শুধু সম্মানিতেই ব্যয় সাড়ে ৯ কোটি টাকা!

0
227

>> মেট্রোরেল প্রকল্পে আপ্যায়নে ব্যয় হচ্ছে ৫০ লাখ টাকা
>> অফিস ভাড়া ও সরঞ্জাম খাতে ব্যয় হচ্ছে ১১ কোটি ১৪ লাখ
>> গাড়ি কেনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি ব্যয় ১৯ কোটি ৭৮ লাখ

রাজধানী বাড্ডার একটি বহুতল ভবনের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন ৬০ বছরের বেশি বয়সী মো. ফারুক আলম। প্রতিদিন টানা ১২ ঘণ্টা কাজ করেন। বিনিময়ে পান মাসে সাড়ে আট হাজার টাকা। সাপ্তাহিক ছুটিও কাটান না তিনি, কাটালে সেই অনুপাতে বেতন থেকে কেটে নেয়া হয় টাকা।

পটুয়াখালীতে থাকা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ফারুক আলম তার বেতনের একটা অংশ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) হিসেবে সরকারকে দেন। এমন নানা প্রয়োজনে ফারুক আলমের মতো কোটি দেশবাসী সরকারকে ভ্যাট দিচ্ছেন। সেই ভ্যাট-ট্যাক্সের টাকায় দেশে হচ্ছে হাজার কোটি টাকায় নানা উন্নয়ন প্রকল্প। তার একটি মেট্রোরেল প্রকল্প।

মেট্রোরেলের অগ্রগতি পিছিয়েছে

‘ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এমআরটি লাইন- ৬)’ নামের প্রকল্পটি ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চলতি বছরের মে মাসে এ প্রকল্পের ওপর একটি নিবিড় পরীবিক্ষণ প্রতিবেদন তৈরি করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

আইএমইডির ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এ প্রকল্পে শুধু সম্মানিতেই খরচ হচ্ছে নয় কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পের প্রয়োজনে বিভিন্ন সভার আয়োজন করা হয়। সরকারি ও প্রকল্পে চাকরির সুবাদে বিভিন্ন সভায় স্বাভাবিকভাবেই অংশ নেয়ার কথা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এরপরও এ প্রকল্পের সভায় অংশ নেয়ার জন্য কর্মকর্তাদের সাড়ে নয় কোটি টাকা দেয়া হচ্ছে।

রাজধানীর বাড্ডায় নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করা ফারুক আলমের মতো এ দেশের লাখ লাখ মানুষের পরিশ্রমের টাকা এভাবে সম্মানি বাবদ খরচ হচ্ছে সরকারি ও প্রকল্পের কর্মকর্তাদের মাঝে। অথচ ফারুক আলম যে বেতন পান, তাতে তার পক্ষে সারা জীবন (৭২ বছর দেশের গড় আয়ু ধরে) কাজ করেও ৭৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকার বেশি উপার্জন সম্ভব নয়। মেট্রোরেল প্রকল্পে শুধু সম্মানি বাবদ যে টাকা খরচ হচ্ছে, তা ফারুক আলমের মতো প্রায় ১৩ জনের সারাজীবনের উপার্জনের সমান।

রেলের উন্নয়নে ‘মন নেই’ দাতাদের

যে দেশে সাধারণ এক মানুষের আয়ের এমন পরিস্থিতি, সেই দেশে মেট্রোরেল প্রকল্পে আপ্যায়নে ব্যয় হচ্ছে ৫০ লাখ টাকা! শুধু তা-ই নয়, এ প্রকল্পে স্টেশনারি, সাপ্লাইজ ও আনুষঙ্গিক খরচ দেড় কোটি টাকা। মুদ্রণ ও প্রকাশনা ব্যয় এক কোটি, বই ও জার্নালে ১০ লাখ এবং বিজ্ঞাপন ও প্রচারে খরচ করা হচ্ছে এক কোটি টাকা।

এছাড়া প্রশিক্ষণে এক কোটি এবং সেমিনার/কনফারেন্স/ওয়ার্কশপে খরচ করা হচ্ছে এক কোটি টাকা।

এ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ খরচ হচ্ছে ৭২ কোটি ৭১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। মেট্রোরেল প্রকল্পে অফিস ভাড়ায় খরচ হচ্ছে ১০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে অফিস সরঞ্জাম কিনতে খরচ হচ্ছে ৫৮ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

৫৮ লাখের বেশি খরচ হলেও আসবাবপত্র ও কম্পিউটার-সামগ্রী অফিস সরঞ্জামের বাইরে রাখা হয়েছে। আসবাবপত্র কিনতে খরচ হচ্ছে ৪২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কম্পিউটার এক্সেসরিজে ১২ লাখ, কম্পিউটার ও এক্সেসরিজে ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার, কম্পিউটার সফটওয়্যারে ১০ লাখ এবং কম্পিউটার ও ইকুইপমেন্ট রক্ষণাবেক্ষণে ১৪ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।

চার হাজার ৬৫০ বর্গমিটারের অফিসে এক লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরপরও অফিস রক্ষণাবেক্ষণে খরচ করা হচ্ছে ৫০ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন >> আসবাব কিনতে ও ফ্ল্যাটে ওঠাতেই সাড়ে ২৫ কোটি টাকা!

এ প্রকল্পে ১৪টি জিপ কিনতে নয় কোটি ৭৪ লাখ দুই হাজার এবং সাতটি পিক-আপ/মাইক্রোবাস কিনতে তিন কোটি ছয় লাখ টাকা খরচ করা হচ্ছে। এছাড়া যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণে এক কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এসব যানবাহনের জন্য সিএনজি/গ্যাস এবং পেট্রল ও লুব্রিকেন্টে (জ্বালানি) খরচ হচ্ছে পাঁচ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর মধ্যে সিএনজি/গ্যাসে ৯২ লাখ ১৬ হাজার এবং পেট্রল ও লুব্রিকেন্টে চার কোটি ৫৫ লাখ ৪ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’ – এমনই আরেকটি বড় প্রকল্প সরকারের। সেখানে দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। আইএমইডি বলছে, রূপপুর প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনায় ত্রুটিপূর্ণ ছিল।

মেট্রোরেল প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে ডিএমআরটিডিপির প্রকল্প পরিচালক মো. আফতাবউদ্দিন তালুকদারকে একাধিকবার ফোন দেয়া হয়। তবে তিনি কল রিসিভ করেননি।

প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে তো আপনার সঙ্গে কথা বলার দরকার নাই। এটা নিয়ে আমরা ব্র্যান্ডিং সেমিনার করেছি। সেখান থেকে আপনি সব তথ্য পেয়ে যাবেন।’

গণপূর্তের তদন্তে রূপপুরে অনিয়মের সত্যতা, ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ

আইএমইডি সম্প্রতি মেট্রোরেলের ওপর দেয়া প্রতিবেদনে ব্যয়ের হিসাব নিয়ে কথা বলতে চাইলে এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, ‘আইএমইডির প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি। যেহেতু আমি প্রতিবেদন দেখিনি, কাজেই আমি কথা বলব না।’

কোন খাতে কত খরচ

উপরে উল্লিখিত খাতগুলো ছাড়াও মেট্রোরেল প্রকল্পে আরও অনেক খাতে অর্থ খরচ হচ্ছে। এর মধ্যে ডাক মাশুল, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ এবং টেলেক্স/ফ্যাক্স/ইন্টারনেট খরচে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে দুই কোটি ১১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ডাক মাশুলে ১১ লাখ ৫২ হাজার, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগে এক কোটি দুই লাখ ২৪ হাজার, টেলেক্স/ফ্যাক্স/ইন্টারনেটে ৯৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা খরচ করা হচ্ছে। এর বাইরে টেলিফোন ইকুইপমেন্টে খরচ হচ্ছে ৯৩ হাজার টাকা।

