সরকারের আশ্রয়েই আছেন সোনাগাজী থানার সেই ওসি মোয়াজ্জেম!

0
581

ফেনীর সোনাগাজী সিনিয়র মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নির্মমভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার বিচার নিয়ে সরকারের মুখোশ ধীরে ধীরে খসে পড়ছে। প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সরকারের মন্ত্রীরা হুঙ্কার ছেড়ে ছিলেন যে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউ রেহায় পাবে না। সবাইকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

নির্মম এই হত্যাকাণ্ডকে যে আত্মহত্যা বলে বলে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন সোনাগাজী থানার সেই ওসি মোয়াজ্জেমকে বাঁচানোর জন্য এখন প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন মহল উঠে পড়ে লেগেছে। তার বিরুদ্ধে আনা সবগুলো অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও আজ পর্যন্ত সরকার তাকে গ্রেফতার করেনি। সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন-ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক। তাই তাকে ধরতে সময় লাগছে।

কিন্তু একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওসি মোয়াজ্জেম সরকারের আশ্রয়েই আছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ প্রশাসন কর্মকর্তারা জানেন ওসি মোয়াজ্জেম কোথায় আছেন। ইচ্ছাকৃতভাবেই তারা ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করছে না।

সূত্রটি বলছে, পুলিশের আইজি জাবেদ পাটুয়ারীসহ প্রভাবশালী উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওসি মোয়াজ্জেম থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়েছে। এই টাকা খেয়েই তারা নুসরাত হত্যার চার্জশিট থেকে ওসি মোয়াজ্জেমের নাম বাদ দিয়েছে। এমনকি ওসি মোয়াজ্জেমকে রক্ষায় তারা সরকারের ওপর চাপও সৃষ্টি করেছে। গত ২৯ মে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির মৃত্যুদন্ডের সুপারিশ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। যদিও তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

এরপর গত ২৭ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হওয়া মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়। ওই দিনই আদালত মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছায়নি। আদালত তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলেও আজ পর্যন্ত সরকার তাকে গ্রেফতার করেনি। এমনকি রংপুরের ডিআইজিসহ প্রশাসনের লোকজন বলছেন ওসি মোয়াজ্জেম নাকি নিখোঁজ আছেন।

আর এখন সরকারের মন্ত্রীরা ওসি মোয়াজ্জেমকে নিয়ে একেকজন একেক ধরণের কথা বলছেন। তারা বলছেন, ওসি মোয়াজ্জেম নাকি পালিয়ে গেছেন। কেউ বলছেন পলাতক হওয়ার কারণে ধরা কঠিন হচ্ছে।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক নয়, সরকার এবং প্রশাসনের আশ্রয়েই আছেন। তাকে রক্ষায় এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের লোকজন উঠেপড়ে লেগেছে। জানা গেছে, তাকে নিয়ে যদি সরকারের ওপর চাপ বেড়ে যায় তাহলে তাকে গ্রেফতার দেখাবে সরকার।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌লিটন হত্যা: অস্ত্র মামলায় জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কাদের খানের যাবজ্জীবন


গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার ঘটনায় করা অস্ত্র মামলায় সাবেক এমপি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবদুল কাদের খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় পৃথক দুটি ধারায় একটিতে যাবজ্জীবন, অন্যটিতে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সকালে মামলার একমাত্র আসামি জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আবদুল কাদের খানকে কারাগার থেকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতেই আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর শাহবাজ মাস্টারপাড়ায় নিজ বাসভবনের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

লিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী পর দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় সাবেক এমপি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবদুল কাদের খানকে বগুড়ার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে কাদের খানের দেয়া তথ্যানুযায়ী তার বাড়ির উঠানের মাটির নিচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি ও একটি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে লিটন হত্যা মামলায় সাবেক এমপি (অব.) কর্নেল ডা. আবদুল কাদের খানকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি গাইবান্ধা জেলা কারাগারে রয়েছেন।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আদালত স্থানান্তরের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার রিট: নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য পুরান ঢাকার কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জের নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর আদালত স্থানান্তরের বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার চেয়ে হাইকোর্টে করা রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ শুনানি শেষে রিটটি নিয়মিত বেঞ্চে নিয়ে পাঠিয়ে দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এজে মোহাম্মদ আলী। তাদের সহায়তা করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

