সব স্বপ্নই উবে গেছে আরবের মাটিতে মান-ইজ্জত সব হারিয়েছেন, পরিবারেও ঠাঁই হচ্ছে না তাদের

0
251

স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে গেছেন অনেক দূর। এবার জীবনের সব দুঃখ-কষ্ট ঝেড়ে ফেলে এগিয়ে যাবেন সামনের দিকে। পরিবারে আনবেন সচ্ছলতা। হাসি ফুটবে সবার মুখে। সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে বিমানে উঠে আরো কত স্বপ্ন বুনছিলেন তারা। কিন্তু সব স্বপ্নই উবে গেছে আরবের মাটিতে পা রেখে। দিন যতই যাচ্ছে ততই তাদের সামনে পরিস্কার হচ্ছিল সব। বুঝতে পারছে ফাঁদে আটকে গেছে তারা।

আর আস্তে আস্তে স্বপ্নগুলো তাদের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দেয়। মনে হয়েছে, এ যেন জাহান্নামের চেয়ে ভয়াবহ। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কেউ আলিঙ্গন করেছেন মৃত্যুকে। কেউবা মরতে গিয়েও বেঁচে গেছেন। কেউ দেশে ফিরেছেন শরীরে নির্যাতনের চিহৃ নিয়ে। শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা। অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে ফিরেছেন কেউ কেউ। কেউ ফিরেছেন বাচ্চা কোলে নিয়ে। বিদেশের নির্যাতনের সেল থেকে ফিরলেও মুক্তি পাননি তারা। দেশের মাটিতে এসেও শান্তি, স্বস্তি মিলছে না কিছুতেই। ‘নষ্টা, দুশ্চরিত্রা, খারাপ মেয়ে’ অপবাদ জুটছে তাদের। অপবাদ দিয়ে দুরে সরে গেছে স্বজনরা। ঠাঁই হচ্ছে না স্বামীর ঘরে। এমনকি তাড়িয়ে দিচ্ছেন মা-বাবা, ভাইয়েরাও।

সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসেব অনুসারে নির্যাতনের শিকার হয়ে গত বছর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ১৩৫৩ নারী। এরমধ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন ১৮ জন। অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক নারী। গত বছর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরা নারীদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই সহস্রাধিকে।

তাদের একজন তাহমিনা খাতুন। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্যই সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। সৌদি আরব থেকে ফিরে ঠাঁই পাচ্ছেন না কোথাও। নষ্টা অপবাদ দিয়ে দুরে চলে গেছেন স্বামী। একই অপবাদ দিচ্ছেন মা-বাবাও। তাহমিনা জানান, বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে মা-বাবা, স্বামী কেউ রাজি ছিলেন না। কিন্তু সংসারে স্বচ্ছলতার জন্য পরিচিত একজনের উৎসাহে বিদেশে যান তিনি। সেখানে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি দেশের সবাই জেনেছে। তাই এখন সবাই তাকে বাঁকা দৃষ্টিতে দেখে। স্বামী তাকে ঘরে আশ্রয় দেননি। মা-বাবাও খবর নেন না। এক বান্ধবীর সঙ্গে থাকছেন করাইল বস্তিতে।

কাজ করেন একটি গার্মেন্টে। তাহমিনা জানান, গত বছর সৌদি আরব যান তিনি। রিয়াদে এক আরব ব্যবসায়ীর বাসায় ছিলেন। গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। বাসায় ওই ব্যবসায়ীর বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও তিন ছেলে সন্তান ছিলো। তাহমিনা যে কক্ষে ঘুমাতেন ওই কক্ষে কোনো দরজা ছিল না। কয়েক দিন যেতে না যেতেই শুরু হয় সমস্যা। রাতের বেলা তার কক্ষে ঢুকেন গৃহকর্তা। ঝাপটে ধরেন তাকে। শরীরের সব শক্তি দিয়ে বাধা দিয়েও ব্যর্থ হন। ধর্ষণের শিকার হন তাহমিনা। বিষয়টি পরদিন ওই ব্যক্তির স্ত্রীকে জানান। স্ত্রী উল্টো ধমক দেন। বিষয়টি কাউকে বলতে বারণ করে তা মেনে নিতে বলেন। তাহমিনা জানান, তারপর থেকে গৃহকর্তার কাছে প্রায় রাতেই ধর্ষণের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। এরমধ্যেই এক রাতে গৃহকর্তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেজো ছেলেও পিতার মতোই তাহমিনার কক্ষে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তাহমিনা চিৎকার করলে গৃহকর্তার স্ত্রী এগিয়ে যান।

এসময় ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় উল্টো তাকে মারধর করা হয়। পরের রাতে আবার তাহমিনার কক্ষে যায় ওই ছেলে। বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। সে রাতে ধর্ষণের শিকার হন তিনি। তাহমিনা পালাতে চেয়েও পারেন না। দেশে স্বামীর কাছে ফোনে তাকে রক্ষা করতে অনুরোধ করেন। যেভাবেই হোক দেশে যেতে চান তিনি। স্বামী অনেক চেষ্টা করেও তাকে দেশে ফেরাতে পারছিলেন না। এভাবে কাটছিলো কয়েক মাস। যৌন নির্যাতন ছাড়াও বেতন চাইতে গেলেই তাকে মারধর করা হতো। একরাতে বাসা থেকে পালিয়ে যান। রাস্তায় এক বাঙালি শ্রমিকের সহযোগিতায় পৌঁছে যান সেইফ হোমে। কথা ছিলো তিনি বিচার পাবেন। কিন্তু বছরের পর বছর সেইফ হোমে থাকা নারীরা জানিয়েছেন বিচারের নামে দীর্ঘসূত্রিতার কথা। খেয়ে না খেয়ে সেইফ হোমে থাকার চেয়ে দেশে ফিরে আসাই ভালো মনে করেছিলেন তিনি। তাই পাওনা টাকা ছাড়াই দেশে ফিরেন তাহমিনা।

