শরীরটা ভালো যাচ্ছে না : আদালতে ফখরুলকে খালেদা জিয়া

0
151

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তার শরীর ভালো যাচ্ছে না।খোদ বিএনপি চেয়ারপারসনই এ কথা জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।

আজ রোববার নাইকো মামলার শুনানিতে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় আদালতে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল খালেদা জিয়াকে জিজ্ঞাসা করেন ম্যাডাম কেমন আছেন। উত্তরে খালেদা জিয়া বলেন, ভালো নেই। শরীরটা ভালো যাচ্ছে না।

নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ শুনানিতে আজ দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে হুইলচেয়ারে করে পুরান ঢাকার অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে আনা হয় খালেদা জিয়াকে। এজলাসে ছিলেন বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান। এজলাসে প্রবেশের সময় খালেদা জিয়াকে সালাম দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দুদকের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল ।

আদালতকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, আগের ডেটে আদালতে আসার জন্য আমি রেডি ছিলাম। আমাকে আনা হয়নি।অথচ বলা হয়েছে, আমি নাকি ঘুমিয়ে ছিলাম।তাই আমাকে আদালতে আনা যায়নি।এই তথ্য সঠিক নয়।

এদিন আদালতের খালেদা জিয়ার পাশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বসা ছিলেন।এক ফাঁকে এই দুই নেতা কথা বলেন।

আদালতের কার্যক্রম শেষ হয় বেলা ১ টা ৪৮ মিনিটে। এরপর ফের খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২০ ফেব্রুয়ারি নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল— খালেদা জিয়া ঘুমাচ্ছেন। তিনি ঘুম থেকে উঠতে পারেননি বলে আদালতে হাজির করা হয়নি।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে আদালতে আনা হয়। সেদিন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিবরণ দিয়ে তার চিকিৎসার জন্য আবেদন করেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

ওই দিন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও শহীদুল ইসলামের চার্জ শুনানি শেষ না হওয়ায় পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন আদালত।

এর আগে গত ৩ জানুয়ারি নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানিতে এসে বিচারককে আদালতের বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ বছর জানুয়ারিতে তিন দিন এবং এ মাসে দুদিন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

নাইকো দুর্নীতি মামলা সূত্রে জানা যায়, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

মামলা করার পরের বছর ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সাংসদ এমএএইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যথাক্রমে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ


ভোটার ভোটার ডাক পাড়ি/ভোটার গেল কার বাড়ি/ আয়রে ভোটার কেন্দ্রে আয়/ভোটের বাক্স ফাঁকা যায়। নগরীতে ভোট নিয়ে এমনি একটি ছড়া লিখেছেন কিবরিয়া সিকদার নামে একজন গণমাধ্যমকর্মী। রাজধানীতে ভোটারবিহীন নির্বাচন নিয়ে এ রকম নানা হাসি-ঠাট্টা গতকাল ছিল মুখে মুখে। ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে সামাজিক গণমাধ্যমেও।

দুপুর ১২টায় হাতিরঝিল এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখা যায় একদল তরুণ ব্যাট-বল হাতে রাস্তায় নেমে পড়েছে। ক্রিকেট খেলছেন তারা। সেখানে আসাদ নামে এক তরুণকে নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলেই বলেন, ‘ভাই, ভোট-টোট জানি না, আজ সব ফাঁকা, রাস্তাই মাঠ। আসেন খেলি।’

