কয়লাখনি থেকে কয়লা গায়েবের ঘটনাকে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি ‘সিস্টেম লস’ বলেছে

0
117

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা গায়েবের ঘটনাকে সরকার গঠিত সব তদন্ত কমিটি ‘সিস্টেম লস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ঘটনার নানা বিশ্লেষণ করে তারা বলেছে, বড়পুকুরিয়ার কয়লা মূলত চুরি হয়নি।

উৎপাদনকাল থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত হিসাব করে ‘সিস্টেম লস’ ধরলে উল্লিখিত পরিমাণ কয়লা থাকার কথা নয়। আগে উত্তোলন ও সরবরাহের হিসাব নিয়মিত এবং সঠিক পদ্ধতিতে না করার কারণে হঠাৎ করে অনেক বেশি কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নজরে পড়ে। যদিও এ ঘটনা দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তদন্ত করেছে।

সেখানে তেমন কিছু উল্লেখ করা হয়নি। দুদক তাদের নিজস্ব তদন্তে কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে; যে মামলাটি এখন বিচারাধীন।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে গত বছরের জুলাইয়ে হঠাৎ করে ১ লাখ ৪৭ হাজার টন কয়লা উধাও হয়ে যায়। এর ফলে কয়লা সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যায় উত্তরাঞ্চলের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। যার কারণে সরকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। সাজার আওতায় আনা হয় খনির চার কর্মকর্তাকে।

পরে সরকারের নীতিনির্ধারকদের নির্দেশে বেশ কয়েকটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘসময় পর তদন্ত কমিটিগুলো জ্বালানি বিভাগে যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের ভাষ্যই অনেকটা উঠে এসেছে। ঘটনাটি জানাজানির আগ পর্যন্ত খনির দায়িত্বে থাকা বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবউদ্দিন আহম্মদ দাবি করেছিলেন, কয়লা উধাও হয়নি, বরং সিস্টেম লসের সঠিক হিসাব না হওয়ায় গায়েব মনে হচ্ছে। আমাদের এখানে যেটুকু কয়লা উবে গেছে, তার পরিমাণ ১ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি হবে না। আন্তর্জাতিকভাবে ২ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত সিস্টেম লস গ্রহণযোগ্য। তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ওই জুলাই মাসেই তাকে বড়পুকুরিয়া থেকে সরিয়ে পেট্রোবাংলায় যুক্ত করা হয়।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় সংস্থাটির পরিচালককে (অপারেশন অ্যান্ড মাইন্স) আহ্বায়ক করে গত বছরের ১৯ জুলাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি কয়লার ঘাটতিকে ‘সিস্টেম লস’ বা কারিগরি লোকসান হিসেবে উল্লেখ করে আরও অধিকতর তদন্তের পরামর্শ দেয়। ওই বছরেরই ২৯ জুলাই পেট্রোবাংলায় এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে একাধিক মাইনিং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থেকে তদের মতামত দেন। এ ছাড়া গত বছরের ৩০ আগস্ট জ্বালানি বিভাগের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার বিশদ তদন্তের জন্য মাইনিং বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের এক পরিচালক, কোল মাইনিং বিষয়ে অভিজ্ঞ পেট্রোবাংলার দুই কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিও গত বছরের ২০ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। সেখানে বলা হয়েছে, উৎপাদন থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবহন ও মজুদকালে রোদের তাপ, খোলা বাতাস ও বৃষ্টির পানিতে কয়লার ওজন হ্রাস খুবই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৪২ শতাংশ সিস্টেম লস গ্রহণযোগ্য।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিস্টিম লস ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়াও ওই বছরের ২৯ নভেম্বর তৎকালীন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান যিনি একই সঙ্গে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি জ্বালানি সচিবকে চিঠি লিখে কারিগরি কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত মতামত ব্যাখ্যা করেন। সেখানে তিনি জানান, কয়লা উত্তোলন ও বিপণন ব্যবস্থায় সিস্টেম লস রয়েছে। কোল ইয়ার্ড থেকে কয়লা সরবরাহের ক্ষেত্রে সিস্টেম লসের পরিমাণ বেশি। সেখানে স্পন্টেনিয়াস কম্ভাস্টন বা আগুন জ্বলা, বৃষ্টির পানিতে কয়লা ধুয়ে যাওয়া, ঝড়বৃষ্টি বা বাতাসে কয়লা ক্ষয় হওয়া, ইয়ার্ডে মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া, পরিবহনে সময় নষ্ট হওয়ার কারণে সিস্টেম লস হয়েছে।

