুমার দাস, সহকারী পরিচালক তানজির মোশারফ, আব্দুল কুদ্দুসসহ তাঁদের সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে মামলা ও চার্জশিট থেকে তাঁদের বাদ দিয়েছেন আব্দুস সাত্তার।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এমপিওভুক্তির বিষয়ে নিজে বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছিলেন আব্দুস সাত্তার। শাহবাগ থানায় করা মামলা দুটির মধ্যে একটি স্কুল শাখার এমপিওভুক্তির জালিয়াতি, অন্যটি মাদরাসা শাখার জালিয়াতি। মামলার পর কমিশন থেকে স্কুল শাখার জালিয়াতির তদন্তের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়। আর মাদরাসা শাখার তদন্ত করেন উপপরিচালক হেলালউদ্দিন। মাদরাসার শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জালিয়াতির মামলায় সিস্টেম অ্যানালিস্টদের স্বাক্ষরসহ কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাঁদের নাম বাদ দিয়েই চার্জশিট দেওয়া হয়। কিন্তু আব্দুস সাত্তার স্কুল শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জালিয়াতির বিষয়ে চার্জশিটভুক্ত করেন সিস্টেম অ্যানালিস্ট বিভাগের ওই চার কর্মকর্তাকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য প্রথমে আবেদন করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান। তাঁর আবেদনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কাগজপত্র পাঠানো হয় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। সেখানে নানা প্রক্রিয়া শেষে আবেদনটি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ফরোয়ার্ডিংসহ পাঠানো হয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে। সেখান থেকে উপপরিচালক সাধন কুমার দাস স্বাক্ষর করার পর অফিস সহকারী ফাইল অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। অফিস সহকারী, প্রধান সহকারী থেকে সহকারী পরিচালক তানজির মোশারফ ও সহকারী পরিচালক আব্দুল কুদ্দুসের স্বাক্ষরের পর উপপরিচালক সাধন কুমার দাস হয়ে ফাইলটি অনুমোদিত হয়।

এরপর অফিস সহকারীরা অনুমোদিত শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করেন (ভেটেড শিট)। এই ভেটেড শিট অফিস সহকারী, প্রধান সহকারী, সহকারী পরিচালক ও উপপরিচালকের স্বাক্ষর শেষে প্রশাসন বিভাগে যায়। এরপর সিস্টেম অ্যানালিস্টের কাছে সেই শিট জমা দেওয়া হলে অপারেটররা শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। এরপর সহকারী পরিচালক তানজির মোশারফ ও আব্দুল কুদ্দুস এবং সাধন কুমার দাসের স্বাক্ষরসহ চূড়ান্ত এমপিও শিট ব্যাংকে বেতনের জন্য পাঠানো হয়। শিক্ষক এমপিওভুক্তির এই প্রক্রিয়ার দাপ্তরিক কাজে কোথাও কম্পিউটার সেলের কর্মকর্তাদের কোনো ক্ষমতাই থাকার কথা নয়।

২০১৬ সালে দুদকের উপপরিচালক আব্দুস সাত্তার ও এনামুল হক ঘুষের টাকা না পেয়ে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট আদালতে পাঠান। একজন আসামি সহকারী প্রগ্রামার মো. আসাদুজ্জামানকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়।

গতকাল সোমবার সকালে কথা হয় সিস্টেম অ্যানালিস্ট আবুল ফজল মো. বেলালের সঙ্গে। তিনি দুদকের মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে বলেন, ‘জালিয়াতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দুদক প্রতিবেদন জমা দেয়নি, মামলাও করেনি। আমাদের কাছে দুদক কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার সরকার ও এনামুল হক কয়েক দফায় ২৫ লাখ টাকা করে চেয়েছিলেন; কিন্তু আমরা দিইনি। আমরা যে অপরাধ করিনি তার জন্য কেন দুদক কর্মকর্তাকে টাকা দেব। টাকা না দেওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। সেই মামলায় এখন আদালতে ঘুরতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ঘুষ চাওয়ার কয়েকটি অডিও রেকর্ডও আছে আমার কাছে। দুদক কার্যালয়ে বসেই ঘুষ চান আব্দুস সাত্তার। আমার অফিসে এসেও টাকা চেয়েছিলেন।’

