স্ত্রী-সন্তানদের অবহেলায় বিসিএস ক্যাডার বিজ্ঞানীর মানবেতর জীবন

0
236

বিসিএস ক্যাডার বিজ্ঞানী ড. মোজাফ্ফর হোসেনের শেষ জীবনটা কাটছে অবহেলায়। মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে মানিকগঞ্জের শহরতলির বিলপৌলি গ্রামে একাকী মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। পাশে নেই স্ত্রী ও তার দুই সন্তান।

অভিযোগ রয়েছে, ড. মোজাফ্ফর হোসেনের চাকরি জীবনের অবসরের সব অর্থ আর জমি হাতিয়ে নিয়ে স্ত্রী আর কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ছেলে এখন ঢাকায় বসবাস করছেন।

তবে স্ত্রী লিপির দাবি, একজন অসুস্থ ব্যক্তির জন্য তার দুই সন্তানের জীবন বিপন্ন হতে পারে না? মানসিক ভারসাম্যহীন অবসরপ্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা স্বামীর দেখভালের জন্য একজন গৃহপরিচারিকা রেখে দেয়া হয়েছে। এ জন্য মাসে তাকে ১০ হাজার টাকা গুনতে হয়। এর চেয়ে তিনি আর কি করতে পারেন?

ড. মোজাফ্ফর হোসেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ছিলেন। বিসিএস ক্যাডার মোজাফ্ফর পিএইচডি করেন রসায়নের ওপর।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মোজাফ্ফর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার ঘরে বারান্দায় চেয়ারে একাকী বসে আছেন।

এই প্রতিবেদককে দেখে একে একে এগিয়ে আসছেন তার পরিচর্চাকারী রোকেয়া বেগমসহ (সম্পর্কে তার চাচাতো ভাগ্নি হন) তার চাচাতো ভাই আবদুল কুদ্দুস, পাশের বাড়ির অটোরিকশাচালক লেবু মিয়া, প্রতিবেশী স্থানীয় ভূমি অফিসের চাকরিরত জসিম উদ্দিনসহ ১০-১২ জন নারী-পুরুষ।

তারা অভিযোগ করে জানালেন, গত তিন মাস ধরে স্ত্রী-সন্তান কেউ-ই তাকে দেখতে আসেন না। স্ত্রী-সন্তান আর সহায়সম্পদ সবই আছে, কিন্তু ড. মোজাফ্ফর হোসেনের শেষ জীবনটা কাটছে চরম অবহেলা আর অনাদরে। মাঝে মাঝে মানসিক ভারসাম্য ব্যাধি দেখা দিলে তাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।

অথচ ড. মোজাফ্ফরের অবসর জীবনটা কাটানোর কথা ছিল স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে।

প্রতিবেশী লেবু মিয়া জানান, তিন মাস আগে যখন ড. মোজাফ্ফর হোসেনকে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন তিনি ছিলেন কঙ্কালসার একটি মানুষ। পেট পিঠ একাকার ছিল। এখন পরিচর্যায় তার চেহারা কিছুটা পাল্টেছে। ভালোমতো চিকিৎসা করালে তিলি ভালো হয়ে যাবেন এমনটি মনে করছেন তিনি।

প্রতিদিন তাকে সেবাযত্ন করছেন রোকেয়া বেগম। তিনি জানালেন, মানসিক ভারসাম্যহীন তার মামাকে যদি এখনও সঠিক চিকিৎসা করানো হয়, তা হলে অবশ্য তিনি ভালো হয়ে উঠবেন। অসুস্থ ড. মোজাফ্ফর হোসেনের খাওয়া-দাওয়া, পোশাক, ওষুধ, পথ্যসহ যাবতীয় ব্যয়ের জন্য মাসে ১০ হাজার টাকা করে তার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, মামা (ড. মোজাফ্ফর হোসেন) ফলমূল খেতে বেশি পছন্দ করেন, তিন বেলায় তাকে বিভিন্ন ধরনের ফল দিতে হয়। চিকিসৎক অনেক ওষুধ দিলেও তাকে শুধু খাওয়ানো হয় ট্রিপটিন-২৫ নামে একটি টেবলেট।

ভাগ্নি রেকেয়া বেগম আরও জানান, মামা (মোজাফ্ফর) কাউকে ভালোমতো চিনতে পারেন না। মাঝেমধ্যে দুই-একটি শুদ্ধ বাংলা বললেও বেশিরভাগ কথাই বোঝা যায় না। পায়খানা-প্রস্রাবেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই তার।

তিনি বলেন, যখন তিনি বেশি পাগলামি করেন, কোথায় যদি একাকী চলে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে এ জন্য তখনই রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।

বাড়ির উঠানে কথা হয় মোজাফ্ফরের চাচাতো ভাই আবদুল কুদ্দুস, ভাতিজা আবদুল মান্নান আর প্রতিবেশী লেবু মিয়ার সঙ্গে।

তারা জানান, বিজ্ঞানী মোজাফ্ফর খুবই ভালো মানুষ এবং সৎলোক ছিলেন। ড. মোজাফ্ফরের অনেক সহায়সম্পদ ছিল। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর মোজাফ্ফরের অবসরের (পেনশন) টাকাসহ মানিকগঞ্জের সব সম্পত্তি স্ত্রী আর দুই ছেলে লিখে নিয়েছেন। এখন বিনাচিকিৎসায় তাকে গ্রামের বাড়িতে ফেলে রেখে তারা ঢাকায় বসবাস করছেন। বিছানার অভাবে রাতে মোজাফ্ফরকে মেঝেতেই রাখা হয়।

এ প্রসঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মোজাফ্ফর হোসেনের স্ত্রী লিপি আক্তারের সঙ্গে। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

তিনি তার স্বামী সম্পর্কে বলেন, তিনি জটিল ‘অ্যালজেইমার’ রোগে আক্রান্ত। ঢাকায় থাকাবস্থায় প্রবিবেশীরা প্রতিদিনই তার স্বামীর অতিমাত্রার পাগলামির বিরুদ্ধে অভিযোগ দিত। যে কারণে তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। স্বামীর সেবাযত্নের জন্য রোকেয়া বেগম নামে এক নারীকে মাসিক বেতনে রেখে দেয়া হয়েছে। স্বামীর খাবার-দাবারসহ যাবতীয় কিছুর জন্য ওই অংকের টাকা তিনি দিচ্ছেন। কম কি? জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছিলেন ড. মোজাফ্ফর হোসেন। তার রুমমেট ছিলেন মানিকগঞ্জের আইনজীবী বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জেলা শাখার সভাপতি আজহারুল ইসলাম আরজু।

অসুস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ওই বৈজ্ঞানিক সম্পর্কে আরজু জানান, প্রগতিশীল মুক্তমনার একজন মানুষ ছিলেন মোজাফ্ফর। অবসরে যাওয়ার পর অনেক টাকা পেয়েছেন তিনি। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর তার স্ত্রী-সন্তানরা তাকে অমানবিকভাবে ফেলে রাখবে এটি কল্পনার বাইরে।