এ লসের পরিমাণ বা হার মূলত স্টক ইয়ার্ডে কয়লা মজুদের স্থায়িত্বকাল, স্তূপের উচ্চতা, আবহাওয়ার তারতম্যের ওপর নির্ভর করে। যার পরিমাণ ১ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান তার চিঠিতে ভবিষ্যতে কয়লার মজুদের হিসাব সমন্বয়ের জন্য নির্দেশনা প্রদানের বিবেচনা করতে বলেন।

ওই ঘটনায় গঠিত টেকনিক্যাল কমিটিগুলোও তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, কয়লার ফিজিবিলিটি স্টাডি করে ব্রিটিশ কোম্পানি মেসার্স ওর্য়াডলে আর্মস্টং নামক প্রতিষ্ঠান বলেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ। দীর্ঘদিন ইয়ার্ডে পড়ে থাকার কারণে কয়লার আর্দ্রতা কমে এর ওজন কমে যায়। আবার খনি থেকে উত্তোলনকালে কয়লার সঙ্গে আসা মাটি-পাথর বিক্রির সময় আলাদা করা বা সরিয়ে ফেলার কারণেও উৎপাদন পয়েন্ট থেকে যে পরিমাপে কয়লা ইয়ার্ডে যায়, পরে একই পরিমাণ থাকে না।

কয়লা উধাওয়ের ঘটনাটি যদি পুরোটাই সিস্টেম লস হবে, তা হলে কেন দুদক এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেÑ এমন প্রশ্নে পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, সেটা দুদকের বিষয়। তারা নিশ্চয় তাদের মতো তদন্ত করে কোনো ত্রুটি পেয়েছে। তবে আমি বলব সিস্টেম লস হওয়াটা স্বাভাবিক। কয়লা উত্তোলন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত কোনো সিস্টেম লস হবে না সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। আবার একেবারে চুরি হয়নি, সেটাও বলব না। স্থানীয় পর্যায়ে কিছু এদিক-সেদিক হলেও বিশাল পরিমাণ কয়লা উধাও হয়ে যেতে পারে না। দীর্ঘসময় সঠিক পদ্ধতিতে হিসাব না করায় এটা হতে পারে।

এদিকে বড়পুকুরিয়া খনির ২০১৭-১৮ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রস্তুতকৃত বইতেও দেখা যায়, উধাও হওয়া ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন কয়লাকে সিস্টেম লস হিসাবে দেখিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উৎসঃ আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ রেলওয়ের কারিগরি প্রকল্পে ক্লিনারের বেতন মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা


রেলওয়ের কারিগরি প্রকল্পে ক্লিনারের বেতন মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। আর অফিস সহায়কের বেতন প্রতি মাসে ৮৩ হাজার ৯৫০ টাকা। যেখানে ক্যাড অপারেটরের বেতন সাধারণত ৫০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা ধরা হয় সেখানে এই প্রকল্পে ধরা হয়েছে সোয়া লাখ টাকা।

