‘বিশ্বের স্বৈরাচারী দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ’

0
190

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা করে বের করেছে বিশ্বের যেসব স্বৈরাচারী দেশ আছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। যে দেশ উন্নয়নের কথা বলে, সেই দেশের রাজধানীকে চিহ্নিত করা হয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি দূষিত শহর বলে।’

শনিবার( ১৩ এপ্রিল) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।

নজরুল বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি দেশটাকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য। যে দেশে ধনী দরিদ্র বৈষম্য থাকবে না, আমার মা বোনরা কারো দ্বারা লাঞ্ছিত হবে না। সে ধরনের একটি বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা লড়াই করেছিলাম। সে বাংলাদেশে যখন ফ্যাঁসিবাদ কায়েম হয়, এটা আমার কথা না। স্বৈরাচার কায়েম হয়, এটাও আমার কথা না। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা করে বের করেছে বিশ্বের যেসব স্বৈরাচারী দেশ আছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। যে দেশ উন্নয়নের কথা বলে, সেই দেশের রাজধানীকে চিহ্নিত করা হয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি দূষিত শহর বলে।’

আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রকে বহাল করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে আবার আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রকে সংবিধানে পুনর্বহাল করেছে। যদি তাই হয় তবে দেশে তো সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রচলিত হওয়ার কথা। কিন্তু আসলে আমরা কি করছি? বাংলাদেশের সবাই জানে এটা একটা মুক্তবাজারের দেশ। মুক্তবাজার অর্থনীতিকে আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে এবং প্রেস কনফারেন্স করে সেটা জাতিকে জানিয়েছে যে তারা মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে। বিশ্বাস করেন মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আর সংবিধানে লেখা সমাজতন্ত্র এই যে দ্বিমুখী নীতি এটা জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া মাদরাসাছাত্রী নুসরাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনতো মানবাধিকার ও মহিলা সংগঠনগুলোকে সোচ্চার হতে দেখি না। আজকে আমরা শুনি নুসরাতকে যারা লাঞ্ছিত করেছে তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা আছে। তাদের একজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সাথে সখ্যতা ক্ষমতাসীন দলের। আমরা দাবি করবো, নুসরাতকে লাঞ্ছনাকারী সে যেই হোক না কেন, তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু হবে কিনা জানি না।’

খালেদা জিয়া কোন অপরাধ করেননি উল্লেখ করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘খালেদা জিয়া কোন অপরাধ করে নাই। তিনি কোন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে এ কথা আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি এবং আদালতে যেসব সাক্ষী প্রমাণ, তা প্রমাণ করতে পারি। কিন্তু তাকে জেল দেওয়া তো বন্ধ করতে পারি না। কারণ, আজকে আইন বিভাগকে পর্যন্ত সরকার তাদের অধীনস্ত করে ফেলেছে। এটাই ফ্যাঁসিবাদের চরিত্র। আজকে আমরা রাজনীতি করবো বিএনপির, আমাদের প্রতিপক্ষ হবে আওয়ামী লীগ। কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ না। আমার প্রতিপক্ষ হলো পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি। একটা মিছিল মিটিং করতে গেলে আমার সামনে তো আওয়ামী লীগ দাঁড়ায় না। এই যে রাষ্ট্রকে বিরোধী রাজনীতির প্রতিপক্ষ বানানো এটাকেই বলে ফ্যাঁসিবাদ, এটাই হলো স্বৈরাচার।’

আয়োজক সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সালাউদ্দীন খানের সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমতুল্লাহ, কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, মিয়া মো.আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা বাতিল ও স্থগিত, নতুন তারিখ ঘোষণা


প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠায় চলমান দাওরায়ে হাদিসের অনুষ্ঠিত সব পরীক্ষা বাতিল করেছে সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া। এছাড়া সামনের পরীক্ষাগুলোও স্থগিত করে পরীক্ষার নতুন তারিখ দেয়া হয়েছে। হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়ার নেতৃত্বাধীন ছয়টি বোর্ডের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আজ শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার মতিঝিলে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে দাওরায়ে হাদিসের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে জরুরি আলোচনা হয় এবং শেষ পর্যন্ত এ বছর অনুষ্ঠিত পেছনের সব পরীক্ষা বাতিল এবং সামনের সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে।

বৈঠকে পরীক্ষার নতুন তারিখও নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত মতে ২৩ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হয়ে ৩ মে শেষ হবে। উক্ত বৈঠকে প্রশ্ন ফাঁসরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন সংস্থার নেতৃবৃন্দ।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সদস্য মুফতি রুহুল আমিন, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমী, মুফতি আরশাদ রাহমানী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা শামসুদ্দিন জিয়া, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু প্রমুখ।

উল্লেখ্য, কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা গত ৮ এপ্রিল শুরু হয়েছিল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৮ এপ্রিল।

আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৬টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মোট ২৬ হাজার ৭২১ জন শিক্ষার্থী এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

হাইয়াতুল উলইয়ার অধীনে ৬টি শিক্ষা বোর্ড হলো- বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ, আজাদ দ্বীনি এদারায়ে তালিম বাংলাদেশ, তানজিমুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়া বাংলাদেশ এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনে ‘কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর সনদকে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল ২০১৮’ পাস হয়।

