শমী কায়সারের ফোন গায়েব, আটকে রেখে ‘চোর’ বলা হলো সাংবাদিকদের

0
301

নিজের দুটি স্মার্টফোন চুরি যাওয়ায় প্রায় অর্ধশত সংবাদকর্মীকে আধঘণ্টারও বেশি আটকে রেখেছেন অভিনেত্রী শমী কায়সার। এ সময় তিনি সাংবাদিকরা মোবাইল চুরি করেছে বলে অভিযোগ করেন এবং তার নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে সংবাদকর্মীদের দেহ তল্লাশিও করান।

এ সময় কেউ কেউ বের হতে চাইলে ‘চোর’ বলে ওঠেন শমী কায়সারের নিরাপত্তাকর্মী। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন সংবাদকর্মীরা। ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানস্থলে।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় অর্ধশত ফটো ও ভিডিও ক্যামেরা এবং শতাধিক মানুষের সামনে চুরি হয় ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই- ক্যাব) প্রেসিডেন্ট শমী কায়সারের দুটি স্মার্টফোন ।

ই-কমার্সভিত্তিক পর্যটন বিষয়ক সাইট ‘বিন্দু ৩৬৫’র উদ্বোধনকালে বক্তব্য দেন শমী। বক্তব্য শেষ করে কেক কাটার সময়ই হঠাৎ করে তিনি জানান, তার স্মার্টফোন দুটি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ফোন দুটিতে কল দিয়ে তখনও সচল পাচ্ছিলেন তিনি।

শমী কায়সারের এমন মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই মিলনায়তনের মূল প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময় তার নিরাপত্তাকর্মী সবার দেহ তল্লাশি করতে চাইলে তাতে সম্মতি জানান উপস্থিত সংবাদকর্মীরা।

তল্লাশির সময় অনেকে বের হতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মী সাংবাদিকদের ‘চোর’ বলে ওঠেন। এতে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে আসা সাংবাদিকরা। এ ঘটনায় অনুষ্ঠানের আয়োজকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডাও হয় সাংবাদিকদের।

পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে কেক নিয়ে আসা লাইটিংয়ের এক কর্মী স্মার্টফোন দুটি নিয়ে গেছেন।

ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ দেখার পর সাংবাদিকদের প্রতি ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেন শমী কায়সার।

শমী কায়সার বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছে। মুঠোফোন আমাদের সবার জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এ ঘটনায় একটি অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি। ফলে প্রধান অতিথি আসার আগেই অনুষ্ঠান সমাপ্ত করে ফেলেন আয়োজকেরা।

এদিকে ফোন চুরি এবং এজন্য সাংবাদিকদের সন্দেহ করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন অনুষ্ঠানে পেশাগত দায়িত্ব পালনে আসা সাংবাদিকেরা। একইসঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় ক্ষোভও প্রকাশ করেন তারা।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়া কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি : রুহুল কবির রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জনগণের কাছে আপসহীন নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং তিনি কখনোই কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি, কোনো স্বৈরশাসকের কাছেই আত্মসমর্পণ করেননি।’

খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগের ব্যাপারে রিজভী বলেন, ‘দর কষাকষির দৃষ্টান্ত কার আছে সেটি আপনারা নিজেরাই জানেন, আর না জানলে আপনাদের নেত্রীর কাছে জিজ্ঞেস করেন।’

আজ সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গণতন্ত্রে প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ শেখ হাসিনার কারাগারে বন্দী। দেশের প্রতিটা মানুষ জানে এবং বিশ্বাস করে খালেদা জিয়া নির্দোষ।’

রিজভী বলেন, ‘ম্যান্ডেটবিহীন সরকারের কারণে বর্তমান সামাজিক ভায়োলেন্স এতো বৃদ্ধি পেয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকে ‘সোশ্যাল ফেব্রিক’ ভেঙে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘সমাজবিরোধী সরকারি দলের আনুকূল্যে মানুষের সহায়-সম্পত্তি দখলের ধারাবাহিকতায় নারীদেরও দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নীরব রয়েছে। বাহিনীর কেউ কেউ এদের মদদদাতা হিসেবে কাজ করছে, অথবা নিজেরাই অপকর্মে মেতে উঠেছে।’ গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থা এখন ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এ নেতা।

