শরীয়তপুরে ডায়রিয়ায় ২০০ জন হাসপাতালে, স্যালাইন ছাড়া কিছুই পাচ্ছে না রোগীরা

0
51

চলতি মাসের ১৩ দিনে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২৭ জন।

শনিবার দুপুরে সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া রোগীর উপচে পড়া ভিড়। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় হাসপাতালের বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। এর মাঝখান দিয়ে হাঁটা চলা করছে চিকিৎসক, নার্স ও রোগীর স্বজনরা। বেড সিমিত হওয়ায় ফ্লোরে আছেন ডায়রিয়া রোগীরা।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, ভর্তির পর তাদের খাবার স্যালাইন ছাড়া আর কিছুই দেয়া হচ্ছে না হাসপাতাল থেকে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধ তাদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। তাছাড়া বাথরুম এবং হাসপাতালের ময়লা আবর্জনার গন্ধ আরও অসুস্থ করে দিচ্ছেন রোগী ও স্বজনদের।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স আখি বিশ্বাস জানান, চলতি মাসের ১৩ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ২৭ জন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ১০টি বেডের বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি আছে ২০ জন। এর মধ্যে শিশু, যুবক, বৃদ্ধ ও নারী রোগী। যায়গা না থাকায় অনেক রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছে

রহিমা বেগম (৩৫) নামে এক রোগী জানান, সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামে তার বাড়ি। সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালে এসে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু হাসপাতাল থেকে খাবার স্যালাইন ছাড়া কিছু দেয়া হয়নি তাকে। কলেরা স্যালাইন, এন্টিবায়োটিক, ইনজেকশনসহ সকল জিনিস বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে।

হৃদয় মোল্লা (২০) নামে আরেক রোগী জানান, তিনি শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাশ খান বাড়ি থেকে এসেছেন। দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড না থাকায় ফ্লোরে ফোমের ওপর শুয়ে আছেন।

তার মা বলেন, ছেলের ডায়রিয়া হয়েছে সদর হাসপাতালে আনলাম, কিন্তু বেড নেই, ডাক্তার নেই। নার্সকে কিছু বললে ডাক্তারের কাছে যেতে বলেন। টয়লেটের অবস্থা খুবই খারাপ। যেমন দুর্গন্ধ, তেমন ময়লা জমে আছে।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আব্দুল্লাহ্ বলেন, শরীয়তপুরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ গরম পড়ার কারণে ডায়রিয়া রোগী বেশি। এর মধ্যে শিশু, যুবক, বৃদ্ধ ও নারী রয়েছে। যার মধ্যে নারী রোগীর সংখ্যা বেশি। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় রোগীদের আন্তবিভাগের বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। কিছু ওষুধ কম আছে। আশা করছি দ্রুত ডায়রিয়া রোগের ওষুধ পাব।

তিনি বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন আছে। হাসপাতালের পরিবেশ সুন্দর রাখতে পরিষ্কার করা হচ্ছে। বাড়তি রোগীদের অন্যত্র নেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. খলিলুর রহমান জানান, হঠাৎ করেই দুই তিন যাবৎ হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। মূলত এখন গরমের দিন, আর গরমের দিনগুলোতেই ডায়রিয়া রোগ বেশি হয়। গরমে মাছির উপদ্রব বাড়ে, খাবার সহজে নষ্ট হয়ে যায় আর খাবার সংরক্ষণের সঠিক উপায় না জানার কারণে এ সমস্যা হয়ে থাকে। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের এখন পর্যন্ত মারাত্মক কোনো সমস্যা হয়নি।

উৎসঃ ‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ ‘সেই বিতর্কিত বিচারক মানিক আমার বাবার সম্পর্কে মিথ্যাচার করেছেন’: ড. আসিফ নজরুল


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল নাম উল্লেখ না করে অবসরপ্রাপ্ত বিতর্কিত বিচারপতি মানিকের মিথ্যাচার প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সেই বিচারক আমার বাবার সম্পর্কে মিথ্যাচার করেছেন।’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিতর্কিত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আসিফ নজরুলের বাবাকে ‘বিহারি এবং একজন খাস রাজাকার’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন মানিকের সেই বক্তব্যের প্রতিবাদে ড. আসিফ নজরুল ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

পাঠাওকের জন্য ড. আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলঃ

“এদেশের সর্বোচ্চ আদালতের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনবরত আমার প্রয়াত পিতা সম্পর্কে মিথ্যাচার করে চলেছেন। তার বক্তব্য আমার বাবা নাকি বিহারি ছিলেন! আমার বাবা প্রয়াত জনাব নূরুল ইসলামের জন্ম এক সাধারণ কৃষক পরিবারে, কুমিল্লার হোমনা থানার দৌলতপুর ইউনিয়নের মিঠাইভাঙ্গা গ্রামে। উনার বাবার নাম আবদুল কাদের, মা খাদেজা বেগম। নিজ যোগ্যতায় পড়াশোনা করে আমার বাবা একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা হয়েছিলেন। অবসর গ্রহণ করেন বাংলাদেশ বেতারের রিজিওনাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।

অবসরপ্রাপ্ত সেই বিচারক আগে একটি অনুষ্ঠানে আমাকে রাজাকার বলেছেন। ১৯৭১ সালে আমার বয়স ছিল পাঁচ বছর দুই মাস। এ বয়সে কি রাজাকার হওয়া যায়? গতকাল (শুক্রবার) একটি অনুষ্ঠানে তিনি করেছেন নতুন একটি উদ্ভট দাবি। এবার আমাকে নয়, আমার বাবাকে বলেছেন ‘খাস রাজাকার’। কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ, এমনকি প্রাথমিক তথ্য ছাড়া সম্পূর্ণ মনগড়াভাবে এ লোক আমার প্রয়াত বাবার মতো একজন সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে এসব জঘন্য মিথ্যাচার করে চলেছেন।