আইন পাস হওয়ার পরে সংস্থাটির অধীনে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় পরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এর আগে অবশ্য ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল ২০১৭ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি শিক্ষা সনদের মান ঘোষণা করার পর হাইআতুল উলয়ার অধীনে ৬ বোর্ডের সম্মিলিত দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা ইতোপূর্বেও দুইবার (২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উৎসঃ ‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ ‌নারী নির্যাতন মহামারী আকার ধারণ করেছে : রুহুল কবির রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমানে আইনের শাসন নেই বলেই দেশব্যাপী এক ভয়ঙ্কর অরাজক পরিস্থিতি বিদ্যমান। প্রতিদিন নানা দূর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির এক পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁতী দলের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ হুমায়ুন ইসলাম খান। সভায় নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বর্তমানে আইনের শাসন নেই বলেই দেশব্যাপী এক ভয়ঙ্কর অরাজক পরিস্থিতি বিদ্যমান। প্রতিদিন নানা দূর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থার অভাব এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার কারণে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটি বর্তমানে এক জুলুমের নগরীতে পরিণত হয়েছে। মানবতা ও মানবিক মূল্যবোধের অভাবে এবং সরকার নিজ স্বার্থে রাষ্ট্রযন্ত্রকে যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে দেশের মানুষ সর্বদা এক অজানা আশঙ্কায় আতঙ্কিত জীবন অতিবাহিত করছে। দেশের মানুষ এখন পুরোপুরি নিরাপত্তাহীন।

তিনি বলেন, সারাদেশ যেন এক মৃত্যু উপত্যকায় রুপান্তরিত হয়েছে। বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের নিষ্ঠুর শাসন থেকে মুক্তি পেতে জনগণকে সাথে নিয়ে আগামীতে বিএনপি ঘোষিত সকল আন্দোলন-সংগ্রামে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঝাঁপিয়ে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের নেতাকর্মীরাও বীরদর্পে লড়াই চালিয়ে যেতে পিছপা হবে না।

নবগঠিত তাঁতী দলের সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, আমি আশা করি তাঁতী দলের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনটিকে গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। এছাড়া মিডনাইট স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের কবল থেকে হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়সহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সম্পূর্ণ নির্দোষ বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক চারবারের প্রধানমন্ত্রী ও এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে সকল আন্দোলন সংগ্রামে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌চার সিবিএ নেতার অঢেল সম্পদ!


দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের চার সিবিএ (কালেকটিভ বার্গেনিং এজেন্ট) নেতার অঢেল সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে সংস্থাটি।

তাঁরা হলেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সিবিএ সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সিবিএ সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন মিয়া। নিয়োগ-বদলি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসাসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, এর মধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের দুদকে তলবও করা হয়েছে।

তবে তাঁদের সবাই বলেন, সিবিএর নেতৃত্ব থেকে সরাতে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনই তাঁদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন এসব অভিযোগ করেছেন।

পিডিবির দুই নেতার সম্পদের পাহাড়!

পিডিবির সিবিএ সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী সংস্থার সাবেক সহকারী হিসাবরক্ষক। সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন সাবেক স্টেনো টাইপিস্ট। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও তাঁরা সংস্থার যুগ্ম সচিব মর্যাদার কর্মকর্তাদের ব্যবহারযোগ্য পাজেরো গাড়ি ব্যবহার করতেন। অবসরে যাওয়ার দীর্ঘদিন পরও গাড়ি দুটি তাঁদের দখলে ছিল। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দুদক ওই গাড়ি দুটি তাঁদের দখল থেকে উদ্ধার করে পিডিবির পরিবহন পুলে জমা দেয়। ওই সময় দুদক জানিয়েছিল, এ দুজনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক খলিলুর রহমান ১৭ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের দুদকে তলব করেছেন।

তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অনেক দিন ধরে সিবিএর নেতৃত্বে থেকে বোর্ড প্রশাসনের ওপর খবরদারি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন।

দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, সিবিএ সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরী তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়ি অফিসার্স কোয়ার্টারে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত এ ক্যাটাগরির একটি বাসা ১০ বছর ধরে নিজ দখলে রেখে সরকারের লাখ লাখ টাকা ক্ষতি করেছেন। পিডিবির ভলিবল কোচ হিসেবে প্রতিবছর তিন লাখ টাকার অতিরিক্ত সুবিধা নিয়ে সংস্থার আর্থিক ক্ষতি করেছেন। দক্ষিণ বাড্ডা আফতাব নগরের উত্তর পাশে (আনন্দ নগরে) ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফতেপুরে তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ ও একটি ইটভাটা করেছেন। রাজধানীর কুড়িলে একটি কারখানা রয়েছে তাঁর।

দুদকের তথ্যমতে, মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজ নামে যৌথভাবে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে জহিরুল ইসলামের, যার মূলধন কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা। ফার্মগেটের সেজান পয়েন্টে দ্বিতীয় তলায় ছোট ভাই শরিফ চৌধুরীর নামে দুটি দোকান কিনেছেন তিনি। রাজধানীর বাসাবোতে পাটোয়ারী গলির পাশে একটি দামি প্লট আছে। আফতাব নগর পিজিসিবি অফিসের কাছে বিভিন্ন নামে ২৮ কাঠা জমি কিনেছেন তিনি। গুলশান ও মোহাম্মদপুরে রয়েছে দুটি ফ্ল্যাট। শেরপুরে কয়েক বিঘা জমির ওপর কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে যৌথভাবে বাগানবাড়ি তৈরি করেছেন। রংপুরে যৌথ মালিকানায় রয়েছে মেসার্স সরকার ফিলিং স্টেশন। বিভিন্ন ব্যাংকে স্ত্রী-সন্তান ও নিজ নামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জহিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘১০ বছর ধরে দুদকে আমার বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবেই অভিযোগ আসছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।’ যেসব অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেগুনবাড়ির বাসাটি তিনি আন্তর্জাতিক ভলিবল কোচ হিসেবে বরাদ্দ পেয়েছেন। তিনি জানান, আনন্দ নগরে সাড়ে ৪ শতাংশ জমি আছে চারজনের নামে। আর আছে কিছু পৈতৃক সম্পদ। এর বাইরে অবৈধ কোনো সম্পদ নেই। তাঁর দাবি, সব সম্পদের তথ্য আয়কর বিভাগে আছে। দুদককেও কয়েকবার দিয়েছেন।