নির্যাতিতাদের মধ্যে একজন ইয়াসমিন। ১৯ বছরের এই অবিবাহিতা তরুণী বিদেশে শিকার হয়েছেন যৌন নির্যাতনের। শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন একটি সন্তান নিয়ে। তারপর থেকে নিজের মা, বাবা, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন কেউ তাকে গ্রহন করেননি। অথচ এই তরুণীর কোনো অপরাধ ছিলো না। দরিদ্র পরিবারের ইয়াসমিন মা-বাবার কষ্টের ভাগ নিতে চেয়েছিলেন। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে যখন আর্থিক টানাপোড়েনে দিন কাটাচ্ছিলেন তার বাবা ঠিক তখন ইয়াসমিন সংসারের হাল ধরতে এগিয়ে যান। স্থানীয় দালাল কাশেম মিয়ার সহযোগিতায় ২০১৬ সালে জর্ডানে যান তিনি। সেখানে একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। এরই মধ্যে জর্ডানে পরিচয় হয় মানিকগঞ্জের মেয়ে সোনিয়ার সঙ্গে। মাত্র ১৫ হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মীর কাজ করে জেনে সোনিয়া তাকে আরও ভালো বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেয়। ভালো কাজ, বেশি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে সোনিয়া তাকে নিয়ে যায় একটি বাসায়। পাঁচতলা ওই বাসায় অন্তত ২০ জন মেয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশের পুরুষদের আনাগোনা।

এটি একটি পতিতালয়। পতিতাবৃত্তিতে ইয়াসমিন রাজি না হওয়ায় মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জোর করে তাকে সেখানে ধর্ষণ করে কয়েক পুরুষ। এভাবেই বিদেশের মাটিতে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। নির্যাতনে এক সময় অসুস্থ হয়ে যান ইয়াসমিন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হয়। দুই মাস কারাভোগের পর গত বছরের ১৭ই এপ্রিল দেশে ফিরেন তিনি। ততদিনে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ইয়াসমিন জানান, প্রথমে নিজেও বুঝতে পারেননি তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তবে ছয় মাস পরে জানার পর তা আর নষ্ট করতে চাননি তিনি। এই অবস্থায় কেউ তাকে আশ্রয় দিতে চায়নি। নষ্টা মেয়ে বলে তাড়িয়ে দিচ্ছিলো সবাই। চেনা-অচেনা অনেকের আশ্রয়ে থাকতে হয়েছে। তবে এখন মা-বাবার সঙ্গেই আছেন তিনি। তার মা জানান, বাবার পরিচয় নেই বাচ্চার। তাই সমাজের মানুষ নানা কথা বলে। বাচ্চার বয়স হয়ে গেছে প্রায় ১০ মাস। বাচ্চাকে নিয়ে কোথাও যেতে পারে না। দেখলেই এই বাচ্চার বাবা কে, বাবা ছাড়া বাচ্চা- এরকম নানা কটুকথা শুনতে হয় তাকে। কোনো কাজ করতে পারে না। মেয়ের বাবা মাটিকাটা শ্রমিকের কাজ করেন। তার উপরই নির্ভর পুরো পরিবার।

নির্যাতিতা আরেক তরুণী লায়লা খাতুন। বাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় বাড়ি। নেশাগ্রস্থ স্বামী দুই সন্তান রেখে তাকে ছেড়ে চলে যায়। সন্তানদের নিয়ে কর্মহিন লায়লার অভাব যেন পিছু ছাড়ছিলোনা কোনোভাবেই। দালালের মাধ্যমে তিনি যান বিদেশে। লায়লার বয়স জাতীয় পরিচয়পত্রে ২২ বছর। কিন্তু দালাল পাসপোর্টে দেয় ২৫ বছর। এরপর দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি নামিরা ওবারাসীজ (আর.এল-১০১৩)-এর জোগসাজেশে কোনরকম গামকার মেডিকেল চেকাপ ছাড়াই গত বছরের ২৬শে মার্চ সৌদি আরব যান। সৌদি বিমান বন্দর থেকে তাকে একজন সৌদিয়ান সারা দিন ঘুরিয়ে রাত ১০টার দিকে নিয়ে যায় একটি বাসায়। সেখানে রাতভর লায়লাকে নির্যাতন করে ৮-১০ পুরুষ। এই অবস্থায় দেশে ফিরতে চাইলে বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি অফিস কোনো সহযোগিতা করেনি। একপর্যায়ে পালিয়ে রাস্তায় বের হলে পুলিশ ধরে ফের মালিকের কাছে নিয়ে যায়। পুলিশকে ঘটনা খুলে বললে পুলিশ মালিকের কাছ থেকে বিমানটিকিট নিয়ে দেয়। গত ৩রা এপ্রিল দেশে ফিরেন তিনি।

দেশে আসার পর পরিবারও তাকে ভালোভাবে নিচ্ছে না। অবহেলার শিকার হচ্ছেন। একইভাবে দিনাজপুরের আয়শা ফিরতে পারছেন না মা-বাবার কাছে। বাবা কথা বলেন না তার সঙ্গে। কয়েকবার বাড়িতে গেলেও বের করে দিয়েছেন তাকে। এরকম অনেক নারীর ঠাঁই হচ্ছে না ঘরে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে নির্যাতিতাতের সহযোগিতা করা হচ্ছে। কাউন্সিলিং করা হচ্ছে তাদের অভিভাবকদের। অনেকের ঠাঁই হচ্ছে, অনেকের হচ্ছে না। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম প্রধান শরিফুল হাসান জানান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তিক্ত অভিজ্ঞতা, নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন নারীরা। মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এসব নির্যাতিত নারীর পাশে দাঁড়াচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে নির্যাতিাদের স্বজনরাই তাদের আশ্রয় দিচ্ছেন না। এসব বিষয়ে তাদের কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। পুর্নবাসনের বিষয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের চিকিৎসা ও বিমানবন্দর থেকে বাড়ি পৌঁছার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে ব্র্যাক।

প্রবাসে নির্যাতনের বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা)’র মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী বলেন, নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সৌদিতে। সেখানকার মালিক কর্তৃক। অথচ মামলা হচ্ছে রিক্রুটিং এজেন্সীর বিরুদ্ধে। নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে সে দেশে অবস্থান করেই অভিযোগ করতে হবে। এজন্য সেইফ হোম, দূতাবাস রয়েছে। তাদের মাধ্যমে অভিযোগ করে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।

নারী শ্রমিকদের নির্যাতন ও সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসসংস্থান মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে যারা কাজ করেন তারা এখন দেশের বাইরে আছেন। তারা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। তবে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসসংস্থান মন্ত্রনালয় এসব বিষয়ে অত্যন্ত সচেষ্ট বলে জানান তিনি।

উৎসঃ ‌‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌কর্নেল অলির নেতৃত্বে জাতীয় মুক্তিমঞ্চ : জামায়াত দেশপ্রেমিক শক্তি


পুনজাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবীসহ ১৮ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে-জাতীয় মুক্তিমঞ্চ এর ঘোষণা দিয়েছেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

আঠারো দফা দাবীর মধ্যে রয়েছে, জাতীয় সংসদের পুননির্বাচন,দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি, দেশবিরোধী চুক্তি প্রকাশ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষা, জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিশন গঠন, দেশের শিক্ষিত যুবকদের নিয়োগে অগ্রাধিকার,গুম ও খুন বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া, লিগ্যাল এইড কমিটি গঠনের ঘোষণা, প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানি বন্ধ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভেজাল ও নকল ঔষধ বন্ধ, খাদ্যে ভেজাল কারীদের মৃত্যুদন্ড, কৃষকের ন্যায্যমূল্য, অর্থনৈতিক সমতা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, জাল ভোট প্রদানকারী ও সাহয্যকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল ও বন্ধ করে দেয়া মিডিয়া খুলে দেয়া, দুর্নীতি দমন আইনের বৈষম্য দূরীকরণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সাংবিধান অনুযায়ী সুযোগ সৃষ্টির দাবি।

কর্নেল অলি বলেন, আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে, ১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনাই ছিল উদার গনতন্ত্র ; একনায়কতন্ত্র নয়। সুতরাং কোন অবস্থাতেই আমরা একনায়কতন্ত্র ও নিয়ন্ত্রিত গনতন্ত্র মেনে নিতে পারি না। তিনি বলেন, বর্তমানে সমগ্র পৃথিবী দুইভাগে বিভক্ত। প্রথমটি হচ্ছে একনায়কতন্ত্র ও নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র, দ্বিতীয়টি হচ্ছে উদার গণতন্ত্র। সুতরাং, আমরা বেঁচে থাকতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিসর্জন দিতে পারি না।

একাত্তরের রণাঙ্গনের এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন,আমাদের এবারের কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ এবং লক্ষ্য হবে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা অর্থাৎ জাতিকে মুক্ত করা তথা ন্যায় বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, মানবাধিকার নিশ্চিত করা ও জনগণের সরকার গঠন করা। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এবং সকল রাজবন্দিদের মুক্ত করতে হবে, নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আশাকরি আমাদের এই কর্মসূচিতে জনগণ এবং সকল বিরোধী দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমর্থন দেবেন,সহযোগিতা করবেন, অংশগ্রহণ করবেন।

এসময় তার সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের শরীক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আহমেদ উল্লাহ ও জাতীয় আন্দোলন এর সভাপতি মুহিব খান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে চার পৃষ্ঠা লিখিত বক্তৃতা পাঠ করার পর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন কর্নেল অলি আহমদ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের জামায়াত আর ২০১৯ সালের জামায়াত এক নয়। এরা বাংলাদেশের। এই দেশকে তারা ভালবাসে। তাদের মধ্যে অনেক সংশোধনী আসছে। তারা নিজেদের মধ্যে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা দেশপ্রেমিক শক্তি। কাজেই আমরা আশা করবো, যারা দেশকে ভালবাসে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চায়, দেশবাসীকে মুক্ত করতে চায়, যারাই আমাদের সাথে আসবে, সবাইকে আমরা সাথে রাখবো। তবে বেঈমানদের নয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরণের দাবি এর আগে কেউ দেয়নি। আমি যখন বললাম মধ্যবর্তী নির্বাচন চাই। তখন সবাই মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি জানালো। আসলে মধ্যবর্তী নির্বাচন সঠিক কথা নয়। ওটা আমি পরীক্ষা করার জন্য বলেছিলাম। আসল কথা হলো পুনঃনির্বাচন। মধ্যবর্তী নির্বাচন চাইলেতো আগের নির্বাচন মেনে নেয়া হয়।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, আমার ডানে বামে মুক্তিযোদ্ধারা বসে আছেন। আমার সামনে যারা বসে আছেন এদের অনেকে ইতোমধ্যে মতামত দিয়েছেন, অনেকে সময় নিয়েছেন। আমাদের সাথে কারা কারা আছেন যথা সময়ে তালিকা আপনাদের সামনে প্রকাশ করবো।

এটা নতুন কোনো জোট কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, এটা জোট কেন হবে। আমরা ২০ দলীয় জোটে আছি। ২০ দলীয় জোটের মূল দল বিএনপি ২০ দলীয় জোটে থেকেই কামাল হোসেনের সাথে কাজ করছেন। ১৩ মে, ২০ দলীয় ঐক্য জোটের মিটিং এ নজরুল ইসলাম পরিস্কারভাবে বলেছেন, আপনারা যে যেভাবে পারেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য নিজ নিজ মঞ্চ থেকে আন্দোলন শুরু করেন।

বিএনপির কিছু নেতা সরকারের সঙ্গে আতাত করেছে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বিএনপির কথা বলিনি। আমি বলেছি আমাদের অনেকে সরকারের সাথে দালালি করছে বলে জাতির এ অবস্থা। এরা কারা জানতে চাইলে কর্নেল অলি বলেন, আপনি সাংবাদিক আমি আশা করবো, আপনি আমাদের সহায়তা করবেন। আপনি যে দালালদের চিনেন না, এটা সত্য কথা না। আপনি যদি বলেন, আপনি চেনেন না, তাহলে আমি আপনাকে চিনিয়ে দেব। আপনি সিনিয়র লোক, আপনি চেনেন, কারা কিভাবে ২০/৩০ বছর যাবত দালালী করছে।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌এমন দেশের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি : নজরুল ইসলাম খান


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এক মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশী রায়ের মাধ্যমে এক বছরের বেশি দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি দিনদিন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আমরা অবিলম্বে তার মুক্তি কামনা করেছি।

তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই দেশনেত্রীর জামিন হতে পারে। কিন্তু নানা কৌশলে তার জামিন ও মুক্তি বিলম্বিত করা হচ্ছে। বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা আরো বলেন, আরো অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়, মামলার সাজাও হয়। কিন্তু তারা তিন দিনের মধ্যে জামিন পেয়ে যায়। কিন্তু তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হয় না। ফালতু মামলায় তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র নিঃশর্ত মুক্তি ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে লেবার পার্টি কতৃক আয়োজিত সংহতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংহতি সমাবেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সবাই জানেন, শুধু বাংলাদেশের জনগণই না সারা বিশ্বের মানুষ জানেন বাংলাদেশে গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন ২৯ তারিখ রাতেই শেষ হয়ে গেছে। এই নির্বাচনকে কেউ গ্রহণ করেননি। কিন্তু নির্লজ্জের মত ক্ষমতা দখল করে তারা সে নির্বাচনের জয়ে আনন্দ করে। এই ধরণের একটা সরকার যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত না এবং জনগণের ভোটের পরোয়াও করেন না তারা জনগণের কল্যাণে পর্যাপ্ত বাজেট রাখার পরিবর্তে যাদের দিয়ে ভোট ডাকাতি করিয়েছে তাদের জন্য বেশী বাজেট করে।