রিজভী বলেন, ‘অবৈধ মিডনাইট সরকার আইয়ামে জাহেলিয়াতের মতো পরিস্থিতির দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ধর্ষণ-নারী নির্যাতন-খুন-দখল ও গুমের উৎসবে মেতে উঠেছে। দেশে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিনা ভোটের সরকার কোনোকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। নারী নিপীড়ন ও খুন তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ’৭২-৭৫ এর চেয়েও এখন দেশের অবস্থা ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেন তিনি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে ভীষণ অসুস্থ। আমরা তার সুচিকিৎসার জোর দাবি জানাচ্ছি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌সংসদ নির্বাচন ছিল অশুভ আতাতের ফসল: ড. বদিউল আলম মজুমদার


বহুল আলোচিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অশুভ আতাতের ফসল বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেছেন, ‘২০১৮ সালে সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে অত্যন্ত অশুভ একটি আতাত হয়েছিল নিবাচনকে একতরফাভাবে নিজেদের পক্ষে নেয়ার ক্ষেত্রে। এ কারণেই ভোট কেন্দ্রগুলো ভোটার শূন্য ছিল। জনগণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া তথা নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বর্তমান সময়ে মানুষ চরম অস্থিরতার মধ্যে বসবাস করছে। ন্যূনতম নাগরিক অধিকার নেই কারোই।’

আজ মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকালে সৈয়দপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সুজন সৈয়দপুর উপজেলা কমিটি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত কারো জন্যই শুভ নয়, এটি কোনো কল্যাণই বয়ে আনবে না। কোনো দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে সে দেশে নানা অনিয়ম ও অরাজকতার বিস্তার ঘটে। এর ফলে সার্বিক রাষ্ট্রযন্ত্র দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। যার সুযোগ নিয়ে বিপথগামী চক্র প্রভাব বিস্তার করে পুরো রাষ্ট্রকে করায়ত্ত্ব করতে তৎপর হয়।

সুজন সম্পাদক বলেন, এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনও ছিল একতরফা, যা দেশের ইতিহাসে কলংকময় অধ্যায় হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। ইতোপূর্বেও অনেক নির্বাচন একতরফাভাবে হয়েছে। তবে সেগুলোতে নির্বাচিত সরকার পরবর্তীতে সকল দলের মতামতের ভিত্তিতে কিছুদিনের মধ্যেই আবারও নির্বাচন দিয়েছিল। কিন্ত ২০১৪ সালের নির্বাচনে গঠিত সরকার তা করেনি। বরং কথা দিয়েও তারা কথা রাখেনি। এ ধরনের দৃষ্টান্ত গণতন্ত্রের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ।

গণতান্ত্রিক সুব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা না হয় তাহলে শ্রীলঙ্কার মতো ভয়াবহ ঘটনা আমাদের দেশেও পুনরাবৃত্তি ঘটার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। যা কারো জন্যই ভালো হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সুজন সৈয়দপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী (অব.) নুরুজ্জামান জোয়ারদার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

উৎসঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‌শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত, ছাত্রলীগ নেতার ১০ দিনের জেল


ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় স্কুলের শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের অপরাধে এক ছাত্রলীগ নেতাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা সরকার এ রায় দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত মমিনুল ইসলাম উপজেলার তারাটি পূর্বপাড়ার বাসিন্দা শুকুর আলীর ছেলে। মুক্তাগাছা শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন মমিনুল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মুক্তাগাছা থানা পুলিশের ওসি আলী মাহমুদ বলেন, শহরের কালিবাড়ি পুকুরপাড়ের পৌর এলাকার একটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করেন মমিনুল ইসলাম। পরে তাকে গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন। মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে মুক্তাগাছা থানায় একটি নিয়মিত মামলা এবং দুটি ওয়ারেন্ট আছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌আয় নেই, তবুও ডুপ্লেক্স বাড়ি বানালেন যুবলীগ নেতা আমজাদ হোসেন


নিজের কোনো ব্যবসা নেই। বছরের পর বছর বেকার। এরপরও কোটি টাকা ব্যয়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি বানিয়েছেন কক্সবাজারের টেকনাফের উপকূলীয় বাহারছড়া শামলাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন খোকন।

ইউনিয়নের পুরানপাড়া এলাকায় তার নির্মাণাধীন বাড়িটি সবার চোখ পড়েছে। তার বাড়িটি দেখে প্রশান্তি পেলেও এটি তৈরির অর্থের উৎস নিয়ে চোখ কপালে উঠেছে প্রতিবেশীদের।

লোকমুখে তথ্যটি প্রকাশ হওয়ার পর যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের আয়ের উৎস খুঁজতে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। প্রাথমিকভাবে টাকার উৎস সম্পর্কে রোমহর্ষক তথ্যও পেয়েছে তদন্ত দল।

তাদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, বেকার এই যুবলীগ নেতা পুরো ইউনিয়নে গড়ে তুলেছেন ইয়াবার সাম্রাজ্য। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে মোটা অংকে কৌশলে ভাগিয়ে নিয়েছেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, মাদক ব্যবসা থেকে যুব সমাজকে রক্ষায় ২০১৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা মাদক কারবারিদের একটি তালিকা তৈরি করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে দিয়েছিলেন। ওই তালিকায় ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে যুবলীগ সম্পাদক খোকনের নাম রয়েছে ৪ নম্বরে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো রেজুলেশনে বলা হয়েছে, জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউনিয়ন পর্যায়ের চোরাকারবারি, ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের কারণে সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

ওই তালিকা ধরে তদন্তপূর্বক এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত খোকনসহ তালিকায় থাকা কোনো ইয়াবা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। তবে তালিকার র্শীষে থাকা ইয়াবা ব্যবসায়ী হাবিব উল্লাহ প্রকাশ হাবা চৌধুরী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন গত বছর। হাবিব উল্লাহ নিহত হওয়ার পর খোকনসহ অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আবার এলাকায় ফিরে এসে নতুন উদ্যমে ইয়াবা ব্যবসা চালাচ্ছেন খোকন।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, খোকন নিজেকে জমি ব্যবসায়ী দাবি করলেও দৃশত তার কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য নেই। মূলত ইয়াবা ব্যবসা আড়াল করতেই এমন প্রচারণা চালান তিনি।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, খোকন বেকার যুবক। সকালে ঘুম থেকে ওঠে শামলাপুর বাজারে যুবলীগ কর্মীদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। মাঝেমধ্যে টেকনাফ উপজেলায় যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে যান। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধী মুসলিম লীগ নেতা এরশাদুর হক এশা মেম্বারের নাতি খোকন ও তার পরিবার এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলের প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত তারা।

এলাকাবাসীর দেয়া তথ্যমতে, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান আসে শামলাপুর পুরানপাড়া ঘাটে। এখান থেকে খোকনের সহযোগীরা ইয়াবার চালান নিয়ে গোপন স্থানে জমান। পরে সুবিধা মতো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান করে দেন।

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ২৫ সেপ্টেম্বর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ইউনিয়ন ও উপজেলাভিত্তিক মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা প্রণয়নের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশ মতে, ২০১৩ সালের ২০ অক্টোবর টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান মৌলভী হাবিব উল্লাহর সভাপতিত্বে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইউনিয়নপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি ও ইয়াবা ব্যবসায়ী ১০ জনের তালিকা করা হয়। ওই তালিকার ৪ নম্বরে রয়েছেন আমাজাদ হোসেন খোকন। তিনি শামলাপুর পুরানপাড়া এলাকার মো. ইসলাম ওরফে ইসলাম মেম্বারের ছেলে।

ওই তালিকায় শীর্ষে থাকা নয়াপাড়া এলাকার হাবিব উল্লাহ প্রকাশ হাবা চৌধুরী ২০১৮ সালে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন পুরানপাড়ার মৃত এরশাদুল হকের ছেলে আজিজুল হক প্রকাশ আয়াছ কোম্পানি, শাপলাপুর বাজারের আক্তার ফার্মেসির মালিক মো. আক্তার, পুরানপাড়া এলাকার ডা. নজরুলের ছেলে মো. আরিফ, একই এলাকার মীর কাশেমের ছেলে মো. ইলিয়াছসহ ১০ জন।

সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী হাবিব উল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা একটি তালিকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পাঠিয়েছিলাম। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার কথা ছিল। তবে পরবর্তীতে আর কি হয়েছে আমি জানি না।

ইয়াবার অভিযোগ ছাড়াও খোকনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যু, মারামারি, হত্যার হুমকিসহ নানা অভিযোগে অনেক ভুক্তভোগী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ২০১৩ সালের ২১ জুলাই অছি আহমদ (টেকনাফ থানা জিডি নং-৯৩৩), ২০০৯ সালের ২ ডিসেম্বর মোর্শেদ আলী (৫৭), ২০১০ সালে ৩ মে শামসুল আলম (১১৫), ২০১১ সালের ১২ মে জাহেদুল ইসলামসহ (৫৮২), ২০১০ সালে (৩০) আরও বেশ কয়েকজন থানায় অভিযোগ দেন।