দুদকের থাকা অভিযোগের তথ্যমতে, সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিনেরও রয়েছে বিপুল সম্পদ। রাজধানীর রাজারবাগের মোমেনবাগে দোলনচাঁপা অ্যাপার্টমেন্টে তাঁর আছে কোটি টাকার বেশি দামের ফ্ল্যাট। শরীয়তপুরের পালং থানার স্বর্ণঘোষ গ্রামে তিনি নির্মাণ করেছেন ডুপ্লেক্স বাড়ি। রাজধানীর শ্যামপুরের শাহজালালবাগে আছে ছয় কাঠার প্লট। জুরাইন চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায় পাঁচ কাঠা জমির ওপর আছে টিনশেড বাড়ি। মাতুয়াইলের সাদ্দাম মার্কেট এলাকায় তুষারধারা আবাসিক প্রকল্পে আছে দুটি প্লট। গ্রামের বাড়িতে কিনেছেন বিপুল পরিমাণ জমি। স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়ের নামে জনতা ব্যাংক ওয়াপদা শাখা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক , ইসলামী ব্যাংকের দিলকুশা শাখা, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক দিলকুশা শাখা, ইস্টার্ণ ব্যাংকের জীবন বীমা ভবন শাখা, সোনালী ব্যাংকের শরীয়তপুর শাখা, জনতা ব্যাংকের রাজারবাগ শাখা ও জনতা ব্যাংকের বায়তুল মোকাররম শাখায় বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা আছে। আল ইমরান এন্টারপ্রাইজ, আলী অ্যান্ড বসির এন্টারপ্রাইজ ও আল আমিন এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা করছেন তিনি। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতি করে অতিরিক্ত কয়েক বছর চাকরি করে সরকারের মোটা অঙ্কের টাকা ক্ষতি করার অভিযোগ আছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে মো. আলাউদ্দিন মিয়ার ফোনে বহুবার যোগাযোগ করলেও পাওয়া যায়নি।

বিআইডব্লিউটিএর দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়:

বিআইডব্লিউটিএর সিবিএ সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তার সপক্ষে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রফিকুল ইসলামকে সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে তাঁদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও পরিবারের সদস্যদের সব সম্পদ, ব্যাংক হিসাবসহ ১২ ধরনের তথ্য চাওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ এপ্রিল তলব করা হলেও তিনি দুদকে হাজির হননি। আবুল হোসেনও তাঁর সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন।

দুদকে আসা তথ্যমতে, সিবিএর সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের টোল আদায়কারী রফিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার মাসদাইর মৌজায় ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ বাড়ি কিনেছেন। ফতুল্লা সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে রেজিস্ট্রি হওয়া দলিলে (নম্বর ১০৯৪৪) পাকা ভবনসহ জমির দাম দেখানো হয় ৮৫ লাখ টাকা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ভবনসহ ওই জমির প্রকৃত বাজারমূল্য ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর বাইরে মানিকগঞ্জের শিবালয়ের তেওতা মৌজায় তিন পর্যায়ে মোট ৮৬ শতাংশ জমি কেনেন। এসব জমির দাম প্রায় ১০ কোটি টাকা। এর বাইরে তাঁর গাড়িও আছে একটি।

রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শাহীদা বেগম গৃহিণী হলেও তিনি নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যার তীরে ‘মেসার্স ইব্রাহিম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’ নামের একটি ডকইয়ার্ডের মালিক। এই ডকইয়ার্ড তৈরির জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে তাঁর নামে ২০ কাঠা জমি ইজারা নেওয়া হয়। ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম হোসাইনের নামে নারায়ণগঞ্জের গন্ধাকুল এলাকায় মেসার্স ইব্রাহিম ইঞ্জিনিয়ারিং ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ওয়ার্কশপ নামে আরেকটি ডকইয়ার্ড আছে। এটি নির্মাণের জন্য ইজারা নেওয়া হয় ছয় হাজার বর্গফুট জমি। আইন অনুসারে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারী বা তাঁদের নিকটাত্মীয়দের নামে নদীতীরের জায়গা ইজারা দেওয়ার বিধান নেই। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে মেজ ছেলে ওমর ফারুককে বিআইডব্লিউটিএতে মার্কম্যান পদে চাকরি দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম অবৈধ সম্পদ অর্জনের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, দুদকে সব সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন। এরপরও তাঁকে দুদকে তলব করায় চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়ে হাজির হননি।

সিবিএ সভাপতি আবুল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে তাঁর জামাতার নামে করা লাইসেন্সের মাধ্যমে (এয়ারটেল বিডি লিমিটেড) ঠিকাদারি ব্যবসা করে বিপুল অর্থ আয় করছেন। বিধি অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা তাঁদের নিকটাত্মীয় সংস্থার কোনো লাভজনক কাজে যুক্ত হতে পারেন না। অভিযোগ আছে, আবুল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে আপন ছোট ভাইকে চাকরি দিয়েছেন। চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের মেহেদী হাসানকে অষ্টম শ্রেণি পাস দেখিয়ে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে তাড়াহুড়া করে জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স সংশোধন করা হয়। তবে মেহেদীর এসএসসি পাসের সনদে দেখা যায়, তাঁর বয়স চল্লিশের বেশি।