তিনি বলেন, আজকে গার্মেন্টসে কাজ করা শ্রমিকেরা জীবন ধারণের উপযুক্ত বেতন না পেয়েও দেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের রেকর্ড করেছেন। আজকে আমার বাম পাশে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা দিনের পর দিন এখানে বসে আছেন। তাদের ফেস্টুনে লেখা আছে, ‘চাকরি আছে বেতন নাই, এমন দেশ কোথাও নাই’। তারা সত্যি কথা বলেছেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, কৃষক তার উৎপাদিত ধানের উৎপাদন মূল্যও পায় না। শিক্ষকরা কাজ করে বেতন পায় না। মানুষ খুন হয়ে যায়। সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের কথা আমরা জানি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এর রহস্য উদঘাটন করে খুনিদেরকে গ্রেফতার করা হবে। এখন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে ৪৮ বছর লাগবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার হয় না। তাই আজ শুধু বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা নয় সাধারণ মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। এই তো বুধবার বরগুনায় এক স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা করা হচ্ছে। এই যে অবস্থা এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলতে চাই এমন একটা দেশের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। আমরা যুদ্ধ করেছি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য। গণতন্ত্রের বাহন হলো নির্বাচন। আজ সেই নির্বাচনে জনগণকে ভোট দিতে দেয়া হয়নি। জনগণ যদি ভোট দিতে না পারে তবে সেটাকে নির্বাচন বলা যায় না। আজ দেশের মানুষ এক মহাসংকট অতিক্রম করেছে। মানুষকে এ সংকট থেকে রক্ষা করতে হবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ১৯৮২ সালে এই সরকারের দোসর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গণতন্ত্রের গলা কেটেছিলেন। সেই সময় আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রী তিনি একটা দলের প্রধান ছিলেন, তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো তার প্রতিক্রিয়া কী। তিনি (শেখ হাসিনা) বলেছিলেন, ‘আই অ্যাম নট আনহ্যাপী’।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গণতন্ত্রকে গলা কেটে হত্যা করলেও যিনি অসুখী হন না, তার হাতে গণতন্ত্র কখনো নিরাপদ নয়। কিন্তু তার রাজনীতি কেউ বন্ধ করে নাই। আমি মনে করি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত। বাংলাদেশের জনগণ স্বৈরতন্ত্রের শাসন দীর্ঘ দিন মানে না। আজও মানবে না ইনশাআল্লাহ। কিন্তু সেই ধরণের একটা সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য, সেই ধরণের একটা পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য আন্দোলন দরকার। সেরকম আন্দোলন গড়ে তোলার সামর্থ্য বাংলাদেশে একজনেরই আছে। তিনি হলেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী বেগম খালেদা জিয়া। সরকার এটা জানে বলেই মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায়ে তাকে কারাগারে আটকিয়ে রেখেছে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই একসাথে গেথে আছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রয়োজন। আর সেই কারণেই সরকার তাকে মুক্তি দিতে বিলম্ব করছে। কারণ সরকার জানে এই প্রশাসন এবং অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ করার মূল ব্যক্তি বেগম খালেদা জিয়া। আমরা দাবি করবো বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হোক। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন নির্বাচন দেয়া হোক।

তিনি আরো বলেন, এই বাজেটের নামে আরেকবার করের বোঝায় বিধ্বস্ত করার যে চক্রান্ত করা হচ্ছে সেটা বন্ধ হোক। বাজেটে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন প্রস্তাব প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা চাই এদেশের সাধরণ মানুষ যাতে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারে।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সংহতি সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এ্যাডভোকেট ফারুক রহমান, ন্যাপ (ভাষানী) চেয়ারম্যান এ্যাড. মোঃ আজহারুল ইসলাম, এনপিপির চেয়ারম্যান এ্যাড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসেন, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব জাকির হোসেন, ঢাকা মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ সুমন ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাদল, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আবু কাউছার ভূঁইয়া, লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম-মহাসচিব হুমায়ুন কবির, খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, ছাত্রমিশনের আহ্বায়ক সৈয়দ মোঃ মিলন, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌‘নৌকায় আস্থা রা‌খি নাই’ স্ট্যাটাস দেয়ায় রিফাত খুন : শামসুজ্জামান দুদু


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, বরগুনায় স্ত্রীর সামনে হত্যার শিকার হওয়া যুবক রিফাত কিছুদিন আগে ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেখে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ‘নৌকায় আস্থা রাখি নাই’। তারপরেই তিনি খুন হ‌য়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল লেবার পার্টির উদ্যোগ বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আয়োজিত সংহতি সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলে।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আপনারা বিশ্বজিতের ঘটনা দেখেছেন। সর্বশেষ বরগুনায় স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা দেখলেন। সেখানে পুলিশ প্রশাসন ছিল কিন্তু তারা কিছুই করেনি । কিছুদিন আগে সেই ছেলে ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেখে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন নৌকায় আস্থা রাখেনি। তারপরেই তিনি খুন হলেন। খুন হওয়ার পরে প্রশাসন থেকে বলছে খুনিরা রেহাই পাবে না। বিশ্বজিতের খুনিরা রেহাই পেয়েছে। নাটোরের বাবুর হত্যাকারীদেরকে আপনারা মুক্তি দিয়েছেন। এখন ফাঁসির আদেশ হ‌লে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করে দেন।

বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে মন্তব্য ক‌রে বিএন‌পির এই ভাইস চেয়ারম্যান ব‌লেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরে অনেকেই সরকারের পক্ষ থেকে বলেছিলেন বিরোধীদল নির্বাচনে এলে এরকম একপাক্ষিক নির্বাচন হতো না। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচন দেশের জঘন্যতম নির্বাচন হয়েছে। শুধু তাই নয় এই নির্বাচন মুক্তিযুদ্ধকেউ অপমানিত করেছে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মাকে অসম্মানিত করেছে। এই নির্বাচন বাংলাদেশকে কালো যু‌গের দিকে নিপতিত করেছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন বাতিল করতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। ভালো নির্বাচন দিতে হবে। যে নির্বাচনে জনগণ তার ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। পুলিশ প্রশাসন, আমলারা আগের রাত্রে ভোট দিতে পারবে না। সেই রকম ভালো নির্বাচন দিতে হবে।