এর আগে সোমবার শুনানিতে সাপ্লিমেন্টারি নথিপত্র এফিডেভিট আকারে দাখিলের জন্য কয়েক ঘণ্টা সময় প্রার্থনা করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এর পর আদালত শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

সোমবার ব্যারিস্টার মীর হেলাল জানান, সম্পূরক নথিপত্র দাখিল করার জন্য সময় চাওয়া হলে আদালত শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করে দেন।

২৬ মে আদালতের অনুমতি নিয়ে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আদালত স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট আবেদন করেন।

পরের দিন রিটের শুনানি করতে গেলে মামলায় হাইকোর্টের আদেশের পর দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) পক্ষভুক্ত করা হয়।

২৮ মে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ মামলাটি ১০ জুন পর্যন্ত মুলতবি করেন।

এর আগে আদালত স্থানান্তরে জারি করা গেজেট বাতিল চেয়ে গত ২১ মে আইন সচিবকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়। সে নোটিশে গত ১২ মে জারি করা গেজেট বাতিলে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে গত ১২ মে জারি করা এ-সংক্রান্ত গেজেটটি প্রত্যাহার বা বাতিল না করা হলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। সে অনুযায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে কোনো জবাব না পেয়ে ২৬ মে রিট আবেদনটি করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বিমানবন্দরে নিরাপত্তার নামে সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হবে ৮ স্ক্যানার!


দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য প্রায় সাড়ে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হবে ৮ স্ক্যানার।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে এর মধ্যে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রফতানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ে (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) ৩৭ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে দুটি স্ক্যানার বসানো হবে। অর্থাৎ একটি স্ক্যানারের পেছনে খরচ হবে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা।

সেই সঙ্গে বিদেশগামী যাত্রীদের দেহ তল্লাশির জন্য দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য কেনা হবে ৬টি বডি স্ক্যানার। এতে ব্যয় হবে ১১ কোটি ১৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি বডি স্ক্যানারের পেছনে প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা করে খরচ হবে।

এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক সেবা ও প্রশাসনিক খরচ (সম্মানী, ভাড়া/মাইক্রোবাস, স্টেশনারি, প্রিন্টিং ও বাইন্ডিং, কম্পিউটার, ভ্রমণ ভাতা, ফি) বাবদ খরচ করা হবে ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। বিদেশে স্টাডি ট্যুরে ৭ জনের পেছনে খরচ করা হবে ২৮ লাখ টাকা, আয়কর ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, কাস্টমস ডিউটি ৫০ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন ‘আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসমূহের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় স্ক্যানারগুলো কেনা হবে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) গত ১৮ মার্চ জমা দিয়েছে বেবিচক।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রস্তাবনাটি আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই একনেক সভায় উঠতে যাচ্ছে। এর আয়-ব্যয়ও বিশ্লেষণ করা হয়নি।

বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ৫৯ কোটি ৬২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ৫৪ কোটি ১০ লাখ ১৬ হাজার টাকা। আর বেবিচক বহন করবে ৫ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

বেবিচক সূত্র জানায়, দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রফতানি কার্গো স্ক্রিনিংয়ের জন্য দুটি ইডিএস (বিস্ফোরক শনাক্তকরণ সিস্টেম) স্ক্যানার এবং বিদেশগামী যাত্রীদের দেহ তল্লাশির জন্য চারটি বডি স্ক্যানার কেনা হবে।

অপরদিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রত্যেকটিতে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য একটি করে মোট দুটি বডি স্ক্যানার কেনা হবে।