মামলার আরেক আসামি সহকারী প্রগ্রামার জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এমপিওভুক্তির জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতরা টাকা দিয়ে বেঁচে গেলেও আমাদের ফাঁসিয়ে দিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা। আমার কাছে টাকা চেয়েছিলেন। আমি বলেছি, মিথ্যা মামলায় জেল খাটব; কিন্তু অন্যায়ের সঙ্গে আপস করব না।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘দুদকের কর্মকর্তাদের জুলুমের কারণে আমার পরিবারটিই শেষ হয়ে যাচ্ছে। সন্তানরা লজ্জায় কারো সঙ্গে মিশতে পারে না। এই কষ্টের কথা কাউকেই বলতে পারি না।’

অভিযোগের বিষয়ে দুদকের সহকারী উপপরিদর্শক এনামুল হক বলেন, ‘শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার জালিয়াতি নিয়ে আব্দুস সাত্তার স্যার কাজ করছিলেন। আমি স্যারের সঙ্গে ছিলাম। স্যার বিভিন্ন কাজে আমাকে পাঠিয়েছিলেন; কিন্তু আমি কারো কাছে ঘুষ চাইনি।’ কোটি টাকা ঘুষ চাচ্ছেন—এমন অডিও রেকর্ড আছে জানালে এনামুল বলেন, ‘ভাই, আপনি তো বোঝেন, আমরা বসের অধীনে কাজ করি। এখন কিছু বলতে পারছি না। আমি ঢাকার বাইরে মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে আছি। ঢাকায় ফিরে বুধবার আপনার সঙ্গে দেখা করব।’ এ কথা বলেই তিনি লাইন কেটে দেন।

সদ্য অবসরে যাওয়া আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন আগের ঘটনা, আমি এখন কিছুই বলতে পারছি না। আর আমি কারো কাছ থেকে ঘুষ দাবি করিনি।’ ঘুষ চাওয়ার অডিও রেকর্ড কাছে আছে জানালে তিনি বলেন, ‘আমি অবসরে চলে এসেছি, এখন এসব মনে নেই আমার। এসব রেকর্ড মানুষ নিজের হাতে বানাতে পারে। কত কিছুই বানাতে পারে মানুষ, কণ্ঠও বানাতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘এনামুল যদি ঘুষ চেয়ে থাকে সেটা তার ব্যাপার।’

উৎসঃ ‌‌‌কালের কন্ঠ

আরও পড়ুনঃ ‌পর্দা নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেশবাসীকে মর্মাহত করেছে: চরমোনাই পীর (ভিডিও সহ)


চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, পর্দা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেশবাসীকে ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্প্রতি দেয়া বক্তব্য ‘হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢেকে, একেবারে, এটা কী? জীবন্ত ট্যান্ট (তাঁবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো; এর তো কোনো মানে হয় না’ কে দায়িত্বজ্ঞানহীন কটাক্ষপূর্ণ বক্তব্য বলেও অভিহিত করেন তিনি।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে চরমোনাই পীর এসব কথা বলেন।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

পর্দা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করেছে বলে মন্তব্য করে বিবৃতিতে চরমোনাই পীর আরও বলেন, শরীয়তের অন্যতম বিধান পর্দা। হাত-পা ও মুখ ঢেকে রাখা খাছ পর্দানশীন নারীদের পোশাক। প্রধানমন্ত্রীর মত একজন জাতীয় অভিভাবকের কাছে এ ধরনের বক্তব্য মানায় না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে জাতি আরো দায়িত্বশীল বক্তব্য কামনা করে।

পর্দা নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও হেয় প্রতিপন্ন করা নারী নির্যাতন ও ইভটিজিংকে নতুন করে উসকে দেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ইভটিজিং, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বন্ধে শালীন পোষাকের প্রতি উদ্বুদ্ধ না করে খাছ পর্দানশীন নারীদের মোজা ও নেকাব নিয়ে এই কটূক্তি দেশে নতুন সঙ্কট সৃষ্টি করবে।