একটা মানুষ দেশের জন্য, জাতির জন্য অবদান রেখেছেন এবং পরিবারের জন্য তো বটেই, তিনি এভাবে বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ধুঁকছেন, যা মেনে নেয়া যায় না। তাই বিষয়টি জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারকে অবগত করার কথা জানান আরজু।

মোজাফ্ফরের বাল্যবন্ধু ডা. সাঈদ-আল মামুন জানান, সম্ভবত মোজাফ্ফর অ্যালজেইমার রোগে আক্রান্ত। এই রোগে আক্রান্তদের স্মরণশক্তি কমে যায়। অতীত ও বর্তমানের অভিজ্ঞতা ভুলে যায়। কাউকে চিনতে পারে না। অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে বেশিমাত্রায় কথা বলেন।

তিনি বলেন, এভাবে বিনাচিকিৎসায় তাকে নিঃসঙ্গভাবে ফেলে রাখলে অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাবে। তাই তাকে পরিবারের সদস্যদের সময় দেয়া উচিত। পাশাপাশি ভালো নিউরোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে তাকে রাখতে হবে।

এদিকে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ছিলেন ড. মোজাফ্ফর হোসেন। বিসিএস ক্যাডার মোজাফ্ফর পিএইচডি করেন রসায়নের ওপর।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। চাকরির শেষ সময় অবস্থাতেই তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। ২০১৪ সালে চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন মোজাফ্ফর। পরিবারের পক্ষ থেকে কিছুদিন চিকিৎসা করানো হলেও সুফল মেলেনি। তাই গত জানুয়ারি মাসে তাকে মানিকগঞ্জ শহরের কান্দা পৌলি গ্রামের বাড়িতে রেখে গেছেন স্ত্রী-সন্তানরা।

বান্দুটিয়া গ্রামের মৃত মোকছেদ মোল্লার ছেলে ড. মোজাফ্ফর হোসেনের পূর্বপুরুষ থেকেই সম্পদশালী ছিলেন। গ্রামের সবাই এ বাড়িটিকে মাতবরবাড়ি বলেই এক নামে চেনেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ নুরুল হক নুরকে বশে নেয়ার জন্য যা যা করা দরকার সবই করেছেন শেখ হাসিনা!


গণভবনে দাওয়াত দিয়ে ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যদেরকে বিভিন্ন নসিহত করাসহ ব্যাপক আপ্যায়ন করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোটা আন্দোলন নিয়েও অনেক কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। নুরদেরকে শুনিয়েছেন তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের ছাত্রজীবনের গল্পও। মোট কথা, কোটা আন্দোলনের এই নেতাকে বশে নেয়ার জন্য যা যা করা দরকার সবই করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

গত বছর কোটা আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ দিয়ে নুরুল হক নুরসহ অন্যদেরকেও অমানবিক নির্যাতন করিয়েছেন শেখ হাসিনা। এমনকি ডিবি পুলিশ দিয়েও তাদেরকে গুম করেছেন। ডিবি পুলিশ তাদেরকে অপহরণ করে নিয়ে অন্ধকার কুঠুরিতে রেখে অমানবিক নির্যাতন করেছে। কোটা আন্দোলন দমনের জন্য যা করার দরকার ছিল শেখ হাসিনা তখন সবই করেছেন।

দেখা গেছে, ওই সময় কোটা সংস্কারের যৌক্তিকতা নিয়ে কথা বলার জন্য নুরুল হক নুর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে একাধিকবার চেষ্টা করেছেন। নুর তখন বলেছিলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে চাই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে এক মিনিট সময়ও দেননি। ওই সময় শত আবদার করেও নুরুরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

কিন্তু, ব্যাপক ভোটডাকাতির মাধ্যমে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ছাত্রলীগ ছাড়া সবাই যখন ভোট বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে তখনই নুরুদেরকে গণভবনে দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী। অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার পরিকল্পিতভাবে নুরুল হক নুরকে ডাকসুর ভিপি হিসেবে ঘোষণা করে।

এদিকে, ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পরও ভোট বাতিলের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন নুর। নুরের নেতৃত্বে ভোটবর্জনকারী ৫ টি প্যানেলের প্রার্থীরা ভিসিকে আল্টিমেটামও দিয়েছিলেন। শনিবার ছিল ভিসিকে দেয়া আল্টিমেটামের শেষ দিন। কথা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি না মানলে শনিবার নতুন কর্মসূচি দেয়া হবে।

কিন্তু, আল্টিমেটামের শেষ দিন নুরকে গণভবনে দাওয়াত দেন প্রধানমন্ত্রী। নুরসহ ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ী সভায় শনিবার প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে গণভবনে যান।

নুরদের সম্মানে গণভবনের এই আয়োজন নিয়ে তিন ধরেই বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। যেদিন নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে সেদিন কেন গণভবনে তাদেরকে দাওয়াত করা হলো এনিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীসহ সকল মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশিষ্টজনেরাসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, নুরদেরকে গণভবনে ডাকা প্রধানমন্ত্রীর একটা কৌশল। মূলত: ডাকসুর ভোট বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে সেটাকে কৌশলে দমন করতেই নুরদেরকে গণভবনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিজেদের স্বার্থেই শেখ হাসিনা এখন নুরদেরকে গণভবনে ডেকে নিয়ে পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করছেন। এখন দেখার বিষয়, গণভবনের খাবার খেয়ে নুর কি সরকারের ফাঁদে পা দেবে নাকি সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ সাগর-রুনি-তনু-মিতু হত্যাকান্ড মামলার তদন্তে কোন কুলকিনারা হচ্ছে না!

সাংবাদিক দম্পতিসহ বহুল আলোচিত তিন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের শনাক্ত কিংবা মামলার তদন্তে কুলকিনারা করতে পারছে না তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এসব মামলার রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো যেমন ক্ষুব্ধ, তেমনি তদন্ত নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাজারো মানুষের নানা প্রশ্ন। বছরের পর বছর তদন্ত গড়ালেও হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত, পরিকল্পনাকারী ও মদদদাতাদের সম্পর্কে অন্ধকারে র‌্যাব-পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

চাঞ্চল্যকর তিন হত্যা মামলা হচ্ছে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি, কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু এবং চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এই তিন মামলায় প্রকৃত খুনী, মদদদাতা ও নেপেথ্যে জড়িতরা ধরা ছোয়ার বাইরে। অদৃশ্য কারণে মামলার তদন্তে নেই কোন অগ্রগতি

সাবেক আইজিপি মো. আব্দুল কাইয়ুম দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, বর্তমান সময়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও সমাজকে নাড়া দেয়া এসব চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতরা গ্রেফতার না হওয়ায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে বিলম্বিত হলে ভুক্তভোগি পরিবারগুলোর মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়। সে সাথে আইন-শৃংখলা বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো কোনো মামলার তদন্তে দেরি হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে ব্যাখ্যা দিতে হয়। তবে কেউ যেন বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের আরো আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।