খিলগাঁও চৌধুরীপাড়ায় বাসার নিচে বসে অন্য দিনের মতো চা খাচ্ছিলেন ৬৫ বছরের আনোয়ার হোসেন। ইলেকশন নিয়ে কী ভাবছেন চাচা? ‘ইলেকশন, এটা আর ভাবমু কী। এটা তো ভাবার কিছু নাই। প্রচার-প্রচারণা করলেও ইলেকশন হবে, না করলেও হবে। এটা তো নামমাত্র। জনগণের কাছে আসবারতো দরকার নাই। এমনিতেই পাস।’ ‘বিরোধী দল নাই। ভোট দিতে যাইয়া কী করমু’ যোগ করেন আনোয়ার। সেখানেই উপস্থিত এক ব্যবসায়ী সালাম। তিনি হাসি দিয়ে বলেন, ‘বৃষ্টির মতো সব কিছু ঠাণ্ডা। কিসের ভোট’। মধ্য বাড্ডায় এক চায়ের দোকানে গিয়ে দেখা গেল লোকজন ভোট নিয়ে কথা বলছেন, আর হাসছেন। একজন বললেন, ‘নির্বাচন নিয়া জনগণের এখন আর কোনো আগ্রহ নাই। আগের রাতেই সব পাস।’

উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণের শুরুর দিকে গরম খিচুড়ি খেয়ে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বৃষ্টির দিনে গরম খিচুড়ি সত্যিই মজার; কিন্তু মেয়র প্রার্থীর এমন আহ্বানে খুব একটা সাড়া মেলেনি। নগরবাসী হয়তো বাসায় খিচুড়ি ঠিকই খেয়েছেন; কিন্তু বের হওয়ার আগ্রহ দেখাননি।

ফেসবুকে এ নির্বাচন নিয়ে রীতিমতো হাসির রোল উঠেছে। আনোয়ার হোসেন সাগর নামে বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া একজন লিখেছেন, ‘উত্তর প্যারিস ও দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলসে একযোগে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটারদের আগ্রহ আগের মতো নেই বললেই চলে। তবে কেউ কেউ খিচুড়ি রান্না করছেন। ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশ্লেষকেরা আগামীতে অনলাইন ভোটের উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন।

নুরুজ্জামান সরদার নামে একজন রাজনৈতিক কর্মী লিখেছেন- ‘ধুর শালার বৃষ্টি, আজকের উৎসবমুখর ভোটটাই পণ্ড করে দিলো। পাবলিকের মাইর দুনিয়ার বাইর।’ ভোটার টানতে সরকারিভাবে ‘প্রণোদনা’ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বশির আহমেদ নামে একজন ব্যাংকার।

রাজনৈতিক ও মানবাধিকার কর্মী আবু তৈয়ব তার পোস্টে লিখেছেন- ‘ভোট বর্জন দিবস, ২৮ ফেব্রুয়ারি।’ আমাদের সময় ডট কমের সাংবাদিক টিটু শাহানুজ্জামান লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের আরো একটি নির্বাচনের সাক্ষী হলাম আজ। সত্যিই ভাল্লাগে দেখতে।’ আরেকজন লিখেছেন- ‘নিন্দুকেরা যা-ই বলুক, আমি নিশ্চিত দিন শেষে কমপক্ষে ৮১-৮৬ ভাগ ভোট পড়বে ডিএনসিসি নির্বাচনে। আমাদের হুদাই আছে না?’

সমকালের সাংবাদিক ইমতিয়াজ ইমতু লিখেছেন- ‘ওয়েস্টার্ন ডেভলপড কান্ট্রিতে ভোট কাস্টের হার কম। পলিটিক্স নিয়ে জনগণের ভাবনা কম। বাংলাদেশও সে পথে। তাই বাংলাদেশও উন্নত দেশের মহাসড়কে।’ রাজনৈতিক কর্মী মাহবুবুল হাসান পিঙ্কু তার পোস্টে লিখেছেন–‘মানুষ চেয়েছিল সংসদ নির্বাচনে তাদের মতামত ব্যক্ত করতে। সেটিই যেহেতু পারে নাই, তাই গলি-ঘুপচির নির্বাচনে তারা আর ভোট দিতে আগ্রহী নন।’ সোহেল আহসান নীপু একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। তিনি বলেছেন- ‘অফিসে আসার পথে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল কলেজের সামনে দেখলাম প্রার্থীর সমর্থকেরা ভোট দিতে মানুষকে ডাকছে’। সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ লিখেছেন- ‘এটা কি অফিস-আদালত, ব্যবসাবাণিজ্য, বন্ধ রাখার মতো একটি নির্বাচন?’