পর্দানশীন নারীদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যমূলক বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান চরমোনাই পীর।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌পর্দা নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালেন আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী(ভিডিও সহ)


প্রধানমন্ত্রীর সম্প্রতি দেয়া বক্তব্য “হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢেকে, একেবারে, এটা কী? জীবন্ত ট্যান্ট (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো; এর তো কোনো মানে হয় না।” এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী।

তিনি বলেছেন, হাত-পা মোজা ও নেকাব খাছ পর্দানশীন নারীদের পোষাক। পরহেযগার নারীরাই এই পোষাক পরিধান করে। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মওদুদীর দর্শন হলো- ‘নারীরা চেহারা ও হাত-পা খোলা রাখতে পারবে’। প্রধানমন্ত্রী কি মওদূদীর দর্শন পছন্দ করেন এবং এদেশে তা প্রতিষ্ঠা করতে চান?

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আজ (১১ জুন) সকালে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আল্লামা আতাউল্লাহ বলেন, পর্দানশীন নারীদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও হেয় প্রতিপন্ন করে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গণমানুষের হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। ইভটিজিং, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বন্ধে শালীন পোষাকের প্রতি উদ্বুদ্ধ না করে খাছ পর্দানশীন নারীদের মোজা ও নেকাব নিয়ে এই কটুক্তি দেশকে আরো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে। ইসলামের পক্ষে ইতিপূর্বে প্রদত্ত তার বক্তব্য ও কাজগুলো এমনকি পবিত্র রমজানে উমরাকালে তার বোরকা ও হিজাব পরিধান জাতির কাছে এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাড়িয়েছে। পর্দানশীন নারীদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য মূলক বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তিনি আহবান জানান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, মাদরাসার শিক্ষাসচিব ও খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, শায়খুল হাদিস সোলায়মান নোমানী, মাওলানা শেখ আজীমুদ্দীন, মুফতি মুজীবুর রহমান, মুফতি ইলিয়াছ মাদারীপুরী, মাওলানা আবরারুজ্জামান পাহাড়পুরী, মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন, মাওলানা রহমাতুল্লাহ, মুফতি আবুল হাসান, মাওলানা মাসউদুর রহমান, হাফেজ আবুল কাসেম ও মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌‌purboposhchim

আরও পড়ুনঃ ‌সরকারের আশ্রয়েই আছেন সোনাগাজী থানার সেই ওসি মোয়াজ্জেম!


ফেনীর সোনাগাজী সিনিয়র মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নির্মমভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার বিচার নিয়ে সরকারের মুখোশ ধীরে ধীরে খসে পড়ছে। প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সরকারের মন্ত্রীরা হুঙ্কার ছেড়ে ছিলেন যে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউ রেহায় পাবে না। সবাইকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

নির্মম এই হত্যাকাণ্ডকে যে আত্মহত্যা বলে বলে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন সোনাগাজী থানার সেই ওসি মোয়াজ্জেমকে বাঁচানোর জন্য এখন প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন মহল উঠে পড়ে লেগেছে। তার বিরুদ্ধে আনা সবগুলো অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও আজ পর্যন্ত সরকার তাকে গ্রেফতার করেনি। সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন-ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক। তাই তাকে ধরতে সময় লাগছে।

কিন্তু একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওসি মোয়াজ্জেম সরকারের আশ্রয়েই আছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ প্রশাসন কর্মকর্তারা জানেন ওসি মোয়াজ্জেম কোথায় আছেন। ইচ্ছাকৃতভাবেই তারা ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করছে না।

সূত্রটি বলছে, পুলিশের আইজি জাবেদ পাটুয়ারীসহ প্রভাবশালী উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওসি মোয়াজ্জেম থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়েছে। এই টাকা খেয়েই তারা নুসরাত হত্যার চার্জশিট থেকে ওসি মোয়াজ্জেমের নাম বাদ দিয়েছে। এমনকি ওসি মোয়াজ্জেমকে রক্ষায় তারা সরকারের ওপর চাপও সৃষ্টি করেছে। গত ২৯ মে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির মৃত্যুদন্ডের সুপারিশ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। যদিও তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

