অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার নানা অপকর্মের তথ্য প্রকাশ, তার ছিল ‘খাস কামরা’

0
390

শ্লীলতাহানির মামলা করায় গত শনিবার এক ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার পর ফেনীর সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার নানা অপকর্মের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এর আগেও একাধিক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ, তিনি একেক সময় একেক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করতেন। এ অপকর্ম করতে অধ্যক্ষ মাদ্রাসা শিক্ষকদের কার্যালয় থেকে নিজ দফতরটি আলাদা ভবনে সরিয়ে নিয়েছেন।

তিনি সাইক্লোন সেল্টারে দোতলায় দফতর করেছেন। তার এসব অপকর্মের অন্যতম সহযোগী মাদ্রাসার পিওন, কয়েকজন ছাত্র এবং স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা।

এর আগেও ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি এবং প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এছাড়া মাদ্রাসায় অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতাসীনদের হাতে রেখে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, অধ্যক্ষ সিরাজকে এর আগে এক শিশু বলাৎকারের অভিযোগে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের সালামতিয়া মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নোয়াখালীর বসুরহাটের রঙ্গমালা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে চাকরিচ্যুত করা হয় তাকে। তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা, প্রতারণা, নাশকতা ও চেক জালিয়াতিসহ সোনাগাজী ও ফেনী থানায় চারটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

চেক জালিয়াতির মামলায় ২০১৭ সালেও জেল খেটেছিলেন তিনি। জামায়াতের সাবেক রুকন অধ্যক্ষ সিরাজকে ২০১৬ সালে নৈতিক স্খলন, তহবিল তছরুপসহ নানা অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসায় যোগদানের পর সিরাজ উদ দৌলা প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও যৌন হেনস্তার আখড়ায় পরিণত করেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

তার এসব অপরাধের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিভাবকরা অভিযোগ জানালেও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। ছয় মাস আগেও এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন মাদ্রাসার আরেক ছাত্রী।

এর আগে উম্মুল কুরা মাদ্রাসা নামে ফেনী শহরে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন সিরাজ। ওই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার হোল্ডারদের কাছ থেকে নেয়া বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে সিরাজের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে চারজন শেয়ারহোল্ডার তার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা করেন। এ মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুই দশক আগে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় ভাইস প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগ পান সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদের মৃত. কলিম উল্যার ছেলে সিরাজ উদ দৌলা। যথাযথ যোগ্যতা না-থাকায় জাল কাগজপত্র বানিয়ে তিনি এ প্রতিষ্ঠানে ঢোকেন বলে এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল।

এ নিয়ে চার বছর আগে মাদরাসার তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য এবং সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মান্নান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট শাখার ডিজি বরাবর একটি অভিযোগ জমা দেন।

ওই অভিযোগে বলা হয়, ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগ পেতে হলে আলিম মাদ্রাসায় চাকরির ন্যূনতম ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। অথচ সিরাজ তার আগেকার দুটি দাখিল মাদ্রাসায় চাকরি করার ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ জমা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই মাদ্রাসায় নিয়োগ পাওয়ার পর সিরাজ সুবিধাবাদীদের সঙ্গে নিয়ে অনিয়মের মহোৎসবে মেতে ওঠেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় ছিল। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন এ প্রতিষ্ঠানের সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছেন। অধ্যক্ষের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তার অপকর্ম ঢাকার অভিযোগ উঠেছে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, ‘কোনো ধরনের অপরাধকে আমরা প্রশ্রয় দিই না। রাফিকে আগুন দেয়ার ঘটনায় আমি ন্যায়বিচার চাই। দোষী যে-ই হোক না কেন আমি প্রকৃত দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’

এদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ আবদুল হালিম মামুন বলেন, ‘অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের তথ্য এর আগে প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ একটি গ্রুপ তাকে রক্ষা করতে সব সময় মরিয়া হয়ে অবস্থান নেন।’

সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও চেক জালিয়াতিসহ তিনটি মামলা রয়েছে। এসব বিচারাধীন এসব মামলায় তিনি দফায় দফায় কারাভোগ করেছেন।

অপকর্ম করতে নিজের অফিস আলাদা করেছিল অধ্যক্ষ:

ছাত্রীদের সঙ্গে অপকর্ম করতে অধ্যক্ষ সিরাজ নিজের দফতরটি আলাদা করেছেন। সাইক্লোন সেল্টারের দোতলায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ছাত্রীদের ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করতেন অধ্যক্ষ। একাধিক ছাত্রী অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা কর্তৃক যৌন হেনস্তার শিকার হলেও লোকলজ্জার ভয়ে প্রকাশ করেননি। গত ২৭ মার্চ সবশেষ যে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেছেন তার দুই মাস আগে আরও এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেছেন। ওই ঘটনায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হলেও কোনো বিচার হয়নি।

এর আগেও একাধিক ছাত্রীকে পিওন দিয়ে ডেকে নিয়ে নিজ কক্ষের মধ্যে শ্লীলতহানি করতেন অধ্যক্ষ। ওইখানে অধ্যক্ষ সিরাজ খাস কামরাও তৈরি করেছেন। অধ্যক্ষ সিরাজ পিওনদের দিয়ে ডেকে নিয়ে ছাত্রীদের নানা প্রলোভনে ফেলে শ্লীলতাহানি করতেন। তার বিরুদ্ধে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে পারতো না।

