রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যেতে যুক্তরাষ্ট্রসহ ১২ দেশের আহ্বান

0
199

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যেতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ১২ টি দেশ আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মিয়ানমারে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি উদ্বেগও প্রকাশ করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর আয়োজিত ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আয়োজিত মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে দেশগুলো একটি উদ্বেগের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৭ লাখেরও বেশি মানুষ। বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বাস করা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। মিয়ানমারে ফিরলে আবারও নিপীড়নের শিকার হতে পারেন এমন শঙ্কায় রয়েছেন এসব রোহিঙ্গা।

১২টি দেশের স্বাক্ষর করা বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেন সাংবিধানিকভাবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া নিপীড়নকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করে সবাইকে মানবিক সহায়তা পৌছানোরও আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা রাখাইনে ভয়াবহ সহিংসতা ও রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের ঘটনায় উদ্বিগ্ন। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে সাত লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে। রাখাইনেও বাস্তুচ্যুত হয়েছে অনেকে।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এমন সম্মেলন আয়োজন করলো যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউক্রেন, আজারবাইজান, সাইপ্রাস, জর্ডান, জর্জিয়া ও মার্শাল দ্বীপ। বিবৃতিতে বিশ্বের অন্য দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা ও অন্য মুসলিম সম্প্রদায়সহ মিয়ানমারের অনেক সংখ্যালঘুরা তাদের বিশ্বাসের কারণে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। বলা হয়, ‘আমরা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি যেন রাখাইনে রোহিঙ্গা নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হয়।

মিয়ানমারে ২০২০ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্যায়কারীদের বিচারের আহ্বান জানায় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তারা বলেন, ‘আমরা নাগরিকত্ব, ভোটাধিকারসহ সমঅধিকার বাস্তবায়নের গুরুত্বারোপ করছি।

দুইদিন আগেই মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল রাখাইনে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয় ওয়াশিংটন। পররাষ্ট্র দফতর থেকে জানানো হয়, সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাংসহ আরও তিনজন সেনা ও তাদের পরিবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ওই চিঠি ছাড়াও সন্ত্রাস-বিরোধীসহ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবেলায় নিরাপত্তা বিষয়ক আরেকটি স্টেটমেন্ট অব কনসার্ন চিঠিতে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ।

উৎসঃ রয়টার্স

আরও পড়ুনঃ নেপাল ও ভারতে বন্যার পানি বাড়ছে, এ নিয়ে যে কোনো সময় সঙ্ঘাতের শঙ্কা


নেপাল ও ভারতে বন্যার পানি বাড়ছে। এ নিয়ে দেশ দু’টি একে অপরকে দোষারোপ করা শুরু করেছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তাপ বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বন্যার বিষয়টি আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি এ নিয়ে যে কোনো সঙ্ঘাতের সূচনা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানি সম্পদের বিষয় বিবেচনা করলে নেপাল এবং ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক কখনোই সহজ ছিল না। সা¤প্রতিক সময়ে বর্ষাকালে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরো খারাপ হতে শুরু করেছে। চলতি বছর বন্যা পরিস্থিতি এই অঞ্চলে বেশ খারাপ আকার ধারণ করেছে। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কে আরো উত্তাপ ছড়িয়েছে এই বন্যা পরিস্থিতি। সীমান্তের দুই পাশের বাসিন্দারা নিজেদের দুঃখ-কষ্টের জন্য পরস্পরকে দায়ি করছে।

ভারত এবং নেপালের মধ্যে প্রায় এক হাজার ৮০০ কিলোমিটার অভিন্ন সীমান্ত রয়েছে। নেপাল থেকে ভারতের উত্তরাঞ্চলে প্রায় ছয় হাজার নদী ও জলধারা প্রবাহিত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ভারতের গঙ্গা নদীতে প্রায় ৭০ শতাংশ পানি আসে নেপাল থেকে প্রবাহিত এসব নদী এবং জলধারা থেকে। যখন এসব নদীতে পানি বেড়ে যায়, তখন নেপাল এবং ভারতে বন্যা দেখা দেয়।