আর বিদেশী পরামর্শকদের বেতন মাসে গড়ে ১৬ লাখ টাকা। এসব ব্যয়কে পরিকল্পনা কমিশন অত্যধিক ও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে কার্যপত্রে। প্রকল্পে অত্যধিক পরামর্শক রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। আর অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দেশে লাগামহীন লুটপাট চলছে। দুর্নীতির বিচার ও শাস্তি না হওয়ায় লুটপাটের মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এসব এখনই কঠোর হাতে দমন করতে হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে পাঠানো রেলওয়ের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে প্রস্তুতিমূলক কারিগরি সহায়তায় ২৫৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে কারিগরি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পে ব্যয়ের বেশির ভাগ অর্থাৎ ১৮০ কোটি ৫০ লাখ ২৯ হাজার টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ঋণ হিসেবে নেয়া হবে। বাকি প্রায় ৭৬ কোটি টাকা হবে সরকারি অর্থায়ন। প্রকল্পের মূল কাজ হলো ১১টি উপপ্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ।

অর্থাৎ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বিস্তারিত ডিজাইন, দরপত্র ডকুমেন্ট প্রস্তুতসহ কিছু আনুষঙ্গিক কাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য পরামর্শক থাকবে ১ হাজার ৫৩০ জন। এর মধ্যে বিদেশী পরামর্শক ১ হাজার ১৫৩ জন, স্থানীয় ৩৭৭ জন। ১৩ জন কর্মকর্তা, ১৮ জন জনবল এবং ৯ জন স্টাফ। তবে এই জনবল নিয়োগে কোনো ক্ষেত্রেই অর্থ বিভাগের জনবল কমিটির সুপারিশ কারিগরি প্রকল্প প্রস্তাবনায় (টিপিপি) পাওয়া যায়নি।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্রে দেখা যায়, সহায়তা স্টাফদের জন্য বেতন ধরা হয়েছে আকাশচুম্বী; যা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ক্লিনারের বেতন প্রতি মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা কোনো কোনো প্রকল্পে একজন বিদেশী পরামর্শকের বেতনের সমান বা বেশি। অফিস সহায়কের বেতন ধরা হয়েছে প্রতি মাসে ৮৩ হাজার ৯৫০ টাকা আর ক্যাড অপারেটরের বেতন মাসে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এসব ব্যয় অত্যধিক বলে পরিকল্পনা কমিশন বলছে।

প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনায় দেখা যায়, পরামর্শক সেবার মূল প্যাকেজটির মূল্য ২৩৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর আওতায় সব কাজই করা হবে। সেবা ক্রয়ে মাত্র দুটি প্যাকেজ করা হয়েছে। সম্ভবত একটি ফার্মের মাধ্যমে এই কাজ করা হবে। প্রকল্পভুক্ত ১১টি উপপ্রকল্পের কাজ একক প্যাকেজের পরিবর্তে ৪ থেকে ৫টি প্যাকেজের মাধ্যমে করা উচিত বলে ভৌত অবকাঠামো বিভাগ থেকে বলা হয়েছে। প্রকল্পে ১৩ জন কর্মকর্তা প্রেষণে অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ করবেন। আরো ৫ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। এ ছাড়া ৯ জন স্টাফ আউটসোর্সিং হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই জনবল কমিটির সুপারিশ টিপিপিতে সংযুক্ত করা হয়নি। প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে আগামী ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

ব্যয় বিভাজন পর্যালোচনা করে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পে সব মিলে ১ হাজার ৫৩০ জন পরামর্শক রাখা হয়েছে। প্রকল্পে পরামর্শকের আধিক্য রয়েছে। আবার একই বিষয়ে দুই বা ততোধিক পরামর্শকের সংস্থান রাখা হয়েছে, যা অর্থের অপচয়। আন্তর্জাতিক পরামর্শকের বেতন প্রতি মাসে ২৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এই খাতে ব্যয় প্রতি মাসে গড়ে ১৬ লাখ টাকা। সম্প্রতি অনুমোদিত এডিবির সমজাতীয় প্রকল্পের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই ব্যয় যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। এসব আলোচনা করে কমিয়ে আনা প্রয়োজন। আবার পরামর্শক ব্যয়ের সাথে গাড়ি ভাড়া বাবদ ৪ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। এই ব্যয়ের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও ভৌত অবকাঠামো বিভাগ মন্তব্য করেছে।