এ প্রকল্পে শুধু পরামর্শ সেবায়ই খরচ হচ্ছে এক হাজার ২০৩ কোটি ৬৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে সাধারণ পরামর্শ সেবায় এক হাজার ১৬৩ কোটি ৭০ লাখ ৫২ হাজার, প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের পরামর্শক সেবায় ২৬ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার, পুনর্বাসন সহায়তায় ১০ কোটি ৬৬ লাখ ১৪ হাজার, টেকনিক্যাল কনসালটেন্টে দুই কোটি এবং নিরীক্ষার জন্য পরামর্শক সেবায় ৪৮ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।

বৈদেশিক ঋণের সুদ ছয় কোটি ৫৫ লাখ ৭৫ হাজার, ব্যাংক চার্জ ও এলসি কমিশন তিন কোটি এবং আইনের জন্য খরচ বরাদ্দ ১৯ কোটি ৬৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

ভূমি অধিগ্রহণে ৬০০ কোটি এবং রি-সেটেলমেন্টে (পুনর্বাসনে) ৫৪ কোটি ১০ লাখ ৬৭ হাজার টাকা খরচের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।

রোলিং স্টকস ও ইকুইপমেন্টে খরচ করা হচ্ছে দুই হাজার ৮৭০ কোটি ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

সবচেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে সিভিল ও মেইন লাইনে স্টেশন নির্মাণে। এর মধ্যে সিভিল ও মেইন লাইন স্টেশন নির্মাণে (সিপি-০৩ ও ০৪) চার হাজার ২৩০ কোটি ৫৫ লাখ ১৯ হাজার, সিভিল ও মেইন লাইনে স্টেশন নির্মাণে (সিপি-০৫) দুই হাজার ৫৪৯ কোটি ১১ লাখ ২০ হাজার, মেইন লাইন স্টেশন নির্মাণে (সিপি-০৬) এক হাজার ৫৯৫ কোটি ৫৬ লাখ ৯৯ হাজার, মেইন লাইন স্টেশন নির্মাণে (সিপি-০১) ৫৮০ কোটি ৬০ লাখ ৭৪ হাজার, মেইন লাইনে স্টেশন নির্মাণে (সিপি-০২) এক হাজার ৫৯৫ কোটি ৫৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

সম্মানিতে সংসার চলে, বেতন থাকে ব্যাংকে

ইএন্ডএম সিস্টেমে (সিপি-০৭) তিন হাজার ৭৪ কোটি ২৪ লাখ ২৩ হাজার, সিডি/ড্রাটে এক হাজার ৪৫২ কোটি ৮৫ লাখ ৪৯ হাজার, ইউটিলিটি স্থানান্তরে ৭৭১ কোটি, ফিজিক্যালি কন্টিনজেন্সিতে ৪২৩ কোটি আট লাখ ১২ হাজার এবং প্রাইস কন্টিনজেন্সিতে খরচ হচ্ছে ৪০৭ কোটি ৯২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

এসবের বাইরেও অন্যান্য খাতে খরচের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অগ্রগতি পিছিয়ে

ডিটিসিএ ২০০৯ সালে দুই ধাপে ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাডি (ডিএইচইউটিএস) শিরোনামে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। ডিএইচইউটিএসের আওতায় এমআরটি লাইন- ৬ (উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত) এবং এমআরটি লাইন- ৩ কে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়।

ডিএইচইউটিএস- ২ এর আওতায় ২০১১ সালে লাইন-৬ এর ওপর ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে ডিএমআরটিডিপি প্রকল্পে এমআরটি লাইন-৬ এর ডিপিপি ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর একনেকে অনুমোদিত হয়। এরপর ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই বরাদ্দ ঠিক রেখে প্রকল্পের আন্তঃখাত সমন্বয় করতে ডিপিপি সংশোধন করা হয়।

মূল ও সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী, ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি সাত লাখ ২১ হাজার টাকা খরচ হবে এ প্রকল্পে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে পাঁচ হাজার ৩৯০ কোটি ৪৮ লাখ এবং জাইকা দেবে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৯ লাখ ২১ হাজার টাকা। ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।

আইএমইডির নিবীড় পরীবিক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক আর্থিক অগ্রগতি ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি প্রায় ৩২ শতাংশ। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিডিপি) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১৪ দশমিক ৪২ শতাংশ পিছিয়ে আছে।

গ্যাস-লাইন নির্মাণ : আপ্যায়নে ৩৫, সম্মানিতে খরচ ৩৪ লাখ

এ সময়ে মোট অগ্রগতি ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ, টাকায় যার পরিমাণ ছয় হাজার ৩৫২ কোটি ২৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ছিল পাঁচ হাজার ৬৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, যা মোট প্রকল্পের ২৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা দুই হাজার ৪৮৮ কোটি ৮৩ লাখ নির্ধারিত ছিল, যার শতকরা হার ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নয় মাসে বাস্তবায়ন হার টাকার অঙ্কে এক হাজার ২৮৭ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার। শতকরা এ হার ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

উৎসঃ জাগোনিউজ২৪

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশের পরই সব দুধ খাটি!


সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ। এখানে যে সব কিছুই সম্ভব সেটা আবারও প্রমাণ করলেন সরকারের অনুগত বিচারপতিরা। দেশে উৎপাদিত পাস্তুরিত দুধ নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই সমস্যা চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক পরীক্ষা করে প্রমাণ করেছেন এসব দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক মাত্রায় ভারী ধাতু, সালফা ড্রাগ ও অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব আছে। তার এই পরীক্ষাকে যাছাই করার জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিলেন আদালত। তারা যাছাই করে দুধে এসব ক্ষতিকর উপাদান পেয়েছে। আদালতে তারা গত সোমবার এনিয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

এরপর আদালত ১৪টি কোম্পানিকে দুধ উৎপাদন করতে নিষেধ করেছেন। এছাড়া উৎপাদিত দুধ বিক্রি বন্ধ করতেও আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার পরই তেলেবেগুনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন শেখ হাসিনা। লন্ডনে বসে তিনি বললেন-কোথা থেকে এক প্রফেসর এসে এসব পরীক্ষা করেছে? ফারুক আহমেদের এই পরীক্ষার সঙ্গে দুধ আমাদানী কারকদের কারসাজি আছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করলেন শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশ করার পরই বুধবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) পুষ্টি ইউনিটের করা পরীক্ষার বরাত দিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বললেন-এসব পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত তরল দুধ খেলে কোনো ক্ষতি নেই। সম্প্রতি দুধের মধ্যে ভারী ক্ষতিকর ধাতুর অস্তিত্বের যে খবর ছড়িয়েছে, তা সত্য নয়। তাই তরল দুধ খাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের এই রিপোর্ট হাইকোর্ট বিবেচনায় নেবেন বলেও তিনি তখন আশা প্রকাশ করেন।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের আশা প্রকাশের এক ঘণ্টা পরই চেম্বার আদালত আদেশ দিলেন যে, ১৪টি কোম্পানির দুধে ক্ষতিকর কিছু নেই। এই দুধ উৎপাদন ও বিক্রি চলবে।

আদালতের এই আদেশের পর মানুষ বিস্ময় প্রকাশ করছেন। আগের দিন যেখানে হাইকোর্ট বলেছে দুধে ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। এই দুধ উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। সেখানে একদিন পরই এসব দুধ কি করে খাটি হয়ে গেল?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ হাসিনার ক্ষোভকে প্রশমন করতেই চেম্বার আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। চেম্বার বিচারপতিরা দুধ কোনো পরীক্ষা করেননি। শুধু সরকারকে খুশী রাখতেই তারা এই আদেশ দিয়েছেন। পদ ধরে রাখার জন্য এই মুহূর্তে জাতির বৃহত্তর স্বার্থের চেয়ে সরকারের স্বার্থ রক্ষা করাই এখন তাদের মূল কাজ। সেটাই তারা করেছেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ভারতে মুসলিমদের পিটিয়ে মারা বন্ধের দাবি জানানো ৪৯ বুদ্ধিজীবীর নামে মামলা