গত কয়েক বছর ধরে ভারত তার সীমান্তের ভেতরে বাঁধ নির্মাণ করায় নেপালের সীমান্তে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কারণ, নেপাল থেকে ভারতের দিকে যে বন্যার পানি প্রবাহিত হয় সেটিকে আটকে দেবার জন্য এসব বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। দুই বছর আগে নেপালের পূর্বাঞ্চলে গিয়ে বিবিসি দেখতে পায় যে শুধু বন্যার পানি আটকে দেবার জন্য ভারতীয় অংশে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এই বাঁধ নিয়ে নেপালের দিক থেকে আপত্তি তোলার পর ২০১৬ সালে সীমান্তে উভয় দেশের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।

নেপাল বলছে এ ধরণের ১০টি বাঁধ রয়েছে যেগুলো নেপালের ভেতরে হাজার-হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত করছে। এদিকে ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তে যেসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলো রাস্তা। কিন্তু নেপালের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব স্থাপনা প্রকৃত পক্ষে বাঁধ। যার মাধ্যমে ভারতের গ্রামগুলোকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে গাউর নামক এলাকা গত বেশ কয়েকদিন যাবত পানিতে প্লাবিত। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন এ নিয়ে যে কোন সঙ্ঘাতের সূচনা হতে পারে। নেপালের আর্মড পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা কৃষ্ণা ধাকাল বলেন, অনেক আতঙ্কের পর ভারতীয় অংশে বাঁধের কয়েকটি গেট খুলে দেয়া হয়েছে এবং এতে আমরা উপকৃত হয়েছি।

ভারতীয় কর্মকর্তারা এ নিয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি। দুই দেশের কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আলোচনা করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাতে কোনো ফলাফল আসেনি। নেপাল এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্কে আরো উত্তাপ ছড়িয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। নেপালের আলোচক এবং ক‚টনীতিকরা নিজ দেশের ভেতরে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অনেকে মনে করেন নেপালের কর্মকর্তারা ভারতের কাছে বিষয়টি কার্যকর ভাবে তুলে ধরতে পারছেন না।

কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে ভারতীয় অংশে কোন বন্যা হচ্ছে না। ভারতের বিহার রাজ্যে প্রায় ২০ লাখ মানুষ এ বছর বন্যার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। কোশি এবং গÐক- এই দুই নদীতে যখন পানি বৃদ্ধি পায় তখন বিহারে বন্যা পরিস্থিতি নাজুক আকার ধারণ করে। এই দুই নদী গঙ্গায় গিয়ে পড়েছে। ভারতীয় অংশে বন্যার জন্য নেপালকে দায়ি করা হয়।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সীমান্তে নদীতে যে বাঁধ দেয়া হয়েছে সেটি পরিচালনা করে ভারত সরকার। এই বাঁধ যদি নেপালের অংশেও হয়, তবুও ভারত সরকার এটি পরিচালনা করে। এই বাঁধগুলো প্রধানত নির্মাণ করেছে ভারত। উদ্দেশ্য হচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ কাজ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন। কিন্তু নেপালের মানুষ মনে করছে, এতে তাদের কোনো উপকার হচ্ছে না।

অন্যদিকে ভারত সরকার এসব বাঁধকে একটি ভালো উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করছে। কোশি নদীতে যে বাঁধ দেয়া হয়েছে সেখানে ৫৬টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ গেট রয়েছে। নেপালের অভিযোগ, বর্ষাকালে এ নদীতে যখন পানি বিপদসীমায় পৌঁছে যায়, তখন ভারত সেসব গেট খুলে দেয় না। ফলে নেপালে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। উল্লেখ্য, এই কোশি নদী দীর্ঘ সময় ‘বিহারের দুঃখ’ হিসেবে পরিচিত ছিল।