যে ১১টি উপপ্রকল্পের জন্য এই কারিগরি প্রকল্প তার মধ্যে হলো- হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ওপর বিদ্যমান রেলসেতুর সমান্তরালে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য বিশদ নকশাসহ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, আব্দুলপুর-রাজশাহী সেকশনে আরেকটি সমান্তরাল ব্রডগেজ লাইনের জন্য বিশদ ডিজাইনসহ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, সান্তাহার থেকে রোহনপুর নতুন ব্রডগেজ লাইনের জন্য বিশদ ডিজাইনসহ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, সান্তাহার-বগুড়া-কাউনিয়া-লালমনিরহাট সেকশনে বিদ্যমান মিটারগেজ লাইনকে ডুয়েলগেজ লাইনের জন্য বিশদ ডিজাইনসহ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ড লাইনের সমান্তরাল নতুন ব্রডগেজ লাইনের জন্য বিশদ ডিজাইনসহ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যশোর থেকে বেনাপোল সমান্তরাল নতুন ব্রডগেজ লাইনের জন্য বিশদ ডিজাইনসহ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইত্যাদি।

এই খরচের ব্যাপারে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিসের সাথে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইলে যোগাযোগ করে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রেল উইংয়ের যুগ্ম-প্রধান মো: মতিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটা মিটিংয়ে আছেন বলে জানান।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদের মতে, চোখ বন্ধ করে দুর্নীতি করা হচ্ছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী বলছেন দুর্নীতিতে জিরো টরালেন্স সেখানে তারা কিভাবে এবং কারা এভাবে দুর্নীতি করার সাহস পাচ্ছে। ক্লিনারের বেতন ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা কোনো মতেই হতে পারে না। এসব হলো চরম মাত্রায় দুর্নীতি। তিনি বলেন, এক সময় আমরা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। বিদেশ থেকে ঋণ এনে সেই টাকা এভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে অপব্যবহার করা হলে বিদেশীরা আমাদের সম্পর্কে খারাপ ধারণা করবে।

তিনি বলেন, যেখানে খুব দ্রুত আমরা উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার আশা করছি সেখানে এসব দুর্নীতি আমাদেরকে সেই প্রত্যাশা পূরণে বাধাগ্রস্ত করবে এবং করছে। এসব দুর্নীতি না থাকলে আমরা আরো আগেই মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে পারতাম। এই যে বালিশ দুর্নীতি, ৩৭ লাখ টাকায় পর্দার কাপড় কেনা এগুলো আমাদের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করছে।

ক্লিনারের বেতন সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এসবের ব্যাপারে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে হবে। যেটা না করার কারণে দুর্নীতির মাত্রা বেড়েই চলেছে। একজন ক্লিনারের বেতন মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এটা লুটপাট ছাড়া কিছুই না। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে এসব কী হচ্ছে? তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন খাতে যে দুর্নীতি ও অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে তার কোনো বিচার ও শাস্তি হচ্ছে না। যার কারণে এসব কর্মকাণ্ড এখন লাগামহীনভাবে চলছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না। জনগণের করের টাকা এবং জনগণের মাথায় ঋণের দায় চাপিয়ে দিয়ে বিদেশ থেকে ঋণ এনে তা এইভাবে লুটপাট ও তছরুপ করা হচ্ছে। এগুলোকে কঠোরভাবে দমন করা দরকার। যারা এসব করছে তাদের ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এখনই।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ দুর্নীতির আখড়া জাহিদ মালেকের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়!


