সরকার দায় এড়াতে পারে না : হাইকোর্ট

0
97

এডিস মশা নিধনে সরকার ও সিটি করপোরেশনের করণীয় এবং আইন ও নীতিমালা তৈরির জন্য একটি কমিশন গঠনের আদেশ দেবেন হাইকোর্ট। এতে এডিস মশা নিধনে সরকারের কি পদক্ষেপ ছিল। সিটি করপোরেশনের কি করার ছিল। অন্যান্য দেশে কিভাবে ডেঙ্গু রোধ করা হয়। সেসব বিষয়ে নীতিমালা করাই হবে কমিশনের কাজ। আগামী বুধবার এ বিষয়ে শুনানিতে আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।

আজ সোমবার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো: সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

আজ শুনানিতে আদালত ডেঙ্গু মশার ওষুধ আনার প্রক্রিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সময়মতো মশার কার্যকরী ওষুধ না কেনার দায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি সরকারও এড়াতে পারে না। ডেঙ্গুতে মানুষ মারা যাচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যার্থতায় কারা দায়ী সে বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা যায় কিনা, সে বিষয়ে আমরা আগামী বুধবার (২৮ আগস্ট) আদেশ দিব।

এদিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পদক্ষেপ আদালতে তুলে ধরা হয়।

আদালতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি পজনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।

এ বিষয়ে আইনজীবী সাইদ আহমেদ রাজা সাংবাদিকদের বলেন, গত ২০ আগস্ট আমাদের প্রতিবেদন দাখিল করার কথা ছিল। ওই প্রতিবেদনটি আমরা আজকে দিয়েছি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১ আগস্ট আমরা ওষুধ আনি। এরপর ওষুধ পরীক্ষা করি। ৭ তারিখে আমরা ওষুধের বরাদ্দ হাতে পাই। ১০ তারিখ থেকে ওষুধ ছিটানো শুরু করি।

তিনি বলেন, দক্ষিণের তিনটি ওয়ার্ডে আমরা ওষুধ ছিটিয়েছি। ডেঙ্গু বা মশামুক্ত করতে ৪৭০ জন কর্মী অতিরিক্ত সময়ে কাজ করছেন।

আইনজীবী রাজা বলেন, আদালত বলেছেন মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। যথাসময়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। ডেঙ্গুর কারণে মানুষ মারা যাচ্ছে। চিকুনগুনিয়ায় মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। এটার জন্য এখন একটা জুডিশিয়াল অনুসন্ধান বা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে অনুসন্ধান করার জন্য আগামী বুধবার আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

ওই দিন একটা কমিশন গঠন করে দেবেন আদালত। কমিশন জানাবেন ডেঙ্গু রোধে সরকারের কী পদক্ষেপ ছিল। সিটি কর্পোরেশনের কী করার ছিল। ডেঙ্গু রোধে অন্যান্য দেশে কিভাবে করা হয়। তাদের নীতিমালাগুলো ও আইন কী আছে সেই কল্পে একটা আইন বা নীতিমালা তৈরির জন্য এই মামলার অধীনে চেষ্টা করবেন।

সাইদ আহমেদ রাজা আরো বলেন, আমার এ বক্তব্যের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল যখন কোর্টে দাঁড়ালেন তখন কোর্ট তাকে জিজ্ঞেস করলেন এত পৌরসভা, ইউনিয়ন, উপজেলায় কিভাবে আপনারা ওষুধ দেবেন তখনই কিন্তু এটা প্রমাণ হয়ে গেছে সরকারের দায়িত্ব নেয়া দরকার ছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মশা নিধনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আমরা কোর্টে দরখাস্ত দিয়ে বলেছিলাম, দয়া করে ওষুধ এনে দেন। সরকারের তখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে ফেলার দরকার ছিল না। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফলে সাত দিন কিন্তু আমরা ওষুধ ছিটাতে পারিনি। অথচ সরকার চাইলে তিন দিনের মধ্যে ওষুধ এনে ছিটানো সম্ভব ছিল।

এর আগে গত ২০ আগস্ট মশা নিধনে সরকারের স্থায়ী পরিকল্পনা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকারের নতজানু ভূমিকা বেদনাদায়ক : আল্লামা কাসেমী


সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, সরকার সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, এমনটা আমরা দেখছি না। বিএসএফ’র সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধে রাষ্ট্রের এমন নতজানু ভূমিকা গভীর বেদনাদায়ক ও লজ্জার।

সোমবার (২৬ আগস্ট) এক বিবৃতিতে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী এ সব কথা বলেন।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, গত ১১ জুলাই সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া তথ্য মতে আওয়ামী লীগ শাসনামলে গত ১০ বছরে বিএসএফ সীমান্তে ২৯৪ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে সুসম্পর্ক থাকাটাই আমাদের কাম্য।

তিনি বলেন, আমরা চাই সীমান্তে বাংলাদেশের স্বার্থ ও নাগরিকদের জানমালের হেফাজতে বর্ডার গার্ডের জাওয়ানরা বীরের মতো ভূমিকা রাখুক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সীমান্তে যে কোনো আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

জমিয়ত মহাসচিব আরও বলেন, বিশ্বের কোথাও এমনটা আমরা দেখি না যে, কেবল অবৈধ সীমান্ত পারাপার বা চোরাচালানের জন্য নিরীহ মানুষ হত্যার মতো নিষ্ঠুরতা ঘটে। ভারত-চীন বা ভারত-পাকিস্তান বর্ডারেও সীমান্তে এমন হত্যাকাণ্ডের খবর দেখা যায় না। বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীরা যে হারে পাখী শিকারের মতো নির্বিঘ্নে বাংলাদেশিদের হত্যা করে চলেছে, বিশ্বে এমন ঘটনা নজিরবিহীন।

উৎসঃ শীর্ষনিউজ

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা!


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের দাবি-আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে বর্তমান সরকার খুব মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। বিশ্বব্যাপী এখন বাংলাদেশের সুনাম বাতাসের সঙ্গে বয়ে বেড়াচ্ছে। বাংলাদেশ এখন এমনই শক্তিশালী দেশ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের লোকজন এখন আর খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের সঙ্গে তো বাংলাদেশের সম্পর্ক অতি উচ্চমাত্রায় পৌঁছেছে। কিন্তু, বাস্তবতা কি তা বলে?

