নির্বাচনে সরকারি ইচ্ছা অনুযায়ী মনোনয়ন বাতিল হচ্ছে, বলছেন বিএনপির নেতারা

0
79

বিএনপি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বলেছেন, তাদের ভাষায় ‘সরকারের ইচ্ছে অনুসারেই’ কমিশন তাদের দলের ৮০ জনের মতো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে।

নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

রবিবার নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে বিএনপিরই সবচেয়ে বেশি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে দলের নেত্রী খালেদা জিয়াও রয়েছেন। খবর বিবিসির।

কথিত দুর্নীতির মামলায় সাজা হবার ফলে বিএনপির শীর্ষ নেত্রী খালেদা জিয়া যেহেতু জেলে- তাই দলটির মহাসচিবের স্বাক্ষরে তাদের দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়।

‘মনোনয়নপত্রে সেই স্বাক্ষর মিলছে না’, এই অভিযোগে ঢাকা-১ আসনে দোহার এলাকার বিএনপির প্রার্থী ফাহিমা আকতারের মনোনয়নপ্রত্র বাতিল করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেছেন,একটা ইস্যু তুলে একতরফাভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

‘আমাকে বিএনপি মহাসচিব দল থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তার স্বাক্ষর আছে। আমাকে বলা হয়, এই স্বাক্ষর মিলছে না। আমি বললাম, আপনি মহাসচিবের সাথে কথা বলেন টেলিফোনে। রিটার্নিং কর্মকর্তা বললেন, তিনি কথা বলবেন না। তিনি আমাকে আপিল করতে বললেন। আসলে উনারা কোন কথাই শুনলেন না’- বলেন ফাহিমা আকতার।

তবে সোমবার বিএনপির আরও কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় দলীয় মহাসচিবের স্বাক্ষর না মেলার অভিযোগে।

দলটির নেতারা অভিযোগ করছেন- সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান, মীর নাসিরের মতো তাদের ‘হেভিওয়েট প্রার্থীদের’ একটা বড় অংশকে ‘টার্গেট করে’ মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সাজা থাকার বিষয় ছাড়াও ছোটখাটো বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তাদের অনেক নেতা কর্মীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আমাদের সন্দেহ আরও বাড়ছে।’

নির্বাচন কমিশন বিএনপির এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, মনোনয়নপত্র বাতিলের ক্ষেত্রে আইন মেনেই তারা কাজ করেছে, এক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রশ্নই ওঠে না।

দুর্নীতির মামলায় সাজা থাকার কারণে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির বেশ কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। খালেদা জিয়ার একটি আসন বগুড়া-৭ সহ ছয়টি আসনে দলটির মূল প্রার্থী এবং বিকল্প প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এখন বিএনপির কোন প্রার্থীই নেই।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে পরিচিত কারও মনোনয়ন পত্র বাতিলের খবর পাওয়া যায়নি।

তবে দলটির সূত্রে জানা গেছে, তাদের ৭০ জনের বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন ৪০টি আসন থেকে। এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে ৩৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এমনই একজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়েও হবিগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী হন কেয়া চৌধুরী। তিনি বলছিলেন, তার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না।

‘আমার সাজা নেই। আমি ঋণ বা বিল খেলাপী নই। আমার মনোনয়ন বাতিল হবে কেন? তারা বলেছে, মনোনয়নপত্রে বেশ কয়েকটি স্বাক্ষরের জায়গায় আমার একটি স্বাক্ষর কম আছে।’

তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, মনোনয়নপত্র বাতিল করার ক্ষেত্রে আইনের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলছিলেন, বিষয়গুলো আপিলে এলে সব অভিযোগ বা প্রশ্নের জবাব মিলবে।

‘যদি আমাদের কাছে আপিল করে, তখন আমরা বুঝতে পারব যে, কোন রিটার্নিং অফিসার কি কারণে কার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন।’

‘নির্বাচন কমিশন আইনগত ভিত্তির ওপর চলে। এখানে আবেগ বা রাজনৈতিক বিবেচনার কোন অবকাশই নেই।’

বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাদের মধ্যে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। সেটি একটি প্যাটার্ন হিসেবে চোখে পড়ছে এবং সেকারণে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে।

সাবেক একজন নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন বলছিলেন, বাদ পড়া প্রার্থীদের আপিলের আবেদনের শুনানিতে বিষয়গুলো পরিস্কার হবে বলে তিনি মনে করেন।