মাত্র কিছু দিন আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঘটে গেল এক ভয়াবহ বালিশ কেলেংকারির ঘটনা। বালিশ, বিছানা চাদর, চায়ের কাপ, কেটলি, চেয়ার টেবিল, লেপ-তোষক কেনায় এমনই সীমাহীন দুর্নীতি ছিল যে, হাইকোর্টের বিচারপতিরা পর্যন্ত এসব শুনে অবাক হয়ে গেছেন। নজিরবিহীন এই দুর্নীতির ঘটনায় সরকারের ওপর মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল।

ভিডিওঃ  ‘ দুর্নীতিতে রূপপুর বালিশ কান্ডকে হার মানাল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৌশলে এই দুর্নীতির দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু, পরে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। মির্জা ফখরুল আসল গোমর ফাঁস করে দিয়েছেন।

বালিশ কেলেংকারির সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ঘটেছে বই কেলেংকারির ঘটনা। দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের জন্য বই কেনার নামে লুটপাট করা হয়েছে কোটি টাকা।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের জন্য ১০টি বই কপি কিনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বইটির বাজারমূল্য সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা হলেও স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রতিটি বই কিনেছে ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা করে। সেই হিসাবে ১০ কপি বইয়ের মোট দাম পরিশোধ করা হয়েছে ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, বাজার দামের তুলনায় ৮ লাখ টাকা বেশি খরচ করে এ বই কিনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

শুধু এই একটি আইটেমের বই-ই নয়, দুটি টেন্ডারে ৪৭৯টি আইটেমের ৭ হাজার ৯৫০টি বই কিনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এসব বইয়ের মূল্য বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৩৪ হাজার ২৪৩ টাকা।

রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজের জন্য ৩১৭টি আইটেমের ২৪৫৪টি বই ২ কোটি ৫০ লাখ ৯১ হাজার ২৮৫ টাকায় কেনা হয়েছে। এছাড়া, সারাদেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের জন্য ১৬২টি আইটেমের ৫৪৯৬টি বই কেনা হয়েছে ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪২ হাজার ৯৫৮ টাকায়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের ২৬ ও ২৭ মে বই কেনার জন্য পৃথক দুটি টেন্ডার আহ্বান করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। প্রথম টেন্ডারের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় পাঁচ কোটি টাকা ও দ্বিতীয়টির প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪২ হাজার ৯৫৮ টাকায় প্রথম টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডার পায় হাক্কানী পাবলিশার্স। আর ২ কোটি ৫০ লাখ ৯১ হাজার ২৮৫ টাকায় দ্বিতীয় টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডারও পায় একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষে এসব বই কেনার দায়িত্বে ছিলেন উপ-পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) ডা. শেখ মো. মনজুর রহমান, শিক্ষা চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন।

৪৭৯টি আইটেমের বইয়ের মধ্যে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩০টি বইয়ের বাজার দাম যাচাই করেছে । বইয়ের বাজার দাম যাচাই করে দেখা গেছে, বইগুলো দ্বিগুণ, তিনগুণ কোনও ক্ষেত্রে ১৫ গুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে।

সাতটি মেডিক্যাল কলেজের জন্য গ্রেজ অ্যানাটমি নামে ৯৫টি বই কেনা হয়েছে। বাজারে এই বইয়ের প্রতিটি কপির দাম ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। কিন্তু একেকটি বই কেনার বিল করা হয়েছে ৪৩ হাজার টাকা করে। ৯৫টি বই কিনতে খরচ হয়েছে ৪০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ বাজার মূল্যের চেয়ে অন্তত সাতগুণ বেশি দামে বইটি কিনেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বার্ন অ্যান্ড লেভি ফিজিওলজি বইটির ৬৫টি কপি কেনা হয়েছে দেশের পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজের জন্য। বাজারে বইটির দাম চার হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা। কিন্তু, মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি বই কেনা হয়েছে ২০ হাজার ৪৮০ টাকায়।

মুগদা মেডিক্যালের জন্য কেনা হয়েছে ‘অর্থোডোনটিক মেটারিয়াল সায়েন্টেফিক অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল অ্যাসপেক্টস’ নামে তিনটি বইয়। বাজারে বইটির দাম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা হলেও কেনা হয়েছে ১৪ হাজার ১৭৫ টাকা করে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্র্যাকটিক্যাল অপটামোলজি: ম্যানুয়াল ফর বিগেনার্স বইটি কেনা হয়েছে পাঁচ কপি। প্রতিটি বইয়ের বাজার মূল্য ২৯ হাজার টাকা। কিন্তু, প্রতিটি বই কেনা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা করে।