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চীন-ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকারের একতরফা সম্পর্ক চলছে। একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের সম্পর্ক হয় আদান-প্রদানের মাধ্যমে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। একজনের বিপদের সময় অন্যজন এগিয়ে আসবে। সহযোগিতা করবে। কিন্তু, শেখ হাসিনা এখন পর্যন্ত চীন-ভারতকে শুধু দিয়েই যাচ্ছেন। দুইটি দেশের জন্য শেখ হাসিনা সব কিছু উজার করে দিচ্ছেন। বিনিময়ে তিনি দেশ দুইটি থেকে বাস্তব সম্মত কোনো সহযোগিতা পাননি। যার বাস্তব প্রমাণ রোহিঙ্গা ইস্যু। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, উচ্চমাত্রার বিদেশি বন্ধুরা শেখ হাসিনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হলো মিয়ানমার থেকে ১০ লাখ রোহিঙ্গা। মানবিক কারণে তখন তাদেরকে আশ্রয় দেয়া হয়েছিল। এখন এসব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশে ফেরত নেয়া বা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে কোনো সহযোগিতাই করছে না। রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত নিতে মিয়ানমারের ওপর তারা কার্যকর কোনো চাপ দিচ্ছে না। এমনকি শেখ হাসিনার উচ্চমাত্রার দুই বন্ধু চীন-ভারতও এনিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে। শুধু নিরব ভূমিকা বললে ভুল হবে, দেশ দুইটি সরাসরি মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে।

কিন্তু শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতারা প্রতিনিয়ত বলে বেড়াচ্ছেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সরকার এক করতে সক্ষম হয়েছে। শেখ হাসিনার দাবি, দুনিয়ার সব মানুষ নাকি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।

দেখা গেছে, গত নভেম্বরে প্রথম দফায় কয়েকশ রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। রোহিঙ্গরা তাদের নাগরিকত্ব চাচ্ছেন। কিন্তু মিয়ানমার সরকার সেটা দিতে রাজি নয়। যার কারণে রোহিঙ্গারা আর নিজ দেশে যায়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এনিয়ে আর কিছু বলেনি।

এরপর গত ২২ আগস্ট আড়াই হাজার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তারিখ ছিল। বাংলাদেশ মিয়ানমারের হাতে তাদের তালিকাও দিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের এক দফা দাবিও মানেনি। যার কারণে এবারও কোনো রোহিঙ্গা ফিরে যেতে রাজি হয়নি।

জানা গেছে, চীন-ভারতের পরামর্শেই মিয়ানমার রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত নিচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের রেখে আসা রাখাইনে দেশ দুইটিকে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার সুযোগ করে দেবে মিয়ানমার সরকার।

আর গত ২২ আগস্ট মিয়ানমারের নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারের সেনা প্রদানের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, রোহঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিয়ানমারের ওপর চাপ দিলে চীন তা সহ্য করবে না।

তাই কুটনিতিক মহল বলছেন, ভারত এবং চীনকে বাংলাদেশ বন্ধু হিসেবেই বিবেচনা করে। কিন্তু সে বন্ধুত্বের মধ্যে অনেক শর্ত বিরাজমান। রোহিঙ্গা ইস্যুতে এ দুটি দেশকে বাংলাদেশের পক্ষে আনা কূটনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও সরকার মনে করে ভারত ও চীন এ সংকট সমাধানের জন্য কাজ করছে তাহলে সেটা ভুল। আসলে ভারত ও চীন শেখ হাসিনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বিচার চাওয়ায় এসিডে ঝলসে দেয়া হলো নৌকায় ভোট না দেওয়া সুবর্ণচরের সেই ধর্ষিতার স্বামীকে


নৌকা প্রতীকে ভোট না দিয়ে ধানের শীষে ভোট দেয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর নোয়াখালী সুবর্ণচরে এক গৃহকর্মীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা। এই ঘটনার বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন ধর্ষিতার স্বামী সিএনজিচালক নাসির।

বিচার তো দূরের কথা বিচার চাওয়ায় কাল হলো নাসিরের। দেশব্যাপী আলোচিত এই ঘটনার বিচার চাওয়ায় এবার এসিডে ঝলসে দেয়া হয়েছে নাসিরকে। রবিবার জেলা শহর মাইজদীতে মানববন্ধন করায় নাসিরের ওপর এসিড নিক্ষেপ করা হয়। এতে তার পুরো শরীর ঝলসে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা কেটে গেলেও জ্ঞান ফেরেনি তার।

এসিডদগ্ধ নাসিরের মা আরজান বেগম জানান, স্ত্রীর ধর্ষণের বিচার দাবিতে রবিবার (২৫ আগস্ট) নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন নাসির। মানববন্ধন শেষে মাকে নিয়ে চরবাগ্গা গেলে ধর্ষণ মামলার আসামি জয়নাল, রাসেল, জাকের, ফারুখ, মন্নানসহ কয়েকজন তাদের দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়।

এরপর রাত ৩টায় ধর্ষিতার স্বামী নাসির (৪২) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে তাকে এসিড নিক্ষেপ করে। এ সময় নাসিরের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। রাত সাড়ে ৪টায় তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ভর্তি করা হয়।

ভর্তির ৯ ঘন্টা পর আজ সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত এসিড দগ্ধ নাসিরের জ্ঞান ফেরেনি। জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মহিউদ্দিন ও ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, এসিডে নাসিরের শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা নেয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে চরজব্বর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল বলেন, তিনি ঘটনা শুনেই হাসপাতালে গিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, আলোচিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট না দিয়ে ধানের শীষে ভোট দেয়ায় গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রুহুল আমিরের নির্দেশে চরজুবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০-১২ জন কর্মী রাত ১০টার দিকে সিরাজ মিয়া নামে এক সিএনজি চালকের স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে।

গৃহবধূর স্বামী সিএনজিচালক বলেন, ৩০ ডিসেম্বর তার স্ত্রী কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী সোহেল, আলাউদ্দিন, স্বপন, আনিস, আনোয়ার, আবু মাঝি, হেদু মাঝিসহ কয়েকজন তাকে প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দিতে বলে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সবার সামনে তার স্ত্রী ধানের শীষে সিল দেয়।