এ তিনটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্তের সাথে জড়িত কর্মকর্তারা বলছেন, মামলা অধিক গুরুত্বের সঙ্গেই তদন্ত করা হচ্ছে। এখানে কোনো গাফিলতি নেই। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আরো সময়ের প্রয়োজন।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলা

সাত বছর এক মাস আগে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। এই দীর্ঘ সময়েও মামলাটির তদন্ত শেষে করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব। আদালতের নির্দেশে ২০১৭ সালের ৩ মার্চ মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয় একটি প্রতিবেদন জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের সহকারি পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহম্মদ। এরপর আর কোনো অগ্রগতির প্রতিবেদনও দেয়া হয়নি। বর্তমানে র‌্যাবের আরেক সহকারি পুলিশ সুপার মামলাটি তদন্ত করছেন। র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলাটির অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আলোচিত এ মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী সাগর-রুনির ছেলে মাহির সরোয়ার মেঘকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। তদন্তকালে বনানী থানার একটি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি বকুল মিয়া, খায়রুল হাছান, রফিকুল ইসলাম, মিন্টু ও আবু সাঈদকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়াও সন্দিগ্ধ আসামি তানভীর আহাম্মদ, পলাশ রুদ্র পাল ও এনাম আহম্মেদকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। চুরি যাওয়া ল্যাপটপ ও মোবাইল এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিহতের পরিবারের প্রশ্ন, হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে আর কত সময় লাগবে? বিচার পাওয়ার আশায় আর কতদিন পথ চেয়ে থাকতে হবে? মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, তদন্তের কোনো অগ্রগতিই নেই। তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার অগ্রগতির বিষয়ে কোনো কিছুই জানান না। মামলার বিচার নিয়ে আমাদের পরিবার হতাশ।

সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু

২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে খুন হন সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা মিতু। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ছুটে যান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাবুল আক্তার জঙ্গিবিরোধী একাধিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ধারণা করা হয়, এটি জঙ্গিদের কাজ। পুলিশের বক্তব্যও ছিল তেমনই। এরপর মাঠে নামে পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। আর এটা স্পষ্ট হয় যে, এটি জঙ্গিদের কাজ নয়। তবে যে রহস্য ছিল, সেটির কাছাকাছিও যেতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তারা। এর মধ্যে এই হত্যা মামলা নিয়ে নানা কথা ছড়িয়েছে। পুলিশ বাহিনী থেকে অবসরে গিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছেন বাবুল আক্তার। তদন্তের এক পর্যায়ে তার শ্বশুর বাবুলের বিরুদ্ধে তার মেয়ে হত্যার অভিযোগ আনেন।

মিতুর বাবা পুলিশের সাবেক ইনস্পেক্টর মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রায় তিন বছরেও এ হত্যার কোন কুলকিনারা হয়নি। এমনকি তদন্ত কোন পর্যায়ে সেটাও তাদের জানানো হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। মামলার তদন্ত করছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ। তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে মামলায় ১১ আসামির সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনজন জামিনে রয়েছেন।

তবে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার পুলিশের চাকরি ছাড়ার বিষয়টি নিয়েও যে রহস্যের তৈরি হয়েছিল তা এখন উদঘাটন হয়নি। এটা স্পষ্ট যে তিনি চাকরি ছেড়েছেন চাপের মুখে। তবে কারা চাপ দিয়েছে, কেন চাপ দিয়েছে, তা নিয়ে মুখ খুলছেন না কেউ। বাবুলও এ বিষয়ে কিছু বলেন না। পুলিশ সদর দপ্তরও নিশ্চুপ। তবে গতকাল সিএমপির কমিশনার মো. মাহাবুবুর রহমান দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। খুব শীঘ্রই আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হবে।

কুমিল্লার শিক্ষার্থী তনু হত্যা

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী তনু হত্যা মামলা এখন কুলকিনারা হয়নি। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে যান তিনি। বাসায় না ফেরায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। পরে রাতে বাসার অদূরে কালা পাহাড় নামের একটি জঙ্গলে তার লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।

এ ঘটনার পরদিন বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হত্যা মামলা দায়ের করেন। কুমিল্লা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মামলাটি সিআইডির কাছে যাওয়ার পর থেকে তারা কিছুই জানেন না। শুনেছেন উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, মামলাটি অধিক গুরুত্বের সঙ্গেই তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

উৎসঃ ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ জাবির হলে প্রসবের পর গোপন করতে সন্তানকে ট্রাঙ্কে বন্দি,নবজাতকের মৃত্যু

একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান প্রসবের পর সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানকে বাক্সে তালাবন্দি করে হাসপাতালে গেলেন মা। প্রসব বেদনা সহ্য করতে না পেরে মা হাসপাতালে গেলেও দীর্ঘক্ষণ অযত্নে অবহেলায় ছিল নবজাতকটি। পরে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনে বাক্স থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় বাচ্চাটিকে।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে। শনিবার রাত নয়টা ৪০ মিনিটে নবজাতকটি হাসপাতালে মারা গেছে তবে মা জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা হলের আবাসিক ছাত্রী ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই হলের ৪২৬ নং কক্ষে এক কন্যা সন্তান প্রসব করেন এক ছাত্রী। তিনি ওই রুমেরই আবাসিক ছাত্রী। পরে হল প্রশাসনকে প্রসব বেদনার কথা জানিয়ে বাচ্চাকে ট্রাঙ্কে তালা দিয়ে মেডিকেলে যান। পরে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পেয়ে ওই রুমের একটি ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে নবজাতককে উদ্ধার করে মেডিকেলে নেয় প্রশাসন।

রাত দশটায় এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর মোবাইলে যুগান্তরকে বলেন, ‘ নয়টা ৪০ মিনিটে নবজাতকটি মারা গেছে। আর মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক (ক্রিটিক্যাল)। তবে মেয়েটি বিবাহিত কিনা এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর নিশ্চিত করতে পারেননি।

তবে অন্তঃসত্তার বিষয়টি ওই মেয়ে লুকিয়ে রখেছিলো বলে হলের বান্ধবীদের সূত্রে জানা গেছে।

হল সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটার দিকে ওই ছাত্রী নবজাতক প্রসব করে কাউকে না জানিয়ে ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখে। তার রুমমেট রুমে আসলে তাকে শুধু প্রসববেদনার কথা জানায়। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে জানায়। চিকিৎসাকেন্দ্রের নার্স এসে তাকে হাসপাতলে নেয়ার পরামর্শ দিলে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়।

পরে ওই কক্ষ থেকে নবজাতকের কান্নার আওয়াজ শুনতে পান শিক্ষার্থীরা। পরে ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে নবজাতককে উদ্ধার করে হল প্রশাসন। এ সময় বাচ্চার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং শরীর নীল বর্ণ ধারণ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে বাচ্চাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই (মায়ের কাছে) হাসপাতালে নেয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ (সন্ধ্যায়) জানান, ‘বাচ্চাকে যখন মেডিকেলে নিয়ে আসা হয় তখন তার শরীর সম্পূর্ণ নীল রং ধারণ করেছিল। পরে তাকে অক্সিজেন দিয়ে স্বাভাবিক করে মায়ের কাছে পাঠানো হয়।’

