রাজশাহী মহানগরীতে ‘সনদ বাণিজ্য’: এক দশকে শিক্ষক মুকুল শত কোটি টাকার মালিক

0
155

এক দশকে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন রাজশাহীর প্রত্যন্ত গ্রামের এক স্কুলশিক্ষক। চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছির স্কুলশিক্ষক এএইচএম কামরুজ্জামান মুকুল রাজশাহী মহানগরীতে গড়ে তুলেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ।

অভিযোগ, ‘সনদ বাণিজ্য’ করে তিনি নামে-বেনামে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাঁচটি বাড়ি ও একটি বিশাল মার্কেট নির্মাণ করেছেন। এছাড়া গ্রামের বাড়িতে শত বিঘার পেয়ারা বাগানসহ বহু সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি চড়েন দামি গাড়িতে। প্রতি মাসে বাড়ি ও মার্কেট থেকে তিনি ২০ লাখ টাকা ভাড়া পান।

স্বল্প আয়ের একজন স্কুলশিক্ষক কিভাবে অল্প সময়ের মধ্যে এত সম্পদের মালিক হলেন- তা নিয়ে মহানগরীর মানুষের মুখে মুখে ফিরছে নানান প্রশ্ন। নন্দনগাছির জোতকার্তি বিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুকুলের বিপুল সম্পদ অর্জনের ঘটনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ভঙ্গ করে একসঙ্গে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) অনুমতি না নিয়ে দুটি পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করায় তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।

কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগপত্রে তার বিরুদ্ধে আট ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে তাকে একজন ‘শিক্ষা ব্যবসায়ী’ ও ‘সনদ বাণিজ্যকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও মুকুল তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে- মাত্র এক দশক আগে নন্দনগাছি থেকে রাজশাহী মহানগরীতে আসা-যাওয়া শুরু করেন মুকুল। নন্দনগাছির জোতকার্তি বিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হলেও তিনি রাজশাহী মহানগরীর সিটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ পদে রয়েছেন।

এছাড়া সিটি পলিটেকনিক অ্যান্ড টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। অভিযোগ, এ দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ‘সনদ বাণিজ্য’ করছেন। এছাড়া নগরীর রাজপাড়া থানা এলাকায় আদর্শ মহিলা টেকনিক্যাল ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে তার আরেকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ তার স্ত্রী মারুফা খানম। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তেমন আসে না; নিয়মিত ও ঠিকমতো ক্লাসও হয় না। প্রয়োজনীয় শিক্ষক-কর্মচারীও নেই। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ‘সনদ বাণিজ্য’ করে মুকুল অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অভিযোগ, মহানগরীতে নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মুকুল চারঘাটের স্কুলে ঠিকমতো যান না। তবে তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে তিনি প্রতি মাসে বেতনও তোলেন।

জানা গেছে, মাসে একবার স্কুলে গিয়ে হাজিরা খাতায় তিনি পুরো মাসের স্বাক্ষর করেন। প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি ক্লাস না নিলেও তার বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি পর্যন্ত কেউ করেন না।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর গৌরহাঙ্গা পুকুরের পশ্চিম পাশে মুকুলের পাশাপাশি তিনটি বাড়ি রয়েছে। প্রথম বাড়িটি পাঁচতলা। দেড় বছর আগে এক নারীর কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকায় তিনি বাড়িটি কেনেন।

এরপর আরডিএ’র অনুমোদন না নিয়ে তিনি সেখানে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। এ কারণে আরডিএ চেয়ারম্যানের কাছে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করেছে।

১০ ইউনিটের বাড়িটি ছাত্রাবাস হিসেবে ভাড়া দেয়া হয়েছে। এখান থেকে মুকুল প্রতি মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা ভাড়া পান। তিন কাঠার ওপর নির্মিত দ্বিতীয় বাড়িটি প্রথম বাড়ির পাশে। ৬০ লাখ টাকায় তিনি সেটি কেনেন। তবে প্ল্যান পাস না করে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে তিনি পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেন। ১০ ইউনিটের বাড়িটিও ছাত্রাবাস হিসেবে ভাড়া দেয়া হয়েছে। এখান থেকে মুকুল প্রতি মাসে দুই লাখ টাকা ভাড়া পান।