এমন মানসিকতার একজন ব্যক্তি বিচারক থাকা অবস্থায় আসলে কী বিচার করেছিলেন তা আপনারা ভেবে দেখেন। তিনি আবার কিছু স্বনামধন্য সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। আমি মনে করি এসব সংগঠনের উচিত না তাদের প্ল্যাটফর্মে এসব মিথ্যেচার চালানোর সুযোগ দেয়া। নিজেদের গ্রহণযোগ্যতার স্বার্থে এই লোককে বয়কট করা উচিত সবার।”

উৎসঃ ‌ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

আরও পড়ুনঃ নুসরাত হত্যার দায় সরকার এড়াতে পারবে না: মির্জা ফখরুল(ভিডিও সহ)


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার দায় সরকার এড়াতে পারবে না। এরকম জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পর যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ নেয়ার কথা ছিল রাফির ক্ষেত্রে তা হয়নি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়ার আগে শনিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরে নিজ বাসবভনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না রাফির হত্যাকারীরা বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে, শাস্তি পাচ্ছে। ততক্ষণ পর্যন্ত এর দায় সরকারসহ গোটা জাতিকে বহন করতে হবে। এ সময় রাফি হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন তিনি।

ভিডিওঃ ‘নুসরাত প্রমাণ করল দেশে আইনের শাসন নেই: মির্জা ফখরুল (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু বিএনপি নয়, পুরো জাতি সংকটে আছে। এ বেআইনি ও দখলদার সরকারের কারণে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ধ্বংস হয়ে গেছে। বাংলাদেশে তো এখন কোনো রাজনীতি নেই, রাজনীতি তো একটা দলের কাছে চলে গেছে। সেই দলের হাতেই এখন আইনের শাসন ব্যবস্থা, পুলিশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ হয়। সাংবাদিকরাও এখন সত্য প্রকাশ করতে পারেন না। মানুষের বাকস্বাধীনতা নেই এখন, তাই অন্যায়কারীরা অন্যায় করতে ভয় পায় না এখন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের সঙ্গে এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনো কথা হয়নি। এ নিয়ে সরকার মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহ-সভাপতি আবু তাহের দুলাল, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন, জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক মামুন-উর-রশিদ প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ তারা জানে ভোট চুরি করে তারা সংসদে গেছে : ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন একটি মামলায় ৫ বছর সাজা দেয়ার পর ৫/৭ দিনের মধ্যে জামিনে মুক্ত করা সম্ভব । কিন্তু ১৪ মাস অতিবাহিত হলে ও বেগম জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। কারণ আদালত রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত নয়। নিন্ম আদালত ঠিক ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেনা। তাই আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

তিনি শনিবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা যুবদলের পরিচিতি ও বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন ।

জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমনের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক নুরুল আমিন খানের পরিচালনায় নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু,মোঃ শাহাজাহান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন।

বক্তব্য রাখেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মোরতাজুল করিম, দপ্তর সম্পাদক কামরুর জামান দুলাল,চট্রগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তি,নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি,সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আঃ রহমান,বিএনপি নেতা ভিপি জসিম,আবুনাছের,ছলিম উল্লা বাহার হিরণ,শাহা জাফর উল্লা পলাশ,যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট সেলিম শাহী, আঃ জাহের,আরাফাতের রহমান হাছান,নিজাম উদ্দিন ফারুক, আনিছ আহমেদ হানিফ, আঃ মতিন লিটন প্রমুখ।

মওদুদ আরো বলেন ৩০ ডিসেম্বর কোন নির্বাচন হয়নি, আগের দিন রাতে ভোট কেন্দ্র দখল করে নির্বাচন কমিশন ,প্রশাসন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি নৌকায় সিল মেরে বাক্স ভর্তি করেছে ,তা দেশের কোটি কোটি মানুষ জানে ।

তিনি বলেন যারা এভাবে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গিয়ে বসে থাকে তারা দুর্বল। তারা জানে ভোট চুরি করে তারা সংসদে গেছে। বর্তমানে বিরোধী দল বলতে কিছু নেই। সরকার ও বিরোধীদল চায় না। দেশে রাজনীতি শূর্ণতা বিরাজ করছে । তা থাকবেনা । তা কেটে যাবে। মওদুদ আরো বলেন, নির্বাচনের পর থেকে খুন, গুম হামলা মামলার পরও বিএনপির শত বছরের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা খাঁটি সোনা তাদের রাজনীতি থেকে বিরত করা যাবেনা। দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে বিএনপি কর্মীদের সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌ফেনীর পুলিশ-প্রশাসন নিয়ে সাবেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিস্ফোরক তথ্য


সোনাগাজী উপজেলার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ফেনী জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ফেনীতে হওয়া বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন জেলার সাবেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা। তার স্ট্যাটাসটি আরটিভি অনলাইনের পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো—

আপনারা সবই জানেন, তাও বলি, সত্য সূর্যের মতই..

‘‘দিনে দুপুরে ছিনতাই হয়েছে বিজয়সিং দিঘীতে৷ ছিনতাইয়ের শিকার যুবকের করা মামলা নেয়নি ওসি রাশেদ চৌধুরী। মামলা নিতে চাপ প্রয়োগ করতে হয়েছে। তারপরও নেয়নি মামলা। এরপর, অন্তত ১০টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আমি থানায় পাঠিয়েছি ভিকটিমদের। ওসি মামলা নেয় নাই। জিডি করতে বাধ্য হয়েছে ভিকটিমেরা। আমার জিজ্ঞাসা কেন মামলা নেয়নি ওসি? ছিনতাইয়ের কি জিডি হয়?