এ বিষয়ে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজিবর রহমান বলেন, ‘ঘটনা শুনে সঙ্গে সঙ্গে হলে যাই। ছাত্রীরা যখন বলছিলো ঘর থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। তখন ৪২৬ নং রুমে গিয়ে ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে বাচ্চাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে নিয়ে যাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘তথ্য গোপন করে মেয়েটি অপরাধ করেছে। এতে অনেক বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারতো। এই ঘটনায় তদন্তের জন্য হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক লাবিবা খাতুন তানিয়াকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ টানা সাতবার সুপ্রিমকোর্ট বারের সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন


এবারও দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। এই নিয়ে টানা ৭ বার এই পদে জয়ী হলেন তিনি।

এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে জয় পেয়েছেন সরকার সমর্থিত সাদা প্যানেলের (আওয়ামীপন্থী) আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন। তবে সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে এ এম মাহাবুব উদ্দিন খোকন। নির্বাচনে সভাপতিসহ ৬ জন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল থেকে এবং সম্পাদকসহ ৮ জন বিএনপি-জামায়াত জোট সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। দুই প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট বারের নেতৃত্ব এবার দুই অংশে বিভক্ত হলো। এর আগের দুই মেয়াদেই সুপ্রিম কোর্ট বারের নেতৃত্বে ছিলেন জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ভোট গ্রহণ করা হয়। এরপর শুক্রবার দুপুর ১২টার কিছুক্ষণ পর সমিতির হলরুমে এই ফলাফল ঘোষণা করেন এই নির্বাচনের প্রধান কমিশনার অ্যাডভোকেট এ ওয়াই মশিউজ্জামান।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন পেয়েছেন ৩০৫৭ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আবদুন নুর দুলাল পেয়েছেন ২৬৪৯ ভোট। গত ছয় মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন মাহবুব উদ্দিন খোকন। এবারের জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি টানা সাতবার এই পদে বিজয়ী হলেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবও এই আইনজীবী নেতা।

অপরদিকে সভাপতি পদে আওয়ামী লীগের এম আমিন উদ্দিন ৩২২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এজে মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ২৪৪৩ ভোট।

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ আওয়ামীলীগের এমপির সংবর্ধনা, অনুষ্ঠানে উপস্থিতি বাড়াতে বন্ধ ৩ স্কুল!

তিনটি স্কুল বন্ধ রেখে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।

শনিবার সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চান্দাইকোনা হাজি ওয়াহেদ মরিয়ম ডিগ্রি কলেজ মাঠে এই সংবর্ধনা দেয়া হয়।

সংবর্ধনায় উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য দিনভর এসব প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তপ্ত রোদে দাঁড় করিয়ে রাখে কর্তৃপক্ষ।

অভিভাবকরা জানান, কলেজের অবকাঠামো ভবন উদ্বোধনসহ শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় এমপি অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। মূলত তার এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিতি বাড়ানো এবং সব শিক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই উপজেলার চান্দাইকোনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, চান্দাইকোনা দাখিল মাদ্রাসা ও করতোয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়।

সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজ

এ বিষয়ে করতোয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘চান্দাইকোনা কলেজে এমপির সংবর্ধনা। এজন্য স্কুল বন্ধ রেখে আমরা শিক্ষার্থীদের কলেজে নিয়ে এসেছি।’

চান্দাইকোনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মুকিতের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম শাহাদত হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠানে সংবর্ধনা, সেটির পাঠদান বন্ধ থাকতেই পারে। কিন্তু, অন্যগুলো কেন বন্ধ তা খতিয়ে দেখা হবে।’

তবে, সংবর্ধনার জন্য বন্ধ রাখতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরা তার কাছে কোনো অনুমতি চায়নি বলেও জানান তিনি।

উৎসঃ পরিবর্তন

আরও পড়ুনঃ এমপি বদির ভাই-ভাগনেসহ মুক্তি পাচ্ছে আত্মসমর্পণকারী ৩২ গডফাদারসহ ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী!

মুক্তি পেতে যাচ্ছে কক্সবাজারে আত্মসমর্পণকারী ৩২ গডফাদারসহ ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী। তাদের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ ইয়াবা, ৩০টি অস্ত্র ও ৭০টি কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় যে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে, তা প্রত্যাহারের অনুমতি চেয়ে পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) বরাবরে আবেদন করেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ।

অনুমতি পেলে জেলা পুলিশ মামলা দুটি প্রত্যাহার করে নেবে। এরপরই কারাগার থেকে মুক্তি পাবে গডফাদার ও শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা।

সূত্র জানায়, ১৬ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণকারী ওইসব ইয়াবা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি চেয়ে ৫ মার্চ কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসাইন আইজিপি বরাবর দুটি পৃথক আবেদন করেন।

সূত্র আরও জানায়, ৮টি শর্ত মেনে তারা আত্মসমর্পণ করে। শর্তগুলো হল- মাদক ব্যবসায়ীরা এ ব্যবসা ছেড়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সমাজে সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করবে, ভবিষ্যতে মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকবে না, মুক্তি পেয়ে নিজ নিজ এলাকায় মাদক নির্মূলে কাজ করবে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে মাদক নির্মূল কমিটি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করবে, যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদের সম্পর্কে তথ্য দেবে, আত্মসমর্পণের আগে যেসব মামলা ছিল, তা আদালতে নিজ দায়িত্বে পরিচালনা করবে; আত্মসমর্পণকালে তাদের অবস্থান থেকে যেসব মাদক, অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তা নিয়ে রুজুকৃত মামলা সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রত্যাহার ও আইনগত সহায়তা দেয়া হবে এবং মাদক ব্যবসার মাধ্যমে নিজে, পরিবার, আত্মীয়স্বজনের নামে-বেনামে অর্জিত সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি তথ্য প্রদান করে সরকারি তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে।

এসব শর্তাবলি মেনে মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মসমর্পণ করায় ৭ ও ৮নং শর্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে জেলা পুলিশ।

জানতে চাইলে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসাইন বলেন, ‘আত্মসমর্পণের শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদক ও অস্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হলেও তাদের বিরুদ্ধে হওয়া আগের মামলাগুলো চলমান থাকবে। পাশাপাশি যদি কেউ মুক্তি পেয়ে শর্ত লঙ্ঘন করে আবার মাদকের সঙ্গে জড়ায়, তাহলে ব্যবস্থা হবে খুবই কঠিন, যা আর সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।’