এ প্রসঙ্গে আবুল হোসেনও সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো অবৈধ সম্পদের মালিক নই।’

প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দুদকে থাকা অভিযোগে আরও বলা হয়, তাঁদের অবৈধ আয়ের অন্যতম উৎস নিয়োগ-বদলি। তাঁদের অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকে শারীরিক নির্যাতন ও কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে ঢাকার বাইরে বদলি করার অভিযোগ আছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জীব দাশ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক তুষার কান্তি বণিক, মুজিবর রহমান, মাযহার হোসেন প্রমুখ। তাঁদের মধ্যে তুষার কান্তি বণিককে বদলি করা হয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন ফেসবুকে শেয়ার করার অভিযোগে। সদরঘাটে অনিয়ম নিয়ে প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন ফেসবুকে শেয়ার করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকার বাইরে বদলি করে দেওয়া হয়।

এই দুই নেতার হাত থেকে বাঁচতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও সেভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি তাঁদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর দুই সিবিএ নেতাই বলেন, ‘যেসব অনুসন্ধান হচ্ছে, তা নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। কিন্তু যাঁরা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা বিএনপি-জামায়াতের লোক। সিবিএ থেকে আমাদের সরানোর চেষ্টায় মনগড়া অভিযোগ করা হয়েছে।’

উৎসঃ ‌prothomalo

আরও পড়ুনঃ ‌কারাগারে আরজুর মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, এটি হত্যা: বিএনপি

কারাগারে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ শামীম আরজু’র মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, এটি একটি হত্যা বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা এম এ শামীম আরজু’র মৃত্যুতে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে গভীর শোক ও দূঃখ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ কারাভ্যন্তরে তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, বরং এটি একটি হত্যা। সরকারের নীলনকশা অনুযায়ী আরজুকে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হলো। কারাকর্তৃপক্ষের চক্রান্তে আরজু’র মৃত্যুর জন্য সরকারই দায়ী। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি-কে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তার গতিশীল নেতৃত্বের জন্যই তিনি সরকারের প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী সরকার দেশে পুরনো বাকশাল ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন ও দেশকে গণতন্ত্রশূন্য করার লক্ষ্যে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, গুমসহ তাদের বিরুদ্ধে অসত্য মামলা দায়ের করে পাইকারী হারে গ্রেফতারের মাধ্যমে কারাগারগুলো ভরে ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘সত্যকে মিথ্যায় এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পুলিশকাস্টডিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শেখানো বুলি বলানোর জন্য বিরোধী নেতাকর্মীদেরকে রিমান্ডে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হচ্ছে। পাশবিক নিপীড়ন-নির্যাতনে কারাগারে বন্দি অসুস্থ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিনাচিকিৎসায় ফেলে রাখা হয়। হাসপাতালে ভর্তি করে তাদের জীবন বাঁচানোর কোনো চেষ্টা করা হয় না। নিষ্ঠুর দমনের বিভিষিকায় বাংলাদেশে বিরোধী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার অভিযান চালানোর অংশ হিসেবে কারাগারে বন্দি বিএনপি নেতাকর্মীদের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। কেউ যাতে টু শব্দ করতে না পারে সেজন্য কারাগারের ভেতরে বাহিরে চলছে বিরোধী দলের সক্রিয় নেতাদের জীবন হরণে নানাবিধ অমানবিক আচরণ। দুর্বিনীত দুঃশাসনের করাল গ্রাসে দেশবাসী অজানা আশঙ্কায় আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা সরকারি দমননীতির শিকার হয়ে শুধু বাহিরেই নয় মিথ্যা মামলায় কারাভ্যন্তরেও জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। একের পর এক কারাগারের ভেতরে বিএনপি নেতাদের জীবন চলে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া কারাগারে চিকিৎসা দিতে কারা কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় এম এ শামীম আরজু’র অকাল মৃত্যুতে মরহুমের পরিবারবর্গের ন্যায় আমিও সমানভাবে সমব্যাথী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ও বলিষ্ঠ সংগঠক মরহুম এম এ শামীম আরজু কুষ্টিয়া জেলা বিএনপিতে অত্যন্ত সুপরিচিত একটি নাম।’

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা এম এ শামীম আরজু কারাগারে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুতে দল ও দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়ে ত্যাগের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো তা মহিমান্বিত। এই শোকাবহ ঘটনা গণতন্ত্রের সংগ্রামে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদেরকে আরও শক্তি যোগাবে। আমি সরকারের এহেন মানবতাবিরোধী ঘৃন্য আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।

কারাগারে মৃত্যুবরণকারী এম এম শামীম আরজু’র রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারবর্গ, শুভানুধ্যায়ী ও গুনগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান বিএনপি মহাসচিব।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন এ বিএনপি নেতা। এরপর থেকে কারাবন্দি ছিলেন তিনি।

এর আগে সকালের দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে উঠলে আরজুকে নেয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। দুপুরে হাসপাতাল থেকে তাকে আবারও নেয়া হয় কারাগারে। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে নেয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে নেয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়।

তার স্ত্রী হাসিনা শামীম বলেন, বিনা অপরাধে আমার স্বামীকে (আরজু) পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। অসুস্থ অবস্থায় ২৬ মার্চ কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন আরজু। কিন্তু কোনো প্রকার কারণ ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অথচ তাকে গ্রেফতার দেখানো হয় পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের মামলায়। মিথ্যা কলঙ্ক নিয়ে তাকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হলো। যাদের জন্য আমার স্বামীর মৃত্যু হলো তাদের বিচার আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিলাম।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বিএনপি নেতা আরজুর মৃত্যু হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা ছিল তাকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার। গুরুতর অসুস্থ আরজুকে সকালে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কেন তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হলো। সে সময় হাসপাতালে ভর্তি রাখা হলে হয়ত এমন পরিণতি নাও হতে পারত।