‘এটা একটা প্যাটার্নের কারণে বিরোধীদল থেকে প্রশ্ন উঠতে পারে। আপিলে বোঝা যাবে, এই প্যাটার্নটা কেন ঘটলো? কিন্তু বাতিল হওয়াটা সারপ্রাইজ বা অস্বাভাবিক কিছু না। কারণ ২০০৮ সালেও মোট যতো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল, তার মধ্যে ২২.৪৬% বাদ পড়েছিল। আর এখন তিন হাজারের বেশি প্রার্থীর মধ্যে ২৫.৪০% এর মতো বাদ পড়েছে।’

বিএনপিসহ সব দলের বাদ পড়া প্রার্থীরাই নির্বাচন কমিশনে আপিল করছেন। ৩রা ডিসেম্বর সোমবার থেকে ৫ই ডিসেম্বর বুধবার পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে।

এরপর কমিশন ৬ই ডিসেম্বর থেকে তিনদিন শুনানি করে আপিলগুলো নিস্পত্তি করবে।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‘সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর ছিল না, বৈধ হলো কীভাবে?’

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর ছিল না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

সোমবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বলা হয়েছে-সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্রে টিপসই দেয়া হয়েছে, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অচেতন হয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন। তাহলে সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র বৈধ হলো কীভাবে?

বিএনপির এ নেতা বলেন, কেউ বিদেশে অবস্থান করলে তার স্বাক্ষর কিংবা টিপসই সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ অ্যাম্বাসির একজন ফার্স্ট সেক্রেটারি কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে, যার মর্যাদা হবে প্রথম শ্রেণির একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সমমানের।

তিনি বলেন, তার মনোনয়নপত্র বাংলাদেশে নোটারি করা হয়েছে। এটি আইনসিদ্ধ নয়। সৈয়দ আশরাফের নামে নির্বাচনী কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। যেখান থেকে নির্বাচনী খরচ চালানো হবে। তাহলে সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র বৈধ হলো কীভাবে?

রিজভী দাবি করেন, বিনা অজুহাতেই এসব বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারদের কক্ষসংলগ্ন ‘ছোট রুম’টিই এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে কি হবে না, সেটি জানার জন্য বারবার রিটার্নিং অফিসার ওই ছোট রুমে ছুটে যান।

রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অসংখ্য মনোনয়ন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। টার্গেট করে ৫০ জনের মতো দলের হেভিওয়েট জনপ্রিয় নেতা ও সাবেক এমপির মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

মূলত সরকারের নির্দেশ শোনার জন্যই রিটার্নিং অফিসারকে বারবার ওই রুমে যেতে হয়। বিএনপির প্রার্থীদের অনেকেরই মনোনয়নপত্র নির্ভুল থাকার পরও ওই ছোট রুম থেকে ফিরে এসে রিটার্নিং অফিসার (ডিসি) বলেন, ওপরের নির্দেশ আছে বলেই এ মনোনয়নপত্রটি বাতিল করতে আমি বাধ্য হচ্ছি, বলেন রিজভী।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর একজনেরও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। কারণ তাদের সাধু সন্ন্যাসী বলে মনে করে নির্বাচন কমিশন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ স্বাক্ষর না থাকার মত ক্ষুদ্র কারণে মনোনয়ন বাতিলের রেকর্ড নেই: রনি

পটুয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া আলোচিত রাজনীতিবিদ গোলাম মাওলা রনি প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, আমার মনোনয়নপত্রে সামান্য একটা ভুল ছিল। অতীতে এই ক্ষুদ্র ভুলের জন্য কারও মনোনয়নপত্র বাতিলের রেকর্ড নেই। আগে এমন ভুল করলে যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাৎক্ষণিক সংশোধনের সুযোগ দেয়া হতো। কিন্তু আমারটা সরাসরি বাতিল করা হয়েছে। আশা করছি, আমার মনোনয়নও বাতিল হবে না। নির্বাচন কমিশনে ন্যায়বিচার পাব।

প্রসঙ্গত, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে গতকাল রোববার পটুয়াখালী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপির প্রার্থী রনির মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, রনির স্বাক্ষর ঠিক না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হল।

আজ সোমবার প্রার্থিতা ফিরে পেতে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এসে আপিল করেন গোলাম মাওলা রনি।

দলবদল করে বিএনপির মনোনয়ন নিয়েছেন-এ কারণেই মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে গোলাম মাওলা রনি বলেন, এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমি মনোনয়নপত্র ফিরে পাব, ইসি আমার প্রতি ন্যায়বিচার করবে, আপাতত এটুকুই বলব।