তার বিরুদ্ধে যাতে কেউ কোনো কথা বলতে না পারে এজন্য নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন। মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্র তার অপকর্মের সহযোগী। এছাড়া পিওনরা তার অপকর্মের অন্যতম সহযোগী।

ভুক্তভোগীদের হুমকি-ধামকি:

দগ্ধ ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা জানায়, সোনাগাজী খাজিদাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা থেকে এ প্লাস পেয়ে দাখিল পাস (এসএসসি) করার পর ২০১৭ সালে সোনাগাজী পৌরশহরের থানার অদূরে জেলার ঐতিহ্যবাহী সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিমে ভর্তি হন দগ্ধ ছাত্রী। মেধাবী এ ছাত্রী মাদ্রাসায় ভর্তির পর থেকে সরাসরি না হলেও আকারে ইঙ্গিতে বিভিন্ন সময়ে দগ্ধ ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করত।

সর্বশেষ আলিম পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ওই ছাত্রীকে পিওন নুরুল আমিনকে দিয়ে ডেকে নেয়। তখন ফূর্তি ও নিশান নামে দুই বান্ধবীকে নিয়ে দগ্ধ ছাত্রী প্রিন্সিপাল সিরাজউদ দৌলার কক্ষে প্রবেশ করে। সেখানে আলিম পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার আধাঘণ্টা আগে প্রশ্ন দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ওই ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়। তখন দগ্ধ ছাত্রীর দুই বান্ধবী ছিল প্রিন্সিপালের কক্ষের বাইরে।

এক পর্যায়ে প্রিন্সিপাল সিরাজ উদ দৌলা দগ্ধ ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করে। ওই ছাত্রী এমন পরিস্থিতে থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত বের হয়ে আসে। এরপর বাড়ি গিয়ে তার মা ও পরিবারের সদস্যদের প্রিন্সিপালের কুকীর্তির কথা প্রকাশ করে। মেয়ের ঘটনা শুনে দগ্ধ ছাত্রীর মা ও ভাই এলাকার কাউন্সিলর ইয়াছিন মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওইদিন প্রিন্সিপালের কাছে এসে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে প্রিন্সিপাল উত্তেজিত হয়ে ওই মেয়ের ছোট ভাইকে (একই মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী) মারপিট করার জন্য মাদ্রাসার কিছু ছাত্রদের ডেকে নিয়ে আসে। একই সময় থানায় ফোন করে পুলিশ ডাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য। ওই সময় অধ্যক্ষ হুমকি দেয় এ ঘটনায় যদি মুখ খোলে তাহলে ছাত্রী ও ছাত্রীর পরিবারকে মেরে লাশ টুকরো টুকরো করা হবে। একপর্যায়ে সোনাগাজী থানার একজন এসআই (যিনি বর্তমানে শ্লীলতাহানির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা) প্রিন্সিপালের কক্ষে আসলে প্রিন্সিপাল দগ্ধ ছাত্রীর ভাই ও মাকে পুলিশে দেয়ার চেষ্টা করেন। পরে ওই কর্মকর্তা দগ্ধ ছাত্রীকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে বললে ছাত্রী এসে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করে।

ওই সময় ফূর্তি ও নিশান নামে দুই বান্ধবী প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ প্রিন্সিপালকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলে দগ্ধ ছাত্রীর মা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার পর থেকে প্রিন্সিপালের অন্যতম সহযোগী একই মাদ্রাসার ছাত্র নুরে আলম, মাদ্রাসার ছাত্রলীগ নেতা শাহে আলম শামিম, জাবেদ ও মহিউদ্দিন শাকিলসহ কয়েকজন দগ্ধ ছাত্রী ও তার পরিবারকে অব্যাহত হুমকি দিয়ে মামলা তুলে নিতে বলে।

সর্বশেষ ঘটনার দিন মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মাদ্রাসা ছাত্রীর ভাইকে ফোন করে মামলা তুলে নিয়ে আপস করবে কিনা জানতে চায়।

উৎসঃ ‌poriborton

আরও পড়ুনঃ নুসরাতের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে ‘কওমি প্রজন্মের’ মানববন্ধন

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে অগ্নিদগ্ধ করে পুড়িয়ে হত্যা ও ডেমরায় ছোট্ট শিশু মনিরকে নৃশংসভাবে হত্যা করার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন কওমি মাদ্রাসা ছাত্রদের আয়োজনে ‘কওমি প্রজন্মের’ ব্যানারে মানববন্ধন পালন করা হয়েছে।

‘অপরাধীর পরিচয় শুধুই অপরাধী’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মানববন্ধনে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।

সচেতন কওমি মাদ্রাসা ছাত্রদের উদ্যোগে আয়োজিত মানবন্ধনে প্রখ্যাত ওয়ায়েজ মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহর সভাপতিত্বে ও কলরবের যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মাদ বদরুজ্জামানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন— কলরবের প্রধান পরিচালক রশিদ আহমাদ ফেরদাউস, মুফতি আবু ইউসুফ মাহমূদী, মুফতি ছাকিবুল ইসলাম কাসেমী, মুফতি আব্দুর রহমান কোব্বাদী, মুফতি রেজাউল করীম আবরার, হাফেজ ক্বারী ইলিয়াস লাহোরী, ক্বারী আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা, ক্বারী নুর মোহাম্মাদ, মাওলানা নজির আহমাদ শিবলী প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও বিচার নিয়ে আমরা শঙ্কায় থাকি। অপরাধীদের বিচার হোক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক; এটাই আমাদের দাবি ।’