ফেনীতে দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে জায়গা দখল করেছে এক কাউন্সিলর, অন্যখানে আর একজন প্রভাবশালী নেতা। তাকে জায়গা দখলে সুরক্ষা দিয়েছে স্বয়ং সদর থানার ওসি। আমি বাধা দিতে চেয়েছি, আমাকে থামানো হয়েছে। কে থামাতে চেয়েছে সেটা আর না-ই বললাম।

ফেনী শহরজুড়ে অনেকগুলো পতিতালয় আছে৷ যেখানে মানুষকে নিয়ে ভিকটিম বানিয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে টাকা উদ্ধার করা হয়। এরকম ঘটনা আমার কাছে এসেছে অসংখ্য। এসব পতিতালয়ের নিয়ন্ত্রক কারা?

প্রকাশ্যে জনিকে অস্ত্রসহ ধরার পর পুলিশকে আসতে বলি স্পটে। সেখানে পুলিশ আসে এবং আমাকে সাহায্য করে। আমি পুলিশকে অস্ত্র আইনে মামলা করতে বলি, পুলিশ মামলা করতে অপারগতা জানায়। কেন? আমাকে পুলিশ এও বলে যে, আমি ধরেছি আমাকেই মামলা করতে হবে। অথচ পুলিশ আমার সাথেই ছিল। হাস্যকর না!

ফেনীর এক চেয়ারম্যান আমাকে চোরাচালানের তথ্য দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক বড় নেতা থেকে শুরু করে সিন্ডিকেটের সবাই তাকে শাসিয়েছে। ডিবির এএসপি আমিনুল তাকে বলেছে সে কিভাবে নির্বাচন করে সেটা সে দেখে নিবে।

ফেনীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষি জমির মাটি কাটা নিয়ে শুরু করে, মাদক, স্বর্ণ চোরাচালান প্রায় প্রতিটি বিষয়ে যতটা না অপরাধীদের সাথে তার চেয়ে অনেক বেশি আমাকে যুদ্ধ করতে হয়েছে এই সিন্ডিকেটের সাথে। ফেনীর বালুমহাল নিয়ন্ত্রকদের শাস্তি প্রদানে কাজ করতে পারিনি আমি। একটা বছর ধরে পুরো সিন্ডিকেট মিলে আমাকে পদে পদে বাধা প্রদান করেছে। নির্বাচনে আমার গাড়ি থেকে প্রটেকশন উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। সারারাত জেগে আমার পরিবারকে পাহারা দিতে হয়েছে।

এই শহরের প্রতিটি ইঞ্চি আমি চিনি। শহরের প্রতিটি ইটের ভাষাও আমি জানি। সংগ্রামটা অবিশ্বাস্য হলেও শুধু আমার একারই ছিল, আমি ভয়ানক একাই ছিলাম। শুধু আমার দু-একজন বস আর ফেনীর সাধারণ মানুষ ছিল সাথে। তাদের কারণেই এক ইঞ্চি মাঠও ছাড়ি নাই। তবে অনেক সময়ই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারিনি, থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য নিজেকে প্রায়ই অপরাধী মনে হয়।

পুরো প্রশাসন হয় উদাসীন, নয় অপরাধের সাথে জড়িত, সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত, অন্যায়ের সাথে, দুর্নীতির সাথে জড়িত। ঔদাসীন্যও এক ধরনের অপরাধ। এদের মুখে বঙ্গবন্ধুর কথা শুনলে আমার থুতু দিতে ইচ্ছে হতো। এগুলো কিছুই সাংবাদিকরা লেখেনি। আমি লিখতে বলেছি, এরা ভয়ে লেখে নাই।

রয়েছে এমন শত শত ঘটনা। এসব ঘটনা বলার কারণ, এগুলো অন্যায়, ভয়াবহ অন্যায়। এই সমাজ এই অন্যায়গুলোর ধারক ও বাহক। এদের কাছে আপনি কিভাবে নুসরাত হত্যার বিচার পাবেন?

স্বেচ্ছায় বিদেশে এসেছি পড়তে, দেশে ফিরব পড়াশোনা করে। সরকার চাইলে কাজ করব, না হলে চাকরি ছেড়ে দিব। প্রত্যয় এটুকুই- যুদ্ধের জীবন চলছে, চলবে।’’

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‌সীমাহীন নির্যাতন-মামলা, তারপরও উঠে দাঁড়াচ্ছে বিএনপি: দুদু


ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বারবার অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর সীমাহীন নির্যাতন করছে এমন অভিযোগ করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের আহ্বায়ক শামসুজ্জান দুদু বলেছেন, ‘এতো নির্যাতন বাংলাদেশে কেনো সারা বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রে কোনো রাজনৈতিক দলের ওপরে হয় নাই, প্রায় এক লক্ষ মামলা ২৬ হাজার নেতাকর্মীর নামে দেয়া হয়েছে। তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক রাখা হয়েছে। তারপরও বিএনপি উঠে দাঁড়াচ্ছে।’

শনিবার (১৩ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল আয়োজিত সংগঠনটির ১২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।

বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘শেষ কথাটা হলো এই বাংলাদেশ গড়েছে জিয়াউর রহমান তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন লড়াই করেছেন। বেগম জিয়া তার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে জেল খেটেছেন পাকিস্তানের টাকায় তার সংসার চলে নাই অথচ কেউ কেউ পাকিস্তানের গাড়িতে করে হাসপাতালে গিয়েছে পাকিস্তানের অর্থায়নে কেউ কেউ চলেছে তার পরেও বিএনপি ঠিকই আছে।’