নিজের মনোনয়নপত্র ভুলের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রার্থীরা যে একটি সম্পূরক ডকুমেন্ট জমা দেয়, সেটি হল নোটারি পাবলিকের হলফনামা। নির্বাচন কমিশনে হলফনামাতে যে তথ্যগুলো আমরা দিই, সেই তথ্যগুলোই আবার নোটারি পাবলিক করে জমা দিতে হয়। আমরা সেটির দুটি কপি করেছিলাম। একটি কপি গলাচিপায় জমা পড়েছে, আরেকটি কপিতে ভুলক্রমে আমার স্বাক্ষর পড়েনি। যেটিতে স্বাক্ষর পড়েনি, সেটি মূলকপি বলে জানান তিনি।

অতীতে এই ছোট্ট ভুলে কারও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি এমন দাবি করে রনি বলেন, আগে এ ধরনের ভুল হলে যাচাই-বাছাইয়ের সময় বলা হতো-এটি ঠিক করে দেন। এখন সেই সুযোগ না দিয়ে আমাকে সরাসরি বলা হল-আপনার মনোনয়নপত্র বাতিল।

তিনি বলেন, ইসির নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে আমি সেটি মেনে নিয়েছি, এখানে বিধি মোতাবেক সার্টিফায়েট কপি নিয়ে এসেছি।

প্রসঙ্গত, গলাচিপা আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এই এমপি এবারও ক্ষমতাসীন দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়নি। শেষ মুহূর্তে এসে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপি তাকে পটুয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়ন দেয়। একই আসনে সাবেক ছাত্রনেতা হাসান আল মামুনসহ তিনজনকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। রনির মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও বাকি দুজনের প্রার্থিতা সঠিক বলে রায় দিয়েছে ইসি।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ সরকারের প্রতি ইসির ভালোবাসা প্রশ্রয় সমর্থন গভীর হচ্ছে: রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, ‘সরকারের ইচ্ছার প্রতি নির্বাচন কমিশনের ভালোবাসা, প্রশ্রয়, সমর্থন প্রতিদিনই গভীর হচ্ছে।’

তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘একটা ছবি হয়েছিল। ‘সখি তুমি কার’? নির্বাচন কমিশন তুমি কার?’

সোমবার বিএনপির নয়াপল্টনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী একথা বলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন এবং একটা ছায়া হচ্ছে, একটা প্রলম্বিত ছায়া হচ্ছে, এই নির্বাচন কমিশন এবং তার কর্মকাণ্ড। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সবই বাদ পড়ে গেলেন।’

রিজভী বলেন, উনাদের দণ্ডপ্রাপ্ত নেতারা সবাই টিকে গেলেন? তো এখানেই বুঝতে পারেন যে, কার পরামর্শে নির্বাচন কমিশন চলছে। একটা ছবি হয়েছিল। ‘সখি তুমি কার?’ নির্বাচন কমিশন তুমি কার?’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অসংখ্য মনোনয়ন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। টার্গেট করে ৫০ জনের মতো দলের হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক এমপির মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে বগুড়ার ডিসি কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল করার মাধ্যমে খালেদা জিয়া আরো একটি আক্রোশের শিকার হলেন। বিনা অজুহাতেই বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।’

‘রিটার্নিং অফিসারদের কক্ষ সংলগ্ন ছোট রুমটিই এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে কি হবে না সেটি জানার জন্য বারবার রিটার্নিং অফিসার ওই ছোট রুমে ছুটে যান। মূলত, সরকারের নির্দেশ শোনার জন্যই রিটার্নিং অফিসারকে বারবার ওই রুমে যেতে হয়।’

রিজভী বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থীদের অনেকেরই মনোনয়নপত্র নির্ভুল থাকার পরও ওই ছোট রুম থেকে ফিরে এসে রিটার্নিং অফিসার বলেন, উপরের নির্দেশ আছে বলেই এই মনোনয়নপত্রটি বাতিল করতে আমি বাধ্য হচ্ছি। এদিকে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর একজনেরও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। কারণ তাদের সাধু-সন্ন্যাসী বলে মনে করে নির্বাচন কমিশন।’

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না করা সত্ত্বেও, তার মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্রে টিপসই দেয়া হয়েছে, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অচেতন হয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। কেউ বিদেশে অবস্থান করলে তার স্বাক্ষর কিংবা টিপসই সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ অ্যাম্বেসির একজন ফার্স্ট সেক্রেটারি কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে। যার মর্যাদা হবে প্রথম শ্রেণির একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সমমানের। এ ধরনের কর্মকর্তাকে দিয়ে সত্যায়িত হয়নি, সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র।’