মানববন্ধনে নারীর প্রতি নিপীড়নরোধে ইসলামের মূল্যবোধ জাগ্রতসহ ধর্মীয় মূল্যবোধ বৃদ্ধির চেষ্টা, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন, ধর্ষণের শাস্তির বিধান মৃত্যুদণ্ড ও ধর্ষণ মামলা পরিচালনার জন্য আলাদা আদালত গঠনসহ বেশকিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো পাঠ করেন পাবলিক ভয়েস টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী সম্পাদক হাছিব আর রহমান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ শাসকগোষ্ঠীর দুঃশাসন গোটা দেশটাকেই গ্রাস করেছে: বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম


অবৈধভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর দুঃশাসনের ভয়াল রূপ সামাজিক অনাচারের মাত্রা সীমাহীন করার পাশাপাশি গোটা দেশটাকেই গ্রাস করে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মুখোশধারীদের দেয়া আগুনে ফেনীর সোনাগাজীতে আলিম পরীক্ষার্থী মাদরাদাশিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এমন মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাতে বিএপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফেনীর সোনাগাজীতে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফীর শরীরে যেসব পাষণ্ডরা কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যা করলো তাদের প্রতি তীব্র ধিক্কার জানাই।’

বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থার সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আইনের শাসনের ভয়াবহ অবনতি এবং দেশে ন্যায়বিচার তিরোহিত হয়ে গেছে। এজন্য বর্তমানে মানুষের বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিশ্চয়তাটুকও নেই।’

বিবৃতিতে ফখরুল আরও বলেন, ‘বিভীষিকাময় ও দুর্বিনীত দুঃশাসনের এক ভয়াল রূপ গোটা দেশকেই গ্রাস করে ফেলেছে। এখন দুষ্কৃতিকারীরা আইন হাতে তুলে নিয়েছে। ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে কেরোসিন দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে রাফির মৃত্যুতে সারা দেশের মানুষ শোকে-দুঃখে-ক্ষোভে ফেটে পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মায়া-মমতাহীন মানুষ নামের পশুদের পাশবিকতায় নুসরাতের মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে গোটা দেশবাসী আজ শোকে-দুঃখে স্তম্ভিত ও বিমূঢ়। দেশবাসী আশা করে এই অমানুষদের নজিরবিহীন শাস্তি হোক।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি নুসরাতের হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ এবং বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সহমর্মিতা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নুসরাতকে বেহেশত নসীব করুন- এই দোয়া করি।’

এদিকে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে সোনাগাজী মো. সাবের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নুসরাতের দাফন সম্পন্ন হয়। এসময় সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেয়। গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম ও কান্নার রোল পড়ে। সবাই হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবি করেন।

এর আগে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতলের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে প্রায় ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা যান নুসরাত।

উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) গত ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে মুখোশধারী ৪ জন আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় মাদরাসার যৌন নিপীড়নকারী মাদরাসাটির অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে ৭ দিন ও তার দুই সহযোগী মাদরাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক নূরুল আফসার উদ্দিন ও ছাত্র আরিফুল ইসলামকে ৫ দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে সোনাগাজী উপজেলা আমলি আদালত। গত ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমদুল হাসান নোমানের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ফেনীর সেই অধ্যক্ষসহ দুই শিক্ষকের এমপিও স্থগিত


ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানি ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দুই শিক্ষকের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) স্থগিত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর।

বৃহস্পতিবার অধিদফতর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এমপিও স্থগিত হওয়া শিক্ষকরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আফসার উদ্দিন।

আদেশে বলা হয়, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির মামলা (নম্বর-২৪, তারিখ- ২৭/০৩/২০১৯) ও হত্যা মামলায় (নম্বর-১০, তারিখ- ০৮/০৪/২০১৯) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ এস এম সিরাজ উদ্দৌলা এবং একই মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আফসার উদ্দিন গ্রেফতার হওয়ায় তাদের এমপিও স্থগিত করা হলো।

এ বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শফিউদ্দিন বলেন, ‘অধ্যক্ষ ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও হত্যা মামলা দায়ের এবং তারা গ্রেফতার হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাদের এমপিও স্থগিত করা হয়েছে। ওই দুই শিক্ষকের সব ডাটা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) ইএমআইএস (ইলেকট্রনিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) সেলে থাকায় মাউশি মহাপরিচালককে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সিরাজ উদ্দৌলা শিক্ষক নামের কলঙ্ক: আল্লামা বাবুনগরী


ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শ্লীলতাহানির দায়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিচার চেয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে মাদ্রাসাছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যা ইতিহাসের জঘন্যতম একটি ঘটনা। সিরাজ উদ্দৌলা শিক্ষক নামের কলঙ্ক। তার এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা হতাশ হয়েছি।

যারা ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক জীবনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) সঠিক আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারে না তাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া অনুচিত। এরা শিক্ষক হওয়ার অযোগ্য। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তারা হুমকিস্বরূপ।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক (বারডেম) হাসপাতালে চিকিৎসারত হেফাজতের ওই শীর্ষ নেতা উপমহাদেশের অন্যতম হাদিসবিশারদ আল্লামা বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী ইন’আমুল হাসান ফারুকীর প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বাবুনগরী বলেন, অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হচ্ছে না বলে দেশে অপরাধের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দিতে হবে।