কিন্তু এলাকায় প্রভাব থাকায় খোকনকে ছুঁতে পারে না কেউ। আবার দলের যেকোনো প্রোগ্রামে ডোনার হিসেবে আবির্ভাব হন বলেই নিরাপদে রয়েছেন আমজাদ হোসেন খোকন।

আমজাদ হোসেন খোকন তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগে দৃশ্যমান কোনো কাজ না করলেও বছর তিনেক আগ থেকে জমি কেনাবেচা, ফিশিং ট্রলার ব্যবসাসহ হোটলে কক্স টু ডে কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠান সুইট ড্রিম কোম্পানিতে চাকরি করছি আমি। কোটি টাকার বাড়িটি শামলাপুর বাজারে বাবার জমি বিক্রির ২৫ লাখ টাকা, দুবাই প্রবাসী ভাইদের পাঠানো টাকা ও কক্সবাজার শহরে হাজিপাড়ায় বেশ কিছুদিন আগে কম দামে কেনা একটি জমি অধিক মূল্যে বিক্রির টাকায় করেছি। আমার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ পূর্বশত্রুতার বহিঃপ্রকাশ।

বেকার জীবনে কক্সবাজার শহরে জমি কেনা, সাগরে ফিশিং ট্রলার নামানোসহ অন্যান্য ব্যবসার পুঁজি কোথায় থেকে পেলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বাবার দুই পরিবার থাকায় অল্প-স্বল্প পুঁজি দিয়েছেন আমাকে।

তার হিসাবমতে, সবমিলিয়ে এখন কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে তার। এসবের বিপরীতে আয়কর সনদসহ অন্য কোনো কাগজপত্র রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অসচেতনতার কারণে এসব করা হয়নি। এলাকার অনেকের এসব কাগজপত্র নেই। তাই আমিও এসব করার প্রয়োজন অনুভব করিনি।

টেকনাফ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, আমরা পুরো টেকনাফের মাদক কারবারিদের নির্মূলে কাজ করছি। উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ ছাড় পাবে না, সেভাবেই নির্দেশ রয়েছে ওপর মহলের। পর্যায়ক্রমে সবাই ধরা পড়বে।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌হাসপাতালে কাতরাচ্ছে ধর্ষণের শিকার তিন স্কুলছাত্রী


হাসপাতালে কাতরাচ্ছে ধর্ষণের শিকার তিন স্কুলছাত্রী। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও ঝিনাইদহের মহেশপুরে ধর্ষণের শিকার দুই শিক্ষার্থী ও ঈশ্বরগঞ্জ ধর্ষণের অপমানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে এক স্কুলছাত্রী। এছাড়া নরসিংদী, গোপালগঞ্জ, জামালপুর, বরগুনা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, কাউখালী (রাঙ্গামাটি), লক্ষীপুর, নড়াইল, লালমনিরহাট, নোয়াখালীর সেনবাগ ও মানিকগঞ্জে শিশুসহ আরো ১১ জন ধর্ষণের শিকার হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ সকল মামলায় ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বাকীদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের সংবাদদাতারা এমন তথ্য জানিয়েছেন।

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সেজিয়া বাজারে ঘুমের ইনজেকশন পুশ করে ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে এক পল্লী চিকিৎসক। পুলিশ ধর্ষক সাইফুল ইসলামকে (৩২) গ্রেফতার করেছে। গত রোববার সকালে সেজিয়া বাজারের নাজ ফার্মেসিতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের সেজিয়া গ্রামের নুর মোহাম্মাদের ছেলে। সেজিয়া বাজারের নাজ ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি পল্লী চিকিৎসকের কাজ করে তিনি।

ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মা জানান, বেশ কয়েকদিন আগ থেকে মেয়ের জ্বর। জ্বর ভালো না হওয়ায় শনিবার রাতে সাইফুল ইসলামের নাজ ফার্মেসিতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান তার বাবা। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। ওই সময় পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম মেয়ের বাবাকে বলে সকালে পাঠিয়ে দিবেন আরও চিকিৎসা দিতে হবে। পল্লী চিকিৎসক সাইফুল ইসলামের কথামতো চিকিৎসার জন্য মেয়েকে নাজ ফার্মেসিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে গেলে সাইফুল ইসলাম আমার মেয়ের শরীরে একটি ইনজেকশন পুশ করে। সেই সঙ্গে একটি ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে দেয়। এরপর মেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ধর্ষণ করে সাইফুল ইসলাম।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শামীম কবীর জানান, ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে। ধর্ষণের কারণে ওই শিক্ষার্থীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। অপহরণের পর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ ইন্সপেক্টর শেখ গণি মিয়া জানান, উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই শিক্ষার্থীকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অপহরণ করে একই এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন শহীদ ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় অপহৃত শিক্ষার্থীর বড় ভাই থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত রোববার বিকেলে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী সাখাওয়াত হোসেনকেও আটক করা হয়। মেয়েটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গত শুক্রবার গভীর রাতে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী অপহরণের পর ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ধর্ষকের কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করে অন্যগ্রামে অবস্থিত এক সহপাঠির বাড়িতে আশ্রয় নেয় সে। লজ্জায় অপমানে গত শনিবার দুপুরে ওই বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় মেয়েটি। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গত শনিবার রাতে ইয়াসীন মিয়া (২২) এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে।