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বিএনপি গণতন্ত্রকে মুক্ত করবে, বিএনপি বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে, তারেক রহমানকে দেশে আনবেই। কিভাবে আনবে? অসংখ্য উদাহরণ আছে সেই উদাহরণ যখন বাস্তবায়ন হওয়া শুরু করবে তখন হাসিনাকে বলছি না, পালানোর জন্য আমরা তাকে মারধরের কথা বলছি না, তার সংগঠনকে উচ্ছেদ করবো সেটা বলছি না, তবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে বিএনপি সে আইন কে মোকাবেলা করতে হবে তাদেরকে।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তিনি এ দেশকে গণতন্ত্রের স্বাদ পাইয়েছেন। যি‌নি পাকিস্তান আমল থেকে নির্যাতনের শিকার হয়েও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। যাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। আমি তার মুক্তি চাই নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।’

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘হতাশা যখন ঘিরে ধরে তখন তার মৃত্যু হয়। যখন সামনের স্বপ্নগুলো ধ্বংস হয়ে যায় তখন স্বপ্নগুলোকে বাস্তব রুপ নেয়না। মিথ্যা করে দেয় এটা ফ্যাসিবাদের কাজ আর এটাই শেখ হাসিনা সফল ভাবে করেছে।’

আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালাউদ্দীন খানের সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমতুল্লাহ, কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, মিয়া মো. আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌এদেশে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সারা বছরই ধর্ষণের উৎসব চলে: সেলিম


নুসরাত জাহান রাফির নৃশংস হত্যার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, ‘এটা এমন দেশ যেখানে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সারা বছরই ধর্ষণের উৎসব চলে। আর সরকার বা সরকারি দলের লোকের ছত্রছায়ায় অপরাধীরা মাফও পেয়ে যায়।’

নুসরাত হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে শনিবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় শুরু হওয়া বঙ্গভবন থেকে গণভবন পর্যন্ত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় সিপিবির সভাপতি আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সপ্তাহ’ পালন কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

সেলিম বলেন, ‘এটি শুধু সিপিবির কর্মসূচি নয়, এটি দেশের সব মানুষের কর্মসূচি। দল মত নির্বিশেষে সব মানুষ এতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ থেকে নারী নির্যাতন দূর করবে।’

নুসরাত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা কোনও বিচ্ছন্ন ঘটনা নয়, এদেশে সারা বছরই ধর্ষণের উৎসব চলে। এসব ধর্ষণের শিকার হয় মূলত শিশুরা। কারণ অপরাধী জানে এদেশে কোনও অপরাধেরই বিচার হয় না। সরকার আর সরকারি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলেই সব অপরাধ মাফ।’

তিনি বলেন, ‘এইসব অপরাধীরা যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন সেই দলের সঙ্গে যোগ দেয়।’

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর রাফির মা শিরিন আক্তারের করা মামলায় গ্রেফতার সিরাজদ্দৌলা এখন রিমান্ডে আছেন। গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এসময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা ৪-৫ জন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার চারদিন পর গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে : রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজ (বিএসএমইউতে) বিএনপি চেয়ারপারসনের সুচিকিৎসা হচ্ছে না। তিনি বলেন, বিএসএমএমইউতে বেগম জিয়ার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। আজ শনিবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ প্রমুখ।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে মিথ্যাচার করছে। যা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখে বাকশাল কায়েম করতে চায়। সরকারের এরকম ঘৃণ্য চক্রান্তের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

নোয়াখালীতে মাদরাসা ছাত্রী নুসরাতকে আওয়ামী লীগের লোকেরা পুড়িয়ে মেরেছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, হত্যাকারীদের বাঁচাতে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিএনপির এই নেতা বলেন, ফেনীতে বিএনপি নেতাকর্মীরা থাকতেই পারে না। কিন্তু তাদেরকে মামলার আসামি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সারাদেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট কারা নুসরাতকে পুড়িয়ে মেরেছে। তাই জনগণ কোনো মিথ্যাচারে বিশ্বাস করবে না।

রিজভী বলেন, সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা আগুন সন্ত্রাসী করে যা বিভিন্ন সময়ে প্রমাণিত হয়েছে। সরকার দলীয় স্থানীয় নেতারা লম্পট অধ্যক্ষের পক্ষে সাফাই গাইছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, নুসরাত হত্যা মামলা সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যা মামলার ন্যায় রূপ নেয় কি না সে বিষয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

সোনাগাজী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে সরকার দায় এড়াতে চাচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, নুসরাত যখন ওসির কাছে অভিযোগ করেছিলো তখন পদক্ষেপ নিলে তার এই নির্মম পরিণতি হত না।

তিনি বলেন, সোনাগাজীর ওসি দায়িত্ব অবহেলা করছে। তিনি নুসরাত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতকে যৌন হেনস্তা করেছে। যা তার ধারণকৃত ভিডিওতে প্রমাণিত।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ শিগগিরই নুসরাতের পরিবারের খোঁজখবর নিতে ফেনী যাবেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌‘বিশ্বের স্বৈরাচারী দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ’


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা করে বের করেছে বিশ্বের যেসব স্বৈরাচারী দেশ আছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। যে দেশ উন্নয়নের কথা বলে, সেই দেশের রাজধানীকে চিহ্নিত করা হয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি দূষিত শহর বলে।’