১৬ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা ব্যবসায়ীরা হল- সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির চার ভাই যথাক্রমে আবদুর শুক্কুর, শফিকুল ইসলাম, আবদুল আমিন, ফয়সাল রহমান এবং এমপি’র ভাগিনা সাহেদ রহমান নিপু ও সাহেদ কামাল। এছাড়া রয়েছে টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের ছেলে দিদার মিয়া, পৌর কাউন্সিলর নুরুল বশর প্রকাশ নুরশাদ, পশ্চিম লেদার নুরুল হুদা মেম্বার, নাজিরপাড়ার এনামুল হক মেম্বার, সাবরাংয়ের মোয়াজ্জেম হোসেন প্রকাশ ধানু মেম্বার, আলী খালির জামাল মেম্বার, শাহপরীর দ্বীপের রেজাউল করিম মেম্বার, সাবরাংয়ের সামশু মেম্বার, দক্ষিণ জালিয়া পাড়ার ইমাম হোসেন, পশ্চিম লেদার বোরহান, সাবরাংয়ের নুরুল আমিন, নাজিরপাড়ার ভুট্টোর ভাগিনা আবসার, হ্নীলার রমজান ও বড় হাবিবপাড়ার ছিদ্দিক, আলী আহমদ চেয়ারম্যানের দুই ছেলে আবদুর রহমান ও জিয়াউর রহমান, হ্নীলার পশ্চিম সিকদারপাড়ার ছৈয়দ আহমদ, নাজিরপাড়ার আবদুর রহমান, পুরাতন পল্লানপাড়ার শাহ আলম, জাহাজপুরার নুরুল আলম, হ্নীলা পশ্চিম সিকদারপাড়ার রশিদ আহমদ, ওয়ালিয়াবাদের মারুফ বিন খলিল বাবু, মৌলভীপাড়ার একরাম হোসেন, মধ্যম ডেইলপাড়ার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, চৌধুরীপাড়ার মং সং থেইন প্রকাশ মমচি ও দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার জুবাইর হোসেন, হ্নীলা পূর্ব পানখালীর নজরুল ইসলাম, পশ্চিম লেদার নুরুল কবীর, নাজিরপাড়ার সৈয়দ হোছন, নাইটং পাড়ার মো. ইউনুচ, সাবরাং আলীর ডেইলের জাফর আহমদ, হ্নীলা ফুলের ডেইলের রুস্তম আলী, শামলাপুর জুমপাড়ার শফিউল্লাহ, একই এলাকার ছৈয়দ আলম, উত্তরলম্বরীর আবদুল করিম প্রকাশ করিম মাঝি, রাজারছড়ার আবদুল কুদ্দুছ, জাহেলিয়াপাড়ার মো. সিরাজ, সাবরাংয়ের আবদুল হামিদ, নাজিরপাড়ার মো. রফিক, নতুন পল্লানপাড়ার মো. সেলিম, নাইট্যংপাড়ার মো. রহিম উল্লাহ, নাজিরপাড়ার মো. হেলাল, চৌধুরী পাড়ার মোহাম্মদ আলম, তুলাতলীর নুরুল বশর, হাতিয়াঘোনার দিল মোহাম্মদ, একই এলাকার মোহাম্মদ হাছন, দক্ষিণ নয়াপাড়ার নুর মোহাম্মদ, সদর কচুবনিয়ার বদিউর রহমান, পূর্ব লেদার জাহাঙ্গীর আলম, মধ্যম জালিয়াপাড়ার মোজাম্মেল হক, ডেইলপাড়ার আবদুল আমিন, উত্তর আলী খালীর শাহ আজম, দক্ষিণ নয়াপাড়ার আলমগীর ফয়সাল, সাবরাং ডেইলপাড়ার মো. সাকের মিয়া, সাবরাংয়ের আলী আহমদ, উত্তর শীলখালীর মো. আবু ছৈয়দ, জাদিমুরার মোহাম্মদ হাসান আবদুল্লাহ, রাজার ছড়ার হোসেন আলী, সাবরাং নয়াপাড়ার মো. তৈয়ব, উত্তর জালিয়া পাড়ার নুরুল বশর মিজি, নাজির পাড়ার জামাল হোসেন, মৌলভীপাড়ার মো. আলী এবং এই এলাকার আবদুল গনি, জালিয়াপাড়ার মো. হাশেম, পুরাতন পল্লানপাড়ার ইসমাইল, নাইট্যাংপাড়ার আইয়ুব, সাবরাংয়ের হোসন আহমদ, সাবরাংয়ের শওকত আলম, নাইট্যাংপাড়ার হাবিব, আলী খালীর হারুন, মাঠপাড়ার কামাল, সাবরাংয়ের রাসেল, ডেইলপাড়ার নুরুল আমিন, শীলবনিয়াপাড়ার আইয়ুব, জালিয়াপাড়ার আলম, লেদার হামিদ, মুন্ডর ডেইলয়ের মনজুর, লেদার রবিউল আলম, সাবরাংয়ের মৌলভী বশির, হ্নীলার মাহাবুব, বাজারপাড়ার মো. শাহ, লেদার ফরিদ আলম, লেদার মো. হোছন, জালিয়াপাড়ার নুরুল আলম, লেদার জহুর আলম, আবু তাহের, ফুলের ডেইলের আলী নেওয়াজ, আবু তৈয়ব ও কক্সবাজার শহরের ইয়াবা গডফাদার শাহাজান আনসারি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চের ফুটপাতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকা সেই নারী বাংলাদেশের হুসনে আরা পারভীন

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন। এ হামলা সংক্রান্ত যে কয়েকটি ছবি সবচেয়ে বেশি আলোচিত তার মধ্যে একটি হল ফুটপাতে মুখ থুবড়ে পড়া এক নারীর। হামলার পর ক্রাইস্টচার্চের ফুটপাত থেকে ছবিটি তোলা হয়। ছবিতে যে নারীকে দেখা গেছে তিনি বাংলাদেশি হুসনে আরা পারভীন (৪২)।

অসুস্থ স্বামীকে মসজিদে খুঁজতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে প্রাণ হারান পারভীন। সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি নিহত হলেও অন্যদের সহযোগিতায় বেঁচে গেছেন তার প্যারালাইজড স্বামী ফরিদ উদ্দিন। হুসনে আরা নিহতের খবরে সিলেটে তার গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহত হুসনে আরা সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালহাটা গ্রামের মৃত নূর উদ্দিনের মেয়ে ও একই জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামের ফরিদ উদ্দিনের স্ত্রী। হুসনে আরা পারভীন দম্পতি প্রায় ২০ বছর আগে নিউজিল্যান্ড পাড়ি জমিয়েছিলেন। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে হুসনে আরা এবং তার এক বোন ও এক ভাই নিউজিল্যান্ডে থাকতেন। এর মধ্যে এক বছর আগে বড় ভাই সেখানেই মারা যান। হুসনে আরা পারভীনের একমাত্র মেয়েও নিউজিল্যান্ডে বসবাস করেন।

নিউজিল্যান্ডের আত্মীয় স্বজনের বরাত দিয়ে সিলেটে অবস্থানরত হুসনে আরার চাচাতো ভাই এইচ আর শাকিল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় নারী ও পুরুষের জন্য পাশাপাশি আলাদা মসজিদ রয়েছে। হামলার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে হুসনে আরা তার স্বামীকে হুইল চেয়ারে করে পুরুষদের মসজিদে রেখে তিনি নারীদের মসজিদে নামাজ পড়তে যান। এর কিছুক্ষণ পর পুরুষদের মসজিদে গোলাগুলির শব্দ শুনে হুসনে আরা তার স্বামীকে খুঁজতে পুরুষ মসজিদের দিকে যান। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