হাসির খোরাক দিয়েছেন আরেকজন সমাজকর্মী। তিনি লিখেছেন- এক ভোট কেন্দ্রের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। ভোট কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও কর্মকর্তাদের মহা প্রস্তুতি। অধীর আগ্রহে ভোটারের জন্য তাদের অপেক্ষা। বাইরে একটা টেবিল সাজিয়ে বুথ নিয়ে বসে আছে একজন। এরিই মধ্যে একজন মহিলাকে রাস্তা দিয়ে যেতে দেখেই তাকে সবাই মিলে অনুরোধ করছেন একটা ভোট দেয়ার জন্য। মহিলা তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বললেন- ‘আমি তো এখানকার ভোটার না।’ জবাবে মৃদু হেসে আহ্বানকারী জবাব দিলেন- ‘সমস্যা নাই আপনি এই সিলিপটা নিয়া ভিতরে ভোট দিয়া আসেন।’

বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক আদিত্য রিমন। তিনি দিয়েছেন মজার তথ্য। রিমন জানান, গুলশানে মানারাত স্কুল ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০টায় গিয়ে দেখা গেছে- ‘ভোটার নেই। কিন্তু টেলিভিশন লাইভে দেখাতে হবে ভোটারের দীর্ঘ লাইন। স্থানীয় লোকজনকে ডেকে এনে দাঁড় করিয়ে লাইন সাজিয়ে সেই ব্যবস্থাও করা হয়। এরপর সেখানে উপস্থিত অন্য সাংবাদিকদের সামনেই চলতে থাকে সাজানো লাইনকে ভোটার বানিয়ে ভিডিও করা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফটো সাংবাদিক জীবন আহমেদ জানান, ‘ভোটকেন্দ্র সকাল থেকেই ফাঁকা। হঠাৎ জনাপঞ্চাশেক মানুষ একসাথে কেন্দ্রে প্রবেশ করে। প্রথমে আমরা মনে করেছি কোনো প্রার্থী কেন্দ্রে আসছেন। এর পরপরই দেখি তারা একটি লাইনে দাঁড়ালেন। এরপর একটি টেলিভিশনের সাংবাদিক তাদের সামনে দাঁড়িয়ে লাইভ দিতে থাকেন, এটি ভোটারদের লাইন- এই বলে।’

এই ফটো সাংবাদিক আরো বলেন, ‘সে সময় আমি পাশে থেকে শুনেছি রিপোর্টার বলছেন, এখানে সবাই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছেন ভোট দেয়ার জন্য। এ সময় সাজানো ভোটারদের অনুভূতিও রেকর্ড করা হয়। লাইনে দাঁড়ানো লোকজন সাক্ষাৎকার দিয়ে লাইন ভেঙে দ্রুত বেরিয়ে যান কেন্দ্র থেকে।’

নির্বাচন কমিশন কাভার করেন ইত্তেফাকের সাঈদুর রহমান। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন- ‘ভোট। হ্যাঁ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অসাধারণ ভোট। স্মরণকালের সবচেয়ে কম ভোটারের উপস্থিতি। তবু আইনানুগ ভোট। এই ভোটে নির্বাচন কমিশনের খরচ হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা! ভোটের পেছনে এভাবে কোটি কোটি টাকা খরচ করা সমীচীন বলে মনে করছি না। কোটি কোটি টাকা ভোটে খরচ না করে গরিবের পেছনে খরচ করলে উপকৃত হতো তারা। যাই হোক হয়তো সারা দিন খিচুড়ি খানায় ব্যস্ত থাকায় ভোটারের উপস্থিতি কম। দুই সিটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা না থাকলে হয়তো জনগণ জানতোই না ঢাকায় ভোট হচ্ছে।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ বাংলার মাটি কোনো স্বৈরাচারকে মেনে নেয়নি: ড. কামাল


বাংলার মাটি কোনো স্বৈরাচারকে মেনে নেয়নি বলে জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ দখলে নেব, গণতন্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে নেব। সংবিধানের মধ্য থেকে ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ শাসন করব।