ধর্ষিতার স্বামী আরও জানান, এরপর রাত ১০টার দিকে আওয়ামী লীগের সেসব কর্মী তার বাড়ি এসে পুলিশ পরিচয়ে দরজা খুলতে বলে। সিরাজ মিয়া দরজা খুললে ঘরে ঢুকে তারা সিরাজ মিয়া ও তার চার সন্তানের হাত-পা-মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর তার স্ত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় এবং রাতভর গণধর্ষণ করে। পরের দিন সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উলঙ্গ অবস্থায় ঘরের পাশে ফেলে যায়। এলাকাবাসী সকালে গৃহবধূকে উদ্ধার করে এবং অজ্ঞান অবস্থায় দুপুর সোয়া ১২টায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ কোনও বাড়িতে সুন্দরী মেয়ে থাকলে তুলে নিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ


বর্তমান জালিম সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে না পারলে কারও অস্তিত্ব থাকবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এই দেশে এখন আর কেউ নিরাপদ নয়। গুম-খুন-ধর্ষণ প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে উঠেছে। এমনকি কারও বাড়িঘরে সুন্দরী মেয়ে থাকলে তাদেরকেও তুলে নিয়ে যেতে দ্বিধাবোধ করছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।’

রিজভী বলেন, ‘আজকে পরিবার, বস্তি, জনপদ থেকে শুরু করে দেশের গণতন্ত্রে বিরোধী দলের অস্তিত্বকে খালি করে দেয়ার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ সরকার। ‘খালি করার নীতি নিয়ে’ দেশে শোষণ-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের একযোগে লড়াই করতে হবে। তা না পারলে কারও অস্তিত্ব থাকবে না। কারও গৃহ থাকবে না, বাড়ি থাকবে না, সন্তান-সন্ততি থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘মিরপুরের চলন্তিকা, আরামবাগসহ একের পর এক বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এসব বস্তিতে বসবাসকারী অসহায় বস্তিবাসীর ওপর শকুনের দৃষ্টি পড়েছে। ক্ষমতাসীনদের কারও ওই জায়গাটা দখল করতে হবে- এজন্য জায়গা খালি করতেই আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। আগুন লাগিয়ে অসহায় মানুষদের তাড়িয়ে ওই জায়গাগুলো তারা দখল করছে। এটা হচ্ছে আওয়ামী সরকারের ‘খালি করার নীতি’। যার শিকার হয়েছেন চলন্তিকার বস্তিবাসী।’

সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের পক্ষ থেকে মিরপুরের চলন্তিকা বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ১৬ আগস্ট রাতে চলন্তিকা বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বস্তির প্রায় ৩ হাজার ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কিছু মানুষের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন রিজভী।

চলন্তিকা বস্তিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘আজকে মিডনাইট সরকারের একটাই নীতি- সারা বাংলাদেশ থেকে বিরোধী দল খালি করে দাও, বিএনপিকে খালি করে দাও। এর জন্য তারা গুম, ক্রসফায়ার, মামলা, গ্রেফতার এবং আটক করে রেখে দেশ থেকে বিরোধী দল খালি করতে চায়। হয়তো ক্ষমতাসীন কারও জায়গাটা দরকার। তাই খালি করতে হবে। কিভাবে করবে? এজন্য তারা আগুন লগিয়ে দিয়েছে। কয়েকটি জায়গায় এধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। প্রথমে আগুন লাগিয়ে দিয়ে অসহায় মানুষদের মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। এরপর ওই জায়গাগুলো তারা দখল করছে। এটা হচ্ছে আওয়ামী সরকারের খালি করার নীতি। যার শিকার হয়েছেন চলন্তিকার বস্তিবাসী।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী সরকার যতদিন থাকবে ততদিন এই খালি করার নীতির মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষকে বসবাস করতে হবে। ওরা যদি দেখে যে বিরোধী দল কিংবা সরকারের সমালোচনাকারী কারও একটি বাড়ি সুন্দর আছে তাহলেই তারা ওই বাড়িটি খালি করার নীতি অনুসরণ করে। এমনকি যদি মনে করে যে কোনও বাড়িতে সুন্দরী মেয়ে আছে তাহলে তাকে তুলে নিয়ে যেতে হবে, সেটা করতেও তারা দ্বিধাবোধ করে না।’

তথাকথিত উন্নয়নের নামে সরকার মানুষের সাথে উপহাস, হাসি-ঠাট্টা করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের লোকেরা গর্ব করে বলে দেশ উন্নত হলে সেখানে ডেঙ্গু হয়। কিভাবে মানুষকে নিয়ে তারা হাসি ঠাট্টা করে? অথচ এটা একটা মহামারি, প্রতিদিন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আর এটাকে তারা তাদের তথাকথিত উন্নয়নের সাথে মিলিয়ে বলছে, উন্নয়ন হচ্ছে বলেই এডিস মশার প্রাদুর্ভাব হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের ইচ্ছাতেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলায় ওনাদেরই লোকেরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নামে চার্জশিট দিতে পারেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সম্পূরক চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করে। অথচ তার আগের দুটি চার্জশিটের কোনটিতেই তারেক রহমানের নাম ছিল না।’

মহানগর উত্তর বিএনপির দফতর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, মো. ইয়াছিন আলী, সাজ্জাদ হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন মতিন, মো. আউয়াল, ইঞ্জিনিয়ার মজিবর রহমান, হাজী মো. তৈমুর, রেজাউল কবীর ও মো. আলাউদ্দীন প্রমুখ।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে যুব মহিলা লীগ নেত্রীসহ আটক ১৯


সিলেটের জৈন্তাপুরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে জেলা যুব মহিলা লীগের অর্থ সম্পাদিকা মিনারা বেগমসহ ১৯ জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। আটককৃতদের মধ্যে মিনারা ছাড়া আরো দুইজন নারী রয়েছেন। বাকি ১৬ জন পুরুষ।

রোববার (২৫ আগস্ঠ) দিবাগত গভীর রাতে জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি এলাকার উপহার কমিউনিটি সেন্টারের পাশের একটি বাসা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপহার কমিউনিটি সেন্টারের পাশের একটি বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে এমন খবর পেয়ে এলাকার লোকজন বাসাটি ঘেরাও দেন। পরে ওই বাসা থেকে যুব মহিলালীগ নেত্রী মিনারাসহ তিন নারী ও ১৬ পুরুষকে আটক করে পুলিশে খবর দেন তারা।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জৈন্তাপুর থানার ওসি শ্যামল বনিক জানান, অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ১৯ জনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উৎসঃ পূর্বপশ্চিমবিডি

আরও পড়ুনঃ অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে চলে গেলেন মা, ফেরেনি আমান আযমী!