নুসরাত হত্যার তদন্ত সঠিকভাবে করার আহ্বান জানিয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসার এ সহকারী মহাপরিচালক বলেন, দেশে আইনের যথাযথ প্রয়োগ থাকলে তা এ যাতীয় নৃশংস অপরাধ অনেকটা কমে যেত। আমরা সংবাদমাধ্যমে জেনেছি, নুসরাতের মামলায় পুলিশ যথাযথভাবে সহায়তা করছে না। প্রশাসনিক লোকদের অবহেলা মেনে নেয়া যায় না।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি, যাতে আগামীতে এমন হিংস্রতা দেখানো সাহস আর কেউ না পায়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মৃত্যুশয্যায় দেওয়া বক্তব্যে যাদের নাম বলে গেল নুসরাত! (ভিডিও সহ)


ফেনীতে দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী মৃত্যুর আগের শেষ জবানবন্দিতে সেই ঘটনায় দায়ী যাদের নাম বলে গেল!

শিক্ষকের কাছে শ্লীলতাহানির শিকার হওয়া ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কীভাবে আগুন দেওয়া হয়? কারা আগুন দেয়?- সেই চিত্র উঠে এসেছে তারই নিজের বর্ণনায়।

“….আমার গায়ে হাত দিছে। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো। আমি সারা বাংলাদেশের কাছে বলবো। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলবো। সারা দুনিয়ার কাছে বলবো। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো। এইটা আমার উপর….”

ভিডিওঃ  ‘মৃত্যুশয্যায় দেওয়া বক্তব্যে যাদের নাম বলে গেল নুসরাত! (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার হাতে যৌন হয়রানির পর সহপাঠি বান্ধবীদের উদ্দেশ্যে নুসরাত জাহান রাফির লেখা চিঠি মঙ্গলবার বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ। চিঠিতে দিন-তারিখ লেখা না থাকলেও বিষয়বস্তু বিবেচনায় এটি কয়েকদিন আগের লেখা বলে মনে করছে তদন্তকারি সূত্র।

ওই সূত্র জানায়, তার পড়ার টেবিলে খাতায় দুই পাতার ওই চিঠিতে তামান্না ও সাথী নামের দুই বান্ধবীকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে। গত ২৭ মার্চ ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছে রাফি। ওই চিঠিতে রাফি আত্মহত্যা করবে না বলেও উল্লেখ করে সে। তবে যৌন হয়রানির ঘটনার পর সিরাজ উদদৌলা গ্রেফতার হলে তার মুক্তির দাবিতে বান্ধবীদের অংশগ্রহণে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাফি। তাকে নিয়ে বান্ধবীদের বিভিন্ন কটুক্তিতেও তার মর্মাহত কথা উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

চিঠিটিতে রাফি উল্লেখ করেছে, ‘তামান্না, সাথী। তোরা আমার বোনের মতো এবং বোনই। ঔ দিন তামান্না আমায় বলেছিল, আমি নাকি নাটক করতেছি। তোর সামনেই বললো। আরো কি কি বললো, আর তুই নাকি নিশাতকে বলেছিস আমরা খারাপ মেয়ে। বোন প্রেম করলে কি সে খারাপ??? তোরা সিরাজ উদ দৌলা সম্পর্কে সব জানার পরও কীভাবে তার মুক্তি চাইতেছিস।

তোরা জানিস না, ওইদিন রুমে কি হইছে? উনি আমার কোন জাগায় হাত দিয়েছে এবং আরো কোন জায়গায় হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে, উনি আমায় বলতেছে- নুসরাত ডং করিসনা। তুই প্রেম করিসনা। ছেলেদের সাথে প্রেম করতে ভালো লাগে। ওরা তোরে কি দিতে পারবে? আমি তোকে পরীক্ষার সময় প্রশ্ন দেবো। আমি শুধু আমার শরীর দিতাম ওরে। বোন এই জবাবে উত্তর দিলাম। আমি একটা ছেলে না হাজারটা ছেলে…। আমি লড়বো শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত। আমি প্রথমে যে ভুলটা করেছি আত্মহত্যা করতে গিয়ে। সেই ভুলটা দ্বিতীয়বার করবো না। মরে যাওয়া মানে তো হেরে যাওয়া। আমি মরবো না, আমি বাঁচবো। আমি তাকে শাস্তি দেবো। যে আমায় কষ্ট দিয়েছে। আমি তাকে এমন শাস্তি দেবো যে তাকে দেখে অন্যরা শিক্ষা নিবে। আমি তাকে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি দেবো। ইনশাআল্লাহ।’

এদিকে গত ৬ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফিকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার পর থেকে কেউ কেউ ঘটনাটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলেও ধারণা করেছেন। তবে উদ্ধার হওয়া চিঠিটিতে রাফির ভাষ্য ভিন্ন।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন চিঠিটি উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটিও ওই ঘটনার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখিতদের প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে তিনি জানান।

চার আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার ৪ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছে আদালত। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শরীফ উদ্দিন আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ আদেশ দেন।

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানি জানান, রিমান্ডে দেওয়া চার আসামি হলেন আলাউদ্দিন, কেফায়েত উল্লাহ, নূর হোসেন ও শহীদুল ইসলাম। এ মামলায় এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি তিনজনকে আদালতে হাজির করা হয়নি বলে তাদের রিমান্ড শুনানি হয়নি বলে জানান জিলানি।

