সরকারি খাদ্য গুদামে ‘ধান সংগ্রহ শেষ’ পোস্টার, বিপাকে কৃষক

0
81

দিনরাত প্রহর গুনে গাডি ভাড়া দিয়ে ধান নিয়ে এসে কৃষকরা দেখেন সরকারি খাদ্য গুদামের প্রধান ফটকে ‘ধান সংগ্রহ শেষ’ পোস্টার সাটানো। এটি দেখে হতাশ হয়ে ধান নিয়ে আবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

বুধবার দুপুর থেকে সাটুরিয়া উপজেলা খাদ্য গুদামের সামনে কৃষকদের ধান নিয়ে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়। কার্ডধারী কৃষক গাড়ি ভরে তাদের ধান নিয়ে ভিড় করলেও কারো ধান গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে ধান বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

প্রধান ফটকে ‘ধান সংগ্রহ শেষ’ পোস্টার সাটিয়ে দিয়েছে খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, ধান সংগ্রহ শেষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে সাটুরিয়া উপজেলায় ১ হাজার ৪০ টাকা মন দরে ৫০৯টন ধান কেনার জন্য বরাদ্ধ দেয় সরকার। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে সরকারি ওই নিধারিত মূল্যে ধান বিক্রির জন্য ৭শ কার্ড বিতরণ করা হয় কৃষকদের মাঝে। প্রত্যেক কাডধারীর কাছ থেকে ২ টন করে ধান সংগ্রহের কথা ছিল সমন্বয় সভায়। এতে প্রায় ৩০০টি কার্ডে লক্ষ্যমাত্রার ৫ শতাধিক টন ধান কেনা শেষ হয়েছে। তাই বাকি সব কার্ডধারীর ধান নিয়ে ভোগান্তি শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ৩শ কার্ডে ধান কেনা শেষ হলে ৭৪০টি কার্ড বিতরণ কীভাবে করা হলো।

খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে আসা কার্ডধারী হরগজ গ্রামের মো. ধলু মিয়া, দীঘুলিয়ার বাবুল হোসেন, শিমুলিযার মো. আলম খান বলেন, হাজার টাকা খরচ করে গাড়িতে ধান নিয়ে গুদামের সামনে সকাল থেকে অপেক্ষা করছি। আমাদের ধান নেয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা। কিন্তু চোখের সামনে অনেকের ধানই নেয়া হচ্ছে- তা দেখেও কোনো সদোত্তর পাচ্ছি না।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সরকার আমাদের ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে ৫০৯ টন। উপজেলা কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তে প্রত্যেক কার্ডধারীর কাছ থেকে ২ টন ধান নেয়ার কথাছিল, যা ইতিমধ্যে নেয়া হয়ে গেছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত কার্ড বিতরণ করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. নাসরিন পারভিন বলেন, প্রথম দিকে কৃষকের ধান বিক্রির আগ্রহ কম ছিল। পরে সমন্বয় সভায় আলোচনা করে অতিরিক্ত কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।

উৎসঃ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here