শামসুজ্জামান দুদু ব‌লেন, দেশে একটি অস্বাভাবিক ও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি যাচ্ছে। লক্ষ করবেন এ দেশে আইন-শৃঙ্খলা বলতে কিছু নাই। গত নির্বাচনের পর দেশে একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশ লক্ষ্য করছি। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি এটা বিএনপি, ২০ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বচন নয়। এটা সারা দেশবাসী দেখেছে, বিশ্ববাসী দেখেছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও আমেরিকার কংগ্রেস এই নির্বাচন যে গ্রহণযোগ্য নয় তা স্পষ্ট করে বলেছে।

এ সময় তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করি। এছাড়া মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ নাই।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সংহতি সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফারুক রহমান, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, কৃষকদলের সদস্য লায়ন মিয়া মো: আনোয়ার, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব জাকির হোসেন, মহানগর বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, মাওলানা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভাড়াটে প্লেয়ার কারা?


ড. কামাল হোসেনকে ভাড়াটে খেলোয়াড় বললেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলের সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তাঁর মতে, বিএনপি নির্বাচনের আগে ড. কামালকে ভাড়া করেছিলেন। তা সত্ত্বেও ড. কামাল আওয়ামী লীগের পক্ষেই কাজ করেছেন।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় নাসিমের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতার সঙ্গে। ডয়চে ভেলেকে তিনি জানান, ‘‘বিএনপি বলেছিল শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না। পরে নির্বাচনে আসলো। বিনা শর্তেই আসলো। কামাল হোসেন সাহেব তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন। তাদের নির্বাচনে নিয়ে আসলেন। আমরাও চেয়েছিলাম তারা নির্বাচনে আসুক। আবার নির্বাচন যখন শুরু হলো তখন কামাল হোসেন সাহেব মাঠ থেকে সরে গেলেন। বিএনপিও মাঠে থকালো না। আমাদের সুবিধা হলো, আমার মনে হয়েছে বিএনপি তাদের স্বার্থে কামাল হোসেন সাহেবকে আনলো আর তিনি কাজ করলেন আমাদের স্বার্থে”।

ড. কামালের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগাযোগ নিয়ে জানতে চাইলে নাসিম বলেন, ‘‘না, নির্বাচনের সময়ও ছিলো না, আগেও ছিলো না, কখনোই ছিলো না। ”

তার মতে, ‘‘বিএনপি কামাল হোসেন সাহেবকে প্লেয়ার হিসেবে ভাড়া করেছে নির্বাচনের আগে। মনে করেছে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী। কিন্তু তার নিজের দলেতো কেনো লোক নাই। ভালো প্লেয়ার মনে করে ভাড়া করেছে কিন্তু খেলতে পারেনি। সংসদে না যাওয়ার কথা বলে ড. কামাল সাহেবের দলের লোকরাই আগে সংসদে গেলেন। এখন বিএনপির ৬-৭ জনও গেছে। তারা এখন সব নির্বাচনেও যাচ্ছে। ”

এ প্রসঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘‘তিনি সংসদে বলেছেন, আমরা সংসদে গিয়েতো আর প্রতিবাদ করতে পারি না। তবে আমার মনে হয় নাসিম সাহেব মজা করেছেন। তিনি কৌতুক করেছেন, তিনি সিরিয়াস কিছু বলেননি। ড. কামাল সাহেব একজন সম্মানিত লোক। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার অবদান অনেক বড়। ভাড়া করা লোক তিনি নন। ”

ড. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘‘ভোটের আগের রাতেই যে ভোট হয়ে গেছে এর দায়তো সরকারের। আর সরকার নির্বাচন কমিশনের বাজেট কমিয়ে দিয়েছে, তাতেই বোঝা যায় নির্বাচন কমিশনের কাজ কে করে। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট হয়েছে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা তৈরির জন্য। আমাদের ব্যর্থতা যে আমরা বুঝতে পারিনি নির্বাচনের আগের রাতেই ভোট হয়ে যেতে পারে। আমরা ভাবতে পারিনি আগের রাতেই ভোটের বাক্স ভরে ফেলা হবে। ফাঁকা মাঠতো আমরা করিনি, তারাইতো ভোটের কোনো মাঠ রাখেনি। ড. কামাল সাহেবতো ভদ্রলোক। তিনিতো এসব চিন্তাই করতে পারেননি। ”

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন,‘‘ড. কামাল আওয়ামী লীগের প্রোডাক্ট। তিনি এখন গণফোরামের সভাপতি। নাসিম সাহেবের কথামতো আওয়ামী লীগে থাকলে ভালো। বাইরে গেলে খারাপ। ড. কামাল যদি অবিশ্বস্ত হন তাহলে আওয়ামী লীগও সন্দেহের বাইরে না। নির্বাচনের আগে বৈঠকে শেখ হাসিনা আশ্বাস দিয়েছিলেন ভালো নির্বাচন হবে। বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হবে না, ‘আমাকে বিশ্বাস করেন’। কিন্তু তিনি বিশ্বাসের কাজ করলেন না। ”

‘‘ড, কামাল হোসেনের সঙ্গে আমরা একটি গণতান্ত্রিক ঐক্য করেছি। এটাকে যদি নাসিম সাহেব ভাড়া বলেন তাহলে পতিত রাজনীতিবিদ হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননদেরও কি আওয়ামী লীগ ভাড়া করেছিল”-প্রশ্ন রাখেন বিএনপি এই নেতা।

১৪ দলের সমন্বয়ক মো. নাসিম সংসদে ২৫ জুন বলেন, ‘‘২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত নেতা ও দলের সঙ্গে চক্রান্ত করে ব্যর্থ কামাল হোসেনকে ভাড়া করে সামনে দাঁড় করালেন। ওরা কামাল হোসেনকে ওদের জন্য ভাড়া করলেন, আর কাজ করলেন আমাদের জন্য। তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে মাঠ খালি করিয়ে দিলেন আর আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিলাম। সমস্ত মাঠ খালি হলে গেলো, ফাঁকা মাঠে গোল দিলাম। এই হচ্ছে বিএনপির মুরোদ। ”