গত শনিবার সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিলে দ্বগ্ধ হন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে লাইফসাপোর্টে রাখা হয়েছে। নুসরাত ওই অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে দায়ের করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষর স্বজনরা তাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা সহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামীরা হলেন পৌর কাউন্সিলর মাকসুল আলম, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, সাবেক ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীম, সাবেক ছাত্র নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহম্মদ ও হাফেজ আবদুল কাদের।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ থানার ওসির কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (ভিডিও সহ)


ফেনীর সোনাগাজী থানার ওসির কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। সেই আকুতির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সোনাগাজীর আলো নামে একটি ফেসবুক পেজে ওই ভিডিওটি শেয়ার করে।

ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা- গত ২৭ মার্চ শ্লীলতাহানির চেষ্টার পর থানায় পুরো ঘটনা নিজ মুখে বর্ণনা করেছেন নুসরাত (ভিডিও)।

কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন নুসরাত। পুরো ভিডিওতেই তাকে কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়, ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শেষের দিকে নুসরাত বাঁচার আকুতি করে ওসির কাছে। কিন্তু ওসি কিছুতেই এ বিষয়টিতে পাত্তা দেয় না। একপর্যায়ে নুসরাত বলেন, আমি বাঁচতে চাই ওসি সাহেব। তখন ওসি আরও কিছু অশালীন উক্তির পাশাপাশি তাকে উদ্দেশ করে বলেন, এটা কিছু না, কেউ লিখবেও না তোমার কথা। আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। কিছু হয়নি। রাখো। তুমি বসো।

ভিডিওঃ  ‘থানার ওসির কাছে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এরপর নুসরাত সবশেষ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলে, আমি আর বাঁচব না স্যার।

ভিডিওটির চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

থানার ওসির সামনে অঝোরে কাঁদছিলেন নুসরাত। আর সেই কান্নার ভিডিও করছিলেন সোনাগাজী থানার ওসি। নুসরাত তার মুখ দু’হাতে ঢেকে রেখেছিলেন। তাতেও ওসির আপত্তি। বারবারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে।’

থানার ভেতরে নুসরাতকে জেরা করে ওসি বলেন, ‘কিসে পড়া? ক্লাস ছিল?’ ঘটনা জানাতে গিয়ে নুসরাত বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। সে সময় তাকে জিজ্ঞেস করা হয়- ‘কারে কারে জানাইসো বিষয়টা?’

নুসরাত যখন জানায়- তাকে অধ্যক্ষ ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। তখন প্রশ্ন করা হয়- ‘ডেকেছিল, নাকি তুমি ওখানে গেছিলা?’ পিয়নের মাধ্যমে ডেকেছিল বলে নুসরাত জানালে প্রশ্ন করা হয়- ‘পিয়নের মাধ্যমে ডেকেছিল? পিয়নের নাম কী?’ নুসরাত সে সময় পিয়নের নাম বলেন- ‘নূর আলম।’

পুরো ভিডিও জুড়েই নুসরাত কাঁদছিলেন। একসময় ভিডিওধারণকারী তাকে ধমকের সুরে বলে- ‘কাঁদলে আমি বুঝবো কী করে, তোমাকে বলতে হবে। এমন কিছু হয়নি যে তোমাকে কাঁদতে হবে।’

ভিডিও’র শেষে নুসরাতের কথা বলা শেষ হলে ধারণকারী বলেন- ‘এইটুকুই?’ আরও কিছু অশালীন উক্তির পাশাপাশি তাকে উদ্দেশ করে বলেন- ‘এটা কিছু না, কেউ লিখবেও না তোমার কথা। আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। কিছু হয়নি। রাখো। তুমি বসো।’

ইতিমধ্যে সোনাগাজী থানার সেই ওসিকে (তদন্ত) প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কে এই ভিডিও করেছিল প্রশ্নে বর্তমান সোনাগাজী থানার ওসি (তদন্ত) বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আজকে অনেকে বিষয়টি জানতে চেয়ে ফোন করায় আমি জানতে পেরেছি।

নুসরাতের জেরা করার সময় ভিডিও করা কতটুকু আইনসম্মত এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বমহলে। এ বিষয়ে আইনজীবীরা বলছেন, যৌন হয়রানির অভিযোগ করার সময় ওসির ভিডিও ধারণের ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার সুযোগ রয়েছে নুসরাতের পরিবারের।

ওসির এ ধরনের আচরণের বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, আইন না মেনে অভিযোগ করতে যাওয়া কারোর ভিডিও করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় না ফেরার দেশে চলে যান ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (১৮)। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো গেল না। টানা ১০৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন এই ছাত্রী।

প্রসঙ্গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন নুসরাত। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এদিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। এরপর না ফেরার দেশে চলে যান মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ অধ্যক্ষকে মুক্তি না দিলে মাদ্রাসা বন্ধের হুমকি দিল ছাত্রলীগ কর্মী নুরুদ্দিন! [ভিডিওসহ]


মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানির অভিযোগে নুসরাতের মায়ের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার হওয়া ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার পক্ষে মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছিল।

গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করার পরদিন ২৮ মার্চ তার মুক্তির দাবিতে সোনাগাজী উপজেলা সদরে ওই মিছিল ও সমাবেশ করে তার পক্ষের লোকজন।