আজ শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে ২ মার্চ স্বাধীনতার পতাকা উত্তলন দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, উমুকের সন্তান, কন্যা হলেই তো রাজত্ব করতে পারে না। এটা আমাকে অনেকেই বলেন। এখানে যে পিয়ন বসে আছেন সেও দেশের মালিক।

তিনি বলেন, জনগণ অসহায় বোধ করছে। কারণ তারা দেশের মালিক হিসেবে সরকারের কাছ থেকে যে শ্রদ্ধা পাওয়ার কথা তা পাচ্ছেন না। সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে বলা আছে। বঙ্গবন্ধু যেখানে স্বাক্ষর করে গেছেন। আজকে এটা জাদুঘরে রাখা হয়েছে। আমি জানাতে চাই, জনগণ ৫৫ হাজার বর্গ মাইলের ক্ষমতার মালিক। এই স্বাধীনতার জন্য দেশের জনগণ যুদ্ধ করেছিল।

একটা দিন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশে মালিকানা দিবস পালনেরও আহ্বান জানান কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, সরকার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটা জনসভা করলে লোক পাবেন না। আমি অসম্ভব বলছি না। সারাদেশ থেকে বিভিন্ন ভাবে কিছু লোক জড়ো করতে পারবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, গতকাল জনগণ ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে আপনাদের থাপ্পর মেরেছে। বলে দিয়েছে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ইতিহাস কোনো দল বা ব্যক্তির করে নিতে পারবে না। ক্ষমতায় যারা আছেন তারা চেতনার কথা বলে ব্যবসা করে।

তিনি বলেন, গতকাল ঢাকা সিটি নির্বাচনে কি দেখলাম, মানুষ ভোটে যায়নি। জনগণ বলে দিয়েছে, তোমরা ডাকাত তোমাদের অধীনে ভোট করতে চাই না।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে আসম রবের উজ্জল ভুমিকা ছিল। তিনি স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। আজকে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সিরাজুল আলম খানকে বাদ দিয়ে ইতিহাস লেখা যাবে না। আজকে তাজউদ্দিন আহমদকে বাদ দিয়ে কি ইতিহাস লিখা যাবে? যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে আমাদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান তখন থেকে ড. কামাল হোসেন পুরো সময়টা তার সঙ্গে ছিলেন। তাকে বাদ দেয়া যাবে?

আলোচনার আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি এম এ গোফরান সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্প ধারার সাধারণ সম্পাদক শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ।

জেএসডির প্রসেডিয়াম সদস্য শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বেঈমানী করে শপথ নিচ্ছে ওরা


আগামী ৭ মার্চ শপথ নেবেন একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুই সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও মোকাব্বির খান। তবে সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এককভাবে শপথ নিতে যাওয়ায় এদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছে ঐক্যফ্রন্ট।

সুলতান মনসুর গতকাল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমি ৭ মার্চ শপথ নেওয়ার জন্য সংসদ সচিবালয়ে চিঠি দিয়েছি। ওইদিন শপথ নেবো। শত প্রতিকূলতার মধ্যে জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তাদের ভোটের সেই মর্যাদা দিতে আমি শপথ নিচ্ছি।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

সিলেট-২ আসন থেকে ‘উদীয়মান সূর্য’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মোকাব্বির খান। মোকাব্বির খান বলেছেন, আমি এবং সুলতান মনসুর একসঙ্গে শপথ নেবো। আমরা চিঠি দিয়েছি। এখন স্পিকার কবে সময় দেন, তার ওপর শপথ নেওয়া নির্ভর করবে।

গণফোরাম থেকে শপথ নেওয়ার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মোকাব্বির খান বলেন, আমার দল শপথ নেওয়ার ব্যাপারে সব সময় ইতিবাচক।

এই দুই সদস্যের শপথ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেছেন, তারা কবে চিঠি দিয়েছেন, তা আমি জানি না। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তো আমার জানা উচিত।