গত রোববার দুপুরে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চর আলগী গ্রামে গিয়ে জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে থেকে স্বজনেরা নির্যাতিতা মেয়েটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। গলায় ফাঁস লাগানোর কারণে মেয়েটির কণ্ঠনালী ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় সে এখন কথা বলতে পারছে না। তবে কাগজে লিখে স্বজনদের কাছে ঘটনার পূর্বাপর বর্ণনা দিয়েছে। ছাত্রীর বাড়িতে গেলে তার চাচা বলেন, মেয়েটি যে স্থানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল সেখানে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। ওই চিরকুটে লেখা ছিল তাঁর মৃত্যুর জন্য ইয়াসীন দায়ী। পুলিশ শনিবার রাতে ইয়াসীনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

জামালপুর : জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার মনোয়ার হোসেনকে (২৪) কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে বিয়ে করে বউ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মনোয়ার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দফরপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল বকশীগঞ্জ উপজেলার এক স্কুলছাত্রীকে প্রতিবেশী দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দফরপাড়ার মনোয়ার হোসেন ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় একাধিকবার গ্রাম্য শালিস বসেও কোনো সমাধান না করে অন্য জায়গায় মনোয়ার হোসেনের বিয়ে ঠিক করা হয়। শনিবার রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার সারমারার টালিয়াপাড়া গ্রামে বিয়ে করতে যায় মনোয়ার হোসেন। সেখানে থেকে বউ নিয়ে ফেরার পথে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

নরসিংদী : নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় ধর্ষণ থেকে রক্ষা পায়নি ৪ বছরের এক শিশুও। গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের এ ঘটনা ঘটে। রোববার শিশুটিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত রোববার নির্যাতনের শিকার শিশুর দাদা বাদী হয়ে বেলাব থানায় নারী শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত রায়হান শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের আবদুল বাসেতের ছেলে।

বরগুনা : বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় মাদরাসায় যাওয়ার পথে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় শ্যালক ও দুলাভাইসহ তিনজন। পরে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে ধর্ষণের শিকার ছাত্রী। অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে তিনজন সম্পর্কে শ্যালক ও দুলাভাই। অভিযুক্তরা হলো- পাথরঘাটা উপজেলার চর লাঠিমারা এলাকার আবু মিয়ার ছেলে জাকারিয়া (২০), জাকারিয়ার দুলাভাই মাহবুব (৩২) ও সবুজ (২৪) এবং অজ্ঞাত আরও দুইজন। এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানা পুলিশের ভারপ্রাফত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হানিফ সিকদার বলেন, পাথরঘাটা থানায় মামলা করেছে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার ওই শিশুকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটি মুকসুদপুর উপজেলার বিশ্বম্ভরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী। গত শুক্রবার সকালে মুকসুদপুর উপজেলার খানজাপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক জামাল শেখ (৩৫) পলাতক রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের সিংগাইরে প্রেমিক যুগলকে জিম্মি করে এক কলেজছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধর্ষণের ভিডিও চিত্রও ধারণ করে বখাটেরা। পরে পুলিশের হেল্পলাইন ৯৯৯ এর সহায়তায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৭ জনকে আসামি করে গত শনিবার (২০ এপ্রিল) মামলা দায়ের করেছেন ওই কলেজছাত্রী। গ্রেফতাররা হলেন- সিংগাইর উপজেলার ইসলামনগর গ্রামের দ্বীন ইসলামের ছেলে ফজর আলী (১৮), আব্দুল মান্নান খানের ছেলে শিপন খান (১৮), মো. চুন্নু খানের ছেল দিপু (১৯), আবুল হোসেনের ছেলে নাজমুল (২১) ও রবিউল দেওয়ানের ছেলে সুজন (২৮)। বাকি দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