এরপর গত ২৭ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হওয়া মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়। ওই দিনই আদালত মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছায়নি। আদালত তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলেও আজ পর্যন্ত সরকার তাকে গ্রেফতার করেনি। এমনকি রংপুরের ডিআইজিসহ প্রশাসনের লোকজন বলছেন ওসি মোয়াজ্জেম নাকি নিখোঁজ আছেন।

আর এখন সরকারের মন্ত্রীরা ওসি মোয়াজ্জেমকে নিয়ে একেকজন একেক ধরণের কথা বলছেন। তারা বলছেন, ওসি মোয়াজ্জেম নাকি পালিয়ে গেছেন। কেউ বলছেন পলাতক হওয়ার কারণে ধরা কঠিন হচ্ছে।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক নয়, সরকার এবং প্রশাসনের আশ্রয়েই আছেন। তাকে রক্ষায় এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের লোকজন উঠেপড়ে লেগেছে। জানা গেছে, তাকে নিয়ে যদি সরকারের ওপর চাপ বেড়ে যায় তাহলে তাকে গ্রেফতার দেখাবে সরকার।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌বিমানবন্দরে নিরাপত্তার নামে সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হবে ৮ স্ক্যানার!


দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য প্রায় সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হবে ৮ স্ক্যানার।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে এর মধ্যে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রফতানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ে (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) ৩৭ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে দুটি স্ক্যানার বসানো হবে। অর্থাৎ একটি স্ক্যানারের পেছনে খরচ হবে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা।

সেই সঙ্গে বিদেশগামী যাত্রীদের দেহ তল্লাশির জন্য দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য কেনা হবে ৬টি বডি স্ক্যানার। এতে ব্যয় হবে ১১ কোটি ১৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি বডি স্ক্যানারের পেছনে প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা করে খরচ হবে।

এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক সেবা ও প্রশাসনিক খরচ (সম্মানী, ভাড়া/মাইক্রোবাস, স্টেশনারি, প্রিন্টিং ও বাইন্ডিং, কম্পিউটার, ভ্রমণ ভাতা, ফি) বাবদ খরচ করা হবে ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। বিদেশে স্টাডি ট্যুরে ৭ জনের পেছনে খরচ করা হবে ২৮ লাখ টাকা, আয়কর ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, কাস্টমস ডিউটি ৫০ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন ‘আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় স্ক্যানারগুলো কেনা হবে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) গত ১৮ মার্চ জমা দিয়েছে বেবিচক।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রস্তাবনাটি আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই একনেক সভায় উঠতে যাচ্ছে। এর আয়-ব্যয়ও বিশ্লেষণ করা হয়নি।

বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ৫৯ কোটি ৬২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ৫৪ কোটি ১০ লাখ ১৬ হাজার টাকা। আর বেবিচক বহন করবে ৫ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

বেবিচক সূত্র জানায়, দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রফতানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ের জন্য দুটি ইডিএস (বিস্ফোরক শনাক্তকরণ সিস্টেম) স্ক্যানার এবং বিদেশগামী যাত্রীদের দেহ তল্লাশির জন্য চারটি বডি স্ক্যানার কেনা হবে।

অপরদিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রত্যেকটিতে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য একটি করে মোট দুটি বডি স্ক্যানার কেনা হবে।

বেবিচক কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ ও সংস্থানের লক্ষ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে একটি জরিপ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে এই তিন বিমানবন্দরের জন্য স্ক্যানারগুলো সরবরাহের জন্য জাইকা কারিগরি সহায়তা দেবে। ২০১৭ সালের ৩০ জুলাইয়ে এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই হয়েছে। জাইকার দেয়া বর্ণনা অনুযায়ী কারিগরি সহায়তা গ্রহণের জন্য এই ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অপরদিকে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন, পর্যটন ও পরিকল্পনা) মো. আতিকুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। এ বিষয়ে না জেনে কোনো কথা বলতে পারব না। এখন ব্যস্ত আছি, বিমানবন্দরে যেতে হবে।’