তবে যাকে নিয়ে এতো কথা, সেই ড. কামাল হোসেন এখন আছেন দেশের বাইরে। তাই এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

উৎসঃ ‌‌‌ডয়চে ভেলে বাংলা

আরও পড়ুনঃ ‌হত্যা, গুম ও নির্যাতন বন্ধে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধঃ ড. আসিফ নজরুল


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশে একের পর এক হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এসব বন্ধে সরকারের ভূমিকা বরাবরের মতোই প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নির্যাতন বিরোধী কনভেনশন এবং এর পাশাপাশি আরো অনেক আন্তর্জাতিক চুক্তির সদস্য রাষ্ট্র যেখানে নির্যাতন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও এদেশে নির্যাতন নির্মূলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে (অনুচ্ছেদ ৩১, ৩২ ও ৩৫)। নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। এসবের পরও নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

আজ বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি আয়োজিত ‘নির্যাতন রোধের দায় দায়িত্ব’ শীর্ষক আলোচনায় মূল প্রবন্ধে তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন, শিরিন হক, অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো ঝালকাঠির ছাত্র লিমন হোসেন, ঢাবির কোটা বিরোধী আন্দোলনের নেতা আতাউল্লাহ প্রমুখ। বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ড. আসিফ নজরুল তার লিখিত প্রবন্ধে আরো বলেন, নির্যাতন সম্পূর্ণভাবে একটি বেআইনি কাজ এবং কোনো পরিস্থিতিতে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। জাতিসঙ্ঘ ২৬ জুন দিনটিকে নির্যাতিতদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে। এর লক্ষ্য হচ্ছে নির্যাতনকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং ১৯৮৪ সালের নির্যাতন বিরোধী কনভেনশন যথাযথভাবে কার্যকর করা।

তিনি আরো বলেন, ১৯৯৮ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ‘নির্যাতন বিরোধী কনভেনশনের’ (নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অমর্যাদাকর আচরণ ও শাস্তির বিরুদ্ধে চুক্তি) সদস্য হয়। কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪-এ বলা আছে যে, প্রত্যক রাষ্ট্র তার আইন ব্যবস্থায় এটি নিশ্চিত করবে যে, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবার উপযুক্ত প্রতিকার এবং পরিপূর্ণ পুনর্বাসনসহ ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। ১৯৯৮ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ চুক্তিটির পক্ষ হওয়ার সময় একটি ঘোষণা দিয়ে জানিয়ে দেয় যে, বাংলাদেশ এই অনুচ্ছেদটি তার নিজস্ব আইন অনুসারে প্রয়োগ করবে। বাংলাদেশের এই ঘোষণা চুক্তিটির দায়দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হিসেবে তখনি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়।

নির্যাতন বিরোধী কনভেনশন বা চুক্তিটির প্রতি বাংলাদেশের অনান্তরিক মনোভাব ফুটে উঠে এই চুক্তির অধীনে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নজরদারী পদ্ধতিগুলো এড়িয়ে যাওয়ার মধ্যে। বাংলাদেশের দায়িত্ব ছিল চুক্তির পক্ষ হওয়ার এক বছরের মধ্যে (এবং এরপর প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর) একটি প্রতিবেদন কনভেনশনটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত নির্যাতনবিরোধী কমিটির কাছে জমা দেয়া। চুক্তির পক্ষ হওয়ার ২১ বছর অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত প্রথম প্রতিবেদনটিই জমা দেয়নি।

নির্যাতনবিরোধী চুক্তিতে কোনো সদস্য রাষ্ট্রের উপর নজরদারীর জন্য আরো তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। এরমধ্যে অন্য কোনো সদস্য রাষ্ট্র (অনুচ্ছেদ ২১) এবং বা নিজ রাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে (অনুচ্ছেদ ২২) কমিটির কাছে অভিযোগ করার সুযোগ দেয়ার জন্য সদস্য রাষ্ট্রকে আলাদাভাবে সম্মতিমূলক ঘোষণা দিতে হয়। বাংলাদেশ একটি ঘোষণাও দেয়নি।

বাংলাদেশে নির্যাতন বন্ধ করার জন্য শক্তিশালী সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে, বিচারিক সিদ্ধান্ত আছে এবং বাংলাদেশ ২০১৩ সালে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ করার জন্য একটি আইন করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই আইনে কারো শাস্তি হয়নি, এমনকি এই আইনে মামলা দিতে গেলেও নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। যদিও আইনটিতে বিধান রয়েছে ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার, কিন্তু এই আইনের অধীনে দায়েরকৃত প্রথম মামলাটিরই নিষ্পত্তি হয়নি গত পাঁচ বছরেও। আরেকটি মামলা বাতিল হয়েছে স্বয়ং সেশন কোর্টের নির্দেশে। এছাড়া বহু নির্যাতনের ঘটনার শিকাররা আদালতে মামলা করার সাহস পাননি এই আইনের অধীনে।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত প্রবন্ধে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ এবং সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে,

এক. নির্যাতন বিরোধী কনভেনশন সম্পূর্ণভাবে মেনে চলা : বাংলাদেশের উচিত কনভেনশনের ১৪ অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত বাংলাদেশের ঘোষণা তুলে নেয়া এবং নিয়মিত রিপোর্ট জমা দেয়ার পাশাপাশি এই চুক্তির অন্যান্য বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।

দুই. বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন : নির্যাতন বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ব্যাপকভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের উচিত এটি আদালত অবমাননা হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের নজরে আনা। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশনাটি মেট্রোপলিটন এলাকার অর্ডিন্যান্সের ক্ষেত্রেও (যেমন: দ্যা ঢাকা মেট্রোপলিটন অর্ডিন্যান্স-১৯৭৬, ধারা ৮৬ ) প্রয়োগের বিষয়টি তাদের নজরে আনা।

তিন. নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ এর সংষ্কার : ব্লাস্ট এই আইনে সংজ্ঞার সমস্যা, পদ্ধতিগত বিভিন্ন ত্রুটি, পর্যাপ্ত দণ্ডের অভাব এবং নির্যাতিতদের সুরক্ষার অভাবসহ বিভিন্ন বিষয় তাদের একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে। এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে এ ব্যাপারে আরো কাজ করতে হবে।

চার. নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ এর বাস্তবায়ন : এই আইনের বাস্তবায়ন জোরদার করার প্রায়োগিক সমস্যা নিয়ে মন্ত্রণালয়, মানবাধিকার কমিশন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে গবেষণা করতে হবে। বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ ও অন্যান্য অংশীজনদের প্রশিক্ষণে এই আইন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

পাঁচ. সচতেনতা : নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং সংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে এ ব্যাপারে নেতৃত্ব দিতে হবে।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌অতিরিক্ত যাত্রী নয়, বরং বাঁশ দিয়ে সেতু মেরামত করায় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে!