ভারতে জয় শ্রীরাম কিংবা জয় হনুমান স্লোগান না দেয়ার অজুহাতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের পিটিয়ে মারার ঘটনা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক, অভিনেতা, লেখক, সাহিত্যিক, সমাজসেবী, চিকিৎসক, পরিবেশবিদ, ভাস্কর, চিত্রকর, শিক্ষাবিদ, গায়কসহ বিভিন্ন পেশার ৪৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। খবর ভারতীয় দৈনিক এই সময়ের।

চিঠিতে স্বাক্ষর দেয়া ও প্রতিবাদ করার অপরাধে এবার উল্টো তাদের নামে বিহারের মুজাফফরপুর আদালতে মামলা করা হয়েছে।

ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘা* ও রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ কয়েকটি ধারায় যাতে এই ৪৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বুদ্ধিজীবীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার আর্জি রয়েছে পিটিশনে। এ পিটিশনে সাক্ষী করা হয়েছে কঙ্গনা রানাওয়াত, মধুর ভাণ্ডারকর, বিজয় অগ্নিহোত্রীদের।

ভারতের ১৭তম লোকসভার নির্বাচনে বিজেপির জয়লাভের পর দেশজুড়ে অসহিষ্ণুতার মুসলিমদের মারার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছিলেন ৪৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বুদ্ধিজীবী।

সে তালিকায় ছিলেন- আদুর গোপালকৃষ্ণন, গৌতম ঘোষ, শ্যাম বেনেগালের মতো খ্যাতিমান চলচ্চিত্র পরিচালকের পাশাপাশি কলকাতার নামকরা অভিনয়শিল্পী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, কৌশিক সেনসহ চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্টজনরা।

বিহার আদালতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘা*, রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ কয়েকটি ধারার কথা উল্লেখ করে একটি পিটিশন দাখিল করেছেন এক আইনজীবী।

বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্টজনদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রুজু করা হয়। পিটিশনে সাক্ষী করা হয়েছে কঙ্গনা রানাওয়াত, মধুর ভাণ্ডারকর, বিজয় অগ্নিহোত্রীদের।

কেননা এদের মধ্যে ৬১ জন মিলে মোদির সমর্থনে পাল্টা চিঠি লিখেছিলেন তারা। অভিযোগে বলা হয়, ৪৯ জনের ওই চিঠিতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। নরেন্দ্র মোদির কাজকেও ছোট করা হয়েছে।

বিহারের আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলার শুনানির জন্য আগামী ৩ আগস্ট দিন ধার্য হয়েছে।

উল্লেখ্য, মোদিকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে গোমাংস খাওয়া নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে, জয় শ্রীরাম না বলায় পেটানো হচ্ছে। এমনকি মুসলিমদের পিটিয়ে মারা হচ্ছে। এটি বন্ধ হওয়া উচিত।

অপর্ণা সেন সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলেন, কেন অন্য ধর্মের মানুষকে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলানো হচ্ছে? আমি একজন হিন্দু। আমাকে যদি জোর করে এখন আল্লাহু আকবর বলতে বাধ্য করা হয়, তা হলে কি আমার ভালো লাগবে?

মোদিকে দেয়া চিঠিতে তারা আরও বলেন, ‘জয় শ্রীরাম এখন এক যুদ্ধের হুঙ্কা*। এ স্লোগান ঘিরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে। সবচেয়ে আ*ঙ্কের বিষয় হলো- এই উন্মদনা হচ্ছে ধর্মের নামে। এটি তো মধ্যযুগ নয়। রামের নামে এই উন্মাদনা আপনি অবিলম্বে বন্ধ করুন।’

ওই চিঠিতে নিজেদের শান্তিকামী ও গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ উল্লেখ করে গণপি*নি ও ধর্মের নামে চলমান উন্মাদনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর অত্যা*র ও গণপি*নির জন্য তারা কেন্দ্র সরকারকে দায়ী করেছেন। চিঠির শুরুতেই এ বিশিষ্টজনরা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ষড়*ন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে? আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের পাশাপাশি দ্রুত ও নিশ্চিতভাবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি।

চিঠিতে তারা মোদিকে এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ‘ভারত ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমানাধিকার। সংবিধানই সেই অধিকার দিয়েছে।’

উৎসঃ jamuna tv news

আরও পড়ুনঃ ইয়াবার কারবার ঘিরে আওয়ামী লীগের এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম

সাগর ঘেঁষা অনুন্নত বরগুনা জেলা শহর দেশের মাদক তথা ইয়াবা চোরাচালান বাণিজ্যের প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। রীতিমতো মাদকে সয়লাব বরগুনা শহর। মাদকের কারবার লাভজনক হওয়ায় কেবল এ ব্যবসা করেই গাড়ি-বাড়ির মালিক হওয়ার উদাহরণও অনেক।

আর এ মাদক ‘বাণিজ্যের’ সঙ্গেও জড়িয়ে আছে বরগুনা সদর আসনের এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথের নাম।

জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুনাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, আমার এমপি পিতার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই একটি মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।

২০১৫ সালের একটি ঘটনাই মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে বোঝার জন্য যথেষ্ট। বরগুনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ আহম্মেদ হঠাৎ একদিন স্কুল চলার সময় বন্ধ করে দিলেন প্রধান গেট।

সীমানা দেয়াল ঘেরা স্কুলের মহিলা শিক্ষকরা ছাত্রীদের দেহ তল্লাশি করে ১৪ জনের কাছ থেকে উদ্ধার করেন ইয়াবা-গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদক দ্রব্য। ওই ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কথা হয় ওই স্কুলের একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে।

তারা যুগান্তরকে বলেন, ‘বাচ্চাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তখন আমরা বাড়াবাড়ি করিনি। তবে ছাত্রীদের সাবধান করার পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরও জানিয়েছি।’

শহরের সংবাদকর্মী এবং আইনজীবী সোহেল হাফিজ বলেন, শান্ত বরগুনার ভেতরটা দারুণভাবে ক্ষয়ে গেছে মাদকের ভয়াবহতায়। তরুণদের বড় অংশই এখন মাদকসেবী।রিফাত ঘটনার নেপথ্যেও মাদকের অভিযোগ। ওই মামলার ১২ আসামির মধ্যে ৭ জনের বিরুদ্ধেই মাদকের অভিযোগ।

নিহত রিফাত একবার গ্রেফতার হয়েছিল মাদকসহ। নিহত নয়ন বন্ডও ছিল কুখ্যা* মাদক ব্যবসায়ী। ‘শর্টকাট’ অর্থ উপার্জনের সহজ উপায় হয়ে উঠেছে মাদক। আর এই মাদকের বলি হচ্ছে কিশোর-কিশোরীরা।

বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি চিত্তরঞ্জন বলেন, ‘তাকালেই দেখা যায় মাদকের ভয়া*হতা। রিফাত ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা এবং প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসানোয় সম্প্রতি মাদকের ভয়াবহতা কিছুটা কমলেও গত ১০-১১ বছরে যে ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে।’

ইয়াবা চালানের নতুন রুট : নাফ নদী দিয়ে দেশে ঢুকছিল ইয়াবার বড় বড় চালান। নানান কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় বিকল্প হিসেবে এখন বেছে নেয়া হয়েছে শান্ত বরগুনা শহরকে। শহরের কাছেই সাগরপাড়ের দুই উপজেলা তালতলী এবং পাথরঘাটা।