শাকিল আরও জানান, গোলাগুলি শুরুর পরই কয়েকজন মুসল্লি ফরিদ উদ্দিনকে হুইল চেয়ারে করে মসজিদ থেকে বের করে নিলে তিনি প্রাণে রক্ষা পান। বর্তমানে তিনি ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় তার বাসায় আছেন। তবে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে হুসনে আরা পারভীন ও ফরিদ উদ্দিনের বিয়ে হয়। এর কয়েক বছর পর তারা নিউজিল্যান্ড চলে যান। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন। এই দম্পত্তির ১৮ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। গত প্রায় ৮ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় প্যারালাইসড হয়ে যান হুসনে আরা পারভীনের স্বামী ফরিদ উদ্দিন। হুসনে আরা সেখানে একটি কোম্পানীতে চাকুরি করতেন।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‘এতদিন প্রচার করা হলো আমি শিবির, এখন আমাকে বানাচ্ছে ছাত্রলীগ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, এতদিন আমাকে প্রচার করা হলো জামাত-শিবির। এখন আবার আমাকে ছাত্রলীগ বানানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি এমন মন্তব্য করেন।

দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় একটি জাতীয় দৈনিকসহ দুয়েকটি অনলাইন পোর্টালে ‘ছাত্রলীগেই ফিরছেন নুর’ এমন শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নুর।

সংবাদে বলা হয়, শোভন টিএসসিতে গিয়ে নুরকে বুকে জড়িয়ে ধরার পর থেকেই গুঞ্জন উঠেছে ডাকসুর নব নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর ছাত্রলীগেই ফিরছেন। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ মহল থেকে ইতিবাচক মনোভাব জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

তবে ছাত্রলীগে ফেরার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে সংবাদটিকে উড়িয়ে দিয়েছেন সময়ের সাহসী ছাত্রনেতা নব-নির্বাচিত ভিপি নুরু বলেন, বিভিন্ন কথা বিভিন্ন এংঙ্গেলে বলা হয়, আমার কথাটা প্রচার করা হয়েছে। যেমন আজকে যদি আমি বলি, কালেরকণ্ঠসহ আমি দেখতে পেলাম দু’একটি অনলাইন পত্রিকা হেডলাইন করেছে যে, ছাত্রলীগেই ফিরছেন নুর।

এতদিন আমাকে প্রচার করল জামাত-শিবির, এখন আবার ছাত্রলীগ বানাচ্ছে। সুতরাং এই ধরণের আমাদেরকে বিভ্রান্ত, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার জন্য, হেয় করার জন্য বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচার চলছে। এগুলো নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না।

এদিকে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বাতিল করে তিনদিনের মধ্যে পুনঃতফসিলের দাবি জানিয়েছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরু। শিক্ষার্থীরা চাইলে ভিপি পদে শপথ নিতেও আগ্রহী পুণঃনির্বাচন চাওয়া নুরু। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিকে দেয়া স্মারকলিপিতে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যসহ পাঁচ সংগঠনের নেতারা পুণ:নির্বাচনের দাবি জানালেও তা নাকচ করে দেন বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি আখতারুজ্জামান।

অনিয়মের অভিযোগে ডাকসুর নির্বাচন বাতিল চেয়ে নতুন তফসিলের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে ক্যাম্পাসে অনশন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া চার প্রার্থীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও প্রগতিশীল ঐক্যসহ নির্বাচন বর্জনকারীরা।

উৎসঃ ক্যাম্পাসলাইভ২৪

আরও পড়ুনঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির আতঙ্কে ছাত্রলীগের ঘুম হারাম হয়ে গেছে!

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম, বর্ণ, মত, পথ, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীর লোকদের পড়ালেখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এদেশের প্রত্যেকটি নাগরিকের এই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার অধিকার আছে। ঠিক তেমনিভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রত্যেকটি ছাত্রের নিজস্ব মতপ্রকাশেরও অধিকার আছে। রাষ্ট্র বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধানে এমন কিছু লেখা নেই যে, অমুক মত বা দলের লোকজন এখানে তাদের মত প্রকাশ করতে পারবে না।

কিন্তু, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো-পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী-রামপন্থীরা তাদের কার্যক্রম অবাধে চালাতে পারলেও ইসলামী আদর্শ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী ছাত্ররা তাদের মত প্রকাশ করতে পারছে না। বিশেষ করে এদেশের বৃহত্তর ও সুশৃঙ্খল ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যক্রমকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেআইনিভাবে নিষিদ্ধ করে রেখেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা থাকাতো দূরের কথা হলের কোনো ছাত্রকে যদি নামাজ পড়তে দেখে তাহলে তাকে শিবির আখ্যা দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অমানবিক নির্যাতন করে হল থেকে বের করে দেয়। ঢাবি ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা প্রায় দিনই ঘটছে। অনেক নিরপরাধ মেধাবী ছাত্রকে তারা শিবির আখ্যা দিয়ে নির্যাতন করে হল থেকে বের করে দিয়েছে।

কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর ২০১৫ সালে মহসিন হলের ছাত্রলীগের কমিটির উপ মানবসম্পদ সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু, গত বছর যখন এই নুরের নেতৃত্বে ছাত্রসমাজ কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু করে তখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে শিবির আখ্যা দিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী ও রাজাকার বলে গালিগালাজ শুরু করে। স্বাধীনতা বিরোধীরা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে বলে প্রচার করেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে নুরুল হক নুরকে ভিপি হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পরও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে শিবির আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। শিবিরের ভোটে নুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছে বলেও অপপ্রচার চালায় তারা। ছাত্রলীগের দাবি, কোটা আন্দোলনের সব নেতাকর্মী ও সমর্থক সবাই শিবিরের লোক। কোটা আন্দোলনের নামে এখন তারা ঢাবি ক্যাম্পাসে রাজনীতি করছে।

ভিডিওঃ ‘ক্যাম্পাসে যারা হিজাব, বোরকা পড়ে তারা শিবির, ছাত্রীসংস্থা’: ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানী


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এরপর, রোকেয়া হলের প্রভোষ্টসহ ভোট ডাকাতিতে জড়িতদের অপসারণ দাবিতে অনশনে বসে ছাত্রীরা। ওই হলের কিছু মেয়ে হিজাব পরে অনশনে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু, বুধবার মধ্যরাতে ছাত্রলীগ সেক্রেটারি গোলাম রাব্বানী ওইখানে ছাত্রীদের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করে। কয়েকজন ছাত্রীর গায়ে বোরকা দেখেই রাব্বানী চরম উত্তেজিত হয়ে উঠে। ওরা ছাত্রীসংস্থার মেয়ে বলেও তাদেরকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করে গোলাম রাব্বানী। গোলাম রাব্বানীর ভাষায়- ছাত্রীসংস্থার মেয়েরা এসব আন্দোলন করছে।