উল্লেখ্য, এমএ শামীম আরজু কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন কুষ্টিয়া শহর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেন তিনি।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌‘বর্তমানে নিজের ইচ্ছায় ভোট দিলে ধর্ষিত হতে হয়’


নারী সংহতি সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আমরা এমন একটা সমাজে আছি যেখানে নিজের ইচ্ছায় ভোট দিলে ধর্ষিত হতে হয়। যেখানে শ্রমিক তার মজুরি দাবি করলে তাকে সুমনের মতো গুলি খেয়ে মরতে হয়। যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে দাঁড়ালে আগুনে ঝলসে প্রাণ দিতে হয়। এই সমাজে চাটুকার, দাস মনোবৃত্তির না হলে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে গেছে। এমন সমাজ ও রাজনীতির মধ্যেও আমরা নুসরাতসহ সারাদেশের নারীর নিরাপত্তা, মানুষ হিসেবে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দাঁড়িয়েছি।

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে প্রতিবাদ ও সংহতি সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। শাহবাগে নুসরাতের ছবি হাতে ‘আমরা সবাই নুসরাত, নুসরাত হত্যার বিচার চাই’ এই স্লোগানে নারী সংহতি এই সংহতি সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রতিবাদ ও সংহতি সমাবেশে বক্তব্য দেন নারীপক্ষের শিরিন হক, গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, শিল্পী কফিল আহমেদ, অরূপ রাহী, আলোকচিত্রী সাদিয়া রূপা। সমাবেশে নারী সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ, নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগঠক পপি রানী সরকার, নারী সংহতির সদস্য রেক্সোনা পারভীন, মান্দাইল জেলার সংগঠক লিপি বেগম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারী সংহতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতার। সঞ্চালনা করেন নারী সংহতির সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল মরিয়ম।

সংহতিতে বক্তারা বলেন, নুসরাতকে হারানোর বেদনা যেমন বোধ করছি একইসঙ্গে তার ওপর যে বর্বর অত্যাচার হয়েছে তার প্রতিবাদ জানাই। নুসরাত হত্যায় যুক্ত সোনাগাজী মাদরাসার ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন, কর্মী নুরুদ্দিন, নূর হোসেন এবং মাদরাসার গভর্নিংবডির সদস্য রুহুল আমিন এবং সেখানকার কাউন্সিলর মকসুদ আলমসহ আরো অনেকে।

এরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। এখানে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং আশ্রয়ে এই নির্যাতকরা টিকে আছে। মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে ক্ষমতাসীনরা ধর্ষক, খুনি-নির্যাতক, সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।

এখন মানুষ বেডরুম থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে, গণপরিবহনে নির্যাতনের শিকার হন। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার দাবি তুলেছে, নিরাপদ সড়কের দাবি তুলেছে একইসঙ্গে নিরাপদ বাংলাদেশের দাবি তুলেছে।

বক্তারা বলেন, নুসরাত মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করেছে। নুসরাতের পরিবার থানায় মামলা করেছে। নুসরাতের ওপর আগেও একবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। সে সময় তার বিচার হয়নি। থানার ওসিও এবার নুসরাতের নিপীড়কের পক্ষ নেয়। নুসরাতকে মামলা তুলে নিতে সোনাগাজী মাদরাসার অধ্যক্ষের সহযোগীরা হুমকি দেয়।

হুমকিতেও যখন নুসরাতের মুখ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি তখন তার গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। সোনাগাজীতে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলা এই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটিয়েছেন।

সংহতি বক্তব্যে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে নুসরাতের মতো আরো যত নারী ধর্ষিত হচ্ছে, খুন ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সে সবের কোনো বিচার হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, কারখানার শ্রমিকেরা নিপীড়ক-নির্যাতক-ধর্ষকের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। ধর্ষক-নিপীড়কদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। কারণ প্রতিবাদ করা ছাড়া বেঁচে থাকার আর কোনো উপায় নাই। তা যদি না পারি তবে নুসরাতের মতো ঘটনা আরো ঘটতে থাকবে।

বক্তারা বলেন, যেই সরকার একটি নির্বাচন করতে পারে না, অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখে, জনগণকে মুখ খুলতে দেয় না, মত প্রকাশ করতে দেয় না, শ্রমিকের কথা বলতে দেয় না- সেই সরকার নিয়ে আমাদের জনগণকে প্রশ্ন করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ-কারখানার শ্রমিক-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক হতে হবে। ক্ষমতার কাছে ধর্ণা না দিয়ে আমাদের লড়াই করতে হবে। আমাদের সম্মান ও আত্মমর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সমাবেশ থেকে সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারী সংহতিসহ বাংলাদেশের সকল শ্রেণি পেশার নারী ও সব প্রগতিশীল সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায় নারী সংহতি। সমাবেশ শেষে শাহবাগ থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহীদ মিলন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌নুসরাত প্রমাণ করল দেশে আইনের শাসন নেই: মির্জা ফখরুল (ভিডিও সহ)


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শুধু বিএনপি নয়, পুরো দেশ সংকটে আছে। এই বেআইনি ও দখলদার সরকারের কারণে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ধ্বংস হয়ে গেছে।’