তালতলীর সমুদ্র সৈকত শুভসন্ধ্যা সংলগ্ন অগভীর সমুদ্রে ‘দ্বীপচর’, ‘টেংরাগীরি সৈকত’ এবং পাথরঘাটার ‘বলেশ্বর মোহনা’ হয়ে ঢুকছে ইয়াবার চালান। এই পথে যারা ইয়াবা আনছে তাদের নামও সবার মুখে মুখে। তালতলীর মালেক কোম্পানির নাম সবার জানা।

উপজেলার নির্বাচিত এক জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘পথের লোক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক এই মালেক এখন আওয়ামী লীগ নেতা। বাড়ি-গাড়ির পাশাপাশি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রও আছে তার। মাছের কারবারি হলেও মালেকের আয়ের প্রধান উৎস সবার জানা।’

কথা বলার জন্য মালেক কোম্পানিকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও ধরেননি। পাথরঘাটায় মাদক কারবারি হিসেবে যার নাম আলোচনায় তিনি হলেন সেখানকার পৌর কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল। পাথরঘাটার মুকুটবিহীন সম্রাটও বলা হয় তাকে।

পৌরশহরে তার অফিসে ঢুকতে হলে একাধিক গেট পেরুতে হয়। রয়েছে সিসি ক্যামেরাও। সোহেলের বিরুদ্ধে রয়েছে ধর্ষণ ও মাদকের মামলা।

পাথরঘাটার একাধিক জেলে যুগান্তরকে বলেন, ‘কক্সবাজারের কিছু রহস্যজনক ট্রলার প্রায়ই আসে বরগুনা উপকূলে। নদীর মোহনা সংলগ্ন এলাকায় এসব ট্রলারের কাছে ভেড়ে স্থানীয় ট্রলার। মাছের এসব ট্রলারেই আসা ইয়াবার চালানের কিছু অংশ বরগুনায় বাকিটা যায় সড়ক ও নৌপথে সারা দেশে।’

গত এপ্রিলে বরগুনা-ঢাকা রুটের লঞ্চ এমভি সপ্তবর্ণা-১ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ৮ লাখ ইয়াবাসহ তুহিন, সবুজ এবং শাহজাহান নামে তিনজনকে আটক করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে তারা কিছুদিন পরপরই এভাবে ইয়াবার বড় বড় চালান বরগুনা থেকে ঢাকায় পাঠানোর কথা স্বীকার করে।

এ নিয়ে পৌর কাউন্সিলর সোহেল বলেন, ‘এসবই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ। এগুলো অপপ্রচার।’

সুনামকে ঘিরে ইয়াবা বাণিজ্য : বরগুনা শহরে কান পাতলেই ভেসে আসে মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথের নাম। অনেক মাদক কারবারির সঙ্গেই সুনামের ওঠা-বসার চিত্র পাওয়া যায়। রিফাত ঘটনার মূল আসামি নিহত নয়ন বন্ডও ছিল সুনামের লোক। সুনামের চাচাতো শ্যালক অভিজিত তালুকদারের সঙ্গেও নয়নের যাতায়াত ছিল সুনামের অফিস-বাসায়।

২০১৭ সালের শেষদিকে বিপুল মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় নয়ন। ওই একই রাতে পুলিশ অভিযান চালায় কলেজ রোডে সুনাম দেবনাথের প্রতিষ্ঠান সুনাম দেবনাথ ব্লাড ফাউন্ডেশনের অফিসে। পুলিশ যখন ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল তখন পেছন দিয়ে পালিয়ে যায় দুই-তিনজন।

বলাবলি হচ্ছে- ‘ওই অফিসে যদি অপরাধ কর্মকাণ্ড নাই-ই ঘটবে তাহলে কেন তাদের পালিয়ে যেতে হল?’ তারপর বন্ধ হয়ে যায় সুনাম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম। জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘রিফাত ঘটনার পর সুনামই গণমাধ্যমে বলেছেন, রিফাত তাদের কর্মী ছিল।’

রিফাতকে অনেক ভালোবাসত। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই রিফাতও মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিল। রিফাত ঘটনার পর আলোচনায় আসে নয়ন বন্ডের ‘০০৭ গ্রুপ’ ও ‘টিম সিক্সটি’ নামের দুটি গ্রুপ। টিম সিক্সটির প্রধান হচ্ছে মঞ্জুরুল আলম জন। জনের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদকের পাইকারি বাণিজ্যের অভিযোগ।

জনের বাবা রইসুল আলম রিপন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এই নয়ন ও জনের সঙ্গে সুনামের অনেক ঘনিষ্ঠ ছবি রয়েছে। এভাবে দুয়ে-দুয়ে চার মেলালেও মেলে মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে সুনামের যোগসাজশ।

সুনামের চাচাতো শ্যালক শাওনের বিরুদ্ধেও রয়েছে মাদক নিয়ে বিস্তর অভিযোগ। তবে কোনো মামলা না থাকায় শাওনকে ক্লিন ইমেজের মাদক ব্যবসায়ীও বলেন অনেকে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ছাড়া শাওনের আয়ের উৎস সম্পর্কে আর কিছু জানা না থাকলেও শাওন অনেক বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। বলাবলি হচ্ছে- শাওন তালুকদারই সুনামের হয়ে দেখভাল করে মাদকের কারবার।

তবে মাদকের মামলা আছে শাওনের চাচাতো ভাই অভি এবং ফুফাতো ভাই তুষারের নামে। তুষার জেলও খেটেছে। বরগুনায় একটি কথা চালু আছে- শাওনের শরীরে কাদা লাগতে দেননি সুনামই। বরগুনার মাদক রাজত্বে আরেক জনের নাম আলোচনা রয়েছে।

তিনি হচ্ছেন সুনামের আপন খালু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের ভাইয়ের ছেলে সুমন। ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ে জেলও খেটেছেন। সুনামের আরেক ঘনিষ্ঠ অভিজিৎ তালুকদারের বিরুদ্ধেও রয়েছে মাদকের একাধিক মামলা।

বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আদনান হোসেন অনিক বলেন, ‘সুনামের মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে গত বছর সংবাদ সম্মেলন করেছি আমরা কিন্তু তারপরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থাকা মানুষটি যখন অপরাধে যুক্ত হয় তখন পুলিশের চুপ করে দেখা ছাড়া আর কিছুই করা থাকে না।’

ওরা আমার রাজনীতি ধ্বংস করতে চায়-সুনাম : সুনাম দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, রাজনীতি করি, বহু মানুষের সঙ্গেই ছবি আছে। তার মানে কি এই যে, তারা চোর হলে আমিও চোর? খবরের কাগজগুলোতে আমার সম্পর্কে যেসব লেখা হচ্ছে তা দেখছি প্রতিদিন। আমার বিষয়ে লেখা হচ্ছে- ‘জানা গেছে’, ‘শোনা গেছে’, ‘একটি সূত্র বলেছে’ এসব। আরে ভাই সূত্রটা কে, তা লিখুন। সাংবাদিকতা তো এখন অনেকদূর এগিয়েছে।

তাহলে জানা গেছে, শোনা গেছে কেন? আমার কোন ভবনে পুলিশি তল্লাশি হয়নি। অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ লিখুন। সঠিক প্রমাণ দিতে পারলে আমি নিজেই পুলিশের কাছে ধরা দেব। সবাই জানে যে আমার বাবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আছে। তারা আমাদের রাজনীতি ধ্বংস করতে চায়। তারাই এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। বারবার বলা হচ্ছে কতিপয় ছাত্রলীগ নেতার সংবাদ সম্মেলনের কথা।