‘অর্থোফিক্স এক্সটার্নাল ফিক্সেশন ইন ট্রমা অ্যান্ড অর্থোপেডিকস’ নামের বইটির ১০টি কপি কেনা হয়েছে মুগদা মেডিক্যালের জন্য। এ বইয়ের বাজার দর প্রতিটি ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা। কিন্তু প্রতিটি বই কেনা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৫ টাকা করে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখত বরাবরই দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত। কিছু দিন আগেই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী আবজালের দুর্নীতির চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিগত ১৫ বছরে ২৪ হাজার কোটি টাকার মালেক হয়েছেন। তার এই দুর্নীতি নিয়ে সারাদেশে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু, এরপরও দুদকের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবজাল দম্পতি দেশ থেকে পালিয়েছেন।

বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ওই সময় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। জানা গেছে, এসব দুর্নীতির সঙ্গে তিনিও জড়িত আছেন। এখন তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী। দুর্নীতি এখন মন্ত্রণালয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছেছে। বিভিন্ন সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি বড় বড় কথা বললেও কার্যত দুর্নীতি বন্ধে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বালিশ কান্ডকে হার মানিয়ে দুর্নীতির নতুন নজির গড়লো ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল!


ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি পর্দা কেনায় খরচ ধরা হয়েছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যা বহুল আলোচিত রূপপুর বালিশকাণ্ড দুর্নীতিকেউ হার মানিয়েছে। সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিক টিভির এক অনুসন্ধানীতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এ ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

ভিডিওঃ  ‘ দুর্নীতিতে রূপপুর বালিশ কান্ডকে হার মানাল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এই হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনাতে অন্তত ৪১ কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

দুর্নীতির নজির সৃষ্টি করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স অনিক ট্রেডাস। যার বিরুদ্ধে বছর খানিক আগে প্রায় ১০ কোটি টাকার বিল আটকে দিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে বিল পরিশোধের আবেদন জানিয়ে ২০১৭ সালের ১ জুন রিট করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে সাপ।

তখনই জানা যায়, এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের রোগীর বেড আড়ালে ব্যবহৃত একটিমাত্র পর্দা কেনা হয়েছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। এ সময় বেরিয়ে আসে অবিশ্বাস্য আরও সব তথ্য।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনায় ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে এসব দুর্নীতি হয়েছে।

এরমধ্যে ১১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬৫ টাকার মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনাকাটায় বিল দেখানো হয়েছে ৫২ কোটি ৬৬ লাখ ৭১ হাজার ২০০ টাকা। এই একটি কেনাকাটাতেই মেসার্স অনিক ট্রেডার্স বাড়তি বিল দেখিয়েছে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৭ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইসিইউতে ব্যবহৃত একটি পর্দার দাম ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছাড়াও একটি অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট কেনার খরচ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। একটি ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট ৮৭ লাখ ৫০ হাজার, একটি বিএইইস মনিটরিং প্ল্যান্ট ২৩ লাখ ৭৫ হাজার, তিনটি ডিজিটাল ব্লাড প্রেসার মেশিন ৩০ লাখ ৭৫ হাজার, আর একটি হেডকার্ডিয়াক স্টেথোসকোপের দাম ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। এমন অবিশ্বাস্য দামে ১৬৬টি যন্ত্র ও সরঞ্জাম কিনেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, মেসার্স অনিক ট্রেডাসের রিটের পর প্রকাশ পায় ওই সময়কালে হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই অবস্থায় ছয় মাসের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্ত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ মাহমুদ বাশার জানান, এক রোগী থেকে আরেক রোগীকে আড়াল করার পর্দার দাম ধরা হয়েছে ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। বাজার মূল্যের সাথে কোনোভাবেই এটি সঠিক মূল্য নির্ধারণ বলা যাবে না।

তিনি বলেন, যারা দায়িত্বশীল ব্যক্তি ছিলেন তারা ঘটনায় সম্পৃক্ত। তাহলে তাদের বিরুদ্ধে শুধু প্রশাসনিক নয়, আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তবে সেটা দুদক তদন্ত সাপেক্ষে নির্ধারণ করবে।

পর্দা কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স অনিক ট্রেডাসের রিট পিটিশনার ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল কথা বলতে রাজি হননি।

উৎসঃ পূর্বপশ্চিমবিডি

আরও পড়ুনঃ হাসিনার প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ছেন ব্যারিস্টার মইনুল!