বেবিচক কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ ও সংস্থানের লক্ষ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) থেকে একটি জরিপ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে এই তিন বিমানবন্দরের জন্য স্ক্যানারগুলো সরবরাহের জন্য জাইকা কারিগরি সহায়তা দেবে। ২০১৭ সালের ৩০ জুলাইয়ে এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই হয়েছে। জাইকার দেয়া বর্ণনা অনুযায়ী কারিগরি সহায়তা গ্রহণের জন্য এই ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অপরদিকে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন, পর্যটন ও পরিকল্পনা) মো. আতিকুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। এ বিষয়ে না জেনে কোনো কথা বলতে পারব না। এখন ব্যস্ত আছি, বিমানবন্দরে যেতে হবে।’

উৎসঃ ‌‌‌jagonews24

আরও পড়ুনঃ ‌আলোচনা সভায় যোগ দিতে হেলিকপ্টারে চড়ে ইসির যাতায়াত ব্যয় সাড়ে ৭ লাখ টাকা


নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত দু’টি আলোচনা সভায় যোগ দিতে যাতায়াত ভাড়া বাবদ সাড়ে সাত লাখ টাকা ব্যয় করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদত হোসেন চৌধুরী এবং সদ্যবিদায়ী ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতে রাঙামাটিতে গিয়েছিলেন সিইসি। ১৮ ডিসেম্বরের ওই সফরে সিইসি কেএম নূরুল হুদা এবং সফরসঙ্গীরা রাঙামাটিতে ও চট্টগ্রামে দু’টি আলোচনা সভা করেন। এতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বেলা ১১টায় রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে এবং বিকেল ৩টায় চট্টগ্রামে কাজী দেউড়ীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেশন হলে সভা দু’টির আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।

সভায় যাতায়াতের ব্যয় বেশি হওয়ার কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সিইসি সেদিন সভায় গিয়েছিলেলেন এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টারে চড়ে। তিনি ও সফরসঙ্গীরা মোট ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট আকাশে উড়েছেন। প্রতি ঘণ্টায় ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৬১ দশমিক ৪৪ টাকা হারে ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের জন্য ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৮৫০ টাকা ভাড়া বাবদ খরচ হয়েছে। যার সঙ্গে যোগ হয়েছে ৯৫ হাজার ৬৭৮ টাকা ভ্যাট। সব মিলিয়ে দুই সভায় যোগ দিতে যাতায়াত ভাড়া গেছে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৮ টাকা।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপ-সচিব মাহফুজা আক্তার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত মঞ্জুরি আদেশ ইতিমধ্যে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে— একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পার্বত্য রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী দ্রব্যাদি পাঠানো ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের হেলিকপ্টারযোগে যাতায়াত; নির্বাচন কমিশনার এবং ইসি সচিবের পার্বত্য রাঙামাটি ও চট্টগ্রামে নির্বাচন বিষয়ক সভায় অংশগ্রহণ উপলক্ষে এ ব্যয় হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেলিকপ্টার ব্যবহারে ইসির মোট ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৫০ হাজার ১১ টাকা। এই অর্থের ব্যয় বিভাজন হিসেবে ওই মঞ্জুরি আদেশে বলা হয়েছে, ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত এমআই-১৭ হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে ইসি। মোট ৪ ঘণ্টায় রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, সাতক্ষীরায় আকাশপথ ব্যবহারের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ১০ লাখ ১০ হাজার ৯৮৪ টাকা।

একই সময়ের (২৬ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি) মধ্যে ৫৭ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এমআই-১৭১এসএইচ হেলিকপ্টারে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী সহায়তা নেওয়ার জন্য ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮৮ টাকা। এছাড়া বেল-২১২ হেলিকপ্টার ৩৮ ঘণ্টা ২৫ মিনিট ব্যবহারের জন্য ব্যয় হয়েছে ৫৩ লাখ ২৭ হাজার ৭১১ টাকা।

আর এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টারে চড়ে সভায় যোগ দেওয়ায় সিইসির ব্যয় হয়েছে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৮ টাকা। সংসদ নির্বাচনে একটি বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহারের সহায়তা নেয় নির্বাচন কমিশন।

উৎসঃ ‌‌‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌দলের এমপিদের সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান


জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশ শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (১১ জুন)। এদিন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত পাঁচ সংসদ সদস্য ও একজন সংরক্ষিত নারী সদস্য।