ওই সম্মেলনেও কি এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কেউ দিতে পেরেছে যে, আমি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত? সংবাদপত্রের মতো একটি মহান প্রতিষ্ঠান সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করবে বলে আমি আশা করি।

মাদকের অভিযোগ নিয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হাসান বলেন, ‘যেভাবে মাদকের বিস্তারের কথা বলা হচ্ছে পরিস্থিতি আসলে ততটা ভয়াবহ নয়। তাছাড়া আমরাও প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছি। ২০১৮ সালে ৬৯৪টি মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৮২৫ জন। ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ১১ হাজারের বেশি। মাদক প্রতিরোধে প্রতিনিয়তই কাজ করছি আমরা। আর এক্ষেত্রে কোনো মহলের তদবির বা পুলিশের ওপর প্রভাব বিস্তারেরও কোনো ঘটনা নেই।’

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ একমাসে ডেঙ্গু রোগী ১৫ হাজার, অতিরিক্ত রোগীতে কাহিল ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা


চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছেন ডেঙ্গু রোগী। ১৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বুধবার তোলা

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে। অন্যান্য রোগীর পাশাপাশি ডেঙ্গু আ*ন্তদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এতই বেশি যে, রোগীদের সুস্থ করতে মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম করায় অনেক চিকিৎসক, নার্স ইতিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু আ*ন্তদের চাপ এভাবে আরও এক মাস চলমান থাকলে বিদ্যমান লোকবল দিয়ে রোগীদের সেবা দেয়া এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে, এমনকি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলেও বিশেষজ্ঞদের।

মঙ্গলবার ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যুর পর বুধবারও ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আ*ন্তদের মধ্যে পুলিশের এক এসআই রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী ইতিমধ্যে দেশের ৬৩ জেলাতেই ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৭৭ জন। এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে জুলাই মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ৯৯৬ জন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ায় এবং দেশের বেশিরভাগ এলাকা বন্যাকবলিত হওয়ায় জেলা-উপজেলা পর্যায় থেকে চিকিৎসক আনা এ সময়ে সম্ভব নয়। আসন্ন ঈদুল আজহায় দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে ব্যাপক ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের মূল সময় এখনও প্রায় এক মাস বাকি। যতবারই বাংলাদেশে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে ততবারই তা ছিল আগস্ট থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

এ সময়ে ডেঙ্গু আ*ন্ত এবং মৃত্যু দুই-ই বাড়ে। সামগ্রিক বিবেচনায় রাজধানীসহ সারা দেশের মেডিকেল কলেজগুলোর বেসিক সায়েন্স বিভাগের শিক্ষকদের চিকিৎসায় যুক্ত করার প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিকিৎসা ব্যবস্থাপকরা।

পাশাপাশি যেখানে রোগীর চাপ বেশি সেখানে ইন্টার্ন চিকিৎসক (শিক্ষানবিশ) অনারারি (প্রশিক্ষণার্থী) চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানোর পরামর্শ তাদের।

এদিকে রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের বারান্দায়ও রোগীদের ঠাঁই মিলছে না। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নেই কোনো ফাঁকা শয্যা।

সরেজমিন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রথম ও ২য় তলায় ১, ৩, ৪ ও ৭নং ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হলেও ক্রমাগত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় এখন ৬নং ও ১১নং ওয়ার্ডেও এসব রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এসব ওয়ার্ডের মেঝেতে এমনকি বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। সেখানে নেই পর্যাপ্ত আলো-বাতাস। গরমে টিকে থাকা দায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবস্থা আরও ভয়া*হ। সেখানে লিফটের সামনে, সিঁড়ির উপরে ও নিচেও রোগীদের গাদাগাদি।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জোহায়ের যুগান্তরকে জানান, রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে গিয়ে জ্বর নিয়ে তাকে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। রিপোর্ট আনতে গিয়েও একই অবস্থা।

এটি বর্তমানে একটি বা দুটি হাসপাতালের চিত্র নয়। ঢাকার সব সরকারি হাসপাতালের একই চিত্র। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর অত্যধিক চাপ বিদ্যমান। রোগীর চাপ সামলাতে ইতিমধ্যে অনেক চিকিৎসক এবং নার্স অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের মহাসচিব ইকবাল হোসেন সবুজ যুগান্তরকে জানান, অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে ইতিমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধিকাংশ নার্স ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। মুগদার ২০ জন নার্সকে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। অন্যান্য হাসপাতালেও একই অবস্থা। এভাবে বিরামহীন কাজ করতে হলে কয়েক দিনের মধ্যেই নার্সদের অনেকের পক্ষে রোগীর সেবা দেয়া সম্ভব হবে না। তিনি রাজধানীর ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় আরও বেশি সংখ্যক নার্স সংযুক্তির দাবি জানান।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, অধিক পরিশ্রম করায় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা ইতিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, দিনরাত ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে অনেক চিকিৎসক এখন অসুস্থ। এমনকি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিক রাখতে তাকেও দিনরাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম বাকি এখনও প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস। এভাবে ক্লান্তিহীন চিকিৎসা দিলে হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। তাই আগামী দিনগুলোতে রোগীদের সেবা নিশ্চিতে তিনি মেডিকেল কলেজের বেসিক সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক, অনারারি চিকিৎসক এবং ইন্টার্নদের কাজে লাগানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এমনকি ইতিমধ্যে তিনি কলেজের অধ্যক্ষকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন বলেও জানান।

পুরো মৌসুমে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. আমিনুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে নানা ধরনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। দ্রুতই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে রি-এজেন্টের অভাবে সোমবার ডেঙ্গু শনাক্তকরণে এনএস-১ টেস্ট বন্ধ ছিল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত বৃহস্পতিবারে একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালেও এ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

হাসপাতালগুলোতে বিনা মূল্যে পরীক্ষার সুযোগে অনেকে কৌতূহলী হয়ে রক্ত পরীক্ষা করছেন। ফলে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে রি-এজেন্টের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই আ*ন্ত মানুষ ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে গিয়ে ফিরে আসছেন।

অথবা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন। একসঙ্গে অনেক বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি ও পরীক্ষার কারণে রি-এজেন্টের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমরা বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, কিট এবং রি-এজেন্টের ঘাটতি মেটানো হয়েছে। তবে স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি স্যালাইন ক্রয়ের অনুমতি দেয়ায় দ্রুত এ সং*ট মেটানো সম্ভব হবে।

কিটের অভাবের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, এ সমস্যা ইতিমধ্যে বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে এক লাখ এনএসওয়ান (ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা) কিট কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

চারজনের মৃত্যু : বুধবার ডেঙ্গুতে আ*ন্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) কোহিনুর আক্তার মারা গেছেন।

বুধবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশলাইনস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ সদর দফতরের একটি সূত্র এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার ২০ মাস বয়সী একটি সন্তান আছে। ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে বুধবার দুপুরে এক ডেঙ্গু রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আবদুর রহমান খান জানান, রবিউল ইসলাম রাব্বি নামের ২২ বছর বয়সী ওই যুবকের বাসা মিরপুর শেওড়া পাড়ায়। এ ছাড়া গৌরনদীতে ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে আলেয়া বেগম (৫৫), শরীয়তপুরের জাজিরার বর্ষা আক্তার (২৬) নামের এক স্কুল শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক আয়েশা আক্তার জানান, গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ১৮৩ জন ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে জুলাই মাসেই ১৪ হাজার ৯৯৬ জন। এ সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২ হাজার ২৬৬ জন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪ হাজার ৯০৩ জন। ঢাকার বাইরে আরও ৬৩ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে।