নিয়ম লঙ্ঘন করে বাড়ি দুটি নির্মাণ করা সম্পর্কে আরডিএর বিল্ডিং ইন্সপেক্টর আরিফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে মুকুলকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অনিয়ম পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মুকুলের তৃতীয় বাড়িটিও একই মহল্লায়। সোয়া দুই কাঠার ওপর নির্মিত দোতলা বাড়িটি সম্প্রতি তিনি ৭০ লাখ টাকায় কেনেন। পঞ্চম তলা পর্যন্ত নির্মাণ করতে তার পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এটিও ছাত্রাবাস হিসেবে ভাড়া দেয়া হয়েছে। এখান থেকে তিনি প্রতি মাসে আড়াই লাখ টাকা ভাড়া পান। অবশ্য বাড়ি তিনটি মুকুলের স্ত্রী মারুফা খানমের নামে কেনা হয়েছে।

মহানগরীর পদ্মা আবাসিকের হজর মোড় এলাকায় তার চতুর্থ বাড়ি রয়েছে। এখানে তিনি তিনতলাবিশিষ্ট বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেন। এতে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনতলার ছয়টি ইউনিট থেকে প্রতি মাসে তিনি এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভাড়া পান।

তার পঞ্চম বাড়িটিও একই এলাকায়। কোটি টাকা দিয়ে পাঁচ কাঠা জায়গা কিনে তিনি সেখানে দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে তার এ পর্যন্ত প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে আরডিএ’র প্ল্যান না পাস করায় এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মাণ করায় এরই মধ্যে বাড়িটির সামনে বেশকিছু অংশ ভেঙে দিয়েছে আরডিএ।

মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বরে মুকুলের চারতলার বিশাল মার্কেট রয়েছে। রেলের জমি লিজ নিয়ে এবং ব্যক্তিমালিকানার তিন কাঠা জায়গার ওপর মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে মার্কেটটির বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। ২০টি দোকান থেকে প্রতি মাসে তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকা ভাড়া পান। তবে মার্কেটটি তিনি শ্যালক বেলাল খান ও লাল খানের নামে করেছেন।

চলাচলের জন্য এলিয়ন মডেলের দামি গাড়ি মুকুল ব্যবহার করেন। নন্দনগাছিতে রয়েছে তার একশ’ বিঘার পেয়ারা বাগান। এছাড়া ৫০ বিঘার ওপর আবাদি জমি ও পুকুর রয়েছে। এ দেড়শ’ বিঘা জমির মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এসব মিলিয়ে মাত্র এক দশকের মধ্যে স্কুলশিক্ষক মুকুল প্রায় শত কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

এ ব্যাপারে যুগান্তরকে কামরুজ্জামান মুকুল বলেন, গৌরহাঙ্গার বাড়িগুলো তার স্ত্রী মারুফা খাতুন তার বাবার টাকায় কিনেছেন। আর পদ্মা আবাসিকের দুটি বাড়ি নির্মাণে তার বাবা এবং আমেরিকা প্রবাসী এক ভাই বিনিয়োগ করেছেন। এছাড়া মার্কেটটি তার দুই শ্যালকের। গ্রামের বাড়িতে তার কোনো পেয়ারা বাগান, জমি ও পুকুর নেই। একটি মহল তার নামে সুপরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। ষড়যন্ত্রের শিকার বলে তিনি দাবি করেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ দুর্নীতির আখড়া জাহিদ মালেকের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়!


মাত্র কিছু দিন আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঘটে গেল এক ভয়াবহ বালিশ কেলেংকারির ঘটনা। বালিশ, বিছানা চাদর, চায়ের কাপ, কেটলি, চেয়ার টেবিল, লেপ-তোষক কেনায় এমনই সীমাহীন দুর্নীতি ছিল যে, হাইকোর্টের বিচারপতিরা পর্যন্ত এসব শুনে অবাক হয়ে গেছেন। নজিরবিহীন এই দুর্নীতির ঘটনায় সরকারের ওপর মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল।

ভিডিওঃ  ‘ দুর্নীতিতে রূপপুর বালিশ কান্ডকে হার মানাল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৌশলে এই দুর্নীতির দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, পরে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। মির্জা ফখরুল আসল গোমর ফাঁস করে দিয়েছেন।

বালিশ কেলেংকারির সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ঘটেছে বই কেলেংকারির ঘটনা। দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের জন্য বই কেনার নামে লুটপাট করা হয়েছে কোটি টাকা।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের জন্য ১০টি বই কপি কিনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বইটির বাজারমূল্য সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা হলেও স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রতিটি বই কিনেছে ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা করে। সেই হিসাবে ১০ কপি বইয়ের মোট দাম পরিশোধ করা হয়েছে ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, বাজার দামের তুলনায় ৮ লাখ টাকা বেশি খরচ করে এ বই কিনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