মোটকথা, সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করে ছাত্রলীগের ভাষায় তারা সবাই শিবিরের লোক। আর যারা চুপ থাকে তারাই নিরপেক্ষ বা ছাত্রলীগের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরকে নিয়ে এখন চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছে ছাত্রলীগ। তারা মনে করছে, ছাত্রশিবির ও ছাত্রীসংস্থার ছেলে-মেয়েরা সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ের নাম করে ক্যাম্পাসকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে। তাদের ধারণা, ডাকসু নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু হতো তাহলে ঢাবির সকল নেতৃত্ব শিবিরের লোকদের হাতে চলে যেতো। সরকারের পরিবর্তন হলে ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে প্রকশ্যে রাজনীতি শুরু করতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা।

উৎসঃ এনালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ মধ্যরাতে আন্দোলনরত ছাত্রীদের হেনস্থা, হিজাব নিয়ে কটুক্তি, বহিষ্কারের হুমকি রাব্বানীর (ভিডিও)

m
অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ এনে ফের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশনে বসা রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রীকে মধ্যরাতে হেনস্তা করেছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী। একইসাথে তাদের মধ্যে যারা পর্দাশীন তাদের অনেককে ছাত্রী সংস্থার কর্মী দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে এমন অভিযোগ করেছেন রোকেয়া হলের গেটে অনশনরত ছাত্রীরা।

অনশনকারী ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী শ্রবণা শফিক দীপ্তি বলেন, রোকেয়া হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ ও কারচুপির ভোট বাতিলের দাবিতে আমরা সুশৃঙ্খলভাবে অনশন করছিলাম। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এখানে এসে আমাদের, সমর্থনকারীদের হেনস্তা করেন। ছবি দেখিয়ে একজনকে চরিত্রহীন প্রমাণের চেষ্টা করেন। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, আমরা মদ-গাঁজা খেয়ে আন্দোলন করছি। যারা পর্দা করেন, সেসব ছাত্রীদের শিবিরেরকর্মী বলে- মিথ্যা অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেন তিনি।

ভিডিওঃ ‘ক্যাম্পাসে যারা হিজাব, বোরকা পড়ে তারা শিবির, ছাত্রীসংস্থা’: ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানী


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ডাকসু ও হল সংসদে পুনর্নির্বাচন, হল প্রভোস্ট জিনাত হুদাকে কারচুপির মূল হোতা দাবি করে তার পদত্যাগ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার দাবিতে গতকাল রাত নয়টায় আমরণ অনশনে বসেন রোকেয়া হলের পাঁচ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে চারজন ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন পদের প্রার্থী ছিলেন। হলের প্রধান ফটকের সামনে তারা অনশন শুরু করেন। অনশন শুরু করার পর তাদের সমর্থনে হলের ফটকের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান নেন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। এসময় তারা হল প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।

আওয়ামী পরিবারের সন্তান দীপ্তির ভাষ্য, দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মোটরসাইকেলে করে ছাত্রলীগ শতাধিক নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে রোকেয়া হলের সামনে আসেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী। এসেই তিনি ছাত্রীদের হলের ফটকের বাইরে অনশন করা ও তাদের সমর্থকদের অবস্থান নিয়ে মুঠোফোনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে কথা বলেন।

ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস মুঠোফোনে প্রক্টরকে জানান, হলের কিছু মেয়ে মধ্যরাতে গেট খুলে বাইরে অবস্থান করে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছেন। তিনি বলেন, এরা খুব বাড়াবাড়ি করছে, স্যার। এদের সবগুলোর ফাইল দেখে চিহ্নিত করে, গার্ডিয়ান ডেকে এনে স্থায়ীভাবে একাডেমিক বহিষ্কার করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খোদা হাফেজ করে দেন।

প্রায় পাঁচ মিনিটের কথোপকথনে ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস কয়েকবার প্রক্টরের কাছে একই দাবি জানান। এসময় প্রভোস্টের ‘পদত্যাগ’ দাবি করে ‘রোকেয়া হলের আঙিনা, তোমার-আমার ঠিকানা’ বলে স্লোগান দেন অনশনকারীদের সমর্থকেরা।

এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইশরাত কাশফিয়া ইরা, বর্তমান সভাপতি ও ডাকসুর কমনরুম–বিষয়ক সম্পাদক লিপি আক্তার, হল সংসদের সদস্য সুরাইয়া আক্তারসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেত্রী।

ডাকসুর জিএস রাব্বানীর কাছে তারা অভিযোগ করেন, অবস্থানকারীদের কারণে হলের শিক্ষার্থীরা ঘুমাতে পারছেন না, পড়তে পারছেন না। এরপর রাব্বানী হলের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা অনশনকারীদের কয়েকজন সমর্থককে দেখিয়ে ছাত্রলীগ নেত্রীদের প্রশ্ন করেন, রাত দুইটার দিকে বোরকা, নেকাব পরা এরা কারা? ছাত্রশিবির করে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের অবস্থান নিষিদ্ধ।’

এসময় ঘটনাস্থলে হলের হাউস টিউটর দিলারা জাহিদ, লোপামুদ্রা, সাদিয়া নূর খান এসে ডাকসুর জিএস রাব্বানীকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

জিএস চলে যেতে উদ্যত হলে তাকে ফিরিয়ে আনেন হল ছাত্রলীগ নেত্রীরা। ফিরে এসে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করতে হল ছাত্রলীগ নেত্রীদের নির্দেশ দেন রাব্বানী।

ভিডিওঃ ‘মধ্যরাতে আন্দোলনরত ও পর্দাশীন ছাত্রীদেরকে গোলাম রাব্বানীর হেনস্থা’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এবিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে রাব্বানী বলেন, সবারই আন্দোলন, অনশন করার রাইট আছে। কিন্তু রাত দুইটার দিকে হলের গেট খোলা রেখে অন্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার রাইট কারও নাই। রাব্বানী বলেন, বোরকা পরে মুখ ঢাকা মেয়েরা এখানে কেন? এরা শিবিরের ছাত্রী সংস্থার। তারপরেও তারা ক্যাম্পাসে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা।

রাত সোয়া দুইটার দিকে নেতা-কর্মীদের নিয়ে হলের সামনে থেকে চলে যান রাব্বানী। কয়েক মিনিট পর মোটরসাইকেল করে এসে স্লোগান দিয়ে শোডাউন দেন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

উৎসঃ দেশ জনতা

আরও পড়ুনঃ ৫ বছর আগে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান কুড়িগ্রামের নিহত অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় অর্ধশত মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি রয়েছে। এর মধ্যে একজন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ।

তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মধুরহাইল্লা গ্রামে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জহির উদ্দিন বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ছিলেন। তার তিন ছেলে রয়েছে। তিনি নিউজিল্যান্ডে সিটিজেনশিপ নিয়ে দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। আরেক ছেলে বাংলাদেশেই থাকেন।