শুক্রবার বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতীপাড়ার নিজ বাসবভনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার মা ফাতেমা আমীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ও বাবা মির্জা রুহুল আমীনের কবর জিয়ারতে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁওয়ে যান।

ফখরুল আর বলেন, বাংলাদেশে তো এখন কোনো রাজনীতি নেই। রাজনীতি তো একটা দলের কাছে চলে গেছে। সেই দলের হাতেই এখন আইনের শাসনব্যবস্থা, পুলিশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ হয়। সাংবাদিকরাও এখন সত্য প্রকাশ করতে পারে না। মানুষের বাকস্বাধীনতা নেই এখন, তাই অন্যায়কারীরা নির্দ্বিধায় অন্যায় করছে। তারা ভয় পায় না এখন।

ভিডিওঃ ‘নুসরাত প্রমাণ করল দেশে আইনের শাসন নেই: মির্জা ফখরুল (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তিনি বলেন, ‘এই যে নুসরাত, সে আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। এই দেশে যে কোনো শাসনব্যবস্থা নেই, আইনের প্রতি মানুষের ভরসা নেই- তা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিল নুসরাত।’

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামে বিজিবির গুলিতে স্কুলছাত্রসহ তিন গ্রামবাসী নিহতের ঘটনায় যে মামলা খারিজ হয়েছে সেই প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার প্রশাসন, আইন সব নিজ দখলে রেখেছে তার প্রমাণ গরিবের বিচার না পাওয়া। এটা একটা বেআইনি দখলদার সরকার বসে আছে। আমরা সরকারকে বলেছি এই নির্বাচনকে বাতিল করে পুনরায় একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সহসভাপতি আবু তাহের দুলাল, জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক মামুন-উর-রশিদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সোহাগসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কোনো মুসলমান মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারে না: আল্লামা শফী


হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবে মঙ্গল শোভাযাত্রার যে আয়োজন করা হয় তা ইসলামি শরিয়ত সমর্থন করে না। কোনো মুসলমান মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারে না।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

বিবৃতিতে আল্লামা আহমদ শফী বলেন, ষোড়শ শতকে মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে বর্তমানের যে বাংলা বর্ষপঞ্জি তৈরি হয় তা ফসল রোপণ এবং কর আদায় সহজ করার উদ্দেশ্যেই করা হয়। হালখাতা, পিঠাপুলি বানানোর মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ যেভাবে উদযাপন হয়ে আসছিল তাতে নতুন নতুন যেসব আয়োজন যোগ হচ্ছে তাতে যেমন ধর্মীয় বিধানাবলির বিপরীতে অবস্থান নেয়া হচ্ছে তদ্রূপ আমাদের সংস্কৃতি হুমকিতে পড়ছে। কারণ জাতীয়তার চেয়ে জাতিসত্তার পরিচয় বড়।

তিনি বলেন, আর আমরা লক্ষ করছি এসব আয়োজনে ধীরে ধীরে যেভাবে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটছে যা বাংলাদেশি মুসলমানদের জন্য কখনোই কল্যাণকর হবে না।

আল্লামা শফী আরও বলেন, মানুষের জীবনের কল্যাণ ও মঙ্গল-অমঙ্গল সবকিছুই আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআলার হুকুমে হয়। পৃথিবীর সব বিশ্বাসীরা এটাই বিশ্বাস করেন। কোনো মূর্তি,ভাস্কর্য,পোস্টার, ফেস্টুন ও মুখোশে মঙ্গল-অমঙ্গল থাকতে পারে না। বাঘ, কুমির, বানর, পেঁচা, কাকাতুয়া, ময়ূর, দোয়েলসহ বিভিন্ন পশুপাখি মঙ্গল আনতে পারে না।

এসব বিশ্বাস যেমন ইসলামি শরিয়তবিরোধী চেতনা তদ্রূপ এমন আধুনিক সময়ে মূর্তি-ভাস্কর্য ও জীবজন্তুর ছবিতে মঙ্গল-অমঙ্গল কামনা করা একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধ্যান-ধারণা বলেও মন্তব্য করেন হেফাজত আমির।

আল্লামা শফী প্রশ্ন রেখে বলেন, প্রতিবছর পহেলা বৈশাখের সকালে বাদ্যযন্ত্রের তালে নানা ধরনের বাঁশ-কাগজের তৈরি মূর্তি, পেঁচার আকৃতি ও মুখোশ হাতে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট থেকে মাত্র ২৮ বছর আগ থেকে শুরু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা কীভাবে সার্বজনীন বাঙালি উৎসব ও সংস্কৃতি হতে পারে?

তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা যারা আবেগের বশবর্তী হয়ে, ভুল ধারণায় প্ররোচিত হয়ে কিংবা বয়সের কারণে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও গানবাদ্যের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করো তারা নিজেদের বিরত রাখো। যৌবনকাল আল্লাহ তাআলার প্রদত্ত সবচেয়ে বড় নেয়ামত। তোমাদের মূল্যবান সম্পদ ‘তারুণ্য’ যিনি দান করেছেন তার ইবাদতে ও তার সন্তুষ্টিতে তা কাজ লাগাও। জীবন সুন্দর হবে, আত্মিক প্রশান্তি লাভ করবে।

মুসলিম জনতার উদ্দেশে আল্লামা শফী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশে যেভাবে অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, ধর্ষণ ও পাপাচার বেড়ে চলছে এর থেকে পরিত্রাণ পেতে আমাদের উচিত মহান আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করা। তার ইবাদাতে মগ্ন হওয়া। নিজেদের আত্মিক পরিশুদ্ধতা অর্জনে চেষ্টা-সাধনা করা। কারণ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি ও পরিশুদ্ধতা ছাড়া শুধু মানবরচিত আইনের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার গজব ও পাপাচার থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব না।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগ পুলিশ-র‌্যাবের ভিক্ষা দেয়া ভোটে নির্বাচিত: মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল


আওয়ামী লীগ প্রশাসনের দয়া দাক্ষিণ্য নিয়ে চলছে মন্তব্য করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, এ আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ-র‌্যাবের ভিক্ষা দেয়া ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। তাদের ভিক্ষা দেয়া ভোটে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাই এ সরকারের কাছে আমরা এর চেয়ে বেশি কী আশা করতে পারি।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে জিয়া আদর্শ একাডেমি আয়োজিত ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও হাবিব-উন নবী খান সোহেলসহ সব কারাবন্দি নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি’তে প্রতিবাদসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব বলেন। ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যার বিচার দাবি করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আজ নুসরাতের যে অবস্থা হয়েছে, এটি তো বাংলাদেশের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। আজ গোটা দেশই তো নুসরাতে পরিণত হয়েছে। সারা দেশ আজ ধর্ষিত, অগ্নিদগ্ধ। আর ফেনীর সোনাগাজীতে কী হয়েছে তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই ভালো জানেন।’

তিনি বলেন, ‘নুসরাত আজ চলে গেছে। তাকে যে ওসি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, সেই ওসির কত বড় দুঃসাহস সেই জিজ্ঞাসাবাদ ভিডিও করল। সেই ভিডিওটি আবার প্রকাশ করল কীভাবে? তার বিরুদ্ধে প্রথম সাইবার সিকিউরিটি আইনে একটি মামলা করে তাকে রিমান্ডে আনা উচিত। কিন্তু সেটি এ আওয়ামী শাসকরা করবে না। কারণ এরা তো সরকার না- এরা হচ্ছে শাসক।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আজম খানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, কৃষক দল নেতা মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, মৎসজীবী দল নেতা ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘কুষ্টিয়া কারাগারে বিএনপি নেতার মৃত্যু নয়, বরং এটি হত্যা ’


কারাগারে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ শামীম আরজুর মৃত্যু স্বাভাবিক নয়; বরং এটি একটি হত্যা বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন।

আরজুর মৃত্যু প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কারাভ্যন্তরে তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, বরং এটি একটি হত্যা। সরকারের নীলনকশা অনুযায়ী আরজুকে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হলো।

কারা কর্তৃপক্ষের চক্রান্তে আরজুর মৃত্যুর জন্য সরকারই দায়ী। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপিকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে তার গতিশীল নেতৃত্বের জন্যই তিনি সরকারের প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত হয়েছেন।

তিনি বলেন, সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পুলিশ কাস্টোডিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শেখানো বুলি বলানোর জন্য বিরোধী নেতাকর্মীদের রিমান্ডে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

পাশবিক নিপীড়ন-নির্যাতনে কারাগারে বন্দি অসুস্থ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিনাচিকিৎসায় ফেলে রাখা হয়। হাসপাতালে ভর্তি করে তাদের জীবন বাঁচানোর কোনো চেষ্টা করা হয় না।

এরই অংশ হিসেবে কারাগারে বন্দি বিএনপি নেতাকর্মীদের বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, বলেন ফখরুল।

প্রসঙ্গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন এ বিএনপি নেতা। এর পর থেকে কারাবন্দি ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালের দিকে হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে তাকে নেয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। দুপুরে হাসপাতাল থেকে তাকে আবারও নেয়া হয় কারাগারে।

কিন্তু বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আবার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে নেয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে নেয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তাপস কুমার সরকার জানান, বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে এমএ শামীম আরজুর মৃত্যু হয়। তিনি ব্রেইনে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা গেছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘বেইমান মোকাব্বির’কে অনুষ্ঠান থেকে বের দিলো বিএনপি


সিলেটে বিএনপি ও মহিলা দল নেতাদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান।

বৃহস্পতিবার তিনি সিলেট জেলা পরিষদে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান। সেখানে গিয়ে দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেয়ায় বিএনপি ও মহিলা দলের নেতাদের রোষানলে পড়েন মোকাব্বির খান। পরে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিলেট জেলা পরিষদে বেলা ১১টায় আইডিয়া নামক একটি এনজিও সংস্থার উদ্যোগে ‘ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইনসহ বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান এমপি সেখানে উপস্থিত হন। তখনই উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতারা তখন আইডিয়া কর্তৃপক্ষকে ডেকে আনেন এবং মোকাব্বির খানকে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেয়ার অনুরোধ জানান। এ অনুরোধে আইডিয়া কর্তৃপক্ষ মোকাব্বির খানকে হল থেকে বের করে দেন। এ সময় মহিলা দল নেতারা তাকে লাঞ্ছিত ও অপমান করেন।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, কোনো বেইমানের সঙ্গে আমরা অতিথি হতে পারি না। বেইমানের কোনো ধর্ম নেই, সমাজ নেই। বেইমান শুধু বেইমান-ই। তাই মোকাব্বির খানকে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

গত ২ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ নেন মোকাব্বির খান। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এরআগে শপথ নেয়ার দুইদিন পর গত ৪ এপ্রিল গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ‘ধমক’ শুনে বেরিয়ে যান মোকাব্বির খান।

এদিন মোকাব্বির খান চেম্বারে এসে ড. কামালকে সালাম দিতেই তিনি চরম রাগান্বিত হয়ে বলেন- আপনি এখান থেকে বেরিয়ে যান, গেট আউট, গেট আউট। আমার অফিস ও চেম্বার আপনার জন্য চিরতরে বন্ধ।

এর আগে ৭ মার্চ শপথ নেয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ৬ মার্চ সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত পাল্টান মোকাব্বির খান। দলীয় চাপের মুখে তিনি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। তবে ওই দিন অর্থাৎ ৭ মার্চ শপথ নেন গণফোরামের আরেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।

প্রসঙ্গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে গণফোরামের প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোকাব্বির খান। তিনি সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়ী হন। এই আসনে প্রথমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তার মনোনয়ন বাতিল হলে মোকাব্বিরকে সমর্থন দেয় ঐক্যফ্রন্ট।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ উন্নয়নের জোয়ারে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ভেঙ্গে পড়েছে!


শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের ভাষায়- দেশ এখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। শেখ হাসিনা প্রতি সপ্তাহে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫০-১০০ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করছেন। শেখ হাসিনার নামে করা উন্নয়নের সাইনবোর্ড লাগানো নেই এমন এলাকা এখন বাংলাদেশে কমই আছে। তার দাবি-তিনি মানুষকে উন্নত জীবন দিয়েছেন। মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিদ্যুৎ দিয়েছেন, গ্যাস দিয়েছেন, ঘরবাড়ি করে দিয়েছেন, গরু-ছাগল, হাস-মুরগি দিয়েছেন, গ্রামের মহিলাদের হাতে মোবাইল দিয়েছেন, ইন্টারনেট দিয়েছেন, গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবাসহ আরও অনেক কিছু তিনি করে দিয়েছেন। এ সবই নাকি ছিল তার বাবার স্বপ্ন।

দেশের মানুষও এখন সরকারের এত সেবা পেয়ে সারাদিন খুশিতে ঠেলায় ঘুরে বেড়ায়। সমস্যা হলো বেড়াতে গিয়ে মানুষ আর নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারে না। আবার অনেকে নিরাপত্তহীনতার কারণে বাইরে যেতেও ভয় পায়। দেখা গেছে, দেশে এখন প্রতিদিন খুন, হত্যা, ধর্ষণ, যৌনহয়রানি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাদাবাজি, গুম, অপহরণসহ সামাজিক অপরাধ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যদিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করতে হয়। প্রায় দিনই বখাটে ছেলেদের কর্তৃক যৌণ হয়রানি ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। জীবনের ভয়ে প্রতিবাদও করা করতে পারে না তারা। প্রতিবাদ করলেই ছুরিকাঘাত কিংবা এসিড ছুড়ে হত্যা করা হচ্ছে। শুধু বখাটে ছেলেই নয়, শিক্ষকদের দ্বারাও এখন ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে মেয়েরা।

সর্বশেষ উদাহরণ হলো-ফেনীর মাদরাসা অধ্যক্ষের রোষানলের শিকার হয়ে মারা যাওয়া নুসরাত। বলা যায়, দেশে এখন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদের এখন কোথাও নিরাপত্তা নেই। এমনকি বর্তমানে নিজেদের বাসার ভেতরও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে মেয়েরা। প্রায় দিনই দেখা যাচ্ছে, প্রভাবশালী কিংবা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা দলবল নিয়ে ঘরে ঢুকে মাকে বেধে মেয়েকে ধর্ষণ করছে কিংবা মেয়েকে বেঁধে মাকে ধর্ষণ করছে। এছাড়া প্রতিবাদ করতে গিয়ে আবার ছুরিকাঘাত বা হত্যার শিকারও হচ্ছে অনেকে।

এছাড়া, দেশে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পোশাক কারখানায় ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবি মেয়েরাও। বিশেষ করে নারী পোশাক শ্রমিকরা প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে। এক কথায় বলা যায়-বর্তমানে দেশের নারী সমাজ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে জীবন যাপন করছে। ঘর থেকে বেরিয়ে আবার যে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বাসায় ফিরতে পারবে সেই গ্যারান্টি এখন নেই।

এরপর, দেশে এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি। এখন আর রাতে নয়, দিনের বেলাতেই রিক্শা, সিএনজি থামিয়ে ও পথচারীদের গতিরোধ করে সব কিছু লুটে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। প্রতিবাদ করলেই ছুরিকাঘাত। আর রাতের বেলা নেমে আসে এক ভয়াবহ আতঙ্ক। এর সঙ্গে চোর-ডাকাতদের আক্রমণের শিকার হচ্ছে মানুষের বাসা বাড়িও। বলা যায়-ঘরে বাইরে সবখানেই মানুষ এখন নিরাপত্তাহীন।

দেশে এখন আরেক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম হচ্ছে গুম-অপহরণ। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে অপহরণের ঘটনা। নিখোঁজ হওয়া মানেই লাশ হয়ে ফিরে আসা। বিশেষ করে দেশে এখন শিশু ও স্কুল-কলেজে পড়ুয়া কিশোররা বেশি অপহরণের শিকার হচ্ছে। গত সপ্তাহে ফেনী ও চলতি সপ্তাহে ঢাকার ডেমরায় দুইটি স্কুল পড়ুয়া শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর পাওয়া গেল তাদের লাশ। এমন ঘটনা এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই ঘটছে। ছেলে-মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষ এখন চরম আতঙ্কে আছে।

এসব সামজিক অপরাধের সঙ্গে আছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিপীড়ন, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও মানুষের জমি দখলের ঘটনা।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে সরকার বিরোধীদল দমনের কাজে ব্যস্ত রাখায় সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। জনগণের নিরাপত্তার চেয়ে সরকার বিরোধীদল দমনের প্রতিই বেশি মনোযোগী। সরকার দেশের এমনই উন্নয়ন করেছে যে, একজন নাগরিকের এখন আর স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here