রিজভী বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র নোটারি করা হয়েছে বাংলাদেশে, যা আইনসিদ্ধ নয়। সৈয়দ আশরাফের নামে নির্বাচনী কোনো ব্যাংক এ্যাকাউন্ট নেই, যেখান থেকে নির্বাচনী খরচ চালানো হবে। তাহলে সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র বৈধ হলো কীভাবে? লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য দাখিল না করলেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে।’

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের অনেক দণ্ডিত নেতার মনোনয়নপত্রও বৈধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল নিয়ে বিদেশি মিডিয়া কি বলছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া নিয়ে বিদেশি মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি গভীরভাবে বিভক্ত। আগামী ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না বলে ঘোষণা করেছে সরকার। কারণ, দুর্নীতির দুটি মামলায় তিনি বর্তমানে কারাবন্দি। আল জাজিরা, লন্ডনের ডেইলি মেইল, বার্তা সংস্থা পিটিআই, সাউথ ক্যারোলাইনার দ্য স্টেট পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এসব কথা বলা হয়েছে।

পিটিআই লিখেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। কিন্তু দুটি দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় নির্বাচন কমিশন রোববার তার প্রার্থিতা বাতিল করেছে। এর চারদিন আগে হাইকোর্ট রুল দেয়, কোন ব্যক্তিকে যদি দুই বছরের বেশি জেল দেয়া হয় তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।এতে ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে খালেদা জিয়ার সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তার স্বামী, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত দাতব্য সংস্থা নিয়ে দুটি দুর্নীতির অভিযোগে বর্তমানে জেলে রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী।খালেদা জিয়া তিনটি সংসদীয় আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে দুটি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বগুড়া থেকে এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ফেনির একটি আসন থেকে। কিন্তু দুটি জেলার রিটার্নিং অফিসাররা তার শাস্তিভোগের কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করে দিয়েছেন।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীকে যদি অযোগ্য ঘোষণা করা হয় তাহলে তিনি নির্বাচন কমিশনের ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারেন। তিনি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারেন অথবা কমিশনের সিদ্ধান্তকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। খালেদা জিয়া ছাড়াও উচ্চপর্যায়ের ১৫ জন প্রার্থীকেও বিভিন্ন অজুহাতে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্রের দুর্নীতির মামলায় ঢাকার বিশেষ আদালত খালেদা জিয়াকে অভিযুক্ত করে জেল দেয়। তারপর ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। ওই মামলায় তাকে ৫ বছরের জেল দেয়া হয়। ৩০শে অক্টোবর হাইকোর্ট ওই শাস্তিকে দ্বিগুন করে ১০ বছর করে। ২৯শে অক্টোবর একটি বিচারিক আদালত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে অভিযুক্ত করে ৭ বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে।

স্বামী জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর ১৯৮৩ সালের মার্চে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারপারসন করা হয় খালেদা জিয়াকে। ১৯৮৪ সালের ১০ই মে তাকে বানানো হয় দলের চেয়ারপারসন। এখন পর্যন্ত তিনি সেই পদে আছেন। তার ৩৫ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অনেকবার জেল খেটেছেন। ২০০৭-২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায় সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি এক বছরের মতো কারাগারে ছিলেন। ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি এবার প্রসিদ্ধ আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

আল জাজিরা লিখেছে, এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রোববার ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তি অভিযুক্ত হন এবং দুই বছর বা তারও বেশি শাস্তি হিসেবে তাকে জেল দেয়া হয় তাহলে তিনি বৈধ প্রার্থী হতে পারেন না। খালেদা জিয়া ৩ টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তার প্রার্থিতা বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। এমন ঘোষণাকে তার দল প্রত্যাখ্যান করেছে রোববার। তারা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বার্তা সংস্থা এপির রিপোর্ট উদ্ধৃত করে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল লিখেছে, মনোনয়নপত্র বাতিলের এমন সিদ্ধান্ত অশুভ উদ্দেশ্যমূলক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভী।

তার ভাষায়, মনোনয়নপত্র বাতিল হলো সরকারের নীলনকশার অংশ। এর মধ্য দিয়ে তারা খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায়।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবার নির্বাচন। তিনি টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরতে চান। তবে বিরোধীরা অভিযোগ করে বলেছেন, তিনি ক্রমেই কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছেন এবং বিরোধীদের শক্তহাতে দমন করছেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, অভিযুক্ত হওয়ার কারণে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা তা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়।খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে আরো ৩০টি অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি থেকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা পর্যন্ত। তবে তার দল দাবি করে, এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিরোধীদের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার।