কথিত নারীবাদী লেখক ও সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির করা মানহানির মামলায় জামিন না দিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, বিশিষ্ট আইনজীবী ও ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশন পত্রিকার সম্পাদক ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে আবারো কারাগারে পাঠিয়েছে শেখ হাসিনার অনুগত আদালত। যদিও তার আইনজীবীরা বলছেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে করা প্রত্যেকটি মামলাই জামিন যোগ্য। তারপরও কথিত এই মানহানির মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২৭ এর বিচারক তোফাজ্জল হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জানা গেছে, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে মূলত সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে। কারণ, মামলাগুলো করা হয়েছিল তার নির্দেশেই। শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে কথিত নারীবাদীদেরকে বলেছিন, আপনারা মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে যত পারেন মামলা করেন, বাকীটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাতেই উত্তরা থেকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় দুর্নীতির দায়ে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করেছিল সেনাশাসিত সরকার। ওই সময় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ধারণা মইনুল হোসেনই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করিয়েছেন। এই থেকেই মইনুল হোসেনের ওপর শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার প্রকাশ্যেই বলেছেন যে, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন তাকে গ্রেফতার করিয়েছেন।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে ফাঁদে ফেলতে একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন শেখ হাসিনা। তাই, মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মাসুদা ভাট্টির ইস্যুকে মোক্ষম হাতিয়ার বলে মনে করছে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতারা। যার কারণে, মইনুল হোসেন লিখিতভাবে দু:খ প্রকাশ করার পরই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নারীবাদীদেরকে মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এরপর মইনুল হোসেন কারামুক্ত হয়ে আবারো সরকারের দুর্নীতি-দু:শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। এরপরই শেখ হাসিনা আবারো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের ওপর। মূলত তার সাহসী কণ্ঠ রোদ্ধ করতেই তাকে আবার কারাবন্দী করেছেন শেখ হাসিনা।

মইনুল হোসেনেকে কারাগারে পাঠানোর পর রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, মাসুদা ভাট্টির ইস্যুটিকে কাজে লাগিয়ে মূলত শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিচ্ছেন। আর সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমসহ দু:শাসনের বিরুদ্ধে মইনুল হোসেন সর্বদাই সোচ্চার ভুমিকা পালন করছেন। এরপর সরকার বিরোধী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার পর মইনুল হোসেনের ওপর শেখ হাসিনা আরও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এসব কারণেই মূলত ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে পুনরায় কারাগারে নিক্ষেপ করেছেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ হাসিনা কি পারবে মোদিকে রুখে দিতে?


বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী আসাম রাজ্যে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের নাগরিকত্ব হারিয়েছে। তারা এখন থেকে আর আসাম রাজ্যের নাগরিক নন। তারা এখন রাষ্ট্রহীন। এই ১৯ লাখের মধ্যে ৮ লাখ মুসলমান আর বাকী ১১ লাখ হিন্দু।

ভারত সরকার গত দুই বছর ধরেই দাবি করে আসছে যে, আসামে অনুপ্রবেশকারী ৪০ লাখ বাংলাভাষী রয়েছে। তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ সহ কেন্দ্রীয় নেতারা প্রায় সময়ই হুমকি ধামকি দিচ্ছেন যে, অনুপ্রবেশকারীদেরকে ঝেটিয়ে ভারত থেকে বিদায় করা হবে। তাদেরকে খুঁজে বের করে বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