এজন্য সোমবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

ওই বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপেতে যোগ দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সংসদের বাজেট অধিবেশনে দলের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা যায়।

জানতে চাইলে দলের যুগ্ম-মহাসচিব সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাদের সঙ্গে বলেছেন বাজেট অধিবেশনে যেন আমরা জোরালো ভূমিকা রাখি। দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়টিতো থাকছেই। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক বিষয়েও সবাইকে কথা বলার জন্য বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়ার) মুক্তির জন্য আমরা অবশ্যই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলবো।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া, মোশারফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম, জাহিদুর রহমান ও রুমিন ফারহানা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌‘মাদারীপুরে শাজাহান খানের নেতৃত্বে থানা লুট হয়’


বাংলাদেশের রাজনীতির রহস্যপুরুষ সিরাজুল আলম খান। মহান মুক্তিসংগ্রাম থেকে শুরু করে রাজনীতির নানা অধ্যায়ে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সিরাজুল আলম খানের জবানবন্দিতে লেখা ‘আমি সিরাজুল আলম খান’ বইয়ে ওঠে এসেছে রাজনীতির নানা বিচিত্র অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে জাসদের আন্দোলনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার কৌশলের অংশ হিসেবে দেশের ৪০টি স্থান ঘাঁটি আকারে গড়ে তোলার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। জনসভা ও মিছিলকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

দেশজুড়ে মিছিল-সমাবেশ চলতে থাকে।’৭৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার সময় নির্ধারণ করে আন্দোলনের এ পর্যায়ে সে বছর ১৭ই মার্চ ঢাকায় বড় জনসভা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেদিন পল্টনে বিশাল জনসভা শেষে মেজর জলিল ও আ স ম রবের নেতৃত্বে মন্ত্রীপাড়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনসুর আলীর বাসার সামনে উপস্থিত হয়। তার দাবি মিছিলটি ছিল একেবারেই শান্তিপূর্ণ। কিন্তু কোনো রকম উসকানি ছাড়া পুলিশ ও রক্ষী বাহিনী বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করলে ১১ জন কর্মী নিহত হন। মেজর জলিল ও আ স ম রব গ্রেপ্তার হন।

বিভিন্ন বাহিনীর সংঘবদ্ধ আক্রমণ সহ্য করা নিরস্ত্র কর্মীদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। জাসদ কর্মীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় পড়ে। আন্দোলনে ভাটা পড়ে। এ অবস্থায় সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার আন্দোলন কর্মসূচি পরিবর্তন করা হয়। মুক্ত নেতারা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যান। প্রকাশ্য রাজনীতি সীমিত হয়ে আসতে থাকে। দলের তরফে এ সময় গোপন রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। গ্রামপর্যায়ে কৃষকদের সমর্থন লাভের জন্য স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করা হয়। কৃষকদের সহায়তা দিয়ে তাদের সমর্থন পেতে থাকে। এতে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর ওপর নির্যাতন শুরু হয়। মামলা হতে থাকে। কোথাও কোথাও রক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সে সময় আত্মরক্ষার জন্য স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কোথাও কোথাও রক্ষী বাহিনীর কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তিনটি থানার অস্ত্র লুট করে। মাদারীপুরে শাজাহান খানের নেতৃত্বে থানা লুট হয়। প্রসঙ্গত, অনেক বছর পরে তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী হন।

সিরাজুল আলম খানের বয়ান অনুযায়ী, প্রশাসনের কাছে ও মানুষের কাছে এটি প্রথমে ‘গণবাহিনী’ ও পরে বিপ্লবী গণবাহিনী হিসেবে পরিচিতি পেতে থাকে। যদিও জাসদের ‘সিওসি’ বা কেন্দ্রীয় কমিটি কখনো এ নামের কোনো সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেনি কিংবা করার অনুমতি দেয়নি। এটি ছিল জাসদ সম্পর্কিত গণবিভ্রান্তির একটি উদাহরণ। ’৭৬ সালের সেপ্টেম্বরে সিওসির শেষ মিটিংয়ে গণবাহিনীর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর কিছু সদস্য কিছু কিছু অঘটন ঘটিয়েছে। যার মধ্যে থানা আক্রমণ ও বিত্তশালীদের কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। হোটেল ইন্টারকন্টিন্যান্টালে বিস্ফোরণ, বায়তুল মোকাররমে সাইকেল বোমা, বাসে যাত্রী নামিয়ে আগুন লাগানো, জিয়াউল আবেদীন হত্যা ও ভারতীয় হাইকমিশনারের ওপর সশস্র আক্রমণ ঘটানো হয়েছিল।