নেপালের অনেক নদী চুর পর্বতমালার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এই পর্বতমালার প্রতিবেশ এরই মধ্যে হুমকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পানি নিয়ে ভারত এবং নেপাল- এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিষয়টি আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে। সূত্র : বিবিসি বাংলা।

উৎসঃ রয়টার্স

আরও পড়ুনঃ চীনে উইঘুর মুসলিম নিপীড়নকে ‘শতাব্দির কলঙ্ক’ বলছে যুক্তরাষ্ট্র


সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে চীন যে ধরনের নিপীড়ন চালাচ্ছে সেটাকে ‘শতাব্দির কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে অংশ না নিতে চীন চাপ প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের শেষ দিনে মাইক পম্পেও বলেন, ‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে শোচনীয় মানবাধিকার সঙ্কটের আবাস এখন চীনে। এটি সত্যিকারার্থে শতাব্দির কলঙ্ক।’

তিন দিনব্যাপি আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশকে চীন নিরুৎসাহিত করেছে বলেও অভিযোগ করেন পম্পেও। ‘ধর্মীয় বিশ্বাসের নিশ্চয়তা কি সরাসরি চীনা সংবিধানে পাওয়া যায়?- প্রশ্ন করেন তিনি।’

তবে চীনের চাপ উপেক্ষা করে ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্মেলনে অংশ নেয়া দেশগুলোকে শুভেচ্ছা জানান পম্পেও। তিনি বলেন, আপনি যদি একই অঞ্চলের কারণে সম্মেলনে অংশ না নেন, তাহলে আমরা সেটির নোট রাখি। তবে কোন কোন দেশ চীনের চাপে এই সম্মেলনে অংশ নেয়নি পম্পেও সেব্যাপারে কিছু বলেননি। এ ব্যাপারে জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও কোনো মন্তব্য করেনি।

চীন, তুরস্ক, উত্তর কোরিয়া, ইরান ও মিয়ানমারে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বুধবার হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিপীড়িতদের সাথে প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের পরদিন পম্পেও এমন মন্তব্য করলেন।

চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে জাতিগত সংখ্যালঘু উইঘুরদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ চলতি মাসের শুরুর দিকে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ। জিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন বন্ধ করতে চীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, চীন সরকার কমপক্ষে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে আশ্রয় কেন্দ্রে আটকে রেখেছে। জিনজিয়াংয়ে অন্তত এক কোটি সংখ্যালঘু উইঘুরের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ তুর্ক মুসলিম। এই প্রদেশে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় নিপীড়ন এবং বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এই মুসলিমরা।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ চীন সরকারের বিরুদ্ধে জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনে পদ্ধতিগত অভিযান পরিচালনার অভিযোগ আনে।

উৎসঃ রয়টার্স

আরও পড়ুনঃ মিয়ানমারের ৪ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা


মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির শীর্ষ চারজন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এই কর্মকর্তাদের প্রথমত প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যদি তাদের ব্যক্তির মালিকানায় কোন সম্পদ থাকে সেগুলোর সব জব্দ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও এর সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারবে না তারা।

নিষেধাজ্ঞায় থাকা সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং লাইং -ও রয়েছেন।

এছাড়া বাকি তিন কর্মকর্তা হলেন, ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফ সো উইন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং অং।

নিষেধাজ্ঞার ওই ঘোষণায় মিয়ানমারের পরিবর্তে ‘বার্মা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্পেও বলেন, তারাই প্রথম কোন দেশ বার্মিজ সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যে নির্বিচারে হত্যা ও সহিংসতার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। দুই বছর আগের সেই সহিংসতার যথেষ্ট প্রমাণও রয়েছে।