যেখানে অজ্ঞাত লাশের কথা শুনতেন সেখানেই ছুটে যেতেন মা আফিফা আযম সাথে তার পরিবারের সদস্যরা। তবুও খোঁজ মেলেনি সন্তানের। ছেলের প্রতীক্ষায় থাকতে থাকতে নিজেও চলে গেলেন পরপারে। পরিবারের সদস্যরা এখনও গুমরে কাঁদে। বলছিলাম গুম হয়ে যাওয়া অধ্যাপক গোলাম আযমের পুত্র আব্দুল্লাহিল আমান আযমীর পরিবারের কথা।

২০১৬ সালের ২২ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে বিগ্রেডিয়ার আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে বাড়ি থেকে ফিল্মি স্টাইলে উঠিয়ে নিয়ে যায় সাদা পোষাকের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর আর কোন খবর নেই। এ নিয়ে কারো তেমন কোনো মাথাব্যাথাও দেখা যায়নি। তৎকালীন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় হলেও বাংলাদেশের গণমাধ্যম ছিল একেবারেই নীরব। বরং সত্যকে আড়াল করে অনেক বিভ্রান্তিকর সংবাদ তখন প্রচার হয়েছে।

তিন বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলো আমান আযমী ফিরে আসেননি। পরিবার তাকিয়ে রয়েছে প্রয়াত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র হুম্মামের মতোই একদিন ফিরবেন সেই আশায়। বার বার প্রশাসন, রাষ্ট্রের কাছে স্বজনরা দৌঁড়ঝাপ করেও কোন লাভ হয়নি।

তিন বছর পরে বড়ভাই সালমান আযমী আকুল হয়ে লিখেছেন, তিনটি বছর পেরিয়ে গেল আমার ভাইটিকে ওরা গুম করেছে। আমার মা অপেক্ষা করতে করতে চলেই গেলেন। আর আমরা এই আশায় বসে আছি যে আল্লাহ্ আমাদের ভাইটিকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেবার ব্যবস্থা করবেন। ছোট ভাইয়া, আপনি যেখানেই থাকুন, আল্লাহ আপনাকে হেফাজতে রাখুন।

শুধু আমান আযমী নয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গত দশ বছরে যে গুমের এই বিভীষিকা বাংলাদেশ পাড়ি দিয়েছে তা আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগকে হার মানিয়েছে। গত দশ বছরে ৫২৪ জন মানুষেরও বেশী বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গিয়েছে। এদের বেশিরভাগেরই কোন হদিস মেলেনি। আদৌ তারা ফিরবেন কি না জানেনা পরিবার।

পুলিশ সদরদপ্তরের রিপোর্ট অনুসারে আওয়ামী সরকারের দশবছরে (২০০৯-২০১৮) অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৭৪৫২টি। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ৮০০ জন, ২০১০ সালে ৮৮১ জন। ২০১১, ২০১২ এবং ২০১৩ সালে ৮৭০ জন করে অপহৃত হয়েছে। ২০১৪ সালে ৯২২ জন, ২০১৫ সালে ৮০৬ জন, ২০১৬ সালে ৬৩৯ জন, ২০১৭ সালে ৫০৯ জন, ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৮৫ জন অপহরণের শিকার হয়েছে।

একই সময়ে জামায়াতের সাবেক নেতা মীর কাসেম আলীর ছোট ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকেও গুম করা হয়। রাতের আঁধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তাকেও তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গুম করা হয় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে। আজ পর্যন্ত তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। একই বছরে ৪ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে বাস থেকে নামিয়ে গুম করে র‍্যাব। দুই ছাত্র ওয়ালীউল্লাহ ও মুকাদ্দাসের আজ পর্যন্ত কোন খোঁজ মেলেনি। চৌধুরী আলমের পরিবার জানেনা কোথায় আছে তাদের পরিবারের বটবৃক্ষ। বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ কিংবা নিরীহ সুখরঞ্জন বালির পরিবার জানেনা কবে দেশে ফিরতে পারবে তাদের অভিভাবক।

এভাবে বলতে থাকলে ঘটনার পরিক্রমা শেষ হবার নয়। গত জুন মাসের ২৯ তারিখে চলে গেলেন ব্রিগেডিয়ার (অব.) আমান আযমীর মা আফিফা আযম। জীবনের শেষ সময়েও ছোট ছেলের মুখে হাত বুলানোর জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। এভাবে সন্তান, স্বামী, বাবাদের জন্য অপেক্ষা করতে করতে কেটে যাচ্ছে হাজারও মায়ের দিন। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সে পরিস্থিতির বাস্তব কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া এই মানুষগুলো আদৌ কোনোদিন ফিরবে কিনা কেউ আজও পর্যন্ত বলতে পারছেনা। এক সীমাহীন অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে নিকষ অন্ধকারের দিকে যেন এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, যেখানে আজ বিরোধী মতের মানুষগুলোকে পিপড়ার চেয়ে নগন্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‘আবদুল মুহিতের অনৈতিক সুবিধা চাপা দিতে আমার আবেদন ভাইরাল করেছে সরকার ’


সংসদ সদস্য হিসেবে পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে করা আবেদন ভাইরাল হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি রুমিন ফারহানা।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বক্তব্যে তিনি এ জন্য সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিতের ‘অনৈতিক সুবিধা’ চাপা দিতে সরকার তার আবেদন ভাইরাল করেছে বলে অভিযোগ জানান।

লিখিত বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি এখন চ্যালেঞ্জ করব- যতজন এমপি অ্যাপ্লিকেশন করেছেন, সব প্রকাশ করা হোক। রুমিন কেনো একলা?’