আমাদের এই রকম কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি যে তারা এককভাবে শপথ নেবেন। আমরা যেটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, শপথ নিতে চিঠি দিতে হলে ঐক্যফ্রন্টের সবাই একসঙ্গে দেবো এবং একসঙ্গে যাবো আন্দোলনের অংশ হিসেবে। তিনি আরও বলেন, এখন কেউ যদি সিঙ্গেলভাবে শপথ নেওয়ার জন্য চিঠি দেয়, তাহলে আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আইন ও সংবিধান অনুযায়ী সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদে যোগ দিলে কী ঘটবে? এ বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সাংসদ নির্বাচনের পর সাংসদ পদে থাকার অযোগ্য হবেন কি না, কিংবা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো সাংসদের আসন শূন্য হবে কি না—এ সম্পর্কিত কোনো বিতর্ক দেখা দিলে বিষয়টি শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের নিকট পাঠানো হবে এবং এ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি উক্ত দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তবে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত,প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে কারচুপি প্রসঙ্গে ইসি ‘যা রটে তার কিছু হলেও বটে’


নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, কোন প্রতিষ্ঠানের কবর রচনা করে এ দেশের মানুষ ভাল থাকতে পারে না। উপজেলা নির্বাচেন কারো কোন বেআইনি চাপে আপনারা অন্যকাজে মাথা নত করবেন না। আপনার সকল নিরাপত্তা আমি দিবো। যত দিন এ নিরাপত্তা প্রয়োজন। নির্বাচনে কোন খারাপ অভিজ্ঞতা থাকলে তা সব ভুলেযান।

তিনি শনিবার বিকেল ৫টার দিকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা সদরে ইসলামিয়া ডিগ্রী কলেজের হলরুমে আসন্ন পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহন কর্মকর্তাদের এক প্রশিক্ষনে এসব কথা বলেন।

তিনি প্রশিক্ষনার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি আপনাদেরকে ধন্য করার জন্য আসি নাই। আমি এসেছি নিজের জ্বালা থেকে অন্তজ্বালা থেকে, নিজের কষ্টটা থেকে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আমাকে অনেক গুলো কথার মৃুখোমুখি হতে হয়। আমাদের প্রত্যেককেই অনেক গুলো বক্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়। আমাকে বলা হয়- চরমৎকার নির্বাচন করেছেন এ জন্য আপনাকে ধন্যবাদ. আপনাদেরকে ধন্যবাদ। দেশটাকে আপনারা বাঁচিয়েছেন। আবার বলা হয়, চমৎকার নির্বাচন করেছেন,আর কি করবেন? কেমন যেন একটা প্রশ্ন। প্রশ্নটা হচ্ছে একটা বাতাস এবং আরেক দল চিৎকার করে বলে, আপনারাতো নির্বাচনের কবর দিয়ে দিয়েছেন। আমি জানি না কোনটা সত্য। কারণ আমি সারাদিন বসেছিলাম টেলিভিশনের পর্দার সামনে, একটা কোন বিক্ষিপ্ত ঘটনার কথাও টেলিভিশনে কোন দিন বলা হয়নি।

টেলিভিশন থেকে কোন কিছু জানতে পারি নাই। আবার যারা পর্যবেক্ষক ছিলো তারাও একটা শব্দও উচ্চারণ করে নাই এবং পরবর্তীতে যখন লিখিত প্রতিবেদন দিয়েছে তখনও কিন্তু এমন কোন কিছু বলেনি- যা দেখে আমি অনুমান করবো আমরা কোন নির্বাচনী ব্যবস্থার কবর দিয়েছি। আমি কোন অবস্থাতেও আপনাদের কাছ থেকে কোন রকম কোন কিছু পাই নাই। তার পরেও যেহেতেু কথা গুলো উঠছে দেশে ও বিদেশে।

নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, আমি ধরে নিতেছি- হয়তোবা কিছু একটা আছে যা থেকে এই লোক গুলো এ কথা গুলো বলার একটা সুযোগ পেয়েছেন। অবশ্যই কিছু একটা আছে তানাহলে সুযোগ পাওয়ার কথা না। একটা বাংলার প্রবাদ আছে- যা রটে তার কিছু হলেও বটে। আমি ওটাতেই ধরে নিতেছি। কিছু একটা আছে। আর কিছু একটা আছে আমার এ বিশ্বাস থেকে আপনাদের কাছে ছুটে এসেছি। কিছু একটা আছে এবং এই কিছু একটা উপজেলা নির্বাচনে আমি থাকতে দিবো না।

ওই প্রশিক্ষন শিবিরে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহারের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন, রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার জিএম শাহাদৎ হোসেন, নীলফামারী জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনে জনগনের আস্থা নেই’


একতরফা ও বির্তকিত নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মানুষের মধ্যে চরম অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর একটি বির্তকিত নির্বাচন হয়েছে। আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থাটা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শনিবার সকালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত আঞ্চলিক পরিকল্পনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সুজন সম্পাদক বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকায় সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন তারই প্রতিফলন। মানুষের মধ্যে এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে তারা ভোট কেন্দ্রে গেলেও ভোট দিতে পারবে না কিংবা ভোট দিলেও কিছু আসবে, যাবে না। এছাড়াও একটা বড় দল নির্বাচন বর্জন করেছে। যার ফলে নির্বাচনী ফলাফল কী হবে এটা অনেকটাই পূর্বনির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। যার জন্য মানুষের মধ্যে অনাগ্রহ ও ব্যাপক অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বিরোধীদল ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। একটা শক্তিশালী বিরোধীদল সংসদে থাকতে হয়। এখন আমাদের অভিনব একটা বিরোধীদল আছে। সংসদের বাইরেও শক্তিশালী একটা বিরোধীদল থাকতে হয়। বিরোধীদলের উদ্দেশ্যই হলো যারা ক্ষমতায় থাকে, তারা যেন কোনো রকম অন্যায়, বাড়াবাড়িতে লিপ্ত না হয়। মানুষের অধিকার যেন খর্ব না হয়। বিরোধীদলের উদ্দেশ্য সরকারকে সঠিক পথে রাখা, সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’

সুজন সম্পাদক বলেন, ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনের ফলে যে অবস্থা হয়েছে- কোনো বিরোধীদল সংসদে ছিল না। সংসদের বাইরেও বিরোধীদল প্রবল চাপের মধ্যে ছিল। এতে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমাদের ক্ষমতাশীল দলটিও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা অনেক ক্ষেত্রে বেসামাল হয়েছে। এটা আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও ভবিষ্যতের জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত ও কার্যকর এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং একই সাথে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে চলমান রাখার জন্য সকলেরই পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুজন সেই ভূমিকা পালন করা চেষ্টা করছে।

তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের মুল কথা হচ্ছে নজরদারিত্ব। আমাদের সংসদ, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ একে অপরের নজরদারি করার কথা কিন্তু নজরদারিত্বের সেই কাঠামো ভেঙে পড়েছে। একই সাথে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য কমিশন, মানবাধিকার কমিশনের নজরদারিত্ব করার কথা। নাগরিক সমাজের নজরদারিত্ব সবার উপরে। সুজন নাগরিকদের জাগিয়ে তোলা, তাদেরকে অধিকার সচেতন করা, তাদের দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

সুজন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিটির আহবায়ক ইয়াজদানী কোরায়শীর সভাপতিত্বে বক্তব্য কেন্দ্রীয় সুজন সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার, ময়মনসিংহ মহানগর কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন, শেরপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, কিশোরগঞ্জ জেলা সহ-সভাপতি ফিরোজ উদ্দিন ভূইয়া প্রমুখ। সভায় ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ সিইসিকে জোকার বললেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাকে ‘জোকার’ বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে কম ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে ‘জোকার’ সিইসি বলেছেন- ভোটার আসল, কি আসল না সেটা তার দেখার বিষয় নয়।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।