উৎসঃ mzamin

আরও পড়ুনঃ জাপা’র নতুন মহাসচিব রাঙ্গাঃ নির্বাচনের আগে রুহুল আমিন হাওলাদারকে কেন সরিয়ে দেয়া হলো?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক ব্যস্ততার মধ্যেই রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিবের পদ থেকে সরিয়ে এই পদে সরকারের প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গাকে নিয়োগ করলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।

অনেকটা হঠাৎ করেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ট দলটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং আলোচনাও শুরু হয়েছে যে ঠিক কী কারণে সরানো হলো রুহুল আমিন হাওলাদারকে? খবর বিবিসির।

বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী জোটগুলো যখন আসন ভাগাভাগি ও প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে তুমুল ব্যস্ত, ঠিক তখনই রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে দিলেন জেনারেল এরশাদ।

তার পরিবর্তে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গাকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

তিনি মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করতে দলের চেয়ারম্যানের চিঠি পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

খুব সংক্ষিপ্তভাবে মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘চেয়ারম্যান (এইচ এম এরশাদ) রুহুল আমিন হাওলাদারকে অব্যাহতি দিয়ে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন’।

দলটির সিনিয়র নেতারা মিস্টার এরশাদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন কথা বলতে রাজী হননি।

কেন সরানো হলো হাওলাদারকে

জাতীয় পার্টির একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের সাথে আসন নিয়ে দরকষাকষির সময় জাতীয় পার্টিতে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে খোদ দলীয় নেতাদের মধ্য থেকেই।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কয়েকজন প্রকাশ্যে এ সংক্রান্ত অভিযোগ আনেন এবং তাদের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রুহুল আমিন হাওলাদার।

আবার এই কথিত মনোনয়ন বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে এরশাদের নাম গণমাধ্যমে উঠে আসায় নিজের ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থেই রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে দিয়েছেন এরশাদ- এমনটাই জানিয়েছেন ওই নেতা।

দলের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর মনোনয়ন নিয়ে যা ঘটেছে তাতে জেনারেল এরশাদ ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

‘স্যার চেয়েছিলেন বাবলু চট্টগ্রাম থেকে মহাজোটের প্রার্থী হোক। কিন্তু তাকে কক্সবাজারে দেয়া হয়েছে এবং পরে রংপুরের একটি আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী করা হয়েছে। আবার বাবলুর গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় এরশাদ মহাসচিবের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন’।

তাকে কেন সরিয়ে দেয়া হয়েছে কিংবা মনোনয়ন বাণিজ্য সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে তার স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্না জানিয়েছেন, ‘জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রত্না বলেছেন, তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনা ‘এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা’।

তিনি বলেন, ‘মহাসচিব পরিবর্তন করেছেন পার্টির চেয়ারম্যান এবং সে এখতিয়ার উনার আছে’।

হাওলাদার কবে থেকে মহাসচিব

সাবেক সেনা প্রধান এইচ এম এরশাদ যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন থেকেই জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন রুহুল আমিন হাওলাদার।

তবে মহাসচিব হিসেবে তার পদচ্যুতির ঘটনা এর আগেও ঘটেছিল।

এরশাদ সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী প্রথম মহাসচিব হয়েছিলেন ২০০২ সালে। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর ২০১৩ সালের এপ্রিলে তাকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন এরশাদ।

কিন্তু এর দুই বছর পরই ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে আবার মহাসচিব নিযুক্ত করেন জেনারেল এরশাদ।

এবার তাকে সরিয়ে এরশাদ তার জায়গায় তুলে আনলেন মশিউর রহমান রাঙ্গাকে, যিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী।

এরশাদ হাসপাতালে, দল চালিয়েছে কে?

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থতার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আছেন মিস্টার এরশাদ এবং এর মধ্যেই সরকারি দল আওয়ামী লীগের সাথে মহাজোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করেছেন মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার।

সে আলোচনার প্রেক্ষাপটেই জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়েছে যে কারা মহাজোটের মনোনয়ন পাবেন।

রুহুল আমিন হাওলাদার নিজের ও স্ত্রীর মনোনয়ন নিশ্চিত করলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে প্রেসিডিয়াম সদস্য সালমা ইসলামসহ দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে পারেননি।

ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে সালমা ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, আর উত্তরাঞ্চলে আরেক নেতা আবদুর রশীদ সরকার বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন। সালমা ইসলাম বর্তমান সংসদের সদস্য। অন্যদিকে, রুহুল আমিন সরকার একজন সাবেক সংসদ সদস্য।