গণমাধ্যমে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য রাষ্ট্র থেকে জায়গার জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারেন সেই সুযোগ তার আছে। তিনি একটি ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি আনতে পারেন সেই সুযোগ তার আছে। তিনি বেতন-ভাতা পান এবং তিনি পাঁচ বছরের জন্য একটা অ্যাপার্টমেন্ট পান- এই চারটি জিনিস হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সুযোগ। এই রাষ্ট্রীয় সুযোগ যিনি সংসদ সদস্য হবেন তিনিই রাষ্ট্র থেকে পাবেন। সেই সুবাদে আমি একটি আবেদনপত্র দিয়েছি। শুধু আমি একা নই, অন্তত তিন শ থেকে সাড়ে তিন শ এমপি অ্যাপ্লিকেশন দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো- আমার চিঠিটা মন্ত্রণালয় থেকে বেরোল কী করে? যেখানে আমার ব্যক্তিগত টেলিফোন নম্বর দেওয়া আছে? আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমি এই সরকারের কাছ থেকে এক সুতা জমিও আশা করি না, আমি চিন্তাও করি না। এটা একটি প্রসিডিউর, একটি ফরমালিটিজ যেটা সব এমপি করেছেন, আমিও করেছি।’

রুমিন বলেন, ‘এই চিঠি আমি ড্রাফটও করিনি, আমার পিএস ড্রাফট করে দিয়ে দিয়েছে। সব পিএসরা যখন তাদের এমপিদের চিঠি ড্রাফট করেছে, আমার পিএসও ড্রাফট করে দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমার চিঠিটা কেন ভাইরাল হলো? এটা ভাইরাল কেন হলো তার উত্তর আমি নিজেই দিচ্ছি।’

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গত দু’দিন আগে আবুল মাল আবদুল মুহিত (সাবেক অর্থমন্ত্রী) কোনো পদে না থাকা অবস্থায় শুল্কমুক্ত গাড়ি এনেছিলেন। সরকার তার সেই নোংরামি ও অসততাকে চাপা দেওয়ার জন্য আমার যে বৈধ অ্যাপ্লিকেশন সেটা নোংরাভাবে পাবলিক করেছে। একটা সরকারি নথি কখন পাবলিক হয় যখন সেখানে সরকারের মদদ থাকে।’

তিনি বলেন, ‘এই সরকার আমাদের ফোনে আড়ি পাতে, এই সরকার আমাদের ফেসবুক হ্যাক করে, এই সরকার আমাদের সমস্ত গোপন নথি ইচ্ছে করে প্রকাশ করে। যারাই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলবে, যারাই সরকারের কাজের সমালোচনা করবে, যারাই সরকারকে সঠিক পথে আনবার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সে বিষয়ে কথা বলবে এবং সরকারের মনমতো কথা না বলবে তাদের ব্যাপারে সরকারের একধরনের চেষ্টা থাকে তাদের হিউমিলেটেড করা বা তাদের কোনো না কোনোভাবে ম্যালাইন করা।’

তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো আমার চিঠিটা কি অবৈধ? কোন আইনে অবৈধ? এটা কি অনৈতিক কোনো আইনে অনৈতিক? এটা তো রাষ্ট্রীয় চিঠি। আমি তো সরকারের কাছ থেকে কিছুই চাইনি। আমার বেতনটা যেমন রাষ্ট্রীয়, আমার এই অ্যাপ্লিকেশনও রাষ্ট্রীয়।

‘এই সরকার যে অবৈধ এটা এখন বলছি, আগেও বলেছি- এটা সম্পূর্ণ অবৈধ সরকার। এটা জনগণের ভোট ছাড়া নির্বাচিত সরকার। এই সরকার সব অর্থে অবৈধ সরকার। আমি সরকারের কাছে কোনো কিছু চাইনি। আমি রাষ্ট্রীয় সুযোগ চেয়েছি। এটা তারা (সরকার) করেছে আবুল মাল আবদুল মুহিতকে যে অবৈধ ও অনৈতিক সুবিধা দিয়েছে ওইটাকে চাপা দেওয়ার জন্য, জনদৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য। যাতে মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে যায়।’

একাদশ জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় দুই মাসের মধ্যে সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদনে ১০ কাঠার একটি প্লট চেয়েছেন বিএনপির সাংসদ রুমিন ফারহানা। আবেদনে তিনি বলেছেন, ঢাকায় তার কোনো জমি বা ফ্ল্যাট নেই। ওকালতির বাইরে তার কোনো পেশা বা ব্যবসা নেই। সরকার প্লট দিলে ‘চিরকৃতজ্ঞ’ থাকবেন বলেও উল্লেখ করেছেন বিএনপি থেকে মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের এই সাংসদ।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে জানান, প্লট চেয়ে সাংসদ রুমিন ফারহানার একটি আবেদন তিনি পেয়েছেন। আইন অনুযায়ী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, রুমিন ফারহানা গত ৯ জুন সাংসদ হিসেবে শপথ নেন। আর প্লটের জন্য আবেদন করেন ৩ আগস্ট।

এদিকে, রুমিন ফারহানার প্লট চাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংসদকে ‘অবৈধ’ বলে আসা এবং বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচক হিসেবে রুমিন ফারহানা পরিচিত।

উৎসঃ দেশ রূপান্তর

আরও পড়ুনঃ সরকারের ব্যর্থতায় একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো যায়নি: মির্জা ফখরুল


সরকারের ব্যর্থতায় দুই বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার বিকালে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেছেন, গত দুই বছর ধরে রোহিঙ্গারা এ দেশে এসেছে। এই দুই বছরে সরকার এতই ব্যর্থ হয়েছে যে, দিনক্ষণ তারিখ ঠিক করেও সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পারেনি সরকার। অর্থাৎ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পুরোপুরিভাবে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