উৎসঃ ‌‌‌jagonews24

আরও পড়ুনঃ ‌আলোচনা সভায় যোগ দিতে হেলিকপ্টারে চড়ে ইসির যাতায়াত ব্যয় সাড়ে ৭ লাখ টাকা


নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত দু’টি আলোচনা সভায় যোগ দিতে যাতায়াত ভাড়া বাবদ সাড়ে সাত লাখ টাকা ব্যয় করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদত হোসেন চৌধুরী এবং সদ্যবিদায়ী ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতে রাঙামাটিতে গিয়েছিলেন সিইসি। ১৮ ডিসেম্বরের ওই সফরে সিইসি কেএম নূরুল হুদা এবং সফরসঙ্গীরা রাঙামাটিতে ও চট্টগ্রামে দু’টি আলোচনা সভা করেন। এতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বেলা ১১টায় রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে এবং বিকেল ৩টায় চট্টগ্রামে কাজী দেউড়ীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেশন হলে সভা দু’টির আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।

সভায় যাতায়াতের ব্যয় বেশি হওয়ার কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সিইসি সেদিন সভায় গিয়েছিলেলেন এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টারে চড়ে। তিনি ও সফরসঙ্গীরা মোট ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট আকাশে উড়েছেন। প্রতি ঘণ্টায় ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৬১ দশমিক ৪৪ টাকা হারে ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের জন্য ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৮৫০ টাকা ভাড়া বাবদ খরচ হয়েছে। যার সঙ্গে যোগ হয়েছে ৯৫ হাজার ৬৭৮ টাকা ভ্যাট। সব মিলিয়ে দুই সভায় যোগ দিতে যাতায়াত ভাড়া গেছে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৮ টাকা।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপ-সচিব মাহফুজা আক্তার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত মঞ্জুরি আদেশ ইতিমধ্যে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে— একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পার্বত্য রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী দ্রব্যাদি পাঠানো ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের হেলিকপ্টারযোগে যাতায়াত; নির্বাচন কমিশনার এবং ইসি সচিবের পার্বত্য রাঙামাটি ও চট্টগ্রামে নির্বাচন বিষয়ক সভায় অংশগ্রহণ উপলক্ষে এ ব্যয় হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেলিকপ্টার ব্যবহারে ইসির মোট ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৫০ হাজার ১১ টাকা। এই অর্থের ব্যয় বিভাজন হিসেবে ওই মঞ্জুরি আদেশে বলা হয়েছে, ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত এমআই-১৭ হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে ইসি। মোট ৪ ঘণ্টায় রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, সাতক্ষীরায় আকাশপথ ব্যবহারের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ১০ লাখ ১০ হাজার ৯৮৪ টাকা।

একই সময়ের (২৬ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি) মধ্যে ৫৭ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এমআই-১৭১এসএইচ হেলিকপ্টারে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী সহায়তা নেওয়ার জন্য ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮৮ টাকা। এছাড়া বেল-২১২ হেলিকপ্টার ৩৮ ঘণ্টা ২৫ মিনিট ব্যবহারের জন্য ব্যয় হয়েছে ৫৩ লাখ ২৭ হাজার ৭১১ টাকা।

আর এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টারে চড়ে সভায় যোগ দেওয়ায় সিইসির ব্যয় হয়েছে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৮ টাকা। সংসদ নির্বাচনে একটি বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের সহায়তা নেয় নির্বাচন কমিশন।

উৎসঃ ‌‌‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! (ভিডিও সহ)


পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হল আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের মুসলমানরা শত শত বছর ধরে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামিক কালচার অনুযায়ী জীবন যাপন করে আসছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এদেশের মুসলমানরা ইসলামি পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করেন। তারপরও পাশ্চাত্যের গোলাম হিসেবে পরিচিত কিছু নামধারী মুসলমান এদেশের মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্যের নোংরা সংস্কৃতি ঢোকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। নেকাব ও হিজাবধারী স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারীদেরকে তারা ধর্মান্ধ বলে গালি দিয়ে থাকে। নেকাব ও হিজাব পরার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রীদেরকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আধুনিকতার নামে উলঙ্গ সংস্কৃতির অনুসারীরা প্রায় সময়ই নেকাব ও হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে থাকে। টেলিভিশনের টকশোতে তারা হিজারধারী নারীদেরকে নিয়ে নানা রকম বাজে মন্তব্য করে থাকে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো- এখন রাষ্ট্রের অভিভাবক শেখ হাসিনা নিজেও নেকাবধারী নারীদেরকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে পায়ে মোজা পরা ও নেকাব দিয়ে চোখ-মুখ ঢেকে রাখা নারীদেরকে কটাক্ষ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে এসএ টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজা প্রশ্ন করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আমাদের নারীদের বিরুদ্ধে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে, ধর্মীয় সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। এদের ব্যাপারে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন এবং রাষ্ট্র কি ব্যবস্থা নিতে পারে?

জবাবে শেখ হাসিনা অনেক বয়ান করেছেন। হযরত খাদিজা ও আয়েশার জীবন কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তারা নারী হয়েও যুদ্ধ করেছেন। ওই সময় নারীরা অনেক ক্ষমতাধর ছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের বয়ান করলেন। বললেন- আমরা নারীদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন পাইলট আছে আমার নারী, আর্মি অফিসার আছে আমার নারী, মেজর আছে আমার নারী। আমি নারীদেরকে সবখানে তুলে নিয়ে আসছি। এটাই তাদের জবাব।

এরপর কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দাঁড়ালেন প্রশ্ন করতে। ওই সময় শেখ হাসিনা নারীদের প্রসঙ্গে আবার বললেন, হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢাইক্কা এটা কি? জীবন্ত tent (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটারতো কোনো মানে হয় না।

সচেতন মানুষও মনে করছেন, শেখ হাসিনা এখানে সরাসরি নেকাব ও হিজাবধারী নারীদেরকে অপমান করেছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার অধিকার একজন মুসলিম নারীর আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা একটি মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাত মোজা, পা মোজা ও নেকাব পরিধান করে নাক-চোখ ঢেকে রাখাকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশের মুসলিম নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌নৌকা ভ্রমণেও যদি কৃষিমন্ত্রীর সোফার প্রয়োজন হয়, তাহলে কৃষকের সুখ-দুঃখ কীভাবে অনুভব করবেন!


গত বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের একটি ছবি।

লাখো ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর টাইমলাইনে ছবিটি শেয়ার করতে দেখা গেছে।

ছবিটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন নেটিজেন।

শেয়ার করা পোস্টে ইতিবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্যে করছেন অনেকে। তবে এসব মন্তব্যের মাঝে নেতিবাচকই বেশি দেখা গেছে।

কৃষিমন্ত্রীর ভাইরাল সেই ছবিতে দেখা গেছে, খোলা একটি নৌকার পাটাতনে মুখোমুখি দুটি সোফা পাতা রয়েছে। আর একটি সোফায় হাস্যোজ্জ্বল মুখে বসে আছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তার সঙ্গে নৌকায় নারী-শিশুসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।

নৌকাটি ঘন জঙ্গলের পাশ কেটে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। বেশ খোশ মেজাজে রয়েছেন মন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রীর এই ছবিকে ঘিরে নানা রকম মন্তব্য করা হয়েছে।

অনেকে লিখেছেন, ‘আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য এ নৌকা ভ্রমণেও যদি কৃষিমন্ত্রীর সোফার প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি কৃষকের সুখ-দুঃখ কীভাবে অনুভব করবেন।’

সমীরণ দেবনাথ নামে একজন লিখেছেন, ‘কৃষিমন্ত্রী হবেন মাটির মানুষ। যার মাটির সঙ্গে সখ্য থাকবে। অথচ ইনি দেখছি এর উল্টো।’

সৈয়দা তাজমিরা আখতার নামে একজন কমেন্ট করেছেন, ‘এইসব কর্মকাণ্ড দেখে হতাশ হয়ে যাচ্ছি। এরা নিজেদের জনগণের সেবক মনে করেন না।’

শামীম আহমেদ লিখেছেন, ‘এখনতো মন্ত্রী, তাই হয়তো একটু বাড়তিই উঠলেন এই আর কী…..’