নিহত অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদের সহকর্মী কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ পাঁচ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরি ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান। ক্রাইস্টচার্চের হামলার ঘটনায় ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

আবদুস সামাদের পরিবার ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, সামাদ নাগেশ্বরী পৌরসভার মধুর হাইল্যা গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে। ২০১৩ সাল থেকে সপরিবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের হ্যাগলি পার্ক এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। আবদুস সামাদ তিন সন্তানের জনক। একসময় তিনি ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েরও শিক্ষক ছিলেন।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ২৪, প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে খুন হলেন সিলেটের হুসনে আরা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজের সময় দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশিও রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন সিলেটের হুসনে আরা পারভীন (৪২)। ঘটনার সময় তিনি মসজিদে জুমার নামাজে যাওয়া স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদের খোঁজে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

নিহত হুসনে আরা পারভীন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের জাঙ্গালহাটা গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের মেয়ে। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত হুসনে আরা পারভীনের চাচাতো ভাই সিলেট মহানগর কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ আর শাকিল জানান, স্বামী, একমাত্র মেয়ে ও দুই ভাইবোনের সঙ্গে ক্রাইস্টচার্চে থাকতেন হুসনে আরা পারভীন। তার স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামে। তিনি প্যারালাইজড হওয়ায় হুইল চেয়ারে চলাচল করেন।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ার জন্য স্বামীকে নিয়ে ক্রাইস্টচার্চে একটি মসজিদে যান হুসনে আরা । সেখানে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথকভাবে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা আছে। স্বামীকে পুরুষদের মসজিদে দিয়ে নারীদের জন্য পৃথক জায়গায় নামাজ আদায়ে যান তিনি। কিছু সময় পর গোলাগুলির শব্দ শুনে পুরুষদের মসজিদে স্বামীকে খুঁজতে যান হুসনে আরা। ওই সময় বন্দুকধারী সন্ত্রাসী তাকে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

এদিকে স্ত্রী পারভীন নিহত হলেও অন্যান্য মুসল্লিরা তার স্বামী ফরিদ উদ্দিনকে মসজিদ থেকে বের করে নেয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে ফরিদ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে হুসনে আরা পারভীনের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর তারা নিউজিল্যান্ডে যান। সর্বশেষ ২০০৯ সালে দেশে তারা এসেছিলেন।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ২৪

আরও পড়ুনঃ ‘মসজিদে চাবি, জুতা ফেলেই জান বাঁচাতে দৌড় দেই’: কিশোরগঞ্জের মেয়ে আফসানা আক্তার

আফসানা আক্তার রিতু বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের মেয়ে। এক বছর আগে তার বিয়ে হয় নিউজিল্যান্ড-প্রবাসী এক বাংলাদেশীর সঙ্গে।

‘মসজিদে চাবি, জুতা ফেলেই জান বাঁচাতে দৌড় দেই’: কিশোরগঞ্জের মেয়ে আফসানা আক্তার

আল নুর মসজিদে যখন হামলা হয়, তখন আফসানা আক্তার রিতু ছিলেন মসজিদের ভেতরেই।

আফসানার বাড়ি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে। এক বছর আগে তার বিয়ে হয় নিউজিল্যান্ড-প্রবাসী এক বাংলাদেশীর সঙ্গে। নয় মাস আগে তিনি দেশ ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে যান।

আল নুর মসজিদ থেকে তাদের বাসা মাত্র এক মিনিটের পথ।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আফসানা আক্তার রিতু সেই ভয়াবহ হামলার বিবরণ দিয়েছেন।

বাসার কাছেই যেহেতু মসজিদ, আফসানা তাই প্রতিদিন সেখানে নামাজ পড়তে যেতেন। ঘটনার সময় তারা তিনজন বাংলাদেশী নারী একসঙ্গে ছিলেন।

‘আমরা মসজিদের ভেতরে ছিলাম। হঠাৎ করে একটা শব্দ পাই। আমরা শব্দ শুনে দৌড়াদৌড়ি করে বাইরে আসি।’

‘যারা গুলি করছিল, ওরা প্রথম মহিলাদের রুমে আসেনি, ওরা প্রথম গিয়েছিল পুরুষদের রুমে। আমরা তিনজন বাংলাদেশী এক সঙ্গে ছিলাম। তিনজনই একসঙ্গে দৌড় দেই।’

‘আমাদের বাসা একদম মসজিদের পাশে। বাসায় আসতে এক মিনিট লাগে। গোলাগুলির শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে বাসার দিকে আসি। কিন্তু বাসার চাবি, জুতা এইগুলা মসজিদে রেখে আসছি। জান বাঁচানোর জন্য পালিয়ে আসি।’

মানুষের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
তারা যে তিনজন একসঙ্গে ছিলেন, তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুলি লাগে। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্স এসে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আফসানা জানান, যে ব্যক্তি গুলি করছিল, তাকে দেখেননি তিনি। “আমরা ভয়ে পেছনে তাকাইনি।”

এই ঘটনার পর আফসানা এখন রীতিমত আতংকে আছেন। অথচ নিউজিল্যান্ডে তার গত নয় মাসের অভিজ্ঞতা ছিল একেবারই অন্যরকম।

‘বাংলাদেশে থাকতেই আমি জানতাম, নিউজিল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। অনেক নিরাপদ। এ পর্যন্ত কোনদিন কোন সমস্যা হয়নি।’

কিন্তু শুক্রবারের এই ঘটনা তাকে ভীষণ আতংকগ্রস্ত করে তুলেছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হত্যাযজ্ঞঃ নরেন্দ্র মোদির মুখে কুলুপ!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব সময় সক্রিয় থাকেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্বের কোথাও কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে তার নিন্দা জানান। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

রক্তাক্ত এ হামলার পর থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে টুইট করলেও ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার ঘটনায় এখনো নিশ্চুপ মোদি।

নিউজিল্যান্ডের দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় সমবেদনা জানাচ্ছেন বিশ্ববাসী। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব দেশের নেতারা এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, কেউবা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন নিজের দেশ ও সরকারের অবস্থান।

কিন্তু এত বড় একটি হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চুপ থাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

কারণ বিশ্বের কোথাও কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলে যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গেই তার নিন্দা জানিয়ে থাকেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ভারতের বাইরে কাবুল, কায়রো, নিউইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস- এসব শহরে বিগত বছরগুলোতে যেসব সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে তাতে টুইটারে সরব ছিলেন মোদি।

কিন্তু শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৪৯ জন মুসলমান নিহত হলেও এ ঘটনা নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী কোনো টুইট করেননি।

ধারণা করা হচ্ছে, মুসলমান নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশকে তার উগ্রবাদী দল ও ভক্তরা হয়তো ভালোভাবে নেবে না এবং এর প্রভাব পড়বে ভোটে- এমনটা ভেবেই তিনি হয়তো চুপ রয়েছেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভক্তদের সামনে নীরব থাকলেও হামলার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা এক চিঠিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মোদি।

উৎসঃ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here