জাতিসংঘের মিশন এর আগে জানিয়েছে যে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সহিংসতা বন্ধে যদি আরও আগে পদক্ষেপ নেয়া হতো তাহলে রাখাইনে গণহত্যার অভিযোগে এই বার্মিজ সেনাদের দুই বছর আগেই দোষী সাব্যস্ত করা যেত।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে কঠোর। ওই সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন থাকবে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন অভিযান চালানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক ধাপে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে এই রোহিঙ্গারা।

উৎসঃ বিবিসি

আরও পড়ুনঃ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার্কিন পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাব


চার নারী কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস। প্রতীকী একটি নিন্দা প্রস্তাবে সেখানে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিম্নকক্ষের সদস্যরা।

প্রস্তাবে বলা হয় ট্রাম্পের বর্ণবাদী মন্তব্যে আতঙ্ক ও ঘৃনা ছড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকানদের মধ্যে। দুই দিন আগে ট্রাম্প এক মন্তব্যে অভিবাসী কংগ্রেস সদস্যদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এরপরেই অবশ্য ট্রাম্প টুইটারে দাবি করেছিলেন, ‘আমার শরীরে কোন বর্ণবাদী হাড্ডি নেই।’

ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রিত হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছ ট্রাম্পের বর্ণবাদী মন্তব্যের বিষয়ে। নিন্দা প্রস্তাবটি ২৪০-১৮৭ ভোটে পাস হয়েছে। চারজন রিপাবলিকন ও একজন স্বতন্ত্র এমপিও নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

গত রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের চার অভিবাসী বংশোদ্ভূত এমপি ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ ও আয়ান্না প্রেসলিকে উদ্দেশ করে টুইটারে বলেন, তারা এমন সব দেশ থেকে এসেছে যেখানে চলে নান অনিয়ম ও দুর্নীতি। এখন তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করছে। তাইলে তারা দেশে ফিরে যেতে পারে। টুইটে অবশ্য ট্রাম্প কারো নাম উল্লেখ করেননি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পার্লামেন্টে অভিবাসী এমপি এই চার নারী। যাদের মধ্যে দুইজন মুসলিম।

এদের মধ্যে দুই মুসলিম এমপি ইলহান ওমর জন্মসূত্রে সোমালী এবং রাশিদা তালিব ফিলিস্তিনি।

উৎসঃ বিবিসি

আরও পড়ুনঃ ভারতে গরুর গোশত থাকার সন্দেহে মাদ্রাসায় আগুন


ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি মাদ্রাসায় গরুর গোশত থাকার সন্দেহে পাথর নিক্ষেপ ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে উগ্রপন্থিরা। ভাঙচুরের পর মাদ্রাসাটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা।

মঙ্গলবার বিজেপি শাসিত ফতেপুর জেলায় এমন ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, সোমবার ওই মাদ্রাসার পেছনের একটি জায়গায় গবাদি পশুর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। এতে কিছু মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কিন্তু মঙ্গলবার ফের একই জায়গায় গবাদিপশুর দেহাবশেষ পাওয়ায় উগ্রপন্থিরা মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পৌঁছে তাদেরকে সরিয়ে দেয়।ওই ঘটনার পরে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার রমেশ বলেন, সকালে বেহতা গ্রামে গরুর গোশত উদ্ধার হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরে কিছু অরাজকতা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে পাথর নিক্ষেপসহ আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। ওই ঘটনায় কোনও হতাহতের তথ্য নেই।

তবে ওই ঘটনায় পুলিশের নিস্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিসেবা দফতরের মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী রেডিও তেহরানকে বলেন, ওই ঘটনা অত্যন্ত অন্যায়, গণতন্ত্র বিরোধী ও ভারতবিরোধী। এসব তারা (হিন্দুত্ববাদীরা) করবে। কিন্তু এসব করেও তারা টিকতে পারছে না। ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির জয় আছে। এটা অধর্মের কাজ। ধর্মনিরপেক্ষতার কাজ নয়।

এসব কাজকর্ম করে তারা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে চাচ্ছে। হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দাঙ্গা বাধাতে চাচ্ছে।