শনিবার( ১৩ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।

নজরুল বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি দেশটাকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য। যে দেশে ধনী দরিদ্র বৈষম্য থাকবে না, আমার মা বোনরা কারো দ্বারা লাঞ্ছিত হবে না। সে ধরনের একটি বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা লড়াই করেছিলাম। সে বাংলাদেশে যখন ফ্যাঁসিবাদ কায়েম হয়, এটা আমার কথা না। স্বৈরাচার কায়েম হয়, এটাও আমার কথা না। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা করে বের করেছে বিশ্বের যেসব স্বৈরাচারী দেশ আছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। যে দেশ উন্নয়নের কথা বলে, সেই দেশের রাজধানীকে চিহ্নিত করা হয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি দূষিত শহর বলে।’

আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রকে বহাল করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে আবার আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রকে সংবিধানে পুনর্বহাল করেছে। যদি তাই হয় তবে দেশে তো সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রচলিত হওয়ার কথা। কিন্তু আসলে আমরা কি করছি? বাংলাদেশের সবাই জানে এটা একটা মুক্তবাজারের দেশ। মুক্তবাজার অর্থনীতিকে আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে এবং প্রেস কনফারেন্স করে সেটা জাতিকে জানিয়েছে যে তারা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে। বিশ্বাস করেন মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আর সংবিধানে লেখা সমাজতন্ত্র এই যে দ্বিমুখী নীতি এটা জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া মাদরাসাছাত্রী নুসরাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনতো মানবাধিকার ও মহিলা সংগঠনগুলোকে সোচ্চার হতে দেখি না। আজকে আমরা শুনি নুসরাতকে যারা লাঞ্ছিত করেছে তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা আছে। তাদের একজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সাথে সখ্যতা ক্ষমতাসীন দলের। আমরা দাবি করবো, নুসরাতকে লাঞ্ছনাকারী সে যেই হোক না কেন, তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু হবে কিনা জানি না।’

খালেদা জিয়া কোন অপরাধ করেননি উল্লেখ করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘খালেদা জিয়া কোন অপরাধ করে নাই। তিনি কোন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে এ কথা আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি এবং আদালতে যেসব সাক্ষী প্রমাণ, তা প্রমাণ করতে পারি। কিন্তু তাকে জেল দেওয়া তো বন্ধ করতে পারি না। কারণ, আজকে আইন বিভাগকে পর্যন্ত সরকার তাদের অধীনস্ত করে ফেলেছে। এটাই ফ্যাঁসিবাদের চরিত্র। আজকে আমরা রাজনীতি করবো বিএনপির, আমাদের প্রতিপক্ষ হবে আওয়ামী লীগ। কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ না। আমার প্রতিপক্ষ হলো পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি। একটা মিছিল মিটিং করতে গেলে আমার সামনে তো আওয়ামী লীগ দাঁড়ায় না। এই যে রাষ্ট্রকে বিরোধী রাজনীতির প্রতিপক্ষ বানানো এটাকেই বলে ফ্যাঁসিবাদ, এটাই হলো স্বৈরাচার।’

আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালাউদ্দীন খানের সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমতুল্লাহ, কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, মিয়া মো.আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা বাতিল ও স্থগিত, নতুন তারিখ ঘোষণা


প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠায় চলমান দাওরায়ে হাদিসের অনুষ্ঠিত সব পরীক্ষা বাতিল করেছে সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া। এছাড়া সামনের পরীক্ষাগুলোও স্থগিত করে পরীক্ষার নতুন তারিখ দেয়া হয়েছে। হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার নেতৃত্বাধীন ছয়টি বোর্ডের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আজ শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার মতিঝিলে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে দাওরায়ে হাদিসের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে জরুরি আলোচনা হয় এবং শেষ পর্যন্ত এ বছর অনুষ্ঠিত পেছনের সব পরীক্ষা বাতিল এবং সামনের সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে।

বৈঠকে পরীক্ষার নতুন তারিখও নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত মতে ২৩ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হয়ে ৩ মে শেষ হবে। উক্ত বৈঠকে প্রশ্ন ফাঁসরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন সংস্থার নেতৃবৃন্দ।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সদস্য মুফতি রুহুল আমিন, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমী, মুফতি আরশাদ রাহমানী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা শামসুদ্দিন জিয়া, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু প্রমুখ।

উল্লেখ্য, কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা গত ৮ এপ্রিল শুরু হয়েছিল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৮ এপ্রিল।

আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৬টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মোট ২৬ হাজার ৭২১ জন শিক্ষার্থী এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

হাইয়াতুল উলইয়ার অধীনে ৬টি শিক্ষা বোর্ড হলো- বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আজাদ দ্বীনি এদারায়ে তালিম বাংলাদেশ, তানজিমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনে ‘কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ পাস হয়।

আইন পাস হওয়ার পরে সংস্থাটির অধীনে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় পরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এর আগে অবশ্য ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল ২০১৭ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি শিক্ষা সনদের মান ঘোষণা করার পর হাইআতুল উলয়ার অধীনে ৬ বোর্ডের সম্মিলিত দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা ইতোপূর্বেও দুইবার (২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উৎসঃ ‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ ‌নারী নির্যাতন মহামারী আকার ধারণ করেছে : রুহুল কবির রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমানে আইনের শাসন নেই বলেই দেশব্যাপী এক ভয়ঙ্কর অরাজক পরিস্থিতি বিদ্যমান। প্রতিদিন নানা দূর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির এক পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁতী দলের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ হুমায়ুন ইসলাম খান। সভায় নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বর্তমানে আইনের শাসন নেই বলেই দেশব্যাপী এক ভয়ঙ্কর অরাজক পরিস্থিতি বিদ্যমান। প্রতিদিন নানা দূর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থার অভাব এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার কারণে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটি বর্তমানে এক জুলুমের নগরীতে পরিণত হয়েছে। মানবতা ও মানবিক মূল্যবোধের অভাবে এবং সরকার নিজ স্বার্থে রাষ্ট্রযন্ত্রকে যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে দেশের মানুষ সর্বদা এক অজানা আশঙ্কায় আতঙ্কিত জীবন অতিবাহিত করছে। দেশের মানুষ এখন পুরোপুরি নিরাপত্তাহীন।