শুধু এই একটি আইটেমের বই-ই নয়, দুটি টেন্ডারে ৪৭৯টি আইটেমের ৭ হাজার ৯৫০টি বই কিনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এসব বইয়ের মূল্য বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৩৪ হাজার ২৪৩ টাকা।

রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজের জন্য ৩১৭টি আইটেমের ২৪৫৪টি বই ২ কোটি ৫০ লাখ ৯১ হাজার ২৮৫ টাকায় কেনা হয়েছে। এছাড়া, সারাদেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের জন্য ১৬২টি আইটেমের ৫৪৯৬টি বই কেনা হয়েছে ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪২ হাজার ৯৫৮ টাকায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের ২৬ ও ২৭ মে বই কেনার জন্য পৃথক দুটি টেন্ডার আহ্বান করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। প্রথম টেন্ডারের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় পাঁচ কোটি টাকা ও দ্বিতীয়টির প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪২ হাজার ৯৫৮ টাকায় প্রথম টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডার পায় হাক্কানী পাবলিশার্স। আর ২ কোটি ৫০ লাখ ৯১ হাজার ২৮৫ টাকায় দ্বিতীয় টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডারও পায় একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষে এসব বই কেনার দায়িত্বে ছিলেন উপ-পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) ডা. শেখ মো. মনজুর রহমান, শিক্ষা চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন।

৪৭৯টি আইটেমের বইয়ের মধ্যে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩০টি বইয়ের বাজার দাম যাচাই করেছে । বইয়ের বাজার দাম যাচাই করে দেখা গেছে, বইগুলো দ্বিগুণ, তিনগুণ কোনও ক্ষেত্রে ১৫ গুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে।

সাতটি মেডিক্যাল কলেজের জন্য গ্রেজ অ্যানাটমি নামে ৯৫টি বই কেনা হয়েছে। বাজারে এই বইয়ের প্রতিটি কপির দাম ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। কিন্তু একেকটি বই কেনার বিল করা হয়েছে ৪৩ হাজার টাকা করে। ৯৫টি বই কিনতে খরচ হয়েছে ৪০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ বাজার মূল্যের চেয়ে অন্তত সাতগুণ বেশি দামে বইটি কিনেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বার্ন অ্যান্ড লেভি ফিজিওলজি বইটির ৬৫টি কপি কেনা হয়েছে দেশের পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজের জন্য। বাজারে বইটির দাম চার হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা। কিন্তু, মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি বই কেনা হয়েছে ২০ হাজার ৪৮০ টাকায়।

মুগদা মেডিক্যালের জন্য কেনা হয়েছে ‘অর্থোডোনটিক মেটারিয়াল সায়েন্টেফিক অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল অ্যাসপেক্টস’ নামে তিনটি বইয়। বাজারে বইটির দাম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা হলেও কেনা হয়েছে ১৪ হাজার ১৭৫ টাকা করে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্র্যাকটিক্যাল অপটামোলজি: ম্যানুয়াল ফর বিগেনার্স বইটি কেনা হয়েছে পাঁচ কপি। প্রতিটি বইয়ের বাজার মূল্য ২৯ হাজার টাকা। কিন্তু, প্রতিটি বই কেনা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা করে।

‘অর্থোফিক্স এক্সটার্নাল ফিক্সেশন ইন ট্রমা অ্যান্ড অর্থোপেডিকস’ নামের বইটির ১০টি কপি কেনা হয়েছে মুগদা মেডিক্যালের জন্য। এ বইয়ের বাজার দর প্রতিটি ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা। কিন্তু প্রতিটি বই কেনা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৫ টাকা করে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখত বরাবরই দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত। কিছু দিন আগেই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী আবজালের দুর্নীতির চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিগত ১৫ বছরে ২৪ হাজার কোটি টাকার মালেক হয়েছেন। তার এই দুর্নীতি নিয়ে সারাদেশে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু, এরপরও দুদকের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবজাল দম্পতি দেশ থেকে পালিয়েছেন।

বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ওই সময় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। জানা গেছে, এসব দুর্নীতির সঙ্গে তিনিও জড়িত আছেন। এখন তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী। দুর্নীতি এখন মন্ত্রণালয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছেছে। বিভিন্ন সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি বড় বড় কথা বললেও কার্যত দুর্নীতি বন্ধে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বালিশ কান্ডকে হার মানিয়ে দুর্নীতির নতুন নজির গড়লো ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল!


ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি পর্দা কেনায় খরচ ধরা হয়েছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যা বহুল আলোচিত রূপপুর বালিশকাণ্ড দুর্নীতিকেউ হার মানিয়েছে। সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিক টিভির এক অনুসন্ধানীতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এ ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

ভিডিওঃ  ‘ দুর্নীতিতে রূপপুর বালিশ কান্ডকে হার মানাল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এই হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনাতে অন্তত ৪১ কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

দুর্নীতির নজির সৃষ্টি করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স অনিক ট্রেডাস। যার বিরুদ্ধে বছর খানিক আগে প্রায় ১০ কোটি টাকার বিল আটকে দিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে বিল পরিশোধের আবেদন জানিয়ে ২০১৭ সালের ১ জুন রিট করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে সাপ।

তখনই জানা যায়, এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের রোগীর বেড আড়ালে ব্যবহৃত একটিমাত্র পর্দা কেনা হয়েছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। এ সময় বেরিয়ে আসে অবিশ্বাস্য আরও সব তথ্য।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনায় ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে এসব দুর্নীতি হয়েছে।

এরমধ্যে ১১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬৫ টাকার মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনাকাটায় বিল দেখানো হয়েছে ৫২ কোটি ৬৬ লাখ ৭১ হাজার ২০০ টাকা। এই একটি কেনাকাটাতেই মেসার্স অনিক ট্রেডার্স বাড়তি বিল দেখিয়েছে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৭ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইসিইউতে ব্যবহৃত একটি পর্দার দাম ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড়াও একটি অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। একটি ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার, একটি বিএইইস মনিটরিং প্ল্যান্ট ২৩ লাখ ৭৫ হাজার, তিনটি ডিজিটাল ব্লাড প্রেসার মেশিন ৩০ লাখ ৭৫ হাজার, আর একটি হেডকার্ডিয়াক স্টেথোসকোপের দাম ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। এমন অবিশ্বাস্য দামে ১৬৬টি যন্ত্র ও সরঞ্জাম কিনেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, মেসার্স অনিক ট্রেডাসের রিটের পর প্রকাশ পায় ওই সময়কালে হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই অবস্থায় ছয় মাসের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্ত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ মাহমুদ বাশার জানান, এক রোগী থেকে আরেক রোগীকে আড়াল করার পর্দার দাম ধরা হয়েছে ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। বাজার মূল্যের সাথে কোনোভাবেই এটি সঠিক মূল্য নির্ধারণ বলা যাবে না।

তিনি বলেন, যারা দায়িত্বশীল ব্যক্তি ছিলেন তারা ঘটনায় সম্পৃক্ত। তাহলে তাদের বিরুদ্ধে শুধু প্রশাসনিক নয়, আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তবে সেটা দুদক তদন্ত সাপেক্ষে নির্ধারণ করবে।

পর্দা কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স অনিক ট্রেডাসের রিট পিটিশনার ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল কথা বলতে রাজি হননি।

উৎসঃ পূর্বপশ্চিমবিডি

আরও পড়ুনঃ হাসিনার প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ছেন ব্যারিস্টার মইনুল!


কথিত নারীবাদী লেখক ও সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির করা মানহানির মামলায় জামিন না দিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, বিশিষ্ট আইনজীবী ও ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশন পত্রিকার সম্পাদক ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে আবারো কারাগারে পাঠিয়েছে শেখ হাসিনার অনুগত আদালত। যদিও তার আইনজীবীরা বলছেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে করা প্রত্যেকটি মামলাই জামিন যোগ্য। তারপরও কথিত এই মানহানির মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৭ এর বিচারক তোফাজ্জল হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জানা গেছে, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে মূলত সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে। কারণ, মামলাগুলো করা হয়েছিল তার নির্দেশেই। শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে কথিত নারীবাদীদেরকে বলেছিন, আপনারা মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে যত পারেন মামলা করেন, বাকীটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাতেই উত্তরা থেকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় দুর্নীতির দায়ে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করেছিল সেনাশাসিত সরকার। ওই সময় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারণা মইনুল হোসেনই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করিয়েছেন। এই থেকেই মইনুল হোসেনের ওপর শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার প্রকাশ্যেই বলেছেন যে, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন তাকে গ্রেফতার করিয়েছেন।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ফাঁদে ফেলতে একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন শেখ হাসিনা। তাই, মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মাসুদা ভাট্টির ইস্যুকে মোক্ষম হাতিয়ার বলে মনে করছে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতারা। যার কারণে, মইনুল হোসেন লিখিতভাবে দু:খ প্রকাশ করার পরই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নারীবাদীদেরকে মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এরপর মইনুল হোসেন কারামুক্ত হয়ে আবারো সরকারের দুর্নীতি-দু:শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। এরপরই শেখ হাসিনা আবারো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের ওপর। মূলত তার সাহসী কণ্ঠ রোদ্ধ করতেই তাকে আবার কারাবন্দী করেছেন শেখ হাসিনা।