সরকারের ‌‌ ‘দুঃশাসনে’ দেশের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে সারা দেশে তারা (সরকার) একটা লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে। যেখানেই যাবেন সেখানে দেখবেন আওয়ামী লীগের লোকেরা লুটপাট ছাড়া আর কোনো কিছু করছে না। যার ফলে আজকে সবকিছু ভেঙে পড়ছে, শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। আজকে দুঃশাসন দেশে একটা অসহ্য, অস্বাভাবিক দুঃসহনীয় পরিবেশ বিরাজ করছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই সরকার খুব সুপরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। শুধু গণতন্ত্র নয়, রাজনীতিকেই ধ্বংস করছে। ১/১১তে ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত হয়েছিল বিরাজনীতিকরণের সেই ধারাই এখন চলছে। পুরোপুরিভাবে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে তাদের প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে তাদের একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করা। দেশে বিচারব্যবস্থা, আইনের শাসন, ন্যায়-নীতি বলতে কিছুই নেই। এখন শুধু একদল একনীতি একটাই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সেটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ।

আন্দোলন গড়ে তুলতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই, ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আজকে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়েই এই যে মনোস্টার দানবকে সরাতে হবে। তা না হলে একাত্তর সালে যে চেতনা নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেই চেতনা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার সর্বত্রভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। হাজার হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। সম্পূর্ণ এই সরকারের অব্যবস্থা ও তাদের অযোগ্যতার কারণে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে তথ্যমন্ত্রী বলেছেন যে, বিএনপি একটি খুনির দল। উনি ভুলে গেছেন যে, উনারা ১৯৭২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই খুন শুরু করেছিলেন। বিএনপি কিন্তু খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। বিএনপি কখনও খুনের দায়ে পড়েনি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘ব্যারিস্টার সালাম তালুকদার স্মৃতি সংসদ’।

সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে ও সদস্য শামসুজ্জামান মেহেদীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা সিরাজুল হক, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রশিদ-উজ-জামান মিল্লাত, নিলোফার চৌধুরী মনি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, হাবিবুর রশীদ হাবিব, ওয়ারেছ আলী মামুন, সুজাত আলী, সালাম তালুকদারের জামাতা এম হাসান ও ভাতিজী সাদিয়া হক বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে প্রয়াত আবদুস সালাম তালুকদারের স্ত্রী মাহমুদা সালামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: শুধু সুন্দরবন নয়, প্রতি বছর দেশের ৫০০০ কোটি টাকা ক্ষতি!


বিশেষজ্ঞ মতামত ও সকল জনমতকে উপেক্ষা করেই ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবনের অতি নিকটবর্তী রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে সরকার। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন মারত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন হবে। শুধু সুন্দরবনই ধ্বংস হবে না, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে ওই এলাকার কৃষি জমির ওপরও এটার মারাত্ম প্রভাব পড়বে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকার ১৮৩০একর ধানী জমি অধিগ্রহণ করেছে। এর ফলে ৮ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হয়ে যাবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মসংস্থান হতে পারে সর্বোচ্চ ৬০০ জনের। ফলে উদ্বাস্তু এবং কর্মহীন হয়ে যাবে প্রায় ৭৫০০ পরিবার। শুধু তাই নয়, এর ফলে প্রতি বছর হারাতে হবে কয়েক কোটি টাকার কৃষিজ উৎপাদন। এইতো গেল কৃষকের দুর্ভোগের কথা। এবার দেখুন পরিবেশের কি ক্ষতি হবে?

কয়লাভিত্তিক যেকোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে অন্য যে কোনো প্রকল্পের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। বিশেষত ভষ্মিভূত কয়লার ছাই এবং উৎপন্ন গ্যাসের ফলে বায়ু ও পানি দূষণের যুগপৎ প্রভাবের কারণে এই ক্ষতি হয়। এ ধরনের প্রকল্প এলাকার আশেপাশের অঞ্চলে এসিড বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে যা বৃক্ষ এবং বনাঞ্চলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে ভয়ানক মাত্রায়। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায় যে, ২০১০ সালে দেশটির মোট কার্বন ডাই অক্সাইডের ৮১ ভাগ উদগীরণ করেছে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলো, যা থেকে মোট শক্তির মাত্র ৪১ ভাগ পাওয়া গেছে। এই সকল বিবেচনায় পৃথিবী ব্যাপি সকল দেশেই কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

সাম্প্রতিককালে এই ধরনের প্রকল্প এড়িয়ে চলার চেষ্টাটাই বেশি চোখে পড়ে। এ ধরনের কয়লাভিত্তিক প্রকল্প প্রতি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রায় ২.২ বিলিয়ন গ্যালন পানির প্রয়োজন হয়। রামপালের প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা নিঃসন্দেহে মেটানো হবে পশুর নদী থেকে। পশুর নদীর পানি নোনা ও মিঠা জলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের প্রয়োজন মেটাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই নদীটির সাথে ওই গোটা অঞ্চলের সামগ্রিক জীববৈচিত্রের সংযোগ রয়েছে। এটি ওই অঞ্চলের জনবসতির ক্ষেত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী। কিন্তু এই প্রকল্প তৈরি করতে গিয়ে সেই নদীর অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে ফেলা হচ্ছে।

সবমিলিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে সুন্দরবন ও রামপাল এলাকায় এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। এছাড়া এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলে যে লাভের কথা প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং লাভ হলে সেটা যাবে ভারতের পকেটে। আর লস হলে পুরো দায় নিতে বাংলাদেশকে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র মোটেও কোনো ভূমিকা রাখবে না। বরং ভারতের স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে গিয়ে এক সময় রাষ্ট্রের রাজস্ব খাত থেকে টাকা দিয়ে এর ভর্তুকি মিটাতে হবে।

রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে দুই দেশের সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি নামে একটি কোম্পানিও গঠন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অর্থায়ন করবে ১৫% পি ডি বি, ১৫% ভারতীয় পক্ষ আর ৭০% ঋণ নেয়া হবে। যে নীট লাভ হবে সেটা ভাগ করা হবে ৫০% হারে। আর প্রকল্পে যদি লস হয় তাহলে এর পুরো দায় নিতে বাংলাদেশকে। ভারতের শুধু লাভের অংশ নেবে, কোনো লস তারা নেবে না।

উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে পি ডি বি। বিদ্যুতের দাম নির্ধারিত হবে একটা ফর্মুলা অনুসারে। কী সে ফর্মুলা? যদি কয়লার দাম প্রতি টন ১০৫ ডলার হয় তবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ এর দাম হবে ৫ টাকা ৯০ পয়সা এবং প্রতি টন ১৪৫ ডলার হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৮ টাকা ৮৫ পয়সা। অথচ দেশীয় ওরিয়ন গ্রুপের সাথে মাওয়া, খুলনার লবন চড়া এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে যে তিনটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের যে চুক্তি হয়েছে পি ডি বির সাথে সেখানে সরকার মাওয়া থেকে ৪ টাকায় প্রতি ইউনিট এবং আনোয়ারা ও লবন চড়া থেকে ৩টাকা ৮০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে।

কিন্তু, সরকার ১৪৫ ডলার করে রামপালের জন্য কয়লা আমদানির প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এরফলে ৮ টাকা ৮৫ পয়সা দিয়ে পি ডি বি এখান থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে।

আরও মজার বিষয় হলো-১৪৫ ডলার করে যে কয়লা কিনা হবে সেটাও আনবে ভারত থেকে। বিশ্ববাজারে যে কয়লার দাম কোয়ালিটি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০- ৮০ ডলারের কাছাকাছি। আর ৭০% বিদেশী ব্যাংক থেকে যে ঋণ আনা হবে, ওই ঋনের সমস্ত সুদ বহন করবে বাংলাদেশ। এছাড়া ঋণের টাকাও নাকি নেয়া হবে তাদের কাছ থেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যদি ২০ ঘণ্টা করে ৩০ বছর চালু থাকে এবং ইউনিট প্রতি ৪.৮৫ টাকা আর্থিক ক্ষতি ধরা হয় কেবল তাহলেই অঙ্কটা দাঁড়াবে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা! এ হিসাবে প্রতি বছল বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

দেশের স্বার্থে নয়, শুধু ভারতকে খুশি করতেই শেখ হাসিনা দেশের এমন সর্বনাশী পরিকল্পনা করছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ যারা হিন্দুদের শত্রু তারা বাংলাদেশ ও জাতির শত্রুঃ ওবায়দুল কাদের


দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের শত্রুরা জাতিরও শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের শত্রু যারা তারা বাংলাদেশেরও শত্রু। তারাই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানী পলাশীর মোড়ে র‌্যালি মিছিল উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিষবৃক্ষকে উৎটনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের আহ্বান জানান সেতুমন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার মাইনরিটি বান্ধব সরকার। এ সরকার যতদিন আছে আপনাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। অন্যান্য ধর্মীয় আচার ও উৎবগুলোও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এইদিক দিয়ে আপনারা নিরাপদ।

সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যত দিন পর্যন্ত বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভায়ের কোনো কারণ নেই।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সর্বকালের সেরা সময় পার করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় উন্নিত। আমাদের প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের কোনো টানাপোড়েন নেই।

এ সময় আগামী অক্টোবরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করবেন বলেন জানান তিনি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যাব। এ সফরের পর আমাদের কনস্ট্রাকটিভ পার্টনারশিপ আরও নতুন উচ্চতায় উন্নতি হবে এবং আমাদের দেশের বিরাজমান অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাব।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে শেখ হাসিনা জোর করে জিততে চান না, ভোট ডাকাতি করে!


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনা জোর করে নির্বাচনে জিততে চান না। জনগণকে খুশি করেই নির্বাচনে জিতেন। রাজধানীতে এক সমাবেশে দলের নেতাকর্মীদেরকে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দিয়ে এসব কথা বলেন।

কিন্তু, বিগত দিনের সিটি নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যায়-শেখ হাসিনা শুধু জোর করেননি, নজিরবিহীন ভোটডাকাতির মাধ্যমে সিটি নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে দলের প্রার্থীদেরকে বিজয়ী করেছেন।

২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন হানিফের ছেলে সাঈদ খোকন এবং উত্তর সিটিতে প্রার্থী ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক। আর বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দক্ষিণে মির্জা আব্বাস ও উত্তরে তাবিথ আওয়াল।

সেই নির্বাচনের ভোটের দৃশ্যটা কেমন ছিল? এদেশের জনগণ নিশ্চয় সেদিনের ভয়াবহ ভোট ডাকাতির কথা ভুলে যাননি। সেদিন দলীয় প্রার্থীদেরকে জেতানোর জন্য শেখ হাসিনার গুন্ডা-পান্ডারা শুধু ভোট কেন্দ্রই দখল করেনি, বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের এজেন্টদেরকেও কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ ভোটাররাতো সেদিন ভোট কেন্দ্রের কাছেই যেতে পারেনি।

ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই, সাংবাদিকসহ বিএনপি-জামায়াতের এজেন্টদেরকে মারধর করাসহ এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল যে, বেলা ১১ টার পরই বিএনপির দুই প্রার্থী ভোট বর্জন করতে বাধ্য হন। এরপরও ওবায়দুল কাদের বললেন-তার নেত্রী শেখ হাসিনা নাকি নির্বাচনে জোর করে জিততে চান না। এর চেয়ে নির্লজ্জতা আর কী হতে পারে?

এরপর অনুষ্ঠিত হলো বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, গাজীপুর, রংপুর ও সিলেট সিটি নির্বাচন। এসব নির্বাচনে শেখ হাসিনার গুন্ডা-পান্ডারা প্রায় সব কেন্দ্রই দখল করে নিয়েছিল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে শুধু বিএনপি নয়, মেয়র পদের প্রায় সব প্রার্থীই ভোট বর্জন করতে বাধ্য হয়েছিল।

এসব ভোট ডাকাতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিদেশিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। আর ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের কথাতো না বললেই চলে।

তাই ওবাইদুল কাদেরের এমন উক্তিতে সচেতন মহল বলছেন, ওবায়দুল কাদের নির্লজ্জের মতো অবলিলায় বলে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা নাকি জনগণকে খুশি করে নির্বাচনে জিতে। ওই যে কথায় বলে-চুরের মায়ের বড় গলা। ভোট চুরি করে এখন তারা বড় গলায় কথা বলছেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ গরিবের চামড়ায়ও কামড় দিলেন সেই দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান!