সেনবাগ (নোয়াখালী) : নোয়াখালীর সেনবাগে এবার ৭ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী (১৫)কে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ৩ দিন আটকিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার রাতে ধর্ষক অটোচালক আব্দুর রহমান প্রকাশ ছোটনকে আটক করেছেসেনবাগ থানার এসআই জসিম উদ্দিন। এসময় স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা বাদি হয়ে নাবালিকা মেয়েকে অপহরণ করে আটকিয়ে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে এনে সেনবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। গ্রেফতারকৃত আবদুর রহমান প্রকাশ ছোটন উপজেলা ২নং কেশারপাড় ইউনিয়নের কেশারপাড় গ্রামের বারিক হাজারী বাড়ীর মৃত আবদুস ছাত্তারের পুত্র।

নড়াইল : নড়াইলে সৎ বাবা কর্তৃক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গত শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে ধর্ষিতা শিশুর মা বাদি হয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় মামলা করেছে। এ ঘটনায় ধর্ষক পলাতক রয়েছে। গত শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে লোহাগড়া উপজেলার ছত্রহাজারী গ্রামের এক বাঁশ বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার এস আই মিল্টন কুমার দেবদাস বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

লক্ষীপুর : লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজেন্ডারের শিক্ষা গ্রামের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৭) ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় রামগতি থানা পুলিশ মোহন নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে এবং নির্যাতিতা শিশুকে উদ্ধার করে গতকাল দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রামগতি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইউসুফ জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করেছে।

কাউখালী (রাঙ্গামাটি) : কাউখালীতে প্রথম শ্রেণির সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গোপাল কৃঞ্চ নাথকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে কাউখালী থানা পুলিশ। গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

লোহাগাড়ায় : চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়ায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ওই উপজেলারই এক কোচিং সেন্টারের পরিচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন ওই ছাত্রীর মা। ঘটনার পর থেকে কোচিং সেন্টারটি বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে গেছেন পরিচালক সাইফুল ইসলাম। ধর্ষণের শিকার ওই স্কুলছাত্রীর বাবার অভিযোগ, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে যেকোনো মুহূর্তে এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দিচ্ছে মহলটি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিকাশ রুদ্র বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। লালমনিরহাট : কালীগঞ্জ উপজেলার শ্রীখাতা খোদরপাড়া গ্রামের মকবুল হোসেনর ছেলে জুয়েল এর বিরুদ্ধে সালেহা বেগম নামে এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছর যাবত ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষক জুয়েলকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরজু সাজ্জাদ জানান, তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌বাংলাদেশে অলিখিত বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে : খন্দকার মোশাররফ


বাংলাদেশে অলিখিত বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ বারবার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, আর বিএনপি বাকশাল থেকে গণতন্ত্র পূনরুদ্ধার করেছে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতৃবৃন্দ কতৃক আয়োজিত ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী আসাদুজ্জামানের স্বরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্মরণ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিএনপির দায়িত্ব গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে গনতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ছাত্রদলে কাজী আসাদুজ্জামান এর মত সৎ নেতৃত্ব দরকার। কাজী আসাদুজ্জামান ছিলেন দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। তার সততার জন্যই তৎকালীন সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার উপর আস্থা রেখে ছাত্রদলের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন।

দুদু বলেন, যারাই ছাত্রদল করবে তাদের কাজী আসাদুজ্জামানকে স্মরণ করতে হবে।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি, যুবলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম গ্রেফতার


চাঁদাবাজির মামলায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম ওরফে ছোট নজরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের একটি টিম মঙ্গলবার সকালে তাকে গ্রেফতার করে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবির পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নজরুলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মডার্ন গ্রুপ অব কোম্পানির ল্যান্ড এক্সিকিউটিভ আজমত আলী ২২ এপ্রিল নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেছেন।

মামলায় আজমত আলী উল্লেখ করেছেন, তাদের কেনা জমি তাজ জুট মিলে কাজ করতে গেলে নজরুল, জহির ও তাদের সহযোগী খালেক ওরফে জামাই খালেক এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। উপায় না পেয়ে তিনি মামলা করেছেন। নজরুল, তার ভাই জহিরুল ইসলাম ও সহযোগী আব্দুল খালেক ওরফে জামাই খালেককে এ মামলার আসামি করা হয়েছে।

নজরুল ইসলামের ভাই জহির ইসলাম শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির সময় ইতোপূর্বে র্যাব-১১ সদস্যদের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। নজরুল ইসলাম শীতলক্ষ্যা নদীর ওয়াকওয়ের গাছ কেটে পাথর ও বালু ব্যবসা করে আসছিল বলেও জানান ডিবির পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বেগম খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রী, জেলে বসে মরে যাবেন তবু আপোষ করে প্যারোলে মুক্ত হবেন না’