এসব জেলায় ১৪২৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫০ ছাড়িয়ে গেছে। রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্যানুযায়ী চলতি বছর ডেঙ্গুজ্বরে আ*ন্ত নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে ১৫-২৫ বছর বয়সী রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নারীদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ৫-১৫ বছর বয়সীরা। আর পুরুষের ক্ষেত্রে ২৫-৩৫ বছর বয়সীরা।

বিনা মূল্যে প্লাটিলেট সংগ্রহ : ঢাকার চারটি বিশেষায়িত হাসপাতাল ডেঙ্গুজ্বরে আ*ন্তদের জন্য বিনা মূল্যে রক্ত থেকে প্লাটিলেট সংগ্রহ করে দেবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা এ তথ্য জানান। সারা দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা জানাতে বুধবার সকালে অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

এগুলো হল : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট। অধ্যাপক সানিয়া জানান, রোগীরা নিজেরা বা সন্ধানীর মতো রক্ত পরিসঞ্চালনে সহায়তায় ডোনার নিয়ে এসব হাসপাতালে গেলে তারা বিনা মূল্যে রক্তের প্লাটিলেট আলাদা করে দেবে। রক্ত থেকে প্লাটিলেট আলাদা করতে যেন একটা নির্ধারিত মূল্য ধরা হয় সে বিষয়েও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষায় যেন কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে এক লাখ এনএসওয়ান (ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা) কিট কিনবে সরকার। আজ রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, তাদের হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের ডেথ রিভিউ কমিটির ডেঙ্গু রোগে মৃত্যুবরণকারীদের সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করতে কিছুটা সময় লাগে। মৃতের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ করতে দেরি হয়।

এদিকে স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসছেন। বুধবার রাতে তিনি দেশে ফিরছেন। বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আজ বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন।

ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) : কালীগঞ্জে ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে আবদুর রহমান নামে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার রেনেসাঁ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। নিহত আবদুর রহমান কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইস গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মো. আরিফ হোসেনের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার শিশু আবদুর রহমান জ্বরে আ*ন্ত হলে চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোববার চিকিৎসক তাকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে পাঠান। ওই দিনই তাকে সেখান থেকে ঢাকা রেনেসাঁ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এ হাসপাতালে দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সে মারা যায়।

গৌরনদী : বরিশালের গৌরনদীতে ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে আলেয়া বেগম (৫৫) নামের এক গৃহিণীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গৌরনদী পৌরসভার আশোকাঠি এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

স্বজনদের বরাত দিয়ে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহাবুব আলম মির্জা জানান, পৌরসভার আশোকাঠি এলাকার আ. মন্নান ফকিরের স্ত্রী আলেয়া বেগম ঢাকায় বেড়াতে গিয়ে ডেঙ্গু জীবাণু তার শরীরে বহন করে বৃহস্পতিবার নিজবাড়িতে ফিরে আসেন। ওইদিন রাতে প্রচন্ত জ্বর অনুভাব করলে শুক্রবার সকালে তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন।

সকালে গৌরনদী বন্দরে এক ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে যান। তখন ওই ডাক্তার আলেয়াকে রক্ত পরীক্ষা করতে বলেন। এতে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তাকে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন ওই ডাক্তার। অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়।

চাঁদপুর : ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীদের চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে হাসপাতাল চত্বরে থাকা ফার্মেসি থেকে। স্যালাইন হাসপাতালে আছে কি না, তা কেউ জানতে চাইলে দায়িত্বরত নার্সরা বলছেন সরবরাহ নেই।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেল, ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। পুরুষ ওয়ার্ড, মহিলা ওয়ার্ড, কেবিন ছাড়িয়ে ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের বারান্দা এবং ওয়ার্ডের ফ্লোরে। চাঁদপুর সদরের বহরিয়া থেকে আসা রোগী নাহিদ বলেন, পাঁচ দিন হল আমি সদর হাসপাতালে ভর্তি। এই ক’দিনে ৫টি স্যালাইন বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনেছি।

হাসপাতাল থেকে শুধু দেয়া হয়েছে প্যারাসিটামল আর গ্যাস্ট্রিকের টেবলেট। এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুল আজিম বলেন, স্যালাইনের সাপ্লাই নেই, এটি ভুল।

ডেঙ্গু আ*ন্তদের জন্য স্যালাইন ছিল না, তবে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে এটি রোগীদের সরবরাহ করছি। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে জুলাইয়ে ৯০ জন ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগী চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন।

নরসিংদী : দুই দিনে শুধু সরকারি হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন ২০ জন ডেঙ্গু রাগী। তবে সরকারি সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, নেই রক্তের সেল কাউন্টার মেশিন। তাই রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোয় ছুটতে হচ্ছে।

নরসিংদী সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সৈয়দ আমিরুল হক শামীম বলেন, আমাদের হাসপাতালে রক্তের সেল কাউন্টার মেশিন নেই। আমরা দরিদ্র রোগীদের মাইক্রোস্কোপ দিয়ে সেল কাউন্টার করে দিচ্ছি।

নওগাঁ : ১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আটজন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি তিনজনের অবস্থা আশ*জনক হওয়ায় তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নওগাঁর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রওশন আরা খানম বলেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কোনো যন্ত্র ছিল না। ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এরই মধ্যে ‘এনএস-১ ডিভাইস’ হাসপাতালে আনা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ : বুধবার সকাল থেকে দুপুর নাগাদ আরও ৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সবমিলিয়ে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৩৫ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এর আগে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। জেলা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল আওয়াল বলেন, আগে থেকে হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কোনো প্যাথলজিক্যাল কিট ও রিএজেন্ট ছিল না। ডেঙ্গু রোগী আসা শুরু করলে প্রথম পর্যায়ে জেলা গ্রশাসকের বিশেষ অনুদানে কিছু কিট ও রিএজেন্ট কেনা হয়। এক সপ্তাহের পরীক্ষায় সেগুলো শেষ হয়ে গেছে। চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। এখনও প্রয়োজনীয় কিট ও রিএজেন্ট আসেনি। তবে খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে।

রংপুর : রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কোনো যন্ত্রপাতি রিএজেন্ট নেই। চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে অনুমাননির্ভর। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগী।

২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৮ জন রমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক চিকিৎসক দেবেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ডেঙ্গু শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

নওগাঁ ও নিয়ামতপুর : নওগাঁ সদর হাসপাতালে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আটজন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। বাঁকি তিনজনের অবস্থা আশ*জনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে হাসপাতলে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিডস না থাকায় আত*র মধ্যে আছেন জেলাবাসী। দ্রুত ডেঙ্গু চিকিৎসার সরঞ্জাম হাসপাতালে আনার দাবি সচেতনদের।

গাজীপুর : ডেঙ্গুর পর এবার ডায়রিয়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আ*ন্ত ১৬০ জন রোগী এবং গত দুই দিনে ৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিছানা সংকট দেখা দিয়েছে। তাই অনেক রোগী মেঝেতে, বারান্দায় বিছানা পেতে অবস্থান নিয়েছেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকরাও হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলমের একান্ত সচিব ও জনসংযোগ কর্মকর্তা (প্রেষণে) ড. সেলিম শেখ ডেঙ্গু রোগে আ*ন্ত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম ও হাটহাজারী : গায়ে জ্বর জ্বর ভাব হওয়ায় দেরি না করে রক্ত পরীক্ষা করান ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ মেহরাজ আক্তার (২২)। বুধবার সকালে রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে জানা যায়, তিনি ডেঙ্গু আ*ন্ত। দেরি না করে দ্রুত চমেক হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