দলটির একজন সিনিয়র নেতা বলছেন, তিনি মনে করেন ক্ষোভ সামাল দেয়া, ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা এবং দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এরশাদ।

উৎসঃ শীর্ষ নিউজ

আরও পড়ুনঃ স্বাক্ষর না থাকলে মনোনয়নপত্র বাতিল হয় না: সাখাওয়াত

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ছোটখাটো ভুল হলে কারো মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়না। মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না দেয়া হলে তাকে ডেকে এনে আবার স্বাক্ষর দেয়ার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। রোববার বেসরকারি একটি টেলিভিশনের আলোচনায় তিনি একথা বলেন।

সাখাওয়াত বলেন, ঋণ খেলাপি হওয়ার কারণে মনোনয়ন বাতিল হতে পারে, এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেজিস্টারে ক্লাসিফাইড লোন দেখাতে হবে, তা না হলে মনোনয়ন বাতিল হতে পারে। এছাড়া কারো শিক্ষা সনদ না দেয়া এবং সম্পদের হিসাব না দিলে মনোনয়ন বাতিল হয়। শাস্তির জন্য ২ বছরের বেশি সাজা নিম্ন আদালতে হয় তাহলে উচ্চ আদালতে সেই সাজা স্থগিত না করে, তাহলে তার মনোনয়ন পত্র বাতিল হতে পারে। মনোনয়ন নিয়ে আপিলের জন্য তিন দিন সময় দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আপিলে মনোনয়ন বাতিল হলে সর্বশেষ উচ্চআদালতের যেতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, কেউ যদি আপিলে বৈধ হয় তাহলে কেই তার বৈধতার বিরুদ্ধে যে কেউ আপিল করতে পারেন। তবে কেউ যদি তার শিক্ষা সনদ জমা না দেন তাহলে তাকে কয়েকদিন সময় দেয়া হয় সনদ জমা দেয়ার জন্য।

তিনি জানান, মানিকগঞ্জে ৩ টি আসনে ৭ জনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কারণ হিসাবে রির্টার্নিং কর্মকর্তা বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরের সাথে ওই স্বাক্ষরের মিল পায়নি তাই মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। যদিও মির্জা ফখরুল ইসলাম লিখিতভাবে জানিয়েছে ওই স্বাক্ষর তার নিজের এবং তিনি ওই প্রার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। তারপরেও মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, মনোনয়ন জমা দেয়ার ক্ষেত্রে সময় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। কারণ মনোনয়ন জমার শেষ মুহুর্তে রিটার্নিং অফিসারের সামনে উপস্থিত থাকতে হবে। অফিস এরিয়ার মধ্যে থাকলেও মনোনয়ন গৃহীত হয় না।

উৎসঃ শীর্ষ নিউজ

আরও পড়ুনঃ প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করে কলঙ্কিত হতে চাই না: মাহবুব তালুকদার

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, আইন প্রয়োগ ঠিকভাবে না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, আর প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করে কলঙ্কিত হতে চাই না।

সোমবার সকালে নির্বাচন কমিশন ভবনে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করে মাহবুব তালুকদার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ধারাবাহিক কোনো প্রক্রিয়া নেই। তবে যে প্রক্রিয়ায়ই হোক না কেন, নির্বাচনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেবে না কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, দেশে নানা সময় নানা প্রক্রিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, কখনো সেনা–সমর্থিত সরকারের অধীন কিংবা কখনো দলীয় সরকারের অধীনে। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে প্রক্রিয়াই হোক না কেন, তাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হতে দেওয়া যাবে না। দেশে নির্বাচনের কোনো ধারাবাহিক রীতি গড়ে না উঠলেও একটি পূর্ণাঙ্গ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে এই ধারাবাহিকতা ও ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে যাচ্ছে কমিশন। এ জন্য জনমনে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

ইসি কমিশনার মাহবুব তালকুদার বলেন, সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রার্থী যেন নিশ্চিন্ত থাকতে পারে, সে ব্যবস্থা করবেন। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে চাওয়া খুবই সামান্য—একজন ভোটার যেন নির্ভয়ে পছন্দমতো তার প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সেই আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ থকে ১২ লাখ কর্মকর্তা যুক্ত হবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনিয়ম রোধ ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায়, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা জেনে নিতে তিনি নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘কতটুকু ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে, তা জেনে নেবেন। পুলিশ বা সামরিক কর্মকর্তাদের চেয়ে আপনাদের ক্ষমতা কোনো অংশে কম নয়।’