মইনুল হোসেনেকে কারাগারে পাঠানোর পর রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, মাসুদা ভাট্টির ইস্যুটিকে কাজে লাগিয়ে মূলত শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিচ্ছেন। আর সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমসহ দু:শাসনের বিরুদ্ধে মইনুল হোসেন সর্বদাই সোচ্চার ভুমিকা পালন করছেন। এরপর সরকার বিরোধী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার পর মইনুল হোসেনের ওপর শেখ হাসিনা আরও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এসব কারণেই মূলত ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে পুনরায় কারাগারে নিক্ষেপ করেছেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‘মশা মারা শিখতে সিঙ্গাপুর যাবে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা’


অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ামুক্ত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে সিটি করপোরেশনগুলোর কর্মকর্তারা অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কযেকটি দেশ সফর করেছেন। তারা খুব শিগগির সিঙ্গাপুর যাবেন, সেখানে কীভাবে এই রোগগুলো প্রতিরোধ করা হচ্ছে তা প্রত্যক্ষ করার জন্য।

বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জ‌্যেষ্ঠ সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জন্য ২০০টি ফগার মেশিন, ১৫০টি হস্তচালিত মেশিন ও ৪০ হাজার লিটার মেলাথিয়ন কীটনাশক সরাসরি ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৫ কোটি ৩২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনে দ্রুততম সময়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধের জন্য এসব যন্ত্র ও কীটনাশক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এসব যন্ত্রপাতি ও কীটনাশক উত্তর সিটি করপোরেশনের হাতে পৌঁছবে। টেন্ডারের মাধ্যমে এগুলো সংগ্রহ করটা বেশ সময়সাপেক্ষ। সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে এসব ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। তারা পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর যাবেন। সিঙ্গাপুরের একটি প্রকল্প আছে- মশাকে আকৃষ্ট করে তারা একত্রে মারে। তারা গর্ত করে সব মশা আকৃষ্ট করে সেখানে আনে, তখন সব মশা একসঙ্গে মারা হয়। আমাদের আগে মশা তাড়ানো হতো, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় নিতো। তাই লাভ বেশি হয়নি। বর্তমানে পদ্ধতিতে মোটামুটি পরিবর্তন আসছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের ডেঙ্গু স্মরণকালের ভয়াবহতা দেখিয়েছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বিষয়টি জাতীয়ভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সরকার। শুরুর দিকে সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জন্য এ সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব এখনো পাঠানো হয়নি। এবার শুধু উত্তর সিটির জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। ডিএসসিসি যদি এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয় তাদের বিষয়েও একই সিদ্ধান্ত হবে। উত্তর সিটি করপোরেশন যেহেতু কিনছে, দক্ষিণেও হয়তো কিনবে। মশা মারার এ কার্যক্রম বছরব্যাপী চলবে। শীত বেশি হলে এত মশা থাকবে না।

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তিনটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেগুলো কিছুটা পর্যালোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে তা করে পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ হাসিনা কি পারবে মোদিকে রুখে দিতে?


বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী আসাম রাজ্যে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের নাগরিকত্ব হারিয়েছে। তারা এখন থেকে আর আসাম রাজ্যের নাগরিক নন। তারা এখন রাষ্ট্রহীন। এই ১৯ লাখের মধ্যে ৮ লাখ মুসলমান আর বাকী ১১ লাখ হিন্দু।

ভারত সরকার গত দুই বছর ধরেই দাবি করে আসছে যে, আসামে অনুপ্রবেশকারী ৪০ লাখ বাংলাভাষী রয়েছে। তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ সহ কেন্দ্রীয় নেতারা প্রায় সময়ই হুমকি ধামকি দিচ্ছেন যে, অনুপ্রবেশকারীদেরকে ঝেটিয়ে ভারত থেকে বিদায় করা হবে। তাদেরকে খুঁজে বের করে বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

সর্বশেষ গত শনিবার তারা ১৯ লাখ লোককে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও আসামের অর্থমন্ত্রী হৈমন্ত বিশ্বশর্মা রোববার বলেছেন, ১৪ লাখ লোককে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

যদিও বাংলাদেশ সরকার ভারতের এই দাবিকে নাকচ করে বলেছে- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ থেকে কোনো নাগরিক ভারতে যায়নি। আসামে বাংলাদেশের কোনো লোক নেই। ভারত সরকার কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেবে না বলেও আশা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

জানা গেছে, আসামের এই নাগরিক তালিকা প্রকাশের মূল টার্গেট হলো মুসলমান। আসাম থেকে মুসলমানদেরকে বের করে দেয়ার জন্য লক্ষ্য নিয়েই নরেন্দ্র মোদি এই এনআরসি করেছে। এর প্রমাণ হলো-আসাম রাজ্যের বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মুসলমানরা তুলনামূলক কম বাদ পড়েছে। এতে করে চরম হতাশা প্রকাশ করেছে রাজ্যের বিজেপি নেতারা। আসামের বিজেপি সভাপতি রণজিৎ কুমার দাস বলেছেন-আমরা এই এনআরসির প্রতি আস্থা রাখতে পারছি না। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ও আসাম পাবলিক ওয়ার্ক নামের দুইটি সংগঠন। যাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এনআরসি করার নির্দেশ দিয়েছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

মোদি-অমিত শাহ’র মূল টার্গেট হলো এই এনআরসির মাধ্যমে ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা কমিয়ে আনা। তাই নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়াদের অধিকাংশকে বাংলাদেশে ঠেলা দেয়ার চেষ্টা করবে ভারত।

এখন প্রশ্ন হলো-ভারত যদি আসাম থেকে ৫ লাখ লোককেও বাংলাদেশে ঠেলে দেয় তাহলে শেখ হাসিনা কি তা ঠেকাতে পারবে? ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কি শেখ হাসিনার সরকার শক্তভাবে দাঁড়াতে পারবে? ভারত যদি জোর করে ঠেলে দেয় তাহলে বিজিবি কি সীমান্তে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে? এসব প্রশ্ন এখন রাজনীতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে।

তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত যদি জোর করে কয়েক লাখ লোককে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় তাহলে শেখ হাসিনার পক্ষে তা ঠেকানো সম্ভব হবে না। কারণ, ভারতকে ঠেকানোর মতো নৈতিক শক্তি শেখ হাসিনার নেই। ভারতই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে। অন্যথায় শেখ হাসিনা আরও আগেই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতেন। এখন ভারতের বিরুদ্ধে যাওয়া শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভব হবে না।

তাদের মতে, দেশের সংকটের চেয়ে শেখ হাসিনার কাছে এখন তার দল ও নিজের সংকট বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশ গোল্লায় যাক, তার দরকার এখন ক্ষমতা। কারণ, ক্ষমতা হাত ছাড়া হলেই এক কঠিন বিপদের মুখোমুখি হবেন তিনি। তাই, ক্ষমতার জন্য তিনি আসামের ১০ লাখ লোককে জায়গা দিতেও রাজি হবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হিন্দু নেত্রী প্রিয়া সাহার মিথ্যা নালিশের সাথে ভারতের এনআরসি প্রকাশের যোগসূত্র দেখছেন। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী আচরণ করার পরেও প্রিয়া সাহকে শেখ হাসিনার সরকার কিছুই করার ক্ষমতা রাখেনি। আর যেহেতু প্রিয়া সাহাকে শেখ হাসিনা কিছুই বলতে পারেনি, সেহেতু ভারত বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের মত আচরণ করলেও শেখ হাসিনা কিছুই করতে পারবে না। বরং দুর্বল ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে আসাম থেকে ঠেলে দেয়া ভারতীয় নাগরিকদের সাথে রোহিঙ্গাদের সাথে খাবার ভাগ করে খাওয়ার মত ঘোষণা দিলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here