সিরাজুল আলম খান বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হওয়ায় আমরা রাজনীতির ভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করি। এর মধ্যে প্রধান হলো- সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’ গড়ে তোলা। ’৭৩ সালের মাঝামাঝি থেকে জাসদ সভাপতি মেজর জলিলের নেতৃত্বে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টর প্রায় সব ইউনিটে এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা গড়ে ওঠে। ঢাকার চারপাশে প্রায় ৪০টি স্থানে ঘাঁটি গঠন এবং ঢাকাসহ জেলা ও মহকুমা শহরে গণবিস্ফোরণমূলক আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারের পতন ঘটানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতা দখলে ভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেটি হলো- সেনাবাহিনীর মধ্যে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নেতৃত্বে সেনাঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় ক্ষমতা দখল করা।

উৎসঃ ‌‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন ইউরোপীয় ইউনিয়ন


কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকায় সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার বিষয়ক একটি প্রতিনিধি দল।

সোমবার (১০ জুন) বিকেলে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের গুলশানস্থ কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন প্রতিনিধি দল। সেখানে তারা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান স্বাস্থ্য নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানান।

স্বাক্ষাৎ শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি অ্যামন গিলমোর বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। তার বয়স এবং অসুস্থতা বিবেচনা করে বর্তমান অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্বিগ্ন।

খালেদা জিয়ার ইস্যুতে ইইউ কেন? এটা কি হস্তক্ষেপ নয়? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যামন গিলমোর বলেন, ‘বিষয়টি হস্তক্ষেপের নয়, আমাদের কাছে উদ্বেগের; আমরা সেটিই জানাতে এসেছিলাম। তবে আইন এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। ইইউ খালেদা জিয়া বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।’

বৈঠকে খালেদা ইস্যু ছাড়াও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয় বলে জানান গিলমোর।

প্রতিনিধিদল বের হয়ে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ইইউ’র মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে খালেদা জিয়া ইস্যুতে কী কথা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা তাদের কথা আমাকে জানিয়েছে। আমি আমাদের অবস্থান তাদের কাছে পরিষ্কার করেছি।’

উৎসঃ ‌‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌সংসদকে ‘অবৈধ’ বলার ব্যাখ্যা দিলেন আ স ম রব


বর্তমান সংসদকে ‘অবৈধ’ বলার ব্যাখ্যা দিয়েছেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। এ সময় তিনি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় জোটের শরিক জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় এ বৈঠক শুরু হয়।

প্রায় ঘণ্টাখানেক বৈঠকের পর আ স ম আবদুর রব সাংবাদিকদের সামনে সরকারের বিভিন্ন ‘অনিয়ম’, ‘দুর্নীতির’ চিত্র তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি সংসদকে ‘অবৈধ’ বলার পরও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন।

আ স ম রব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ কারাগারে, তিনি যেখানে চিকিৎসাধীন আছেন সেখানে বোমা পাওয়া গেছে। তার জীবন হুমকির মুখে। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে। লক্ষাধিক মামলা রয়েছে নেতাকর্মীদের নামে। সংসদে এসব বিষয়ে আলোচনা করতেই নির্বাচিতরা শপথ নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জনগণের ঐক্য, ‘জনগণের স্বার্থেই’ তারা সংসদে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে এসেছেন।

আ স ম রব বলেন, পরবর্তীতে ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারের বৈঠকে আন্দোলনের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ীর কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক বীর হাবিবুর রহমান তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম আহ্ববায়ক ডা. জাহিদুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের নেতা মমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে প্রতিহিংসা বললেন মির্জা ফখরুল