বুধবার দুপুরে নগরীর আকবরশাহ থানাধীন বিশ্বকলোনির বাসিন্দা মেহরাজকে তার অভিভাবকরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভর্তি দেয়া হয় মেডিসিন বিভাগের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডেঙ্গু কর্ণারে।

বর্তমানে তিনি ওই ওয়ার্ডের ৫৫ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। গর্ভবতী মেহরাজসহ ডেঙ্গু কর্নারে রয়েছেন আরও ২২ জন রোগী। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলা থেকে আশা রোগীরাও চিকিৎসাধীন।

চমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বুধবার চমেক হাসপাতালে নতুন ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এসব রোগী ভর্তি হয়।

বগুড়া : কয়েকদিনে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ১০২ ডেঙ্গু আ*ন্ত চিকিৎসা নেন। তাদের অধিকাংশই ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জীবাণু বহন করে আনেন। বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ৬ নারীসহ ৪৮ জন ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ৪৮ জন বাড়ি ফিরে গেছেন। ৬ জন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা গেছেন।

এদিকে বুধবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু ডেঙ্গু বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : ডেঙ্গুতে আ*ন্ত হয়েছেন জেলা (গ) সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আফসার উদ্দিন। তিনি ধানমণ্ডির গ্রিনরোড সেন্ট্রাল হাসপাতালে ৭ দিন চিকিৎসা নেন। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকরা তাকে রিলিজ দিয়েছেন।

বাগেরহাট : বুধবার সকাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আ*ন্ত হয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ৮ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে ১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৭ জনের মধ্যে ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়।

অন্য ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আ*ন্তরা সবাই ঢাকাফেরত বলে স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করেছে।

বরিশাল : বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আ*ন্ত ৫০ জন রোগী চিকিৎসাধীন। যার মধ্যে ৩ জন শিশু, ৩৪ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। বুধবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৪ ঘণ্টায় শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী। হাসপাতালে এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ১০১ জন রোগী। যাদের মধ্যে বাড়ি ফিরে গেছেন ৫১ জন।

খাগড়াছড়ি : ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৭ জন। এর মধ্যে ৪ জন নারী, ৩ জন পুরুষ। এ নিয়ে জেলায় ডেঙ্গু আ*ন্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১১ জনে। তবে আক্রান্তদের সবাই ঢাকায় বসবাস করতেন।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আরও তিনজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮ জনে। এরা সবাই ঢাকায় আক্রান্ত হয়ে কুড়িগ্রামে এসে ভর্তি হন।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নিজামুল হাসান জানান, মঙ্গলবার একজন এবং বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত চার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। তারা প্রত্যেকেই দু-একদিনের মধ্যে ঢাকা থেকে নেত্রকোনায় এসেছেন।

মেহেরপুর : ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়ে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল ও গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার দুইজন এবং বাকিরা বুধবার সকালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা ও সচেতনতায় জরুরি মতবিনিময় সভা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিলেট : সিলেটে ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীর সংখ্যা ৯২ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২০ জন। বাকিরা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নুরে আলম শামীম।

মৌলভীবাজার : বুধবার বিকাল পর্যন্ত মৌলভীবাজারে ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে। তারা ঢাকা থেকে এ রোগে আ*ন্ত হয়ে এসেছেন। তবে একজন স্থানীয়ভাবে আ*ন্ত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা।

রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নতুন করে আরও ১৯ জন ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তারা ভর্তি হন। এ নিয়ে হাসপাতালে এখন ডেঙ্গু আ*ন্ত রোগীর সংখ্যা ৩৭ জন।

শরীয়তপুর : ১ সপ্তাহে জেলায় ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ১ জন, জাজিরা উপজেলায় ৩ জন, নড়িয়া উপজেলায় ১ জন, ডামুড্যা উপজেলায় ১ জন ও গোসাইরহাট উপজেলায় ৪ জন রয়েছেন। তবে এদের বেশির ভাগই ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর ঢাকায় চিকিৎসা নিতে চলে গেছেন। আবার দু-একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) : গত দুই দিনে ডেঙ্গু আ*ন্ত হয়েছেন তিনজন। তারা হলেন উপজেলার সবুজনগর এলাকার নুরুন্নবী (২৫), দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামের আরাফাত (১৮) ও ডৌয়াতলা গ্রামের গোলাম রাব্বি (১৮)।

ফরিদপুর : বুধবার দুপুর পর্যন্ত ১০ দিনে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালসহ শহরের ৪টি হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ৮৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৭ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া ২ জন উন্নত চিকিৎসা নেয়ার জন্য ঢাকায় গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭০ জন।

খুলনা : ডেঙ্গু ও গুজব প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে খুলনা স্কাউটস ও রোভার স্কাউটসের সহযোগিতায় এবং খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার সকালে খুলনা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যশোর : ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। বুধবার জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শহরে লিফলেট বিতরণ ও পরিচ্ছনতা অভিযান উদ্বোধন করা হয়।

এছাড়া শেরপুরে ২১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আড়াইহাজারে ৬ জন, ভৈরবে ৫ জন, সরিষাবাড়ীতে ৩ জন, আগৈলঝাড়ায় ৭ জন, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১ জন, চরফ্যাশনে ৮ জন ডেঙ্গুতে আ*ন্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের অর্জিত আকাশসীমায় ফ্লাইট, রাজস্ব নিচ্ছে ভারত


বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অর্জিত জলসীমার ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল করলেও অবকাঠামো সমস্যার কারণে সেই রাজস্ব আদায় করা যাচ্ছে না। ওই আকাশপথ এখনো ভারতের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে রয়েছে এবং এসব ফ্লাইটের কাছ থেকে রাজস্বও আদায় করছে ভারত।

জানা গেছে, মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে বিশাল সমুদ্রসীমা জয়লাভের পর বাংলাদেশের অর্জিত জলসীমার ওপর দিয়ে বিমান চলাচলের জন্য পাঁচটি আন্তর্জাতিক রুটের খোঁজ পাওয়া গেছে। এয়ার ট্রাফিক সার্ভিস প্রদানের জন্য এ রুটগুলোর ট্রাফিক কন্ট্রোল বাংলাদেশ বুঝে নিতে পারলে রাজস্বপ্রাপ্তির খাতায় বছরে যোগ হবে প্রায় ২৫৫ কোটি টাকা।

সূত্রগুলো জানায়, বর্ধিত জলসীমায় পাঁচটি রুটের মধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক রুট চিহ্নিত করা গেলেও সেগুলো বাংলাদেশের রাডার ব্যবস্থার কাভারেজের বাইরে অবস্থিত। এ তিনটির মধ্যে ‘পি ৬৪৬’ নামে একটি রুটের সন্ধান পাওয়া গেছে যে রুট দিয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৫টি এয়ারক্রাফট যাতায়াত করে। সম্প্রতি কারওয়ান বাজারের পেট্রোসেন্টারে ‘ব্লু ইকোনমি’-সংক্রান্ত এক সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকের প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশের অ্যারোনটিক্যাল চার্জ অনুযায়ী ‘পি৬৪৬’ রুটে চলাচলকারী মাঝারি টাইপের এয়ারক্রাফটের চার্জ হিসাব করলে দৈনিক গড় রাজস্ব দাঁড়ায় (৫৫ গুণক ৩০০ মার্কিন ডলার) ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। দেখা যাচ্ছে এই একটি রুট থেকে বার্ষিক সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ ৬০ লাখ ২২ হাজার ৫০০ ডলার।