সোমবার স্মরণ কালের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। একটি রেল সেতু থেকে ৫টি বগি ছিটকে খালে পড়ে যায় এবং কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও কয়েকশ মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, সেতুটি একটি গ্রাম ও বাজারের নিকটবর্তী হওয়ায় দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের চিৎকার শুনে লোকজন এসে উদ্ধার কাজে অংশ নিতে পেরেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, আমরা সহজে উদ্ধারকার্য চালাতে পেরেছি বলে বেশি সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি। অন্যথায় ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় কয়েকশ মানুষের প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা ছিল।

এদিকে, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা নিয়ে রেলমন্ত্রী, সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তারা নিজেদের দায় এড়িয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। রেলমন্ত্রীর দাবি-অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সচিব বলছেন-অতিরিক্ত যাত্রী ও দ্রুতগতিতে চলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে সচেতন মহল বলছেন, দায় এড়ানোর জন্য ক্ষমতাসীন সরকারের উপরস্থ কর্মকর্তারা এসব কথা বলছেন। অনেকটা উদুর পিন্ডি বুধুর ঘাড়ে দিয়ে পার পেতে চাচ্ছেন তারা।

২০১৭ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অতিরিক্ত যাত্রী কিংবা দ্রুতগতিতে চলার কারণে নয় বরং বাঁশ ‍দিয়ে স্লিপার তৈররি কারনে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ি কুলাউড়ার এই রেল সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় জর্জরিত। ২০১৭ সালের প্রথমেই সেতুটি চলাচলের জন্য বিপদজনক ছিল। সেতুটির অধিকাংশ কাঠের স্লিপার নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তখন কর্তৃপক্ষ নষ্ট কাঠের স্লিপার ঠিক করতে বাঁশ ব্যবহার করে।

ওই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বাঁশ ব্যবহার নিয়ে প্রতিবেদন করা হলেও টনক নড়েনি কতৃপক্ষের। ওইসব প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তা থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৫৭ কিলোমিটার রেললাইনের বেশির ভাগ স্লিপার নষ্ট এবং রেললাইন অনেক পুরনো ও ব্যবহার অনুপযোগী। এই রেললাইনের সংযোগস্থলের অনেক জায়গায় প্রয়োজনীয় নাট-বল্টু না থাকায় বাঁশ ব্যবহার হয়েছে। বাঁশের ব্যবহারের ফলে ট্রেন যোগাযোগের ঝুঁকি আরো বেড়ে গেছে। যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে। একটি ইংরেজি দৈনিকে এই ব্রীজ নিয়ে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছিল, সেতুটি ৫০ শতাংশ কাঠের স্লিপার নষ্ট হয়েছে।

স্থানীয়রাও বলছেন, আমরা বার বার কর্তৃপক্ষকে বলেছি সেতুটি নষ্ট হয়ে গেছে। যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনেনি। যার কারণে আজ এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটার দায় সম্পূর্ণ রেল কর্তৃপক্ষের।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌আল জাজিরার চোখে বাংলাদেশের গুম রাজনীতি!(ভিডিও সহ)


রহস্যজনক কারণে বাংলাদেশে প্রায় কয়েক শত মানুষ নিখোঁজ। এখনও প্রিয়জন তাদের খবর পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন। কিন্তু তারা কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না প্রিয়জনের। ফলে তাদেরকে বেদনা সঙ্গে নিয়েই বেঁচে থাকতে হচ্ছে। তাদেরই একজন ফারজানা আক্তার। তিনি বলেন, আমার ছেলের বয়স এখন প্রায় ৬ বছর। কিন্তু সে এখনও তার পিতার মুখ দেখতে পায় নি।

বাংলাদেশে কেন এত মানুষ গুম হয়?

আল জাজিরায় এক ভিডিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জোরপূর্বক গুমের জন্য বেশির ভাগ পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন এজেন্সিকে দায়ী করেন। কিন্তু সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। তবু নিখোঁজ প্রিয়জন কোথায় আছেন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার উত্তর পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আহ্বান জানিয়েছে আসছে ‘মায়ের ডাক’। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মা, বাবা, ভাইবোন ও শিশুদের প্রতিনিধিত্ব করে মায়ের ডাক। তারা প্রিয়জনের সন্ধান চাইলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাদের আর্তনাদ ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়। মাসের পর মাস যায়। বছরের পর বছর।

আল জাজিরার ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখুন:

ভিডিওঃ  ‘আল জাজিরার চোখে বাংলাদেশের গুম রাজনীতি!(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

গত কয়েক বছরে যেসব মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন তার বেশির ভাগই বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সদস্য। আরও আছেন ওইসব অধিকার বিষয়ক কর্মী, যারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন। এপ্রিলে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, ২০০৯ সালের শুরু থেকে ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৫০৭টি জোরপূর্বক গুম প্রামাণ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে নাগরিক সমাজ বিষয়ক গ্রুপগুলো। এসব মানুষের মধ্যে ২৮৬ জন জীবিত ফিরেছেন ঘরে। ৬২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে মৃত অবস্থায়। বাকি ১৫৯ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ। বেশির ভাগ গুমের জন্য সন্দেহ করা হয় পুলিশ, ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ ও র‌্যাবকে।

জোরপূর্বক গুম বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন গ্রুপ আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু সরকারের প্রথম সারির মন্ত্রীরা পর্যন্ত সেই আহ্বান উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা গুমের রিপোর্টকে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা বলে অভিহিত করছেন। এক্ষেত্রে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা যা করতে পারছেন তা হলো তারা একত্রিত হচ্ছেন এবং সরকারের কাছে উত্তর চাইছেন। এর প্রেক্ষিতে ওই সব পরিবারের ওপর কি প্রভাব পড়ছে এবং দৃশ্যত বিরোধী দলকে টার্গেট করায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রে কি অর্থ এ বিষয়ে আল জাজিরা তাদের দ্য স্ট্রিম অনুষ্ঠানে বক্তব্য নেয় মায়ের ডাক-এর পরিচালক সানজিদা ইসলাম, সাংবাদিক তাসনিম খলিল, ইন্টারন্যাশনা ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটসের সেক্রেটারি জেনারেল ডেবি স্টোবহার্ডের। এতে তারা বাংলাদেশে গুম বিষয়ে মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌ইতিহাসের দুই স্বৈরাচারঃ ইসলামপন্থী, দেশপ্রেমী নেতাদের নির্মূলই যাদের মূল টার্গেট!


মিশরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও মুসলিম বিশ্বের জনপ্রিয় নেতা ড. হাফেজ মুহাম্মদ মুরসি দেশটির ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচারী শাসক আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসির কারাগারে আটক থেকে সোমবার ইন্তেকাল করেছেন। মুরসি একটি আদালতে বক্তৃতা দেয়ার সময় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন মর্মে সিসি সরকার এটা প্রচার করলেও মূলত দীর্ঘদিন আগ থেকেই বিনাচিকিৎসায় তাকে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দেয়া হয়েছিল।

আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম এর আগে একাধিক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, মুরসিকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। মুরসির পরিবারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল যে তাকে কারাগারে হত্যার জন্য সিসির সরকার বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। মুরসির মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও বলছেন যে, আমেরিকা ও ইউরোপীয়দের ইশারায় সিসি বিনা চিকিৎসায় মুরসিকে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দিয়েছে। মুরসির এমন মৃত্যুতে বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। বিশ্বব্যাপী মানুষ স্বৈরাচারী সিসিকে ধিক্কার জানাচ্ছে।

মুহাম্মদ মুরসি ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ছিলেন। এই ব্রাদারহুডের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়-মৃত্যুকে হাসিমুখে বরণ করেই এই দলটির নেতাকর্মীরা যুগ যুগ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। অতীতেও মিশরের সাবেক স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট জালিম জামাল নাসেরের সময় ইখওয়ানুল মুসলিমিনের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বনন্দিত নেতাদেরকে বিভিন্নভাবে হত্যা করেছে।

এই দলটির প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল বান্নাকে হত্যা করেছে তখন স্বৈরাচারী শাসকরা, হত্যা করেছে সাইয়েদ কুতুব ও আব্দুল কাদের আওদাহ’র মতো বড় মাপের নেতা ও শিক্ষাবিদদেরকে। স্বৈরাচারী জামাল নাসেরসহ সবগুলো প্রেসিডেন্টের মূল টার্গেট ছিল ইখওয়ানুল মুসলিমিন। দলটির নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসনে মোবারকও। তার পতনের পরই প্রথম নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ড. মুহাম্মদ মুরসি। প্রেসিডেন্ট হয়ে তিনি মুসলিম বিশ্বের এক অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। তার আভির্ভাবে মুসলিম বিশ্বে এক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়। কিন্তু তার এই উত্থান মেনে নিতে পারেনি ইসরাইল, আমেরিকা ও তাদের দোসর সৌদ আরব। সেনা প্রধান আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসিকে দিয়ে তারা ক্ষমতা দখল করায়। এজন্য সিসিকে কোটি কোটি বিলিয়ন টাকা দেয় মুসলিম বিশ্বের আরেক গাদ্দার হিসেবে পরিচিত সৌদি বাদশাহ সালমান।

দেখা গেছে, মুরসির হাতে নিয়োগ পাওয়া সেনাপ্রধান সিসি ক্ষমতা দখল করেই ব্রাদারহুডের শীর্ষনেতাদেরকে গ্রেফতার করে। অমানবিক নির্যাতন চালায় দলটির সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ওপর। বন্ধ করে দেয়া ব্রাদারহুড নেতাকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো। আটক নেতাকর্মীদের ওপর কারাগারে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। গত বছর কারাগারেই মারা গেছেন দলটির প্রধান মোহাম্মদ বদে-ই। এখনো কারাগারে অনেক ব্রাদারহুড নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

আর সর্বশেষ স্বৈরাচারী সিসির জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসি।

এই স্বৈরাচারী শাসন শুধু মিশরে নয়, বাংলাদেশে এখন স্বৈরাচাররা শাসনের নামে মানুষকে শোষণ করছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন তথা কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে এমন দলগুলোকে তারা নির্মূল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এর আরেকটি উদাহরণ হলো বাংলাদেশ।

পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মিশরের ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচারী সিসির সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।

স্বৈরাচারী সিসির কায়দায়-ই শেখ হাসিনা এদেশের ইসলামপন্থী নেতাদেরকে মিথ্যা অভিযোগে আটক করে তাদেরকে একের পর এক হত্যা করে যাচ্ছে। কাউকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে আবার কেউ কেউ সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

২০০৯ সালের প্রথমে ক্ষমতায় এসে ভারতের ইশারায় শেখ হাসিনা এদেশের সবচেয়ে বৃহত্তর ও জনপ্রিয় ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদেরকে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক করে। কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ছাড়াই বিচারের নামে প্রহসন করে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মোজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীকে অন্যায়ভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে।

এছাড়া, জামায়াতের সাবেক আমির ও ভাষাসৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম ও নায়েবে আমির ও বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ স্বৈরাচারী হাসিনার কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন।

এরপর সিসির মতো একই কায়দায় শেখ হাসিনা বিগত ১০ বছর যাবত জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে।

আরেকটি ক্ষেত্রেও স্বৈরাচারী সিসির সঙ্গে শেখ হাসিনার মিল রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সূর্য উঠার আগেই অতিগোপনে মুরসি লাশ দাফন করতে বাধ্য করেছে স্বৈরাচারী সিসি। আইনজীবী আর তার পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে জানাযাতেও অংশ নিতে দেয়নি সিসির প্রশাসন। বাংলাদেশেও জামায়াত নেতাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। অন্যায়ভাবে জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে প্রকাশ্যে দিনের আলোতে তাদের লাশ দাফনেরও সুযোগ দেয়নি স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার। এমনকি আব্দুল কাদের মোল্লার জানাযায় তার পরিবারের সদস্যদেরকেও অংশ নিতে দেয়া হয়নি।

তবে, অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায় ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনি। ইসলামপন্থীরা সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের মধ্যেও টিকে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জালিম স্বৈরাচাররাই একদিন ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি</e

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here