ভিডিওঃ  ‘নুরুদ্দিনকে অ্যারেস্ট করলে সব তথ্য বের হয়ে যাবেঃ নুসরাতের ভাই (ভিডিও সহ) ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ওই মিছিলে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেয় একই মাদ্রাসার ফাজিল শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নুরুদ্দিন।

নুরুদ্দিন হত্যার শিকার নুসরাতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলার দুই নম্বর আসামি। ইতিমধ্যেই পুলিশ নুরুদ্দিনকে গ্রেফতারও করেছে। বর্তমানে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছে নুরুদ্দিন।

এদিকে অধ্যক্ষের মুক্তির দাবি করা ওই মিছিলের একটি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে আসামি নুরুদ্দিনকে বক্তব্যও দিতে দেখা যায়।

ভিডিওঃ  ‘অধ্যক্ষকে মুক্তি না দিলে মাদ্রাসা বন্ধের হুমকি দিল ছাত্রলীগ কর্মী নুরুদ্দিন! [ভিডিওসহ]’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

নুরুদ্দিন বলে, ‘গত বুধবার পুরাতন একটি ঘটনায় আমাদের সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সুনামধন্য প্রিন্সিপাল সাহেবকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে পুলিশ বাহিনী অ্যারেস্ট করেছে। প্রিন্সিপাল হুজুরকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা থেকে যদি মুক্তি দেয়া না হয়… এই সোনাগাজীর মাদ্রাসা থেকে শুধু ছাত্রলীগ তৈরি হয় না, ছাত্রদল তৈরি হয় না, ছাত্রশিবির তৈরি হয় না, এই মাদ্রাসা থেকে একজন আলেমও তৈরি হয়। এই সোনাগাজী মাদ্রাসার আলেমসহ সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি আমাদের প্রিন্সিপাল হুজুরকে মুক্তি দিতে হবে।’

‘যত দিন পর্যন্ত আমাদের দাবি মানা না হবে, তত দিন পর্যন্ত…।’

ভিডিওতে নুরুদ্দিন আরও বলে, ‘পুলিশ প্রশাসন বলেছিলেন, নির্বাচনের জন্য মিটিং-মিছিল বন্ধ করা হয়েছে। আমরা আপনাদের কথা শুনেছি। আপনারা সাংবাদিকরা যদি আমাদের নামে খারাপ রিপোর্ট করেন, আমরা তাদেরকে ছাড় দেব না।’

নুরুদ্দিন আরও বলে, ‘আগামী রোববার-সোমবার আমাদের হুজুরকে কোর্টে উঠানো হবে। আমাদের হুজুরকে যদি মুক্তি দেয়া না হয়, অনির্দিষ্টকালের জন্য সোনাগাজী মাদ্রাসা বন্ধ থাকবে। আমরা সব ছাত্রজনতা বলছি, প্রিন্সিপাল স্যারকে যদি মুক্তি দেয়া না হয়, তাহলে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

এ সময় সমাবেশে উপস্থিত সবাই প্রিন্সিপালের মুক্তি চাই বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পরে নুরুদ্দিন বলে, ‘আরেকটা কথা বলতে চাই, এই মাদ্রাসা কমিটিতে ছিল কুলাঙ্গার শেখ মামুন। তাকে কমিটি থেকে বের করে দেওয়ার কারণে সে মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকদেরকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। সেই কুলাঙ্গার শেখ মামুন আমাদের মানববন্ধনে, ব্যানার ও ফেস্টুনে হাত দিয়েছে। আমরা তার বিচার চাই।’

আমাদের প্রিন্সিপাল হুজুরকে যদি নিঃশর্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তি দেওয়া না হয়, তাহলে সোনাগাজী নয়, পুরো বাংলাদেশের আলেম সমাজ তাদের ছাড়বে না।’

এ সময় আবারও প্রিন্সিপালের মুক্তি চাই বলে স্লোগান দিতে শোনা যায় ভিডিওটিতে।

উল্লেখ্য, বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় না ফেরার দেশে চলে যান ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (১৮)। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো গেল না। টানা ১০৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন এই ছাত্রী।

প্রসঙ্গত, ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন নুসরাত। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এদিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধাঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন অধ্যক্ষ। সেই মামলা তুলে না নেয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন ওই ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বাবার ইমামতিতে নুসরাতের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল


নুসরাত জাহান রাফির জানাজায় অংশ নিতে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু পাড়া-প্রতিবেশি সহ সোনাগাজীর সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে সোনাগাজীতে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টায় রাফির লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌছায় সোনাগাজীর বাড়িতে। এসময় স্বজনদের কান্না আর সর্বস্তরের মানুষের ক্ষোভ চোখে পড়েছে সর্বত্র। নিকটাত্মীয়দের শেষবারের মতো এক নজর দেখিয়ে বিদায় দেয়া হয় নুসরাত রাফিকে।

জানাজার নামাজের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল সোনাগাজী মডেল ছাবের পাইলট হাইস্কুল মাঠ। সন্ধ্যা ৬ টায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে সোনাগাজী মডেল ছাবের পাইলট হাইস্কুল মাঠে তার জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে নুসরাতকে তার পারিবারিক করররস্থানে দাদীর কবরের পাশে দাফন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে নামাজের জানাজা পড়ান নুসরাতের বাবা মাওলানা মুসা।

জানাজায় সর্বস্তরের মানুষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, জেলা ও উপজেলার সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ঢাকাস্থ ফেনী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