কুরবানির পশুর চামড়ার ব্যাপক দরপতন নিয়ে সারাদেশে এখনো তোলপাড় চলছে। মুসলমানরা তাদের কুরবানির পশুর চামড়া গরিব, মিসকিন ও এতিমদের মধ্যে বিতরণ করে দিয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এটা আল্লাহ ও তার নবীর নির্দেশ। প্রতিবছর কুরবানির পশুর চামড়ার টাকা গরিব, মিসকিন ও এতিমদের আয়ের একটি উৎস। আর দেশের হাজার হাজার এতিমখানার আয়ের প্রধান উৎস হলো কুরবানির পশুর এই চামড়ার টাকা।

এ বছর চামড়ার সঠিক দাম না পাওয়ায় দেশের বহু মাদরাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চামড়া নিয়ে এবার যা হয়েছে তা নজিরবিহীন। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এবার শুধু কম দামই নয়, অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে গর্ত করে মাটির নিচে চামড়া চাপা দিয়েছে। কেউ কেউ চামড়া কিনে বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে তোলপাড়। গণমাধ্যমগুলোতেও চামড়া পানিতে ফেলে দেয়ার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

চামড়ার এই তুঘলকি কাণ্ড নিয়ে সবাই বলছে এর পেছনে একটি সিন্ডিকেট জড়িত। কিন্তু এই সিন্ডিকেটে কারা জড়িত? গরিবের চামড়ায় কারা কামড় দিয়েছে? এ প্রশ্নের জবাব আসছে না। আর বিএনপি বলছে আওয়ামী লীগের এক বড় নেতা এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্ত, কে এই ব্যক্তি তার নাম বলেনি বিএনপি।

তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে গরিবের চামড়ার পেছনে সেই সেন্ডিকেটের পরিচয়। অনুসন্ধান বলছে, এই সেন্ডিকেটের মুল হোতা শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান। যিনি এর আগে দেশের শেয়ারবাজারসহ আরও বিভিন্ন খাতে কালো থাবা দিয়েছেন। যার কালো থাবায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে শেয়ারবাজারের হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর স্বপ্ন। সহায় সম্বল সব হারিয়ে যারা এখন পথে পথে ঘুরছেন। সেই দরবেশই আবারও উঠেপড়ে লেগেছে দেশের গরিব, মিসকিন ও এতিমদের চামড়া ছিনতাইয়ের কাজে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন একাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ট্যানারী ব্যবসায়ী বলেছেন, দরবেশই হলেন নাটেরগুরু। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর শক্তিশালী উপদেষ্টা হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্টরা মুখে তার নাম উচ্চারণ করতে পারছেন না। এদিকে গরমের কারণে ১০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে সালমান এফ রহমানের এমন মন্তব্যে হাস্যকর বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ​‘শেখ হাসিনা মিথ্যা বলেছেন, বিরোধী মতাবলম্বীদের ওপর বেশি নির্যাতন হচ্ছে’

বিরোধী মত, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পুলিশের হেফাজতে ‍নির্যাতন-মৃত্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় তো বটেই, এটা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়ে বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা তো আমার কাছে পরিস্কার যে, এখানে প্রধানমন্ত্রী সত্য কথা বলেননি। আমাদের পত্র-পত্রিকাগুলোতে মানবাধিকারের যে গ্রুপগুলো রয়েছে তাদের যে রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। এমনকি অ্যামিনেস্টি ইন্টান্যাশনাল, হিউম্যান রাইট ওয়াচ’র রিপোর্টে আমরা দেখেছি- প্রতিবছরে এখানে জুডিশিয়াল কাস্টিডিওতে মৃত্যু হয়েছে ৪শ’ থেকে ৭শ’। গতবছর বিশেষ করে ৪শ’ উপরে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে জডিশিয়াল কাস্টিডিও হত্যা হয়েছে।’

‘আর পুলিশ হেফাজতে যে টর্চার-এটা তো কমন ব্যাপার। পত্র-পত্রিকায় ছবিতে এসেছে- ফ্যান সিলিংয়ের সাথে ঝু্লিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের অনেক নেত-কর্মী আছেন যাদের পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। এটা ছবিতে চলে এসেছে। এগুলোতে আপনারা সবাই জানেন, পত্র-পত্রিকায় এসেছে। সুতরাং উনি (প্রধানমন্ত্রী) অবলীলায় অস্বীকার করলেন- এটা( হেফাজতে মৃত্যু) হয় না। আমরা মনে হয় এটা সঠিক নয় তো বটেই, এটা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রকৃত যে চিত্র নির্যাতন বাংলাদেশে নির্যাতন সরকারিভাবেই চলছে এবং সরকার বিরোধী মত ও যারা ভিন্নমত পোষন করে তাদের উপরে অত্যাচার-নির্যাতন আরও বেশি করে চালাচ্ছে। আপনারা দেখেছেন যে, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলোকচিত্রী শিল্পী শহিদুল আলমকে গ্রেফতার করে অত্যাচার করা হয়েছে এবং কাস্টিডিওতে নেয়ার পরে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সাথে নির্মম আচরণ করা হয়েছে।’

সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার মতো বিএনপি চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না- এরকম প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার যখন মনে করে চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া তারা কোনো ন্যায়ের কাজ করবে না। তখন তো ওইটা ডিফিকাল্ট হয়ে যায়। ইট ইজ এ রেসপনসিবিলিটিজ দ্যা গর্ভমেন্ট, তাকে ডেঙ্গুর কাজ করতে হবে, বন্যা পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে, কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি করতে হবে। আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

সর্বক্ষেত্রে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, তাহলে আপনার সরকারই উস্কানি দিচ্ছে ভিন্নপথে যাওয়ার। যেটা আমরা মনে করি একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য কখনোই ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

সরকারি দল বলছে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মতো আন্দোলন বিএনপি পারছে না- এরকম প্রশ্নের মহাসচিব বলেন, ‘বিষয়গুলো আপেক্ষিক না। ফ্যাসিস্ট সরকার যখন থাকে তখন সেই মুক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন কী জ্বালাও-পোঁড়াও করে সব পুঁড়িয়ে দিতে হবে নাকি? এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা আওয়ামী লীগের মধ্যে আছে যা এটা তারা চাচ্ছে।’

আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিয়মের মধ্য দিয়ে চেষ্টা করছি। জনগণ যদি মনে করে যে, তারা অন্যভাবে দেখবেন- সেটা জনগণের ব্যাপার বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here