জাফরুল্লাহ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করা হয়েছিল গণতন্ত্রের জন্য। কিন্তু আজ গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার নেই। কয়েক দিন আগে গণশুনানির জন্য হল ভাড়া পাইনি। গায়েবি-আজগুবি মামলা দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের জেলে রাখা হয়েছে।

জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি এম এ গোফরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্পধারার সাধারণ সম্পাদক (একাংশ) শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ জনগণ ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে সরকারের গালে থাপ্পড় মেরেছে, তুবও তারা লজ্জা পায় না


‘ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ভোটে জনগণ ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে সরকারের গালে থাপ্পড় মেরেছে। তুবও তারা (সরকার) লজ্জা পায় না। বাংলাদেশ এখন আর গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র নয়। ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটা নিহত হয়েছে। প্রশাসন, ইউনিফর্ম পরিহিত বাহিনীর সহায়তায় ভোট চুরির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে বিলীন করা হয়েছে। এটা আর এখন গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র নেই।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে জনগণ ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে সরকারকে থাপ্পড় মেরেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আসম রব বলেন, ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর সরকার জনগণকে অপমান করেছে। জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি জনগণ ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে সরকারকে থাপ্পড় মেরেছে। তারা বলেছে, এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না।

স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে আলোচনার সভার আয়োজন করে জেএসডি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এছাড়াও ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

’৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনের স্মৃতিচারণ করে আসম রব বলেন, ‘২ মার্চের পতাকা উত্তোলন, ৩ মার্চের স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ ও ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ- এসবের পেছনে সিরাজুল আলম খানের অবদান রয়েছে। তাকে বাদ দিয়ে স্বাধীন দেশের ইতিহাস হতে পারে না।’

তিনি বলেন, আজ চেতনার কথা বলে যারা দেশ লুটপাট করছে মুক্তিযুদ্ধে তাদের কী অবদান আছে সেটা সবাই জানে? স্বৈরাচারী সরকার প্রশাসন ও ইউনিফর্মধারীদের সঙ্গে নিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করেছে। ’৭১ সালে যেভাবে হানাদারদের বিদায় করতে হয়েছে, স্বৈরাচারকে সেভাবে বিদায় করতে হবে।

আসম রব বলেন, এ সরকার চোর-ডাকাত-বাটপার-খুনি। রাষ্ট্র ক্ষমতা জবরদস্তি করে দখল করে রেখেছে। চকবাজারে আগুনে এত মানুষের প্রাণ গেলেও রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করতে ৫ দিন সময় লাগে।

জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি এম এ গোফরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, বিকল্পধারার সাধারণ সম্পাদক শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সিটি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি: মাহবুব তালুকদার


ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।তিনি বলেছেন, প্রধান বিরোধীদলগুলো অংশ না নেয়ায় এটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নয়। ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম।

বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টের উপস্থিতিও কম ছিল মন্তব্য করে মাহবুব তালুকদার বলেন, আমি আজ সকালে মগবাজারের ইস্পাহানি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। সরকার দলীয় মেয়রের পোলিং এজেন্ট ছাড়া আর কারও এজেন্টকে সেখানে দেখিনি।

ভোটার উপস্থিতি কম ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ইস্পাহানি ভোটকেন্দ্রে ৫টি কেন্দ্রের ১৫টি বুথে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মাত্র ৩৮৫ জন ভোট দিয়েছেন। ওই ৫ কেন্দ্রে ভোটার রয়েছে ৯ হাজার ৪১৩ জন।

তিনি বলেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে তাতে ভোটারদের ভোট দিতে যেতে উৎসাহ দেখা যায় না।

এই নির্বাচনকে অপূর্ণাঙ্গ মন্তব্য করে মাহবুব তালুকদার বলেন, এই নির্বাচন পাঁচ বছর পরপর হবে। তবে এখন যারা নির্বাচিত হবেন তারা মাত্র এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাই আমি এই নির্বাচনকে অপূর্ণাঙ্গ বলছি।

প্রসঙ্গত, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক মারা যাওয়ায় উপনির্বাচন এবং উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here