ফুয়াদ লিখেছেন, ‘নৌকায় উঠে এমন রাজকীয় ভঙ্গিতে এর আগে কাউকে বসতে দেখিনি। হয়তো এর মাধ্যমে ড. রাজ্জাক জানালেন, তিনি আমাদের মতো সাধারণ নাগরিক নন, তিনি মন্ত্রী, তিনি ভিআইপি।’

কেউ কেউ ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর অমিল খুঁজে পেয়েছেন।

প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে (সাবেক কৃষিমন্ত্রী) সবকিছুতে ইনি উল্টো ডিগ্রির। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে ইনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি ভুল চয়েস।’

একজন ব্যাঙ্গ করে লিখেছেন, মন্ত্রীর এই প্রমোদতরী ভ্রমণের সময় ওই আশপাশের খালগুলোর নৌকা আটকে রাখা হয়েছিল কিনা। নাকি তিনি উল্টো পথ দিয়ে যাচ্ছেন?

একটি ফেসবুক গ্রুপে লেখা হয়েছে, ‘দেশে যখন ধান কাটতে টাকা না থাকায় কৃষক জমিতে আগুন দিচ্ছে, ধানের দাম না থাকায় কৃষকরা ঈদ করতে পারছে না, আত্মহত্যাও করতে চেয়েছেন কয়েকজন কৃষক, তখন মাননীয় মন্ত্রী নৌকাতে সোফা বিছিয়ে ভ্রমণে বেরিয়েছেন!

কৃষকদের এই অবস্থায় কৃষিমন্ত্রীর এমন নৌকা ভ্রমন কতটা কাঙ্খিত দেশের মানুষের কাছে?’

এমন সব নেতিবাচক ও ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্যের ভিড়ে ইতিবাচক মতামতও জানিয়েছেন কেউ কেউ।

বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন।

কেউ কেউ মন্ত্রীর সমর্থনে বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি না করতে অনুরোধ করেছেন।

সুব্রত নন্দী নামে একজন লিখেছেন, ‘ভাই উনি সহজ-সরল মানুষ। চাটুকাররা হয়তো নৌকায় সোফা বসিয়ে ওনাকে বসতে বলেছেন। উনি অতো কিছু না ভেবে বসে পড়েছেন।’

একজন লিখেছেন, ‘এটা দৃষ্টিকটু হতে যাবে কেন? ড. আব্দুর রাজ্জাক একজন খাঁটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। তবু যদি কারও কাছে বিষয়টি খারাপ লেগে থাকে তাহলে তার ভুল ভেবে মাফ করে দিয়েন।’

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ঈদের ছুটিতে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত রাতারগুল ভ্রমণে গিয়েছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ভ্রমণের আয়োজন করেন কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি সারওয়ার আহমেদ।

এ বিষয়ে সারওয়ার আহমেদ বলেন, ‘কৃষিমন্ত্রী স্বপরিবারে বৃহস্পতিবার সিলেট পৌঁছান। সেখান থেকে সেদিনই তিনি রাতারগুল ভ্রমণে যান। তবে নৌকার ওপর সোফা তুলে কৃষিমন্ত্রীর ভ্রমণের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।’

নৌকায় সোফা তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সোফা ও নৌকার আয়োজন করে। মন্ত্রী এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রণালয়কে দায়ী করে বেশ ফুঁসে রয়েছেন সাধারণ জনতা। গত ১৩ মে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া গ্রামের আবদুল মালেক সিকদার নামের এক কৃষক নিজের পাকা ধানে আগুন দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে এলে দেশব্যাপী তোলপাড় হয়। কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেশবাসী।

তুমুল সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে ফেসবুকে।

এ ঘটনার পর সমস্যা নিরসনে চাল আমদানি বন্ধ করে চলতি বছর ১০ থেকে ১৫ লাখ টন চাল রফতানির সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

তবুও অনেকে সমালোচনা করেই যাচ্ছেন। কৃষিমন্ত্রীর এবার এম ছবিটি যেন সেই সমালোচনার নৌকার পালে আবার হাওয়া দিল।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here