উৎসঃ যুগান্তরy

আরও পড়ুনঃ ভারতে মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ নিপীড়ন চলছে, জানালেন ব্রিটিশ এমপি


ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর ভয়াবহ নিপীড়ন চলছে বলে উল্লেখ করে এসব ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একজন এমপি। ব্রিটেনের ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্য এবং লেবার পার্টি এমপি জোনাথন অ্যাশওয়ার্থ রোববার উদ্বেগ জানিয়ে মুসলিমদের ওপর সহিংস আক্রমণের ঘটনায় তদন্ত চালাতে ব্রিটিশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন। যমুনা টিভি

একই সঙ্গে ‘ভয়াবহ উদ্বেগজনক পরিস্থিতি’ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টের কাছে লেখা এক চিঠিতে জোনাথন বলেছেন, এই ইস্যুতে ভারত সরকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

তিনি বলেন, ‘আমার আসনের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের মাধ্যমে আমি ভারতে চলমান সহিংস হামলার ব্যাপারে জেনেছি। ভারতের পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক; সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ধর্মীয় হত্যাকাণ্ড, হামলা, দাঙ্গা, বৈষম্য, ভাঙচুর এবং সংখ্যালঘু মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাসের চর্চার অধিকারের ওপর কঠোর বিধি-নিষেধ রয়েছে।’

জোনাথনের এই চিঠির জবাবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম নিপীড়নের ঘটনায় পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে কাজ করছি। আমাদের মুসলিম তরুণ ক্ষমতায়ন শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫০ জন তরুণ ও ২০ জন শিক্ষককে নিয়ে কাজ চলছে। এই প্রকল্প ভারতের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু রয়েছে।

উৎসঃ amadershomoy

আরও পড়ুনঃ হামলা থেকে বাচঁতে ভারতে মাদ্রাসার ভেতরেই মন্দির!


শিক্ষাকেন্দ্রে সাম্প্রদায়িক ঐক্য বজায় রাখতে ভারতে এবার মাদ্রাসার ভেতর মন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে। দেশটির সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির স্ত্রী সালমা আনসারি এমন উদ্যোগ নিয়েছেন।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, আলিগড়ে একটি মাদ্রাসা পরিচালনা করেন সালমা আনসারি। তার পরিচালিত ওই মাদ্রাসায় মসজিদের পাশাপাশি মন্দির স্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

সালমা আনসারির এমন ঘোষণার পরই আলিগড়ের চাচা নেহরু মাদ্রাসার ভেতরে পূজা শুরু হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাউয়ের তোলা ছবিতে মাদ্রাসার ভেতরে সরস্বতী মূর্তি দেখা গেছে।

মাদ্রাসার অভ্যন্তরে এভাবে মন্দির স্থাপনের বিষয়ে সালমা আনসারি বলেন, ভ্রাতৃত্বের বার্তা দেয়ার পাশাপাশি, এই পদক্ষেপে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যাবে। প্রার্থনা করতে এখন আর তাদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হবে না।

এ পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য মাদ্রাসাগুলো বিষয়টিতে অনুপ্রাণিত হবে বলে আশা করেন তিনি।

মাদ্রাসার হোস্টেলে যে ছেলেমেয়েরা থাকে, তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান সালমা আনসারি।

তিনি বলেন, ‘হোস্টেল থেকে মন্দির বা মসজিদে যাওয়ার পথে যদি কিছু ঘটে, তাহলে আমাদের ওপরই তার দায় বর্তাবে। তাই ভেবেচিন্তে ক্যাম্পাসের মধ্যেই মন্দির এবং মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

২০১৭ সালের আগস্টে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নেন হামিদ আনসারি। বিদায়কালে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে মোদি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন তিনি।

বিজেপির আমলে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অস্বস্তিতে রয়েছেন, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সেইসময় মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এ নিয়ে বিজেপি নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে।

উৎসঃ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here