উপস্থিত সকলে নুসরাতের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চত করার দাবি জানান। সবার একটই দাবি আর আর যেন কাউকে এভাবে প্রাণ না দিতে হয়।

৫ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যু হয় নুসরাতের। আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল ৪ দুর্বৃত্ত।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ পুলিশের কাছে দেয়া নুসরাতের জবাববন্দির ভিডিও প্রকাশ


মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা পিয়ন দিয়ে নিজ কক্ষে ডেকে নেয় নুসরাতকে। এরপর তার শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে সিরাউদ্দৌলা। একই সাথে তার সাথে থাকার জন্য নুসরাতকে প্রস্তাব দেয় অধ্যক্ষ।
এই ঘটনার পর পরই পুলিশের কাছে এমন জবানবন্দি দেয় ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত। মোবাইলে ধারণ করা হয়েছিলো সেই জবাববন্দিটি।

ভিডিওঃ  ‘নুরুদ্দিনকে অ্যারেস্ট করলে সব তথ্য বের হয়ে যাবেঃ নুসরাতের ভাই (ভিডিও সহ) ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নুসরাতের মৃত্যু: অধ্যক্ষকে ইন্ধন যুগিয়েছে কে?


শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেলো না ফেনির সোনাগাজীর অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে। বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনি মারা যান। নুসরাতের মৃত্যুতে ফেনিসহ সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ইন্ধন থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা প্রত্যক্ষভাবে অধ্যক্ষকে সহযোগীতা করেছেন এবং তার পক্ষে এলাকায় মিছিল করেছেন। এমনকি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে নুসরাতকে হুমকীও দিয়েছেন।

গত শনিবার তাঁকে তারই মাদ্রাসার ছাদে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়৷ তাঁর শরীরের ৮০ ভাগেরও বেশি পুড়ে গেছে৷ এর আগে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা তার এই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে যৌন হয়রানি করেন। ওই দিনই ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়৷ ওই ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার মামলায়ও অধ্যক্ষসহ আট জনকে আসামি করা হয়৷

মামলার এজাহারে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা করায় ছাত্রীটিকে অধ্যক্ষের পক্ষের লোকজন পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে৷ এর আগে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়া হয়েছে মেয়েটিকে৷

এই অধ্যক্ষ আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন৷ তার বিরুদ্ধে আগেও যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগে আরো ৬টি মামলা আছে বলে জানা গেছে৷

অধ্যক্ষকে রক্ষায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ

অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে তিন বছর আগে নানা অভিযোগে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করা হয়৷ এরপর আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়ে তিনি অধ্যক্ষের পদ টিকিয়ে রাখেন৷ জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পর প্রথমে তিনি পৌর আওয়ামী লীগ নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ মামুনের সহায়তা নেন৷ এরপর মামুনকে বাদ দিয়ে তিনি আরেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমানের সহায়তা নেন৷ মাকসুদ মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সদস্য৷

মাদ্রাসাটির মালিকানায় শহরে তিন তলা একটি মার্কেট আছে, যা থেকে মাসে তিন লাখ টাকা আয় হয়৷ এছাড়া মাদ্রাসার আরো অনেক আয় আছে৷

অধ্যক্ষের পক্ষে মিছিল করেছে ছাত্রলীগ

২৭ মার্চ যৌন হয়রানির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে অধ্যক্ষ জেলে গেলে পরের দিন ২৮ মার্চ তার মুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের একাংশকে দিয়ে মাকসুদ শহরে মিছিল বের করান৷ ওই মিছিলে মাদ্রাসা ছাত্রলীগের সদস্যরাও অংশ নেয়৷ মিছিল শেষে সমাবেশে যৌন হয়রানির মামলাকে মিথ্যা বলে দাবি করা হয়৷ আর তারাই ছাত্রীর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়৷ অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা মামুনও কিছু শিক্ষার্থীকে দিয়ে যৌন হয়রানির বিচারের দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করেন৷ তবে কথা বলার জন্য তাদের কাউকেই টেলিফোনে পাওয়া যায়নি৷

অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থার নেয়ার অভিযোগ আছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমীনের বিরুদ্ধেও৷ তিনি মাদ্রাসার গভর্নিং বডির ভাইস প্রেসিডেন্ট৷ তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘২৭ মার্চ যৌন হয়রানির পর আমিই মাদ্রাসায় গিয়ে ওসিকে খবর দিয়ে অধ্যক্ষকে আটক এবং মামলার ব্যবস্থা করি৷ তবে ওই ঘটনার পর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদ অধ্যক্ষের পক্ষে তার মুক্তির দাবিতে শহরের জিরো পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিছিল করায়৷ আরেকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুন অধ্যক্ষের কিরুদ্ধে অবস্থান নেয়৷’

তিনি গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি হিসেবে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম৷ আর সহ-সভাপতির তো কোনো পাওয়ার নেই৷’

রুহুল আমীন বলেন, ‘অধ্যক্ষ খারাপ মানুষ, তার বিরুদ্ধে আগেও যৌন হয়রানির অভিযোগ আছে৷ আর পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই৷’

ইন্ধন ছিল ওসি ও গভর্নিং বডির

ছাত্রীর ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান ডয়চে ভেলের কাছে অভিযোগ করেন, সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনও অধ্যক্ষের পক্ষ নিয়েছিলেন৷ তিনি ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে অভিহিত করেছিলেন৷ ‘আমার বোনের নিরাপত্তাহীতার কথা জানানোর পরও কোনো নিরাপত্তা দেয়া হয়নি’- বলেন তিনি৷

এদিকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার পর ওসি প্রকাশ্যেই সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন যে, এটা আত্মহত্যার চেষ্টাও হতে পারে৷ তবে বুধবার তিনি ডয়চে ভেলের কাছে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন৷ তিনি দাবি করেন, ‘শনিবারের বিষয়টিকে আমি আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনা বলিনি৷ আর ২৭ মার্চ ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাকেও আমি নাটক বলিনি৷ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি৷’

ওসির বিরুদ্ধে মামলার এজাহার পরিবর্তনের চেষ্টারও অভিযোগ আছে৷ তিনি ছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে যাতে কোনো মিছিল বের না হয় সেজন্যও তৎপর ছিলেন বলে অভিযোগ৷

ওসি অভিযোগ অস্বীকার করলেও বুধবার তাকে এইসব অভিযোগে বদলি করা হয়েছে৷ আর মামলার তদন্ত থানাকে বাদ দিয়ে ‘পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন’কে দেয়া হয়েছে৷

এদিকে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হলেন ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক টি কে এনামুল করিম৷ ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার হলেও তার বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি৷ ছাত্রীটিকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার পর তড়িঘড়ি করে সোমবার অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়৷ এর আগে ১০ দিনেও তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হলো না জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক করিম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমি প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত ছিলাম৷ আর একটা ঘটনার পর এখন আমরা জানছি যে, আগেও অনেক অপরাধ করেছে, আগেতো জানতাম না৷’

ছাত্রীর নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ কেন নেয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরাতো আসি আর যাই৷ আমাদের কাছে এত খোঁজ থাকেনা৷’

উৎসঃ ‌ডয়চে বেলে

আরও পড়ুনঃ নুরুদ্দিনকে অ্যারেস্ট করলে সব তথ্য বের হয়ে যাবেঃ নুসরাতের ভাই (ভিডিও সহ)


নুরুদ্দিনকে অ্যারেস্ট করলে সব তথ্য বের হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন নিহত ফেনীতে অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ভাই। এ ঘটনায় প্রিন্সিপাল ইন্ধন দিয়েছে।

তিনি বলেন, সে প্রিন্সিপাল হুজুরের পক্ষে তার মুক্তির জন্য মানববন্ধন করছে। ও আসলে জানে হুজুর কেমন। হুজুরের চাপে তার পক্ষে এসব করছে।

নিহত রাফির ভাই ঘটনা সম্পর্কে যুগান্তরকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নুসরাতকে কুপ্রস্তাব নিয়ে ২৭ মার্চ মামলা হয়েছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৬ এপ্রিল ওর ওপর এমন হামলা হয়েছে।

ভিডিওঃ  ‘নুরুদ্দিনকে অ্যারেস্ট করলে সব তথ্য বের হয়ে যাবেঃ নুসরাতের ভাই (ভিডিও সহ) ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ঘটনা সর্ম্পকে তিনি বলেন, গত ৬ এপ্রিল আমাকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয় নাই। আমাকে ঢুকতে দিলে এ ঘটনা ঘটত না। নুসরাত পরীক্ষা হলে গেলে একটা মেয়ে বলে নিশাতকে ছাদে মারতেছে। এ ঘটনা শুনে নুসরাত ছাদে যায়। তবে ছাদে কেউ ছিল না। ওই সময়ে চারটা বোরকাপরা ব্যক্তি ছিল। তাদের হাতে গ্লাপস ছিল, চোখে চশমা ছিল এবং মুখে মুখোশ ছিল। তাদের মধ্যে দুজন কথা বলছে আর দুজন কথা বলেনি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিহত শিক্ষার্থী রাফির ভাই আরও বলেন, তারা বলছে বল হুজুরের বিরুদ্ধে যেসব কথা বলেছিস সেসব মিথ্যা। তখন রাফি বলে, না এটা সত্য। অন্যায়ের প্রতিবাদ করে যাব। ওদের মধ্যে একজন চম্পা না, কে ছিল। পরে তারা ওর গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন দিয়েছিল। আমাকে ঢুকতে দেয়নি। আমার পরিচিত এক সহপাঠী ছিল, কাদের ভাই। তাকে বলছি নুসরাত ঠিকমতো বসছে কিনা? সে জানায় তার গায়ে আগুন লেগেছে। আমি মাদ্রাসার পাশে ছিলাম।

তিনি বলেন, যে পুলিশ মোস্তফা ভাই আমাকে ঢুকতে দেয় নাই। তারা আগুন নেভাচ্ছে। পরে তাকে বলি ভাই আপনারা যদি আমাকে ঢুকতে দিতেন তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না।

কাকে ধরলে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে এমন প্রশ্নের উত্তরে নিহত রাফির ভাই বলেন, প্রিন্সিপাল ইন্ধন দিয়েছে। নুরুদ্দিনকে অ্যারেস্ট করলে সব বের হয়ে যাবে। সে প্রিন্সিপাল হুজুরের পক্ষে তার মুক্তির জন্য মানববন্ধন করছে। ও আসলে জানে হুজুর কেমন। হুজুরের চাপে তার পক্ষে এসব করছে।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান ফেনীতে অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।

এর আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয় কিন্তু তাতেও কোনো কাজ করছিল না।

নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here