সর্বশেষ গত শনিবার তারা ১৯ লাখ লোককে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও আসামের অর্থমন্ত্রী হৈমন্ত বিশ্বশর্মা রোববার বলেছেন, ১৪ লাখ লোককে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

যদিও বাংলাদেশ সরকার ভারতের এই দাবিকে নাকচ করে বলেছে- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ থেকে কোনো নাগরিক ভারতে যায়নি। আসামে বাংলাদেশের কোনো লোক নেই। ভারত সরকার কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেবে না বলেও আশা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

জানা গেছে, আসামের এই নাগরিক তালিকা প্রকাশের মূল টার্গেট হলো মুসলমান। আসাম থেকে মুসলমানদেরকে বের করে দেয়ার জন্য লক্ষ্য নিয়েই নরেন্দ্র মোদি এই এনআরসি করেছে। এর প্রমাণ হলো-আসাম রাজ্যের বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মুসলমানরা তুলনামূলক কম বাদ পড়েছে। এতে করে চরম হতাশা প্রকাশ করেছে রাজ্যের বিজেপি নেতারা। আসামের বিজেপি সভাপতি রণজিৎ কুমার দাস বলেছেন-আমরা এই এনআরসির প্রতি আস্থা রাখতে পারছি না। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ও আসাম পাবলিক ওয়ার্ক নামের দুইটি সংগঠন। যাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এনআরসি করার নির্দেশ দিয়েছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

মোদি-অমিত শাহ’র মূল টার্গেট হলো এই এনআরসির মাধ্যমে ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা কমিয়ে আনা। তাই নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়াদের অধিকাংশকে বাংলাদেশে ঠেলা দেয়ার চেষ্টা করবে ভারত।

এখন প্রশ্ন হলো-ভারত যদি আসাম থেকে ৫ লাখ লোককেও বাংলাদেশে ঠেলে দেয় তাহলে শেখ হাসিনা কি তা ঠেকাতে পারবে? ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কি শেখ হাসিনার সরকার শক্তভাবে দাঁড়াতে পারবে? ভারত যদি জোর করে ঠেলে দেয় তাহলে বিজিবি কি সীমান্তে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে? এসব প্রশ্ন এখন রাজনীতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে।

তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত যদি জোর করে কয়েক লাখ লোককে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় তাহলে শেখ হাসিনার পক্ষে তা ঠেকানো সম্ভব হবে না। কারণ, ভারতকে ঠেকানোর মতো নৈতিক শক্তি শেখ হাসিনার নেই। ভারতই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে। অন্যথায় শেখ হাসিনা আরও আগেই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতেন। এখন ভারতের বিরুদ্ধে যাওয়া শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভব হবে না।

তাদের মতে, দেশের সংকটের চেয়ে শেখ হাসিনার কাছে এখন তার দল ও নিজের সংকট বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশ গোল্লায় যাক, তার দরকার এখন ক্ষমতা। কারণ, ক্ষমতা হাত ছাড়া হলেই এক কঠিন বিপদের মুখোমুখি হবেন তিনি। তাই, ক্ষমতার জন্য তিনি আসামের ১০ লাখ লোককে জায়গা দিতেও রাজি হবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হিন্দু নেত্রী প্রিয়া সাহার মিথ্যা নালিশের সাথে ভারতের এনআরসি প্রকাশের যোগসূত্র দেখছেন। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী আচরণ করার পরেও প্রিয়া সাহকে শেখ হাসিনার সরকার কিছুই করার ক্ষমতা রাখেনি। আর যেহেতু প্রিয়া সাহাকে শেখ হাসিনা কিছুই বলতে পারেনি, সেহেতু ভারত বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের মত আচরণ করলেও শেখ হাসিনা কিছুই করতে পারবে না। বরং দুর্বল ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে আসাম থেকে ঠেলে দেয়া ভারতীয় নাগরিকদের সাথে রোহিঙ্গাদের সাথে খাবার ভাগ করে খাওয়ার মত ঘোষণা দিলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here