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে নিয়ে করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি একে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফর নিয়ে আজ রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারেক রহমানকে লন্ডনে থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নাম নিতে ঘৃণা লাগে। এ ছাড়া বলেন, আজ হোক কাল হোক এক দিন না একদিন তাঁর (তারেক রহমান) শাস্তি কার্যকর হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খানের মাধ্যমে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠান।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন তা শিষ্টাচার বহির্ভূত। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের বক্তব্যের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

উৎসঃ ‌‌‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ ‌শপথ গ্রহণ শেষে যা বললেন বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা


শপথ নিয়েই সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, খুব খুশি হবো আমার সংসদ সদস্য হওয়ার মেয়াদ একদিনের বেশি না হলে।শিগগিরই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের বিষয়ে জোর দেন এই নারী এমপি।

রোববার দুপুর ১২টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ ভবনে তাঁর কার্যালয়ে রুমিন ফারহানার শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী, হুইপ ইকবালুর রহিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শপথ শেষে রুমিন বলেন, এই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। গঠিত হওয়ার পর আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই সংসদকে অবৈধ বলেছি। আমি এখনও তা বলছি।

অবৈধ বলছেন তাহলে কেন শপথ নিলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে রুমিন বলেন, ‘বিষয়টি খুব পরিষ্কার। এটা হচ্ছে আমাদের গণতান্ত্রিক স্পেস। আমাদের কথা বলার জায়গাগুলো ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। সেই অর্থে দেখতে পাচ্ছি সংসদ একটি ভালো অ্যাভিনিউ যেটা আমরা ব্যবহার করতে পারি আমাদের দলের কথা, দেশের কথা ও মানুষের কথা বলার জন্য। আর সেই স্পেসটা ব্যবহার করার জন্য আমাদের এই সংসদে আসা।

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মামলার মেরিট, তার বয়স, সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় তিনি বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য। তাকে জামিন বঞ্চিত করে কারাগারে রাখা হয়েছে এর পুরোটাই বেআইনি। এবং তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। নিশ্চয়ই সেই বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে কথা বলবো।

তিনি বলেন, এই সংসদ অবৈধ।নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পক্ষে কথা বলতেই সংসদে যোগ দিয়েছে বিএনপি।

একাদশ সংসদে আনুপাতিক হারে বিএনপি একটি মাত্র সংরক্ষিত আসন পেয়েছে। সেই আসনে বিএনপি রুমিনকে মনোনয়ন দিয়েছে। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির সহআন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক।

টেলিভিশন টকশোর পরিচিত মুখ ব্যারিস্টার রুমিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে আলোচনায় আসেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে মনোনয়ন চান।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উকিল আবদুস সাত্তারকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। নিজ এলাকার মানুষের কাছে তেমন পরিচিতি না থাকলেও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে রুমিন ফারহানার পরিচিতি রয়েছে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন, ভাষাসংগ্রামী অলি আহমদের মেয়ে ব্যারিস্টার রুমিন সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। তিনি দলীয় বক্তব্য জাতিকে জানাতে পারবেন।

৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সাতটি আসনে জয়লাভ করে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বাকি সবাই শপথ নিয়ে সংসদে গেছেন।

এ ক্ষেত্রে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন আইন অনুযায়ী, দলটিকে একটি আসন বণ্টন করে দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! (ভিডিও সহ)


পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হল আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের মুসলমানরা শত শত বছর ধরে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামিক কালচার অনুযায়ী জীবন যাপন করে আসছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এদেশের মুসলমানরা ইসলামি পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করেন। তারপরও পাশ্চাত্যের গোলাম হিসেবে পরিচিত কিছু নামধারী মুসলমান এদেশের মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্যের নোংরা সংস্কৃতি ঢোকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। নেকাব ও হিজাবধারী স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারীদেরকে তারা ধর্মান্ধ বলে গালি দিয়ে থাকে। নেকাব ও হিজাব পরার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রীদেরকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আধুনিকতার নামে উলঙ্গ সংস্কৃতির অনুসারীরা প্রায় সময়ই নেকাব ও হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে থাকে। টেলিভিশনের টকশোতে তারা হিজারধারী নারীদেরকে নিয়ে নানা রকম বাজে মন্তব্য করে থাকে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো- এখন রাষ্ট্রের অভিভাবক শেখ হাসিনা নিজেও নেকাবধারী নারীদেরকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে পায়ে মোজা পরা ও নেকাব দিয়ে চোখ-মুখ ঢেকে রাখা নারীদেরকে কটাক্ষ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে এসএ টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজা প্রশ্ন করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আমাদের নারীদের বিরুদ্ধে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে, ধর্মীয় সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। এদের ব্যাপারে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন এবং রাষ্ট্র কি ব্যবস্থা নিতে পারে?

জবাবে শেখ হাসিনা অনেক বয়ান করেছেন। হযরত খাদিজা ও আয়েশার জীবন কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তারা নারী হয়েও যুদ্ধ করেছেন। ওই সময় নারীরা অনেক ক্ষমতাধর ছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের বয়ান করলেন। বললেন- আমরা নারীদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন পাইলট আছে আমার নারী, আর্মি অফিসার আছে আমার নারী, মেজর আছে আমার নারী। আমি নারীদেরকে সবখানে তুলে নিয়ে আসছি। এটাই তাদের জবাব।

এরপর কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দাঁড়ালেন প্রশ্ন করতে। ওই সময় শেখ হাসিনা নারীদের প্রসঙ্গে আবার বললেন, হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢাইক্কা এটা কি? জীবন্ত tent (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটারতো কোনো মানে হয় না।

সচেতন মানুষও মনে করছেন, শেখ হাসিনা এখানে সরাসরি নেকাব ও হিজাবধারী নারীদেরকে অপমান করেছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার অধিকার একজন মুসলিম নারীর আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা একটি মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাত মোজা, পা মোজা ও নেকাব পরিধান করে নাক-চোখ ঢেকে রাখাকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশের মুসলিম নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌নৌকা ভ্রমণেও যদি কৃষিমন্ত্রীর সোফার প্রয়োজন হয়, তাহলে কৃষকের সুখ-দুঃখ কীভাবে অনুভব করবেন!


গত বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের একটি ছবি।

লাখো ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর টাইমলাইনে ছবিটি শেয়ার করতে দেখা গেছে।

ছবিটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন নেটিজেন।

শেয়ার করা পোস্টে ইতিবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্যে করছেন অনেকে। তবে এসব মন্তব্যের মাঝে নেতিবাচকই বেশি দেখা গেছে।

কৃষিমন্ত্রীর ভাইরাল সেই ছবিতে দেখা গেছে, খোলা একটি নৌকার পাটাতনে মুখোমুখি দুটি সোফা পাতা রয়েছে। আর একটি সোফায় হাস্যোজ্জ্বল মুখে বসে আছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তার সঙ্গে নৌকায় নারী-শিশুসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।

নৌকাটি ঘন জঙ্গলের পাশ কেটে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। বেশ খোশ মেজাজে রয়েছেন মন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রীর এই ছবিকে ঘিরে নানা রকম মন্তব্য করা হয়েছে।

অনেকে লিখেছেন, ‘আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য এ নৌকা ভ্রমণেও যদি কৃষিমন্ত্রীর সোফার প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি কৃষকের সুখ-দুঃখ কীভাবে অনুভব করবেন।’

সমীরণ দেবনাথ নামে একজন লিখেছেন, ‘কৃষিমন্ত্রী হবেন মাটির মানুষ। যার মাটির সঙ্গে সখ্য থাকবে। অথচ ইনি দেখছি এর উল্টো।’

সৈয়দা তাজমিরা আখতার নামে একজন কমেন্ট করেছেন, ‘এইসব কর্মকাণ্ড দেখে হতাশ হয়ে যাচ্ছি। এরা নিজেদের জনগণের সেবক মনে করেন না।’

শামীম আহমেদ লিখেছেন, ‘এখনতো মন্ত্রী, তাই হয়তো একটু বাড়তিই উঠলেন এই আর কী…..’