তিনি বলেন, সারাদেশ যেন এক মৃত্যু উপত্যকায় রুপান্তরিত হয়েছে। বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের নিষ্ঠুর শাসন থেকে মুক্তি পেতে জনগণকে সাথে নিয়ে আগামীতে বিএনপি ঘোষিত সকল আন্দোলন-সংগ্রামে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঝাঁপিয়ে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের নেতাকর্মীরাও বীরদর্পে লড়াই চালিয়ে যেতে পিছপা হবে না।

নবগঠিত তাঁতী দলের সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, আমি আশা করি তাঁতী দলের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনটিকে গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। এছাড়া মিডনাইট স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের কবল থেকে হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়সহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সম্পূর্ণ নির্দোষ বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক চারবারের প্রধানমন্ত্রী ও এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে সকল আন্দোলন সংগ্রামে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌‘বর্তমানে নিজের ইচ্ছায় ভোট দিলে ধর্ষিত হতে হয়’


নারী সংহতি সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আমরা এমন একটা সমাজে আছি যেখানে নিজের ইচ্ছায় ভোট দিলে ধর্ষিত হতে হয়। যেখানে শ্রমিক তার মজুরি দাবি করলে তাকে সুমনের মতো গুলি খেয়ে মরতে হয়। যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে দাঁড়ালে আগুনে ঝলসে প্রাণ দিতে হয়। এই সমাজে চাটুকার, দাস মনোবৃত্তির না হলে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে গেছে। এমন সমাজ ও রাজনীতির মধ্যেও আমরা নুসরাতসহ সারাদেশের নারীর নিরাপত্তা, মানুষ হিসেবে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দাঁড়িয়েছি।

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে প্রতিবাদ ও সংহতি সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। শাহবাগে নুসরাতের ছবি হাতে ‘আমরা সবাই নুসরাত, নুসরাত হত্যার বিচার চাই’ এই স্লোগানে নারী সংহতি এই সংহতি সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রতিবাদ ও সংহতি সমাবেশে বক্তব্য দেন নারীপক্ষের শিরিন হক, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, শিল্পী কফিল আহমেদ, অরূপ রাহী, আলোকচিত্রী সাদিয়া রূপা। সমাবেশে নারী সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ, নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগঠক পপি রানী সরকার, নারী সংহতির সদস্য রেক্সোনা পারভীন, মান্দাইল জেলার সংগঠক লিপি বেগম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারী সংহতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতার। সঞ্চালনা করেন নারী সংহতির সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল মরিয়ম।

সংহতিতে বক্তারা বলেন, নুসরাতকে হারানোর বেদনা যেমন বোধ করছি একইসঙ্গে তার ওপর যে বর্বর অত্যাচার হয়েছে তার প্রতিবাদ জানাই। নুসরাত হত্যায় যুক্ত সোনাগাজী মাদরাসার ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন, কর্মী নুরুদ্দিন, নূর হোসেন এবং মাদরাসার গভর্নিংবডির সদস্য রুহুল আমিন এবং সেখানকার কাউন্সিলর মকসুদ আলমসহ আরো অনেকে।

এরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। এখানে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং আশ্রয়ে এই নির্যাতকরা টিকে আছে। মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে ক্ষমতাসীনরা ধর্ষক, খুনি-নির্যাতক, সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।

এখন মানুষ বেডরুম থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে, গণপরিবহনে নির্যাতনের শিকার হন। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার দাবি তুলেছে, নিরাপদ সড়কের দাবি তুলেছে একইসঙ্গে নিরাপদ বাংলাদেশের দাবি তুলেছে।

বক্তারা বলেন, নুসরাত মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করেছে। নুসরাতের পরিবার থানায় মামলা করেছে। নুসরাতের ওপর আগেও একবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। সে সময় তার বিচার হয়নি। থানার ওসিও এবার নুসরাতের নিপীড়কের পক্ষ নেয়। নুসরাতকে মামলা তুলে নিতে সোনাগাজী মাদরাসার অধ্যক্ষের সহযোগীরা হুমকি দেয়।

হুমকিতেও যখন নুসরাতের মুখ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি তখন তার গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সোনাগাজীতে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলা এই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটিয়েছেন।

সংহতি বক্তব্যে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে নুসরাতের মতো আরো যত নারী ধর্ষিত হচ্ছে, খুন ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সে সবের কোনো বিচার হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, কারখানার শ্রমিকেরা নিপীড়ক-নির্যাতক-ধর্ষকের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। ধর্ষক-নিপীড়কদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। কারণ প্রতিবাদ করা ছাড়া বেঁচে থাকার আর কোনো উপায় নাই। তা যদি না পারি তবে নুসরাতের মতো ঘটনা আরো ঘটতে থাকবে।