সূত্র জানান, বাংলাদেশের অর্জিত আকাশসীমায় আরও দুটি আন্তর্জাতিক রুট চিহ্নিত করা গেছে ‘এন ৮৯৫’ ও ‘এম ৭৭০’ নামে। তবে রাডার এরিয়ার বাইরে থাকায় ওই দুটি রুটে চলাচলরত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের হিসাব সংগ্রহ করতে পারেনি বেবিচক। বেবিচকের তথ্যানুযায়ী অর্জিত জলসীমায় একটি আন্তর্জাতিক রুট থেকে যদি বছরে ৬০ লাখ ২২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার আয় হয়, তবে পাঁচটি রুটে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩ কোটি ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্জিত জলসীমার ওপর বাংলাদেশের যে আকাশসীমা রয়েছে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় সেখান থেকে বছরে ওই পরিমাণ রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে জানতে বেবিচকের ডিরেক্টর (এটিএস অ্যান্ড অ্যারোড্রোমস) আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ ফ্লাইট ওভারফ্লাইং করে। প্রতিটি বড় আকারের এয়ারবাস থেকে আমরা ৪০০ মার্কিন ডলার রাজস্ব পাই। এ রাজস্ব কোনোভাবেই মিসিং হওয়ার সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, কলকাতা থেকে “লিমা ৫০৭” একটি রুট বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে কিছুটা আকাশসীমা ব্যবহার করে আবার ভারতের আকাশসীমায় পড়েছে। ওই রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটের যে কথোপকথন (বিএইচ) তা আমরা ঠিকভাবে শুনতে পাই না। আমাদের অনুরোধে কলকাতা পোর্ট কর্তৃপক্ষ সেই কথোপকথন পরিচালনা করছে, কিন্তু চার্জ আমরা আদায় করছি।’ তবে তিনি বঙ্গোপসাগরে অর্জিত জলসীমার ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্জিত জলসীমার ওপর দিয়ে যে আকাশসীমা রয়েছে তা পাশের দেশ ভারতের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বঙ্গোপসাগরে অর্জিত ওই বিশাল এলাকার ওপর যেহেতু বাংলাদেশের আগে একচ্ছত্র অধিকার ছিল না, সেহেতু ওই আকাশসীমায় ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিওন গড়ে তোলার কোনো সুযোগ ছিল না। তবে এখন সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে এফআইআর বর্ধিত করতে হলে চট্টগ্রামে অবস্থিত রাডারের কার্যক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধাও গড়ে তুলতে হবে।

উৎসঃ বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‘বাংলাদেশে এখন নমরুদের শাসন চলছ’


পৃথিবীর ইতিহাসে নমরুদ ছিল এক মহাপ্রতাপশালী জালেম-অত্যাচারী বাদশাহ। তার মিথ্যা খোদায়িত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আসল খোদার সাথে আকাশে ওঠার চেষ্টা করে পাগলামি-উন্মাদনার এক অভিনব রেকর্ড সৃষ্টি করছিল। নমরুদকে খোদা বলে স্বীকার না করার কারণে হযরত ইব্রাহীম (আ) কে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিলো। নমরুদের হুকুম যারা মানতো না এমন কোনো জুলুম-নিপি*ন নেই যা তাদরে ওপর আসতো না।

এরপরেও যুগে যুগে নমরুদরা এসেছে। ওই নমরুদের সাথে পররর্তী যুগের নমরুদদের পার্থক্য ছিল শুধু তারা নিজেকে খোদা দাবি করেনি কিন্তু তাদরে কর্মকাণ্ড ছিল সেই নমরুদদের মতোই। নিজেদের একক ক্ষমতা প্রতষ্ঠিত করার জন্য জনগণের ওপর তারাও চালয়িছেে জুলুম নির্যা*নের স্টিম রোলার। এখনো বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই নমরুদদের শাসন চলছ।

এর মধ্যে জ্বলন্ত উদাহরণ হলো বর্তমান বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার বিগত ১১ বছরের শাসন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সেই নমরুদের চেয়ে তিনিও কোনো দিক থেকে পিছিয়ে নেই। ক্ষমতাকে ধরে রাখতে এবং জনগণের ওপর তার একক আধিপত্য বিস্তারের জন্য নমরুদের মতোই অত্যাচার নির্যা*ন চালিয়ে যাচ্ছেন।

হাসিনা তার বিগত ১১ বছরের শাসনামলে সবচয়েে বেশী অত্যাচার নির্যা*ন চালাচ্ছে এদেশের সবচয়েে বড় ইসলামী শক্তি জামায়াতে ইসলামীর ওপর। শুধু মাত্র আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করার কারণে কথতি যুদ্ধাপরাধরে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভযিোগ তুলে জামায়াতের র্শীষ ৬ নেতাকে ফাঁসতিে ঝুলিয়ে নির্ম*ভাবে মারা হয়।

এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশবিরিকে নির্মূল করার লক্ষ্যে দুইটি সংগঠনরে সহস্রাধকি নেতার্কমীকে গুম-অপহ*ণ ও কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে করেছে। তার অবধৈ র্কতৃত্বকে মেনে না নেওয়ার কারণে প্রতদিনই নেতাকর্মীদেরকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে নির্যা*ন করছে।

শুধু জামায়াত-শিবির নয়, হাসিনার বিরোধী যত দল মতের লোক আছে সবার ওপরই চালিয়ে যাচ্ছে নির্মম নির্যা*ন। বিএনপির শত শত নেতাকর্মীও নির্মমভাবে হত্যা করছেে তিনি।

এছাড়া দেশে এখন অপরাধের মহোৎসব চলছে। এমন কোনো অপরাধ কর্মকাণ্ড নেই যা এখনও দেশে ঘটেনি। খু*-র্ধষণ দেশে এক মহামারি আকার ধারণ করছে। সহজভাবে বললে দেশে এখন পাপাচারে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

দেশে যে নমরুদের শাসন চলছে এবং অনাচার-পাপাচারে যে দেশে ভরে গেছে সেটা এখন হাসিনার দলের লোকজনই টের পাচ্ছে। শেখ হাসিনার ডান হস্ত হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান বর্তমান অবস্থাকে নমরুদের শাসন বলে তুলনা করছেন। যদিও তিনি এখানে শেখ হাসিনার নাম মুখে উচ্চারণ করেননি।

মঙ্গলবার একটি সভায় শামীম ওসমান বলছেনে, ‘এডিস মশা বিনা কারণে আসে না। এই মশার উদ্ভব হয়ছেে নমরুদের সময়। নমরুদ যখন অনাচার করছলিো দুনিয়াতে। একটা মশা এসে তার নাক দিয়ে ঢুকে গিয়েছিলো। ওই মশার নাম কি ছিল আমি জানিনা। মশার অত্যা*রে সে তার মাথায় বাড়ি দিতে বলেছিল। মশা দিয় আল্লাহ তাকে শিক্ষা দিয়েছলেন। যখন কোনো দেশে পাপাচার হয়, এটা ন্যাচারাল গজব।

এখানে শামীম ওসমান মুখে হাসিনার নাম উচ্চারণ না করলেও সচতেন মানুষরে আর বুঝার বাকী নেই যে তিনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন।

এমনকি সাধারণ মানুষ মনে করছেন বিরোধী দল সহ সাধারণ মানুষের ওপর শেখ হাসিনার অত্যাচার নির্যা*নের মাত্রা এখন মা*ত্মক পর্যায়ে চলে গেছে। অপরাধীরা অবাধে অপরাধ কর্মকাণ্ড করলেও সরকার নিরব ভূমিকা পালন করছে। এমনকি হাসেনার সোনার ছেলেরা হাজার অপরাধ করেও থাকছে ধরা ছোয়ার বাইরে। শেখ হাসিনার পেটুয়া বাহিনী ও সোনার ছেলেদের হামলা-মামলার ভয়ে মানুষ মুখ খুলতে পারছে না। যার কারণে বাংলাদশেে এখন বিভিন্ন সময় আল্লাহর পক্ষ থকেে প্রাকৃতকি গজব নাযলি হচ্ছ।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here