ফুয়াদ লিখেছেন, ‘নৌকায় উঠে এমন রাজকীয় ভঙ্গিতে এর আগে কাউকে বসতে দেখিনি। হয়তো এর মাধ্যমে ড. রাজ্জাক জানালেন, তিনি আমাদের মতো সাধারণ নাগরিক নন, তিনি মন্ত্রী, তিনি ভিআইপি।’

কেউ কেউ ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর অমিল খুঁজে পেয়েছেন।

প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে (সাবেক কৃষিমন্ত্রী) সবকিছুতে ইনি উল্টো ডিগ্রির। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে ইনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি ভুল চয়েস।’

একজন ব্যাঙ্গ করে লিখেছেন, মন্ত্রীর এই প্রমোদতরী ভ্রমণের সময় ওই আশপাশের খালগুলোর নৌকা আটকে রাখা হয়েছিল কিনা। নাকি তিনি উল্টো পথ দিয়ে যাচ্ছেন?

একটি ফেসবুক গ্রুপে লেখা হয়েছে, ‘দেশে যখন ধান কাটতে টাকা না থাকায় কৃষক জমিতে আগুন দিচ্ছে, ধানের দাম না থাকায় কৃষকরা ঈদ করতে পারছে না, আত্মহত্যাও করতে চেয়েছেন কয়েকজন কৃষক, তখন মাননীয় মন্ত্রী নৌকাতে সোফা বিছিয়ে ভ্রমণে বেরিয়েছেন!

কৃষকদের এই অবস্থায় কৃষিমন্ত্রীর এমন নৌকা ভ্রমন কতটা কাঙ্খিত দেশের মানুষের কাছে?’

এমন সব নেতিবাচক ও ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্যের ভিড়ে ইতিবাচক মতামতও জানিয়েছেন কেউ কেউ।

বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন।

কেউ কেউ মন্ত্রীর সমর্থনে বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি না করতে অনুরোধ করেছেন।

সুব্রত নন্দী নামে একজন লিখেছেন, ‘ভাই উনি সহজ-সরল মানুষ। চাটুকাররা হয়তো নৌকায় সোফা বসিয়ে ওনাকে বসতে বলেছেন। উনি অতো কিছু না ভেবে বসে পড়েছেন।’

একজন লিখেছেন, ‘এটা দৃষ্টিকটু হতে যাবে কেন? ড. আব্দুর রাজ্জাক একজন খাঁটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। তবু যদি কারও কাছে বিষয়টি খারাপ লেগে থাকে তাহলে তার ভুল ভেবে মাফ করে দিয়েন।’

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ঈদের ছুটিতে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত রাতারগুল ভ্রমণে গিয়েছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ভ্রমণের আয়োজন করেন কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি সারওয়ার আহমেদ।

এ বিষয়ে সারওয়ার আহমেদ বলেন, ‘কৃষিমন্ত্রী স্বপরিবারে বৃহস্পতিবার সিলেট পৌঁছান। সেখান থেকে সেদিনই তিনি রাতারগুল ভ্রমণে যান। তবে নৌকার ওপর সোফা তুলে কৃষিমন্ত্রীর ভ্রমণের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।’

নৌকায় সোফা তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সোফা ও নৌকার আয়োজন করে। মন্ত্রী এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রণালয়কে দায়ী করে বেশ ফুঁসে রয়েছেন সাধারণ জনতা। গত ১৩ মে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া গ্রামের আবদুল মালেক সিকদার নামের এক কৃষক নিজের পাকা ধানে আগুন দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে এলে দেশব্যাপী তোলপাড় হয়। কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেশবাসী।

তুমুল সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে ফেসবুকে।

এ ঘটনার পর সমস্যা নিরসনে চাল আমদানি বন্ধ করে চলতি বছর ১০ থেকে ১৫ লাখ টন চাল রফতানির সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

তবুও অনেকে সমালোচনা করেই যাচ্ছেন। কৃষিমন্ত্রীর এবার এম ছবিটি যেন সেই সমালোচনার নৌকার পালে আবার হাওয়া দিল।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here