বক্তারা বলেন, যেই সরকার একটি নির্বাচন করতে পারে না, অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখে, জনগণকে মুখ খুলতে দেয় না, মত প্রকাশ করতে দেয় না, শ্রমিকের কথা বলতে দেয় না- সেই সরকার নিয়ে আমাদের জনগণকে প্রশ্ন করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ-কারখানার শ্রমিক-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক হতে হবে। ক্ষমতার কাছে ধর্ণা না দিয়ে আমাদের লড়াই করতে হবে। আমাদের সম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সমাবেশ থেকে সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারী সংহতিসহ বাংলাদেশের সকল শ্রেণি পেশার নারী ও সব প্রগতিশীল সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায় নারী সংহতি। সমাবেশ শেষে শাহবাগ থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহীদ মিলন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌নুসরাত প্রমাণ করল দেশে আইনের শাসন নেই: মির্জা ফখরুল (ভিডিও সহ)


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শুধু বিএনপি নয়, পুরো দেশ সংকটে আছে। এই বেআইনি ও দখলদার সরকারের কারণে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ধ্বংস হয়ে গেছে।’

শুক্রবার বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতীপাড়ার নিজ বাসবভনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার মা ফাতেমা আমীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ও বাবা মির্জা রুহুল আমীনের কবর জিয়ারতে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁওয়ে যান।

ফখরুল আর বলেন, বাংলাদেশে তো এখন কোনো রাজনীতি নেই। রাজনীতি তো একটা দলের কাছে চলে গেছে। সেই দলের হাতেই এখন আইনের শাসনব্যবস্থা, পুলিশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ হয়। সাংবাদিকরাও এখন সত্য প্রকাশ করতে পারে না। মানুষের বাকস্বাধীনতা নেই এখন, তাই অন্যায়কারীরা নির্দ্বিধায় অন্যায় করছে। তারা ভয় পায় না এখন।

ভিডিওঃ ‘নুসরাত প্রমাণ করল দেশে আইনের শাসন নেই: মির্জা ফখরুল (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তিনি বলেন, ‘এই যে নুসরাত, সে আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। এই দেশে যে কোনো শাসনব্যবস্থা নেই, আইনের প্রতি মানুষের ভরসা নেই- তা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিল নুসরাত।’

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামে বিজিবির গুলিতে স্কুলছাত্রসহ তিন গ্রামবাসী নিহতের ঘটনায় যে মামলা খারিজ হয়েছে সেই প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার প্রশাসন, আইন সব নিজ দখলে রেখেছে তার প্রমাণ গরিবের বিচার না পাওয়া। এটা একটা বেআইনি দখলদার সরকার বসে আছে। আমরা সরকারকে বলেছি এই নির্বাচনকে বাতিল করে পুনরায় একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি আবু তাহের দুলাল, জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক মামুন-উর-রশিদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সোহাগসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ পুলিশ-র‌্যাবের ভিক্ষা দেয়া ভোটে নির্বাচিত: মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল


আওয়ামী লীগ প্রশাসনের দয়া দাক্ষিণ্য নিয়ে চলছে মন্তব্য করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, এ আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ-র‌্যাবের ভিক্ষা দেয়া ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। তাদের ভিক্ষা দেয়া ভোটে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাই এ সরকারের কাছে আমরা এর চেয়ে বেশি কী আশা করতে পারি।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে জিয়া আদর্শ একাডেমি আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও হাবিব-উন নবী খান সোহেলসহ সব কারাবন্দি নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’তে প্রতিবাদসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব বলেন। ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যার বিচার দাবি করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আজ নুসরাতের যে অবস্থা হয়েছে, এটি তো বাংলাদেশের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। আজ গোটা দেশই তো নুসরাতে পরিণত হয়েছে। সারা দেশ আজ ধর্ষিত, অগ্নিদগ্ধ। আর ফেনীর সোনাগাজীতে কী হয়েছে তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই ভালো জানেন।’

তিনি বলেন, ‘নুসরাত আজ চলে গেছে। তাকে যে ওসি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, সেই ওসির কত বড় দুঃসাহস সেই জিজ্ঞাসাবাদ ভিডিও করল। সেই ভিডিওটি আবার প্রকাশ করল কীভাবে? তার বিরুদ্ধে প্রথম সাইবার সিকিউরিটি আইনে একটি মামলা করে তাকে রিমান্ডে আনা উচিত। কিন্তু সেটি এ আওয়ামী শাসকরা করবে না। কারণ এরা তো সরকার না- এরা হচ্ছে শাসক।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আজম খানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, কৃষক দল নেতা মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, মৎসজীবী দল নেতা ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘কুষ্টিয়া কারাগারে বিএনপি নেতার মৃত্যু নয়, বরং এটি হত্যা ’


কারাগারে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ শামীম আরজুর মৃত্যু স্বাভাবিক নয়; বরং এটি একটি হত্যা বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন।

আরজুর মৃত্যু প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কারাভ্যন্তরে তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, বরং এটি একটি হত্যা। সরকারের নীলনকশা অনুযায়ী আরজুকে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হলো।

কারা কর্তৃপক্ষের চক্রান্তে আরজুর মৃত্যুর জন্য সরকারই দায়ী। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপিকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তার গতিশীল নেতৃত্বের জন্যই তিনি সরকারের প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত হয়েছেন।

তিনি বলেন, সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পুলিশ কাস্টোডিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শেখানো বুলি বলানোর জন্য বিরোধী নেতাকর্মীদের রিমান্ডে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

পাশবিক নিপীড়ন-নির্যাতনে কারাগারে বন্দি অসুস্থ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিনাচিকিৎসায় ফেলে রাখা হয়। হাসপাতালে ভর্তি করে তাদের জীবন বাঁচানোর কোনো চেষ্টা করা হয় না।

এরই অংশ হিসেবে কারাগারে বন্দি বিএনপি নেতাকর্মীদের বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, বলেন ফখরুল।

প্রসঙ্গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন এ বিএনপি নেতা। এর পর থেকে কারাবন্দি ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালের দিকে হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে তাকে নেয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। দুপুরে হাসপাতাল থেকে তাকে আবারও নেয়া হয় কারাগারে।

কিন্তু বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আবার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে নেয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে নেয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তাপস কুমার সরকার জানান, বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে এমএ শামীম আরজুর মৃত্যু হয়। তিনি ব্রেইনে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা গেছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ উন্নয়নের জোয়ারে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ভেঙ্গে পড়েছে!


শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের ভাষায়- দেশ এখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। শেখ হাসিনা প্রতি সপ্তাহে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫০-১০০ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করছেন। শেখ হাসিনার নামে করা উন্নয়নের সাইনবোর্ড লাগানো নেই এমন এলাকা এখন বাংলাদেশে কমই আছে। তার দাবি-তিনি মানুষকে উন্নত জীবন দিয়েছেন। মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিদ্যুৎ দিয়েছেন, গ্যাস দিয়েছেন, ঘরবাড়ি করে দিয়েছেন, গরু-ছাগল, হাস-মুরগি দিয়েছেন, গ্রামের মহিলাদের হাতে মোবাইল দিয়েছেন, ইন্টারনেট দিয়েছেন, গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবাসহ আরও অনেক কিছু তিনি করে দিয়েছেন। এ সবই নাকি ছিল তার বাবার স্বপ্ন।

দেশের মানুষও এখন সরকারের এত সেবা পেয়ে সারাদিন খুশিতে ঠেলায় ঘুরে বেড়ায়। সমস্যা হলো বেড়াতে গিয়ে মানুষ আর নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারে না। আবার অনেকে নিরাপত্তহীনতার কারণে বাইরে যেতেও ভয় পায়। দেখা গেছে, দেশে এখন প্রতিদিন খুন, হত্যা, ধর্ষণ, যৌনহয়রানি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাদাবাজি, গুম, অপহরণসহ সামাজিক অপরাধ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যদিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করতে হয়। প্রায় দিনই বখাটে ছেলেদের কর্তৃক যৌণ হয়রানি ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। জীবনের ভয়ে প্রতিবাদও করা করতে পারে না তারা। প্রতিবাদ করলেই ছুরিকাঘাত কিংবা এসিড ছুড়ে হত্যা করা হচ্ছে। শুধু বখাটে ছেলেই নয়, শিক্ষকদের দ্বারাও এখন ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে মেয়েরা।

সর্বশেষ উদাহরণ হলো-ফেনীর মাদরাসা অধ্যক্ষের রোষানলের শিকার হয়ে মারা যাওয়া নুসরাত। বলা যায়, দেশে এখন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদের এখন কোথাও নিরাপত্তা নেই। এমনকি বর্তমানে নিজেদের বাসার ভেতরও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মেয়েরা। প্রায় দিনই দেখা যাচ্ছে, প্রভাবশালী কিংবা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা দলবল নিয়ে ঘরে ঢুকে মাকে বেধে মেয়েকে ধর্ষণ করছে কিংবা মেয়েকে বেঁধে মাকে ধর্ষণ করছে। এছাড়া প্রতিবাদ করতে গিয়ে আবার ছুরিকাঘাত বা হত্যার শিকারও হচ্ছে অনেকে।

এছাড়া, দেশে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পোশাক কারখানায় ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবি মেয়েরাও। বিশেষ করে নারী পোশাক শ্রমিকরা প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে। এক কথায় বলা যায়-বর্তমানে দেশের নারী সমাজ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবন যাপন করছে। ঘর থেকে বেরিয়ে আবার যে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বাসায় ফিরতে পারবে সেই গ্যারান্টি এখন নেই।

এরপর, দেশে এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি। এখন আর রাতে নয়, দিনের বেলাতেই রিক্শা, সিএনজি থামিয়ে ও পথচারীদের গতিরোধ করে সব কিছু লুটে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। প্রতিবাদ করলেই ছুরিকাঘাত। আর রাতের বেলা নেমে আসে এক ভয়াবহ আতঙ্ক। এর সঙ্গে চোর-ডাকাতদের আক্রমণের শিকার হচ্ছে মানুষের বাসা বাড়িও। বলা যায়-ঘরে বাইরে সবখানেই মানুষ এখন নিরাপত্তাহীন।

দেশে এখন আরেক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম হচ্ছে গুম-অপহরণ। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে অপহরণের ঘটনা। নিখোঁজ হওয়া মানেই লাশ হয়ে ফিরে আসা। বিশেষ করে দেশে এখন শিশু ও স্কুল-কলেজে পড়ুয়া কিশোররা বেশি অপহরণের শিকার হচ্ছে। গত সপ্তাহে ফেনী ও চলতি সপ্তাহে ঢাকার ডেমরায় দুইটি স্কুল পড়ুয়া শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর পাওয়া গেল তাদের লাশ। এমন ঘটনা এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই ঘটছে। ছেলে-মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষ এখন চরম আতঙ্কে আছে।

এসব সামজিক অপরাধের সঙ্গে আছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিপীড়ন, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও মানুষের জমি দখলের ঘটনা।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে সরকার বিরোধীদল দমনের কাজে ব্যস্ত রাখায় সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। জনগণের নিরাপত্তার চেয়ে সরকার বিরোধীদল দমনের প্রতিই বেশি মনোযোগী। সরকার দেশের এমনই উন্নয়ন করেছে যে, একজন নাগরিকের এখন আর স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here