নির্বাচনের দায়িত্বে এসব কর্মকর্তার শিথিলতা কমিশন বরদাশত করবে না বলেও জানান মাহবুব তালুকদার। নির্ভয়ে, সাহসিকতার সঙ্গে নির্বাচন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, ‘আপনারা ব্যর্থ হলে নির্বাচন ব্যর্থ হবে। আপনারা সফল হলে উদ্ভাসিত হবে পুরো জাতি। যুদ্ধক্ষেত্রে সম্মুখসমরের মতো নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সাফল্যের কোনো বিকল্প নেই।’

নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত করতে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দৃঢ় থাকারও নির্দেশ দেন মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, ‘আইন ঠিকমতো না চললে সমান সুযোগের পরিবেশ নিশ্চিত হবে না। আইন ঠিকভাবে না চললে সেটি আইন নয়, আইনের অপলাপ মাত্র। আইন প্রয়োগ ঠিকভাবে না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, আর প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করে কলঙ্কিত হতে চাই না।’

নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নির্বাচন কমিশনের শপথের অংশীদার উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমাদের শপথ আপনাদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে। আপনারাও মনে মনে শপথ গ্রহণ করুন, দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবেন। আপনাদের দায়িত্বশীল আচরণই দেশে এক সোনালি অধ্যায়ের রচনা করবে। মনে রাখতে হবে, আপনারা জাতির ক্রান্তিলগ্নে মহান দায়িত্ব পালন করছেন। আপনাদের সাফল্যে গৌরবদীপ্ত হবে, উদ্ভাসিত হবে দেশের জনগণ। বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদের আত্মমর্যাদা সমুন্নত রাখার সুযোগ এই নির্বাচন। আমরা বিশ্বের সামনে আমাদের সম্ভ্রম খোয়াতে পারি না।’

মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করে সবার প্রতি সমান প্রয়োগ করার আহ্বান জানান মাহবুব তালুকদার। বলেন, ‘আসুন, শুদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।’

অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, মনোনয়ন অবৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেতে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কমিশনে আপিলের সুযোগ পাবেন। ৬ থেকে ৮ ডিসেম্বর আপিলের বিষয়ে নিষ্পত্তি করবে কমিশন। এর আগে প্রার্থীদের মনোনয়ন জমাদান প্রক্রিয়া বেশ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন নির্বাচন কমিশন সচিব।

তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে ১৩ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশন। মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্দেশনা দেওয়া হবে ওই বৈঠকে। ১৩ ডিসেম্বরের পর কমিশনাররা বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানান নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক। প্রশিক্ষণে কয়েক ধাপে অংশ নিচ্ছেন সারা দেশের মোট ২ হাজার ২৬ জন কর্মকর্তা। সোম ও মঙ্গলবার নয়টি জেলার মোট ৪০৮ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‘অফিসারদের ‘ছোট রুম’ টিই এখন টক অব দি কান্ট্রি’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রিটার্নিং অফিসারদের কক্ষ সংলগ্ন ‘ছোট রুম’টিই এখন টক অব দি কান্ট্রি। বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হবে কি হবে না সেটি জানার জন্য বারবার রিটার্নিং অফিসার ঐ ছোট রুমে ছুটে যান।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপি’র অসংখ্য মনোনয়ন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। টার্গেট করে ৫০ জনের মতো দলের হেভিওয়েট জনপ্রিয় নেতা ও সাবেক এমপি’দের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে বগুড়া’র ডিসি কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিল করার মাধ্যমে বেগম জিয়া আরও একটি আক্রোশের শিকার হলেন শেখ হাসিনার।

বিনা অজুহাতেই বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারদের কক্ষ সংলগ্ন ‘ছোট রুম’টিই এখন টক অব দি কান্ট্রি। বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হবে কি হবে না সেটি জানার জন্য বারবার রিটার্নিং অফিসার ঐ ছোট রুমে ছুটে যান। মূলত: সরকারের নির্দেশ শোনার জন্যই রিটার্নিং অফিসারকে বারবার ঐ রুমে যেতে হয়।

বিএনপি’র প্রার্থীদের অনেকেরই মনোনয়নপত্র নির্ভূল থাকার পরেও উক্ত ছোট রুম থেকে ফিরে এসে রিটার্নিং অফিসার (ডিসি) বলেন, উপরের নির্দেশ আছে বলেই এই মনোনয়নপত্রটি বাতিল করতে আমি বাধ্য হচ্ছি। এদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর একজনেরও মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়নি। কারণ তাদেরকে সাধু সন্যাসী বলে মনে করে নির্বাচন কমিশন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মনোনয়ন পত্রে স্বাক্ষর না করা সত্ত্বেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে-সৈয়দ আশরাফের মনোনয়ন পত্রে টিপসই দেয়া হয়েছে, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অচেতন হয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।