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক ভাবে সিদ্ধান্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি বলেন, আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোভাবে চিনি। তার সাথে প্যারোলের কোন সম্পর্ক নেই। তিনি আপোষহীন নেত্রী, জেলে বসে মরে যাবেন কিন্তু আপোষ করে প্যারোলে মুক্ত হবেন না।

২২ এপ্রিল (রোববার) জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ও বর্তমান ছাত্রফোরাম আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল খালেক হাওলাদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ডাকসুর সাবেক জিএস ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন প্রমুখ।

সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া উপহার। তাই এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন শুরু করতে হবে।

সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, যাই করি না কেন দেশনেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং গনতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর নাম আন্দোলন সংগ্রাম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যখনই রাজপথে নেমেছে তখনই কিছু না কিছু হয়েছে। তাই গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশনেত্রীকে মুক্ত করার আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আমি বিশ্বাস করি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, দাবি এমনি এমনি আদায় হয় না। ৫২, ৬৯, ৭১ ও ৯০ তে কঠোর আন্দোলন করে রাজপথে রক্ত দিয়ে দাবি আদায় করা হয়েছে। তাই আমাদেরও দেশনেত্রীকে মুক্ত ও গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে।

পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করছে সরকার : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার চক্রান্ত করে সুপরিকল্পিত ভাবে গণতান্ত্রিক সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছে।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ও বর্তমান ছাত্রফোরাম আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্ররা বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে দেশের জন্য ভূমিকা রেখে এসেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য জনগণকে সম্পৃক্ত করে গনআন্দোলন করতে হবে। সেই আন্দোলনেও সারাদেশের ছাত্রদের একত্রিত করে ছাত্রদলকে ভূমিকা রাখতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আমরা সবসময় সকল ধরনের সন্ত্রাসী হামলার বিপক্ষে। আমরা এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এধরণের সন্ত্রাসী হামলা বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল খালেক হাওলাদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান রিপন, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ডাকসুর সাবেক জিএস ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ বিশ্বের একমাত্র দুর্নীতিমুক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাঃ এডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম


আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম শুক্রবার পিরোজপুরে একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, শেখ হাসিনা বিশ্বের একমাত্র দুর্নীতিমুক্ত প্রধানমন্ত্রী। বিগত ১০ বছরে দেশে শুধু উন্নয়ন হয়েছে। কোনো দুর্নীতি হয়নি। এখনো দেশের কোনো খাতে দুর্নীতি নেই।

শ. ম রেজাউল করিম সুপ্রিমকোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী। ভোটডাকাতির একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রেজাউল করিমকে একজজন সচেতন ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবেই জানতেন মানুষ। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বরের ভোটডাকাতি থেকে তিনিও বিরত থাকেন নি। এমপি হওয়ার খায়েশ পূরণ করতে গিয়ে বিরোধী মতের লোকদের বাড়িঘর ও সভা সমাবেশে অগ্নিসংযোগ, হামলা-ভাঙচুর ও নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনিও। অতিমাত্রার বঙ্গবন্ধু ও হাসিনা বন্ধনার কারণে নির্বাচনের পর তিনি পেয়ে গেলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এখন অবৈধ সরকারের সকল অপকর্মের পক্ষে সাফাই গাওয়া ছাড়া তার সামনে কোনো বিকল্প নেই। কমপক্ষে মন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও প্রতিদিন থাকে উচ্চ মাত্রায় শেখ হাসিনার প্রশংসা করতে হবে। সেই থেকেই তিনি বিগত ১০ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটকে ধামাচাপা দিতে চাচ্ছেন।

কিন্তু, বিগত ১০ বছর ধরে শেয়ারবাজার লুট, ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিসহ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ আত্মসাতের যে মহোৎসব চলছে রেজাউল করিম কি এসব চাপা দিয়ে রাখতে পারবেন? এখন রেজাউল করিমকে যদি প্রশ্ন করা হয়-শেয়ারবাজার থেকে লাখ কোটি টাকা কি বিএনপি-জামায়াতের নেতারা লুট করেছে? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি কি বিএনপি-জামায়াত করেছে? দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা কি বিএনপি-জামায়াত লুট করেছে? সোনালী-জনতা ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা কি বিএনপি-জামায়াতের লোকজন আত্মসাত করেছে? রেজাউল করিম কি এসব প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন? অবশ্যই পারবেন না।কারণ, সবগুলো দুর্নীতি হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। আর এসব দুর্নীতি হয়েছে শেখ হাসিনার পরিবারের লোকদের নির্দেশনা অনুযায়ী। বলা যায়-এসব দুর্নীতি-লুটপাটের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরাসরি জড়িত।

এছাড়া, ৩০ ডিসেম্বর ভোটডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে প্রতি মাসেই সরকারের বিভিন্ন খাতের ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসছে। এসব দুর্নীতির কারণে চরম খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে। আর অচল হয়ে পড়ছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনকি সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত এসব খাতের দুর্নীতি অনিয়ম নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এখানে চারটি খাতের দুর্নীতির উৎসগুলো উল্লেখ করা হলো-

দুর্নীতির কারখানা তিতাস

সম্প্রতি দুদকের অনুসন্ধানে ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে এসেছে তিতাসে। এখানে পদে পদে দুর্নীতি অনিয়ম হচ্ছে। আর খেসারত দিচ্ছে গ্রাহকরা। যেমন-অবৈধ সংযোগ, নতুন সংযোগে অনীহা এবং অবৈধ সংযোগ বৈধ না করা, অবৈধ লাইন পুনঃ সংযোগ, অবৈধ সংযোগ বন্ধে আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া, অদৃশ্য হস্তক্ষেপে অবৈধ সংযোগ, গ্যাস সংযোগে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ না করা, বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহককে শিল্প শ্রেণির গ্রাহক হিসেবে সংযোগ প্রদান, মিটার টেম্পারিং, অনুমোদনের অতিরিক্ত বয়লার ও জেনারেটর এ গ্যাস সংযোগ, মিটার বাইপাস করে সংযোগ প্রদান সংক্রান্ত দুর্নীতি, এস্টিমেশন অপেক্ষা গ্যাস সরবরাহ কম করেও সিস্টেম লস দেখানো, ইচ্ছাকৃতভাবে ইভিসি-ইলেকট্রনিক ভলিয়ম কারেক্টর না বসানো।

দুর্নীতির শিকার ওয়াশার গ্রাহকরা

ঢাকা ওয়াসার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে টিআইবি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৬২ শতাংশ গ্রাহক ওয়াশা কর্মকর্তাদের দুর্নীতি অনিয়মের শিকার। এসব অনিয়মের মধ্যে- পানির সংযোগের জন্য ২০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। পয়:লাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ৩০০-৪৫০০ টাকা, গাড়িতে জরুরি পানি সরবরাহের জন্য ২০০থেকে ১৫০০ টাকা, মিটার ক্রয়/পরিবর্তনের জন্য এক হাজার-১৫ হাজার, মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত কাজের জন্য ৫০ থেকে তিন হাজার এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে এক থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়।

দুর্নীতির কারণে ধসে পড়েছে বিমান খাত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ১৯ খাতে দুর্নীতির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিমানের ৮ এবং বেবিচকের ১১ খাতে দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত হয়েছে।

বিমানের ৮ খাতের মধ্যে এয়ারক্রাফট কেনা ও লিজ নেয়া, রক্ষণাবেক্ষণ-ওভারহোলিং, গ্রাউন্ড সার্ভিস, কার্গো আমদানি-রফতানি, ট্রানজিট যাত্রী ও লে-ওভার যাত্রী, অতিরিক্ত ব্যাগেজের চার্জ আত্মসাৎ, টিকিট বিক্রি, ক্যাটারিং খাতের দুর্নীতি চিহ্নিত হয়েছে।

আর বেবিচকের ১১ খাতের মধ্যে আছে টাওয়ার বোর্ডিং ব্রিজসহ বড় বড় কেনাকাটা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, বিমানবন্দরের দোকান বিলবোর্ড ভাড়া, পরামর্শক নিয়োগ, কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণ, মন্ট্রিল কনভেনশন বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রতা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, পাইলট ফ্লাইং ইঞ্জিনিয়ার ও এয়ারক্রাফটের লাইসেন্স, ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্স ও সিডিউল অনুমোদন ও অপারেশনাল কাজে দুর্বলতা।

দুর্নীতির মহোৎসব স্বাস্থ্যখাতে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১টি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্রয়, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসা দেওয়া, চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইকুইপমেন্ট ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসব খাতের দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা জড়িত। এসব দুর্নীতি ও লুটপাটের টাকা সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকদের পকেটেও যাচ্ছে। যার কারণে দুর্নীতি দমন কমিশন এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here