কেউ বিদেশে অবস্থান করলে তার স্বাক্ষর কিংবা টিপসই সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ এ্যাম্বেসি’র একজন ফার্ষ্ট সেক্রেটারি কর্তৃক সত্যায়িত করতে হবে, যার মর্যাদা হবে প্রথম শ্রেণির একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের সমমানের।

এধরণের কর্মকর্তার দ্বারা সত্যায়িত হয়নি সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র। তার মনোনয়নপত্র নোটারী করা হয়েছে বাংলাদেশে, যা আইনসিদ্ধ নয়। সৈয়দ আশরাফের নামে নির্বাচনী কোন ব্যাংক একাউন্ট নেই, যেখান থেকে নির্বাচনী খরচ চালানো হবে। তাহলে সৈয়দ আশরাফের মনোনয়নপত্র বৈধ হলো কিভাবে? বিএনপি নেতা বলেন, লক্ষীপুর-৩

আসনে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য দাখিল না করলেও তার মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। এটি নিউজ করতে গেলে তিনি সাংবাদিকদেরকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের অনেক দন্ডিত নেতারও মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে।

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার ইচ্ছার প্রতি নির্বাচন কমিশনের ভালবাসা, প্রশ্রয়, সমর্থন প্রতিদিনই গভীর হচ্ছে। শেখ হাসিনা জনগণকে মনে করেন অনুকম্পার বস্তু। তাই আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশন জনগণকে ধোঁকা দেয়ার জন্য আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিয়ে যতো পরিকল্পনা-মহাপরিকল্পনা আছে সেগুলো শেখ হাসিনার ইচ্ছানুযায়ী বাস্তবায়ন করছে।

কারণ বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী সরকার একই স্পিসিজ (প্রজাতি)’র। বর্তমান নির্বাচন কমিশন আওয়ামী গ্ল্যামারই ধারণ করে আছে। তারা প্লেয়িং ফিল্ড সমতল করা থেকে অনেক দুরে অবস্থান করছেন। নির্বাচনী প্লেয়িং ফিল্ড এখন বরেন্দ্র ভূমির ন্যায়।

গত ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে গণতন্ত্রকে হত্যার পর এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে সেই লাশটির ময়নাতদন্তের রিপোর্টও গায়েব করে দিতে উদ্যোগী হয়েছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করছে নির্বাচন কমিশন। বিএনপি নেতাকর্মীদের শান্তি নেই, স্বস্তি নেই, ঘুম নেই।

নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত গুম আর গ্রেফতার হচ্ছে কিংবা গ্রেফতার ও গুম আতঙ্কে ভুগছে। আওয়ামী আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বন্য প্রাণীর মতো শুঁকে শুঁকে বিএনপি’র গন্ধ পেলেই শমনভবনে পাঠানোর জন্য হামলে পড়ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের পরিব্যাপ্ত ছায়া। সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশন। প্রধানমন্ত্রীর প্রচ্ছন্ন নির্দেশেই ইসি সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকান্ডেই বোঝা যায় যে, তারা কোন জাতের। গণতন্ত্র ও সুষ্ঠূ নির্বাচনের নেতিবাচক চরিত্র হলেন এইচ টি ইমাম। তিনি নির্বাচনকে নিয়ে যত রকমের কারিগরি করা দরকার তাই করছেন।

আমরা বিশস্ত সূত্রে এও জানতে পারছি-ভোটের দিন ইন্টারনেট থ্রি-জি, ফোর-জি মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া হবে। আজ থেকে মনিটরিং করা হবে ফেইসবুকসহ সামাাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। সরকারের সমালোচনা করলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেয়ার হুমকি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিব।

তবুও এদেশের অধিকারহারা জনগণ ও জাতীয়তাবাদী শক্তি ‘শিকল ভাঙ্গা পণ’ নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার নির্বাচনী প্রতিযোগিতার যুদ্ধে এগিয়ে যাবে। গণশক্তির ক্ষিপ্রগতি অশের হ্রেষাধ্বণিতে গণতন্ত্রের শত্রুদের বুকে কম্পন উঠেছে। আওয়ামী নেতারা গর্জাচ্ছেন, এটা শূন্যকুম্ভের বাজনা। জনগণকে সাথে নিয়ে লড়াই সংগ্রাম করে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করবোই।

উৎসঃ আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here